ইনজীল শরীফ বিকৃত! এ সম্পর্কে হাদীস সমূহ কি বলে?

আমরা দেখেছি যে কুর’আনে বলা হয়েছে, বাইবেলের তাওরাত, জবুর এবং ইনজীল (আল কিতাব) বিকৃত হয়নি। কুর’আনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ইনজিলের অনুসারীরা নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর সময়ে, প্রায় ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ অব্দি আল্লাহর বার্তা প্রচার করেছিলেন – সুতরাং এ সময়ের পূর্বে এটি বিকৃত হয়নি। কুরআন ঘোষণা করে যে ইঞ্জিলের মূল বার্তাটি  ছিলঃ আল্লাহর বাণী, এবং . তাঁর কালাম কখনও পরিবর্তন করা যায় না। যেহেতু এই উভয় বিবৃতিই সত্য, এর অর্থ হলো আল কিতাবের কালামগুলো মানুষের পক্ষে বিকৃত করা অসম্ভব (তাওরাত, জবুর এবং ইনজীল =বাইবেল)।

হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এবং বাইবেল

এই প্রসঙ্গে হাদীস ও সুন্নাহ কী বলে তা আমরা এখানে অধ্যয়ন করব। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) সময়ে নীচের হাদীসগুলি কিভাবে তওরাতের ও ইঞ্জিলের অস্তিত্ব এবং এর ব্যবহারকে নিশ্চিত করে তা লক্ষ্য করুন।

অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল ইবনু ‘আবদুল আসাদ ইবনু ‘আবদুল ‘উযযাহ’র নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ‘ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হতে ভাষান্তর করতেন। “আল-বুখারী খন্ড ১, গ্রন্থ ১, নং ৩

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইয়াহূদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের কাছে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বাসও কর না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ‘‘তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনেছি এবং যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে . . . .’’ গ্রন্থ:সহীহ বুখারী (তাওহীদ) / হাদিস নাম্বার: 4485

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ইয়াহূদীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে বলল, তাদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যভিচার করেছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সম্পর্কে তাওরাতে কী বিধান পেয়েছ? তারা বলল, আমরা এদেরকে অপমানিত করব এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হবে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এসে বাহির করল এবং প্রস্তর হত্যা করা সম্পর্কীয় আয়াতের উপর হাত রেখে তার আগের ও পরের আয়াতগুলি পাঠ করল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমার হাত সরাও। সে হাত সরাল। তখন দেখা গেল প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করার আয়াত আছে। তখন ইয়াহূদীরা বলল, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যই বলছেন। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার আয়াতই আছে। গ্রন্থ:সহীহ বুখারী (তাওহীদ) / হাদিস নাম্বার:৩৬৩৫

ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।তিনি বলেন, একদা একদল ইয়াহুদী এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘কুফ’ নামক উপত্যকায় ততে আবেদন জানালো। তিনি তাদের এক পাঠাগারে উপস্থিত হলেন। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আমাদের এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সঙ্গে যেনা করেছে। সুতরাং আপনি এদের সম্পর্কে ফায়সালা দিন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বালিশ পেতে দিলো। তিনি তাতে বসে তাদের বললেনঃ তোমরা একখানি তাওরাত নিয়ে এসো। তাওরাত নিয়ে আসা হলে তিনি তাঁর নীচে বিছানো বালিশ টেনে নিয়ে তার উপর তাওরাত রাখলেন এবং বললেনঃ আমি তোমার প্রতি এবং তোমায় যিনি নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি। গ্রন্থ:সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) / হাদিস নাম্বার : 4449

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে সব দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। ঐ দিনেই আদম (আঃ) সৃষ্টি হয়েছিলেন, …..। কাব (রাঃ) বলেন, এইরূপ দু’আ কবুলের সময় সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক দিন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, বছরের একটি দিন নয়, বরং এটা প্রতি জুমুআর দিনের মধ্যে নিহিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর কাব (রাঃ) তার প্রমানস্বরূপ তাওরাত পাঠ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন।

গ্রন্থ:সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) / হাদিস নাম্বার: ১০৪৬

এগুলি অবিতর্কিত হাদীস যা বাইবেলের প্রতি হযরত মুহাম্মদ(সঃ)-এর মনোভাবের কথা বর্ণনা করে যেমনটি তfর সময়ে বিদ্যমান ছিল। প্রথম হাদীসটি আমাদের জানায় যে ইনজিলের অস্তিত্ব ছিল এবং যখন তিনি প্রথম আহ্বান পান তথনও এটি সহজলভ্য ছিল। দ্বিতীয় হাদীস আমাদের বলে যে ইহুদিরা ইবরানী ভাষায় তাওরাত প্রথম মুসলিম সমপ্রদায়ের কাছে পাঠ করেছিল। মহানবী(সাঃ) তাদের পাঠ্যাংশ নিয়ে বিতর্ক করেননি, তবে তাদের আরবী ব্যাখ্যার বিষয়ে নির্লিপ্ত ছিলেন(নিশ্চিন্ত বা অস্বীকারও করেননি)। পরবর্তী দুটি হাদীস আমাদের বলে দেয় যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার সময়ে তাওরাতকে সালিসি সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। শেষ হাদীসটি আমাদের দেখায় যে তাওরাত যেমন ঐ সময়ে বিদ্যমান ছিল, হযরত মুহাম্মদ(সাঃ)এর মানব সৃষ্টির দিন সম্পর্কে বিবৃতি যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল(এটি একটি জুমাবার ছিল)। এক্ষেত্রে, তাওরাত সয়ং হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) নিজে তার দেওয়া শিক্ষা যাচাই করার জন্য ব্যবহার করতেন, সুতরাং এটি অবশ্যই এ জাতীয় ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য ছিল। এই হাদীসের কোনওটিতেই  আমরা এমন কোনও ইঙ্গিত দেখতে পাই না, যেখানে বাইবেলের কালাম বিকৃত বা পরিবর্তিত হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ইঞ্জিলের প্রথম দিকের পান্ডুলিপি

প্রথম দিকের নতুন নিয়ম (ইনজীল) এর নথী সম্বলিত একটি বই আমার রয়েছে। এটি শুরু হয়েছেঃ

“এই বইটি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে চতুর্থ (১০০-৩০০ এডি) এর শুরু পর্যন্ত নতুন নিয়মের হস্তলিপিগুলির ৬৯ টির অনুলিপি সরবরাহ করে … এতে নতুন নিয়মের প্রায় ২/৩ অংশ রয়েছে”

Preface p. 17. 2001

এটি উল্লেখযোগ্য কারণ এই পান্ডুলিপিগুলি রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন (সিএ ৩২৫ খ্রিস্টাব্দ) এর আগে আসে, কেউ কেউ মনে করেন যে বাইবেলের পাঠ্যকে পরিবর্তন করেছে। কনস্টান্টাইন যদি এটি বিকৃত করতেন তবে আমরা তার সময়ের পূর্বে (যেহেতু আমাদের সেগুলি রয়েছে) তার পরে আসা পাঠগুলির সাথে তুলনা করে এটি জানতাম। তবে কোনও পার্থক্য নেই।

একইভাবে, এই পান্ডুলিপিগুলো এবং বাইবেল অন্যান্য অনুলিপিগুলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনেক আগেই লিখিত হয়েছিল। এগুলি এবং অন্যান্য হাজার হাজার পাণ্ডুলিপিগুলি সারা বিশ্ব থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকেই ছিল। যেহেতু নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ৬০০ খ্রিস্টাব্দে তার সময়ে বাইবেলকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন এবং নবী জীবিত থাকার শত শত বছর পূর্ব থেকে অদ্যাবধি বাইবেলর অনেক অনুলিপি রয়েছে – এবং সেগুলি আজকের বাইবেলের মতোই, কাজেই বাইবেল অবশ্যই অপরিবর্তিত।

এমনকি খ্রীস্টানদের দ্বারা এই কালামসমূহর পরিবর্তন করার ধারণাটিও ভিত্তিহীন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষের পক্ষে পরিবর্তনগুলির বিষয়ে একমত হওয়াও সম্ভব হত না। এমকি আরবেও যদি এগুলির পরিবর্তন করা হতো, তাহলে তাদের অনুলিপিগুলো এবং তাদের ভাইদের অনুলিপি সমূহের মধ্যকার পার্থক্য, বলতে পারেন সিরিয়া ও ইউরোপের, আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠত। কিন্তু পান্ডুলিপির অনুলিপিসমূহ সারা বিশ্বব্যাপি ও পিছনের দিনগুলোতে একই রকম রয়েছে। যেহেতু কোর’আন এবং হাদীস উভয়ই বাইবেলের কালামসমূহ স্পষ্টভাবে সমর্থন করে যেমনটি ৬০০ খ্রিস্টাব্দেও করা হতো এবং বাইবেল যেহেতু এই সময়ের অনেক আগে থেকে গ্রন্থিত পাণ্ডুলিপিগুলির উপর নির্ভরশীল, তাই আজকের বাইবেলটি বিকৃত হয়নি। নীচের সময়রেখাটি চিত্রিত করে যে, কিভাবে কালামসমূহ ৬০০ খ্রিস্টাব্দের বাইবেলর প্রারম্ভিক সময়ের ভিত্তিতে প্রদর্শিত হয়।

এমনকি তাওরাত ও জবুরের প্রাচীন পান্ডুলিপিসমূহ আরও প্রাচীনতম সময়ের। গোটনো পান্ডুলিপির সংগ্রহগুলো, মৃত সাগর পান্ডুলিপি নামে পরিচিত, যা ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে মৃত সাগরের কাছে পাওয়া যায়। এই পান্ডুলিপিগুলি পুরো তাওরাত এবং জবুরকে পরিপূরণ করে এবং এগুলি খ্রিস্টপূর্ব ২০০-১০০ সময়কার। এর অর্থ হ’ল আমাদের কাছে সেই সময়কার অনুলিপি রয়েছে, যা নবী ঈসা আল-মসিহ (আঃ) এবং নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) উভয়েরই আগে। যেহেতু তারা দু’জনেই প্রকাশ্যে তাওরাত ও জবুরকে ব্যবহার ও অনুমোদন দিয়েছিলেন যা তাদের কাছে ছিল, আমাদের নিশ্চয়তা আছে যে নবীদের এই প্রথম গ্রন্থগুলিও বিকৃত হয়নি। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আল কিতাবের নির্ভরযোগ্যতা (বা অপরিবর্তনযোগ্যতা) সম্পর্কে আমি এখানে আমার নিবন্ধে কি বোঝাতে চাচ্ছি তা বিশ্লেষণ করব।

হাদীসসমূহে হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাক্ষ্য এবং পাশাপাশি বাইবেলের পান্ডুলিপিসমূহের নেপথ্য জ্ঞান, কোর’আনের সাক্ষ্য অনুসারে একই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয় যে-বাইবেলের লেখা বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়নি।

এই সময়কার বাইবেলের (আল কিতাব) পান্ডুলিপি – অতি প্রাচিনকাল থেকে

মশির 1 নম্বর চিহ্ন: নিস্তারপর্ব

ভাববাদী ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) সময় থেকে এখন পর্যন্ত থেকে প্রায় 500 বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে আর এটি প্রায় 1500 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ হবে I ইব্রাহিমের মৃত্যুর পরে, তার বংশধররা তার পুত্র ইসহাকের মাধ্যমে, যাদেরকে এখন ইস্রায়েলী বলা হয়, এক বিশাল সংখ্যার লোক হয়ে উঠেছে কিন্তু এছাড়া মিশরের দাস সমূহে পরিণত হয়েছে I এটি ঘটল কারণ ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) মহান পৌত্র যোষেফকে এক দাস রূপে মিশরের কাছে বিক্রী করে দেওয়া হল এবং তারপরে, বহু বছর পরে, তার পরিবার অনুসরণ করল I এর সবকিছুকে আদিপুস্তক 45-46 এর মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে – তৌরাতের মধ্যে মশির প্রথম বইটি I      

অতএব আমরা এখন অন্য একজন মহান ভাববাদীর চিহ্নতে এসে উপস্থিত হয়েছি – মশি (পিবিইউএইচ) – তৌরাতের দ্বিতীয় বইয়ে বলা হয়েছে I মশিকে  (পিবিইউএইচ) মিশরের ফৌরণের সাথে সাক্ষাৎ করতে ঈশ্বরের দ্বারা আজ্ঞা দেওয়া হল আর এটি মশি (পিবিইউএইচ) এবং ফৌরণের মায়াবীদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি করল I এই বিবাদ ফৌরণের বিরুদ্ধে কুখ্যাত নয়টি মহামারী বা বিপর্যয় উৎপন্ন করল যেগুলো তার পক্ষে চিহ্ন সমূহ ছিল I তবে ফৌরণ নিজেকে সদাপভুর ইচ্ছার নিকট সমর্পণ করল না আর এই চিহ্নগুলোকে অবজ্ঞা করছিল I          

সুরা আন-নাজি’আত (সুরা 79 – তারা যারা সামনের দিকে টেনে নিয়ে যায়) এই ঘটনাগুলোকে এইভাবে বর্ণনা করে

 মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।,অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।

রা আন-নাজি’আত সুরা 79:15-20

সুরা আল-মুজ্জাম্মিল (সুরা 73 – আচ্ছাদিত এক) ফৌরণের প্রতিক্র্য়ার বর্ণনা করে: 

অতঃপর ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল, ফলে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছি। সুরা আল-

মুজ্জাম্মিল 73:16

মশির ‘বিরাট চিহ্ন’ কি ছিল যা সুরা আন-নাজি’আত এবং অউরা আল-মুজ্জাম্মিলে ফৌরণের উপরে ‘প্রচন্ড শাস্তির মধ্যে উল্লিখিত হয়েছে? চিহ্ন এবং শাস্তি উভয়ই দশম মহামারীর মধ্যে রয়েছে I   

দশম মহামারী

অতএব আল্লাহ একটি দশম এবং অত্যন্ত ভয়ংকর মহামারী (বিপর্যয়) নিয়ে আসতে যাচ্ছেন I দশম মহামারী আসার আগে এই বিন্দুতে তৌরাত কিছু প্রস্তুতি এবং ব্যাখ্যা দেয় I কুরান আবারও এই বিন্দুটিকে নিম্নলিখিত পদের সাথে বিবরণের মধ্যে উল্লেখ করে

 আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।,তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণায় তুমি ধ্বংস হতে চলেছো।

সুরা 17 ইসরা’, রাত্রি যাত্রা: 101-102

অতএব ফৌরণকে ‘সংহারের দন্ডাজ্ঞা’ দেওয়া হল I কিন্তু কিভাবে এটি ঘটতে ছিল? আল্লাহ পূর্বে বিভিন্ন উপায়ে বিনাশকে পাঠিয়েছিলেন I নোহের দিনে লোকেদের জন্য এটি বিশ্ব-ব্যাপী একটি বন্যা ছিল, আর লোটের স্ত্রীর জন্য এটি একটি নমকের স্তম্ভে পরিণত হওয়া ছিল I কিন্তু এই বিনাশ ভিন্ন হওয়ার ছিল কারণ এটিকে আবারও সমস্ত লোকেদের জন্য একটি চিহ্ন হওয়ার ছিল – এক মহান চিহ্ন I যেমনটি কোরান বলে     

  অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।

সুরা 79:20

এখানে লিঙ্কে তৌরাতের যাত্রা পুস্তকের মধ্যে আপনি দশম মহামারীর ব্যাখ্যা পড়তে পারেন I এটি একটি সম্পূর্ণ বিবরণ আর এটি নীচে ব্যাখ্যাটিকে ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে I   

নিস্তারপর্বের মেষশাবক মৃত্যু থেকে রক্ষা করে

শাস্ত্র আমাদের বলে যে আল্লাহর দ্বারা সংহারের আদেশ যে প্রত্যেক প্রথম জাত পুত্রকে সেই রাত্রিতে মরতে হবে কেবল সেই গৃহের মধ্যে তারা ছাড়া পাবে যেখানে একটি মেষ শাবককে বলি দেওয়া হবে এবং তার রক্তকে সেই বাড়ির দরজার চৌকাটে লাগিয়ে দেওয়া হবে I ফৌরণের প্রতি সংহার, যদি সে না মানে, তবে তার পুত্র এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মারা যাবে I আর মিশরের প্রত্যেক গৃহ প্রথম জাত পুত্রকে হারাবে – যদি তারা একট মেষ শাবককে বলির দ্বারা সমর্পণ না করে এবং তার রক্ত তাদের দরজার চৌকাটে না লাগায় I সুতরাং মিশর এক জাতীয় বিপর্যের সম্মুখীন হল I  

কিন্তু গৃহগুলোতে যেখানে একটি মেষশাবককে বলি দেওয়া হল এবং তার রক্তকে দরজার চৌকাটে লাগানো হল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো যে প্রত্যেকে নিরাপদ হবে I আল্লাহর বিচার সেই গৃহকে ছেড়ে এগিয়ে যাবে I অতএব এই দিন ও চিহ্নকে নিস্তার বলে ডাকা হল (যেহেতু সমস্ত গৃহগুলোকে নিস্তার দেওয়া হল যেখানে দরজার চৌকাটের উপরে মেষ শাবকের রক্ত লাগানো হয়েছিল) I কিন্তু দরজার উপরে রক্ত কাদের জন্য একটি চিহ ছিল? তৌরাত আমাদের বলে: 

সদাপ্রভু মশিকে বললেন…”… আমিই সদাপ্রভু I অতএব তোমরা যে গৃহে থাক, [নিস্তারপর্বের মেশ শাবকের] ওই রক্ত তোমাদের পক্ষে চিহ্নস্বরূপ হয়ে সেই গৃহের উপরে থাকবে; আর আমি যখন রক্ত দেখব, আমি তোমাদের ছেড়ে এগিয়ে যাব I

যাত্রা পুস্তক 12:13

তাই, যদিও সদাপ্রভু দরজার উপরে রক্ত খুঁজছিলেন, আর যখন তিনি তা দেখলেন তিনি ছেড়ে এগিয়ে যেতেন, টান জন্য রক্ত একটি চিহ্ন ছিল না I এটি বলে যে রক্ত ‘তোমাদের জন্য’ একটি চিহ্ন ছিল – লোকেদের জন্য I এবং বিস্তারিতভাবে এটি আমাদের সকলের জন্য একটি চিহ্ন যারা তৌরাতের মধ্যে এই বিবরণকে পড়ে I তাহলে এটি কিভাবে আমাদের জন্য একটি চিহ্ন হয়? এই অবশ্যম্ভাবী রাত্রির পরে সদাপ্রভু তাদেরকে আজ্ঞা দিলেন:   

এই দিনটি পরবর্তী প্রজন্মের স্থায়ী অধ্যাদেশ হিসাবে উদযাপন করুন। আপনি যখন দেশে প্রবেশ করবেন … এই অনুষ্ঠানটি পালন করুন … এটি প্রভুর কাছে নিস্তারপর্বের উত্সর্গ ‘’

যাত্রা পুস্তক 12:27

নিস্তারপর্ব য়িহূদি ক্যালেন্ডার দিয়ে আরম্ভ হয়

Text Box: 1 আধুনিক যুগের দৃশ্য থেকে গৃহীত যখন আসন্ন যিহূদি নিস্তারপর্বের উৎসবের জন্য অনেক মেষশাবকদের বধ করা হচ্ছে
http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/08/modern-passover-scene-300x198.jpg

সুতরাং প্রত্যেকে বছরের একই দিনে ইস্রায়েলীদের নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে আজ্ঞা দেওয়া হল I ইস্রায়েলী ক্যালেন্ডার পাশ্চাত্য একটির থেকে একটু ভিন্ন, তাই প্রত্যেক বছরে আপনি যদি এটিকে পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের দ্বারা অনুসরণ করেন, তাহলে বছরের দিনটিতে অল্প একটু পরিবর্তন ঘটে, ঠিক রমদানের মতন, কারণ এটি ভিন্ন বছর-দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তিশীল, প্রতি বছর পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের মধ্যে সরে যায় I কিন্তু আজ পর্যন্ত, 3500 বছর পরে এখনও য়িহূদি লোকেরা মশির (পিবিইউএইচ) সময় থেকে তৌরাতের মধ্যে সদাপ্রভুর দ্বারা প্রদত্ত আজ্ঞার বাধ্যতায় প্রতি বছর এই ঘটনার স্মৃতিতে নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে থাকে I এখানে আসন্ন নিস্তারপর্বের জন্য য়িহূদিদের দ্বারা মেষশাবক বধ করার আজকের আধুনিক যুগের একটি দৃশ্য I এটি ঈদ উৎসবের অনুরূপ I

ইতিহাসের মাধ্যমে এই উৎসবকে অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা একেবারে অসাধারণ কিছু লক্ষ্য করতে পারি I আপনি এটিকে সুসমাচারে (ইঞ্জীলে) লক্ষ্য করতে পারেন, যেখানে এটি ভাববাদী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) গ্রেফতার ও বিচারকে বিশদভাবে নথিভুক্ত করে I  

 “পরে লোকেরা ইসাকে নিয়ে গেল…রোমীয় দেশাধক্ষ্য [পীলাতের] রাজপ্রাসাদে…আনুষ্ঠানিক অশুচিতাকে এড়িয়ে যেতে য়িহূদির রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলো না; তারা নিস্তারপর্বের ভোজ খেতে সক্ষম হতে চাইল”…[পীলাত] বলল [য়িহূদি নেতাদের] “…কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে যে, আমি নিস্তারপর্বের সময়ে তোমাদের জন্য এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিই; তোমরা কি ইচ্ছা কর যে আমি তোমাদের জন্য ‘য়িহূদিদের রাজাকে’ ছেড়ে দিই [অর্থাৎ মসীহ]” তারা আবার চেঁচিয়ে বলল, ‘না ওকে নয়…”

যোহন 18:28, 39-40

অন্য কথায়, ঈসা আল মসীহকে (পিবিইউএইচ) গ্রেফতার করা হল এবং য়িহূদি ক্যালেন্ডার মধ্যে নিস্তারপর্বের দিনে প্রাণদণ্ডের জন্য পাঠানো হল I আপনি যদি ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্নর থেকে স্মরণ করেন, ঈসার অন্যতম পদবিগুলোর  মধ্যে একটি ছিল যা ভাববাদী যাহয়ার (পিবিইউএইচ) দ্বারা তাকে দেওয়া হয়েছিল  

পরের দিন জন (যাহা ইয়াহিয়া) যীশুকে (অর্থাত্ Isaসা) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, “দেখ Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি পৃথিবীর পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম যে ‘আমার পরে একজন আসেন তিনি আমার আগে ছুঁড়েছিলেন কারণ তিনি আমার আগে ছিলেন’ “।

যোহন 1:29-30

ঈসাকে (পিবিইউএইচ) নিস্তারপর্বের দিনে প্রাণদণ্ড দেওয়া হল

এখানে আমরা এই চিহ্নর অনন্যতাকে দেখি I ঈসা (পিবিইউএইচ), ‘মেষ শাবককে’, প্রাণদণ্ডের (বলিদান) জন্য বিশেষ একই দিনে পাঠানো হল যেদিনে তখনকার য়িহূদি নিবাসীরা (পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের মধ্যে 33 খ্রীষ্টাব্দ) প্রথম নিস্তারপর্বের স্মরণে একটি মেষ শাবকের বলি দিচ্ছিল যা 1500 বছর পূর্বে ঘটেছিল I এই জন্যই যিহূদি নিস্তারপর্ব উৎসব ইস্টারের মতন সাধারণতঃ প্রতি বছর একই সপ্তাহে ঘটে – ঈসা আল মসীহর ছেড়ে যাওয়ার স্মরণে – কারণ ঈসাকে (পিবিইউএইচ) একই দিনে বলিদানের জন্য পাঠানো হয়েছিল I (ইস্টার এবং নিস্তারপর্ব ঠিক একই দিনে হয় না কারণ যিহূদি এবং পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের বছরের দীর্ঘতাকে সমন্বয় করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, কিন্তু তারা সাধারণতঃ একই সপ্তাহে হয়) I     

Text Box: 2‘চিহ্নগুলো’ কি করে? সেগুলো আমাদের মনের নির্দেশিকা যা আমাদেরকে অন্য কিছু ভাবায়
What Signs do

এখন এক মিনিটের জন্য ভাবুন ‘চিহ্নগুলো’ কি করে I

যখন আমরা ‘মাথার খুলি এবং হাড়ের’ চিহ্ন দেখি এটি আমাদের মৃত্যু ও বিপদের সম্বন্ধে ভাবায় I ‘সোনার খিলানের’ চিহ্ন আমাদেরকে বোধ হয় ম্যাক ডোনাল্ডসের কথা ভাবায় I

Text Box: 3 ঈসা আল মসীর বলিদানের প্রতি সংকেতের দ্বারা নিস্তারপর্ব একটি ‘চিহ্ন’
The Sign of Musa - Passover

এর চিহ্নটি টেনিস খেলোয়াড় নাদালের বানদানার উপরে নাইকের জন্য চিহ্ন I নাইক আমাদের তাদের সম্বন্ধে ভাবাতে চায় যখন আমরা নাদালের উপরে এই চিহ্ন দেখি I অন্য কথায়, চিহ্নগুলো আমাদের মনের নির্দেশিকা যা আমাদের আকাঙ্খিত বস্তুর সম্বন্ধে চিন্তা করতে নির্দেশ করে I মশির (পিবিইউএইচ) এই চিহ্নর সাহায্যে ইনি আল্লাহ যিনি আমাদের জন্য এই চিহ্ন দিয়েছেন I কেন তিনি এই চিহ্ন দিলেন? ভালো কথা চিহ্নটি, এই দিনে মেষ শাবকের বলি হওয়ার উল্লেখযোগ্য সময়ের সাথে ঈসা অবশ্যই ঈসা আল মসীহর বলিদানের প্রতি একটি নির্দেশিকা হবে (পিবিইউএইচ) I       

এটি আমাদের মনে কার্য করে যেমনটি আমি চিত্রর মধ্যে দেখিয়েছি I সেখানে চিহ্নটি আমাদের ঈসা আল মসীহর সমর্পণের প্রতি ইঙ্গিত করে I প্রথম নিস্তারপর্বে মেষ শাবকদের বলিদান করা হয়েছিল আর রক্ত বয়েছিল ও ছড়িয়েছিল যাতে লোকেরা বাঁচতে পারে I আর এইরূপে, এই চিহ্ন ঈসার প্রতি ইঙ্গিত করে আমাদের বলতে যে তিনি ‘ঈশ্বরের মেষ শাবককেও’, মৃত্যুতে সমর্পণ করা হয়েছিল যাতে আমরা জীবন পেতে  পারি I  

The Sign of Ibrahim

4ইব্রাহিমের পুত্রের বলিদান ঈসা আল মসীহর প্রতি আমাদেরকে চিন্তা করতে ইঙ্গিত করে আমরা ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্নর মধ্যে দেখি যে সেই স্থানটি যেখানে ইব্রাহিমের তার পুত্রের বলিদানের সাথে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল সেটি মোরিয়া পর্বত ছিল I কিন্তু সেই মুহুর্তে তার পুত্রের পরিবর্তে একটি মেষ শাবককে বলি দেওয়া হয়েছিল I একটি মেষ শাবক মারা গেল যাতে ইব্রাহিমের পুত্র বাঁচতে পারে I মোরিয়া পর্বত সেই বিশেষ একই স্থান ছিল যেখানে ঈসাকে (পিবিইউএইচ) বলি দেওয়া হয়েছিল I সেটি একটি চিহ্ন ছিল যা ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) বলি হওয়ার জন্য সমর্পিত হতে স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করতে আমাদেরকে ভাবায় I এখানে মশির এই চিহ্নর মধ্যে আমরা সেই একই ঘটনার প্রতি অন্য একটি নির্দেশিকাকে দেখি – বলিদানের জন্য ঈসার (পিবিইউএইচ) সমর্পণ – নিস্তারপর্বের বলিদানের ক্যালন্ডারের দিনকে ইঙ্গিত করে I একটি মেষ শাকবকে একই ঘটনাকে ইঙ্গিত করতে আর একবার ব্যবহার করা হয় I কেন? আমরা আরও উপলব্ধি পেতে মশির পরবর্তী চিহ্নর সাথে চলতে থাকি I এই চিহ্ন সীনয় পর্বতের ব্যবস্থার দান I     

কিন্তু এই কাহিনীটি শেষ করতে গিয়ে, ফৌরণের প্রতি কি ঘটল? আমরা যেমন তৌরাতের অধ্যায়ে পড়ি, সে সতর্কতায় কান দেয় নি আর তার প্রথম জাত পুত্র সেই রাত্রে (উত্তরাধিকারী) মারা গেল I তাই অবশেষে সে ইস্রায়েলীদের মিশর ছেড়ে যেতে অনুমতি দিল I কিন্তু তারপরে সে তার মন পরিবর্তন করল আর তাদেরকে লোহিত সাগর পর্যন্ত তাড়া করল I সেখানে সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সাগরের মধ্য দিয়ে যেতে দিলেন কিন্তু ফৌরণ তার সৈন্য বাহিনীর সাথে নিমজ্জিত হল I নয়টি মহামারীর পরে, নিস্তারপর্বের মৃত্যু, এবং সৈন্য বাহিনীর ক্ষতিতে, মিশর ভীষণভাবে হ্রাসপ্রাপ্ত হল এবং আর কখনও পৃথিবীর বিশিষ্টতম শক্তি রূপে তার মর্যাদাকে ফিরে পেল না I আল্লাহ তার বিচার করলেন I 

পাঠগত সমালোচনা বিজ্ঞানের দেখা বাইবেল বিকৃত কি না

 “বাইবেলের বইগুলোকে কেন আমার পড়া উচিত? এটিকে এত দীর্ঘ সময় আগে লেখা হয়েছিল, এবং এর মধ্যে এত বেশি অনুবাদ এবং সংশোধন সমূহ করা হয়েছিল – আমি শুনেছি এর মূল্ বার্তাটি সময়ের সাথে বদলে গেছে I” আমি এটি তৌরাত, যাবুর এবং ইঞ্জিলের বই গুলোর সম্বন্ধে অনেক বার বলতে শুনেছি যা বাইবেলকে তৈরী করেছে I    

আমাদের মধ্যে অনেকের জন্য এটি হল তাই যা আমরা কেবল আল কিতাব/বাইবেলের সম্বন্ধে শুনেছি I যাই হোক, এটিকে দুহাজার বছরের অধিক সময়ের আগে লেখা হয়েছিল I সুতরাং আমরা কি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি যে আমরা আল কিতাব/বাইবেলের মধ্যে আজ যা পড়ি তা তাই হচ্ছে যা ভাববাদীরা এবং রচনাকারীরা বহু আগ লিখেছিলেন? ধর্ম ছাড়া, আর কোনো বৈজ্ঞানিক অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে কি জানার যে বাইবেল আমরা আজ পড়ি তা বিকৃত কিম্বা না?    

পাঠগত সমালোচনার মধ্যে মৌলিক নীতিমালা

অনেকে যারা এটি করে তারা উপলব্ধি করে না সেখানে একটি বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলা আছে, যাকে পাঠগত সমালোচনা বলা হয়, যার দ্বারা আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারি I আর যেহেতু এটি বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলা তাই এটি যে কোনো প্রাচীন রচনার উপরে প্রযোজ্য হয় I নিবন্ধটি দুটি প্রধান নীতি সমূহকে দেবে যা পাঠগত সমালোচনার মধ্যে ব্যবহৃত হয় এবং পরে তাদেরকে বাইবেলের মধ্যে প্রয়োগ করা হয় I এইরকম করতে গিয়ে আমরা প্রথমে এই নকশা দিয়ে আরম্ভ করি যা প্রক্রিয়াটিকে বর্ণনা করে যার দ্বারা যে কোনো প্রাচীন রচনা সময়ের সাথে সাথে সংরক্ষিত করা হয় যাতে আমরা এটকে আজ পড়তে পারি I   

একটি টাইমলাইন দেখাচ্ছে কিরূপে সমস্ত প্রাচীন বইগুলো আমাদের কাছে আজকে আসে

ই নক্সাটি 500 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে লেখা বইয়ের একটি উদাহরণকে দেখায় I এই মূল যাইহোক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী হয় না, সুতরাং এটি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া, হারিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস হওয়ার আগে, এর একটি হস্তলিপির (এমএসএস) প্রতিলিপি প্রস্তুত করা হয় (প্রথম প্রতিলিপি) I লোকেদের এক পেশাদারী শ্রেণীকে স্ক্রাইবস বলা হত যারা অনুকরণের কার্যকে করেছিল I বছর বাড়ার সাথে সাথে, প্রতিলিপির থেকে প্রতিলিপি তৈরী হয় (দ্বিতীয় প্রতিলিপি এবং তৃতীয় প্রতিলিপি)I আমাদের উদাহরণ নক্সার এই বর্তমান বিদ্যমান প্রতিলিপিটি 500 খ্রীষ্টাব্দে তৈরী হয়েছিল I এর অর্থ হল যে প্রাচীনতম যেটিকে আমরা বইয়ের অবস্থা থেকে জানতে পারি তা কেবলমাত্র 500 খ্রীষ্টাব্দ থেকে শুরু হয় I সুতরাং 500 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ থেকে 500 খ্রীষ্টাব্দ সময়কাল (নক্সার মধ্যে X রূপে লেবেল করা হয়েছে) এমন সময়্জেখানে আমরা কোনো প্রতিলিপিকে পরিক্কা করতে পারি না যেহেতু সমস্ত হস্তলিপিগুলো এই সময়কাল থেকে অন্তর্নিহিত হয়ে গেছে I উদাহরণস্বরূপ, প্রথম প্রতিলিপি থেকে দ্বিতীয় প্রতিলিপি করার সময় যদি বিকৃতি সমূহ ঘটে থাকে, আমরা সেগুলোকে খুঁজে বের করতে পারব না নাতো এই নথিগুলোকে একে ওপরে বিরুদ্ধে তুলনা করার জন্য উপলব্ধ হয় না I বিদ্যমান প্রতিলিপিগুলোর পূর্বের সময় (সময়কাল X) এইরূপে পাঠগত অনিশ্চয়তার প্রথম নীতি হচ্ছে – যেখানে বিকৃতি ঘটতে পারত না I সুতরাং, পাঠগত সমালোচনার প্রথম নীতি হল যে যে সংক্ষিপ্ত এই মধ্যবর্তী X আমরা আমাদের সময়ে নথির সঠিক সংরক্ষণের মধ্যে আরো অধিক আত্মবিশ্বাস স্থাপন করতে পারি, যেহেতু অনিশ্চয়তার সময় কমে গেছে I

অবশ্যই, সাধারণতঃ আজকে একটি নথির একটি হস্তলিপির প্রতিলিপির অধিক বিদ্যমান আছে I মনে করুন আমাদের কাছে দুটি হস্তলিপির প্রতিলিপি আছে আর তাদের প্রতিটির একই বিভাগের মধ্যে নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো আছে:   

এটি একটি স্পন্দনশীল অধ্যয়ন দেখায় (একজন বলে ‘যোয়ান’ আর অন্যজন বলে ‘যোহন’) কিন্তু কেবলমাত্র অল্প হস্তলিপি সমূহের সাথে এটি নির্ধারণ করা কঠিন কোন একটি ভুলের মধ্যে আছে I  

মূল রচনাকারী হয়ত যোয়ান বা যোহনের সম্বন্ধে লিখছিলেন, এবং অন্যজন যার এই হস্তলিপিগুলোর মধ্যে একটি ভুল আছে I প্রশ্ন হল – কোনটির মধ্যে ভুল আছে? উপলব্ধ স্বাক্ষীর থেকে সিদ্ধান্ত করা খুব কঠিন I   

এখন মনে করুন আমরা একই কার্যের আরও দুটি হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলো দেখেছি, যেমন নিচে দেখানো হয়েছে:

এখন আমাদের কাছে চারটি হস্তলিপি সমূহ আছে এবং এটি দেখা সহজ কোনটির মধ্যে ভুল আছে I

 এখন এটি সিদ্ধান্ত করা সহজ কোন প্রতিলিপির মধ্যে ভুল আছে I এটি খুব সম্ভবত যে ভুল একবারই ঘটে, একই ভুল তিনবার ঘটার চেয়ে, তাই এটি সম্ভবত: যে এমএসএস #2 তে প্রতিলিপি ভুল আছে, এবং রচনাকারী যোয়ান সম্বন্ধে লিখছিলেন যোহন সম্বন্ধে নয় I ‘যোহন’ বিকৃত হয় I

এই সরল উদাহরণটি পাঠগত সমালোচনার মধ্যে দ্বিতীয় নীতিকে বর্ননা করে: আরও অধিক হস্তলিপি সমূহ যা আজকের দিনে বিদ্যমান সেগুলোকে খুঁজে বের করা এবং ভুলগুলোকে সংশোধন করা এবং যা মূল বলে তা জানা সহজ হয় I    

ঐতিহাসিক বইগুলোর পাঠগত সমালোচনা

সুতরাং এখন বৈজ্ঞানিক পাঠগত সমালোচনার আমাদের কাছে দুটি নীতি আছে যা যে কোনো প্রাচীন বইয়ের পাঠগত বিশ্বাসযোগ্যতার সিদ্ধান্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়: 1)মূল রচনা এবং বিদ্যমান প্রাচীনতম হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলোর মধ্যে সময়ের পরিমাপ করা, এবং 2) বিদ্যমান হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলোর সংখ্যা গণনা করা I যেহেতু এই নীতিগুলো সমস্ত প্রাচীন রচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় আমরা সেগুলোকে বাইবেল তথা অন্য প্রাচীন বইগুলো উভয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারি, যেমন নিচের টেবিলে করা হয়েছে (ম্যাকডয়েল, জে. এভিডেন্স দ্যাট ডিমান্ডস এ ভার্ডিক্ট I 1979 পৃষ্ঠা 42-48) I       

রচনাকারী রচনার সময় প্রাচীনতম প্রতিলিপি  সময় পরিধি #
কৈসরিয়া 50 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 খ্রীষ্টাব্দ 950 10
প্লেটো 350 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 AD খ্রীষ্টাব্দ 1250 7
এরিস্টটল* 300 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 1100 AD খ্রীষ্টাব্দ 1400 5
থুসিডাইডিস্ 400 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 AD খ্রীষ্টাব্দ 1300 8
হেরোদোতাস 400 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 AD খ্রীষ্টাব্দ 1300 8
সোফোক্লেস 400 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 1000 AD খ্রীষ্টাব্দ 1400 100
টেসিটাস  100 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 1100 AD খ্রীষ্টাব্দ 1000 20
প্লিনী  100 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 850 AD খ্রীষ্টাব্দ 750 7

* যে কোনো একটি কার্য থেকে

এই রচনাকারীগণ প্রাচীন কালের মুখ্য সর্বোৎকৃষ্ট লেখকদের প্রতিনিধিত্ব করে – সেই রচনাগুলো যা আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতিকে আকার দিয়েছে I গড়পরতায়, তাদেরকে আমাদের কাছে 10 থেকে 100 হস্তলিপি সমূহের দ্বারা যাকে মূল লেখার আগে কেবলমাত্র প্রায় 1000 বছরের শুরুতে সংরক্ষিত করে রাখা  হয়েছে I   

বাইবেল/আল কিতাবের পাঠগত সমালোচনা

নিম্নলিখিত টেবিলটি বাইবেলীয় (ইঞ্জিল অথবা নির্দিষ্টভাবে নতুন নিয়ম) রচনা সমূহকে এই একই বিষয়গুলোর সাথে তুলনা করে (কম্ফর্ট থেকে গৃহীত, পি.ডব্লিউ. দি অরিজিন অফ দি বাইবেল I 1992. পৃষ্ঠা. 193) I

এমএসএস রচনার সময় এমএসএস এর তারিখ সময়ের পরিধি
জন রায়লন 90  খ্রীষ্টাব্দ 130  খ্রীষ্টাব্দ 40 yrs
বদমার পাপায়রস 90  খ্রীষ্টাব্দ 150-200  খ্রীষ্টাব্দ 110 yrs
চেষ্টার বেট্টি 60  খ্রীষ্টাব্দ 200  খ্রীষ্টাব্দ 140 yrs
Codex কোডেক্স  ভ্যাটিকানাস 60-90  খ্রীষ্টাব্দ 325  খ্রীষ্টাব্দ 265 yrs
কোডেক্স  সিনাই টিসাস 60-90  খ্রীষ্টাব্দ 350  খ্রীষ্টাব্দ 290 yrs


বাইবেল/আল কিতাবের পাঠগত সমালোচনার সংক্ষিপ্তসার

নতুন নিয়মের হস্তলিপিগুলোর সংখ্যা এত বিশাল যে তাদেরকে সকলে একটি টেবিলে তালিকাভুক্ত করা অসম্ভব হত I একজন পন্ডিত যেমন একাধিক বছর  এই বিষয়টির অধ্যয়ন করে বলেন:

 “আমাদের কাছে আজকে বিদ্যমান নতুন নিয়মের অংশের 24000 এর বেশি এমএসএস প্রতিলিপি আছে…প্রাচীন কালের অন্য কোন নথি এই ধরণের সংখ্যা সমূহ এবং স্বাক্ষ্যকে এপ্রোচ করতে এমনকি আরম্ভও হয়  নি I তুলনামূলকভাবে, হোমারের ইলিয়্ড 643 এমএসএস এর সাথে দ্বিতীয় হচ্ছে যা এখনও টিকে আছে I”

ম্যাকডোয়েল, জে. এভিডেন্স দ্যাট ডিমান্ডস এ ভার্ডিক্ট, পৃষ্ঠা 40

ব্রিটিশ মিউসিয়ামের একজন বিশিষ্ট পন্ডিত এর সাথে একমত হন:

“পন্ডিতগণ সন্তুষ্ট যে তাদের কাছে যথেষ্টভাবে প্রধান গ্রীক এবং রোমীয় লেখকদের প্রকৃত পাঠ্যপুস্তক রয়েছে…তথাপি তাদের রচনা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান কেবলমাত্র একটি অল্প পরিমাণ এমএসএস এর উপরে নির্ভর করে যেখানে নতুন নিয়মের এমএসএস গণনা করা হয়…হাজারে” কেনিয়ন, এফ.জি.

ব্রিটিশ মিউসিয়ামের পূর্ব নির্দেশক) আওয়ার বাইবেল এন্ড দি  এনসিয়েন্ট ম্যানসক্রিপ্টস I 1941 পৃষ্ঠা. 23

প্রাচীনতম নতুন নিয়মের নথি সমূহ সম্বন্ধে আমার কাছে একটি বই আছে I এটি আরম্ভ হয়:

 “এই বইটি প্রাচীনতম নতুন নিয়মের হস্তলিপি সমূহের 69 প্রতিলিপিকরণ প্রদান করে…দ্বিতীয় শতাব্দীর গোড়ার থেকে চতুর্থ শতাব্দীর আরম্ভের তারিখ পর্যন্ত (100-300 খ্রীষ্টাব্দ)…নতুন নিয়ম পাঠ্যপুস্তকর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে”

পি কম্ফর্ট, “দি টেক্সট অফ দি আর্লিয়েস্ট নিউ টেস্টামেন্ট গ্রীক মানসক্রিপ্টস” মুখবন্ধ পৃষ্ঠা. 17. 2001

অন্য কথায়, নতুন নিয়মের মূল রচনাগুলোর পরে এই সমস্ত বিদ্যমান হস্তলিপিগুলোর অনেকগুলো অত্যন্ত প্রাচীন, কেবল এক শত বছর বা এইরকম I এই হস্তলিপিগুলো কনটেন্সটাইনের শক্তি এবং রোমীয় মন্ডলীর উত্থানের আগে আসে I আর তারা ভূমধ্যসাগরীয় জগতের চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় I যদি এক অঞ্চল থেকে কিছু বিকৃত হয়ে যায় তবে এটিকে অন্যান্য অঞ্চলসমূহের হস্তলিপিগুলোর সঙ্গে তুলনা করে আমরা দেখব I কিন্তু তারা একই হয় I   

সুতরাং এর থেকে আমরা কি সিদ্ধান্ত করতে পারি? নিশ্চিতরূপে কমপক্ষে যার মধ্যে আমরা নিরপেক্ষভাবে নতুন নিয়মকে (ইঞ্জিল) পরিমাপ করি (একাধিক এখনও বিদ্যমান এমএসএস সমূহ এবং মূল ও প্রাচীনতম এমএসএস এর মধ্যে সময় ব্যাপ্তি) যাকে অন্যান্য উৎকৃষ্ট রচনা সমূহের চেয়ে খুব বেশিভাবে সমর্থন করা হয় I রায় যার প্রতি স্বাক্ষ্য আমাদের ঠেলে দেয় তাকে নিম্নলিখিতভাবে উৎকৃষ্টরূপে সংক্ষিপ্তসার করা হয়:       

“নতুন নিয়মের পরিণামস্বরূপ পাঠ্যপুস্তক সম্বন্ধে সন্দেহপূর্ণ হওয়া হল উৎকৃষ্ট প্রাচীনত্বকে দুর্বোধ্যতার মধ্যে পিছলিয়ে যেতে অনুমতি দেওয়া, কারণ প্রাচীন কালের অন্য কোনো নথি সমূহকেও নতুন নিয়মের মতন গ্রন্থ-পঞ্জীরূপে সত্যায়িত করা হয়”  

মোন্টগোমারি, হিস্ট্রি এন্ড খ্রিস্টিয়ানিটি. 1971. পৃষ্ঠা 29 

তিন যা বলেছেন তা হল যে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া, আমরা যদি আল কিতাবের (বাইবেল) বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করি তাহলে যা আমরা সাধারনভাবে উৎকৃষ্ট ইতিহাসের সম্বন্ধে জানি তার সব কিছুকেও বাতিল করতে পারি – আর আজ অবধি কোনো ঐতিহাসিক এটি করে নি I কেন হেরোদোতাসের রচনা সমূহকে অপরিবর্তিত বলে গ্রহণ করি যখন সেগুলো কেবলমাত্র আটটি হস্তলিপি সমূহের মধ্য দিয়ে প্রাচীনতম বিদ্যমান প্রতিলিপির রচনার সময় থেকে এক 1300 বছরের তফাতের সঙ্গে নেমে এসেছে যদি আমরা মনে করি বাইবেল পাঠ্যপুস্তক বিকৃত হয়েছে যখন এটির মধ্যে 24000 হস্তলিপি সমূহ রয়েছে, যেগুলোর কিছু প্রথম রচনার কেবলমাত্র 100 বছর পরে হয় I যার কোন অর্থ হয় না I  আমরা জানি যে বাইবেলীয় পাঠ্যপুস্তকগুলোকে যুগ, ভাষা হিসাবে বদল করা হয় নি এবং সাম্রাজ্যগুলো এসেছে ও গেছে যবে থেকে প্রাচীনতম বিদ্যমান এমএসএস এই ঘটনাগুলোর পূর্বে এসেছে I উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি যে কোনো পোপ বা রোমীয় সম্রাট কনস্টেনটাইন বাইবেলকে পরিবর্তন করেছে জবে থেকে আমাদের কাছে হস্তলিপি সমূহ আছে যেগুলো কনস্টেনটাইন এবং পোপের থেকে পুরনো এবং এই সমস্ত হস্তলিপিগুলোর মধ্যে একই বিবরণ সমূহ রয়েছে I যে হস্তলিপিগুলোকে আজ বিবল অনুবাদের জন্য ব্যবহার করা হয় তা ভাববাদী পিবিইউএইচের সময়ের আগে আসে, এবং ঘটনা হল যে তিনি বাইবেলকে সমর্থন করেছেন যেমন তিনি এটিকে তার সময়ে দেখেছেন যা তাত্পর্যপূর্ণ যবে থেকে আমরা কেবলমাত্র ব্যবহৃত হস্তলিপি সমুহর থেকে জানি যে তার সময় থেকে এর কোনো পরিবর্তন হয় নি I

এটিকে নিম্নলিখিত টাইমলাইনে দেখানো হয়েছে যেখানে হস্তলিপির স্রোতগুলো যেগুলো আধুনিক বাইবেল অনুবাদ করতে ব্যবহার করা হয় তাকে অনেক আগে আসতে দেখান হয়েছে I     

আধুনিক বাইবেলগুলোকে প্রাচীনতম বিদ্যমান হস্তলিপি সমূহ থেকে অনুবাদ করা হয়েছে, 100-130 খ্রীষ্টাব্দ থেকে অনেক I এই স্রোত হস্তলিপিগুলো কনটেন্সটাইন অথবা অন্যান্য ধর্মীয়-রাজনৈতিক ক্ষমতার অনেক আগে আসে, এবং ভাববাদী মহম্মদ পিবিইউএইচ এর সময়ের আগে I

সংক্ষিপ্তসার করতে, না সময় আর নাতো খ্রিস্টিয়ান নেতারা মূল ধারণা এবং বার্ত্যাগুলোকে বিকৃত করেছে যেগুলোকে আল কিতাব বা বাইবেলের মূল রচনা সমূহের মধ্যে প্রথমে রাখা হয়েছে I আমরা জানতে পারি যে এটি সঠিকভাবে পড়ে যা রচনাকারীরা অনেক সহস্র প্রাচীন হস্তলিপি সমূহের থেকে আসলে লিখেছিলেন যা আজকের দিনে আমাদের কাছে আছে I পাঠগত সমালোচনার বিজ্ঞান আল কিতাবের (বাইবেল) বিশ্বাসযোগ্যতাকে সমর্থন করে I  

ইউনিভার্সিটি বক্তৃতার মধ্যে পাঠগত সমালোচনা

বেশ দীর্ঘ সময় আগে কানাডার ওয়েস্টার্ন অন্টারিও ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রকাশ্য বক্তৃতা দিতে আমি বিশেষ সুযোগ পেয়েছিলাম I ইংরেজিতে বক্তৃতার অংশের 17 মিনিটের একটি ভিডিও নিচে আছে যেটি এই প্রশ্নকে আবৃত করে I

এ পর্যন্ত আমরা কেবল নতুন নিয়ম – ইঞ্জিলের পাঠগত সমালোচনার প্রতি প্রকৃতরূপে দেখেছি I কিন্তু তৌরাত এবং যাবুরের সম্বন্ধে কি – যে বইগুলো পুরনো নিয়মকে তৈরী করেছে? নিচের 7 মিনিটের ইংরেজি ভিডিওতে আমি পুরনো নিয়মর পাঠগত সমালোচনার নীতিমালাকে সংক্ষিপ্তসার করেছি I  

ইব্রাহিম (পিবিইউএইচ)ইশ্মায়েলকে অথবা ইসহাককে বলি দিয়েছিল?

যখন আমরা ভাববাদী ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) পুত্রের বলিদান সম্বন্ধে আলোচনা করি, আমার বন্ধুরা দৃঢ়তার সাথে বলতে থাকে যে পুত্রটির প্রায় বলি হতে যাচ্ছিল সে হজরত ঈশ্মায়েল (বা ইসমাইল) ছিল – হাগরের দ্বারা ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) পুত্র – সারার কনিষ্ঠ পুত্র ইসহাক নয় I তাই আমি যখন কুরানে এই সম্বন্ধে পড়লাম আমি বিস্মিত হলাম I যখন আমি এটিকে আমার বন্ধুদের দেখালাম তারাও বিস্মিত হল I ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্নর মধ্যে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটিকে দেখলাম, আর অধ্যায়টিকে এখানে সম্পূর্ণরূপে উদ্ধৃত করা হল I অতএব এখানে এটি কি বলে? নির্দিষ্ট পদটিকে আবার পুনরাবৃত্তি করা হল I

  অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।

আল-সাফ্ফাত 37:102

ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) পুত্রের বলিদান সম্বন্ধে পুত্রটির নামটির এই অধ্যায়ে উল্লেখ নেই I এই ধরণের পরিস্থিতিতে আরও বিস্তৃত অন্বেষণ এবং অধ্যয়ন করা সবথেকে ভাল I আপনি যদি সমগ্র কোরানের মধ্য দিয়ে অন্বেষণ করেন যখন  ভাববাদী ঈশ্মায়েল (বা ইসমাইল) সম্বন্ধে উল্লেখ করা হয় আপনি 12 বার তার নাম দেখতে পাবেন I    

  • এর মধ্যে দুবার কেবলমাত্র একবার তার নাম তার পিতা ইব্রাহিমের  সঙ্গে করা হয়েছে (2:125, 2:127) I
  • এর মধ্যে পাঁচ বার ইব্রাহিম এবং তার ভাই ইসহাকের সঙ্গে তাকে উল্লেখ করা হয়েছে (3:84, 4, 163, 2:133, 2:136, 2:140) I
  • বাকি পাঁচটি অধ্যায় তার পিতা ইব্রাহিম ছাড়াই তাকে উল্লেখ করে, কিন্তু অন্য ভাববাদীদের একটি সূচীর সাথে (6:86, 14:39, 19:54, 21:85, 38:48) I   

দুবারের মধ্যে তাকে তার পিতার ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) সঙ্গে একা উল্লেখ করা হয়েছে আপনি দেখতে পারেন এটি প্রার্থনার উপরে অন্য ঘটনাগুলোর সম্বন্ধে কথা বলছে – বলিদানের বিষয়ে নয় I

  যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।

আল-বাকারাহ 2:125

স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা’বাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিলঃ পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ।

আল-বাকারাহ 2:127

পবিত্র কোরান কখনও নির্দিষ্ট করে না যে এ ঈশ্মায়েল ছিল যাকে বলিদানের দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছিল, এটি কেবল বলে ‘পুত্রটি’ I সুতরাং কেন এটিকে বিশ্বাস করা যায় যে এ ইশ্মায়েল ছিল যাকে অর্পণ করা হয়েছিল?

ইব্রাহিমের পুত্রের বলিদানের উপরে টিপ্পনি

ইউসুফ আলী কোরানের একজন শ্রদ্ধাবান টীকাকার তথা একজন অনুবাদক I তার টীকা  http://al-quran.info তে পাওয়া যায়  

বলিদানের অধ্যায়ের টিপ্পনির মধ্যে পুত্রের বলি হওয়ার উপরে নিম্নলিখিত দুটি পাদটীকা রয়েছে I 

4071 এটি সুরিয়া এবং পলেস্টিয়র উর্বর জমির মধ্যে ছিল I এইরূপে মুসলমান পরম্পরা অনুসারে আব্রাহামের প্রথম জাত বালকটি, অর্থাৎ … ইশ্মাইল জন্মগ্রহণ করল I নামটি স্বয়ং সামিয়ার মূল থেকে এসেছে, শুনতে লাগে, যেহেতু ঈশ্বর আব্রাহামের প্রার্থনা শুনেছেন (পদ 100) I ইশ্মাইলের জন্মগ্রহণের সময় আব্রাহামের বয়স ছিল 86 বৎসর    

আদিপুস্তক 16:16

এখানে ‘মুসলমান পরম্পরা’ হল ইউসূফ আলির একমাত্র যুক্তি I

4076 আমাদের সংস্করণকে বর্তমান পুরনো নিয়মের যিহূদিয়-খ্রিষ্টীয় সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে I পরিবারের কনিষ্ঠ শাখাকে গৌরবান্বিত করার উদ্দেশ্যে, যিহূদিয় পরম্পরা য়িহূদিদের পূর্বপুরুষ ইসহাকের থেকে উদ্ভূত হয়েছে পরিবর্তে অগ্রজ শাখা, আরবীয় পূর্বপুরুষ ইশ্মায়েলের থেকে উদ্ভূত হয়েছে, এই বলিদান ইসহাককে উল্লেখ করে (আদিপুস্তক 22:1-18) I এখন আব্রাহামের বয়স যখন 100 বছর ছিল ইসহাক তখন জন্মগ্রহণ করল I (আদিপুস্তক 21:5), যখন আব্রাহাম 86 বছরের ছিল তখন ইশ্মাইল তার কাছে জন্মগ্রহণ করল (আদিপুস্তক 16:16) I অতএব ইশ্মায়েল ইসহাকের থেকে 14 বছরের বড় ছিল I তার প্রথম 14 বছর আব্রাহামের একমাত্র পুত্র ছিল ইশ্মাইল; শীঘ্রই আব্রাহামের একমাত্র পুরো হল ইসহাক I যদিও, বলিদানের কথা বলতে গিয়ে, পুরনো নিয়ম বলে (আদিপুস্তক 22:২): ‘আর তিনি বললেন তোমার পুত্রকে এখন নাও, তোমার অদ্বিতীয় পুত্র ইসহাককে, যাকে তুমি ভালবাস, তাকে নিয়ে মোরিয়া দেশে যাও; এবং সেখানে এক হোম বলির জন্য তাকে সমর্পণ কর…”       

এই পাদটীকার মধ্যে তিনি তর্ক দেন যে যেহেতু তৌরাত বলে ‘তোমার পুত্রকে নাও, তোমার একমাত্র পুত্রকে…(আদিপুস্তক 22:2) আর ইশ্মাইল 14 বছরের বড় ছিল, অতএব একমাত্র ইশ্মাইলকে বলিদানের জন্য সমর্পণ করতে পারা যেত এক ‘একমাত্র পুত্র’ রূপে I কিন্তু তিনি ভুলে যান যে ঠিক পূর্বে, আদিপুস্তক 21 এর মধ্যে, ইব্রাহিম (পিবিইউএইচ) ঈশ্মায়েল এবং হাগরকে দুরে পাঠিয়ে দিয়েছেন I এইরূপে, আদিপুস্তক 22 এর মধ্যে ইসহাক আসলে তার ‘একমাত্র পুত্র’ যেহেতু ঈশ্মায়েল উধাও হয়ে   গেছে I এর উপরে আরও বিশদভাবে এখানে দেখুন I  

ইব্রাহিমের পুত্র বলি হল: তৌরাতের স্বাক্ষী

সুতরাং কোরান নির্দিষ্ট করে না কোন পুত্র, কিন্তু তৌরাত অত্যন্ত স্পষ্ট I আপনি দেখতে পারেন যে আদিপুস্তক 22 এর মধ্যে তৌরাত ছয় বার বিভিন্ন স্থানে ইসহাকের নাম ধরে উল্লেখ করেছে (22: 2, 3, 6, 7, (দু বার), 9 র মধ্যে) I  

ভাববাদী মহম্মদের (পিবিইউএইচ) দ্বারা তৌরাত সমর্থিত হয়েছে

যে তৌরাত আমাদের কাছে আজ আছে তা যে ভাববাদী মহম্মদের (পিবিইউএইচ) দ্বারা সমর্থিত হয়েছিল তা হাদ্দিথ সমূহের থেকে স্পষ্ট হয় I এর উপরে আমার পোস্ট বিভিন্ন হাদ্দিথ সমূহের উল্লেখ করে, যাদের মধ্যে একটি বলে যে

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত: .. একদল ইহুদি এসে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে কফ-তে দাওয়াত দিয়েছিল। … তারা বলেছিল: ‘আবুলকাসিম, আমাদের একজন পুরুষ এক মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছে; সুতরাং তাদের উপর রায় ঘোষণা করুন ’। তারা আল্লাহর রাসূল (সা।) – এর উপরে বসে একটি গদি রাখে এবং বলেছিল: “তাওরাত নিয়ে এসো”। এটি তখন আনা হয়েছিল। অতঃপর তিনি তার নীচ থেকে কুশনটি সরিয়ে নিয়ে তাওরাতকে এই বলে রাখলেন: “আমি তোমাকে ও তাঁর প্রতি inমান এনেছি যে তোমাকে অবতীর্ণ করেছে।”

সুনানে আবু দাউদ বই 38, নং 4434:

তৌরাত ভাববাদী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) দ্বারা সমর্থিত হয়েছে  

ভাববাদী ঈসা আল মসীহও (পিবিইউএইচ) তৌরাতকে সমর্থন করেছেন যেমনটি আমরা এখানে দেখলাম I ওই নিবন্ধের মধ্যে তাঁর একটি শিক্ষা বলে  

 18 সত্যিই আমি আপনাকে বলছি, যতক্ষণ না স্বর্গ ও পৃথিবী অদৃশ্য হয়ে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষুদ্রতম অক্ষর নয়, একটি কলমের সর্বনিম্ন স্ট্রোকও কোনওভাবেই আইন (যেমন তৌরত) থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে যতক্ষণ না সমস্ত কিছু সম্পন্ন হয়। 19 সুতরাং যে কেউ এই আদেশগুলির মধ্যে একটিকেও স্বল্পতম স্থিত করে এবং সে অনুযায়ী অন্যকে শিক্ষা দেয়, তাকে স্বর্গরাজ্যে সবচেয়ে কম বলা হবে, কিন্তু যে কেউ এই আদেশগুলি পালন করে এবং শিক্ষা দেয় সে স্বর্গরাজ্যে মহান বলে ডাকা হবে।

মথি 5: 18-19

সাবধান: তৌরাতের উপরে পরম্পরা কখনও নয়

যে কোন পরম্পরার স্বার্থে মশির তৌরাতকে বাতিল করা বিচক্ষণ হবে না I আসলে, ভাববাদী ঈসা আল মসীহ তার সময়ের ধার্মিক নেতাদের যথাযথ সমালোচনা করেছেন কারণ তারা ‘পরম্পরাগুলোকে’ ব্যবস্থার আগে রেখেছে, যেমন আমরা এখানে দেখি: 

 Jesusসা (আ। Isaসা) জবাব দিয়েছিলেন, “এবং কেন আপনি আপনার traditionতিহ্যের জন্য Godশ্বরের আদেশ ভঙ্গ করছেন? কারণ Godশ্বর বলেছেন, ‘তোমার পিতাকে এবং মাকে সম্মান করো’ এবং ‘যে কেউ তার পিতা বা মাকে অভিশাপ দেয় তাকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত’ ‘ toশ্বরের কাছে, ‘তারা এর সাথে’ তাদের পিতাকে বা মাকে সম্মান করবে না ‘। সুতরাং আপনি আপনার traditionতিহ্যের জন্য Godশ্বরের বাণীকে বাতিল করেন। তোমরা ভণ্ড!

মথি 15: 3-7

‘পরম্পরার’ স্বার্থে কখনও বার্তাটিকে বাতিল না করা সম্বন্ধে ভাববাদীর সাবধানতা অত্যন্ত স্পষ্ট .

আজকের তৌরাতের স্বাক্ষী মৃত সাগরের হস্তলিপি সমূহ দ্বারা সমর্থিত হয়েছে

নিম্নলিখিত চিত্রটি দেখায় যে তৌরাতের প্রাচীনতম পান্ডুলিপিগুলো (ডেড সী স্ক্রোলস), 200 খ্রীষ্টপুর্বাদের সময়ে (এখানে এর উপরে আরও অধিক) I এর অর্থ হল যে ভাববাদী মহম্মদ (পিবিইউএইচ) এবং ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) দ্বারা যে তৌরাতের উল্লেখ করা হয়েছে তা আজকের ব্যবহৃত তৌরাতের সঙ্গে হুবহু এক I  

The Bible through time

আজকের বাইবেলের পান্ডুলিপি – দীর্ঘ সময় থেকে

ভাববাদীদের দ্বারা প্রকাশিত সেগুলোর প্রতি ফিরে আসছি যা আমাদের জন্য এই প্রশ্নটিকে প্রাঞ্জল করে I

তৌরাত থেকে: ভাববাদী ইশ্মায়েলের (পিবিইউএইচ) এর বিবরণ কি?

ইশ্মায়েলের প্রতি কি হয়েছিলে সেই বিষয়ে বিভ্রান্তি আছে প্রচুর I তৌরাত, 3500 বছর আগে ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা লিখিত, এটিকে আমাদের জয় প্রাঞ্জল করে I আল্লাহ ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি তাকে আশীর্বাদ করবেন এবং সমুদ্রতীরের বালুরাশির ন্যায় বংশধর দেবেন (এখানে দেখুন) I ইব্রাহিম (পিবিইউএইচ) অবশেষে দুটি পুত্র পেলেন তার দুই স্ত্রীদের দ্বারা, কিন্তু তাদের মধ্যে এক দ্বন্দ হাগর এবং ইশ্মায়েলকে দুরে পাঠিয়ে দিতে তাকে বাধ্য করল I এই দ্বন্দ দুই পর্যায়ে ঘটল I প্রথম অধ্যায়টি ঈশ্মায়েলের জন্মের পরে এবং ইসহাকের জন্মের আগে ঘটল  I এখানে যেটা তৌরাত এই দ্বন্দর সম্বন্ধে বলে এবং কিভাবে আল্লাহ হাগরকে রক্ষা করল, তার সামনে আবির্ভূত হলেন এবং ঈশ্মায়েলকে (পিবিইউএইচ) তাঁর আশীর্বাদ দিলেন 

আদিপুস্তক 16:1-16

আব্রামের স্ত্রী সারাই এখন তাঁর কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু তার একজন মিশরীয় দাস ছিল যা হাজর নামে ছিল; 2 তাই সে অব্রামকে বলল, “প্রভু আমাকে সন্তান ধারণ থেকে বিরত রেখেছেন। যাও, আমার দাসের সাথে ঘুমো; সম্ভবত আমি তার মাধ্যমে একটি পরিবার বানাতে পারি। “

আব্রাম সারাই যা বলেছিল তাতে রাজি হয়েছিল। 3 ইব্রাম দশ বছর কনান দেশে বাস করার পরে তাঁর স্ত্রী সারাই তার মিশরীয় দাস হাজারাকে নিয়ে তাঁর স্বামীকে তাঁর স্ত্রী হিসাবে দিয়েছিলেন। 4 তিনি হাজারের সাথে শয়ন করলেন এবং সে গর্ভবতী হল।

তিনি যখন জানতেন যে তিনি গর্ভবতী, তিনি তার উপপত্নীকে ঘৃণা করতে শুরু করলেন। 5 তখন সারাই অব্রামকে কহিল, আমি যে অন্যায় ভোগ করিতেছিলে তার জন্য তুমিই দায়ী। আমি আমার গোলামকে তোমার বাহুতে রেখেছি এবং এখন সে জানে যে সে গর্ভবতী, সে আমাকে তুচ্ছ করে। প্রভু আপনার এবং আমার মধ্যে বিচার করতে পারেন ””

6 অব্রাম বললেন, “তোমার গোলাম তোমার হাতে আছে। “আপনি যা ভাল মনে করেন তার সাথে করুন” ” তারপরে সরাই হাগারের প্রতি দুর্ব্যবহার করেছিল; তাই সে তার কাছ থেকে পালিয়ে গেল।

সদাপ্রভুর ফেরেশতা হাগারকে মরুভূমির এক ঝর্ণার কাছে পেয়েছিলেন; শূরের রাস্তার পাশেই বসন্ত ছিল। 8 তিনি বললেন, “সরে দাস হাজরা, তুমি কোথা থেকে এসেছ আর কোথায় যাচ্ছ?”

“আমি আমার উপপত্নী সারাই থেকে পালাচ্ছি,” তিনি উত্তর দিলেন।

9 তখন সদাপ্রভুর দেবদূত তাকে বললেন, “তুমি তোমার স্ত্রীলোকটির কাছে ফিরে যাও এবং তার কাছে দাও।” 10 স্বর্গদূত আরও বললেন, “আমি তোমার বংশধরদের এত বাড়িয়ে দেব যে তারা গণনা করার মতো অসংখ্য হবে।”

11 মাবুদের ফেরেশতা তাকে বললেন,

“আপনি এখন গর্ভবতী
    আর তুমি পুত্রের জন্ম দেবে।
তুমি তার নাম রাখবে ইসমাelল, [এ]
    কারণ প্রভু আপনার দুর্দশার কথা শুনেছেন।
12 সে একজন মানুষের বুনো গাধা হবে;
    তার হাত সবার বিরুদ্ধে থাকবে
    এবং সবার হাত তার বিরুদ্ধে,
এবং সে শত্রুতা মধ্যে বাস করবে
    তাঁর ভাইদের দিকে [খ।]

13 তিনি সদাপ্রভুর কাছে এই নাম রেখেছিলেন, যে তাঁকে বলেছিল: “তুমিই Godশ্বর যিনি আমাকে দেখেন,” কারণ তিনি বলেছিলেন, “যিনি আমাকে দেখেন আমি এখন তাকে দেখেছি।” 14 সেই কারণেই এই কূপটিকে বিয়ার লাহাই রই বলা হত [d]; কাদেশ ও বেরেদের মধ্যে এখনও আছে।

15 সুতরাং হাগর অব্রামের এক পুত্রসন্তান জন্মালেন এবং অব্রাম তাঁর জন্মের পুত্রের নাম রাখলেন ইসমাelল। 16 যখন অব্রাহামের জন্ম হলেন ইশ্মায়েল, তখন অব্রাম ছষট্টি বছর বয়সে।

আমরা দেখি যে হাগর একজন ভাববাদিনি ছিলেন যেহেতু তিনি প্রভুর সঙ্গে কথা বলতেন I তিনি তাকে বললেন যে তার পুত্রের নাম ঈশ্মায়েল হবে এবং তাক এক প্রতিশ্রুতি দিলেন যে ঈশ্মায়েল ‘গণনাতে অনেক হবে’ I সুতরাং এই সাক্ষাত্কার এবং প্রতিশ্রুতির সাথে সে তার উপপত্নীর কাছে ফিরে গেল এবং দ্বন্দ সাময়িকভাবে বিরাম পেল I

দ্বন্দ বাড়তে থাকে

কিন্তু যখন 14 বছর পরে সারার কাছে ইসহাক জন্ম নিল দ্বন্দ পুনরায় আরম্ভ হল I তৌরাত ব্যাখ্যা করে কিভাবে এটি ঘটল I 

আদিপুস্তক 21:8:21

8 শিশু [i.e. ইসহাক] বেড়ে উঠল এবং দুগ্ধ ছাড়ানো হয়েছিল, এবং ইসহাককে দুধ ছাড়ানোর সময় ইব্রাহিম একটি মহান ভোজ করেছিলেন। 9 কিন্তু সারা দেখল যে মিশরের মিশর দ্বারা জন্ম নেওয়া ইব্রাহিমের ছেলের বিদ্রূপ হচ্ছে, 10 এবং সে অব্রাহামকে বলল, “এই দাস মহিলা ও তার পুত্রকে ছেড়ে দাও, কারণ এই মহিলার পুত্র কখনও আমার পুত্র ইসহাকের সাথে সম্পত্তি হিসাবে অংশ নিতে পারবে না । “

11 বিষয়টি অব্রাহামকে খুব কষ্ট দিল কারণ এটি তাঁর পুত্রকে চিন্তিত করেছিল। 12 কিন্তু himশ্বর তাকে বললেন, “ছেলে এবং তোমার দাসীর সম্পর্কে এত মন খারাপ করো না। সারা আপনাকে যা কিছু বলে তা শোন, কারণ ইসহাকের মাধ্যমেই আপনার বংশের গণনা হবে। 13 আমি দাসের পুত্রকেও একটি জাতিকে পরিণত করব, কারণ সে তোমার সন্তান। ‘

14 পরের দিন ভোরে ইব্রাহিম কিছু খাবার ও এক চামড়ার জল নিয়ে হাজরকে দিলেন। সে সেগুলি তার কাঁধে রাখল এবং তারপরে তাকে ছেলের সাথে প্রেরণ করল। সে তার পথে এগিয়ে বেরিয়ে শেরার মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াত।

15 যখন ত্বকের জল চলে গেল তখন সে ছেলেটিকে একটি ঝোপের নীচে রাখল। 16 তখন সে গিয়ে নীচে গিয়ে ধনুকের কাছে বসে রইল, কারণ সে ভেবেছিল, “আমি ছেলেটির মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি না।” এবং সেখানে বসে তিনি কাঁদতে লাগলেন।

17 theশ্বর ছেলেটির কান্নার শব্দ শুনে Godশ্বরের স্বর্গদূত স্বর্গ থেকে হাজরাকে ডেকে বললেন, ‘হাগার কি হয়েছে? ভয় পাবেন না; Liesশ্বর ছেলেটির শুয়ে থাকতে শুনেছেন lies 18 ছেলেটিকে তুলে তার হাত ধরে ধর, কারণ আমি তাকে একটি মহান জাতি হিসাবে পরিণত করব। “

19 তখন herশ্বর তাঁর চোখ খুললেন এবং সে একটি জলের কূপ দেখতে পেল। তাই সে গিয়ে ত্বককে জল দিয়ে পূর্ণ করল এবং ছেলেটিকে একটি পানীয় দিল।

20 বালক বড় হওয়ার সাথে সাথে Godশ্বর ছিলেন। তিনি মরুভূমিতে বাস করেছিলেন এবং একটি ধনু ধনু হয়েছিলেন। 21 তিনি যখন পারানের মরুভূমিতে বাস করছিলেন তখন তাঁর মা মিশর থেকে তাঁর জন্য একটি স্ত্রী পেয়েছিলেন।

আমরা দেখ যে সারা (তার নাম সারাই থেকে পরিবর্তন করা হয়েছে) হাগরের সাথে এক পরিবারে বাস করতে পারল না এবং দাবি করল যে তাকে দুরে পাঠিয়ে দেওয়া হোক I যদিও ইব্রাহিম (পিবিইউএইচ) অনিচ্ছুক ছিল, আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিল যে তিনি হাগর এবং ইশ্মায়েলকে (পিবিইউএইচ) আশীর্বাদ দেবেন I বাস্তবিক তিনি তার সঙ্গে পুনরায় কথা বললেন, মরুভুমির মধ্যে জল দেখতে তার চোখ খুলে দিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন যে ইশ্মায়েলকে (পিবিইউএইচ) এক ‘মহান জাতিতে’ পরিণত হবে I    

তৌরাত অবিরত দেখাতে থাকে কিভাবে এই জাতি এর অগ্রগতিতে বাড়তে আরম্ভ করল I আমরা ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) মৃত্যুর সময়ে ইশ্মায়েলের  (পিবিইউএইচ) সম্বন্ধে পড়ি I

আদিপুস্তক 25:8:18

8 পরে অব্রাহাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং বৃদ্ধ বয়সে বৃদ্ধ ছিলেন এবং বৃদ্ধ ছিলেন; তিনি তাঁর লোকদের কাছে সমবেত হয়েছিলেন। 9 তাঁর পুত্র ইসহাক এবং ইসমাইল তাকে মম্রির নিকটে মখপিলার গুহায় কবর দিলেন, হিত্তীয় সোহরের পুত্র ইফ্রনের জমিতে, 10 অব্রাহাম হিত্তীয়দের কাছ থেকে কিনেছিলেন | সেখানে অব্রাহামকে তাঁর স্ত্রী সারার সাথে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। ১১ ইব্রাহিমের মৃত্যুর পরে, hisশ্বর তাঁর পুত্র ইসহাককে আশীর্বাদ করেছিলেন, যিনি তখন বিয়ার লহাই রুইয়ের কাছে বাস করেছিলেন।

ইসমাইলের পুত্র

12 ইনি অব্রাহামের পুত্র ইসমাইলের বংশের বিবরণ, যার সারাহের দাস, মিশরীয় হাগার, অব্রাহামের জন্ম হয়েছিল।

13 ইশ্মায়েলের পুত্রদের নাম: তাদের জন্মের তালিকা অনুসারে: ইশ্মায়েলের জ্যেষ্ঠ পুত্র নবয়োত, কেদার, আদ্বিয়েল, মিবসাম, 14 মিশমা, দুমাহ, ম্যাসা, 15 হদদ, তেমা, যিটুর, নাফীশ এবং কেদেমাহ | 16 এঁরা ছিলেন ইসমাইলের পুত্র এবং তাদের পরিবার এবং শিবির অনুসারে বারো জন উপজাতির নেতাদের নাম এই | 17 ইসমাইল একশো সাতত্রিশ বছর বেঁচে ছিলেন। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এবং মারা গেলেন এবং তাঁর লোকদের কাছে সমবেত হলেন। 18 তোমরা আশুরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর উত্তরপুরুষরা মিশরের পূর্ব সীমান্তের নিকটে হাবিলা থেকে শূর পর্যন্ত সেই স্থানে বসতি স্থাপন করেছিল। তারা তাদের সাথে সম্পর্কিত সমস্ত উপজাতির প্রতি শত্রুতা কাটিয়েছিল।

ইশ্মায়েল বাস্তবিক অনেকদন ধরে জীবিত থাকল এবং তার পুত্ররা 12 উপজাতি শাসক হল I আল্লাহ তাকে আশ্বীর্বাদ করলেন যেমনটি তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন I আজকের দিনে আরব ঈশ্মায়েলের মাধ্যমে ইব্রাহিমের কাছে তাদের পূর্বপুরুষগণকে সন্ধান করে I

ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্ন: বলিদান

মহান ভাববাদী ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) পূর্ববর্তী চিহ্নর মধ্যে একটি পুত্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি রাখলেন I আসলে তৌরাত ইব্রাহিমের (পিস বি আপন হিম)বিবরণ দিতে থাকে বর্ণনা করতে যে সে কিভাবে দুইটি পুত্র পেল I তৌরাত বলে কিভাবে সে হাগরের মাধ্যমে তার পুরো ইশ্মায়েলকে পেল এবং তারপর পরবর্তী কালে আদিপুস্তক 21 বলে কিভাবে সে সারার মাধ্যমে প্রায় 14 বছর পরে তার পুত্র ইসাককে পেল I দুর্ভাগ্যক্রমে তার পরিবারে দুই স্ত্রী হাগার এবং সারার মধ্যে এটি একটি বিরাট শত্রুতায় পরিণত করল, এবং শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমকে হাগর এবং তার পুত্রকে দুরে পাঠিয়ে দিতে হল I আপনি এখানে পড়তে পারেন এটি কিভাবে ঘটল এবং কিভাবে আল্লাহ হাগর এবং ইশ্মায়েলকে অন্য ভাবে আশির্বাদিত করলেন I       

ভাববাদী ইব্রাহিমের বলিদান: ঈদ আল-আধার ভিত্তি

অতএব তার পরিবারে কেবলমাত্র একটি পুত্র অবশিষ্ট থাকতে ইব্রাহিমের সঙ্গে  (পিবিইউএইচ) তার মহানতম পরীক্ষার সাক্ষাতকার হল কিন্তু এটি এমন একটি যা আমাদের জন্য সরাসরিভাবে এক মহান উপলব্ধিকে উন্মুক্ত করে দেয় I আপনি তৌরাত এবং কোরান থেকে তার পুত্রের বলিদানের পরীক্ষা সম্বন্ধে এখানে পড়তে পারেন I বইগুলোর এই কাহিনী থেকে বোঝা যায় কেন ঈদ আল-আধা উদযাপন করা হয় I কিন্তু এটি কেবলমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয় I এর থেকে আরও অধিক I    

আমরা বইগুলোর বিবরণ থেকে দেখতে পারি যে এটি ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ), জন্য একটি পরীক্ষা নয়, বরং এটি ঠিক তার থেকেও বেশি I যেহেতু ইব্রাহিম একজন ভাববাদী তাই এই পরীক্ষাও আমাদের জন্য একটি চিহ্ন, যাতে আমাদের জন্য ঈশ্বরের যত্নের সম্বন্ধে আরও অধিক জানতে পারি I কিভাবে এটি একটি চিহ্ন হল? দয়া করে নামটিকে নোট করুন যা ইব্রাহিম স্থানটিকে দিয়েছিল যেখানে তার পুত্রকে বলিদান দেওয়ার কথা ছিল I তৌরাতের এই অংশকে এখানে দেখানো হয়েছে যাতে করে আপনি এটিকে সরাসরিভাবে পড়তে পারেন I 

  13তখন অব্রাহাম চক্ষু তুলিয়া চাহিলেন, আর দেখ, তাঁহার পশ্চাৎ দিকে একটী মেষ, তাহার শৃঙ্গ ঝোপে বদ্ধ; পরে অব্রাহাম গিয়া সেই মেষটি লইয়া আপন পুত্রের পরিবর্ত্তে হোমার্থ বলিদান করিলেন। 14আর অব্রাহাম সেই স্থানের নাম যিহোবা-যিরি [সদাপ্রভু যোগাইবেন] রাখিলেন। এই জন্য অদ্যাপি লোকে বলে, সদাপ্রভুর পর্ব্বতে যোগান হইবে।

আদিপুস্তক 22:13-14

নামটিকে লক্ষ্য করুন যা ইব্রাহিম (‘তৌরাতের মধ্যে আব্রাহাম’)সেই স্থানটিকে দিয়েছিল I সে এটির নামকরণ করল ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I ওই নামটি কি অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে আছে? এটি স্পষ্টরূপে ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে রয়েছে I এবং এমনকি উক্তিটির আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য যা অনুসরণ করে (যাকে মশি – পিবিইউএইচ – সন্নিবিষ্ট করল যখন সে  তৌরাতের মধ্যে এই বিবরণটিকে প্রায় 500 বছর পরে সংকলন করল) এটি পুনরুক্তি করে “…এটিকে যোগান দেওয়া হবে”I পুনরায় এটি ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে এবং ভবিষ্যতের দিকে দেখছে I অধিকাংশ লোক ভাবে যে ইব্রাহিম ভেড়াটির সম্বন্ধে উল্লেখ করছে (একটি পুরুষ ভেড়া) যেটাকে ঝাড়ের মধ্যে ধরা হয়েছিল এবং বলি দেওয়া ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল I কিন্তু যখন ইব্রাহিম স্থানটির নামকরণ করে তখন তিমধ্যেই ভেড়াটি মৃত, উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছে I যদি ইব্রাহিম ভেড়াটির কথা ভাবত – যে ইতিমধ্যেই মৃত, উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদগ্ধ – সে এর নাম দিয়ে থাকত ‘সদাপ্রভু যোগান দিয়েছেন’ , অর্থাৎ অতীত কালের মধ্যে I এবং মশি (পিবিইউএইচ) যদি সে ভেড়াটির সম্বন্ধে এইরকম ভাবত  যে সে ইব্রাহিমের স্থান নিয়েছে, তবে মন্তব্য করে থাকত ‘এবং আজ অবধি এটি বলা হত’ “সদাপ্রভুর পর্বতে এটিকে যোগান দেওয়া হয়েছিল” I কিন্তু উভয়ে ইব্রাহিম এবং মশি স্পষ্টভাবে এটিকে ভবিষ্যত কালের মধ্যে এক নাম দিয়েছেন I এবং তাই ইতিমধ্যেই মৃত ও উৎসর্গীকৃত ভেড়ার সম্বন্ধে ভাবছে না I     

সুতরাং তারা তখন কি ভাবছিল? যদি আমরা একটি সুত্রর খোঁজ করি আমরা দেখি যে সেই স্থানটি যেখানে আল্লাহ ইব্রাহিমকে এই চিহ্নর প্রারম্ভে যেতে বললেন ছিল:  

তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার পুত্রকে নাও, তোমার একমাত্র পুত্র, ইসহাক, যাকে তুমি ভালবাস, আর মোরিয়া অঞ্চলে যাও I পর্বতগুলোর মধ্যে একটির ওপরে যার বিষয়ে আমি তোমাকে বলব তাকে হোম বলি রূপে বলি দাও I”

পদ 2

এটি ‘মোরিয়াতে’  ঘটল I এবং কোথায় সেটি? যদিও ইব্রাহিমের সময়ে (2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এটি একটি প্রান্তর ছিল, এক হাজার বছর পরে (1000 খ্রীষ্টাব্দ), বিখ্যাত রাজা দায়ূদ (ডেভিড) সেখানে যিরূশালেম নগরটির স্থাপনা করলেন, এবং তার পুত্র সুলেমান (শলোমন) সেখানে মদির নির্মাণ করল I আমরা যাবুরের মধ্যে এই সম্বন্ধে পড়ি যে:

পরে সোলায়মান (সুলাইমান) জেরুজালেমে মোরিয়তা পর্বতে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যেখানে সদাপ্রভু তাঁর পিতা দায়ূদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল (দাউদ)

2 ক্রম 3: 1

অন্য কথায়, ইব্রাহিমের সময় (এবং পরে মশি) ‘মোরিয়া পর্বত’ প্রান্তরের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন পর্বত শীর্ষ ছিল কিন্তু 1000 বছর পরে দায়ূদ এবং সুলেমানের সহায়তায় এটি ইস্রায়েলীদের কেন্দ্র এবং রাজধানী নগরে পরিণত হল যেখানে তারা সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করলেন I এবং এই বিশেষ দিন অবধি এটি য়িহূদি লোকেদের জন্য একটি পবিত্র স্থান I    

মোরিয়া পর্বতকে সদাপ্রভু মনোনীত করেছিলেন, ইব্রাহিম পিবিইউএইচ নয় I যেমন সূরা আল-জিন (সূরা 72 – জিনটি) ব্যাখ্যা করে:

“এবং উপাসনা স্থানসমূহ Godশ্বরের পক্ষে (সুতরাং) সুতরাং তোমরা Godশ্বরের সাথে কাউকে ডাকো না;সূরা আল-

জিন 72:18

আরাধনার স্থান সদাপ্রভুর দ্বারা মনোনীত হয়েছিল I আমরা দেখতে পাই কেন এই স্থানটিকে মনোনীত করা হয়েছিল I

ঈশা আল মসিহ এবং মোরিয়া পর্বতের উপরে বলিদান

আর এখানে ঈশা আল মসিহ (পিবিইউএইচ) এবং ইঞ্জিলের প্রতি আমরা একটি সরাসরি সংযোগকে দেখি I আমরা এই সংযোগকে দেখি যখন আমরা ঈশার উপাধিগুলোর একটির সম্বন্ধে জানি I ঈশাকে তার প্রতি অনেক উপাধি দেওয়া হয়েছিল I হয়ত সর্বাধিক সুপরিচিত ‘মসীহ্’ উপাধি (যা আবারও ‘খ্রীষ্ট’) I কিন্তু তাঁকে আরও একটি উপাধি দেওয়া হয়েছিল যেটি এতটা সুপরিচিত নয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্তপুর্ন I আমরা এটিকে ইঞ্জিলের মধ্যে দেখি যখন যোহনের সুসমাচারের মধ্যে আমরা দেখি যে ভাববাদী যাহহা (ইঞ্জিলের মধ্যে বাপ্তিস্মদাতা যোহন) বলে:   

 পরের দিন জন (যাহা ইয়াহিয়া) যীশুকে (অর্থাত্ Isaসা) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, “দেখ Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি পৃথিবীর পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম যে ‘আমার পরে একজন আসেন তিনি আমার আগে ছুঁড়েছিলেন কারণ তিনি আমার আগে ছিলেন’ “

যোহন 1:29-30

একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ঈশার (পিবিইউএইচ) কম পরিচিত একটি উপাধি, যাকে যাহার দ্বারা দেওয়া হয়েছিল ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ I এখন ঈশার জীবনের শেষকে বিবেচনা করুন I কোথায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছিল? এটি যিরূশালেমমের মধ্যে ছিল (যেটিকে আমরা যেমন দেখলাম সেই একই ‘মোরিয়া পর্বত’) I তাঁর গ্রেফতারের সময় এটিকে অত্যন্ত স্পষ্টরূপে ব্যক্ত করা হয় যে:   

 যখন তিনি [পীলাত] জানতে পেরেছিলেন যে যীশু হেরোদের অধীনে ছিলেন তখন তিনি তাকে হেরোদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি জেরুসালেমেও ছিলেন ’’

লুক 23:7

অন্য কথায়, গ্রেফতার, বিচার এবং ঈশার প্রাণদণ্ড যিরূশালেমমে ঘটেছিল (= মোরিয়া পর্বত) I

ইব্রাহিমে ফেরা যাক I কেন সে সেই স্থানটির নামকরণ ভবিষ্যত কালে স্থাপন করল ‘সদাপভু যোগান দেবেন’? তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন এবং  জানতেন যে সেখানে কিছু ‘যোগান’ দেওয়া হবে I এবং নাটকের দৃশ্যে, ইব্রাহিমের পুত্রকে শেষ মুহুর্তে মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয় কারণ তার পরিবর্তে একটি মেষশাবক মারা গেল I দু হাজার বছর পরে, ঈশাকে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ বলা হল এবং একই স্থানে গ্রেফতার করা হল ও প্রাণদণ্ড দেওয়া হল!  

যিরূশালেমে ঘটনাগুলোর টাইমলাইন/মোরিয়া পর্বত

বলিদান ইব্রাহিমকে মুক্ত করল: মৃত্যু থেকে

এটি কি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ? আমি লক্ষ্য করি কিভাবে ইব্রাহিমের এই চিহ্নটি শেষ হয় I কোরানের 107 আয়াত ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ)সম্পর্কে এটি বলে যে

আর আমরা তাকে মুক্ত করলাম একটি আবশ্যক বলিদানের দ্বারা

সুরা 37:107 সাফ্ফত

 ‘মুক্ত’ হওয়া বলতে কি বোঝায়? মুক্তিপণ দেওয়া হল কোনো কারোর জন্য পণ দেওয়া যাকে বন্দীকে মুক্তি দিতে একজন বন্দী রূপে ধরা হয় I ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) জন্য ‘মুক্তিপণ’ হওয়ার অর্থ যে তিনি কোনো কিছুর জন্য একজন বন্দী ছিলেন (হ্যাঁ এমনকি যদিও একজন মহান ভাববাদী) I তিনি কিসের বন্দী ছিলেন? তার পুত্রের সাথে দৃশ্যটি আমাদের বলে I তিনি মৃত্যুর একজন বন্দী ছিলেন I এমনকি যদিও তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন, মৃত্যু তাকে বন্দী করেছিল I আমরা আদমের চিহ্ন থেকে দেখেছি যে আল্লাহ আদম এবং তার সন্তানদের সৃষ্টি করলেন (প্রত্যেককে – ভাববাদী সহ) মরণশীল – তারা এখন মৃত্যুর বন্দী ছিল I কিন্তু উৎসর্গীকৃত মেষশাবকের এই দৃশ্যে ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ)এর থেকে মুক্ত করা হল I যদি আপনি চিহ্নগুলোর (আদম, কয়িন আবেল, নোহ, ইব্রাহিম) অনুক্রমকে এই পর্যন্ত পর্যালোচনা করেন আপনি দেখবেন পশুবলিকে ভাববাদীদের দ্বারা প্রায়শই ব্যবহার করা   হত I তারা এই বিষয়ে কিছু জানত যা হয়ত আমাদের রেহাই দিতে পারে I আর আমরা দেখতে পারি যেহেতু এই কার্যটি আবারও ভবিষ্যতের ঈশা  “ঈশ্বরের মেষশাবকের’ দিকে নির্দেশ করে যে এটি কোনো না কোনো রূপে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ I  

বলিদান: আমাদের জন্য একটি আশীর্বাদ

আর মোরিয়া পর্বতের উপরে মেষশাবকের বলিদান আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ I বিনিময়ের শেষে আল্লাহ ইব্রাহিম্র কাছে ঘোষণা করলেন যে 

 “…আর তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে কারণ তুমি আমার বাক্যে অবধান করিয়াছ”

আদিপুস্তক 22:18

‘পৃথিবীর উপরে জাতিগণের’ মধ্যে আপনি যদি যে কোনো একটির মধ্যে থাকেন (এবং আপনি করেন!) এটি আপনাকে চিন্তিত করাবে কারণ প্রতিশ্রুতি হলো যে আপনি তখন স্বয়ং আল্লাহর থেকে একটি ‘আশীর্বাদ’ পেতে পারেন! সেটি কি উপযুক্ত নয়? ঈশার সঙ্গে ইব্রাহিমের কাহিনীর এই সংযোগ কিভাবে আমাদের কাছে একটি আশীর্বাদে পরিণত করে? এবং কেন? আমরা লক্ষ্য করি যে ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) ‘পণ দ্বারা মুক্ত’ করা হয়েছিল এবং এটি আবারও আমাদের জন্য একটি নির্দেশক হতে পারে, কিন্তু তা ছাড়া যে উত্তরটি অনায়াসে এখানে প্রতীয়মান নয় তাই আমরা মশির চিহ্নগুলোর (তার কাছে দুটি আছে) সাথে চলতে থাকব এবং সেগুলো আমাদের জন্য এই প্রশ্নগুলোকে প্রাঞ্জল করবে I      

কিন্তু আপাতত আমি কেবলমাত্র উল্লেখ করতে চাই যে ‘বংশ’ শব্দটি এখানে একবচনের মধ্যে আছে I এটি ‘বংশ সমূহ’ নয় যেমন অনেক বংশধর বা লোকেরা I ইব্রাহিমের একটি ‘বংশের’ মাধ্যমে একটি আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি একবচনের মধ্যে ছিল – একবচন যেমন ‘তিনি’, অনেক লোকের মাধ্যমে নয় অথবা লোকেদের এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে নয় যেমন ‘তাদের’ I মশির নিস্তারপর্বর  চিহ্ন আরও বুঝতে আমাদের এখন সাহায্য করবে I   

ইব্রাহিমের সাইন 2: ডান-নেস

এটা আমাদের সবার দরকার আল্লাহর কাছ থেকে কী? এই প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর রয়েছে তবে অ্যাডামের সাইন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ধার্মিকতা। সেখানে আমরা শব্দগুলি আমাদের কাছে সরাসরি সম্বোধিত হয়েছি (আদমের সন্তান)

হে আদম সন্তান! আমরা আপনার লজ্জা coverাকতে এবং পাশাপাশি আপনাকে সজ্জিত করার জন্য আপনাকে পোশাক উপহার দিয়েছি। তবে ধার্মিকতার পোশাক – এটি সর্বোত্তম। এগুলি আল্লাহর নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। সুরত :26:২:26

তাহলে ‘ধার্মিকতা’ কী? তাওরাত (দ্বিতীয় বিবরণ 32: 4) এ আমাদের আল্লাহ সম্পর্কে বলে

আমি প্রভুর নাম প্রচার করব।
ওহ, আমাদের !শ্বরের মহিমা প্রশংসা!
তিনিই শিলা, তাঁর কাজ নিখুঁত,
এবং তাঁর সমস্ত উপায় ন্যায্য।
একজন বিশ্বস্ত Godশ্বর যিনি কোন অন্যায় করেন না,
খাঁটি এবং ন্যায়বান তিনি।

এটিই তাওরাতে প্রদত্ত আল্লাহর ধার্মিকতার চিত্র। ধার্মিকতা মানে যে এক নিখুঁত; যে সমস্ত (কেবল কিছু বা সর্বাধিক নয় সমস্ত) একের উপায় ঠিক, যে কোনওটি (কিছুটাও নয়) ভুল করে না; যে এক সোজা। এটি ন্যায়নিষ্ঠা এবং তওরাত এভাবেই আল্লাহকে বর্ণনা করে। কিন্তু কেন আমাদের ধার্মিকতার দরকার? উত্তরটি দেওয়ার জন্য আমরা জাবুরের একটি প্যাসেজে এগিয়ে গেলাম। গীতসংহিতা 15 এ (দাউদ দ্বারা লিখিত) আমরা পড়লাম:

প্রভু, কে তোমার পবিত্র তাঁবুতে থাকতে পারে?
আপনার পবিত্র পাহাড়ে কে থাকতে পারে?

2 যার পদচারণা দোষহীন,
কে সৎকর্ম করে,
কে তাদের হৃদয় থেকে সত্য কথা বলে;
3 যার জিহ্বা কোন নিন্দা করে না,
যে প্রতিবেশীর সাথে অন্যায় করে না,
এবং অন্যের উপর ঝাপটায় পড়ে না;
4 যারা একজন দুর্বল ব্যক্তিকে তুচ্ছ করে
যারা সদাপ্রভুকে ভয় করে তাদের সম্মান কর;
যে শপথ করে এমনকি শপথ করে,
এবং তাদের মন পরিবর্তন করে না;
5 যে বিনা সুদে দরিদ্রকে leণ দেয়;
নিরীহদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে না …

যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে আল্লাহর ‘পবিত্র পর্বতমালায়’ কে থাকতে পারে, তখন জান্নাতালে আল্লাহর সাথে কে থাকতে পারে তা জিজ্ঞাসা করার অন্য উপায়। এবং আমরা উত্তর থেকে দেখতে পাচ্ছি যে যে নির্দোষ এবং ‘ধার্মিক’ (v2) – সেই ব্যক্তি আল্লাহর সাথে থাকার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। এজন্যই আমাদের ধার্মিকতার প্রয়োজন। তিনি নিখুঁত যেহেতু ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর সাথে থাকতে হবে।

এখন ইব্রাহিম (আ।) – এর দ্বিতীয় চিহ্নটি বিবেচনা করুন। বইগুলি থেকে প্যাসেজটি খুলতে এখানে ক্লিক করুন। আমরা তাওরাত ও কুরআন থেকে পঠিত অবস্থায় দেখতে পাই যে ইব্রাহাম (আ।) তাঁর পথ অনুসরণ করেছিলেন (সূরাত ৩ 37:83৩) এবং এর ফলে তিনি ‘ন্যায়পরায়ণতা’ অর্জন করেছিলেন (আদিপুস্তক ১৫:)) – এটিই চিহ্ন আদম আমাদের বলেছেন আমাদের প্রয়োজন। সুতরাং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: তিনি এটি কীভাবে পেলেন?

প্রায়শই আমি মনে করি যে আমি দুটি উপায়ে একটি করে ধার্মিকতা পেয়েছি। প্রথম উপায়ে (আমার চিন্তাভাবনায়) আমি আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে বা স্বীকৃতি দিয়ে ধার্মিকতা অর্জন করি। আমি আল্লাহর উপর ‘বিশ্বাস’ করি। এবং এই চিন্তার সমর্থনে, আদিপুস্তক 15: 6 এ ইব্রাহিম (আ।) ‘প্রভুকে বিশ্বাস করলেন না’? তবে আরও প্রতিবিম্বিত হয়ে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কেবলমাত্র এক ofশ্বরের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করেছিলেন। কোন আল্লাহ তাকে দৃ a় প্রতিশ্রুতি দেন নি – যে সে পুত্র হবে। এবং এটি সেই প্রতিশ্রুতি ছিল যে ইব্রাহিম (আ।) – কে বিশ্বাস করতে হবে কি না তা বেছে নিতে হয়েছিল। এ সম্পর্কে আরও চিন্তা করুন, শয়তান (শয়তান বা ইবলিস নামেও পরিচিত) আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে – এবং অবশ্যই তার ধার্মিকতা নেই। সুতরাং কেবলমাত্র আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করা ‘পথ’ সম্পর্কে নয়। ওতে হবে না.

দ্বিতীয়ত আমি প্রায়শই মনে করি যে আমি ন্যায়পরায়ণতা অর্জন করতে পারি তা হ’ল আমি এটিকে যোগ্যতা অর্জন করি বা আমার কাছ থেকে ভাল এবং ধর্মীয় কাজ করে এটি আল্লাহর কাছ থেকে অর্জন করি। খারাপ কাজ, প্রার্থনা, উপবাস বা নির্দিষ্ট ধরণের বা পরিমাণ মতো ধর্মীয় কাজ করার চেয়ে আরও ভাল কাজ করা আমাকে ধার্মিকতার যোগ্য, উপার্জন বা যোগ্যতার সুযোগ দেয়। তবে লক্ষ্য করুন যে তাওরাত মোটেই যা বলে তা নয়।

আব্রাম সদাপ্রভুকে বিশ্বাস করল, এবং সে [অর্থাৎ। আল্লাহ] এটি তার কাছে জমা দিয়েছেন [i.e. ইব্রাহিম] ন্যায় হিসাবে।আদিপুস্তক 15: 6

ইব্রাহিম ধার্মিকতাকে ‘উপার্জন’ করেননি; এটি তাঁর কাছে ‘জমা হয়েছিল’। তাহলে পার্থক্য টা কি? ঠিক আছে, যদি কিছু অর্জন করা হয় তবে আপনি তার জন্য কাজ করেছেন – আপনি এটি প্রাপ্য। এটি আপনার কাজের জন্য মজুরি পাওয়ার মতো। কিন্তু যখন কোনও কিছু আপনার কাছে জমা হয়, তা আপনাকে দেওয়া হয়। এটি অর্জিত বা যোগ্য নয়

ইব্রাহিম (আ।) এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি এক আল্লাহর অস্তিত্বে গভীর বিশ্বাসী ছিলেন। এবং তিনি প্রার্থনা, নিষ্ঠাবান এবং লোকদের সাহায্যকারী (তাঁর ভাগ্নে লুট / লোটের জন্য প্রার্থনা করার মতো) ছিলেন। এমন নয় যে আমরা এই জিনিসগুলি ত্যাগ করব। তবে এখানে ইব্রাহিমের বর্ণিত ‘ওয়ে’ এতই সহজ যে আমরা এটি প্রায় মিস করতে পারি। তাওরাত আমাদের বলে যে ইব্রাহিম (আ।) – কে ধার্মিকতা দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ধার্মিকতা অর্জন সম্পর্কে আমাদের যে সাধারণ ধারণাগুলি তা রয়েছে তা এই ভেবে উল্টে যায় যে, আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসই যথেষ্ট, অথবা আমি ন্যায়পরায়ণতা অর্জন করতে পারি বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারি এমন যথেষ্ট ভাল এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড (প্রার্থনা, উপবাস ইত্যাদি) করে। ইব্রাহীম যেভাবে নিয়েছিল সেভাবে নয়। তিনি কেবল প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করতে বেছে নিয়েছিলেন

এখন ছেলের এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করা বাছাই করা সম্ভবত সহজ ছিল তবে এটি অবশ্যই সহজ ছিল না। ইব্রাহিম (আ।) এই যুক্তি দিয়ে এই প্রতিশ্রুতিটি সহজেই উপেক্ষা করতে পারতেন যে, যদি আল্লাহ সত্যই তাকে পুত্র দান করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা রাখতেন তবে এখনই তাঁর উচিত ছিল। কারণ তার জীবনের এই মুহুর্তে, ইব্রাহিম এবং সরাই (তার স্ত্রী) বয়স্ক ছিলেন – সন্তান লাভের বয়সটি বেশ ভালই পার হয়ে গিয়েছিল। ইব্রাহিমের প্রথম চিহ্নে তিনি স্বদেশ ছেড়ে চলে এসে কনান চলে গিয়েছিলেন বলে ইতিমধ্যে তাঁর বয়স 75 বছর ছিল। এ সময় আল্লাহ তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি একটি ‘মহান জাতি’ লাভ করবেন। এবং এর পরে অনেক বছর কেটে গেছে তাই ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী সারাই এখন সত্যই বৃদ্ধ হয়ে গেছে এবং ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিল। এবং তাদের এখনও একটি সন্তান নেই – এবং অবশ্যই একটি “জাতি” নয়। “তিনি যদি এমনটি করতে পারতেন তবে আল্লাহ কেন ইতিমধ্যে আমাদের পুত্র দেননি”?, তিনি ভাবতেন। অন্য কথায়, তিনি সম্ভবত একটি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে উত্তরহীন প্রশ্ন থাকলেও একটি আসন্ন ছেলের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলেন কারণ তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমন আল্লাহকে বিশ্বাস করেছিলেন – যদিও তিনি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সমস্ত কিছুই বুঝতে পারেন নি। এবং এই প্রতিশ্রুতিতে (সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়সে আগত একটি পুত্র) believeমান আনার জন্য বিশ্বাস করা দরকার যে আল্লাহ তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর জন্য অলৌকিক কাজ করবেন।

প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করাও সক্রিয় অপেক্ষার দাবি করবে। এক অর্থে তাঁর পুরো জীবন বাধাগ্রস্থ হয়েছিল যখন তিনি প্রতিশ্রুত পুত্র আসার অপেক্ষায় (এখনও বহু বছর) কানন প্রতিশ্রুত ভূমিতে তাঁবুতে বাস করছিলেন। প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা এবং মেসোপটেমিয়ায় (আধুনিক ইরাক) সভ্যতায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে আরও সহজ হতে পারত যে তিনি বহু বছর আগে তার ভাই এবং পরিবার এখনও বসবাস করেছিলেন। সুতরাং ইব্রাহিমকে প্রতি বছর প্রতি বছর – প্রতি বছর – প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখতে অসুবিধা সহকারে জীবন কাটাতে হয়েছিল, যখন তিনি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতিতে তাঁর বিশ্বাস এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে এটি জীবনের সাধারণ লক্ষ্যগুলি – স্বাচ্ছন্দ্য এবং কল্যাণের চেয়ে অগ্রাধিকার নিয়েছিল। সত্যিকার অর্থে, প্রতিশ্রুতির প্রত্যাশায় বেঁচে থাকার অর্থ জীবনের স্বাভাবিক লক্ষ্যে মরে যাওয়া। প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করা আল্লাহর প্রতি তাঁর আস্থা এবং ভালবাসা উভয়ই দেখিয়েছিল।

এইভাবে প্রতিশ্রুতিটিকে ‘বিশ্বাস করা’ এর সাথে মানসিক চুক্তি ছাড়িয়ে গেছে। ইব্রাহিমকে তার জীবন, খ্যাতি, সুরক্ষা, বর্তমানের পদক্ষেপগুলি ঝুঁকতে হয়েছিল এবং এই প্রতিশ্রুতিতে ভবিষ্যতের আশা করতে হয়েছিল। কারণ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি সক্রিয়ভাবে এবং বাধ্যতার সাথে অপেক্ষা করেছিলেন।

এই নিদর্শনটি হ’ল ইব্রাহীম (আ।) কীভাবে একটি পুত্রের আল্লাহর ওয়াদা বিশ্বাস করেছিলেন এবং এরূপে তাঁকে ধার্মিকতা বা কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছিল। প্রকৃত অর্থে ইব্রাহিম এই প্রতিশ্রুতিতে নিজেকে জমা দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস না করা বেছে নিতে পারতেন এবং তিনি যে দেশে ফিরে এসেছিলেন (আধুনিক ইরাক) ফিরে আসতেন। এবং তিনি আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস রেখে এবং তাঁর প্রার্থনা, রোযা এবং অন্যান্য লোকদের সাহায্য করার সময়ও এই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করতে পারতেন। তবে তারপরে তিনি কেবল তাঁর ধর্ম বজায় রাখতেন তবে তাকে ‘ধার্মিকতা’ হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া হত না। এবং যেমন কোরআন আমাদের সকলকে আদমের সন্তান বলেছে – “ধার্মিকতার পোশাক – এটি সর্বোত্তম”। এটি ছিল ইব্রাহিমের পথ।

আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ধার্মিকতা, জান্নাতের জন্য আমাদের যা প্রয়োজন তা অর্জন করা হয় না তবে আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়। এবং এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমা হয়। কিন্তু তাহলে ধার্মিকতার জন্য কে অর্থ দেয়? আমরা সাইন 3 দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্ন ১: দোয়া

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)! তিনি আব্রাহাম ও ইব্রাম (আঃ) নামেও পরিচিত৷ ইহুদি, খ্রীষ্টান ও ইসলাম এই তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্ম সকল তাকে অনুসরণ করণার্থে আদর্শ রূপে দেখে৷ আরবগণ ও ইহুদিরা তাদের শারীরিক বংশ উৎপত্তিটিকে তার ছেলে ইসমাইল ও ইসহাকের মাধ্যমে খুঁজে বের করে৷  তিনি নবীদের মধ্যেও অতি গুরুত্বপূর্ণ নবী কারণ পরবর্তী নবীগণ তার অনুকরণ করেন৷ তাই আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্নটিকে বিভিন্ন অংশে দেখব৷ পাক কুরআনে ও তৌরাত শরীফে তার চিহ্নটিকে প্রথমে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন৷

আমরা পাক কুরআনের আয়াতটিতে দেখি যে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে লোকেদের ‘জাতিগুলো’ এসেছে৷ পরে এই লোকগুলো একটি ‘মহান রাজ্যে’ পরিণত হয়েছিল৷ কিন্তু একটি পুরুষের জন্য ‘জাতি’ উৎপাদনের জন্য অন্তত একটি ছেলে থাকতে হবে, এবং একটি ‘মহান রাজ্যে’ পরিণত হওয়ার আগে একটি দেশও থাকতে হবে৷

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্য ওয়াদা

তৌরাত শরীফের অংশটি (পয়াদেশ ১২:১-৭) দেখায় যে কিভাবে আল্লাহ্ ‘জাতি’ এবং একটি ‘মহান রাজ্যের’ ওয়াদাটিকে পূর্ণ করবেন যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে আসবে৷ আল্লাহ্ তাকে একটি ওয়াদা করেছিলেন যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বুনিয়াদ ছিল৷ আসুন এটিকে আমরা আরো বিশদভাবে দেখি৷  আমরা দেখি যে আল্লাহ্ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে বলেন:

2 “আমি তোমাকে একটি মহান জাতি হিসাবে পরিণত করব,
আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব;
আমি আপনার নাম মহান করব,
এবং আপনি একটি আশীর্বাদ হবে।
3 যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে আমি তাদের আশীর্বাদ করব,
আর যে তোমাকে অভিশাপ দেয় আমি অভিশাপ দেব;
এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক
আপনার মাধ্যমে ধন্য হবে। “

পয়দায়েশ ১২:২-৩

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মহানতা

আজকের দিনে আমি যেখানে বসবাস করি সেখানকার বহু লোকেরা আশ্চর্যান্বিত হয় ও বলে আল্লাহ্ আছেন কি না ও কিভাবে একজন জানবে যে তিনি সত্যিই তৌরাত শরীফের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশিত করেছিলেন?  আমাদের সম্মুখে একটি ওয়াদা রয়েছে, যার কিছু অংশকে আমরা যাচাই করতে পারি৷  এই প্রকাশটির অন্তিমে উল্লেখ করা হয়েছে যে আল্লাহ্ প্রতক্ষ্যভাবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে ওয়াদা করেছিলেন যে ‘আমি তোমার নামটিকে মহান করব৷’ আমরা একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি এবং হযরত ইব্রাহিম/আব্রাহাম/আব্রাম (আঃ)-এর নামটি  দুনিয়াতে সবচাইতে পরিচিত নাম৷ এই ওয়াদাটি আক্ষরিকভাবে ঐতিহাসিকভাবে সত্য হয়েছে৷ তৌরাত শরীফের আরম্ভের প্রতিলিপির দস্তাবেজটি যা আজও রয়েছে যা ডেড সি স্ক্রল থেকে এসেছে যার লেখার তারিখটি ছিল ২০০-১০০ খ্রিস্টপূর্ব৷ এর অর্থটি হল যে এই ওয়াদাটিকে সেকেলেই লেখা হয়ে গিয়েছিল৷ সেই সময়টিতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর নামটি তেমন প্রচলিত ছিল না-কেবল ইহুদিদের কিছু লোক জানত যারা তৌরাত শরীফটিকে অনুসরণ করত৷ কিন্তু বর্তমানে তার নামটি মহান, তাই আমরা এই পূর্ণতাটিকে যাচাই করতে পারি যা কেবল এটিকে লেখার পরে এসেছিল, আগে নয়৷

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রতি করা ওয়াদাটির এই অংশটি নিশ্চয়ই ঘটেছে, যা অ-ঈমানদারদের কাছেও স্পষ্ট, এবং এটি আমাদেরকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রতি করা আল্লাহ্‌র ওয়াদাটির বাকি অংশটিকে বুঝতে আরো বেশি আত্মবিশ্বাস প্রদান করে৷ আসুন এটিকে পর্যবেক্ষণ করা বহাল রাখি৷

আমাদের জন্য দোয়া

এছাড়া, আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে আগত একটি ‘মহান জাতিটিকে’ ও হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে দেওয়া ‘দোয়াটির’ প্রতিজ্ঞাটিকে দেখতে পারি৷ কিন্তু আরো অন্য কিছুও রয়েছে, দোয়াটি কেবল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্যই ছিল না কারণ এটি বলে যে “দুনিয়ার সকল লোকেরা তোমার মাধ্যমে দোয়া পাবে” (অর্থাৎ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মাধ্যমে)৷ এটি আমাকে ও আপনাকে লক্ষ্য করতে সজাগ করে৷ কারণ আপনি ও আমি ‘দুনিয়ার সকল লোকেদের’ অংশ- সেক্ষেত্রে আমাদের ধর্ম, জাতি, নিবাস স্থান, আমাদের সামাজিক স্তর অথবা আমাদের ভাষা যাই হোক না কেন৷ এই ওয়াদাটি আজকের দিনে জীবিত সকল লোকেদের জন্য৷ এটি আপনার জন্যও একটি ওয়াদা৷  আমাদের ভিন্ন ধর্ম, জাতি ও ভাষা প্রায়ই লোকেদেরকে আলাদা করে এবং সংঘর্ষের কারণ হয়, এটি এমন একটি ওয়াদা যা এই সকল বিষয়কে উপেক্ষা করে যা সাধারণত আমাদেরকে ভাগ করে৷ কিভাবে? কখন? কি ধরনের দোয়া? এই পর্যায়ে এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত করা হয়নি, কিন্তু এই চিহ্নটি একটি ওয়াদার জন্ম দিয়েছিল যা হল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মাধ্যমে আপনার ও আমার জন্য৷ যেহেতু আমরা জানি যে এই ওয়াদাটির একটি অংশ সত্য হয়েছে, তাই আমরা সুনিশ্চিত হতে পারি যে এই অন্য অংশটি যা আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাও স্পষ্ট ও আক্ষরিকভাবে পূর্ণ হবে- আমাদের কেবল এটিকে খোলার একটি চাবি খুঁজতে হবে৷

আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এই ওয়াদাটিকে পেয়েছিলেন তখন তিনি আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করেছিলেন এবং…

“তাই মাবুদের কথামতই তিনি বেরিয়ে পড়লেন”

আয়াত ৪
Capture 1.PNG

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর উর থেকে কেনান দেশে যাওয়ার মানচিত্র

ওয়াদার দেশে যেতে কত সময় লেগেছিল? তার যাত্রাটিকে এখানে দেওয়া মানচিত্রটি দেখায়৷ তিনি বাস্তবে উর শহরে (বর্তমানে দক্ষিণ ইরাক) বসবাস করতেন এবং হারণ শহরে (বর্তমানে উত্তর ইরাক) গিয়েছিলেন৷  Ibহযরত ইব্রাহিম (আঃ) তারপর কেনান দেশে (তার সময়ে সেই দেশটি কেনান নামে পরিচিত ছিল) যাত্রা করেছিলেন৷ আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন যে এটি একটি লম্বা যাত্রা ছিল৷ Hতিনি হয়ত উঠ, ঘোড়া অথবা গাধার পিঠে চড়ে যাত্রা করেছিলেন তাই বহু মাস লেগে গিয়েছিল৷ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার পরিবার ত্যাগ করেছিলেন, তার আরামের জীবনটিকে ত্যাগ করেছিলেন (মেসোপটেমিয়া এই সময়ে সভ্যতার কেন্দ্র ছিল), তার সুরক্ষা এবং তার চেনা সকল কিছুকে ত্যাগ করে এমন একটি জাগয়ায় গিয়েছিলেন যা তার জন্য অজানা ছিল৷ তৌরাত শরীফ আমাদেরকে বলে যে তখন তিনি ৭৫ বছরের ছিলেন!

পূর্ববর্তী নবীদের ন্যায় পশুদের কোরবানী দেওয়া হয়

তৌরাত শরীফ আরও বলে যে যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কেনান দেশে সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে গিয়েছিলেন:

 “তাই তিনি মাবুদের জন্য একটি কোরবানগাহ্ নির্মাণ করেছিলেন”

আয়াত ৭

তার পূর্বে হাবিল ও হজরত নূহ্ (আঃ)-এর মত, সেই কোরবানগাহে্ তিনিও আল্লাহ্‌র জন্য পশুদের কোরবানী দিলেন৷  

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার বার্ধক্যের সময়ে এই নতুন দেশে যাত্রা করার জন্য তার জীবনটিকে বহু কিছু ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন৷ কিন্তু এমনটি করার মাধ্যমে তিনি আল্লাহ্‌র ওয়াদাটির প্রতি নিজেকে সমর্পিত করেছিলেন৷ এই কারণে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা আগামীতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্ন ২ দেখা জারি রাখব৷

কুরআন বাইবেলের পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত। এসম্পর্কে কুরআন কি বলে?

আমরা দেখেছি যে কুরআন ও সুন্নাহ উভয়ই নিশ্চিত করে যে বাইবেল (তওরাত,  জবুর এবং ইঞ্জিল যা একত্রে আল কিতাব) পরিবর্তন করা হয়নি বা বিকৃত হয়নি (এখানে এবং এখানে দেখুন)  । তবে প্রশ্নটি এখনও  রয়ে যায় যে বাইবেল / আল কিতাব কুরআন দ্বারা রহিত, বাতিল বা প্রতিস্থাপন হয়েছে কিনা। কুরআন নিজেই এই ধারণা সম্পর্কে কি বলে?  

আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।

সূরা ৫:৪৮  আল মায়েদাহ

এর আগে মূসার কিতাব ছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এই কিতাব তার সমর্থক আরবী ভাষায়, যাতে যালেমদেরকে সতর্ক করে এবং সৎকর্মপরায়ণদেরকে সুসংবাদ দেয

সূরা ৪৬:১২ আল আক্বাফ

এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে।

সূরা ৬:৯২ আল  আন-আম 

আমি আপনার প্রতি যে কিতাব প্রত্যাদেশ করেছি, তা সত্য-পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন কারী নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সব জানেন, দেখেন।

সূরা ৩৫:৩১

এই আয়াতগুলো কুরআন বাইবেলের (আল কিতাব)পূর্ববর্তী বার্তা সমূহ নিশ্চিত (না রহিত করন, না বাতিল করন অথবা না প্রতিস্থাপন) করার কথা বলে । অন্য কথায়, এই আয়াত বলছে না যে বিশ্বাসীদের প্রথম প্রকাশিত প্রত্যাদেশ বাদ দেওয়া  উচিত এবং কেবল পরবর্তী প্রত্যাদেশ অধ্যয়ন করা উচিত। বিশ্বাসীদের  উচিত পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ অধ্যয়ন করা এবং সে সম্পর্কে জানা। 

এটি আয়াত দ্বারা আরোও নিশ্চিত করা হয়েছে যে বিভিন্ন প্রত্যাদেশ সমূহের মধ্যে “কোনও পার্থক্য নে“। এখানে এমন দুটি আয়াত আমি লক্ষ্য করেছি:

রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

সূরা ২:২৮৫

তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।

সূরা ২:১৩৬

প্রথম আয়াতে  বলা হয়েছে  যে পয়গম্বদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই – তাদের সকলের কথা শোনা উচিত এবং ২য়টি বলে যে বিভিন্ন নবীদের দেওয়া প্রত্যাদেশ সমূহের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই – তাদের সব গ্রহণ করা উচিত। এ আয়াতের কোনটিতেই পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশসমূহ অবহেলা করা উচিত বলে কোন পরামর্শ নেই কারণ পরবর্তী আয়াতটি তা বাতিল করে দিয়েছে।

এবং এই নিদর্শনটি ঈসা আল মাসিহ ( আ: ) এর দৃষ্টান্ত এবং শিক্ষার সাথে খাপ খায়। তিনি নিজেই বলেননি তৌরাত এবং তারপর জবুরের প্রথম দিকের প্রত্যাদেশসমূহ বাতিল করা হয়েছিল। আসলে তিনি বিপরীতটি শিখিয়েছিলেন। তিনি ইঞ্জিলের নিজস্ব শিক্ষায় মুসার তৌরাতকে যে সন্মান এবং ক্রমাগত এবং নিরবচ্ছিন্ন গুরুত্ব দিয়েছেন তা লক্ষ করুন।  

নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ। আপনি জিজ্ঞেস করুন, যদি তাই হয়, তবে বল যদি আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তাঁর জননী এবং ভূমন্ডলে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে তাদেরকে বিন্দুমাত্রও বাঁচাতে পারে? নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, সবকিছুর উপর আল্লাহ তা’আলার আধিপত্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান। 18 ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। আপনি বলুন, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে কেন শাস্তি দান করবেন? বরং তোমারও অন্যান্য সৃষ্ট মানবের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন। নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তাতে আল্লাহরই আধিপত্য রয়েছে এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। 19 হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান। 20 যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।

মথি ৫:১৭-২০

আসলে, তার শিক্ষাকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তিনি শিখিয়েছিলেন যে প্রথমে কাউকে তৌরাত এবং পরে জবুর এ যেতে হবে। এখানে আছে তিনি তার নিজের সাহাবীদের কিভাবে শিখিয়েছিলেন :

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ

লূক ২৪:২৭

আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।

লূক ২৪:৪৪

ঈসা আল মসীহ ( আ:)  পূর্ববরতী প্রত্যাদেশগুলো উপেক্ষা করেননি। বাস্তবে তিনি সেখান থেকেই তার শিক্ষাদান এবং নির্দেশনা শুরু করেছিলেন। এই কারনেই ইঞ্জিলকে বুঝতে পারার ভিত্তি হিসেবে তৌরাতের শুরু থেকে আরম্ভ করার মধ্যে দিয়ে

আমরা তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করি।

ইঞ্জিল বিকৃত হয়েছে! কুরআন কি বলে?

আমার অনেক মুসলমান বন্ধু আছেন। এবং যেহেতু আমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী, এবং ইঞ্জিলের একজন অনুসারী, আমি আমার মুসলমান বন্ধুদের সাথে বিশ্বাস এবং আস্থা সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনা করি। প্রকৃত অর্থে আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে প্রচুর মিল রয়েছে, যা ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমা লোকদের যারা আল্লাহ্ কে বিশ্বাস করেন না, অথবা তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এমন বিশ্বাসকে খুজে থাকেন তাদের চেয়েও বেশি। তবুও প্রায়ই আমার আলোচনায় একটি ব্যতিক্রম দাবি শুনা যায় যে ইঞ্জিল(এবং জবুর  এবং তৌরাত যা পরিপূরণ করে আল কিতাব=বাইবেল)বিকৃত হয়েছে, বা পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে আমরা আজ যে বার্তাটি পড়ি তা হলো অধঃপতিত এবং ত্রুটিপূর্ণ, যা প্রথমে অনুপ্রানিত এবং লিখিত হয়েছিল নবীদের এবং আল্লাহর সাহাবীদের দ্বারা। এখন এটি আর কোনো ছোট দাবি নয়, কারণ এর অর্থ হলো আল্লাহর সত্য প্রকাশ করতে আমরা বাইবেল যেভাবে পড়ি সেভাবে বিশ্বাস করতে পারি না। আমি বাইবেল (আল কিতাব)এবং পবিত্র কুরআন উভয়ই পড়ি এবং চর্চা করি এবং সুন্নাহ অধ্যায়ন শুরু করেছি। আমি যেটি চমকপ্রদ মনে করি তা হ’ল বাইবেল সম্পর্কে সন্দেহের এই আত্মা যদিও আজ খুব সাধারণ, তবুও আমি এটি আল কুরআনে কোথাও পাই না। আসলে, পবিত্র কুরআন বাইবেলকে কতটা বেশী গুরুত্ব দেয় তা আমাকে সবচেয়ে বেশী চমকে দিয়েছে। আমি কী বলতে চাইছি তা সংক্ষেপে দেখাতে চাই। 

কুরআন বাইবেল (আল কিতাব) সম্পর্কে কি বলে:

বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাও পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। সূরা আল মায়েদা ৫:৬৮ (মেজ)

আরো দেখুন ৪:১৩৬

সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না। সূরা

সূরা ইউনুস ১০:৯৪ যোনা

আমি এটি লক্ষ্য করেছি, এটি ঘোষণা করে যে প্রত্যাদেশ যা দেওয়া হয়েছিল “কিতাবের লোকদের” (খ্রীষ্টিয়ান ও ইহুদী) তা আল্লাহ প্রদত্ত। এখন আমার মুসলিম বন্ধুরা বলছেন যে এটি আসল প্রত্যাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে যেহেতু আসলটি বিকৃত হয়েছে তাই এটি আজকের ধর্মগ্রন্থে প্রযোজ্য নয়। তবে ২য় অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করে যে, যারা ইহুদী ধর্মগ্রন্থ পড়ছেন (বর্তমান কাল অতীত কাল নয়, যেমন “পড়েছিলেন”)। এটি আসল প্রত্যাদেশ সম্পর্কে বলছে না, কিন্তু এই গ্রন্থগুলি সেই সময়ের যখন আল কুরআন নাযিল হয়েছিল। এটি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে প্রায় ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ পরবর্তি সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। তাহলে এই অনুচ্ছেদ প্রমান করে ইহুদী ধর্মগ্রন্থ ৬০০ খ্রীষ্টাব্দে যেমন ছিল এখন তেমই আছে। অনান্য অনুচ্ছেদগুলিও একই রকম। বিবেচনা করুণঃ 

আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; সূরা আন-

নাহল ১৬:৪৩ (মেীমাছি

আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। সূরা আল

আম্বিয়া ২১:৭ (নবীগন

এগুলি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্ববর্তী প্রেরিতদের কথা বলে। তবে, গুরুতরভাবে তারা নিশ্চিত করে যে এই প্রেরিতদের/নবীদের দেওয়া আল্লাহর বার্তগুলি তাদের অনুসারীদের (৬০০ খ্রীষ্টাব্দে) কাছে এখনও বর্তমান। প্রত্যাদেশ সমূহ আদিতে যেভাবে নাজিল হয়েছিল নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়কালে তা বিকৃত হয়নি।   

পবিত্র কুরআন বলে যে আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করা যায় না       

তবে আরও শক্তিশালী অর্থে, এমনকি আল কিতাবের বিকৃতি/পরিবর্তন সম্ভাবনা পবিত্র কুরআন দ্বারা সমর্থিত নয়। স্মরণে রাখুন আল-মায়েদা ৫:৬৮ (শরীয়ত…সুসমাচার … আল্লাহর নিকট থেকে আগত প্রত্যাদেশ), এবং নিম্ন লিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করুনঃ

আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে। সূরা আল আন-

আম ৬:৩৪ (গবাদি পশু

আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। সূরা আল আন-

আম ৬:১১৫ (গবাদি পশু

তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।

সূরা ইউনুস ১০:৬৪ (যোনা

আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না। সূরা আল কা

কাহফ ১৮:২৭ (গুহা

সুতরাং, আমরা যদি একমত হই যে মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্ববর্তী নবীগনের উপর আল্লাহর প্রত্যাদেশ নাযিল হয়েছিল (যেমন মায়েদাহ্ ৫:৬৮-৬৯ এ বলেছেন), এবং পরবর্তিতে এই আয়াতগুলি যেহেতু বার বার খুব স্পষ্ট করে বলে যে কেউ আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে পারে না, তাহলে কীভাবে কেউ বিশ্বাস করতে পারেন যে তাওরাত, জাবুর এবং ইঞ্জিল (অর্থাৎ আল কিতাব = বাইবেল)মানুষের দ্বারা বিকৃত বা পরিবর্তন করা হয়েছিল? বাইবেল বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে তা বিশ্বাস করার জন্য খোদ কুরআনকেই অস্বীকার করা হবে। 

প্রকৃত পক্ষে, আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্যাদেশ বিচারের এই ধারণাটি অন্যেদের থেকে ভালো বা খারাপ যদিও বাপকভাবে বিশ্বা্স করা হয়, তবে এটি কুরআনে সমর্থিত নয়। 

তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।”

আরো দেখুন ২:২৮৫

সুতরাং প্রত্যাদেশ সমূহকে বিচারের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য থাকা উচিত নয়। এটি আমাদের অধ্যয়নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্য কথায়, আমাদের উচিত সকল কিতাব সমূহ অধ্যয়ন করা। আসলে আমি মুসলমানদের বাইবেল অধ্যয়নের সাথে সাথে খ্রীষ্টিয়ানদের কুরআন অধ্যয়ন করার আহ্বান জানাই। 

এই বইগুলি অধ্যয়ন করতে সময় এবং সাহস লাগে। অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হবে। নবীগন যে সমস্ত কিতাব প্রকাশ করেছেন তা থেকে শিক্ষা গ্রহন করার জন্য – নিশ্চয়ই পৃথিবীতে এটি আমাদের সময়ের সার্থক ব্যবহার হবে । আমি জানি যে আমার পক্ষে, যদিও পবিত্র কিতাব সমূহ অধ্যয়ন করতে আমার অনেক সময় এবং সাহস লেগেছে, এবং এটি আমার মনে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তবুও এটি একটি ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা এবং এতে আমার উপর আল্লাহর নেয়ামত অনুভব করেছি। আমি আশা করি আপনি এই ওয়েবসাইটটির কিছু নিবন্ধ এবং শিক্ষাসমূহ জানতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন । বোধ হয় শুরু করার জন্য ভাল হবে, যদি হাদীস সমূহ এবং হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) তৌরাত, জবুর এবং ইঞ্জিল সম্পর্কে কি ভাবেন এবং ব্যবহার করেন সে সম্পর্কিত নিবন্ধটি থেকে শুরু করা যায় (যে বইগুলি কিতাব পরিপূরণ করে = বাইবেল)। এই নিবন্ধটির লিংক এখানে। সমস্ত প্রাচীন কিতাব সমূহের নির্ভরযোগ্যতা কীভাবে নিরূপিত করা হয়েছে, বিজ্ঞানসম্মত এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাইবেলকে বিশ্বাসযোগ্য বা বিকৃত বলে বিবেচনা করা হয় কিনা সে বিষয়ে আপনার যদি বৈজ্ঞানিক আগ্রহ থাকে তবে এই নিবন্ধটি দেখুন।