বাইবেল কিভাবে অনুবাদিত হয়েছিল

বাইবেল, বা আল কিতাব এর মূল ভাষায় (হিব্রু এবং গ্রীক) সাধারণতঃ পড়া হয় না I এটি এই কারণে নয় যে এটি এই সকল ভাষায় উপলব্ধ নয় I এটি উপলব্ধ, এবং পণ্ডিতগণ মূল ভাষায় বাইবেলকে পড়তে এবং অধ্যয়ন করতে সক্ষম হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীক এবং হিব্রু অধ্যয়ন করেন I (এখানে মূল হিব্রুতে তোরাহকে, এবং এখানে মূল গ্রীকে ইঞ্জিলকে দেখুন) I এটি প্রায়শই উপায় হয় যে বাইবেলের পেশাগত শিক্ষকরা এটিকে অধ্যয়ন করেন I কিন্তু নিয়মিত বিশ্বাসীরা সাধারণতঃ বাইবেলকে এর মূল ভাষায় পড়ে বা অধ্যয়ন করে না, আর পরিবর্তে এটিকে তাদের মাতৃভাষার অনুবাদে পড়ে I অতএব, বাইবেলকে প্রায়শই এর মূল ভাষায় দেখা যায় না, কাউকে ভাবাতে পারে যে মূল ভাষাগুলোকে হারিয়ে ফেলা হয়েছে, এবং অন্যদের ভাবায় যে অনুবাদের প্রক্রিয়া বিকৃতির দিকে চালিত করেছে I এই সিদ্ধান্তগুলোয় ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে, প্রথমে আল কিতাব, বা বাইবেলের অনুবাদের প্রক্রিয়াটিকে বুঝে নেওয়া ভাল I সেটাই আমরা এই নিবন্ধে করব I       

অনুবাদ বনাম অক্ষরীকরণ

প্রথমে অনুবাদের কিছু মূলসুত্রগুলোকে আমাদের বোঝা দরকার I অনুবাদকরা মাঝে মাঝে অর্থ প্রকাশ করার চেয়ে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা অনুবাদ করতে পচ্ছন্দ করেন, বিশেষত যখন এটি নাম বা শিরোনামের ক্ষেত্রে আসে I এটি অক্ষরীকরণ রূপে পরিচিত I নিচের চিত্রটি অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণের মধ্যে পার্থক্যকে বর্ণনা করে I ‘ঈশ্বরের’ জন্য ইংরেজী শব্দ আনতে আরবী ভাষা থেকে আপনি দুটি উপায় চয়ন করতে পারেন I আপনি অর্থের দ্বারা অনুবাদ করতে পারেন যা দেয় ‘ঈশ্বর’ বা ‘আল্লাহ’ পেতে ধ্বনির দ্বারা আপনি অক্ষরীকরণ করতে পারেন I         

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/translation-or-transliteration-of-Allah.jpg

কিভাবে আমরা একটি ভাষা থেকে অন্যটিতে অনুবাদ বা অক্ষরীকরণ করতে পারি তা বাখ্যা করতে এটি ‘ঈশ্বর’ পরিভাষাকে ব্যবহার করে I

সাম্প্রতিককালে, ইংরেজী এবং আরবী ভাষার মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিনিময়ের সাথে, ইংরেজী ভাষাতে ঈশ্বরকে কে বোঝাতে ‘আল্লাহ’ পরিভাষাটি একটি পরিচিত শব্দে পরিণত হয়েছে I শিরোণাম বা মুখ্য শব্দগুলোর জন্য অনুবাদ বা অক্ষরীকরণের পছন্দের ক্ষেত্রে কোনো সুনিশ্চিত ‘ঠিক’ বা ‘ভুল’ নেই I কত ভালভাবে পরিভাষাটি প্রাপকের ভাষায় স্বীকৃত হয় বা বোঝা যায় তার উপরে পছন্দটি নির্ভর করে I   

সেপ্টুয়াজিন্ট

বাইবেলের প্রথম অনুবাদ ছিল যখন হিব্রু পুরনো নিয়ম (= তৌরাত এবং যাবুর) প্রায় 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে গ্রীক ভাষায় অনুবাদিত হয়েছিল I এই অনুবাদটি সেপ্টুয়াজিন্ট (বা LXX) বলে পরিচিত এবং এটি খুব প্রভাবশালী ছিল I যেহেতু নতুন নিয়ম গ্রীক ভাষায় লিখিত হয়েছিল, পুরনো নিয়মের অনেক উদ্ধৃতিগুলো গ্রীক সেপ্টুয়াজিন্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল I   

সেপ্টুয়াজিন্টের মধ্যে অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণ  

নিচের চিত্রটি দেখায় কিভাবে এই সবগুলো আধুনিক-দিনের বাইবেলকে প্রভাবিত করে যেখানে অনুবাদের স্তরগুলোকে পরিধির এক চতুর্থাংশর মধ্যে দেখানো হয়েছে I

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/translation-flow-of-al-kitab.jpg

এটি বাইবেলের (আল কিতাব) অনুবাদের প্রক্রিয়াকে আধুনিক ভাষাতে দেখায়   

মূল হিব্রু পুরনো নিয়ম (তৌরাত এবং যাবুর) পরিধির এক চতুর্থাংশর #1 মধ্যে আছে এবং আজকের দিনে মাসোরেটিক পাঠ্য এবং মৃত সাগরের হস্তলিপির  মধ্যে প্রবেশযোগ্য I কারণ সেপ্টুয়াজিন্ট  ছিল একটি হিব্রু  –> গ্রীক অনুবাদ এটিকে একটি তীর রূপে দেখানো হয়েছে এক চতুর্থাংশ #1 থেকে #2 এর  দিকে I নতুন নিয়ম স্বয়ং মূল গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছিল, তাই এর অর্থ হ’ল #2 এর মধ্যে পুরনো এবং নতুন নিয়ম উভয়ই আছে I নিচের অর্ধেকের মধ্যে  (#3) বাইবেলের একটি আধুনিক ভাষার (অর্থাৎ ইংরেজী) অনুবাদ রয়েছে I সেখানে যেতে পুরনো নিয়মকে মূল হিব্রু থেকে অনুবাদ করা হয়েছে (1 -> 3) এবং নতুন নিয়মকে গ্রীক থেকে অনুবাদ করা হয়েছে (2 -> 3) I যেমন পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে নাম এবং শিরোনাম সমূহের অনুবাদের উপরে অনুবাদকদের অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত I এটিকে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ করার  লেবেলের সবুজ তীর দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, দেখাচ্ছে যে অনুবাদকরা যে কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন I        

বাইবেলের বিকৃতির প্রশ্নে সেপ্টুয়াজিন্ট সাক্ষ্য দেয়

যেহেতু প্রায় 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সেপ্টুয়াজিন্টকে হিব্রু থেকে অনুবাদ করা হয়েছিল আমরা দেখতে পারি (আমরা যদি গ্রীক থেকে হিব্রুতে অনুবাদ করে উল্টোটা করি) এই অনুবাদকদের তাদের হিব্রু পান্ডুলিপিতে কি ছিল যেগুলো থেকে তারা অনুবাদ করেছিল I যেহেতু এই পাঠ্যগুলো প্রায় অভিন্ন এটি দেখায় যে কম করে 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে পুরনো নিয়ম পরিবর্তিত হয় নি I সেপ্টুয়াজিন্টকে যিহূদি, খ্রীষ্টান, এবং এমনকি পাগানদের দ্বারা শতাধিক বছর ধরে মধ্য প্রাচ্য এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে পড়া হয়েছিল – এবং এমনকি আজকের দিনেও মধ্য প্রাচ্যে এখনও অনেকে এটিকে ব্যবহার করে I যদি কেউ (খ্রীষ্টান, যিহূদি বা অন্য কেউ) পুরনো নিয়মকে পরিবর্তন করত এবং এটিকে বিকৃত করত, তাহলে সেপ্টুয়াজিন্ট হিব্রু পাঠ্য থেকে ভিন্ন হত I কিন্তু তারা মূলতঃ একই I      

অনুরূপভাবে, উদাহরণস্বরূপ যদি কেউ মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়াতে, সেপ্টুয়াজিন্টকে স্বয়ং বিকৃত করত তবে আলেক্সান্দ্রিয়াতে সেপ্টুয়াজিন্ট পান্ডুলিপির প্রতিলিপিগুলো মধ্য প্রাচ্য এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে অন্য সেপ্টুয়াজিন্ট পান্ডুলিপির থেকে আলাদা হত I কিন্তু তারা একই I অতএব তথ্য কোনো স্ব-বিরোধ ছাড়াই আমাদের বলে যে পুরনো নিয়মকে বিকৃত করা হয় নি I

অনুবাদের মধ্যে সেপ্টুয়াজিন্ট

এছাড়াও আধুনিক অনুবাদকে সাহায্য করতে সেপ্টুয়াজিন্টকে ব্যবহার করা  হয় I আজকের এই বিশেষ দিনে পুরনো নিয়মের অত্যন্ত কঠিন কিছু অধ্যায়গুলোকে অনুবাদের ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করতে অনুবাদের পণ্ডিতগণ সেপ্টুয়াজিন্টকে ব্যবহার করেন I গ্রীককে ভালভাবে বোঝা যায় এবং কিছু অধ্যায়ে যেখানে হিব্রু কঠিন হয় অনুবাদকরা দেখতে পারেন কিভাবে সেপ্টুয়াজিন্ট অনুবাদকরা 2250 বছর পূর্বে এই অস্পষ্ট অধ্যায়গুলোকে বুঝতে পেরেছিল I      অনুবাদ/অক্ষরীকরণ করা এবং সেপ্টুয়াজিন্টকে বুঝতে পারা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কোথা থেকে ‘ক্রাইষ্ট’, ‘মেসিয়া’, এবং ‘মসীহ’ পরিভাষাগুলো আসে যেহেতু এই পরিভাষাগুলো ঈসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত (বা যীশু – পিবিইউএইচ), যেটিকে আমাদের উপলব্ধি করার প্রয়োজন আছে যদি আমাদের ইঞ্জিলের বার্তাকে বুঝতে হয় I আমরা এটিকে পরবতী পর্যায়ে দেখব I

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *