লাজারাসকে উত্থাপনের ক্ষেত্রে ঈসা আল মসীহর মিশন

সূরা আদ-দুখান (সুরা ৪৪ – ধোঁয়া) আমাদের বলে যে কুরাইশ গোত্র হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিম্নোক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যাখ্যান করেছিল

কাফেররা বলেই থাকে,প্রথম মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের সবকিছুর অবসান হবে এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না।তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে এস।

সুর: আদি-দুখন 44: 34-38

তারা তার বার্তার সত্যতাকে প্রমাণ করতে মৃতদের মধ্যে থেকে কাউকে উত্থাপন করতে তাকে চ্যালেঞ্জ করল I সূরা আল-আহকাফ (সুরাহ 46 – বায়ু-বাঁকা বালুচর) একজন বিশ্বাসীর থেকে তার অবিশাসী পিতা-মাতাকে একটি অনুরূপ চ্যালেঞ্জের বিবরণ দেয় I   

আমি এমন লোকদের সুকর্মগুলো কবুল করি এবং মন্দকর্মগুলো মার্জনা করি। তারা জান্নাতীদের তালিকাভুক্ত সেই সত্য ওয়াদার কারণে যা তাদেরকে দেওয়া হত।

সুরাহ আল-আহকাফ 46:17

আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়।

অবিশ্বাসী পুনরুত্থানকে একটি কল্পনা বলে খারিজ করল যেহেতু এটি এখনও অবধি কখনও ঘটেনি I সুরা আদ-দোখান এবং সুরা আল-আহকাফ উভয়ই নবী পিবিইউএইচ এবং সমস্ত একেশ্বরবাদীদের প্রাথমিক বিশাস যাচাই করার জন্য মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের পরীক্ষা ব্যবহার করে অবিশ্বাসীদের উল্লেখ করেছেন I নবী ঈসা আল মসীহ তার বিরোধীদের দ্বারা সেই একই ধরণের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন I তিনি এই পরীক্ষাকে তার কর্তৃত্বের একটি চিহ্ন এবং এবং তার মিশনের উদ্দেশ্য উভয়কে প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছিলেন I        

ঈসা আল মসীহর মিশন কি ছিল?

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিক্ষা দিলেন, সুস্থ করলেন, এবং অনেক অলৌকিক কার্য সমূহ অনুষ্ঠিত করলেন I তবে এখনও শিষ্যদের, তার অনুগামীদের, এবং এমনকি তার শত্রুদের মনে প্রশ্ন থেকে যায়: কেন তিনি এসেছিলেন? এছাড়াও পূর্ববর্তী নবীদের মধ্যে, নবী মশি (পিবিইউএইচ) সহ অনেকে শক্তিশালী অলোকিক কার্য সম্পন্ন করেছিলেন I অথচ মশি আগেই ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, এবং ঈসা স্বয়ং বললেন তিনি “ব্যবস্থা লুপ্ত করতে আসেন নি”, তবে কেন তাঁকে পাঠানো হয়েছিল? 

নবীর (পিবিইউএইচ) বন্ধু অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ল I তার শিষ্যরা আশা করল যে নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) তার বন্ধুকে সুস্থ করবেন, যেমন তিনি অন্য অনেককে সুস্থ করেছেন I কিন্তু ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে তার বন্ধুকে সুস্থ করলেন না যাতে তিনি তার মিশনকে প্রকাশ করতে পারেন I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করে:  

ঈসা আল মসীহ মৃত্যুর মুখোমুখি হন

  সার নামে একটি লোক অসুস্থ ছিলেন; তিনি বৈথনিযা গ্রামে থাকতেন৷ সেই গ্রামেই মরিয়ম ও তাঁর বোন মার্থাও থাকতেন৷
2 এই মরিয়মই বহুমূল্য সুগন্ধি আতর যীশুর উপরে ঢেলে নিজের চুল দিয়ে তাঁর পা মুছিয়ে দিয়েছিলেন৷ লাসার ছিলেন এই মরিয়মেরই ভাই৷
3 তাই লাসারের বোনেরা একটি লোক পাঠিয়ে যীশুকে বলে পাঠালেন, ‘প্রভু, আপনার প্রিয় বন্ধু লাসার অসুস্থ৷’
4 যীশু একথা শুনে বললেন, ‘এই রোগে তার মৃত্যু হবে না; কিন্তু তা ঈশ্বরের মহিমার জন্যই হয়েছে, য়েন ঈশ্বরের পুত্র মহিমান্বিত হন৷’
5 যীশু মার্থা, তার বোনও লাসারকে ভালবাসতেন৷
6 তাই তিনি যখন শুনলেন য়ে লাসার অসুস্থ, তখন য়েখানে ছিলেন সেই জায়গায় আরো দুদিন রয়ে গেলেন৷
7 এরপর তিনি শিষ্যদের বললেন, ‘চল, আমরা আবার যিহূদিযাতে যাই৷’
8 তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, ‘গুরু, সম্প্রতি সেখানকার লোকেরা আপনাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে চাইছিল৷ তবে কেন আপনি আবার সেখানে য়েতে চাইছেন?’
9 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘দিনে বারো ঘন্টা আলো থাকে৷ কেউ যদি দিনের আলোতে চলে তবে সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় না, কারণ সে জগতের আলো দেখতে পায়৷
10 কিন্তু কেউ যদি রাতের আঁধারে চলে তবে সে হোঁচট খায়, কারণ তার সামনে কোন আলো নেই৷’
11 তিনি একথা বলার পর তাদের আবার বললেন, ‘আমাদের বন্ধু লাসার ঘুমিয়ে পড়েছে; কিন্তু আমি তাকে জাগাতে যাচ্ছি৷
12 তখন তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, সে যদি ঘুমিয়ে থাকে তবে সে ভাল হয়ে যাবে৷’
13 যীশু লাসারের মৃত্যুর বিষয়ে বলছিলেন, কিন্তু তাঁরা মনে করলেন তিনি তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের কথা বলছেন৷
14 তাই যীশু তখন তাদের স্পষ্ট করে বললেন, ‘লাসার মারা গেছে৷
15 আর তোমাদের কথা ভেবে আমি আনন্দিত য়ে আমি সেখানে ছিলাম না, কারণ এখন তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে৷ চল, এখন আমরা তার কাছে যাই৷’
16 তখন থোমা (যাঁকে দিদুমঃ বলে) অন্য শিষ্যদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘চল, আমরাও যাবো, আমরাও যীশুর সঙ্গে মরব৷’
17 যীশু বৈথনিযাতে এসে জানতে পারলেন য়ে গত চারদিন ধরে লাসার কবরে আছেন৷
18 বৈথনিযা থেকে জেরুশালেমের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই মাইল৷
19 তাই ইহুদীদের অনেকেই মার্থা ও মরিয়মকে তাঁদের ভাইয়ের মৃত্যুর পর সান্ত্বনা দিতে এসেছিল৷
20 মার্থা যখন শুনলেন য়ে যীশু এসেছেন, তখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম ঘরেই থাকলেন৷
21 মার্থা যীশুকে বললেন, ‘প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন তাহলে আমার ভাই মরত না৷
22 কিন্তু এখনও আমি জানি য়ে, আপনি ঈশ্বরের কাছে যা কিছু চাইবেন, ঈশ্বর আপনাকে তাই দেবেন৷’
23 যীশু তাঁকে বললেন, ‘তোমার ভাই আবার উঠবে৷’
24 মার্থা তাঁকে বললেন, ‘আমি জানি শেষ দিনে পুনরুত্থানের সময় সে আবার উঠবে৷’
25 যীশু মার্থাকে বললেন, ‘আমিই পুনরুত্থান, আমিই জীবন৷ য়ে কেউ আমাকে বিশ্বাস করে, সে মরবার পর জীবন ফিরে পাবে৷
26 য়ে কেউ জীবিত আছে ও আমায় বিশ্বাস করে, সে কখনও মরবে না৷ তুমি কি একথা বিশ্বাস কর?’
27 মার্থা তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু! আমি বিশ্বাস করি য়ে জগতে যাঁর আসার কথা আছে আপনিই সেই খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র৷’
28 এই কথা বলার পর মার্থা সেখান থেকে চলে গেলেন ও তার বোন মরিয়মকে একান্তে ডেকে বললেন, ‘গুরু এসেছেন, আর তিনি তোমায় ডাকছেন৷’
29 মরিয়ম একথা শুনে তাড়াতাড়ি করে যীশুর কাছে গেলেন৷
30 যীশু তখনও গ্রামের মধ্যে ঢোকেন নি৷ মার্থা য়েখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি সেখানেই ছিলেন৷
31 য়ে ইহুদীরা মরিয়মের সঙ্গে বাড়িতে ছিল ও তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, তারা যখন দেখল য়ে মরিয়ম তাড়াতাড়ি করে উঠে বাইরে যাচ্ছেন, তখন তারাও তার পিছনে পিছনে চলল, তারা মনে করল য়ে তিনি হয়তো লাসারের কবরের কাছে যাচ্ছেন ও সেখানে গিয়ে কাঁদবেন৷
32 যীশু য়েখানে ছিলেন, মরিয়ম সেখানে এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ের ওপর পড়ে বললেন, ‘প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন, আমার ভাই মরত না৷’
33 যীশু যখন দেখলেন য়ে মরিয়ম কাঁদছেন আর তার সঙ্গে য়ে সব ইহুদীরা এসেছিল তারাও কাঁদছে, তখন তিনি দুঃখিত হয়ে উঠলেন এবং অন্তরে গভীরভাবে বিচলিত হলেন৷
34 তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা তাকে কোথায় রেখেছ?’ তারা বললেন, ‘প্রভু, আসুন, এসে দেখুন৷’
35 যীশু কেঁদে ফেললেন৷
36 তখন সেই ইহুদীরা সকলে বলতে লাগল, ‘দেখ! উনি লাসারকে কত ভালোবাসতেন৷’
37 কিন্তু তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ বলল, ‘যীশু তো অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন; কেন তিনি লাসারকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন না?’
38 এরপর যীশু আবার অন্তরে বিচলিত হয়ে উঠলেন৷ লাসারকে য়েখানে রাখা হয়েছিল, যীশু সেই কবরের কাছে গেলেন৷ কবরটি ছিল একটা গুহা, যার প্রবেশ পথ একটা পাথর দিয়ে ঢাকা ছিল৷
39 যীশু বললেন, ‘ঐ পাথরটা সরিয়ে ফেল৷’সেই মৃত ব্যক্তির বোন মার্থা বললেন, ‘প্রভু চারদিন আগে লাসারের মৃত্যু হয়েছে৷ এখন পাথর সরালে এর মধ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হবে৷’
40 যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমি কি তোমায় বলিনি, যদি বিশ্বাস কর তবে ঈশ্বরের মহিমা দেখতে পাবে?’
41 এরপর তারা সেই পাথরখানা সরিয়ে দিল, আর যীশু উর্দ্ধ দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘পিতা, আমি তোমায় ধন্যবাদ দিই, কারণ তুমি আমার কথা শুনেছ৷
42 আমি জানি তুমি সব সময়ই আমার কথা শুনে থাক৷ কিন্তু আমার চারপাশে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছে তাদের জন্য আমি একথা বলছি, য়েন তারা বিশ্বাস করে য়ে তুমি আমায় পাঠিয়েছ৷’
43 এই কথা বলার পর যীশু জোর গলায় ডাকলেন, ‘লাসার বেরিয়ে এস!’
44 মৃত লাসার সেই কবর থেকে বাইরে এল৷ তার হাতপা টুকরো কাপড় দিয়ে তখনও বাঁধা ছিল আর তার মুখের ওপর একখানা কাপড় জড়ানো ছিল৷যীশু তখন তাদের বললেন, ‘বাঁধন খুলে দাও এবং ওকে য়েতে দাও৷’

যোহন 11:1-44

বোনেরা আশা করেছিল যে ঈসা আল মসীহ তাদের ভাইকে সুস্থ করতে দ্রুত আসবেন I ঈসা আল মসীহ লাজারাসকে মরতে দিতে তার যাত্রা বিলম্ব করেলেন, আর কেউ বুঝতে পারল না কেন I তবে এই দৃষ্টান্তে আমরা তার হৃদয়ের মধ্যে দেখতে পারি এবং আমরা পড়ি যে তিনি রেগে ছিলেন I কিন্তু কার উপরে রাগ? বোনেদের? জনতার? শিষ্যদের? লাজারাসের উপরে? না, তিনি মৃত্যুর নিজের উপরে রেগেছিলেন I এছাড়াও, দুবারের মধ্যে এটি একবার  লিপিবদ্ধ করা হয় যেখানে ঈসা আল মসীহ রোদন করেছিলেন I কেন তিনি রোদন করলেন? এই কারণে যে তিনি দেখলেন যে তার বন্ধুর মৃত্যুর কবলে রয়েছে I মৃত্যু নবীর মধ্যে ক্রোধ তথা রোদনকে আলোড়িত করল I    

অসুস্থতা থেকে সুস্থতা, ভালো যেহেতু সেটাই একমাত্র যা মৃত্যুকে স্থগিত করে I সুস্থ হোক বা নাহক মৃত্যু অবশেষে লোকেদের হরণ করে I ভাল বা মন্দ, পুরুষ বা মহিলা, বৃদ্ধ বা যুবক, ধার্মিক্ব বা না I এটি আদমের সময় থেকে সত্য হয়েছে, যে তার অবাধ্যতার কারণে মরশীল হয়েছে I আপনি এবং আমি সহ তার সমস্ত বংশধরদেরকে, একটি শত্রু – মৃত্যুর প্রতিভূর দ্বারা বন্ধক  করে রাখা হয়েছে I আমরা অনুভব করি যে মৃতুর বিরুদ্ধে কোনো উত্তর নেই, কোনো আশা নেই I যেখানে কেবলমাত্র অসুস্থতা থাকে সেখানে আশা টিকে থাকে, সেই জন্যই লাজারাসের বোনদের সুস্থতার মধ্যে আশা ছিল I তবে মৃত্যুর  সঙ্গে তারা কোনো আশা অনুভব করল না I এটি আমাদের পক্ষেও সত্য I হাসপাতালে কিছু আশা থেকে কিন্তু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কিছুই থাকে না I মৃত্যু আমাদের চূড়ান্ত শত্রু I আমাদের জন্য এই শত্রুকেই ঈসা আল মসীহ পরাজিত  করতে এসেছিলেন আর এইজন্যই তিনি বোনেদের কাছে ঘোষণা করলেন যে:   

 “আমিই পুনরুত্থান ও জীবন”

যোহন 11:25

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ) মৃত্যুকে ধ্বংস করতে এবং সকলকে জীবন দিতে এসেছিলেন যারা এটিকে চায় I এই মিশনের জন্য তিনি মৃত্যু থেকে লাজারাসকে উত্থাপন করে তার কর্তৃত্বকে দেখালেন I

নবীদের প্রতি প্রতিক্রিয়া

মৃত্যু যদিও সমস্ত লোকেদের চূড়ান্ত শত্রু, আমাদের মধ্যে অনেকে দ্বন্দ সমূহের (রাজনৈতিক, ধার্মিক, জাতিগত, ইত্যাদি) ফলে ক্ষুদ্রতর ‘শত্রুদের’ দ্বারা ধরা পরি যা সর্বদা আমাদের চারিদিকে অন্যদের সঙ্গে চলতে থাকে I ঈসা আল মসীহর সময়েও এটি সত্য ছিল I এই আশ্চর্য ঘটনার প্রতি স্বাক্ষীদের প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে আমরা দেখতে পারি সেই সময়ে বসবাসকারী বিভিন্ন লোকেদের প্রধান চিন্তা কি ছিল I এখানে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াগুলোকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I  

 

45 তখন মরিয়মের কাছে যাঁরা এসেছিল, সেই সব ইহুদীদের মধ্যে অনেকে যীশু যা করলেন তা দেখে যীশুর ওপর বিশ্বাস করল৷
46 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন ফরীশীদের কাছে গিয়ে যীশু যা করেছিলেন তা তাদের জানালো৷
47 এরপর প্রধান যাজক ও ফরীশীরা পরিষদের এক মহাসভা ডেকে সেখানে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, ‘আমরা এখন কি করব? এই লোকটা তো অনেক অলৌকিক চিহ্নকার্য় করছে৷
48 আমরা যদি ওকে এই ভাবেই চলতে দিই তাহলে তো সকলেই এর ওপর বিশ্বাস করবে৷ তখন রোমীয়েরা এসে আমাদের এই মন্দির ও আমাদের জাতিকে ধ্বংস করবে৷’
49 কিন্তু তাদের মধ্যে একজন, য়াঁর নাম কাযাফা, যিনি সেই বছরের জন্য মহাযাজকের পদ পেয়েছিলেন, তাদের বললেন, ‘তোমরা কিছুই জানো না৷
50 আর তোমরা এও বোঝ না য়ে গোটা জাতি ধ্বংস হওযার পরিবর্তে সেই মানুষের মৃত্যু হওযা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে৷’
51 একথা কাযাফা য়ে নিজের থেকে বললেন তা নয়, কিন্তু সেই বছরের জন্য মহাযাজক হওযাতে তিনি এই ভাববাণী করলেন, য়ে সমগ্র জাতির জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করতে যাচ্ছেন৷
52 যীশু য়ে কেবল ইহুদী জাতির জন্য মৃত্যুবরণ করবেন তা নয়, সারা জগতে য়ে সমস্ত ঈশ্বরের সন্তানরা চারদিকে ছড়িয়ে আছে, তাদের সকলকে একত্রিত করার জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করবেন৷
53 তাই সেই দিন থেকে তারা যীশুকে হত্যা করার জন্য চক্রান্ত করতে লাগল৷
54 যীশু তখন প্রকাশ্যে ইহুদীদের মধ্যে চলাফেরা বন্ধ করে দিলেন৷ তিনি সেখান থেকে মরুপ্রান্তরের কাছে ইফ্রযিম নামে এক শহরে চলে গেলেন এবং সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে থাকলেন৷
55 ইহুদীদের নিস্তারপর্ব এগিয়ে আসছিল, আর অনেক লোক নিজেদের শুচি করবার জন্য নিস্তারপর্বের আগেই দেশ থেকে জেরুশালেমে গেল৷
56 তারা সেখানে যীশুর খোঁজ করতে লাগল৷ তারা মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল,. ‘তোমরা কি মনে কর? তিনি কি এই পর্বে আসবেন?’
57 প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা এই আদেশ দিল য়ে, যীশু কোথায় আছেন তা যদি কেউ জানে তবে তাদের য়েন জানানো হয় যাতে তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে৷

যোহন 11:45-57

তাই উত্তেজনা বেড়ে গেল I নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) ঘোষণা করলেন যে তিনি ‘জীবন’ ও ‘পুনরুত্থান’ এবং মৃত্যুকেই পরাজিত করবেন I নেতারা তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে সাড়া দিয়েছিল I লোকেদের মধ্যে অনেকে তাকে বিশ্বাস করত, তবে অন্যান্য অনেকে কি বিশ্বাস করতে হবে জানত না I এটি হয়ত আমাদের পক্ষে যোগ্য হত আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা যদি আমরা লাজারাসের উত্থাপনকে প্রত্যক্ষ করতাম তবে আমরা কি করতে পচ্ছন্দ করতাম I আমরা কি ফারিসীদের মতন হতাম, যারা কয়েকটি দ্বন্দের উপরে মনোনিবেশ করত যাকে ইতিহাসে শীঘ্র ভুলে যাওয়া হবে এবং মৃত্যু থেকে জীবনের প্রস্তাবকে হারাতাম? বা আমরা কি তাকে ‘বিশ্বাস’ করতাম এবং তার পুনরুত্থানের প্রস্তাবের উপরে আমাদের আশা রাখতাম, এমনকি আমরা যদি এটিকে আদৌ না বুঝতাম? বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াগুলো যা ইঞ্জিল তখনকার দিনে লিপিবদ্ধ করে তার প্রস্তাবের প্রতি সেই একই প্রতিক্রিয়া যা আজকের দিনে আমরা করি I    

নিস্তারপর্বের উৎসব নিকটে আসার সাথে সাথে এই বিতর্কগুলো বাড়ছিল – সেই বিশেষ একই উৎসব যা 1500 বছর পূর্বে নবী মশি (পিবিইউএইচ) মৃত্যুকে উপেক্ষা করার এক চিহ্ন হিসাবে আরম্ভ করেছিলেন I  ইঞ্জিল চলতে থাকে দেখানোর দ্বারা কিভাবে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) মৃত্যুকে পরাজিত করার তার মিশনকে সম্পন্ন করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন – ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে অন্যের দ্বারা পরিহার করা কাউকে সাহায্য করার দ্বারা I       

নবী ঈশা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এবং যোনার চিহ্ন

কুরায়েশ (বা কুরাইশ) আরব উপজাতি ছিল যারা মক্কা এবং কাবাকে নিয়ন্ত্রণ করত, এবং নবী মুহম্মদ পিবিইউএইচ এই উপজাতি থেকে ছিলেন I (সুরা 106 – কুরায়েশ) কুরায়েশের উপভোগ করা অনুকুল নিয়ম সমূহের বর্ণনা করে I   

 কোরাইশের আসক্তির কারণে,আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।

সুরা কুরায়েশ 106:1-2

    1 কোরাইশের আসক্তির কারণে,

    2 আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।

তবে সুরা ইউনুস (সুরা 10 – যোনাহ) নবী মহম্মদের বার্তাকে কুরাইশের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময়ে কি ঘটেছিল তার বর্ণনা করে I

মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী পাঠিয়েছি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ শুনিয়ে দেন ঈমনাদারগণকে যে, তাঁদের জন্য সত্য মর্যাদা রয়েছে তাঁদের পালনকর্তার কাছে। কাফেররা বলতে লাগল, নিঃসন্দেহে এ লোক প্রকাশ্য যাদুকর।সুরা

ইউনুস 10:2

মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী পাঠিয়েছি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ শুনিয়ে দেন ঈমনাদারগণকে যে, তাঁদের জন্য সত্য মর্যাদা রয়েছে তাঁদের পালনকর্তার কাছে। কাফেররা বলতে লাগল, নিঃসন্দেহে এ লোক প্রকাশ্য যাদুকর।

তার বার্তা প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে, সুরাহ আল-কমার (সুরাহ 54-চাঁদ) কুরাইশকে হুঁশিয়ারী দেয় তারা যার সম্মুখীন হয়েছিল সেই সম্বন্ধে…

তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র রয়েছে কিতাবসমূহে?না তারা বলে যে, আমারা এক অপরাজেয় দল?এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর।

সুরা আল=কমার 54:43-46

সুরা ইউনুস এছাড়াও ব্যাখ্যা করে যে যদিও বেশিরভাগ নবীদের তাদের শ্রোতাদের দ্বারা অগ্রাহ্য করা হয়েছিল (যেমন কুরাইশের সাথে), সেখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল – নবী যোনাহ (ইউনুস) পিবিইউএইচ I   

 সুতরাং কোন জনপদ কেন এমন হল না যা ঈমান এনেছে অতঃপর তার সে ঈমান গ্রহণ হয়েছে কল্যাণকর? অবশ্য ইউনুসের সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। তারা যখন ঈমান আনে তখন আমি তুলে নেই তাদের উপর থেকে অপমানজনক আযাব-পার্থিব জীবনে এবং তাদের কে কল্যাণ পৌছাই এক নিধারিত সময় পর্যন্ত।

সুরা ইউনুস 10:98

সুতরাং কোন জনপদ কেন এমন হল না যা ঈমান এনেছে অতঃপর তার সে ঈমান গ্রহণ হয়েছে কল্যাণকর? অবশ্য ইউনুসের সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। তারা যখন ঈমান আনে তখন আমি তুলে নেই তাদের উপর থেকে অপমানজনক আযাব-পার্থিব জীবনে এবং তাদের কে কল্যাণ পৌছাই এক নিধারিত সময় পর্যন্ত।

নবী যোনাহকে বিদেশী লোকেদের কাছে পাঠান হয়েছিল I তবুও তারা তার বার্তাকে তখনও গ্রহণ করেছিল I তবে তিনি তার ভূমিকাকে স্বীকার করেন নি এবং এর থেকে পলায়ন করতে চেষ্টা করতে গিয়ে এক বিরাট মাছের দ্বারা একে জীবন্ত গলাধকরণ করা হয়েছিল I সুরাহ আল-কলম (সুরাহ 68-কলম) বর্ণনা করে কিভাবে তিনি তার অবাধ্যতা সম্পর্কে মাছের মধ্যে অনুতাপ করেছিলেন  এবং নবী হিসাবে পুনর্বহাল করা হয়েছিল I  

 আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।

সুরাহ আল-কলম 68:48-50

48 আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল। 49 যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত। 50 অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।

নবী মহম্মদের মতন, নবী ঈসা আল মসীহ তার নিজস্ব লোকেদের (যিহূদি) কাছে গিয়েছিলেন এবং তারা তাকে জাদুবিদ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল ইবন তার বার্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল I তাই নবী ঈসা আল মসীহও নবী যোনা/ইউনুসকে একটি চিহ্ন হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন i কিসের জন্য একটি চিহ্ন?

ঈসা আল মসীহর কর্তৃত্বকে তার নিজের লোকেদের দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল I

আমরা দেখলাম কিভাবে ইঞ্জিল নবী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) শিক্ষা, নিরাময় এবং অলৌকিক কার্য সমূহকে লিপিবদ্ধ করেছে I তিনি প্রায়শই তাঁর শ্রোতাদের (এবং আমাদেরকে) আমন্ত্রণ জানান গ্রহণ করতে যা তিনি প্রদান করেছেন I তিনি প্রদান করেছেন ‘জীবন্ত জল’, পাপীদের প্রতি করুণা, ‘হারানো’ কে খোঁজা এবং তাদের সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যারা ‘ঈশ্বরের রাজ্যে’ প্রবেশ করতে ইচ্ছুক I

এই শিক্ষাগুলো তাঁর সময়ের ধার্মিক নেতাদের (ইমামদের অনূরূপ) হতবুদ্ধি করেছিল I বিশেষ করে তারা আশ্চর্য হয়েছিল কোন কর্তৃত্ব তিনি বহন  করেছেন I উদাহরণস্বরূপ, তাঁর কাছে কি সত্যই দোষী লোকেদেরকে ঈশ্বরের করুণা দেওয়ার কর্তৃত্ব ছিল, এবং ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সকলের জন্য মূল্য প্রদান করার কর্তৃত্ব ছিল? তাই ধার্মিক নেতারা তাঁর কর্তৃত্ব প্রমাণ  করার জন্য একটি চিহ্ন চাইল I ইঞ্জিল তাদের কথপোকথন লিপিবদ্ধ করে:

ঈসা যোনার (ইউনুস) চিহ্নকে উল্লেখ করেন

  38 এরপর কয়েকজন ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুর কাছে এসে বললেন, ‘হে গুরু, আমরা আপনার কাছ থেকে কোন চিহ্ন বা অলৌকিক কাজ দেখতে চাই৷’
39 যীশু তাদের বললেন, ‘এ যুগের দুষ্ট ও পাপী লোকেরা চিহ্নের খোঁজ করে; কিন্তু ভাববাদী য়োনার চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্নইতাদের দেখান হবে না৷
40 য়োনা য়েমন সেইবিরাট মাছের পেটে তিন দিন তিন রাত ছিলেন, তেমন মানবপুত্র তিন দিন তিন রাত পৃথিবীর অন্তঃস্থলে কাটাবেন৷
41 বিচারের দিনে নীনবীয় লোকেরা এই কালের লোকদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের দোষী করবে, কারণ নীনবীয় লোকেরা য়োনার প্রচারের ফলে তাদের মন ফেরাল৷ আর দেখ, য়োনার চেয়ে এখানে আরও একজন মহান আছেন৷

মথি 12:38-41

ইতিহাসের মধ্যে নবী যোনাহ

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) যোনাহকে (এছাড়াও বলা হয় ইউনুস বা ইউনিস) ইঙ্গিত করে উত্তর দিলেন I আপনি নিচে কালপঞ্জির মধ্যে দেখতে পারন যে নবী ইউনুস নবী ঈসা আল মসীহর জন্মের 800 বছর পূর্বে বাস করতেন I 

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2017/03/jonah-in-timeline-e1489180437825.jpg

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে নবী যোনাহ (ইউনুস বা ইউনিস)

কোরআনের মধ্যে ইউনুস

ইউনুস পিবিইউএইচ একটি বই লিখেছিলেন যেটি ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ লেখাগুলোর মধ্যে রয়েছে I কোরআন তার বইটির সংক্ষিপ্তসার করেন এই ভাবে:

 আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।

আস-সাফফাত:37:139-144

নবী ইউনুসকে এক বিরাট মাছের দ্বারা গলাধকরণ করা হয়েছিল কারণ তাকে  আল্লাহর দেওয়া মিশন থেকে তিনি পলায়ন করেছিলেন – নীনেবার (আজকের দিনের ইরাকের মসুলের নিকটবর্তী) নগরে অনুতাপের প্রচার করতে I ইসলামিক পন্ডিত ইউসুফ আলী এই আয়াতগুলোর সম্বন্ধে বলেন:   

এটি কেবল বাক্য প্রণালী I এটি ছিল যোনাহর সমাধি এবং সমাধিস্থল I যদি তিন অনুতাপ না করতেন তিনি প্রাণীটির দেহ থেকে যা তাকে গলাধঃকরণ করেছিল বের হয়ে আসতে পারতেন না, পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত, যখন সকল মৃতরা উত্থাপিত হবে

কোরআনের ইউসুফ আলীর অনুবাদের পাদটীকা 4125

অতএব, মাছের ভেতরে থাকা একটি মৃত্যু দণ্ড ছিল যা সাধারণতঃ কেবল পুনরুত্থানের দিনে মুক্তি পাবে I

তার নিজের বই থেকে নবী যোনাহ

যোনাহর বই বিরাট মাছের মধ্যে থাকার বিষয়ে আরো বিস্তৃত বিবরণ দেয় I তিনি আমাদের বলেন: 

  ভু অমিওযের পুত্র য়োনার সঙ্গে কথা বলেছিলেন| প্রভু বলেছিলেন|,
2 “নীনবী একটা বড় শহর| আমি শুনেছি, সেখানকার লোকরা নানা রকম খারাপ কাজকর্ম করছে| কাজেই সেই শহরে যাও এবং লোকদের বল তারা য়েন সেই খারাপ কাজ করা বন্ধ করে|”
3 য়োনা ঈশ্বরের আদেশ মানতে চাননি সেজন্য য়োনা প্রভুর কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন| য়োনা যাফোতে গেলেন| য়োনা সেখানে একটা নৌকা দেখতে পেয়েছিলেন য়টা অনেক দূরের শহর তর্শীশে যাচ্ছিল| য়োনা নৌকাতে উঠে যাবার ভাড়া দিলেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে পালিয়ে যাবার জন্য য়োনা ঐ নৌকায় তর্শীশ পর্য়ন্ত ভ্রমন করতে চেয়েছিলেন|
4 কিন্তু প্রভু সমুদ্রে একটা বড় রকমের ঝড় আনলেন| বাতাস সমুদ্রকে খুবই রুক্ষ করে তুললো| ঝড়টা এতই শক্তিশালী ছিল য়ে নৌকাটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হবার উপক্রম হল|
5 ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য লোকরা নৌকাটিকে হাল্কা করতে চেষ্টা করল| সে জন্য তারা নৌকার মালগুলো ছুঁড়ে সমুদ্রে ফেলে দিতে আরম্ভ করল| মাঝিরা খুবি ভয় পেয়ে গেল| প্রত্যেকে তাদের দেবতাদের উদ্দেশ্য প্রার্থণা করতে আরম্ভ করল| য়োনা নৌকার একেবেরে পশ্চাদ্ভাগে চলে গেলেন এবং তিনি শুয়ে পড়লেন ও ঘুমোতে গেলেন|
6 নৌকার প্রধান মাঝি য়োনাকে দেখতে পেল এবং বলল, “উঠে পড়ো! তুমি কেন ঘুমাচ্ছো? তুমি তোমার দেবতার কাছে প্রার্থনা করো! দেবতা বযতো তোমার প্রার্থনা শুনবেন এবং আমাদের রক্ষা করবেন!”
7 তখন লোকরা একে অপরকে বলল, “আমার অবশ্যই ঘুঁটি চেলে জানতে চেষ্টা করব এই দুর্য়োগগুলো কেন আমাদের ভাগ্যে ঘটছে|”সে জন্য লোকে ঘুঁটি চালল এবং দেখা গেল, য়োনার জন্যেই এই দুর্য়োগগুলো ঘটছে|
8 তখন লোকরা য়োনাকে বলল, “দেখ তোমার দোষেই এই ভয়ঙ্কর ঝড় আমাদের ভাগ্যে ঘটছে! সেজন্য আমাদের বল তুমি কি করেছো? তোমার পেশা কি? তুমি কোথা থেকে আসছো? তোমার দেশ কোথায? তোমার লোকরা কারা?”
9 য়োনা লোকদের বললেন, “আমি একজন ইব্রীয (ইহূদী)| আমি প্রভু, স্বর্গের ঈশ্বরের উপাসনা করি, তিনি সেই ঈশ্র যিনি সমুদ্র ও ভুমি সৃষ্টি করেছেন|”
10 য়োনা লোক জনদের বললেন, তিনি প্রভুর কাছে থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন| লোকরা এই কথা জেনে খুবই ভয় পেয়ে গেল| য়োনাতে তখন তারা জিজ্ঞেস করল, “তুমি তোমার ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কেন এমন ভয়ঙ্কর কাজ করেছ?”
11 বাতাস ও সমুদ্রের ঢেউ ক্রমশঃ শক্তিশালী হতে আরম্ভ করছিল| তাই লোকরা য়োনাকে জিজ্ঞেস করল, “আমারা আমাদের রক্ষা করার জন্য কি করবো? সমুদ্রকে শান্ত হয়ে যাবে|”
12 যোনা লোকদের বললেন, “আমি জানি আমি ভুল করেছি সেই জন্যই সমুদ্রে ঝড় এসেছে আমাকে সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দাও| তাহলে সমুদ্র শান্ত হয়ে যাবে|”
13 কিন্তু লোকরা য়োনাকে সমুদ্র ছুঁড়ে দিতে চাইল না| নৌকাটিকে তীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে লাগল| কিন্তু তারা সফল হল না| প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে লাগল!
14 সেই জন্য লোকরা প্রভুর কাছে চিত্কার করে বলল, “প্রভু আমার এই লোকটিকে তার খারাপ কাজের জন্য সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি| কাজেই দয়া করে বলবেন না য়ে আমরা এক নির্দোষ লোককে মেরে ফেলার জন্য দয়া করে আমাদের মেরে ফেলবেন না| আমরা জানি আপনি হচ্ছেন প্রভু, এবং আপনি যা চাইছেন তা সবকিছুই করতে পারেন| কিন্তু দয়া করে আপনি আমাদের প্রতি সদয হোন|”
15 সেই জন্য লোকরা য়োনাকে সমুদ্রে ফেলে দিল| ঝড় থেমে গেল- সমুদ্র আবার শান্ত হল!
16 লোকরা এই ঘটনা দেখে ভয় পেয়ে গেল এবং তারা প্রভুকে খুব ভয় পেত| তারা প্রভুর নামে বিশেষ শপথ নিল এবং নৈবেদ্য উত্সর্গ করল|
17 আর প্রভু য়োনাকে গিলে ফেলার জন্য একটা বড় মাছ ঠিক করে রেখেছিলেন| য়োনা মাছের পেটের মধ্যে তিন দিন ও তিন রাত্রি রইলেন|

যোনাহ 1:17-2:10

 ‘যোনার চিহ্ন’ কি?

সাধারণত আমরা আশা করি যে যখন কারোর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, যেমন নবী ঈসা আল মসীহকে করা হয়েছিল, সে একটি চিহ্নর সাথে ক্ষমতা, বিজয় বা সফলতা দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করবে I তবে ঈসা আল মসীহ নবী যোনাহর তিন দিনের ‘মৃতের রাজত্ব’ – খাদ বা কবরকে উল্লেখ করার দ্বারা  তার কর্তৃত্বের আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিলেন I এই তিন দিনের সময়কালের মধ্যে, যেহেতু যোনাহ আল্লাহর আজ্ঞার অবমাননা করলেন, তাকে ‘আপনার দৃষ্টির থেকে অন্তর্হিত করা হয়েছিল’ অর্থাৎ আল্লাহর দৃষ্টি থেকে I কালো গভীরে তিন দিনের জন্য মৃত্যুর দখলে যোনাহর পর্ব, আল্লাহর থেকে অন্তর্হিত হয়ে গিয়েছিল, যা আমাদের আশানুরূপ একটি চিহ্ন নয় I ঈসা আল মসীহ কেন এমন একটি চিহ্ন পচ্ছন্দ করবেন যা তার কর্তৃত্বকে বাতিল করে বলে মনে হয়?

দুর্বলতা এবং মৃত্যুকে একটি চিহ্ন হিসাবে দেওয়া প্রথম বার নয় I নবী যিশাইয় আসন্ন দাসের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই দাস ‘তুচ্ছ’ হবে এবং ‘লোকেদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত’ হবে এবং ‘ঈশ্বরের বিবেচনায় শাস্তি প্রাপ্ত হবে’ এবং ‘জীবিতের দেশ থেকে বিচ্ছন্ন হবে’ এবং ‘দুষ্টের সাথে একটি কবরে ন্যস্ত হবে’ I এখনও অদ্ভূত, “সদাপ্রভুর ইচ্ছা দাসকে চুর্ন করা”I  যেটা অনেকটা যোনাহর যার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল সেইরকম শোনায় – আর এইরূপে যা ঈসা আল মসীহ ইঙ্গিত করেছিলেন I      

যে সূত্রটি উপলব্ধি নিয়ে আসে তা হ’ল মাছের পেটের মধ্যে যোনাহর প্রার্থনার শেষ I তার প্রার্থনার শেষ কথা ছিল “সদাপ্রভুর থেকে পরিত্রাণ আসে” I আমরা দেখলাম কিভাবে ঈসা/যীশু নামটি আসন্ন শাখাটির ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ নাম ছিল I তবে যীশু/ঈসা নামটির অর্থ কি? হিব্রুর মধ্যে এটির অর্থ ‘সদাপ্রভু উদ্ধার করেন’ I তার প্রার্থনায় নবী যোনাহ স্বীকার করলেন যে তার (এবং আমদের) উদ্ধার পাওয়া প্রয়োজন এবং ইনি সদাপ্রভু যিনি এটি করবেন I তার প্রার্থনা উভয়কেই ঘোষণা করল আমাদের প্রয়োজন (উদ্ধার পাওয়া) এবং আল্লাহ একজন যিনি উদ্ধার করেন I ঈসা আল মসীহর নামের (হিব্রুতে যোহোশুয়া) আক্ষরিক অর্থ একই সত্য যা মাছের মধ্যে যোনাহ অবশেষে স্বীকার করলেন যেহেতু যীশু/ঈসা মানে ‘সদাপ্রভু উদ্ধার করেন’ I      

নবী ঈসা আল মসীহ ধার্মিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথপোকথন শেষ করলেন তাদের স্মরণ করিয়ে যে নীনবীর (যে নগরের মধ্যে যোনাহকে প্রচার করতে পাঠানো হয়েছিল) লোকেরা বিশ্বাস করল এবং যোনাহর বার্তায় অনুতাপ করল – তবে যে নেতারা ঈসা আল মসীহর কথা শুনছিল অনুতাপ করতে ইচ্ছুক ছিল না I তারা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিল যে তাদের উদ্ধারের প্রয়োজন ছিল I আমাদের নিজ়েদের হৃদয়কে অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত দেখতে আমরা কি নীনবীর লোকেদের (যারা অনুতাপ করেছিল) মতন না যিহূদিদের (যারা করে নি) মতন I দুটির মধ্যে আপনি কোনটি?   

ঈসা আল মসীহর মিশন শেষ শুরু করার সাথে সাথে আমরা ঈসা আল মসীহকে অনুসরণ করতে থাকব দেখতে কিভাবে যোনাহর এই চিহ্ন পূর্ণ হয়েছে এবং কিভাবে ‘সদাপ্রভু উদ্ধার করেন’ I 

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) একটি ‘হাজ্জ’ করেন

সূরা আল-হাজ্জ (সূরা 22 – তীর্থযাত্রা) আমাদের বলে যে বিভিন্ন রীতি এবং অনুষ্ঠান সমূহ বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হয়েছে I তবে এটি নির্দিষ্ট মাংস বলিদান নয়, বরং যা আমাদের মধ্যে আছে সেটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ I   

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও;যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে ভীত হয় এবং যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্য্যধারণ করে এবং যারা নামায কায়েম করে ও আমি যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।এবং কা’বার জন্যে উৎসর্গীকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের যবেহ করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও যে কিছু যাচ্ঞা করে না তাকে এবং যে যাচ্ঞা করে তাকে। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। 

সুরাহ আল-হাজ্জ 22:34,37

34 আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও; 37 এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।

জল হাজ্জের বিধি এবং অনুষ্ঠান সমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কারণ তীর্থযাত্রীরা জ্যাম জ্যাম কুয়োর জল পান করতে চায় I তবে সূরা আল-মূলক (সূরা 67 – সার্বভৌমত্ব) আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে চায় I    

বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?

সুরাহ আল-মূলক 67:30

বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?

.

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ নবী মশির পিবিইউএইচ দ্বারা অভিষিক্ত এক যিহূদিদের তীর্থযাত্রায় এই প্রশ্নটিকে সম্বোধন করেছিলেন I আমরা এটিকে হাজ্জের চশমা দিয়ে এখানে একবার দেখব I    

হাজ্জ তীর্থযাত্রী সু-পরিচিত I যা কম পরিচিত যে 3500 বছর আগে পাওয়া মশির (পিবিইউ এইচ) শারিয়া আইনে যিহূদি বিশ্বাসীদেরকেও প্রতি বছর যিরূশালেমে (আল কুদস) পবিত্র তীর্থযাত্রায় যাওয়ার প্রয়োজন হত I এক তীর্থযাত্রাকে বলা হত ঈশ্বরীয় তাঁবুর ভোজ (বা সুকোট) I এই তীর্থযাত্রার সঙ্গে আজকের হাজ্জের অনেক সাদৃশ্য আছে I উদাহরণস্বরূপ, এই তীর্থযাত্রা সমূহের উভয়ই ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে ছিল, উভয়ই পশু বলিদানকে জড়িত করত, উভয়ই বিশেষ জল প্রাপ্তিকে জড়িত করত (যেমন জ্যামজ্যাম), উভয়ই ঘুমন্ত বহির্দ্বারগুলোকে জড়িত করত, এবং উভয়ই সাতবার একটি পবিত্র কাঠামোকে প্রদক্ষিন করাকে জড়িত করত I ঈশ্বরীয় তাঁবুর ভোজ যিহূদিদের জন্য একটি হাজ্জের ন্যায় ছিল I আজ, যিহূদিরা এখনও ঈশ্বরীয় তাঁবুর ভোজ উদযাপন করে তবে এটিকে একটি অল্প ভিন্নভাবে করে যেহেতু তাদের মন্দিরকে 70 খ্রীষ্টাব্দে রোমীয়দের দ্বারা যিরূশালেমে ধ্বংস করা হয়েছিল I   

ইঞ্জিল বর্ণনা করে কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) সম্পন্ন করেছিলেন – তাঁর হাজ্জকে I বিবরণটিকে কিছু ব্যাখ্যার দ্বারা লিপিবদ্ধ করা  হয় I    

যীশু ঈশ্বরীয় তাঁবুর উৎসবে যান (যোহন 7)

  রপর যীশু গালীলের চারদিকে ভ্রমণ করছিলেন৷ তিনি যিহূদিযায় ভ্রমণ করতে চাইলেন না, কারণ ইহুদীরা তাঁকে খুন করবার সুয়োগ খুঁজছিল৷
2 এই সময় ইহুদীদের কুটিরবাস পর্বএগিয়ে আসছিল৷
3 তখন তাঁর ভাইরা তাঁকে বলল, ‘তুমি এই জায়গা ছেড়ে যিহূদিযাতে ঐ উত্‌সবে যাও; যাতে তুমি য়ে সব অলৌকিক কাজ করছ তা তোমার শিষ্যরাও দেখতে পায়৷
4 কারণ কেউ যদি প্রকাশ্যে নিজেকে তুলে ধরতে চায় তবে সে নিশ্চয়ই তার কাজ গোপন করবে না৷ তুমি যখন এত সব মহত্ কাজ করছ তখন নিজেকে জগতের কাছে প্রকাশ কর৷ য়েন সবাই তা দেখতে পায়৷’
5 তাঁর ভাইরাও তাঁর ওপর বিশ্বাস করত না৷

যোহন 7:1-5

ঈসা আল মসীহর ভাইরা কটুক্তি করে নবীর সঙ্গে আচরণ করছিল যেহেতু তারা তাকে বিশ্বাস করে নি I তবে পরে কিছু ঘটেছিল যা তাদের মন পরিবর্তন করেছিল কারণ তার ভাইদের মধ্যে দুজন, যাকোব এবং যিহূদা, পরবর্তী সময়ে পত্র লিখেছিল (যাকোব এবং যিহূদা নামে) যা নতুন নিয়মের (ইঞ্জিল) অঙ্গ I কি তাদেরকে পরিবর্তন করেছিল? ঈসা আল মসীহর পুনরুথান I

  6 যীশু তাঁর ভাইদের বললেন, ‘আমার নিরূপিত সময় এখনও আসে নি; কিন্তু তোমাদের যাওযার জন্য য়ে কোন সময় সঠিক; এখনই তোমরা য়েতে পার৷
7 জগত সংসার তোমাদের ঘৃণা করতে পারে না, কিন্তু আমাকে ঘৃণা করে৷ কারণ পৃথিবীর লোকেরা, যাঁরা মন্দ কাজ করে, সেই সব লোকেদের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষ্য দিই৷
8 তোমরা পর্বে যাও, আমি এখন এই উত্‌সবে যাচ্ছি না, কারণ আমার নিরূপিত সময় এখনও আসে নি৷’
9 এই কথা বলার পর তিনি গালীলেই রয়ে গেলেন৷
10 তাঁর ভাইরা উত্‌সবে চলে গেল, পরে তিনিও সেখানে গেলেন; কিন্তু তিনি প্রকাশ্যে সেই পর্বে না গিয়ে গোপনে সেখানে গেলেন৷
11 ইহুদী নেতারা উত্‌সবে এসে তাঁর খোঁজ করতে লাগল৷ তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘সেই লোকটা গেল কোথায়?’
12 আর জনতার মধ্যে তাঁকে নিয়ে নানা রকম গুজব ছড়াতে লাগল৷ কেউ কেউ বলল, ‘আরে তিনি খুব ভালো লোক৷’ কিন্তু আবার অন্যরা বলল, ‘না, না, ও লোকদের ঠকাচ্ছে৷’
13 কিন্তু ইহুদী নেতাদের ভয়ে তাঁর বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে চাইল না৷
14 পর্বের আধা-আধি সময়ে যীশু মন্দিরে গিয়ে লোকদের মাঝে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷
15 ইহুদীরা এতে খুব আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘এই লোক কোন কিছু অধ্যয়ন না করেই কি ভাবে এত সব জ্ঞান লাভ করল?’
16 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়৷ যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা৷
17 যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, না আমি নিজের থেকে এসব কথা বলছি৷
18 যদি কেউ নিজের ভাবনার কথা নিজে বলে, তাহলে সে নিজেই নিজেকে সম্মানিত করতে চায়; কিন্তু য়ে তার প্রেরণ কর্তার গৌরব চায়, সেই লোক সত্যবাদী, তার মধ্যে কোন অসাধুতা নেই৷
19 মোশি কি তোমাদের কাছে বিধি-ব্যবস্থা দেন নি? কিন্তু তোমরা কেউই সেই বিধি-ব্যবস্থা পালন কর না৷ তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে চাইছ?’
20 জনতা উত্তর দিল, ‘তোমাকে ভূতে পেয়েছে, কে তোমাকে হত্যা করতে চাইছে?’
21 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি একটা অলৌকিক কাজ করেছি, আর তোমরা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেছ৷
22 মোশিও তোমাদের সুন্নতের বিধি-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন৷ যদিও মুলতঃ সেই বিধি-ব্যবস্থা মোশির নয় কিন্তু এই বিধি-ব্যবস্থা প্রাচীন পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে৷ আর তোমরা এমনকি বিশ্রামবারেও শিশুদের সুন্নত করে থাকো৷
23 মোশির বিধি-ব্যবস্থা য়েন লঙঘন করা না হয়, এই যুক্তিতে বিশ্রামবারেও যদি কোন মানুষের সুন্নত করা চলে, তাহলে আমি বিশ্রামবারে একটা মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছি বলে তোমরা আমার ওপর এত ক্রুদ্ধ হয়েছ কেন?
24 বাহ্যিকভাবে কোন কিছু দেখেই তার বিচার করো না৷ যা সঠিক সেই হিসাবেই ন্যায় বিচার কর৷’
25 তখন জেরুশালেমের লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘এই লোককেই না ইহুদী নেতারা হত্যা করতে চাইছে?
26 কিন্তু দেখ! এ তো প্রকাশ্যেই শিক্ষা দিচ্ছে; কিন্তু তারা তো এঁকে কিছুই বলছে না৷ এটা কি হতে পারে য়ে নেতারা সত্যিই জানে য়ে, ইনি সেই খ্রীষ্ট?
27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’

যোহন 7:6-27

সেই সময়ে যিহূদিদের মধ্যে বিতর্ক ছিল নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) মসীহ ছিলেন কি না I কতিপয় যিহূদি বিশ্বাস করতেন যে জায়গা থেকে মসীহ আসবেন তা অজানা হবে I যেহেতু তারা জানত তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন তারা ভাবল যে অতএব তিনি মসীহ হতে পারেন না I সুতরাং কোথা থেকে তারা এই বিশ্বাস পেল যে মসীহর উৎপত্তি জানা যাবে না? তাউরাত থেকে? নবীদের লেখা থেকে? আদৌ নয়! নবীরা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন মসীহ কোথা থেকে আসবেন I 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে নবী মীখা (পিবিইউএইচ) লিখেছিলেন যে   

2 কিন্তু বৈত্‌লেহম-ইফ্রাথা, তুমি যিহূদার সবচেয়ে ছোট শহর| তোমার পরিবার গোনার পক্ষে খুবই ছোট| কিন্তু আমার জন্য়ে “ইস্রাযেলের শাসক” তোমার মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে| তার উত্পত্তি প্রাচীনকাল থেকে বহু প্রাচীনকাল থেকে|

মীখা 5:2

এই ভবিষ্যদ্বাণীটি (আরও বিস্তৃত বিবরণের জন্য এখানে দেখুন) বলেছিলেন যে শাসক (= মসীহ) বেৎলেহেম থেকে আসবেন I আমরা মসীহর জন্মের মধ্যে  দেখলাম যে 700 বছর আগে তাঁর জন্মের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে তিনি বাস্তবিকই  বেৎলেহেমে জন্ম গ্রহণ করলেন I 

এটি শুধুমাত্র সেই সময়ের ধার্মিক পরম্পরা ছিল যা বলল যে মসীহর আগমনের স্থানটি অজানা হবে I তারা একটি ভুল করল কারণ তারা নবীদের লেখা বিচার না করে পরিবর্তে রাস্তার মতামত দিয়ে, তাদের সময়ের ধারণা দিয়ে – এমনকি ধার্মিক পন্ডিতদের ধারণা সমূহ দিয়ে বিচার করল I আমরা সেই একই ভুল করতে সাহস করব না I   

বিবরণটি চলতে থাকে…

  27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’
28 তখন যীশু মন্দিরে শিক্ষা দিতে দিতে বেশ চেঁচিয়ে বললেন, ‘তোমরা আমায় জান, আর আমি কোথা থেকে এসেছি তাও তোমরা জান৷ তবু বলছি, আমি নিজের থেকে আসি নি, তবে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য; আর তোমরা তাঁকে জান না৷
29 কিন্তু আমি তাঁকে জানি, কারণ তিনি আমায় পাঠিয়েছেন৷ আমি তাঁরই কাছ থেকে এসেছি৷’
30 তখন তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা করতে লাগল৷ তবু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না, কারণ তখনও তাঁর সময় আসে নি৷
31 কিন্তু সেই জনতার মধ্যে থেকে অনেকেই তাঁর ওপর বিশ্বাস করল; আর বলল, ‘মশীহ এসে কি তাঁর চেয়েও বেশী অলৌকিক চিহ্ন করবেন?’
32 ফরীশীরা শুনল য়ে সাধারণ লোক যীশুর বিষয়ে চুপি চুপি এই সব আলোচনা করছে৷ তখন প্রধান যাজকেরা ও ফরীশীরা যীশুকে ধরে আনবার জন্য মন্দিরের কয়েকজন পদাতিককে পাঠাল৷
33 তখন যীশু বললেন, ‘আমি আর অল্প কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে আছি; তারপর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে ফিরে যাব৷
34 তোমরা আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমার খোঁজ পাবে না, কারণ আমি য়েখানে থাকব তোমরা সেখানে আসতে পারো না৷’
35 ইহুদী নেতারা তখন পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘সে এখন কোথায় যাবে য়ে আমরা ওকে খুঁজলেও পাব না? গ্রীকদের শহরে য়ে সব ইহুদীরা বসবাস করছে, ও কি তাদের কাছে যাবে আর সেখানে গিয়ে গ্রীকদেব কাছে শিক্ষা দেবে? নিশ্চয়ই নয়৷
36 ও য়ে কথা বলল তার মানে কি য়ে, ‘তোমরা আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমায় পাবে না৷’ আর ‘আমি য়েখানে যাব, তোমরা সেখানে আসতে পার না?’
37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’
39 যীশু পবিত্র আত্মা সম্পর্কে এই কথা বললেন, ‘সেই পবিত্র আত্মা তখনও দেওযা হয় নি, কারণ যীশু তখনও মহিমান্বিত হন নি; কিন্তু পরে যাঁরা যীশুকে বিশ্বাস করে তারা সেই আত্মা পাবে৷’

যোহন 7:27-39

উৎসবের এই দিনে যিহূদিরা দক্ষিন যিরূশালেমের একটি বিশেষ ঝর্না থেকে জল নেয় এবং ‘জল দ্বারের’ মধ্য দিয়ে নগরে প্রবেশ করে এবং জলকে মন্দিরের বেদিতে নিয়ে যায় I এটি ছিল যখন তারা তাদের এই পবিত্র জলের অনুষ্ঠানটি করছিলেন তখন ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) চীৎকার করে বললেন, যেমন তিনি আগে বলেছিলেন, যে তিনি জীবন্ত জলের উৎস I এটি বলার দ্বারা তিনি তাদের স্মরণ করাচ্ছেন আমাদের হৃদয়ের মধ্যে তৃষ্ণা পাপের দিকে নিয়ে যায় যার সম্বন্ধে নবীরা লিখেছিলেন I

  40 সমবেত জনতা যখন এই কথা শুনল তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী৷’
41 অন্যরা বলল, ‘ইনি মশীহ (খ্রীষ্ট)৷’এ সত্ত্বেও কেউ কেউ বলল, ‘খ্রীষ্ট গালীলী থেকে আসবেন না৷
42 শাস্ত্রে কি একথা লেখা নেই য়ে খ্রীষ্টকে দাযূদের বংশধর হতে হবে; আর দাযূদ য়ে বৈত্‌লেহম শহরে থাকতেন, তিনি সেখান থেকে আসবেন?’
43 তাঁর জন্য এইভাবে লোকদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল৷
44 কেউ কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইল; কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না৷

যোহন 7:40-44

পিছনে তখন, ঠিক আগের মতন, লোকেরা নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) সম্বন্ধে বিভক্ত ছিল I যেমন আমরা উপরে দেখলাম, নবীরা মসীহর বেৎলেহেমে (যেখানে ঈসা জন্মগ্রহণ করেছিলেন) জন্ম হওয়ার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন I তবে গালীলি থেকে মসীহর না আসার এই প্রশ্নটি সম্বন্ধে কি? 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে নবী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) লিখেছিলেন যে 

  ন্তু যে বিপদে পড়েছিল তার জন্য কোন অন্ধকার থাকবে না| লোকরা অতীতে সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশকে কোন গুরুত্বই দিত না| কিন্তু পরবর্তী-কালে সমুদ্রের নিকটবর্তী দেশ, য়র্দন নদীর অপর পারের দেশ এবং অ-ইহুদীদের মহকুমাটিকে ঈশ্বর খুব মহান করবেন|
2 এই সব দেশের লোক অন্ধকারে বাস করত| কিন্তু তারা মহা-আলোকটি দেখতে পাবে| ঐসব লোক কবরের মত অন্ধকার জায়গায় বাস করত| কিন্তু “মহা-আলোক” তাদের ওপর কিরণ দেবে|

যিশাইয় 9:1-2

নবীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মসীহ তাঁর শিক্ষাদান (একটি আলোর উন্মেষ হয়েছে) ‘গালীলিতে’ শুরু করবেন – সেই বিশেষ স্থান যেখানে ঈসা বাস্তবিকই তাঁর শিক্ষাদান আরম্ভ করেছিলেন এবং তাঁর অলৌকিক কার্যের বেশির ভাগ সম্পন্ন করেছিলেন I আবার লোকেদের ভুল হল কারণ তারা সতর্কভাবে নবীদের অধ্যয়ন করল না এবং পরিবর্তে যা সাধারণভাবে স্বীকৃত হয়েছিল তার উপর বিশ্বাস করল I  

  45 তখন মন্দিরের সেই পদাতিকরা, প্রধান যাজক ও ফরীশীদের কাছে ফিরে গেল৷ তাঁরা মন্দিরের সেই পদাতিককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা তাঁকে ধরে আনলে না কেন?’
46 পদাতিকরা বলল, ‘উনি য়ে সব কথা বলছিলেন কোন মানুষ কখনও সেই ধরণের কথা বলেনি!’
47 তখন ফরীশীরা বললেন, ‘তাহলে তোমরাও কি ঠকে গেলে?
48 ফরীশী বা নেতাদের মধ্যে এমন কেউ কি ছিলেন যিনি তাঁর ওপর বিশ্বাস করেছেন?
49 কিন্তু এইসব লোকেরা বিধি-ব্যবস্থার কিছুই জানে না৷ তারা অভিশপ্ত এবং ঈশ্বরের কৃপা থেকে বঞ্চিত৷’
50 তখন এই নেতাদের একজন, নীকদীম তাঁদের বললেন, এই নীকদীম ফরীশীদেরই মধ্যে একজন, ইনি আগে একবার যীশুর কাছে গিয়েছিলেন৷
51 ‘কোন ব্যক্তির কথা না শুনে আমরা আমাদের বিধি-ব্যবস্থায় তার বিচার করতে পারি না৷ সে কি করেছে তা না জেনে আমরা তার বিচার করতে পারি না৷’
52 এর উত্তরে তারা তাকে বলল, ‘তুমি নিশ্চয়ই গালীলী থেকে আসো নি৷ তাই না? শাস্ত্র পড়ে দেখো তাহলে জানবে য়ে গালীলী থেকে কোন ভাববাদীর আবির্ভাব হয় নি৷’

যোহন 7:45-52

ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণরূপে ভুল ছিলেন যেহেতু যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে আলোকিতকরণ ‘গালীলি’ থেকে আসবে I

এই বিবরণ থেকে দুটি পাঠ মনে আসে I প্রথমত অত্যন্ত আগ্রহের সাথে আমাদের ধার্মিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত করা খুব সহজ তবে অল্প জ্ঞানের সাথে I এই রায়টি কি আমাদের সম্বদ্ধে সত্য?

2 আমি ইহুদীদের বিষয়ে একথা বলতে পারি য়ে ঈশ্বরের বিষয়ে তাদের উত্‌সাহ আছে; কিন্তু এটা তাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নেই৷

রোমীয় 10:2

যথোচিতভাবে জ্ঞাত হতে নবীদের লেখাগুলোকে আমাদের শেখা দরকার I

দ্বিতীয়ত, নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) একটি প্রস্তাব দেন I তিনি  তাদের হাজ্জে বললেন যে

  37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’

যোহন 7:37-38

এই প্রস্তাবটি ‘যে কোনো কাউকে’ (এইরূপে না কেবল যিহূদিদের, বা খ্রীষ্টানদের ইত্যাদি) দেওয়া হয় যারা ‘তৃষ্ণার্ত হয়’ I আপনি কি তৃষ্ণার্ত? (এখানে) I জ্যামজ্যাম কুয়ো থেকে জল পান করা ভাল I মসীহর থেকেও জল পান করা কেন নয় যিনি আমাদের অন্তরের তৃষ্ণাকে তৃপ্ত করতে পারেন?   

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএচ) খুঁজতে আসেন … হারানোদের

সুরাহ ফুসসিলাত (সুরা 41 – বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়) বিচারের দিনের দিকে দেখে যখন লোকেদেরকে এমনকি তাদের নিজের ত্বককেও তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষীর জন্য সারিবদ্ধভাবে পদ যাত্রা করানো হবে I তাদেরকে বলা হবে:

 তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।

সুরাহ ফুসসিলাত 41:23

23 তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।

তাদের চূড়ান্ত রায় হবে

 আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত।

ফুসসিলাত 41:25

25 আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত।

এটি একটি শক্তিশালী অনুস্মারক যে আমাদের মধ্যে অনেকেরই ‘সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে গেছে’ I এটি একটি সমস্যার সৃষ্টি করে যেমনভাবে আল-মু’মিনূম (সুরা 23 – বিশ্বাসীগণ) ব্যাখ্যা করেছে  

যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম,এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।

সুরা আল-মু’মিনূম 23:102-103

102 যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম, 103 এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।

যাদের ভাল কাজের পাল্লা ভারী তারা পরিত্রাণের একটি আশা রাখে, কিন্তু তাদের জন্য যাদের পাল্লা হালকা – তারা কোনো আশা ছাড়াই ‘হারিয়ে যায়’ I এবং সুরা আল-মু’মিনূম বলে তারা বিনাশের মধ্যে হারিয়ে যায় I এইরূপে যারা যারা ধার্মিক এবং শুদ্ধ (মুক্তির প্রত্যাশায়) এবং যারা অশুচি সেই লোকেদের মধ্যে একটি বিভাজন হয় I ঈসা আল মসীহ নির্দিষ্টভাবে অশুচিকে সাহায্য করতে এসেছিলেন – সুরা ফুসসিলাত এবং সুরাহ-আল মু’মিনূমের হুঁশিয়ারি অনুসারে যারা হারিয়ে গেছে তারা নরকের জন্য নিরূপিত হয়েছে I    

প্রায়শই, ধার্মিক লোকেরা তাদের থেকে আলাদা থাকবে যারা ধার্মিক নয় যাতে করে তারা অশুচি না হয় I নবী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) সময়ে শারিয়া আইনের শিক্ষকদের সম্পর্কে এটি সত্য ছিল I তারা অশুচি থেকে নিজদেরকে আলাদা করে রাখতেন যাতে করে তারা খাঁটি থাকতে পারেন I তবে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিখিয়েছিলেন যে আমাদের শুদ্ধতা এবং পরিচ্ছনতা আমাদের হৃদয়ের একটি সর্বপ্রথম বিষয় I এইরূপে তিনি তাদের সাথে হবেন যারা বিধিগতভাবে পরিচ্ছন্ন নয় I এখানে ইঞ্জিল পাপীদের সাথে তাঁর যোগসূত্র এবং শরিয়া আইন সম্পর্কে শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া উভয়কেই লিপিবদ্ধ করেছে I 

নেক কর আদায়কারী ও পাপী লোকেরা প্রায়ই যীশুর কথা শোনার জন্য আসত৷
2 এতে ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষকরা এই বলে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগল, ‘এই লোকটা জঘন্য পাপী লোকদের সঙ্গে মেলামেশা ও খাওযা দাওযা করে৷’

লুক 15:1-2

তাহলে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) কেন স্বাগত জানন এবং পাপীদের সঙ্গে ভোজন করেন? তিনি কি পাপ উপভোগ করেন? নবী তাঁর সমালোচকদের তিনটি দৃষ্টান্ত বা গল্প বলার দ্বারা জবাব দেন I 

হারানো মেষের দৃষ্টান্ত

  3 তখন যীশু তাদের কাছে এই দৃষ্টান্ত দিলেন,
4 ‘যদি তোমাদের মধ্যে কারোর একশোটি ভেড়া থাকে, তার মধ্যে থেকে একটা হারিয়ে যায়, তবে সে কি মাঠের মধ্যে বাকি নিরানব্বইটা রেখে য়েটা হারিয়ে গেছে তাকে না পাওযা পর্যন্ত তার খোঁজ করবে না?
5 আর যখন সে ঐ ভেড়াটাকে খুঁজে পায়, তখন তাকে আনন্দের সঙ্গে কাঁধে তুলে নেয়৷
6 তারপর বাড়ি এসে তার বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলে, ‘এস, আমার সঙ্গে তোমরাও আনন্দ কর, কারণ আমার য়ে ভেড়াটা হারিয়ে গিয়েছিল তাকে আমি খুঁজে পেয়েছি৷’
7 আমি তোমাদের বলছি, ঠিক সেইভাবে নিরানব্বই জন ধার্মিক, যাদের মন পরিবর্তনের প্রযোজন নেই তাদের থেকে একজন পাপী যদি ঈশ্বরের কাছে মন ফিরায়, তাকে নিয়ে স্বর্গে মহানন্দ হয়৷

লুক 15:3-7

এই গল্পের মধ্যে নবী (পিবিইউএইচ) মেষের সংগে আমাদের তুলনা করেছেন যখন তিনি একজন মেষেদের পালক হন I যে কোনো মেষপালকের একটি হারানো মেষকে খুঁজতে যাওয়ার মতন, তিনি স্বয়ং হারানো লোকেদের খুঁজে পেতে বাইরে বেড়িয়েছেন I আপনি হয়ত কোনো পাপের মধ্যে ধৃত হয়েছেন – এমনকি গুপ্ত একটি যা আপনার পরিবারের কেউ জানে না I বা হয়ত আপনার জীবন, এর সমস্ত সমস্যাগুলোর সাথে এতটাই বিভ্রান্তিকর যে এটি আপনাকে হারানো অনুভব করতে ছেড়ে দিচ্ছে I এই গল্পটি আশা দেয় কারণ আপনি জানতে পারেন যে নবী (পিবিইউএইচ) আপনাকে খুঁজে পেতে এবং সাহায্য করতে চাইছেন I ক্ষতি আপনাকে ধ্বংস করার পূর্বেই তিনি আপনাকে উদ্ধার করতে চান I    .

তারপরে তিনি দ্বিতীয় গল্পটি বললেন I

হারানো মুদ্রার দৃষ্টান্ত

  8 ধর, কোন একজন স্ত্রীলোকের দশটা রূপোর সিকির একটা হার ছিল৷ তার মধ্য থেকে সে যদি একটা হারিয়ে ফেলে, তাহলে সে কি প্রদীপ জ্বেলে সেই সিকিটি না পাওযা পর্যন্ত ঘরের প্রতিটি জায়গা ভাল করে ঝাঁট দিয়ে খুঁজে দেখবে না?’
9 আর সে তা খুঁজে পেলে তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলবে, ‘এস, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার য়ে সিকিটি হারিয়ে গিয়েছিল তা আমি খুঁজে পেয়েছি৷’
10 আমি তোমাদের বলছি, ঠিক এইভাবে একজন পাপী যখন মন-ফিরায়, তখন ঈশ্বরের স্বর্গদূতদের সামনে আনন্দ হয়৷’

লুক 15:8-10

এই গল্পের মধ্যে আমরা মূল্যবান তবে হারানো মুদ্রা এবং তিনি একজন যিনি হারানো মুদ্রার অন্বেষণ করছেন I বিড়ম্বনা যে যদিও মুদ্রাটি বাড়ির কোথাও হারিয়ে গেছে, এ স্বয়ং ‘জানে’ না যে এ হারিয়ে গেছে I এ হারানোকে অনুভব করে না I এ হ’ল মহিলাটি যে হারানোর বোধকে অনুভব করে এবং তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাড়িতে ঝাড়ু দেয় নিচে উপরে সর্বত্র সমস্তকিছু খোঁজে, ততক্ষণ সন্তুষ্ট হয় না যতক্ষণ না সে মূল্যবান মুদ্রাটিকে খুঁজে পায় I আপনি হয়ত ‘হারানো’ অনুভব করেন না I কিন্তু সত্য হ’ল যে আমাদের সকলের অনুতাপ করা প্রয়োজন, এবং যদি আপনি না করে থাকেন তবে আপনি হারিয়ে গেছেন, আপনি এটি অনুভব করেন কিম্বা না করেন I নবীর দৃষ্টিতে মূল্যবান কিন্তু হারানো এবং তিনি হারানোকে অনুভব করেন বলে অনুসন্ধান করেন এবং আপনার কাছে অনুতাপকে পরিষ্কার করতে কার্য করেন I      

তাঁর তৃতীয় গল্পটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল I

হারানো পুত্রের দৃষ্টান্ত

  1 এরপর যীশু বললেন, ‘একজন লোকের দুটি ছেলে ছিল৷
12 ছোট ছেলেটি তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, সম্পত্তির য়ে অংশ আমার ভাগে পড়বে তা আমায় দিয়ে দাও৷’ তখন বাবা দুই ছেলের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন৷
13 কিছু দিন পর ছোট ছেলে তার সমস্ত কিছু নিয়ে দূর দেশে চলে গেল৷ সেখানে সে উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন করে সমস্ত টাকা পয়সা উড়িয়ে দিল৷
14 তার সব টাকা পয়সা খরচ হয়ে গেলে সেই দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল আর সেও অভাবে পড়ল৷
15 তাই সে সেই দেশের এক ব্যক্তির কাছে দিন মজুরীর একটা কাজ চাইল৷ সেই ব্যক্তি তাকে তার শুযোর চরাবার জন্য মাঠে পাঠিয়ে দিল৷
16 শুযোর য়ে শুঁটি খায় তা খেয়ে সে তার পেট ভরাতে চাইত, কিন্তু কেউ তাকে তাও দিত না৷
17 শেষ পর্যন্ত একদিন তার চেতনা হল, আর সে বলল, ‘আমার বাবার কাছে কত মজুর পেট ভরে খেতে পায় আর এখানে আমি খিদের জ্বালায় মরছি৷
18 আমি উঠে আমার বাবার কাছে যাব, তাকে বলব, বাবা, আমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে অন্যায় পাপ করেছি৷
19 তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার কোন য়োগ্যতা আর আমার নেই৷ তোমার চাকরদের একজনের মতো করে তুমি আমায় রাখ!’
20 এরপর সে উঠে তার বাবার কাছে গেল৷‘সে যখন বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে আছে, এমন সময় তার বাবা তাকে দেখতে পেলেন, বাবার অন্তর দুঃখে ভরে গেল৷ বাবা দৌড়ে গিয়ে ছেলের গলা জড়িয়ে ধরে তাকে চুমু খেলেন৷
21 ছেলে তখন তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, আমি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ও তোমার কাছে অন্যায় পাপ করেছি৷ তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার য়োগ্যতা আমার নেই৷
22 কিন্তু তার বাবা চাকরদের ডেকে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি কর, সব থেকে ভাল জামাটা নিয়ে এসে একে পরিয়ে দাও৷ এর হাতে আংটি ও পায়ে জুতো পরিয়ে দাও৷
23 হৃষ্টপুষ্ট একটা বাছুর নিয়ে এসে সেটা কাট, আর এস, আমর সবাই মিলে খাওযা দাওযা করি, আনন্দ করি!

লুক 15:11-32

এই গল্পের মধ্যে আমরা হয় জৈষ্ঠ, ধার্মিক পুত্র, বা কনিষ্ঠ পত্র যে দুরে চলে যায় I যদিও জৈষ্ঠ পুত্র সমস্ত ধার্মিক বিধিগুলোকে পালন করেছে সে কখনও পিতার প্রেমময় হৃদয়কে বুঝতে পারে নি I কনিষ্ঠ পুত্রটি ভাবল বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় সে স্বাধীনতা লাভ করছে কিন্তু নিজেকে অনাহার এবং অপমানের দ্বারা পরিবেষ্টিত দেখল I তাপরে সে ‘তার জ্ঞানে ফিরে এল’ এবং উপলব্ধি করল সে তার পিতার কাছে ফিরে যেতে পারে I ফিরে যাওয়া প্রকাশ করে যে প্রথম স্থানে তার ছেড়ে যাওয়া অন্যায় ছিল, এবং এটিকে স্বীকার করতে নম্রতার প্রয়োজন হত I এটি আমাদের কাছে দেওয়া একটি চিত্র আমাদের বুঝতে সাহায্য করে ‘অনুতাপ’ বলতে আসলে কি বোঝায় যাকে এত সাহসিকতার সঙ্গে নবী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) শিক্ষা দিয়েছিলেন I     

যখন সে তার অহংকার গলাধকরণ করল এবং তার পিতার কাছে ফিরে এল সে যে ভালবাসা আশা করতে পেরেছিল তার থেকে অনেক বেশি পাওয়া গেল I পাদুকা, বস্ত্র, আংটি, ভোজ, আশির্বাদ, স্বীকৃতি – এই সমস্ত ভালবাসার কথা বলে I এই গল্পটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে আল্লাহ আমাদের তত বেশি  ভালবাসেন, আমাদেরকে চাইছেন তাঁর কাছে ফিরে যাই I এটির জন্য প্রয়োজন আমরা ‘অনুতাপ’ করি তবে আমরা যখন করব আমরা তাঁকে দেখব আমাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত I এটাই যা নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিউএইচ) চান আমরা শিখি I আপনি কি সমর্পণ করতে এবং এই প্রকারের প্রেমকে স্বীকার করতে পারবেন?   

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) করুণা প্রসার করেন

আপন কি কখনও শরিয়া আইনের কোনো আজ্ঞা  ভঙ্গ  করেছেন? আমাদের মধ্যে কেউই এটি করতে চায় না, কিন্তু বাস্তবতা হ’ল যে আমাদের মধ্যে অনেকে আমাদের ব্যর্থতাকে লুকোচ্ছে, এই আশায় যে অন্যরা আমাদের পাপ আবিষ্কার করবে না এবং আমাদের লজ্জাকে প্রকাশ করবে না I কিন্তু কি হয় যদি আপনার ব্যর্থতা আবিষ্কৃত হয়, তখন আপনি কি আশা করেন? 

যেমন সূরা লোকমান (সূরা 31 – লোকমান আমাদের মনে করিয়ে দেয়

 এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত।হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।

সূরা লোকমান 31:2-3

এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত। হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।

সূরা লোকমান ঘোষনা করে যে ‘মঙ্গলকারী’ ‘করুণার’ জন্য আশা করতে  পারে I আর তাই (সূরা আল-হিজর 15 – শিলা পাথর) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে  

 তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?

সুরা আল-হিজর 15:56

      তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?

যারা বিপথগামী হয়েছে তাদের কি হবে? ঈসা আল মসীহর মিশন তাদের জন্য ছিল যারা বিপথগামী হয়েছে এবং অপ্রাপ্য করুণার প্রয়োজন আছে I নবী পিবিইউএইচ এর এটিকে কারোর কাছে প্রদর্শন করার সুযোগ ছিল যে লজ্জাজনকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল I

এটি নবী ঈসা আল মসীহর (পিবইউএইচ) শিক্ষাদানের সময়ে এক যুবতী মহিলার ক্ষেত্রে ঘটেছিল I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করে I    

  2 খুব ভোরে তিনি আবার মন্দিরে ফিরে গেলে লোকেরা আবার তাঁর কাছে এসে জড়ো হল, তখন তিনি সেখানে বসে তাদের কাছে শিক্ষা দিতে শুরু করলেন৷
3 সেই সময় ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও ফরীশীরা, ব্যভিচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এমন একজন স্ত্রীলোককে তাঁর কাছে নিয়ে এল৷ তারা সেই স্ত্রীলোককে তাদের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যীশুকে বলল,
4 ‘গুরু, এই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার করার সময় হাতে নাতেই ধরা পড়েছে৷
5 বিধি-ব্যবস্থার মধ্যে মোশি আমাদের বলছেন, এই ধরণের স্ত্রীলোককে য়েন আমরা পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলি৷ এখন আপনি এবিষয়ে কি বলবেন?’
6 তাঁকে পরীক্ষা করার ছলেই তারা একথা বলছিল, যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তারা খুঁজে পায়৷ কিন্তু যীশু হেঁট হয়ে মাটিতে আঙ্গুল দিয়ে লিখতে লাগলেন৷
7 ইহুদী নেতারা যখন বার বার তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে য়ে নিস্পাপ সেই প্রথম একে পাথর মারুক৷’
8 এরপর তিনি আবার হেঁট হয়ে আঙ্গুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন৷
9 তারা ঐ কথা শোনার পর বুড়ো লোক থেকে শুরু করে সকলে এক এক করে সেখান থেকে চলে গেল৷ কেবল যীশু সেখানে একা থাকলেন আর সেই স্ত্রীলোকটি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল৷
10 তখন যীশু মাথা তুলে সেই স্ত্রীলোকটিকে বললেন, ‘হে নারী, তারা সব কোথায়? কেউ কি তোমায় দোষী সাব্যস্ত করল না?’
11 স্ত্রীলোকটি উত্তর দিল, ‘কেউ করে নি, মহাশয়৷’ তখন যীশু বললেন, ‘আমিও তোমায় দোষী করছি না, যাও এখন থেকে আর পাপ কোরো না৷’

যোহন: 2-11

ব্যাভিচারের বিশেষ ক্রিয়ার মধ্যে এই মহিলাকে ধরা হয়েছিল এবং নবী মশির (পিবিইউএইচ) শারিয়া আইনের শিক্ষকরা চাইলেন তাকে পাথর মারা হোক, তবে তারা তাকে প্রথমে নবী ঈসা আল মসীহর কাছে নিয়ে গেলেন দেখতে যে তিনি কি নির্ণয় নেবেন I তিনি কি আইনের সত্যতাকে তুলে ধরবেন? ঘটনাচক্রে আইন অনুসারে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই প্রস্তরাঘাতের অধীনে ছিল, কিন্তু কেবলমাত্র মহিলাটিকে শাস্তির জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল I     

আল্লাহর বিচার এবং মানবজাতির পাপ

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) আইনের উল্লংঘন করেন নি – এটি একটি মাপদণ্ড যাকে আল্লাহর দ্বারা দেওয়া হয়েছিল এবং নিখুঁত বিচারকে প্রতিফলিত করেছিল I তবে তিনি বললেন একমাত্র তারাই প্রথমে পাথর ছুঁড়তে পারবে যাদের মধ্যে কোনো পাপ নেই I শিক্ষকরা যখন এই বিষয়টি চিন্তা করছিলেন তখন তাদের উপরে যাবুরের নিম্নলিখিত বিবৃতিটির বাস্তবতা স্থির হয়েছিল I 

  2 ওদের মধ্যে ঈশ্বরের সাহায্য কামনা করে এমন দেখবার জন্য প্রভু স্বর্গ থেকে লোকদের প্রতি লক্ষ্য রেখেছিলেন| (জ্ঞানী লোকরা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরমুখী হয়|)
3 কিন্তু প্রত্যেকটি লোকই ঈশ্বরের থেকে বিমুখ হয়ে গেছে| সব লোকই, মন্দ লোকে পরিণত হয়েছে| এমনকি একটা লোকও ভালো কাজ করে নি!

গীতসংহিতা 14:2-3

এর অর্থ যে এটি কেবল অবিশ্বাসী, কাফের এবং বহুদেববাদীরা নয় যারা পাপ করে – এমনকি যারা আল্লাহ এবং তার দুতের উপরে বিশ্বাস করে তারাও পাপ করে I আসলে, এই আয়াতগুলো অনুসারে, আল্লাহ যখন মানবজাতির উপরে দেখেন তিনি এমনকি ‘একজনকেও’ ভাল করতে দেখেন না I    

মশির (পিবিইউএইচ) শরিয়া আইন পরম বিচারের উপরে ভিত্তিশীল মানবজাতির সঙ্গে ঈশ্বরের ব্যবস্থা ছিল, এবং তারা এটিকে অনুসরণ করেছিল যাতে ধার্মিকতা পেতে পারে I তবে মানদণ্ড নিখুঁত ছিল, এমনকি একটি বিচ্যুতিও অনুমোদিত নয় I     

আল্লাহর করুণা

তবে যেহেতু ‘সবাই দুষিত হয়ে গেছে’, অন্য একটি ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল I এই ব্যবস্থা যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে বিচার হবে না – কারণ লোকেরা তাদের আইনানুগ বাধ্যতাকে উপরে তুলে ধরতে পারে নি – সুতরাং এটিকে আল্লাহর আর একটি চরিত্রের উপরে প্রতিষ্ঠিত হতে ছিল – করুণার উপরে I তিনি বাধ্যতার স্থানে করুণাকে বাড়িয়ে তুলবেন I নবী মশির (পিবিইউএইচ) ব্যবস্থার মধ্যে এটিকে প্রত্যাশিত করা হয়েছিল যখন নিস্তারপর্বের মেষ তাদের প্রতি করুণা এবং জীবন অনুমোদন করল যারা তাদের চৌকাঠের উপরে রক্ত এঁকেছিল এবং হারোণের (পিবিউএইচ) গরুর সাথে (যেটিকে সুরাহ 2 –বাকরার – এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে) I এটিকে এমনকি তার পূর্বে আদমের প্রতি বস্ত্রের করুণা, হাবিলের (পিবিইউএইচ) বলিদান, এবং নবী নোহকে (পিবিইউএইচ) প্রদত্ত করুণার মধ্যে প্রত্যাশিত করা হয়েছিল I এছাড়াও এটিকে যাবুরের মধ্যে প্রত্যাশিত করা হয়েছিল যখন আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিলেন যে    

আমি এক দিনের মধ্যে এই দেশ থেকে পাপ অপসারণ করব

সখরিয় 3:9

এখন নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এটিকে এমন কারোর কাছে প্রসারিত করলেন যার কাছে আর কোনো আশা ছিল না কেবল করুনা ছাড়া I এটি চিত্তাকর্ষক যে এই মহিলাটির ধর্ম সম্পর্কে কোনো উল্লেখ বা প্রয়োজনীয়তা তৈরী করা হয় নি I আমরা জানি নবী ঈসা আল মসীহ পাহাড়ের উপরে উপদেশ দিয়েছিলেন যে     

7 যাঁরা দয়াবান তারা ধন্য, কারণ তারা দয়া পাবে৷ যাদের অন্তর পরিশুদ্ধ তারা ধন্য, কারণ তারা ঈশ্বরের দর্শন পাবে৷  

মথি 5:7

এবং

  রের বিচার করো না, তাহলে তোমার বিচারও কেউ করবে না৷
2 কারণ য়েভাবে তোমরা অন্যর বিচার কর, সেই ভাবে তোমাদেরও বিচার করা হবে; আর য়েভাবে তুমি মাপবে সেই ভাবে তোমার জন্যও মাপা হবে৷

মথি 7:1-2

করুণা পেতে করুণা প্রসারিত করুন

আপনি এবং আমিও বিচারের দিনে আমাদের প্রতি প্রসারিত করুণার প্রয়োজন  বোধ করি I নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এটিকে এমন কারোর প্রতি প্রসারিত করতে ইচ্ছুক ছিলেন যে স্পষ্টভাবে আজ্ঞা সমূহের উল্লঙ্ঘন করেছিল – যার এটিকে পাওয়ার যোগ্যতা ছিল না I তবে তার যা প্রয়োজন ছিল তা হ’ল আমাদের চারপাশে যারা আছে আমরা তাদের প্রতি করুণা প্রসার করি I নবীর কথা অনুসারে, আমাদের দ্বারা প্রসারিত করুণার স্তর আমাদের দ্বারা প্রাপ্য করুণাকে নির্ধারণ করবে I এই কারণে আমরা অন্যদের পাপের এত দ্রুত বিচার করি যে আমাদের চারপাশে এত বেশি দ্বন্দের সৃষ্টি হয় I যারা আমাদের আহত করেছে তাদের প্রতি করুণা প্রসার করা আমাদের পক্ষে বুদ্ধিমানের কাজ হবে I আসুন আমরা ঈশ্বরকে বলি আমাদের সাহায্য করতে সেই রকম লোক হতে, যারা ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) ন্যায়, তাদের প্রতি করুণা প্রসার করেছিলেন যারা এর যোগ্য ছিল না, যাতে আমরাও, যারা অযোগ্য, আমাদের এটির প্রয়োজনে, করুণা পেতে পারি I তখন আমরা ইঞ্জিলের সুসমাচারের মধ্যে আমাদের প্রদত্ত করুণাকে বুঝতে প্রস্তুত হব I     

ভাববাদী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) – এবং দেখায় – প্রকৃত শহীদ

সুরাহ আল-মুনাফিকুম (সুরাহ 63 – ভণ্ডরা) এমন কিছু বর্ণনা করে যারা ভাববাদী মোহম্মদকে পিবিইউএইচ অনুগ্রহপূর্বক সাক্ষী দিয়েছিল কিন্তু পরে তাদেরকে নিরর্থক মিথ্যাবাদী বলে দেখা গিয়েছিল I  

 মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলেঃ আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।তারা তাদের শপথসমূহকে ঢালরূপে ব্যবহার করে। অতঃপর তারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করছে, তা খুবই মন্দ।

সুরাহ আল-মুনাফিকুন 63:1-2

ভণ্ডদের বিপরীত, সুরাহ আজ-জুমুর (সুরাহ 39 – সেনা) সৎ ‘সাক্ষীদের’ বর্ণনা করে I 

     পৃথিবী তার পালনকর্তার নূরে উদ্ভাসিত হবে, আমলনামা স্থাপন করা হবে, পয়গম্বরগণ ও সাক্ষীগণকে আনা হবে এবং সকলের মধ্যে ন্যায় বিচার করা হবে-তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।

সুরাহ আজ-জুমার 39:69

ভাববাদী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সময়ে, একজন প্রকৃত স্বাক্ষীকে এক ‘শহীদ’ বলে ডাকা হত I একজন শহীদ এমন একজন ছিলেন যিনি ঘটনার সত্যকে প্রতক্ষ্য করেছিলেন I ঈসা আল মসীহ তার শিষ্যদের ‘শহীদ’ বলে ডাকতেন I  

  8 কিন্তু যখন পবিত্র আত্মা তোমাদের কাছে আসবেন, তখন তোমরা শক্তি পাবে আর তোমরা আমার সাক্ষী হবে৷ লোকদের কাছে তোমরা আমার কথা বলবে৷ প্রথমে তোমরা জেরুশালেমের লোকদের কাছে সাক্ষ্য দেবে তারপর সমগ্র যিহূদিযা ও শমরিযায় এমনকি জগতের শেষ সীমানা পর্যন্ত তোমরা আমার কথা বলবে৷’

প্রেরিত 1:8

‘শহীদ’ শব্দটিকে কেবল তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হত যারা সৎ প্রত্যক্ষদর্শী ছিল I 

তবে ‘শহীদ’ শব্দটি আজকাল প্রচুর ব্যবহৃত হয় I আমি এটিকে শুনি যখন চলমান যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটিতে কেউ নিহত হয়, বা যোদ্ধারা একে অপরকে হত্যা করার সময়ে গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কিছু বিরোধে কেউ মারা যায় I তাকে সাধারণতঃ একজন ‘শহীদ’ বলে তার পক্ষের (এবং হয়ত একজন কাফির অপর পক্ষের) দ্বারা উল্লেখ করা হয় I     

তবে এটি কি সঠিক? ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে ঈসা আল মসীহর সময়ে কিভাবে ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) শহীদ হয়েছিলেন এবং তিনি একটি মহান উদাহরণ দিলেন কিভাবে এটিকে বুঝতে হয় I এখানে এই ঘটনাগুলোকে ইঞ্জিল যেভাবে লিপিবদ্ধ করেছে:

  ই সময় গালীলের শাসনকর্তা হেরোদ, যীশুর বিষয়শুনতেপেলেন৷
2 তিনি তাঁরচাকরদের বললেন, ‘এই লোক নিশ্চয়ই বাপ্তিস্মদাতা য়োহন৷ সে নিশ্চয়ইমৃত লোকদের মধ্য থেকে বেঁচে উঠেছে৷ আর সেইজন্যইএইসব অলৌকিক কাজ করতে পারছে৷
3 এই হেরোদই য়োহনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারের মধ্যে শেকলে বেঁধে রেখেছিলেন৷ তাঁর ভাই ফিলিপেরস্ত্রী হেরোদিয়ার অনুরোধেই তিনি একাজ করেছিলেন৷
4 কারণ য়োহন হেরোদকে বার-বার বলতেন, ‘হেরোদিয়াকে তোমার ঐভাবে রাখা বৈধ নয়৷’
5 হেরোদ এই জন্য য়োহনকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি লোকদের ভয় করতেন, কারণ সাধারণ লোক য়োহনকে ভাববাদী বলে মানত৷
6 এরপর হেরোদের জন্মদিন এল, সেইউত্‌সবে হেরোদিয়ার মেয়ে, হেরোদ ও তাঁর অতিথিদের সামনে নেচে হেরোদকে খুব খুশী করল৷
7 সেজন্য হেরোদ শপথ করে বললেন য়ে, সে যা চাইবে তিনি তাকে তাইদেবেন৷
8 মেয়েটি তার মায়ের পরামর্শ অনুসারে বলল, ‘থালায় করে বাপ্তিস্মদাতা য়োহনের মাথাটা আমায় এনে দিন৷’
9 যদিও রাজা হেরোদ এতে খুব দুঃখিত হলেন, তবু তিনি শপথ করেছিলেন বলে এবং যাঁরা তাঁর সঙ্গে খেতে বসেছিলেন তারা সেই শপথের কথা শুনেছিলেন বলে সম্মানের কথা ভেবে তিনি তা দিতে হুকুম করলেন৷
10 তিনি লোক পাঠিয়ে কারাগারের মধ্যে য়োহনের শিরশ্ছেদ করালেন৷
11 এরপর য়োহনের মাথাটি থালায় করে নিয়ে এসে সেই মেয়েকে দেওয়া হলে, সে তা নিয়ে তার মায়ের কাছে গেল৷
12 তারপর য়োহনের অনুগামীরা এসে তাঁর দেহটি নিয়ে গিয়ে কবর দিলেন৷ আর তাঁরা যীশুর কাছে গিয়ে সব কথা জানালেন৷

মথি 14:1-12

প্রথমে আমরা দেখি কেন ইয়াহিয়াকে (পিবিইউএইচ) গ্রেফতার করা হয়েছিল I স্থানীয় রাজা (হেরোদ) তার ভাইয়ের স্ত্রীকে গহণ করেছিলেন এবং তাকে তার নিজের স্ত্রী বানিয়েছিলেন – মশির (পিবিইউএইচ)শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে I ভাববাদী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) প্রকাশ্যে বললেন যে এটি অন্যায় ছিল তবে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজা ভাববাদীর কথা শোনার পরিবর্তে তাকে গ্রেফতার করলেন I স্ত্রীটি যে এই নতুন বিবাহের থেকে উপকৃত হয়েছিল, যেহেতু সে এখন শক্তিশালী রাজার স্ত্রী হ’ল, ভাববাদীকে চুপ করাতে চাইল তাই সে একটি ভোজ সভায় তার স্বামী রাজা এবং অতিথিদের সামনে তার উঠতি কন্যাকে দিয়ে এক কামুক নৃত্য পরিবেশন করাতে ষড়যন্ত্র করলো I তিনি কন্যার অনুষ্ঠান দেখে এত মুগ্ধ হয়ে গেলেন যে তিনি তাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন যা সে চাইবে তাই তাকে   দেবেন I তার মা তাকে ভাববাদী ইয়াহিয়ার (পিবিইউএইচ) মস্তক চাইতে বললেন I অতএব তার সত্য বলার কারণে ভাববাদী ইয়াহিয়াকে কারারুদ্ধ করা হল, মস্তক ছিন্ন করা হ’ল শুধুমাত্র এই কারণে একটি মেয়ের কামুক নৃত্য রাজাকে তার অতিথিদের সামনে ফাঁদে আটকাল I  

এছাড়া আমরা দেখি যে ভাববাদী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) কারোর সাথে লড়াই করছিলেন না, নাতো রাজাকে বধ করতে চেষ্টা করছিলেন I তিনি শুধুমাত্র সত্য কথা বলছিলেন I একজন দুর্নীতিগ্রস্ত রাজাকে সাবধান করতে ভীত ছিলেন না এমকি যদিও তার কাছে এই রাজার শক্তির বিরুদ্ধে কোনো পার্থিব শক্তি ছিল না I ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) কাছে প্রকাশিত শরিয়া আইনের প্রতি তার প্রেমের কারণে তিনি সত্য বললেন I আজকের দিনে আমাদের জন্যে এটি একটি উত্তম উদাহরণ যা দেখায় কিভাবে আমরা (সত্য বলার দ্বারা) লড়াই করি এবং কিসের জন্য লড়াই করি (ভাববাদীদের সত্য) I ভাববাদী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) রাজাক বধ করতে, বিপ্লবকে নেতৃত্ব দিতে বা কোনো যুদ্ধ শুরু করতে চেষ্টা করেন নি I    

ইয়াহিয়ার শহীদত্বর পরিণাম  

তার এপ্রোচ সর্বাধিক প্রভাবী ছিল I রাজা তার খুনে এতটা বিবেক-জর্জরিত ছিলেন যে তিনি ভাবলেন যে ভাববাদী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) শক্তিশালী শিক্ষা এবং অলৌকিক কার্য ইয়াহিয়ার (পিবইউএইচ) জীবনে ফিরে আসা ছিল I 

ভাববাদী ইয়াহিয়াকে হেরোদের বিশ্বাসঘাতক হত্যা ব্যর্থ গেল i তার পরিকল্পনা সুরাহ অ-ফিলের (সুরাহ 105 – হাথী) একটি উত্তম উদাহরণ I 

  আপনি কি দেখেননি আপনার পালনকর্তা হস্তীবাহিনীর সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?তিনি কি তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেননি?তিনি তাদের উপর প্রেরণ করেছেন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখী,যারা তাদের উপর পাথরের কংকর নিক্ষেপ করছিল।

সুরাহ আল-ফিল 105:1-4

ঈসা আল-মসীহ (পিবিইউএইচ) এটি ভাববাদী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) সম্পর্কে বললেন

  7 য়োহনের অনুগামীরা যখন চলে যাচ্ছেন, তখন লোকদের উদ্দেশ্য করে যীশু য়োহনের বিষয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘তোমরা মরুপ্রান্তরে কি দেখতে গিয়েছিলে? বাতাসে দোলায়মান বেত গাছ?
8 না, তা নয়৷ তাহলে কি দেখতে গিয়েছিলে? জমকালো পোশাক পরা কোন লোককে? শোন! যাঁরা জমকালো পোশাক পরে তাদের রাজপ্রাসাদে দেখতে পাবে৷
9 তাহলে তোমরা কি দেখবার জন্য গিয়েছিলে? একজন ভাববাদীকে? হ্যাঁ, আমি তোমাদের বলছি, যাকে তোমরা দেখেছ তিনি ভাববাদীর চেয়েও মহান!
10 তিনি সেইলোক যার বিষয়ে শাস্ত্রে লেখা আছে,‘শোন! আমি তোমার আগে আগে আমার এক দূতকে পাঠাচ্ছি৷ সে তোমার জন্য পথ প্রস্তুত করবে৷’মালাখি 3:1
11 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, স্ত্রীলোকের গর্ভে যত মানুষের জন্ম হয়েছে তাদের মধ্যে বাপ্তিস্মদাতা য়োহনের চেয়ে কেউই মহান নয়, তবু স্বর্গরাজ্যের কোন ক্ষুদ্রতম ব্যক্তিও য়োহনের থেকে মহান৷
12 বাপ্তিস্মদাতা য়োহনের সময় থেকে আজ পর্যন্ত স্বর্গরাজ্য ভীষণভাবে আক্রান্ত হচ্ছে৷ আর শক্তিধর লোকরা তা জোরের সাথে অধিকার করতে চেষ্টা করছে৷
13 য়োহনের আগমণের পূর্ব পর্যন্ত যা ঘটবে সকল ভাববাদী ও মোশির বিধি-ব্যবস্থার মধ্যে তা বলা হয়েছে৷
14 তোমরা যদি একথা বিশ্বাস করতে রাজী থাক তবে শোন, এই য়োহনই সেই ভাববাদী এলীয়,য়াঁর আসবার কথা ছিল৷
15 যার শোনবার মতো কান আছে সে শুনুক৷

মথি 11:7-15

এখানে মসীহ সুনিশ্চিত করেন যে ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) একজন মহান ভাববাদী ছিলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী কৃত আসন্ন ‘প্রতুত্কারী’ ছিলেন I স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ আজ টিকে আছে অথচ রাজা হেরোদের কাছে – তখনকার এত শক্তিশালী – কিছুই নেই কারণ তিনি ভাববাদীদের কাছে সমর্পণ করতে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন I

ভাববাদী ইয়াহিয়ার (পিবিইউএইচ) সময়ে হিংস্র লোকেরা ছিল যারা অন্যদের মস্তক ছিন্ন করত ঠিক সেই ভাবে হিংস্র লোকেরা আছে যারা আজকের দিনে এইরকম করে I এই হিংস্র লোকেরা এমনকি স্বর্গ রাজ্যে ‘অভিযান’ করছে I তবে তারা এতে প্রবেশ করবে না I স্বর্গ রাজ্যে প্রবেশ করার অর্থ হ’ল ইয়াহিয়ার (পিবিইউএইচ) পথকে গ্রহণ করা – সত্যবাদী সাক্ষী হওয়া I আমরা যদি তার উদাহরণ অনুসরণ করি এবং যারা হিংস্র তাদের উদাহরণ সমূহ নয় তবে আমরা জ্ঞানী হই I 

ঈসা আল মসীহ ‘জীবন্ত জল’ প্রদান করেন

সুরাহ আল-মুতাফ্ফিফিনের মধ্যে (সুরাহ 83 – প্রতারণা) আল্লাহর নিকটবর্তী তাদের জন্য স্বর্গে তাজা পানীয়ের একটি ঝরনা প্রত্যাশিত I   

 আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।

(সূরা আল-মুতাফফিন ৮৩: ২১-২৩)

তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে।তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।তার মিশ্রণ হবে তসনীমের পানি।এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ।

সুরাহ আল-মুতাফ্ফিফিন 83: 25,28

সুরাহ আল-ইনসান (সুরাহ 76 – মানুষটি) অনুরূপভাবে বিদেশী পানীয়ের ঝরনার বর্ননা করে তাদের জন্য যারা স্বর্গে প্রবেশ করে I

 নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা পান করবে কাফুর মিশ্রিত পানপাত্র।এটা একটা ঝরণা, যা থেকে আল্লাহর বান্দাগণ পান করবে-তারা একে প্রবাহিত করবে।

সূরা আল ইনসান 76: 5-6

তাদেরকে সেখানে পান করানো হবে ‘যানজাবীল’ মিশ্রিত পানপাত্র।এটা জান্নাতস্থিত ‘সালসাবীল’ নামক একটি ঝরণা।

সুরাহ আল-ইনসান 76:17-18

তবে এখন এই জীবনে তৃষ্ণার সম্বন্ধে কি ব্যাপার? একটি পাপপূর্ণ ও লজ্জাজনক অতীতের কারণে আমাদের মধ্যে যারা ‘আল্লাহর নিকটবর্তী’ নয় তাদের সম্বন্ধে কি ব্যাপার? ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এক প্রত্যাখ্যাত স্ত্রীর সাথে তার সাক্ষাৎকারের মধ্যে এই সম্বন্ধে শিখিয়েছিলেন I  

পূর্বে আমরা শিখলাম কিভাবে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিক্ষা দিলেন আমাদের শত্রুদের সঙ্গে কিভাবে ব্যবহার করা উচিত i I আমাদের বর্তমান সময়ের জগতে এত অনেকের মধ্যে দ্বন্দ সমূহ আছে এবং এটি আমাদের জগতকে নারকীয় দুর্দশায় পরিণত করেছে I এই দৃষ্টান্তের মধ্যে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শেখালেন যে কিভাবে আমরা আমাদের শত্রুদের সঙ্গে ব্যবহার করেছি তার উপরে স্বর্গে প্রবেশ নির্ভরশীল ছিল I

কোনো বিষয়ে শেখানো সহজ, যদিও কাজ করা একেবারে ভিন্ন I অনেক ইমামরা এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতারা একটি বিষয় শিখিয়েছেন কিন্তু একেবারে অন্যভাবে জীবন যাপন করেছেন I ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) সম্বন্ধে কি খবর? একটি ঘটনায় একজন শমরিয়র (সেই সময়ে যিহূদিদের শত্রু) সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হ’ল I ইঞ্জিল সাক্ষাৎকারটি লিপিবদ্ধ করে I 

  রীশীরা জানতে পারল য়ে যীশু য়োহনের চেয়ে বেশী শিষ্য করেছেন ও বাপ্তাইজ করছেন৷
2 যদিও যীশু নিজে বাপ্তাইজ করছিলেন না, বরং তাঁর শিষ্যরাই তা করছিলেন৷
3 তারপর তিনি যিহূদিযা ছেড়ে চলে গেলেন এবং গালীলেই ফিরে গেলেন৷
4 গালীলে যাবার সময় তাঁকে শমরিযার মধ্য দিয়ে য়েতে হল৷
5 যাকোব তাঁর ছেলে য়োষেফকে য়ে ভূমি দিয়েছিলেন তারই কাছে শমরীযার শুখর নামে এক শহরে যীশু গেলেন৷
6 এখানেই যাকোবের কুযাটি ছিল, যীশু সেই কুযার ধারে এসে বসলেন কারণ তিনি হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখন বেলা প্রায় দুপুর৷
7 একজন শমরীযা স্ত্রীলোক সেখানে জল তুলতে এল৷ যীশু তাকে বললেন, ‘আমায় একটু জল খেতে দাও তো৷’
8 সেই সময় শিষ্যরা শহরে কিছু খাবার কিনতে গিয়েছিল৷
9 সেই শমরীয় স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘একি আপনি একজন ইহুদী হয়ে আমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন! আমি একজন শমরীয় স্ত্রীলোক!’ ইহুদীরা শমরীয়দের সঙ্গে কোনরকম মেলামেশা করত না৷
10 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি যদি জানতে য়ে ঈশ্বরের দান কি আর কে তোমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন৷ তাহলে তুমিই আমার কাছে জল চাইতে আর আমি তোমাকে জীবন্ত জল দিতাম৷’
11 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আপনি কোথা থেকে সেই জীবন্ত জল পাবেন? এই কুযাটি যথেষ্ট গভীর৷ জল তোলার কোন পাত্রও আপনার কাছে নেই৷
12 আপনি কি আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোবের চেয়ে মহান? তিনি আমাদের এই কুযাটি দিয়ে গেছেন৷ তিনি নিজেই এই কুযার জল খেতেন এবং তাঁর সন্তানেরা ও তাঁর পশুপালও এর থেকেই জল পান করত৷’
13 যীশু তাকে বললেন, ‘য়ে কেউ এই জল পান করবে তার আবার তেষ্টা পাবে৷
14 কিন্তু আমি য়ে জল দিই তা য়ে পান করবে তার আর কখনও পিপাসা পাবে না৷ সেই জল তার অন্তরে এক প্রস্রবনে পরিণত হয়ে বইতে থাকবে, যা সেই ব্যক্তিকে অনন্ত জীবন দেবে৷’
15 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মশায়, আমাকে সেই জল দিন, য়েন আমার আর কখনও পিপাসা না পায় আর জল তুলতে আমায় এখানে আসতে না হয়৷’
16 তিনি তাকে বললেন, ‘যাও, তোমার স্বামীকে এখানে ডেকে নিয়ে এস৷’
17 তখন সেই স্ত্রীলোকটি বলল, ‘আমার স্বামী নেই৷’যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি ঠিকই বলেছ য়ে তোমার স্বামী নেই৷
18 তোমার পাঁচ জন স্বামী হয়ে গেছে; আর এখন য়ে লোকের সঙ্গে তুমি আছ সে তোমার স্বামী নয়, তাই তুমি যা বললে তা সত্যি৷’
19 সেই স্ত্রীলোকটি তখন তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আমি দেখতে পাচ্ছি য়ে আপনি একজন ভাববাদী৷
20 আমাদের পিতৃপুরুষেরা এই পর্বতের ওপর উপাসনা করতেন৷ কিন্তু আপনারা ইহুদীরা বলেন য়ে জেরুশালেমই সেই জায়গা য়েখানে লোকেদের উপাসনা করতে হবে৷’
21 যীশু তাকে বললেন, ‘হে নারী, আমার কথায় বিশ্বাস কর! সময় আসছে যখন তোমরা পিতা ঈশ্বরের উপাসনা এই পাহাড়ে করবে না, জেরুশালেমেও নয়৷
22 তোমরা শমরীয়রা কি উপাসনা কর তোমরা তা জানো না৷ আমরা ইহুদীরা কি উপাসনা করি আমরা তা জানি, কারণ ইহুদীদের মধ্য থেকেই পরিত্রাণ আসছে৷
23 সময় আসছে, বলতে কি তা এসে গেছে, যখন প্রকৃত উপাসনাকারীরা আত্মায় ও সত্যে পিতা ঈশ্বরের উপাসনা করবে৷ পিতা ঈশ্বরও এইরকম উপাসনাকারীদেরই চান৷
24 ঈশ্বর আত্মা, যাঁরা তাঁর উপাসনা করে তাদেরকে আত্মায় ও সত্যে উপাসনা করতে হবে৷’
25 তখন সেই স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘আমি জানি, মশীহ আসছেন৷ মশীহকে তারা খ্রীষ্ট বলে৷ যখন তিনি আসবেন, তখন আমাদের সব কিছু জানাবেন৷’
26 যীশু তাকে বললেন, ‘তোমার সঙ্গে য়ে কথা বলছে আমিই সেই মশীহ৷’
27 সেই সময় তাঁর শিষ্যরা ফিরে এলেন৷ একজন স্ত্রীলোকের সঙ্গে যীশুকে কথা বলতে দেখে তাঁরা আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷ তবু কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন না, ‘আপনি কি চাইছেন?’ বা ‘আপনি কি জন্য ওর সঙ্গে কথা বলছেন?’
28 সেই স্ত্রীলোকটি তখন তার কলসী ফেলে রেখে গ্রামে গেল, আর লোকদের বলল,
29 ‘তোমরা এস, একজন লোককে দেখ, আমি যা কিছু করেছি, তিনি আমাকে সে সব বলে দিলেন৷ তিনিই কি সেই মশীহ নন?’
30 তখন লোকেরা শহর থেকে বের হয়ে যীশুর কাছে আসতে লাগল৷
31 এরই মাঝে তার শিষ্যরা তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, ‘রব্বি (গুরু), আপনি কিছু খেয়ে নিন!’
32 কিন্তু তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমার কাছে এমন খাবার আছে যার কথা তোমরা কিছুই জান না৷’
33 তখন তাঁর শিষ্যরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘তাহলে কি কেউ তাঁকে কিছু খাবার এনে দিয়েছে?’
34 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছা পালন করা ও তাঁর য়ে কাজ তিনি আমায় করতে দিয়েছেন তা সম্পন্ন করাই হল আমার খাবার৷
35 তোমরা প্রায়ই বলে থাক, ‘আর চার মাস বাকী আছে, তারপরই ফসল কাটার সময় হবে৷’ কিন্তু তোমরা চোখ মেলে একবার ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে দেখ, ফসল কাটবার মতো সময় হয়েছে৷
36 য়ে ফসল কাটছে সে এখনই তার মজুরী পাচ্ছে, আর সে তা করছে অনন্ত জীবন লাভের জন্য৷ তার ফলে বীজ য়ে বোনে আর ফসল য়ে কাটে উভয়েই একই সঙ্গে আনন্দিত হয়৷
37 এই প্রবাদ বাক্যটি সত্য য়ে, ‘একজন বীজ বোনে আর অন্যজন কাটে৷’
38 আমি তোমাদের এমন ফসল কাটতে পাঠিয়েছি, যার জন্য তোমরা কোন পরিশ্রম করনি৷ তার জন্য অন্যরা খেটেছে আর তোমরা তাদের কাজের ফসল তুলছ৷’
39 সেই শহরের অনেক শমরীয় তাঁর ওপর বিশ্বাস করল, কারণ সেই স্ত্রীলোকটি সাক্ষ্য দিচ্ছিল, ‘আমি যা যা করেছি সবই তিনি আমাকে বলে দিয়েছেন৷’
40 শমরীয়রা তাঁর কাছে এসে যীশুকে তাদের সঙ্গে থাকতে অনুরোধ করল৷ তখন তিনি দুদিন সেখানে থাকলেন৷
41 আরও অনেক লোক তাঁর কথা শুনে তাঁর ওপর বিশ্বাস করল৷
42 তারা সেই স্ত্রীলোকটিকে বলল, ‘প্রথমে তোমার কথা শুনে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু এখন আমরা নিজেরা তাঁর কথা শুনে বিশ্বাস করেছি ও বুঝতে পেরেছি য়ে ইনি সত্যিই জগতের উদ্ধারকর্তা৷’

যোহন: 1-42

শমরিয় স্ত্রীলোকটি বিস্মিত হল যে ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এমনকি তার সঙ্গে কথা বলবে – সেই দিনে যিহূদি এবং শমরিয়দের মধ্যে এই ধরণের শত্রুতা ছিল I দুটি কারণের জন্য ভাববাদী জল চেয়ে কথোপকথন শুরু করলেন I প্রথম, যেমন এটি বলে, তিনি তৃষ্ণার্ত ছিলেন I তবে (তিনি একজন ভাববাদী হওয়ায়) আবারও জানতেন যে সে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে তৃষ্ণার্ত ছিল I সে তার জীবনে আনন্দ এবং সন্তুষ্টির জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল I সে ভেবেছিল পুরুষদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রেখে সে এই তৃষ্ণাকে সতুষ্ট করতে পারবে I তাই তার কাছে বিভিন্ন স্বামী ছিল এবং এমনকি যখন সে ভাববাদীর সঙ্গে কথা বলছিল সে একজন পুরুষের সঙ্গে বাস করছিল যে তার স্বামী ছিল না I প্রত্যেকে তাকে একজন অনৈতিক হিসাবে দেখত I এই কারণেই সম্ভবত সে একা দুপুরে জল আনতে গিয়েছিল যেহেতু গ্রামের অন্যান্য স্ত্রীরা তাদের সাথে তাকে চাইত না যখন তারা সকালের ঠান্ডায় কুয়ো থেকে জল আনতে যেত I এই স্ত্রীলোকটির অনেক পুরষ ছিল, আর তার লজ্জা তাকে গ্রামের অন্যান্য স্ত্রীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল I  

যাবুর দেখিয়েছে আমাদের জীবনে এক গভীর তৃষ্ণা থেকে পাপ কিভাবে আসে – এক তৃষ্ণা যাকে অবশ্যই মেটানো উচিত I আজকে অনেকে, তাদের ধর্ম যাই হোক না কেন, তাদের এই তৃষ্ণার কারণে পাপপূর্ণ উপায়ে জীবন যাপন করে I 

ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এই পাপপূর্ণ স্ত্রীটিকে এড়িয়ে যান   নি I পরিবর্তে তিনি তাকে বললেন যে তিনি তাকে ‘জীবন্ত জল’ দিতে পারেন যা তার তৃষ্ণা মেটাবে I তবে তিনি শারীরিক জলের (যা একবার পান করলে পরে আবার আপনি তৃষ্ণার্ত হবেন) সম্বন্ধে বলছিলেন না তবে তার হৃদয়ে এক পরিবর্তনের কথা, ভেতর থেকে এক পরিবর্তন I যাবুরের ভাববাদীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এক নতুন হৃদয়ের এই নিয়ম আসছিল I ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) তাকে এক পরিবর্তিত হৃদয়ের এই নতুন নিয়ম ‘অনন্ত জীবনের প্রতি উথলে ওঠা’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন I     

বিশ্বাস করা – সত্যে স্বীকারোক্তি

তবে ‘জীবন্ত জলের’ এই প্রস্তাব স্ত্রীটিকে এক সংকটের মধ্যে ফেলে দিল I যখন ঈসা তাকে তার স্বামীকে নিয়ে আসতে বলল তাকে উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে চেনাতে এবং তার পাপকে স্বীকার করতে বাধ্য করছিল I আদম এবং হবা উদ্যানের  মধ্যে এটি করেছিল এবং এখনও আজকের দিনে আমরা আমাদের পাপ লুকোতে  এবং অজুহাত দিতে পছন্দ করি I তবে যদি আমরা ‘অনন্ত জীবনের’ দিকে চালনা করা ঈশ্বরের করুণার অভিজ্ঞতা লাভ করতে চাই তাহলে আমাদের অবশ্যই সৎ হতে হবে এবং আমাদের পাস স্বীকার করতে হবে, কেননা ইঞ্জিল প্রতিশ্রুতি দেয় যে:

আমরা যদি নিজেদের পাপ স্বীকার করি, বিশ্বস্ত ও ধার্মিক ঈশ্বর আমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করবেন ও সকল অধার্মিকতা থেকে আমাদের শুদ্ধ করবেন৷

1 যোহন 1:9

এই কারণের জন্য, যখন ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিউএইচ) শমরিয় স্ত্রীটিকে বললেন যে

ঈশ্বর হচ্ছে আত্মা, এবং তার অরাধনাকারীরা অবশ্যই আত্মা এবং সত্যে অরাধনা করবে…

‘সত্যের’ দ্বারা তিনি আমাদের সম্বন্ধে সত্যবাদী এবং প্রামানিক হওয়াকে বুঝিয়ে ছিলেন, আমাদের অন্যায়কে লুকোতে চেষ্টা না করা বা অজুহাত দেওয়া I আশ্চর্যজনক সংবাদ হ’ল যে আল্লাহ ‘চান’ এবং আরাধনাকারীদের থেকে মুখ ফেরাবেন না যারা সততার সঙ্গে এই ভাবে আসে I

তবে তার পক্ষে পাপ স্বীকার করা কঠিন ছিল I আমাদের লজ্জা লুকোবার একটি সাধারণ উপায় বিষয়টিকে আমাদের পাপের থেকে ধর্মীয় দ্বন্দের দিকে পরিবর্তন করা I আজ জগত ধর্মীয় দ্বন্দে পরিপূর্ণ I ওই দিনে সেখানে আরাধনার উপযুক্ত স্থান নিয়ে শমরিয় এবং যিহূদিদের মধ্যে একটি ধর্মীয় দ্বন্দ ছিল I যিহূদিরা বলত যে আরাধনা যিরূশালেমে করা উচিত আর শমরিয়রা ধরে রাখে যে এটি গেরিজিম পর্বত বলে পরিচিত এক পর্বতের উপরে হওয়া উচিত I এই ধর্মীয় দ্বন্দের দিকে ফিরিয়ে সে কথোপকথনকে তার পাপের থেকে বিমুখ করতে আশা করছিল I সে তার পাপকে এখন ধর্মের পেছনে লুকোতে পারত I  

কত সহজ এবং স্বাভাবিকভাবে আমরা একই জিনিস করি – বিশেষ করে আমরা যদি ধার্মিক হই I তখন আমরা বিচার করতে পারি কিভাবে অন্যরা ভুল আর আমরা সঠিক – অথচ আমাদের পাপকে স্বীকার করার আমাদের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করি I 

ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) তার সঙ্গে এই দ্বন্দের মধ্যে প্রবেশ করেন নি I তিনি জোর দিলেন যে আরাধনার স্থান অত বেশি কিছু নয়, তবে আরাধনার মধ্যে তার নিজের সম্বন্ধে তার সততা মানে রাখে I তবে আল্লাহর সামনে যে কোনো স্থানে (যেহেতু তিনি আত্মা) আসতে পারে, কিন্তু এই ‘জীবন্ত জল’ গ্রহণ করতে পারার আগে তার নিজের সম্পর্কে সত্যে আসা প্রয়োজন I    

অতএব তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ছিল I সে এক ধর্মীয় দ্বন্দের পেছনে লুকোতে বা হয়ত কেবল ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারত I তবে সে অবশেষে তার পাপ স্বীকার করতে পছন্দ করল – স্বীকার করতে – খুব বেশি খুব যে সে অন্যদের বলতে গ্রামে ফিরে গেল কিভাবে এই ভাববাদী তাকে জানত এবং সে কি করেছিল I সে আর কিছু লুকালো না I এই করার দ্বারা সে একজন ‘বিশ্বাসী’ হল I সে আগে ধার্মিক ছিল, আমাদের মধ্যে অনেকের মতন, কিন্তু এখন সে – এবং তার গ্রামের অনেকে – ‘বিশ্বাসী সমূহ’ হয়ে উঠলো I 

একজন বিশ্বাসী হওয়া মানসিকভাবে সঠিক শিক্ষাকে জাহির করার সম্বন্ধে কেবল নয় – গুরুত্বপূর্ণ যদিও তা হয় I এছাড়াও এটিকে বিশ্বাস করার সম্বন্ধে যে তার করুণার প্রতিশ্রুতিকে ভরসা করা যায়, এবং তাই পাপকে আচ্ছাদন করার আর কোনো প্রয়োজন নেই I এটাই যা ভাববাদী ইব্রাহিম (পিবিইউএইচ) দীর্ঘ সময় পূর্বে ধার্মিকতা পেতে করেছিলেন – তিনি একটি প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন I

আপনি কি অজুহাত করেন বা আপনার পাপকে লুকোন? আপনি কি ধর্মপ্রাণ ধর্মীয় অনুশীলন বা ধর্মীয় দ্বন্দের সাহায্যে এটিকে লুকোন? বা আপনি আপনার পাপ স্বীকার করেন? কেন আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে আসেন না এবং সত্যবাদীভাবে দোষ এবং লজ্জা সৃষ্টিকারী পাপকে স্বীকার করেন? তখন আপনি আনন্দ করতে পারেন যে তিনি আপনার আরাধনা ‘চান’ এবং সমস্ত অধার্মিকতা থেকে তিনি আপনাকে শুদ্ধ করবেন I 

আমরা কথপোকথন থেকে দেখি যে এই ভাববাদী ঈসা (পিবিইউএইচ) সম্পর্কে স্ত্রীটির ‘মেসিয়াহ’ (=খ্রীষ্ট – ‘মসীহ’) হিসাবে উপলব্ধি গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং দুই দিন ধরে ঈসা আল মসীহর থাকা এবং তাদেরকে শেখানোর পরে তারা তাকে ‘জগতের উদ্ধারকর্তা’ রূপে বুঝল I আমরা হয়ত পুরোপুরি এইসবের মানে কি বুঝি না I তবে যেমনভাবে ভাববাদী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) লোকেদের প্রস্তুত  করেছিলেন বুঝতে, আমাদের পাপ স্বীকার করতে তেমনি তার কাছে থেকে করুণা পেতে আমাদের প্রস্তুত করবেন I সোজা পথের উপরে এটি প্রথম  পদক্ষেপ I      

‘ঈশ্বর, আমার উপরে, একজন পাপীর উপরে করুণা করুন I’

ঈসা আল মসীহ শিক্ষা দেন … স্বর্গে প্রবেশের উপর

সুরাহ আল-কাহফ (সুরাহ 18 – গুহা) ঘোষণা করে যে যাদের কাছে ‘ধার্মিক কাজ’ আছে তারা স্বর্গ প্রবেশ করবে:

 যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

সুরাহ আল-কাহফ 18:107

প্রকৃতপক্ষে, সুরাহ-আল-জাথিয়াহ (সুরাহ 45 – ঘুপসি) পুনরুক্তি করে যে যাদের কাছে ‘ধার্মিক কাজ’ আছে তাদের স্বর্গের করুণার মধ্যে প্রবেশ পাবে I

 যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তাদেরকে তাদের পালনকর্তা স্বীয় রহমতে দাখিল করবেন। এটাই প্রকাশ্য সাফল্য।

সুরাহ আল-জাথিয়াহ 45:30

এক দিন আকাশে (স্বর্গে) প্রবেশ করতে আপনি কি আশা করেন? স্বর্গে প্রবেশ করতে আপনার এবং আমার জন্য কি দরকার? ঈসা আল মসীহকে একবার ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) শরিয়া আইনের ব্যাখ্যায় শিক্ষিত একজন যিহূদি ‘বিষেশজ্ঞর’ দ্বারা এই প্রশ্নটিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল I ঈসা আল মসীহ তাকে এক অপ্রত্যাশিত উত্তর দিলেন I নিচে ইঞ্জিলের মধ্যে কথোপকথনটিকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I ঈসার দৃষ্টান্তকে উপলব্ধি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে সেই দিনে যিহূদিদের দ্বারা ‘শমরিয়দেরকে’ অবজ্ঞা করা হত পরিবর্তে, শমরিয়রা যিহূদিদের ঘৃণা করত I শমরিয় এবং যিহূদিদের মধ্যে তখনকার দিনের ঘৃণা আজকের দিনের ইস্রায়েলীয়দের এবং পলেস্তিনীয়দের মধ্যে, বা সুন্নি এবং শিয়াদের মধ্যে অনুরূপ হতে পারে I     

অনন্ত জীবন এবং উত্তম প্রতিবেশীর দৃষ্টান্ত

25 এরপর একজন ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুকে পরীক্ষার ছলে জিজ্ঞাসা করল, ‘গুরু, অনন্ত জীবন লাভ করার জন্য আমায় কি করতে হবে?’
26 যীশু তাকে বললেন, ‘বিধি-ব্যবস্থায় এ বিষয়ে কি লেখা আছে? সেখানে তুমি কি পড়েছ?’
27 সে জবাব দিল, ‘তোমার সমস্ত অন্তর, মন, প্রাণ ও শক্তি দিয়ে অবশ্যই তোমার প্রভু ঈশ্বরকে ভালবাসো৷’আর ‘তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালবাসো৷”
28 তখন যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি ঠিক উত্তরই দিয়েছ; ঐ সবই কর, তাহলে অনন্ত জীবন লাভ করবে৷’
29 কিন্তু সে নিজেকে ধার্মিক দেখাতে চেয়ে যীশুকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমার প্রতিবেশী কে?’
30 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘একজন লোক জেরুশালেম থেকে যিরীহোর দিকে নেমে যাচ্ছিল, পথে সে ডাকাতের হাতে ধরা পড়ল৷ তারা লোকটির জামা কাপড় খুলে নিয়ে তাকে মারধোর করে আধমরা অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে চলে গেল৷
31 ঘটনাক্রমে সেই পথ দিয়ে একজন ইহুদী যাজক যাচ্ছিল, যাজক তাকে দেখতে পেয়ে পথের অন্য ধার দিয়ে চলে গেল৷
32 সেই পথে এরপর একজন লেবীয়এল৷ তাকে দেখে সেও পথের অন্য ধার দিয়ে চলে গেল৷
33 কিন্তু একজন শমরীয় ঐ পথে য়েতে য়েতে সেই লোকটির কাছাকাছি এল৷ লোকটিকে দেখে তার মনে মমতা হল৷
34 সে ঐ লোকটির কাছে গিয়ে তার ক্ষতস্থান দ্রাক্ষারস দিয়ে ধুয়ে তাতে তেল ঢেলে বেঁধে দিল৷ এরপর সেই শমরীয় লোকটিকে তার নিজের গাধার ওপর চাপিয়ে একটি সরাইখানায় নিয়ে এসে তার সেবা যত্ন করল৷
35 পরের দিন সেই শমরীয় দুটি রৌপ্যমুদ্রা বের করে সরাইখানার মালিককে দিয়ে বলল, ‘এই লোকটির যত্ন করবেন আর আপনি যদি এর চেয়ে বেশী খরচ করেন, তবে আমি ফিরে এসে আপনাকে তা শোধ করে দেব৷’
36 এখন বল, ‘এই তিনজনের মধ্যে সেই ডাকাত দলের হাতে পড়া লোকটির প্রকৃত প্রতিবেশী কে?’
37 সে বলল, ‘য়ে লোকটি তার প্রতি দযা করল৷’তখন যীশু তাকে বললেন, ‘সে য়েমন করল, যাও তুমি গিয়ে তেমন কর৷’

লুক 10:25-37

যখন ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞ উত্তর দিলেন ‘তোমার ঈশ্বরকে প্রেম করবে’ এবংপ্রতিবেশীকে নিজের মতন প্রেম করবে’ তখন তিনি মশির (পিবইউএইচ) শরিয়া আইন থেকে উদ্ধৃত করছিলেন I ঈসা ইঙ্গিত দিলেন যে তিনি নির্ভুল উত্তর দিয়েছেন তবে তিনি এই প্রশ্নটি উত্থাপন করলেন যে তার উত্তম প্রতিবেশী কে I তাই ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এই দৃষ্টান্তটি বললেন I

দৃষ্টান্তটির মধ্যে আমরা আশা করি যে ধার্মিক লোকেরা (যাজক এবং লেবীয়) লোকটিকে সাহায্য করবে যাকে প্রহার করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তাকে উপেক্ষা করে এবং অসহায় অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেয় I তাদের ধর্ম তাদেরকে উত্তম প্রতিবেশীতে পরিণত করে নি I পরিবর্তে, যে ব্যক্তিকে আমরা একদমই আশা করি নি, যাকে আমরা তার শত্রু বলে মনে করি – সে একজন যে প্রহৃত লোকটিকে সাহায্য করে I

ঈসা আল মসীহ আজ্ঞা দেন “যাও এবং অনুরূপ করI আমি আপনার সম্বন্ধে জানি না, কিন্তু এই দৃষ্টান্তটির প্রতি আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল আমি অবশ্যই এটিকে ভুল বুঝে থাকব, এবং তারপরে এটিকে উপেক্ষা করতে কেবল আমি প্রলুব্ধ হলাম I

তবে চারিদিকে যে সমস্ত লড়াই, হত্যা, বেদনা এবং দুর্দশা ঘটছে সে সম্পর্কে চিন্তা করুন কারণ প্রচুর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই অজ্ঞাটিকে উপেক্ষা করে I আমরা যদি এই শমরিয়র মতন বাস করতাম তবে আমাদের শহরগুলো লড়াইয়ে ভরে যাওয়ার বদলে শান্তিপূর্ণ হত I এবং এছাড়া আমাদেরও কাছে স্বর্গে প্রবেশ করার একটি নিশ্চয়তা থাকত I এটি যেমন দাঁড়িয়ে আছে, খুব কম লোকেরই স্বর্গে প্রবেশের নিশ্চয়তা রয়েছে – এমনকি যদিও তারা খুব ধার্মিকভাবে জীবন যাপন করে যেমন ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞ করেছিলেন যিনি ঈসার (পিবিইউএইচ) সঙ্গে কথা বলছিলেন I

আপনার কাছে কি অনন্ত জীবনের নিশ্চয়তা আছে?

তবে এই ধরণের প্রতিবেশী হওয়া এমন কি অসম্ভব? কিভাবে আমরা এটিকে করতে পারি? আমরা যদি সৎ হই আমাদের স্বীকার করতে হবে যে তার আজ্ঞা অনুসারে একজন প্রতিবেশী হওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ I 

আর এখানে আমরা আশার একটি ঝলক দেখতে পারি যখন দেখি যে আমরা এটি করতে পারি না আমরা হই ‘আত্মায় দীন’ – যেটিকে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) আবারও শিক্ষা দিয়েছিলেন যা ‘ঈশ্বরের রাজ্যে’ প্রবেশ করার জন্য দরকার ছিল I    

এই দৃষ্টান্তটিকে কেবলমাত্র উপেক্ষা করার বদলে, বা অজুহাত করে সরিয়ে  রেখে, আমাদের এটিকে নিজেরা পরীক্ষা করা এবং স্বীকার করা উচিত – এটি অত্যন্ত কঠিন I তখন, আমাদের অসহায়তার মধ্যে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে   পারি I পাহাড়ের উপদেশের মধ্যে যেমনভাবে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন I   

7 ‘চাইতে থাক, তোমাদের দেওয়া হবে৷ খুঁজতে থাক, পাবে৷ দরজায় ধাক্কা দিতে থাক, তোমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে৷
8 কারণ য়ে চাইতে থাকে সে পায়, য়ে খুঁজতে থাকে সে খুঁজে পায়, আর য়ে দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে তার জন্য দরজা খুলে দেওয়া হয়৷
9 তোমার ছেলে যদি তোমার কাছে রুটি চায়, তবে তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, য়ে তার সন্তানকে রুটির বদলে পাথরের টুকরো দেবে?
10 যদি সে একটা মাছ চায় তবে বাবা কি তার হাতে একটা সাপ তুলে দেবে? নিশ্চয় না৷
11 তোমরা মন্দ হয়েও যদি তোমাদের সন্তানদের ভাল ভাল জিনিস দিতে জানো, তবে তোমাদের স্বর্গের পিতা ঈশ্বরের কাছে যাঁরা চায়, তাদের তিনি নিশ্চয়ই উত্‌কৃষ্ট জিনিস দেবেন৷  

মথি 7:7-11

অতএব আমাদের কাছে মসীহর অনুমতি আছে সাহায্য চাওয়ার – আর সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে I হয়ত আল্লাহর কাছে এর মতন করে এমনকিছু প্রার্থনা করা:

স্বর্গস্থ পিতা I আপনি ভাববাদীদের পাঠিয়েছেন আমাদের সোজাভাবে শিক্ষা  দিতে I ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিখিয়েছেন যে আমার প্রেম করা এবং এমনকি তাদেরকেও সাহায্য করা দরকার যারা নিজেদেরকে আমার শত্রু বলে বিবেচনা করে, এবং এটিকে করা ছাড়া আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি না I তবে আমি দেখি যে আমার পক্ষে এটি করা অসম্ভব I দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন এবং আমাকে পরিবর্তন করুন যাতে করে আমি এই পথটিকে অনুসরণ করতে পারি এবং অনন্ত জীবন পেতে পারি I আমার প্রতি করুনাময়  হোন যে একজন পাপী I 

মসীহর উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণায় আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি ঈশ্বর 

(নির্দিষ্ট শব্দগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয় – এটি হ’ল যে আমরা আমাদের প্রয়োজন স্বীকার করি এবং দয়ার জন্য যাচনা করি)

এছাড়া ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যখন একজন শমরিয়র সঙ্গে ঈসা আল মসীহর দেখা হয় I একজন ভাববাদী কিভাবে একজন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন যাকে তার লোকেদের (যিহূদিরা) দ্বারা এক ঘৃণিত শত্রু বলে বিবেচনা করা হত I শমরিয়টির সঙ্গে কি ঘটেছিল, এবং আমাদের যে ধরণের প্রতিবেশী হওয়ার দরকার তা হতে সাহায্য করতে আমরা কি শিখতে পারি, পরবর্তীতে আমরা দেখব I 

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিক্ষা দেন – দৃষ্টান্ত সহ

আমরা দেখলাম কিভাবে ঈসা আল মসীহ অন্যন্য কর্তৃত্বের সাথে শিক্ষা দিলেন I তিনি আবারও গল্প ব্যবহার করে শিক্ষা দিলেন যা সত্য নীতিগুলোকে ব্যাখ্যা করেছে I উদাহরণস্বরূপ, আমরা দেখলাম কিভাবে তিনি এক মহা ভোজসভার গল্পকে ব্যবহার করে স্বর্গ রাজ্যসম্বন্ধে শিক্ষা দিলেন, এবং কিভাবে তিনি নির্মম দাসটির গল্পের মাধ্যমে ক্ষমার সম্বন্ধে শিক্ষা দিলেন I এই গল্পগুলোকে দৃষ্টান্ত বলা হয়, এবং ঈসা আল মসীহ ভাববাদীদের মধ্যে তিনি শিক্ষা দিতে কতটা বেশি দৃষ্টান্ত ব্যবহার করেছিলেন তা অনন্য, এবং তার দৃষ্টান্তগুলো কতটা আকর্ষণীয় I   

সুরাহ আল-‘আনকাবুত (সুরাহ – মাকড়সা) আমাদের বলে যে আল্লাহও দৃষ্টান্তের ব্যবহার করেন I এটি বলে

এ সকল উদাহরণ আমি মানুষের জন্যে দেই; কিন্তু জ্ঞানীরাই তা বোঝে।

সুরাহ আল-আনকাবুত 29:43

সুরাহ ইব্রাহিম (সুরাহ 14) আমাদের বলে আমাদের শিক্ষা দিতে আল্লাহ কিভাবে একটি গাছের দৃষ্টান্তকে ব্যবহার করেছেন I

 তুমি কি লক্ষ্য কর না, আল্লাহ তা’আলা কেমন উপমা বর্ণনা করেছেনঃ পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের মত। তার শিকড় মজবুত এবং শাখা আকাশে উত্থিত।সে পালনকর্তার নির্দেশে অহরহ ফল দান করে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেন-যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।এবং নোংরা বাক্যের উদাহরণ হলো নোংরা বৃক্ষ। একে মাটির উপর থেকে উপড়ে নেয়া হয়েছে। এর কোন স্থিতি নেই।

সুরাহ ইব্রাহিম 14:24-26

ঈসা আল মসীহর দৃষ্টান্ত সমূহ

তার শিষ্যরা এক সময়ে তাকে জিজ্ঞাসা করল তিনি দৃষ্টান্ত ব্যবহার করে কেন শিক্ষা দেন I ইঞ্জিল তার ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধ করে:

  10 যীশুর শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে বললেন, ‘কেন আপনি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে লোকদের সঙ্গে কথা বললেন?’
11 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘স্বর্গরাজ্যের বিষয়ে ঈশ্বরের গুপ্ত সত্য বোঝার ক্ষমতা কেবল মাত্র তোমাদেরই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সকলকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয় নি৷
12 কারণ যার কিছু আছে, তাকে আরও দেওয়া হবে, তাতে তার প্রচুর হবে; কিন্তু যার নেই, তার যা আছে তাও তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে৷
13 আমি তাদের সঙ্গে দৃষ্টান্তের মাধ্যমে কথা বলি, কারণ তারা দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না আর তারা বোঝেও না৷

মথি 13:10-13

তার শেষ বাক্যটি ভাববাদী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) থেকে একটি পাঠ ছিল যিনি 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন এবং আমাদের হৃদয়ের এক কঠোরতার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন I অন্য কথায়, মাঝে মাঝে আমরা কিছু বুঝি না কারণ আমরা ব্যাখ্যাকে মিস করি বা এটিকে হৃদয়ঙ্গম করা অত্যন্ত জটিল হয় I এই ধরণের কোনো পরিস্থিতিতে একটি স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিভ্রান্তি দূর করে I তবে সেখানে অন্য সময় হয় যখন আমরা বুঝি না কারণ আমাদের হৃদয়ের গভীরে আমরা বুঝতে চাই না I আমরা হয়ত এটিকে স্বীকার না করতে পারি, তাই আমরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে থাকি যেন একটি মানসিক বোধগম্যতার একটি অভাব আমাদের বাধা হয় I কিন্তু বিভ্রান্তি যদি আমাদের হৃদয়ে হয় এবং আমাদের মনে না হয় তাহলে যে কোনো ব্যাখ্যা পর্যাপ্ত হবে না I তখন সমস্যাটি হয় যে আমরা সমর্পণ করতে অনিচ্ছুক হই, এরকম নয় যে আমরা মানসিকভাবে বুঝতে পারি না I   

যখন ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) দৃষ্টান্তের মধ্যে শিক্ষা দিতেন, তখন ভিড়ের উপরে প্রভাব নাটকীয় হত I তারা যারা শুধুমাত্র তাদের মন দিয়ে বুঝত না তারা গল্পের থেকে কৌতুহলী হত এবং আরও অনুসন্ধান করত, বুদ্ধি লাভ করত, যখন তারা যারা সমর্পণ করতে অনিচ্ছুক ছিল তারা গল্পটিকে অবজ্ঞাপূর্ণতা এবং নিরুৎসাহের সাথে ব্যবহার করত এবং আর কোনো বুদ্ধি পেত না I দৃষ্টান্ত ব্যবহার করা প্রভু শিক্ষকের কাছে একটি উপায় ছিল লোকেদের আলাদা করতে যেমন কৃষক ঝাড়াই করার দ্বারা ভুষির থেকে গমকে আলাদা করে I যারা সমর্পণ করতে ইচ্ছুক ছিল তাদেরকে তাদের থেকে আলাদা করা হয়েছিল যারা ইচ্ছুক ছিল না I সমর্পণ করতে অনিচ্ছুক সেই লোকেরা দৃষ্টান্তটিকে বিভ্রান্তিকর দেখত যেহেতু তাদের হৃদয়ের সত্যের প্রতি সমর্পণ করতে অনিচ্ছুক ছিল I যদিও দেখা যেত, তবুও তারা বিষয়টিকে দেখত না I      

বপনকারী ও চারটি মাটির দৃষ্টান্ত

যখন শিষ্যরা ভাববাদী ঈসাকে (পিবিইউএইচ) দৃষ্টান্তের মধ্যে তার শিক্ষা সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছিল, তিনি ঈশ্বরের রাজ্য এবং লোকেদের উপর এর প্রভাবের উপরে শিক্ষা দিচ্ছিলেন I এখানে প্রথমটি রয়েছে: 

  3 তখন তিনি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তাদের অনেক বিষয়ে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷ তিনি বললেন, ‘একজন চাষী বীজ বুনতে গেল৷
4 সে যখন বীজ বুনছিল, তখন কতকগুলি বীজ পথের ধারে পড়ল, আর পাখিরা এসে সেগুলি খেয়ে ফেলল৷
5 আবার কতকগুলি বীজ পাথুরে জমিতে পড়ল, সেখানে মাটি বেশী ছিল না৷ মাটি বেশী না থাকাতে তাড়াতাড়ি অঙ্কুর বের হল৷
6 কিন্তু সূর্য় উঠলে পর অঙ্কুরগুলি ঝলসে গেল, আর শেকড় মাটির গভীরে যায়নি বলে তা শুকিয়ে গেল৷
7 আবার কিছু বীজ কাঁটাঝোপের মধ্যে পড়ল৷ কাঁটাঝোপ বেড়ে উঠে চারাগুলোকে চেপে দিল৷
8 কিছু বীজ ভাল জমিতে পড়ল, তাতে ফসল হতে লাগল৷ সে যা বুনেছিল, কোথাও তার ত্রিশগুণ, কোথাও ষাটগুণ, কোথাও শতগুণ ফসল হল৷
9 যার শোনার মতো কান আছে সে শুনুক!’

মথি 13:3-9

তাহলে এই দৃষ্টান্তটির অর্থ কি? আমাদের অনুমান করতে হবে না, যেহেতু যারা সমর্পণ করতে ইচ্ছুক ছিল তারা দৃষ্টান্তের দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়েছিল এবং এর অর্থ জিজ্ঞাসা করল, যা তিনি দিলেন:

18 ‘এখন তবে সেইচাষী ও তার বীজ বোনার মর্মার্থ শোন৷
19 কেউ যখন স্বর্গরাজ্যের শিক্ষার বিষয় শুনেও তা বোঝে না, তখন দুষ্ট আত্মা এসে তার অন্তরে যা বোনা হয়েছিল তা সরিয়ে নেয়৷ এটা হল সেই পথের ধারে পড়া বীজের কথা৷
20 আর পাথুরে জমিতে য়ে বীজ পড়েছিল, তা সেই সব লোকদের কথাই বলে যাঁরা স্বর্গরাজ্যের শিক্ষা শুনে সঙ্গে সঙ্গে আনন্দের সাথে তা গ্রহণ করে;
21 কিন্তু তাদের মধ্যে সেই শিক্ষার শেকড় ভাল করে গভীরে য়েতে দেয় না বলে তারা অল্প সময়ের জন্য স্থির থাকে৷ যখন সেই শিক্ষার জন্য সমস্যা, দুঃখ কষ্ট ও তাড়না আসে, তখনই তারা পিছিয়ে যায়৷
22 কাঁটাঝোপে য়ে বীজ পড়েছিল, তা এমন লোকদের বিষয় বলে যাঁরা সেই শিক্ষা শোনে, কিন্তু সংসারের চিন্তা ভাবনা ও ধনসম্পত্তির মাযা সেই শিক্ষাকে চেপে রাখে৷ সেজন্য তাদের জীবনে কোন ফল হয় না৷
23 য়ে বীজ উত্কৃষ্ট জমিতে বোনা হল, তা এমন লোকদের কথা প্রকাশ করে যাঁরা শিক্ষা শোনে, তা বোঝে এবং ফল দেয়৷ কেউ একশ গুণ, কেউ ষাট গুণ আর কেউ বা তিরিশ গুণ ফল দেয়৷

মথি 13:18-23

ঈশ্বরের রাজ্যের বার্তা সম্পর্কে চারটি প্রতিক্রিয়া আছে I প্রথমটির কোনো ‘বুদ্ধি’ নেই আর তাই শয়তান (ইবলিস) বার্তাটিকে তাদের হৃদয় থেকে হরণ করে নিয়ে যায় I বাকি তিনটি প্রতিক্রিয়াগুলো সব প্রথমে খুব ইতিবাচক এবং তারা আনন্দের সাথে বার্তাটিকে গ্রহণ করে I তবে এই বার্তাটি অবশ্যই আমাদের হৃদয়ের মধ্যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত I এটিকে কেবলমাত্র আমাদের মনের মধ্যে স্বীকার করা নয় আর পরে আমাদের ইচ্ছা মত আমাদের জীবন যাপন করতে থাকা I অতএব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে দুটি, যদিও তারা প্রাথমিকভাবে বার্তাটি গ্রহণ করল, তারা এটিকে বৃদ্ধি পেতে অনুমতি দিল না I কেবল চতুর্থ হৃদয়টি, যে ‘বাক্যটি শোনে এবং এটিকে বোঝে’ সেইভাবে প্রকৃতপক্ষে সমর্পণ করত যেভাবে আল্লাহ খুঁজছিলেন I  

এই দৃষ্টান্তের একটি বিন্দু আমাদেরকে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে বলে: ‘এই ব্যক্তিগুলোর মধ্যে কোনটি আমি?’ কেবল তারা যারা প্রকৃতপক্ষে ‘বোঝে’ একটি উত্তম শস্য হবে I বুদ্ধিকে শক্তিশালী করার একটি উপায় হ’ল স্পষ্টভাবে দেখা পূর্ববর্তী ভাববাদীরা আদমের সাথে শুরু করে, ঈশ্বরের পরিকল্পনা সম্বন্ধে তৌরাত এবং যাবুরের মধ্যে কি প্রকাশিত করেছিল I আদমের পরে তৌরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নগুলো ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং তার বলিদান, মশির (পিবিইউএইচ) দশ আজ্ঞা সমূহ থেকে আসে I যাবুরের মধ্যে হারোণ পিবিইউএইচ) মসীহর উৎপত্তিকেবোঝা’ এবং যিশাইয়, যিরমিয়, দানিয়েল এবং মালাখির প্রকাশন সমূহ আমাদের ‘ঈশ্বরের রাজ্যের বার্তাকে’ বুঝতে প্রস্তুত করবে I     

আগাছার দৃষ্টান্ত

এই দৃষ্টান্তটির ব্যাখ্যার পরে ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) আগাছার সম্বন্ধে দৃষ্টান্ত শেখালেন I  

  24 এবার যীশু তাদের কাছে আর একটি দৃষ্টান্ত রাখলেন৷ ‘স্বর্গরাজ্য এমন একজন লোকের মতো যিনি তাঁর জমিতে ভাল বীজ বুনলেন৷
25 কিন্তু লোকেরা যখন সবাইঘুমিয়ে ছিল, তখন সেইমালিকের শত্রু এসে গমের মধ্যে শ্যামা ঘাসের বীজ বুনে দিয়ে চলে গেল৷
26 শেষে গমের চারা যখন বেড়ে উঠে ফল ধরল, তখন তার মধ্যে শ্যামাঘাসও দেখা গেল৷
27 সেইমালিকের মজুররা এসে তাঁকে বলল, ‘আপনি কি জমিতে ভাল বীজ বোনেন নি? তবে শ্যামাঘাস কোথা থেকে এল?’
28 তিনি তাদের বললেন, ‘এটা নিশ্চয়ই কোন শত্রুর কাজ৷’তাঁর চাকরেরা তখন তাঁকে বলল, ‘আপনি কি চান, আমরা গিয়ে কি শ্যামা ঘাসগুলি উপড়ে ফেলব?’
29 ‘তিনি বললেন, ‘না, কারণ তোমরা যখন শ্যামা ঘাস ওপড়াতে যাবে তখন হয়তো ঐগুলোর সাথে গমের গাছগুলোও উপড়ে ফেলবে৷

মথি 13:24-29

তার দেওয়া ব্যাখ্যাটি এখানে রয়েছে

  36 পরে যীশু লোকদের বিদায় দিয়ে ঘরে চলে গেলেন৷ তখন তাঁর শিষ্যরা এসে তাঁকে বললেন, ‘সেইক্ষেতের ও শ্যামা ঘাসের দৃষ্টান্তটি আমাদের বুঝিয়ে দিন৷’
37 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘যিনি ভাল বীজ বোনেন, তিনি মানবপুত্র৷
38 জমি বা ক্ষেত হল এই জগত, স্বর্গরাজ্যের লোকরা হল ভাল বীজ৷ আর শ্যামাঘাস তাদেরই বোঝায়, যাঁরা মন্দ লোক৷
39 গমের মধ্যে য়ে শত্রু শ্যামা ঘাস বুনে দিয়েছিল, সে হল দিয়াবল৷ ফসল কাটার সময় হল জগতের শেষ সময় এবং মজুররা যাঁরা সংগ্রহ করে, তারা ঈশ্বরের স্বর্গদূত৷
40 ‘শ্যামা ঘাস জড় করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়৷ এইপৃথিবীর শেষের সময়েও ঠিক তেমনি হবে৷
41 মানবপুত্র তাঁর স্বর্গদূতদের পাঠিয়ে দেবেন, আর যাঁরা পাপ করে ও অপরকে মন্দের পথে ঠেলে দেয়, তাদের সবাইকে সেইস্বর্গদূতরা মানবপুত্রের রাজ্যের মধ্য থেকে একসঙ্গে জড় করবেন৷
42 তাদের জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে দেবেন৷ সেখানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘষতে থাকবে৷
43 তারপর যাঁরা ধার্মিক প্রতিপন্ন হয়েছে, তারা পিতার রাজ্যে সূর্যের মতো উজ্জ্বল হয়ে দেখা দেবে৷ যার শোনার মতো কান আছে সে শুনুক!

মথি 13:36-43

সরিষার বীজ এবং খামিরের দৃষ্টান্ত

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) কিছু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত দৃষ্টান্ত সমূহের শিক্ষা দিয়েছিলেন I 

  31 যীশু তাদের সামনে আর একটি দৃষ্টান্ত রাখলেন, ‘স্বর্গরাজ্য এমন একটা সরষে দানার মতো যা নিয়ে কোন একজন লোক তার জমিতে লাগাল৷
32 সমস্ত বীজের মধ্যে ওটা সত্যিই সবচেয়ে ছোট, কিন্ত গাছ হয়ে বেড়ে উঠলে পর তা সমস্ত শাক-সব্জীর থেকে বড় হয়ে একটা বড় গাছে পরিণত হয়, যাতে পাখিরা এসে তার ডালপালায় বাসা বাঁধে৷’
33 তিনি তাদের আর একটা দৃষ্টান্ত বললেন, ‘স্বর্গরাজ্য য়েন খামিরের মতো৷ একজন স্ত্রীলোক তা নিয়ে একতাল ময়দার সঙ্গে মেশাল ও তার ফলে সমস্ত ময়দা ফেঁপে উঠল৷’

মথি 13:31-33

ঈশ্বরের রাজ্য এই জগতে অল্প এবং তুচ্ছভাবে শুরু হবে তবে এরপরে খামিরের মাখা ময়দার তালের মধ্য দিয়ে কাজ করার মতন এবং এক ক্ষুদ্র বীজের বৃহৎ গাছে বেড়ে ওঠার মতন সারা বিশ্ব জুড়ে বৃদ্ধি পাবে I এটি শক্তির দ্বারা, অথবা হঠাৎ করে ঘটে না, এর বৃদ্ধি অদৃশ্য তবে সর্বত্র এবং অপ্রতিরোধ্য I   

গুপ্ত খাজানা এবং মূল্যবান মুক্তার দৃষ্টান্ত

   44 ‘স্বর্গরাজ্য ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখা ধনের মতো৷ একজন লোক তা খুঁজে পেয়ে আবার সেই ক্ষেতের মধ্যে লুকিয়ে রাখল৷ সে এতে এত খুশী হল য়ে সেখান থেকে গিয়ে তার সর্বস্ব বিক্রি করে সেই ক্ষেতটি কিনল৷
45 ‘আবার স্বর্গরাজ্য এমন একজন সওদাগরের মতো, য়ে ভাল মুক্তা খুঁজছিল৷
46 যখন সে একটা খুব দামী মুক্তার খোঁজ পেল, তখন গিয়ে তার যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে সেইমুক্তাটাই কিনল৷

মথি 13:44-46

এই দৃষ্টান্তগুলো স্বর্গ রাজ্যের মূল্যের উপে ফোকাস করে I একটি খাজনার কথা ভাবুন যেটি একটি ক্ষেত্রের মধ্যে লুকানো আছে I যেহেতু এটি লুকানো আছে ক্ষেত্রের পাস দিয়ে যাওয়া প্রত্যেকে ভাবে ক্ষেত্রটির মূল্য কম আর তাই এর মধ্যে তাদের কোনো আকর্ষণ নেই I তবে কেউ উপলব্ধি করে যে সেখানে একটি  খাজানা থাকায় ক্ষেত্রটিকে মূল্যবান করেছে – এটিকে কেনার জন্য এবং খাজানা পেতে সর্বস্য বিক্রী করার পক্ষে যথেষ্ট মূল্যবান I সুতরাং এটি ঈশ্বরের রাজ্যের সাথে রয়েছে – একই মূল্য যা বেশিরভাগ লোকেদের নজরে পড়ে না, তবে কম যারা এর মূল্যকে দেখে তারা মহা মূল্যকে অর্জন করবে I 

জালের দৃষ্টান্ত

47 ‘স্বর্গরাজ্য আবার এমন একটা বড় জালের মতো যা সমুদ্রে ফেলা হলে তাতে সব রকম মাছ ধরা পড়ল৷
48 জাল পূর্ণ হলে লোকরা সেটা পাড়ে টেনে তুলল, পরে তারা বসে ভালো মাছগুলো বেছে ঝুড়িতে রাখল এবং খারাপগুলো ফেলে দিল৷
49 জগতের শেষের দিনে এই রকমই হবে৷ স্বর্গদূতরা এসে ধার্মিক লোকদের মধ্য থেকে দুষ্ট লোকদের আলাদা করবেন৷
50 স্বর্গদূতরা জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে দুষ্ট লোকদের ফেলে দেবেন৷ সেখানে লোকে কান্নাকাটি করবে ও দাঁতে দাঁত ঘসবে৷’  

মথি 13:47-50

স্বর্গ রাজ্য লোকেদের আলাদা করবে I বিচ্ছিনতা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হবে বিচারের দিনে – যখন হৃদয় খালি রাখা হয় I

স্বর্গ রাজ্য রহস্যজনকভাবে বৃদ্ধি পায়, মাখা ময়দার তালের মধ্যে খামিরের ন্যায়, যে এর মহা মূল্য থাকে যা বেশিরভাগের থেকে গুপ্ত থাকে, এবং যে এটি লোকেদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে I এছাড়াও এটি সেই লোকেদের আলাদা করে যারা বোঝে এবং যারা বোঝে না I এই দৃষ্টান্তগুলোর শিক্ষা দেবার পরে ভাববাদী ঈসা আল মসীহ পরে তার শ্রোতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন I 

  51 যীশু তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমরা কি এসব কথা বুঝলে?’তারা তাঁকে বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা বুঝেছি৷’

মথি 13:51

আপনার কি ব্যাপার?

ঈসা আল মসীহ ক্ষমার উপরে শিক্ষা দেন

সুরাহ ঘাফির (সুরাহ 40 – ক্ষমাদাতা) শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ ক্ষমা করেন

 পাপ হামকারী, তওবা কবুলেক্টর, সংগ্রহকারী দুরন্তদিতা ও সমথ? 476; ান। তিনি ব্যতীত কোন উপসর্গ না। যখন পুনরায় প্রত্যাবর্তন করা হবে।কাফেররাই কেবল আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে। কাজেই নগরীসমূহে তাদের বিচরণ যেন আপনাকে বিভ্রান্তিতে না ফেলে।তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল, আর তাদের পরে অন্য অনেক দল ও প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ পয়গম্বরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল এবং তারা মিথ্যা বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়েছিল, যেন সত্যধর্মকে ব্যর্থ করে দিতে পারে। অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি।এভাবে কাফেরদের বেলায় আপনার পালনকর্তার এ বাক্য সত্য হল যে, তারা জাহান্নামী।

সুরাহ ঘাফির 40: 3&7

সুরাহ আল-হুজুরাত (সুরাহ 49 – ঘর সমূহ) আমাদের বলে এই করুণা পেতে একে অপরের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে

 মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।

সুরাহ আল-হুজুরাত 49:10

ঈসা আল মসীহ আল্লাহর থেকে ক্ষমা সম্বন্ধে শিক্ষা দিয়েছিলেন, এবং এছাড়া এটিকে একে অপরকে ক্ষমা করার সাথে সংযুক্ত করেছেন I 

অন্যদের ক্ষমা করার উপরে ঈসা আল মসীহ

বিশ্বের খবরগুলো আমার দেখার সাথে সাথে এটি মনে হয় যে রক্তপাত এবং হিংসা চতুর্দিকে বাড়ছে I আফগানিস্তানে বম ফেলা, লেবানন, সিরিয়া এবং ইরাক জুড়ে লড়াই, পাকিস্তানের হত্যাকান্ড, তুর্কীতে দাঙ্গা, নাইজেরিয়াতে অপহরণ, পলেস্তিয়ান এবং ইস্রায়েলের সাথে যুদ্ধ, কেনিয়াতে শহরের নৃসংশ হত্যাকান্ড – এবং এগুলোকে আমি খারাব খবরগুলো অনুসন্ধান না করে শুনেছি I তার উপরে আমরা বহু অন্যায় ক্ষত ও অভিযোগ একে অপরের উপরে চাপিয়ে দিয়েছি যা খবরের শিরোনাম হয় না – তবে যা আমাদের তবুও আঘাত করে I প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণের এই দিনে ক্ষমার বিষয়ে ঈসা আল মসীহর শিক্ষার সর্বাধিক গুরুত্ব রয়েছে I একদিন তার শিষ্যরা জিজ্ঞাসা করল কতবার তাদের ক্ষমা করা উচিত I এখানে ইঞ্জিল থেকে বিবরণটি রয়েছে I    

21 তখন পিতর যীশুর কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, আমার ভাই আমার বিরুদ্ধে কতবার অন্যায় করলে আমি তাকে ক্ষমা করব? সাত বার পর্যন্ত করব কি?’
22 যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমি তোমাকে বলছি, কেবল সাত বার নয়, কিন্তু সাতকে সত্তর দিয়ে গুণ করলে যতবার হয় ততবার৷’
23 ‘স্বর্গরাজ্য এভাবে তুলনা করা যায়, য়েমন একজন রাজা যিনি তাঁর দাসদের কাছে হিসাব মিটিয়ে দিতে বললেন৷
24 তিনি যখন হিসাব নিতে শুরু করলেন, তখন তাদের মধ্যে একজন লোককে আনা হল য়ে রাজার কাছে দশ হাজার রৌপ্যমুদ্রা ধারত৷
25 কিন্তু তার সেই ঋণ শোধ করার ক্ষমতা ছিল না৷ তখন সেইমনিব রাজা হুকুম করলেন য়েন সেইলোকটাকে তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে আর তার যা কিছু আছে সমস্ত বিক্রি করে পাওনা আদায় করা হয়৷
26 ‘তাতে সেইদাস মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে মনিবের পা ধরে বলল, ‘আমার ওপর ধৈর্য্য ধরুন, আমি আপনার সমস্ত ঋণই শোধ করে দেব’
27 সেইকথা শুনে সেই দাসের প্রতি মনিবের অনুকম্পা হল, তিনি তার সব ঋণ মকুব করে দিয়ে তাকে মুক্ত করে দিলেন৷
28 ‘কিন্তু সেইদাস ছাড়া পেয়ে বাইরে গিয়ে তার একজন সহকর্মীর দেখা পেল, য়ে তার কাছে প্রায় একশো মুদ্রা ধারত৷ সেই দাস তখন তার গলাটিপে ধরে বলল, ‘তুই য়ে টাকা ধার করেছিস তা শোধ কর৷’
29 ‘তখন তার সহকর্মী তার সামনে উপুড় হয়ে অনুনয় করে বলল, ‘আমার প্রতি ধৈর্য্য ধর৷ আমি তোমার সব ঋণ শোধ করে দেব৷’
30 কিন্তু সে তাতে রাজী হল না, বরং ঋণ শোধ না করা পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটকে রাখল৷
31 তার অন্য সহকর্মীরা এইঘটনা দেখে খুবইদুঃখ পেল, তাই তারা গিয়ে তাদের মনিবের কাছে যা যা ঘটেছে সব জানাল৷
32 ‘তখন সেই মনিব তাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি দুষ্ট দাস! তুমি আমায় অনুরোধ করলে আর আমি তোমার সব ঋণ মকুব করে দিলাম৷
33 আমি য়েমন তোমার প্রতি দয়া দেখিয়েছিলাম তেমনি তোমার সহকর্মীর প্রতিও কি তোমার দয়া করা উচিত ছিল না?’
34 তখন তার মনিব ক্রুদ্ধ হয়ে সমস্ত ঋণ শোধ না করা পর্যন্ত তাকে শাস্তি দিতে কারাগারে দিয়ে দিলেন৷
35 ‘তোমরা প্রত্যেকে যদি তোমাদের ভাইকে অন্তর দিয়ে ক্ষমা না কর, তবে আমার স্বর্গের পিতাও তোমাদের প্রতি ঠিক ঐভাবে ব্যবহার করবেন৷’

মথি: 18:21-35

তার গল্পের বিষয়টি হল যদি আমরা তার দয়াকে গ্রহণ করে থাকি, তবে আল্লাহ (রাজা) আমাদেরকে অনেক বেশি ক্ষমা করে দিয়েছেন I এটি দশ হাজার ব্যাগ সোনার প্রতীকী ছিল যা দাসের দ্বারা তার পাওনা ছিল I দাসটি ঘোষণা করেছিল যে এটিকে ফেরৎ দিতে তার আরও বেশি সময়ের দরকার ছিল I কিন্তু কখনও অর্থ পরিশোধ দেওয়ার জন্য সেটি একটি অনেক বড় পরিমাণ ছিল, তার রাজা পুরো ঋণটি কেবল বাতিল করে দিলেন I এইরকমই আল্লাহ আমাদের জন্য করেন আমরা যদি তার দয়া গ্রহণ করি I  

কিন্তু তারপরে এই একই দাস আর একজন দাসকে দেখল যার কাছে তার একশত রৌপ্য মুদ্রা পাওনা ছিল I সে পুরো মূল্য দাবী করল এবং অন্য দাসটিকে আর বেশি সময় দিল না I যখন আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাপ করি সেখানে আঘাত ও ক্ষতি হয়, তবে আমাদের পাপ আল্লাহকে দুঃখী ও আহত করার তুলনায় এটি তুচ্ছ – দশ হাজার ব্যাগের তুলনায় একশত রৌপ্য টুকরোর মতন I   

অতএব আল্লাহ (রাজা) তারপরে দাসটিকে সবকিছু ফেরৎ দিতে কারাগারে পাঠান I ঈসা আল মসীহর শিক্ষায়, আমাদের বিরুদ্ধে লোকেদের দ্বরা কৃত পাপ এবং অভিযোগকে ক্ষমা না করা আল্লাহর ক্ষমাকে বাজেয়াপ্ত করা এবং নরকে আমাদের দোষী করা I এর থেকে গুরুতর আর কিছু হতে পারে না I

চ্যালেঞ্জ হল ক্ষমার এই আত্মাকে বজায় রাখা I যখন কেউ আমাদের আহত করে থাকে তখন প্রতিশোধের কামনা খুব বড় হতে পারে I তাই কিভাবে আমরা এই আত্মাকে পেতে পারি যা ক্ষমা করতে পারে? ইঞ্জিলকে অন্বেষণ করে আমাদের চলতে থাকার প্রয়োজন I