হযরত আদম (আঃ)-এর চিহ্ন

হযরত আদম এবং তার স্ত্রী বিবি হাওয়া হলেন অদ্বিতীয় যেহেতু তারা প্রতক্ষ্যভাবে আল্লাহ্‌তা’লার দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিলেন এবং তারা আদনের জান্নাতুল-ফেরদৌসে বসবাস করতেন৷  তাই আমাদের তালিমের জন্য তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নসমূহ রয়েছে৷ হযরত আদমের বিষয়ে পাক কুরআনে দুটো এবং তৌরাত শরীফে একটি ঘটনা আছে৷ (সেগুলোকে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন)৷

এই বর্ণনাগুলো একেবারেই একইরকমের৷ দুটো ঘটনাতেই চরিত্রগুলো এক (হযরত আদম, বিবি হাওয়া, শয়তান (ইবলীস), এবং আল্লাহ্) উভয় ঘটনাটির স্থানটিও এক ছিল (বাগিচা); উভয় ঘটনাতে শয়তান (ইবলীস) মিথ্যা কথা বলেছিল এবং হযরত আদম ও বিবি হাওয়াকে ঠকিয়েছিল;  দুটো ঘটনাতেই হযরত আদম ও বিবি হাওয়া তাদের নগ্নতা ঢাকতে পাতা ব্যবহার করেছিলেন;  উভয় ঘটনাতে আল্লাহ্‌তা’লা এসেছিলেন এবং বিচার করার জন্য কথা বলেছিলেন; উভয় ঘটনাতে আল্লাহ্‌তা’লা তাদের ‘নগ্নতা’ ঢাকার জন্য পোশাক (আচ্ছাদন) প্রদান করে তার দয়া দেখিয়েছিলেন৷  পাক কুরআনে উল্লেখ আছে এই হল ‘আল্লাহ্‌র চিহ্ন’ ‘হযরত আদমের সন্তানদের’ জন্য – যারা হলাম আমরা৷ অতএব এটি কেবল অতীতের পাক ঘটনাগুলোর বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক তালিম নয়৷ আমরা হযরত আদমের ঘটনাটি থেকে তালিম গ্রহণ করতে পারি৷

আমাদের জন্য হযরত আদম (আঃ)-এর সতর্ক বার্তা

আল্লাহ্‌তা’লার বিচার করার পূর্বে হযরত আদম ও বিবি হাওয়া হুকুম না মেনে একটি গুনাহ্‌ করেছিল৷ উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহের কাছে তারা হুকুম না মানার দশটি গুনাহ্‌ করেননি, নয়টির জন্য সতর্কবাণী ও অন্তিমে বিচার, এমনটি ঘটেনি, বা আল্লাহ্‌র সাথে দশটি অবাধ্যতার গুনাহের মধ্যে আল্লাহ্ নয়টি সতর্কবাণী এবং অন্তিমে বিচার করেছিলেন এমন নয়৷ আল্লাহ্ কেবলমাত্র একটি অবাধ্যতার বিচার করেছিলেন৷  অনেকে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ্ তাদেরকে বহু গুনাহ্ করার পরে বিচার করবেন৷ তারা মনে করে যে যদি অন্যদের তুলনায় তাদের ‘কম গুনাহ্’ থাকে অথবা যদি তাদের ভালো কাজ খারপ কাজের তুলনায় বেশি হয় তবে (সম্ভবতঃ) আল্লাহ্‌তা’লা তাদের বিচার করবেন না৷  হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার অভিজ্ঞতাটি আমাদেরকে সতর্ক করে যে এমনটি নয়৷ আল্লাহ্ অবাধ্যতার একটি গুনাহেরও ন্যায় করবেন৷

আরো বেশি স্পষ্ট হবে যদি আমরা আল্লাহ্‌র প্রতি অবাধ্যতা করাকে দেশের আইন অমান্য করার সাথে তুলনা করি৷  কানাডাতে যেখানে আমি বসবাস করি, যদি আমি কেবল একটি আইন লঙ্ঘন করি (উঃ স্বঃ, আমি কিছু চুরি করেছি), তবে দেশ আমার বিচার করতে পারে৷  আমি এই অনুরোধ করতে পারব না যে আমি তো কেবল একটি আইন লঙ্ঘন করেছি এবং খুন করার বা অপহরণ করার আইন ভাঙ্গিনি৷ কানাডার ন্যায় বিচারের সম্মুখীন হওয়ার জন্য আমার কেবল একটি আইন ভাঙ্গাই যথেষ্ট হবে৷ আল্লাহ্‌র সাথেও একই রকম৷

যখন তারা পাতা দিয়ে নিজেদের আচ্ছাদন করেছিলেন তখন আমরা বুঝতে পারি যে তারা লজ্জা অনুভব করেছিলেন এবং তাদের উলঙ্গতাকে ঢাকার চেষ্টা করেছিলেন৷ একইভাবে, যখন আমি এমন কিছু করি যা আমাকে লজ্জিত করে তখন আমি তা অন্যদের থেকে লুকাবার চেষ্টা করি৷ কিন্তু হযরত আদমের প্রচেষ্টা আল্লাহ্‌তা’লার সম্মুখে বিফল হয়েছিল৷ আল্লাহ্ তাদের বিফলতাটিকে দেখতে পেয়েছিলেন এবং তারপর তিনি তাদের সাথে কথা বলেছিলেন৷

ন্যায়বিচারে আল্লাহ্‌র কার্যসমূহ- কিন্তু দয়ার সাথে

আমরা তিনটি কার্য দেখতে পারি:

  1. আল্লাহ্ তাদেরকে মরণশীল পরিণত করে দেন- এখন থেকে তারা মারা যাবে৷
  2. আল্লাহ্ তাদেরকে বাগিচাটি থেকে বের করে দেন৷ তাদেরকে এখন দুনিয়াতে আরো কঠিন জীবন বাঁচতে হবে৷
  3. আল্লাহ্ তাদেরকে পশুর চামড়া প্রদান করেন৷

এটি রুচিকর যে এই ঘটনাগুলো আজকের দিনেও আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে৷ প্রত্যেকই মারা যায়; কেউই সেই বাগিচাটিতে ফিরে যেতে পারেনি –নবীরাও না; এবং সকলেই নিয়মিতভাবে পোশাক পরিধান করে চলেছে৷ আসলে, এই তিনটি বিষয় এতই সাধারণ যে আমরা তা প্রায়ই ধ্যান দিই না, যা আল্লাহ্ হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার সাথে করেছিলেন, তা হাজার হাজার বছর পরেও আমরা এখনও অনুভব করি৷ সেই দিনের ঘটনার পরিণামটি যে আজও প্রভাব ফেলছে তা লক্ষণীয়৷

আল্লাহ্‌র তরফ থেকে দেওয়া পোশাকটি দয়ার একটি উপহার ছিল- যার পরে তাদের নগ্নতা আচ্ছাদিত হয়েছিল৷ হ্যাঁ, তিনি ন্যায় বিচার করেছিলেন- কিন্তু তিনি দয়াও করেছিলেন- যা করার তার কোনো বাধ্যতা ছিল না৷ হযরত আদম ও বিবি হাওয়া ভালো আচরণের জন্য পোশাক পাপ্ত করেননি যা তাদের অবাধ্যতামূলক কাজের বিরুদ্ধে সদগুণ হত৷ হযরত আদম ও বিবি হাওয়া কোনো সদগুণ বা যোগ্যতা ছাড়াই কেবলমাত্র আল্লাহ্‌র কাছে উপহার পেতে পারতেন৷ কিন্তু কাউকে তার জন্য দাম দিতে হত৷ তৌরাত শরীফ বলে যে পোশাকটি ‘চামড়ার’ ছিল৷  অতএব তা একটি পশুর থেকে এসেছিল৷  এই ঘটনাটি পর্যন্ত কেউই মরেনি, কিন্তু এখন পোশাক রূপে উপযুক্ত চামড়া যুক্ত একটি পশু দাম চুকিয়েছিল- তার জীবন দিয়ে৷ একটি পশু মারা গিয়েছিল যেন হযরত আদম ও বিবি হাওয়া আল্লাহ্‌র কাছে দয়া পেতে পারেন৷

পাক কুরআন আমাদেরকে বলে যে এই পোশাকটি তাদের নগ্নতা আচ্ছাদিত করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তাদের যে আচ্ছাদনের প্রয়োজন ছিল তা ছিল ‘ধার্মিকতা’, এবং যে পোশাক (চামড়া) তারা প্রাপ্ত করেছিল তা আমাদের জন্য এক প্রকারে এই ধার্মিকতার একটি চিহ্ন ছিল৷

“হে আদম সন্তানগণ! আমরা তোমাদের লজ্জা আচ্ছাদিত করতে আচ্ছাদন দিয়েছি তথা যা হল সাজ-সজ্জার উপকরণও৷ কিন্তু ধার্মিকতার পোশাকটি হল সবচাইতে উত্তম৷ এগুলো হল আল্লাহ্‌র চিহ্নসমূহের থেকে, যেন তারা মৃদু ভর্ৎসনা প্রাপ্ত করে”

সূরা ৭:২৬ (আল-আরাফ

একটি ভালো প্রশ্ন হল: আমরা কিভাবে এই ‘ধার্মিকতার পোশাকটি’ পেতে পারি? পরবর্তী নবীগণ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তরটিকে দেখাবেন৷

আমরা তিনটি কার্য দেখতে পারি:

  1. আল্লাহ্ তাদেরকে মরণশীল পরিণত করে দেন- এখন থেকে তারা মারা যাবে৷
  2. আল্লাহ্ তাদেরকে বাগিচাটি থেকে বের করে দেন৷ তাদেরকে এখন দুনিয়াতে আরো কঠিন জীবন বাঁচতে হবে৷
  3. আল্লাহ্ তাদেরকে পশুর চামড়া প্রদান করেন৷

এটি রুচিকর যে এই ঘটনাগুলো আজকের দিনেও আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে৷ প্রত্যেকই মারা যায়; কেউই সেই বাগিচাটিতে ফিরে যেতে পারেনি –নবীরাও না; এবং সকলেই নিয়মিতভাবে পোশাক পরিধান করে চলেছে৷ আসলে, এই তিনটি বিষয় এতই সাধারণ যে আমরা তা প্রায়ই ধ্যান দিই না, যা আল্লাহ্ হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার সাথে করেছিলেন, তা হাজার হাজার বছর পরেও আমরা এখনও অনুভব করি৷ সেই দিনের ঘটনার পরিণামটি যে আজও প্রভাব ফেলছে তা লক্ষণীয়৷

আল্লাহ্‌র তরফ থেকে দেওয়া পোশাকটি দয়ার একটি উপহার ছিল- যার পরে তাদের নগ্নতা আচ্ছাদিত হয়েছিল৷ হ্যাঁ, তিনি ন্যায় বিচার করেছিলেন- কিন্তু তিনি দয়াও করেছিলেন- যা করার তার কোনো বাধ্যতা ছিল না৷ হযরত আদম ও বিবি হাওয়া ভালো আচরণের জন্য পোশাক পাপ্ত করেননি যা তাদের অবাধ্যতামূলক কাজের বিরুদ্ধে সদগুণ হত৷ হযরত আদম ও বিবি হাওয়া কোনো সদগুণ বা যোগ্যতা ছাড়াই কেবলমাত্র আল্লাহ্‌র কাছে উপহার পেতে পারতেন৷ কিন্তু কাউকে তার জন্য দাম দিতে হত৷ তৌরাত শরীফ বলে যে পোশাকটি ‘চামড়ার’ ছিল৷  অতএব তা একটি পশুর থেকে এসেছিল৷  এই ঘটনাটি পর্যন্ত কেউই মরেনি, কিন্তু এখন পোশাক রূপে উপযুক্ত চামড়া যুক্ত একটি পশু দাম চুকিয়েছিল- তার জীবন দিয়ে৷ একটি পশু মারা গিয়েছিল যেন হযরত আদম ও বিবি হাওয়া আল্লাহ্‌র কাছে দয়া পেতে পারেন৷

পাক কুরআন আমাদেরকে বলে যে এই পোশাকটি তাদের নগ্নতা আচ্ছাদিত করেছিল, কিন্তু বাস্তবে তাদের যে আচ্ছাদনের প্রয়োজন ছিল তা ছিল ‘ধার্মিকতা’, এবং যে পোশাক (চামড়া) তারা প্রাপ্ত করেছিল তা আমাদের জন্য এক প্রকারে এই ধার্মিকতার একটি চিহ্ন ছিল৷

“হে আদম সন্তানগণ! আমরা তোমাদের লজ্জা আচ্ছাদিত করতে আচ্ছাদন দিয়েছি তথা যা হল সাজ-সজ্জার উপকরণও৷ কিন্তু ধার্মিকতার পোশাকটি হল সবচাইতে উত্তম৷ এগুলো হল আল্লাহ্‌র চিহ্নসমূহের থেকে, যেন তারা মৃদু ভর্ৎসনা প্রাপ্ত করে”

সূরা ৭:২৬ (আল-আরাফ

একটি ভালো প্রশ্ন হল: আমরা কিভাবে এই ‘ধার্মিকতার পোশাকটি’ পেতে পারি? পরবর্তী নবীগণ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তরটিকে দেখাবেন

ন্যায়বিচারে ও দয়ায় আল্লাহ্‌র বাক্য

আল্লাহ্ হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার এবং আমাদের (তাদের সন্তানদের) জন্য কেবল এই তিনটি জিনিসই করেননি বরং তিনি তার বাক্যও বলেছিলেন৷ উভয় ঘটনাতেই আল্লাহ্ ‘শত্রুতার’ কথা বলেন কিন্তু তৌরাত শরীফে তিনি আরো বলেন যে এই ‘শত্রুতাটি’ স্ত্রী ও সাপের (শয়তান) মধ্যে হবে৷  এই নির্দিষ্ট বার্তাটিকে নিম্নে পুনরায় দেওয়া হয়েছে৷ আমি কেবল উল্লেখিত ব্যক্তিদেরকে ()-এর সাথে লিখেছি৷ আল্লাহ্ বলেন:

“এবং আমি (আল্লাহ্) তোমার (শয়তান) ও স্ত্রীলোকের মধ্যে,

এবং তোমার বংশ ও স্ত্রীলোকের মধ্যে দিয়ে আসা বংশের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করব;

তিনি (স্ত্রীলোকের বংশের একজন পুরুষ) তোমার (শয়তান) মাথা পিষে দেবে,

এবং তুমি (শয়তান) তার পায়ের গোড়ালীতে ছোবল মারবে৷”

পয়দায়েশ ৩:১৫

এটি হল একটি ধাঁধা- কিন্তু এটি সহজ৷ যত্ন সহকারে পড়লে আপনি দেখতে পাবেন যে এখানে পাঁচটি ভিন্ন চরিত্রের উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি হল ভবিষ্যতে ঘটবে এমন একটি কথা (বাংলা ব্যাকরণের ভবিষ্যত কালে ব্যক্ত করা হয়েছে)৷ চরিত্রগুলো হল:

  1. মাবুত (বা আল্লাহ্)
  2. শয়তান (বা ইবলিস)
  3. স্ত্রীলোক
  4. স্ত্রীলোকের মধ্যে দিয়ে আসা বংশ
  5. শয়তানের বংশ

আর ধাঁধাটিকে মানচিত্রে দেখানো হয়েছে যে কিভাবে এই চরিত্রগুলো ভবিষ্যতে একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হবে৷ এটিকে নিম্নে দেখানো হয়েছে৷

চরিত্রগুলি এবং তাদের সম্পর্ক জান্নাতে প্রদত্ত আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে

এখানে স্ত্রীলোকটি কে তা বলা হয়নি৷ কিন্তু আল্লাহ্ বলেন শয়তানের বংশের একজন এবং স্ত্রীলোকের বংশের একজন৷ এটি রহস্যজনক কিন্তু আমরা স্ত্রীলোকের বংশের এই একজনের বিষয়ে একটা কথা জানি৷ কেননা ‘বংশটিকে’ তিনি বলা হয়েছে যার বিষয়ে হিব্রু ভাষাতে একজন পুরুষ লেখা আছে৷ এই জানকারীর সাথে আমরা কিছু সম্ভাব্য ব্যাখ্যা করতে পারি৷ তিনি একজন পুরুষ কোনো স্ত্রী নন- কিন্তু এই পুরুষটি স্ত্রী থেকে এসেছেন৷ ‘তিনি’ ব্যক্তিটি ‘তারা’ বা ‘ওরা’ নন (এটি বহুবচন বা একাধিকসংখ্যক শব্দ নয়)৷ তাই বংশ শব্দটি এখানে একাধিক লোকেদেরকে বা রাষ্ট্রকে বা নির্দিষ্ট কোনো ধর্মকে উল্লেখ করা হয়নি৷ ‘তিনি’ শব্দটি এখানে কোনো ‘বস্তুকে’ বলা হয়নি  (বংশ এখানে একজন ব্যক্তিকে বলা হয়েছে)৷ যদিও এটি মনে হওয়া সম্ভব যে বংশটি হল একটি নির্দিষ্ট মতবাদ বা শিক্ষা বা ধর্ম৷ অতএব বংশটি (উদাহরণস্বরূপ) খ্রিস্টান ধর্ম বা ইসলাম ধর্ম নয় নতুবা ‘তাকে’ ‘এটি’ বলে উল্লেখ করা হত, এটি জনগোষ্ঠীও নয় যেমন ইহুদি বা খ্রিস্টান অথবা মুসলিম কেননা সেক্ষেত্রে ‘তিনি’-র জায়গায় ‘তারা’ লেখা হত৷ যদিও এই ‘বংশটি’ কে তা রহস্যময়৷ আমরা বহু সম্ভবনার বিচারগুলোকে পরিহার করেছি যা প্রাকৃতিকভাবে আমাদের মাথায় আসতে পারত৷

আমরা ভবিষ্যৎ কালের এই প্রতিজ্ঞাটিকে দেখি যা হল আল্লাহ্‌র একটি উদ্দেশ্যযুক্ত পরিকল্পনা৷ এই ‘বংশটি’ শয়তানের মাথা পিষে দেবে (অর্থাৎ ধ্বংস করবেন) আর একই সময়ে শয়তান ‘তার গোড়ালীতে ছোবল’ মারবে৷ এই সময়টিতে রহস্যটির অর্থটি কি তা স্পষ্ট নয়৷ কিন্তু আমরা জানি যে মাবুদের একটি পরিকল্পনা উন্মুক্ত হতে চলেছে৷

এখন দেখুন আল্লাহ্ হযরত আদমকে কি বলেননি৷  তিনি পুরুষটিকে কোনো নির্দিষ্ট একজন বংশের প্রতিজ্ঞা দেননি যেমন তিনি স্ত্রীলোকটিকে দিয়েছিলেন৷ এটি একটু আশ্চর্যজনক যেহেতু বিশেষভাবে পিতাদের মাধ্যমে আগন্তুক পুত্রদের উপর তৌরাত শরীফ, জবুর শরীফ এবং ইঞ্জিল শরীফে জোর দেওয়া হয়েছে৷ তৌরাত, জবুর ও ইঞ্জিল শরীফে প্রদত্ত খান্দাননামাতে কেবল পুত্রদের বিষয়ে লেখা হয়েছে যারা পিতাদের থেকে জন্মে ছিলেন৷ কিন্তু বাগানে দেওয়া প্রতিশ্রুতিটি ভিন্ন- একজন পুরুষের থেকে আসা একটি বংশের (তিনি) প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি৷ তৌরাত শরীফ কেবল বলে যে স্ত্রীলোক থেকে একজন বংশ আসবেন- কোনো পুরুষের উল্লেখ ছাড়াই

মানব জগতের ইতিহাসে কেবল দুজন মানুষের কোনো জাগতিক পিতা ছিল না৷ প্রথমজন হলেন হযরত আদম (আঃ), যিনি প্রত্যক্ষভাবে মাবুদের দ্বারা সৃষ্টি হয়েছিলেন৷ দ্বিতীয় ব্যক্তিটি হলেন ঈসা আল মসীহ (আঃ) যিনি একজন কুমারীর দ্বারা জন্মেছিলেন- তাই তার কোনো শারীরিক পিতা ছিল না৷ অতএব নিরীক্ষণটির সাথে এই বিষয়টি মেল খায় যে বংশটি হলেন একজন ‘পুরুষ’, ‘স্ত্রী’ বা ‘তারা’ বা ‘এটি’ নয়৷ ঈসা আল মসীহ (আঃ) হলেন একজন স্ত্রীর বংশ৷ কিন্তু তার শত্রু কে বা শয়তানের ‘বংশটি’ কে? যদিও এটিকে খুঁটিয়ে দেখার সময় এখানে আমাদের কাছে যথেষ্ট নেই, তবুও কিতাবগুলো ‘ধ্বংসের পুত্র’, ‘শয়তানের ছেলে’ ও অন্যান্য নামে উল্লেখ করে যা এমন একজনের আগমনের বিষয়ে বলে যে ‘মসীহের’ বিরোধ করবে৷  যে দজ্জাল নামেও পরিচিত, পরবর্তী পুস্তকগুলোতে এই ‘মসীহ বিরোধী ও মসীহের মধ্যের সংগ্রামটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে৷ কিন্তু এই স্থানটিতে সর্বপ্রথমে উল্লখ করা হয়েছিল যা ছিল ইতিহাসের আরম্ভ৷

শয়তান ও আল্লাহ্‌র সংগ্রামের কাহিনীটির শেষ পরিণাম বা সমাপ্তিটিকে, যা বাগিচাতে আরম্ভ হয়েছিল তা সেই আরম্ভেই বলে দেওয়া হয়েছিল- প্রথম কিতাবটিতে৷ বহু প্রশ্ন থেকে যায় ও আরো অনেক প্রশ্ন জেগে ওঠে৷ এখান থেকে আরম্ভ করে পরবর্তী নবীগণ আজকের সময়ে আমাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে আমাদেরকে সাহায্য করবেন৷ আমরা হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার পুত্রদের-কাবিল ও হাবিল-এর সাথে নিরীক্ষণটিকে জারী রাখব৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *