বই – ‘আল কিতাবের’ বার্তা কি?

আল কিতাব (বাইবেল) আক্ষরিকভাবে ‘বইকে’ বোঝায় I বাইবেল ইতিহাসের প্রথম রচনা যাকে বই আকারে স্থাপন করা হয়েছে যা আমরা আজ দেখি I বাইবেল একট বিশ্ব স্বীকৃত বই যা এর পরিধির মধ্যে সমস্ত লোক এবং পৃথিবীর জাতিদের অন্তর্ভুক্ত করে I এই হিসাবে, এই মহান বইটিকে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে I অনেক জাতিগণের উপরে বাইবেলের গভীর প্রভাব রয়েছে, এবং গ্রহের সর্বাধিক পঠিত বই I তবে এই বইটি একটি জটিল গল্প সহ আবারও এক দীর্ঘ বই I তাই আমাদের মধ্যে অনেকে এই বইয়ের বিষয়টিকে জানে না বা বোঝে না I এই নিবন্ধটি এই ক্লাসিক বইয়ের গল্পকে ব্যাখ্যা করতে বাইবেলের বই থেকে একটি বাক্য গ্রহণ করবে – ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) কার্য I       

আমাদের ভবিষ্যতের একটি প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে বাইবেলকে দেওয়া হয়েছিল I এই সমস্যাটিকে সুরা আল-মুজাদালাহতে (সুরা 58 – আবেদনকারী মহিলা) ব্যাখ্যা করা হয়েছে যা আসন্ন বিচারের দিনের দিকে দেখে

6 সেদিন স্মরণীয়; যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, অতঃপর তাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা তারা করত। আল্লাহ তার হিসাব রেখেছেন, আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহর সামনে উপস্থিত আছে সব বস্তুই। 7 আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।

সুরা আল-মুজাদালাহ 58:6-7

সুরা আল-মুজাদালাহ আমাদের বলে যে এমন কোনো গোপনতা নেই যা আল্লাহ আমাদের সম্পর্কে জানেন না, এবং তিনি আমাদের বিচার করতে তার জ্ঞান ব্যবহার করবেন I  

সুরা আল-কেয়ামাহ (সুরা 75 – পুনরুত্থান) এই দিনটিকে ‘পুনরুত্থান দিন’ বলে ডাকে এবং এছাড়াও সাবধান করে কিভাবে মানুষকে তার জীবনের জন্য জবাব দিতে সামনে নিয়ে আসা হবে I

10 সে দিন মানুষ বলবেঃ পলায়নের জায়গা কোথায় ? 11 না কোথাও আশ্রয়স্থল নেই। 12 আপনার পালনকর্তার কাছেই সেদিন ঠাঁই হবে। 13 সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে সে যা সামনে প্রেরণ করেছে ও পশ্চাতে ছেড়ে দিয়েছে। 14 বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে চক্ষুমান। 15 যদিও সে তার অজুহাত পেশ করতে চাইবে।

সুরা আল-কেয়ামাহ 75:10-15

তাহলে আমরা কি করব আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং কাজকর্মগুলোর জন্য আমরা যদি লজ্জিত হই? বাইবেলের বার্তা তাদের জন্য যারা এই উদ্বিগ্নতা বহন করে I 

বইটির বার্তা


আমরা নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ শেষ সপ্তাহকে পরীক্ষা করলাম I ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যে তিনি ষষ্ঠ দিনে – শুভ শুক্রবারে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তাঁকে পরের রবিবারে আবার জীবনে ওঠানো হয়েছিল I এটিকে তাওরাত এবং গীতসংহিতা ও নবীদের উভয়ের মধ্যে পূর্বাভাষ করা  গিয়েছিল I কিন্তু কেন এটি ঘটল এবং আজকে আপনার এবং আমার জন্য এটির অর্থ কি? এখানে আমরা বুঝতে চাই ঈসা আল মসীহর দ্বারা  আমাদেরকে কি দেওয়া হয়েছে এবং আমরা কিভাবে করুণা এবং ক্ষমা পেতে পারি I এটি আমাদেরকে এমনকি ইব্রাহিমের মুক্তিপণকে বুঝতে সাহায্য করবে যাকে সুরা আস-সাফফাত (সুরা 37), সুরা আল ফাতিয়া (সুরা 1 – উদ্ঘাটক) এর মধ্যে বর্ণিত করা হয়েছে, যখন এটি আল্লাহকে ‘আমাদেরকে সরল পথ দেখাতে’ বলে পাশাপাশি উপলব্ধি দিতে কেন ‘মুসলিমের’ অর্থ ‘একজন যে সমর্পণ করে’, এবং কেন ধর্মকর্ম পালন যেমন বুদু, যাকাত এবং হালাল খাওয়া ভাল তবে বিচারের দিনের জন্য নিজেদের মধ্যে অপর্যাপ্ত ভাল উদ্দেশ্য I           

খারাপ সংবাদ – আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সম্বন্ধে নবীরা কি বলে

তাওরাত শিক্ষা দেয় যে যখন আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করলেন তিনি

27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন|

আদিপুস্তক 1:27

“প্রতিমূর্তি” শারীরিক অর্থে বোঝায় না, তবে বরং সেই অর্থে যাতে আমাদেরকে তৈরী করা হয় তাঁকে প্রতিফলিত করতে এমনভাবে যাতে আমরা আবেগপূর্ণভাবে, মানসিকভাবে, সামাজিকভাবে, এবং আত্মিকভাবে কার্যকলাপ করি I তাঁর সাথে সম্পর্কের মধ্যে হতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল I আমরা এই সম্পর্ককে নিচের স্লাইডের মধ্যে দেখতে পারি I সৃষ্টিকর্তাকে, অসীম শাসক হিসাবে, উপরে রাখা হয়েছে যেখানে পুরুষ এবং স্ত্রীকে স্লাইডের নিচে রাখা হয়েছে যেহেতু আমরা সীমিত প্রাণী I সংযোগকারী তীরের দ্বারা  সম্পর্ককে দেখানো হয়েছে I  

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide1-e1599977148296.jpg
তাঁর প্রতিমূর্তিতে, লোকেদেরকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে হতে তৈরী করা হয়েছিল

আল্লাহ চরিত্রের দিক দিয়ে সিদ্ধ – তিনি পবিত্র I এই কারণে যাবুর বলে

4 হে ঈশ্বর, মন্দ লোকরা আপনার কাছে থাকুক, এ আপনি চান না| দুষ্ট লোকরা আপনার উপাসনা করে না|
5 বোকারা আপনার কাছে আসতে পারে না| লোকদের মন্দ কাজ করাকে আপনি ঘৃণা করেন|

গীতসংহিতা 5:4-5

আদম অবাধ্যতার একটি কার্য করেছিল – কেবলমাত্র একটি – আর ঈশ্বরের  পবিত্রতায় তার বিচারের প্রয়োজন হয়েছিল I তাওরাত এবং কোরআন লিপিবদ্ধ করে যে আল্লাহ তাকে মরণশীল করলেন এবং তাঁর উপস্থিতি থেকে বিতাড়িত করলেন I সেই একই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বিদ্যমান I যখন আমরা পাপ করি বা অমান্য করি তখন আমরা যে কোনো উপায়ে আল্লাহকে অসম্মান করি যেহেতু আমরা প্রতিমূর্তি অনুসারে কাজ করি না যাতে আমাদের তৈরী করা হয়েছে I আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় I এর ফলে পাথরের মতন শক্ত এক বাধার সৃষ্টি হয় যা আমাদের এবং সৃষ্টিকর্তার মধ্যে আসে I  

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide2-e1599976770513.jpg
আমাদের এবং পবিত্র ঈশ্বরের মধ্যে আমাদের পাপ এক শক্ত বাধা সৃষ্টি করে

ধর্মীয় যোগ্যতার দ্বারা পাপের বাধাকে বিদ্ধ করা

আমাদের মধ্যে অনেকে আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে এই বাধাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমূহ বা কার্যাবলীর দ্বারা বিদ্ধ করতে চেষ্টা করে যা বাধাকে ভাঙতে যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে I প্রার্থনা, উপবাস, হাজ্জ, মসজিদে যাওয়া, যাকাত, ভিক্ষা দান, সেই পথগুলো যার দ্বারা আমরা বাধাকে বিদ্ধ করতে যোগ্যতা অর্জন করতে চাই যাকে পরে চিত্রিত করা হয়েছে I আশা হ’ল যে ধর্মীয় যোগ্যতা কিছু পাপকে বাতিল করবে I আমাদের অনেক কাজগুলো যদি যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে আমরা আমাদের পাপগুলোকে বাতিল করতে এবং করুণা ও ক্ষমা পেতে আশা করি I      

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide3-e1599976818192.jpg
ভাল কার্য সমুহ করার দ্বারা আল্লাহর সামনে যোগ্যতা অর্জন করতে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা করি  

কিন্তু পাপ বাতিল করতে কতটা যোগ্যতা আমাদের প্রয়োজন? আমাদের কি আশ্বাস যে আমাদের যোগ্যতাপূর্ণ কাজগুলো পাপ বাতিল করতে এবং বাধাকে বিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত হবে যা আমাদের এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তার মধ্যে এসেছে? আমরা কি জানি যে আমাদের ভাল উদ্দেশ্যগুলো পর্যাপ্ত হবে? আমাদের কাছে কোন আশ্বাস নেই আর তাই আমরা যতটা সম্ভব পারি চেষ্টা করি করতে এবং আশা করি বিচারের দিনে এটি পর্যাপ্ত হবে I  

কার্যকলাপ সমূহের দ্বারা যোগ্যতা অর্জন করার পাশাপাশি, ভালো উদ্দেশ্যের জন্য প্রচেষ্টায়, আমাদের মধ্যে অনেকে পরিষ্কার থাকতে কঠিন পরিশ্রম করে I প্রার্থনার পূর্বে আমরা অধ্যবসায়ের সাথে বুদু অনুষ্ঠিত করি I অশুচিকারী লোকেদের থেকে, বস্তুগুলোর থেকে এবং খাদ্যের থেকে দুরে থাকতে আমরা কঠিন পরিশ্রম করি I কিন্তু নবী যিশাইয় প্রকাশ করলেন যে:

6 আমরা সবাই পাপের জন্য নোংরা হয়ে উঠেছি| এমন কি আমাদের ভাল কাজও অশুদ্ধ| আমাদের ভালো কাজগুলো রক্তে রঞ্জিত পোশাকের মত| আমরা সবাই মরা পাতার মত| আমাদের পাপ আমাদের বাতাসের মতো বয়ে নিয়ে চলেছে|

যিশাইয় 64:6

নবী আমাদের বলেন যে এমনকি যদি আমরা সমস্তকিছুকে এড়িয়ে চলি যা আমাদের অশুচি করে, আমাদের পাপ সমূহ আমাদের ‘ধার্মিক কার্যকলাপ’ আমাদের পরিষ্কার করতে ‘নোংরা নেকড়ার’ মতন অকেজো করে তুলবে I ওটি খারাপ সংবাদ I তবে এটি আরও খারাপ হয় I  

আরও খারাপ সংবাদ: পাপ এবং মৃত্যুর ক্ষমতা

নবী মুসা পিবিইউএচ স্পষ্টভাবে ব্যবস্থার মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন যে সম্পূর্ণ বাধ্যতার প্রয়োজন ছিল I ব্যবস্থা কখনোই এরকম বলেনি যে “বেশিরভাগ অজ্ঞাগুলোকে অনুসরণ করতে চেষ্টা কর” I আসলে ব্যবস্থাটি বারবার বলেছিল পাপের প্রতিদানের একমাত্র কাজ মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিল I নোহের পিবিইউএইচ সময়ে এবং এমনকি লোটের পিবিইউএইচ স্ত্রীর সাথে আমরা দেখেছিলাম যে মৃত্যু পাপের পরিণাম স্বরূপ ছিল

ইঞ্জিল এই সত্যটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে সংক্ষিপ্তসার করে:

কারণ পাপের বেতন মৃত্যু…

রোমীয় 6:23

 “মৃত্যু” আক্ষরিক অর্থে ‘বিচ্ছিনতা’ I আমাদের আত্মা যখন আমাদের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় আমরা শারীরিকভাবে মারা যাই I অনুরূপভাবে আমরা এমনকি এখন ঈশ্বরের থেকে আত্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং মৃত হয়েছি এবং তাঁর দৃষ্টিতে অশুচি I  

এটি পাপের মূল্যের জন্য যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের আশার সমস্যাকে প্রকাশ করে I সমস্যা হল যে আমাদের কঠিন প্রচেষ্টা সমূহ, যোগ্যতাগুলো, ভালো উদ্দেশ্য সমূহ, এবং কাজগুলো, যদিও ভুল নয়, তবুও অপর্যাপ্ত কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রতিদান (‘বেতন’) হ’ল ‘মৃত্যু’ I কেবলমাত্র মৃত্যুই এই প্রাচীরকে বিদ্ধ করে কারণ এটি ঈশ্বরের ন্যায়কে সন্তুষ্ট করে I হালাল খাদ্য খাওয়ার দ্বারা যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাগুলো ক্যান্সার (যার পরিণাম মৃত্যু) নিরাময়ের জন্য চেষ্টা করার মতন I হালাল খাদ্য খারাপ নয়, ভাল – এবং একজনের হালাল খাওয়া ভাল – কিন্তু এটি ক্যান্সার নিরাময় করবে না I ক্যান্সারের জন্য আপনার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন যা ক্যান্সারের কোশিকাগুলোকে মারে I

তাই এমনকি আমাদের প্রচেষ্টা এবং ভাল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে যা ধর্মীয় যোগ্যতার জন্ম দেয় আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে আসলে মৃত এবং একটি মৃত দেহের মতন অশুচি I

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide4-e1599976866870.jpg
আমাদের পাপের পরিণাম মৃত্যু – আল্লাহর সামনে আমরা অশুচি মৃত দেহের মতন

ইব্রাহিম – সরল পথ দেখান

এটি নবী ইব্রাহিমের পিবিইউএইচ ক্ষেত্রে আলাদা I তাকে ‘ধার্মিকতা দেওয়া  হয়েছিল’, তার যোগ্যতার কারণে নয় বরং তিনি তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাস এবং ভরসা করেছিলেন বলে I তিনি নিজের দ্বারা এটিকে অর্জন করার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় মূল্য প্রদান করতে ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিলেন I আমরা তার মহান কোরবানীর মধ্যে দেখলাম যে মৃত্যুর (পাপের জন্য মূল্য) অর্থ প্রদান করা হয়েছিল, তবে তার পুত্রের দ্বারা নয় বরং পরিবর্তে ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত এক মেষশাবকের দ্বারা I  

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide5-e1599976906888.jpg
ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

কোরআন এটির সম্বন্ধে সুরা আস-সাফফাতে (সুরা 37 – তারা যারা মাত্রা স্থাপন করে) বলে যেখানে এটি বলে:

107 আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। 108 আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, 109 ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।  সুরা আস-

সাফফাত:107-109 

আল্লাহ ‘মুক্তিপণ (মূল্য প্রদান করলেন) দিলেন’ আর ইব্রাহিম আশীর্বাদ, করুণা এবং ক্ষমা পেলেন যা ‘শান্তিকে’ অন্তর্ভুক্ত করেছিল I    

শুভ সংবাদ: আমাদের স্বপক্ষে ঈসা আল মসীহর কাজ

সেখানে আমাদের সরল পথ দেখাতে সুরা আল-ফাতিয়ার (সুরা 1 – উদ্ঘাটন) অনুরোধ অনুসারে নবীর উদাহরণ 

4যিনি বিচার দিনের মালিক। 5 আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। 6 আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, 7 সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।সুরা আল-

ফাতিহা 1:4-7

ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে যে এটি একটি চিত্র যা দেখায় আল্লাহ কিভাবে পাপের জন্য মূল্য প্রদান করেন এবং মৃত্যু ও অশুচিতার জন্য একটি সরল কিন্তু শক্তিশালী উপায়ে নিরাময় যোগান দেন I

23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত

জীবন৷ রোমীয় 6:23

এতক্ষণ পর্যন্ত সব ‘খারাপ সংবাদ’ ছিল I তবে ‘ইঞ্জিল’ আক্ষরিক অর্থে ‘শুভ সংবাদ’ বোঝায় এবং সেটিকে ঘোষণা করার দ্বারা আমাদের এবং ঈশ্বরের মধ্যে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে ঈসার মৃত্যু পর্যাপ্ত হয় আমরা দেখতে পারি কেন এটি শুভ সংবাদ যেমন দেখানো হয়েছে I 

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide6-e1599976948933.jpg
ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

ঈসা আল মসীহর কোরবানী – ঈশ্বরের মেষশাবক মৃত্যুর দ্বারা আমাদের পক্ষে পাপের জন্য  মূল্য প্রদান করে যেমন ইব্রাহিমের মেষশাবক করেছিল I

নবী ঈসা আল মসীহ ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরে প্রথম ফল হিসাবে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন যাতে করে তিনি আমাদেরকে এখন নতুন জীবন দান করেছেন I মৃত্যুর পাপের বন্দী হয়ে থাকার আমাদের আর কোনো দরকার নেই I

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide7-e1599977000922.jpg
ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’ ছিল I আমরা মৃত্যু থেকে মুক্ত হতে পারি এবং সেই একই পুনরুত্থানের জীবন পেতে পারি

তাঁর কোরবানী এবং পুনরুত্থানের মধ্যে ঈসা আল মসীহ ঈশ্বরের থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নকারী পাপের বাধার মধ্যিখান দিয়ে দ্বারে পরিণত হলেন I এই জন্যই নবী বললেন:

9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’

যোহন 10:9-10
This image has an empty alt attribute; its file name is Slide8-e1599977052376.jpg
এইরূপে ঈসা আল মসীহ দ্বার হলেন যা পাপ এবং মৃত্যুর বাধাকে ভগ্ন করে

এই দ্বারের কারণে, আমরা এখন আমাদের পাপ বাধা হওয়ার পূর্বে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে পুনরায় অর্জন করতে পারি এবং করুণা এবং পাপের ক্ষমা পেতে আশ্বস্ত হতে পারি I

This image has an empty alt attribute; its file name is Slide9-e1599977093801.jpg
এক উন্মুক্ত দ্বারের সাহায্যে আমরা এখন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনস্থাপিত হয়েছি  

যেমন ইঞ্জিল ঘোষণা করে:

5 কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে৷ সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷
6 সমস্ত লোকদের পাপমুক্ত করতে যীশু নিজেকে উত্‌সর্গ করেছিলেন৷ যীশুর এই কাজ সঠিক সময়ে প্রমাণ করল য়ে ঈশ্বর চান য়েন সব লোক উদ্ধার পায়৷ 1 তিমথি 2:5-6

আপনার কাছে ঈশ্বরের উপহার  

নবী ‘সকল লোকেদের’ জন্য ‘নিজেকে দিয়েছিলেন’ I তাই এটি অবশ্যই আপনাকে তথা আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I তাঁর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি একজন মধ্যস্থতাকারী হয়ে মূল্য প্রদান করেছেন এবং আমাদের জীবন  প্রদান করেছেন I এই প্রদত্ত জীবনটি কিরকম?

23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় 6:23

লক্ষ্য করুন এটিকে কিভাবে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I এটিকে দেওয়া হয়েছে এক … ‘উপহার’ হিসাবে I উপহার সম্পর্কে চিন্তা করুন I এতে কিছু এসে যায় না উপহারটি কি, যদি এটি প্রকৃতপক্ষে একটি উপহার হয় এটি এমনকিছু যার জন্য আপনি কাজ করেন না এবং যোগ্যতার দ্বারা অর্জন করেন না I যদি আপনি এটিকে অর্জন করতেন তবে উপহারটি আর একটি উপহার হত না – এটি একটি মজুরি হত! সেই একই ভাবে আপনি যোগ্য হতে বা ঈসা আল মসীহর কোরবানীকে অর্জন করতে পারেন না I এটিকে এক উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে I এটি ততটাই সরল I    

আর উপহারটি কি? এটি ‘অনন্ত জীবন’ I তার অর্থ যে পাপ আপনাকে এবং আমাকে মৃত্যুতে নিয়ে এসেছে তার মূল্য এখন চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে I ঈশ্বর আপনাকে এবং আমাকে অধিক ভালবাসেন I এটি ততটাই শক্তিশালী I 

অতএব অপনি এবং আমি কিভাবে অনন্ত জীবন পাব? আবার, উপহার  সম্পর্কে চিন্তা করুন I কেউ যদি আপনাকে একটি উপহার দিতে চায় আপনি অবশ্যই এটিকে ‘গ্রহণ করবেন’ I যে কোনো সময় এক উপহার দিলে সেখানে  কেবলমাত্র দুটি বিকল্প হয় I হয় উপহারটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয় (“না ধন্যবাদ আপনাকে”) বা এটিকে গ্রহণ করা হয় (“আপনার উপহারের অন্য ধন্যবাদ I আমি এটিকে গ্রহণ করব”) I অতএব এই উপহারটিকেও অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে I এটিকে কেবল মানসিকভাবে বিশ্বাস করতে, অধ্যয়ন করতে বা বুঝতে পারা যায় না I উপকার পেতে গেলে, যে কোনো উপহারকে আপনাকে অবশ্যই ‘গ্রহণ করতে হবে’ I

12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের

এই জন্ম৷ যোহন 1:12-13

আসলে ইঞ্জিল ঈশ্বরের সম্পর্কে বলে যে

ঈশ্বর আমাদের উদ্ধারকর্তা, যিনি সকল লোকেদের চান উদ্ধার হতে …

1 তিমথি 2:3-4

তিনি একজন উদ্ধারকর্তা এবং তাঁর ইচ্ছা যে ‘সকল লোকেরা’ তাঁর উপহার গ্রহণ করুক এবং পাপ ও মৃত্যু থেকে রক্ষা পাক I এটি যদি তাঁর ইচ্ছা হয়, তবে তাঁর উপহার গ্রহণ করতে হলে শুধুমাত্র তাঁর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ করতে হবে – ‘মুসলিম’ শব্দটির বিশেষ অর্থ – একজন যে সমর্পণ করে I

কিভাবে আমরা এই উপহারটি পাই? ইঞ্জিল বলে যে 

12 এক্ষেত্রে ইহুদী ও অইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু৷ যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন৷

রোমীয় 10:12

লক্ষ্য করুন যে এই প্রতিশ্রুতি ‘প্রত্যেকের’ জন্য I যেহেতু তিনি মৃত্যু থেকে উঠলেন ঈসা আল মসীহ এমনকি এখনও জীবিত I অতএব আপনি যদি তাঁকে ডাকেন তিনি শুনবেন এবং তাঁর উপহার আপনাকে দেবেন I আপনি তাঁকে ডাকুন এবং তাঁকে বলুন I আপনি হয়ত কখনও এইরকম করেন নি I নিচে একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে I কোনো যাদু মন্ত্র নয় I এটি কোনো নির্দিষ্ট কথা নয় যা শক্তি দিতে পারে I এটি ইব্রাহিমের যেমন ছিল সেইরকম বিশ্বাস যাকে আমরা এই উপহারটি দেওয়ার জন্য ঈসা আল মসীহর উপরে রাখতে পারি I তাঁকে বিশ্বাস করার সাথে সাথে তিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং উত্তর দেবেন I ইঞ্জিল শক্তিশালী, তবুও এত সহজও বটে I যদি আপনি এটিকে উপযোগী পান, এই নির্দেশনাকে অনুসরণ করতে স্বচ্ছন্দ অনুভব করুন I     Quote

প্রিয় নবী এবং ঈসা আল মসীহ I আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার পাপের কারণে আমি আমার সৃষ্টিকর্তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি I যদিও আমি কঠিনভাবে চেষ্টা করি, আমার প্রচেষ্টাগুলো এই বাধাকে বিদ্ধ করে না I তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনার মৃত্যু আমার সমস্ত পাপ ধুতে এবং আমাকে শুদ্ধ করতে একটি কোরবানী ছিল I আমি জানি যে আপনি আপনার কোরবানীর পরে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন তাই আমি বিশ্বাস করি যে আপনার কোরবানী পর্যাপ্ত ছিল এবং তাই আমি আপনার কাছে সমর্পণ করি I আমি আপনার কাছে যাচনা করি দয়া করে আমার পাপের থেকে শুদ্ধ করুন এবং আমার সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মধ্যস্থতা করুন যাতে করে আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি I আমার এই সমস্ত করার জন্য ঈসা আল মসীহ, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এবং এখন এমনকি আপনি আমার জীবনে ক্রমাগত পথ প্রদর্শন করতে থাকবেন যাতে আমি আপনাকে আমার প্রভু হিসাবে অনুসরণ করতে পারি I 

অত্যন্ত করুনাময়, ঈশ্বরের নামে

ডান দিকে বাম দিকে স্বর্গদূতরা কি বিচারের দিনে সাহায্য করবে

সুরা আল-হাক্কক্কাহ (সুরা 69 – বাস্তবতা) বর্ণনা করে কীভাবে বিচারের দিনটি  এক তুরীর বিফোটের সাথে উদঘাটিত হবে 

13 যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার 14 এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,15 সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। 16 সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। 17 এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। 18 সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।

সুরা আল-হাক্কক্কাহ 69:13-18

সুরা কাফ (সুরা 50) এছাড়াও একটি দিনের বর্ণনা করে যখন আল্লাহর তূরী ফুঁকে যাবে আর আমাদের ডান ও বাম দিকের তত্ত্বাবধায়ক দেবদূতরা আমাদের কাজ ও যোগ্যতার রেকর্ড প্রকাশ করবে I এই আয়াতগুলো পড়ে:

16 আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। 17 যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। 18 সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। 19 মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে। 20 এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। 21 প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী। 22 তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ন। 23 তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবেঃ আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই।

সুরা কাফ 50:16-23

আয়াত 20 বলে যে তুরীর সাবধানবাণী ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে (কোরআনের প্রকাশনের আগে) I কখন এটিকে দেওয়া হয়েছিল? এটিকে ঈসা আল মসীহর  (পিবিইউএইচ) দ্বারা দেওয়া হয়েছিল যখন তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে পৃথিবীতে তাঁর প্রত্যার্বর্তন স্বর্গের তুরীর দ্বারা ঘোষিত হবে: 

31 লাবন বলল, “মহাশয়, আপনাকে আমাদের আলযে স্বাগত জানাই| আপনার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই| আপনাদের বিশ্রামের জন্যে আমি সমস্ত বন্দোবস্ত করছি এবং আপনাদের উটগুলোর জন্যে আমাদের বাড়ীতে জায়গা আছে|”

মথি 24:31

এর পরে কি ঘটে? সুরা কাফ বর্ণনা করে এক দেবদূত আমাদের ডান দিকে এবং বাম দিকে, আমাদের কাজকর্মগুলো রেকর্ড করছে যেহেতু আল্লাহ আমাদের ঘাড়ের শিরার থেকে নিকটতম, ইঞ্জিল আমাদের বলে যে আমাদের কাজকর্মের এই রেকর্ডগুলো এত ব্যাপক যে তারা আসলে ‘বই’ I এটিকে একটি দর্শনে  বর্ণনা করা হয়েছে যাকে যোহন, ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ একজন শিষ্য, পেয়েছিলেন এবং ইঞ্জিলের শেষ বইয়ের মধ্যে লিখেছিলেন I যেমন এটিকে লেখা  হয়েছে: 

11 পরে আমি এক বিরাট শ্বেত সিংহাসন ও তার ওপর যিনি বসে আছেন তাঁকে দেখলাম৷ তাঁর সামনে থেকে পৃথিবী ও আকাশ বিলুপ্ত হল এবং তাদের কোন অস্তিত্ব রইল না৷
12 আমি দেখলাম, ক্ষুদ্র অথবা মহান সমস্ত মৃত লোক সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷ পরে কয়েকটি গ্রন্থ খোলা হল এবং আরও একটি গ্রন্থ খোলা হল৷ সেই গ্রন্থটির নাম জীবন পুস্তক৷ সেই গ্রন্থগুলিতে মৃতদের প্রত্যেকের কাজের বিবরণ লিপিবদ্ধ ছিল এবং সেই অনুসারে তাদের বিচার হল৷
13 য়ে সব লোক সমুদ্রগর্ভে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল সমুদ্র তাদের সঁপে দিল, আর মৃত্যু ও পাতাল নিজেদের মধ্যে য়ে সব মৃত ব্যক্তি ছিল তাদের সমর্পণ করল৷ তাদের কৃতকর্ম অনুসারে তাদের বিচার হল৷
14 পরে মৃত্যু ও পাতাল আগুনের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই আগুনের হ্রদই হল আসলে দ্বিতীয় মৃত্যু৷
15 জীবন পুস্তকে যাদের নাম লেখা দেখতে পাওয়া গেল না, তাদের সকলকে আগুনের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷

প্রকাশিত বাক্য 20:11-15

এটি ঘোষণা করে যে সকলের বিচার হবে ‘তাদের কাজ অনুসারে’ যেমন এই ‘বইয়ের’ মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I তাই আমরা প্রার্থনার পরে আমাদের ডান দিক এবং বাম দিকের দেবদুতদের শুভেচ্ছা জানাই এবং কাজকর্মের রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়ার আশা করি I  

জীবন পুস্তক

কিন্তু লক্ষ্য করুন সেখানে আর একটি পুস্তক আছে, যাকে ‘জীবনের পুস্তক’ বলা হয়, যেটি ভাল-মন্দ যোগ্যতার নথি-ধারণকারী বইয়ের থেকে আলাদা I এটি ব্যক্ত করে ‘যে কেউ’ যাদের নাম জীবন পুস্তকে পাওয়া যাবে না তাদেরকে আগুনের হ্রদে (জাহান্নামের জন্য আর একটি মেয়াদ) নিক্ষেপ করা হবে I তাই, এমনকি যদিও আমাদের ডান দিকে দেবদূতের দ্বারা লিপিবদ্ধ ভালো গুনগুলোর তালিকা খুব দীর্ঘ হয়, এবং দেবদূতের দ্বারা লিপিবদ্ধ আমাদের বাম দিকে পাপগুলোর তালিকা খুব সংক্ষিপ্ত হয় – এমনকি তবুও – আপনার নাম যদি ‘জীবন পুস্তকে’ না থাকে আমরা তখনও জাহান্নামের জন্য দোষী সাব্যস্ত হব I এই ‘জীবন পুস্তক’ কি এবং কিভাবে এই পুস্তকে আমাদের নাম লিপিবদ্ধ হয়?

 তাওরাত এবং কোরআন উভয়ই ব্যক্ত করে যে যখন হজরত আদম পাপ করল, আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিলেন এবং তাকে মরণশীল করেছিলেন I এর অর্থ হ’ল যে সে (এবং আমরা তার সন্তান) জীবনের স্রোত থেকে বিছিন্ন হয়েছিল I এটাই কারণ যে আমরা মরণশীল এবং একদিন আমরা মারা যাব I নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এই জীবনকে আমাদের কাছে পুনস্থাপন করতে এসেছিলেন যাতে আমাদের নামকে জীবন পুস্তকের মধ্যে প্রবেশ করাতে পারা যায় I যেমন তিনি ঘোষণা করলেন  

  24 ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; য়ে কেউ আমার কথা শোনে, আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে এবং সে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না৷ সে মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে৷

যোহন 5:24

নবী ইব্রাহিম পিবিইউএইচ কিভাবে জীবনের এই বরদানকে আগে থেকেই দেখছিলেন, এবং কেন ঈসা আল মসীহ আমাদের জীবন দিতে পারেন তা এখানে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I সুরা কাফ আমাদের সাবধান করে যে 

তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে,

সুরা কাফ 50:24

তাই অনন্ত জীবন যদি দেওয়া হয়ে থাকে তবে এর সম্বন্ধে খবর কেন দেওয়া হয়নি?

ঈসা আল মসীহর থেকে জীবনের উপহার বোঝা এবং পাওয়া

আমরা নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ শেষ সপ্তাহকে পরীক্ষা করলাম I ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যে তিনি ষষ্ঠ দিনে – শুভ শুক্রবারে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন, এবং তাঁকে পরের রবিবারে আবার জীবনে ওঠানো হয়েছিল I এটিকে তাওরাত এবং গীতসংহিতা ও নবীদের উভয়ের মধ্যে পূর্বাভাষ করা  গিয়েছিল I কিন্তু কেন এটি ঘটল এবং আজকে আপনার এবং আমার জন্য এটির অর্থ কি? এখানে আমরা বুঝতে চাই ঈসা আল মসীহর দ্বারা  আমাদেরকে কি দেওয়া হয়েছে এবং আমরা কিভাবে করুণা এবং ক্ষমা পেতে পারি I এটি আমাদেরকে এমনকি ইব্রাহিমের মুক্তিপণকে বুঝতে সাহায্য করবে যাকে সুরা আস-সাফফাত (সুরা 37), সুরা আল ফাতিয়া (সুরা 1 – উদ্ঘাটক) এর মধ্যে বর্ণিত করা হয়েছে, যখন এটি আল্লাহকে ‘আমাদেরকে সরল পথ দেখাতে’ বলে পাশাপাশি উপলব্ধি দিতে কেন ‘মুসলিমের’ অর্থ ‘একজন যে সমর্পণ করে’, এবং কেন ধর্মকর্ম পালন যেমন বুদু, যাকাত এবং হালাল খাওয়া ভাল তবে বিচারের দিনের জন্য নিজেদের মধ্যে অপর্যাপ্ত ভাল উদ্দেশ্য I           

খারাপ সংবাদ – আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সম্বন্ধে নবীরা কি বলে

তাওরাত শিক্ষা দেয় যে যখন আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করলেন তিনি

  27 তাই ঈশ্বর নিজের মতোই মানুষ সৃষ্টি করলেন| মানুষ হল তাঁর ছাঁচে গড়া জীব| ঈশ্বর তাদের পুরুষ ও স্ত্রীরূপে সৃষ্টি করলেন|

আদিপুস্তক 1:27

“প্রতিমূর্তি” শারীরিক অর্থে বোঝায় না, তবে বরং সেই অর্থে যাতে আমাদেরকে তৈরী করা হয় তাঁকে প্রতিফলিত করতে এমনভাবে যাতে আমরা আবেগপূর্ণভাবে, মানসিকভাবে, সামাজিকভাবে, এবং আত্মিকভাবে কার্যকলাপ করি I তাঁর সাথে সম্পর্কের মধ্যে হতে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছিল I আমরা এই সম্পর্ককে নিচের স্লাইডের মধ্যে দেখতে পারি I সৃষ্টিকর্তাকে, অসীম শাসক হিসাবে, উপরে রাখা হয়েছে যেখানে পুরুষ এবং স্ত্রীকে স্লাইডের নিচে রাখা হয়েছে যেহেতু আমরা সীমিত প্রাণী I সংযোগকারী তীরের দ্বারা  সম্পর্ককে দেখানো হয়েছে I  

তাঁর প্রতিমূর্তিতে, লোকেদেরকে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে হতে তৈরী করা হয়েছিল

আল্লাহ চরিত্রের দিক দিয়ে সিদ্ধ – তিনি পবিত্র I এই কারণে যাবুর বলে

  4 হে ঈশ্বর, মন্দ লোকরা আপনার কাছে থাকুক, এ আপনি চান না| দুষ্ট লোকরা আপনার উপাসনা করে না|
5 বোকারা আপনার কাছে আসতে পারে না| লোকদের মন্দ কাজ করাকে আপনি ঘৃণা করেন|

গীতসংহিতা 5:4-5

আদম অবাধ্যতার একটি কার্য করেছিল – কেবলমাত্র একটি – আর ঈশ্বরের  পবিত্রতায় তার বিচারের প্রয়োজন হয়েছিল I তাওরাত এবং কোরআন লিপিবদ্ধ করে যে আল্লাহ তাকে মরণশীল করলেন এবং তাঁর উপস্থিতি থেকে বিতাড়িত করলেন I সেই একই পরিস্থিতি আমাদের জন্য বিদ্যমান I যখন আমরা পাপ করি বা অমান্য করি তখন আমরা যে কোনো উপায়ে আল্লাহকে অসম্মান করি যেহেতু আমরা প্রতিমূর্তি অনুসারে কাজ করি না যাতে আমাদের তৈরী করা হয়েছে I আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় I এর ফলে পাথরের মতন শক্ত এক বাধার সৃষ্টি হয় যা আমাদের এবং সৃষ্টিকর্তার মধ্যে আসে I  

আমাদের এবং পবিত্র ঈশ্বরের মধ্যে আমাদের পাপ এক শক্ত বাধা সৃষ্টি করে

ধর্মীয় যোগ্যতার দ্বারা পাপের বাধাকে বিদ্ধ করা

আমাদের মধ্যে অনেকে আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে এই বাধাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমূহ বা কার্যাবলীর দ্বারা বিদ্ধ করতে চেষ্টা করে যা বাধাকে ভাঙতে যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে I প্রার্থনা, উপবাস, হাজ্জ, মসজিদে যাওয়া, যাকাত, ভিক্ষা দান, সেই পথগুলো যার দ্বারা আমরা বাধাকে বিদ্ধ করতে যোগ্যতা অর্জন করতে চাই যাকে পরে চিত্রিত করা হয়েছে I আশা হ’ল যে ধর্মীয় যোগ্যতা কিছু পাপকে বাতিল করবে I আমাদের অনেক কাজগুলো যদি যথেষ্ট যোগ্যতা অর্জন করে আমরা আমাদের পাপগুলোকে বাতিল করতে এবং করুণা ও ক্ষমা পেতে আশা করি I      

ভাল কার্য সমুহ করার দ্বারা আল্লাহর সামনে যোগ্যতা অর্জন করতে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা করি  

কিন্তু পাপ বাতিল করতে কতটা যোগ্যতা আমাদের প্রয়োজন? আমাদের কি আশ্বাস যে আমাদের যোগ্যতাপূর্ণ কাজগুলো পাপ বাতিল করতে এবং বাধাকে বিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত হবে যা আমাদের এবং আমাদের সৃষ্টিকর্তার মধ্যে এসেছে? আমরা কি জানি যে আমাদের ভাল উদ্দেশ্যগুলো পর্যাপ্ত হবে? আমাদের কাছে কোন আশ্বাস নেই আর তাই আমরা যতটা সম্ভব পারি চেষ্টা করি করতে এবং আশা করি বিচারের দিনে এটি পর্যাপ্ত হবে I  

কার্যকলাপ সমূহের দ্বারা যোগ্যতা অর্জন করার পাশাপাশি, ভালো উদ্দেশ্যের জন্য প্রচেষ্টায়, আমাদের মধ্যে অনেকে পরিষ্কার থাকতে কঠিন পরিশ্রম করে I প্রার্থনার পূর্বে আমরা অধ্যবসায়ের সাথে বুদু অনুষ্ঠিত করি I অশুচিকারী লোকেদের থেকে, বস্তুগুলোর থেকে এবং খাদ্যের থেকে দুরে থাকতে আমরা কঠিন পরিশ্রম করি I কিন্তু নবী যিশাইয় প্রকাশ করলেন যে:

  6 আমরা সবাই পাপের জন্য নোংরা হয়ে উঠেছি| এমন কি আমাদের ভাল কাজও অশুদ্ধ| আমাদের ভালো কাজগুলো রক্তে রঞ্জিত পোশাকের মত| আমরা সবাই মরা পাতার মত| আমাদের পাপ আমাদের বাতাসের মতো বয়ে নিয়ে চলেছে|

যিশাইয় 64:6

নবী আমাদের বলেন যে এমনকি যদি আমরা সমস্তকিছুকে এড়িয়ে চলি যা আমাদের অশুচি করে, আমাদের পাপ সমূহ আমাদের ‘ধার্মিক কার্যকলাপ’ আমাদের পরিষ্কার করতে ‘নোংরা নেকড়ার’ মতন অকেজো করে তুলবে I ওটি খারাপ সংবাদ I তবে এটি আরও খারাপ হয় I  

আরও খারাপ সংবাদ: পাপ এবং মৃত্যুর ক্ষমতা

নবী মুসা পিবিইউএচ স্পষ্টভাবে ব্যবস্থার মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন যে সম্পূর্ণ বাধ্যতার প্রয়োজন ছিল I ব্যবস্থা কখনোই এরকম বলেনি যে “বেশিরভাগ অজ্ঞাগুলোকে অনুসরণ করতে চেষ্টা কর” I আসলে ব্যবস্থাটি বারবার বলেছিল পাপের প্রতিদানের একমাত্র কাজ মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছিল I নোহের পিবিইউএইচ সময়ে এবং এমনকি লোটের পিবিইউএইচ স্ত্রীর সাথে আমরা দেখেছিলাম যে মৃত্যু পাপের পরিণাম স্বরূপ ছিল

ইঞ্জিল এই সত্যটিকে নিম্নলিখিত উপায়ে সংক্ষিপ্তসার করে:

কারণ পাপের বেতন মৃত্যু…

রোমীয় 6:23

 “মৃত্যু” আক্ষরিক অর্থে ‘বিচ্ছিনতা’ I আমাদের আত্মা যখন আমাদের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয় আমরা শারীরিকভাবে মারা যাই I অনুরূপভাবে আমরা এমনকি এখন ঈশ্বরের থেকে আত্মিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং মৃত হয়েছি এবং তাঁর দৃষ্টিতে অশুচি I  

এটি পাপের মূল্যের জন্য যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের আশার সমস্যাকে প্রকাশ করে I সমস্যা হল যে আমাদের কঠিন প্রচেষ্টা সমূহ, যোগ্যতাগুলো, ভালো উদ্দেশ্য সমূহ, এবং কাজগুলো, যদিও ভুল নয়, তবুও অপর্যাপ্ত কারণ আমাদের পাপের জন্য প্রতিদান (‘বেতন’) হ’ল ‘মৃত্যু’ I কেবলমাত্র মৃত্যুই এই প্রাচীরকে বিদ্ধ করে কারণ এটি ঈশ্বরের ন্যায়কে সন্তুষ্ট করে I হালাল খাদ্য খাওয়ার দ্বারা যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাগুলো ক্যান্সার (যার পরিণাম মৃত্যু) নিরাময়ের জন্য চেষ্টা করার মতন I হালাল খাদ্য খারাপ নয়, ভাল – এবং একজনের হালাল খাওয়া ভাল – কিন্তু এটি ক্যান্সার নিরাময় করবে না I ক্যান্সারের জন্য আপনার এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন যা ক্যান্সারের কোশিকাগুলোকে মারে I

তাই এমনকি আমাদের প্রচেষ্টা এবং ভাল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে যা ধর্মীয় যোগ্যতার জন্ম দেয় আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে আসলে মৃত এবং একটি মৃত দেহের মতন অশুচি I

আমাদের পাপের পরিণাম মৃত্যু – আল্লাহর সামনে আমরা অশুচি মৃত দেহের মতন

ইব্রাহিম – সরল পথ দেখান

এটি নবী ইব্রাহিমের পিবিইউএইচ ক্ষেত্রে আলাদা I তাকে ‘ধার্মিকতা দেওয়া  হয়েছিল’, তার যোগ্যতার কারণে নয় বরং তিনি তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাস এবং ভরসা করেছিলেন বলে I তিনি নিজের দ্বারা এটিকে অর্জন করার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় মূল্য প্রদান করতে ঈশ্বরের উপরে ভরসা করেছিলেন I আমরা তার মহান কোরবানীর মধ্যে দেখলাম যে মৃত্যুর (পাপের জন্য মূল্য) অর্থ প্রদান করা হয়েছিল, তবে তার পুত্রের দ্বারা নয় বরং পরিবর্তে ঈশ্বরের দ্বারা প্রদত্ত এক মেষশাবকের দ্বারা I  

ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

কোরআন এটির সম্বন্ধে সুরা আস-সাফফাতে (সুরা 37 – তারা যারা মাত্রা স্থাপন করে) বলে যেখানে এটি বলে:

107 আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। 108 আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, 109 ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। 

সুরা আস-সাফফাত:107-109 

আল্লাহ ‘মুক্তিপণ (মূল্য প্রদান করলেন) দিলেন’ আর ইব্রাহিম আশীর্বাদ, করুণা এবং ক্ষমা পেলেন যা ‘শান্তিকে’ অন্তর্ভুক্ত করেছিল I    

শুভ সংবাদ: আমাদের স্বপক্ষে ঈসা আল মসীহর কাজ

সেখানে আমাদের সরল পথ দেখাতে সুরা আল-ফাতিয়ার (সুরা 1 – উদ্ঘাটন) অনুরোধ অনুসারে নবীর উদাহরণ 

4যিনি বিচার দিনের মালিক। 5 আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। 6 আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, 7 সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

সুরা আল-ফাতিহা 1:4-7

ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে যে এটি একটি চিত্র যা দেখায় আল্লাহ কিভাবে পাপের জন্য মূল্য প্রদান করেন এবং মৃত্যু ও অশুচিতার জন্য একটি সরল কিন্তু শক্তিশালী উপায়ে নিরাময় যোগান দেন I

 23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় 6:23

এতক্ষণ পর্যন্ত সব ‘খারাপ সংবাদ’ ছিল I তবে ‘ইঞ্জিল’ আক্ষরিক অর্থে ‘শুভ সংবাদ’ বোঝায় এবং সেটিকে ঘোষণা করার দ্বারা আমাদের এবং ঈশ্বরের মধ্যে এই বাধাকে বিদ্ধ করতে ঈসার মৃত্যু পর্যাপ্ত হয় আমরা দেখতে পারি কেন এটি শুভ সংবাদ যেমন দেখানো হয়েছে I 

ইব্রাহিমকে সরল পথ দেখানো হয়েছিল I তিনি শুধুমাত্র ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির উপরে ভরসা করেছিলেন এবং ঈশ্বর পাপের জন্য মৃত্যুর মূল্যের যোগান দিয়েছিলেন 

ঈসা আল মসীহর কোরবানী – ঈশ্বরের মেষশাবক মৃত্যুর দ্বারা আমাদের পক্ষে পাপের জন্য  মূল্য প্রদান করে যেমন ইব্রাহিমের মেষশাবক করেছিল I

নবী ঈসা আল মসীহ ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং পরে প্রথম ফল হিসাবে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন যাতে করে তিনি আমাদেরকে এখন নতুন জীবন দান করেছেন I মৃত্যুর পাপের বন্দী হয়ে থাকার আমাদের আর কোনো দরকার নেই I

ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’ ছিল I আমরা মৃত্যু থেকে মুক্ত হতে পারি এবং সেই একই পুনরুত্থানের জীবন পেতে পারি

তাঁর কোরবানী এবং পুনরুত্থানের মধ্যে ঈসা আল মসীহ ঈশ্বরের থেকে আমাদের বিচ্ছিন্নকারী পাপের বাধার মধ্যিখান দিয়ে দ্বারে পরিণত হলেন I এই জন্যই নবী বললেন:

  9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’

যোহন 10:9-10
এইরূপে ঈসা আল মসীহ দ্বার হলেন যা পাপ এবং মৃত্যুর বাধাকে ভগ্ন করে

এই দ্বারের কারণে, আমরা এখন আমাদের পাপ বাধা হওয়ার পূর্বে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে পুনরায় অর্জন করতে পারি এবং করুণা এবং পাপের ক্ষমা পেতে আশ্বস্ত হতে পারি I

এক উন্মুক্ত দ্বারের সাহায্যে আমরা এখন আমাদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুনস্থাপিত হয়েছি  

যেমন ইঞ্জিল ঘোষণা করে:

5 কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে৷ সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷
6 সমস্ত লোকদের পাপমুক্ত করতে যীশু নিজেকে উত্‌সর্গ করেছিলেন৷ যীশুর এই কাজ সঠিক সময়ে প্রমাণ করল য়ে ঈশ্বর চান য়েন সব লোক উদ্ধার পায়৷

1 তিমথি 2:5-6

আপনার কাছে ঈশ্বরের উপহার  

নবী ‘সকল লোকেদের’ জন্য ‘নিজেকে দিয়েছিলেন’ I তাই এটি অবশ্যই আপনাকে তথা আমাকে অন্তর্ভুক্ত করে I তাঁর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে তিনি একজন মধ্যস্থতাকারী হয়ে মূল্য প্রদান করেছেন এবং আমাদের জীবন  প্রদান করেছেন I এই প্রদত্ত জীবনটি কিরকম?

 23 কারণ পাপ য়ে মজুরি দেয়, সেই মজুরি হল মৃত্যু৷ কিন্তু ঈশ্বর অনুগ্রহ করে যা দান করেন সেই দান হল আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুতে অনন্ত জীবন৷

রোমীয় 6:23

লক্ষ্য করুন এটিকে কিভাবে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I এটিকে দেওয়া হয়েছে এক … ‘উপহার’ হিসাবে I উপহার সম্পর্কে চিন্তা করুন I এতে কিছু এসে যায় না উপহারটি কি, যদি এটি প্রকৃতপক্ষে একটি উপহার হয় এটি এমনকিছু যার জন্য আপনি কাজ করেন না এবং যোগ্যতার দ্বারা অর্জন করেন না I যদি আপনি এটিকে অর্জন করতেন তবে উপহারটি আর একটি উপহার হত না – এটি একটি মজুরি হত! সেই একই ভাবে আপনি যোগ্য হতে বা ঈসা আল মসীহর কোরবানীকে অর্জন করতে পারেন না I এটিকে এক উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছে I এটি ততটাই সরল I    

আর উপহারটি কি? এটি ‘অনন্ত জীবন’ I তার অর্থ যে পাপ আপনাকে এবং আমাকে মৃত্যুতে নিয়ে এসেছে তার মূল্য এখন চুকিয়ে দেওয়া হয়েছে I ঈশ্বর আপনাকে এবং আমাকে অধিক ভালবাসেন I এটি ততটাই শক্তিশালী I 

অতএব অপনি এবং আমি কিভাবে অনন্ত জীবন পাব? আবার, উপহার  সম্পর্কে চিন্তা করুন I কেউ যদি আপনাকে একটি উপহার দিতে চায় আপনি অবশ্যই এটিকে ‘গ্রহণ করবেন’ I যে কোনো সময় এক উপহার দিলে সেখানে  কেবলমাত্র দুটি বিকল্প হয় I হয় উপহারটিকে প্রত্যাখ্যান করা হয় (“না ধন্যবাদ আপনাকে”) বা এটিকে গ্রহণ করা হয় (“আপনার উপহারের অন্য ধন্যবাদ I আমি এটিকে গ্রহণ করব”) I অতএব এই উপহারটিকেও অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে I এটিকে কেবল মানসিকভাবে বিশ্বাস করতে, অধ্যয়ন করতে বা বুঝতে পারা যায় না I উপকার পেতে গেলে, যে কোনো উপহারকে আপনাকে অবশ্যই ‘গ্রহণ করতে হবে’ I

  12 কিন্তু কিছু লোক তাঁকে গ্রহণ করল এবং তাঁকে বিশ্বাস করল৷ যাঁরা বিশ্বাস করল তাদের সকলকে তিনি ঈশ্বরের সন্তান হবার অধিকার দান করলেন৷
13 ঈশ্বরের এই সন্তানরা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোন শিশুর মতো জন্ম গ্রহণ করে নি৷ মা-বাবার দৈহিক কামনা-বাসনা অনুসারেও নয়, ঈশ্বরের কাছ থেকেই তাদের এই জন্ম৷

যোহন 1:12-13

আসলে ইঞ্জিল ঈশ্বরের সম্পর্কে বলে যে

ঈশ্বর আমাদের উদ্ধারকর্তা, যিনি সকল লোকেদের চান উদ্ধার হতে …

1 তিমথি 2:3-4

তিনি একজন উদ্ধারকর্তা এবং তাঁর ইচ্ছা যে ‘সকল লোকেরা’ তাঁর উপহার গ্রহণ করুক এবং পাপ ও মৃত্যু থেকে রক্ষা পাক I এটি যদি তাঁর ইচ্ছা হয়, তবে তাঁর উপহার গ্রহণ করতে হলে শুধুমাত্র তাঁর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ করতে হবে – ‘মুসলিম’ শব্দটির বিশেষ অর্থ – একজন যে সমর্পণ করে I

কিভাবে আমরা এই উপহারটি পাই? ইঞ্জিল বলে যে 

  12 এক্ষেত্রে ইহুদী ও অইহুদীদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, একই প্রভু সকলের প্রভু৷ যত লোক তাঁকে ডাকে সেই সকলের ওপর তিনি প্রচুর আশীর্বাদ ঢেলে দেন৷

রোমীয় 10:12

লক্ষ্য করুন যে এই প্রতিশ্রুতি ‘প্রত্যেকের’ জন্য I যেহেতু তিনি মৃত্যু থেকে উঠলেন ঈসা আল মসীহ এমনকি এখনও জীবিত I অতএব আপনি যদি তাঁকে ডাকেন তিনি শুনবেন এবং তাঁর উপহার আপনাকে দেবেন I আপনি তাঁকে ডাকুন এবং তাঁকে বলুন I আপনি হয়ত কখনও এইরকম করেন নি I নিচে একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে I কোনো যাদু মন্ত্র নয় I এটি কোনো নির্দিষ্ট কথা নয় যা শক্তি দিতে পারে I এটি ইব্রাহিমের যেমন ছিল সেইরকম বিশ্বাস যাকে আমরা এই উপহারটি দেওয়ার জন্য ঈসা আল মসীহর উপরে রাখতে পারি I তাঁকে বিশ্বাস করার সাথে সাথে তিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং উত্তর দেবেন I ইঞ্জিল শক্তিশালী, তবুও এত সহজও বটে I যদি আপনি এটিকে উপযোগী পান, এই নির্দেশনাকে অনুসরণ করতে স্বচ্ছন্দ অনুভব করুন I     

প্রিয় নবী এবং ঈসা আল মসীহ I আমি বুঝতে পেরেছি যে আমার পাপের কারণে আমি আমার সৃষ্টিকর্তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছি I যদিও আমি কঠিনভাবে চেষ্টা করি, আমার প্রচেষ্টাগুলো এই বাধাকে বিদ্ধ করে না I তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনার মৃত্যু আমার সমস্ত পাপ ধুতে এবং আমাকে শুদ্ধ করতে একটি কোরবানী ছিল I আমি জানি যে আপনি আপনার কোরবানীর পরে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন তাই আমি বিশ্বাস করি যে আপনার কোরবানী পর্যাপ্ত ছিল এবং তাই আমি আপনার কাছে সমর্পণ করি I আমি আপনার কাছে যাচনা করি দয়া করে আমার পাপের থেকে শুদ্ধ করুন এবং আমার সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মধ্যস্থতা করুন যাতে করে আমি অনন্ত জীবন পেতে পারি I আমার এই সমস্ত করার জন্য ঈসা আল মসীহ, আপনাকে ধন্যবাদ জানাই এবং এখন এমনকি আপনি আমার জীবনে ক্রমাগত পথ প্রদর্শন করতে থাকবেন যাতে আমি আপনাকে আমার প্রভু হিসাবে অনুসরণ করতে পারি I 

অত্যন্ত করুনাময়, ঈশ্বরের নামে

গীতসংহিতা এবং নবীরা কিভাবে ঈসা আল মসীহর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন?

নবী মুসার পিবিইউএইচ তাওরাত ঈসা আল মসীহর সম্বন্ধে পুর্বজ্ঞান প্রকাশিত করেছিলেন চিহ্ন সমূহের মাধ্যমে যেগুলোকে নবীর আগমনের প্রতি নমুনাকৃত করা হয়েছিল I মুসার অনুগমনকারী নবীরা ফিরিস্তির দ্বারা ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে দেখিয়েছিলেন I ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত দায়ূদ পিবিইউএইচ, মসীহর আগমন সম্বন্ধে গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে প্রথমে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I তারপরে গীতসংহিতা 22 এর মধ্যে তিনি একজনের সম্বন্ধে একটি বার্তা পেলেন যার হাত ও পাকে অত্যাচারে ‘বিদ্ধ’ করা হয়েছে এবং তারপরে ‘মৃত্যুর ধুলিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে’, তবে  পরবর্তীকালে অর্জিত এক মহান বিজয় ‘পৃথিবীর সমস্ত পরিবারকে’ প্রভাবিত করবে I এটি কি ঈসা আল মসীহর আসন্ন ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল? সুরা সাবা (সুরা 34) এবং সুরা আন- নমল (সুরা 27) এর বক্তব্যের মধ্যে একবার দেখব কিভাবে আল্লাহ যাবুরের (অর্থাৎ গীতসংহিতা 22) মধ্যে দায়ূদকে অনুপ্রাণিত করলেন I          

গীতসংহিতা 22 এর ভবিষ্যদ্বাণী

আপনি এখানে পুরো গীতসংহিতা 22টি পড়তে পারেন I নিচে একটি টেবিল রয়েছে যেখানে গীতসংহিতা 22 এর পাশাপাশি ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের (সঙ্গী) দ্বারা প্রত্যক্ষ্য করা ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থানের বিবরণ রয়েছে I পাঠ্যগুলো রঙ মেলানো তাই সাদৃশ্যগুলো সহজেই দেখা যায় I 

   1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে লিখিত – গীত সংহিতা 22
(মথি 27:31-48) .. তারপর তারা তাঁকে (যীশুকে) ক্রুশে দিতে নিয়ে চলল)39 যে সকল লোক সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল তারা মাথা নাড়তে নাড়তে তার দিকে অপমান করল 40 এবং বলল, “… নিজেকে রক্ষা কর! ক্রুশ থেকে নেমে এস, যদি তুমি ঈশ্বরের পুত্র হও!” 41 সেই একই রূপে প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা এবং প্রাচীনরা তাঁর প্রতি বিদ্রূপ করল I 42 সে অন্যদের রক্ষা করত,”তারা বলল, “কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা! এখন ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, আর আমরা ওর উপর বিশ্বাস করব I 43 ও ঈশ্বরের উপরে বিশ্বাস রাখে I এখন তিনি ওকে উদ্ধার করুন যদি তিনি ওকে চান,…45 প্রায় নয় ঘটিকার সময় যীশু চীৎকার করে উঠলেনআমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর, কেন আমায় পরিত্যাগ করেছ?“…48 তাদের মধ্যে একজন তৎক্ষনাত দৌড়িয়ে গেল আর একটি স্পঞ্জ নিয়ে এল I সে তাতে সিরকা ভরল, এটিকে একটি নলের উপরে রাখল, এবং যীশুকে পান করতে দিল I মার্ক 15: 16-20 16 সেনারা যীশুকে নিয়ে গেলতারা তাঁকে বেগুনি কাপড় পরাল, তারপরে একটি কাঁটার মুকুট গেঁথে তার উপরে পরাল I 18 আর তারা তাঁকে বলতে আরম্ভ করল, “নমস্কার, যিহূদিরাজ!” 19 বার বার তারা একটি নল দ্বারা তাঁর মাথার উপরে আঘাত করল এবং তাঁর উপরে থুতু দিল I তাদের হাঁটু পেতে, তারা তাঁকে প্রণাম করল I 20 আর যখন তারা তাঁকে বিদ্রূপ করল, তারা তাঁর থেকে বেগুনি কাপড় খুলে নিল এবং তাঁর নিজের কাপড় তাঁর উপরে পরিয়ে দিল I পরে ক্রুশে দেবার জন্য তারা তাঁকে বাইরে নিয়ে গেল37 এক উচ্চ রবের সাথে, যীশু শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন I (যোহন 19:34) তারা তাঁর পা ভাঙল না ..., বিদ্ধ করল যীশুর কুক্ষিদেশে একটি বরশা দিয়ে, তাহাতে অমনি রক্ত ও জলের প্রবাহ নিয়ে এল.…তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল(যোহন  20:25) [থোমা] আমি যদি তাঁর হাতে প্রেরেক চিহ্ন না দেখি, …”…যোহন 19:23-24 যখন সেনারা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করল, তারা নিল তাঁর বস্ত্র সকল, তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে, সেগুলোকে চার ভাগে ভাগ করল,  বাকি ছিল আঙরাখাটি…এটিকে চিরব না”, তারা বলল,”এস আমরা গুলিবাঁট করে দেখি কে এটি পায় 1 ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমাকে পরিত্যাগ করেছ? আমার রক্ষার থেকে কেন এত দুরে থাক, আমার যন্ত্রণার আর্তনাদ থেকে কেন এত দুরে থাক?
2 হে আমার ঈশ্বর, আমি দিবসে আহ্বান করি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না, রাত্রিতেও, কিন্তু, আমার কোনো বিশ্রাম পাই না …7 যারা আমাকে দেখে সকলে আমাকে ঠাট্টা করে;
তারা তাদের মাথা নেড়ে, অপমান করে I
8 ও সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করে,”তারা বলে ,
সদাপ্রভু ওকে রক্ষা করুন,কেননা তিনি উহাতে প্রীত9 তথাপি তুমি জঠর থেকে আমাকে উদ্ধার করলে;
এমনকি আমার মাতার স্তন পানের সময়ে তুমি আমার বিশ্বাস জন্মালে I
10 গর্ভ থেকে আমি তোমার উপরে নিক্ষিপ্ত;
আমার মাতৃজঠর থেকে তুমিই আমার ঈশ্বর I  11 আমার থেকে দুরে থেক না,
কেননা সঙ্কট আসন্ন, আর সাহায্যকারী কেউ নেই I 12 অনেক বৃষ আমাকে বেষ্টন করেছে;
বলবান বলদেরা আমাকে ঘিরেছে I
13 গর্জনকারী সিংহ যেন তাদের শিকারীকে ছিড়ে ফেলতে আমার বিরুদ্ধে তাদের মুখ খুলে হা করেছে I
14 আমি জলের ন্যায় সেচিত হয়েছি, এবং আমার সমুদয় অস্থি সন্ধিচ্যুত হয়েছে I  
আমার হৃদয় মোমের ন্যায় হয়েছে;
এটি আমার মধ্যে গলিত হয়েছে I
15 আমার মুখ খোলার ন্যায় শুষ্ক হয়েছে,
এবং আমার জিহ্বা তালুতে লেগে আটকে গেছে;
তুমি আমাকে মৃত্যুর ধুলিতে রেখেছ I 16 কুকুরেরা আমাকে ঘিরেছে,দুরাচারীদের এক মন্ডলী আমাকে বেষ্টন করেছে; তারা আমার হস্তপদ বিদ্ধ   করেছে I 17 আমার অস্থি সকল প্রদর্শনীতে রয়েছে;
লোকেরা আমার প্রতি দৃষ্টি করে চেয়ে থাকে I
18 তারা নিজেদের মধ্যে আমার বস্ত্র বিভাগ করে এবং আমার পরিচ্ছদের জন্য গুলিবাঁট করে I

যারা ক্রুশারোপনকে প্রতক্ষ্য করেছিল সেই প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের দৃষ্টিকোণ থেকে ইঞ্জিল লেখা হয়েছে I গীতসংহিতা 22 একজন যে এটিকে অনুভব করেছে তার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে I গীতসংহিতা 22 এবং ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপনের মধ্যে এই সাদৃশ্যকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? এটিকি কাকতলীয় যে বিবরণগুলো এত হুবহু মেলে যে জামাকাপড় দুটি ভাগ করা হবে (সেলাই করা পোশাকগুলোর সেলাই বরাবর বিভক্ত ছিল এবং সেনাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল) আর গুলিবাঁট করা হয়েছে (সেলাইবিহীন পোশাক ছিঁড়ে ফেললে নষ্ট হয়ে যাবে তাই তারা এটির জন্য জুয়া খেলল) I ক্রুশারোপনের আবিষ্কারের পূর্বে গীতসংহিতা 22 লেখা হয়েছিল কিন্তু এটি  এর নির্দিষ্ট বিবরণ দেয় (হস্তপদ বিদ্ধ করা, অস্থি-সন্ধি থেকে অস্থি বেরিয়ে  আসা, – প্রসারিত হয়ে শিকারীর মতন ঝুলতে থাকে) I এর অতিরিক্ত যোহনের সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে যে যখন যীশুর কুক্ষিদেশে বর্শার খোঁচা দেওয়া হল তখন রক্ত ও জল বইতে লাগল I  সংকেত দেয় যে এক তরল পদার্থ তাঁর হৃদয় যন্ত্রের চারিদিকে তৈরী হয় I ঈসা আল মসীহ এইরূপে হৃদপিণ্ডের উপর আঘাতে মারা যান I এটি গীতসংহিতা 22 এর “আমার হৃদয় মোমে পরিণত হয়েছে’ উক্তির সঙ্গে মেলে I গীতসংহিতা 22 এর মধ্যে অনুবাদিত হিব্রু শব্দ ‘বিদ্ধ’ যার আক্ষরিক অর্থ ‘একটি সিংহের ন্যায়’ I অন্য কথায়, হাত এবং পাকে বিদ্ধ করার সময়ে তাদেরকে একটি সিংহ যেমন করে সেইরকমভাবে থেঁতলান ও বিকৃত করা হয়েছিল I

অবিশ্বাসীরা উত্তর দেয় যে ইঞ্জিলের প্রত্যক্ষ্যদর্শীর নথির সঙ্গে গীতসংহিতা 22 এর সাদৃশ্য এই কারণে হতে পারে ঈসার শিষ্যরা ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে ‘খাপ খায়’ এইরকম ঘটনাগুলো তৈরী করেছিল I ওটা কি সাদৃশ্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে?

গীতসংহিতা 22 এবং ঈসা আল মসীহর উত্তরাধিকার

তবে উপরোক্ত টেবিলের গীতসংহিতা 22 আয়াত 18 এর সঙ্গে শেষ হয় না – এটি চলতে থাকে I এখানে লক্ষ্য করুন শেষে এটি কতটা জয়যুক্ত – ম্র্ত্যুর পরে! 

26 দরিদ্র লোকরা খেয়ে তৃপ্ত হবে| তোমরা যারা প্রভুকে খুঁজছ, তারা তাঁর প্রশংসা কর! তোমাদের অন্তঃকরণ চিরজীবি হউক!
27 তোমরা, সুদূর দেশগুলির জনগণ, প্রভুকে মনে রেখো এবং তাঁর কাছে ফিরে এস! য়ে সব মানুষ বিদেশে থাকে তারাও য়েন প্রভুরই উপাসনা করে|
28 কেন? কারণ প্রভুই রাজা| তিনি সব জাতিকে শাসন করেন|
29 বলিষ্ঠ এবং সুদেহী লোকেরা আহারান্তে ঈশ্বরের কাছে প্রণিপাত করবে| বস্তুতঃ সকলে যারা মারা যাবে এবং যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে তারা সকলেই ঈশ্বরের কাছে অবনত হবে!
30 এবং ভবিষ্যতে আমাদের উত্তরপুরুষরা প্রভুর সেবা করবে| লোকে চিরদিন তাঁর কথা বলবে|
31 প্রত্যেকটি প্রজন্ম তাদের শিশুদের কাছে ঈশ্বর য়ে ভাল জিনিসগুলি করেছেন সে সম্পর্কে বলবে|

গীত সংহিতা 22:26-31

এটি এই ব্যক্তির মৃত্যুর বিশদ সম্পর্কে কথা বলছে না I ওটিকে গীসংহিতার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছিল I নবী দায়ূদ পিবিইউএইচ এখন আরও ভবিষ্যতের দিকে দেখছেন এবং এই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রভাবকে ‘উত্তরপুরুষ’ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের’ উপরে সম্বোধন করছেন (আয়াত 30) I অর্থাৎ ঈসা আল মসীহর পরে আমরা 2000 বছর বেঁচে আছি I দায়ূদ আমাদের বলছেন যে ‘উত্তরপুরুষ’ এই ‘হস্তপদ বিদ্ধ’ মানুষটিকে অনুসরণ করে, যে এই ধরণের এক ভয়ংকর মৃত্যু বরণ করেন তাঁকে ‘সেবা’ করবে এবং ‘তাঁর সম্বন্ধে বলা হবে’ I আয়াত 27 সীমাটির সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করে – এরা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্তে’ এবং ‘জাতিগণের সকল পরিবারের’ মধ্যে যাবে এবং তাদেরকে ‘সদাপ্রভুর দিকে ফেরাবে’ I আয়াত 29 সংকেত দেয় কিভাবে তারা ‘যারা নিজেদেরকে (আমাদের সবাই) জীবিত রাখতে পারে না’ একদিন তাঁর সামনে জানু পাতবে I এই মানুষটির ধার্মিকতাকে লোকেদের কাছে ঘোষণা করা হবে যারা তাঁর মৃত্যুর সময়ে তখনও জীবিত (‘এখনও অজাত’) ছিল না I      

ইঞ্জিলটিকে গীতসংহিতা 22 এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তৈরী করা হয়েছিল কিনা এর সাথে এই শেষের কোনো সম্পর্ক নেই কেননা এটি এখন আরও অধিক পরবর্তী ঘটনাগুলোর সম্বন্ধে আলোচনা করছে – যেগুলো আমাদের সময়ের I প্রথম শতাব্দীর ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা আল মসীহর মৃত্যুর প্রভাব আমাদের সময়ের মধ্যে তৈরী করতে পারেন নি I অবিশ্বাসীদের যৌক্তিকতা ঈসা আল মসীহর দীর্ঘমেয়াদী, বিশ্বব্যাপী উত্তরাধিকারের ব্যাখ্যা দেয় না যা গীতসংহিতা 22 সঠিকভাবে 3000 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I      

কোরআন – আল্লাহর দ্বারা প্রদত্ত দায়ূদের পূর্বজ্ঞান 

গীতসংহিতা 22 এর শেষে এই জয়যুক্ত প্রশংসা একদম তাই যা কোরআনের সুরা সাবা এবং আন-নমল (সাবা 34 পিপড়া 27)বোঝায় যখন এটি দায়ূদের অনুপ্রাণিত গীতসংহিতার সম্বন্ধে বলে যে:   

আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে

ছিলাম।সুরা সাবা 34:10

আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম।

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।সুরা আন-

নমল 27:15

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।  

যেমন এটি বলে. আল্লাহ দায়ূদকে জ্ঞান ও অনুগ্রহ দিয়েছিলেন ভবিষ্যতকে দেখতে এবং ওই জ্ঞানের সাহায্যে তিনি গীতসংহিতার মধ্যে লিপিবদ্ধ প্রশংসার গীত গেয়েছিলেন I 

এখন সুরা আল-ওয়াকিয়া (সুরা 56 –অপরিহার্য) এর মধ্যে উত্থিত প্রশ্নটির সম্বন্ধে এখন বিবেচনা করুন I 

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?

সুরা আল-ওয়াকিয়া 56:83-87

মৃত্যুর থেকে প্রাণকে কে ডাকতে পারে? আল্লাহর থেকে মানুষের কার্যকে আলাদা করতে এই চ্যালেঞ্জটি দেওয়া হয়েছে I তবুও সুরা আল-ওয়াকিয়া ঠিক তাই যা গীতসংহিতা 22 বর্ণনা করে – এবং এটি ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ কার্যকে পূর্বাভাষ বা ভবিষ্যদ্বাণী করার দ্বারা এইরকম করে I   

গীতসংহিতা 22 এর তুলনায় ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপনের ফলাফল সম্বন্ধে কেউ এর থেকে ভাল ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না I পৃথিবীর ইতিহাসে আর কে আছে যে তাঁর মৃত্যুর পাশাপাশি তাঁর জীবনের উত্তরাধিকার সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণকে যা তাঁর জন্মের 1000 বছর পূর্বে অদূর ভবিষ্যতে ঘটবে বলে দাবি করতে পারে? যেহেতু সুদুর ভবিষ্যত সম্পর্কে এত বিস্তৃতভাবে বলা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় সেইহেতু ঈসা আল মসীহর কোরবানী “ঈশ্বরের ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা এবং পুর্বজ্ঞানের” দ্বারা ছিল I    

অন্যান্য নবীরা ঈসা আল মসীহর কোরবানীর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে

ঠিক যেমন তাওরাত ঈসা আল মসীহর শেষ দিনগুলোর ঘটনাবলী সম্পর্কে একটি দর্পণের চিত্রের সাহায্যে আরম্ভ করেছিল এবং পরে আরও বিস্তারের সাথে চিত্রটিকে স্পষ্ট করেছিল, তেমনি দায়ূদের পরবর্তী নবীরা ঈসা আল মসীহর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানকে আরো বিস্তৃতভাবে প্রাঞ্জল করেছিলেন I নিচের টেবিলটি আমাদের দেখা তাদের কয়েকটিকে সংক্ষিপ্তসার করেছে I 

নবীরা বলে   কিভাবে এটি আসন্ন মসীহর পরিকল্পনাকে প্রকাশ করল
কুমারী জন্মের চিহ্ন ‘একটি পুত্র এক কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করবে’ যাকে যিশাইয় 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং তিনি পাপ রহিত এক সিদ্ধ জীবন অতিবাহিত করবেন I কেবলমাত্র এক সিদ্ধ জীবনকে অন্য কারোর জন্য কোরবানীতে উৎসর্গ করা যেতে পারে I ওই ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতায় ঈসা আল মসীহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই পবিত্র জীবন যাপন করেছিলেন I 
আসন্ন ‘শাখা’ ঈসার নাম এবং আমাদের পাপের অপসারণের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল  নবী যিশাইয়, যিরমিয় এবং সখরিয় একজনের আগমন সম্বন্ধে এক ধারাবাহিক ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিলেন যাকে ঈসার জন্মের 500 বছর পূর্বে – সঠিকভাবে ঈসা নাম দিয়েছিলেন I সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে একদিন লোকেদের পাপ অপসারিত হবে I ঈসা নিজেকে বলি হিসাবে উৎসর্গ করেছিলেন আর তাই ‘একদিনে’ এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর পূর্ণতার মধ্য দিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হল I    
নবী দানিয়েল এবং মসীহর আগমনের  সময়   নবী দানিয়েল মসীহর আগমনের জন্য ঠিক 480-বছরের একটি সময় সূচীর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ভবিষ্যদ্বাণীর সূচী অনুসারে ঈসা সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন I  
নবী দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মসীহকে ‘বিচ্ছিন্ন করা’ হবে   মসীহর আগমনের পরে, নবী দানিয়েল লিখেছিলেন যে তাঁকে ‘বিচ্ছিন্ন করা হবে আর কিছুই থাকবে না’ I এটি ঈসা আল মসীহর  আসন্ন মৃত্যুর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যেমন তাঁকে জীবন থেকে ‘বিচ্ছিন্ন করা’ হয়েছিল I 
 নবী যিশাইয় আসন্ন দাসের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের সমন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন নবী যিশাইয় অনেক বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন কিভাবে মসীহ অত্যাচার, প্রত্যাখ্যান, আমাদের পাপের জন্য বিদ্ধ হয়ে, এক মেষশাবকের ন্যায় বধ হয়ে, আমাদের পাপের নিমিত্ত তাঁর জীবন উৎসর্গীকৃত হয়ে, ‘জীবিতের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন’, তবে পরে তিনি আবার ‘জীবন’ দেখবেন এবং বিজয়ী হবেন I এই সমস্ত বিস্তৃত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ হয়েছিল যখন ঈসা আল মসীহ ক্রুশারোপিত হলেন এবং মৃত্যু থেকে উঠলেন I এ জাতীয় বিবরণগুলোকে 700 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারা এক মহান চিহ্ন ছিল যে এটি আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল I 
নবী ইউনুস এবং ঈসা আল মসীহর মৃত্যু নবী ইউনুস বিশাল মাছের ভেতরে থাকার সময়ে কবরের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন I এই একটি চিত্র ছিল যাকে ঈসা আল মসীহ ব্যাখা করতেন যে সেই একই ভাবে তিনিও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করবেন I
নবী সখরিয় এবং মৃত্যুর বন্দিদের মুক্তিদান ঈসা আল মসীহ সখরিয়র একটি ভবিষ্যদ্বাণীকে উল্লেখ করেন যে তিনি ‘মৃত্যুর বন্দিদের’ (যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে) মুক্ত   করবেন I মৃত্যুতে প্রবেশ করা এবং সেখানে যারা আটকে আছে তাদেরকে মুক্ত করার তাঁর মিশন সম্বন্ধে নবীদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I

এই অনেক ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সাথে, নবীরা যারা কয়েকশত বছরের ব্যবধানে নিজেরা আলাদা হয়েছিল, বিভিন্ন দেশ সমূহে বাস করছিল, বিভিন্ন পৃষ্ঠভূমি ছিল, তবুও সকলে তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঈসা আল মসীহর মহান বিজয়ের কিছু অংশের উপরে ভবিষ্যদ্বাণী করতে মনোনিবেশ করেছিল – এটিই স্বাক্ষ্য যে এটি আল্লাহর পরিকল্পনা অনুসারে ছিল I এই কারণে, ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের নেতা পিতর, শ্রোতাদের বললেন:     

  18 কিন্তু ভাববাদীদের মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর খ্রীষ্টের দুঃখভোগের কথা যা জানিয়েছেন, সে সবই তিনি এইভাবে পূর্ণ করেছেন৷

প্রেরিতের কার্য 3:18

ঠিক তার অব্যবহিত পরে পিতর এটি বললেন, তিনি তখন ঘোষণা করলেন:

  19 তাই আপনারা মন-ফিরান এবং ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসুন, য়েন আপনাদের পাপ মুছে দেওযা হয়৷

প্রেরিতের কার্য 3:19

আমাদের জন্য আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি আছে যে আমরা আমাদের পাপ সমূহকে ‘মুছে ফেলতে পারি’ I আমরা এখানে দেখব এর অর্থ কি I

মশির তাওরাত ঈসা আল মসীহ সম্পর্কে কিভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করল?

ইঞ্জিল ঘোষণা করে যে ক্রুশারোপন এবং নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ পুনরুত্থান আল্লাহর পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল I নবীর ক্রুশারোপনের ঠিক 50 দিন পরে, পিতর যিনি তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে নেতা, প্রকাশ্যে ঈসা আল মসীহর সম্পর্কে এই ঘোষণা করলেন: 

  23 যীশুকে আপনাদের হাতে সঁপে দেওযা হল, আর আপনারা তাঁকে হত্যা করলেন৷ মন্দ লোকদের দিয়ে আপনারা তাঁকে ক্রুশের উপর পেরেক বিদ্ধ করলেন৷ ঈশ্বর জানতেন য়ে এসব ঘটবে; আর তাই ছিল ঈশ্বরের পরিকল্পনা, যা তিনি বহুপূর্বেই নিরূপণ করেছিলেন৷
24 যীশু মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করলেন, কিন্তু ঈশ্বর সেই বিভীষিকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করলেন৷ ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে তুলে আনলেন৷ মৃত্যু যীশুকে তার কবলে রাখতে সক্ষম হল না৷

প্রেরিতের কার্য 2:23-24

পিতরের বার্তার পরে, কয়েক সহস্র বিশ্বাস করল এবং বার্তাটিকে সেই দিনের পৃথিবীর চতুর্দিকের বিরাট সংখ্যক লোকেদের দ্বারা আলিঙ্গন করা হ’ল – সকলে কোনো রকম বাধ্যতা ছাড়াই I ব্যাপক স্বীকৃতির কারণ ছিল তাওরাত এবং যাবুরের নবীদের রচনা সমূহ যা কয়েকশত বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল I লোকেরা এই শাস্ত্র বাক্যগুলো পরীক্ষা করল দেখতে তারা কি বাস্তবিকই ঈসা আল মসীহর আগমন, মৃত্যু এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I এইগুলো আজকে উপলব্ধ সেই একই অপরিবর্তিত শাস্ত্র বাক্য যাকে আমরাও অনুসন্ধান করতে এবং দেখতে পারি এটি কি ‘ঈশ্বরের ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা এবং পুর্বজ্ঞান’ ছিল যেমন পিতর ঘোষণা করেছিলেন I ইঞ্জিলের প্রথম শ্রোতারা আদম এবং ছয় দিনের সৃষ্টির দিকে যতটা সম্ভব ফিরে তাওরাত থেকে যা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তার কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ আমরা এখানে দিয়েছি, যেমন তারা         

 “…প্রত্যেক দিন শাস্ত্র বাক্য পরীক্ষা করত…

প্রেরিতের কার্য  17:11

তারা সতর্কভাবে শাস্ত্র বাক্য পরীক্ষা করত কারণ প্রেরিতদের বার্তা তাদের কাছে অদ্ভূত এবং নতুন ছিল I যে বার্তাগুলো আমাদের কানে নতুন এবং অদ্ভূত তা প্রত্যাখ্যান করার জন্য আমরা পক্ষপাতদুষ্ট I আমরা সবাই এটি করি I তবে, এই বার্তাটি যদি আল্লাহর থেকে হত, এবং এবং তারা এটিকে অস্বীকার করত, তবে সুরা আল-গাশিয়াহর সাবধানবাণী (সুরা 88 – অপ্রতিরোধ্য) তাদের উপরে নেমে আসত I   

তবে সেই মুখের সুবিধাপ্রাপ্তির সুবিধা এবং কাফেররা হ’ল, মহা আযাব দেবেন আল্লাহনিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট,অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।

সুরা আল-গাশিয়াহ 88:23-26

23 কিন্তু যে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও কাফের হয়ে যায়, 24 আল্লাহ তাকে মহা আযাব দেবেন। 25 নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট, 26 অতঃপর তাদের হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্ব।

তারা জানত যে এই অপরিচিত বার্তাটি আল্লাহর থেকে ছিল কিনা তা নির্ধারণ করার সঠিক উপায়টি ছিল নবীদের রচনার বিরুদ্ধে এই বার্তাটি পরীক্ষা করা I এটি তাদের একটি বার্তার অস্বীকার করার আল্লাহর শাস্তির থেকে নিরাপদ রাখত I আমরা তাদের উদাহরণ অনুসরণ করতে বুদ্ধিমান  হব এবং তাই শাস্ত্রগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে নবী ঈসা আল মসীহর  পিবিইউএইচ মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের বার্তা পূর্বের লেখায় পূর্ব নির্ধারিত ছিল   কিনা I আমরা তাওরাত দিয়ে আরম্ভ করি:     

আল্লাহর পূর্বজ্ঞান তাওরাতের শুরু থেকে এবং কোরআনের মধ্যে  প্রকাশিত হয়েছিল 

তাওরাতের প্রথম পাতা থেকে আমরা দেখতে পারি যে ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ দিনগুলো এবং তাঁর বলিদান আলাহর দ্বারা আগে থেকেই জানা ছিল I সমস্ত পবিত্র বইগুলোর (তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল এবং কোরআন) মধ্যে কেবলমাত্র দুটি সপ্তাহ যেখানে সপ্তাহের প্রতিটি ধারাবাহিক দিনের ঘটনা বর্ণিত হয় I তাওরাতের প্রথম দুটি অধ্যায়ে আল্লাহ ছয় দিনের মধ্যে কিভাবে সমস্তকিছু সৃষ্টি করেছিলেন তার বিবরণ প্রথম এই ধরণের সপ্তাহ ছিল I লক্ষ্য করুন কোরআন কিভাবে সৃষ্টির ছয় দিনের উপরে জোর দেয় I  

নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

সুরা আল-আ’রাফ 7:54

তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃস্টি করেছেন, অতঃপর আরশে সমাসীন হয়েছেন। তিনি পরম দয়াময়। তাঁর সম্পর্কে যিনি অবগত, তাকে জিজ্ঞেস কর।

সুরা আল-ফুরকান 25:59

আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?

সুরা আস-সেজদাহ 32:4

আমি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয়দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনরূপ ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।  

সুরা কাফ 50:38

তিনি নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডল সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে, অতঃপর আরশের উপর সমাসীন হয়েছেন। তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে ও যা ভূমি থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি তোমাদের সাথে আছেন তোমরা যেখানেই থাক। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।   

সুরা আল-হাদীদ 57:4

প্রতিদিনের ঘটনাবলীর বিবরণ সহ অন্য সপ্তাহটি নবী ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহ I অন্য কোনো নবীর সম্পর্কে, সে আব্রাহাম, মশি, দায়ূদ, এবং মোহম্মদ পিবিইউএইচ যেই হোন না কেন এক সম্পূর্ণ সপ্তাহের দৈনন্দিন কার্যকলাপকে বর্ণিত করা হয়নি I তাওরাতের শুরুতে সম্পূর্ণ সৃষ্টির সপ্তাহের বিবরণ এখানে দেওয়া হয়েছে I ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহের ঘটনাবলীর মধ্য দিয়ে আমরা গমন করেছি I এই টেবিলটি দুই সপ্তাহের প্রতিটি দিনের তুলনার জন্য পাশাপাশি রাখে I 

সপ্তাহের দিন সৃজন সপ্তাহ ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহ
দিন 1 সেখানে অন্ধকার আর আল্লাহ বলেন, ‘দীপ্তি   হোক’ আর এটি হ’ল I অন্ধকারের মধ্যে দীপ্তি   হয় I   মসীহ যিরূশালেমে প্রবেশ করেন এবং বলেন “আমি জগতে জ্যোতি হিসাবে এসেছি …” অন্ধকারের মধ্যে জ্যোতি আছে
দিন 2 আল্লাহ পৃথিবীকে আকাশমন্ডল থেকে আলাদা করলেন ঈসা এক প্রার্থনার স্থান হিসাবে মন্দিরকে পরিষ্কার করার দ্বারা জগতের জিনিসগুলোকে স্বর্গের থেকে আলাদা করেন
দিন 3 আল্লাহ কথা বলেন আর ভূমি সমুদ্র থেকে ওঠে I ঈসা বিশ্বাসের সম্বন্ধে  বলেন যা পর্বতকে অপসারণ করে সমুদ্রে নিক্ষেপ করতে পারে I      
আল্লাহ পুনরায় বলেন ‘ভূমি গাছপালা উৎপন্ন করুক’ আর তাই  হ’ল I    ঈসা কথা বলেন এবং ডুমুর গাছটি জমির ওপরে শুকিয়ে যায় I
দিন 4 আল্লাহ বলেন ‘আকাশে দীপ্তি হোক’ আর সূর্য, চন্দ্র, এবং নক্ষত্র সমূহ আকাশকে আলোকময়  করতে অস্তিত্বে আসে I ঈসা পৃথিবীতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নর সম্বন্ধে কথা বলেন – সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্র অন্ধকার হয়ে যাবে  
দিন 5 আল্লাহ উড়ন্ত ডাইনোসর সরীসৃপগুলো = ড্রাগন সহ সমস্ত প্রানীকে সৃষ্টি করেন    শয়তান, বিশাল ড্রাগন, মসিহকে আঘাত করতে যুদাসের মধ্যে অবতরণ করে 
দিন 6 আল্লাহ কথা বলেন আর ভূমি প্রাণীরা জীবিত হয়ে ওঠে I নিস্তারপর্বের মেষশাবক প্রানীদের মন্দিরের মধ্যে বধ করা হয় I  
সদাপ্রভু ঈশ্বর … আযমের নাসিকায় প্রাণবায়ু প্রবেশ করান’ আদম নিঃস্বাস  নিতে শুরু করে  “এক জোরে চীত্কারের সাথে যীশু শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন” (মার্ক 15:37)
আল্লাহ আদমকে বাগানের মধ্যে রাখেন  ঈসা স্বাধীন ভাবে গেৎসেমেনের বাগানে প্রবেশ করতে পছন্দ করেন    
আদমকে একটি অভিশাপ সহ ভাল মন্দ  জ্ঞানের বৃক্ষ থেকে দুরে থাকতে সাবধান করা হয় I  ঈসাকে একটি গাছে পেরেকের দ্বারা বিদ্ধ এবং অভিশপ্ত করা  হয় I (গালাতীয় 3:13)
কোনো প্রাণীকে আদমের জন্য উপযুক্ত পাওয়া  যায় না I আর একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল নিস্তারপর্বের প্রাণীর বলিদানগুলো পর্যাপ্ত ছিল না I এক ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল I (ইব্রীয় 10:4-5)
আল্লাহ আদমকে গভীর নিদ্রার মধ্যে রাখেন ঈসা মৃত্যুর নিদ্রায় প্রবেশ করে  
আল্লাহ আদমের পার্শ্ব দিকে একটি ক্ষতর সৃষ্টি  করেন যার সাহায্যে তিনি হবাকে  তৈরী করেন – আদমের বধু ঈসার পার্শ্ব দিকে এক ক্ষত সৃষ্টি করা হয় I তাঁর বলিদান থেকে ঈসা এক বধুকে জয় করে – তারা যার মধ্যে থাকে I (প্রকাশিত বাক্য 21:9)    
দিন 7 আল্লাহ কাজের থেকে বিশ্রাম গ্রহণ করেন I দিনটিকে পবিত্র ঘোষণা করা হয় ঈসা মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ  করেন  

এই দুই সপ্তাহের জন্য প্রতিটি দিনের ঘটনাগুলো একে অপরের আয়নার চিত্রগুলোর মতন I তাদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে I এই সপ্তাহ দুটির উভয়ের শেষে, নতুন জীবনের প্রথম ফল ফুটতে এবং একটি নতুন সৃষ্টির মধ্যে বহুগুণিত হতে প্রস্তুত I আদম এবং ঈসা আল মসীহ একে অপরের বিপরীত চিত্র I কোরআন ঈসা আল মসীহ এবং আদমের সম্পর্কে কথা বলে:     

ঈশ্বরের সামনে যীশুর সাদৃশ্য আদমের মতন; তিনি তাকে ধুলির থেকে সৃষ্টি করলেন, তারপর তাকে বললেন: “হও” আর সে হয়ে গেল I

সুরা আল-ইমরান 3:59

ইঞ্জিল আদমের সম্বন্ধে বলে যে

… আদম সেই ভাবী ব্যক্তির প্রতিরূপ

রোমীয় 5:14

এবং

  21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:21-22

এই দুই সপ্তাহকে তুলনা করার দ্বারা আমরা দেখি যে আদম ঈসা আল মসীহর এক বিপরীত প্রতিরূপ ছিল I আল্লাহর কি পৃথিবীর সৃষ্টি করতে ছয় দিন নেওয়ার প্রয়োজন ছিল? তাহলে কেন তিনি সেই পদ্ধতিতে সৃষ্টি করলেন যেভাবে তিনি করেছিলেন? কেন আল্লাহ সপ্তম দিনে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন যখন তিনি ক্লান্ত ছিলেন না? তিনি সমস্ত কিছু সেই পদ্ধতি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে করলেন যাতে ঈসা আল মসীহর চূড়ান্ত কার্যকলাপ সৃজন  সপ্তাহের দৈনন্দিন কার্যাবলীর মধ্যে প্রত্যাশিত হয় I ছয় দিন সম্পর্কে এটি বিশেষভাবে সত্য I আমরা প্রত্যক্ষভাবে বাক্যগুলোর মধ্যে প্রতিরূপকে দেখতে পারি I উদাহারণস্বরূপ, শুধুমাত্র ‘ঈসা আল মসীহ’ মারা গেলেন’ বলার বদলে ইঞ্জিল বলে তিনি ‘শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন’, আদমের একটি প্রত্যক্ষ বিপরীত প্রতিরূপ যে ‘প্রাণবায়ু’ পেয়েছিল I এই ধরনের একই প্রতিরূপ শুরু থেকে ‘পূর্ব জ্ঞানের’ সম্বন্ধে বলে, ঠিক যেমন পিতর ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানের পরে শুরু করলেন I      

তাওরাতের মধ্যে পরবর্তী চিত্রগুলো

এরপরে তাওরাত নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো লিপিবদ্ধ করে এবং বিধি সমূহ স্থাপন  করে যা চিত্র রূপে কাজ করে যা নবী ঈসা আল মসীহর আসন্ন কোরবানীর  দিকে ইঙ্গিত দেয় I আল্লাহর পরিকল্পনার পূর্ব জ্ঞানকে আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করতে এগুলোকে দেওয়া হয়েছিল I এই মাইলস্টোন সমূহের কয়েকটির দিকে আমরা তাকিয়ে ছিলাম I নিচের টেবিলটি তার সংক্ষিপ্তসার করে এই মহান চিহ্নগুলোর সাথে সংযুক্ত করে যাকে ঈসা আল মসীহর পূর্বে কয়েক হাজার বছর ধরে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল I

তাওরাতের চিহ্ন   কিভাবে এটি ঈসা আল মসীহর আসন্ন কোরবানীর পরিকল্পনাকে প্রকাশ করে
আদমের চিহ্ন আল্লাহ যখন আদমের মুখোমুখি হলেন তার অবাধ্যতার পরে তিনি এক একক পুরুষ বংশধরের কথা বললেন যে আসবে (কেবলমাত্র) এক স্ত্রীর (এইরূপে এক কুমারী জন্ম) থেকে I এই বংশধর শয়তানকে চূর্ণ করবে তবে প্রক্রিয়ার মধ্যে স্বয়ং আঘাত পাবে I 
কাবিল এবং হাবিলের চিহ্ন মৃত্যুর এক কোরবানীর দরকার   ছিল I কাবিল শাকসবজির (যার মধ্যে মন প্রাণ নেই) কোরবানী দিল তবে হাবিল এক প্রাণীর জীবন উৎসর্গ করল I এটি আল্লাহর দ্বারা স্বীকৃত হয়েছিল I এটি ঈসা আল মসীহর কোরবানীর সম্বন্ধে আল্লাহর পরিকল্পনাকে চিত্রিত করেছিল I   
 আব্রাহামের কোরবানীর চিহ্ন       অবস্থানটির সাথে সাথে চিত্রটি আরও  বিশদ বিবরণ অর্জন করে যেখানে নবী আব্রাহাম তার পুত্রের কোরবানী দিলেন যেটি সেই একই অবস্থান ছিল যেখানে কয়েক হাজার বছর পরে ঈসা আল মসীহকে কোরবানী দেওয়া হবে, এবং নবী ইব্রাহিম সেই ভবিষ্যতের কথা বলেছিলেন I পুত্রকে মরতে ছিল তবে শেষ মুহুর্তে মেষশাবকটিকে বিকল্প করা হল যাতে পুত্র বাঁচতে পারে I এটি চিত্রিত করল কিভাবে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ ঈসা আল মসীহ নিজেকে কোরবানী দেবেন যাতে আমরা বেঁচে থাকতে পারি I
মশির নিস্তারপর্বের চিহ্ন আল্লাহর পরিকল্পনার আরও বিবরণ সমূহ প্রকাশিত হয় যখন মেষশাবকগুলোকে একটি নির্দিষ্ট দিনে কোরবানী দেওয়া হয় – নিস্তারপর্বের দিনে I মিশরের ফরৌণ, যিনি একটি মেষশাবক কোরবানী দেন নি মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করলেন I তবে ইস্রায়েলীয়রা যারা মেষশাবকের কোরবানী দিল তারা মৃত্যু থেকে রক্ষা পেল I কয়েকশত বছর পরে ক্যালেন্ডারের মধ্যে ঠিক সেই একই দিনে ঈসা আল মসীহর কোরবানী দেওয়া হ’ল – নিস্তারপর্বের দিনে I   
হারোণের কোরবানীর চিহ্ন হারোণ প্রানীদের নির্দিষ্ট বিধিগত কোরবানী প্রতিষ্ঠিত করলেন I ইস্রায়েলীয়রা যারা পাপ করত তারা তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে কোরবানী দিতে পারত I তবে কোরবানী সংক্রান্ত মৃত্যুর প্রয়োজন ছিল I লোকেদের পক্ষে কেবলমাত্র যাজকরা কোরবানী দিতে পারত I এটি ঈসা আল মসীহকে তাঁর যাজকের ভূমিকায় প্রত্যাশিত করেছিল যিনি কোরবানীর মধ্যে আমাদের জন্য তাঁর জীবন দান করবেন I   

যেহেতু নবী মশির পিবিইউএইচ তাওরাত এত স্পষ্টভাবে নবী ঈসা আল মসীহর আগমন সম্পর্কে নির্দেশ করল তাই এটি এর সম্পর্কে বলে:

বিষ্যতে য়ে সকল উত্‌কৃষ্ট বিষয় আসবে, বিধি-ব্যবস্থা হচ্ছে তারই অস্পষ্ট ছায়া মাত্র৷ বিধি-ব্যবস্থা ঐসব বিষয়ের বাস্তবরূপ নয়৷ তাই যাঁরা ঈশ্বরের উপাসনা করতে আসে, বছর বছর তারা একই রকম বলিদান বারবার করে, কিন্তু বিধি-ব্যবস্থা সেই লোকদের সিদ্ধি দিতে পারে না৷

ইব্রীয় 10:1

এবং ঈসা আল মসীহ তাদেরকে সাবধান করলেন যারা তাঁর মিশনে বিশ্বাস করল না:

 

43 আমি আমার পিতার নামে এসেছি, তবু তোমরা আমায় গ্রহণ করো না; কিন্তু অন্য কেউ যদি তার নিজের নামে আসে তাকে তোমরা গ্রহণ করবে৷
44 তোমরা কিভাবে বিশ্বাস করতে পারো? তোমরা তো একজন অন্য জনের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে চাও৷ আর য়ে প্রশংসা একমাত্র ঈশ্বরের কাছে থেকে আসে আর খোঁজ তোমরা করো না৷
45 মনে করো না য়ে আমিই সেই ব্যক্তি য়ে পিতার কাছে তোমাদের ওপর দোষারোপ করব৷ তোমাদের সাহায্য করবেন বলে য়ে মোশির উপর তোমরা আশা রাখো তিনিই তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন৷
46 তোমরা যদি মোশিকে বিশ্বাস করতে তবে আমাকেও বিশ্বাস করতে, কারণ মোশি তা আমার বিষয়েই লিখেছেন৷
47 তোমরা যখন মোশির লেখায় বিশ্বাস করো না, তখন আমি যা বলি তা কেমন করে বিশ্বাস করবে?’

যোহন 5:43-47

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ তাঁর অনুগামীদের তাদেরকে তাঁর মিশনকে বুঝতে সাহায্য করতে বললেন 

  4 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

নবী স্পষ্টভাবে বললেন যে কেবলমাত্র তাওরাত নয়, বরং ‘নবীদের এবং গীতসংহিতার’ লেখাগুলোও তাঁর সম্বন্ধে ছিল I আমরা এটিকে এখানে দেখব I যেখানে তাওরাত ঘটনাগুলোকে তাঁরা আগমনের চিত্র রূপে ব্যবহার করেছিলেন, এই পরবর্তী নবীরা তাঁর আসন্ন মৃত্যু এবং ফিরিস্তি হিসাবে পুনরুত্থান সম্বন্ধে সরাসরি লিখলেন 

এখানে আমরা বুঝতে পারি কিভাবে আমাদের কাছে ঈসা আল মসীহ দ্বারা প্রদত্ত অনন্ত জীবনের উপহারকে পাওয়া যাবে I

একটি ইঞ্জিলের জন্য সুসমাচারের চারটি বিবরণ কেন রয়েছে?

আমাকে মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন যদি একটি ইঞ্জিল থাকে তবে  প্রত্যেকটি ভিন্ন মানবীয় রচয়িতার দ্বারা রচিত আল কিতাবে (বাইবেল) চারটি সুসমাচারের বই রয়েছে? এটি কি তাদেরকে মানব থেকে উদ্ভূত ভ্রমপ্রবন (এবং বিপরীতমূখি) এবং আল্লাহর থেকে বিমুখ করে তোলে না?

বাইবেল (আল কিতাব) স্বয়ং এ সম্পর্কে বলে:

 

16 সমস্ত শাস্ত্রই ঈশ্বর দিয়েছেন এবং অনুয়োগ, সংশোধন ও ন্যায়পরায়ণ জীবনযাপনের জন্য প্রতিটি বাক্যই সঠিক নির্দেশ দিতে পারে৷
17 য়েন তার দ্বারা ঈশ্বরের লোক পরিপক্ক ও সমস্ত সত্ কর্মের জন্য সুসজ্জিত হয়৷

2 তীমথিয় 3:16-17

সুতরাং বাইবেল/আল কিতাব দাবি করে যে ঈশ্বর চ্রান্ত রচয়িতা যেহেতু তিনি মানবীয় রচয়িতাদের অনুপ্রানিত করেছেন I আর এই বিষয়ে কুররান সম্পূর্ণরূপে একমত যেমন আমরা দেখলাম পোস্টের মধ্যে বাইবেল সম্পর্কে কুররান কি বলেছে I

কিন্তু একটি ইঞ্জিল থেকে চারটি সুসমাচারের বই সমূহকে কিভাবে বুঝতে পারা যায়? কুররানের মধ্যে বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে যা একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে এবং একসাথে নিয়ে গিয়ে আমাদের সেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র রাখতে দেয় I উদাহরণস্বরূপ, আদমের চিহ্নর জন্য শাস্ত্রীয়বাক্য সমূহ ব্যবহার করল সুরাত 7:19-26 (উচ্চতা), আমাদের বলার জন্য যে আদম স্বর্গে   আছে I কিন্তু এছাড়াও এটি ব্যবহার করল সুরাত 20:121-123 (তাহা) I আর এই দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটি আদম সম্পর্কে একটি অতিরিক্ত উপলব্ধি দেয় ব্যাখ্যা করার দ্বারা যে তাকে ‘প্ররোচিত’ করা হয়েছিল যা উচ্চতা অন্তর্ভুক্ত করে না I একসাথে নিয়ে গিয়ে তারা কি ঘটেছে তার একটি সম্পূর্ণ চিত্র আমাদের দিল I সেটি উদ্দেশ্য ছিল – অনুচ্ছেদগুলো একে অপরের পরিপূরক হওয়া I     

সেই একই ভাবে, বাইবেলের (আল কিতাব) চারটি সুসমাচারের বিবরণ সর্বদা এবং কেবলমাত্র একই ইঞ্জিলের সম্বন্ধে রয়েছে I একসাথে করলে তারা ঈসা আল মসীহর – পিবিউএইচ ইনজিল সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা দেয় I চারটি বিবরণের প্রত্যেকটির মধ্যে কিছু উপদান আছে যা অন্য তিনটির মধ্যে নেই I সুতরাং, তারা একত্রিত হয়ে ইঞ্জিলের আরও সম্পূর্ণ চিত্র সরবরাহ করে I 

এই কারণেই যখন ইঞ্জিলের প্রসঙ্গের কথা বলা হয় এটি সর্বদা একবচনে হয়, কারণ সেখানে কেবলমাত্র একটি ইনজিল রয়েছে I উদাহরণস্বরূপ আমরা নতুন নিয়মের মধ্যে এখানে দেখি যে এখানে কেবলমাত্র একটি সুসমাচার রয়েছে I

  11 ভাইরা, আমি চাই তোমরা জান য়ে, য়ে সুসমাচার আমি তোমাদের কাছে প্রচার করেছি তা কোন মানুষের মতানুযাযী নয়৷
12 কারণ সেই বার্তা আমি কোন মানুষের কাছ থেকে পাই নি; কোন মানুষ আমাকে তা শেখায় নি, বরং যীশু খ্রীষ্টই আমার কাছে তা প্রকাশ করেছেন৷
13 তোমরা তো শুনেছ আমি আগে কেমন জীবনযাপন করতাম৷ আমি ইহুদী ধর্মমতাবলম্বী ছিলাম৷ আমি নির্মমভাবে ঈশ্বরের মণ্ডলীকে নির্য়াতন করে তা ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছিলাম৷

গালাতীয় 1:11-13

এছাড়াও পবিত্র কুররানের মধ্যে সুসমাচারকে একবচনে লেখা হয়েছে (কুররানের মধ্যে ‘সুসমাচারের’ নমুনাটিকে দেখুন) I কিন্তু যখন আমরা সাক্ষী বা সুসমাচারের বইগুলোর কথা বলি তখন চারটি থাকে I আসলে তৌরাতের মধ্যে, কেবল একটি স্বাক্ষ্যের দ্বারা কোনো বিষয়ের উপরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারা যেত না I মশির ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বা আগ্রহের বার্তা সম্পর্কে স্বাক্ষ্য দেওয়ার জন্য নুন্যতম ‘দুই বা তিনজনের স্বাক্ষ্যের’ প্রয়োজন হত I (দ্বিতীয় বিবরণ 19:15) I চারটি স্বাক্ষ্যের বিবরণ সরবরাহের দ্বারা ইঞ্জিল ব্যবস্থার নুন্যতম প্রয়োজনীয়তার উপরে সমর্থিত হয়েছে I

‘ঈশ্বরের পুত্র’ শিরোনাম’ টি কিভাবে বুঝবেন?

হয়ত ইঞ্জিলের কোনো অংশ ততটা বিতর্ক উত্থাপন করে না যতটা ‘ঈশ্বরের পুত্র’ শিরোনামটি করে যেটি ভাববাদী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) সম্বন্ধে ইঞ্জিলের (সুসমাচার) মধ্যে বারবার ব্যবহৃত হয়েছে I ইঞ্জিল বিকৃত হয়েছে বলে অনেকের সন্দেহ হওয়ার এই শব্দটিই মূল্ কারণ I ইঞ্জিল সম্বন্ধে বিকৃতির বিষয়টি কুরআনের থেকে (এখানে), সুন্না থেকে (এখানে) তথা বৈজ্ঞানিক পাঠগত সমালোচনা থেকে (এখানে) পরীক্ষা করা হয়েছে I অভিভূতকারী সিদ্ধান্তটি হ’ল ইঞ্জিল (সুসমাচার) বিকৃত হয় নি I কিন্তু তারপরে ইঞ্জিলের মধ্যে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ এই পরিভাষাটি সম্বন্ধে আমরা কি করব?    

সুরাহ আল-ইখলাসে যেমন ঈশ্বরের একত্ব প্রকাশ করা হয়েছে এটি কি তার বিরোধী? (সুরাহ 112 – আন্তরিকতা) 

 বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ তত্ত্বাবধায়ক, তিনি জন্মসূত্রে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর জন্মসূত্রে কোন সন্তানের জন্ম নেই।

সুরাহ আল- ইখলাস 112

সুরাহ আল ইখলাসের মতন, তৌরাতও ঈশ্বরের একত্বের উপরে জোর দিয়েছে যখন ভাববাদী মশি পিবিইউএইচ ঘোষণা করলেন: 

ইস্রায়েলের লোকরা শোনো! প্রভু আমাদের Godশ্বর, প্রভু এক! 

দ্বিতীয় বিবরণ 6:4

তাহলে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ কে কিভাবে বুঝতে পারা যায়?

এই নিবন্ধে আমরা এই পরিভাষাটিকে দেখব, বুঝব কোথা থেকে এটি আসে, এর মানে কি, এবং কি এর মানে নয় I তারপরে আমরা একটি অবহিত অবস্থায় থাকব যার সাহায্যে এর প্রতি এবং ইঞ্জিলের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাব I

 ‘ঈশ্বর পুত্র’ কোথা থেকে এসেছেন?

 ‘ঈশ্বর পুত্র’ একটি শিরোনাম এবং এটির উৎপত্তি ইঞ্জিলের (সুসমাচার) মধ্যে  নয় I সুসমাচারের লেখকরা পরিভাষাটিকে আবিষ্কার বা আরম্ভ করে নি I নাতো এটি খ্রীষ্টানদের দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল I আমরা এটি জানি কারণ ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) বা খ্রীষ্টানদের জীবিত থাকার বহু পূর্বে, 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে ভাববাদী দাবুদের (দায়ূদ – পিবিইউএইচ) দ্বারা অনুপ্রাণিত অংশে এটিকে প্রথমে যাবুরে ব্যবহত করা হয়েছিল I আমাদের দেখা যাক কোথায় এটি প্রথমে ঘটে I     

ন্যান্য জাতিগুলোর লোকজন এত ক্রুদ্ধ কেন? কেন তারা বোকার মত পরিকল্পনা করছে?
2 তাদের রাজারা এবং নেতারা, প্রভু এবং তাঁর মনোনীত রাজার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একত্রিত হচ্ছে|
3 সেই সব নেতা বলছে, “এস আমরা ঈশ্বর এবং তাঁর মনোনীত রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি| “এস আমরা ওদের থেকে আলাদা হয়ে বেরিয়ে এসে নিজেদের মুক্ত করি!”
4 কিন্তু আমার প্রভু, স্বর্গের রাজা, ওদের প্রতি বিদ্রূপের হাসি হেসেছিলেন|
5 ঈশ্বর ক্রুদ্ধ হয়ে সেই সব লোকদের বলেছেন, “এই ব্যক্তিকে আমি রাজা হিসেবে মনোনীত করেছি! এবং সে সিয়োন পর্বতে রাজত্ব করবে| সিয়োন আমার কাছে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পর্বত|” এই ঘটনা সেই সব নেতাদের ভীত করলো|
6
7 এখন আমি তোমাকে প্রভুর চুক্তির কথা বলবো| প্রভু আমায় বললেন, “আজ আমি তোমার পিতা হলাম! এবং তুমি আমার পুত্র|
8 যদি তুমি আমার কাছে চাও, আমি সমগ্র জাতিগুলি তোমার হাতে দিয়ে দেব!
9 ভেঙ্গে য়েতে পারে না এমন ক্ষমতা নিয়ে তুমি তাদের ওপর শাসন করবে| তুমি তাদের ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়া মাটির পাত্রের মত ছড়িয়ে দেবে|”
10 সুতরাং হে রাজন্যবর্গ জ্ঞানী হও| অতএব হে শাসকগণ, চালাক-চতুর হও|
11 ভয় ও শ্রদ্ধা সহকারে প্রভুর সেবা কর|
12 ঈশ্বরের পুত্রকে চুম্বন কর এবং প্রমাণ কর য়ে তুমি ঈশ্বরের পুত্রের প্রতি ভক্তিতে একনিষ্ঠ যদি তুমি তা না কর তিনি ক্রুদ্ধ হবেন এবং তোমার বিনাশ করবেন| সেই সব লোক যারা প্রভুর ওপর আস্থা রাখে তারা ধন্য| কিন্তু অন্যদের সাবধান হতে হবে, কারণ প্রভু তাঁর ক্রোধ দেখাতে প্রায় প্রস্তুত|  

গীতসংহিতা 2

আমরা এখানে ‘সদাপ্রভু’ এবং ‘তার অভিষিক্ত ব্যক্তির’ মধ্যে একটি কথোপকথন দেখি I আয়াত 7 এর মধ্যে আমরা দেখি যে ‘সদাপ্রভু’ (অর্থাৎ ঈশ্বর/আল্লাহ) অভিষিক্ত ব্যক্তিকে বলছেন যে “… তুমি আমার পুত্র; আজ আমি তোমার পিতা হয়েছি…” এটিকে 12 আয়াতের মধ্যে পুনরায় বলা হয়েছে যেখানে এটি আমাদের তার ‘পুত্রকে চুম্বন করার পরামর্শ দেয়…’ I যেহেতু ঈশ্বর কথা বলছেন এবং  তাকে ‘আমার পুত্র’ বলে ডাকছেন এখান থেকেই ‘ঈশ্বরের পুত্র’ শিরোনামের উৎপত্তি হয় I কাকে এই ‘পুত্র’ শিরোনাম দেওয়া হয়েছে? এটি তার ‘অভিষিক্ত ব্যক্তিকে’ দেওয়া হয়েছে I অন্য কথায়, অনুচ্ছেদ জুড়ে ‘পুত্র’ শিরোনামটি ‘অভিষিক্ত ব্যক্তির’ সাথে অদলবদল করে ব্যবহৃত হয়েছে I আমরা দেখেছি যে অভিষিক্ত ব্যক্তি = মেসিয়াহ = মসীহ = খ্রীষ্ট, এবং এই গীতসংহিতা আবারও তাই হয় যেখানে ‘মেসিয়াহ’ শিরোনামের উৎপত্তি হয়েছিল I অতএব ‘ঈশ্বরের পুত্র’ শিরোনামের সেই একই অনুচ্ছেদের মধ্যে উৎপত্তি হয় যেখানে ‘মসীহ’ বা খ্রীষ্ট পরিভাষাটির উৎস এর মধ্যে থাকে – যাবুরের অনুপ্রাণিত রচনা সমূহের মধ্যে যাকে ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) আবির্ভাবের 1000 বছর পূর্বে লেখা হয়েছিল I      

এই জানাটা, আমাদের ঈসা আল মসীহর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে বুঝতে অনুমতি দেয় যা তার বিচারের সময়ে স্থাপন করা হয়েছিল I তার বিচারের সময়ে কিভাবে যিহূদি নেতারা তাকে প্রশ্ন করেছিল তা নিচে রয়েছে I 

যীশু শিরোনাম; ‘ঈশ্বরের পুত্র’ সম্বন্ধে যৌক্তিক  বিকল্পগুলো   

66 দিন শুরু হলে প্রবীন নেতারা, প্রধান যাজরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা সকলে মিলে সভা ডাকল আর সেই সভায় তারা যীশুকে হাজির করল৷
67 তারা বলল, ‘তুমি যদি খ্রীষ্ট হও, তবে আমাদের বল!’ যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যদি বলি, তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস করবে না:
68 আর আমি যদি তোমাদের কিছু জিজ্ঞেস করি, তোমরা তার জবাব দেবে না৷
69 কিন্তু মানবপুত্র এখন থেকে সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ডানদিকে বসে থাকলেন৷’
70 তখন তারা সকলে বলল, ‘তাহলে তুমি ঈশ্বরের পুত্র?’ তিনি জবাব দিলেন, ‘তোমরা ঠিকই বলেছ য়ে আমি সেই৷’
71 তারা বলল, ‘আমাদের আর অন্য সাক্ষ্যের কি দরকার? আমরা তো ওর নিজের মুখের কথাই শুনলাম৷’  

লুক 22:66-71

নেতারা প্রথমে জিজ্ঞাসা করল তিনি কি ‘সেই খ্রীষ্ট’ (আয়াত 67) I আমি যদি কাউকে জিগাসা করি ‘তুমি কি X?’ এর অর্থ হ’ল X সম্বন্ধে আমার মনে আগে থেকেই একটি ধারণা রয়েছে I আমি কেবলমাত্র X কে সংযোগ করার চেষ্টা করছি সেই ব্যক্তির সঙ্গে যার সাথে আমি কথা বলছি I সেই একই ভাবে, ঘটনা হ’ল যে যিহূদি নেতারা যীশুকে বলে ‘তুমি কি সেই খ্রীষ্ট?’ অর্থাৎ তাদের মনের মধ্যে আগে থেকেই ‘খ্রীষ্ট’ সম্বন্ধে ধারণা ছিল I তাদের প্রশ্ন  ‘খ্রীষ্ট’ (বা মসীহ) শিরোনামকে ঈসার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্বন্ধে ছিল I কিন্তু তারপরে তারা কয়েকটি বাক্যের পরে প্রশ্নটিকে তাজা করে ‘তুমি কি তাহলে সেই ঈশ্বর পুত্র?’ তারা ‘খ্রীষ্ট’ এবং ‘ঈশ্বর পুত্র’ শিরোনাম সমূহকে সমান এবং অদলবদলযোগ্য ভাবে ব্যবহার করছে I এই শিরোনামগুলো একই মুদ্রার দুই দিক ছিল I (ঈসা ‘ঈশ্বরের পুত্রের’ মধ্যবর্তী উত্তর দেন I এটি দানিয়েলের বইএর অনুচ্ছেদ থেকে আসা আর একটি শিরোনাম যাকে এখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে) I ‘খ্রীষ্ট’ এবং ‘ঈশ্বরের পুত্র’ কে অদলবদল করার ধারণাটি যিহূদি নেতারা কোথা থেকে পেল?  তারা গীতসংহিতা 2 – যীশুর আগমনের 1000 পূর্বে অনুপ্রাণিত একটি রচনা – থেকে এটিকে পেয়েছিল I এছাড়াও যীশু যদি খ্রীষ্ট না হন তবে যীশুর ঈশ্বরের পুত্র না হওয়া যুক্তিসঙ্গতভাবে সম্ভব ছিল   না I এটাই যিহূদি নেতাদের দ্বারা গৃহীত অবস্থান ছিল যেমন আমরা উপরে দেখি I

এছাড়াও যীশুর পক্ষে ‘খ্রীষ্ট’ এবং ‘ঈশ্বরের পুত্র’ হওয়া উভয়ই যৌক্তিকভাবে সম্ভব ছিল I ঈসার (পিবিইউএইচ) একজন শীর্ষস্থানীয় শিষ্য পিতর যেভাবে প্রশ্নের সময়ে উত্তর দিলেন তাতে আমরা এটিকে দেখি I এটি সুসমাচারে লেখা আছে I

  13 এরপর যীশু কৈসরিয়া, ফিলিপী অঞ্চলে এলেন৷ তিনি তাঁর শিষ্যদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘মানবপুত্রকে?’ এবিষয়ে লোকে কি বলে?
14 তাঁরা বললেন, ‘কেউ কেউ বলে আপনি বাপ্তিস্মদাতা য়োহন, কেউ বলে এলীয়,আবার কেউ বলে আপনি যিরমিয়বা ভাববাদীদের মধ্যে কেউ একজন হবেন৷’
15 তিনি তাঁদের বললেন, ‘কিন্তু তোমরা কি বল, আমি কে?’
16 এর উত্তরে শিমোন পিতর বললেন, ‘আপনি সেইমশীহ (খ্রীষ্ট), জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র৷’
17 এর উত্তরে যীশু তাঁকে বললেন, ‘য়োনার ছেলে শিমোন, তুমি ধন্য, কোনো মানুষের কাছ থেকে একথা তুমি জাননি, কিন্তু আমার স্বর্গের পিতা একথা তোমায় জানিয়েছেন৷

মথি 16:13-17

পিতর ‘ঈশ্বরের পুত্রের’ সাথে “মসীহ” শিরোনামকে স্বাভাবিকভাবে সম্মিলিত করেন, কারণ এটি এত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যখন উভয় শিরোনাম সমূহ গীতসংহিতার (যাবুর) মধ্যে উৎপত্তি হয়েছিল I ঈসা ঈশ্বরের থেকে পিতরের কাছে একটি প্রকাশন রূপে এটিকে স্বীকার করেন I যীশু হলেন ‘মসীহ’ আর তাই তিনি আবারও ‘ঈশ্বরের পুত্র’ I    

যীশুর পক্ষে এমনকি ‘সেই খ্রীষ্ট’ হওয়া কিন্তু ‘ঈশ্বরের পুত্র’ না হওয়া অসম্ভব, স্ব-বিরোধী ছিল কারণ দুটি পরিভাষার একই উৎস এবং একই জিনিসকে বোঝায় I সেটি বলা ঠিক একই হবে যে কোনো নির্দিষ্ট আকৃতি একটি ‘বৃত্ত’ তবে এটি ‘গোলাকার’ নয় I একটি আকৃতি একটি বর্গক্ষেত্র হতে পারে এবং তাই একটি বৃত্ত বা গোলাকার নয় I তবে যদি এটি একটি বৃত্ত হয় তবে এটি আবারও গোলাকার I একটি বৃত্ত বলতে যা বোঝায় গোলাকার তার অংশ, আর বলা যে যদি কোনো নির্দিষ্ট আকৃতি একটি বৃত্ত হয় কিন্তু গোলাকার নয় তবে একটি বৃত্ত এবং গোলাকারকে বোঝাতে অসম্পূর্ণ এবং ভুল বোঝান হয় I ‘খ্রীষ্ট’ এবং ‘ঈশ্বরের পুত্রের’ ক্ষেত্রে এটি একই সমান হয় I যীশু উভয়ই ‘মসীহ’ এবং ‘ঈশ্বরের পুত্র’ (পিতরের বক্তব্য) বা তিনি কোনটিই নয় (সেই দিনের যিহূদি নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি); কিন্তু তিনি একজন যখন হতে পারেন না এবং তখন অন্যজনও নয় I         

‘ঈশ্বরের পুত্র’ বলতে কি বোঝায়?

অতএব এই শিরোণামের অর্থ কি? একটি সুত্র দেখা যায় কিভাবে নতুন নিয়ম যোষেফ নামক ব্যক্তির পরিচয় দেয়, আদি শিষ্যদের মধ্যে একজন (ফরৌণের যোষেফ নয়) এবং কিভাবে এ ব্যবহার করে ‘এর পুত্র…’ i এটি বলে

36 বিশ্বাসীবর্গের একজনের নাম ছিল য়োষেফ; প্রেরিতেরা তাঁকে বার্ণবা বলে ডাকতেন; এই নামের অর্থ ‘উত্‌সাহদাতা’৷ ইনি ছিলেন লেবীয়, কুপ্রীয়ে তাঁর জন্ম হয়৷
37 য়োষেফের একটি জমি ছিল, তিনি তা বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে এসে প্রেরিতদের কাছে দিলেন৷

প্রেরিতের কার্য: 4:36-37

আপনারা দেখবেন যে ‘বার্ণাবাস’ ছদ্ম নামটির অর্থ হ’ল ‘উৎসাহের পুত্র’ I সুসমাচার কি বলছে যে তার আক্ষরিক পিতার নাম ‘উৎসাহ’ ছিল এবং এই কারণেই কি তাকে ‘উৎসাহের পুত্র’ বলা হয়? অবশ্যই না! ‘উৎসাহ” একটি বিমূর্ত ধারণা যাকে সজ্ঞায়িত করা কঠিন কিন্ত একজন উৎসাহ দাতা ব্যক্তি রূপে জীবন যাপন করছে এটিকে দেখার দ্বারা বুঝতে পারা সহজ I যোষেফের ব্যক্তিত্ব এবং জীবনকে দেখার দ্বারা কেউ ‘দেখতে’ পারে যে উৎসাহ ক্রিয়াশীল এবং ‘উৎসাহ’ বলতে কি বোঝায় I এই উপায়ে যোষেফ হন ‘উৎসাহের পুত্র’ I তিনি জীবন যাপনের মাধ্যমে ‘উৎসাহের’ প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন I   

“ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখে নি” (যোহন 1:18) I তাই ঈশ্বরের চরিত্র এবং প্রকৃতিকে আমাদের জন্য প্রকৃতপক্ষে বুঝতে পারা কঠিন I ঈশ্বরকে দেখার জন্য আমাদের দরকার হ’ল প্রতিনিধিত্বমূলক এক জীবনযাপন, কিন্তু তা অসম্ভব যেহেতু ‘ঈশ্বর আত্মা’ এবং তাই দেখতে পারা যায় না I তাই সুসমাচার ‘ঈশ্বরের বাক্য’ এবং ‘ঈশ্বরের পুত্র’ উভয় শিরোনামকে ব্যবহার করার দ্বারা  ঈসা আল মসীহর জীবন এবং ব্যক্তিত্বের তাত্পর্যকে সংক্ষিপ্তসার ও ব্যাখ্যা  করে I   

  14 বাক্য মানুষের রূপ ধারণ করলেন এবং আমাদের মধ্যে বসবাস করতে লাগলেন৷ পিতা ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র হিসাবে তাঁর য়ে মহিমা, সেই মহিমা আমরা দেখেছি৷ সে বাক্য অনুগ্রহ ও সত্যে পরিপূর্ণ ছিলেন৷
15 য়োহন তাঁর সম্পর্কে মানুষকে বললেন, ‘ইনিই তিনি য়াঁর সম্বন্ধে আমি বলেছি৷ ‘যিনি আমার পরে আসছেন, তিনি আমার থেকে মহান, কারণ তিনি আমার অনেক আগে থেকেই আছেন৷”
16 সেই বাক্য অনুগ্রহ ও সত্যে পূর্ণ ছিলেন৷ আমরা সকলে তাঁর থেকে অনুগ্রহের ওপর অনুগ্রহ পেয়েছি৷
17 কারণ মোশির মাধ্যমে বিধি-ব্যবস্থা দেওযা হয়েছিল, কিন্তু অনুগ্রহ ও সত্যের পথ যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে এসেছে৷
18 ঈশ্বরকে কেউ কখনও দেখেনি; কিন্তু একমাত্র পুত্র, যিনি পিতার কাছে থাকেন, তিনিই তাঁকে প্রকাশ করেছেন৷

যোহন: 1:14,16-18

ঈশ্বরের অনুগ্রহ এবং সত্যকে আমরা কিভাবে জানি? ঈসার (পিবিইউএইচ) প্রকৃত মাংস-এবং-রক্তের মধ্যে এটিকে বেঁচে থাকতে দেখি I শিষ্যরা ঈশ্বরের ‘অনুগ্রহ এবং সত্যকে’ যীশুর মধ্যে এটিকে দেখার দ্বারা বুঝতে পেরেছিল I ব্যবস্থা, এর আজ্ঞা সমূহের সাথে, আমাদেরকে সেই চাক্ষুষ উদাহরণ দিতে পারে নি I   

পুত্র … ঈশ্বরের থেকে সরাসরি আসছে

পুত্র … ঈশ্বরের থেকে সরাসরি আসছে I এছাড়াও ‘ঈশ্বরের পুত্রের’ আর একটি ব্যবহার আমাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে ঈসা/যীশুর (পিবিইউএইচ) সম্বন্ধে এটি কি বোঝায় I লুকের সুসমাচার যীশুর বংশপরিচয়  (পিতা থেকে পুত্র) ঠিক ঠিক আদমের কাছে ফিরে যাওয়ার তালিকায় রয়েছে I আমরা বংশপরিচয়টি একেবারে শেষে তুলে ধরেছি যেখানে এটি বলে     

  38 কৈনন ইনোশের ছেলে৷ ইনোশ শেথের ছেলে৷ শেথ আদমের ছেলে৷ আদম ঈশ্বরের ছেলে৷

লুক 3:38

আমরা এখানে দেখি যে আদমকে ‘ঈশ্বরের পুত্র’ বলা হয় I কেম? কারণ আদমের কাছে কোনো মানবীয় পিতা ছিল না; তিনি ঈশ্বরের থেকে সরাসরি এসেছিলেন I যীশুর কাছেও কোনো মানবীয় পিতা ছিল না; তিনি এক কুমারীর থেকে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন I  যেমন উপরোক্ত যোহনের সুসমাচারে এটি বলে তিনি সরাসরিভাবে ‘পিতার থেকে এসেছিলেন’  

এক ‘এর পুত্র … কুরআনের থেকে উদাহরণ

কুরআন ‘এর পুত্র …’ অভিব্যক্তিটিকে ইঞ্জিলের মতন একই উপায়ে ব্যবহার করে I নিমলিখিত আয়াতটিকে বিবেচনা করুন

 (ऐ रसूल) तुमसे लोग पूछते हैं कि हम ख़ुदा की राह में क्या खर्च करें (तो तुम उन्हें) जवाब दो कि तुम अपनी नेक कमाई से जो कुछ खर्च करो तो (वह तुम्हारे माँ बाप और क़राबतदारों और यतीमों और मोहताजो और परदेसियों का हक़ है और तुम कोई नेक सा काम करो ख़ुदा उसको ज़रुर जानता है

সুরাত আল-বাকরাহ 2:215

 ‘মুসাফির’ (বা ভ্রমণকারী) শব্দটিকে মূল আরবীতে (‘ইবনি সাবিল’ বা ابن السبيل) আক্ষরিক অর্থে ‘রাস্তার পুত্রগণ’ বলে লেখা হয় I কেন? কারণ ব্যাখ্যাকারীগণ ও অনুবাদকরা বুঝতে পেরেছেন যে বাক্যাংশটি আক্ষরিক অর্থে রাস্তার ‘পুত্রদের’ উল্লেখ করে না, তবে ভ্রমণকারীদের বোঝাতে এটি একটি অভিব্যক্তি – যারা শক্তিশালীভাবে সংযুক্ত এবং রাস্তার উপরে নির্ভরশীল I

ঈশ্বরের পুত্র বলতে কি বোঝায় না

বাইবেলের সাথে এটি একই রকম হয় যখন যখন এটি ‘ঈশ্বরের পুত্র’ পরিভাষাটিকে ব্যবহার করে I তৌরাত, যাবুর বা ইঞ্জিলের কোথাও ‘ঈশ্বরের পুত্র’ পরিভাষাটি বোঝায় নি যে একজন স্ত্রীর সঙ্গে ঈশ্বরের যৌন সম্পর্কের ফলে এক আক্ষরিক এবং শারীরিক পুত্র হয়েছিল I প্রাচীন গ্রীকের বহু-ঈশ্বরবাদে এই উপলব্ধিটি সাধারণ ছিল যেখানে ঈশ্বরদের কাছে ‘স্ত্রীগণ’ ছিল I তবে বাইবেলের (আল কিতাব) কোথাও এটা বলা হয় নি I নিশ্চিতরূপে এটি অসম্ভব হবে যেহেতু এটি বলে যে যীশু একজন কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন – এইরূপে কোনো সম্পর্ক ছিল না I

সংক্ষিপ্তসার

আমরা এখানে দেখলাম যে ভাববাদী যিশাইয় 750 খ্রীষ্টাব্দের আশেপাশে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে একদিন তার ভবিষ্যতকালে একটি চিহ্ন সদাপ্রভুর থেকে সরাসরি আসবে I

14 ঈশ্বর আমার প্রভু, তোমাদের একটা চিহ্ন দেখাবেন:ঐ যুবতী মহিলাটি গর্ভবতী হবে এবং দেখ সে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেবে| তার নাম রাখা হবে ইম্মানূযেল|

যিশাইয় 7:14

সজ্ঞা অনুসারে কুমারীর পুত্রের কোনো মানবীয় পিতা থাকে না I আমরা এখানে দেখলাম যে স্বর্গদূত গাব্রিয়েল (জিব্রীল) মরিযমের কাছে ঘোষণা করলেন যে ‘সর্বোচ্চর ক্ষমতা তোমার (মরিয়ম) উপরে ছায়া বিস্তার করার কারণে এটি ঘটবে I এটি ঈশ্বর এবং মরিয়মের মধ্যে কোনো অপবিত্র সম্পর্কের দ্বারা আসবে না – যেটা অবশ্যই ঈশ্বর নিন্দার দ্বারা (সংকুচিত) হবে I না, এই পুত্র মানবীয় পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা ছাড়াই ঈশ্বরের থেকে সরাসরিভাবে উদ্ভূত হয়ে  এক বিশেষ অন্যন্য উপায়ে ‘একজন পবিত্র’ হবেন I তিনি ঈশ্বরের থেকে সরাসরিভাবে উদ্ভূত হবেন যেমন আমাদের থেকে বাক্য সমূহ সরাসরিভাবে উদ্ভূত হয় I এই অর্থে মসীহ ঈশ্বরের পুত্রের পাশাপাশি ঈশ্বরের বাক্যও ছিলেন I       

কেন বাইবেলের এত বেশি ‘সংস্করণ’?

সম্প্রতি আমি মস্কোতে একটি মসজিদে ইমামের শিক্ষা শুনছিলাম I তিনি এমন কিছু বললেন যেটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল I তিনি যা বললেন তা আমি পূর্বে বহুবার শুনেছি – আমার ভাল বন্ধুদের থেকে I আপনিও হয়ত এটি শুনেছেন এবং এটি আপনার মনে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে I তাই আসুন আমাদের এটিকে বিবেচনা করা যাক I

ইমাম বললেন যে বাইবেলের (আল কিতাব) অনেক ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণ সমূহ আছে I ইংরেজী ভাষাতে আপনি পেতে পারেন (আর তিনি সেগুলোর নাম উচ্চারণ করলেন) দি কিং জেমস সংস্করণ, দি নিউ ইন্টারন্যাশনাল সংস্করণ, দি নিউ  আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণ, দি নিউ ইংলিশ সংস্করণ এবং ইত্যাদি ইত্যাদি I তখন ইমাম বললেন যেহেতু বাইবেলের অনেক বিভিন্ন সংস্করণ আছে সেইহেতু এটি দেখায় যে বাইবেল (আল কিতাব) বিকৃত হয়েছে, বা আমরা কমপক্ষে ‘সত্য’ একটিকে জানি না I হ্যাঁ বাস্তবিকই এই বিভিন্ন সংস্করণগুলো আছে – কিন্তু এর সাথে বাইবেলের বিকৃতির কোনো সম্পর্ক নেই বা এইগুলো সত্যই      ভিন্ন ভিন্ন বাইবেল কি না I প্রকৃতপক্ষে সেখানে কেবলমাত্র একটি বাইবেল/কিতাব আছে I   

উদাহরণস্বরূপ, যখন আমরা দি নিউ ইন্টারন্যাশনাল সংস্করণের কথা বলি, আমরা তখন মূল গ্রীক (ইঞ্জিল) এবং হিব্রু (তৌরাত এবং যাবুর) থেকে ইংরেজিতে এক নির্দিষ্ট অনুবাদের কথা বলছি I দি নিউ আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড ইংরেজির আর একটি অনুবাদ কিন্তু সেই একই গ্রীক এবং হিব্রু পাঠ্য থেকে I

কোরানের ক্ষেত্রেও সেই একই পরিস্থিতি I আমি সাধারণতঃ ইউসুফ আলির অনুবাদ ব্যবহার করি, কিন্তু এছাড়াও আমি মাঝে মাঝে পিকথালের অনুবাদও ব্যবহার করি I পিকথাল সেই একই আরবীয় কোরান থেকে অনুবাদ করেছেন যাকে ইউসুফ আলি ব্যবহার করতেন, কিন্তু তার অনুবাদে ইংরেজি শব্দের বাছাই  সর্বদা এক হয় না I এইরূপে সেগুলো ভিন্ন অনুবাদ সমূহ I কিন্তু কেউ না – না একজন খ্রীষ্টান, একজন যিহূদি, বা এমনকি একজন নাস্তিক বলে যে কোরানের দুটি ভিন্ন ইংরেজি (পিকথালের এবং ইউসুফ আলির) অনুবাদ সমূহের কারণে এটি দেখায় যে সেখানে ‘বিভিন্ন’ কোরান আছে বা পবিত্র কোরানটি বিকৃত হয়েছে I ঠিক সেই ভাবে, সেখানে তৌরাত এবং যাবুরের (এটিকে এখানে দেখুন)জন্য ইঞ্জিলের (এটিকে এখানে দেখুন) একটি গ্রীক পাঠ্য এবং একটি হিব্রু পাঠ্য আছে I কিন্তু অধিকাংশ লোকেরা এই ভাষাগুলো পড়ে না তাই নানান অনুবাদগুলো ইংরেজিতে (এবং অন্যান্য ভাষা সমূহে) উপলব্ধ যে তারা তাদের মাতৃ ভাষায় বার্তাটি বুঝতে পারে I সংস্করণগুলো শুধুমাত্র বিভিন্ন অনুবাদ সমূহ হয় যাতে বার্তাটিকে ভালোভাবে বুঝতে পারা যায় I    

কিন্তু অনুবাদের মধ্যে ত্রুটিগুলোর কি? এটি কি ঘটনা যে বিভিন্ন অনুবাদগুলো দেখায় যে মূল রচয়িতাদের লেখাকে নির্ভুলভাবে অনুবাদ করা অসম্ভব? গ্রীক ভাষায় লিখিত বিশাল সনাতন সাহিত্য সম্ভারের কারণে মূল চিন্তাধারা এবং মূল রচয়িতাদের বাক্য সমূহকে হুবহু অনুবাদ করা সম্ভব হয়েছে I প্রকৃতপক্ষে  বিভিন্ন আধুনিক সংস্করণ সমূহ এটিকে দেখায় I উদাহরণস্বরূপ, এখানে নতুন নিয়মের একটি পদকে, মূল গ্রীকের 1 তীমথিয় 2:5 থেকে নেওয়া হয়েছে I      

εις γαρ θεος εις και μεσιτης θεου και ανθρωπων ανθρωπος χριστος ιησους

1 তীমথিয় 2:5

এখানে এই পদের কিছু পরিচিত অনুবাদ সমূহ I

5 কারণ একমাত্র ঈশ্বর আছেন আর ঈশ্বরের ও মানুষের মধ্যে কেবল একমাত্র পথ আছে, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছতে পারে৷ সেই পথ যীশু খ্রীষ্ট, যিনি নিজেও একজন মানুষ ছিলেন৷

1 তীমথিয় 2:5 সংস্করণের মধ্যে

আপনি নিজের জন্য দেখতে পারেন তারা তাদের অনুবাদের খুব কাছাকাছি – কেবলমাত্র কয়েকটি শব্দের পার্থক্য I কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে তাদের অর্থ কেবল অল্পভাবে ভিন্ন শব্দের ব্যবহারের সাথে হুবহু এক I এটি এই কারণে সেখানে কেবলমাত্র একটি আল কিতাব/বাইবেল হয় এবং তাই এর থেকে অনুবাদ একেবারে অনুরূপ হবে I ‘ভিন্ন ভিন্ন’ বাইবেল নেই I যেমন আমি শুরুতে লিখেছি, যে কোনো কারোর পক্ষে বলা এটি সম্পূর্ণরূপে ভুল যে বিভিন্ন সংস্করণ হওয়ার মানে হ’ল যে সেখানে ভিন্ন ভিন্ন বাইবেল আছে I    

আমি প্রত্যেকের কাছে তাদের নিজের মাতৃভাষায় আল-কিতাব/বাইবেলের একটি সংস্করণকে বেছে নিয়ে পড়তে আগ্রহ করি I এটি উত্তম প্রচেষ্টা যোগ্য হয় I   

বাইবেল কিভাবে অনুবাদিত হয়েছিল

বাইবেল, বা আল কিতাব এর মূল ভাষায় (হিব্রু এবং গ্রীক) সাধারণতঃ পড়া হয় না I এটি এই কারণে নয় যে এটি এই সকল ভাষায় উপলব্ধ নয় I এটি উপলব্ধ, এবং পণ্ডিতগণ মূল ভাষায় বাইবেলকে পড়তে এবং অধ্যয়ন করতে সক্ষম হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীক এবং হিব্রু অধ্যয়ন করেন I (এখানে মূল হিব্রুতে তোরাহকে, এবং এখানে মূল গ্রীকে ইঞ্জিলকে দেখুন) I এটি প্রায়শই উপায় হয় যে বাইবেলের পেশাগত শিক্ষকরা এটিকে অধ্যয়ন করেন I কিন্তু নিয়মিত বিশ্বাসীরা সাধারণতঃ বাইবেলকে এর মূল ভাষায় পড়ে বা অধ্যয়ন করে না, আর পরিবর্তে এটিকে তাদের মাতৃভাষার অনুবাদে পড়ে I অতএব, বাইবেলকে প্রায়শই এর মূল ভাষায় দেখা যায় না, কাউকে ভাবাতে পারে যে মূল ভাষাগুলোকে হারিয়ে ফেলা হয়েছে, এবং অন্যদের ভাবায় যে অনুবাদের প্রক্রিয়া বিকৃতির দিকে চালিত করেছে I এই সিদ্ধান্তগুলোয় ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে, প্রথমে আল কিতাব, বা বাইবেলের অনুবাদের প্রক্রিয়াটিকে বুঝে নেওয়া ভাল I সেটাই আমরা এই নিবন্ধে করব I       

অনুবাদ বনাম অক্ষরীকরণ

প্রথমে অনুবাদের কিছু মূলসুত্রগুলোকে আমাদের বোঝা দরকার I অনুবাদকরা মাঝে মাঝে অর্থ প্রকাশ করার চেয়ে অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা অনুবাদ করতে পচ্ছন্দ করেন, বিশেষত যখন এটি নাম বা শিরোনামের ক্ষেত্রে আসে I এটি অক্ষরীকরণ রূপে পরিচিত I নিচের চিত্রটি অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণের মধ্যে পার্থক্যকে বর্ণনা করে I ‘ঈশ্বরের’ জন্য ইংরেজী শব্দ আনতে আরবী ভাষা থেকে আপনি দুটি উপায় চয়ন করতে পারেন I আপনি অর্থের দ্বারা অনুবাদ করতে পারেন যা দেয় ‘ঈশ্বর’ বা ‘আল্লাহ’ পেতে ধ্বনির দ্বারা আপনি অক্ষরীকরণ করতে পারেন I         

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/translation-or-transliteration-of-Allah.jpg

কিভাবে আমরা একটি ভাষা থেকে অন্যটিতে অনুবাদ বা অক্ষরীকরণ করতে পারি তা বাখ্যা করতে এটি ‘ঈশ্বর’ পরিভাষাকে ব্যবহার করে I

সাম্প্রতিককালে, ইংরেজী এবং আরবী ভাষার মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিনিময়ের সাথে, ইংরেজী ভাষাতে ঈশ্বরকে কে বোঝাতে ‘আল্লাহ’ পরিভাষাটি একটি পরিচিত শব্দে পরিণত হয়েছে I শিরোণাম বা মুখ্য শব্দগুলোর জন্য অনুবাদ বা অক্ষরীকরণের পছন্দের ক্ষেত্রে কোনো সুনিশ্চিত ‘ঠিক’ বা ‘ভুল’ নেই I কত ভালভাবে পরিভাষাটি প্রাপকের ভাষায় স্বীকৃত হয় বা বোঝা যায় তার উপরে পছন্দটি নির্ভর করে I   

সেপ্টুয়াজিন্ট

বাইবেলের প্রথম অনুবাদ ছিল যখন হিব্রু পুরনো নিয়ম (= তৌরাত এবং যাবুর) প্রায় 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে গ্রীক ভাষায় অনুবাদিত হয়েছিল I এই অনুবাদটি সেপ্টুয়াজিন্ট (বা LXX) বলে পরিচিত এবং এটি খুব প্রভাবশালী ছিল I যেহেতু নতুন নিয়ম গ্রীক ভাষায় লিখিত হয়েছিল, পুরনো নিয়মের অনেক উদ্ধৃতিগুলো গ্রীক সেপ্টুয়াজিন্ট থেকে নেওয়া হয়েছিল I   

সেপ্টুয়াজিন্টের মধ্যে অনুবাদ এবং অক্ষরীকরণ  

নিচের চিত্রটি দেখায় কিভাবে এই সবগুলো আধুনিক-দিনের বাইবেলকে প্রভাবিত করে যেখানে অনুবাদের স্তরগুলোকে পরিধির এক চতুর্থাংশর মধ্যে দেখানো হয়েছে I

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/translation-flow-of-al-kitab.jpg

এটি বাইবেলের (আল কিতাব) অনুবাদের প্রক্রিয়াকে আধুনিক ভাষাতে দেখায়   

মূল হিব্রু পুরনো নিয়ম (তৌরাত এবং যাবুর) পরিধির এক চতুর্থাংশর #1 মধ্যে আছে এবং আজকের দিনে মাসোরেটিক পাঠ্য এবং মৃত সাগরের হস্তলিপির  মধ্যে প্রবেশযোগ্য I কারণ সেপ্টুয়াজিন্ট  ছিল একটি হিব্রু  –> গ্রীক অনুবাদ এটিকে একটি তীর রূপে দেখানো হয়েছে এক চতুর্থাংশ #1 থেকে #2 এর  দিকে I নতুন নিয়ম স্বয়ং মূল গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছিল, তাই এর অর্থ হ’ল #2 এর মধ্যে পুরনো এবং নতুন নিয়ম উভয়ই আছে I নিচের অর্ধেকের মধ্যে  (#3) বাইবেলের একটি আধুনিক ভাষার (অর্থাৎ ইংরেজী) অনুবাদ রয়েছে I সেখানে যেতে পুরনো নিয়মকে মূল হিব্রু থেকে অনুবাদ করা হয়েছে (1 -> 3) এবং নতুন নিয়মকে গ্রীক থেকে অনুবাদ করা হয়েছে (2 -> 3) I যেমন পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে নাম এবং শিরোনাম সমূহের অনুবাদের উপরে অনুবাদকদের অবশ্যই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত I এটিকে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ করার  লেবেলের সবুজ তীর দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, দেখাচ্ছে যে অনুবাদকরা যে কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন I        

বাইবেলের বিকৃতির প্রশ্নে সেপ্টুয়াজিন্ট সাক্ষ্য দেয়

যেহেতু প্রায় 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সেপ্টুয়াজিন্টকে হিব্রু থেকে অনুবাদ করা হয়েছিল আমরা দেখতে পারি (আমরা যদি গ্রীক থেকে হিব্রুতে অনুবাদ করে উল্টোটা করি) এই অনুবাদকদের তাদের হিব্রু পান্ডুলিপিতে কি ছিল যেগুলো থেকে তারা অনুবাদ করেছিল I যেহেতু এই পাঠ্যগুলো প্রায় অভিন্ন এটি দেখায় যে কম করে 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে পুরনো নিয়ম পরিবর্তিত হয় নি I সেপ্টুয়াজিন্টকে যিহূদি, খ্রীষ্টান, এবং এমনকি পাগানদের দ্বারা শতাধিক বছর ধরে মধ্য প্রাচ্য এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে পড়া হয়েছিল – এবং এমনকি আজকের দিনেও মধ্য প্রাচ্যে এখনও অনেকে এটিকে ব্যবহার করে I যদি কেউ (খ্রীষ্টান, যিহূদি বা অন্য কেউ) পুরনো নিয়মকে পরিবর্তন করত এবং এটিকে বিকৃত করত, তাহলে সেপ্টুয়াজিন্ট হিব্রু পাঠ্য থেকে ভিন্ন হত I কিন্তু তারা মূলতঃ একই I      

অনুরূপভাবে, উদাহরণস্বরূপ যদি কেউ মিসরের আলেক্সান্দ্রিয়াতে, সেপ্টুয়াজিন্টকে স্বয়ং বিকৃত করত তবে আলেক্সান্দ্রিয়াতে সেপ্টুয়াজিন্ট পান্ডুলিপির প্রতিলিপিগুলো মধ্য প্রাচ্য এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে অন্য সেপ্টুয়াজিন্ট পান্ডুলিপির থেকে আলাদা হত I কিন্তু তারা একই I অতএব তথ্য কোনো স্ব-বিরোধ ছাড়াই আমাদের বলে যে পুরনো নিয়মকে বিকৃত করা হয় নি I

অনুবাদের মধ্যে সেপ্টুয়াজিন্ট

এছাড়াও আধুনিক অনুবাদকে সাহায্য করতে সেপ্টুয়াজিন্টকে ব্যবহার করা  হয় I আজকের এই বিশেষ দিনে পুরনো নিয়মের অত্যন্ত কঠিন কিছু অধ্যায়গুলোকে অনুবাদের ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য করতে অনুবাদের পণ্ডিতগণ সেপ্টুয়াজিন্টকে ব্যবহার করেন I গ্রীককে ভালভাবে বোঝা যায় এবং কিছু অধ্যায়ে যেখানে হিব্রু কঠিন হয় অনুবাদকরা দেখতে পারেন কিভাবে সেপ্টুয়াজিন্ট অনুবাদকরা 2250 বছর পূর্বে এই অস্পষ্ট অধ্যায়গুলোকে বুঝতে পেরেছিল I      অনুবাদ/অক্ষরীকরণ করা এবং সেপ্টুয়াজিন্টকে বুঝতে পারা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কোথা থেকে ‘ক্রাইষ্ট’, ‘মেসিয়া’, এবং ‘মসীহ’ পরিভাষাগুলো আসে যেহেতু এই পরিভাষাগুলো ঈসার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত (বা যীশু – পিবিইউএইচ), যেটিকে আমাদের উপলব্ধি করার প্রয়োজন আছে যদি আমাদের ইঞ্জিলের বার্তাকে বুঝতে হয় I আমরা এটিকে পরবতী পর্যায়ে দেখব I