সেই দিন: আল-ইনশিকাক ও আত্ব-সূর এবং মসীহ

সুরা আল-ইনশিকাক (সুরা 84 – বিসর্জন) বর্ণনা করে কিভাবে পৃথিবী এবং আকাশ কেঁপে যাবে এবং বিচারের দিনে ধ্বংস হবে I 

1 যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে 2 ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত 3 এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে। 4 এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে। 5 এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত। 6 হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে। 7 যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে 8 তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে 9 এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে 10 এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে, 11 সে মৃত্যুকে আহবান করবে 12 এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

আল-ইনশিকাক 84:1-12

সুরা আল-ইনশিকাক সাবধান করে যে যাদের কাজের রেকর্ড তার ‘দক্ষিন হস্তে’ দেওয়া না হয়, তারা সেই দিনে এক ‘জ্বলন্ত আগুনে’ প্রবেশ করবে I  

আপনি কি জানেন আপনার কাজের রেকর্ড কি আপনার দক্ষিন হস্তে দেওয়া হবে কিম্বা আপনার পেছনে? 

সুরা আত্ব-সূর (সুরা 52 – পর্বত) বিচারের দিনে পৃথিবীর ঝাঁকুনি এবং লোকের সম্বদ্ধে বিস্তৃত ভাবে বর্ণনা করে 

45 তাদেরকে ছেড়ে দিন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের উপর বজ্রাঘাত পতিত হবে। 46 সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। 47 গোনাহগারদের জন্যে এছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

সুরা আত্ব-সূর 52:45-47

আপনি কি বিশ্বস্ত আপনি ‘অন্যায় করেন’ নি এবং কখনও সত্যকে ‘অসত্য (মিথ্যা) রূপে’ ব্যবহার করেছেন যাতে করে আপনি সেই দিনের বিচারে উত্তীর্ণ হতে পারেন? 

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন যারা নিশ্চিত নয় বিচারের দিনে কিভাবে তাদের কাজের রেকর্ডকে তাদের কাছে দেওয়া হবে I তিনি তাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কোনো সাহায্যকারী নেই I তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন:

7 তখন যীশু আবার তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; আমি মেষদের জন্য খোঁযাড়ের দরজা স্বরূপ৷
8 যাঁরা আমার আগে এসেছে তারা সব চোর ডাকাত, কিন্তু মেষরা তাদের ডাক শোনে নি৷
9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’
11 ‘আমিই উত্তম মেষপালক৷ উত্তম পালক মেষদের জন্য তার জীবন সমর্পণ করে৷
12 কোন বেতনভূক কর্মচারী প্রকৃত মেষপালক নয়৷ মেষরা তার নিজের নয়, তাই সে যখন নেকড়ে বাঘ আসতে দেখে তখন মেষদের ফেলে রেখে পালায়৷ আর নেকড়ে বাঘ তাদের আক্রমণ করে এবং তারা ছড়িয়ে পড়ে৷
13 বেতনভূক কর্মচারী পালায়, কারণ বেতনের বিনিময়ে সে কাজ করে, মেষদের জন্য তার কোন চিন্তাই নেই৷
14 ‘আমিই উত্তম পালক৷ আমি আমার মেষদের জানি আর আমার মেষরা আমায় জানে৷ ঠিক য়েমন আমার পিতা আমাকে জানেন, আমিও আমার পিতাকে জানি; আর আমি মেষদের জন্য আমার জীবন সঁপে দিই৷
15
16 আমার এমন আরো অনেক মেষ আছে যাঁরা এই খোঁযাড়ের নয়৷ আমি অবশ্যই তাদেরও আনব, তারাও আমার কথা শুনবে আর তারা তখন সকলে এক পাল হবে আর তাদের পালকও হবেন একজন৷
17 এই কারণেই পিতা আমায় ভালবাসেন, কারণ আমি আমার প্রাণ দান করি য়েন আবার তা পেতে পারি৷
18 কেউ আমার কাছ থেকে তা হরণ করে নিতে পারবে না, বরং আমি তা স্ব-ইচ্ছাতেই করছি৷ এটা দান করার অধিকার আমার আছে এবং আবার তা ফিরে পাওযার অধিকারও আমার আছে৷ আমার পিতার কাছ থেকেই আমি এই সব শুনেছি৷’

যোহন 10: 7-18

নবী ঈসা আল মসীহ তাঁর ‘মেষ’ সুরক্ষিত করতে এবং তাদের জীবন দিতে – এমনকি সেই আসন্ন দিনের জন্য তাঁর মহান কর্ত্তৃত্ব দাবি করলেন I তাঁর কাছে কি সেই কর্ত্তৃত্ব আছে? মুসা পিবিইউএইচের তাওরাত বিশ্বের সৃষ্টির থেকে এমনকি ছয় দিনে তার কর্ত্তৃত্বকে আগে থেকেই দেখেছিলেন I পরে যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তার আগমনের বিশদ বিবরণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যাতে আমরা জানতে পারি যে তার আগমন প্রকৃতপক্ষে স্বর্গের পরিকল্পনা ছিল I তবে কিভাবে একজন ‘তার মেষ’ হতে পারে এবং তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন এর দ্বারা ‘আমি মেষের জন্য আমার জীবন দান করি’? আমরা এটিকে এখানে দেখি

নবী ঈসা আল মসীহর শিক্ষা সর্বদা লোকেদের বিভক্ত করেছে I এটি তার সময়েও সত্য ছিল I এই আলোচনাটি এইভাবে শেষ হয়েছিল এবং যে লোকেরা তাকে শুনেছিল তারা কিভাবে বিভক্ত হয়েছিল তা এখানে রয়েছে I

19 এইসব কথার কারণে জনগণের মধ্যে এ নিয়ে মতবিরোধ হল৷
20 তাদের মধ্যে অনেকে বলল, ‘ওকে ভূতে পেয়েছে, ও পাগল৷ ওর কথা কেন শুনছ?’
21 আবার অন্যরা বলল, ‘যাদের ভূতে পায় তারা তো এমন কথা বলে না৷ ভূত নিশ্চয়ই অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান করতে পারে না, পারে কি?’
22 এরপর জেরুশালেমে প্রতিষ্ঠার পর্বএল, তখন ছিল শীতকাল৷
23 যীশু মন্দির চত্বরে শলোমনের বারান্দাতে পায়চারি করছিলেন৷
24 কিছু ইহুদী তাঁর চারপাশে জড়ো হয়ে তাঁকে বলল, ‘তুমি আর কতকাল আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখবে? তুমি যদি মশীহ হও তাহলে আমাদের স্পষ্ট করে বল৷’
25 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের ইতিমধ্যেই বলেছি, আর তোমরা তা বিশ্বাস করছ না৷ আমি আমার পিতার নামে য়ে সব অলৌকিক কাজ করি সেগুলিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে৷
26 কিন্তু তোমরা বিশ্বাস করো না, কারণ তোমরা আমার পালের মেষ নও৷
27 আমার মেষরা আমার কন্ঠস্বর শোনে৷ আমি তাদের জানি, আর তারা আমার অনুসরণ করে৷
28 আমি তাদের অনন্ত জীবন দিই, আর তারা কখনও বিনষ্ট হয় না, আমার হাত থেকে কেউ তাদের কেড়ে নিতেও পারবে না৷
29 আমার পিতা, যিনি তাদেরকে আমায় দিয়েছেন, তিনি সবার ও সবকিছু থেকে মহান, আর কেউ পিতার হাত থেকে কিছুই কেড়ে নিতে পারবে না৷
30 আমি ও পিতা, আমরা এক৷’
31 ইহুদীরা তাঁকে মারবার জন্য আবার পাথর তুলল৷
32 যীশু তাদের বললেন, ‘পিতার শক্তিতে আমি অনেক ভাল কাজ করেছি, তার মধ্যে কোন্ কাজটার জন্য তোমরা পাথর মারতে চাইছ?’
33 ইহুদীরা এর উত্তরে তাঁকে বলল, ‘তুমি য়ে সব ভাল কাজ করেছ, তার জন্য আমরা তোমায় পাথর মারতে চাইছি না৷ কিন্তু আমরা তোমাকে পাথর মারতে চাইছি এই জন্য য়ে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ৷ তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ৷’
34 যীশু তাদের বললেন, ‘তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই য়ে, ‘আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর৷’
35 শাস্ত্রে তাদেরই ঈশ্বর বলেছিল যাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী এসেছিল; আর শাস্ত্র সব সময়ই সত্য৷
36 আমিই সেই ব্যক্তি, পিতা যাঁকে মনোনীত করে জগতে পাঠালেন৷ আমি বলেছি য়ে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র৷’ তবে তোমরা কেন বলছ য়ে আমি ঈশ্বর নিন্দা করছি?
37 আমি যদি আমার পিতার কাজ না করি, তাহলে আমায় বিশ্বাস করো না৷
38 কিন্তু আমি যখন সেইসব কাজ করছি তখনও যদি তোমরা আমাকে বিশ্বাস না করো, তাহলে সেই সব কাজকে বিশ্বাস কর৷ তাহলে তোমরা জানতে পারবে ও বুঝতে পারবে য়ে পিতা আমাতে আছেন আর আমি পিতার মধ্যে আছি৷’
39 এরপর তারা আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করল, কিন্তু তিনি তাদের হাত এড়িয়ে চলে গেলেন৷
40 যর্দনের অপর পারে য়েখানে য়োহন বাপ্তাইজ করছিলেন, যীশু সেখানে আবার গেলেন ও সেখানে থাকলেন৷
41 বহুলোক তাঁর কাছে আসতে থাকল, আর তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘য়োহন কোন অলৌকিক কাজ করেন নি বটে; কিন্তু এই মানুষটির বিষয়ে য়োহন যা বলেছেন, সে সবই সত্য৷’
42 আর সেখানে অনেকেই যীশুর ওপর বিশ্বাস করল৷

যোহন 10: 19-42

সেই দিন: আল-মাসাদ ও আল-হাদীদ এবং মসীহ

সুরা আল-মাসাদ (সুরা 111 – পাম ফাইবার) শেষ দিনের জ্বলন্ত বিচারের সম্বন্ধে সতর্ক করে I 

1 আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, 2 কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। 3 সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে 4 এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, 5 তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।     

আল-মাসাদ 111:1-5

সুরা আল-মাসাদ সাবধান করে যে আমরা ধ্বংস হতে পারি I এমনকি যারা আমাদের নিকটস্থ, যেমন আমাদের স্ত্রীরাও, বিচারের শেষ দিনের মৃত্যুদণ্ডের হুমকির মুখোমুখি হয় I  

সুতরাং আল্লাহর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে আমরা কি করতে পারি যিনি আমাদের সমস্ত লজ্জাজনক গোপনীয়তাগুলো জানেন?

ঊআ আল-হাদীদ (সুরা 57 – লোহা) আমাদের বলে যে তিনি আমাদের লজ্জাজনক গোপনীয়তাগুলোর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আমাদেরকে নিয়ে যেতে চিহ্নগুলো পাঠিয়েছেন I

সুরা আল-হাদীদ 57:9তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

আল-মাসাদ 111:1-5

তবে আমাদের সতর্ক করা হয় যে যারা অন্ধকারে বাস করেছে তারা সেই দিনে উন্মত্তবৎ আলোর জন্য সন্ধান করতে থাকবে I  

13 যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। 14 তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।

সুরা আল-হাদীদ 57:13-14

আমরা যদি এভাবে বাস না করে থাকি তবে কি আমরা সেই দিনে আলো পাবো? আমাদের জন্য কি কোনো আশা আছে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সেই দিনে আমাদের সাহায্য করতে  এসেছিলেন I তিনি স্পষ্টভাবে বললেন যে তিনি আমাদের মধ্যে তাদের জন্য সেই আলো যারা লজ্জাজনক অন্ধকারের মধ্যে আছে বিচারের দিনে যার দরকার  হবে I  

12 এরপর যীশু আবার লোকদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন এবং বললেন, ‘আমিই জগতের আলো৷ য়ে কেউ আমার অনুসারী হয় সে কখনও অন্ধকারে থাকবে না; কিন্তু সেই আলো পাবে যা জীবন দেয়৷’
13 তখন ফরীশীরা তাঁকে বলল, ‘তুমি নিজেই নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছ৷ তোমার সাক্ষ্য গ্রাহ্য হবে না৷’
14 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যদি নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিই, তবু আমার সাক্ষ্য সত্য, কারণ আমি জানি আমি কোথা থেকে এসেছি, আর কোথায় বা যাচ্ছি; কিন্তু আমি কোথা থেকে এসেছি বা কোথায় যাচ্ছি তা তোমরা জানো না৷
15 মানুষের বিচারবোধের মাপকাঠিতে তোমরা আমার বিচার করছ৷ আমি কারো বিচার করি না৷
16 কিন্তু আমি যদি বিচার করি, তবে আমার বিচার সত্য, কারণ আমি একা নই৷ পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি আমার সঙ্গেই আছেন৷
17 তোমাদের নিয়মে লেখা আছে, যখন দুই ব্যক্তি একই সাক্ষ্য দেয় তখন তা সত্যি৷
18 আমি নিজেই নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিই৷ আর পিতা, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনিও আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন৷’
19 তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার পিতা কোথায়?’যীশু বললেন, ‘তোমরা না জানো আমাকে, না জানো আমার পিতাকে৷ তোমরা যদি আমাকে জানতে, তবে আমার পিতাকেও জানতে৷’
20 মন্দিরের দানের বাক্সের কাছে দাঁড়িয়ে শিক্ষা দেবার সময় যীশু এইসব কথা বললেন৷ কিন্তু কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করল না, কারণ তখনও তাঁর নিরূপিত সময় আসে নি৷
21 তিনি তাদের আর একবার বললেন, ‘আমি যাচ্ছি, আর তোমরা আমার খোঁজ করবে; কিন্তু তোমরা তোমাদের পাপেই মরবে৷ আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সেখানে আসতে পারবে না৷’
22 তখন ইহুদীরা বলছিল, ‘তিনি কি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন? কেন তিনি বললেন, ‘আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সেখানে আসতে পারবে না?”
23 যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা এই নিম্নলোকের আর আমি উর্দ্ধলোকের৷ তোমরা এজগতের, আমি এ জগতের নই৷
24 তাই আমি তোমাদের বলছি, তোমরা তোমাদের পাপেই মরবে৷ তোমরা যদি বিশ্বাস না কর য়ে আমিই তিনি, তবে তোমরা তোমাদের পাপের জন্যই মরবে৷’
25 তখন তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে?’যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা, তা তো শুরু থেকেই তোমাদের বলে আসছি৷
26 তোমাদের বিষয়ে বলার ও বিচার করার অনেক কিছুই আমার আছে৷ যা হোক যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য৷ আর আমি তাঁর কাছ থেকে যা কিছু শুনি, পৃথিবীর মানুষের কাছে তাই বলি৷’
27 তারা বুঝতে পারে নি য়ে, তিনি তাদের কাছে পিতার বিষয়ে বলছেন৷
28 তখন যীশু তাদের বললেন, ‘যখন তোমরা মানবপুত্রকে উঁচুতে তুলবে, তখন জানবে য়ে আমিই তিনি এবং আমি নিজের থেকে কিছুই করি না৷ পিতা য়েমন আমায় শিখিয়েছেন, আমি সেরকমই বলছি৷
29 আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তিনি আমার সঙ্গে আছেন৷ তিনি আমাকে একা ফেলে রাখেন নি, কারণ আমি সব সময় সন্তোষজনক কাজই করি৷’
30 যীশু যখন এইসব কথা বললেন তখন অনেকেরই তাঁর ওপর বিশ্বাস হল৷

যোহন 8:12:30

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ ‘জগতের জ্যোতি’ রূপে মহান কর্ত্তৃত্বের দাবি করলেন, এবং চ্যালেঞ্জ করার সময়ে তিনি ‘ব্যবস্থার’ উল্লেখ করলেন I এটি হ’ল মুসা পিবিইউএইচ এর তাওরাত যা তাঁর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল এবং তাঁর কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে I  এটি যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীদের দ্বারা অনুসৃত হয়েছিল যারা তার আগমন সম্পর্কে বিশদ বিবরণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যাতে আমরা জানতে পারি যে তাঁর দাবি অনুসারে তাঁর কাছে মহান কর্ত্তৃত্ব ছিল I ‘মনুষ্য পুত্র’ কি এবং ঈসা আল মসীহ কি বোঝাতে চেয়েছিলেন এর দ্বারা ‘যখন আপনি মনুষ্য পুত্রকে উত্থিত করেছেন’? ‘জীবনের জ্যোতি’ পাওয়া বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I অতএব আজকেই করুন, কারণ বিচারের দিনে অনেক দেরী হয়ে যাবে তখন দেখা শুরু করতে  যেমন আল-হাদীদ সতর্ক করেছে

অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।

আল-হাদীদ 57:15

এইভাবেই নবী ঈসা আল মসীহ তাঁর শিক্ষা এখানেই শেষ করলেন

31 ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা তাঁর ওপর বিশ্বাস করল, তাদের উদ্দেশ্যে যীশু বললেন, ‘তোমরা যদি সকলে আমার শিক্ষা মান্য করে চল তবে তোমরা সকলেই আমার প্রকৃত শিষ্য৷
32 তোমরা সত্যকে জানবে, আর সেই সত্য তোমাদের স্বাধীন করবে৷’
33 তারা তাঁকে বলল, ‘আমরা অব্রাহামের বংশধর৷ আর আমরা কখনও কারোর দাসে পরিণত হই নি৷ আপনি কিভাবে বলছেন য়ে আমাদের স্বাধীন করা হবে?’
34 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি-য়ে ক্রমাগত পাপ করে চলে, সে পাপের দাস৷
35 কোন দাস পরিবারের স্থাযী সদস্য হয়ে থাকতে পারে না; কিন্তু পুত্র পরিবারে চিরকাল থাকে৷
36 তাই পুত্র যদি তোমাদের স্বাধীন করে, তবে তোমরা প্রকৃতই স্বাধীন হবে৷
37 আমি জানি তোমরা অব্রাহামের বংশধর; কিন্তু তোমরা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছ, কারণ তোমরা আমার শিক্ষাগ্রহণ করো না৷
38 আমি আমার পিতার কাছে যা দেখেছি সেই বিষয়েই বলে থাকি, আর তোমরা তোমাদের পিতার কাছ থেকে যা যা শুনেছ তাই তো করে থাক৷’
39 এর জবাবে তারা তাঁকে বলল, ‘আমাদের পিতা অব্রাহাম৷’যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা যদি অব্রাহামের সন্তান হতে, তাহলে অব্রাহাম যা করেছেন তোমরাও তাই করতে;
40 কিন্তু এখন তোমরা আমায় হত্যা করতে চাইছ৷ আমি সেই লোক য়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে সত্য শুনেছি এবং তোমাদের তা বলেছি৷ অব্রাহাম তো এরকম কাজ করেন নি৷
41 তোমাদের পিতা য়ে কাজ করে, তোমরা তাই করো৷’তখন তারা তাঁকে বলল, ‘আমরা জারজ সন্তান নই৷ ঈশ্বর হচ্ছেন আমাদের একমাত্র পিতা৷’
42 যীশু তাদের বললেন, ‘ঈশ্বর যদি তোমাদের পিতা হতেন, তাহলে তোমরা আমায় ভালবাসতে, কারণ আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছি আর এখন তোমাদের মাঝে এখানে আছি৷ আমি নিজে থেকে আসিনি, ঈশ্বর আমায় পাঠিয়েছেন৷
43 আমি যা বলি, তোমরা তা বুঝতে পারো না? কারণ তোমরা আমার কথা গ্রহণ করো না৷
44 দিযাবল তোমাদের পিতা এবং তোমরা তার পুত্র৷ তোমরা তোমাদের পিতার ইচ্ছাই পূর্ণ করতে চাও৷ দিযাবল শুরু থেকেই খুনী; আর সত্যের পক্ষে সে কখনও দাঁড়ায় নি, কারণ তার মধ্যে তো সত্যের লেশমাত্র নেই৷ সে যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্য থেকে তা বের হয়, কারণ সে মিথ্যাবাদী ও মিথ্যার পিতা৷
45 আমি সত্য বলি বলে তোমরা আমায় বিশ্বাস করো না৷
46 তোমাদের মধ্যে কে আমাকে পাপী বলে দোষী করতে পারে? আমি যখন সত্য বলছি তখন তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না?
47 য়ে ঈশ্বরের লোক, সে ঈশ্বরের কথা শোনে৷ আর এই কারণেই তোমরা শুনতে চাও না, কারণ তোমরা ঈশ্বরের নও৷’
48 এর উত্তরে ইহুদীরা বলল, ‘আমরা কি ঠিক বলিনি য়ে তুমি একজন শমরীয়, আর তোমার মধ্যে এক ভূত রয়েছে?’
49 যীশু জবাব দিলেন, ‘দেখ, আমায় ভূতে গ্রাস করে নি, বরং আমি আমার পিতাকে সম্মান করি৷ কিন্তু তোমরা আমার অসম্মান করেছ৷
50 আমি নিজের জন্য সম্মান চাইছি না৷ একজন আছেন যিনি আমার জন্য সম্মান চান, তিনিই বিচার করেন৷
51 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কেউ যদি আমার শিক্ষা অনুসারে চলে, সে কখনও মরবে না৷’
52 ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘এখন আমরা বুঝেছি য়ে তোমায় ভূতে গ্রাস করেছে৷ অব্রাহাম ও ভাববাদীরা মারা গেছে আর তুমি বলছ, ‘যদি কেউ আমার শিক্ষা অনুসারে চলে, তবে সে মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না৷’
53 তুমি কি মনে কর য়ে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহামের চেয়ে মহান? অব্রাহাম মারা গেছেন, আর ভাববাদীরাও মারা গেছেন৷ তুমি নিজেকে কি মনে করছ?’
54 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমি যদি নিজেকে সম্মানিত করি তবে সেই সম্মানের কোন মূল্য নেই৷ যিনি আমায় সম্মানিত করেন তিনি আমাদের পিতা, য়াঁর সম্পর্কে তোমরা বল, তিনি আমাদের ঈশ্বর৷’
55 আর তোমরা তাঁকে জানো না, কিন্তু আমি তাঁকে জানি৷ আমি যদি বলি য়ে আমি তাঁকে জানি না, তাহলে আমি তোমাদেরই মতো মিথ্যাবাদী হয়ে যাবো৷ কিন্তু আমি তাঁকে অবশ্যই জানি, আর তিনি যা কিছু বলেন আমি সে সকল পালন করি৷
56 তোমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম আমার আগমনের দিন দেখতে পাবেন বলে খুশী হয়েছিলেন৷ তিনি সেই দিন দেখে খুশী হয়েছিলেন৷’
57 তখন ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয়নি আর তুমি বলছ য়ে তুমি অব্রাহামকে দেখেছ!’
58 যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ অব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি৷’
59 তখন তারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল; কিন্তু যীশু নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন ও মন্দির চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন৷

যোহন 8:31-59

সেই দিন: আল-কারেয়া ও আল-তাকাসূর এবং মসীহ

সুরা আল-কারেয়া (সুরা 101 – বিপর্যয়) বিচারের আসন্ন দিনের এইভাবে বর্ণনা করে: 

2 করাঘাতকারী কি? 3 করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? 4 যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত 5 এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। 6 অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, 7 সে সুখীজীবন যাপন করবে। 8 আর যার পাল্লা হালকা হবে, 9 তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।

আল-কারেয়া 101:2-9

সুরা আল-কারেয়া আমাদের বলে যে যাদের কাছে ভাল কাজের এটি ভারী ভারসাম্য আছে তারা বিচারের দিনে ভাল করতে আশা করতে পারে I  

তবে আমাদের মধ্যে তাদের সম্বন্ধে কি হবে যাদের ভাল কাজের ভারসাম্য হাল্কা?

সুরা আত-তাকাসূর (সুরা 102 – পৃথিবীতে প্রতিদ্বন্দিতা বাড়ছে) আমাদের সতর্ক করে

1 প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে 2 এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। 3 এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। 4 অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। 5 কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে। 6 তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, 7 অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, 8 এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।  

আত-তাকাসূর 102:1-8

সুরা আল-তাকাসূর আমাদের বলে যে নরকের আগুন বিচারের দিনে আমাদের হুমকি দেয় যখন আমাদের ‘প্রশ্ন’ করা হবে I   

আমাদের ভাল কাজের ভারসাম্য যদি হাল্কা হয়ে থাকে তবে আমরা কি সেই  দিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারি?

নবী ঈসা আল মসীহ আমাদের মধ্যে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কাছে ভাল কাজের একটি হাল্কা ভারসাম্য আছে I তিনি সুসমাচারের মধ্যে বললেন যে 

35 যীশু তাদের বললেন, ‘আমিই সেই রুটি যা জীবন দান করে৷ য়ে কেউ আমার কাছে আসে সে কখনও ক্ষুধার্ত হবে না, কখনও তার পিপাসা পাবে না৷
36 কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা আমায় দেখেছ অথচ আমায় বিশ্বাস কর না৷
37 পিতা আমাকে যাদের দেন, তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে আসবে৷ আর যাঁরা আমার কাছে আসে, আমি তাদের কখনই ফিরিয়ে দেব না৷
38 কারণ আমি আমার খুশী মত কাজ করতে স্বর্গ থেকে নেমে আসি নি, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করতে এসেছি৷
39 যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই য়ে যাদের তিনি আমায় দিয়েছেন তাদের একজনকেও য়েন আমি না হারাই; বরং শেষ দিনে য়েন তাদের সকলকে আমি উত্থিত করি৷
40 আমার পিতা এই চান, য়ে কেউ তাঁর পুত্রকে দেখে ও তাতে বিশ্বাস করে, সে য়েন অনন্ত জীবন লাভ করে; আর আমিই তাকে শেষ দিনে ওঠাব৷’
41 তখন ইহুদীরা যীশুর সম্পর্কে গুঞ্জন শুরু করল, কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘আমিই সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে৷’
42 তারা বলল, ‘তিনি কি য়োষেফের ছেলে নন? আমরা কি এর বাবা মাকে চিনি না? তাহলে এখন কেমন করে তিনি বলছেন, ‘আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি?’
43 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘নিজেদের মধ্যে ওসব বচসা বন্ধ কর৷
44 যিনি আমায় পাঠিয়েছেন সেই পিতা না আনলে কেউই আমার কাছে আসতে পারে না; আর আমিই তাকে শেষ দিনে জীবিত করে তুলব৷
45 ভাববাদীদের পুস্তকে লেখা আছে: ‘তারা সকলেই ঈশ্বরের কাছে শিক্ষা লাভ করবে৷’য়ে কেউ পিতার কাছে শুনে শিক্ষা পেয়েছে সেই আমার কাছে আসে৷
46 আমি বলছি না য়ে, কেউ পিতাকে দেখেছেন৷ কেবলমাত্র যিনি পিতার কাছ থেকে এসেছেন তিনিই পিতাকে দেখেছেন৷
47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, য়ে কেউ বিশ্বাস করেছে সেই অনন্ত জীবন পেয়েছে৷
48 আমিই সেই রুটি যা জীবন দেয়৷
49 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিল, কিন্তু তবু তারা মারা গিয়েছিল৷
50 এ সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে আসে, আর কেউ যদি তা খায়, তবে সে মরবে না৷
51 আমিই সেই জীবন্ত রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে৷ কেউ যদি এই রুটি খায় তবে সে চিরজীবি হবে৷ য়ে রুটি আমি দেব তা হল আমার দেহের মাংস৷ তা আমি দিই যাতে জগত জীবন পায়৷’

যোহন 6:35-51

মবি ঈসা আল মসীহ দাবি করেছিলেন যে তিনি ‘স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন’ এবং যে তিনি যে কোনো কাউকে ‘অনন্ত জীবন’ দেবেন যারা তাকে বিশ্বাস করে I যে যিহূদিরা তার কথা শুনল তারা দাবি করল তিনি তার কর্ত্তৃত্বের প্রমাণ দিন I নবী পূর্ববর্তী নবীদের উল্লেখ করলেন যারা তার আগমন এবং কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আমরা দেখতে পারি কিভাবে মুসার তাওরাত তার আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এছাড়াও মুসা পিবিইউএইচের পরে নবীরাও I তবে ‘তাকে বিশ্বাস করা’ বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I  

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ নিরাময়ের চিহ্ন সমুহের মাধ্যমে এবং প্রকৃতির উপরে তাঁর কর্ত্তৃত্ব দেখিয়েছিলেন I তিনি তাঁর শিক্ষায় ব্যাখ্যা করেছিলেন I 

14 পর্বের আধা-আধি সময়ে যীশু মন্দিরে গিয়ে লোকদের মাঝে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷
15 ইহুদীরা এতে খুব আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘এই লোক কোন কিছু অধ্যয়ন না করেই কি ভাবে এত সব জ্ঞান লাভ করল?’
16 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়৷ যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা৷
17 যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, না আমি নিজের থেকে এসব কথা বলছি৷
18 যদি কেউ নিজের ভাবনার কথা নিজে বলে, তাহলে সে নিজেই নিজেকে সম্মানিত করতে চায়; কিন্তু য়ে তার প্রেরণ কর্তার গৌরব চায়, সেই লোক সত্যবাদী, তার মধ্যে কোন অসাধুতা নেই৷
19 মোশি কি তোমাদের কাছে বিধি-ব্যবস্থা দেন নি? কিন্তু তোমরা কেউই সেই বিধি-ব্যবস্থা পালন কর না৷ তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে চাইছ?’
20 জনতা উত্তর দিল, ‘তোমাকে ভূতে পেয়েছে, কে তোমাকে হত্যা করতে চাইছে?’
21 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি একটা অলৌকিক কাজ করেছি, আর তোমরা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেছ৷
22 মোশিও তোমাদের সুন্নতের বিধি-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন৷ যদিও মুলতঃ সেই বিধি-ব্যবস্থা মোশির নয় কিন্তু এই বিধি-ব্যবস্থা প্রাচীন পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে৷ আর তোমরা এমনকি বিশ্রামবারেও শিশুদের সুন্নত করে থাকো৷
23 মোশির বিধি-ব্যবস্থা য়েন লঙঘন করা না হয়, এই যুক্তিতে বিশ্রামবারেও যদি কোন মানুষের সুন্নত করা চলে, তাহলে আমি বিশ্রামবারে একটা মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছি বলে তোমরা আমার ওপর এত ক্রুদ্ধ হয়েছ কেন?
24 বাহ্যিকভাবে কোন কিছু দেখেই তার বিচার করো না৷ যা সঠিক সেই হিসাবেই ন্যায় বিচার কর৷’
25 তখন জেরুশালেমের লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘এই লোককেই না ইহুদী নেতারা হত্যা করতে চাইছে?
26 কিন্তু দেখ! এ তো প্রকাশ্যেই শিক্ষা দিচ্ছে; কিন্তু তারা তো এঁকে কিছুই বলছে না৷ এটা কি হতে পারে য়ে নেতারা সত্যিই জানে য়ে, ইনি সেই খ্রীষ্ট?
27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’
28 তখন যীশু মন্দিরে শিক্ষা দিতে দিতে বেশ চেঁচিয়ে বললেন, ‘তোমরা আমায় জান, আর আমি কোথা থেকে এসেছি তাও তোমরা জান৷ তবু বলছি, আমি নিজের থেকে আসি নি, তবে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য; আর তোমরা তাঁকে জান না৷
29 কিন্তু আমি তাঁকে জানি, কারণ তিনি আমায় পাঠিয়েছেন৷ আমি তাঁরই কাছ থেকে এসেছি৷’
30 তখন তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা করতে লাগল৷ তবু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না, কারণ তখনও তাঁর সময় আসে নি৷
31 কিন্তু সেই জনতার মধ্যে থেকে অনেকেই তাঁর ওপর বিশ্বাস করল; আর বলল, ‘মশীহ এসে কি তাঁর চেয়েও বেশী অলৌকিক চিহ্ন করবেন?’
32 ফরীশীরা শুনল য়ে সাধারণ লোক যীশুর বিষয়ে চুপি চুপি এই সব আলোচনা করছে৷ তখন প্রধান যাজকেরা ও ফরীশীরা যীশুকে ধরে আনবার জন্য মন্দিরের কয়েকজন পদাতিককে পাঠাল৷
33 তখন যীশু বললেন, ‘আমি আর অল্প কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে আছি; তারপর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে ফিরে যাব৷
34 তোমরা আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমার খোঁজ পাবে না, কারণ আমি য়েখানে থাকব তোমরা সেখানে আসতে পারো না৷’
35 ইহুদী নেতারা তখন পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘সে এখন কোথায় যাবে য়ে আমরা ওকে খুঁজলেও পাব না? গ্রীকদের শহরে য়ে সব ইহুদীরা বসবাস করছে, ও কি তাদের কাছে যাবে আর সেখানে গিয়ে গ্রীকদেব কাছে শিক্ষা দেবে? নিশ্চয়ই নয়৷
36 ও য়ে কথা বলল তার মানে কি য়ে, ‘তোমরা আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমায় পাবে না৷’ আর ‘আমি য়েখানে যাব, তোমরা সেখানে আসতে পার না?’
37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’
39 যীশু পবিত্র আত্মা সম্পর্কে এই কথা বললেন, ‘সেই পবিত্র আত্মা তখনও দেওযা হয় নি, কারণ যীশু তখনও মহিমান্বিত হন নি; কিন্তু পরে যাঁরা যীশুকে বিশ্বাস করে তারা সেই আত্মা পাবে৷’
40 সমবেত জনতা যখন এই কথা শুনল তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী৷’
41 অন্যরা বলল, ‘ইনি মশীহ (খ্রীষ্ট)৷’এ সত্ত্বেও কেউ কেউ বলল, ‘খ্রীষ্ট গালীলী থেকে আসবেন না৷
42 শাস্ত্রে কি একথা লেখা নেই য়ে খ্রীষ্টকে দাযূদের বংশধর হতে হবে; আর দাযূদ য়ে বৈত্‌লেহম শহরে থাকতেন, তিনি সেখান থেকে আসবেন?’
43 তাঁর জন্য এইভাবে লোকদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল৷
44 কেউ কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইল; কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না৷

যোহন 7:14-44

জীবন্ত জল সম্পর্কে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা ছিল আত্মা, যিনি পেন্টেকোষ্টে এসেছিলেন, এবং এখন বিচারের দিনের মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করতে বিনামূল্যে জীবন দেন I আমাদেরকে কেবলমাত্র আমাদের তৃষ্ণাকে স্বীকার করতে হবে

সেই দিন: আত-তারিক, আল-আদিয়াত ও মসীহ

সুরা আত-তারিক (সুরা 86 – নিশাচর) বিচারের আসন্ন দিন সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে যখন

8 নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম। 9 যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে, 10 সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।  

সুরা আত্ব-তারিক 86:8-10

সুরা আত্ব-তারিক আমাদের বলে যে আল্লাহ আমাদের সমস্ত গোপন এবং লজ্জাজনক চিন্তাভাবনা এবং কাজকর্মগুলো পরীক্ষা করবেন আর সেই সঙ্গে কেউ আমাদেরকে তাঁর বিচারের পরীক্ষা থেকে রক্ষায় সাহায্য করার নেই I অনুরূপভাবে সুরা আল-আদিয়াত (সুরা 100 – অগ্রণী) সেই একই দিনটির বর্ণনা করে যখন

6 নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ। 7 এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত 8 এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত। 9 সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে 10 এবং অন্তরে যা আছে, তা অর্জন করা হবে? 11 সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ জ্ঞাত।   

সুরা আল-আদিয়াত 100:6-11

সুরা আল-আদিয়াত সতর্ক করে যে এমনকি লজ্জাজনক গোপন যেগুলো কেবল আমাদের নিজের বুকের মধ্যে জানা সেগুলোকেও জানা যাবে যেহেতু আল্লাহ আমাদের এমনকি এই কার্যগুলোর সঙ্গেও ভালভাবে পরিচিত হন I   

আমরা এই আসন্ন দিনটির সম্পর্কে চিন্তা করা এড়িয়ে যেতে পারি এবং কেবল আশা করতে পারি যে এটি আমাদের জন্য কার্য করে, তবে সুরা আত্ব-তারিক এবং আল-আদিয়াতে সেই দিনটির সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট সতর্কতা রয়েছে I  

প্রস্তত হওয়া কি ভাল নয়? তবে কিভাবে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ আমাদের মধ্যে তাদের জন্য এসেছিলেন যারা সেই দিনের জন্য প্রস্তুত হতে চায় I তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন:

21 পিতা মৃতদের জীবন দান করেন, তেমনি পুত্রও যাকে ইচ্ছা করেন তাকে জীবন দেন৷
22 পিতা কারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচারের ভার তিনি পুত্রকে দিয়েছেন৷
23 যাতে পিতাকে য়েমন সমস্ত লোক সম্মান করে তেমনি পুত্রকেও সম্মান করে৷ য়ে পুত্রকে সম্মান করে না, সে পিতাকেও সম্মান করে না, কারণ পিতাই সেইজন যিনি পুত্রকে পাঠিয়েছেন৷
24 ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; য়ে কেউ আমার কথা শোনে, আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে এবং সে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না৷ সে মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে৷
25 আমি তোমাদের সত্যি বলছি সময় আসছে; বলতে কি এসে গেছে, যখন মৃতেরা ঈশ্বরের পুত্রের রব শুনবে, আর যাঁরা শুনবে তারা বাঁচবে৷
26 পিতার নিজের য়েমন জীবন দান করার ক্ষমতা রয়েছে ঠিক তেমনই তিনি তাঁর পুত্রকেও জীবন দান করার ক্ষমতা দিয়েছেন৷
27 এবং পিতা সেই পুত্রের হাতেই সমস্ত বিচারের অধিকার দিয়েছেন, কারণ এই পুত্রই মানবপুত্র৷

যোহন 5:21-27

নবী ইসা আল মসীহ পিবিইউএইচ মহান কর্তৃত্বের দাবি করেন – এমনকি বিচারের দিনের পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত I তাঁর কর্তৃত্ব প্রমাণিত হয়েছিল যে হজরত মুসার তাওরাত কিভাবে ছয় দিনের মধ্যে বিশ্বের সৃষ্টি থেকে তাঁর কর্তৃত্বের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তার মধ্যে I যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তাঁর আগমন সম্পর্কে বিস্তৃত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা প্রমাণ করে তাঁকে আল্লাহর থেকে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল I নবী কি বোঝাতে চেয়েছিলেন এর দ্বারা “যে কেউ আমার বাক্য শোনে এবং তাঁকে বিশ্বাস করে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে অনন্ত জীবন আছে এবং দন্ডাজ্ঞা পাবে না”? আমরা এখানে দেখি I     

সেই দিন: আল- হুমাযাহ ও মসীহ

সুরা আল-হুমাযাহ (সুরা 104 – অপবাদক) বিচারের দিনের সম্পর্কে  আমাদের এইভাবে সতর্ক করে:

1 প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, 2 যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে 3 সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে! 4 কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। 5 আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? 6 এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি,

সুরা আল-হুমাযাহ 104:1-6

সুরা আল-হুমাযাহ বলে যে আল্লাহর ক্রোধের একটি আগুন আমাদের জন্য অপক্ষা করছে, বিশেষত আমরা যদি লোভী হয়ে থাকি এবং অপরের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলে থাকি I যারা সমস্ত সাহায্য প্রার্থী লোকেদের প্রতি অবিরত উদার, যারা একজন ধনী ব্যক্তির ধন সম্পর্কে কখনও ঈর্ষা করে নি, অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে মন্দভাবে কথা বলে নি, এবং টাকার বিষয়ে কারোর সঙ্গে কখনও কোনো বিতর্ক করে নি, হয়ত তারা আশা বজায় রাখতে পারে যে তারা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে যাবে না এবং সেই দিনে ঈশ্বরের ক্রোধের অধীনে আসবে না I     

তবে আমাদের বাকিদের সম্পর্কে কি হবে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ বিশেষভাবে তাদের জন্য এসেছিলেন যারা তাদের উপরে আসন্ন ঈশ্বরের ক্রোধ সম্পর্কে ভয় করেছিল I যেমন তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন: 

13 যিনি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন সেই মানবপুত্র ছাড়া কেউ কখনও স্বর্গে ওঠেনি৷
14 ‘মরুভূমির মধ্যে মোশি য়েমন সাপকে উঁচুতে তুলেছিলেন, তেমনি মানবপুত্রকে অবশ্যই উঁচুতে ওঠানো হবে৷
15 সুতরাং য়ে কেউ মানবপুত্রকে বিশ্বাস করে সেই অনন্ত জীবন পায়৷’
16 কারণ ঈশ্বর এই জগতকে এতোই ভালবাসেন য়ে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে দিলেন, য়েন সেই পুত্রের ওপর য়ে কেউ বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় বরং অনন্ত জীবন লাভ করে৷
17 ঈশ্বর জগতকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য তাঁর পুত্রকে এ জগতে পাঠান নি, বরং জগত য়েন তাঁর মধ্য দিয়ে মুক্তি পায় এইজন্য ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পাঠিয়েছেন৷
18 য়ে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে তার বিচার হয় না৷ কিন্তু য়ে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেনা, সে দোষী সাব্যস্ত হয়, কারণ সে ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের ওপর বিশ্বাস করে নি৷
19 আর এটাই বিচারের ভিত্তি৷ জগতে আলো এসেছে, কিন্তু মানুষ আলোর চেয়ে অন্ধকারকে বেশী ভালবেসেছে, কারণ তারা মন্দ কাজ করেছে৷
20 য়ে কেউ মন্দ কাজ করে সে আলোকে ঘৃণা করে, আর সে আলোর কাছে আসে না, পাছে তার কাজের স্বরূপ প্রকাশ হয়ে পড়ে৷
21 কিন্তু য়ে কেউ সত্যের অনুসারী হয় সে আলোর কাছে আসে, যাতে সেই আলোতে স্পষ্ট বোঝা যায় য়ে তার সমস্ত কাজ ঈশ্বরের মাধ্যমে

হয়েছে৷ যোহন 3:13-21

ঈসা আল মসীহ মহান কর্ত্তৃত্বের দাবি করেছিলেন – এমনকি যে তিনি ‘স্বর্গ থেকে এসেছিলেন’ I একজন শমরিয়র সঙ্গে কথাবার্তায় (অধিক বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এখানে) নবী ‘জীবন্ত জল’ বলে দাবি করলেন 

10 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি যদি জানতে য়ে ঈশ্বরের দান কি আর কে তোমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন৷ তাহলে তুমিই আমার কাছে জল চাইতে আর আমি তোমাকে জীবন্ত জল দিতাম৷’
11 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আপনি কোথা থেকে সেই জীবন্ত জল পাবেন? এই কুযাটি যথেষ্ট গভীর৷ জল তোলার কোন পাত্রও আপনার কাছে নেই৷
12 আপনি কি আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোবের চেয়ে মহান? তিনি আমাদের এই কুযাটি দিয়ে গেছেন৷ তিনি নিজেই এই কুযার জল খেতেন এবং তাঁর সন্তানেরা ও তাঁর পশুপালও এর থেকেই জল পান করত৷’
13 যীশু তাকে বললেন, ‘য়ে কেউ এই জল পান করবে তার আবার তেষ্টা পাবে৷
14 কিন্তু আমি য়ে জল দিই তা য়ে পান করবে তার আর কখনও পিপাসা

যোহন 4:10-14

এই দাবিগুলোর পক্ষে তাঁর কর্ত্তৃত্ব প্রমাণিত হয়েছিল হজরত মুসার তাওরাত কিভাবে ছয় দিনের মধ্যে বিশ্বের সৃষ্টি থেকে তাঁর কর্ত্তৃত্বের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তার মধ্যে I তারপরে যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তাঁর আগমন সম্পর্কে বিস্তৃত ভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা দেখিয়েছিল যে তাঁর আগমন স্বর্গ থেকে পরিকল্পিত হয়েছিল I তবে নবী কি বোঝাতে চেয়েছিলেন যখন তিনি বললেন তাকে ‘অবশ্যই উত্থাপন করা হবে’ যাতে ‘প্রত্যেকে যারা তাকে বিশ্বাস করবে অনন্ত জীবন পেতে পারে’? এটিকে এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I 

ইউসুফ কে ছিলেন? তার লক্ষণ কি ছিল?

সুরা ইউসুফ (সুরা 12 – যোষেফ) হজরত ইউসুফ/যোষেফের কাহিনী বলে I ইউসুফ হজরত ইয়াকুবের (যাকোব) পুত্র, যে হজরত ইসহাকের (আইসাক) পুত্র, যে হজরত ইব্রাহিমের (আব্রাহাম) পুত্র ছিল I ইয়াকুবের বারো সন্তান ছিল, যাদের মধ্যে একজন ছিল ইউসুফ I ইউসুফের এগারো ভাই তার বিরুদ্ধে  ষড়যন্ত্র করেছিল, আর তাদের পরিকল্পনা ইউসুফের বিবরণকে গঠন করে I এই কাহিনীটি মুসার তাওরাতে 3500 বছর পূর্বে প্রথমে নথিভুক্ত হয়েছিল I তাওরাতের পূর্ণ বিবরণটি এখানে রয়েছে I সুরা ইউসুফ (সুরা 12 – যোষেফ) বিবরণটি এখানে রয়েছে I সুরা ইউসুফ আমাদের বলে যে এটি কেবলমাত্র একটি  কাহিনী নয় বরং    

অবশ্য ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের কাহিনীতে জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।

সুরা ইউসুফ 12:7

ইউসুফ এবং তার ভাইদের কাহিনীর মধ্যে কি রয়েছে যা অন্বেষনকারীদের জন্য ‘লক্ষণসমূহ’ হয়? এই ‘লক্ষণগুলো’ বোঝার জন্য আমরা তাওরাত এবং সুরা ইউসুফ উভয় কাহিনীকে পর্যালোচনা করি I  

সামনে প্রণত করা … ?

একটি স্পষ্ট লক্ষণ হ’ল স্বপ্ন যা ইউসুফ তার পিতা ইয়াকুবকে বলল যেখানে  

যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি।

সুরা ইউসুফ 12:4

কাহিনীর শেষে, আমরা বাস্তবিকই দেখি যে

 এবং তিনি পিতা-মাতাকে সিংহাসনের উপর বসালেন এবং তারা সবাই তাঁর সামনে সেজদাবনত হল। তিনি বললেনঃ পিতা এ হচ্ছে আমার ইতিপূর্বেকার স্বপ্নের বর্ণনা আমার পালনকর্তা একে সত্যে পরিণত করেছেন এবং তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাকে জেল থেকে বের করেছেন এবং আপনাদেরকে গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছেন, শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি করে দেয়ার পর। আমার পালনকর্তা যা চান, কৌশলে সম্পন্ন করেন। নিশ্চয় তিনি বিজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

সুরা ইউসুফ 12:100

সম্পূর্ণ কোরআনের মধ্যে ‘প্রণত’ কে বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে I তবে তারা সকলে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের সামনে প্রার্থনার মধ্যে প্রণত হওয়ার কথা উল্লেখ করে, বা কাবার মধ্যে, বা আল্লাহর অলৌকিক কার্য সমূহের সামনে (মুসার সাথে মিশরের জাদুকরের মতন) I এখানে তার মধ্যে একটি ব্যতিক্রম আছে সেখানে ‘প্রণত হওয়া’ একজন মানুষের (ইউসুফ) সামনে I আর একটি অনুরূপ ঘটনা কেবলমাত্র তখন হয় যখন দেবদূতগণকে হজরত আদমের সামনে ‘প্রণত’ করতে আজ্ঞা দেওয়া হয় (তা-হা 116 এবং আল-আরাফ 11)I তবে দেবদূতগণ মানুষ নয়, সাধারণ নিয়ম হ’ল কেবলমাত্র প্রভুর কাছে মানুষকে প্রণত হতে হয় I    

 হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর এবং সৎকাজ সম্পাদন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।

আল-হাজ্জ 22:77

ইউসুফের ক্ষেত্রে কি এমন হ’ল যা ব্যতিক্রম করল যাতে তার পিতা ইয়াকুব এবং তার ভাইরা তার সামনে প্রণত করল?

মনুষ্য পুত্র

Historical Timeline showing Prophet Daniel and other prophets of Zabur

ঐতিহাসিক কালপঞ্জি দেখায় নবী দানিয়েল এবং যাবুরের অন্যান্য নবীদের

অনুরূপভাবে বাইবেলের মধ্যে আমাদেরকে কেবলমাত্র সদাপ্রভুর সামনে প্রণত করতে, বা আরাধনা করতে আজ্ঞা দেওয়া হয়, তবে সেখানেও একটি ব্যতিক্রম আছে I নবী দানিয়েল একটি দর্শন পেয়েছিল অনেক দুরের সময়কে দেখিয়েছিল যখন ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তার দর্শনে তিনি এক ‘মনুষ্য পুত্র’ কে দেখেছিলেন I  

13 “আমি রাত্রে য়ে স্বপ্নদর্শন করলাম তাতে মানুষের মতো দেখতে এক ব্যক্তি আমার সামনে এলেন| তিনি আকাশের মেঘের মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসে সেই প্রাচীন রাজার কাছে এলেন এবং তারা তাঁকে তাঁর সামনে নিয়ে এলো|
14 “সেই মানুষের মতো ব্যক্তিটিকে কর্ত্তৃত্ব, মহিমা ও সম্পূর্ণ শাসন ক্ষমতা দেওয়া হল| সমস্ত দেশ ও সমস্ত ভাষার লোকরা তাঁর উপাসনা করবে| তাঁর শাসন ও রাজত্ব চিরস্থায়ী হবে| তা কখনো ধ্বংস হবে না|

দানিয়েল 7:13-14

দর্শনের মধ্যে লোকেরা ‘মনুষ্য পুত্রের’ সামনে প্রণত করে, যেমনভাবে ইউসুফের পরিবার ইউসুফের সামনে প্রণত করেছিল I

‘মনুষ্য পুত্র’ শিরোনামটিকে ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ প্রায়শই নিজের জন্য ব্যবহার করতেন I তিনি শিক্ষাদান, নিরাময়ের ক্ষেত্রে এবং প্রকৃতির উপরে মহান কর্ত্তৃত্বের প্রদর্শন করেছিলেন যখন তিনি পৃথিবীতে গমনাগমন করেছিলেন I তবে তিনি ‘আকাশের মেঘে চড়ে’ আসেন নি যেমনটি দানিয়েলের দর্শন তার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এটি এই কারণে যে দর্শনটি আরও ভবিষ্যতের দিকে দেখছিল, তার প্রথম আগমনকে ছাড়িয়ে গিয়ে তার দ্বিতীয় আগমনকে – তার পৃথিবীতে পুনরায় প্রত্যাবর্তন দজ্জালকে ধ্বংস করতে (যেমন হজরত আদমকে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছিল) এবং ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত করতে I    

কুমারী মরিয়মের মাধ্যমে জন্ম গ্রহণ করে তার প্রথম আগমন, ঈশ্বরের রাজ্যে নাগরিক করার জন্য লোকেদের উদ্ধার করতে ছিল I তবে এমনকি তবুও, তিনি, মনুষ্য পুত্র, মেঘের উপরে তার প্রত্যাবর্তনের পরে কিভাবে লোকেদের পৃথক করবেন তার সম্বন্ধে বলেছিলেন I তিনি সমস্ত জাতি সমূহকে তার সামনে প্রণত অবস্থায় আগে থেকেই দেখেছিলেন ঠিক যেমন ভাবে ইউসুফের ভাইরা মিজেদেরকে ইউসুফের সামনে প্রণত করেছিল I মসীহ যা শিখিয়েছিলেন তা এখানে রয়েছে I  

31 ‘মানবপুত্র যখন নিজ মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে তাঁর স্বর্গদূতদেব সঙ্গে নিয়ে এসে মহিমার সিংহাসনে বসবেন,
32 তখন সমস্ত জাতি তাঁর সামনে জড়ো হবে৷ রাখাল য়েমন ভেড়া ও ছাগল আলাদা করে, তেমনি তিনি সব লোককে দুভাগে ভাগ করবেন৷
33 তিনি নিজের ডানদিকে ভেড়াদের রাখবেন আর বাঁদিকে ছাগলদের রাখবেন৷
34 ‘এরপর রাজা তাঁর ডানদিকের যাঁরা তাদের বলবেন, ‘আমার পিতার আশীর্বাদ পেয়েছ, তোমরা এস! জগত সৃষ্টির শুরুতেইয়ে রাজ্য তোমাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, তার অধিকার গ্রহণ কর৷
35 কারণ আমি ক্ষুধিত ছিলাম, তোমরা আমায় খেতে দিয়েছিলে৷ আমি পিপাসিত ছিলাম আর তোমরা আমাকে পান করবার জল দিয়েছিলে৷ আমি অচেনা আগন্তুক রূপে এসেছিলাম আর তোমর আমায় আশ্রয় দিয়েছিলে৷
36 যখন আমার পরনে কোন কাপড় ছিল না, তখন তোমরা আমায় পোশাক পরিয়েছিলে৷ আমি অসুস্থ ছিলাম, তোমরা আমার সেবা করেছিলে৷ আমি কারাগারে ছিলাম, তোমর আমায় দেখতে এসেছিলে৷’
37 ‘এর উত্তরে যাঁরা ভাল তারা বলবে, ‘প্রভু, কখন আমরা আপনাকে ক্ষুধার্ত দেখে খেতে দিয়েছিলাম, পিপাসিত দেখে জল পান করতে দিয়েছিলাম?
38 কখনই বা আপনাকে অচেনা আগন্তুক দেখে আতিথেয়তা করেছিলাম অথবা আপনার পরনে কাপড় নেই দেখে পোশাক পরিয়েছিলাম?
39 আর কখনই বা অসুস্থ বা কারাগারে আছেন দেখে আপনাকে দেখতে গিয়েছিলাম?
40 ‘এর উত্তরে রাজা তাদের বলবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, আমার এইতুচ্ছতমদের মধ্যে যখন কোন একজনের প্রতি তোমরা এরূপ করেছিলে, তখন আমারই জন্য তা করেছিলে৷’
41 ‘এরপর রাজা তাঁর বাম দিকের লোকদের বলবেন, ‘ওহে অভিশপ্তরা, তোমরা আমার কাছ থেকে দূর হও, দিয়াবল ও তার দূতদের জন্য য়ে ভযাবহ অনন্ত আগুন প্রস্তুত করা হয়েছে, তার মধ্যে গিয়ে পড়৷
42 কারণ আমি যখন ক্ষুধার্ত ছিলাম, তখন তোমরা আমায় খেতে দাও নি৷ আমার যখন পিপাসা পেয়েছিল, তখন আমায় জল দাও নি৷
43 আমি অচেনা আগন্তুকরূপে এসেছিলাম, কিন্তু তোমরা আমার আতিথেয়তা করনি৷ আমার পোশাক ছিল না, কিন্তু তোমরা আমায় পোশাক দাও নি৷ আমি অসুস্থ ছিলাম ও কারাগারে গিয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা আমার খোঁজ নাও নি৷
44 ‘এর উত্তরে তারা তাঁকে বলবে, ‘প্রভু, কবে আপনাকে ক্ষুধার্ত, কি পিপাসিত, কি আগন্তুকরূপে দেখে অথবা কবেইবা আপনার পরনে কাপড় ছিল না, বা আপনি অসুস্থ ছিলেন ও কারাগারে গিয়েছিলেন বলে আমরা আপনার সাহায্য করিনি?’
45 ‘এ কথার উত্তরে রাজা বলবেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা যখন এই অতি সামান্য যাঁরা তাদের কোন একজনের প্রতি তা করনি, তখন আমারই প্রতি তা কর নি৷’
46 ‘এরপর অধার্মিক লোকেরা যাবে অনন্ত শাস্তি ভোগ করতে, কিন্তু ধার্মিকেরা প্রবেশ করবে অনন্ত জীবনে৷’

মথি 25:31:46

হজরত ইউসুফ এবং ঈসা আল মসীহ

অন্যান্য মানুষরা ছাড় সহকারে নিজেদেরকে তাদের সামনে প্রণত করবে, হজরত ইউসুফ এবং ঈসা আল মসীহ ঘটনা সমূহের এক অনুরূপ নমুনার মধ্য দিয়ে গেলেন I লক্ষ্য করুন কতগুলো উপায়ে তাদের জীবন সাদৃশ্যপূর্ণ I 

হজরত ইউসুফের জীবনের ঘটনাবলী   ঈসা আল মসীহর জীবনের ঘটনাবলী
তার ভাইরা, যারা ইস্রায়েলের 12  উপজাতি হয়ে উঠল, ইউসুফকে ঘৃণা এবং প্রত্যাহ্যান করল উপজাতি সমূহের এক জাতি হিসাবে যিহূদিরা ঈসা আল মসীহকে ঘৃণা করল এবং মসীহ হিসাবে তাকে প্রত্যাখ্যান করল  
ইউসুফ ইস্রায়েলের (ঈশ্বরের দ্বারা ইয়াকুবেব্র নাম)প্রতি তার ভাইদের ভবিষ্যত প্রণতকে ঘোষণা করে ঈসা আল মসীহ ইস্রায়েলের প্রতি তার ভাইদের (সাথী যিহূদিগণ) ভবিষ্যত প্রণতের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন (মার্ক 14:62) 
ইউসুফ তার পিতার দ্বারা তার ভাযদের কাছে প্রেরিত হয়েছিল তবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং তার প্রাণ হরণ করতে ষড়যন্ত্র করল ঈসা আল মসীহ তার পিতার দ্বারা তার যিহূদি ভাইদের কাছে প্রেরিত হয়েছিলেন, “তবে তার নিজের লোকেরা তাকে গ্রহণ করল না I” (যোহন 1:11) এবং তারা “তার প্রাণ হরণ করতে ষড়যন্ত্র করল” (যোহন 11:53)
তারা তাকে পৃথিবীর এক কুপের  মধ্যে নিক্ষেপ করে   ঈসা আল মসীহ পৃথিবীর কবরে অবতরণ  করেন
ইউসুফকে বিক্রি করে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া হ’ল ঈসা আল মসীহকে বিক্রি করে বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া হল  
তাকে অনেক দুরে নিয়ে যাওয়া হয়  যাতে তার ভাইরা এবং পিতা ভাবে  যে সে মারা গেছে ইস্রায়েল এবং তার ভাই যিহূদিরা ভাবে যে ঈসা আল মসীহ এখনও মৃত আছেন
  ইউসুফ একজন দাসের মতন নম্র ঈসা আল মসীহ “একজন দাসের বিশেষ প্রকৃতিকে” অবলম্বন করেছিলেন এবং মৃত্যুর কাছে ‘নিজেকে নত করেছিলেন’ (ফিলিপীয় 2:7) 
ইউসুফকে মিথ্যাভাবে পাপের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল যিহূদিরা মিথ্যাভাবে “তাকে বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে অভিযুক্ত করেছিল’ (মার্ক 15:3)
ইউসুফকে এক দাস হিসাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে সে অন্ধকূপের (রুটির কারখানা) অন্ধকার থেকে কিছু বন্দীদের মুক্ত করার পূর্বাভাষ পেয়েছিলেন ঈসা আল মসীহকে পাঠানো হয়েছিল” … ভগ্নান্ত:করণদের ক্ষত বেঁধে দিতে, বন্দীদের জন্য স্বাধীনতা ঘোষণা করতে এবং বন্দিদের অন্ধকার থেকে মুক্তি দিতে…” (যিশাইয় 61:1)
ইউসুফ মিশরের সিংহাসনে আরোহন করে, সমস্ত শক্তির উপরে, কেবল ফরৌণের নিজের অধীনে I যে লোকেরা তার কাছে আসে তার সামনে প্রণত হয় I   “ঈশ্বর তাকে মহিমান্বিত করলেন সর্বোচ্চ স্থানে এবং তাকে সেই নাম দান করলে যা প্রত্যেক নামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, যেন যীশুর নামে প্রত্যেকটি জানু নত হয়, স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালে…” (ফিলিপীয় 2:10-11)
যখন তার ভাইদের দ্বারা তখনও প্রত্যখ্যাত এবং মৃত বিশ্বাস করা হ’ল, জাতিগণ ইউসুফের কাছে রুটির জন্য আসে যা তাদের জন্য সে সরবরাহ করতে পারত    যখন তার সাথী ভাইদের দ্বারা তখনও প্রত্যখ্যাত এবং মৃত বিশ্বাস করা হ’ল, জাতিগণ ঈসা আল মসীহর কাছে জীবনের রুটির জন্য আসে যা একমাত্র তিনিই তাদেরকে দিতে পারেন 
ইউসুফ তার ভাইদের বিশ্বাসঘাতকতার সম্বন্ধে বলে (আদিপুস্তক 50:20) ঈসা আল মসীহ তার ভাই যিহূদিদের দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতার সম্বন্ধে বলেন যা ঈশ্বরের অভীষ্ট ছিল এবং অনেক জীবনকে রক্ষা করবে (যোহন 5:24)
তার ভাইরা এবং জাতিগণ ইউসুফের সামনে প্রণত করে দানিয়েল মনুষ্য পুত্রের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে “সমস্ত জাতিগণ এবং প্রত্যেক ভাষাভাষী লোকেরা তাঁর আরাধনা করবে”

অনেক নিদর্শন সমূহ – অনেক লক্ষণ সমূহ

তাওরাতের প্রায় সমস্ত প্রাচীন নবীরা তাদের জীবনকে ঈসা আল মসীহর প্রতিরূপ করেছিলেন – তাঁর আগমনের কয়েক শত বছর পূর্বে নিদর্শনগুলো রচনা করা হয়েছিল I এটি করা হয়েছিল আমাদের দেখাতে যে মসীহর আগমন বাস্তবিকই ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল I, কোনো মানবীয় ধারণা নয়, যেহেতু মানুষেরা এত আগে থেকে ভবিষ্যতকে জানে না I  

হজরত আদম থেকে আরম্ভ করে, মসীহর সম্বন্ধে কোনো না কোনো ভবিষ্যদ্বাণী ছিল I বাইবেল বলে যে হজরত আদম

… একজনের আগমনের একটি নিদর্শন (অর্থাৎ ঈসা আল মসীহ) I

রোমীয় 5:14

যদিও ইউসুফ তার ভাইদের কাছ থেকে প্রণত পেয়ে শেষ করেছেন, এটি প্রত্যাখ্যান, ত্যাগ এবং বিচ্ছিন্নতা যাকে তার জীবনের উপরে গুরুত্ব দেওয়া   হয় I মসীহর ত্যাগের উপরে গুরুত্বকে আবারও নবী ইব্রাহিমের ত্যাগের নিদর্শনের সাথে দেখা হয় I ইউসুফের পরে, ইয়াকুবের বারো পুত্র ইস্রায়েলের বারোটি উপজাতি হয়ে উঠল যাকে নবী মুসা পিবিইউএইচ মিশর থেকে বার করে নিয়ে এলেন I যে উপায়ে তিনি এটি করলেন একটি নিদর্শন ছিল যা মসীহর বলিদান সম্পর্কে বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে I প্রকৃত পক্ষে মসীহর আগমনের কয়েক সহস্র বছর পূর্বে অনেক বিস্তৃত লক্ষণ সমূহকে তাওরাতের মধ্যে লেখা হয়েছিল I যাবুর এবং অন্যান্য নবীগণ কষ্টভোগী দাসের ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে প্রত্যাখ্যানের গুরুত্ব সহ মসীহর কয়েক শত বছর পূর্বে আরও বিস্তৃত বিবরণ সমূহ লিখেছিল I যেহেতু কোনো মানুষ কয়েক শত বছরের আগের ভবিষ্যতকে জানে না, তাহলে এই নবীগণ কিভাবে এই বিবরণগুলো জানতে পেরে ছিল যদি না তারা ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে থাকে? যদি তারা ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে থাকে তাহলে ঈসা আল মসীহর প্রত্যাখ্যান এবং বলিদান অবশ্যই ঈশ্বরের পরিকল্পনা হয়ে থাকবে I          

এই নিদর্শনগুলো বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর বেশিরভাগই মসীহর প্রথম আগমন নিয়ে আলোচনা করেছিল যেখানে তিনি নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন যাতে আমরা উদ্ধারিত হতে পারি এবং ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করতে সক্ষম হই I

তবে ইউসুফের নিদর্শনটি কখন রাজ্য শুরু হবে তার আরও আগের দিকে তাকায় এবং সমস্ত জাতিগণ পৃথিবীতে ঈসা আল মসীহর প্রত্যাবর্তনে নিজেদেরকে প্রণত করবে I যেহেতু আমরা এমন সময়ে বেঁচে আছি যখন আমাদেরকে ঈশ্বের রাজ্যে আমন্ত্রণ করা হয়েছে, আমাদেরকে আল-মা’আরিজের নির্বোধ মানুষটির মতন হতে না দিই যে একজন উদ্ধারকর্তাকে খুঁজে পেতে সেই দিন অবধি বিলম্ব করেছিল – আর অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিল I আপনার প্রতি মসীহর জীবনের উপহার সম্পর্কে এখন আরও জানুন I      

মসীহ শিখিয়েছিলেন যে তার প্রত্যাবর্তন এইরকম হবে

র্গরাজ্য কেমন হবে, তা দশ জন কনের সঙ্গে তুলনা করা চলে, যাঁরা তাদের প্রদীপ নিয়ে বরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে বার হল৷
2 তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিল নির্বোধ আর অন্য পাঁচজন ছিল বুদ্ধিমতী৷
3 সেই নির্বোধ কনেরা তাদের বাতি নিল বটে কিন্তু সঙ্গে তেল নিল না৷
4 অপরদিকে বুদ্ধিমতী কনেরা তাদের প্রদীপের সঙ্গে পাত্রে তেলও নিল৷
5 বর আসতে দেরী হওযাতে তারা সকলেই তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল৷
6 কিন্তু মাঝরাতে চিত্‌কার শোনা গেল, ‘দেখ, বর আসছে! তাকে বরণ করতে এগিয়ে যাও৷’
7 ‘সেই কনেরা তখন উঠে তাদের প্রদীপ ঠিক করল৷
8 কিন্তু নির্বোধ কনেরা বুদ্ধিমতী কনেদের বলল, ‘তোমাদের তেল থেকে আমাদের কিছু তেল দাও, কারণ আমাদের প্রদীপ নিভে যাচ্ছে৷’
9 ‘এর উত্তরে সেই বুদ্ধিমতী কনেরা বলল, ‘না৷ তেল যা আছে তাতে হয়তো আমাদের ও তোমাদের কুলোবে না, তোমরা বরং যাঁরা তেল বিক্রি করে তাদের কাছে গিয়ে নিজেদের জন্য তেল কিনে আনো৷’
10 ‘তারা যখন তেল কেনার জন্য বাইরে যাচ্ছে, এমন সময় বর এসে উপস্থিত হল, তখন য়ে কনেরা প্রস্তুত ছিল তারা বরের সঙ্গে বিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করল৷ তারপর দরজা বন্ধ করে দেওযা হল৷
11 ‘শেষে অন্য কনেরা এসে বলল, ‘শুনছেন, আমাদের জন্য দরজা খুলে দিন৷’
12 ‘কিন্তু এর উত্তরে বর বলল, ‘সত্যি বলছি, আমি তোমাদের চিনি না৷’
13 ‘তাইতোমরা সজাগ থেকো, কারণ তোমরা সেই দিন বা মুহূর্ত্তের কথা জান না, কখন মানবপুত্র ফিরে আসবেন৷
14 ‘স্বর্গরাজ্য এমন একজন লোকের মতো, যিনি বিদেশে যাবার আগে চাকরদের ডেকে সম্পত্তির ভার তাদের হাতে দিয়ে গেলেন৷
15 তিনি একজনকে পাঁচ থলি মোহর, আর একজনকে দু থলি মোহর এবং আর একজনকে এক থলি মোহর দিলেন৷ যার য়েমন ক্ষমতা সেই অনুসারে দিয়ে তিনি বিদেশে চলে গেলেন৷
16 য়ে পাঁচ থলি মোহর পেয়েছিল, সে সঙ্গে সঙ্গে সেই টাকা খাটাতে শুরু করল, আর তাই দিয়ে আরো পাঁচ থলি মোহর লাভ করল৷
17 য়ে লোক দু’থলি মোহর পেয়েছিল সেও সেই টাকা খাটিয়ে আরো দু’থলি মোহর রোজগার করল৷
18 কিন্তু য়ে এক থলি মোহর পেয়েছিল, সে গিয়ে মাটিতে গর্ত খুঁড়ে তার মনিবের টাকা সেই গর্তে পুঁতে রাখল৷
19 ‘অনেক দিন পর সেইচাকরদের মনিব ফিরে এসে তাদের কাছে হিসাব চাইলেন৷
20 য়ে পাঁচ থলি মোহর পেয়েছিল, সে আরো পাঁচ থলি মোহর এনে বলল, ‘হুজুর, আপনি আমাকে পাঁচ থলি মোহর দিয়েছিলেন, দেখুন আমি তাই দিয়ে আরো পাঁচ থলি মোহর রোজগার করেছি৷’
21 ‘তার মনিব তখন তাকে বললেন, ‘বেশ, তুমি উত্তম ও বিশ্বস্ত দাস৷ তুমি এই সামান্য বিষয়ে বিশ্বস্ত থাকাতে আমি তোমার হাতে অনেক বিষয়ের ভার দেব৷ এস, তোমার মনিবের আনন্দের সহভাগী হও৷
22 ‘এরপর য়ে দু থলি মোহর পেয়েছিল, সেও তার মনিবের কাছে এসে বলল, ‘হুজুর, আপনি আমায় দু থলি মোহর দিয়েছিলেন, দেখুন আমি তাই দিয়ে আরো দু থলি মোহর রোজগার করেছি৷’
23 ‘তার মনিব তাকে বললেন, ‘বেশ! তুমি উত্তম ও বিশ্বস্ত দাস৷ তুমি সামান্য বিষয়ের উপর বিশ্বস্ত হলে, তাই আমি আরো অনেক কিছুর ভার তোমার ওপর দেব৷ এস, তুমি তোমার মনিবের আনন্দের সহভাগী হও৷
24 ‘এরপর য়ে লোক এক থলি মোহর পেয়েছিল সে তার মনিবের কাছে এসে বলল, ‘হুজুর আমি জানি আপনি বড় কড়া লোক৷ আপনি য়েখানে বীজ বোনেন নি সেখানে কাটেন; আর য়েখানে কোন বীজ ছড়ান নি সেখান থেকে শস্য সংগ্রহ করেন:
25 তাই আমি ভয়ে আপনার দেওযা মোহরের থলি মাটিতে পুঁতে লুকিয়ে রেখেছিলাম৷ আপনার যা ছিল তা নিন৷’
26 ‘এর উত্তরে তার মনিব তাকে বললেন, ‘তুমি দুষ্ট ও অলস দাস! তুমি তো জানতে আমি য়েখানে বুনি না সেখানেই কাটি; আর তুমি এও জান য়েখানে আমি বীজ ছড়াইনা সেখান থেকেই সংগ্রহ করি৷
27 তাই তোমার উচিত ছিল মহাজনদের কাছে আমার টাকা জমা রাখা, তাহলে আমি এসে আমার টাকার সঙ্গে কিছু সুদও পেতাম৷’
28 ‘তাই তোমরা এর কাছ থেকে, ঐ মোহর নিয়ে যার দশ থলি মোহর আছে তাকে দাও৷
29 হ্যাঁ, যার আছে তাকে আরো দেওযা হবে, তাতে তার প্রচুর হবে৷ কিন্তু যার নেই, তার যা আছে তাও তার কাছে থেকে নিয়ে নেওযা হবে৷’
30 তোমরা ঐ অকর্মন্য দাসকে অন্ধকারে বাইরে ফেলে দাও; সেখানে লোকেরা কান্নাকাটি করে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষে৷’

মথি 25:1-30

নবী আইয়্যুব কে ছিলেন? কেন তিনি আজকের দিনেও গুরুত্বপূর্ণ?

সুরা আল-বাইয়্যিনাহ (সুরা 98 – স্পষ্ট প্রমাণ) ভাল মানুষ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার সবন্ধে বর্ণনা করে I এটি বলে 

তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।

 সুরা বাইয়্যিনাহ 98:5

অনুরূপভাবে, সুরা আল-আছর (সুরা 103 – পড়ন্ত দিন) বর্ণনা করে আল্লাহর সামনে ক্ষতি এড়াতে আমাদের কি কি গুনাবলীর প্রয়োজন হয় I  

2 নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; 3 কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের।

সুরা আল-আছর 103:2-3

নবী আইয়্যুব পিবিইউএইচ সুরা আল-বাইয়্যিনাহ এবং সুরা আল-আছর এর মধ্যে বর্ণিত এমন ধরণর মানুষ ছিলেন I নবী আইয়্যুব খুব সুপরিচিত নন I কোরআনের মধ্যে চার বার তার নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে I

আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি, যেমন করে ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং সে সমস্ত নবী-রসূলের প্রতি যাঁরা তাঁর পরে প্রেরিত হয়েছেন। আর ওহী পাঠিয়েছি, ইসমাঈল, ইব্রাহীম, ইসহাক, ইয়াকুব, ও তাঁর সন্তাবর্গের প্রতি এবং ঈসা, আইয়ুব, ইউনূস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে দান করেছি যবুর গ্রন্থ।

আন-নিসা 4:163

আমি তাঁকে দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি-তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।

আল-আন-আম 6:84

 

এবং স্মরণ করুন আইয়্যুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখকষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ট দয়াবান।

আল-আম্বিয়া 21:83

স্মরণ করুণ, আমার বান্দা আইয়্যুবের কথা, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করে বললঃ শয়তান আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্ট পৌছিয়েছে।

ছোয়াদ 38:41

আইয়্যুবকে ইব্রাহিম, ঈসা আল মসীহ, দায়ূদ সহ নবীদের তালিকার মধ্যে দেখা যায় কেননা তিনি বাইবেলের মধ্যে একটি বই লিখেছিলেন I তার বই তার জীবনের বর্ণনা I তিনি নবী নোহ (নুহ) এবং ইব্রাহিমের পিবিইউটি সময়ের মধ্যে বাস করতেন I বাইবেল তার সম্বন্ধে এইভাবে বর্ণনা করে:

ষ দেশে ইয়োব নামে এক জন লোক বাস করতেন| ইয়োব একজন সত্‌ ও অনিন্দনীয় মানুষ ছিলেন| ইয়োব ঈশ্বরের উপাসনা করতেন এবং মন্দ কাজ করা থেকে বিরত থাকতেন|
2 ইয়োবের সাতটি ছেলে এবং তিনটি মেয়ে ছিল|
3 ইয়োবের 7,000টি মেষ, 3,000টি উট, 500 জোড়া বলদ, 500 স্ত্রী গাধা এবং অনেক দাসদাসী ছিল| ইয়োব ছিলেন পূর্বদেশের সব চেয়ে ধনী লোক|
4 তাদের বাড়ীতে তাঁর পুত্ররা পালা করে ভোজ সভার আয়োজন করত| এবং তারা তাদের বোনদের নিমন্ত্রণ করতো|
5 তাঁর পুত্রদের ভোজসভা শেষ হয়ে গেলে ইয়োব প্রত্যূষে ঘুম থেকে উঠতেন এবং তাঁর সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে হোমবলি উত্সর্গ করতেন| তিনি ভেবেছিলেন, “হয়তো আমার সন্তানরা মনে মনে ঈশ্বরকে অভিশাপ দিয়ে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কোন পাপ করেছে|” ইয়োব বরাবরই এই কাজ করেছেন যাতে তাঁর সন্তানদের পাপ ক্ষমা করা হয়|

আইয়্যুব 1:1-15

আইয়্যুবের মধ্যে সুরা আল-বাইয়্যিনাহ এবং সুরা আল-আছর দ্বারা ঘোষিত প্রয়োজনীয় সমস্ত গুনাবলী ছিল I কিন্তু তখন শয়তান সদাপ্রভুর কাছে এল I আইয়্যুবের বই তাদের কথাবার্তাকে নথিভুক্ত করে I   

6 তারপর সেই দিনটি এল য়েদিন দেবদূতেরাপ্রভুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন| শয়তানও দেবদূতদের সঙ্গে এসেছিল|
7 প্রভু তখন শয়তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কোথায় ছিলে?” শয়তান প্রভুকে উত্তর দিল, “আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম|”
8 তারপর প্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে দেখেছো? পৃথিবীতে ইয়োবের মতো আর কোন লোকই নেই| ইয়োব এক জন সত্‌ এবং অনিন্দনীয় মানুষ| সে ঈশ্বরের উপাসনা করে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে|”
9 শয়তান উত্তর দিল, “নিশ্চয়! কিন্তু ইয়োব য়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে তার য়থেষ্ট কারণ রযেছে!
10 আপনি তাকে, তার পরিবারকে এবং তার যা কিছু আছে সব কিছুকে সর্বদাই রক্ষা করেন| সে যা কিছু করে সব কিছুতেই আপনি তাকে সফলতা দেন| তার গবাদি পশুর দল ও মেষের পাল দেশে এমশঃ বেড়েই চলেছে|
11 কিন্তু তার যা কিছু রযেছে তা যদি আপনি ধ্বংস করে দেন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, সে আপনার মুখের ওপরে আপনাকে অভিশাপ দেবে|”
12 প্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, ইয়োবের যা কিছু আছে তা নিয়ে তুমি যা খুশী তাই কর| কিন্তু তার দেহে কোন আঘাত করো না|”তারপর শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল|

আইয়্যুব 1:6-12

অতএব শয়তান তখন এইভাবে আইয়্যুবের উপরে বিপর্যয় নিয়ে এল

13 এক দিন ইয়োবের ছেলেমেয়েরা তাদের সব থেকে বড় দাদার বাড়ীতে দ্রাক্ষারস পান ও নৈশ আহার করছিল|
14 তখন এক জন বার্তাবাহক এসে ইয়োবকে সংবাদ দিল, “বলদগুলো জমিতে হাল দিচ্ছিল এবং স্ত্রী গাধাগুলো কাছাকাছি চরে ঘাস খাচ্ছিল, তখন
15 শিবাযীযেরা আমাদের আক্রমণ করে পশুদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং অন্য ভৃত্যদের তরবারি দিয়ে হত্যা করে| এক মাত্র আমিই পালাতে পেরেছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
16 যখন সেই বার্তাবাহক কথা বলছিল তখনই আরও এক জন বার্তাবাহক ইয়োবের কাছে এলো| দ্বিতীয় বার্তাবাহক ইয়োবকে বলল, “আকাশ থেকে বাজ পড়ে আপনার মেষ এবং ভৃত্যরা সব পুড়ে গিয়েছে| এক মাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
17 যখন সেই বার্তাবাহক কথা বলছিল তখন আরো এক জন বার্তাবাহক এলো| তৃতীয় বার্তাবাহক বলল, “কল্দীযরা তিন দল সৈন্যে ভাগ হয়েছিল| ওরা আমাদের আক্রমণ করে উটগুলিকে নিয়ে গিয়েছে! ওরা ভৃত্যদের তরবারি দিয়ে হত্যা করেছে| এক মাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
18 যখন তৃতীয় বার্তাবাহক কথা বলছিল তখন আরও এক জন বার্তাবাহক এলো| চতুর্থ বার্তাবাহক বলল, “আপনার ছেলেমেয়েরা তাদের বড় দাদার বাড়ীতে আহার করছিল ও দ্রাক্ষারস পান করছিল|
19 তখন মরুভূমি থেকে হঠাত্‌ই একটা ঝড় এসে বাড়ীটাকে ভেঙে দেয়| বাড়ীটা অল্পবয়সী লোকদের ওপরে ভেঙে পড়ে এবং তারা মারা যায়| এক মাত্র আমিই রক্ষা পেয়েছি| তাই আমি আপনাকে সংবাদটা দিতে এসেছি!”
20 যখন ইয়োব এইসব শুনলেন, তখন তিনি তাঁর বস্ত্র ছিঁড়ে ফেললেন এবং মাথা কামিযে ফেললেন| এভাবেই তিনি তাঁর শোক প্রকাশ করলেন| তারপর ইয়োব মাটিতে লুটিযে পড়লেন এবং ঈশ্বরের সামনে নত হলেন|
21 তিনি বললেন:“যখন আমি জন্মেছিলাম আমি নগ্ন ছিলাম, যখন আমি মারা যাবো তখনও আমি নগ্ন থাকব| প্রভু দেন এবং প্রভুই নিয়ে নেন| প্রভুর নামের প্রশংসা করো!”
22 এ সব কিছুই ঘটলো, কিন্তু ইয়োব কোন পাপ করেননি| ইয়োব একথা বলেননি য়ে ঈশ্বর কোন ভুল করেছেন|

আইয়্যুব 1:13-22

শয়তান তখনও আইয়্যুবকে সদাপ্রভুকে শ্রাপ দিতে প্ররোচিত করতে চাইল I সুতরাং সেখানে একটি দ্বিতীয় পরীক্ষা ছিল I  

একদিন দেবদূতরা প্রভুর সঙ্গে দেখা করতে এলেন| শয়তানও তাদের সঙ্গে প্রভুর কাছে দেখা করতে এলো|
2 প্রভু শয়তানকে বললেন, “তুমি কোথায় ছিলে?”শয়তান প্রভুকে উত্তর দিলো, “আমি পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম এবং এদিক-ওদিক যাচ্ছিলাম|”
3 তখন প্রভু শয়তানকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি আমার দাস ইয়োবকে দেখেছো? পৃথিবীতে ইয়োবের মতো আর কোন লোক নেই| ইয়োব এক জন সত্‌ এবং অনিন্দনীয মানুষ| সে এখনও তার সততাকে ধরে আছে যদিও তুমি সম্পূর্ণ বিনা কারণে তাকে ধ্বংস করতে আমাকে প্ররোচিত করেছিলে|”
4 তখন শয়তান উত্তর দিল, “নিজেকে রক্ষা করার জন্য য়ে কেউই যা কিছু করতে পারে|নিজের জীবন রক্ষা করার জন্য এক জন তার সর্বস্ব দিয়ে দেবে|
5 আপনি যদি তার দেহে আঘাত করার জন্য আপনার শক্তিকে ব্যবহার করেন, তাহলে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি য়ে সে মুখের ওপরই আপনাকে অভিশাপ দেবে|”
6 তখন প্রভু শয়তানকে বললেন, “ঠিক আছে, ইয়োব এখন তোমার ক্ষমতার মধ্যে| কিন্তু তুমি তাকে মেরে ফেলতে পারবে না|”
7 তখন শয়তান প্রভুর কাছ থেকে চলে গেল| শয়তান যন্ত্রণাদাযক ফোড়ায ইয়োবের পা থেকে মাথা পর্য়ন্ত ভরিয়ে দিল|
8 তখন ইয়োব ছাইযের গাদার মধ্যে বসলেন| একটা ভাঙা খোলামকুচি (সরা বা হাঁড়ির ভাঙা টুকরো) দিয়ে তিনি তাঁর ক্ষত চাঁছতে লাগলেন|
9 ইয়োবের স্ত্রী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি এখনো ঈশ্বরের প্রতি সততায় অবিচল আছ? কেন তুমি ঈশ্বরকে অভিশাপদিচ্ছো না এবং মরছো না!”
10 ইয়োব তাঁর স্ত্রীকে উত্তর দিলেন, “তুমি এক জন নির্বোধ স্ত্রীলোকের মত কথা বলছো! ঈশ্বর আমাদের ভালো জিনিস দেন এবং আমরা তা গ্রহণ করি| সেই ভাবে আমাদের, তাঁর প্রদত্ত দুঃখ কষ্টও গ্রহণ করা উচিত্‌|” এই সব ঘটনা ঘটলো, কিন্তু ইয়োব ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কোন কথা বলে কোন পাপ করলেন না|

আইয়্যুব 2:1-10

এই কারণেই সুরা আল-আন্বিয়া কষ্টের মধ্যে আইয়্যুবের ক্রন্দনকে বর্ণনা করে এবং সুরা ছোয়াদ ব্যাখ্যা করে যে মন্দ একজন (শয়তান) তাকে কষ্ট দিয়েছিল I . 

তাঁর করুণায়, আইয়্যুবের তিন বন্ধু তার কাছে স্বান্তনা নিয়ে আসতে তার কাছে এসেছিল I

11 ইয়োবের তিনজন বন্ধু হলেন তৈমনীয ইলীফস, শূহীয বিল্দদ ও নামাথীয সোফর| ইয়োবের প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা তিন বন্ধুই শুনলেন| তাঁরা তিন জনে বাড়ী থেকে বেরিয়ে এক জায়গায় মিলিত হলেন| তাঁরা ইয়োবের কাছে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানাতে ও সান্ত্বনা জানাতে রাজী হলেন|
12 কিন্তু তিন বন্ধু ইয়োবকে অনেক দূর থেকে দেখলেন| তাঁরা তাঁকে চিনতেই পারছিলেন না| তাঁরা উচ্চস্বরে কাঁদতে শুরু করলেন| তাঁরা নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেললেন এবং নিজেদের মাথার ওপরে শূন্যে ধূলো ছুঁড়লেন|
13 তারপর সেই তিন বন্ধু ইয়োবের সঙ্গে সাতদিনসাতরাত বসে রইলেন| কেউই ইয়োবের সঙ্গে কোন কথা বলেন নি কারণ তাঁরা দেখেছিলেন ইয়োব অতিরিক্ত কষ্ট পাচ্ছিলেন|

আইয়্যুব 2:11-13

আইয়্যুবের বই তাদের আলোচনাকে লিপিবদ্ধ করে কেন আইয়্যুবের প্রতি এই ধরণের দুর্ভাগ্য ঘটল I যাদের কথাবার্তা অনেক অধ্যায় ধরে বিস্তৃত  রয়েছে I সংক্ষেপে, তার বন্ধুরা আইয়্যুবকে বলে যে এই ধরণের ভীষণ  দুর্ভাগ্য কেবল মন্দ লোকেদের উপরে আসে, তাই আইয়্যুব নিশ্চয়ই গুপ্তভাবে পাপ করেছে I সে যদি এই পাপগুলোকে স্বীকার করে তবে হয়ত তাকে ক্ষমা প্রদান করা হবে I কিন্তু আইয়্যুব অবিরতভাবে জবাব দেয় যে সে অন্যায়-কার্য সম্বন্ধে নির্দোষ I সে বুঝতে পারছে না কেন তার উপরে দুর্ভাগ্য এসেছে I 

আমরা তাদের র্দীর্ঘ কথাবার্তার প্রত্যেকটি অংশকে অনুসরণ করতে পারি না, তবে তার প্রশ্নের মাঝে আইয়্যুব যা নিশ্চিতভাবে জানে তা বলে:

25 আমি জানি একজন আমার স্বপক্ষে আছে| আমি জানি সে বেঁচে আছে| এবং শেষ কালে সে এই মাটিতে দাঁড়াবে এবং আমায় প্রতিরক্ষা করবে|
26 আমি আমার দেহ ত্যাগ করে চলে যাবার পরে এবং আমার দেহের চামড়া নষ্ট হওয়ার পরেও আমি ঈশ্বরকে দেখবো, আমি তা জানি|
27 আমি নিজের চোখে ঈশ্বরকে দেখবো| অন্য কেউ নয়, আমি নিজে ঈশ্বরকে দেখবো, এবং তা আমাকে কতখানি অভিভূত করবে তা আমি বলতে পারবো না! আমার শক্তি সম্পূর্ণ ভাবে চলে গেছে|

আইয়্যুব 19:25-27

যদিও সে বুঝতে পারল না কেন তার উপরে বিপর্যয় এল, সে জানত যে একজন ‘উদ্ধারকর্তা’ পৃথিবীতে আসছেন I উদ্ধারকর্তা এমন একজন যিনি তার পাপ সমূহের জন্য যথেষ্ট মূল্য প্রদান করতে পারেন I আইয়্যুব উদ্ধার্কর্তাকে ‘আমার উদ্ধারকর্তা’ বলে ডাকে তাই সে জানত যে উদ্ধারকর্তা তার জন্য আসছেন I আইয়্যুবের ‘ত্বক বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে’ (সে মারা গেছে) সে ঈশ্বরকে তাঁর দেহে দেখবে I  

আইয়্যুব পুনরুত্থানের দিনের দিকে তাকিয়ে আছে I তবে সে আত্ম বিশ্বাসের সাথে পুনরুত্থানের মধ্যে ঈশ্বরের সম্মুখীন হবে কারণ তার উদ্ধারকর্তা বেঁচে আছেন এবং তাকে উদ্ধার করেছেন I

সুরা আলমা’আরিজ (সুরা 70 – আরোহনকারী সিঁড়ি) পুনরুত্থানের দিনে একজন উদ্ধার্কর্তার সম্বন্ধেও বলে I তবে সুরা আলমা’আরিজ একজন নির্বোধ লোকের বর্ণনা করে, যে পুনরুত্থানের দিনের কোনো উদ্ধার্কর্তার জন্য উন্মত্তবৎ  তাকিয়ে আছে I 

11 যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান-সন্ততিকে,12 তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে,13 তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত। 14 এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে।  

সুরা আলমা’আরিজ) 70:11-14

সুরা আল-মা’আরিজ এর নির্বোধ মানুষটি তার কোন উদ্ধারকর্তার জন্য সাফল্যের দিকে দেখে না I সে একজন উদ্ধারকর্তার জন্য তাকিয়ে আছে যে তাকে ‘সেই দিনের শাস্তির’ থেকে উদ্ধার করতে পারে – বিচারের দিনে I তার সন্তানগণ, স্ত্রী, ভাই এবং পৃথিবীর উপরে সকলে তাকে উদ্ধার করতে পারে না I তাদের নিজেদের শাস্তির মূল্য প্রদান করার কারণে তারা তাকে উদ্ধার করতে পারে না I   

আইয়্যুব এজন ন্যায়পরায়ণ মানুষ ছিল, তবুও সে জানত সেই দিনের জন্য তার একজন উদ্ধারকর্তার প্রয়োজন I সে বিশ্বস্ত ছিল যে, তার সমস্ত বিপদ সত্ত্বেও, তার কাছে এই উদ্ধারকর্তা ছিলেন I যেহেতু তাওরাত ঘোষণা করেছিল যে কোনো পাপের মূল্য হ’ল মৃত্যু, উদ্ধারকর্তাকে তার জীবন দিয়ে মূল্য চোকাতে হবে I আইয়্যুব জানত যে তার উদ্ধারকর্তা “শেষ সময়ে পৃথিবীর উপরে দাঁড়াবেন’ I আইয়্যুবের ‘উদ্ধারকর্তা’ কে ছিলেন? সেই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কখনও মারা গিয়েছিলেন, তবে পরে পৃথিবীর উপরে পুনরায় দাঁড়াবার জন্য পুনরুত্থিত হয়েছিলেন তিনি হলেন নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ I তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি সম্ভবত শাস্তির মূল্য (মৃত্যু) চোকাতে পারতেন তবে ‘শেষে পৃথিবীর উপরে দাঁড়াতে পারেন’ I    

আইয়্যুবের মতন একজন ধার্মিক মানুষের নিজের জন্য যদি একজন উদ্ধারকর্তার প্রয়োজন হয়, তবে আপনার এবং আমার জন্য শাস্তির মূল্য চোকাতে কতটা বেশি একজন উদ্ধারকর্তার প্রয়োজন হয়? সুরা আল-বাইয়্যিনাহ এবং সুরা আল-আছর এর মধ্যে তালিকা ভুক্ত উত্তম গুনাবলীর একজন মানুষের  যদি উদ্ধারকর্তার প্রয়োজন হয় তবে আমাদের কি হবে? আমাদেরকে সুরা আল-মা’আরিজ এর নির্বোধ মানুষটির মতন হতে দেব না, যে শেষ দিন পর্যন্ত উন্মত্তবৎ একজনের জন্য অপেক্ষা করতে চেষ্টা করে যে তার শাস্তির মূল্য চোকাতে পারে I নবী যেমন আগে থেকেই দেখেছিলেন, বুঝুন এখন নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ কিভাবে আপনাকে উদ্ধার করতে পারেন, যেমন নবী আইয়্যুব আগে থেকেই দেখেছিলেন I 

বইয়ের শেষে, আইয়্যুবের সঙ্গে সদাপ্রভুর সাক্ষাৎকার হয় (এখানে) এবং তার উত্তম ভাগ্য পুনস্থাপিত হয় (এখানে)I

নবী এলিয় কে ছিলেন? আজকের দিনে তিনি কিভাবে আমাদের পথ নির্দেশ করতে পারেন?

নবী এলিয় (বা এলাইজা) সুরা আল-আনম এবং আস-সাফফাতের মধ্যে নাম করে তিন জায়গায় উল্লিখিত হয়েছেন I তারা আমাদের বলে

আর ও যাকারিয়া, ইয়াহিয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকে। তারা সবাই পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আল-আনআম 6:85

123 নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল। 124 যখন সে তার সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি ভয় কর না ? 125 তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে। 126 যিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা? 127 অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে। 128 কিন্তু আল্লাহ তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়। 129 আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে রেখে দিয়েছি যে, 130 ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক! 131 এভাবেই আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। 132 সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।

আস=সাফফাত 37:123-132

এলিয়াকে যোহন (যিয়াহিয়া) এবং যীশুর সাথে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তিনিও বাইবেলের নবীদের মধ্যে অনতম I যেমন বলা হয়েছে এলিয়া (এলাইজা) বাল মূর্তির নবীদের মখোমুখি হয়েছিলেন I এই প্রসঙ্গটিকে অনেক বিস্তৃতভাবে বাইবেলে এখানে  লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I নিচে আমাদের জন্য আশীর্বাদ (‘পরবর্তী সময়ের প্রজন্ম সমূহ’ যাকে আস-সাফফত প্রতিশ্রুতি দেয়) অন্বেষণ করি I  

এলিয়া এবং বালের নবীদের জন্য পরীক্ষা

এলাইজা একজন কড়া লোক যিনি বালের 450 জন নবীর মুখোমুখি হয়েছিলেন I কিভাবে তিনি এত বিরোধিতা করতে পারেন? বাইবেল ব্যাখ্যা করে যে তিনি একটি চতুর পরীক্ষা ব্যবহার করেছিলেন I তাকে এবং বালের নবী উভয়কে একটি প্রাণীর বলি দিতে ছিল তবে বলিকে পোড়াবার জন্য আগুন জ্বালাবে না I প্রত্যেক পক্ষ আগুন জ্বালাতে স্বর্গ থেকে নিজের ঈশ্বরকে ডাকবে I বলি পোড়াবার জন্য যে ঈশ্বর স্বর্গ থেকে আগুন জ্বালাবে – সেই প্রকৃত এবং জীবন্ত ঈশ্বর I সুতরাং এই 450 নবীরা বালকে সারা দিন ধরে ডাকল স্বর্গ থেকে তাদের বলিকে জ্বালাতে – কিন্তু কোনো আগুন এলো না I তখন এলাইজা, নিজেই তার বলিকে জ্বালাতে স্রষ্টাকে ডাকলেন এবং তৎক্ষনাত আকাশ থেকে আগুন এলো এবং পুরো বলিটিকে পুড়িয়ে দিল I যে লোকেরা এই প্রতিযোগিতা প্রত্যক্ষ্য করল তখন জানল যে প্রকৃত ঈশ্বর আর মিথ্যা ঈশ্বর কে I বালকে মিথ্যা হিসাবে দেখানো হয়েছিল I           

আমরা এই প্রতিযোগিতার স্বাক্ষী ছিলাম না, তবে আমরা এলাইজার পরীক্ষার একই কৌশলকে অনুসরণ করতে পারি জানতে যে কোনো বার্তা বা নবী ঈশ্বরের থেকে এসেছে কি না I কৌশলটি এমন উপায়ে পরীক্ষা করে যে কেবল ঈশ্বর এবং তাঁর দূতগণ সফল হতে পারে এবং বালের নবীদের মতন যাদের কেবল মানবীয় ক্ষমতা আছে, তারা পারে না I   

 আজকের দিনে এলাইজারের পরীক্ষা

এলাইজারের আত্মায় এমন একটি পরীক্ষা, কি হবে?

সুরা আন-নাজম আমাদের বলে

অতএব, পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সব মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।

আন-নাজম 53:25

সমস্ত জিনিসের শেষ কেবলমাত্র ঈশ্বর জানেন, এমনকি শেষ ঘটবার আগে I মানুষ সেগুলো ঘটবার আগে জিনিসগুলোর শেষ জানে না, কেবল সেগুলো ঘটার পরে I সুতরাং পরীক্ষা হ’ল দেখা বার্তাটি সঠিকভাবে ভবিষ্যতের পূর্বাভাষ দিয়েছে কি না এটি ঘটবার আগে I কোনো মানুষ বা মূর্তি এটি করতে পারে না I কেবল ঈশ্বর পারেন I  

অনেকে আশ্চর্য বোধ করে ইঞ্জিলে নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ যেমন প্রকাশিত হয়েছেন সেটি ঈশ্বরের সত্য বার্তা কি না, বা যদি এটিকে চতুর লোকেদের দ্বারা মনগড়ন করা হয়েছে I আমরা এই প্রশ্নটিতে এলাইজারের পরীক্ষাটি প্রয়োগ করতে পারি I এলিয়ার মতন নবীদের সাথে তাওরাত এবং যাবুরের বইগুলো ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সময়ের কয়েকশত, এমনকি কয়েক হাজার বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল I এগুলো যিহূদি নবীদের দ্বারা লেখা হয়েছিল আর তাই ‘খ্রীষ্টান’ লেখা নয় I প্রথম দিকের এই লেখাগুলোর মধ্যে ভাববাণীগুলো কি ঈসা আল মসীহর ঘটনাগুলোকে  সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে? এখানে তাওরাতের দেওয়া ভাববাণীগুলোর একটি সারাংশ রয়েছে I এখানে যাবুর এবং পরবর্তী নবীদের ভাববাণীগুলোর একটি সারাংশ রয়েছে I এখন আপনি এলিয়ার মতন পরীক্ষা করে দেখতে পারেন ইঞ্জিলের মধ্যে লিপিবদ্ধ ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ কি সত্যই ঈশ্বরের থেকে, বা মানুষের থেকে একটি মিথ্যা বিকৃতি I   

সুরা আল-আনআম ইয়াহিয়া এবং ঈসা আল মসীহর সাথে এলিয়ার নাম উল্লেখ করেছিল I মজার বিষয় হ’ল, পুরনো নিয়মের শেষ বইয়ের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল এলিয়া আসবেন এবং মসীহর আগমনের জন্য আমাদের হৃদয় প্রস্তুত   করবেন I ইঞ্জিলের মধ্যে আমরা দেখি কিভাবে লোকেদের মুখোমুখি হতে এবং তাদের মসীহর আগমনের জন্য প্রস্তুত করতে এলিয়ার রীতিতে নবী ইয়াহিয়া এলেন I ব্যক্তি এলিয়া নিজেও ইয়াহিয়া এবং মসীহর ভাববাণীর মধ্যে আবদ্ধ আছেন I  

কোরআন: কোনোও পার্থক্য নেই! হাদিস কি বলে?

 “কোরআন হ’ল মূল ধর্মগ্রন্থ – একই ভাষা, অক্ষর, এবং আবৃত্তি I মানবীয় ব্যাখ্যা বা বিকৃত অনুবাদের কোনো স্থান নেই …আপনি যদি পৃথিবীর চারপাশের যে কোনো বাড়ির থেকে কোরআনের কোনো একটি প্রতিলিপি ওঠান আমার সন্দেহ আপনি তাদের মধ্যে এমনকি একটি পার্থক্যও দেখতে পাবেন I” 

এক বন্ধু আমাকে এই নোটটি পাঠিয়েছিল I তিনি পবিত্র কোরআনের পাঠটিকে ইঞ্জিল/বাইবেলের সাথে তুলনা করছিলেন I ইঞ্জিলে 24,000 প্রাচীন পান্ডুলিপি রয়েছে এবং তাদের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে, যেখানে কেবলমাত্র অল্প কয়েকটি শব্দের পার্থক্য রয়েছে I যদিও 24,000 পান্ডুলিপি জুড়ে সমস্ত বিষয় এবং ধারণাগুলো সমান, তাঁর মৃত্যুর মধ্যে ঈসা আল মসীহর আমাদের জন্য মুক্তিপণ প্রদান এবং পুনরুত্থানের থিম সহ, প্রায়শই দাবি করা হয়, যেমন উপরে করা হয়েছে, কোরআনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই I এটিকে বাইবেলের উপরে কোরআনের আধিপত্যের এক ইঙ্গিত এবং এর অলৌকিক সুরক্ষার স্বাক্ষ্য রূপে দেখা হয় I তবে কোরআনের গঠন এবং সংকলন সম্পর্কে হাদীস আমাদের কি বলে?             

নবী থেকে খলিফা কোরআনের গঠন

বর্ণিত: উমর বিন আল-খাত্তাব:

আমি হিশাম বিন হাকিম বিন হিজামকে আমার থেকে এক ভিন্ন ভাবে সুরা-আল-ফুরকান আবৃত্তি করতে শুনলাম I আল্লাহ’র দূত আমাকে এটি শিখিয়েছিলেন (এক ভিন্ন উপায়ে) I তাই আমি তার সাথে ঝগড়া করতে উদ্যত ছিলাম (প্রার্থনার সময়ে) তবে আমি অপেক্ষা করলাম যতক্ষণ না এ শেষ করে, তারপরে আমি তার বস্ত্র দিয়ে তাকে গলার চারপাশে বাঁধলাম এবং এর দ্বারা তাকে কব্জা করলাম এবং তাকে আল্লাহর দুতের কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, “আমি তাকে সুরা-আল-ফুরকান এমনভাবে আবৃত্তি করতে শুনেছি যা আপনার আমাকে এটি শেখানোর থেকে আলাদা I” নবী আমাকে আদেশ দিলেন তাকে ছেড়ে দিতে এবং হিশামকে এটি আবৃত্তি করতে বললেন I যখন সে এটি আবৃত্তি করল, আল্লহর প্রেরিত বললেন,”এটি এইভাবেই প্রকাশিত হয়েছিল I” তিনি তখন আমাকে এটি আবৃত্তি করতে বললেন I যখন আমি এটি আবৃত্তি করলাম, তিনি বললেন, “এটি এইভাবেই প্রকাশিত হয়েছিল I কোরআন সাতটি বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশিত হয়েছে I অতএব যে উপায়ে এটি আবৃত্তি করলে তোমার পক্ষে সহজ হয় সেই উপায়ে কর I”     

শাহি আল-বুখারি 2419   :বই 44, হাদীস 9

বর্ণিত ইবন মাসুদ:

আমি এক ব্যক্তিকে এক নির্দিষ্ট উপায়ে একটি (কোরআন সম্বন্ধীয়) আয়াত আবৃত্তি করতে শুনলাম, এবং আমি নবীকে সেই একই আয়াতকে এক ভিন্ন উপায়ে আবৃত্তি করতে শুনেছিলাম I অতএব আমি তাকে নবীর কাছে নিয়ে গেলাম এবং সেই সম্বন্ধে বললাম তবে আমি তার মুখে অস্বীকৃতির ভাব লক্ষ্য করলাম, এবং তারপরে তিনি বললেন, “তোমরা উভয়ই সঠিক, তাই তোমরা পৃথক হবে না, কারণ জাতিরা তোমাদের মধ্যে মতভেদ হওয়ার আগেই, তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল I”    

শাহি আল-বুখারি 3476: বই 60, হাদীস 143

এই দুটো পরিষ্কারভাবে আমাদের বলে যে নবী মহম্মদের (পিবিইউএইচ) জীবদ্দশায় কোরআনের আবৃত্তির বিভিন্ন সংস্করণ ছিল যাকে মহম্মদের (পিবিইউএইচ) দ্বারা ব্যবহৃত এবং অনুমোদিত করা হয়েছিল I সুতরাং তার মৃত্যুর পরে কি ঘটল?  

আবু বকর এবং কোরআন

বর্ণিত জাইদ বিন থাবিত:

আবু বকর আস-সিদ্দিক আমাকে ডেকে পাঠান যখন ইয়ামামার লোকদের হত্যা করা হয়েছিল (অর্থাৎ মুসায়লিমার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এমন অনেক নবীর সঙ্গীরা), (আমি তার কাছে গেলাম) এবং ‘উমর বিন আল-খাত্তাবকে তার সাথে বসতে দেখলাম I আবু বকর তখন বললেন (আমাকে), “উমর আমার কাছে এসে বলল: ইয়ামামার লড়াইয়ের দিনে কোরআনের কোরার (অর্থাৎ যারা মন থেকে কোরআনকে জানত) মধ্যে হতাহতের সংখ্যা ভারী ছিল, আর আমি ভীত যে অন্যান্য যুদ্ধ ক্ষেত্রগুলোতে কোরার মধ্যে আরও অনেক হতাহত ঘটতে পারে, যেখানে কোরআনের এক বৃহৎ অংশ হারিয়ে যেতে পারে I অতএব আমার পরামর্শ, তুমি (আবু বকর) আদেশ দাও যে কোরআন সংগ্রহ করা হোক “কিভাবে আপনি এমন কিছু করতে পারেন যা আল্লাহর প্রেরিত করেন নি?” আমি উমরকে বললাম, উমর বলল, “আল্লাহর কসম, ওটি একটি  ভাল প্রকল্প I” উমর আমাকে তার প্রস্তাব স্বীকার করতে তাগিদ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ এর জন্য আমার বুক খুলে দেন আর আমি ধারণাটির মধ্যে ভালকে উপলব্ধি করতে শুরু করলাম যেটিকে উমর হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছিল I” তখন আবুবকর বললেন (আমাকে), ‘আপমি একজন জ্ঞানী যুবক ব্যক্তি আর আপনার সম্বন্ধে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই, এবং আপনি আল্লাহর দুতের (ﷺ) পক্ষে স্বর্গীয় প্রেরণার কথা লিখতে থাকেন I সুতরাং আপনার কোরআনের (খন্ডিত লিপিগুলো) অন্বেষণ করে একটি বইয়ের মধ্যে সংকলিত করে রাখা উচিত I” আল্লাহ কসম, তারা যদি আমাকে পর্বতগুলোর মধ্যে একটিকে সরাতে বলত, আমাকে কোরআন সংগ্রহ করার এই আদেশের তুলনায় এটি আমার পক্ষে বেশি ভারী হত না I তখন আমি আবু বকরকে বললাম, “আপনি কি করে এমন কিছু করবেন যা আল্লাহর দূত (ﷺ) করেন নি?” আবু বকর উত্তর দিলেন, “আল্লাহ কসম, এটি একটি ভাল প্রকল্প I” আবু বকর আমাকে তার প্রস্তাব স্বীকার করতে তাগিদ দিতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ এর জন্য আমার বুক খুলে দেন যার জন্য তিনি আবু বকর এবং উমরের বুক খুলে দিয়েছেন I অতএব আমি কোরআন খুঁজতে এবং এটিকে সংগ্রহ করতে আরম্ভ করলাম (যা লেখা ছিল) তালপাতার বৃন্ত, পাতলা সাদা পাথর থেকে এবং সেই লোকেদের থেকেও যারা এটিকে মনে মনে জানত যতক্ষণ না আমি আবি খুযাইমা আল-আনসারির সাথে সুরা-আট-তৌবার (অনুশোচনা) শেষ আয়াতটি খুঁজে পেলাম এবং তাকে ছাড়া আমি আর কারোর কাছে এটিকে খুঁজে পাই নি I আয়াতটি হ’ল: সত্যই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন প্রেরিত (মহম্মদ) এসেছেন I এটি তাকে দুঃখ দেয় আপনার যদি কোনো আঘাত বা অসুবিধা হয় ..(সুরাত-বারার’ (আট-তৌবা) শেষ পর্যন্ত (9.128-129) I তখন তার মৃত্যু পর্যন্ত কোরআনের সম্পূর্ণ পান্ডুলিপি (প্রতিলিপি) আবু বকরের কাছে রইল, তারপরে উমরের কাছে তার জীবনের শেষ পর্যন্ত, এবং তার পরে উমরের কন্যা, হাফসার কাছে I    

শাহি আল-বুখারী 4986  : বই 66, হাদীস 8

এটা তখনকার সময় যখন আবু বকর খলিফা ছিল, সরাসরিভাবে মহম্মদের (পিবিইউএইচ) উত্তরাধিকারী I এটি আমাদের বলে যে মহম্মদ (পিবিইউএইচ) কোরআনকে কখনও আদর্শ পাঠ্যে সংগ্রহ করেন নি বা কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই জাতীয় কোনো জিনিস করা উচিত I যারা কোরআন মনে রেখেছিল তাদের মধ্যে লড়াইয়ের ভারী হতাহতের সাথে, আবু বকর এবং উমর (সে দ্বিতীয় খলিফা হয়েছিল) জাইদকে বিভিন্ন সুত্র থেকে একটি কোরআনকে সংগ্রহ করা শুরু করতে প্ররোচিত করল I জাইদ প্রথমে অনিচ্ছুক ছিল কারণ মহম্মদ (পিবিইউএইচ) কখনও পাঠ্যটির মানদণ্ডের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেন নি I নিম্নলিখিত হাদীস অনুসারে তিনি তার অমুগামীদের কোরআন শিক্ষা দেওয়ার জন্য তার সঙ্গীদের অনেকের উপরে ভরসা করেছিলেন I     

বর্ণিত মাসরিক:

আবদুল্লা বিন অমর আবদুল্লা বিন মাসুদকে উল্লেখ করলেন এবং বললেন, “আমি সেই মানুষটিকে সর্বদা ভালবাসব, কারণ আমি নবীকে (ﷺ) বলতে শুনেছি, “চারজনের থেকে কোরআন ‘নাও (শেখ): আবদুল্লা বিন মাসুদ, সেলিম, মু’য়াধ এবং উবাই বিন কা’ব’”   

শাহি আল-বুখারি 4999:  বই 66,হাদীস 21    

যাইহোক, নবীর (পিবিইউএইচ) মৃত্যুর পরে সঙ্গীদের মধ্যে এই বিভিন্ন আবৃত্তি সমূহের কারণে মতভেদ জন্মালো I নিচে সুরা 92:1-3 (আল-লায়ল) এর উপরে হাদীস এক মতভেদের সম্বন্ধে বলে I  

বর্ণিত ইব্রাহিম:

 ‘আবদুল্লার (বিন মাসুদ) সঙ্গীরা আবু দারদার কাছে এলেন’, (এবং তার বাড়িতে তাদের পৌঁছনোর পূর্বে), তিনি তাদের সন্ধান করলেন এবং খুঁজে  পেলেন I তারপরে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন, “তোমাদের মধ্যে কে আবদুল্লা যেমন এটিকে আবৃত্তি করে সেইরকম আবৃত্তি (কোরআন) করতে পার?” তারা উত্তর দিল, “আমরা সবাই I” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমাদের মধ্যে কে এটিকে মনে মনে জানে?” তারা আলকামার দিকে আঙ্গুল তুলে দেখাল I তখন তিনি আলকামাকে জিজ্ঞাসা করলেন I “তোমরা আবদুল্লা বিন মাসুদকে সুরা আল লায়ল (রাত্রি) আবৃত্তি করতে কিভাবে শুনলে?” আলকামা আবৃত্তি করলেন, ‘পুরুষ এবং স্ত্রীর কসম I’ আবু আদ-দারদা বললেন, “আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে নবীকে আমি এটিকে অনুরূপভাবে আবৃত্তি করতে শুনেছি, কিন্তু এই লোকেরা চায় আমি এটিকে আবৃত্তি করি:- ‘এবং তার কসম যিনি পুরুষ এবং স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন,’ কিন্তু আল্লাহ কসম, আমি তাদের অনুসরণ করব না I”          

ইউ-এস-সি-এম=এস-এ ওয়েব (ইংলিশ) রেফারেন্স খণ্ড.6.বই 60, হাদীস 468

আজকের কোরআনে সুরা আল-লায়ল 92:3 এর দ্বিতীয় পাঠ রয়েছে I মজার বিষয় হ’ল আবদুল্লা, যিনি কোরআনের আবৃত্তির উপরে পূর্ববর্তী হাদীসের চারজনের একজন তাকে মহম্মদের (পিবিইউএইচ) দ্বারা কোরআন সম্বন্ধীয় আবৃত্তির উপরে এক কর্ত্তৃত্ব রূপে বিশেষ ভাবে পৃথক করা হয়েছিল, এবং আবু আদ-দারদা এই আয়াতের জন্য এক ভিন্ন আবৃত্তি ব্যবহার করেছিলেন এবং অন্যদের অনুসরণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন না I  

নিম্নলিখিত হাদীস দেখায় যে ইসলাম সাম্রাজ্যের সমগ্র অঞ্চল বিভিন্ন আবৃত্তি সমূহ অনুসরণ করছিল, এমন পর্যন্ত যে একজন যাচাই করতে পারত কোথা থেকে কেউ এসেছিল কোন আবৃত্তি সে ব্যবহার করেছিল I নিচের ঘটনায়, কুফার ইরাকীরা আবদুল্লা বিন মাসুদের সুরা 92: 1-3 এর আবৃত্তি অনুসরণ করছিল I   

আলকামা জানিয়েছেন:

আমি আবু দারদার’, সঙ্গে দেখা করেছিলাম আর তিনি আমাকে বললেন: কোন দেশে আপনি থাকেন? আমি বললাম: আমি ইরাকের লোকেদের একজন I তিনি আবার বললেন: কোন শহরের? আমি জবাব দিলাম: কুফা শহর I তিনি আবার বললেন: তুমি কি আবদুল্লা মাসুদের আবৃত্তি অনুসারে আবৃত্তি কর? আমি বললাম: হ্যাঁ I তিনি বললেন: এই আয়াতটিকে (রাত যখন এটিকে আচ্ছাদন করে) আবৃত্তি কর I তাই আমি এটিকে (রাত যখন এটিকে আচ্ছাদন করে এবং দিন যখন আলোকিত হয়, এবং পুরুষ ও স্ত্রী সৃষ্টি করে) আবৃত্তি করলাম: তিনি হাঁসলেন এবং বললেন: আমি আল্লাহর দূতকে (ﷺ) এইভাবে আবৃত্তি করতে শুনেছি I      

শাহি মুসলিম 824 c: বই 6, হাদীস 346

বর্ণিত ইবন আব্বাস:

‘উমর বললেন, উবাই (কোরআনের) আবৃত্তির মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন তথাপি তার আবৃত্তির কয়েকটিকে আমরা ছেড়ে দিই I’ উবাই বলেন, ‘আমি এটিকে আল্লাহর দুতের (ﷺ) মুখ থেকে নিয়েছি এবং যাই হোক না কেন কোনো কিছুর জন্য আমি ছাড়ব না I” কিন্তু আল্লাহ বললেন “আমাদের প্রকাশনগুলোর কোনটিকে আমরা বাতিল বা বিস্মৃত হওয়ার কারণ করি না তবে আমরা আরও ভাল বা অনুরূপ কিছুকে প্রতিস্থাপন করি I”    

শাহি আল-বুখারি 5005 : বই 66, হাদীস 27 2:106

যদি উবাইকে কোরআনের আবৃত্তিতে ‘সর্বোত্তম’ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে  (তিনি তাদের মধ্যে একজন ছিলেন যাকে পূর্বে মহম্মদ-পিবিইউএইচ দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছিল), সম্প্রদায়ের অন্যরা তার আবৃত্তির কিছু বাদ দিয়েছিল I কোনটি বাতিল করতে হবে এবং কোনটি নয় সে বিষয়ে মতভেদ ছিল I বৈকল্পিক পাঠ এবং বাতিলকরণের বিষয়ে মতভেদ উত্তেজনা সৃষ্টি করছিল I আমরা নিচে হাদীসে দেখি কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করা হ’ল I    

খলিফা উসমান এবং কোরআন

বর্ণিত আনাস বিন মালিক:

আর্মিনিয়া এবং আজারবাইজানকে জয় করার জন্য শাম এবং ইরাকের লোকেরা যখন যুদ্ধ চালাচ্ছিল সেই সময়ে হুধাইফা বিন আল-ইয়ামান উসমানের কাছে এলেন I হুধাইফা কোরআনের আবৃত্তির ক্ষেত্রে তাদের (শাম এবং ইরাকের লোকেরা) মতভেদ সম্পর্কে ভীত ছিলেন I তাই তিনি উসমানকে বললেন, “হে বিশ্বাসীদের প্রধান! বইটি (কোরআন) সম্পর্কে তাদের মতভেদ হওয়ার আগেই এই জাতিকে রক্ষা করুন, যেমন যিহূদি এবং খ্রীষ্টানরা পূর্বে করেছিল I” তাই উসমান হাফসাকে এই বলে একটি বার্তা পাঠালেন, “কোরআনের পান্ডুলিপিগুলো আমাদের কাছে পাঠিয়ে দাও যাতে আমরা নিখুঁত অনুলিপিগুলোতে কোরআন সম্বন্ধীয় সামগ্রীগুলো সংকলন করতে পারি এবং পান্ডুলিপিগুলো তোমাকে ফিরিয়ে দিতে পারি I” হাফসা উসমানকে এগুলো পাঠিয়ে দিল I উসমান তখন জিদ বিন থাবিত, আবদুল্লা বিন আজ্জুবায়র. সৈয়দ বিন আল-আস এবং আব্দুর রহমান বিন হারিথ বিন হিশামকে পুঁথিগুলোকে নিখুঁত অনুলিপিতে পুনরায় লেখার জন্য আদেশ দিলেন I উসমান তিনজন কুরাইশি লোকদের বললেন, “কোনো কারণে যদি কোরআনের যে কোনো বিষয়ের উপরে জাইদ বিন থাবিতের সাথে তোমাদের মতভেদ হয়, তবে এটিকে কুরাইশদের উপভাষায় লিখবে, কোরআন তাদের জিহ্বায় অবতীর্ণ হয়েছিল I” তারা তাই করল, এবং যখন তারা অনেক অনুলিপিগুলো লিখে নিল, উসমান মূল পুঁথিগুলোকে হাফসার কাছে ফেরৎ পাঠিয়ে দিলেন I উসমান তাদের করা অনুলিপিগুলোর থেকে একটি করে প্রতিলিপি প্রত্যেক মুসলিম প্রদেশে পাঠিয়ে দিলেন, এবং আদেশ দিলেন যে অন্যান্য সমস্ত কোরআন সম্বন্ধীয় সামগ্রীগুলোকে তা খন্ড খন্ড পান্ডুলিপিগুলোতে বা পুরো অনুলিপিগুলোতে লেখা হোক না কেন, পুড়িয়ে দেওয়া হোক I            

শাহি আল-বুখারি 4987 : বই 66, হাদীস 9

এই কারণেই আজ কোনো বৈকল্পিক পঠন নেই I এটি কারণ নয় যে নবী মহম্মদ (পিবিউএইচ) কেবল একটি আবৃত্তি (তিনি করেন নি, তিনি সাতটি ব্যবহার করেছিলেন) গ্রহণ করেছিলেন বা ব্যবহার করেছিলেন, নাতো এই কারণে যে তিনি কোনো অনুমোদিত কোরআন সংকলিত করেছিলেন I তিনি করেন নি I প্রকৃতপক্ষে, আপনি যদি অনলাইন সুন্নতে ‘বিভিন্ন আবৃত্তিগুলো’ অন্বেষণ করেন তবে সেখানে 61 হাদীস রয়েছে যা কোরআনের বিভিন্ন আবৃত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করে I আজকের কোরআন বৈষম্যহীন কারণ উসমান (তৃতীয় খলিফা) পাঠ্য গুলোর মধ্যে একটিকে গ্রহণ করেছিলেন, এটিকে সম্পাদন করেছিলেন, এবং অন্য সমস্ত আবৃত্তিগুলোকে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন I নিম্নোক্ত হাদীসগুলো আজকের কোরআনে এই সম্পাদনাটি কিভাবে থেকে যায় দেখায় I   

বর্ণিত ইবন আব্বাস:

উমর বললেন, “আমি ভীত যে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরে, লোকেরা বলতে পারে, “আমরা পবিত্র পুস্তকে রাজমের আয়াতগুলো (পাথর মেরে হত্যা) দেখতে পাই না,” এবং ফলস্বরূপ তারা আল্লাহ প্রকাশিত একটি বাধ্যবাধকতা রেখে বিপথগামী হতে পারে I লো! আমি নিশ্চিত করি যে অবৈধ যৌন মিলন করে তাকে রাজমের শাস্তি দেওয়া হবে, যদি সে ইতিমধ্যেই বিবাহ করে থাকে এবং স্বাক্ষ্য বা গর্ভাবস্থা বা স্বীকারোক্তির দ্বারা অপরাধটি প্রমাণিত হয় I সুফিয়ান যোগ করলেন, “আমি এই বর্ণনাটি এই ভাবে মুখস্ত করেছি I” উমর যোগ করলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর দূত (ﷺ) রাজমের শাস্তি বহন করেছিলেন, আর আমরাও তারপরে তাই করেছি I”       

শাহি আল-বুখারি 6829: বই 86, হাদীস 56

বর্ণিত ইবন আব্বাস:

…আল্লাহ মোহম্মদকে সত্যের সাথে পাঠিয়েছিলেন এবং তার কাছে পবিত্র পুস্তকটি প্রকাশিত করেছিলেন, এবং আল্লাহ যা প্রকাশ করেছিলেন, তার মধ্যে  রাজমের আয়াতটি ছিল (বিবাহিত ব্যক্তিকে (পুরুষ এবং স্ত্রী) পাথর মারা) যে অবৈধ যৌন মিলন করে, এবং আমরা এই আয়াতটিকে আবৃত্তি করেছি এবং বুঝতে পেরেছি এবং এটিকে মুখস্ত করেছি I আল্লাহর দূত (ﷺ) পাথর মারার শাস্তিটি বহন করেছিলেন এবং তারপরে আমরাও তাই করেছি….    

বুখারি বই 86, হাদীস 57

আজকের দিনে কোরআনের মধ্যে ব্যাভিচারের জন্য পাথর মারা (রাজম) সম্বন্ধে কোনো আয়াত নেই I এটি এইভাবেই সম্পাদিত হয়েছিল I 

বর্ণিত ইবন আজ-জুবের: আমি উসমানকে বললাম, “সুরা-আল-বাকরার মধ্যে থাকা এই আয়াতটি: “আপনারা যারা মারা যান এবং পেছনে বিধবাকে পেছনে ফেলে রেখে যান…তাদের ফিরিয়ে না দিয়ে,” আর একটি আয়াত দ্বারা বাতিল করা হয়েছে I তাহলে কেন আপনি এটিকে  লিখবেন (কোরআনের মধ্যে)?” উসমান বললেন, “ছেড়ে দিন এটিকে (যেখানে এটি আছে)….কারণ এর কিছুই আমি বদলাব না (অর্থাৎ কোরআন) এর আসল অবস্থান থেকে I” 

উএসসি-এমএসএ ওয়েব (ইংরেজি)রেফারেন্স: খণ্ড 6 বই 60 হাদীস 60    আরবি রেফারেন্স :               বই 65, হাদীস 4536 বই 65, হাদীস 4536

এখানে উসমান এবং আজ-জুবেরের মধ্যে আমরা একটি মতভেদ দেখি যে কোনো আয়াত বাতিল করার অর্থ এটি কোরআনে রাখা উচিত ছিল বা রাখা উচিত ছিল না I উসমানের কাছে তার উপায় ছিল আর তাই এই আয়াতটি আজকে কোরানের মধ্যে রয়েছে I তবে এটি নিয়ে বিতর্ক ছিল I   

উসমান এবং সুরা 9 (আত তৌবা) এর শিরোনাম

বর্ণিত উসমান ইবন আফফান:

ইয়াজিদ আল-ফারিশি বললেন: আমি ইবন আব্বাসকে বলতে শুনেছিলাম: আমি উসমান ইবন আফফানকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাকে কি উৎসাহিত করল (সুরা) আল-বারাকে রাখতে যেটি মিন (সুরা) এর মধ্যে রয়েছে (একশত আয়াত রয়েছে) এবং (সুরা) আল-আনফালকে যেটি মাথানি (সুরা) তে আস-সাবু আত-তিওয়ালের (প্রথম দীর্ঘ সুরা বা কোরআনের অধ্যায়গুলো) শ্রেনীর মধ্যে রয়েছে, এবং তাদের মধ্যে আপনি দয়াশীল, করুণাময় আল্লাহর নামে লেখেন নি?”   

উসমান উত্তর দিলেন: নবীর (ﷺ) নিকট যখন কোরআনের আয়াতগুলো  প্রকাশিত হয়েছিল, তিনি কাউকে সেগুলো তার জন্য লিখতে ডেকেছিলেন এবং তাকে বললেন: এই আয়াতটি এমন সুরার মধ্যে রাখুন যাতে এই প্রকারের উল্লেখ রয়েছে; এবং যখন একটি বা দুটি আয়াত প্রকাশিত হয়েছিল, তিনি অনুরূপভাবে বলতেন (সেগুলো সম্পর্কে) I (সুরা) আল-আনফাল প্রথম সুরা যেটি মদিনাতে প্রকাশিত হয়েছিল, এবং (সুরা) আল-বারাহ কোরআনের মধ্যে শেষে প্রকাশিত হয়েছিল, এবং এর বিষয়বস্তুগুলো আল-আনফালের সেগুলোর মতন অনুরূপ ছিল I আমি, তাই, ভাবলাম যে এটি আল-আনফালের একটি অংশ ছিল I তাই আস-সাবু আত-তিওআলের (সাতটি দীর্ঘ সুরা সমূহ) বিভাগে আমি তাদের  রাখলাম এবং তাদের মধ্যে “দয়াশীল, করুণাময় আল্লাহর নামে” আমি  লিখলাম না I       

সুমন আবি দায়ুদ 786: বই 2, হাদীস 396


সুরা 9 (আত তৌবা বা আল-বারাহ) কোরআনের মধ্যে কেবলমাত্র সুরা যা ‘দয়াশীল, করুণাময় আল্লাহর নামে” শুরু হয় না’ I হাদীস ব্যাখ্যা করে কেন I উসমান ভাবলেন যে সুরা 9 সুরা 8 এর অংশ যেহেতু বিষয়বস্তু একই ছিল I প্রশ্নোত্তর থেকে আমরা দেখতে পারি যে এটি প্রাথমিক মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্কিত ছিল I পরবর্তী হাদীসে উসমানের কোরআনের প্রতি একজন সঙ্গীর প্রতিক্রিয়া দেখান হয়েছে I

আবদুল্লা (বি.মাসুদ) জানিয়েছিলেন যে তিনি (তার সঙ্গীদের কোরআনের তাদের প্রতিলিপিগুলো লুকিয়ে রাখতে বললেন) এবং আরও বললেন:

যে কেউ কিছু গোপন রাখে, সে বিচারের দিনে যা লুকিয়ে রেখেছিল তাকে তা আনতে হবে, এবং তারপরে বললেন: কার আবৃত্তির ধরণের উপরে আপনি আমাকে আবৃত্তি করতে আদেশ করেন? আমি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর দুত  (ﷺ) এবং আল্লাহর দুতের (ﷺ) সঙ্গীদের সামনে কোরআনের সত্তর অধ্যায়ের বেশি আবৃত্তি করলাম এটিকে জেনে যে আলাহর পুস্তকের সম্বন্ধে আমার আরও ভাল ধারণা রয়েছে (তাদের চেয়ে), এবং আমি যদি জানতাম যে কারোর আমার চেয়ে ভাল ধারণা আছে, আমি তার কাছে যেতাম I সফিক বললেন: আমি মোহম্মদের (ﷺ) সঙ্গীদের সান্নিধ্যে বসেছিলাম তবে আমি কাউকে তা বাতিল করতে (অর্থাৎ, তার আবৃত্তি) বা এর মধ্যে কোনো ত্রুটি খুঁজে পেতে শুনি নি I

শাহি মুসলিম 2462: বই 44, হাদীস 162

     বেশ কয়েকটি জিনিস লক্ষনীয়:

1. আবদুল্লা বি. মাসুদ তার অনুগামীদের কোনো কারণের জন্য তাদের কোরআনকে লুকিয়ে রাখতে বললেন I

2. মনে হয় তাকে কেউ আলাদা আবৃত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল I উসমানের তার কোরআনের সংস্করণটি আদর্শস্বরূপ করার সময়টিকে উল্লেখ হিসাবে সব চেয়ে ভাল বোঝা যায় I

3. কোরআনের আবৃত্তি করার তার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে ইবন মাসুদের আপত্তি ছিল যে: আমার (মাসুদ) বইটির সম্বন্ধে আরও ভাল ধারণা আছে I

4. সফিক বললেন যে মাসুদের সঙ্গে মোহম্মদের সঙ্গীদের মতবিরোধ হয় নি I   

বর্তমানে কোরআনের পাঠ্য সংস্করণ

উসমানের সংস্করণ অনুসরণ করার পরেও, যাইহোক, বৈকল্পিক পাঠগুলো এখনও বিদ্যমান I প্রকৃতপক্ষে, এই মনে হয় যে নবীর (পিবিইউএইচ) পরে চতুর্থ শতাব্দিতে বিভিন্ন পঠনের প্রতি একটি অনুমোদিত মঞ্জুরি ছিল I তাই যদিও বর্তমানে আরবদের প্রধান পাঠ্য হাফস (বা হফস), সেখানে ওয়ারশও রয়েছে, বেশিরভাগ উত্তর আফ্রিকা, আল-দুরিতে ব্যবহৃত হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পশ্চিম আফ্রিকা এবং এখনও অন্যত্র ব্যবহৃত হয় I এই পাঠগুলোর মধ্যে পার্থক্যটি বানান এবং কিছুটা শব্দের পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, সাধারণত অর্থের উপরে কোনো প্রভাব ফেলে না, তবে কিছু পার্থক্য রয়েছে যার সাথে কেবল তাৎক্ষনিক  প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে অর্থের উপরে প্রভাব রয়েছে কিন্তু বৃহত্তর চিন্তার মধ্যে নয় I        

তাই কোরআনের কোন সংস্করণটি ব্যবহার করা উচিত তার একটি বিকল্প রয়েছে I

আমরা জেনেছি যে বর্তমানে কোরানের মধ্যে বৈকল্পিক আরবী পাঠ্য আছে, এবং এটি নবী মোহম্মদের (পিবিইউএইচ) পরে সম্পাদনা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল I বর্তমানে কোরআনের পাঠ্যের মধ্যে এই ধরণের ক্ষুদ্র পার্থক্য হওয়ার কারণ হ’ল অন্যান্য সমস্ত সংস্করণগুলোকে সেই সময়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল I কোরআনের কোনো বিকল্প পাঠ্য পাদটীকা নেই, এই জন্য না যে তার কাছে কোন বিকল্প পাঠ্য ছিল না, বরং এই কারণে যে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল I উসমান সম্ভবত কোরানের একটি ভাল আবৃত্তি উৎপন্ন করেছিলেন, তবে এই কেবল একমাত্র একটি ছিল না, এবং এটিকে বিতর্ক ছাড়া প্রস্তুত করা হয় নি I সুতরাং কোরআন হ’ল “মূল ধর্মগ্রন্থ – এটি ভাষা, অক্ষর এবং আবৃত্তি সম্পর্কে ব্যাপকভাবে গৃহীত ধারণা I মানবীয় ব্যাখ্যার কোনো স্থান নেই” ভুল I যদিও বাইবেল এবং কোরআন উভয়ের বৈচিত্র্যপূর্ণ পাঠ্য আছে, এছাড়াও তাদের উভয়ের শক্তিশালী পান্ডুলিপির প্রমাণ আছে যা ইঙ্গিত দেয় যে বর্তমানে যে লেখাটি আছে তা আসলটির কাছাকাছি I উভয় আমাদের আসলটির বিশ্বাসযোগ্য উপস্থাপনা দিতে পারে I অনেকে কোরআন সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে অযৌক্তিক শ্রদ্ধার সাথে এবং বাইবেল সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে অযৌক্তিক অবজ্ঞার দ্বারা বইগুলোর বার্তা বুঝতে চাওয়ার থেকে বিভ্রান্ত হন I বইগুলো বোঝার দিকে মনোনিবেশ করা আমাদের পক্ষে আরও ভাল I সেই কারণেই তাদের প্রথম স্থান দেওয়া হয়েছিল I শুরু করার জন্য একটি ভাল জায়গা হল আদম

শক্তির রাত, মহিমার দিন, এবং নবীদের বাক্য

সুরা আল-কদর (সুরা 97 – শক্তি) শক্তির রাতের বর্ণনা করে যখন কোরআন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল

1 আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে। 2 শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? 3 শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। 4 এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। 5 এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

সুরা আল-কদর 97:1-5

সুরা আল-কদর, যদিও ‘হাজার মাসের চেয়ে ভাল’ হিসাবে রাতের শক্তিকে  বর্ণনা করে তবুও জিজ্ঞাসা করে রাতের শক্তি কি ছিল I আত্মাটি কি করছিল যা শক্তির রাতকে এক হাজার মাসের চেয়ে ভাল করেছিল?

সুরা আল-লায়লের (সুরা 92 – রাত) কাছে দিনের একটি বিশেষ অনুরূপ থিম আছে এবং আলো রাতকে অনুসরণ করে I দিনটি মহিমায় আসে, এবং আল্লাহ গাইড করেন কারণ তিনি শুরুর থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত কিছু জানেন I অতএব তিনি শেষে আমাদের আগুনের সম্বন্ধে সাবধান করেন I 

1 শপথ রাত্রির, যখন সে আচ্ছন্ন করে, 2 শপথ দিনের, যখন সে আলোকিত হয় I

সুরা আল লায়ল 92:1-2

12 আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা। 13 আর আমি মালিক ইহকালের ও পরকালের। 14 অতএব, আমি তোমাদেরকে প্রজ্বলিত অগ্নি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি।

সুরা আল-লায়ল 92:12-14

নিচের সাথে সুরা আল-কদর এবং সুরা আল-লায়লকে তুলনা করুন:

 আমাদের কাছে নবীদের বাণীটি আরও সুনিশ্চিত হয়েছে এবং অন্ধকারে জ্যোতির্ময়ী এক আলোক আলো যতক্ষণ না ভোর হয় এবং প্রভাত নক্ষত্রটি আপনার অন্তরে উদয় না হয় ততক্ষণ আপনি এদিকে মনোযোগ দেবেন।

2 পিতর 1:19

আপনি কি কোনো সাদৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন? আমি যখন সুরা আল-কদর এবং সুরা আল-লায়ল পড়ি আমাকে এই উদ্ধৃতিটি মনে করিয়ে দেয় I এছাড়াও এটি একটি রাতের পরে উত্থিত একটি দিনের ঘোষণা করে I রাতের সময়ে নবীদের প্রকাশন দেওয়া হয়েছিল I এটি আবারও আমাদের ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ বার্তাগুলোকে অগ্রাহ্য না করতে সতর্ক করে I অন্যথায় আমরা ভীষণ পরিণামগুলোর সম্মুখীন হই I   

এটি প্রধান শিষ্য এবং নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সঙ্গী, প্রেরিত পিতরের দ্বারা লিখিত হয়েছিল, I সুরা আছ-ছফ (সুরা 61 – ক্রম) ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের সম্বন্ধে বলে:  

মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও, যেমন ঈসা ইবনে-মরিয়ম তার শিষ্যবর্গকে বলেছিল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে? শিষ্যবর্গ বলেছিলঃ আমরা আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। অতঃপর বনী-ইসরাঈলের একদল বিশ্বাস স্থাপন করল এবং একদল কাফের হয়ে গেল। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, আমি তাদেরকে তাদের শত্রুদের মোকাবেলায় শক্তি যোগালাম, ফলে তারা বিজয়ী হল।

সুরা আছ-ছফ 61:14

সুরা আছ-ছফ ঘোষণা করে যে ঈসা আল মসীহর শিষ্যরা ছিল ‘ঈশ্বরের সহায়ক’ I যারা শিষ্যদের বার্তাকে বিশ্বাস করে তারা এই শক্তিটির কথা বলে I প্রধান শিষ্য হিসাবে, পিতর ঈশ্বরের সাহায্যকারীদের নেতা ছিলেন I যদিও তিনি নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ শিষ্য ছিলেন, তাঁর অনেক আশ্চর্যজনক কার্যগুলোকে প্রত্যক্ষ্য করছিলেন, তাঁর অনেক শিক্ষাগুলোকে শুনছিলেন এবং তাঁর ব্যবহৃত কর্ত্তৃত্বকে দেখছিলেন, পিতর তবুও উপরে ঘোষণা করলেন যে নবীদের কথাগুলো এমনকি ‘আরও অধিক নির্দিষ্ট’ ছিল I যা তিনি স্বয়ং দেখেছেন তার চেয়ে কেন তিনি নবীদের সম্বন্ধে অধিক নিশ্চিত ছিলেন? তিনি বলতে থাকেন:  

20 এটা তোমাদের বিশেষভাবে জানা দরকার য়ে শাস্ত্রের কোন ভাববাণী বক্তার নিজের ব্যাখ্যার ফল নয়৷
21 ভাববাণী কখনই মানুষের ইচ্ছাক্রমে আসে নি, কিন্তু পবিত্র আত্মার পরিচালনায় ভাববাদীরা ঈশ্বরের কথা বলেছেন৷

2 পিতর 1:20-21

এটি আমাদের বলে যে ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা নবীদেরকে সাথে করে ‘বহন করেছেন’, যাতে করে তারা যা উদ্ধৃত করেছেন এবং পরে লিখেছেন তা ‘ঈশ্বরের থেকে’ হয় I এই কারণেই এর মতন একটি রাত হাজার মাসের চেয়ে ভাল কারণ এটি ‘মানুষের ইচ্ছার’ বদলে পবিত্র আত্মার মধ্যে নিহিত রয়েছে I সুরা আছ-ছফ আমাদের বলে যে যারা পিতরের বার্তায় মনোযোগ দেয় তারা শক্তির রাতে প্রয়োগ করা শক্তি লাভ করবে এবং বিজয়ী হবে I    

নবী ঈসা আল মসীহর সময়ে বেঁচে থাকা ‘নবীরা’ যাদের সম্বন্ধে পিতর লিখেছিলেন তারা সেই নবী সমূহ ছিলেন তার মধ্যে যাকে এখন পুরনো নিয়ম বলা হয় – ইঞ্জিলের পূর্বে যে পবিত্র বইগুলো এসেছিল I নবী মুসার তাওরাতে আদম, কাবিল ও হাবিল, নোহ, লুট এবং ইব্রাহিমের থেকে বিবরণ ছিল I পাশাপাশি এটি মুসার সাথে ফরৌণের মুখোমুখি হওয়া এবং পরে শরিয়া আইন পাওয়ার সময়কে অন্তভুক্ত করেছিল, এবং এছাড়াও তার ভাই হারোণের কোরবানী, যার থেকে সুরা বাকরা নামকরণ করা হয়েছে I      .

তাওরাতের উপসংহারের শেষে সেই যাবুর এল যেখানে দায়ূদ আসন্ন মসীহর সম্পর্কে কথা বলতে অনুপ্রাণিত হলেন I ধারাবাহিক নবীরা তারপরে এক কুমারীর থেকে আসন্ন মসীহ, সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়া আল্লাহর রাজ্য, এবং এছাড়াও আসন্ন দাসের ভীষণ কষ্টভোগের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I তারপরে মসীহর নাম, সাথে তাঁর আসার সময় পাশাপাশি প্রস্তুতকারীর প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যদ্বাণী করা হ’ল I

আমাদের মধ্যে অনেকের নিজেদের জন্য এই লেখাগুলো পড়ার সুযোগ হয় নি I এখানে, এই বিভিন্ন লিংকগুলোর সাথে, একটি সুযোগ রয়েছে I সুরা আল-লায়ল এক আসন্ন আগুনের সম্বন্ধ সতর্ক করে I সুরা আল-কদর ঘোষণা করে যে ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা শক্তির রাতে কার্যরত ছিল I সুরা আছ-ছফ তাদেরকে শক্তির প্রতিশ্রুতি দেয় যারা শিষ্যদের বার্তাকে বিশ্বাস করে I তারপরে এই শিষ্যদের নেতা পিতর, আমাদেরকে পরামর্শ দিলেন আগামী দিনের অপেক্ষায় গোড়ার দিকের নবীদের কাছে রাতের বেলা দেওয়া প্রকাশনের উপরে ‘মনোযোগ দিন’ I তাদের বার্তাগুলো জানা কি বুদ্ধিমানী হবে না?