পেন্টেকোস্ট – সহায়ক ক্ষমতা এবং নির্দেশনা দিতে আসেন

সুরা আল-বালাদ (সুরা 90 – নগর) একটি নগর ব্যাপী স্বাক্ষ্যকে উল্লেখ করে এবং সুরা আন-নছর (সুরা 110 – স্বর্গীয় সমর্থন) লোকেদের ভিড়ের কল্পনা করে যা ঈশ্বরের প্রকৃত এক আরাধনায় আসে I    

1 আমি এই নগরীর শপথ করি 2 এবং এই নগরীতে আপনার উপর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।

সুরা আল-বালাদ 90:1-2

1 যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় 2 এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, 3 তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।

সুরা আন-নছর 110:1:3

ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ পুনরুত্থানের ঠিক 50 দিন পরে সুরা আল-বালাদ এবং সুরা আন-নছর এর মধ্যে আটক দর্শন সত্য হ’ল I নগরটি ছিল যিরূশালেম, এবং ঈসা আল মসীহর শিষ্যরা স্বাধীন লোক ছিল যারা সেই নগরের প্রত্যক্ষ্যদর্শী ছিল, তবে এটি সদাপ্রভুর আত্মা ছিল লোকেদের ভিড়ের বিরুদ্ধে সেই নগরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল যা উৎসব, প্রশংসা এবং ক্ষমার উৎপন্ন করল I সেই দিনটি আজ  আমাদের দ্বারাও অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে, যা আমরা এই অনন্য দিনের ইতিহাসকে বুঝতে পেরে আমরা শিখি I  

নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ নিস্তারপর্বে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল তবে পরে পরবর্তী রবিবারে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন I মৃত্যুর উপরে এই বিজয়ের সাথে তিনি এখন যে কোনো কাউকে জীবনের উপহার দিলেন যারা এটিকে গ্রহণ করবে I 40 দিন ধরে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে থাকার পরে, যাতে তারা তাঁর পুনরুত্থান সম্পর্কে আশ্বস্ত হয়ে যায়, তারপরে তিনি স্বর্গে আরোহণ করেন I তবে আরোহণ করার পূর্বে তিনি এই নির্দেশগুলো দিলেন: 

19 তাই তোমরা যাও, তোমরা গিয়ে সকল জাতির মানুষকে আমার শিষ্য কর৷ পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তিস্ম দাও৷
20 আমি তোমাদের য়েসব আদেশ দিয়েছি, সেসব তাদের পালন করতে শেখাও আর দেখ যুগান্ত পর্যন্ত প্রতিদিন আমি সর্বদাইতোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি৷’

মথি 28:19-20

তিনি তাদের সঙ্গে সর্বদা থাকতে প্রতিশ্রুতি দিলেন, তবুও তিনি তাঁর স্বর্গে আরোহণের সময় তিনি তাদের ছেড়ে দিলেন I তাঁর আরোহণের পরে কিভাবে তিনি এখনও তাদের (এবং আমাদের সঙ্গেও) সঙ্গে থাকতে পারেন I 

একটু পরে যা ঘটল তার মধ্যে উত্তর আসে I তাঁর গ্রেফতারের ঠিক পূর্বে তিনি সহায়কের আগমনের সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিলেন I তাঁর পুনরুত্থানের 50 দিন পরে (এবং তাঁর আরোহণের 10 দিন পরে) এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছিল I দিনটিকে পেন্টেকোষ্টের দিন বা পেন্টেকোষ্ট রবিবার বলা হয় I একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসাবে এটিকে উদযাপন করা হয়, তবে সেই দিন যা ঘটেছিল কেবল তাই নয় বরং কখন এবং কেন ঘটেছিল তা আল্লাহর চিহ্নকে প্রকাশ করে, এবং আপনার জন্য একটি শক্তিশালী বরদান I      

পেন্টেকোষ্টে কি ঘটেছিল

সম্পূর্ণ ঘটনাগুলোকে বাইবেলের প্রেরিতের কার্যের অধ্যায় 2 এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I সেই দিন, ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ প্রথম অনুগামীদের উপরে অবতরণ করেছিল এবং তারা উচ্চৈস্বরে পৃথিবীর চারিদিকের ভাষায় কথা বলতে আরম্ভ করল I এটি এমন ধরণের একটি উত্তেজনা সৃষ্টি করল যে যিরূশালেমে থাকাকালীন কয়েক হাজার লোক কি ঘটছে দেখতে সেই সময়ে বেরিয়ে এল I জমা হওয়া ভিড়ের সামনে, পিতর প্রথম সুসমাচারের বার্তা বলল এবং ‘সেই দিন তাদের সংখ্যার সাথে তিন হাজার যুক্ত হ’ল’ (প্রেরিতের কার্য 2:41) I সুসমাচার অনুসরণকারীদের সংখ্যা সেই পেন্টেকোষ্টের রবিবারের দিন থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে I       

পেন্টেকোষ্টের সারাংশ সম্পূর্ণ নয় I কারণ, নবীর ঠিক অন্যান্য ঘটনাগুলোর মতন, পেন্টেকোষ্ট সেই একই দিনে একটি উৎসব রূপে ঘটেছিল যা নবী মুসার  পিবিইউএইচ সময়ে তাওরাতের সঙ্গে ঘটেছিল I     

মুসার তাওরাতের থেকে পেন্টেকোষ্ট

মুসা পিবিইউএইচ (1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) সারা বছর ধরে উদযাপিত হওয়ার জন্য নানান উৎসব সমূহের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন I নিস্তারপর্ব যিহূদি বছরের প্রথম উৎসব ছিল I ঈসাকে নিস্তারপর্ব দিনের উৎসবে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল I নিস্তারপর্বের মেষশাবকের কোরবানীতে তাঁর মৃত্যুর সঠিক সময় আমাদের জন্য একটি চিহ্ন I    

দ্বিতীয় উৎসব ছিল প্রথম ফলের পর্ব, আর আমরা দেখলাম এই উৎসবের দিনে নবীকে কিভাবে উত্থাপন করা হ’ল I যেহেতু তাঁর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফলের’ দিনে ঘটল, এটি একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যাতে আমাদের পুনরুত্থান আসবে তাদের সকলের জন্য যারা তার উপরে বিশ্বাস করে I তাঁর পুনরুত্থান একটি ‘প্রথম ফল’, ঠিক যেমনভাবে উৎসবের নামটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I  

রবিবার ‘প্রথম ফলের’ ঠিক 50 দিন পরে তাওরাত যিহূদিদের পেন্টেকোষ্ট (50 এর জন্য ‘পেন্টে’) উদযাপন করার প্রয়োজন করেছিল I এটিকে প্রথমে সপ্তাহের পর্ব বলা হত যেহেতু এটিকে সাত সপ্তাহের দ্বারা গণনা করা হয় I 1500 বছর ধরে যিহূদিরা ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সময় পর্যন্ত সপ্তাহের পর্ব পালন করে আসছিল I কারণ সেখানে পিতরের বার্তা শুনতে সমস্ত পৃথিবী থেকে লোকেরা সেই দিন ছিল যে দিন পবিত্র আত্মা যিরূশালেমে অবতরণ করেছিল হুবহু এই কারণেই তারা সেখানে তাওরাতের পেন্টেকোষ্ট উদযাপন করতে উপস্থিত ছিল I  আজকে যিহূদিরা পেন্টেকোষ্ট উদযাপন করতে থাকে তবে এটিকে সাভুয়োত বলে ডাকে I

আমরা তাওরাতের মধ্যে পড়ি কিভাবে সপ্তাহের পর্ব কে উদযাপন করা হত:

  16 সপ্তম সপ্তাহ পরে রবিবারে (অর্থাত্‌ 50 দিন পরে) তোমরা প্রভুর কাছে একটি নতুন শস্য নৈবেদ্য আনবে|
17 ঐ দিনে তোমাদের বাড়ী থেকে দুুকরো রুটি নিয়ে আসবে| ঐ রুটি দোলনীয় নৈবেদ্যর জন্য নির্দিষ্ট হবে| ঐ রুটি তৈরী করার জন্য খামির এবং 16 কাপ ময়দা ব্যবহার কর| এটাই হবে তোমাদের প্রথম শস্য থেকে প্রভুর কাছে দেওয়া উপহার|

লেবীয় 23:16-17

পেন্টেকোষ্টের যথার্ততা: আল্লাহর থেকে চিহ্ন 

পেন্টেকোষ্টের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন পবিত্র আত্মা লোকেদের উপরে অবতরণ করেছিল যেহেতু এটি তাওরাতের সপ্তাহ পর্বের (বা পেন্টেকোষ্ট) মতন সেই একটি দিনে ঘটল I নিস্তারপর্বের উৎসবে ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন ঘটা, তাঁর পুনরুত্থান প্রথম ফসল উৎসবে ঘটা, এবং সপ্তাহের পর্বে পবিত্র আত্মার এই আগমন, আমাদের কাছে আল্লাহর থেকে স্পষ্ট চিহ্ন I বছরে এত দিনগুলো থাকলেও কেন ক্রুশারোপন, পুনরুত্থান, এবং তার পরে পবিত্র আত্মার আগমন তাওরাতের তিনটি বসন্ত উৎসবগুলোর প্রত্যেকটি দিনে যথাযথভাবে ঘটে, এটি কি তার পরিকল্পনা আমাদের দেখান ছাড়া নয়?      

ইঞ্জিলের ঘটনাগুলো তাওরাতের বসন্ত উৎসবে অবিকল ঘটেছিল 

পেন্টেকোষ্ট: সহায়ক নতুন শক্তি দেয় 

পবিত্র আত্মার আগমনের চিহ্নগুলোকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে, পিতর নবী যোয়েলের একটি ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে নির্দেশ করেন যা পূর্বাভাষ দেয় যে একদিন ঈশ্বরের  আত্মা সকল লোকেদের উপরে ঢালা হবে I ওই পেন্টেকোষ্টের দিনের ঘটনাগুলো ভবিষ্যদ্বাণীটিকে পূর্ণ করল I     

আমরা দেখেছি কিভাবে নবীরা আমাদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন আমাদের আত্মিক তৃষ্ণার প্রকৃতিকে যা আমাদেরকে পাপের দিকে নিয়ে যায় I নবীরা পূর্বাভাষও দিয়েছিলেন এক নতুন নিয়মের আগমন সম্বন্ধে যেখানে ব্যবস্থাকে আমাদের হৃদয়ের অভ্যন্তরে লেখা হবে, না কেবল পাথরের ফলকে বা বইতে I কেবলমাত্র আমাদের হৃদয়ে লেখার সাহায্যেই আমরা ব্যবস্থাকে অনুসরণ করতে শক্তি এবং সামর্থ্য পাব I বিশ্বাসীদের মধ্যে বাস করতে ওই পেন্টেকোষ্টের দিনে পবিত্র আত্মার আগমন এই প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা I 

সুসমাচার যে শুভ সংবাদ তার একটি কারণ হ’ল যে এটি উত্তম জীবন যাপন করতে শক্তি জোগায় I আল্লাহ এবং লোকেদের মধ্যে মিলন হ’ল এখন একটি জীবন I ঈশ্বরের পবিত্র আত্মার নিবাসের মাধ্যমে এই মিলন অনুষ্ঠিত হয় – যেটি প্রেরিতের কার্যের 2 -এর পেন্টেকোষ্টের রবিবার দিনে শুরু হয়েছিল I এটি এমন শুভ সংবাদ যে জীবনকে এক ভিন্ন স্তরে ব্যতীত করা যেতে পারে, তাঁর পবিত্র আত্মার মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কের মধ্যে I পবিত্র আত্মা আমাদেরকে এক প্রকৃত আন্তরিক নির্দেশ দেয় – ঈশ্বরের থেকে নির্দেশ I বাইবেল এটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করে:    


13 খ্রীষ্টেতে তোমরা তোমাদের পরিত্রাণের জন্য সেই সুসমাচারের সত্য বার্তা শুনেছিলে এবং তোমরা খ্রীষ্টে বিশ্বাস করেছিলে; আর তোমাদের পবিত্র আত্মা দান করে ঈশ্বর তোমাদের ওপর তাঁর নিজের মালিকানার ছাপ দিয়েছেন৷
14 ঈশ্বর তাঁর নিজস্ব লোকদের যা কিছু দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই পবিত্র আত্মা হল তার জামিনস্বরূপ, আর যাঁরা ঈশ্বরের লোক তারা এর মাধ্যমে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে৷ এ সবকিছুর একমাত্র লক্ষ্য হল তাঁর মহিমায় প্রশংসা য়োগ করা৷

ইফীষিয় 1:13-14

  11 ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করেছেন, আর ঈশ্বরের আত্মা যদি তোমাদের মধ্যে বাস করেন তবে তিনি তোমাদের মরণশীল দেহকে জীবনময় করবেন৷ ঈশ্বরই যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন, তাঁর য়ে আত্মা তোমাদের মধ্যে আছে তিনি সেই আত্মার দ্বারা তোমাদের দেহকে সঞ্জীবিত করবেন৷

রোমীয় 8:11

  23 কেবল গোটা বিশ্ব নয়, আমরাও যাঁরা পবিত্র আত্মাকে উদ্ধারের জন্য প্রথম ফলরূপে পেয়েছি, আমাদের দেহের মুক্তিলাভের প্রতীক্ষায় অন্তরে আর্তনাদ করছি৷

রোমীয় 8:23

ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত আত্মা একটি দ্বিতীয় প্রথম ফল, কারণ আত্মা একটি পূর্বস্বাদ – একটি গ্যারান্টি – ‘ঈশ্বরের সন্তানে’ আমাদের রুপান্তরের সম্পূর্ণতা I 

সুসমাচার এক অতুন জীবন প্রদান করে ব্যবস্থাকে পালন করতে চেষ্টা করা-কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার দ্বারা নয় I নাতো সম্পত্তি, মর্যাদা, সম্পদ, এবং পৃথিবীতে অন্য সমস্ত অতিবাহিত আনন্দের মাধ্যমে এটি একটি প্রাচুর্যময় জীবন, যেটিকে সুলেমান এত খালি দেখতে পেয়েছিল I পরিবর্তে, ইঞ্জিল আমাদের হৃদয়ের মধ্যে ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত আত্মার দ্বারা এক নতুন এবং প্রাচুর্যময় জীবন প্রদান করে I আল্লাহ যদি অন্তরে থাকতে চান, আমাদের ক্ষমতা এবং নির্দেশ দিতে – সেটিকে শুভ সংবাদ হতেই হবে! তাওরাতের পেন্টেকোষ্ট খামিরের সাথে সেঁকা সুক্ষ রুটির উদযাপনের সাথে এই আসন্ন প্রাচুর্যময় জীবন চিত্রিত হয়েছে I পুরনো এবং নতুন পেন্টেকোষ্টের মধ্যে সূক্ষতা একটি স্পষ্ট লক্ষণ যে আমাদের প্রাচুর্যময় জীবন পাওয়ার জন্য এটি আল্লাহর পরিকল্পনা I

বই – ‘আল কিতাবের’ বার্তা কি?

আল কিতাব (বাইবেল) আক্ষরিকভাবে ‘বইকে’ বোঝায় I বাইবেল ইতিহাসের প্রথম রচনা যাকে বই আকারে স্থাপন করা হয়েছে যা আমরা আজ দেখি I বাইবেল একট বিশ্ব স্বীকৃত বই যা এর পরিধির মধ্যে সমস্ত লোক এবং পৃথিবীর জাতিদের অন্তর্ভুক্ত করে I এই হিসাবে, এই মহান বইটিকে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে I অনেক জাতিগণের উপরে বাইবেলের গভীর প্রভাব রয়েছে, এবং গ্রহের সর্বাধিক পঠিত বই I তবে এই বইটি একটি জটিল গল্প সহ আবারও এক দীর্ঘ বই I তাই আমাদের মধ্যে অনেকে এই বইয়ের বিষয়টিকে জানে না বা বোঝে না I এই নিবন্ধটি এই ক্লাসিক বইয়ের গল্পকে ব্যাখ্যা করতে বাইবেলের বই থেকে একটি বাক্য গ্রহণ করবে – ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) কার্য I       

আমাদের ভবিষ্যতের একটি প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে বাইবেলকে দেওয়া হয়েছিল I এই সমস্যাটিকে সুরা আল-মুজাদালাহতে (সুরা 58 – আবেদনকারী মহিলা) ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা আসন্ন বিচারের দিনের দিকে দেখে

6 সেদিন স্মরণীয়; যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত। আল্লাহ তার হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহর সামনে উপস্থিত আছে সব বস্তুই। 7 আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

সুরা আল-মুজাদালাহ 58:6-7

সুরা আল-মুজাদালাহ আমাদের বলে যে এমন কোনো গোপনতা নেই যা আল্লাহ আমাদের সম্পর্কে জানেন না, এবং তিনি আমাদের বিচার করতে তার জ্ঞান ব্যবহার করবেন I  

সুরা আল-কেয়ামাহ (সুরা 75 – পুনরুত্থান) এই দিনটিকে ‘পুনরুত্থান দিন’ বলে ডাকে এবং এছাড়াও সাবধান করে কিভাবে মানুষকে তার জীবনের জন্য জবাব দিতে সামনে নিয়ে আসা হবে I

10 সে দিন মানুষ বলবেঃ পলায়নের জায়গা কোথায় ? 11 না কোথাও আশ্রয়স্থল নেই। 12 আপনার পালনকর্তার কাছেই সেদিন ঠাঁই হবে। 13 সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। 14 বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। 15 যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে।

সুরা আল-কেয়ামাহ 75:10-15

তাহলে আমরা কি করব আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং কাজকর্মগুলোর জন্য আমরা যদি লজ্জিত হই? বাইবেলের বার্তা তাদের জন্য যারা এই উদ্বিগ্নতা বহন করে I 

বইটির বার্তা


আমরা নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ শেষ সপ্তাহকে পরীক্ষা করলাম I ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যে তিনি ষষ্ঠ দিনে – শুভ শুক্রবারে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তাঁকে পরের রবিবারে আবার জীবনে ওঠানো হয়েছিল I এটিকে তাওরাত এবং গীতসংহিতা ও নবীদের উভয়ের মধ্যে পূর্বাভাষ করা  গিয়েছিল I কিন্তু কেন এটি ঘটল এবং আজকে আপনার এবং আমার জন্য এটির অর্থ কি? এখানে আমরা বুঝতে চাই ঈসা আল মসীহর দ্বারা  আমাদেরকে কি দেওয়া হয়েছে এবং আমরা কিভাবে করুণা এবং ক্ষমা পেতে পারি I এটি আমাদেরকে এমনকি ইব্রাহিমের মুক্তিপণকে বুঝতে সাহায্য করবে যাকে সুরা আস-সাফফাত (সুরা 37), সুরা আল ফাতিয়া (সুরা 1 – উদ্ঘাটক) এর মধ্যে বর্ণিত করা হয়েছে, যখন এটি আল্লাহকে ‘আমাদেরকে সরল পথ দেখাতে’ বলে পাশাপাশি উপলব্ধি দিতে কেন ‘মুসলিমের’ অর্থ ‘একজন যে সমর্পণ করে’, এবং কেন ধর্মকর্ম পালন যেমন বুদু, যাকাত এবং হালাল খাওয়া ভাল তবে বিচারের দিনের জন্য নিজেদের মধ্যে অপর্যাপ্ত ভাল উদ্দেশ্য I           

খারাপ সংবাদ – আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সম্বন্ধে নবীরা কি বলে

তাওরাত শিক্ষা দেয় যে যখন আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করলেন তিনি

27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন|

আদিপুস্তক 1:27

“প্রতিমূর্তি” শারীরিক অর্থে বোঝায় না, তবে বরং সেই অর্থে যাতে আমাদেরকে তৈরী করা হয় তাঁকে প্রতিফলিত করতে এমনভাবে যাতে আমরা আবেগপূর্ণভাবে, মানসিকভাবে, সামাজিকভাবে, এবং আত্মিকভাবে কার্যকলাপ করি I তাঁর সাথে সম্পর্কের মধ্যে হতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল I আমরা এই সম্পর্ককে নিচের স্লাইডের মধ্যে দেখতে পারি I সৃষ্টিকর্তাকে, অসীম শাসক হিসাবে, উপরে রাখা হয়েছে যেখানে পুরুষ এবং স্ত্রীকে স্লাইডের নিচে রাখা হয়েছে যেহেতু আমরা সীমিত প্রাণী I সংযোগকারী তীরের দ্বারা  সম্পর্ককে দেখানো হয়েছে I  

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide1-e1599977148296.jpg
তাঁর প্রতিমূর্তিতে, লোকেদেরকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে হতে তৈরী করা হয়েছিল

আল্লাহ চরিত্রের দিক দিয়ে সিদ্ধ – তিনি পবিত্র I এই কারণে যাবুর বলে

4 হে ঈশ্বর, মন্দ লোকরা আপনার কাছে থাকুক, এ আপনি চান না| দুষ্ট লোকরা আপনার উপাসনা করে না|
5 বোকারা আপনার কাছে আসতে পারে না| লোকদের মন্দ কাজ করাকে আপনি ঘৃণা করেন|

গীতসংহিতা 5:4-5

আদম অবাধ্যতার একটি কার্য করেছিল – কেবলমাত্র একটি – আর ঈশ্বরের  পবিত্রতায় তার বিচারের প্রয়োজন হয়েছিল I তাওরাত এবং কোরআন লিপিবদ্ধ করে যে আল্লাহ তাকে মরণশীল করলেন এবং তাঁর উপস্থিতি থেকে বিতাড়িত করলেন I সেই একই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বিদ্যমান I যখন আমরা পাপ করি বা অমান্য করি তখন আমরা যে কোনো উপায়ে আল্লাহকে অসম্মান করি যেহেতু আমরা প্রতিমূর্তি অনুসারে কাজ করি না যাতে আমাদের তৈরী করা হয়েছে I আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় I এর ফলে পাথরের মতন শক্ত এক বাধার সৃষ্টি হয় যা আমাদের এবং সৃষ্টিকর্তার মধ্যে আসে I  

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide2-e1599976770513.jpg
আমাদের এবং পবিত্র ঈশ্বরের মধ্যে আমাদের পাপ এক শক্ত বাধা সৃষ্টি করে

ধর্মীয় যোগ্যতার দ্বারা পাপের বাধাকে বিদ্ধ করা

আমাদের মধ্যে অনেকে আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে এই বাধাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমূহ বা কার্যাবলীর দ্বারা বিদ্ধ করতে চেষ্টা করে যা বাধাকে ভাঙতে যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে I প্রার্থনা, উপবাস, হাজ্জ, মসজিদে যাওয়া, যাকাত, ভিক্ষা দান, সেই পথগুলো যার দ্বারা আমরা বাধাকে বিদ্ধ করতে যোগ্যতা অর্জন করতে চাই যাকে পরে চিত্রিত করা হয়েছে I আশা হ’ল যে ধর্মীয় যোগ্যতা কিছু পাপকে বাতিল করবে I আমাদের অনেক কাজগুলো যদি যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে আমরা আমাদের পাপগুলোকে বাতিল করতে এবং করুণা ও ক্ষমা পেতে আশা করি I      

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide3-e1599976818192.jpg
ভাল কার্য সমুহ করার দ্বারা আল্লাহর সামনে যোগ্যতা অর্জন করতে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা করি  

কিন্তু পাপ বাতিল করতে কতটা যোগ্যতা আমাদের প্রয়োজন? আমাদের কি আশ্বাস যে আমাদের যোগ্যতাপূর্ণ কাজগুলো পাপ বাতিল করতে এবং বাধাকে বিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত হবে যা আমাদের এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তার মধ্যে এসেছে? আমরা কি জানি যে আমাদের ভাল উদ্দেশ্যগুলো পর্যাপ্ত হবে? আমাদের কাছে কোন আশ্বাস নেই আর তাই আমরা যতটা সম্ভব পারি চেষ্টা করি করতে এবং আশা করি বিচারের দিনে এটি পর্যাপ্ত হবে I  

কার্যকলাপ সমূহের দ্বারা যোগ্যতা অর্জন করার পাশাপাশি, ভালো উদ্দেশ্যের জন্য প্রচেষ্টায়, আমাদের মধ্যে অনেকে পরিষ্কার থাকতে কঠিন পরিশ্রম করে I প্রার্থনার পূর্বে আমরা অধ্যবসায়ের সাথে বুদু অনুষ্ঠিত করি I অশুচিকারী লোকেদের থেকে, বস্তুগুলোর থেকে এবং খাদ্যের থেকে দুরে থাকতে আমরা কঠিন পরিশ্রম করি I কিন্তু নবী যিশাইয় প্রকাশ করলেন যে:

6 আমরা সবাই পাপের জন্য নোংরা হয়ে উঠেছি| এমন কি আমাদের ভাল কাজও অশুদ্ধ| আমাদের ভালো কাজগুলো রক্তে রঞ্জিত পোশাকের মত| আমরা সবাই মরা পাতার মত| আমাদের পাপ আমাদের বাতাসের মতো বয়ে নিয়ে চলেছে|

যিশাইয় 64:6

নবী আমাদের বলেন যে এমনকি যদি আমরা সমস্তকিছুকে এড়িয়ে চলি যা আমাদের অশুচি করে, আমাদের পাপ সমূহ আমাদের ‘ধার্মিক কার্যকলাপ’ আমাদের পরিষ্কার করতে ‘নোংরা নেকড়ার’ মতন অকেজো করে তুলবে I ওটি খারাপ সংবাদ I তবে এটি আরও খারাপ হয় I  

আরও খারাপ সংবাদ: পাপ এবং মৃত্যুর ক্ষমতা

নবী মুসা পিবিইউএচ স্পষ্টভাবে ব্যবস্থার মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন যে সম্পূর্ণ বাধ্যতার প্রয়োজন ছিল I ব্যবস্থা কখনোই এরকম বলেনি যে “বেশিরভাগ অজ্ঞাগুলোকে অনুসরণ করতে চেষ্টা কর” I আসলে ব্যবস্থাটি বারবার বলেছিল পাপের প্রতিদানের একমাত্র কাজ মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিল I নোহের পিবিইউএইচ সময়ে এবং এমনকি লোটের পিবিইউএইচ স্ত্রীর সাথে আমরা দেখেছিলাম যে মৃত্যু পাপের পরিণাম স্বরূপ ছিল

ইঞ্জিল এই সত্যটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে সংক্ষিপ্তসার করে:

কারণ পাপের বেতন মৃত্যু…

রোমীয় 6:23

 “মৃত্যু” আক্ষরিক অর্থে ‘বিচ্ছিনতা’ I আমাদের আত্মা যখন আমাদের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় আমরা শারীরিকভাবে মারা যাই I অনুরূপভাবে আমরা এমনকি এখন ঈশ্বরের থেকে আত্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং মৃত হয়েছি এবং তাঁর দৃষ্টিতে অশুচি I  

এটি পাপের মূল্যের জন্য যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের আশার সমস্যাকে প্রকাশ করে I সমস্যা হল যে আমাদের কঠিন প্রচেষ্টা সমূহ, যোগ্যতাগুলো, ভালো উদ্দেশ্য সমূহ, এবং কাজগুলো, যদিও ভুল নয়, তবুও অপর্যাপ্ত কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রতিদান (‘বেতন’) হ’ল ‘মৃত্যু’ I কেবলমাত্র মৃত্যুই এই প্রাচীরকে বিদ্ধ করে কারণ এটি ঈশ্বরের ন্যায়কে সন্তুষ্ট করে I হালাল খাদ্য খাওয়ার দ্বারা যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাগুলো ক্যান্সার (যার পরিণাম মৃত্যু) নিরাময়ের জন্য চেষ্টা করার মতন I হালাল খাদ্য খারাপ নয়, ভাল – এবং একজনের হালাল খাওয়া ভাল – কিন্তু এটি ক্যান্সার নিরাময় করবে না I ক্যান্সারের জন্য আপনার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন যা ক্যান্সারের কোশিকাগুলোকে মারে I

তাই এমনকি আমাদের প্রচেষ্টা এবং ভাল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে যা ধর্মীয় যোগ্যতার জন্ম দেয় আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে আসলে মৃত এবং একটি মৃত দেহের মতন অশুচি I

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide4-e1599976866870.jpg
আমাদের পাপের পরিণাম মৃত্যু – আল্লাহর সামনে আমরা অশুচি মৃত দেহের মতন

ইব্রাহিম – সরল পথ দেখান

এটি নবী ইব্রাহিমের পিবিইউএইচ ক্ষেত্রে আলাদা I তাকে ‘ধার্মিকতা দেওয়া  হয়েছিল’, তার যোগ্যতার কারণে নয় বরং তিনি তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাস এবং ভরসা করেছিলেন বলে I তিনি নিজের দ্বারা এটিকে অর্জন করার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় মূল্য প্রদান করতে ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিলেন I আমরা তার মহান কোরবানীর মধ্যে দেখলাম যে মৃত্যুর (পাপের জন্য মূল্য) অর্থ প্রদান করা হয়েছিল, তবে তার পুত্রের দ্বারা নয় বরং পরিবর্তে ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত এক মেষশাবকের দ্বারা I  

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide5-e1599976906888.jpg
ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

কোরআন এটির সম্বন্ধে সুরা আস-সাফফাতে (সুরা 37 – তারা যারা মাত্রা স্থাপন করে) বলে যেখানে এটি বলে:

107 আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। 108 আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, 109 ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।  সুরা আস-

সাফফাত:107-109 

আল্লাহ ‘মুক্তিপণ (মূল্য প্রদান করলেন) দিলেন’ আর ইব্রাহিম আশীর্বাদ, করুণা এবং ক্ষমা পেলেন যা ‘শান্তিকে’ অন্তর্ভুক্ত করেছিল I    

শুভ সংবাদ: আমাদের স্বপক্ষে ঈসা আল মসীহর কাজ

সেখানে আমাদের সরল পথ দেখাতে সুরা আল-ফাতিয়ার (সুরা 1 – উদ্ঘাটন) অনুরোধ অনুসারে নবীর উদাহরণ 

4যিনি বিচার দিনের মালিক। 5 আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। 6 আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, 7 সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।সুরা আল-

ফাতিহা 1:4-7

ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে যে এটি একটি চিত্র যা দেখায় আল্লাহ কিভাবে পাপের জন্য মূল্য প্রদান করেন এবং মৃত্যু ও অশুচিতার জন্য একটি সরল কিন্তু শক্তিশালী উপায়ে নিরাময় যোগান দেন I

23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত

জীবন৷ রোমীয় 6:23

এতক্ষণ পর্যন্ত সব ‘খারাপ সংবাদ’ ছিল I তবে ‘ইঞ্জিল’ আক্ষরিক অর্থে ‘শুভ সংবাদ’ বোঝায় এবং সেটিকে ঘোষণা করার দ্বারা আমাদের এবং ঈশ্বরের মধ্যে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে ঈসার মৃত্যু পর্যাপ্ত হয় আমরা দেখতে পারি কেন এটি শুভ সংবাদ যেমন দেখানো হয়েছে I 

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide6-e1599976948933.jpg
ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

ঈসা আল মসীহর কোরবানী – ঈশ্বরের মেষশাবক মৃত্যুর দ্বারা আমাদের পক্ষে পাপের জন্য  মূল্য প্রদান করে যেমন ইব্রাহিমের মেষশাবক করেছিল I

নবী ঈসা আল মসীহ ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরে প্রথম ফল হিসাবে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন যাতে করে তিনি আমাদেরকে এখন নতুন জীবন দান করেছেন I মৃত্যুর পাপের বন্দী হয়ে থাকার আমাদের আর কোনো দরকার নেই I

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide7-e1599977000922.jpg
ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’ ছিল I আমরা মৃত্যু থেকে মুক্ত হতে পারি এবং সেই একই পুনরুত্থানের জীবন পেতে পারি

তাঁর কোরবানী এবং পুনরুত্থানের মধ্যে ঈসা আল মসীহ ঈশ্বরের থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নকারী পাপের বাধার মধ্যিখান দিয়ে দ্বারে পরিণত হলেন I এই জন্যই নবী বললেন:

9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’

যোহন 10:9-10
This image has an empty alt attribute; its file name is Slide8-e1599977052376.jpg
এইরূপে ঈসা আল মসীহ দ্বার হলেন যা পাপ এবং মৃত্যুর বাধাকে ভগ্ন করে

এই দ্বারের কারণে, আমরা এখন আমাদের পাপ বাধা হওয়ার পূর্বে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে পুনরায় অর্জন করতে পারি এবং করুণা এবং পাপের ক্ষমা পেতে আশ্বস্ত হতে পারি I

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide9-e1599977093801.jpg
এক উন্মুক্ত দ্বারের সাহায্যে আমরা এখন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনস্থাপিত হয়েছি  

যেমন ইঞ্জিল ঘোষণা করে:

5 কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে৷ সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷
6 সমস্ত লোকদের পাপমুক্ত করতে যীশু নিজেকে উত্‌সর্গ করেছিলেন৷ যীশুর এই কাজ সঠিক সময়ে প্রমাণ করল য়ে ঈশ্বর চান য়েন সব লোক উদ্ধার পায়৷ 1 তিমথি 2:5-6

আপনার কাছে ঈশ্বরের উপহার  

নবী ‘সকল লোকেদের’ জন্য ‘নিজেকে দিয়েছিলেন’ I তাই এটি অবশ্যই আপনাকে তথা আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I তাঁর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি একজন মধ্যস্থতাকারী হয়ে মূল্য প্রদান করেছেন এবং আমাদের জীবন  প্রদান করেছেন I এই প্রদত্ত জীবনটি কিরকম?

23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় 6:23

লক্ষ্য করুন এটিকে কিভাবে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I এটিকে দেওয়া হয়েছে এক … ‘উপহার’ হিসাবে I উপহার সম্পর্কে চিন্তা করুন I এতে কিছু এসে যায় না উপহারটি কি, যদি এটি প্রকৃতপক্ষে একটি উপহার হয় এটি এমনকিছু যার জন্য আপনি কাজ করেন না এবং যোগ্যতার দ্বারা অর্জন করেন না I যদি আপনি এটিকে অর্জন করতেন তবে উপহারটি আর একটি উপহার হত না – এটি একটি মজুরি হত! সেই একই ভাবে আপনি যোগ্য হতে বা ঈসা আল মসীহর কোরবানীকে অর্জন করতে পারেন না I এটিকে এক উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে I এটি ততটাই সরল I    

আর উপহারটি কি? এটি ‘অনন্ত জীবন’ I তার অর্থ যে পাপ আপনাকে এবং আমাকে মৃত্যুতে নিয়ে এসেছে তার মূল্য এখন চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে I ঈশ্বর আপনাকে এবং আমাকে অধিক ভালবাসেন I এটি ততটাই শক্তিশালী I 

অতএব অপনি এবং আমি কিভাবে অনন্ত জীবন পাব? আবার, উপহার  সম্পর্কে চিন্তা করুন I কেউ যদি আপনাকে একটি উপহার দিতে চায় আপনি অবশ্যই এটিকে ‘গ্রহণ করবেন’ I যে কোনো সময় এক উপহার দিলে সেখানে  কেবলমাত্র দুটি বিকল্প হয় I হয় উপহারটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয় (“না ধন্যবাদ আপনাকে”) বা এটিকে গ্রহণ করা হয় (“আপনার উপহারের অন্য ধন্যবাদ I আমি এটিকে গ্রহণ করব”) I অতএব এই উপহারটিকেও অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে I এটিকে কেবল মানসিকভাবে বিশ্বাস করতে, অধ্যয়ন করতে বা বুঝতে পারা যায় না I উপকার পেতে গেলে, যে কোনো উপহারকে আপনাকে অবশ্যই ‘গ্রহণ করতে হবে’ I

12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের

এই জন্ম৷ যোহন 1:12-13

আসলে ইঞ্জিল ঈশ্বরের সম্পর্কে বলে যে

ঈশ্বর আমাদের উদ্ধারকর্তা, যিনি সকল লোকেদের চান উদ্ধার হতে …

1 তিমথি 2:3-4

তিনি একজন উদ্ধারকর্তা এবং তাঁর ইচ্ছা যে ‘সকল লোকেরা’ তাঁর উপহার গ্রহণ করুক এবং পাপ ও মৃত্যু থেকে রক্ষা পাক I এটি যদি তাঁর ইচ্ছা হয়, তবে তাঁর উপহার গ্রহণ করতে হলে শুধুমাত্র তাঁর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ করতে হবে – ‘মুসলিম’ শব্দটির বিশেষ অর্থ – একজন যে সমর্পণ করে I

কিভাবে আমরা এই উপহারটি পাই? ইঞ্জিল বলে যে 

12 এক্ষেত্রে ইহুদী ও অইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু৷ যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন৷

রোমীয় 10:12

লক্ষ্য করুন যে এই প্রতিশ্রুতি ‘প্রত্যেকের’ জন্য I যেহেতু তিনি মৃত্যু থেকে উঠলেন ঈসা আল মসীহ এমনকি এখনও জীবিত I অতএব আপনি যদি তাঁকে ডাকেন তিনি শুনবেন এবং তাঁর উপহার আপনাকে দেবেন I আপনি তাঁকে ডাকুন এবং তাঁকে বলুন I আপনি হয়ত কখনও এইরকম করেন নি I নিচে একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে I কোনো যাদু মন্ত্র নয় I এটি কোনো নির্দিষ্ট কথা নয় যা শক্তি দিতে পারে I এটি ইব্রাহিমের যেমন ছিল সেইরকম বিশ্বাস যাকে আমরা এই উপহারটি দেওয়ার জন্য ঈসা আল মসীহর উপরে রাখতে পারি I তাঁকে বিশ্বাস করার সাথে সাথে তিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং উত্তর দেবেন I ইঞ্জিল শক্তিশালী, তবুও এত সহজও বটে I যদি আপনি এটিকে উপযোগী পান, এই নির্দেশনাকে অনুসরণ করতে স্বচ্ছন্দ অনুভব করুন I     Quote

প্রিয় নবী এবং ঈসা আল মসীহ I আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার পাপের কারণে আমি আমার সৃষ্টিকর্তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি I যদিও আমি কঠিনভাবে চেষ্টা করি, আমার প্রচেষ্টাগুলো এই বাধাকে বিদ্ধ করে না I তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনার মৃত্যু আমার সমস্ত পাপ ধুতে এবং আমাকে শুদ্ধ করতে একটি কোরবানী ছিল I আমি জানি যে আপনি আপনার কোরবানীর পরে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন তাই আমি বিশ্বাস করি যে আপনার কোরবানী পর্যাপ্ত ছিল এবং তাই আমি আপনার কাছে সমর্পণ করি I আমি আপনার কাছে যাচনা করি দয়া করে আমার পাপের থেকে শুদ্ধ করুন এবং আমার সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মধ্যস্থতা করুন যাতে করে আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি I আমার এই সমস্ত করার জন্য ঈসা আল মসীহ, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এবং এখন এমনকি আপনি আমার জীবনে ক্রমাগত পথ প্রদর্শন করতে থাকবেন যাতে আমি আপনাকে আমার প্রভু হিসাবে অনুসরণ করতে পারি I 

অত্যন্ত করুনাময়, ঈশ্বরের নামে

ডান দিকে বাম দিকে স্বর্গদূতরা কি বিচারের দিনে সাহায্য করবে

সুরা আল-হাক্কক্কাহ (সুরা 69 – বাস্তবতা) বর্ণনা করে কীভাবে বিচারের দিনটি  এক তুরীর বিফোটের সাথে উদঘাটিত হবে 

13 যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার 14 এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,15 সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। 16 সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। 17 এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। 18 সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।

সুরা আল-হাক্কক্কাহ 69:13-18

সুরা কাফ (সুরা 50) এছাড়াও একটি দিনের বর্ণনা করে যখন আল্লাহর তূরী ফুঁকে যাবে আর আমাদের ডান ও বাম দিকের তত্ত্বাবধায়ক দেবদূতরা আমাদের কাজ ও যোগ্যতার রেকর্ড প্রকাশ করবে I এই আয়াতগুলো পড়ে:

16 আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। 17 যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। 18 সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। 19 মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে। 20 এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। 21 প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী। 22 তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ন। 23 তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবেঃ আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই।

সুরা কাফ 50:16-23

আয়াত 20 বলে যে তুরীর সাবধানবাণী ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে (কোরআনের প্রকাশনের আগে) I কখন এটিকে দেওয়া হয়েছিল? এটিকে ঈসা আল মসীহর  (পিবিইউএইচ) দ্বারা দেওয়া হয়েছিল যখন তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে পৃথিবীতে তাঁর প্রত্যার্বর্তন স্বর্গের তুরীর দ্বারা ঘোষিত হবে: 

31 লাবন বলল, “মহাশয়, আপনাকে আমাদের আলযে স্বাগত জানাই| আপনার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই| আপনাদের বিশ্রামের জন্যে আমি সমস্ত বন্দোবস্ত করছি এবং আপনাদের উটগুলোর জন্যে আমাদের বাড়ীতে জায়গা আছে|”

মথি 24:31

এর পরে কি ঘটে? সুরা কাফ বর্ণনা করে এক দেবদূত আমাদের ডান দিকে এবং বাম দিকে, আমাদের কাজকর্মগুলো রেকর্ড করছে যেহেতু আল্লাহ আমাদের ঘাড়ের শিরার থেকে নিকটতম, ইঞ্জিল আমাদের বলে যে আমাদের কাজকর্মের এই রেকর্ডগুলো এত ব্যাপক যে তারা আসলে ‘বই’ I এটিকে একটি দর্শনে  বর্ণনা করা হয়েছে যাকে যোহন, ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ একজন শিষ্য, পেয়েছিলেন এবং ইঞ্জিলের শেষ বইয়ের মধ্যে লিখেছিলেন I যেমন এটিকে লেখা  হয়েছে: 

11 পরে আমি এক বিরাট শ্বেত সিংহাসন ও তার ওপর যিনি বসে আছেন তাঁকে দেখলাম৷ তাঁর সামনে থেকে পৃথিবী ও আকাশ বিলুপ্ত হল এবং তাদের কোন অস্তিত্ব রইল না৷
12 আমি দেখলাম, ক্ষুদ্র অথবা মহান সমস্ত মৃত লোক সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷ পরে কয়েকটি গ্রন্থ খোলা হল এবং আরও একটি গ্রন্থ খোলা হল৷ সেই গ্রন্থটির নাম জীবন পুস্তক৷ সেই গ্রন্থগুলিতে মৃতদের প্রত্যেকের কাজের বিবরণ লিপিবদ্ধ ছিল এবং সেই অনুসারে তাদের বিচার হল৷
13 য়ে সব লোক সমুদ্রগর্ভে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল সমুদ্র তাদের সঁপে দিল, আর মৃত্যু ও পাতাল নিজেদের মধ্যে য়ে সব মৃত ব্যক্তি ছিল তাদের সমর্পণ করল৷ তাদের কৃতকর্ম অনুসারে তাদের বিচার হল৷
14 পরে মৃত্যু ও পাতাল আগুনের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই আগুনের হ্রদই হল আসলে দ্বিতীয় মৃত্যু৷
15 জীবন পুস্তকে যাদের নাম লেখা দেখতে পাওয়া গেল না, তাদের সকলকে আগুনের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷

প্রকাশিত বাক্য 20:11-15

এটি ঘোষণা করে যে সকলের বিচার হবে ‘তাদের কাজ অনুসারে’ যেমন এই ‘বইয়ের’ মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I তাই আমরা প্রার্থনার পরে আমাদের ডান দিক এবং বাম দিকের দেবদুতদের শুভেচ্ছা জানাই এবং কাজকর্মের রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়ার আশা করি I  

জীবন পুস্তক

কিন্তু লক্ষ্য করুন সেখানে আর একটি পুস্তক আছে, যাকে ‘জীবনের পুস্তক’ বলা হয়, যেটি ভাল-মন্দ যোগ্যতার নথি-ধারণকারী বইয়ের থেকে আলাদা I এটি ব্যক্ত করে ‘যে কেউ’ যাদের নাম জীবন পুস্তকে পাওয়া যাবে না তাদেরকে আগুনের হ্রদে (জাহান্নামের জন্য আর একটি মেয়াদ) নিক্ষেপ করা হবে I তাই, এমনকি যদিও আমাদের ডান দিকে দেবদূতের দ্বারা লিপিবদ্ধ ভালো গুনগুলোর তালিকা খুব দীর্ঘ হয়, এবং দেবদূতের দ্বারা লিপিবদ্ধ আমাদের বাম দিকে পাপগুলোর তালিকা খুব সংক্ষিপ্ত হয় – এমনকি তবুও – আপনার নাম যদি ‘জীবন পুস্তকে’ না থাকে আমরা তখনও জাহান্নামের জন্য দোষী সাব্যস্ত হব I এই ‘জীবন পুস্তক’ কি এবং কিভাবে এই পুস্তকে আমাদের নাম লিপিবদ্ধ হয়?

 তাওরাত এবং কোরআন উভয়ই ব্যক্ত করে যে যখন হজরত আদম পাপ করল, আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিলেন এবং তাকে মরণশীল করেছিলেন I এর অর্থ হ’ল যে সে (এবং আমরা তার সন্তান) জীবনের স্রোত থেকে বিছিন্ন হয়েছিল I এটাই কারণ যে আমরা মরণশীল এবং একদিন আমরা মারা যাব I নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এই জীবনকে আমাদের কাছে পুনস্থাপন করতে এসেছিলেন যাতে আমাদের নামকে জীবন পুস্তকের মধ্যে প্রবেশ করাতে পারা যায় I যেমন তিনি ঘোষণা করলেন  

  24 ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; য়ে কেউ আমার কথা শোনে, আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে এবং সে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না৷ সে মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে৷

যোহন 5:24

নবী ইব্রাহিম পিবিইউএইচ কিভাবে জীবনের এই বরদানকে আগে থেকেই দেখছিলেন, এবং কেন ঈসা আল মসীহ আমাদের জীবন দিতে পারেন তা এখানে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I সুরা কাফ আমাদের সাবধান করে যে 

তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে,

সুরা কাফ 50:24

তাই অনন্ত জীবন যদি দেওয়া হয়ে থাকে তবে এর সম্বন্ধে খবর কেন দেওয়া হয়নি?

ঈসা আল মসীহর থেকে জীবনের উপহার বোঝা এবং পাওয়া

আমরা নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ শেষ সপ্তাহকে পরীক্ষা করলাম I ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যে তিনি ষষ্ঠ দিনে – শুভ শুক্রবারে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তাঁকে পরের রবিবারে আবার জীবনে ওঠানো হয়েছিল I এটিকে তাওরাত এবং গীতসংহিতা ও নবীদের উভয়ের মধ্যে পূর্বাভাষ করা  গিয়েছিল I কিন্তু কেন এটি ঘটল এবং আজকে আপনার এবং আমার জন্য এটির অর্থ কি? এখানে আমরা বুঝতে চাই ঈসা আল মসীহর দ্বারা  আমাদেরকে কি দেওয়া হয়েছে এবং আমরা কিভাবে করুণা এবং ক্ষমা পেতে পারি I এটি আমাদেরকে এমনকি ইব্রাহিমের মুক্তিপণকে বুঝতে সাহায্য করবে যাকে সুরা আস-সাফফাত (সুরা 37), সুরা আল ফাতিয়া (সুরা 1 – উদ্ঘাটক) এর মধ্যে বর্ণিত করা হয়েছে, যখন এটি আল্লাহকে ‘আমাদেরকে সরল পথ দেখাতে’ বলে পাশাপাশি উপলব্ধি দিতে কেন ‘মুসলিমের’ অর্থ ‘একজন যে সমর্পণ করে’, এবং কেন ধর্মকর্ম পালন যেমন বুদু, যাকাত এবং হালাল খাওয়া ভাল তবে বিচারের দিনের জন্য নিজেদের মধ্যে অপর্যাপ্ত ভাল উদ্দেশ্য I           

খারাপ সংবাদ – আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সম্বন্ধে নবীরা কি বলে

তাওরাত শিক্ষা দেয় যে যখন আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করলেন তিনি

  27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন|

আদিপুস্তক 1:27

“প্রতিমূর্তি” শারীরিক অর্থে বোঝায় না, তবে বরং সেই অর্থে যাতে আমাদেরকে তৈরী করা হয় তাঁকে প্রতিফলিত করতে এমনভাবে যাতে আমরা আবেগপূর্ণভাবে, মানসিকভাবে, সামাজিকভাবে, এবং আত্মিকভাবে কার্যকলাপ করি I তাঁর সাথে সম্পর্কের মধ্যে হতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল I আমরা এই সম্পর্ককে নিচের স্লাইডের মধ্যে দেখতে পারি I সৃষ্টিকর্তাকে, অসীম শাসক হিসাবে, উপরে রাখা হয়েছে যেখানে পুরুষ এবং স্ত্রীকে স্লাইডের নিচে রাখা হয়েছে যেহেতু আমরা সীমিত প্রাণী I সংযোগকারী তীরের দ্বারা  সম্পর্ককে দেখানো হয়েছে I  

তাঁর প্রতিমূর্তিতে, লোকেদেরকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে হতে তৈরী করা হয়েছিল

আল্লাহ চরিত্রের দিক দিয়ে সিদ্ধ – তিনি পবিত্র I এই কারণে যাবুর বলে

  4 হে ঈশ্বর, মন্দ লোকরা আপনার কাছে থাকুক, এ আপনি চান না| দুষ্ট লোকরা আপনার উপাসনা করে না|
5 বোকারা আপনার কাছে আসতে পারে না| লোকদের মন্দ কাজ করাকে আপনি ঘৃণা করেন|

গীতসংহিতা 5:4-5

আদম অবাধ্যতার একটি কার্য করেছিল – কেবলমাত্র একটি – আর ঈশ্বরের  পবিত্রতায় তার বিচারের প্রয়োজন হয়েছিল I তাওরাত এবং কোরআন লিপিবদ্ধ করে যে আল্লাহ তাকে মরণশীল করলেন এবং তাঁর উপস্থিতি থেকে বিতাড়িত করলেন I সেই একই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বিদ্যমান I যখন আমরা পাপ করি বা অমান্য করি তখন আমরা যে কোনো উপায়ে আল্লাহকে অসম্মান করি যেহেতু আমরা প্রতিমূর্তি অনুসারে কাজ করি না যাতে আমাদের তৈরী করা হয়েছে I আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় I এর ফলে পাথরের মতন শক্ত এক বাধার সৃষ্টি হয় যা আমাদের এবং সৃষ্টিকর্তার মধ্যে আসে I  

আমাদের এবং পবিত্র ঈশ্বরের মধ্যে আমাদের পাপ এক শক্ত বাধা সৃষ্টি করে

ধর্মীয় যোগ্যতার দ্বারা পাপের বাধাকে বিদ্ধ করা

আমাদের মধ্যে অনেকে আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে এই বাধাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমূহ বা কার্যাবলীর দ্বারা বিদ্ধ করতে চেষ্টা করে যা বাধাকে ভাঙতে যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে I প্রার্থনা, উপবাস, হাজ্জ, মসজিদে যাওয়া, যাকাত, ভিক্ষা দান, সেই পথগুলো যার দ্বারা আমরা বাধাকে বিদ্ধ করতে যোগ্যতা অর্জন করতে চাই যাকে পরে চিত্রিত করা হয়েছে I আশা হ’ল যে ধর্মীয় যোগ্যতা কিছু পাপকে বাতিল করবে I আমাদের অনেক কাজগুলো যদি যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে আমরা আমাদের পাপগুলোকে বাতিল করতে এবং করুণা ও ক্ষমা পেতে আশা করি I      

ভাল কার্য সমুহ করার দ্বারা আল্লাহর সামনে যোগ্যতা অর্জন করতে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা করি  

কিন্তু পাপ বাতিল করতে কতটা যোগ্যতা আমাদের প্রয়োজন? আমাদের কি আশ্বাস যে আমাদের যোগ্যতাপূর্ণ কাজগুলো পাপ বাতিল করতে এবং বাধাকে বিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত হবে যা আমাদের এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তার মধ্যে এসেছে? আমরা কি জানি যে আমাদের ভাল উদ্দেশ্যগুলো পর্যাপ্ত হবে? আমাদের কাছে কোন আশ্বাস নেই আর তাই আমরা যতটা সম্ভব পারি চেষ্টা করি করতে এবং আশা করি বিচারের দিনে এটি পর্যাপ্ত হবে I  

কার্যকলাপ সমূহের দ্বারা যোগ্যতা অর্জন করার পাশাপাশি, ভালো উদ্দেশ্যের জন্য প্রচেষ্টায়, আমাদের মধ্যে অনেকে পরিষ্কার থাকতে কঠিন পরিশ্রম করে I প্রার্থনার পূর্বে আমরা অধ্যবসায়ের সাথে বুদু অনুষ্ঠিত করি I অশুচিকারী লোকেদের থেকে, বস্তুগুলোর থেকে এবং খাদ্যের থেকে দুরে থাকতে আমরা কঠিন পরিশ্রম করি I কিন্তু নবী যিশাইয় প্রকাশ করলেন যে:

  6 আমরা সবাই পাপের জন্য নোংরা হয়ে উঠেছি| এমন কি আমাদের ভাল কাজও অশুদ্ধ| আমাদের ভালো কাজগুলো রক্তে রঞ্জিত পোশাকের মত| আমরা সবাই মরা পাতার মত| আমাদের পাপ আমাদের বাতাসের মতো বয়ে নিয়ে চলেছে|

যিশাইয় 64:6

নবী আমাদের বলেন যে এমনকি যদি আমরা সমস্তকিছুকে এড়িয়ে চলি যা আমাদের অশুচি করে, আমাদের পাপ সমূহ আমাদের ‘ধার্মিক কার্যকলাপ’ আমাদের পরিষ্কার করতে ‘নোংরা নেকড়ার’ মতন অকেজো করে তুলবে I ওটি খারাপ সংবাদ I তবে এটি আরও খারাপ হয় I  

আরও খারাপ সংবাদ: পাপ এবং মৃত্যুর ক্ষমতা

নবী মুসা পিবিইউএচ স্পষ্টভাবে ব্যবস্থার মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন যে সম্পূর্ণ বাধ্যতার প্রয়োজন ছিল I ব্যবস্থা কখনোই এরকম বলেনি যে “বেশিরভাগ অজ্ঞাগুলোকে অনুসরণ করতে চেষ্টা কর” I আসলে ব্যবস্থাটি বারবার বলেছিল পাপের প্রতিদানের একমাত্র কাজ মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিল I নোহের পিবিইউএইচ সময়ে এবং এমনকি লোটের পিবিইউএইচ স্ত্রীর সাথে আমরা দেখেছিলাম যে মৃত্যু পাপের পরিণাম স্বরূপ ছিল

ইঞ্জিল এই সত্যটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে সংক্ষিপ্তসার করে:

কারণ পাপের বেতন মৃত্যু…

রোমীয় 6:23

 “মৃত্যু” আক্ষরিক অর্থে ‘বিচ্ছিনতা’ I আমাদের আত্মা যখন আমাদের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় আমরা শারীরিকভাবে মারা যাই I অনুরূপভাবে আমরা এমনকি এখন ঈশ্বরের থেকে আত্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং মৃত হয়েছি এবং তাঁর দৃষ্টিতে অশুচি I  

এটি পাপের মূল্যের জন্য যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের আশার সমস্যাকে প্রকাশ করে I সমস্যা হল যে আমাদের কঠিন প্রচেষ্টা সমূহ, যোগ্যতাগুলো, ভালো উদ্দেশ্য সমূহ, এবং কাজগুলো, যদিও ভুল নয়, তবুও অপর্যাপ্ত কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রতিদান (‘বেতন’) হ’ল ‘মৃত্যু’ I কেবলমাত্র মৃত্যুই এই প্রাচীরকে বিদ্ধ করে কারণ এটি ঈশ্বরের ন্যায়কে সন্তুষ্ট করে I হালাল খাদ্য খাওয়ার দ্বারা যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাগুলো ক্যান্সার (যার পরিণাম মৃত্যু) নিরাময়ের জন্য চেষ্টা করার মতন I হালাল খাদ্য খারাপ নয়, ভাল – এবং একজনের হালাল খাওয়া ভাল – কিন্তু এটি ক্যান্সার নিরাময় করবে না I ক্যান্সারের জন্য আপনার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন যা ক্যান্সারের কোশিকাগুলোকে মারে I

তাই এমনকি আমাদের প্রচেষ্টা এবং ভাল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে যা ধর্মীয় যোগ্যতার জন্ম দেয় আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে আসলে মৃত এবং একটি মৃত দেহের মতন অশুচি I

আমাদের পাপের পরিণাম মৃত্যু – আল্লাহর সামনে আমরা অশুচি মৃত দেহের মতন

ইব্রাহিম – সরল পথ দেখান

এটি নবী ইব্রাহিমের পিবিইউএইচ ক্ষেত্রে আলাদা I তাকে ‘ধার্মিকতা দেওয়া  হয়েছিল’, তার যোগ্যতার কারণে নয় বরং তিনি তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাস এবং ভরসা করেছিলেন বলে I তিনি নিজের দ্বারা এটিকে অর্জন করার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় মূল্য প্রদান করতে ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিলেন I আমরা তার মহান কোরবানীর মধ্যে দেখলাম যে মৃত্যুর (পাপের জন্য মূল্য) অর্থ প্রদান করা হয়েছিল, তবে তার পুত্রের দ্বারা নয় বরং পরিবর্তে ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত এক মেষশাবকের দ্বারা I  

ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

কোরআন এটির সম্বন্ধে সুরা আস-সাফফাতে (সুরা 37 – তারা যারা মাত্রা স্থাপন করে) বলে যেখানে এটি বলে:

107 আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। 108 আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, 109 ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। 

সুরা আস-সাফফাত:107-109 

আল্লাহ ‘মুক্তিপণ (মূল্য প্রদান করলেন) দিলেন’ আর ইব্রাহিম আশীর্বাদ, করুণা এবং ক্ষমা পেলেন যা ‘শান্তিকে’ অন্তর্ভুক্ত করেছিল I    

শুভ সংবাদ: আমাদের স্বপক্ষে ঈসা আল মসীহর কাজ

সেখানে আমাদের সরল পথ দেখাতে সুরা আল-ফাতিয়ার (সুরা 1 – উদ্ঘাটন) অনুরোধ অনুসারে নবীর উদাহরণ 

4যিনি বিচার দিনের মালিক। 5 আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। 6 আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, 7 সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সুরা আল-ফাতিহা 1:4-7

ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে যে এটি একটি চিত্র যা দেখায় আল্লাহ কিভাবে পাপের জন্য মূল্য প্রদান করেন এবং মৃত্যু ও অশুচিতার জন্য একটি সরল কিন্তু শক্তিশালী উপায়ে নিরাময় যোগান দেন I

 23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় 6:23

এতক্ষণ পর্যন্ত সব ‘খারাপ সংবাদ’ ছিল I তবে ‘ইঞ্জিল’ আক্ষরিক অর্থে ‘শুভ সংবাদ’ বোঝায় এবং সেটিকে ঘোষণা করার দ্বারা আমাদের এবং ঈশ্বরের মধ্যে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে ঈসার মৃত্যু পর্যাপ্ত হয় আমরা দেখতে পারি কেন এটি শুভ সংবাদ যেমন দেখানো হয়েছে I 

ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

ঈসা আল মসীহর কোরবানী – ঈশ্বরের মেষশাবক মৃত্যুর দ্বারা আমাদের পক্ষে পাপের জন্য  মূল্য প্রদান করে যেমন ইব্রাহিমের মেষশাবক করেছিল I

নবী ঈসা আল মসীহ ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরে প্রথম ফল হিসাবে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন যাতে করে তিনি আমাদেরকে এখন নতুন জীবন দান করেছেন I মৃত্যুর পাপের বন্দী হয়ে থাকার আমাদের আর কোনো দরকার নেই I

ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’ ছিল I আমরা মৃত্যু থেকে মুক্ত হতে পারি এবং সেই একই পুনরুত্থানের জীবন পেতে পারি

তাঁর কোরবানী এবং পুনরুত্থানের মধ্যে ঈসা আল মসীহ ঈশ্বরের থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নকারী পাপের বাধার মধ্যিখান দিয়ে দ্বারে পরিণত হলেন I এই জন্যই নবী বললেন:

  9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’

যোহন 10:9-10
এইরূপে ঈসা আল মসীহ দ্বার হলেন যা পাপ এবং মৃত্যুর বাধাকে ভগ্ন করে

এই দ্বারের কারণে, আমরা এখন আমাদের পাপ বাধা হওয়ার পূর্বে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে পুনরায় অর্জন করতে পারি এবং করুণা এবং পাপের ক্ষমা পেতে আশ্বস্ত হতে পারি I

এক উন্মুক্ত দ্বারের সাহায্যে আমরা এখন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনস্থাপিত হয়েছি  

যেমন ইঞ্জিল ঘোষণা করে:

5 কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে৷ সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷
6 সমস্ত লোকদের পাপমুক্ত করতে যীশু নিজেকে উত্‌সর্গ করেছিলেন৷ যীশুর এই কাজ সঠিক সময়ে প্রমাণ করল য়ে ঈশ্বর চান য়েন সব লোক উদ্ধার পায়৷

1 তিমথি 2:5-6

আপনার কাছে ঈশ্বরের উপহার  

নবী ‘সকল লোকেদের’ জন্য ‘নিজেকে দিয়েছিলেন’ I তাই এটি অবশ্যই আপনাকে তথা আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I তাঁর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি একজন মধ্যস্থতাকারী হয়ে মূল্য প্রদান করেছেন এবং আমাদের জীবন  প্রদান করেছেন I এই প্রদত্ত জীবনটি কিরকম?

 23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় 6:23

লক্ষ্য করুন এটিকে কিভাবে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I এটিকে দেওয়া হয়েছে এক … ‘উপহার’ হিসাবে I উপহার সম্পর্কে চিন্তা করুন I এতে কিছু এসে যায় না উপহারটি কি, যদি এটি প্রকৃতপক্ষে একটি উপহার হয় এটি এমনকিছু যার জন্য আপনি কাজ করেন না এবং যোগ্যতার দ্বারা অর্জন করেন না I যদি আপনি এটিকে অর্জন করতেন তবে উপহারটি আর একটি উপহার হত না – এটি একটি মজুরি হত! সেই একই ভাবে আপনি যোগ্য হতে বা ঈসা আল মসীহর কোরবানীকে অর্জন করতে পারেন না I এটিকে এক উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে I এটি ততটাই সরল I    

আর উপহারটি কি? এটি ‘অনন্ত জীবন’ I তার অর্থ যে পাপ আপনাকে এবং আমাকে মৃত্যুতে নিয়ে এসেছে তার মূল্য এখন চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে I ঈশ্বর আপনাকে এবং আমাকে অধিক ভালবাসেন I এটি ততটাই শক্তিশালী I 

অতএব অপনি এবং আমি কিভাবে অনন্ত জীবন পাব? আবার, উপহার  সম্পর্কে চিন্তা করুন I কেউ যদি আপনাকে একটি উপহার দিতে চায় আপনি অবশ্যই এটিকে ‘গ্রহণ করবেন’ I যে কোনো সময় এক উপহার দিলে সেখানে  কেবলমাত্র দুটি বিকল্প হয় I হয় উপহারটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয় (“না ধন্যবাদ আপনাকে”) বা এটিকে গ্রহণ করা হয় (“আপনার উপহারের অন্য ধন্যবাদ I আমি এটিকে গ্রহণ করব”) I অতএব এই উপহারটিকেও অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে I এটিকে কেবল মানসিকভাবে বিশ্বাস করতে, অধ্যয়ন করতে বা বুঝতে পারা যায় না I উপকার পেতে গেলে, যে কোনো উপহারকে আপনাকে অবশ্যই ‘গ্রহণ করতে হবে’ I

  12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের এই জন্ম৷

যোহন 1:12-13

আসলে ইঞ্জিল ঈশ্বরের সম্পর্কে বলে যে

ঈশ্বর আমাদের উদ্ধারকর্তা, যিনি সকল লোকেদের চান উদ্ধার হতে …

1 তিমথি 2:3-4

তিনি একজন উদ্ধারকর্তা এবং তাঁর ইচ্ছা যে ‘সকল লোকেরা’ তাঁর উপহার গ্রহণ করুক এবং পাপ ও মৃত্যু থেকে রক্ষা পাক I এটি যদি তাঁর ইচ্ছা হয়, তবে তাঁর উপহার গ্রহণ করতে হলে শুধুমাত্র তাঁর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ করতে হবে – ‘মুসলিম’ শব্দটির বিশেষ অর্থ – একজন যে সমর্পণ করে I

কিভাবে আমরা এই উপহারটি পাই? ইঞ্জিল বলে যে 

  12 এক্ষেত্রে ইহুদী ও অইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু৷ যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন৷

রোমীয় 10:12

লক্ষ্য করুন যে এই প্রতিশ্রুতি ‘প্রত্যেকের’ জন্য I যেহেতু তিনি মৃত্যু থেকে উঠলেন ঈসা আল মসীহ এমনকি এখনও জীবিত I অতএব আপনি যদি তাঁকে ডাকেন তিনি শুনবেন এবং তাঁর উপহার আপনাকে দেবেন I আপনি তাঁকে ডাকুন এবং তাঁকে বলুন I আপনি হয়ত কখনও এইরকম করেন নি I নিচে একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে I কোনো যাদু মন্ত্র নয় I এটি কোনো নির্দিষ্ট কথা নয় যা শক্তি দিতে পারে I এটি ইব্রাহিমের যেমন ছিল সেইরকম বিশ্বাস যাকে আমরা এই উপহারটি দেওয়ার জন্য ঈসা আল মসীহর উপরে রাখতে পারি I তাঁকে বিশ্বাস করার সাথে সাথে তিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং উত্তর দেবেন I ইঞ্জিল শক্তিশালী, তবুও এত সহজও বটে I যদি আপনি এটিকে উপযোগী পান, এই নির্দেশনাকে অনুসরণ করতে স্বচ্ছন্দ অনুভব করুন I     

প্রিয় নবী এবং ঈসা আল মসীহ I আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার পাপের কারণে আমি আমার সৃষ্টিকর্তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি I যদিও আমি কঠিনভাবে চেষ্টা করি, আমার প্রচেষ্টাগুলো এই বাধাকে বিদ্ধ করে না I তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনার মৃত্যু আমার সমস্ত পাপ ধুতে এবং আমাকে শুদ্ধ করতে একটি কোরবানী ছিল I আমি জানি যে আপনি আপনার কোরবানীর পরে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন তাই আমি বিশ্বাস করি যে আপনার কোরবানী পর্যাপ্ত ছিল এবং তাই আমি আপনার কাছে সমর্পণ করি I আমি আপনার কাছে যাচনা করি দয়া করে আমার পাপের থেকে শুদ্ধ করুন এবং আমার সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মধ্যস্থতা করুন যাতে করে আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি I আমার এই সমস্ত করার জন্য ঈসা আল মসীহ, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এবং এখন এমনকি আপনি আমার জীবনে ক্রমাগত পথ প্রদর্শন করতে থাকবেন যাতে আমি আপনাকে আমার প্রভু হিসাবে অনুসরণ করতে পারি I 

অত্যন্ত করুনাময়, ঈশ্বরের নামে

গীতসংহিতা এবং নবীরা কিভাবে ঈসা আল মসীহর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন?

নবী মুসার পিবিইউএইচ তাওরাত ঈসা আল মসীহর সম্বন্ধে পুর্বজ্ঞান প্রকাশিত করেছিলেন চিহ্ন সমূহের মাধ্যমে যেগুলোকে নবীর আগমনের প্রতি নমুনাকৃত করা হয়েছিল I মুসার অনুগমনকারী নবীরা ফিরিস্তির দ্বারা ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে দেখিয়েছিলেন I ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত দায়ূদ পিবিইউএইচ, মসীহর আগমন সম্বন্ধে গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে প্রথমে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I তারপরে গীতসংহিতা 22 এর মধ্যে তিনি একজনের সম্বন্ধে একটি বার্তা পেলেন যার হাত ও পাকে অত্যাচারে ‘বিদ্ধ’ করা হয়েছে এবং তারপরে ‘মৃত্যুর ধুলিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে’, তবে  পরবর্তীকালে অর্জিত এক মহান বিজয় ‘পৃথিবীর সমস্ত পরিবারকে’ প্রভাবিত করবে I এটি কি ঈসা আল মসীহর আসন্ন ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল? সুরা সাবা (সুরা 34) এবং সুরা আন- নমল (সুরা 27) এর বক্তব্যের মধ্যে একবার দেখব কিভাবে আল্লাহ যাবুরের (অর্থাৎ গীতসংহিতা 22) মধ্যে দায়ূদকে অনুপ্রাণিত করলেন I          

গীতসংহিতা 22 এর ভবিষ্যদ্বাণী

আপনি এখানে পুরো গীতসংহিতা 22টি পড়তে পারেন I নিচে একটি টেবিল রয়েছে যেখানে গীতসংহিতা 22 এর পাশাপাশি ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের (সঙ্গী) দ্বারা প্রত্যক্ষ্য করা ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থানের বিবরণ রয়েছে I পাঠ্যগুলো রঙ মেলানো তাই সাদৃশ্যগুলো সহজেই দেখা যায় I 

   1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে লিখিত – গীত সংহিতা 22
(মথি 27:31-48) .. তারপর তারা তাঁকে (যীশুকে) ক্রুশে দিতে নিয়ে চলল)39 যে সকল লোক সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল তারা মাথা নাড়তে নাড়তে তার দিকে অপমান করল 40 এবং বলল, “… নিজেকে রক্ষা কর! ক্রুশ থেকে নেমে এস, যদি তুমি ঈশ্বরের পুত্র হও!” 41 সেই একই রূপে প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা এবং প্রাচীনরা তাঁর প্রতি বিদ্রূপ করল I 42 সে অন্যদের রক্ষা করত,”তারা বলল, “কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা! এখন ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, আর আমরা ওর উপর বিশ্বাস করব I 43 ও ঈশ্বরের উপরে বিশ্বাস রাখে I এখন তিনি ওকে উদ্ধার করুন যদি তিনি ওকে চান,…45 প্রায় নয় ঘটিকার সময় যীশু চীৎকার করে উঠলেনআমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর, কেন আমায় পরিত্যাগ করেছ?“…48 তাদের মধ্যে একজন তৎক্ষনাত দৌড়িয়ে গেল আর একটি স্পঞ্জ নিয়ে এল I সে তাতে সিরকা ভরল, এটিকে একটি নলের উপরে রাখল, এবং যীশুকে পান করতে দিল I মার্ক 15: 16-20 16 সেনারা যীশুকে নিয়ে গেলতারা তাঁকে বেগুনি কাপড় পরাল, তারপরে একটি কাঁটার মুকুট গেঁথে তার উপরে পরাল I 18 আর তারা তাঁকে বলতে আরম্ভ করল, “নমস্কার, যিহূদিরাজ!” 19 বার বার তারা একটি নল দ্বারা তাঁর মাথার উপরে আঘাত করল এবং তাঁর উপরে থুতু দিল I তাদের হাঁটু পেতে, তারা তাঁকে প্রণাম করল I 20 আর যখন তারা তাঁকে বিদ্রূপ করল, তারা তাঁর থেকে বেগুনি কাপড় খুলে নিল এবং তাঁর নিজের কাপড় তাঁর উপরে পরিয়ে দিল I পরে ক্রুশে দেবার জন্য তারা তাঁকে বাইরে নিয়ে গেল37 এক উচ্চ রবের সাথে, যীশু শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন I (যোহন 19:34) তারা তাঁর পা ভাঙল না ..., বিদ্ধ করল যীশুর কুক্ষিদেশে একটি বরশা দিয়ে, তাহাতে অমনি রক্ত ও জলের প্রবাহ নিয়ে এল.…তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল(যোহন  20:25) [থোমা] আমি যদি তাঁর হাতে প্রেরেক চিহ্ন না দেখি, …”…যোহন 19:23-24 যখন সেনারা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করল, তারা নিল তাঁর বস্ত্র সকল, তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে, সেগুলোকে চার ভাগে ভাগ করল,  বাকি ছিল আঙরাখাটি…এটিকে চিরব না”, তারা বলল,”এস আমরা গুলিবাঁট করে দেখি কে এটি পায় 1 ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমাকে পরিত্যাগ করেছ? আমার রক্ষার থেকে কেন এত দুরে থাক, আমার যন্ত্রণার আর্তনাদ থেকে কেন এত দুরে থাক?
2 হে আমার ঈশ্বর, আমি দিবসে আহ্বান করি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না, রাত্রিতেও, কিন্তু, আমার কোনো বিশ্রাম পাই না …7 যারা আমাকে দেখে সকলে আমাকে ঠাট্টা করে;
তারা তাদের মাথা নেড়ে, অপমান করে I
8 ও সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করে,”তারা বলে ,
সদাপ্রভু ওকে রক্ষা করুন,কেননা তিনি উহাতে প্রীত9 তথাপি তুমি জঠর থেকে আমাকে উদ্ধার করলে;
এমনকি আমার মাতার স্তন পানের সময়ে তুমি আমার বিশ্বাস জন্মালে I
10 গর্ভ থেকে আমি তোমার উপরে নিক্ষিপ্ত;
আমার মাতৃজঠর থেকে তুমিই আমার ঈশ্বর I  11 আমার থেকে দুরে থেক না,
কেননা সঙ্কট আসন্ন, আর সাহায্যকারী কেউ নেই I 12 অনেক বৃষ আমাকে বেষ্টন করেছে;
বলবান বলদেরা আমাকে ঘিরেছে I
13 গর্জনকারী সিংহ যেন তাদের শিকারীকে ছিড়ে ফেলতে আমার বিরুদ্ধে তাদের মুখ খুলে হা করেছে I
14 আমি জলের ন্যায় সেচিত হয়েছি, এবং আমার সমুদয় অস্থি সন্ধিচ্যুত হয়েছে I  
আমার হৃদয় মোমের ন্যায় হয়েছে;
এটি আমার মধ্যে গলিত হয়েছে I
15 আমার মুখ খোলার ন্যায় শুষ্ক হয়েছে,
এবং আমার জিহ্বা তালুতে লেগে আটকে গেছে;
তুমি আমাকে মৃত্যুর ধুলিতে রেখেছ I 16 কুকুরেরা আমাকে ঘিরেছে,দুরাচারীদের এক মন্ডলী আমাকে বেষ্টন করেছে; তারা আমার হস্তপদ বিদ্ধ   করেছে I 17 আমার অস্থি সকল প্রদর্শনীতে রয়েছে;
লোকেরা আমার প্রতি দৃষ্টি করে চেয়ে থাকে I
18 তারা নিজেদের মধ্যে আমার বস্ত্র বিভাগ করে এবং আমার পরিচ্ছদের জন্য গুলিবাঁট করে I

যারা ক্রুশারোপনকে প্রতক্ষ্য করেছিল সেই প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের দৃষ্টিকোণ থেকে ইঞ্জিল লেখা হয়েছে I গীতসংহিতা 22 একজন যে এটিকে অনুভব করেছে তার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে I গীতসংহিতা 22 এবং ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপনের মধ্যে এই সাদৃশ্যকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? এটিকি কাকতলীয় যে বিবরণগুলো এত হুবহু মেলে যে জামাকাপড় দুটি ভাগ করা হবে (সেলাই করা পোশাকগুলোর সেলাই বরাবর বিভক্ত ছিল এবং সেনাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল) আর গুলিবাঁট করা হয়েছে (সেলাইবিহীন পোশাক ছিঁড়ে ফেললে নষ্ট হয়ে যাবে তাই তারা এটির জন্য জুয়া খেলল) I ক্রুশারোপনের আবিষ্কারের পূর্বে গীতসংহিতা 22 লেখা হয়েছিল কিন্তু এটি  এর নির্দিষ্ট বিবরণ দেয় (হস্তপদ বিদ্ধ করা, অস্থি-সন্ধি থেকে অস্থি বেরিয়ে  আসা, – প্রসারিত হয়ে শিকারীর মতন ঝুলতে থাকে) I এর অতিরিক্ত যোহনের সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে যে যখন যীশুর কুক্ষিদেশে বর্শার খোঁচা দেওয়া হল তখন রক্ত ও জল বইতে লাগল I  সংকেত দেয় যে এক তরল পদার্থ তাঁর হৃদয় যন্ত্রের চারিদিকে তৈরী হয় I ঈসা আল মসীহ এইরূপে হৃদপিণ্ডের উপর আঘাতে মারা যান I এটি গীতসংহিতা 22 এর “আমার হৃদয় মোমে পরিণত হয়েছে’ উক্তির সঙ্গে মেলে I গীতসংহিতা 22 এর মধ্যে অনুবাদিত হিব্রু শব্দ ‘বিদ্ধ’ যার আক্ষরিক অর্থ ‘একটি সিংহের ন্যায়’ I অন্য কথায়, হাত এবং পাকে বিদ্ধ করার সময়ে তাদেরকে একটি সিংহ যেমন করে সেইরকমভাবে থেঁতলান ও বিকৃত করা হয়েছিল I

অবিশ্বাসীরা উত্তর দেয় যে ইঞ্জিলের প্রত্যক্ষ্যদর্শীর নথির সঙ্গে গীতসংহিতা 22 এর সাদৃশ্য এই কারণে হতে পারে ঈসার শিষ্যরা ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে ‘খাপ খায়’ এইরকম ঘটনাগুলো তৈরী করেছিল I ওটা কি সাদৃশ্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে?

গীতসংহিতা 22 এবং ঈসা আল মসীহর উত্তরাধিকার

তবে উপরোক্ত টেবিলের গীতসংহিতা 22 আয়াত 18 এর সঙ্গে শেষ হয় না – এটি চলতে থাকে I এখানে লক্ষ্য করুন শেষে এটি কতটা জয়যুক্ত – ম্র্ত্যুর পরে! 

26 দরিদ্র লোকরা খেয়ে তৃপ্ত হবে| তোমরা যারা প্রভুকে খুঁজছ, তারা তাঁর প্রশংসা কর! তোমাদের অন্তঃকরণ চিরজীবি হউক!
27 তোমরা, সুদূর দেশগুলির জনগণ, প্রভুকে মনে রেখো এবং তাঁর কাছে ফিরে এস! য়ে সব মানুষ বিদেশে থাকে তারাও য়েন প্রভুরই উপাসনা করে|
28 কেন? কারণ প্রভুই রাজা| তিনি সব জাতিকে শাসন করেন|
29 বলিষ্ঠ এবং সুদেহী লোকেরা আহারান্তে ঈশ্বরের কাছে প্রণিপাত করবে| বস্তুতঃ সকলে যারা মারা যাবে এবং যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে তারা সকলেই ঈশ্বরের কাছে অবনত হবে!
30 এবং ভবিষ্যতে আমাদের উত্তরপুরুষরা প্রভুর সেবা করবে| লোকে চিরদিন তাঁর কথা বলবে|
31 প্রত্যেকটি প্রজন্ম তাদের শিশুদের কাছে ঈশ্বর য়ে ভাল জিনিসগুলি করেছেন সে সম্পর্কে বলবে|

গীত সংহিতা 22:26-31

এটি এই ব্যক্তির মৃত্যুর বিশদ সম্পর্কে কথা বলছে না I ওটিকে গীসংহিতার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছিল I নবী দায়ূদ পিবিইউএইচ এখন আরও ভবিষ্যতের দিকে দেখছেন এবং এই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রভাবকে ‘উত্তরপুরুষ’ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের’ উপরে সম্বোধন করছেন (আয়াত 30) I অর্থাৎ ঈসা আল মসীহর পরে আমরা 2000 বছর বেঁচে আছি I দায়ূদ আমাদের বলছেন যে ‘উত্তরপুরুষ’ এই ‘হস্তপদ বিদ্ধ’ মানুষটিকে অনুসরণ করে, যে এই ধরণের এক ভয়ংকর মৃত্যু বরণ করেন তাঁকে ‘সেবা’ করবে এবং ‘তাঁর সম্বন্ধে বলা হবে’ I আয়াত 27 সীমাটির সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করে – এরা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্তে’ এবং ‘জাতিগণের সকল পরিবারের’ মধ্যে যাবে এবং তাদেরকে ‘সদাপ্রভুর দিকে ফেরাবে’ I আয়াত 29 সংকেত দেয় কিভাবে তারা ‘যারা নিজেদেরকে (আমাদের সবাই) জীবিত রাখতে পারে না’ একদিন তাঁর সামনে জানু পাতবে I এই মানুষটির ধার্মিকতাকে লোকেদের কাছে ঘোষণা করা হবে যারা তাঁর মৃত্যুর সময়ে তখনও জীবিত (‘এখনও অজাত’) ছিল না I      

ইঞ্জিলটিকে গীতসংহিতা 22 এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তৈরী করা হয়েছিল কিনা এর সাথে এই শেষের কোনো সম্পর্ক নেই কেননা এটি এখন আরও অধিক পরবর্তী ঘটনাগুলোর সম্বন্ধে আলোচনা করছে – যেগুলো আমাদের সময়ের I প্রথম শতাব্দীর ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা আল মসীহর মৃত্যুর প্রভাব আমাদের সময়ের মধ্যে তৈরী করতে পারেন নি I অবিশ্বাসীদের যৌক্তিকতা ঈসা আল মসীহর দীর্ঘমেয়াদী, বিশ্বব্যাপী উত্তরাধিকারের ব্যাখ্যা দেয় না যা গীতসংহিতা 22 সঠিকভাবে 3000 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I      

কোরআন – আল্লাহর দ্বারা প্রদত্ত দায়ূদের পূর্বজ্ঞান 

গীতসংহিতা 22 এর শেষে এই জয়যুক্ত প্রশংসা একদম তাই যা কোরআনের সুরা সাবা এবং আন-নমল (সাবা 34 পিপড়া 27)বোঝায় যখন এটি দায়ূদের অনুপ্রাণিত গীতসংহিতার সম্বন্ধে বলে যে:   

আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে

ছিলাম।সুরা সাবা 34:10

আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম।

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।সুরা আন-

নমল 27:15

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।  

যেমন এটি বলে. আল্লাহ দায়ূদকে জ্ঞান ও অনুগ্রহ দিয়েছিলেন ভবিষ্যতকে দেখতে এবং ওই জ্ঞানের সাহায্যে তিনি গীতসংহিতার মধ্যে লিপিবদ্ধ প্রশংসার গীত গেয়েছিলেন I 

এখন সুরা আল-ওয়াকিয়া (সুরা 56 –অপরিহার্য) এর মধ্যে উত্থিত প্রশ্নটির সম্বন্ধে এখন বিবেচনা করুন I 

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?

সুরা আল-ওয়াকিয়া 56:83-87

মৃত্যুর থেকে প্রাণকে কে ডাকতে পারে? আল্লাহর থেকে মানুষের কার্যকে আলাদা করতে এই চ্যালেঞ্জটি দেওয়া হয়েছে I তবুও সুরা আল-ওয়াকিয়া ঠিক তাই যা গীতসংহিতা 22 বর্ণনা করে – এবং এটি ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ কার্যকে পূর্বাভাষ বা ভবিষ্যদ্বাণী করার দ্বারা এইরকম করে I   

গীতসংহিতা 22 এর তুলনায় ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপনের ফলাফল সম্বন্ধে কেউ এর থেকে ভাল ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না I পৃথিবীর ইতিহাসে আর কে আছে যে তাঁর মৃত্যুর পাশাপাশি তাঁর জীবনের উত্তরাধিকার সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণকে যা তাঁর জন্মের 1000 বছর পূর্বে অদূর ভবিষ্যতে ঘটবে বলে দাবি করতে পারে? যেহেতু সুদুর ভবিষ্যত সম্পর্কে এত বিস্তৃতভাবে বলা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় সেইহেতু ঈসা আল মসীহর কোরবানী “ঈশ্বরের ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা এবং পুর্বজ্ঞানের” দ্বারা ছিল I    

অন্যান্য নবীরা ঈসা আল মসীহর কোরবানীর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে

ঠিক যেমন তাওরাত ঈসা আল মসীহর শেষ দিনগুলোর ঘটনাবলী সম্পর্কে একটি দর্পণের চিত্রের সাহায্যে আরম্ভ করেছিল এবং পরে আরও বিস্তারের সাথে চিত্রটিকে স্পষ্ট করেছিল, তেমনি দায়ূদের পরবর্তী নবীরা ঈসা আল মসীহর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানকে আরো বিস্তৃতভাবে প্রাঞ্জল করেছিলেন I নিচের টেবিলটি আমাদের দেখা তাদের কয়েকটিকে সংক্ষিপ্তসার করেছে I 

নবীরা বলে   কিভাবে এটি আসন্ন মসীহর পরিকল্পনাকে প্রকাশ করল
কুমারী জন্মের চিহ্ন ‘একটি পুত্র এক কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করবে’ যাকে যিশাইয় 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং তিনি পাপ রহিত এক সিদ্ধ জীবন অতিবাহিত করবেন I কেবলমাত্র এক সিদ্ধ জীবনকে অন্য কারোর জন্য কোরবানীতে উৎসর্গ করা যেতে পারে I ওই ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতায় ঈসা আল মসীহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই পবিত্র জীবন যাপন করেছিলেন I 
আসন্ন ‘শাখা’ ঈসার নাম এবং আমাদের পাপের অপসারণের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল  নবী যিশাইয়, যিরমিয় এবং সখরিয় একজনের আগমন সম্বন্ধে এক ধারাবাহিক ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিলেন যাকে ঈসার জন্মের 500 বছর পূর্বে – সঠিকভাবে ঈসা নাম দিয়েছিলেন I সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে একদিন লোকেদের পাপ অপসারিত হবে I ঈসা নিজেকে বলি হিসাবে উৎসর্গ করেছিলেন আর তাই ‘একদিনে’ এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর পূর্ণতার মধ্য দিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হল I    
নবী দানিয়েল এবং মসীহর আগমনের  সময়   নবী দানিয়েল মসীহর আগমনের জন্য ঠিক 480-বছরের একটি সময় সূচীর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ভবিষ্যদ্বাণীর সূচী অনুসারে ঈসা সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন I  
নবী দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মসীহকে ‘বিচ্ছিন্ন করা’ হবে   মসীহর আগমনের পরে, নবী দানিয়েল লিখেছিলেন যে তাঁকে ‘বিচ্ছিন্ন করা হবে আর কিছুই থাকবে না’ I এটি ঈসা আল মসীহর  আসন্ন মৃত্যুর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যেমন তাঁকে জীবন থেকে ‘বিচ্ছিন্ন করা’ হয়েছিল I 
 নবী যিশাইয় আসন্ন দাসের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের সমন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন নবী যিশাইয় অনেক বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন কিভাবে মসীহ অত্যাচার, প্রত্যাখ্যান, আমাদের পাপের জন্য বিদ্ধ হয়ে, এক মেষশাবকের ন্যায় বধ হয়ে, আমাদের পাপের নিমিত্ত তাঁর জীবন উৎসর্গীকৃত হয়ে, ‘জীবিতের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন’, তবে পরে তিনি আবার ‘জীবন’ দেখবেন এবং বিজয়ী হবেন I এই সমস্ত বিস্তৃত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ হয়েছিল যখন ঈসা আল মসীহ ক্রুশারোপিত হলেন এবং মৃত্যু থেকে উঠলেন I এ জাতীয় বিবরণগুলোকে 700 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারা এক মহান চিহ্ন ছিল যে এটি আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল I 
নবী ইউনুস এবং ঈসা আল মসীহর মৃত্যু নবী ইউনুস বিশাল মাছের ভেতরে থাকার সময়ে কবরের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন I এই একটি চিত্র ছিল যাকে ঈসা আল মসীহ ব্যাখা করতেন যে সেই একই ভাবে তিনিও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করবেন I
নবী সখরিয় এবং মৃত্যুর বন্দিদের মুক্তিদান ঈসা আল মসীহ সখরিয়র একটি ভবিষ্যদ্বাণীকে উল্লেখ করেন যে তিনি ‘মৃত্যুর বন্দিদের’ (যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে) মুক্ত   করবেন I মৃত্যুতে প্রবেশ করা এবং সেখানে যারা আটকে আছে তাদেরকে মুক্ত করার তাঁর মিশন সম্বন্ধে নবীদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I

এই অনেক ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সাথে, নবীরা যারা কয়েকশত বছরের ব্যবধানে নিজেরা আলাদা হয়েছিল, বিভিন্ন দেশ সমূহে বাস করছিল, বিভিন্ন পৃষ্ঠভূমি ছিল, তবুও সকলে তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঈসা আল মসীহর মহান বিজয়ের কিছু অংশের উপরে ভবিষ্যদ্বাণী করতে মনোনিবেশ করেছিল – এটিই স্বাক্ষ্য যে এটি আল্লাহর পরিকল্পনা অনুসারে ছিল I এই কারণে, ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের নেতা পিতর, শ্রোতাদের বললেন:     

  18 কিন্তু ভাববাদীদের মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর খ্রীষ্টের দুঃখভোগের কথা যা জানিয়েছেন, সে সবই তিনি এইভাবে পূর্ণ করেছেন৷

প্রেরিতের কার্য 3:18

ঠিক তার অব্যবহিত পরে পিতর এটি বললেন, তিনি তখন ঘোষণা করলেন:

  19 তাই আপনারা মন-ফিরান এবং ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসুন, য়েন আপনাদের পাপ মুছে দেওযা হয়৷

প্রেরিতের কার্য 3:19

আমাদের জন্য আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি আছে যে আমরা আমাদের পাপ সমূহকে ‘মুছে ফেলতে পারি’ I আমরা এখানে দেখব এর অর্থ কি I

মশির তাওরাত ঈসা আল মসীহ সম্পর্কে কিভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করল?

ইঞ্জিল ঘোষণা করে যে ক্রুশারোপন এবং নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ পুনরুত্থান আল্লাহর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল I নবীর ক্রুশারোপনের ঠিক 50 দিন পরে, পিতর যিনি তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে নেতা, প্রকাশ্যে ঈসা আল মসীহর সম্পর্কে এই ঘোষণা করলেন: 

  23 যীশুকে আপনাদের হাতে সঁপে দেওযা হল, আর আপনারা তাঁকে হত্যা করলেন৷ মন্দ লোকদের দিয়ে আপনারা তাঁকে ক্রুশের উপর পেরেক বিদ্ধ করলেন৷ ঈশ্বর জানতেন য়ে এসব ঘটবে; আর তাই ছিল ঈশ্বরের পরিকল্পনা, যা তিনি বহুপূর্বেই নিরূপণ করেছিলেন৷
24 যীশু মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করলেন, কিন্তু ঈশ্বর সেই বিভীষিকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন৷ ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে তুলে আনলেন৷ মৃত্যু যীশুকে তার কবলে রাখতে সক্ষম হল না৷

প্রেরিতের কার্য 2:23-24

পিতরের বার্তার পরে, কয়েক সহস্র বিশ্বাস করল এবং বার্তাটিকে সেই দিনের পৃথিবীর চতুর্দিকের বিরাট সংখ্যক লোকেদের দ্বারা আলিঙ্গন করা হ’ল – সকলে কোনো রকম বাধ্যতা ছাড়াই I ব্যাপক স্বীকৃতির কারণ ছিল তাওরাত এবং যাবুরের নবীদের রচনা সমূহ যা কয়েকশত বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল I লোকেরা এই শাস্ত্র বাক্যগুলো পরীক্ষা করল দেখতে তারা কি বাস্তবিকই ঈসা আল মসীহর আগমন, মৃত্যু এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এইগুলো আজকে উপলব্ধ সেই একই অপরিবর্তিত শাস্ত্র বাক্য যাকে আমরাও অনুসন্ধান করতে এবং দেখতে পারি এটি কি ‘ঈশ্বরের ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা এবং পুর্বজ্ঞান’ ছিল যেমন পিতর ঘোষণা করেছিলেন I ইঞ্জিলের প্রথম শ্রোতারা আদম এবং ছয় দিনের সৃষ্টির দিকে যতটা সম্ভব ফিরে তাওরাত থেকে যা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তার কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমরা এখানে দিয়েছি, যেমন তারা         

 “…প্রত্যেক দিন শাস্ত্র বাক্য পরীক্ষা করত…

প্রেরিতের কার্য  17:11

তারা সতর্কভাবে শাস্ত্র বাক্য পরীক্ষা করত কারণ প্রেরিতদের বার্তা তাদের কাছে অদ্ভূত এবং নতুন ছিল I যে বার্তাগুলো আমাদের কানে নতুন এবং অদ্ভূত তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য আমরা পক্ষপাতদুষ্ট I আমরা সবাই এটি করি I তবে, এই বার্তাটি যদি আল্লাহর থেকে হত, এবং এবং তারা এটিকে অস্বীকার করত, তবে সুরা আল-গাশিয়াহর সাবধানবাণী (সুরা 88 – অপ্রতিরোধ্য) তাদের উপরে নেমে আসত I   

তবে সেই মুখের সুবিধাপ্রাপ্তির সুবিধা এবং কাফেররা হ’ল, মহা আযাব দেবেন আল্লাহনিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট,অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।

সুরা আল-গাশিয়াহ 88:23-26

23 কিন্তু যে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও কাফের হয়ে যায়, 24 আল্লাহ তাকে মহা আযাব দেবেন। 25 নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট, 26 অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।

তারা জানত যে এই অপরিচিত বার্তাটি আল্লাহর থেকে ছিল কিনা তা নির্ধারণ করার সঠিক উপায়টি ছিল নবীদের রচনার বিরুদ্ধে এই বার্তাটি পরীক্ষা করা I এটি তাদের একটি বার্তার অস্বীকার করার আল্লাহর শাস্তির থেকে নিরাপদ রাখত I আমরা তাদের উদাহরণ অনুসরণ করতে বুদ্ধিমান  হব এবং তাই শাস্ত্রগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে নবী ঈসা আল মসীহর  পিবিইউএইচ মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের বার্তা পূর্বের লেখায় পূর্ব নির্ধারিত ছিল   কিনা I আমরা তাওরাত দিয়ে আরম্ভ করি:     

আল্লাহর পূর্বজ্ঞান তাওরাতের শুরু থেকে এবং কোরআনের মধ্যে  প্রকাশিত হয়েছিল 

তাওরাতের প্রথম পাতা থেকে আমরা দেখতে পারি যে ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ দিনগুলো এবং তাঁর বলিদান আলাহর দ্বারা আগে থেকেই জানা ছিল I সমস্ত পবিত্র বইগুলোর (তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল এবং কোরআন) মধ্যে কেবলমাত্র দুটি সপ্তাহ যেখানে সপ্তাহের প্রতিটি ধারাবাহিক দিনের ঘটনা বর্ণিত হয় I তাওরাতের প্রথম দুটি অধ্যায়ে আল্লাহ ছয় দিনের মধ্যে কিভাবে সমস্তকিছু সৃষ্টি করেছিলেন তার বিবরণ প্রথম এই ধরণের সপ্তাহ ছিল I লক্ষ্য করুন কোরআন কিভাবে সৃষ্টির ছয় দিনের উপরে জোর দেয় I  

নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

সুরা আল-আ’রাফ 7:54

তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর।

সুরা আল-ফুরকান 25:59

আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?

সুরা আস-সেজদাহ 32:4

আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।  

সুরা কাফ 50:38

তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।   

সুরা আল-হাদীদ 57:4

প্রতিদিনের ঘটনাবলীর বিবরণ সহ অন্য সপ্তাহটি নবী ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহ I অন্য কোনো নবীর সম্পর্কে, সে আব্রাহাম, মশি, দায়ূদ, এবং মোহম্মদ পিবিইউএইচ যেই হোন না কেন এক সম্পূর্ণ সপ্তাহের দৈনন্দিন কার্যকলাপকে বর্ণিত করা হয়নি I তাওরাতের শুরুতে সম্পূর্ণ সৃষ্টির সপ্তাহের বিবরণ এখানে দেওয়া হয়েছে I ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহের ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে আমরা গমন করেছি I এই টেবিলটি দুই সপ্তাহের প্রতিটি দিনের তুলনার জন্য পাশাপাশি রাখে I 

সপ্তাহের দিন সৃজন সপ্তাহ ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহ
দিন 1 সেখানে অন্ধকার আর আল্লাহ বলেন, ‘দীপ্তি   হোক’ আর এটি হ’ল I অন্ধকারের মধ্যে দীপ্তি   হয় I   মসীহ যিরূশালেমে প্রবেশ করেন এবং বলেন “আমি জগতে জ্যোতি হিসাবে এসেছি …” অন্ধকারের মধ্যে জ্যোতি আছে
দিন 2 আল্লাহ পৃথিবীকে আকাশমন্ডল থেকে আলাদা করলেন ঈসা এক প্রার্থনার স্থান হিসাবে মন্দিরকে পরিষ্কার করার দ্বারা জগতের জিনিসগুলোকে স্বর্গের থেকে আলাদা করেন
দিন 3 আল্লাহ কথা বলেন আর ভূমি সমুদ্র থেকে ওঠে I ঈসা বিশ্বাসের সম্বন্ধে  বলেন যা পর্বতকে অপসারণ করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করতে পারে I      
আল্লাহ পুনরায় বলেন ‘ভূমি গাছপালা উৎপন্ন করুক’ আর তাই  হ’ল I    ঈসা কথা বলেন এবং ডুমুর গাছটি জমির ওপরে শুকিয়ে যায় I
দিন 4 আল্লাহ বলেন ‘আকাশে দীপ্তি হোক’ আর সূর্য, চন্দ্র, এবং নক্ষত্র সমূহ আকাশকে আলোকময়  করতে অস্তিত্বে আসে I ঈসা পৃথিবীতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নর সম্বন্ধে কথা বলেন – সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্র অন্ধকার হয়ে যাবে  
দিন 5 আল্লাহ উড়ন্ত ডাইনোসর সরীসৃপগুলো = ড্রাগন সহ সমস্ত প্রানীকে সৃষ্টি করেন    শয়তান, বিশাল ড্রাগন, মসিহকে আঘাত করতে যুদাসের মধ্যে অবতরণ করে 
দিন 6 আল্লাহ কথা বলেন আর ভূমি প্রাণীরা জীবিত হয়ে ওঠে I নিস্তারপর্বের মেষশাবক প্রানীদের মন্দিরের মধ্যে বধ করা হয় I  
সদাপ্রভু ঈশ্বর … আযমের নাসিকায় প্রাণবায়ু প্রবেশ করান’ আদম নিঃস্বাস  নিতে শুরু করে  “এক জোরে চীত্কারের সাথে যীশু শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন” (মার্ক 15:37)
আল্লাহ আদমকে বাগানের মধ্যে রাখেন  ঈসা স্বাধীন ভাবে গেৎসেমেনের বাগানে প্রবেশ করতে পছন্দ করেন    
আদমকে একটি অভিশাপ সহ ভাল মন্দ  জ্ঞানের বৃক্ষ থেকে দুরে থাকতে সাবধান করা হয় I  ঈসাকে একটি গাছে পেরেকের দ্বারা বিদ্ধ এবং অভিশপ্ত করা  হয় I (গালাতীয় 3:13)
কোনো প্রাণীকে আদমের জন্য উপযুক্ত পাওয়া  যায় না I আর একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল নিস্তারপর্বের প্রাণীর বলিদানগুলো পর্যাপ্ত ছিল না I এক ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল I (ইব্রীয় 10:4-5)
আল্লাহ আদমকে গভীর নিদ্রার মধ্যে রাখেন ঈসা মৃত্যুর নিদ্রায় প্রবেশ করে  
আল্লাহ আদমের পার্শ্ব দিকে একটি ক্ষতর সৃষ্টি  করেন যার সাহায্যে তিনি হবাকে  তৈরী করেন – আদমের বধু ঈসার পার্শ্ব দিকে এক ক্ষত সৃষ্টি করা হয় I তাঁর বলিদান থেকে ঈসা এক বধুকে জয় করে – তারা যার মধ্যে থাকে I (প্রকাশিত বাক্য 21:9)    
দিন 7 আল্লাহ কাজের থেকে বিশ্রাম গ্রহণ করেন I দিনটিকে পবিত্র ঘোষণা করা হয় ঈসা মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ  করেন  

এই দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিটি দিনের ঘটনাগুলো একে অপরের আয়নার চিত্রগুলোর মতন I তাদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে I এই সপ্তাহ দুটির উভয়ের শেষে, নতুন জীবনের প্রথম ফল ফুটতে এবং একটি নতুন সৃষ্টির মধ্যে বহুগুণিত হতে প্রস্তুত I আদম এবং ঈসা আল মসীহ একে অপরের বিপরীত চিত্র I কোরআন ঈসা আল মসীহ এবং আদমের সম্পর্কে কথা বলে:     

ঈশ্বরের সামনে যীশুর সাদৃশ্য আদমের মতন; তিনি তাকে ধুলির থেকে সৃষ্টি করলেন, তারপর তাকে বললেন: “হও” আর সে হয়ে গেল I

সুরা আল-ইমরান 3:59

ইঞ্জিল আদমের সম্বন্ধে বলে যে

… আদম সেই ভাবী ব্যক্তির প্রতিরূপ

রোমীয় 5:14

এবং

  21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:21-22

এই দুই সপ্তাহকে তুলনা করার দ্বারা আমরা দেখি যে আদম ঈসা আল মসীহর এক বিপরীত প্রতিরূপ ছিল I আল্লাহর কি পৃথিবীর সৃষ্টি করতে ছয় দিন নেওয়ার প্রয়োজন ছিল? তাহলে কেন তিনি সেই পদ্ধতিতে সৃষ্টি করলেন যেভাবে তিনি করেছিলেন? কেন আল্লাহ সপ্তম দিনে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন যখন তিনি ক্লান্ত ছিলেন না? তিনি সমস্ত কিছু সেই পদ্ধতি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে করলেন যাতে ঈসা আল মসীহর চূড়ান্ত কার্যকলাপ সৃজন  সপ্তাহের দৈনন্দিন কার্যাবলীর মধ্যে প্রত্যাশিত হয় I ছয় দিন সম্পর্কে এটি বিশেষভাবে সত্য I আমরা প্রত্যক্ষভাবে বাক্যগুলোর মধ্যে প্রতিরূপকে দেখতে পারি I উদাহারণস্বরূপ, শুধুমাত্র ‘ঈসা আল মসীহ’ মারা গেলেন’ বলার বদলে ইঞ্জিল বলে তিনি ‘শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন’, আদমের একটি প্রত্যক্ষ বিপরীত প্রতিরূপ যে ‘প্রাণবায়ু’ পেয়েছিল I এই ধরনের একই প্রতিরূপ শুরু থেকে ‘পূর্ব জ্ঞানের’ সম্বন্ধে বলে, ঠিক যেমন পিতর ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানের পরে শুরু করলেন I      

তাওরাতের মধ্যে পরবর্তী চিত্রগুলো

এরপরে তাওরাত নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করে এবং বিধি সমূহ স্থাপন  করে যা চিত্র রূপে কাজ করে যা নবী ঈসা আল মসীহর আসন্ন কোরবানীর  দিকে ইঙ্গিত দেয় I আল্লাহর পরিকল্পনার পূর্ব জ্ঞানকে আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করতে এগুলোকে দেওয়া হয়েছিল I এই মাইলস্টোন সমূহের কয়েকটির দিকে আমরা তাকিয়ে ছিলাম I নিচের টেবিলটি তার সংক্ষিপ্তসার করে এই মহান চিহ্নগুলোর সাথে সংযুক্ত করে যাকে ঈসা আল মসীহর পূর্বে কয়েক হাজার বছর ধরে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল I

তাওরাতের চিহ্ন   কিভাবে এটি ঈসা আল মসীহর আসন্ন কোরবানীর পরিকল্পনাকে প্রকাশ করে
আদমের চিহ্ন আল্লাহ যখন আদমের মুখোমুখি হলেন তার অবাধ্যতার পরে তিনি এক একক পুরুষ বংশধরের কথা বললেন যে আসবে (কেবলমাত্র) এক স্ত্রীর (এইরূপে এক কুমারী জন্ম) থেকে I এই বংশধর শয়তানকে চূর্ণ করবে তবে প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বয়ং আঘাত পাবে I 
কাবিল এবং হাবিলের চিহ্ন মৃত্যুর এক কোরবানীর দরকার   ছিল I কাবিল শাকসবজির (যার মধ্যে মন প্রাণ নেই) কোরবানী দিল তবে হাবিল এক প্রাণীর জীবন উৎসর্গ করল I এটি আল্লাহর দ্বারা স্বীকৃত হয়েছিল I এটি ঈসা আল মসীহর কোরবানীর সম্বন্ধে আল্লাহর পরিকল্পনাকে চিত্রিত করেছিল I   
 আব্রাহামের কোরবানীর চিহ্ন       অবস্থানটির সাথে সাথে চিত্রটি আরও  বিশদ বিবরণ অর্জন করে যেখানে নবী আব্রাহাম তার পুত্রের কোরবানী দিলেন যেটি সেই একই অবস্থান ছিল যেখানে কয়েক হাজার বছর পরে ঈসা আল মসীহকে কোরবানী দেওয়া হবে, এবং নবী ইব্রাহিম সেই ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন I পুত্রকে মরতে ছিল তবে শেষ মুহুর্তে মেষশাবকটিকে বিকল্প করা হল যাতে পুত্র বাঁচতে পারে I এটি চিত্রিত করল কিভাবে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ ঈসা আল মসীহ নিজেকে কোরবানী দেবেন যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি I
মশির নিস্তারপর্বের চিহ্ন আল্লাহর পরিকল্পনার আরও বিবরণ সমূহ প্রকাশিত হয় যখন মেষশাবকগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দিনে কোরবানী দেওয়া হয় – নিস্তারপর্বের দিনে I মিশরের ফরৌণ, যিনি একটি মেষশাবক কোরবানী দেন নি মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করলেন I তবে ইস্রায়েলীয়রা যারা মেষশাবকের কোরবানী দিল তারা মৃত্যু থেকে রক্ষা পেল I কয়েকশত বছর পরে ক্যালেন্ডারের মধ্যে ঠিক সেই একই দিনে ঈসা আল মসীহর কোরবানী দেওয়া হ’ল – নিস্তারপর্বের দিনে I   
হারোণের কোরবানীর চিহ্ন হারোণ প্রানীদের নির্দিষ্ট বিধিগত কোরবানী প্রতিষ্ঠিত করলেন I ইস্রায়েলীয়রা যারা পাপ করত তারা তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে কোরবানী দিতে পারত I তবে কোরবানী সংক্রান্ত মৃত্যুর প্রয়োজন ছিল I লোকেদের পক্ষে কেবলমাত্র যাজকরা কোরবানী দিতে পারত I এটি ঈসা আল মসীহকে তাঁর যাজকের ভূমিকায় প্রত্যাশিত করেছিল যিনি কোরবানীর মধ্যে আমাদের জন্য তাঁর জীবন দান করবেন I   

যেহেতু নবী মশির পিবিইউএইচ তাওরাত এত স্পষ্টভাবে নবী ঈসা আল মসীহর আগমন সম্পর্কে নির্দেশ করল তাই এটি এর সম্পর্কে বলে:

বিষ্যতে য়ে সকল উত্‌কৃষ্ট বিষয় আসবে, বিধি-ব্যবস্থা হচ্ছে তারই অস্পষ্ট ছায়া মাত্র৷ বিধি-ব্যবস্থা ঐসব বিষয়ের বাস্তবরূপ নয়৷ তাই যাঁরা ঈশ্বরের উপাসনা করতে আসে, বছর বছর তারা একই রকম বলিদান বারবার করে, কিন্তু বিধি-ব্যবস্থা সেই লোকদের সিদ্ধি দিতে পারে না৷

ইব্রীয় 10:1

এবং ঈসা আল মসীহ তাদেরকে সাবধান করলেন যারা তাঁর মিশনে বিশ্বাস করল না:

 

43 আমি আমার পিতার নামে এসেছি, তবু তোমরা আমায় গ্রহণ করো না; কিন্তু অন্য কেউ যদি তার নিজের নামে আসে তাকে তোমরা গ্রহণ করবে৷
44 তোমরা কিভাবে বিশ্বাস করতে পারো? তোমরা তো একজন অন্য জনের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে চাও৷ আর য়ে প্রশংসা একমাত্র ঈশ্বরের কাছে থেকে আসে আর খোঁজ তোমরা করো না৷
45 মনে করো না য়ে আমিই সেই ব্যক্তি য়ে পিতার কাছে তোমাদের ওপর দোষারোপ করব৷ তোমাদের সাহায্য করবেন বলে য়ে মোশির উপর তোমরা আশা রাখো তিনিই তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন৷
46 তোমরা যদি মোশিকে বিশ্বাস করতে তবে আমাকেও বিশ্বাস করতে, কারণ মোশি তা আমার বিষয়েই লিখেছেন৷
47 তোমরা যখন মোশির লেখায় বিশ্বাস করো না, তখন আমি যা বলি তা কেমন করে বিশ্বাস করবে?’

যোহন 5:43-47

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ তাঁর অনুগামীদের তাদেরকে তাঁর মিশনকে বুঝতে সাহায্য করতে বললেন 

  4 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

নবী স্পষ্টভাবে বললেন যে কেবলমাত্র তাওরাত নয়, বরং ‘নবীদের এবং গীতসংহিতার’ লেখাগুলোও তাঁর সম্বন্ধে ছিল I আমরা এটিকে এখানে দেখব I যেখানে তাওরাত ঘটনাগুলোকে তাঁরা আগমনের চিত্র রূপে ব্যবহার করেছিলেন, এই পরবর্তী নবীরা তাঁর আসন্ন মৃত্যু এবং ফিরিস্তি হিসাবে পুনরুত্থান সম্বন্ধে সরাসরি লিখলেন 

এখানে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে আমাদের কাছে ঈসা আল মসীহ দ্বারা প্রদত্ত অনন্ত জীবনের উপহারকে পাওয়া যাবে I

পুনরুত্থিত প্রথম ফল: জীবন আপনার জন্য

সুরা আল-রা’দ (সুরা 13 – বজ্র) অবিশ্বাসীদের থেকে একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ বা সমালোচনা বর্ণনা করে 

যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ-শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল

থাকবে।সুরা আর-রা’দ 13:5,7

5 যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ-শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল থাকবে। 7 কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।

এটি দুটি খন্ডে আসে I সুরা আর-রা’দ 5 আয়াতের মধ্যে অবিশ্বাসীরা জিজ্ঞাসা করে পুনরুত্থান কি কখনও ঘটবে I তদের দৃষ্টিকোণ থেকে, যেহেতু এটি আগে কখনও ঘটেনি, এটি ভবিষ্যতে ঘটবে না I তারপরে তারা জিজ্ঞাসা করে কেন কোনো আশ্চর্যজনক চিহ্ন দেওয়া হল না বৈধ করতে যে একটি পুনরুত্থান ঘটবে I এক প্রকৃত অর্থে তারা বলে, “এটিকে প্রমাণ কর!”   

সুরা আল-ফুরকান (সুরা 25 – মাপদণ্ড) এই একই চ্যালেঞ্জকে একটু অল্প ভিন্নভাবে দেখায় I

তারা তো সেই জনপদের উপর দিয়েই যাতায়াত করে, যার ওপর বর্ষিত হয়েছে মন্দ বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা করে না।

সুরা আল-ফুরকান 25:40-41

40 তারা তো সেই জনপদের উপর দিয়েই যাতায়াত করে, যার ওপর বর্ষিত হয়েছে মন্দ বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা করে না। 41 তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন আপনাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপে গ্রহণ করে, বলে, এ-ই কি সে যাকে আল্লাহ ‘রসূল’ করে প্রেরণ করেছেন?

আসন্ন পুনরুত্থানের কোনো ভয় নেই, নাতো নবী পিবিইউএইচ থেকে I তারা পুনরুত্থান দেখানোর দাবি করে I 

সুরা আল-ফুকরানও প্রকাশিত করে কিভাবে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের দেখেন I

তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।

সুরা আল-ফুরকান 25:3

তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।

সুরা আল-ফুরকান প্রকাশ করে যে লোকেরা প্রায়শই মিথ্যা ঈশ্বরদের গ্রহণ করে I কিভাবে কেউ জানে সত্যের চেয়ে মিথ্যা ঈশ্বর কি? আয়াত উত্তরটি দেয় I মিথ্যা ঈশ্বরেরা ‘মৃত্যু, নাতো জীবন আর নাতো পুনরুত্থানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে’ I একটি পুনরুত্থানকে নিয়ন্ত্রণ করা = যা মিথ্যাকে সত্যের থেকে আলাদা করে I 

বিশ্বাসীদের থেকে আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিতদের কি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হ’ল প্রমাণ করতে উপেক্ষা করতে পারার থেকে কিসে ভয় করা উচিত, বা আল্লার থেকে অবিশ্বাসীদের প্রতি সতর্কতা দেওয়া উচিত কিনা যাতে মিথ্যা নয় সত্যের আরাধনা করা যায়, পরিমাপের মানদণ্ড একই – পুনরুত্থান I

পুনরুত্থানের জন্য প্রয়োজন চূড়ান্ত কর্ত্তৃত্ব এবং ক্ষমতা I নবী সকল আব্রাহাম পিবিইউএইচ, মশি পিবিইউএইচ, দায়ূদ পিবিইউএইচ এবং মোহম্মদ পিবিইউএইচ – যদিও তারা মহান ছিলেন – মৃত্যুর উপরে পুনরুত্থিত হন নি I মানুষদের মধ্যে সবথেকে জ্ঞানী – সক্রেটিস, আইনস্টাইন, নিউটন, এবং শলোমন – কেউই হননি I গ্রীক, রোমীয়, বাইজেন্টাইন, উমাইয়াদ, অব্বিসাদ, মামলুক এবং অটোমান সাম্রাজ্যের সিংহাসনে রাজত্বকারী কোনো সম্রাটরা মৃত্যুকে পরাস্ত করে পুনরুত্থিত হননি I এটি চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ I এটি এমন চ্যালেঞ্জ যার মুখোমুখি হতে ঈসা আল মসীহ পছন্দ করেছিলেন I        

তিনি রবিবারের ভোরের আগে বিজয় অর্জন করেছিলেন I ভোর বেলায় মৃত্যুর উপরে তাঁর বিজয় আপনার এবং আমার জন্যও একটি বিজয় ছিল I এই জগতের দুষ্টতার দ্বারা আমাদের বন্দী হওয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই I যেমন সুরা আল-ফলক (সুরা 113 – দিবসভঙ্গ) অনুরোধ করে: 

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, ()

সুরা আল-ফালাক 113:1-3

1 বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, 2 তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, 3 অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত  হয় I  

এখানে আমরা পর্যালোচনা করব কিভাবে এই নির্দিষ্ট ভোরকে কয়েকশ বছর আগে তাওরাতের প্রথম ফলের উৎসবের পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, এবং কিভাবে ভোরের প্রভু এই জগতের দুষ্টতা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করে I     

ঈসা আল মসীহ এবং তাওরাতের পর্ব সমূহ

ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাবলীকে আমরা সতর্কভাবে অনুসরণ করেছিলাম I সপ্তাহের শেষে তাঁকে একটি পবিত্র যিহূদি উৎসব নিস্তারপর্বের দিনে ক্রুশারোপিত করা হয়েছিল I তারপরে তিনি সপ্তাহের পবিত্র সপ্তম দিনে বিশ্রাম বারের মাধ্যমে মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন I এই পবিত্র দিনগুলো বহু পূর্বে আল্লাহ এবং তাওরাতে নবী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা গঠিত হয়েছিল I আমরা সেই নির্দেশগুলোকে এখানে পড়ি:  

  ভু মোশিকে বললেন,
2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: প্রভুর মনোনীত উত্সবগুলিকে তোমরা পবিত্র সভা বলে ঘোষণা কর| এইগুলি হল আমার নির্দিষ্ট ছুটির দিন:
3 “ছদিন ধরে কাজ কর, কিন্তু সপ্তম দিন কর্মবিরতির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামপর্ব হবে বিশ্রামের বিশেষ দিন| তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না| এটা তোমাদের সকলের বাড়ীতেই প্রভুর জন্য বিশ্রামের দিন হবে|
4 “এগুলি হল প্রভুর মনোনীত নিস্তারপর্ব| তোমরা এগুলির জন্য মনোনীত সমযে পবিত্র সভার কথা ঘোষণা করবে|
5 প্রভুর নিস্তারপর্বের দিন হল প্রথম মাসের 14 দিনের দিন সূর্য়াস্তের সময়|

লেবীয় 23:1-5

এটি কি অদ্ভূত নয় যে ক্রুশারোপন এবং নবী ঈসা আল মসীহর বিশ্রাম উভয়ই 1500 বছর পূর্বে নির্ধারিত পবিত্র উৎসব দুটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায় যেমন কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে? কেন এটি? উত্তরটি আমাদের সকলের কাছে পৌঁছয়, এমনকি যেভাবে আমরা প্রত্যেক দিন একে অপরকে এখন শুভেচ্ছা জানাই I   

ঈসা আল মসীহর মৃত্যু নিস্তার পর্বের উৎসর্গের দিনে ঘটছিল (দিন 6) এবং তাঁর বিশ্রাম বিশ্রাম বারের বিশ্রামের দিনে ঘটেছিল (দিন 7)

নবী ঈসা আল মসীহ এবং তাওরাতের উৎসবগুলোর মধ্যে এই সমন্বয় চলতে থাকে I উপরের তাওরাত থেকে ফিরিস্তি কেবল প্রথম দুটি উৎসব নিয়ে আলোচনা করেছিল I পরের উৎসবটিকে ‘প্রথম ফল’ বলা হত এবং তাওরাত এটির সম্পর্কে এই নির্দেশ দিয়েছিল I  

  9 প্রভু মোশিকে বললেন,
10 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: আমি তোমাদের যে দেশ দেবো তাতে তোমরা প্রবেশ করবে| তোমরা এর শস্য ছেদন করলে শস্যের প্রথম আঁটি ইস্রায়েলেজকের কাছে আনবে|
11 যাজক প্রভুর সামনে সেই আঁটি দোলাবে যেন তোমাদের জন্য তা গ্রাহ্য হয়| যাজক রবিবার সকালে সেই শস্যের আঁটি দোলাবে|
12 “যে দিন তোমরা শস্যের আঁটি দোলাবে, সেদিন তোমরা একটি এক বছর বযসী পুরুষ মেষ উপহার দেবে| সেই মেষের মধ্যে যেন কোন দোষ না থাকে| ঐ মেষটি প্রভুর কাছে হোমবলির নৈবেদ্য হবে|
13 এছাড়া তোমরা অবশ্যই অলিভ তেল মেশানো 16 কাপ মিহি ময়দা শস্য নৈবেদ্য হিসাবে দেবে| এর সাথে দেবে1 কোযার্ট দ্রাক্ষারস| সেই নৈবেদ্যর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে|
14 ঈশ্বরের কাছে তা নৈবেদ্য হিসাবে না আনা পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই কোন নতুন শস্য অথবা ফল বা নতুন শস্য থেকে তৈরী রুটি খাবে না| তোমরা যেখানেই বাস কর না কেন এই বিধি তোমাদের বংশ পরম্পরায চলবে|

লেবীয় 23:9-11,14

অতএব নিস্তারপর্বের ‘বিশ্রামবারের পরের দিন’ একটি তৃতীয় পবিত্র দিন  ছিল I প্রত্যেক বছর এই দিনে মহা যাজক পবিত্র মন্দিরে প্রবেশ করতেন এবং বসন্ত কালের বিশেষ প্রথম পণ্য শস্যকে সদাপ্রভুর সামনে উত্তোলিত করতেন I এটি শীত কালের মৃত্যুর পরে নতুন জীবনের সুচনাকে তাত্পর্যপূর্ণ করত, সামনের প্রাচুর্যপূর্ণ ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকত যাতে লোকেরা খেয়েপরে তৃপ্ত হতে পারে I   

বিশ্রাম বারের পরে ঈসা আল মসীহর মৃত্যুতে বিশ্রামের সময়ে, এটি ঠিক সেই একই দিন ছিল নীসন 16 তারিখের এক নতুন সপ্তাহের রবিবার I ইঞ্জিল এই একই দিনে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর বর্ণনা করে যে মহাযাজক নতুন জীবনের ‘প্রথম ফসল’ উপহার দিতে মন্দিরে গেলেন I এখানে নথিটি রয়েছে:

মৃত্যু থেকে ঈসা আল মসীহর উত্থান

প্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন৷ তাঁরা য়ে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷
2 তাঁরা দেখলেন সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওযা আছে;
3 কিন্তু ভেতরে ঢুকে সেখানে প্রভু যীশুর দেহ দেখতে পেলেন না৷
4 তাঁরা যখন অবাক বিস্ময়ে সেই কথা ভাবছেন, সেই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরে দুজন ব্যক্তি হঠাত্ এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন৷
5 ভয়ে তাঁরা মুখ নীচু করে নতজানু হয়ে রইলেন৷ ঐ দুজন তাঁদের বললেন, ‘যিনি জীবিত, তোমরা তাঁকে মৃতদের মাঝে খুঁজছ কেন?
6 তিনি এখানে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছন৷ তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তোমাদের কি বলেছিলেন মনে করে দেখ৷
7 তিনি বলেছিলেন, মানবপুত্রকে অবশ্যই পাপী মানুষদের হাতে ধরিয়ে দেওযা হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হবে; আর তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যুর মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
8 তখন যীশুর সব কথা তাঁদের মনে পড়ে গেল৷
9 তারপর তাঁরা সমাধিগুহা থেকে ফিরে এসে সেই এগারো জন প্রেরিতকে ও তাঁর অনুগামীদের এই ঘটনার কথা জানালেন৷
10 এই স্ত্রীলোকেরা হলেন মরিয়ম মগ্দলীনী, য়োহানা আর যাকোবের মা মরিয়ম৷ তাঁদের সঙ্গে আরো কয়েকজন এই সব ঘটনা প্রেরিতদের জানালেন৷
11 কিন্তু প্রেরিতদের কাছে সে সব প্রলাপ বলে মনে হল, তাঁরা সেই স্ত্রীলোকদের কথা বিশ্বাস করলেন না৷
12 কিন্তু পিতর উঠে দৌড়ে সমাধিগুহার কাছে গেলেন৷ তিনি নীচু হয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখলেন, কেবল যীশুর দেহে জড়ানো কাপড়গুলো সেখানে পড়ে আছে; আর যা ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন৷
13 ঐ দিনই দুজন অনুগামী জেরুশালেম থেকে সাত মাইল দূরে ইম্মাযু নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন৷
14 এই য়ে সব ঘটনাগুলি ঘটে গেল, য়েতে য়েতে তাঁরা সে বিষয়েই পরস্পর আলোচনা করছিলেন৷
15 তাঁরা যখন এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, এমন সময় যীশু নিজে এসে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন৷
16 ঘটনাটি এমনভাবেই ঘটল যাতে তাঁরা যীশুকে চিনতে না পারেন৷
17 যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা য়েতে য়েতে পরস্পর কি নিয়ে আলোচনা করছ?’তাঁরা থমকে দাঁড়ালেন, তাঁদের খুবই বিপন্ন দেখাচ্ছিল৷
18 তাঁদের মধ্যে ক্লিয়পা নামে একজন তাঁকে বললেন, ‘জেরুশালেমের অধিবাসীদের মধ্যে আমাদের মনে হয় আপনিই একমাত্র লোক, যিনি জানেন না গত কদিনে সেখানে কি কাণ্ডটাই না ঘটে গেছে৷’
19 যীশু তাঁদের বললেন, ‘কি ঘটেছে, তোমরা কিসের কথা বলছ?’ তাঁরা যীশুকে বললেন, ‘নাসরতীয় যীশুর বিষয়ে বলছি৷ তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর কথা ও কাজের শক্তিতে ঈশ্বর ও সমস্ত মানুষের চোখে নিজেকে এক মহান ভাববাদীরূপে প্রমাণ করেছেন৷
20 কিন্তু আমাদের প্রধান যাজকরা ও নেতারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেবার জন্য ধরিয়ে দিল, তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারল৷
21 আমরা আশা করেছিলাম য়ে তিনিই সেই যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন৷ কেবল তাই নয়, আজ তিন দিন হল এসব ঘটে গেছে৷
22 আবার আমাদের মধ্যে কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করে দিলেন৷ তাঁরা আজ খুব ভোরে সমাধির কাছে গিয়েছিলেন;
23 কিন্তু সেখানে তাঁরা যীশুর দেহ দেখতে পান নি৷ সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁরা আমাদের বললেন য়ে তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন পেয়েছেন, আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন য়ে যীশু জীবিত৷
24 এরপর আমাদের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন সেই সমাধির কাছে গিয়েছিলেন; আর তাঁরা দেখলেন স্ত্রীলোকেরা যা বলেছেন তা সত্য৷ কিন্তু তাঁরা যীশুকে সেখানে দেখতে পান নি৷’
25 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা সত্যি কিছু বোঝ না, তোমাদের মন বড়ই অসাড়, তাই ভাববাদীরা যা কিছু বলে গেছেন তোমরা তা বিশ্বাস করতে পার না৷
26 খ্রীষ্টের মহিমায় প্রবেশ লাভের পূর্বে কি তাঁর এইসব কষ্টভোগ করার একান্ত প্রযোজন ছিল না?’
27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷
28 তাঁরা য়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তার কাছাকাছি এলে পর যীশু আরো দূরে যাবার ভাব দেখালেন৷
29 তখন তাঁরা যীশুকে খুব অনুরোধ করে বললেন, ‘দেখুন, বেলা পড়ে গেছে, এখন সন্ধ্যা হয়ে এল, আপনি আমাদের এখানে থেকে যান৷’ তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকবার জন্য ভেতরে গেলেন৷
30 তিনি যখন তাঁদের সঙ্গে খেতে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন৷ পরে সেই রুটি টুকরো টুকরো করে তাঁদের দিলেন৷
31 সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, আর তিনি সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন৷
32 তখন তাঁরা পরস্পর বলাবলি করলেন, ‘তিনি যখন রাস্তায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও শাস্ত্র থেকে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নি?’
33 তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে উঠে জেরুশালেমে গেলেন৷ সেখানে তাঁরা সেই এগারোজন প্রেরিত ও তাদের সঙ্গে আরো অনেককে দেখতে পেলেন৷
34 প্রেরিত ও অন্যান্য যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁরা বললেন, ‘প্রভু, সত্যি জীবিত হয়ে উঠেছেন৷ তিনি শিমোনকে দেখা দিয়েছেন৷’
35 তখন সেই দুজন অনুগামীও রাস্তায় যা ঘটেছিল তা তাঁদের কাছে ব্যক্ত করলেন৷ আর যীশু যখন রুটি টুকরো টুকরো করছিলেন তখন কিভাবে তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন তাও জানালেন৷
36 তাঁরা যখন এসব কথা তাদের বলছেন, এমন সময় যীশু তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক্!’
37 কিন্তু তাঁরা ভয়ে চমকে উঠলেন৷ তাঁরা মনে করলেন বোধ হয় কোন ভূত দেখছেন৷
38 কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত অস্থির হচ্ছ কেন? আর তোমাদের মনে সন্দেহই বা জাগছে কেন?
39 আমার হাত ও পা দেখ, আমার স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷’
40 এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন৷
41 তাঁদের এতই আনন্দ হয়েছিল ও য়ে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না৷ তাঁরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন৷ যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে কি?
42 তাঁরা তাঁকে এক টুকরো ভাজা মাছ দিলেন৷
43 তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনে গেলেন৷
44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’
45 এরপর তিনি তাঁদের বুদ্ধি খুলে দিলেন, য়েন তাঁরা শাস্ত্রের কথা বুঝতে পারেন৷
46 যীশু তাঁদের বললেন, ‘একথা লেখা আছে খ্রীষ্টকে অবশ্যই কষ্ট ভোগ করতে হবে, আর তিনি মৃত্যুর তিন দিনের দিন মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
47 এবং পাপের জন্য অনুশোচনা ও পাপের ক্ষমার কথা অবশ্যই সমস্ত জাতির কাছে ঘোষণা করা হবে, জেরুশালেম থেকেই একাজ শুরু হবে আর তোমরাই এসবের সাক্ষী৷

লুক 24:1-48

ঈসা আল মসীহর বিজয়

 ‘প্রথম ফসলের’ সেই পবিত্র দিনে নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এক মহান বিজয়কে অর্জন করলেন যা তাঁর শত্রু এবং সঙ্গীরা সম্ভব বলে বিশ্বাস করল না – মৃত্যুর উপরে বিজয়ী জীবনে তিনি ফিরে এলেন I যেমন ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে:

  54 এই ক্ষয়শীল দেহ যখন অক্ষয়তার পোশাক পরবে আর এই পার্থিব দেহ যখন অবিনশ্বরতায় ভূষিত হবে তখন শাস্ত্রে য়ে কথা লেখা আছে তা সত্য হবে:‘মৃত্যু জয়ে কবলিত হল৷’
55 ‘মৃত্যু তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু তোমার হুল কোথায়?’
56 মৃত্যুর হুল পাপ আর পাপের শক্তি আসে বিধি-ব্যবস্থা থেকে৷

1 করিন্থীয়ান 15:54-56

তবে এটি নবীর জন্য কেবল একটি বিজয় ছিল না I এটি আপনার এবং আমার জন্যেও একটি বিজয় ছিল, যাকে প্রথম ফসলের সময়ের সাথে গারান্টি দেওয়া হয়েছিল I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করে:

  20 কিন্তু সত্যিই খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, আর য়েসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ফসল৷
21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷
23 কিন্তু প্রত্যেকে তার পালাক্রমে জীবিত হবে; খ্রীষ্ট, যিনি অগ্রনী, তিনি প্রথমে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হলেন, আর এরপর যারা খ্রীষ্টের লোক তারা তাঁর পুনরুত্থানের সময়ে জীবিত হয়ে উঠবে৷
24 এরপর খ্রীষ্ট যখন প্রত্যেক শাসনকর্তার কর্ত্তৃত্ব ও পরাক্রমকে পরাস্ত করে পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন তখন সমাপ্তি আসবে৷
25 কারণ যতদিন না ঈশ্বর তাঁর সমস্ত শত্রুকে খ্রীষ্টের পদানত করছেন, ততদিন খ্রীষ্টকে রাজত্ব করতে হবে৷
26 শেষ শত্রু হিসেবে মৃত্যুও ধ্বংস হবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:20-26

প্রথম ফসলের উৎসব হিসাবে সেই একই দিনে নবীকে জীবনে উত্থাপিত করা হ’ল যাতে আমরা জানতে পারি যে আমরা মৃত্যু থেকে এই একই পুনরুত্থানে অংশগ্রহণ করতে পারি I ঠিক প্রথম ফসলের উৎসবের ন্যায় নতুন জীবনের একটি উপহার ছিল সাথে পরবর্তী সময়ের বসন্তকালের প্রচুর ফসলের আশা ছিল, ইঞ্জিল আমাদের বলে যে ঈসা আল মসীহর উত্থান পুনরুত্থানের ‘প্রথম ফসল’ ছিল সাথে পরে সকলের জন্য এক বৃহত্তর পুনরুত্থানের আশা ছিল  যারা ‘তাঁর মধ্যে থাকে’ I তাওরাত এবং কোরআন ব্যাখ্যা করে সেই মৃত্যু আদমের কারণে এসেছিল I ইঞ্জিল আমাদের বলে যে এক সমান্তরাল উপায়ে পুনরুত্থানের জীবন ঈসা আল মসীহর মাধ্যমে আসে I তিনি নতুন জীবনের প্রথম ফল যাতে অংশগ্রহণ করতে আমাদের সকলকে আমন্ত্রণ করা হয় I         

ইস্টার: সেই রবিবারের পুনরুত্থানের উৎসব পালন করা 

আজ ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানকে প্রায়শই ইস্টার রূপে উল্লেখ করা হয়, এবং যে রবিবারে তিনি উঠেছিলেন তাকে ইস্টার রবিবার বলে প্রায়শই উল্লেখ করা হয় I তবে এই কথাগুলো কয়েকশত বছর পরে ব্যবহারে  এসেছিল I নির্দিষ্ট কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয় I যেটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তা হ’ল প্রথম ফসলের পরিপূর্ণতা হিসাবে নবীর পুনরুত্থান যার সূচনা কয়েক শত বছর পূর্বে মশির সময়ে শুরু হয়েছিল, এবং এটি আপনার এবং আমার জন্য কি বোঝায় I

কালপঞ্জির মধ্যে নতুন সপ্তাহের রবিবারের জন্য এটিকে দেখা যায়:

ঈসা আল মসীহ প্রথম ফসলের দিনে মৃত্যু থেকে ওঠেন – আপনাকে ও আমাকে মৃত্যু থেকে নতুন জীবনের উপহার দেন I

 ‘শুভ শুক্রবার’ এর উত্তর

এছাড়াও এটি ‘শুভ শুক্রবার’ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেয় I যেমন ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে:

  9 কিন্তু আমরা যীশুকে দেখেছি, য়াঁকে অল্পক্ষণের জন্য স্বর্গদূতদের থেকে নীচে স্থান দেওয়া হয়েছিল৷ সেই যীশুকেই এখন সম্মান আর মহিমার মুকুট পরানো হয়েছে৷ কারণ তিনি মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকল মানুষের জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন৷

ইব্রীয় 2:9

যখন তিনি শুক্রবারে ‘মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করলেন’ তিনি তা আপনার, আমার এবং ‘প্রত্যেকের’ জন্য করলেন I যেহেতু এটি আমাদের জন্য শুভ ছিল তাই এর নাম শুভ শুক্রবার I প্রথম ফসল উৎসবের দিনে যখন তিনি উঠলেন তখন তিনি প্রত্যেককে নতুন জীবন উপহার দিলেন I  

কোরআনের মধ্যে ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান এবং শান্তি

যদিও সংক্ষিপ্ত বিবরণে দেওয়া হয়েছে, কোরআন ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানকে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে চিহ্নিত করেছে I সুরা মারইয়ম এটির এইভাবে ফিরিস্তি দেয়:

  আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।

সুরা মারইয়ম 19:33

ইঞ্জিল এছাড়াও ঈসা আল মসীহর জন্ম, তাঁর মৃত্যু এবং এখন তাঁর পুনরুত্থানের উপরে জোর দেয় I যেহেতু তাঁর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’, সেইহেতু শান্তি যা তাঁর পুনরুত্থানের মধ্যে নবীর উপরে ছিল তা এখন আপনার এবং আমার কাছেও উপলব্ধ আছে I ঈসা আল মসীহ এটিকে দেখিয়েছিলেন যখন তিনি পরে তাঁর পুনরুত্থানের দিনে তাঁর শিষ্যদের শভেচ্ছা জানিয়েছিলেন:

  19 দিনটা ছিল রবিবার, সেদিন সন্ধ্যায় শিষ্যরা একটি ঘরে জড়ো হলেন৷ ইহুদীদের ভয়ে তাঁরা ঘরের দরজায় চাবি দিয়ে দিলেন৷ এমন সময় যীশু এসে তাঁদের মাঝে দাঁড়ালেন, আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক৷’
20 একথা বলার পর তিনি তাঁদেরকে তাঁর হাত ও পাঁজরের পাশটা দেখালেন৷ শিষ্যেরা প্রভুকে দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলেন৷
21 এরপর যীশু আবার তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক! পিতা য়েমন আমাকে পাঠিয়েছেন, আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি৷’
22 এই বলে তিনি তাঁদের ওপর ফুঁ দিলেন, আর বললেন, ‘তোমরা পবিত্র আত্মা গ্রহণ কর৷

যোহন 20:19-22

প্রথাগত শুভেচ্ছা যাকে মুসলমানরা এখন একে অপরের প্রতি প্রসারিত করে (সালাম আলেক্যুম – আপনার উপরে শান্তি হোক) তা তাঁর পুনরুত্থানকে শান্তির সঙ্গে সংযুক্ত করতে ঈসা আল মসীহর দ্বারা বহু পূর্বে ব্যবহৃত হত, যে শান্তিকে এখন আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I আমাদের নবীর এই প্রতিশ্রুতিটিকে যখন আমরা শুনি বা এই শুভেচ্ছাকে বলি প্রত্যেক সময় মনে রাখা উচিত, এবং পবিত্র আত্মার বরদানের সম্বন্ধে চিন্তা করা উচিত, যা এখন আমাদের কাছেও উপলব্ধ রয়েছে I    

ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানের বিবেচনা

ঈসা আল মসীহ তাঁর সঙ্গীদের কাছে মৃত্যুর থেকে জীবিত হয়ে অনেক দিন ধরে নিজেকে দেখালেন I এই ঘটনাগুলোকে ইঞ্জিল থেকে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে I তবে এমনকি তাঁর শিষ্যদের কাছে প্রথম উপস্থিতিতে আমাদের তা লক্ষ্য করা উচিত I

…তাদের কাছে অর্থহীন মনে হত

লুক 24:10

নবীকে নিজেই করতে হয়েছিল:

27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷  

লুক 24:27

এবং আবার তার পরে:

  44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

আমরা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি এটি কি বাস্তবিকই আল্লাহর পরিকল্পনা এবং সরাসরিভাবে আমাদেরকে মৃত্যুর থেকে জীবন দেয়? কেবলমাত্র ঈশ্বর ভবিষ্যত জানতে পারেন, তাই তাওরাত এবং যাবুরে কয়েক শত বছর পূর্বে নবীদের মাধ্যমে চিহ্নগুলো প্রকাশিত হয়েছিল, এবং ঈসা আল মসীহর পূর্ণতা  আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়ার জন্য লেখা হয়েছিল:

  4 যার ফলে আপনি জানবেন, য়ে বিষয়গুলি আপনাকে জানানো হয়েছে সেগুলি সত্য৷

লুক 1:4

যার দ্বারা ঈসা আল মসীহর বলিদান এবং পুনরুত্থানের এই অত্যাবশক প্রশ্নটির উপরে আমরা অবহিত হতে পারি, তা উপলব্ধ চারটি বিভিন্ন নিবন্ধকে সংযুক্ত করে:

1. এটি ঈসা আল মসীহর প্রতি ইঙ্গিতকারী মশির তাওরাতে দেওয়া চিহ্নগুলোকে পর্যালোচনা করে I

2. এটি ‘নবী সমূহ এবং গীতসংহিতার মধ্যে চিহ্নগুলোকে পর্যালোচনা করে I এই নিবন্ধ দুটি আমাদের নিজেদের জন্য বিচার করতে অনুমতি দেয় এটি কি বাস্তবিকই লেখা হয়েছিল যে “মসীহ কষ্টভোগ করবেন  এবং তৃতীয় দিনে মৃত্যু থেকে উঠবেন”

লুক 24:46

3. এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে ঈসা আল মসীহর থেকে পুনরুত্থিত জীবনের এই উপহারটিকে পাওয়া যায় I

4 এটি পবিত্র কোরআন এ সম্পর্কে যা বলেছে তার পর্যালোচনা করার দ্বারা, ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তির সমাধান করে I        


দিন 7 – বিশ্রামবারের বিশ্রাম

নবী ঈসা আল মসীহকে যিহূদির পবিত্র দিনে, এখন শুভ শুক্রবার বলে পরিচিত বিশ্বাসঘাত এবং ক্রুশারোপন করা হয়েছিল I নিস্তারপর্ব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় শুরু হয়েছিল এবং শুক্রবার সূর্যাস্তে শেষ হয়েছিল –  সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনে I সেই দিনের শেষ ঘটনা মৃত নবীর সমাধি কার্য ছিল I ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে কিভাবে নবীর অনুসরণকারী মহিলারা এটিকে প্রত্যক্ষ্য করেছিল I

55 য়ে স্ত্রীলোকেরা যীশুর সঙ্গে সঙ্গে গালীল থেকে এসেছিলেন, তাঁরা য়োষেফের সঙ্গে গেলেন, আর সেই সমাধিটি ও তার মধ্যে কিভাবে যীশুর দেহ শাযিত রাখা হল তা দেখলেন৷
56 এরপর তাঁরা বাড়ি ফিরে গিয়ে বিশেষ এক ধরণের সুগন্ধি তেল ও মশলা তৈরী করলেন৷ বিশ্রামবারে তাঁরা বিধি-ব্যবস্থা অনুসারে কাজকর্ম বন্ধ রাখলেন৷

লুক 23:55-56

মহিলারা নবীর দেহকে প্রস্তত করতে চেয়েছিল তবে সময় কম পড়ে গিয়েছিল এবং বিশ্রাম আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল সূর্যাস্তে শুক্রবার সন্ধ্যায় I এটি সপ্তাহের সপ্তম দিন ছিল এবং যিহূদিদের এই দিনে কাজ করার অনুমতি ছিল না I এই আজ্ঞা তাওরাতের মধ্যে পেছনে সৃষ্টির বিবরণে নিয়ে গেল I আল্লাহ 6  দিনগুলোতে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন I তাওরাত ব্যক্ত করল:  

  ইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল|
2 য়ে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন|

আদিপুস্তক 2:1-2

তাই মহিলারা, যদিও তারা চেয়েছিল তাঁর দেহকে প্রস্তুত করতে, তাওরাতের প্রতি বাধ্য ছিল এবং বিশ্রাম করল I 

তবে মহা যাজকরা বিশ্রাম বারে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকল I দেশাধ্যক্ষ্যের সাথে তাদের সভাগুলোকে ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে I 

 

62 পরের দিন, যখন শুক্রবার শেষ হল, অর্থাত্ প্রস্তুতি পর্বের পরের দিন, প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা গিয়ে পীলাতের সঙ্গে দেখা করল৷
63 তারা বলল, ‘হুজুর, আমাদের মনে পড়ছে সেই প্রতারক তাঁর জীবনকালে বলেছিল, ‘আমি তিনদিন পরে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হব৷’
64 তাই আপনি হুকুম দিন য়েন তিন দিন কবরটা পাহারা দেওযা হয়, তা না হলে ওর শিষ্যরা হয়তো এসে দেহটা চুরি করে নিয়ে গিয়ে বলবে, তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন; তাহলে প্রথমটার চেয়ে শেষ ছলনাটা আরো খারাপ হবে৷’
65 পীলাত তাদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে পাহারা দেবার লোক আছে, তোমরা গিয়ে যত ভালভাবে পারো পাহারা দেবার ব্যবস্থা কর৷’
66 তখন তারা সকলে গিয়ে কবরের মুখের সেই পাথররাশির উপর সীলমোহর করল ও সেখানে একদল প্রহরী মোতায়েন করে সমাধিটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করল৷

মথি 27:62-66

যাতে করে বিশ্রামবার মহা যাজকদেরকে একজন প্রহরীর দ্বারা সমাধিটিতে  দেহের চারপাশে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে দেখল I নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ দেহ মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম নিল যখন মহিলারা পবিত্র সপ্তাহের সেই বিশ্রাম বারের বাধ্যতায় বিশ্রাম নিল I কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে তাদের বিশ্রামের সেই দিন সৃষ্টির সপ্তম দিনকে প্রতিবিম্বিত করে যেখানে তাওরাত বলে আল্লাহ সৃষ্টির থেকে বিশ্রাম নিলেন I     

বিশ্রামবার নবী ঈসা আল মসীহর জন্য মৃত্যুর বিশ্রাম  

তবে এটি শক্তি প্রদর্শনের আগে কেবল শান্ত বিশ্রাম ছিল I সুরা আল-ফজর (সুরা 89 – ভোর) আমাদের মনে করিয়ে দেয় একটি অন্ধকার রাত্রির পরে ভোর কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে I দিনের বিরতি অদ্ভূত জিনিসগুলো প্রকাশ করতে পারে ‘তাদের জন্য যারা বুঝতে পারে’ I  

 শপথ ফজরের,শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার,যা জোড় ও যা বিজোড়এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকেএর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।

আমরা দেখি পরের দিনের বিরতি কি প্রকাশ করে I 

সুরা আল-ফজর 89: 1-5

দিন 6 – ঈসা আল মসীহ এবং শুভ শুক্রবার

সুরা 62 (সমাবেশ, শুক্রবার – আল-জুমু’আহ আমাদের বলে যে মুসলমানের জন্য প্রার্থনার দিন শুক্রবার I আল-জুমূ’আহ প্রথমে একই চ্যালেঞ্জ দেয় – যেটিকে নবী ঈসা পিবিইউএইচ মসীহ হিসাবে তাঁর ভূমিকার মধ্যে স্বীকার করেছিলেন I শুক্রবারকে প্রার্থনার দিন বলে ঘোষনা করার ঠিক পূর্বে, আল-জুমু’আহ ঘোষনা করল:   

বলুন হে ইহুদীগণ, যদি তোমরা দাবী কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু-অন্য কোন মানব নয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।তারা নিজেদের কৃতকর্মের কারণে কখনও মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ জালেমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

সুরা 62 আল- জুমু’আহ: 6-7

জুমু’আহর মধ্যে এই আয়াতগুলোর অর্থ হল যে আমরা আল্লাহর প্রকৃত বন্ধু তাহলে  আমাদের কোনো মৃত্যু ভয় থাকবে না I তবে যেহেতু তাদের (এবং আমরা) মধ্যে আমাদের উত্তম কার্যগুলো সম্বন্ধে সন্দেহ আছে আমরা বড় মূল্য দিয়ে মৃত্যুকে এড়িয়ে চলি I তবে এই শুক্রবারের দিনে – তাঁর শেষ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনে, একজন যিহূদি হিসাবে ঈসা আল মসীহ এই সঠিক পরীক্ষাটির সম্মুখীন হলেন – এবং তিনি এটি প্রার্থনা দিয়ে শুরু করলেন I ইঞ্জিল নবীর সম্পর্কে যেমন ব্যাখ্যা করে:   

  37 এরপর তিনি পিতর ও সিবদিয়ের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকলেন৷ য়েতে য়েতে তাঁর মন উদ্বেগ ও ব্যথায় ভরে গেল, তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন৷
38 তখন তিনি তাদের বললেন, ‘দুঃখে আমার হৃদয় ভেঙ্গে যাচ্ছে৷ তোমরা এখানে থাক আর আমার সঙ্গে জেগে থাকো৷’
39 পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, ‘আমার পিতা, যদি সন্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক; তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক্৷’

মথি 26:37-39

এই শুক্রবারের ঘটনাগুলোকে চালিয়ে যাওয়ার পূর্বে, আমরা এই শুক্রবারের প্রার্থনার অভিমুখে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলোকে পর্যালোচনা করব I আমাদের প্রকাশ্য শত্রু, শয়তান পঞ্চম দিনে নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ বিশ্বাসঘাতকতা করতে যুদার ভেতরে প্রবেশ করল I ষষ্ঠ দিনের পরবর্তী সন্ধ্যায় নবী তার শেষ নৈশ ভোজ তার সঙ্গীদের (তাঁর শিষ্য বলেও ডাকা হয়) সাথে ভাগ করলেন I সেই ভোজনে তিনি উদাহরণ এবং শিক্ষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলেন কিভাবে আমাদের একে অপরকে প্রেম করা উচিত এবং আমাদের জন্য ঈশ্বরের মহান প্রেম সম্পর্কে I ঠিক কিভাবে তিনি এটি করলেন তা ইঞ্জিল থেকে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে I তারপরে তিনি সকল বিশ্বাসীদের জন্য প্রার্থনা করলেন – যাকে আপনি এখানে পড়তে পারেন I     

তাঁর শুক্রবারের প্রার্থনার পরে যা ঘটল সেই সম্বন্ধে ইঞ্জিল বর্ণনা করে:

বাগানের মধ্যে গ্রেফতার

  ই প্রার্থনার পর যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে কিদ্রোণ উপত্যকার ওপারে চলে গেলেন৷ সেখানে একটি বাগান ছিল৷ যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে সেই বাগানের মধ্যে ঢুকলেন৷
2 যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রায়ই সেখানে আসতেন৷ এইজন্য যিহূদা সেই স্থানটি জানত৷ এই যিহূদা যীশুর সঙ্গে প্রতারণা করেছিল৷
3 সে ফরীশীদের ও প্রধান যাজকদের কাছ থেকে একদল সৈনিক ও কিছু রক্ষী নিয়ে সেখানে এল৷ তাদের হাতে ছিল মশাল, লন্ঠন ও নানা অস্ত্র৷
4 তখন যীশু, তাঁর প্রতি কি ঘটতে চলেছে সে সবই তাঁর জানা থাকার ফলে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘তোমরা কাকে খুঁজছ?’
5 তারা তাঁকে বলল, ‘নাসরতীয় যীশুকে৷’যীশু বললেন, ‘আমিই তিনি৷’ য়ে যিহূদা যীশুর বিরুদ্ধে গিয়েছিল সেও তাদেরই সঙ্গে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল৷
6 তিনি যখন তাদের বললেন, ‘আমিই তিনি৷’ তখন তারা পিছু হটে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল৷
7 তাই আবার একবার তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কাকে খুঁজছ?’তারা বলল, ‘নাসরতীয় যীশুকে৷’
8 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমি তো তোমাদের আগেই বলেছি, ‘আমিই তিনি৷’ সুতরাং যদি তোমরা আমাকেই খুঁজছ, তাহলে এদের য়েতে দাও৷’
9 এটা ঘটল যাতে তাঁর আগের বক্তব্য যথার্থ প্রতিপন্ন হয়, ‘তুমি আমায় যাদের দিয়েছ তাদের কাউকে আমি হারাই নি৷’
10 তখন শিমোন পিতরের কাছে একটা তরোয়াল থাকায় তিনি সেটা টেনে বের করে মহাযাজকের চাকরকে আঘাত করে তার ডান কান কেটে ফেললেন৷ সেই চাকরের নাম মল্ক৷
11 তখন যীশু পিতরকে বললেন, ‘তোমার তরোযাল খাপে ভরো, য়ে পানপাত্র পিতা আমায় দিয়েছেন, আমাকে তা পান করতেই হবে৷’
12 এরপর সৈন্যরা ও তাদের সেনাপতি এবং ইহুদী রক্ষীরা যীশুকে গ্রেপ্তার করে বেঁধে প্রথমে হাননের কাছে নিয়ে গেল৷
13 সেই বছর যিনি মহাযাজক ছিলেন৷ সেই কায়াফার শ্বশুর এই হানন৷

যোহন 18:1-13

যিরূশালেমের ঠিক বাইরে নবী বাগানের মধ্যে প্রার্থনা করতে গেলেন I সেখানে যুদাস তাকে গ্রেফতার করার জন্য সৈন্যদের নিয়ে এল I আমাদের যদি  গ্রেফতারের সম্মুখীন হতে হয় তবে আমরা হয়ত সংঘর্ষ করতে, দৌড়াতে বা লুকোতে চেষ্টা করি I কিন্তু নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সংঘর্ষ বা দৌড় কিছুই করেন নি I তিনি খুব স্পষ্টভাবে স্বীকার করলেন যে র্তিনিই বাস্তবিক  সেই নবী যাকে তারা খুঁজছে I তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি (“আমিই সে”) সৈন্যদের হতচকিত করল এবং তাঁর সঙ্গীরা পলায়ন করল I নবী গ্রেফতার হতে সমর্পণ করলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হাননের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হ’ল I 

প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ

নবীকে সেখানে কিভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে:

  19 এরপর মহাযাজক যীশুকে তাঁর শিষ্যদের বিষয়ে ও তাঁর শিক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করতে লাগলেন৷
20 যীশু এর উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘আমি সর্বদাই সকলের কাছে প্রকাশ্যে কথা বলেছি৷ আমি মন্দিরের মধ্যে ও সমাজ-গৃহেতে য়েখানে ইহুদীরা একসঙ্গে সমবেত হয় সেখানে সব সময় শিক্ষা দিয়েছি৷ আর আমি কখনও কোন কিছু গোপনে বলিনি৷
21 তোমরা আমায় কেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করছ? যাঁরা আমার কথা শুনেছে তাদেরই জিজ্ঞেস কর আমি তাদের কি বলেছি৷ আমি কি বলেছি তারা নিশ্চয়ই জানবে!’
22 তিনি যখন একথা বলছেন, তখন সেই মন্দির রক্ষীবাহিনীর একজন য়ে সেখানে দাঁড়িয়েছিল সে যীশুকে এক চড় মেরে বলল, ‘তোর কি সাহস, তুই মহাযাজককে এরকম জবাব দিলি!’
23 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘আমি যদি অন্যায় কিছু বলে থাকি, তবে সকলকে বল কি অন্যায় বলেছি; কিন্তু আমি যদি সত্যি কথা বলে থাকি তাহলে তোমরা আমায় মারছ কেন?’
24 এরপর হানন, যীশুকে মহাযাজক কায়াফার কাছে পাঠিয়ে দিলেন৷ যীশু তখনও বাঁধা অবস্থায় ছিলেন৷

যোহন 18:19-24

নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ পূর্ব মহা যাজকের থেকে সেই বছরের মহা যাজকের কাছে এক দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হ’ল I   

দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদ

সেখানে তাঁকে সমস্ত নেতাদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে I ইঞ্জিল এই আরও  জিজ্ঞাসাবাদকে লিপিবদ্ধ করে:

  53 তখন তারা যীশুকে মহাযাজকের কাছে নিয়ে এল৷ প্রধান যাজকরা, বয়স্ক ইহুদী নেতারা এবং ব্যবস্থার শিক্ষকরা সকলে এক জায়গায় জড়ো হলেন৷
54 আর পিতর দূরে দূরে থেকে যীশুর পেছনে য়েতে য়েতে মহাযাজকের উঠোন পর্যন্ত গেলেন এবং রক্ষীদের সঙ্গে বসে আগুন পোহাতে লাগলেন৷
55 তখন প্রধান যাজকরা এবং মহাসভার সকলেই এমন একজন সাক্ষী খুঁজছিলেন যার কথার জোরে যীশুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়; কিন্তু তেমন সাক্ষ্য তারা পেলেন না৷
56 কারণ অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিল বটে কিন্তু তাদের সাক্ষ্য মিলল না৷
57 তখন কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে বলল,
58 ‘আমরা তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘মানুষের হাতে তৈরী এই মন্দিরটি ভেঙ্গে ফেলব এবং তিন দিনের মধ্যে মানুষের হাত দিয়ে তৈরী নয় এমনই একটি মন্দির আমি গড়ে তুলব৷”
59 কিন্তু এতেও তাদের সাক্ষ্যের প্রমাণ মিলল না৷
60 তখন মহাযাজক সকলের সামনে দাঁড়িয়ে যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি কিছুই উত্তর দেবে না? এই সমস্ত লোকরা তোমার বিরুদ্ধে কি সাক্ষ্য দিচ্ছে?’
61 কিন্তু তিনি চুপচাপ থাকলেন, কোন উত্তর দিলেন না৷ আবার মহাযাজক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সেই পরম খ্রীষ্ট পরম ধন্য, ঈশ্বরের পুত্র?’
62 যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিই ঈশ্বরের পুত্র৷ তোমরা একদিন মানবপুত্রকে ঈশ্বরের ডানপাশে বসে থাকতে আকাশের মেঘে আবৃত হয়ে আসতে দেখবে৷’
63 তখন মহাযাজক তাঁর পোশাক ছিঁড়ে বললেন, ‘আমাদের সাক্ষীর আর কি প্রযোজন?
64 তোমরা তো ঈশ্বর নিন্দা শুনলে৷ তোমাদের কি মনে হয়?’ তারা সকলে তাঁকে দোষী স্থির করে বলল, ‘এঁর মৃত্যুদণ্ড হওযা উচিত৷’
65 তখন কেউ কেউ তাঁর মুখে থুথু ছিটিয়ে দিল, তাঁর মুখ ঢেকে ঘুষি মারল এবং বলতে লাগল, ‘ভাববাণী করে বল তো, কে তোমাকে ঘুষি মারল?’ পরে রক্ষীরা তাঁকে মারতে মারতে নিয়ে গেল৷

মার্ক 14:53-65

যিহূদি নেতারা নবী ঈসা আল মসীহকে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করল I তবে যেহেতু যিরূশালেম রোমের দ্বারা শাসিত হত, একটি মৃত্যুদন্ড কেবলমাত্র রোমীয় অধ্যক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে পারত I অতএব তারা নবীকে রোমীয় অধ্যক্ষ পন্তীয় পীলাতের কাছে নিয়ে গেল I ইঞ্জিল আবারও লিপিবদ্ধ করে সেই একই সময়ে যুদাস ইস্করিতীয়র সাথে কি ঘটল, একজন যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল I   

বিশ্বাসঘাতক যুদাসের প্রতি কি ঘটল?

  র হলে প্রধান যাজকরা ও সমাজপতিরা সবাইমিলেযীশুকে হত্যা করার চক্রান্ত করল৷
2 তারা তাঁকে বেঁধে রোমীয় রাজ্যপাল পীলাতের কাছে হাজির করল৷
3 যীশুকে শত্রুদের হাতে য়ে ধরিয়ে দিয়েছিল, সেই যিহূদা যখন দেখল যীশুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তখন তার মনে খুব ক্ষোভ হল৷ সে তখন যাজকদের ও সমাজপতিদের কাছে গিয়ে সেই ত্রিশটা রূপোর টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
4 ‘একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে তাঁর প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, আমি মহাপাপ করেছি৷ইহুদী নেতারা বলল, ‘তাতে আমাদের কি? তুমি বোঝগে যাও৷’
5 তখন যিহূদা সেই টাকা মন্দিরের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিল, পরে বাইরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মরল৷
6 প্রধান যাজকরা সেইরূপোর টাকাগুলি কুড়িয়ে নিয়ে বললেন, ‘মন্দিরের তহবিলে এই টাকা জমা করা আমাদের বিধি-ব্যবস্থা বিরুদ্ধ কাজ, কারণ এটা খুনের টাকা৷’
7 তাই তারা পরামর্শ করে ঐ টাকায় কুমোরদের একটা জমি কিনলেন৷ য়েন জেরুশালেমে য়েসব বিদেশী মারা যাবে, তাদের সেখানে কবর দেওযা য়েতে পারে৷
8 সেই জন্য ঐ কবরখানাকে আজও লোকে ‘রক্তক্ষেত্র’ বলে৷

মথি 27:1-8

রোমীয় অধ্যক্ষের দ্বারা ঈসা আল মসীহকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হ’ল

  11 এদিকে যীশুকে রাজ্যপালের সামনে হাজির করা হল; রাজ্যপাল যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি ইহুদীদের রাজা?’যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আপনি য়েমন বললেন৷’
12 কিন্তু প্রধান যাজকরা ও ইহুদী নেতারা সমানে যখন তাঁর বিরুদ্ধে দোষ দিচ্ছিল, তখন তিনি তার একটারও জবাব দিলেন না৷
13 তখন পীলাত তাঁকে বললেন, ‘ওরা, তোমার বিরুদ্ধে কত দোষ দিচ্ছে, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না?’
14 কিন্তু যীশু তাঁকে কোন জবাব দিলেন না, এমন কি তাঁর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগেরও উত্তর দিলেন না, এতে পীলাত আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷
15 রাজ্যপালের রীতি অনুসারে প্রত্যেক নিস্তারপর্বের সময় জনসাধারণের ইচ্ছানুযাযী য়ে কোন কয়েদীকে তিনি মুক্ত করে দিতেন৷
16 সেই সময় বারাব্বানামে এক কুখ্যাত আসামী কারাগারে ছিল৷
17 তাই লোকরা সেখানে একসঙ্গে জড়ো হলে পীলাত তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের জন্য আমি কাকে ছেড়ে দেব? তোমরা কি চাও, বারাব্বাকে বা যীশু, যাকে খ্রীষ্ট বলে তাকে?’
18 কারণ পীলাত জানতেন, তারা যীশুর ওপর ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিল৷
19 পীলাত যখন বিচার আসনে বসে আছেন, সেই সময় তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলে পাঠালেন, ‘ঐ নির্দোষ লোকটির প্রতি তুমি কিছু করো না, কারণ রাত্রে স্বপ্নে আমি তাঁর বিষয়ে যা দেখেছি তাতে আজ বড়ই উদ্বেগে কাটছে৷’
20 কিন্তু প্রধান যাজকরা ও ইহুদী নেতারা জনতাকে প্ররোচনা দিতে লাগল, য়েন তারা বারাব্বাকে ছেড়ে দিতে ও যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওযার কথা বলে৷
21 তখন রাজ্যপাল তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই দুজনের মধ্যে তোমরা কাকে চাও য়ে আমি তোমাদের জন্য ছেড়ে দিই?’ তারা বলল, ‘বারাব্বাকে!’
22 পীলাত তখন তাদের বললেন, ‘তাহলে যীশু যাকে মশীহ বলে তাকে নিয়ে কি করব?’তারা সবাইবলল, ‘ওকে ক্রুশে দেওযা হোক৷’
23 পীলাত বললেন, ‘কেন? ও কি অন্যায় করেছে?’ কিন্তু তারা তখন আরো জোরে চিত্‌কার করতে লাগল, ‘ওকে ক্রুশে দাও, ক্রুশে দাও!’
24 পীলাত যখন দেখলেন য়ে তাঁর চেষ্টার কোন ফল হল না, বরং আরো গোলমাল হতে লাগল, তখন তিনি জল নিয়ে লোকদের সামনে হাত ধুয়ে বললেন, ‘এই লোকের রক্তপাতের জন্য আমি দাযী নই৷’ এটা তোমাদেরইদায়৷
25 এই কথার জবাবে লোকেরা সমস্বরে বলল, ‘আমরা ও আমাদের সন্তানরা ওব রক্তের জন্য দাযী থাকব৷’
26 তখন পীলাত তাদের জন্য বারাব্বাকে ছেড়ে দিলেন; কিন্তু যীশুকে চাবুক মেরে ক্রুশে দেবার জন্য সঁপে দিলেন৷

মথি 27:11-26

নবী ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন, মৃত্যু এবং সমাধি  

ইঞ্জিল তখন অনেক বিস্তৃত ভাবে লিপিবদ্ধ করে কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হ’ল I এখানে বিবরণটি রয়েছে:

  27 এরপর রাজ্যপালের সেনারা যীশুকে রাজভবনের সভাগৃহে নিয়ে গিয়ে সেখানে সমস্ত সেনাদলকে তাঁর চারধারে জড়ো করল৷
28 তারা যীশুর পোশাক খুলে নিল, আর তাঁকে একটা লাল রঙের পোশাক পরাল৷
29 পরে কাঁটা লতা দিয়ে একটা মুকুট তৈরী করে তা তাঁর মাথায় চেপে বসিয়ে দিল, আর তাঁর ডান হাতে একটা লাঠি দিল৷ পরে তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল, ‘ইহুদীদের রাজা, দীর্ঘজীবি হোন্!’
30 তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁর লাঠিটি নিয়ে তাঁর মাথায় মারতে লাগল৷
31 এইভাবে তাঁকে বিদ্রূপ করবার পর তারা সেইপোশাকটি তাঁর গা থেকে খুলে নিয়ে তাঁর নিজের পোশাক আবার পরিয়ে দিল, তারপর তাঁকে ক্রুশে দেবার জন্য নিয়ে চলল৷
32 সৈন্যরা যখন যীশুকে নিয়ে নগরের বাইরে যাচ্ছে, তখন পথে শিমোন নামে কুরীশীয় অঞ্চলের একজন লোককে দেখতে পেয়ে যীশুর ক্রুশ বইবার জন্য তাকে তারা জোর করে বাধ্য করল৷
33 পরে তারা ‘গলগথা’ নামে এক জায়গায় এসে পৌঁছল৷ ‘গলগথা’ শব্দটির অর্থ ‘মাথার খুলিস্থান৷’
34 সেখানে পৌঁছে তারা যীশুকে মাদক দ্রব্য মেশানো তিক্ত দ্রাক্ষারস পান করতে দিল; কিন্তু তিনি তা সামান্য আস্বাদ করে আর খেতে চাইলেন না৷
35 তারা তাঁকে ক্রুশে দিয়ে তাঁর জামা কাপড় খুলে নিয়ে ঘুঁটি চেলে সেগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল৷
36 আর সেখানে বসে যীশুকে পাহারা দিতে লাগল৷
37 তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের এই লিপি ফলকটি তাঁর মাথার উপরে ক্রুশে লাগিয়ে দিল, ‘এ যীশু, ইহুদীদের রাজা৷’
38 তারা দুজন দস্যুকেও যীশুর সঙ্গে ক্রুশে দিল, একজনকে তাঁর ডানদিকে ও অন্যজনকে তাঁর বাঁ দিকে৷
39 সেই সময় ঐ রাস্তা দিয়ে য়ে সব লোক যাতাযাত করছিল, তারা তাদের মাথা নেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল,
40 ‘তুমি না মন্দির ভেঙ্গে আবার তা তিন দিনের মধ্যে তৈরী করতে পার! তাহলে এখন নিজেকে রক্ষা কর৷ তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে ক্রুশ থেকে নেমে এস৷’
41 সেইভাবেই প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও ইহুদী নেতারা বিদ্রূপ করে তাঁকে বলতে লাগলেন,
42 ‘এ লোক তো অপরকে রক্ষা করত, কিন্তু এ নিজেকে বাঁচাতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা, তাহলে এখন ও ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরা ওর ওপর বিশ্বাস করব৷
43 ঐ লোকটি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করে৷ যদি তিনি চান, তবে ওকে এখনই রক্ষা করুন, কারণ ও তো বলেছে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র৷'”
44 তাঁর সঙ্গে য়ে দুজন দস্যুকে ক্রুশে দেওযা হয়েছিল, তারাও সেইভাবেই তাঁকে বিদ্রূপ করতে লাগল৷
45 সেই দিন দুপুর বারোটা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ঢেকে রইল৷
46 প্রায় তিনটের সময় যীশু খুব জোরে বলে উঠলেন, ‘এলি, এলি লামা শবক্তানী?’ যার অর্থ, ‘ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় ত্যাগ করেছ?’
47 যাঁরা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন একথা শুনে বলতে লাগল, ‘ও এলীয়কে ডাকছে৷’
48 তাদের মধ্যে একজন তখনই দৌড়ে গিয়ে একটা স্পঞ্জ কতকটা সিরকায় ডুবিয়ে দিয়ে একটা নলের মাথায় সেটা লাগিয়ে তা যীশুর মুখে তুলে ধরে তাকে খেতে দিল৷
49 কিন্তু অন্যরা বলতে লাগল, ‘ছেড়ে দাও, দেখি এলীয় ওকে রক্ষা করতে আসেন কি না?’
50 পরে যীশু আর একবার খুব জোরে চিত্‌কার করে প্রাণ ত্যাগ করলেন৷
51 সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের মধ্যেকার সেই ভারী পর্দাটা ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত চিরে দুভাগ হয়ে গেল, পৃথিবী কেঁপে উঠল, বড় বড় পাথরের চাঁই ফেটে গেল,
52 সমাধিগুহাগুলি খুলে গেল, আর মারা গিয়েছিলেন এমন অনেক ঈশ্বরের লোকের দেহ পুনরুত্থিত হল৷
53 যীশুর পুনরুত্থানের পর এরা কবর ছেড়ে পবিত্র নগর জেরুশালেমে গিয়ে বহুলোককে দেখা দিয়েছিলেন৷
54 ক্রুশের পাশে শতপতি ও তার সঙ্গে যাঁরা যীশুকে পাহারা দিচ্ছিল, তারা ভূমিকম্প ও অন্য সব ঘটনা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে বলল, ‘সত্যইইনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন৷’
55 সেখানে বহু স্ত্রীলোক ছিলেন, যাঁরা দূরে দাঁড়িয়ে সব কিছু দেখছিলেন৷ এই মহিলারা গালীল থেকে যীশুর দেখাশোনার জন্য তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন৷
56 তাঁদের মধ্যে ছিলেন মগ্দলীনী মরিয়ম, যাকোব ও য়োষেফের মা মরিয়ম আর যাকোব ও য়োহনেরমা৷
57 সন্ধ্যা নেমে আসছে এমন সময় আরিমাথিযার য়োষেফ নামে এক ধনী ব্যক্তি জেরুশালেমে এলেন; তিনিও যীশুর একজন অনুগামী ছিলেন৷
58 পীলাতের কাছে গিয়ে য়োষেফ যীশুর দেহটা চাইলেন৷ তখন পীলাত তাকে তা দিতে হুকুম করলেন৷
59 য়োষেফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার একটা কাপড়ে জড়ালেন৷
60 তারপর সেই দেহটা নিয়ে তিনি নিজের জন্য পাহাড়ের গায়ে য়ে নতুন সমাধিগুহা কেটে রেখেছিলেন, তাতে রাখলেন৷ পরে সেই সমাধির মুখ বন্ধ করতে বড় একটা পাথর গড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন৷
61 মরিয়ম মগ্দলীনী ও সেই অন্য মরিয়ম কবরের সামনে বসে রইলেন৷
62 পরের দিন, যখন শুক্রবার শেষ হল, অর্থাত্ প্রস্তুতি পর্বের পরের দিন, প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা গিয়ে পীলাতের সঙ্গে দেখা করল৷
63 তারা বলল, ‘হুজুর, আমাদের মনে পড়ছে সেই প্রতারক তাঁর জীবনকালে বলেছিল, ‘আমি তিনদিন পরে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হব৷’
64 তাই আপনি হুকুম দিন য়েন তিন দিন কবরটা পাহারা দেওযা হয়, তা না হলে ওর শিষ্যরা হয়তো এসে দেহটা চুরি করে নিয়ে গিয়ে বলবে, তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন; তাহলে প্রথমটার চেয়ে শেষ ছলনাটা আরো খারাপ হবে৷’
65 পীলাত তাদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে পাহারা দেবার লোক আছে, তোমরা গিয়ে যত ভালভাবে পারো পাহারা দেবার ব্যবস্থা কর৷’

মথি 27:27-56

নবীর মৃত্যুর মুহুর্তে সুরা আজ-যিলযালের (সুরা 99 – ভূমিকম্প) মতন একই বর্ণনা সহ ইঞ্জিল পৃথিবীর কাঁপুনি, পাথরের বিভাজন এবং সমাধির উন্মোচনের বর্ণনা করে I  

যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।

সুরা আজ-যিলযাল 99:1-6

1 যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, 2 যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। 3 এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? 4 সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, 5 কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। 6 সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়

সুরা যিলযাল বিচারের দিনের প্রত্যাশা করে I ঈসা আল মসীহর মৃত্যুর বিস্তৃত বিবরণ যিলযালের অনুরূপ একটি চিহ্ন স্বরূপ যে তার মৃত্যু সেই আসন্ন দিনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্য ছিল I

তাঁর ‘পার্শ্ব দিকে’ ছিদ্র করা হ’ল

যোহনের সুসমাচার ক্রুশারোপনের মধ্যে একটি আকর্ষনীয় বিবরণ লিপিবদ্ধ   করে I এটি ব্যক্ত করে:

  31 ঐ দিনটা ছিল আযোজনের দিন৷ য়েহেতু বিশ্রামবার একটি বিশেষ দিন, ইহুদীরা চাইছিল না য়ে দেহগুলি ক্রুশের ওপরে থাকে৷ তাই ইহুদীরা পীলাতের কাছে গিয়ে তাঁকে আদেশ দিতে অনুরোধ করল, য়েন ক্রুশবিদ্ধ লোকদের পা ভেঙ্গে দেওযা হয় যাতে তাড়াতাড়ি তাদের মৃত্যু হয় এবং মৃতদেহগুলি ঐ দিনই ক্রুশ থেকে নামিয়ে ফেলা যায়৷
32 সুতরাং সেনারা এসে প্রথম লোকটির পা ভাঙ্গল, আর তার সঙ্গে যাকে ক্রুশে দেওযা হয়েছিল তারও পা ভাঙ্গল৷
33 কিন্তু তারা যীশুর কাছে এসে দেখল য়ে তিনি মারা গেছেন, তখন তাঁর পা ভাঙ্গল না৷
34 কিন্তু একজন সৈনিক যীশুর পাঁজরের নীচে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করল, আর সঙ্গে সঙ্গে সেখান দিয়ে রক্ত ও জল বেরিয়ে এল৷
35 এই ঘটনা য়ে দেখল সে এবিষয়ে সাক্ষ্য দিল তা আপনারা সকলেই বিশ্বাস করতে পারেন, আর তার সাক্ষ্য সত্য৷ আর সে জানে য়ে সে যা বলছে তা সত্য৷
36 এই সকল ঘটনা ঘটল যাতে শাস্ত্রের এই কথা পূর্ণ হয়: ‘তাঁর একটি অস্থিও ভাঙ্গবে না৷’
37 আবার শাস্ত্রে আর এক জায়গায় আছে, ‘তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে তাঁরই দিকে দৃষ্টিপাত করবে৷’

যোহন 1:31-37

যোহন দেখলেন রোমীয় সৈন্যরা একটি বর্শা দিয়ে ঈসা আল মসীহর পার্শ্ব দিক ছিদ্র করল I রক্ত বেরিয়ে এল এবং জল আলাদা হয়ে গেল, সংকেত দেয় যে নবী হৃদয় যন্ত্রের ব্যর্থতায় মারা গিয়েছিলেন I 

সেই দিনের একটি চূড়ান্ত ঘটনা সম্পর্কে ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে – সমাধি কার্য I  

  57 সন্ধ্যা নেমে আসছে এমন সময় আরিমাথিযার য়োষেফ নামে এক ধনী ব্যক্তি জেরুশালেমে এলেন; তিনিও যীশুর একজন অনুগামী ছিলেন৷
58 পীলাতের কাছে গিয়ে য়োষেফ যীশুর দেহটা চাইলেন৷ তখন পীলাত তাকে তা দিতে হুকুম করলেন৷
59 য়োষেফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার একটা কাপড়ে জড়ালেন৷
60 তারপর সেই দেহটা নিয়ে তিনি নিজের জন্য পাহাড়ের গায়ে য়ে নতুন সমাধিগুহা কেটে রেখেছিলেন, তাতে রাখলেন৷ পরে সেই সমাধির মুখ বন্ধ করতে বড় একটা পাথর গড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন৷
61 মরিয়ম মগ্দলীনী ও সেই অন্য মরিয়ম কবরের সামনে বসে রইলেন৷

মথি 27:57-61

দিন 6 – শুভ শুক্রবার

যিহূদি ক্যালেন্ডারের প্রত্যেকটি দিন সূর্যাস্ত দিয়ে শুরু হয় I যাতে করে সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনটি তাঁর শিষ্যদের সাথে নবীর শেষ নৈশ ভোজ দিয়ে আরম্ভ হল I দিনের শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হ’ল, অনেক বার বিচারে রাখা হ’ল, ক্রুশারোপন করা হ’ল, একটি বর্শা দিয়ে ছিদ্র করা হ’ল এবং সমাধিস্থ করা  হ’ল I এই দিনটিকে প্রায়শই ‘শুভ শুক্রবার’ বলে উল্লেখ করা হয় I সেটি প্রশ্নকে উত্থাপন করে: কিভাবে বিশ্বাসঘাতকতা, অত্যাচার এবং একজন নবীর মৃত্যুকে ‘শুভ’ বলে কখনও উল্লেখ করা যেতে পারে? কেন শুভ শুক্রবার এবং ‘খারাপ শুক্রবার’ নয়?          

এটি একটি বড় প্রশ্ন যেটিকে পরবর্তী দিনগুলোতে ইঞ্জিলের বিবরণ চলতে থাকার দ্বারা আমরা উত্তর দিই I তবে একটি সূত্রকে দেখতে পাওয়া যায় আমরা যদি কালপঞ্জির মধ্যে লক্ষ্য করি এই শুক্রবার নীসন 14 তারিখের পবিত্র দিন ছিল, সেই একই নিস্তারপর্বের দিন যখন যিহূদিরা মিশরে 1500 বছর পূর্বে মৃত্যু থেকে  তাদের উদ্ধারের জন্য একটি মেষশাবক বলি দিয়েছিল I   

Day 6 - Friday - of the last week in Isa al Masih's life compared to the regulations of Taurat

দিন 6 – তাওরাতের নিয়মাবলীর তুলনায় ঈসা আল মসীহর জীবনের শেষ সপ্তাহের – শুক্রবার 

মানুষদের বেশিরভাগ বিবরণ সমূহ তাদের মৃত্যুতে শেষ হয়, তবে ইঞ্জিল চলতে থাকে যাতে আমরা বুঝতে পারি কেন এই দিনটিকে সর্বদা শুভ শুক্রবার বলে ভাবা যেতে পারে I পরের দিনটি ছিল বিশ্রাম বার – সপ্তম দিন I

তবে প্রথমে আমাদের অধ্যয়ন করা আয়াত থেকে শুরু করে সুরা আল-জুমু’আহর দিকে ফেরা যাক I

 বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।

সুরা 62 আল-জুমু’আহ: 8-9

বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে। 9 মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।

ঈসা আল মসীহ সুরা আল-জুম্মু’আহর আয়াত 6 এবং 7 এর চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে, মৃত্যুর থেকে পলায়ন করেন নি, তবে প্রার্থনার সঙ্গে শুরু করে এই মহান পরীক্ষার মুখোমুখি হলেন, প্রমাণ করলেন তিনি একজন ‘ঈশ্বরের বন্ধু’ I এটি কি যথোচিত  নয়, তখন, তাঁর সাহসিকতার স্মরণে, মুসলমানদের পরে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল শুক্রবারকে মসজিদের মধ্যে প্রার্থনার দিন হিসাবে আলাদা করতে? এটি যেন আল্লাহ চান না আমরা নবীর পরিষেবাকে ভুলে যাই I        

দিন 5 – মসীহকে আঘাত করতে শয়তান নেমে এল

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাঁর শেষ সপ্তাহের চতুর্থ দিনে তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I ইঞ্জিল তখন বিবরণ দিল কিভাবে ধর্মীয় নেতারা তাঁকে গ্রেফতার করতে চাইল I শয়তান (বা ইবলিস) এটিকে একটি উপায় হিসাবে নবীকে আঘাত করতে ব্যবহার করল – তার প্রকাশ্য   শত্রুকে I কিভাবে হল এটিকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I   

  ই সময় খামিরবিহীন রুটির পর্ব এগিয়ে এলে, এই পর্বকে নিস্তারপর্ব বলা হত৷
2 এদিকে প্রধান যাজকরা ও ব্যবস্থার শিক্ষকরা যীশুকে হত্যা করার উপায় খুঁজতে লাগল, কারণ তারা লোকদের ভয় করত৷
3 এই সময় যিহূদা, য়ে ছিল বারো জন প্রেরিতের মধ্যে একজন, যাকে যিহূদা ঈষ্ক রিযোতীয় বলা হত তার অন্তরে শয়তান ঢুকল৷
4 যিহূদা কেমন করে যীশুকে ধরিয়ে দেবে সে বিষয়ে পরামর্শ করতে প্রধান যাজকদের ও মন্দিরের রক্ষীবাহিনীর পদস্থ কর্মচারীদের কাছে গেল৷
5 তারা যিহূদার কথা শুনে খুবই খুশী হয়ে তাকে এর জন্য টাকা দিতে রাজী হল৷
6 যিহূদাও সম্মত হয়ে যখন লোকের ভীড় থাকবে না সেই সময় যীশুকে ধরিয়ে দেবার সুয়োগ খুঁজতে লাগল৷

লুক 22:1-6

আমরা দেখি যে শতান/শয়তান নবীকে বিশ্বাসঘাত করার জন্য এই দ্বন্দের সুযোগটিকে  যুদাসের ভেতরে ‘প্রবেশ’ করতে নিয়েছিল I সুরা ফাতির (সুরা 35 – প্রবর্তক) এবং সুরা ইয়া-সিন (সুরা 36 – আর নেই) শয়তানের সম্বন্ধে বলে যে: 

बेशक शैतान तुम्हारा दुश्मन है तो तुम भी उसे अपना दुशमन बनाए रहो वह तो अपने गिरोह को बस इसलिए बुलाता है कि वह लोग (सब के सब) जहन्नुमी बन जाएँ()

সুরা ফাতির 35:6

হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি?

সূরা ইয়া-সিন 36: 60-62

ইঞ্জিলের শেষভাগে, শয়তানকে এক দর্শনের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে:

7 এরপর স্বর্গে এক যুদ্ধ বেধে গেল৷ মীখায়েল ও তার অধীনে অন্যান্য স্বর্গদূতরা সেই নাগের সঙ্গে যুদ্ধ করল৷ সেই নাগও তার অপদূতদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করতে লাগল;
8 কিন্তু সাপ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না, তাই তারা স্বর্গের স্থান হারালো৷
9 সেই বিরাট নাগকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই বিরাট নাগ হল সেই পুরানো নাগ যাকে দিয়াবল বা শয়তান বলা হয়, সে সমগ্র জগতকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়৷ সেই নাগ ও তার সঙ্গী অপদূতদের পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল৷

প্রকাশিত বাক্য 12:7-9

শয়তান আপনারও প্রকাশ্য শত্রু, যথেষ্ট ধূর্ততার সাথে সম্পূর্ণ জগতকে বিপথগামী করার এক শক্তিশালী ড্রাগন রূপে চিত্রিত করা হয়েছে I এই শত্রু, যেমন হজরত অদামের সাথে উদ্যানের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ ধ্বংস করতে যুদার নিয়ন্রণ নিয়েছিল I ইঞ্জিল যেরকম লিপিবদ্ধ করে:    

  16 সেই মুহূর্ত্ত থেকেই যিহূদা তাঁকে ধরিয়ে দেবার সুয়োগ খুঁজতে লাগল৷

মথি 26:16

পরের দিন – দিন 6 – নিস্তারপর্বের উৎসব ছিল যাকে নবী মশি পিবিইউ এইচ 1500 বছর পূর্বে শুরু করেছিলেন I কিভাবে শয়তান, যুদার মাধ্যমে, এই পবিত্র দিনে তার সুযোগ খুঁজে পেল? আমরা এটিকে পরে দেখব I

দিন 5 সারাংশ

কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে বিশাল ড্রাগন, শয়তান, এই সপ্তাহের পঞ্চম দিনে, তার সবথেকে বড় শত্রুকে আঘাত করতে অগ্রসর হল – নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ I

Shaytan, the Great Dragon, enters Judas to strike the Prophet Isa al Masih

শয়তান, বিশাল ড্রাগন নবী ঈসা আল মসীহকে আঘাত করতে যুদার মধ্যে প্রবেশ করে