সেই দিন: আল-ইনশিকাক ও আত্ব-সূর এবং মসীহ

সুরা আল-ইনশিকাক (সুরা 84 – বিসর্জন) বর্ণনা করে কিভাবে পৃথিবী এবং আকাশ কেঁপে যাবে এবং বিচারের দিনে ধ্বংস হবে I 

1 যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে 2 ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত 3 এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে। 4 এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে। 5 এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত। 6 হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে। 7 যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে 8 তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে 9 এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে 10 এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে, 11 সে মৃত্যুকে আহবান করবে 12 এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

আল-ইনশিকাক 84:1-12

সুরা আল-ইনশিকাক সাবধান করে যে যাদের কাজের রেকর্ড তার ‘দক্ষিন হস্তে’ দেওয়া না হয়, তারা সেই দিনে এক ‘জ্বলন্ত আগুনে’ প্রবেশ করবে I  

আপনি কি জানেন আপনার কাজের রেকর্ড কি আপনার দক্ষিন হস্তে দেওয়া হবে কিম্বা আপনার পেছনে? 

সুরা আত্ব-সূর (সুরা 52 – পর্বত) বিচারের দিনে পৃথিবীর ঝাঁকুনি এবং লোকের সম্বদ্ধে বিস্তৃত ভাবে বর্ণনা করে 

45 তাদেরকে ছেড়ে দিন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের উপর বজ্রাঘাত পতিত হবে। 46 সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। 47 গোনাহগারদের জন্যে এছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

সুরা আত্ব-সূর 52:45-47

আপনি কি বিশ্বস্ত আপনি ‘অন্যায় করেন’ নি এবং কখনও সত্যকে ‘অসত্য (মিথ্যা) রূপে’ ব্যবহার করেছেন যাতে করে আপনি সেই দিনের বিচারে উত্তীর্ণ হতে পারেন? 

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন যারা নিশ্চিত নয় বিচারের দিনে কিভাবে তাদের কাজের রেকর্ডকে তাদের কাছে দেওয়া হবে I তিনি তাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কোনো সাহায্যকারী নেই I তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন:

7 তখন যীশু আবার তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; আমি মেষদের জন্য খোঁযাড়ের দরজা স্বরূপ৷
8 যাঁরা আমার আগে এসেছে তারা সব চোর ডাকাত, কিন্তু মেষরা তাদের ডাক শোনে নি৷
9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’
11 ‘আমিই উত্তম মেষপালক৷ উত্তম পালক মেষদের জন্য তার জীবন সমর্পণ করে৷
12 কোন বেতনভূক কর্মচারী প্রকৃত মেষপালক নয়৷ মেষরা তার নিজের নয়, তাই সে যখন নেকড়ে বাঘ আসতে দেখে তখন মেষদের ফেলে রেখে পালায়৷ আর নেকড়ে বাঘ তাদের আক্রমণ করে এবং তারা ছড়িয়ে পড়ে৷
13 বেতনভূক কর্মচারী পালায়, কারণ বেতনের বিনিময়ে সে কাজ করে, মেষদের জন্য তার কোন চিন্তাই নেই৷
14 ‘আমিই উত্তম পালক৷ আমি আমার মেষদের জানি আর আমার মেষরা আমায় জানে৷ ঠিক য়েমন আমার পিতা আমাকে জানেন, আমিও আমার পিতাকে জানি; আর আমি মেষদের জন্য আমার জীবন সঁপে দিই৷
15
16 আমার এমন আরো অনেক মেষ আছে যাঁরা এই খোঁযাড়ের নয়৷ আমি অবশ্যই তাদেরও আনব, তারাও আমার কথা শুনবে আর তারা তখন সকলে এক পাল হবে আর তাদের পালকও হবেন একজন৷
17 এই কারণেই পিতা আমায় ভালবাসেন, কারণ আমি আমার প্রাণ দান করি য়েন আবার তা পেতে পারি৷
18 কেউ আমার কাছ থেকে তা হরণ করে নিতে পারবে না, বরং আমি তা স্ব-ইচ্ছাতেই করছি৷ এটা দান করার অধিকার আমার আছে এবং আবার তা ফিরে পাওযার অধিকারও আমার আছে৷ আমার পিতার কাছ থেকেই আমি এই সব শুনেছি৷’

যোহন 10: 7-18

নবী ঈসা আল মসীহ তাঁর ‘মেষ’ সুরক্ষিত করতে এবং তাদের জীবন দিতে – এমনকি সেই আসন্ন দিনের জন্য তাঁর মহান কর্ত্তৃত্ব দাবি করলেন I তাঁর কাছে কি সেই কর্ত্তৃত্ব আছে? মুসা পিবিইউএইচের তাওরাত বিশ্বের সৃষ্টির থেকে এমনকি ছয় দিনে তার কর্ত্তৃত্বকে আগে থেকেই দেখেছিলেন I পরে যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তার আগমনের বিশদ বিবরণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যাতে আমরা জানতে পারি যে তার আগমন প্রকৃতপক্ষে স্বর্গের পরিকল্পনা ছিল I তবে কিভাবে একজন ‘তার মেষ’ হতে পারে এবং তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন এর দ্বারা ‘আমি মেষের জন্য আমার জীবন দান করি’? আমরা এটিকে এখানে দেখি

নবী ঈসা আল মসীহর শিক্ষা সর্বদা লোকেদের বিভক্ত করেছে I এটি তার সময়েও সত্য ছিল I এই আলোচনাটি এইভাবে শেষ হয়েছিল এবং যে লোকেরা তাকে শুনেছিল তারা কিভাবে বিভক্ত হয়েছিল তা এখানে রয়েছে I

19 এইসব কথার কারণে জনগণের মধ্যে এ নিয়ে মতবিরোধ হল৷
20 তাদের মধ্যে অনেকে বলল, ‘ওকে ভূতে পেয়েছে, ও পাগল৷ ওর কথা কেন শুনছ?’
21 আবার অন্যরা বলল, ‘যাদের ভূতে পায় তারা তো এমন কথা বলে না৷ ভূত নিশ্চয়ই অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান করতে পারে না, পারে কি?’
22 এরপর জেরুশালেমে প্রতিষ্ঠার পর্বএল, তখন ছিল শীতকাল৷
23 যীশু মন্দির চত্বরে শলোমনের বারান্দাতে পায়চারি করছিলেন৷
24 কিছু ইহুদী তাঁর চারপাশে জড়ো হয়ে তাঁকে বলল, ‘তুমি আর কতকাল আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখবে? তুমি যদি মশীহ হও তাহলে আমাদের স্পষ্ট করে বল৷’
25 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের ইতিমধ্যেই বলেছি, আর তোমরা তা বিশ্বাস করছ না৷ আমি আমার পিতার নামে য়ে সব অলৌকিক কাজ করি সেগুলিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে৷
26 কিন্তু তোমরা বিশ্বাস করো না, কারণ তোমরা আমার পালের মেষ নও৷
27 আমার মেষরা আমার কন্ঠস্বর শোনে৷ আমি তাদের জানি, আর তারা আমার অনুসরণ করে৷
28 আমি তাদের অনন্ত জীবন দিই, আর তারা কখনও বিনষ্ট হয় না, আমার হাত থেকে কেউ তাদের কেড়ে নিতেও পারবে না৷
29 আমার পিতা, যিনি তাদেরকে আমায় দিয়েছেন, তিনি সবার ও সবকিছু থেকে মহান, আর কেউ পিতার হাত থেকে কিছুই কেড়ে নিতে পারবে না৷
30 আমি ও পিতা, আমরা এক৷’
31 ইহুদীরা তাঁকে মারবার জন্য আবার পাথর তুলল৷
32 যীশু তাদের বললেন, ‘পিতার শক্তিতে আমি অনেক ভাল কাজ করেছি, তার মধ্যে কোন্ কাজটার জন্য তোমরা পাথর মারতে চাইছ?’
33 ইহুদীরা এর উত্তরে তাঁকে বলল, ‘তুমি য়ে সব ভাল কাজ করেছ, তার জন্য আমরা তোমায় পাথর মারতে চাইছি না৷ কিন্তু আমরা তোমাকে পাথর মারতে চাইছি এই জন্য য়ে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ৷ তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ৷’
34 যীশু তাদের বললেন, ‘তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই য়ে, ‘আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর৷’
35 শাস্ত্রে তাদেরই ঈশ্বর বলেছিল যাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী এসেছিল; আর শাস্ত্র সব সময়ই সত্য৷
36 আমিই সেই ব্যক্তি, পিতা যাঁকে মনোনীত করে জগতে পাঠালেন৷ আমি বলেছি য়ে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র৷’ তবে তোমরা কেন বলছ য়ে আমি ঈশ্বর নিন্দা করছি?
37 আমি যদি আমার পিতার কাজ না করি, তাহলে আমায় বিশ্বাস করো না৷
38 কিন্তু আমি যখন সেইসব কাজ করছি তখনও যদি তোমরা আমাকে বিশ্বাস না করো, তাহলে সেই সব কাজকে বিশ্বাস কর৷ তাহলে তোমরা জানতে পারবে ও বুঝতে পারবে য়ে পিতা আমাতে আছেন আর আমি পিতার মধ্যে আছি৷’
39 এরপর তারা আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করল, কিন্তু তিনি তাদের হাত এড়িয়ে চলে গেলেন৷
40 যর্দনের অপর পারে য়েখানে য়োহন বাপ্তাইজ করছিলেন, যীশু সেখানে আবার গেলেন ও সেখানে থাকলেন৷
41 বহুলোক তাঁর কাছে আসতে থাকল, আর তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘য়োহন কোন অলৌকিক কাজ করেন নি বটে; কিন্তু এই মানুষটির বিষয়ে য়োহন যা বলেছেন, সে সবই সত্য৷’
42 আর সেখানে অনেকেই যীশুর ওপর বিশ্বাস করল৷

যোহন 10: 19-42

সেই দিন: আল-মাসাদ ও আল-হাদীদ এবং মসীহ

সুরা আল-মাসাদ (সুরা 111 – পাম ফাইবার) শেষ দিনের জ্বলন্ত বিচারের সম্বন্ধে সতর্ক করে I 

1 আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, 2 কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। 3 সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে 4 এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, 5 তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।     

আল-মাসাদ 111:1-5

সুরা আল-মাসাদ সাবধান করে যে আমরা ধ্বংস হতে পারি I এমনকি যারা আমাদের নিকটস্থ, যেমন আমাদের স্ত্রীরাও, বিচারের শেষ দিনের মৃত্যুদণ্ডের হুমকির মুখোমুখি হয় I  

সুতরাং আল্লাহর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে আমরা কি করতে পারি যিনি আমাদের সমস্ত লজ্জাজনক গোপনীয়তাগুলো জানেন?

ঊআ আল-হাদীদ (সুরা 57 – লোহা) আমাদের বলে যে তিনি আমাদের লজ্জাজনক গোপনীয়তাগুলোর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আমাদেরকে নিয়ে যেতে চিহ্নগুলো পাঠিয়েছেন I

সুরা আল-হাদীদ 57:9তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

আল-মাসাদ 111:1-5

তবে আমাদের সতর্ক করা হয় যে যারা অন্ধকারে বাস করেছে তারা সেই দিনে উন্মত্তবৎ আলোর জন্য সন্ধান করতে থাকবে I  

13 যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। 14 তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।

সুরা আল-হাদীদ 57:13-14

আমরা যদি এভাবে বাস না করে থাকি তবে কি আমরা সেই দিনে আলো পাবো? আমাদের জন্য কি কোনো আশা আছে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সেই দিনে আমাদের সাহায্য করতে  এসেছিলেন I তিনি স্পষ্টভাবে বললেন যে তিনি আমাদের মধ্যে তাদের জন্য সেই আলো যারা লজ্জাজনক অন্ধকারের মধ্যে আছে বিচারের দিনে যার দরকার  হবে I  

12 এরপর যীশু আবার লোকদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন এবং বললেন, ‘আমিই জগতের আলো৷ য়ে কেউ আমার অনুসারী হয় সে কখনও অন্ধকারে থাকবে না; কিন্তু সেই আলো পাবে যা জীবন দেয়৷’
13 তখন ফরীশীরা তাঁকে বলল, ‘তুমি নিজেই নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছ৷ তোমার সাক্ষ্য গ্রাহ্য হবে না৷’
14 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যদি নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিই, তবু আমার সাক্ষ্য সত্য, কারণ আমি জানি আমি কোথা থেকে এসেছি, আর কোথায় বা যাচ্ছি; কিন্তু আমি কোথা থেকে এসেছি বা কোথায় যাচ্ছি তা তোমরা জানো না৷
15 মানুষের বিচারবোধের মাপকাঠিতে তোমরা আমার বিচার করছ৷ আমি কারো বিচার করি না৷
16 কিন্তু আমি যদি বিচার করি, তবে আমার বিচার সত্য, কারণ আমি একা নই৷ পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি আমার সঙ্গেই আছেন৷
17 তোমাদের নিয়মে লেখা আছে, যখন দুই ব্যক্তি একই সাক্ষ্য দেয় তখন তা সত্যি৷
18 আমি নিজেই নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিই৷ আর পিতা, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনিও আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন৷’
19 তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার পিতা কোথায়?’যীশু বললেন, ‘তোমরা না জানো আমাকে, না জানো আমার পিতাকে৷ তোমরা যদি আমাকে জানতে, তবে আমার পিতাকেও জানতে৷’
20 মন্দিরের দানের বাক্সের কাছে দাঁড়িয়ে শিক্ষা দেবার সময় যীশু এইসব কথা বললেন৷ কিন্তু কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করল না, কারণ তখনও তাঁর নিরূপিত সময় আসে নি৷
21 তিনি তাদের আর একবার বললেন, ‘আমি যাচ্ছি, আর তোমরা আমার খোঁজ করবে; কিন্তু তোমরা তোমাদের পাপেই মরবে৷ আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সেখানে আসতে পারবে না৷’
22 তখন ইহুদীরা বলছিল, ‘তিনি কি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন? কেন তিনি বললেন, ‘আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সেখানে আসতে পারবে না?”
23 যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা এই নিম্নলোকের আর আমি উর্দ্ধলোকের৷ তোমরা এজগতের, আমি এ জগতের নই৷
24 তাই আমি তোমাদের বলছি, তোমরা তোমাদের পাপেই মরবে৷ তোমরা যদি বিশ্বাস না কর য়ে আমিই তিনি, তবে তোমরা তোমাদের পাপের জন্যই মরবে৷’
25 তখন তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে?’যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা, তা তো শুরু থেকেই তোমাদের বলে আসছি৷
26 তোমাদের বিষয়ে বলার ও বিচার করার অনেক কিছুই আমার আছে৷ যা হোক যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য৷ আর আমি তাঁর কাছ থেকে যা কিছু শুনি, পৃথিবীর মানুষের কাছে তাই বলি৷’
27 তারা বুঝতে পারে নি য়ে, তিনি তাদের কাছে পিতার বিষয়ে বলছেন৷
28 তখন যীশু তাদের বললেন, ‘যখন তোমরা মানবপুত্রকে উঁচুতে তুলবে, তখন জানবে য়ে আমিই তিনি এবং আমি নিজের থেকে কিছুই করি না৷ পিতা য়েমন আমায় শিখিয়েছেন, আমি সেরকমই বলছি৷
29 আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তিনি আমার সঙ্গে আছেন৷ তিনি আমাকে একা ফেলে রাখেন নি, কারণ আমি সব সময় সন্তোষজনক কাজই করি৷’
30 যীশু যখন এইসব কথা বললেন তখন অনেকেরই তাঁর ওপর বিশ্বাস হল৷

যোহন 8:12:30

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ ‘জগতের জ্যোতি’ রূপে মহান কর্ত্তৃত্বের দাবি করলেন, এবং চ্যালেঞ্জ করার সময়ে তিনি ‘ব্যবস্থার’ উল্লেখ করলেন I এটি হ’ল মুসা পিবিইউএইচ এর তাওরাত যা তাঁর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল এবং তাঁর কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে I  এটি যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীদের দ্বারা অনুসৃত হয়েছিল যারা তার আগমন সম্পর্কে বিশদ বিবরণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যাতে আমরা জানতে পারি যে তাঁর দাবি অনুসারে তাঁর কাছে মহান কর্ত্তৃত্ব ছিল I ‘মনুষ্য পুত্র’ কি এবং ঈসা আল মসীহ কি বোঝাতে চেয়েছিলেন এর দ্বারা ‘যখন আপনি মনুষ্য পুত্রকে উত্থিত করেছেন’? ‘জীবনের জ্যোতি’ পাওয়া বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I অতএব আজকেই করুন, কারণ বিচারের দিনে অনেক দেরী হয়ে যাবে তখন দেখা শুরু করতে  যেমন আল-হাদীদ সতর্ক করেছে

অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।

আল-হাদীদ 57:15

এইভাবেই নবী ঈসা আল মসীহ তাঁর শিক্ষা এখানেই শেষ করলেন

31 ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা তাঁর ওপর বিশ্বাস করল, তাদের উদ্দেশ্যে যীশু বললেন, ‘তোমরা যদি সকলে আমার শিক্ষা মান্য করে চল তবে তোমরা সকলেই আমার প্রকৃত শিষ্য৷
32 তোমরা সত্যকে জানবে, আর সেই সত্য তোমাদের স্বাধীন করবে৷’
33 তারা তাঁকে বলল, ‘আমরা অব্রাহামের বংশধর৷ আর আমরা কখনও কারোর দাসে পরিণত হই নি৷ আপনি কিভাবে বলছেন য়ে আমাদের স্বাধীন করা হবে?’
34 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি-য়ে ক্রমাগত পাপ করে চলে, সে পাপের দাস৷
35 কোন দাস পরিবারের স্থাযী সদস্য হয়ে থাকতে পারে না; কিন্তু পুত্র পরিবারে চিরকাল থাকে৷
36 তাই পুত্র যদি তোমাদের স্বাধীন করে, তবে তোমরা প্রকৃতই স্বাধীন হবে৷
37 আমি জানি তোমরা অব্রাহামের বংশধর; কিন্তু তোমরা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছ, কারণ তোমরা আমার শিক্ষাগ্রহণ করো না৷
38 আমি আমার পিতার কাছে যা দেখেছি সেই বিষয়েই বলে থাকি, আর তোমরা তোমাদের পিতার কাছ থেকে যা যা শুনেছ তাই তো করে থাক৷’
39 এর জবাবে তারা তাঁকে বলল, ‘আমাদের পিতা অব্রাহাম৷’যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা যদি অব্রাহামের সন্তান হতে, তাহলে অব্রাহাম যা করেছেন তোমরাও তাই করতে;
40 কিন্তু এখন তোমরা আমায় হত্যা করতে চাইছ৷ আমি সেই লোক য়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে সত্য শুনেছি এবং তোমাদের তা বলেছি৷ অব্রাহাম তো এরকম কাজ করেন নি৷
41 তোমাদের পিতা য়ে কাজ করে, তোমরা তাই করো৷’তখন তারা তাঁকে বলল, ‘আমরা জারজ সন্তান নই৷ ঈশ্বর হচ্ছেন আমাদের একমাত্র পিতা৷’
42 যীশু তাদের বললেন, ‘ঈশ্বর যদি তোমাদের পিতা হতেন, তাহলে তোমরা আমায় ভালবাসতে, কারণ আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছি আর এখন তোমাদের মাঝে এখানে আছি৷ আমি নিজে থেকে আসিনি, ঈশ্বর আমায় পাঠিয়েছেন৷
43 আমি যা বলি, তোমরা তা বুঝতে পারো না? কারণ তোমরা আমার কথা গ্রহণ করো না৷
44 দিযাবল তোমাদের পিতা এবং তোমরা তার পুত্র৷ তোমরা তোমাদের পিতার ইচ্ছাই পূর্ণ করতে চাও৷ দিযাবল শুরু থেকেই খুনী; আর সত্যের পক্ষে সে কখনও দাঁড়ায় নি, কারণ তার মধ্যে তো সত্যের লেশমাত্র নেই৷ সে যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্য থেকে তা বের হয়, কারণ সে মিথ্যাবাদী ও মিথ্যার পিতা৷
45 আমি সত্য বলি বলে তোমরা আমায় বিশ্বাস করো না৷
46 তোমাদের মধ্যে কে আমাকে পাপী বলে দোষী করতে পারে? আমি যখন সত্য বলছি তখন তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না?
47 য়ে ঈশ্বরের লোক, সে ঈশ্বরের কথা শোনে৷ আর এই কারণেই তোমরা শুনতে চাও না, কারণ তোমরা ঈশ্বরের নও৷’
48 এর উত্তরে ইহুদীরা বলল, ‘আমরা কি ঠিক বলিনি য়ে তুমি একজন শমরীয়, আর তোমার মধ্যে এক ভূত রয়েছে?’
49 যীশু জবাব দিলেন, ‘দেখ, আমায় ভূতে গ্রাস করে নি, বরং আমি আমার পিতাকে সম্মান করি৷ কিন্তু তোমরা আমার অসম্মান করেছ৷
50 আমি নিজের জন্য সম্মান চাইছি না৷ একজন আছেন যিনি আমার জন্য সম্মান চান, তিনিই বিচার করেন৷
51 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কেউ যদি আমার শিক্ষা অনুসারে চলে, সে কখনও মরবে না৷’
52 ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘এখন আমরা বুঝেছি য়ে তোমায় ভূতে গ্রাস করেছে৷ অব্রাহাম ও ভাববাদীরা মারা গেছে আর তুমি বলছ, ‘যদি কেউ আমার শিক্ষা অনুসারে চলে, তবে সে মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না৷’
53 তুমি কি মনে কর য়ে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহামের চেয়ে মহান? অব্রাহাম মারা গেছেন, আর ভাববাদীরাও মারা গেছেন৷ তুমি নিজেকে কি মনে করছ?’
54 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমি যদি নিজেকে সম্মানিত করি তবে সেই সম্মানের কোন মূল্য নেই৷ যিনি আমায় সম্মানিত করেন তিনি আমাদের পিতা, য়াঁর সম্পর্কে তোমরা বল, তিনি আমাদের ঈশ্বর৷’
55 আর তোমরা তাঁকে জানো না, কিন্তু আমি তাঁকে জানি৷ আমি যদি বলি য়ে আমি তাঁকে জানি না, তাহলে আমি তোমাদেরই মতো মিথ্যাবাদী হয়ে যাবো৷ কিন্তু আমি তাঁকে অবশ্যই জানি, আর তিনি যা কিছু বলেন আমি সে সকল পালন করি৷
56 তোমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম আমার আগমনের দিন দেখতে পাবেন বলে খুশী হয়েছিলেন৷ তিনি সেই দিন দেখে খুশী হয়েছিলেন৷’
57 তখন ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয়নি আর তুমি বলছ য়ে তুমি অব্রাহামকে দেখেছ!’
58 যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ অব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি৷’
59 তখন তারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল; কিন্তু যীশু নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন ও মন্দির চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন৷

যোহন 8:31-59

সেই দিন: আল-কারেয়া ও আল-তাকাসূর এবং মসীহ

সুরা আল-কারেয়া (সুরা 101 – বিপর্যয়) বিচারের আসন্ন দিনের এইভাবে বর্ণনা করে: 

2 করাঘাতকারী কি? 3 করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? 4 যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত 5 এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। 6 অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, 7 সে সুখীজীবন যাপন করবে। 8 আর যার পাল্লা হালকা হবে, 9 তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।

আল-কারেয়া 101:2-9

সুরা আল-কারেয়া আমাদের বলে যে যাদের কাছে ভাল কাজের এটি ভারী ভারসাম্য আছে তারা বিচারের দিনে ভাল করতে আশা করতে পারে I  

তবে আমাদের মধ্যে তাদের সম্বন্ধে কি হবে যাদের ভাল কাজের ভারসাম্য হাল্কা?

সুরা আত-তাকাসূর (সুরা 102 – পৃথিবীতে প্রতিদ্বন্দিতা বাড়ছে) আমাদের সতর্ক করে

1 প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে 2 এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। 3 এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। 4 অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। 5 কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে। 6 তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, 7 অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, 8 এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।  

আত-তাকাসূর 102:1-8

সুরা আল-তাকাসূর আমাদের বলে যে নরকের আগুন বিচারের দিনে আমাদের হুমকি দেয় যখন আমাদের ‘প্রশ্ন’ করা হবে I   

আমাদের ভাল কাজের ভারসাম্য যদি হাল্কা হয়ে থাকে তবে আমরা কি সেই  দিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারি?

নবী ঈসা আল মসীহ আমাদের মধ্যে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কাছে ভাল কাজের একটি হাল্কা ভারসাম্য আছে I তিনি সুসমাচারের মধ্যে বললেন যে 

35 যীশু তাদের বললেন, ‘আমিই সেই রুটি যা জীবন দান করে৷ য়ে কেউ আমার কাছে আসে সে কখনও ক্ষুধার্ত হবে না, কখনও তার পিপাসা পাবে না৷
36 কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা আমায় দেখেছ অথচ আমায় বিশ্বাস কর না৷
37 পিতা আমাকে যাদের দেন, তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে আসবে৷ আর যাঁরা আমার কাছে আসে, আমি তাদের কখনই ফিরিয়ে দেব না৷
38 কারণ আমি আমার খুশী মত কাজ করতে স্বর্গ থেকে নেমে আসি নি, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করতে এসেছি৷
39 যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই য়ে যাদের তিনি আমায় দিয়েছেন তাদের একজনকেও য়েন আমি না হারাই; বরং শেষ দিনে য়েন তাদের সকলকে আমি উত্থিত করি৷
40 আমার পিতা এই চান, য়ে কেউ তাঁর পুত্রকে দেখে ও তাতে বিশ্বাস করে, সে য়েন অনন্ত জীবন লাভ করে; আর আমিই তাকে শেষ দিনে ওঠাব৷’
41 তখন ইহুদীরা যীশুর সম্পর্কে গুঞ্জন শুরু করল, কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘আমিই সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে৷’
42 তারা বলল, ‘তিনি কি য়োষেফের ছেলে নন? আমরা কি এর বাবা মাকে চিনি না? তাহলে এখন কেমন করে তিনি বলছেন, ‘আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি?’
43 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘নিজেদের মধ্যে ওসব বচসা বন্ধ কর৷
44 যিনি আমায় পাঠিয়েছেন সেই পিতা না আনলে কেউই আমার কাছে আসতে পারে না; আর আমিই তাকে শেষ দিনে জীবিত করে তুলব৷
45 ভাববাদীদের পুস্তকে লেখা আছে: ‘তারা সকলেই ঈশ্বরের কাছে শিক্ষা লাভ করবে৷’য়ে কেউ পিতার কাছে শুনে শিক্ষা পেয়েছে সেই আমার কাছে আসে৷
46 আমি বলছি না য়ে, কেউ পিতাকে দেখেছেন৷ কেবলমাত্র যিনি পিতার কাছ থেকে এসেছেন তিনিই পিতাকে দেখেছেন৷
47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, য়ে কেউ বিশ্বাস করেছে সেই অনন্ত জীবন পেয়েছে৷
48 আমিই সেই রুটি যা জীবন দেয়৷
49 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিল, কিন্তু তবু তারা মারা গিয়েছিল৷
50 এ সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে আসে, আর কেউ যদি তা খায়, তবে সে মরবে না৷
51 আমিই সেই জীবন্ত রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে৷ কেউ যদি এই রুটি খায় তবে সে চিরজীবি হবে৷ য়ে রুটি আমি দেব তা হল আমার দেহের মাংস৷ তা আমি দিই যাতে জগত জীবন পায়৷’

যোহন 6:35-51

মবি ঈসা আল মসীহ দাবি করেছিলেন যে তিনি ‘স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন’ এবং যে তিনি যে কোনো কাউকে ‘অনন্ত জীবন’ দেবেন যারা তাকে বিশ্বাস করে I যে যিহূদিরা তার কথা শুনল তারা দাবি করল তিনি তার কর্ত্তৃত্বের প্রমাণ দিন I নবী পূর্ববর্তী নবীদের উল্লেখ করলেন যারা তার আগমন এবং কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আমরা দেখতে পারি কিভাবে মুসার তাওরাত তার আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এছাড়াও মুসা পিবিইউএইচের পরে নবীরাও I তবে ‘তাকে বিশ্বাস করা’ বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I  

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ নিরাময়ের চিহ্ন সমুহের মাধ্যমে এবং প্রকৃতির উপরে তাঁর কর্ত্তৃত্ব দেখিয়েছিলেন I তিনি তাঁর শিক্ষায় ব্যাখ্যা করেছিলেন I 

14 পর্বের আধা-আধি সময়ে যীশু মন্দিরে গিয়ে লোকদের মাঝে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷
15 ইহুদীরা এতে খুব আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘এই লোক কোন কিছু অধ্যয়ন না করেই কি ভাবে এত সব জ্ঞান লাভ করল?’
16 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়৷ যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা৷
17 যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, না আমি নিজের থেকে এসব কথা বলছি৷
18 যদি কেউ নিজের ভাবনার কথা নিজে বলে, তাহলে সে নিজেই নিজেকে সম্মানিত করতে চায়; কিন্তু য়ে তার প্রেরণ কর্তার গৌরব চায়, সেই লোক সত্যবাদী, তার মধ্যে কোন অসাধুতা নেই৷
19 মোশি কি তোমাদের কাছে বিধি-ব্যবস্থা দেন নি? কিন্তু তোমরা কেউই সেই বিধি-ব্যবস্থা পালন কর না৷ তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে চাইছ?’
20 জনতা উত্তর দিল, ‘তোমাকে ভূতে পেয়েছে, কে তোমাকে হত্যা করতে চাইছে?’
21 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি একটা অলৌকিক কাজ করেছি, আর তোমরা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেছ৷
22 মোশিও তোমাদের সুন্নতের বিধি-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন৷ যদিও মুলতঃ সেই বিধি-ব্যবস্থা মোশির নয় কিন্তু এই বিধি-ব্যবস্থা প্রাচীন পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে৷ আর তোমরা এমনকি বিশ্রামবারেও শিশুদের সুন্নত করে থাকো৷
23 মোশির বিধি-ব্যবস্থা য়েন লঙঘন করা না হয়, এই যুক্তিতে বিশ্রামবারেও যদি কোন মানুষের সুন্নত করা চলে, তাহলে আমি বিশ্রামবারে একটা মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছি বলে তোমরা আমার ওপর এত ক্রুদ্ধ হয়েছ কেন?
24 বাহ্যিকভাবে কোন কিছু দেখেই তার বিচার করো না৷ যা সঠিক সেই হিসাবেই ন্যায় বিচার কর৷’
25 তখন জেরুশালেমের লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘এই লোককেই না ইহুদী নেতারা হত্যা করতে চাইছে?
26 কিন্তু দেখ! এ তো প্রকাশ্যেই শিক্ষা দিচ্ছে; কিন্তু তারা তো এঁকে কিছুই বলছে না৷ এটা কি হতে পারে য়ে নেতারা সত্যিই জানে য়ে, ইনি সেই খ্রীষ্ট?
27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’
28 তখন যীশু মন্দিরে শিক্ষা দিতে দিতে বেশ চেঁচিয়ে বললেন, ‘তোমরা আমায় জান, আর আমি কোথা থেকে এসেছি তাও তোমরা জান৷ তবু বলছি, আমি নিজের থেকে আসি নি, তবে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য; আর তোমরা তাঁকে জান না৷
29 কিন্তু আমি তাঁকে জানি, কারণ তিনি আমায় পাঠিয়েছেন৷ আমি তাঁরই কাছ থেকে এসেছি৷’
30 তখন তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা করতে লাগল৷ তবু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না, কারণ তখনও তাঁর সময় আসে নি৷
31 কিন্তু সেই জনতার মধ্যে থেকে অনেকেই তাঁর ওপর বিশ্বাস করল; আর বলল, ‘মশীহ এসে কি তাঁর চেয়েও বেশী অলৌকিক চিহ্ন করবেন?’
32 ফরীশীরা শুনল য়ে সাধারণ লোক যীশুর বিষয়ে চুপি চুপি এই সব আলোচনা করছে৷ তখন প্রধান যাজকেরা ও ফরীশীরা যীশুকে ধরে আনবার জন্য মন্দিরের কয়েকজন পদাতিককে পাঠাল৷
33 তখন যীশু বললেন, ‘আমি আর অল্প কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে আছি; তারপর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে ফিরে যাব৷
34 তোমরা আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমার খোঁজ পাবে না, কারণ আমি য়েখানে থাকব তোমরা সেখানে আসতে পারো না৷’
35 ইহুদী নেতারা তখন পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘সে এখন কোথায় যাবে য়ে আমরা ওকে খুঁজলেও পাব না? গ্রীকদের শহরে য়ে সব ইহুদীরা বসবাস করছে, ও কি তাদের কাছে যাবে আর সেখানে গিয়ে গ্রীকদেব কাছে শিক্ষা দেবে? নিশ্চয়ই নয়৷
36 ও য়ে কথা বলল তার মানে কি য়ে, ‘তোমরা আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমায় পাবে না৷’ আর ‘আমি য়েখানে যাব, তোমরা সেখানে আসতে পার না?’
37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’
39 যীশু পবিত্র আত্মা সম্পর্কে এই কথা বললেন, ‘সেই পবিত্র আত্মা তখনও দেওযা হয় নি, কারণ যীশু তখনও মহিমান্বিত হন নি; কিন্তু পরে যাঁরা যীশুকে বিশ্বাস করে তারা সেই আত্মা পাবে৷’
40 সমবেত জনতা যখন এই কথা শুনল তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী৷’
41 অন্যরা বলল, ‘ইনি মশীহ (খ্রীষ্ট)৷’এ সত্ত্বেও কেউ কেউ বলল, ‘খ্রীষ্ট গালীলী থেকে আসবেন না৷
42 শাস্ত্রে কি একথা লেখা নেই য়ে খ্রীষ্টকে দাযূদের বংশধর হতে হবে; আর দাযূদ য়ে বৈত্‌লেহম শহরে থাকতেন, তিনি সেখান থেকে আসবেন?’
43 তাঁর জন্য এইভাবে লোকদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল৷
44 কেউ কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইল; কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না৷

যোহন 7:14-44

জীবন্ত জল সম্পর্কে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা ছিল আত্মা, যিনি পেন্টেকোষ্টে এসেছিলেন, এবং এখন বিচারের দিনের মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করতে বিনামূল্যে জীবন দেন I আমাদেরকে কেবলমাত্র আমাদের তৃষ্ণাকে স্বীকার করতে হবে

সেই দিন: আত-তারিক, আল-আদিয়াত ও মসীহ

সুরা আত-তারিক (সুরা 86 – নিশাচর) বিচারের আসন্ন দিন সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে যখন

8 নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম। 9 যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে, 10 সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।  

সুরা আত্ব-তারিক 86:8-10

সুরা আত্ব-তারিক আমাদের বলে যে আল্লাহ আমাদের সমস্ত গোপন এবং লজ্জাজনক চিন্তাভাবনা এবং কাজকর্মগুলো পরীক্ষা করবেন আর সেই সঙ্গে কেউ আমাদেরকে তাঁর বিচারের পরীক্ষা থেকে রক্ষায় সাহায্য করার নেই I অনুরূপভাবে সুরা আল-আদিয়াত (সুরা 100 – অগ্রণী) সেই একই দিনটির বর্ণনা করে যখন

6 নিশ্চয় মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ। 7 এবং সে অবশ্য এ বিষয়ে অবহিত 8 এবং সে নিশ্চিতই ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত। 9 সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে, তা উত্থিত হবে 10 এবং অন্তরে যা আছে, তা অর্জন করা হবে? 11 সেদিন তাদের কি হবে, সে সম্পর্কে তাদের পালনকর্তা সবিশেষ জ্ঞাত।   

সুরা আল-আদিয়াত 100:6-11

সুরা আল-আদিয়াত সতর্ক করে যে এমনকি লজ্জাজনক গোপন যেগুলো কেবল আমাদের নিজের বুকের মধ্যে জানা সেগুলোকেও জানা যাবে যেহেতু আল্লাহ আমাদের এমনকি এই কার্যগুলোর সঙ্গেও ভালভাবে পরিচিত হন I   

আমরা এই আসন্ন দিনটির সম্পর্কে চিন্তা করা এড়িয়ে যেতে পারি এবং কেবল আশা করতে পারি যে এটি আমাদের জন্য কার্য করে, তবে সুরা আত্ব-তারিক এবং আল-আদিয়াতে সেই দিনটির সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট সতর্কতা রয়েছে I  

প্রস্তত হওয়া কি ভাল নয়? তবে কিভাবে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ আমাদের মধ্যে তাদের জন্য এসেছিলেন যারা সেই দিনের জন্য প্রস্তুত হতে চায় I তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন:

21 পিতা মৃতদের জীবন দান করেন, তেমনি পুত্রও যাকে ইচ্ছা করেন তাকে জীবন দেন৷
22 পিতা কারও বিচার করেন না, কিন্তু সমস্ত বিচারের ভার তিনি পুত্রকে দিয়েছেন৷
23 যাতে পিতাকে য়েমন সমস্ত লোক সম্মান করে তেমনি পুত্রকেও সম্মান করে৷ য়ে পুত্রকে সম্মান করে না, সে পিতাকেও সম্মান করে না, কারণ পিতাই সেইজন যিনি পুত্রকে পাঠিয়েছেন৷
24 ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; য়ে কেউ আমার কথা শোনে, আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে এবং সে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না৷ সে মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে৷
25 আমি তোমাদের সত্যি বলছি সময় আসছে; বলতে কি এসে গেছে, যখন মৃতেরা ঈশ্বরের পুত্রের রব শুনবে, আর যাঁরা শুনবে তারা বাঁচবে৷
26 পিতার নিজের য়েমন জীবন দান করার ক্ষমতা রয়েছে ঠিক তেমনই তিনি তাঁর পুত্রকেও জীবন দান করার ক্ষমতা দিয়েছেন৷
27 এবং পিতা সেই পুত্রের হাতেই সমস্ত বিচারের অধিকার দিয়েছেন, কারণ এই পুত্রই মানবপুত্র৷

যোহন 5:21-27

নবী ইসা আল মসীহ পিবিইউএইচ মহান কর্তৃত্বের দাবি করেন – এমনকি বিচারের দিনের পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত I তাঁর কর্তৃত্ব প্রমাণিত হয়েছিল যে হজরত মুসার তাওরাত কিভাবে ছয় দিনের মধ্যে বিশ্বের সৃষ্টি থেকে তাঁর কর্তৃত্বের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তার মধ্যে I যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তাঁর আগমন সম্পর্কে বিস্তৃত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা প্রমাণ করে তাঁকে আল্লাহর থেকে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল I নবী কি বোঝাতে চেয়েছিলেন এর দ্বারা “যে কেউ আমার বাক্য শোনে এবং তাঁকে বিশ্বাস করে যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে অনন্ত জীবন আছে এবং দন্ডাজ্ঞা পাবে না”? আমরা এখানে দেখি I     

সেই দিন: আল- হুমাযাহ ও মসীহ

সুরা আল-হুমাযাহ (সুরা 104 – অপবাদক) বিচারের দিনের সম্পর্কে  আমাদের এইভাবে সতর্ক করে:

1 প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ, 2 যে অর্থ সঞ্চিত করে ও গণনা করে 3 সে মনে করে যে, তার অর্থ চিরকাল তার সাথে থাকবে! 4 কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। 5 আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? 6 এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি,

সুরা আল-হুমাযাহ 104:1-6

সুরা আল-হুমাযাহ বলে যে আল্লাহর ক্রোধের একটি আগুন আমাদের জন্য অপক্ষা করছে, বিশেষত আমরা যদি লোভী হয়ে থাকি এবং অপরের সম্বন্ধে মন্দ কথা বলে থাকি I যারা সমস্ত সাহায্য প্রার্থী লোকেদের প্রতি অবিরত উদার, যারা একজন ধনী ব্যক্তির ধন সম্পর্কে কখনও ঈর্ষা করে নি, অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে মন্দভাবে কথা বলে নি, এবং টাকার বিষয়ে কারোর সঙ্গে কখনও কোনো বিতর্ক করে নি, হয়ত তারা আশা বজায় রাখতে পারে যে তারা টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙ্গে যাবে না এবং সেই দিনে ঈশ্বরের ক্রোধের অধীনে আসবে না I     

তবে আমাদের বাকিদের সম্পর্কে কি হবে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ বিশেষভাবে তাদের জন্য এসেছিলেন যারা তাদের উপরে আসন্ন ঈশ্বরের ক্রোধ সম্পর্কে ভয় করেছিল I যেমন তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন: 

13 যিনি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছেন সেই মানবপুত্র ছাড়া কেউ কখনও স্বর্গে ওঠেনি৷
14 ‘মরুভূমির মধ্যে মোশি য়েমন সাপকে উঁচুতে তুলেছিলেন, তেমনি মানবপুত্রকে অবশ্যই উঁচুতে ওঠানো হবে৷
15 সুতরাং য়ে কেউ মানবপুত্রকে বিশ্বাস করে সেই অনন্ত জীবন পায়৷’
16 কারণ ঈশ্বর এই জগতকে এতোই ভালবাসেন য়ে তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রকে দিলেন, য়েন সেই পুত্রের ওপর য়ে কেউ বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় বরং অনন্ত জীবন লাভ করে৷
17 ঈশ্বর জগতকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য তাঁর পুত্রকে এ জগতে পাঠান নি, বরং জগত য়েন তাঁর মধ্য দিয়ে মুক্তি পায় এইজন্য ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পাঠিয়েছেন৷
18 য়ে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করে তার বিচার হয় না৷ কিন্তু য়ে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেনা, সে দোষী সাব্যস্ত হয়, কারণ সে ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রের ওপর বিশ্বাস করে নি৷
19 আর এটাই বিচারের ভিত্তি৷ জগতে আলো এসেছে, কিন্তু মানুষ আলোর চেয়ে অন্ধকারকে বেশী ভালবেসেছে, কারণ তারা মন্দ কাজ করেছে৷
20 য়ে কেউ মন্দ কাজ করে সে আলোকে ঘৃণা করে, আর সে আলোর কাছে আসে না, পাছে তার কাজের স্বরূপ প্রকাশ হয়ে পড়ে৷
21 কিন্তু য়ে কেউ সত্যের অনুসারী হয় সে আলোর কাছে আসে, যাতে সেই আলোতে স্পষ্ট বোঝা যায় য়ে তার সমস্ত কাজ ঈশ্বরের মাধ্যমে

হয়েছে৷ যোহন 3:13-21

ঈসা আল মসীহ মহান কর্ত্তৃত্বের দাবি করেছিলেন – এমনকি যে তিনি ‘স্বর্গ থেকে এসেছিলেন’ I একজন শমরিয়র সঙ্গে কথাবার্তায় (অধিক বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এখানে) নবী ‘জীবন্ত জল’ বলে দাবি করলেন 

10 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘তুমি যদি জানতে য়ে ঈশ্বরের দান কি আর কে তোমার কাছ থেকে খাবার জন্য জল চাইছেন৷ তাহলে তুমিই আমার কাছে জল চাইতে আর আমি তোমাকে জীবন্ত জল দিতাম৷’
11 স্ত্রীলোকটি তাঁকে বলল, ‘মহাশয়, আপনি কোথা থেকে সেই জীবন্ত জল পাবেন? এই কুযাটি যথেষ্ট গভীর৷ জল তোলার কোন পাত্রও আপনার কাছে নেই৷
12 আপনি কি আমাদের পিতৃপুরুষ যাকোবের চেয়ে মহান? তিনি আমাদের এই কুযাটি দিয়ে গেছেন৷ তিনি নিজেই এই কুযার জল খেতেন এবং তাঁর সন্তানেরা ও তাঁর পশুপালও এর থেকেই জল পান করত৷’
13 যীশু তাকে বললেন, ‘য়ে কেউ এই জল পান করবে তার আবার তেষ্টা পাবে৷
14 কিন্তু আমি য়ে জল দিই তা য়ে পান করবে তার আর কখনও পিপাসা

যোহন 4:10-14

এই দাবিগুলোর পক্ষে তাঁর কর্ত্তৃত্ব প্রমাণিত হয়েছিল হজরত মুসার তাওরাত কিভাবে ছয় দিনের মধ্যে বিশ্বের সৃষ্টি থেকে তাঁর কর্ত্তৃত্বের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তার মধ্যে I তারপরে যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তাঁর আগমন সম্পর্কে বিস্তৃত ভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যা দেখিয়েছিল যে তাঁর আগমন স্বর্গ থেকে পরিকল্পিত হয়েছিল I তবে নবী কি বোঝাতে চেয়েছিলেন যখন তিনি বললেন তাকে ‘অবশ্যই উত্থাপন করা হবে’ যাতে ‘প্রত্যেকে যারা তাকে বিশ্বাস করবে অনন্ত জীবন পেতে পারে’? এটিকে এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I