পেন্টেকোস্ট – সহায়ক ক্ষমতা এবং নির্দেশনা দিতে আসেন

সুরা আল-বালাদ (সুরা 90 – নগর) একটি নগর ব্যাপী স্বাক্ষ্যকে উল্লেখ করে এবং সুরা আন-নছর (সুরা 110 – স্বর্গীয় সমর্থন) লোকেদের ভিড়ের কল্পনা করে যা ঈশ্বরের প্রকৃত এক আরাধনায় আসে I    

1 আমি এই নগরীর শপথ করি 2 এবং এই নগরীতে আপনার উপর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।

সুরা আল-বালাদ 90:1-2

1 যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় 2 এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, 3 তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাকারী।

সুরা আন-নছর 110:1:3

ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ পুনরুত্থানের ঠিক 50 দিন পরে সুরা আল-বালাদ এবং সুরা আন-নছর এর মধ্যে আটক দর্শন সত্য হ’ল I নগরটি ছিল যিরূশালেম, এবং ঈসা আল মসীহর শিষ্যরা স্বাধীন লোক ছিল যারা সেই নগরের প্রত্যক্ষ্যদর্শী ছিল, তবে এটি সদাপ্রভুর আত্মা ছিল লোকেদের ভিড়ের বিরুদ্ধে সেই নগরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল যা উৎসব, প্রশংসা এবং ক্ষমার উৎপন্ন করল I সেই দিনটি আজ  আমাদের দ্বারাও অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে, যা আমরা এই অনন্য দিনের ইতিহাসকে বুঝতে পেরে আমরা শিখি I  

নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ নিস্তারপর্বে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল তবে পরে পরবর্তী রবিবারে মৃত্যু থেকে উঠেছিলেন I মৃত্যুর উপরে এই বিজয়ের সাথে তিনি এখন যে কোনো কাউকে জীবনের উপহার দিলেন যারা এটিকে গ্রহণ করবে I 40 দিন ধরে তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে থাকার পরে, যাতে তারা তাঁর পুনরুত্থান সম্পর্কে আশ্বস্ত হয়ে যায়, তারপরে তিনি স্বর্গে আরোহণ করেন I তবে আরোহণ করার পূর্বে তিনি এই নির্দেশগুলো দিলেন: 

19 তাই তোমরা যাও, তোমরা গিয়ে সকল জাতির মানুষকে আমার শিষ্য কর৷ পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার নামে বাপ্তিস্ম দাও৷
20 আমি তোমাদের য়েসব আদেশ দিয়েছি, সেসব তাদের পালন করতে শেখাও আর দেখ যুগান্ত পর্যন্ত প্রতিদিন আমি সর্বদাইতোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছি৷’

মথি 28:19-20

তিনি তাদের সঙ্গে সর্বদা থাকতে প্রতিশ্রুতি দিলেন, তবুও তিনি তাঁর স্বর্গে আরোহণের সময় তিনি তাদের ছেড়ে দিলেন I তাঁর আরোহণের পরে কিভাবে তিনি এখনও তাদের (এবং আমাদের সঙ্গেও) সঙ্গে থাকতে পারেন I 

একটু পরে যা ঘটল তার মধ্যে উত্তর আসে I তাঁর গ্রেফতারের ঠিক পূর্বে তিনি সহায়কের আগমনের সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিলেন I তাঁর পুনরুত্থানের 50 দিন পরে (এবং তাঁর আরোহণের 10 দিন পরে) এই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছিল I দিনটিকে পেন্টেকোষ্টের দিন বা পেন্টেকোষ্ট রবিবার বলা হয় I একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসাবে এটিকে উদযাপন করা হয়, তবে সেই দিন যা ঘটেছিল কেবল তাই নয় বরং কখন এবং কেন ঘটেছিল তা আল্লাহর চিহ্নকে প্রকাশ করে, এবং আপনার জন্য একটি শক্তিশালী বরদান I      

পেন্টেকোষ্টে কি ঘটেছিল

সম্পূর্ণ ঘটনাগুলোকে বাইবেলের প্রেরিতের কার্যের অধ্যায় 2 এর মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I সেই দিন, ঈশ্বরের পবিত্র আত্মা ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ প্রথম অনুগামীদের উপরে অবতরণ করেছিল এবং তারা উচ্চৈস্বরে পৃথিবীর চারিদিকের ভাষায় কথা বলতে আরম্ভ করল I এটি এমন ধরণের একটি উত্তেজনা সৃষ্টি করল যে যিরূশালেমে থাকাকালীন কয়েক হাজার লোক কি ঘটছে দেখতে সেই সময়ে বেরিয়ে এল I জমা হওয়া ভিড়ের সামনে, পিতর প্রথম সুসমাচারের বার্তা বলল এবং ‘সেই দিন তাদের সংখ্যার সাথে তিন হাজার যুক্ত হ’ল’ (প্রেরিতের কার্য 2:41) I সুসমাচার অনুসরণকারীদের সংখ্যা সেই পেন্টেকোষ্টের রবিবারের দিন থেকে বৃদ্ধি পাচ্ছে I       

পেন্টেকোষ্টের সারাংশ সম্পূর্ণ নয় I কারণ, নবীর ঠিক অন্যান্য ঘটনাগুলোর মতন, পেন্টেকোষ্ট সেই একই দিনে একটি উৎসব রূপে ঘটেছিল যা নবী মুসার  পিবিইউএইচ সময়ে তাওরাতের সঙ্গে ঘটেছিল I     

মুসার তাওরাতের থেকে পেন্টেকোষ্ট

মুসা পিবিইউএইচ (1500 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) সারা বছর ধরে উদযাপিত হওয়ার জন্য নানান উৎসব সমূহের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন I নিস্তারপর্ব যিহূদি বছরের প্রথম উৎসব ছিল I ঈসাকে নিস্তারপর্ব দিনের উৎসবে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল I নিস্তারপর্বের মেষশাবকের কোরবানীতে তাঁর মৃত্যুর সঠিক সময় আমাদের জন্য একটি চিহ্ন I    

দ্বিতীয় উৎসব ছিল প্রথম ফলের পর্ব, আর আমরা দেখলাম এই উৎসবের দিনে নবীকে কিভাবে উত্থাপন করা হ’ল I যেহেতু তাঁর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফলের’ দিনে ঘটল, এটি একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যাতে আমাদের পুনরুত্থান আসবে তাদের সকলের জন্য যারা তার উপরে বিশ্বাস করে I তাঁর পুনরুত্থান একটি ‘প্রথম ফল’, ঠিক যেমনভাবে উৎসবের নামটিকে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I  

রবিবার ‘প্রথম ফলের’ ঠিক 50 দিন পরে তাওরাত যিহূদিদের পেন্টেকোষ্ট (50 এর জন্য ‘পেন্টে’) উদযাপন করার প্রয়োজন করেছিল I এটিকে প্রথমে সপ্তাহের পর্ব বলা হত যেহেতু এটিকে সাত সপ্তাহের দ্বারা গণনা করা হয় I 1500 বছর ধরে যিহূদিরা ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সময় পর্যন্ত সপ্তাহের পর্ব পালন করে আসছিল I কারণ সেখানে পিতরের বার্তা শুনতে সমস্ত পৃথিবী থেকে লোকেরা সেই দিন ছিল যে দিন পবিত্র আত্মা যিরূশালেমে অবতরণ করেছিল হুবহু এই কারণেই তারা সেখানে তাওরাতের পেন্টেকোষ্ট উদযাপন করতে উপস্থিত ছিল I  আজকে যিহূদিরা পেন্টেকোষ্ট উদযাপন করতে থাকে তবে এটিকে সাভুয়োত বলে ডাকে I

আমরা তাওরাতের মধ্যে পড়ি কিভাবে সপ্তাহের পর্ব কে উদযাপন করা হত:

  16 সপ্তম সপ্তাহ পরে রবিবারে (অর্থাত্‌ 50 দিন পরে) তোমরা প্রভুর কাছে একটি নতুন শস্য নৈবেদ্য আনবে|
17 ঐ দিনে তোমাদের বাড়ী থেকে দুুকরো রুটি নিয়ে আসবে| ঐ রুটি দোলনীয় নৈবেদ্যর জন্য নির্দিষ্ট হবে| ঐ রুটি তৈরী করার জন্য খামির এবং 16 কাপ ময়দা ব্যবহার কর| এটাই হবে তোমাদের প্রথম শস্য থেকে প্রভুর কাছে দেওয়া উপহার|

লেবীয় 23:16-17

পেন্টেকোষ্টের যথার্ততা: আল্লাহর থেকে চিহ্ন 

পেন্টেকোষ্টের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন পবিত্র আত্মা লোকেদের উপরে অবতরণ করেছিল যেহেতু এটি তাওরাতের সপ্তাহ পর্বের (বা পেন্টেকোষ্ট) মতন সেই একটি দিনে ঘটল I নিস্তারপর্বের উৎসবে ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন ঘটা, তাঁর পুনরুত্থান প্রথম ফসল উৎসবে ঘটা, এবং সপ্তাহের পর্বে পবিত্র আত্মার এই আগমন, আমাদের কাছে আল্লাহর থেকে স্পষ্ট চিহ্ন I বছরে এত দিনগুলো থাকলেও কেন ক্রুশারোপন, পুনরুত্থান, এবং তার পরে পবিত্র আত্মার আগমন তাওরাতের তিনটি বসন্ত উৎসবগুলোর প্রত্যেকটি দিনে যথাযথভাবে ঘটে, এটি কি তার পরিকল্পনা আমাদের দেখান ছাড়া নয়?      

ইঞ্জিলের ঘটনাগুলো তাওরাতের বসন্ত উৎসবে অবিকল ঘটেছিল 

পেন্টেকোষ্ট: সহায়ক নতুন শক্তি দেয় 

পবিত্র আত্মার আগমনের চিহ্নগুলোকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে, পিতর নবী যোয়েলের একটি ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে নির্দেশ করেন যা পূর্বাভাষ দেয় যে একদিন ঈশ্বরের  আত্মা সকল লোকেদের উপরে ঢালা হবে I ওই পেন্টেকোষ্টের দিনের ঘটনাগুলো ভবিষ্যদ্বাণীটিকে পূর্ণ করল I     

আমরা দেখেছি কিভাবে নবীরা আমাদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন আমাদের আত্মিক তৃষ্ণার প্রকৃতিকে যা আমাদেরকে পাপের দিকে নিয়ে যায় I নবীরা পূর্বাভাষও দিয়েছিলেন এক নতুন নিয়মের আগমন সম্বন্ধে যেখানে ব্যবস্থাকে আমাদের হৃদয়ের অভ্যন্তরে লেখা হবে, না কেবল পাথরের ফলকে বা বইতে I কেবলমাত্র আমাদের হৃদয়ে লেখার সাহায্যেই আমরা ব্যবস্থাকে অনুসরণ করতে শক্তি এবং সামর্থ্য পাব I বিশ্বাসীদের মধ্যে বাস করতে ওই পেন্টেকোষ্টের দিনে পবিত্র আত্মার আগমন এই প্রতিশ্রুতির পরিপূর্ণতা I 

সুসমাচার যে শুভ সংবাদ তার একটি কারণ হ’ল যে এটি উত্তম জীবন যাপন করতে শক্তি জোগায় I আল্লাহ এবং লোকেদের মধ্যে মিলন হ’ল এখন একটি জীবন I ঈশ্বরের পবিত্র আত্মার নিবাসের মাধ্যমে এই মিলন অনুষ্ঠিত হয় – যেটি প্রেরিতের কার্যের 2 -এর পেন্টেকোষ্টের রবিবার দিনে শুরু হয়েছিল I এটি এমন শুভ সংবাদ যে জীবনকে এক ভিন্ন স্তরে ব্যতীত করা যেতে পারে, তাঁর পবিত্র আত্মার মাধ্যমে ঈশ্বরের সাথে সম্পর্কের মধ্যে I পবিত্র আত্মা আমাদেরকে এক প্রকৃত আন্তরিক নির্দেশ দেয় – ঈশ্বরের থেকে নির্দেশ I বাইবেল এটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করে:    


13 খ্রীষ্টেতে তোমরা তোমাদের পরিত্রাণের জন্য সেই সুসমাচারের সত্য বার্তা শুনেছিলে এবং তোমরা খ্রীষ্টে বিশ্বাস করেছিলে; আর তোমাদের পবিত্র আত্মা দান করে ঈশ্বর তোমাদের ওপর তাঁর নিজের মালিকানার ছাপ দিয়েছেন৷
14 ঈশ্বর তাঁর নিজস্ব লোকদের যা কিছু দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই পবিত্র আত্মা হল তার জামিনস্বরূপ, আর যাঁরা ঈশ্বরের লোক তারা এর মাধ্যমে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে৷ এ সবকিছুর একমাত্র লক্ষ্য হল তাঁর মহিমায় প্রশংসা য়োগ করা৷

ইফীষিয় 1:13-14

  11 ঈশ্বর যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করেছেন, আর ঈশ্বরের আত্মা যদি তোমাদের মধ্যে বাস করেন তবে তিনি তোমাদের মরণশীল দেহকে জীবনময় করবেন৷ ঈশ্বরই যীশুকে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত করেছেন, তাঁর য়ে আত্মা তোমাদের মধ্যে আছে তিনি সেই আত্মার দ্বারা তোমাদের দেহকে সঞ্জীবিত করবেন৷

রোমীয় 8:11

  23 কেবল গোটা বিশ্ব নয়, আমরাও যাঁরা পবিত্র আত্মাকে উদ্ধারের জন্য প্রথম ফলরূপে পেয়েছি, আমাদের দেহের মুক্তিলাভের প্রতীক্ষায় অন্তরে আর্তনাদ করছি৷

রোমীয় 8:23

ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত আত্মা একটি দ্বিতীয় প্রথম ফল, কারণ আত্মা একটি পূর্বস্বাদ – একটি গ্যারান্টি – ‘ঈশ্বরের সন্তানে’ আমাদের রুপান্তরের সম্পূর্ণতা I 

সুসমাচার এক অতুন জীবন প্রদান করে ব্যবস্থাকে পালন করতে চেষ্টা করা-কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার দ্বারা নয় I নাতো সম্পত্তি, মর্যাদা, সম্পদ, এবং পৃথিবীতে অন্য সমস্ত অতিবাহিত আনন্দের মাধ্যমে এটি একটি প্রাচুর্যময় জীবন, যেটিকে সুলেমান এত খালি দেখতে পেয়েছিল I পরিবর্তে, ইঞ্জিল আমাদের হৃদয়ের মধ্যে ঈশ্বরের অন্তর্নিহিত আত্মার দ্বারা এক নতুন এবং প্রাচুর্যময় জীবন প্রদান করে I আল্লাহ যদি অন্তরে থাকতে চান, আমাদের ক্ষমতা এবং নির্দেশ দিতে – সেটিকে শুভ সংবাদ হতেই হবে! তাওরাতের পেন্টেকোষ্ট খামিরের সাথে সেঁকা সুক্ষ রুটির উদযাপনের সাথে এই আসন্ন প্রাচুর্যময় জীবন চিত্রিত হয়েছে I পুরনো এবং নতুন পেন্টেকোষ্টের মধ্যে সূক্ষতা একটি স্পষ্ট লক্ষণ যে আমাদের প্রাচুর্যময় জীবন পাওয়ার জন্য এটি আল্লাহর পরিকল্পনা I

পুনরুত্থিত প্রথম ফল: জীবন আপনার জন্য

সুরা আল-রা’দ (সুরা 13 – বজ্র) অবিশ্বাসীদের থেকে একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ বা সমালোচনা বর্ণনা করে 

যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ-শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল

থাকবে।সুরা আর-রা’দ 13:5,7

5 যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ-শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল থাকবে। 7 কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।

এটি দুটি খন্ডে আসে I সুরা আর-রা’দ 5 আয়াতের মধ্যে অবিশ্বাসীরা জিজ্ঞাসা করে পুনরুত্থান কি কখনও ঘটবে I তদের দৃষ্টিকোণ থেকে, যেহেতু এটি আগে কখনও ঘটেনি, এটি ভবিষ্যতে ঘটবে না I তারপরে তারা জিজ্ঞাসা করে কেন কোনো আশ্চর্যজনক চিহ্ন দেওয়া হল না বৈধ করতে যে একটি পুনরুত্থান ঘটবে I এক প্রকৃত অর্থে তারা বলে, “এটিকে প্রমাণ কর!”   

সুরা আল-ফুরকান (সুরা 25 – মাপদণ্ড) এই একই চ্যালেঞ্জকে একটু অল্প ভিন্নভাবে দেখায় I

তারা তো সেই জনপদের উপর দিয়েই যাতায়াত করে, যার ওপর বর্ষিত হয়েছে মন্দ বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা করে না।

সুরা আল-ফুরকান 25:40-41

40 তারা তো সেই জনপদের উপর দিয়েই যাতায়াত করে, যার ওপর বর্ষিত হয়েছে মন্দ বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা করে না। 41 তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন আপনাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপে গ্রহণ করে, বলে, এ-ই কি সে যাকে আল্লাহ ‘রসূল’ করে প্রেরণ করেছেন?

আসন্ন পুনরুত্থানের কোনো ভয় নেই, নাতো নবী পিবিইউএইচ থেকে I তারা পুনরুত্থান দেখানোর দাবি করে I 

সুরা আল-ফুকরানও প্রকাশিত করে কিভাবে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের দেখেন I

তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।

সুরা আল-ফুরকান 25:3

তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।

সুরা আল-ফুরকান প্রকাশ করে যে লোকেরা প্রায়শই মিথ্যা ঈশ্বরদের গ্রহণ করে I কিভাবে কেউ জানে সত্যের চেয়ে মিথ্যা ঈশ্বর কি? আয়াত উত্তরটি দেয় I মিথ্যা ঈশ্বরেরা ‘মৃত্যু, নাতো জীবন আর নাতো পুনরুত্থানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে’ I একটি পুনরুত্থানকে নিয়ন্ত্রণ করা = যা মিথ্যাকে সত্যের থেকে আলাদা করে I 

বিশ্বাসীদের থেকে আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিতদের কি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হ’ল প্রমাণ করতে উপেক্ষা করতে পারার থেকে কিসে ভয় করা উচিত, বা আল্লার থেকে অবিশ্বাসীদের প্রতি সতর্কতা দেওয়া উচিত কিনা যাতে মিথ্যা নয় সত্যের আরাধনা করা যায়, পরিমাপের মানদণ্ড একই – পুনরুত্থান I

পুনরুত্থানের জন্য প্রয়োজন চূড়ান্ত কর্ত্তৃত্ব এবং ক্ষমতা I নবী সকল আব্রাহাম পিবিইউএইচ, মশি পিবিইউএইচ, দায়ূদ পিবিইউএইচ এবং মোহম্মদ পিবিইউএইচ – যদিও তারা মহান ছিলেন – মৃত্যুর উপরে পুনরুত্থিত হন নি I মানুষদের মধ্যে সবথেকে জ্ঞানী – সক্রেটিস, আইনস্টাইন, নিউটন, এবং শলোমন – কেউই হননি I গ্রীক, রোমীয়, বাইজেন্টাইন, উমাইয়াদ, অব্বিসাদ, মামলুক এবং অটোমান সাম্রাজ্যের সিংহাসনে রাজত্বকারী কোনো সম্রাটরা মৃত্যুকে পরাস্ত করে পুনরুত্থিত হননি I এটি চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ I এটি এমন চ্যালেঞ্জ যার মুখোমুখি হতে ঈসা আল মসীহ পছন্দ করেছিলেন I        

তিনি রবিবারের ভোরের আগে বিজয় অর্জন করেছিলেন I ভোর বেলায় মৃত্যুর উপরে তাঁর বিজয় আপনার এবং আমার জন্যও একটি বিজয় ছিল I এই জগতের দুষ্টতার দ্বারা আমাদের বন্দী হওয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই I যেমন সুরা আল-ফলক (সুরা 113 – দিবসভঙ্গ) অনুরোধ করে: 

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, ()

সুরা আল-ফালাক 113:1-3

1 বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, 2 তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, 3 অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত  হয় I  

এখানে আমরা পর্যালোচনা করব কিভাবে এই নির্দিষ্ট ভোরকে কয়েকশ বছর আগে তাওরাতের প্রথম ফলের উৎসবের পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, এবং কিভাবে ভোরের প্রভু এই জগতের দুষ্টতা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করে I     

ঈসা আল মসীহ এবং তাওরাতের পর্ব সমূহ

ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাবলীকে আমরা সতর্কভাবে অনুসরণ করেছিলাম I সপ্তাহের শেষে তাঁকে একটি পবিত্র যিহূদি উৎসব নিস্তারপর্বের দিনে ক্রুশারোপিত করা হয়েছিল I তারপরে তিনি সপ্তাহের পবিত্র সপ্তম দিনে বিশ্রাম বারের মাধ্যমে মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন I এই পবিত্র দিনগুলো বহু পূর্বে আল্লাহ এবং তাওরাতে নবী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা গঠিত হয়েছিল I আমরা সেই নির্দেশগুলোকে এখানে পড়ি:  

  ভু মোশিকে বললেন,
2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: প্রভুর মনোনীত উত্সবগুলিকে তোমরা পবিত্র সভা বলে ঘোষণা কর| এইগুলি হল আমার নির্দিষ্ট ছুটির দিন:
3 “ছদিন ধরে কাজ কর, কিন্তু সপ্তম দিন কর্মবিরতির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামপর্ব হবে বিশ্রামের বিশেষ দিন| তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না| এটা তোমাদের সকলের বাড়ীতেই প্রভুর জন্য বিশ্রামের দিন হবে|
4 “এগুলি হল প্রভুর মনোনীত নিস্তারপর্ব| তোমরা এগুলির জন্য মনোনীত সমযে পবিত্র সভার কথা ঘোষণা করবে|
5 প্রভুর নিস্তারপর্বের দিন হল প্রথম মাসের 14 দিনের দিন সূর্য়াস্তের সময়|

লেবীয় 23:1-5

এটি কি অদ্ভূত নয় যে ক্রুশারোপন এবং নবী ঈসা আল মসীহর বিশ্রাম উভয়ই 1500 বছর পূর্বে নির্ধারিত পবিত্র উৎসব দুটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায় যেমন কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে? কেন এটি? উত্তরটি আমাদের সকলের কাছে পৌঁছয়, এমনকি যেভাবে আমরা প্রত্যেক দিন একে অপরকে এখন শুভেচ্ছা জানাই I   

ঈসা আল মসীহর মৃত্যু নিস্তার পর্বের উৎসর্গের দিনে ঘটছিল (দিন 6) এবং তাঁর বিশ্রাম বিশ্রাম বারের বিশ্রামের দিনে ঘটেছিল (দিন 7)

নবী ঈসা আল মসীহ এবং তাওরাতের উৎসবগুলোর মধ্যে এই সমন্বয় চলতে থাকে I উপরের তাওরাত থেকে ফিরিস্তি কেবল প্রথম দুটি উৎসব নিয়ে আলোচনা করেছিল I পরের উৎসবটিকে ‘প্রথম ফল’ বলা হত এবং তাওরাত এটির সম্পর্কে এই নির্দেশ দিয়েছিল I  

  9 প্রভু মোশিকে বললেন,
10 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: আমি তোমাদের যে দেশ দেবো তাতে তোমরা প্রবেশ করবে| তোমরা এর শস্য ছেদন করলে শস্যের প্রথম আঁটি ইস্রায়েলেজকের কাছে আনবে|
11 যাজক প্রভুর সামনে সেই আঁটি দোলাবে যেন তোমাদের জন্য তা গ্রাহ্য হয়| যাজক রবিবার সকালে সেই শস্যের আঁটি দোলাবে|
12 “যে দিন তোমরা শস্যের আঁটি দোলাবে, সেদিন তোমরা একটি এক বছর বযসী পুরুষ মেষ উপহার দেবে| সেই মেষের মধ্যে যেন কোন দোষ না থাকে| ঐ মেষটি প্রভুর কাছে হোমবলির নৈবেদ্য হবে|
13 এছাড়া তোমরা অবশ্যই অলিভ তেল মেশানো 16 কাপ মিহি ময়দা শস্য নৈবেদ্য হিসাবে দেবে| এর সাথে দেবে1 কোযার্ট দ্রাক্ষারস| সেই নৈবেদ্যর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে|
14 ঈশ্বরের কাছে তা নৈবেদ্য হিসাবে না আনা পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই কোন নতুন শস্য অথবা ফল বা নতুন শস্য থেকে তৈরী রুটি খাবে না| তোমরা যেখানেই বাস কর না কেন এই বিধি তোমাদের বংশ পরম্পরায চলবে|

লেবীয় 23:9-11,14

অতএব নিস্তারপর্বের ‘বিশ্রামবারের পরের দিন’ একটি তৃতীয় পবিত্র দিন  ছিল I প্রত্যেক বছর এই দিনে মহা যাজক পবিত্র মন্দিরে প্রবেশ করতেন এবং বসন্ত কালের বিশেষ প্রথম পণ্য শস্যকে সদাপ্রভুর সামনে উত্তোলিত করতেন I এটি শীত কালের মৃত্যুর পরে নতুন জীবনের সুচনাকে তাত্পর্যপূর্ণ করত, সামনের প্রাচুর্যপূর্ণ ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকত যাতে লোকেরা খেয়েপরে তৃপ্ত হতে পারে I   

বিশ্রাম বারের পরে ঈসা আল মসীহর মৃত্যুতে বিশ্রামের সময়ে, এটি ঠিক সেই একই দিন ছিল নীসন 16 তারিখের এক নতুন সপ্তাহের রবিবার I ইঞ্জিল এই একই দিনে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর বর্ণনা করে যে মহাযাজক নতুন জীবনের ‘প্রথম ফসল’ উপহার দিতে মন্দিরে গেলেন I এখানে নথিটি রয়েছে:

মৃত্যু থেকে ঈসা আল মসীহর উত্থান

প্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন৷ তাঁরা য়ে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷
2 তাঁরা দেখলেন সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওযা আছে;
3 কিন্তু ভেতরে ঢুকে সেখানে প্রভু যীশুর দেহ দেখতে পেলেন না৷
4 তাঁরা যখন অবাক বিস্ময়ে সেই কথা ভাবছেন, সেই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরে দুজন ব্যক্তি হঠাত্ এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন৷
5 ভয়ে তাঁরা মুখ নীচু করে নতজানু হয়ে রইলেন৷ ঐ দুজন তাঁদের বললেন, ‘যিনি জীবিত, তোমরা তাঁকে মৃতদের মাঝে খুঁজছ কেন?
6 তিনি এখানে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছন৷ তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তোমাদের কি বলেছিলেন মনে করে দেখ৷
7 তিনি বলেছিলেন, মানবপুত্রকে অবশ্যই পাপী মানুষদের হাতে ধরিয়ে দেওযা হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হবে; আর তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যুর মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
8 তখন যীশুর সব কথা তাঁদের মনে পড়ে গেল৷
9 তারপর তাঁরা সমাধিগুহা থেকে ফিরে এসে সেই এগারো জন প্রেরিতকে ও তাঁর অনুগামীদের এই ঘটনার কথা জানালেন৷
10 এই স্ত্রীলোকেরা হলেন মরিয়ম মগ্দলীনী, য়োহানা আর যাকোবের মা মরিয়ম৷ তাঁদের সঙ্গে আরো কয়েকজন এই সব ঘটনা প্রেরিতদের জানালেন৷
11 কিন্তু প্রেরিতদের কাছে সে সব প্রলাপ বলে মনে হল, তাঁরা সেই স্ত্রীলোকদের কথা বিশ্বাস করলেন না৷
12 কিন্তু পিতর উঠে দৌড়ে সমাধিগুহার কাছে গেলেন৷ তিনি নীচু হয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখলেন, কেবল যীশুর দেহে জড়ানো কাপড়গুলো সেখানে পড়ে আছে; আর যা ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন৷
13 ঐ দিনই দুজন অনুগামী জেরুশালেম থেকে সাত মাইল দূরে ইম্মাযু নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন৷
14 এই য়ে সব ঘটনাগুলি ঘটে গেল, য়েতে য়েতে তাঁরা সে বিষয়েই পরস্পর আলোচনা করছিলেন৷
15 তাঁরা যখন এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, এমন সময় যীশু নিজে এসে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন৷
16 ঘটনাটি এমনভাবেই ঘটল যাতে তাঁরা যীশুকে চিনতে না পারেন৷
17 যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা য়েতে য়েতে পরস্পর কি নিয়ে আলোচনা করছ?’তাঁরা থমকে দাঁড়ালেন, তাঁদের খুবই বিপন্ন দেখাচ্ছিল৷
18 তাঁদের মধ্যে ক্লিয়পা নামে একজন তাঁকে বললেন, ‘জেরুশালেমের অধিবাসীদের মধ্যে আমাদের মনে হয় আপনিই একমাত্র লোক, যিনি জানেন না গত কদিনে সেখানে কি কাণ্ডটাই না ঘটে গেছে৷’
19 যীশু তাঁদের বললেন, ‘কি ঘটেছে, তোমরা কিসের কথা বলছ?’ তাঁরা যীশুকে বললেন, ‘নাসরতীয় যীশুর বিষয়ে বলছি৷ তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর কথা ও কাজের শক্তিতে ঈশ্বর ও সমস্ত মানুষের চোখে নিজেকে এক মহান ভাববাদীরূপে প্রমাণ করেছেন৷
20 কিন্তু আমাদের প্রধান যাজকরা ও নেতারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেবার জন্য ধরিয়ে দিল, তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারল৷
21 আমরা আশা করেছিলাম য়ে তিনিই সেই যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন৷ কেবল তাই নয়, আজ তিন দিন হল এসব ঘটে গেছে৷
22 আবার আমাদের মধ্যে কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করে দিলেন৷ তাঁরা আজ খুব ভোরে সমাধির কাছে গিয়েছিলেন;
23 কিন্তু সেখানে তাঁরা যীশুর দেহ দেখতে পান নি৷ সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁরা আমাদের বললেন য়ে তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন পেয়েছেন, আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন য়ে যীশু জীবিত৷
24 এরপর আমাদের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন সেই সমাধির কাছে গিয়েছিলেন; আর তাঁরা দেখলেন স্ত্রীলোকেরা যা বলেছেন তা সত্য৷ কিন্তু তাঁরা যীশুকে সেখানে দেখতে পান নি৷’
25 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা সত্যি কিছু বোঝ না, তোমাদের মন বড়ই অসাড়, তাই ভাববাদীরা যা কিছু বলে গেছেন তোমরা তা বিশ্বাস করতে পার না৷
26 খ্রীষ্টের মহিমায় প্রবেশ লাভের পূর্বে কি তাঁর এইসব কষ্টভোগ করার একান্ত প্রযোজন ছিল না?’
27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷
28 তাঁরা য়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তার কাছাকাছি এলে পর যীশু আরো দূরে যাবার ভাব দেখালেন৷
29 তখন তাঁরা যীশুকে খুব অনুরোধ করে বললেন, ‘দেখুন, বেলা পড়ে গেছে, এখন সন্ধ্যা হয়ে এল, আপনি আমাদের এখানে থেকে যান৷’ তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকবার জন্য ভেতরে গেলেন৷
30 তিনি যখন তাঁদের সঙ্গে খেতে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন৷ পরে সেই রুটি টুকরো টুকরো করে তাঁদের দিলেন৷
31 সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, আর তিনি সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন৷
32 তখন তাঁরা পরস্পর বলাবলি করলেন, ‘তিনি যখন রাস্তায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও শাস্ত্র থেকে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নি?’
33 তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে উঠে জেরুশালেমে গেলেন৷ সেখানে তাঁরা সেই এগারোজন প্রেরিত ও তাদের সঙ্গে আরো অনেককে দেখতে পেলেন৷
34 প্রেরিত ও অন্যান্য যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁরা বললেন, ‘প্রভু, সত্যি জীবিত হয়ে উঠেছেন৷ তিনি শিমোনকে দেখা দিয়েছেন৷’
35 তখন সেই দুজন অনুগামীও রাস্তায় যা ঘটেছিল তা তাঁদের কাছে ব্যক্ত করলেন৷ আর যীশু যখন রুটি টুকরো টুকরো করছিলেন তখন কিভাবে তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন তাও জানালেন৷
36 তাঁরা যখন এসব কথা তাদের বলছেন, এমন সময় যীশু তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক্!’
37 কিন্তু তাঁরা ভয়ে চমকে উঠলেন৷ তাঁরা মনে করলেন বোধ হয় কোন ভূত দেখছেন৷
38 কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত অস্থির হচ্ছ কেন? আর তোমাদের মনে সন্দেহই বা জাগছে কেন?
39 আমার হাত ও পা দেখ, আমার স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷’
40 এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন৷
41 তাঁদের এতই আনন্দ হয়েছিল ও য়ে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না৷ তাঁরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন৷ যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে কি?
42 তাঁরা তাঁকে এক টুকরো ভাজা মাছ দিলেন৷
43 তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনে গেলেন৷
44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’
45 এরপর তিনি তাঁদের বুদ্ধি খুলে দিলেন, য়েন তাঁরা শাস্ত্রের কথা বুঝতে পারেন৷
46 যীশু তাঁদের বললেন, ‘একথা লেখা আছে খ্রীষ্টকে অবশ্যই কষ্ট ভোগ করতে হবে, আর তিনি মৃত্যুর তিন দিনের দিন মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
47 এবং পাপের জন্য অনুশোচনা ও পাপের ক্ষমার কথা অবশ্যই সমস্ত জাতির কাছে ঘোষণা করা হবে, জেরুশালেম থেকেই একাজ শুরু হবে আর তোমরাই এসবের সাক্ষী৷

লুক 24:1-48

ঈসা আল মসীহর বিজয়

 ‘প্রথম ফসলের’ সেই পবিত্র দিনে নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এক মহান বিজয়কে অর্জন করলেন যা তাঁর শত্রু এবং সঙ্গীরা সম্ভব বলে বিশ্বাস করল না – মৃত্যুর উপরে বিজয়ী জীবনে তিনি ফিরে এলেন I যেমন ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে:

  54 এই ক্ষয়শীল দেহ যখন অক্ষয়তার পোশাক পরবে আর এই পার্থিব দেহ যখন অবিনশ্বরতায় ভূষিত হবে তখন শাস্ত্রে য়ে কথা লেখা আছে তা সত্য হবে:‘মৃত্যু জয়ে কবলিত হল৷’
55 ‘মৃত্যু তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু তোমার হুল কোথায়?’
56 মৃত্যুর হুল পাপ আর পাপের শক্তি আসে বিধি-ব্যবস্থা থেকে৷

1 করিন্থীয়ান 15:54-56

তবে এটি নবীর জন্য কেবল একটি বিজয় ছিল না I এটি আপনার এবং আমার জন্যেও একটি বিজয় ছিল, যাকে প্রথম ফসলের সময়ের সাথে গারান্টি দেওয়া হয়েছিল I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করে:

  20 কিন্তু সত্যিই খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, আর য়েসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ফসল৷
21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷
23 কিন্তু প্রত্যেকে তার পালাক্রমে জীবিত হবে; খ্রীষ্ট, যিনি অগ্রনী, তিনি প্রথমে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হলেন, আর এরপর যারা খ্রীষ্টের লোক তারা তাঁর পুনরুত্থানের সময়ে জীবিত হয়ে উঠবে৷
24 এরপর খ্রীষ্ট যখন প্রত্যেক শাসনকর্তার কর্ত্তৃত্ব ও পরাক্রমকে পরাস্ত করে পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন তখন সমাপ্তি আসবে৷
25 কারণ যতদিন না ঈশ্বর তাঁর সমস্ত শত্রুকে খ্রীষ্টের পদানত করছেন, ততদিন খ্রীষ্টকে রাজত্ব করতে হবে৷
26 শেষ শত্রু হিসেবে মৃত্যুও ধ্বংস হবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:20-26

প্রথম ফসলের উৎসব হিসাবে সেই একই দিনে নবীকে জীবনে উত্থাপিত করা হ’ল যাতে আমরা জানতে পারি যে আমরা মৃত্যু থেকে এই একই পুনরুত্থানে অংশগ্রহণ করতে পারি I ঠিক প্রথম ফসলের উৎসবের ন্যায় নতুন জীবনের একটি উপহার ছিল সাথে পরবর্তী সময়ের বসন্তকালের প্রচুর ফসলের আশা ছিল, ইঞ্জিল আমাদের বলে যে ঈসা আল মসীহর উত্থান পুনরুত্থানের ‘প্রথম ফসল’ ছিল সাথে পরে সকলের জন্য এক বৃহত্তর পুনরুত্থানের আশা ছিল  যারা ‘তাঁর মধ্যে থাকে’ I তাওরাত এবং কোরআন ব্যাখ্যা করে সেই মৃত্যু আদমের কারণে এসেছিল I ইঞ্জিল আমাদের বলে যে এক সমান্তরাল উপায়ে পুনরুত্থানের জীবন ঈসা আল মসীহর মাধ্যমে আসে I তিনি নতুন জীবনের প্রথম ফল যাতে অংশগ্রহণ করতে আমাদের সকলকে আমন্ত্রণ করা হয় I         

ইস্টার: সেই রবিবারের পুনরুত্থানের উৎসব পালন করা 

আজ ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানকে প্রায়শই ইস্টার রূপে উল্লেখ করা হয়, এবং যে রবিবারে তিনি উঠেছিলেন তাকে ইস্টার রবিবার বলে প্রায়শই উল্লেখ করা হয় I তবে এই কথাগুলো কয়েকশত বছর পরে ব্যবহারে  এসেছিল I নির্দিষ্ট কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয় I যেটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তা হ’ল প্রথম ফসলের পরিপূর্ণতা হিসাবে নবীর পুনরুত্থান যার সূচনা কয়েক শত বছর পূর্বে মশির সময়ে শুরু হয়েছিল, এবং এটি আপনার এবং আমার জন্য কি বোঝায় I

কালপঞ্জির মধ্যে নতুন সপ্তাহের রবিবারের জন্য এটিকে দেখা যায়:

ঈসা আল মসীহ প্রথম ফসলের দিনে মৃত্যু থেকে ওঠেন – আপনাকে ও আমাকে মৃত্যু থেকে নতুন জীবনের উপহার দেন I

 ‘শুভ শুক্রবার’ এর উত্তর

এছাড়াও এটি ‘শুভ শুক্রবার’ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেয় I যেমন ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে:

  9 কিন্তু আমরা যীশুকে দেখেছি, য়াঁকে অল্পক্ষণের জন্য স্বর্গদূতদের থেকে নীচে স্থান দেওয়া হয়েছিল৷ সেই যীশুকেই এখন সম্মান আর মহিমার মুকুট পরানো হয়েছে৷ কারণ তিনি মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকল মানুষের জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন৷

ইব্রীয় 2:9

যখন তিনি শুক্রবারে ‘মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করলেন’ তিনি তা আপনার, আমার এবং ‘প্রত্যেকের’ জন্য করলেন I যেহেতু এটি আমাদের জন্য শুভ ছিল তাই এর নাম শুভ শুক্রবার I প্রথম ফসল উৎসবের দিনে যখন তিনি উঠলেন তখন তিনি প্রত্যেককে নতুন জীবন উপহার দিলেন I  

কোরআনের মধ্যে ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান এবং শান্তি

যদিও সংক্ষিপ্ত বিবরণে দেওয়া হয়েছে, কোরআন ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানকে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে চিহ্নিত করেছে I সুরা মারইয়ম এটির এইভাবে ফিরিস্তি দেয়:

  আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।

সুরা মারইয়ম 19:33

ইঞ্জিল এছাড়াও ঈসা আল মসীহর জন্ম, তাঁর মৃত্যু এবং এখন তাঁর পুনরুত্থানের উপরে জোর দেয় I যেহেতু তাঁর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’, সেইহেতু শান্তি যা তাঁর পুনরুত্থানের মধ্যে নবীর উপরে ছিল তা এখন আপনার এবং আমার কাছেও উপলব্ধ আছে I ঈসা আল মসীহ এটিকে দেখিয়েছিলেন যখন তিনি পরে তাঁর পুনরুত্থানের দিনে তাঁর শিষ্যদের শভেচ্ছা জানিয়েছিলেন:

  19 দিনটা ছিল রবিবার, সেদিন সন্ধ্যায় শিষ্যরা একটি ঘরে জড়ো হলেন৷ ইহুদীদের ভয়ে তাঁরা ঘরের দরজায় চাবি দিয়ে দিলেন৷ এমন সময় যীশু এসে তাঁদের মাঝে দাঁড়ালেন, আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক৷’
20 একথা বলার পর তিনি তাঁদেরকে তাঁর হাত ও পাঁজরের পাশটা দেখালেন৷ শিষ্যেরা প্রভুকে দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলেন৷
21 এরপর যীশু আবার তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক! পিতা য়েমন আমাকে পাঠিয়েছেন, আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি৷’
22 এই বলে তিনি তাঁদের ওপর ফুঁ দিলেন, আর বললেন, ‘তোমরা পবিত্র আত্মা গ্রহণ কর৷

যোহন 20:19-22

প্রথাগত শুভেচ্ছা যাকে মুসলমানরা এখন একে অপরের প্রতি প্রসারিত করে (সালাম আলেক্যুম – আপনার উপরে শান্তি হোক) তা তাঁর পুনরুত্থানকে শান্তির সঙ্গে সংযুক্ত করতে ঈসা আল মসীহর দ্বারা বহু পূর্বে ব্যবহৃত হত, যে শান্তিকে এখন আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I আমাদের নবীর এই প্রতিশ্রুতিটিকে যখন আমরা শুনি বা এই শুভেচ্ছাকে বলি প্রত্যেক সময় মনে রাখা উচিত, এবং পবিত্র আত্মার বরদানের সম্বন্ধে চিন্তা করা উচিত, যা এখন আমাদের কাছেও উপলব্ধ রয়েছে I    

ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানের বিবেচনা

ঈসা আল মসীহ তাঁর সঙ্গীদের কাছে মৃত্যুর থেকে জীবিত হয়ে অনেক দিন ধরে নিজেকে দেখালেন I এই ঘটনাগুলোকে ইঞ্জিল থেকে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে I তবে এমনকি তাঁর শিষ্যদের কাছে প্রথম উপস্থিতিতে আমাদের তা লক্ষ্য করা উচিত I

…তাদের কাছে অর্থহীন মনে হত

লুক 24:10

নবীকে নিজেই করতে হয়েছিল:

27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷  

লুক 24:27

এবং আবার তার পরে:

  44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

আমরা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি এটি কি বাস্তবিকই আল্লাহর পরিকল্পনা এবং সরাসরিভাবে আমাদেরকে মৃত্যুর থেকে জীবন দেয়? কেবলমাত্র ঈশ্বর ভবিষ্যত জানতে পারেন, তাই তাওরাত এবং যাবুরে কয়েক শত বছর পূর্বে নবীদের মাধ্যমে চিহ্নগুলো প্রকাশিত হয়েছিল, এবং ঈসা আল মসীহর পূর্ণতা  আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়ার জন্য লেখা হয়েছিল:

  4 যার ফলে আপনি জানবেন, য়ে বিষয়গুলি আপনাকে জানানো হয়েছে সেগুলি সত্য৷

লুক 1:4

যার দ্বারা ঈসা আল মসীহর বলিদান এবং পুনরুত্থানের এই অত্যাবশক প্রশ্নটির উপরে আমরা অবহিত হতে পারি, তা উপলব্ধ চারটি বিভিন্ন নিবন্ধকে সংযুক্ত করে:

1. এটি ঈসা আল মসীহর প্রতি ইঙ্গিতকারী মশির তাওরাতে দেওয়া চিহ্নগুলোকে পর্যালোচনা করে I

2. এটি ‘নবী সমূহ এবং গীতসংহিতার মধ্যে চিহ্নগুলোকে পর্যালোচনা করে I এই নিবন্ধ দুটি আমাদের নিজেদের জন্য বিচার করতে অনুমতি দেয় এটি কি বাস্তবিকই লেখা হয়েছিল যে “মসীহ কষ্টভোগ করবেন  এবং তৃতীয় দিনে মৃত্যু থেকে উঠবেন”

লুক 24:46

3. এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে ঈসা আল মসীহর থেকে পুনরুত্থিত জীবনের এই উপহারটিকে পাওয়া যায় I

4 এটি পবিত্র কোরআন এ সম্পর্কে যা বলেছে তার পর্যালোচনা করার দ্বারা, ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তির সমাধান করে I        


দিন 7 – বিশ্রামবারের বিশ্রাম

নবী ঈসা আল মসীহকে যিহূদির পবিত্র দিনে, এখন শুভ শুক্রবার বলে পরিচিত বিশ্বাসঘাত এবং ক্রুশারোপন করা হয়েছিল I নিস্তারপর্ব বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সময় শুরু হয়েছিল এবং শুক্রবার সূর্যাস্তে শেষ হয়েছিল –  সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনে I সেই দিনের শেষ ঘটনা মৃত নবীর সমাধি কার্য ছিল I ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে কিভাবে নবীর অনুসরণকারী মহিলারা এটিকে প্রত্যক্ষ্য করেছিল I

55 য়ে স্ত্রীলোকেরা যীশুর সঙ্গে সঙ্গে গালীল থেকে এসেছিলেন, তাঁরা য়োষেফের সঙ্গে গেলেন, আর সেই সমাধিটি ও তার মধ্যে কিভাবে যীশুর দেহ শাযিত রাখা হল তা দেখলেন৷
56 এরপর তাঁরা বাড়ি ফিরে গিয়ে বিশেষ এক ধরণের সুগন্ধি তেল ও মশলা তৈরী করলেন৷ বিশ্রামবারে তাঁরা বিধি-ব্যবস্থা অনুসারে কাজকর্ম বন্ধ রাখলেন৷

লুক 23:55-56

মহিলারা নবীর দেহকে প্রস্তত করতে চেয়েছিল তবে সময় কম পড়ে গিয়েছিল এবং বিশ্রাম আরম্ভ হয়ে গিয়েছিল সূর্যাস্তে শুক্রবার সন্ধ্যায় I এটি সপ্তাহের সপ্তম দিন ছিল এবং যিহূদিদের এই দিনে কাজ করার অনুমতি ছিল না I এই আজ্ঞা তাওরাতের মধ্যে পেছনে সৃষ্টির বিবরণে নিয়ে গেল I আল্লাহ 6  দিনগুলোতে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন I তাওরাত ব্যক্ত করল:  

  ইভাবে পৃথিবী, আকাশ এবং তাদের আভ্যন্তরীণ যাবতীয় জিনিস সম্পূর্ণ হল|
2 য়ে কাজ ঈশ্বর শুরু করেছিলেন তা শেষ করে সপ্তম দিনে তিনি বিশ্রাম নিলেন|

আদিপুস্তক 2:1-2

তাই মহিলারা, যদিও তারা চেয়েছিল তাঁর দেহকে প্রস্তুত করতে, তাওরাতের প্রতি বাধ্য ছিল এবং বিশ্রাম করল I 

তবে মহা যাজকরা বিশ্রাম বারে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকল I দেশাধ্যক্ষ্যের সাথে তাদের সভাগুলোকে ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে I 

 

62 পরের দিন, যখন শুক্রবার শেষ হল, অর্থাত্ প্রস্তুতি পর্বের পরের দিন, প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা গিয়ে পীলাতের সঙ্গে দেখা করল৷
63 তারা বলল, ‘হুজুর, আমাদের মনে পড়ছে সেই প্রতারক তাঁর জীবনকালে বলেছিল, ‘আমি তিনদিন পরে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হব৷’
64 তাই আপনি হুকুম দিন য়েন তিন দিন কবরটা পাহারা দেওযা হয়, তা না হলে ওর শিষ্যরা হয়তো এসে দেহটা চুরি করে নিয়ে গিয়ে বলবে, তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন; তাহলে প্রথমটার চেয়ে শেষ ছলনাটা আরো খারাপ হবে৷’
65 পীলাত তাদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে পাহারা দেবার লোক আছে, তোমরা গিয়ে যত ভালভাবে পারো পাহারা দেবার ব্যবস্থা কর৷’
66 তখন তারা সকলে গিয়ে কবরের মুখের সেই পাথররাশির উপর সীলমোহর করল ও সেখানে একদল প্রহরী মোতায়েন করে সমাধিটি সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করল৷

মথি 27:62-66

যাতে করে বিশ্রামবার মহা যাজকদেরকে একজন প্রহরীর দ্বারা সমাধিটিতে  দেহের চারপাশে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে দেখল I নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ দেহ মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম নিল যখন মহিলারা পবিত্র সপ্তাহের সেই বিশ্রাম বারের বাধ্যতায় বিশ্রাম নিল I কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে তাদের বিশ্রামের সেই দিন সৃষ্টির সপ্তম দিনকে প্রতিবিম্বিত করে যেখানে তাওরাত বলে আল্লাহ সৃষ্টির থেকে বিশ্রাম নিলেন I     

বিশ্রামবার নবী ঈসা আল মসীহর জন্য মৃত্যুর বিশ্রাম  

তবে এটি শক্তি প্রদর্শনের আগে কেবল শান্ত বিশ্রাম ছিল I সুরা আল-ফজর (সুরা 89 – ভোর) আমাদের মনে করিয়ে দেয় একটি অন্ধকার রাত্রির পরে ভোর কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে I দিনের বিরতি অদ্ভূত জিনিসগুলো প্রকাশ করতে পারে ‘তাদের জন্য যারা বুঝতে পারে’ I  

 শপথ ফজরের,শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার,যা জোড় ও যা বিজোড়এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকেএর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে।

আমরা দেখি পরের দিনের বিরতি কি প্রকাশ করে I 

সুরা আল-ফজর 89: 1-5

দিন 6 – ঈসা আল মসীহ এবং শুভ শুক্রবার

সুরা 62 (সমাবেশ, শুক্রবার – আল-জুমু’আহ আমাদের বলে যে মুসলমানের জন্য প্রার্থনার দিন শুক্রবার I আল-জুমূ’আহ প্রথমে একই চ্যালেঞ্জ দেয় – যেটিকে নবী ঈসা পিবিইউএইচ মসীহ হিসাবে তাঁর ভূমিকার মধ্যে স্বীকার করেছিলেন I শুক্রবারকে প্রার্থনার দিন বলে ঘোষনা করার ঠিক পূর্বে, আল-জুমু’আহ ঘোষনা করল:   

বলুন হে ইহুদীগণ, যদি তোমরা দাবী কর যে, তোমরাই আল্লাহর বন্ধু-অন্য কোন মানব নয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা কর যদি তোমরা সত্যবাদী হও।তারা নিজেদের কৃতকর্মের কারণে কখনও মৃত্যু কামনা করবে না। আল্লাহ জালেমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

সুরা 62 আল- জুমু’আহ: 6-7

জুমু’আহর মধ্যে এই আয়াতগুলোর অর্থ হল যে আমরা আল্লাহর প্রকৃত বন্ধু তাহলে  আমাদের কোনো মৃত্যু ভয় থাকবে না I তবে যেহেতু তাদের (এবং আমরা) মধ্যে আমাদের উত্তম কার্যগুলো সম্বন্ধে সন্দেহ আছে আমরা বড় মূল্য দিয়ে মৃত্যুকে এড়িয়ে চলি I তবে এই শুক্রবারের দিনে – তাঁর শেষ সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনে, একজন যিহূদি হিসাবে ঈসা আল মসীহ এই সঠিক পরীক্ষাটির সম্মুখীন হলেন – এবং তিনি এটি প্রার্থনা দিয়ে শুরু করলেন I ইঞ্জিল নবীর সম্পর্কে যেমন ব্যাখ্যা করে:   

  37 এরপর তিনি পিতর ও সিবদিয়ের দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলতে থাকলেন৷ য়েতে য়েতে তাঁর মন উদ্বেগ ও ব্যথায় ভরে গেল, তিনি অভিভূত হয়ে পড়লেন৷
38 তখন তিনি তাদের বললেন, ‘দুঃখে আমার হৃদয় ভেঙ্গে যাচ্ছে৷ তোমরা এখানে থাক আর আমার সঙ্গে জেগে থাকো৷’
39 পরে তিনি কিছু দূরে গিয়ে মাটিতে উপুড় হয়ে পড়ে প্রার্থনা করে বললেন, ‘আমার পিতা, যদি সন্ভব হয় তবে এই কষ্টের পানপাত্র আমার কাছ থেকে দূরে যাক; তবু আমার ইচ্ছামতো নয়, কিন্তু তোমারই ইচ্ছা পূর্ণ হোক্৷’

মথি 26:37-39

এই শুক্রবারের ঘটনাগুলোকে চালিয়ে যাওয়ার পূর্বে, আমরা এই শুক্রবারের প্রার্থনার অভিমুখে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলোকে পর্যালোচনা করব I আমাদের প্রকাশ্য শত্রু, শয়তান পঞ্চম দিনে নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ বিশ্বাসঘাতকতা করতে যুদার ভেতরে প্রবেশ করল I ষষ্ঠ দিনের পরবর্তী সন্ধ্যায় নবী তার শেষ নৈশ ভোজ তার সঙ্গীদের (তাঁর শিষ্য বলেও ডাকা হয়) সাথে ভাগ করলেন I সেই ভোজনে তিনি উদাহরণ এবং শিক্ষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করলেন কিভাবে আমাদের একে অপরকে প্রেম করা উচিত এবং আমাদের জন্য ঈশ্বরের মহান প্রেম সম্পর্কে I ঠিক কিভাবে তিনি এটি করলেন তা ইঞ্জিল থেকে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে I তারপরে তিনি সকল বিশ্বাসীদের জন্য প্রার্থনা করলেন – যাকে আপনি এখানে পড়তে পারেন I     

তাঁর শুক্রবারের প্রার্থনার পরে যা ঘটল সেই সম্বন্ধে ইঞ্জিল বর্ণনা করে:

বাগানের মধ্যে গ্রেফতার

  ই প্রার্থনার পর যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে কিদ্রোণ উপত্যকার ওপারে চলে গেলেন৷ সেখানে একটি বাগান ছিল৷ যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে সেই বাগানের মধ্যে ঢুকলেন৷
2 যীশু তাঁর শিষ্যদের নিয়ে প্রায়ই সেখানে আসতেন৷ এইজন্য যিহূদা সেই স্থানটি জানত৷ এই যিহূদা যীশুর সঙ্গে প্রতারণা করেছিল৷
3 সে ফরীশীদের ও প্রধান যাজকদের কাছ থেকে একদল সৈনিক ও কিছু রক্ষী নিয়ে সেখানে এল৷ তাদের হাতে ছিল মশাল, লন্ঠন ও নানা অস্ত্র৷
4 তখন যীশু, তাঁর প্রতি কি ঘটতে চলেছে সে সবই তাঁর জানা থাকার ফলে এগিয়ে গিয়ে বললেন, ‘তোমরা কাকে খুঁজছ?’
5 তারা তাঁকে বলল, ‘নাসরতীয় যীশুকে৷’যীশু বললেন, ‘আমিই তিনি৷’ য়ে যিহূদা যীশুর বিরুদ্ধে গিয়েছিল সেও তাদেরই সঙ্গে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল৷
6 তিনি যখন তাদের বললেন, ‘আমিই তিনি৷’ তখন তারা পিছু হটে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল৷
7 তাই আবার একবার তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কাকে খুঁজছ?’তারা বলল, ‘নাসরতীয় যীশুকে৷’
8 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমি তো তোমাদের আগেই বলেছি, ‘আমিই তিনি৷’ সুতরাং যদি তোমরা আমাকেই খুঁজছ, তাহলে এদের য়েতে দাও৷’
9 এটা ঘটল যাতে তাঁর আগের বক্তব্য যথার্থ প্রতিপন্ন হয়, ‘তুমি আমায় যাদের দিয়েছ তাদের কাউকে আমি হারাই নি৷’
10 তখন শিমোন পিতরের কাছে একটা তরোয়াল থাকায় তিনি সেটা টেনে বের করে মহাযাজকের চাকরকে আঘাত করে তার ডান কান কেটে ফেললেন৷ সেই চাকরের নাম মল্ক৷
11 তখন যীশু পিতরকে বললেন, ‘তোমার তরোযাল খাপে ভরো, য়ে পানপাত্র পিতা আমায় দিয়েছেন, আমাকে তা পান করতেই হবে৷’
12 এরপর সৈন্যরা ও তাদের সেনাপতি এবং ইহুদী রক্ষীরা যীশুকে গ্রেপ্তার করে বেঁধে প্রথমে হাননের কাছে নিয়ে গেল৷
13 সেই বছর যিনি মহাযাজক ছিলেন৷ সেই কায়াফার শ্বশুর এই হানন৷

যোহন 18:1-13

যিরূশালেমের ঠিক বাইরে নবী বাগানের মধ্যে প্রার্থনা করতে গেলেন I সেখানে যুদাস তাকে গ্রেফতার করার জন্য সৈন্যদের নিয়ে এল I আমাদের যদি  গ্রেফতারের সম্মুখীন হতে হয় তবে আমরা হয়ত সংঘর্ষ করতে, দৌড়াতে বা লুকোতে চেষ্টা করি I কিন্তু নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সংঘর্ষ বা দৌড় কিছুই করেন নি I তিনি খুব স্পষ্টভাবে স্বীকার করলেন যে র্তিনিই বাস্তবিক  সেই নবী যাকে তারা খুঁজছে I তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি (“আমিই সে”) সৈন্যদের হতচকিত করল এবং তাঁর সঙ্গীরা পলায়ন করল I নবী গ্রেফতার হতে সমর্পণ করলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হাননের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হ’ল I 

প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ

নবীকে সেখানে কিভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে:

  19 এরপর মহাযাজক যীশুকে তাঁর শিষ্যদের বিষয়ে ও তাঁর শিক্ষার বিষয়ে প্রশ্ন করতে লাগলেন৷
20 যীশু এর উত্তরে তাঁকে বললেন, ‘আমি সর্বদাই সকলের কাছে প্রকাশ্যে কথা বলেছি৷ আমি মন্দিরের মধ্যে ও সমাজ-গৃহেতে য়েখানে ইহুদীরা একসঙ্গে সমবেত হয় সেখানে সব সময় শিক্ষা দিয়েছি৷ আর আমি কখনও কোন কিছু গোপনে বলিনি৷
21 তোমরা আমায় কেন সে বিষয়ে প্রশ্ন করছ? যাঁরা আমার কথা শুনেছে তাদেরই জিজ্ঞেস কর আমি তাদের কি বলেছি৷ আমি কি বলেছি তারা নিশ্চয়ই জানবে!’
22 তিনি যখন একথা বলছেন, তখন সেই মন্দির রক্ষীবাহিনীর একজন য়ে সেখানে দাঁড়িয়েছিল সে যীশুকে এক চড় মেরে বলল, ‘তোর কি সাহস, তুই মহাযাজককে এরকম জবাব দিলি!’
23 এর উত্তরে যীশু তাকে বললেন, ‘আমি যদি অন্যায় কিছু বলে থাকি, তবে সকলকে বল কি অন্যায় বলেছি; কিন্তু আমি যদি সত্যি কথা বলে থাকি তাহলে তোমরা আমায় মারছ কেন?’
24 এরপর হানন, যীশুকে মহাযাজক কায়াফার কাছে পাঠিয়ে দিলেন৷ যীশু তখনও বাঁধা অবস্থায় ছিলেন৷

যোহন 18:19-24

নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ পূর্ব মহা যাজকের থেকে সেই বছরের মহা যাজকের কাছে এক দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠানো হ’ল I   

দ্বিতীয় জিজ্ঞাসাবাদ

সেখানে তাঁকে সমস্ত নেতাদের সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে I ইঞ্জিল এই আরও  জিজ্ঞাসাবাদকে লিপিবদ্ধ করে:

  53 তখন তারা যীশুকে মহাযাজকের কাছে নিয়ে এল৷ প্রধান যাজকরা, বয়স্ক ইহুদী নেতারা এবং ব্যবস্থার শিক্ষকরা সকলে এক জায়গায় জড়ো হলেন৷
54 আর পিতর দূরে দূরে থেকে যীশুর পেছনে য়েতে য়েতে মহাযাজকের উঠোন পর্যন্ত গেলেন এবং রক্ষীদের সঙ্গে বসে আগুন পোহাতে লাগলেন৷
55 তখন প্রধান যাজকরা এবং মহাসভার সকলেই এমন একজন সাক্ষী খুঁজছিলেন যার কথার জোরে যীশুকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়; কিন্তু তেমন সাক্ষ্য তারা পেলেন না৷
56 কারণ অনেকে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিল বটে কিন্তু তাদের সাক্ষ্য মিলল না৷
57 তখন কিছু লোক তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে বলল,
58 ‘আমরা তাঁকে বলতে শুনেছি, ‘মানুষের হাতে তৈরী এই মন্দিরটি ভেঙ্গে ফেলব এবং তিন দিনের মধ্যে মানুষের হাত দিয়ে তৈরী নয় এমনই একটি মন্দির আমি গড়ে তুলব৷”
59 কিন্তু এতেও তাদের সাক্ষ্যের প্রমাণ মিলল না৷
60 তখন মহাযাজক সকলের সামনে দাঁড়িয়ে যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি কিছুই উত্তর দেবে না? এই সমস্ত লোকরা তোমার বিরুদ্ধে কি সাক্ষ্য দিচ্ছে?’
61 কিন্তু তিনি চুপচাপ থাকলেন, কোন উত্তর দিলেন না৷ আবার মহাযাজক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি সেই পরম খ্রীষ্ট পরম ধন্য, ঈশ্বরের পুত্র?’
62 যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিই ঈশ্বরের পুত্র৷ তোমরা একদিন মানবপুত্রকে ঈশ্বরের ডানপাশে বসে থাকতে আকাশের মেঘে আবৃত হয়ে আসতে দেখবে৷’
63 তখন মহাযাজক তাঁর পোশাক ছিঁড়ে বললেন, ‘আমাদের সাক্ষীর আর কি প্রযোজন?
64 তোমরা তো ঈশ্বর নিন্দা শুনলে৷ তোমাদের কি মনে হয়?’ তারা সকলে তাঁকে দোষী স্থির করে বলল, ‘এঁর মৃত্যুদণ্ড হওযা উচিত৷’
65 তখন কেউ কেউ তাঁর মুখে থুথু ছিটিয়ে দিল, তাঁর মুখ ঢেকে ঘুষি মারল এবং বলতে লাগল, ‘ভাববাণী করে বল তো, কে তোমাকে ঘুষি মারল?’ পরে রক্ষীরা তাঁকে মারতে মারতে নিয়ে গেল৷

মার্ক 14:53-65

যিহূদি নেতারা নবী ঈসা আল মসীহকে মৃত্যু দণ্ডে দণ্ডিত করল I তবে যেহেতু যিরূশালেম রোমের দ্বারা শাসিত হত, একটি মৃত্যুদন্ড কেবলমাত্র রোমীয় অধ্যক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে পারত I অতএব তারা নবীকে রোমীয় অধ্যক্ষ পন্তীয় পীলাতের কাছে নিয়ে গেল I ইঞ্জিল আবারও লিপিবদ্ধ করে সেই একই সময়ে যুদাস ইস্করিতীয়র সাথে কি ঘটল, একজন যে তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল I   

বিশ্বাসঘাতক যুদাসের প্রতি কি ঘটল?

  র হলে প্রধান যাজকরা ও সমাজপতিরা সবাইমিলেযীশুকে হত্যা করার চক্রান্ত করল৷
2 তারা তাঁকে বেঁধে রোমীয় রাজ্যপাল পীলাতের কাছে হাজির করল৷
3 যীশুকে শত্রুদের হাতে য়ে ধরিয়ে দিয়েছিল, সেই যিহূদা যখন দেখল যীশুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তখন তার মনে খুব ক্ষোভ হল৷ সে তখন যাজকদের ও সমাজপতিদের কাছে গিয়ে সেই ত্রিশটা রূপোর টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
4 ‘একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করার জন্য আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে তাঁর প্রতি আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি, আমি মহাপাপ করেছি৷ইহুদী নেতারা বলল, ‘তাতে আমাদের কি? তুমি বোঝগে যাও৷’
5 তখন যিহূদা সেই টাকা মন্দিরের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিল, পরে বাইরে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে মরল৷
6 প্রধান যাজকরা সেইরূপোর টাকাগুলি কুড়িয়ে নিয়ে বললেন, ‘মন্দিরের তহবিলে এই টাকা জমা করা আমাদের বিধি-ব্যবস্থা বিরুদ্ধ কাজ, কারণ এটা খুনের টাকা৷’
7 তাই তারা পরামর্শ করে ঐ টাকায় কুমোরদের একটা জমি কিনলেন৷ য়েন জেরুশালেমে য়েসব বিদেশী মারা যাবে, তাদের সেখানে কবর দেওযা য়েতে পারে৷
8 সেই জন্য ঐ কবরখানাকে আজও লোকে ‘রক্তক্ষেত্র’ বলে৷

মথি 27:1-8

রোমীয় অধ্যক্ষের দ্বারা ঈসা আল মসীহকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হ’ল

  11 এদিকে যীশুকে রাজ্যপালের সামনে হাজির করা হল; রাজ্যপাল যীশুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কি ইহুদীদের রাজা?’যীশু বললেন, ‘হ্যাঁ, আপনি য়েমন বললেন৷’
12 কিন্তু প্রধান যাজকরা ও ইহুদী নেতারা সমানে যখন তাঁর বিরুদ্ধে দোষ দিচ্ছিল, তখন তিনি তার একটারও জবাব দিলেন না৷
13 তখন পীলাত তাঁকে বললেন, ‘ওরা, তোমার বিরুদ্ধে কত দোষ দিচ্ছে, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না?’
14 কিন্তু যীশু তাঁকে কোন জবাব দিলেন না, এমন কি তাঁর বিরুদ্ধে একটা অভিযোগেরও উত্তর দিলেন না, এতে পীলাত আশ্চর্য হয়ে গেলেন৷
15 রাজ্যপালের রীতি অনুসারে প্রত্যেক নিস্তারপর্বের সময় জনসাধারণের ইচ্ছানুযাযী য়ে কোন কয়েদীকে তিনি মুক্ত করে দিতেন৷
16 সেই সময় বারাব্বানামে এক কুখ্যাত আসামী কারাগারে ছিল৷
17 তাই লোকরা সেখানে একসঙ্গে জড়ো হলে পীলাত তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের জন্য আমি কাকে ছেড়ে দেব? তোমরা কি চাও, বারাব্বাকে বা যীশু, যাকে খ্রীষ্ট বলে তাকে?’
18 কারণ পীলাত জানতেন, তারা যীশুর ওপর ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে তাঁকে ধরিয়ে দিয়েছিল৷
19 পীলাত যখন বিচার আসনে বসে আছেন, সেই সময় তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলে পাঠালেন, ‘ঐ নির্দোষ লোকটির প্রতি তুমি কিছু করো না, কারণ রাত্রে স্বপ্নে আমি তাঁর বিষয়ে যা দেখেছি তাতে আজ বড়ই উদ্বেগে কাটছে৷’
20 কিন্তু প্রধান যাজকরা ও ইহুদী নেতারা জনতাকে প্ররোচনা দিতে লাগল, য়েন তারা বারাব্বাকে ছেড়ে দিতে ও যীশুকে মৃত্যুদণ্ড দেওযার কথা বলে৷
21 তখন রাজ্যপাল তাদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই দুজনের মধ্যে তোমরা কাকে চাও য়ে আমি তোমাদের জন্য ছেড়ে দিই?’ তারা বলল, ‘বারাব্বাকে!’
22 পীলাত তখন তাদের বললেন, ‘তাহলে যীশু যাকে মশীহ বলে তাকে নিয়ে কি করব?’তারা সবাইবলল, ‘ওকে ক্রুশে দেওযা হোক৷’
23 পীলাত বললেন, ‘কেন? ও কি অন্যায় করেছে?’ কিন্তু তারা তখন আরো জোরে চিত্‌কার করতে লাগল, ‘ওকে ক্রুশে দাও, ক্রুশে দাও!’
24 পীলাত যখন দেখলেন য়ে তাঁর চেষ্টার কোন ফল হল না, বরং আরো গোলমাল হতে লাগল, তখন তিনি জল নিয়ে লোকদের সামনে হাত ধুয়ে বললেন, ‘এই লোকের রক্তপাতের জন্য আমি দাযী নই৷’ এটা তোমাদেরইদায়৷
25 এই কথার জবাবে লোকেরা সমস্বরে বলল, ‘আমরা ও আমাদের সন্তানরা ওব রক্তের জন্য দাযী থাকব৷’
26 তখন পীলাত তাদের জন্য বারাব্বাকে ছেড়ে দিলেন; কিন্তু যীশুকে চাবুক মেরে ক্রুশে দেবার জন্য সঁপে দিলেন৷

মথি 27:11-26

নবী ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন, মৃত্যু এবং সমাধি  

ইঞ্জিল তখন অনেক বিস্তৃত ভাবে লিপিবদ্ধ করে কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহকে ক্রুশবিদ্ধ করা হ’ল I এখানে বিবরণটি রয়েছে:

  27 এরপর রাজ্যপালের সেনারা যীশুকে রাজভবনের সভাগৃহে নিয়ে গিয়ে সেখানে সমস্ত সেনাদলকে তাঁর চারধারে জড়ো করল৷
28 তারা যীশুর পোশাক খুলে নিল, আর তাঁকে একটা লাল রঙের পোশাক পরাল৷
29 পরে কাঁটা লতা দিয়ে একটা মুকুট তৈরী করে তা তাঁর মাথায় চেপে বসিয়ে দিল, আর তাঁর ডান হাতে একটা লাঠি দিল৷ পরে তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল, ‘ইহুদীদের রাজা, দীর্ঘজীবি হোন্!’
30 তারা তাঁর মুখে থুথু দিল ও তাঁর লাঠিটি নিয়ে তাঁর মাথায় মারতে লাগল৷
31 এইভাবে তাঁকে বিদ্রূপ করবার পর তারা সেইপোশাকটি তাঁর গা থেকে খুলে নিয়ে তাঁর নিজের পোশাক আবার পরিয়ে দিল, তারপর তাঁকে ক্রুশে দেবার জন্য নিয়ে চলল৷
32 সৈন্যরা যখন যীশুকে নিয়ে নগরের বাইরে যাচ্ছে, তখন পথে শিমোন নামে কুরীশীয় অঞ্চলের একজন লোককে দেখতে পেয়ে যীশুর ক্রুশ বইবার জন্য তাকে তারা জোর করে বাধ্য করল৷
33 পরে তারা ‘গলগথা’ নামে এক জায়গায় এসে পৌঁছল৷ ‘গলগথা’ শব্দটির অর্থ ‘মাথার খুলিস্থান৷’
34 সেখানে পৌঁছে তারা যীশুকে মাদক দ্রব্য মেশানো তিক্ত দ্রাক্ষারস পান করতে দিল; কিন্তু তিনি তা সামান্য আস্বাদ করে আর খেতে চাইলেন না৷
35 তারা তাঁকে ক্রুশে দিয়ে তাঁর জামা কাপড় খুলে নিয়ে ঘুঁটি চেলে সেগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল৷
36 আর সেখানে বসে যীশুকে পাহারা দিতে লাগল৷
37 তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের এই লিপি ফলকটি তাঁর মাথার উপরে ক্রুশে লাগিয়ে দিল, ‘এ যীশু, ইহুদীদের রাজা৷’
38 তারা দুজন দস্যুকেও যীশুর সঙ্গে ক্রুশে দিল, একজনকে তাঁর ডানদিকে ও অন্যজনকে তাঁর বাঁ দিকে৷
39 সেই সময় ঐ রাস্তা দিয়ে য়ে সব লোক যাতাযাত করছিল, তারা তাদের মাথা নেড়ে তাঁকে ঠাট্টা করে বলল,
40 ‘তুমি না মন্দির ভেঙ্গে আবার তা তিন দিনের মধ্যে তৈরী করতে পার! তাহলে এখন নিজেকে রক্ষা কর৷ তুমি যদি ঈশ্বরের পুত্র হও তবে ক্রুশ থেকে নেমে এস৷’
41 সেইভাবেই প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও ইহুদী নেতারা বিদ্রূপ করে তাঁকে বলতে লাগলেন,
42 ‘এ লোক তো অপরকে রক্ষা করত, কিন্তু এ নিজেকে বাঁচাতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা, তাহলে এখন ও ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, তাহলে আমরা ওর ওপর বিশ্বাস করব৷
43 ঐ লোকটি ঈশ্বরের ওপর বিশ্বাস করে৷ যদি তিনি চান, তবে ওকে এখনই রক্ষা করুন, কারণ ও তো বলেছে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র৷'”
44 তাঁর সঙ্গে য়ে দুজন দস্যুকে ক্রুশে দেওযা হয়েছিল, তারাও সেইভাবেই তাঁকে বিদ্রূপ করতে লাগল৷
45 সেই দিন দুপুর বারোটা থেকে বেলা তিনটে পর্যন্ত সমস্ত দেশ অন্ধকারে ঢেকে রইল৷
46 প্রায় তিনটের সময় যীশু খুব জোরে বলে উঠলেন, ‘এলি, এলি লামা শবক্তানী?’ যার অর্থ, ‘ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমায় ত্যাগ করেছ?’
47 যাঁরা সেখানে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন একথা শুনে বলতে লাগল, ‘ও এলীয়কে ডাকছে৷’
48 তাদের মধ্যে একজন তখনই দৌড়ে গিয়ে একটা স্পঞ্জ কতকটা সিরকায় ডুবিয়ে দিয়ে একটা নলের মাথায় সেটা লাগিয়ে তা যীশুর মুখে তুলে ধরে তাকে খেতে দিল৷
49 কিন্তু অন্যরা বলতে লাগল, ‘ছেড়ে দাও, দেখি এলীয় ওকে রক্ষা করতে আসেন কি না?’
50 পরে যীশু আর একবার খুব জোরে চিত্‌কার করে প্রাণ ত্যাগ করলেন৷
51 সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের মধ্যেকার সেই ভারী পর্দাটা ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত চিরে দুভাগ হয়ে গেল, পৃথিবী কেঁপে উঠল, বড় বড় পাথরের চাঁই ফেটে গেল,
52 সমাধিগুহাগুলি খুলে গেল, আর মারা গিয়েছিলেন এমন অনেক ঈশ্বরের লোকের দেহ পুনরুত্থিত হল৷
53 যীশুর পুনরুত্থানের পর এরা কবর ছেড়ে পবিত্র নগর জেরুশালেমে গিয়ে বহুলোককে দেখা দিয়েছিলেন৷
54 ক্রুশের পাশে শতপতি ও তার সঙ্গে যাঁরা যীশুকে পাহারা দিচ্ছিল, তারা ভূমিকম্প ও অন্য সব ঘটনা দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে বলল, ‘সত্যইইনি ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন৷’
55 সেখানে বহু স্ত্রীলোক ছিলেন, যাঁরা দূরে দাঁড়িয়ে সব কিছু দেখছিলেন৷ এই মহিলারা গালীল থেকে যীশুর দেখাশোনার জন্য তাঁর সঙ্গে এসেছিলেন৷
56 তাঁদের মধ্যে ছিলেন মগ্দলীনী মরিয়ম, যাকোব ও য়োষেফের মা মরিয়ম আর যাকোব ও য়োহনেরমা৷
57 সন্ধ্যা নেমে আসছে এমন সময় আরিমাথিযার য়োষেফ নামে এক ধনী ব্যক্তি জেরুশালেমে এলেন; তিনিও যীশুর একজন অনুগামী ছিলেন৷
58 পীলাতের কাছে গিয়ে য়োষেফ যীশুর দেহটা চাইলেন৷ তখন পীলাত তাকে তা দিতে হুকুম করলেন৷
59 য়োষেফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার একটা কাপড়ে জড়ালেন৷
60 তারপর সেই দেহটা নিয়ে তিনি নিজের জন্য পাহাড়ের গায়ে য়ে নতুন সমাধিগুহা কেটে রেখেছিলেন, তাতে রাখলেন৷ পরে সেই সমাধির মুখ বন্ধ করতে বড় একটা পাথর গড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন৷
61 মরিয়ম মগ্দলীনী ও সেই অন্য মরিয়ম কবরের সামনে বসে রইলেন৷
62 পরের দিন, যখন শুক্রবার শেষ হল, অর্থাত্ প্রস্তুতি পর্বের পরের দিন, প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা গিয়ে পীলাতের সঙ্গে দেখা করল৷
63 তারা বলল, ‘হুজুর, আমাদের মনে পড়ছে সেই প্রতারক তাঁর জীবনকালে বলেছিল, ‘আমি তিনদিন পরে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হব৷’
64 তাই আপনি হুকুম দিন য়েন তিন দিন কবরটা পাহারা দেওযা হয়, তা না হলে ওর শিষ্যরা হয়তো এসে দেহটা চুরি করে নিয়ে গিয়ে বলবে, তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন; তাহলে প্রথমটার চেয়ে শেষ ছলনাটা আরো খারাপ হবে৷’
65 পীলাত তাদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে পাহারা দেবার লোক আছে, তোমরা গিয়ে যত ভালভাবে পারো পাহারা দেবার ব্যবস্থা কর৷’

মথি 27:27-56

নবীর মৃত্যুর মুহুর্তে সুরা আজ-যিলযালের (সুরা 99 – ভূমিকম্প) মতন একই বর্ণনা সহ ইঞ্জিল পৃথিবীর কাঁপুনি, পাথরের বিভাজন এবং সমাধির উন্মোচনের বর্ণনা করে I  

যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে,যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ?সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে,কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন।সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়।

সুরা আজ-যিলযাল 99:1-6

1 যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, 2 যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। 3 এবং মানুষ বলবে, এর কি হল ? 4 সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, 5 কারণ, আপনার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। 6 সেদিন মানুষ বিভিন্ন দলে প্রকাশ পাবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখানো হয়

সুরা যিলযাল বিচারের দিনের প্রত্যাশা করে I ঈসা আল মসীহর মৃত্যুর বিস্তৃত বিবরণ যিলযালের অনুরূপ একটি চিহ্ন স্বরূপ যে তার মৃত্যু সেই আসন্ন দিনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল্য ছিল I

তাঁর ‘পার্শ্ব দিকে’ ছিদ্র করা হ’ল

যোহনের সুসমাচার ক্রুশারোপনের মধ্যে একটি আকর্ষনীয় বিবরণ লিপিবদ্ধ   করে I এটি ব্যক্ত করে:

  31 ঐ দিনটা ছিল আযোজনের দিন৷ য়েহেতু বিশ্রামবার একটি বিশেষ দিন, ইহুদীরা চাইছিল না য়ে দেহগুলি ক্রুশের ওপরে থাকে৷ তাই ইহুদীরা পীলাতের কাছে গিয়ে তাঁকে আদেশ দিতে অনুরোধ করল, য়েন ক্রুশবিদ্ধ লোকদের পা ভেঙ্গে দেওযা হয় যাতে তাড়াতাড়ি তাদের মৃত্যু হয় এবং মৃতদেহগুলি ঐ দিনই ক্রুশ থেকে নামিয়ে ফেলা যায়৷
32 সুতরাং সেনারা এসে প্রথম লোকটির পা ভাঙ্গল, আর তার সঙ্গে যাকে ক্রুশে দেওযা হয়েছিল তারও পা ভাঙ্গল৷
33 কিন্তু তারা যীশুর কাছে এসে দেখল য়ে তিনি মারা গেছেন, তখন তাঁর পা ভাঙ্গল না৷
34 কিন্তু একজন সৈনিক যীশুর পাঁজরের নীচে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করল, আর সঙ্গে সঙ্গে সেখান দিয়ে রক্ত ও জল বেরিয়ে এল৷
35 এই ঘটনা য়ে দেখল সে এবিষয়ে সাক্ষ্য দিল তা আপনারা সকলেই বিশ্বাস করতে পারেন, আর তার সাক্ষ্য সত্য৷ আর সে জানে য়ে সে যা বলছে তা সত্য৷
36 এই সকল ঘটনা ঘটল যাতে শাস্ত্রের এই কথা পূর্ণ হয়: ‘তাঁর একটি অস্থিও ভাঙ্গবে না৷’
37 আবার শাস্ত্রে আর এক জায়গায় আছে, ‘তারা যাঁকে বিদ্ধ করেছে তাঁরই দিকে দৃষ্টিপাত করবে৷’

যোহন 1:31-37

যোহন দেখলেন রোমীয় সৈন্যরা একটি বর্শা দিয়ে ঈসা আল মসীহর পার্শ্ব দিক ছিদ্র করল I রক্ত বেরিয়ে এল এবং জল আলাদা হয়ে গেল, সংকেত দেয় যে নবী হৃদয় যন্ত্রের ব্যর্থতায় মারা গিয়েছিলেন I 

সেই দিনের একটি চূড়ান্ত ঘটনা সম্পর্কে ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে – সমাধি কার্য I  

  57 সন্ধ্যা নেমে আসছে এমন সময় আরিমাথিযার য়োষেফ নামে এক ধনী ব্যক্তি জেরুশালেমে এলেন; তিনিও যীশুর একজন অনুগামী ছিলেন৷
58 পীলাতের কাছে গিয়ে য়োষেফ যীশুর দেহটা চাইলেন৷ তখন পীলাত তাকে তা দিতে হুকুম করলেন৷
59 য়োষেফ দেহটি নিয়ে পরিষ্কার একটা কাপড়ে জড়ালেন৷
60 তারপর সেই দেহটা নিয়ে তিনি নিজের জন্য পাহাড়ের গায়ে য়ে নতুন সমাধিগুহা কেটে রেখেছিলেন, তাতে রাখলেন৷ পরে সেই সমাধির মুখ বন্ধ করতে বড় একটা পাথর গড়িয়ে নিয়ে গিয়ে তা বন্ধ করে দিয়ে চলে গেলেন৷
61 মরিয়ম মগ্দলীনী ও সেই অন্য মরিয়ম কবরের সামনে বসে রইলেন৷

মথি 27:57-61

দিন 6 – শুভ শুক্রবার

যিহূদি ক্যালেন্ডারের প্রত্যেকটি দিন সূর্যাস্ত দিয়ে শুরু হয় I যাতে করে সপ্তাহের ষষ্ঠ দিনটি তাঁর শিষ্যদের সাথে নবীর শেষ নৈশ ভোজ দিয়ে আরম্ভ হল I দিনের শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হ’ল, অনেক বার বিচারে রাখা হ’ল, ক্রুশারোপন করা হ’ল, একটি বর্শা দিয়ে ছিদ্র করা হ’ল এবং সমাধিস্থ করা  হ’ল I এই দিনটিকে প্রায়শই ‘শুভ শুক্রবার’ বলে উল্লেখ করা হয় I সেটি প্রশ্নকে উত্থাপন করে: কিভাবে বিশ্বাসঘাতকতা, অত্যাচার এবং একজন নবীর মৃত্যুকে ‘শুভ’ বলে কখনও উল্লেখ করা যেতে পারে? কেন শুভ শুক্রবার এবং ‘খারাপ শুক্রবার’ নয়?          

এটি একটি বড় প্রশ্ন যেটিকে পরবর্তী দিনগুলোতে ইঞ্জিলের বিবরণ চলতে থাকার দ্বারা আমরা উত্তর দিই I তবে একটি সূত্রকে দেখতে পাওয়া যায় আমরা যদি কালপঞ্জির মধ্যে লক্ষ্য করি এই শুক্রবার নীসন 14 তারিখের পবিত্র দিন ছিল, সেই একই নিস্তারপর্বের দিন যখন যিহূদিরা মিশরে 1500 বছর পূর্বে মৃত্যু থেকে  তাদের উদ্ধারের জন্য একটি মেষশাবক বলি দিয়েছিল I   

Day 6 - Friday - of the last week in Isa al Masih's life compared to the regulations of Taurat

দিন 6 – তাওরাতের নিয়মাবলীর তুলনায় ঈসা আল মসীহর জীবনের শেষ সপ্তাহের – শুক্রবার 

মানুষদের বেশিরভাগ বিবরণ সমূহ তাদের মৃত্যুতে শেষ হয়, তবে ইঞ্জিল চলতে থাকে যাতে আমরা বুঝতে পারি কেন এই দিনটিকে সর্বদা শুভ শুক্রবার বলে ভাবা যেতে পারে I পরের দিনটি ছিল বিশ্রাম বার – সপ্তম দিন I

তবে প্রথমে আমাদের অধ্যয়ন করা আয়াত থেকে শুরু করে সুরা আল-জুমু’আহর দিকে ফেরা যাক I

 বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।

সুরা 62 আল-জুমু’আহ: 8-9

বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখামুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে। 9 মুমিনগণ, জুমআর দিনে যখন নামাযের আযান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে ত্বরা কর এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ।

ঈসা আল মসীহ সুরা আল-জুম্মু’আহর আয়াত 6 এবং 7 এর চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করে, মৃত্যুর থেকে পলায়ন করেন নি, তবে প্রার্থনার সঙ্গে শুরু করে এই মহান পরীক্ষার মুখোমুখি হলেন, প্রমাণ করলেন তিনি একজন ‘ঈশ্বরের বন্ধু’ I এটি কি যথোচিত  নয়, তখন, তাঁর সাহসিকতার স্মরণে, মুসলমানদের পরে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল শুক্রবারকে মসজিদের মধ্যে প্রার্থনার দিন হিসাবে আলাদা করতে? এটি যেন আল্লাহ চান না আমরা নবীর পরিষেবাকে ভুলে যাই I        

দিন 5 – মসীহকে আঘাত করতে শয়তান নেমে এল

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাঁর শেষ সপ্তাহের চতুর্থ দিনে তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন I ইঞ্জিল তখন বিবরণ দিল কিভাবে ধর্মীয় নেতারা তাঁকে গ্রেফতার করতে চাইল I শয়তান (বা ইবলিস) এটিকে একটি উপায় হিসাবে নবীকে আঘাত করতে ব্যবহার করল – তার প্রকাশ্য   শত্রুকে I কিভাবে হল এটিকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I   

  ই সময় খামিরবিহীন রুটির পর্ব এগিয়ে এলে, এই পর্বকে নিস্তারপর্ব বলা হত৷
2 এদিকে প্রধান যাজকরা ও ব্যবস্থার শিক্ষকরা যীশুকে হত্যা করার উপায় খুঁজতে লাগল, কারণ তারা লোকদের ভয় করত৷
3 এই সময় যিহূদা, য়ে ছিল বারো জন প্রেরিতের মধ্যে একজন, যাকে যিহূদা ঈষ্ক রিযোতীয় বলা হত তার অন্তরে শয়তান ঢুকল৷
4 যিহূদা কেমন করে যীশুকে ধরিয়ে দেবে সে বিষয়ে পরামর্শ করতে প্রধান যাজকদের ও মন্দিরের রক্ষীবাহিনীর পদস্থ কর্মচারীদের কাছে গেল৷
5 তারা যিহূদার কথা শুনে খুবই খুশী হয়ে তাকে এর জন্য টাকা দিতে রাজী হল৷
6 যিহূদাও সম্মত হয়ে যখন লোকের ভীড় থাকবে না সেই সময় যীশুকে ধরিয়ে দেবার সুয়োগ খুঁজতে লাগল৷

লুক 22:1-6

আমরা দেখি যে শতান/শয়তান নবীকে বিশ্বাসঘাত করার জন্য এই দ্বন্দের সুযোগটিকে  যুদাসের ভেতরে ‘প্রবেশ’ করতে নিয়েছিল I সুরা ফাতির (সুরা 35 – প্রবর্তক) এবং সুরা ইয়া-সিন (সুরা 36 – আর নেই) শয়তানের সম্বন্ধে বলে যে: 

बेशक शैतान तुम्हारा दुश्मन है तो तुम भी उसे अपना दुशमन बनाए रहो वह तो अपने गिरोह को बस इसलिए बुलाता है कि वह लोग (सब के सब) जहन्नुमी बन जाएँ()

সুরা ফাতির 35:6

হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?এবং আমার এবাদত কর। এটাই সরল পথ।শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝনি?

সূরা ইয়া-সিন 36: 60-62

ইঞ্জিলের শেষভাগে, শয়তানকে এক দর্শনের মধ্যে বর্ণনা করা হয়েছে:

7 এরপর স্বর্গে এক যুদ্ধ বেধে গেল৷ মীখায়েল ও তার অধীনে অন্যান্য স্বর্গদূতরা সেই নাগের সঙ্গে যুদ্ধ করল৷ সেই নাগও তার অপদূতদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করতে লাগল;
8 কিন্তু সাপ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না, তাই তারা স্বর্গের স্থান হারালো৷
9 সেই বিরাট নাগকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই বিরাট নাগ হল সেই পুরানো নাগ যাকে দিয়াবল বা শয়তান বলা হয়, সে সমগ্র জগতকে ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়৷ সেই নাগ ও তার সঙ্গী অপদূতদের পৃথিবীতে ছুঁড়ে ফেলা হল৷

প্রকাশিত বাক্য 12:7-9

শয়তান আপনারও প্রকাশ্য শত্রু, যথেষ্ট ধূর্ততার সাথে সম্পূর্ণ জগতকে বিপথগামী করার এক শক্তিশালী ড্রাগন রূপে চিত্রিত করা হয়েছে I এই শত্রু, যেমন হজরত অদামের সাথে উদ্যানের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ ধ্বংস করতে যুদার নিয়ন্রণ নিয়েছিল I ইঞ্জিল যেরকম লিপিবদ্ধ করে:    

  16 সেই মুহূর্ত্ত থেকেই যিহূদা তাঁকে ধরিয়ে দেবার সুয়োগ খুঁজতে লাগল৷

মথি 26:16

পরের দিন – দিন 6 – নিস্তারপর্বের উৎসব ছিল যাকে নবী মশি পিবিইউ এইচ 1500 বছর পূর্বে শুরু করেছিলেন I কিভাবে শয়তান, যুদার মাধ্যমে, এই পবিত্র দিনে তার সুযোগ খুঁজে পেল? আমরা এটিকে পরে দেখব I

দিন 5 সারাংশ

কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে বিশাল ড্রাগন, শয়তান, এই সপ্তাহের পঞ্চম দিনে, তার সবথেকে বড় শত্রুকে আঘাত করতে অগ্রসর হল – নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ I

Shaytan, the Great Dragon, enters Judas to strike the Prophet Isa al Masih

শয়তান, বিশাল ড্রাগন নবী ঈসা আল মসীহকে আঘাত করতে যুদার মধ্যে প্রবেশ করে

দিন 3 এবং 4 – ঈসা আল মসীহ ভবিষ্যত এবং তার প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস দেন

ডুমুর গাছ এবং নক্ষত্রদের মধ্যে কি মিল আছে? উভয়ই দুর্দান্ত ঘটনা সমূহের আগমন এবং অপ্রস্তুতদের সতর্কতা দেওয়ার চিহ্ন স্বরূপ I সুরা আত-ত্বীন শুরু হয় এই দিয়ে:

শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,

সুরা আত-ত্বীন 95:1

শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,

আগমন তাত্পর্যপূর্ণ করে

আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।

সুরা আত-ত্বীন: 95:4-5

4 আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে। 5 অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।

সুরা আল-মুরসালাত (দূতগণ), সুরা আত=তাকভীর(উত্থিত), এবং সুরা আল-ইনফিতার(ক্লিভিং) বারবার ঘোষণা করে তারা ম্লান হয়ে যাবে, এবং এটি কিছু দুর্দান্ত আগমনের সংকেত দেয়: 

অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবেযখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে,যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে এবং

সুরা আল-মুরসালাত 77:8-10

8 অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবে,9 যখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে, 10 যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে 

যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে,যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে,

সুরা আত-তাকভীর 81:1-3

1 যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,2 যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে, 3 যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে

যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,

সুরা আল-ইনফিতার 82:1-3

1 যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, 2 যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,3 যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে

এগুলোর মানে কি? নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাঁর শেষ সপ্তাহে ব্যাখ্যা করেন I প্রথমে একটি দ্রুত পর্যালোচনা I  

নবী দানিয়েল এবং সখরিয় অনুসারে রবিবার নীসন 9 তারিখে যিরূশালেমে প্রবেশের পরে, এবং তারপরে সোমবার নীসন 10-তারিখে মন্দিরে প্রবেশ করার পরে, নবী মশির পিবিইউএইচ তাওরাতের নিয়ম অনুসারে আল্লাহর মেষশাবক রূপে মনোনীত হতে, নবী ঈসা আল মসীহ যিহূদি নেতাদের দ্বারা অস্বীকৃত হলেন I আসলে, তিনি যখন মন্দির পরিষ্কার করছিলেন তারা তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করতে আরম্ভ করল I নবী ঈসা আল মসীহ পরে যা করলেন ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে: 

ডুমুর গাছের অভিশাপ

আর তিনি তাদের (মন্দিরে সোমবার দ্বিতীয় দিন, নীসন 10 তারিখে  যিহূদি নেতারা) পরিত্যাগ করলেন এবং নগরের বাইরে চলে গেলেন যেখানে তিনি রাত্রি যাপন করলেন I 

ভোরবেলায় (মঙ্গলবার নীসন 11 তারিখ, তৃতীয় দিন), যীশু নগরে তার ফিরে আসার পথে ক্ষুধার্ত হলেন I রাস্তার ধরে একটি ডুমুর গাছ দেখে, তিনি তার কাছে গেলেন আর পাতা ছাড়া কোনো কিছুই এর উপরে দেখতে পেলেন না I তখন তিনি একে বললেন, “আর কখনও তোমাতে ফল না ধরুক!” তৎক্ষনাত গাছটি শুকিয়ে গেল

মথি 21:17-19

অনেকে আশ্চর্য বোধ করেন কেন ঈসা আল মসীহ বললেন আর ডুমুর গাছটি শুকিয়ে গেল I ইঞ্জিল সরাসরিভাবে ব্যাখ্যা করে না, তবে আদি ভাববাদীরা আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে পারে I এই ভাববাদীরা, আগামী বিচার সম্বন্ধে সতর্ক করার সময়ে প্রায়শই শুকিয়ে যাওয়া একটি ডুমুর গাছের চিত্রকে ব্যবহার করতেন I লক্ষ্য করুন কিভাবে শুকিয়ে যাওয়া ডুমুর গাছের চিত্রকে ভাববাদীদের দ্বারা তাদের সতর্কতার মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে: 

  12 দ্রাক্ষালতা শুকিয়ে গেছে| ডুমুর গাছ মারা গেছে| ডালিম, তাল ও আপেল, এমনকি ক্ষেতের সমস্ত গাছ শুকিয়ে গেছে| সত্যি লোকদের মধ্যে য়ে সুখ ছিল তা শুকিয়ে গেছে|

যোয়েল 11:12

  9 প্রভু এই কথাগুলো বলছেন: “আমি অবশ্যই সোরের লোকদের তাদের বহু দণ্ডার্হ অপরাধের জন্য শাস্তি দেবো| কেন? কারণ তারা একটি সমগ্র জাতিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং এীতদাস হিসেবে তাদের ইদোমে পাঠিয়েছিল| তারা তাদের ভাইদের (ইস্রায়েল) সঙ্গে মিলিত হয়ে য়ে চুক্তি করেছিল তা তারা মনে রাখেনি|

আমোস 4:9

  ভু তাঁর ভাব্বাদী হগযকে সপ্তম মাসের 21 তম দিনে এই বার্তা দিয়েছিলেন|
2 “যিহূদার অধ্যক্ষ শলটীযেলের পুত্র সরুব্বাবিলের সঙ্গে যিহোষাদকের পুত্র মহাযাজক যিহোশূয়র সঙ্গে এবং সমস্ত লোকের সঙ্গে কথা বল| তাদের বল:
3 “তোমাদের মধ্যে এমন কে রয়েছে য়ে এই মন্দিরকে তার পূর্বের গৌরব মণ্ডিত অবস্থায় দেখেছিলে? তোমাদের কি মনে হয়? প্রথম মন্দিরটির তুলনায় এই মন্দিরটি কি দেখতে কিছুই নয়?
4 কিন্তু এখন, সরুব্বাবিল, প্রভু বলেন, ‘সাহস হারিযো না, শক্ত হও|’ যিহোষাদকের পুত্র মহাযাজক যিহোশূয়, ‘সাহস হারিযো না, শক্ত হও|’ এই দেশের সমস্ত লোককে প্রভু এই কথা বলেন, ‘সাহস হারিযো না, শক্ত হও|’ এই কাজ করে যাও কারণ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি!’ প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথা বলেন!”
5 প্রভু বলেন, “তোমরা যখন মিশর দেশ ত্যাগ করেছিলে সেই সময় আমি তোমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলাম| আর আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছি| আমার আত্মা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে| সুতরাং ভয় পেও না|
6 কারণ প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলো বলছেন! কিছু ক্ষণের মধ্যেই আমি আকাশ ও পৃথিবীকে নাড়া দেব| আমি সমুদ্র ও শুকনো জমিকেও কাঁপিয়ে তুলব|
7 আমি প্রত্যেকটি জাতিকে নাড়া দেব এবং তারা সমস্ত জাতিদের সমস্ত সম্পদ নিয়ে তোমার কাছে আসবে| তখন আমি এই মন্দির মহিমায পূর্ণ করব| প্রভু সর্বশক্তিমান এই সব কথা বলছেন|
8 রূপো আমারই, সোনাও আমার, সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথা বলেন|
9 এই মন্দিরটির গৌরব প্রথম মন্দিরের গৌরবের চেয়ে অনেক বেশী হবে| সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথা বলেছেন| এই স্থানে আমি শান্তি প্রদান করব, সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথা বলেছেন|”

হগয় 2:19

4 পাকানো কাগজের মত আকাশ গুটিযে বন্ধ হয়ে যাবে| নক্ষত্ররা মারা যাবে এবং দ্রাক্ষা গাছের পাতা বা ডুমুর পাতার মতো তাদের পতন হবে| আকাশের সব নক্ষত্র নষ্ট হয়ে যাবে|

যিশাইয় 34:4

  13 “তোমাদের ফসল ঘরে তোলার উত্সব আর পালিত হবে না| আমি তোমাদের সমস্ত ফল ও শস্যসমূহ কেড়ে নেব তাই আর ফসল তোলা হবে না|” এই ছিল প্রভুর বার্তা| “দ্রাক্ষা-ক্ষেতে কোন দ্রাক্ষা থাকবে না| থাকবে না কোন ডুমুর গাছ| এমন কি গাছের পাতা পর্য়ন্ত শুকিয়ে যাবে| আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম সব কিছু নিয়ে নেব|”

যিরমিয় 8:13

নবী হোসেয় পিবিইউএইচ ডুমুর গাছকে ইস্রায়েলের একটি রূপক হিসাবে ব্যবহার করেন এবং তারপরে একটি অভিশাপ ঘোষণা করে আরও এগিয়ে গেলেন:

10 য়ে সময় আমি ইস্রায়েলকে পেলাম, সে সময় তারা ছিল মরুভূমিতে পাওয়া টাটকা দ্রাক্ষার মতো| তারা ঋতু সূচনায গাছের প্রথম ডুমুরগুলির মতো ছিল| কিন্তু তারপর তারা বালপিযোরের কাছে এল এবং বদলে গেল, তাই তাদের আমায় পচে যাওয়া ফলের মত ছুঁড়ে ফেলে দিতে হল| তারা সেই ভয়ঙ্কর জিনিসের (মূর্ত্তির) মতোই হয়ে উঠল যাদের তারা ভালবাসত|
11 একটি পাখীর মতোই ইফ্রয়িমের মহিমা উড়ে যাবে| সেখানে আর কেউ গর্ভবতী হবে না| কোন জন্ম হবে না, কোন শিশু থাকবে না|
12 কিন্তু যদি কোন ইস্রায়েলীয়রা তাদের সন্তানদের লালন-পালন করে তাহলেও সে তাদের কোন সাহায্যে আসবে না| আমি তাদের কাছ থেকে শিশুদের নিয়ে নেব| আমি তাদের ত্যাগ করব, এবং ঝামেলা ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই থাকবে না|
13 আমি দেখতে পাচ্ছি য়ে ইফ্রয়িম তার সন্তানদের ফাঁদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে| ইফ্রয়িম তার সন্তানদের হত্যাকারীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে|
14 প্রভু, আপনি যা চান তাই তাদের দিন| তাদের এমন একটি জরাযু দিন যাতে সন্তান ধারণ না করে| তাদের এমন স্তন দিন যা দুধ দিতে পারে না|
15 তাদের সব মন্দতা গিল্গলে রয়েছে| আমি সেখানে তাদের ঘৃণা করতে আরম্ভ করেছি| আমি তাদের আমার বাড়ি ছাড়তে বলপ্রযোগ করব কারণ তারা সব পাপ কাজ করেছে| আমি তাদের আর কখনোই ভালবাসব না| তাদের নেতারা বিদ্রোহী, তারা আমার বিরুদ্ধে গেছে|
16 ইফ্রয়িম শাস্তি পাবে| তাদের মূল শুকিয়ে যাচ্ছে| তাদের আর সন্তান হবে না| সন্তানের জন্ম হয়ত তারা দিতে পারে, কিন্তু তাদের শরীর থেকে য়ে প্রিয সন্তান সৃষ্টি হবে তাদের আমি হত্যা করব|
17 ওই লোকরা আমার ঈশ্বরের কথা শুনবে না| সেজন্য তিনিও তাদের কথা শুনতে অস্বীকার করবেন| তারা গৃহহীন হয়ে অন্য জাতের মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াবে|

হোসেয় 9:10-12, 16-17; নোট করুন ইফ্রয়িম = ইস্রায়েল

এই অভিশাপগুলো পূর্ণ হয়েছিল যখন যিরূশালেম 586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (যিহূদিদের ইতিহাসের জন্য এখানে দেখুন) প্রথমে ধ্বংস হয়েছিল I যখন নবী ঈসা আল মসীহ ডুমুর গাছটিকে শুকিয়ে দিলেন, তিনি যিরূশালেমের আর একটি আসন্ন ধ্বংস এবং দেশ থেকে যিহূদি নির্বাসনের প্রতীকাত্মকরূপে ভবিষ্যদ্বাণী   করছিলেন I     

ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দেওয়ার পরে, ঈসা আল মসীহ মন্দিরে লোকেদের শিক্ষাদান এবং যিহূদি নেতাদের সঙ্গে বিতর্ক চালিয়ে গেলেন I তিনি আল্লাহর বিচার সম্বন্ধে অনেক সতর্কতা দিলেন I ইঞ্জিল শিক্ষাগুলোকে লিপিবদ্ধ করে এবং সেগুলো এখানে পুরোপুরি রয়েছে I

নবী তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নগুলো  সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন

নবী ঈসা আল মসী তখন যিরূশালেমের যিহূদি মন্দিরের এক অন্ধকার ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে শেষ করলেন I সেই সময়ে, মন্দিরটি সমগ্র রোম সাম্রাজ্যের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভবন ছিল I তবে ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যে তিনি এর ধ্বংস আগে থেকেই দেখতে পান I এটি তাঁর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছিল, এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন সমূহ I ইঞ্জিল তার শিক্ষাগুলো লিপিবদ্ধ করে I   

শু মন্দির থেকে যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন, সেইসময়তাঁর শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে মন্দিরের বড় বড় দালানের দিকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেন৷
2 এর জবাবে যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এখন এখানে এসব দেখছ, কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এখানে একটা পাথর আর একটা পাথরের ওপর থাকবে না, এসবই ভুমিস্যাত্ হবে৷’
3 যীশু যখন জৈতুন পর্বতমালার ওপর বসেছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যরা একান্তে তাঁর কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটবে, আর আপনার আসার এবং এযুগের শেষ পরিণতির সময় জানার চিহ্নই বা কি হবে?’

মথি 24:1-3

যিহূদি মন্দিরের সম্পূর্ণ ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করে নবী আরম্ভ করলেন I আমরা ইতিহাস থেকে জানি যে এটি 70 খ্রীষ্টাব্দে ঘটেছিল I তখন সন্ধ্যাবেলায় [i] তিনি মন্দির ছেড়ে চলে গেলেন এবং যিরূশালেম নগরের বাইরে জৈতুন পর্বতে রইলেন I যেহেতু সূর্যাস্তে যিহূদি দিন শুরু হতো, এটি বুধবার, নীসন 12 তারিখ, সপ্তাহের চতুর্থ দিনের আরম্ভ ছিল, যখন তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন এবং যুগের শেষ ও তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে শিক্ষা দিলেন I 

  4 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘দেখো! কেউ য়েন তোমাদের না ঠকায়৷
5 আমি তোমাদের একথা বলছি কারণ অনেকে আমার নামে আসবে আর তারা বলবে, ‘আমি খ্রীষ্ট৷’ আর তারা অনেক লোককে ঠকাবে৷
6 তোমরা নানা যুদ্ধের কথা শুনবে এবং তোমাদের কানে যুদ্ধের গুজব আসেব৷ কিন্তু দেখো, তোমরা ভয় পেও না, কারণ ঐ সব ঘটনা অবশ্যই ঘটবে কিন্তু তখনও শেষ নয়৷
7 হ্যাঁ, এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে লড়াইকরবে; আর এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিরুদ্ধে যাবে৷ সর্বত্র দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হবে৷
8 কিন্তু এসব কেবল যন্ত্রণার আরন্ভ মাত্র৷
9 ‘সেই সময় শাস্তি দেবার জন্য তারা তোমাদের ধরিয়ে দেবে ও হত্যা করবে৷ আমার শিষ্য হয়েছ বলে জগতের সকল জাতির লোকেরা তোমাদের ঘৃণা করবে৷
10 সেই সময় অনেক লোক বিশ্বাস থেকে সরে যাবে৷ তারা একে অপরকে শাসনকর্তাদের হাতে ধরিয়ে দেবে আর তারা পরস্পরকে ঘৃণা করবে৷
11 অনেক ভণ্ড ভাববাদীর আবির্ভাব হবে, যাঁরা বহু লোককে ঠকাবে৷
12 অধর্ম বেড়ে যাওযার ফলে অধিকাংশ লোকদের মধ্য থেকে ভালবাসা কমে যাবে৷
13 কিন্তু শেষ পর্যন্ত য়ে নিজেকে স্থির রাখবে, সে রক্ষা পাবে৷
14 আর রাজ্যের (স্বর্গ) এইসুসমাচার জগতের সর্বত্র প্রচার করা হবে৷ সমস্ত জাতির কাছে তা সাক্ষ্যরূপে প্রচারিত হবে, আর তারপরই উপস্থিত হবে সেই সময়৷
15 ‘তোমরা তখন দেখবে য়ে, ভাববাদী দানিয়েলের মধ্য দিয়ে য়ে ‘সর্বনাশা ঘৃণার বস্তুর’কথা বলা হয়েছিল তা পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে আছে৷’ য়ে একথা পড়ছে সে বুঝুক এর অর্থ কি৷
16 ‘সেই সময় যাঁরা যিহূদিয়াতে থাকবে, তারা পাহাড় অঞ্চলে পালিয়ে যাক্৷
17 য়ে ছাদে থাকবে, সে য়েন ঘর থেকে তার জিনিস নেবার জন্য নীচে না নামে৷
18 ক্ষেতের মধ্যে য়ে কাজ করবে, সে তার জামা নেবার জন্য ফিরে না আসুক৷
19 হায়! সেই মহিলারা, যাঁরা সেইদিনগুলিতে গর্ভবতী থাকবে, বা যাদের কোলে থাকবে দুধের শিশু৷
20 তাই প্রার্থনা কর য়েন শীতকালে বা বিশ্রামবারে তোমাদের পালাতে না হয়৷
21 ‘সেই দিনগুলিতে এমন মহাকষ্ট হবে যা জগতের শুরু থেকে এই সময় পর্যন্ত আর কখনও হয় নি এবং হবে ও না৷
22 আরো বলছি, সেইদিনগুলির সংখ্যা ঈশ্বর যদি কমিয়ে না দিতেন তবে কেউই অবশিষ্ট থাকত না৷ কিন্তু তাঁর মনোনীত লোকদের জন্য তিনি সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে রেখেছেন৷
23 সেই সময় কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, মশীহ (খ্রীষ্ট)’ এখানে, অথবা ‘দেখ, তিনি ওখানে,’ তাহলে সে কথায় বিশ্বাস করো না৷
24 ‘আমি একথা বলছি, কারণ অনেক ভণ্ড খ্রীষ্ট ও ভণ্ড ভাববাদীর উদয় হবে৷ তারা মহা আশ্চর্য কাজ করবে ও চিহ্ন দেখাবে, য়েন লোকদের ঠকাতে পারে৷ যদি সন্ভব হয় এমনকি ঈশ্বরের মনোনীত লোকদেরও ঠকাবে৷
25 দেখ, আমি আগে থেকেইতোমাদের এসব কথা বলে রাখলাম৷
26 ‘তাইতারা যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, খ্রীষ্ট প্রান্তরে আছেন!’ তবে তোমরা সেখানে য়েও না, অথবা যদি বলে দেখ, ‘তিনি ভেতরের ঘরে লুকিয়ে আছেন, তাদের কথায় বিশ্বাস করো না৷
27 আকাশে বিদ্য়ুত্ য়েমন পূর্ব দিকে দেখা দিয়ে পশ্চিম দিক পর্যন্ত চমকে দেয়, তেমনি করেইমানবপুত্রের আবির্ভাব হবে৷
28 য়েখানে শব, সেখানেইশকুন এসে জড় হবে৷
29 মহাক্লেশের সেইদিনগুলির পরই, ‘সূর্য় অন্ধকার হয়ে যাবে, চাঁদ আর আলো দেবে না৷ তারাগুলো আকাশ থেকে খসে পড়বে আর আকাশমণ্ডলে মহা আলোড়নের সৃষ্টি হবে৷’
30 ‘সেই সময় আকাশে মানবপুত্রের চিহ্ন দেখা দেবে৷ তখন পৃথিবীর সকল গোষ্ঠী হাহুতাশ করবে; আর তারা মানবপুত্রকে মহাপরাক্রম ও মহিমামণ্ডিত হয়ে আকাশের মেঘে করে আসতে দেখবে৷
31 খুব জোরে তূরীধ্বনির সঙ্গে তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের পাঠাবেন৷ তাঁরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত, চার দিক থেকে তাঁর মনোনীত লোকদের জড়ো করবেন৷

মথি 24:4-31

এখানে নবী ঈসা আল মসীহ অতীতে মন্দিরের আসন্ন ধ্বংস সম্পর্কে  দেখেছিলেন I তিনি শিক্ষা দিলেন যে মন্দিরের ধ্বংসের সময়কাল থেকে তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান মন্দতা, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, এবং তার অনুগামীদের উপর অত্যাচার দ্বারা চিহ্নিত হবে I আবারও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে যে ইঞ্জিল ‘সারা জগতে প্রচারিত’ হবে (আয়াত 14) I জগত মসীহকে জানার সাথে সাথে, সেখানে তার ও তার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে মিথ্যা ভাববাদী এবং মিথ্যা দাবির এক ক্রমবর্ধান সংখ্যা হবে I যুদ্ধ, বিশৃঙ্খলা, এবং বিপর্যয়ের মাঝখানে তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রকৃত চিহ্নটি সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্রদের অবিসংবাদিত অশান্তি হবে I একরকম তারা অন্ধকার হয়ে যাবে I   

আমরা দেখতে পারি যে যুদ্ধ, বিপর্যয় এবং ভূমিকম্প বাড়ছে – অতএব তাঁর প্রতাবর্তনের সময় কাছে আসছে I তবে স্বর্গে এখনও কোনো অশান্তি নেই – তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন এখনই নয় I কিন্তু আমরা কতটা কাছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ঈসা আল মসীহ বলতে থাকেন

  32 ‘ডুমুর গাছ দেখে শিক্ষা নাও, তার কচি ডালে পাতা বের হলে জানা যায় গ্রীষ্মকাল কাছে এসে গেছে৷
33 ঠিক সেই রকম, যখন তোমরা দেখবে এসব ঘটছে, বুঝবে মানবপুত্রের পুনরুত্থানের সময় এসে গেছে, তা দরজার গোড়ায় এসে পড়েছে৷
34 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না এসব ঘটছে এই যুগের লোকদের শেষ হবে না৷
35 আকাশ ও সমগ্র পৃথিবী বিলুপ্ত হয়ে যাবে, কিন্তু আমার কোন কথা বিলুপ্ত হবে না৷

মথি 24:32-35

ইস্রায়েলের প্রতীকী ডুমুর গাছটিকে স্মরণ করুন, যাকে তিনি অভিশাপ দিয়েছিলেন এবং আগের দিন শুকিয়ে গিয়েছিল? যখন মন্দিরটি 70 খ্রীষ্টাব্দে ধ্বংস হয়েছিল ইস্রায়েলের শুকিয়ে যাওয়া ঘটেছিল এবং এটি কয়েক হাজার বছর ধরে শুকনো ছিল I নবী আমাদের ডুমুর গাছ থেকে বেরিয়ে আসা সবুজ এবং পাতার অঙ্কুরের দিকে দেখতে বললেন – এবং তখন আমরা জানব সময় ‘নিকটস্থ’ হবে I বিগত 70 বছরে আমরা সকলে লক্ষ্য করেছি এই ‘ডুমুর গাছ’ পুনরায় সবুজ এবং পাতাগুলো অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছে I এটি ইসরায়েলের আধুনিক পুনর্জন্মের মধ্য দিয়ে আরম্ভ হয়েছিল, এবং যিহূদিদের ইস্রায়েলে ফিরে আসতে শুরু করার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে এবং সেচ ও কৃষিজমি আবার শুরু করেছে I হ্যাঁ, এটি আমাদের সময়ে যুদ্ধ, বিপর্যয় এবং সমস্যাগুলোকে যুক্ত করেছে, তবে এটি আমাদের অবাক করা উচিত নয় যেহেতু নবী তাঁর শিক্ষায় এই সম্বন্ধে সতর্ক করেছেন I বিভিন্ন উপায়ে, এই ‘গাছটির’ মধ্যে এখনও মৃত্যুতা রয়েছে, তবে ডুমুর গাছটির পাতাগুলো সবুজ হতে শুরু করছে I

এটি আমাদের সময়ে আমাদেরকে যত্নশীল এবং সজাগ করা উচিত যেহেতু নবী আমাদেরকে তাঁর প্রত্যাবতন সম্পর্কে অসাবধান এবং উদাসীন হতে সাবধান করেছেন I    

 

36 ‘সেই দিন ও মুহূর্ত্তের কথা কেউ জানে না, এমন কি স্বর্গদূতেরা অথবা পুত্র নিজেও তা জানেন না, কেবলমাত্র পিতা (ঈশ্বর) তা জানেন৷
37 নোহের সময় য়েমন হয়েছিল, মানবপুত্রের আগমনের সময় সেইরকম হবে৷
38 নোহের সময়ে বন্যা আসার আগে, য়ে পর্যন্ত না নোহ সেই জাহাজে ঢুকলেন, লোকেরা সমানে ভোজন পান করেছে, বিয়ে করেছে ও ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছে৷
39 ‘য়ে পর্যন্ত না বন্যা এসে তাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, সে পর্যন্ত তারা কিছুইবুঝতে পারে নি য়ে কি ঘটতে যাচ্ছে৷ মানবপুত্রের আগমনও ঠিক সেই রকমভাবেইহবে৷
40 সেই সময় দুজন লোক মাঠে কাজ করবে৷ তাদের একজনকে নিয়ে যাওযা হবে, অন্য জন পড়ে থাকবে৷
41 দুজন স্ত্রীলোক য়াঁতা পিষবে, তাদের একজনকে নিয়ে যাওযা হবে, আর অন্যজন পড়ে থাকবে৷
42 ‘তাই তোমরা সজাগ থাক, কারণ তোমাদের প্রভু কোন দিন আসবেন, তা তোমরা জানো না৷
43 তবে একথা মনে রেখো, যদি গৃহস্থ জানত রাত্রে কোন সময় চোর আসবে, তবে সে জেগে থাকত৷ সে চোরকে নিজের ঘরের সিঁধ কাটতে দিত না৷
44 তাই তোমরাও প্রস্তুত থাক, কারণ তোমরা যখন তাঁর আগমনের বিষয়ে ভাববেও না, মানবপুত্র সেই সময়ই আসবেন৷
45 ‘সেইবিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস তাহলে কে, যার ওপর তার প্রভু তাঁর বাড়ির অন্যান্য দাসদের ঠিক সময়ে খাবার দেবার দাযিত্ব দিয়েছেন?
46 সেই দাস ধন্য যার মনিব ফিরে এসে তাকে তার কর্তব্য করতে দেখবেন৷
47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি সেই দাসকেই তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দেখাশোনার ভার দেবেন৷
48 কিন্তু ধর, সেই দাস যদি দুষ্ট হয়, আর মনে মনে বলে, ‘আমার মনিবের ফিরে আসতে অনেক দেরী আছে৷
49 ‘তাই সে তার সঙ্গী দাসদের মারধর করে এবং মাতালদের সঙ্গে খাওযা-দাওযা করতে শুরু করে৷
50 তাহলে য়ে দিন ও য়ে সময়ের কথা সেইদাস ভাবতেও পারবে না বা জানবেও না, সেই দিন ও সেই মুহূর্ত্তেইতার মনিব এসে হাজির হবেন৷
51 তখন তার মনিব তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন, ভণ্ডদের মধ্যে তাকে স্থান দেবেন; য়েখানে লোকেরা কান্নাকাটি করে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘসে৷

মথি 24:36-51

ঈসা আল মসীহ ইঞ্জিলের মধ্যে তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে ক্রমাগত শিক্ষা দিতে থাকলেন এবং এর প্রতি লিংকটি এখানে রয়েছে I

তৃতীয় এবং চতুর্থদিনের সংক্ষিপ্তসার

আপডেট করা কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহ তৃতীয় দিনে ডুমুর গাছ্টিকে অভিশাপ দিলেন – মঙ্গলবারে – যিহূদি নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্কের আগে I এই কার্যটি ইস্রায়েলের প্রতীকী ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ ছিল I তারপরে, চতুর্থ দিন, বুধবারে, তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নগুলো বর্ণনা করলেন – সমস্ত স্বর্গীয় দেহগুলোর সর্বাধিক অন্ধকার হয়ে যাওয়া I

Signs of Isa al Masih on Days 3 and 4 of his last week compared to regulations of Taurat

তাওরাতের নিয়মাবলীর তুলনায় তাঁর শেষ সপ্তাহের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনগুলোতে ঈসা আল মসীহর চিহ্ন সমূহ 

তারপরে তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য সতর্কভাবে লক্ষ্য করতে আমাদের সকলকে সাবধান করলেন I যেহেতু আমরা এখন দেখতে পারি ডুমুর গাছটি আবার সবুজ হয়ে উঠছে, আমাদের সাবধানে এবং সজাগ থাকতে হবে I

ইঞ্জিল পরে লিপিবদ্ধ করে কিভাবে শয়তান (ইবলিস) পঞ্চম দিনে নবীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হল, যেটিকে আমরা পরে দেখব I


 [i] ওই সপ্তাহের প্রত্যেক দিনটিকে বর্ণনা কোরে, লুকের পুস্তক সেটিকে সংক্ষিপ্তসার করে:

লুক 21:37

দিন 2: ঈসা আল মসীহ মনোনীত হয়েছেন – যেখানে আজকের আল-আকসা ও পাথরের গম্বুজ রয়েছে

কেন আল-আকসা (আল-মসজিদ আল-আকসা বা বায়ত আল-মকদিস) এবং পাথরের গম্বুজের (কুব্বত আল-সাকরাহ) অবস্থান যিরূশালেমে এত বিশিষ্ট? অনেক পবিত্র ঘটনাগুলো এখানে ঘটেছে তবে কম লোক জানে এই পবিত্র অবস্থানে নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সঙ্গে কি ঘটেছিল I

যিরূশালেমে নবী ঈসা আল মসীহ যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন তাকে ভালভাবে বুঝতে হলে আমরা এটিকে মক্কায় মহম্মদের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করি I সুরা আল-ফাথহ (সুরা 48 – বিজয়) কুয়ারিশ সম্পর্কে বলে যে কাব্বায় প্রবেশাধিকার রক্ষা করেছিল I    

তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।()

সুরা আল-ফাথহ 48:25

তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।

কুয়ারিশ নবী পিবিইউএইচ এবং তার অনুগামীদের পবিত্র মসজিদ এবং মক্কার কুর্বানীর স্থান থেকে বাধা দিয়েছিল I যিরূশালেমে পবিত্র মন্দির এবং কুর্বানীর স্থানে ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সময়ে অনুরূপ কিছু ঘটছিল I দূর থেকে আসা উপাসনাকারীদের জন্য অর্থ বিনিময়ের প্রয়োজনে ধর্মীয় নেতারা কুর্বানী সংক্রান্ত পশুদের কেনা বেচার একটি ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছিল I এটি মন্দিরেতে প্রকৃত উপাসনায় বাধা উৎপন্ন করেছিল I তবে মন্দিরটি সদাপ্রভুকে জাতিগণের মধ্যে জ্ঞাত করতে নির্মিত হয়েছিল – তাদের থেকে তাঁকে লুকিয়ে রাখতে নয় I ঈসা আল মসীহ পিবিউএইচ পরিস্থিতিকে ঠিক করতে অগ্রসর হলেন, যার ফলে তাঁকে অবিশ্বাসীদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হল যার বিবরণ সুরা তাঘাবুনে  (সুরা 64 – পারস্পরিক হতাশা) বর্ণিত রয়েছে I          

কয়েকশত বছর আগে নবী সবেমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী করা সঠিক দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন, নিজেকে মসীহ এবং জাতিগণের কাছে এক জ্যোতি বলে প্রকাশ কোরে I যিহূদি ক্যালেন্ডারে, সেই তারিখটি, একটি পবিত্র সপ্তাহের প্রথম দিন, নীসন 9 তারিখ, রবিবার ছিল I তাওরাতের নিয়মের কারণে, পরের দিন, দশম নীসন, যিহূদি ক্যালেন্ডারে একটি অনন্য দিন ছিল I অনেক আগে, আল্লাহর দ্বারা নির্দেশিত হওয়ার সময়ে নবী মশি (পিবিউএইচ) দশম মহামারীকে ফরৌণের বিরুদ্ধে প্রস্তত করছিলেন যাকে তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছিল:        

  শি ও হারোণ মিশরে থাকার সময় প্রভু তাদের বললেন,
2 “এই মাস হবে তোমাদের জন্য বছরের প্রথম মাস,
3 এই আদেশ সমস্ত ইস্রায়েলবাসীর জন্য: এই মাসের দশম দিনে প্রত্যেকে তার বাড়ীর জন্য একটি করে পশু জোগাড় করবে| পশুটি একটি মেষ অথবা একটি ছাগলও হতে পারে| যদি তার বাড়ীতে একটি গোটা পশুর মাংস খাওয়ার মতো য়থেষ্ট লোক না থাকে তবে সে তার কিছু প্রতিবেশীকে মাংস ভাগ করে খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করবে| প্রত্যেকের খাওয়ার জন্য যথেষ্ট মাংস থাকবে| পশুটিকে হতে হবে একটি এক বছরের পুংশাবক এবং সম্পূর্ণরূপে স্বাস্থ্য়বান|

যাত্রাপুস্তক 12:1-3

সেই সময়ে নীসন যিহূদি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস ছিল I তাই, প্রত্যেক নীসন 10 তারিখ নবী মশির সময় থেকে, প্রত্যেক যিহূদি পরিবার আসন্ন নিস্তার পর্বের জন্য একটি মেষ শাবক বেছে নেবে – এটিকে কেবলমাত্র সেই দিনেই করা  যাবে I নবী ঈসা আল মসীহর সময়ে যিহূদিরা যিরূশালেমের মন্দিরে নিস্তারপর্বের মেষ বাছাই করত – সেই একই স্থান যেখানে 2000 বছর পূর্বে নবী আব্রাহামকে (পিবিইউএইচ) তার পুত্রের কুর্বানী দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয়েছিল I আজ, আল-আকসা মসজিদ এবং পাথরের গম্ভুজের এটি একটি অবস্থান I অতএব এক নির্দিষ্ট স্থানে (যেখানে আল-আকসা এবং পাথরের গম্বুজ আজকের দিনে রয়েছে এবং নবী ঈসা আল মসীহর সময়ে যেখানে যিহূদি মন্দির ছিল) যিহূদি বছরের (নীসন 10 তারিখ) এক নির্দিষ্ট দিনে, যিহূদিরা প্রত্যেক পরিবারের (দরিদ্র কপোতদের বেছে নিত) জন্য নিস্তারপর্বের মেষশাবক বেছে নিত I যেমন আপনি কল্পনা করতে পারেন, বিরাট সংখ্যক মানুষ এবং প্রাণীরা, বিদেশী মুদ্রার বিনিময়, (যেহেতু যিহূদিরা অনেক স্থান সমূহ থেকে এসেছিল) নীসন 10 তারিখে মন্দিরকে এক উন্মত্ত বাজারের মতন করে তুলত I সেই দিন নবী ঈসা আল মসীহ যা করেছিলেন ইঞ্জিল তার বিবরণ দেয় I যখন অনুচ্ছেদটি ‘পরের দিনকে’ উল্লেখ করে এই দিনটি যিরূশালেমে তাঁর রাজকীয় প্রবেশের পরে, দশম নীসন – ঠিক যে দিন নিস্তারপর্বের মেষশাবকগুলোকে মন্দিরের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছিল I   

  11 তিনি জেরুশালেমে ঢুকে মন্দিরে গেলেন৷ সেখানে চারদিকের সমস্ত কিছু লক্ষ্য করলেন; কিন্তু সন্ধ্যে হয়ে যাওযায় বারোজন প্রেরিতকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বৈথনিযাতে ফিরে গেলেন৷
12 পরের দিন বৈথনিযা ছেড়ে আসার সময় তাঁর খিদে পেল৷
13 দূর থেকে তিনি একটি পাতায় ভরা ডুমুর গাছ দেখে তাতে কিছু ফল পাবেন ভেবে তার কাছে গেলেন, কিন্তু গাছটির কাছে গেলে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না; কারণ তখন ডুমুর ফলের মরশুম নয়৷
14 তখন তিনি গাছটিকে বললেন, ‘এখন থেকে তোমার ফল আর কেউ কোন দিন খাবে না!’ এই কথা তাঁর শিষ্যেরা শুনতে পেলেন৷
15 পরে তাঁরা জেরুশালেমে গেলেন; আর মন্দিরের মধ্যে ঢুকে যাঁরা কেনা বেচা করছিল সেইসব ব্যবসাযীদের বের করে দিলেন৷ তিনি পোদ্দারদের টেবিল এবং যাঁরা পায়রা বিক্রি করছিল তাদের আসন উল্টে দিলেন৷
16 তিনি মন্দিরের মধ্যে দিয়ে কাউকে কোন জিনিস নিয়ে য়েতে দিলেন না৷
17 তিনি শিক্ষা দিয়ে তাদের বললেন, ‘এটা কি লেখা নেই ‘আমার মন্দিরকে সমগ্র জাতির উপাসনা গৃহ বলা হবে?”কিন্তু তোমরা এটাকে দস্য়ুদের আস্তানায় পরিণত করেছ৷’

মার্ক 11:11-17

মানবীয় স্তরে নবী ঈসা আল মসীহ সোমবার (পবিত্র সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন) নীসন 10 তারিখে মন্দিরে গিয়েছিলেন, এবং ব্যবসায়ী কাজকর্ম বন্ধ   করেছিলেন I স্বর্গের প্রতি প্রার্থনার জন্য, বিশেষ করে অন্য জাতিগণের জন্য, কেনা বেচা একটি বাধার সৃষ্টি করেছিল I নবী এই জাতিগণের জন্য এক জ্যোতি ছিলেন, তই তিনি ব্যবসায়ী কাজকর্ম বন্ধ করে মর্ত্য এবং স্বর্গের মধ্যে বাধাটিকে ভেঙ্গে ফেললেন I তবে সেই সময়ে এছাড়াও কিছু অদৃশ্য ঘটল I ঈসা আল মসীহকে দেওয়া নবী ইয়াহিয়ার (পিবিইউএইচ) উপাধি থেকে আমরা এটিকে বুঝতে পারি I তাঁকে ঘোষণা করে নবী ইয়াহিয়া বললেন:

  29 পরের দিন য়োহন যীশুকে তাঁর দিকে আসতে দেখে বললেন, ‘ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপরাশি বহন করে নিয়ে যান!

যোহন 1:29

নবী ঈসা আল মসীহ ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ ছিলেন I আব্রাহামের কুরবানীর মধ্যে, আল্লাহ একজন ছিলেন যিনি তার পুত্রের পরিবর্তে একটি ঝোপের মধ্য থেকে এটিকে ধরে আব্রাহামের জন্য একটি মেষশাবক মনোনীত করলেন I এই জন্যই ঈদ আল-আধা আজ উদযাপিত হয় I মন্দিরটি এই অবস্থানে ছিল যেখানে মেষশাবকটিকে মনোনীত করা হয়েছিল – যেখানে আজকে আল-আকসা এবং পাথরের গম্বুজ রয়েছে I যখন ঈসা আল মসীহ নীসন 10 তারিখে  মন্দিরের মধ্যে গেলেন তাঁকে আল্লাহর দ্বারা তাঁর মেষশাবক রূপে মনোনীত করা হ’ল I মনোনীত হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সঠিক দিনে মন্দিরের মধ্যে তাঁর হওয়ার ছিল – এবং তিনি ছিলেন I    

নিস্তারপর্বের মেষশাবক হিসাবে ঈসার উদ্দেশ্য

নিস্তারপর্বের মেষশাবক হিসাবে কিসের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হ’ল? ঈসার শিক্ষা উত্তরটি প্রদান করে I যখন তিনি বললেন, ‘আমার গৃহ সমস্ত জাতিগণের জন্য একটি প্রার্থনার গৃহ হবে’ তখন তিনি নবী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) থেকে উদ্ধৃত করছিলেন I এখানে সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটি রয়েছে (নবী যা বলেছেন তা লালের মধ্যে রয়েছে) I

  6 ইহুদী নয় এমন কেউ কেউ প্রভুর সঙ্গে যোগ দেবে| তারা এই সব করবে প্রভুর সেবার জন্য এবং তারা প্রভুর নামকে ভালবাসে বলে তারা প্রভুর সঙ্গে যোগ দেবে তার দাস হওয়ার জন্য| তারা বিশ্রামকে বিশেষ উপাসনার দিন হিসাবে রাখবে এবং আমার চুক্তি বিধি মেনে চলবে|
7 প্রভু বলেন, “আমি তাদের আমার পবিত্র পর্বতে নিয়ে আসব| আমার প্রার্থনাগৃহে তাদের সুখী করে তুলব| তাদের নৈবেদ্য ও উত্সর্গে আমি খুশি হব| কেন? কারণ আমার মন্দিরকে বলা হবে সব জাতির প্রার্থনাগৃহ|”

যিশাইয় 56:6-7

যাবুরের কিছু অন্যান্য ভাববাদী সহ নবী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) ঐতিহাসিক কালপঞ্জি 

যে ‘পবিত্র পর্বত’ সম্পর্কে যিশাইয় লিখেছিলেন তা পর্বত মোরিয়া ছিল, যেখানে আলাহর দ্বারা মনোনীত মেষশাবকটিকে নবী আব্রাহাম তার পুত্রের পরিবর্তে কুরবানী দিয়েছিলেন I ‘প্রার্থনার গৃহটি’ ছিল মন্দির যেটিতে ঈসা আল মসীহ নীসন 10 তারিখে প্রবেশ করেছিলেন I যিহূদিদের জন্য, অবস্থানটি এবং উৎসবের তারিখ আব্রাহামের কুরবানী এবং মশির নিস্তারপর্বকে সম্মিলিত করেছিল I যাইহোক কেবল যিহূদিরা মন্দিরে বলি চড়াতে এবং নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে পারত I তবে যিশাইয় লিখেছিলেন যে ‘বিদেশীরা’ (অযিহূদিরা) একদিন দেখবে যে ‘তাদের হোম বলি অর্পণ এবং কুরবানী স্বীকৃত হবে’ I যিশাইয়কে উদ্ধৃত করে, নবী ঈসা ঘোষণা করলেন যে তার কার্য   অ-যিহূদিদের জন্য একটি স্বীকৃতি পাবে I এই সময়ে তিনি উল্লেখ করেন নি কিভাবে তিনি তা করবেন I তবে বিবরণটিকে চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা শিখব এমনকি আমরা এখন জানব যে আপনাকে এবং আমাকে আশীর্বাদ দিতে আল্লাহর একটি পরিকল্পনা ছিল I

পবিত্র সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী দিনগুলো

নীসন 10 তারিখে যিহূদিদের তাদের মেষশাবকদের মনোনীত করার পরে, তাওরাতের নিয়মগুলো তাদেরকে যা করতে আদেশ দিল:

  6 মাসের চতুর্দশ দিন পর্য়ন্ত এই পশুটির ওপর তোমাদের নজর রাখতে হবে| সেই দিন ইস্রায়েলীয় মণ্ডলীর সমস্ত লোকরা এই পশুটিকে গোধুলি বেলায হত্যা করবে|

যাত্রাপুস্তক 12:6

সেই প্রথম নিস্তারপর্বের পরে নবী মশির সময়ে, যিহূদিরা প্রত্যেক নীসন 14 তারিখে তাদের নিস্তারপর্বের মেষশাবকদের কুরবানী দিত I আমরা ‘মেষশাবকদের যত্ন নেওয়া এবং তাদের কুরবানীকে সপ্তাহের জন্য কালপঞ্জিতে তাওরাতের নিয়মাবলীর সঙ্গে যুক্ত করি I কালপঞ্জির নিম্ন অর্ধে আমরা সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের জন্য নবীর কার্যাবলীকে যুক্ত করি – তাঁর মন্দির পরিষ্কার এবং আল্লাহর মেষশাবক হিসাবে তাঁর মনোনয়ন I

সোমবার – দ্বিতীয় দিনে – নবী ঈসা আল মসীহর কার্যাবলী – তাওরাতের নিয়মাবলীর তুলনায়

যখন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ প্রবেশ করলেন এবং মন্দির পরিষ্কার করলেন, এর মানবীয় স্তরেও একটি প্রভাব ছিল I ইঞ্জিল উল্লেখ করে এগিয়ে চলেছে:

  18 প্রধান যাজকরা এবং ব্যবস্থার শিক্ষকরা এই কথা শুনে তাঁকে হত্যা করার রাস্তা খুঁজতে থাকল, কারণ তারা তাঁকে ভয় করত, য়েহেতু তাঁর শিক্ষায় সমগ্র লোক আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল

মার্ক 11:18

মন্দিরটি পরিষ্কার করার সময়ে যিহূদি নেতাদের দ্বারা তাকে হত্যা করতে নিশানা করা হ’ল I  

তারা নবীর মুখোমুখি হয়ে আরম্ভ করল I ইঞ্জিল বিবরণ দেয় যে পরের  দিন….


27 পরে তাঁরা জেরুশালেমে ফিরে এলেন৷ আর যখন তিনি মন্দিরের মধ্যে দিয়ে হাঁটছেন, সেই সময় প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও বয়স্ক ইহুদী নেতারা তাঁর কাছে এলেন৷
28 তাঁরা তাকে বললেন, ‘কোন ক্ষমতায় তুমি এসব করছ? এসব করতে তোমাকে কেই বা এই ক্ষমতা দিয়েছে?’

মার্ক 11:27-28

সুরা আত-তাঘাবুন আমাদের স্মরণ করায় যে সেইসময়ে নবীদের এই ধরণের চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল I

 তোমাদের পুর্বে যারা কাফের ছিল, তাদের বৃত্তান্ত কি তোমাদের কাছে পৌছেনি? তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে, এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।এটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীসহ আগমন করলে তারা বলতঃ মানুষই কি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কাফের হয়ে গেল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী প্রশংসিত।কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

সুরা আত-তাঘাবুন 64:5-7

5. তোমাদের পুর্বে যারা কাফের ছিল, তাদের বৃত্তান্ত কি তোমাদের কাছে পৌছেনি? তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে, এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 6. এটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীসহ আগমন করলে তারা বলতঃ মানুষই কি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কাফের হয়ে গেল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী প্রশংসিত। 7. কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ, কঠিনতম পরীক্ষার দ্বারা তাঁর কর্তৃত্বকে প্রমাণ করতে হত, সুরা তাঘাবুন বর্ণনা করেছে যে অবিশ্বাসীরা নিয়মিতভাবে নবীদের চ্যালেঞ্জ জানাত I এটি স্পষ্ট চিহ্ন হত দেখাতে যে নবী ‘কেবল মানবীয়’ স্তরের কর্তৃত্বের থেকে শুধু কার্য করতেন না I যেমন আত-তাঘাবুন স্পষ্ট করে, মৃত থেকে উত্থাপন করা পরীক্ষা ছিল I তবে প্রথমে, আরও কিছু ঘটনা সমূহ সেই পরিণতিজনক সপ্তাহটিকে উদঘাটিত করতে ছিল I

পরে দিন 3 এবং 4 এর উপরে ঘটনাগুলো দেখার সাথে সাথে আমরা অনুসরণ  করব কিভাবে কর্তৃত্ব সমূহের ষড়যন্ত্র, নবীর কার্যাবলী, এবং তাওরাতের নিয়মাবলী একসাথে সম্মিলিত হয় I  


দিন 1: ঈসা আল মসীহ – জাতিগনের প্রতি জ্যোতি

যিরূশালেমে ঈসা আল মসীহর তাল পাতার রবিবারের প্রবেশ তার চূড়ান্ত সপ্তাহ শুরু করল I সুরা আল-আন্বিয়া (সুরা 21 – নবীগণ) আমাদের বলে যে 

এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।

সুরা আল-আন্বিয়া 21:91

এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।

সুরা আল-আন্বিয়া স্পষ্টভাবে বলে যে আল্লাহ ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ সকল লোকেদের জন্য একটি ‘চিহ্ন’ রূপে প্রস্তুত করেছেন, না কেবল খ্রীষ্টান বা যিহূদিদের জন্য I কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহকে আমাদের সকলের জন্য একটি ‘চিহ্ন’ রূপে প্রস্তুত করা হ’ল I আল্লাহর দ্বারা জগতের সৃষ্টি সকল লোকেদের জন্য সার্বজনীন ছিল I তাই এই চূড়ান্ত সপ্তাহের প্রত্যেক দিন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এমনভাবে কথা বললেন এবং কার্য্য করলেন যা সৃষ্টির ছয় দিনের দিকে নির্দেশ করল (কোরআন এবং তওরাত সেখায় যে আল্লাহ সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছিলেন) I     

ঈসা আল মসীহর চূড়ান্ত সপ্তাহের প্রত্যেক দিনের মধ্য দিয়ে গেলে, লক্ষ্য করি কিভাবে তাঁর সমস্ত শিক্ষা এবং কার্যাবলী সৃষ্টির দিকে নির্দেশকারী চিহ্ন হয় I এটি দেখাবে যে এই সপ্তাহের প্রত্যেক দিনের ঘটনাবলী সময়ের আরম্ভ থেকে আল্লাহর দ্বারা দৈবনির্দিষ্ট হয়েছিল – কোনো মানবীয় ধারণার দ্বারা নয় যেহেতু মানুষ কয়েক হাজার বছরের ব্যবধানের ঘটনা সমূহকে সমন্বয় করতে পারে   না I আমরা রবিবারে শুরু করি – দিন এক I    

দিন এক – অন্ধকারের মধ্যে জ্যোতি  

সুরা আন-নুর (সুরা 24 – জ্যোতি) ‘জ্যোতি’র একটি দৃষ্টান্ত দেয় I এটি ব্যক্ত করে:

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।

সুরা আন-নুর 24:35

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।

এই দৃষ্টান্ত সৃষ্টির প্রথম দিনের দিকে উল্লেখ করে যখন আল্লাহ জ্যোতি সৃষ্টি করলেন I তাওরাত ব্যক্ত করে:

3 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল|
4 আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল| তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন|
5 ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি|”সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল| এই হল প্রথম দিন|
6 তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক|”

আদিপুস্তক 1:3-6

অন্ধকারকে মুছে দিতে সৃষ্টির প্রথম দিনে আল্লাহ বললেন জ্যোতির অস্তিত্ব   হোক I এই চিহ্নটি দেখাতে যেহেতু সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই সেই সময়ের ঘটনাগুলোকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল মসীহ অন্ধকারকে সরিয়ে তাঁর জ্যোতি হওয়ার কথা বলেছিলেন I 

অযিহূদিদের উপরে জ্যোতি উজ্বল হয়  

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সবেমাত্র একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন যেমন নবী সখরিয় পিবিইউএইচ 500 বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সঠিক দিনে তাই করেন যা নবী দানিয়েল পিবিইউএইচ 550 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আসন্ন নিস্তারপর্বের উৎসবের জন্য অনেক দেশ থেকে যিহূদিরা উপস্থিত হচ্ছিল তাই যিরূশালেমে যিহূদি তীর্থযাত্রীদের ভীড় ছিল (হাজ্জের সময় মক্কার মতন) I অতএব নবীর আগমন যিহূদিদের মধ্যে এক আলোড়ন সৃষ্টি করল I তবে এটি কেবলমাত্র যিহূদিরাই নয় যারা ঈসা আল মসীহর আগমনকে লক্ষ্য করল I যিরূশালেমে তাঁর ঠিক প্রবেশ করার পরে যা ঘটল ইঞ্জিল তাকে লিপিবদ্ধ করে I       

  20 নিস্তারপর্ব উপলক্ষে উপাসনা করার জন্য যাঁরা জেরুশালেমে এসেছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রীকও ছিল৷
21 তারা গালীলের বৈত্‌সৈদা থেকে য়ে ফিলিপ এসেছিলেন, তাঁর কাছে গেল, আর তাঁকে অনুরোধের সুরে বলল, ‘মহাশয় আমরা যীশুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চাই৷’
22 ফিলিপ এসে একথা আন্দরিয়কে জানালেন৷ তখন আন্দরিয় ও ফিলিপ এসে যীশুকে তা বললেন৷

যোহন 12:20-22

নবীর সময়ে গ্রীক এবং যিহূদিদের মধ্যে বাধা

গ্রীকদের (অর্থাৎ পরজাতি বা অযিহূদি) পক্ষে যিহূদি উৎসবে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক ছিল I সেই সময়ের গ্রীক এবং রোমীয়দের, যেহেতু তারা বহু-ঈশ্বরবাদী ছিল, অশুচি বিবেচনা করা হত এবং যিহূদিদের দ্বারা পরিহার করা হত I আর বেশিরভাগ গ্রীকরা কেবলমাত্র এক (অদেখা) ঈশ্বরে বিশ্বাসী যিহূদি ধর্ম এবং এর উৎসবগুলোকে বোকামি বলে মনে করত I সেই সময়ে কেবলমাত্র যিহূদিরা একেশ্বরবাদী ছিল I তাই এই লোকেরা নিয়মিতভাবে একে অপরের থেকে আলাদা থাকত I যেহেতু পরজাতি বা অ-যিহূদি সমাজ যিহূদি সমাজ থেকে বহুগুন বড় ছিল তাই যিহূদিরা জগতের অধিকাংশের থেকে এক প্রকারের বিচ্ছিনতার মধ্যে বাস করত I তাদের আলাদা ধর্ম, তাদের হালাল আহার, নবীদের তাদের একচেটিয়া বই যিহূদি এবং অযিহূদিদের মধ্যে এক বাধার সৃষ্টি করেছিল, এক পক্ষের অপর পক্ষের প্রতি শত্রুতার সাথে I  

আমাদের সময়ে, বহু-ঈশ্বরবাদ এবং মূর্তি পূজা জগতের অনেকের দ্বারা অস্বীকৃত হওয়ার সাথে, আমরা সহজেই ভুলতে পারি এই নবীর সময়ে এটি কিরকম  আলাদা ছিল I আসলে, আব্রাহামের পিবিইউএইচ সময়ে, ওই নবী ছাড়া প্রায় প্রত্যেকে বহু-ঈশ্বরবাদী ছিল I নবী মশির পিবিইউএইচ সময়ে, অন্য সমস্ত জাতিগুলো মূর্তির উপাসনা করত, সাথে ফরৌণ স্বয়ং ঈশ্বরদের একজন বলে নিজেকে দাবি করত I সমস্ত পরিবেষ্টিত জাতিগুলোর মূর্তি উপাসনার মহাসাগরের মধ্যে ইস্রায়েলীয়রা একেশ্বরবাদের একটি ছোট দ্বীপ ছিল I তবে নবী যিশাইয়কে  পিবিইউএইচ (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ভবিষ্যতের মধ্যে দেখতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল আর তিনি এই সমস্ত জাতিগুলোর জন্য একটি পরিবর্তন আগে থেকেই দেখেছিলেন I তিনি লিখলেন: 

  রবর্তী স্থানের সব লোকরা আমার কথা শোন| পৃথিবীবাসী সবাই আমার কথা শোন! আমি জন্মাবার আগেই প্রভু আমাকে তাঁর সেবা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন| আমি মাতৃজঠরে থাকার সময়েই প্রভু আমার নাম ধরে ডাক দেন|
2 প্রভু আমাকে তাঁর কথা বলতে ব্যবহার করেন! তিনি আমার মুখকে ধারালো তরবারির মতো তৈরী করেছেন| তিনি আমাকে নিজের হাতে লুকিয়ে রেখে আমাকে রক্ষাও করেছেন| প্রভু আমাকে একটি ধারালো তীরের মতো ব্যবহার করলেও, তিনি আমাকে তাঁর তীরের থলিতে লুকিয়ে রাখেন|
3 প্রভু আমাকে বললেন, “ইস্রায়েল তুমি আমার ভৃত্য! তোমার জন্য আমি যা করি তার জন্য আমি সম্মানিত হব|”
4 আমি বললাম, “আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি| আমি নিজেকে ক্ষয় করেছি, কিন্তু কোন প্রযো-জনীয কাজ করি নি| আমি আমার সমস্ত শক্তি ব্যয করেছি| কিন্তু আমি সত্যিকারের কিছুই করতে পারিনি| তাই প্রভুকেই ঠিক করতে হবে| তিনি আমাকে নিয়ে কি করবেন| ঈশ্বরই আমার পুরস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন|
5 প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
6 “তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”

যিশাইয় 49:1,5-6

রুশালেম, আমার আলো উঠে পড়! তোমার আলো (ঈশ্বর) আসছেন| তোমার উপর প্রভুর মহিমা প্রতিভাত হবে|
2 অন্ধকার পৃথিবীকে ঢেকে দিয়েছে| লোকরা অন্ধকারাচ্ছন্ন| কিন্তু প্রভু তোমার উপর তাঁর কিরণ বিকীরণ করবেন| তাঁর মহিমা তোমার উপর দেখা যাবে|
3 সব জাতি তোমার আলোর কাছে আসবে| রাজারাও তোমার উজ্জ্বল আলোর (ঈশ্বর) কাছে আসবেন|

যিশাইয় 60: 1-3

তাই নবী যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে সদাপ্রভুর আসন্ন ‘দাস’, যদিও যিহূদি (‘যাকোবের গোত্রের’) ‘পরজাতিদের (সমস্ত অযিহূদি) জন্য এক জ্যোতি’ হবে এবং এই জ্যোতি পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছবে I তবে এটি যিহূদি এবং অযিহূদের মধ্যে কয়েকশত বছর ধরে স্থায়ী এই বাধার সাথে কিভাবে ঘটতে পারে?    

সেই দিন যখন নবী ঈসা যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন তখন জ্যোতি প্রথম পরজাতিদের নিকটে নিয়ে আসতে শুরু করল যেমন আমরা কিছুকে নবীকে কাছে আসতে দেখি I এখানে এই যিহূদি উৎসবে গ্রীকরা ছিল যারা নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সম্বন্ধে জানতে যিরূশালেমে যাত্রা করেছিল I তবে যিহূদিদের দ্বারা বিবেচিত হারাম, তারা কি নবীকে দেখতে সক্ষম হবে? তারা ঈসার সঙ্গীদের জিজ্ঞাসা করল, যারা নবীর কাছে অনুরোধটি নিয়ে এসেছিল I তিনি কি বলবেন? তিনি কি এই গ্রীকদের অনুমতি দেবেন সাক্ষাৎ করতে, যারা যথাযথ ধর্ম সম্বন্ধে খুব কম জানত? ইঞ্জিল চলতে থাকে     

 

23 যীশু তখন তাদের বললেন, ‘মানবপুত্রের মহিমান্বিত হওযার সময় হয়েছে৷
24 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, গমের একটি দানা যদি মাটিতে পড়ে মরে না যায়, তবে তা একটি দানাই থেকে যায়৷ কিন্তু তা যদি মাটিতে পড়ে মরে যায়, তবে তার থেকে আরো অনেক দানা উত্‌পন্ন হয়৷
25 য়ে ব্যক্তি নিজের জীবনকে ভালবাসে সে তা হারাবে; কিন্তু য়ে এই জগতে তার জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, সে তা রাখবে৷ সে অনন্ত জীবন পাবে৷
26 কেউ যদি আমার সেব করে তবে অবশ্যই সে আমাকে অনুসরণ করবে৷ আর আমি য়েখানে থাকি আমার সেবকও সেখানে থাকবে৷ কেউ যদি আমার সেবা করে তবে পিতা তাকে সম্মানিত করবেন৷
27 ‘এখন আমার অন্তর খুব বিচলিত৷ আমি কি বলব, ‘পিতা? এই কষ্ট ভোগের মুহূর্ত থেকে আমায় রক্ষা কর?’ না, কারণ সেই সময় এসেছে এবং কষ্ট ভোগ করার উদ্দেশ্যেই আমি এসেছি৷
28 পিতা, তোমার নামকে মহিমান্বিত কর!’তখন স্বর্গ থেকে এক রব ভেসে এল, ‘আমি এঁকে মহিমান্বিত করেছি, আর আমি আবার তাঁকে মহিমান্বিত করব৷’
29 য়ে লোকেরা সেখানে ভীড় করেছিল, তারা সেই রব শুনে বলতে লাগল, এটা তো মেঘ গর্জন হোল৷আবার কেউ কেউ বলল, ‘একজন স্বর্গদূত ওঁর সঙ্গে কথা বললেন৷’
30 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমার জন্য নয়, তোমাদের জন্যই ঐ রব৷
31 এখন জগতের বিচারের সময়৷ এই জগতের শাসককে দূরে নিক্ষেপ করা হবে৷
32 আর যখন আমাকে মাটি থেকে উঁচুতে তোলা হবে, তখন আমি আমার কাছে সকলকেই টেনে আনব৷’
33 যীশুর কিভাবে মৃত্যু হতে যাচ্ছে, তাই জানাতে যীশু এই কথা বললেন৷
34 এর উত্তরে লোকেরা তাঁকে বলল, ‘আমরা মোশির দেওযা বিধি-ব্যবস্থা থেকে শুনেছি য়ে খ্রীষ্ট চিরকাল বাঁচবেন৷ তাহলে আপনি কিভাবে বলছেন য়ে, ‘মানবপুত্রকে উঁচুতে তোলা হবে? এই ‘মানবপুত্র’ তবে কে?’
35 তখন যীশু তাদের বললেন, ‘আর সামান্য কিছু সময়ের জন্য তোমাদের মধ্যে আলো থাকবে৷ যতক্ষণ তোমরা আলো পাচ্ছ, তারই মধ্য দিয়ে চল৷ তাহলে অন্ধকার তোমাদের আচ্ছন্ন করবে না৷ য়ে লোক অন্ধকারে চলে সে কোথায় যাচ্ছে তা জানে না৷
36 যতক্ষণ তোমাদের কাছে আলো আছে, সেই আলোতে বিশ্বাস কর, তাতে তোমরা আলোর সন্তান হবে৷’ এই কথা বলে যীশু সেখান থেকে চলে গেলেন ও তাদের কাছ থেকে নিজেকে গোপন রাখলেন৷
37 যদিও যীশু তাদের চোখের সামনেই প্রচুর অলৌকিক চিহ্নকার্য় করলেন, তবু তারা তাঁকে বিশ্বাস করল না৷
38 ভাববাদী যিশাইয় বলেছিলেন:‘প্রভু, আমাদের এই বার্তা কে বিশ্বাস করেছে? আর কার কাছেই বা প্রভুর পরাক্রম প্রকাশ পেয়েছে?’যিশাইয় 53 :1
39 এই কারণেই তারা বিশ্বাস করতে পারে নি, কারণ যিশাইয় আবার বলেছেন,
40 ‘ঈশ্বর তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন৷ ঈশ্বর তাদের অন্তর কঠিন করেছেন যাতে তারা চোখ দিয়ে দেখতে না পায়, অন্তর দিয়ে বুঝতে না পারে এবং ভাল হবার জন্য আমার কাছে না আসে৷’যিশাইয় 6:10
41 যিশাইয় একথা বলেছিলেন, কারণ তিনি যীশুর মহিমা দেখেছিলেন আর তিনি তাঁর বিষয়েই বলেছিলেন৷
42 অনেকে, এমন কি ইহুদী নেতাদের মধ্যেও অনেকে, তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল; কিন্তু তারা ফরীশীদের ভয়ে প্রকাশ্যে তা স্বীকার করল না, পাছে তারা ইহুদীদের সমাজ-গৃহ থেকে বহিষ্কৃত হয়৷
43 কারণ তারা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা প্রশংসা অপেক্ষা মানুষের কাছ থেকে পাওযা প্রশংসা বেশী ভালবাসত৷
44 যীশু চিত্‌কার করে বললেন, ‘য়ে আমাকে বিশ্বাস করে সে, প্রকৃতপক্ষে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁকেই বিশ্বাস করে৷
45 আর য়ে আমায় দেখে সে, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁকেই দেখতে পায়৷
46 আমি এ জগতে আলো রূপে এসেছি যাতে য়ে আমায় বিশ্বাস করে তাকে য়েন অন্ধকারে থাকতে না হয়৷
47 ‘আর য়ে কেউ আমার কথা শোনে অথচ তা মেনে চলে না, তার বিচার করতে আমি চাই না, কারণ আমি জগতের বিচার করতে আসিনি, এসেছি জগতকে রক্ষা করতে৷
48 য়ে কেউ আমাকে অগ্রাহ্য় করে ও আমার কথা গ্রহণ না করে, তার বিচার করার জন্য একজন বিচারক আছেন৷ আমি য়ে বার্তা দিয়েছি শেষ দিনে সেই বার্তাই তার বিচার করবে৷
49 কারণ আমি নিজে থেকে একথা বলছি না, বরং পিতা যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি আমাকে কি বলতে হবে বা কি শিক্ষা দিতে হবে তা আদেশ করেছেন৷
50 আমি জানি য়ে তাঁর আদেশ থেকেই অনন্ত জীবন আসে৷ আমি সেই সকল কথা বলি যা পিতা আমায় বলেছেন৷’

যোহন 12:23-50

এই নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্যে, স্বর্গের থেকে এমনকি একটি কন্ঠস্বর সহ, নবী বললেন যে তিনি ‘উত্থাপিত’ হবেন এবং এটি ‘সকল লোকেদের’ টেনে নিয়ে আসবে – না কেবল যিহূদিদের – তাঁর কাছে I অনেক যিহূদিরা, এমনকি যদিও তারা কেবলমাত্র এক ঈশ্বরের উপাসনা করত, নবী কি বলছেন, বুঝতে পারল না I নবী যিশাইয় বললেন এটি তাদের কঠোর হৃদয়ের কারণে – আল্লাহর কাছে তাদের সমর্পণের অনিচ্ছা – যেটি মূলে ছিল, এমনকি অন্যরা ভয়ের কারণে চুপচাপ বিশ্বাস করল I    

নবী ঈসা আল মসীহ বলিষ্ঠভাবে দাবি করলেন যে তিনি ‘এক জ্যোতি হিসাব জগতে এসেছেন’ (আয়াত 46) যার সম্বন্ধে পূর্ববর্তী নবীরা লিখেছিলেন যেটি সমস্ত জাতিগণের উপরে উজ্জ্বল হবে I সেই দিনে, যখন তিনি যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন, জ্যোতি প্রথমে পরজাতিদের উপরে উজ্জ্বল হতে শুরু করল I এই জ্যোতি কি সমস্ত জাতিগণের উপরে ছড়িয়ে যাবে? ‘উত্থাপিত হওয়া’ বলতে  নবী কি বোঝাতে চেয়েছিলেন? এই প্রশ্নগুলো বুঝতে আমরা এই শেষ সপ্তাহের মধ্য দিয়ে চলতে থাকব I 

নিম্নলিখিত চার্টটি এই সপ্তাহের প্রত্যেক দিনের মধ্যদিয়ে গেছে I রবিবারে. সপ্তাহের প্রথম দিনে পূর্ববতী তিনজন নবীদের দ্বারা প্রদত্ত তিনটি আলাদা আলাদা ভবিষ্যদ্বাণী তিনি পূর্ণ করলেন I প্রথমত, সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে তিনি একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন I দ্বিতীয়ত, তিনি এটি এমন সময়ে করলেন যা দানিয়েলের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I তৃতীয়ত, তাঁর বার্তা এবং অলৌকিক কার্যাবলী পরজাতিগণের মধ্যে একটি আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করল – যা নবী যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে সমস্ত জাতিগণের কাছে একটি জ্যোতি রূপে আলোকিত হবে এবং জগতের চারিদিকের লোকেদের কাছে উজ্জ্বল হবে I  

আবেগের ঘটনাবলীর সপ্তাহ – দিন এক – রবিবার

ঈসা আল মসীহ সঠিক সময়ে, এক ভিন্ন শত্রুর কাছে, এক চমকপদ উপায়ে – জিহাদ ঘোষণা করেন

সুরা আত-তাওবাহ (সুরা 9 – অনুতাপ, ছত্রভঙ্গ) আলোচনার জন্ম দেয় যেহেতু এটি জিহাদ, বা প্রচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা করে I আয়াত শারীরিক সংগ্রামের জন্য পথ নির্দেশ দেয় যারফলে সেখানে বিভিন্ন পন্ডিতদের দ্বারা নানান ব্যাখ্যা আছে I সুরা আত-তাওবাহর থেকে আয়াতের এই আলোচনাটি এখানে রয়েছে: 

সুরা আত-তাওবাহ (সুরা 9 – অনুতাপ, ছত্রভঙ্গ)

তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।

সুরা আত-তাওবাহ 9:41-42

41 তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার। 42 যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর আল্লাহ জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী।

সুরা আত-তাওবাহের মধ্যে তিরষ্কারটি আসে কারণ যুদ্ধযাত্রা যদি সহজ হত, তাদেরকে অনুসরণ করা যেত, কিন্তু যারা ‘চেষ্টা করতে’ ইচ্ছুক মুস্কিলের সময়ে অন্তর্নিহিত হয়ে যেত I উত্তরসুরী আয়াত এই উৎসাহ-শুন্য অনুগামীদের অজুহাত এবং আলোচনাগুলোকে লিপিবদ্ধ করে I সুরা আত-তাওবাহ তখন এই অনুস্মারকটি দেয় 

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

সুরা আত-তাওবাহ 9:52

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

তিরষ্কার আসার সাধারণতঃ দুটি সম্ভাব্য পরিনতি থাকে: মৃত্যু (শহীদত্ব) বা বিজয় I তবে সংগ্রাম যদি এত বৃহৎ হয় উভয় ফলাফল আসে – শহীদত্ব এবং বিজয় উভয়ই I নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ তাঁর সুদীর্ঘ যিরূশালেম যাত্রায় এই সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিলেন – সেখানে তাঁর আগমনের সাথে কয়েকশ বছর আগে যাবুরের ভাববাদীদের দ্বারা প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করার জন্য অর্ধগোলাকার চাঁদ বা হেলাল চাঁদের দ্বারা সময় নির্ধারিত হয়েছিল I

যিরূশালেমে প্রবেশ

সুরা আল-ইসরা (সুরা 17 – রাত্রি যাত্রা) সুপরিচিত যেহেতু এটি নবী মহম্মদের পিবিইউএইচ রাত্রি যাত্রাকে বর্ণনা করে, যেখানে তিনি একটি উড়ন্ত বুরাকের উপরে চড়ে মক্কা থেকে একা এসেছিলেন   

.পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

সুরা আল-ইসরা 17:1

পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ রাত্রি যাত্রা হিসাবে ঠিক একই স্থানে যাচ্ছিলেন I তবে ঈসা আল মসীহ চিহ্ন সমূহ প্রদর্শন করতে প্রবেশ করেছিলেন I তাই তিনি রাত্রির পরিবর্তে প্রকাশ্য দিনের বেলায় এসেছিলেন, এবং একটি বুরাকের বদলে একটি গাধার উপরে চড়েছিলেন I যদিও আমরা সেটিকে একটি পাখি বুরাকের উপরে আসার মতন চিত্তাকর্ষক নাও ভাবতে পারি, যিরূশালেমের মন্দিরে একটি গাধার উপরে তার আবির্ভাব লোকেদের কাছ একটি স্পষ্ট চিহ্ন ছিল I কিভাবে হ’ল আমরা তার ব্যাখ্যা করি I   

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) লাসারকে তার জীবনে উত্থাপিত করে তাঁর মিশন প্রকাশ করেছিলেন এবং এখন তিনি যিরূশালেম (আল কুদা) অভিমুখে তার যাত্রা পথে ছিলেন I যে পথে তিনি পৌঁছাতেন তার সম্বন্ধে  কয়েকশত বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে: 

  12 য়ে বিপুল জনতা নিস্তারপর্বের জন্য এসেছিল, পরের দিন তারা শুনল য়ে যীশু জেরুশালেমে আসছেন৷
13 তখন তারা খেজুর পাতা নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়ল৷ তারা চিত্‌কার করে বলতে লাগল,‘তাঁর প্রশংসা কর, তাঁকে স্বাগত জানাও! যিনি প্রভুর নামে আসছেন, ঈশ্বর তাঁকে আশীর্বাদ করুন৷ ইস্রায়েলের রাজাকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন!’গীতসংহিতা 118 :2
14 যীশু একটা গাধাকে দেখতে পেয়ে তার ওপর বসলেন, য়েমন শাস্ত্রে লেখা আছে:
15 ‘সিযোন নগরী,ভয় পেও না! দেখ, তোমাদের রাজা আসছেন৷ দেখ, তোমাদের রাজা বাচ্চা গাধায় চড়ে আসছেন৷’সখরিয় 9:9
16 এসবের অর্থ তাঁর শিষ্যরা প্রথমে বুঝতে পারেন নি৷ কিন্তু যীশু যখন মহিমায় উত্তোলিত হলেন, তখন তাঁদের মনে পড়ল য়ে শাস্ত্রে এগুলিই তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে এবং লোকেরা এসব তাঁর জন্য করেছিল৷
17 যীশু যখন লাসারকে কবর থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন, আর তাকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করে তোলেন, তখন য়ে সব লোক সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিল তার সে বিষয়ে সকলকে বলতে লাগল৷
18 এই কারণেই লোকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এল, কারণ তারা শুনেছিল, য়ে তিনিই ঐ অলৌকিক চিহ্নকার্য় করেছেন৷
19 তখন ফরীশীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘তোমরা দেখলে, আমাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল৷ দেখ, আজ সারা জগত্ তাঁরই পেছনে ছুটছে৷’

যোহন 12:12-19

ঈসা আল মসীহর প্রবেশ – দায়ূদ অনুসারে

দায়ূদের (পিবিইউএইচ) থেকে শুরু করে, প্রাচীন যিহূদি রাজারা বার্ষিকভাবে তাদের রাজকীয় ঘোড়ায় চড়তেন এবং যিরূশালেমের মধ্যে একটি মিছিলে  নেতৃত্ব দিতেন I ঈসা আল মসীহ তালপাতার রবিবার বলে পরিচিত দিনটিতে একটি গাধার উপরে চড়ে এই ঐতিহ্যটিকে পুনরায় কার্যকর করেছিলেন I লোকেরা ঈসা আল মসীহর জন্য যাবুরের থেকে সেই একই গীত গেয়েছিল যেমনটি তারা দায়ূদের জন্য গেয়েছিল: 

 

25 লোকেরা বললো, “প্রভুর প্রশংসা কর! প্রভু আমাদের রক্ষা করেছেন!”
26 সেই লোকটিকে স্বাগত জানাও, য়ে প্রভুর নাম নিয়ে আসছে|” যাজকরা উত্তর দিয়েছিলো, “আমরা তোমাকে প্রভুর গৃহে স্বাগত জানাই!”
27 প্রভুই ঈশ্বর এবং তিনি আমাদের গ্রহণ করেন| বলির জন্য একটা মেষ বাঁধ এবং সেটাকে বেদীর কোণে নিয়ে চল|”
28 প্রভু, আপনিই আমার ঈশ্বর, আপনাকে ধন্যবাদ দিই| আমি আপনার প্রশংসা করি!
29 প্রভুর প্রশংসা কর! কারণ তিনি মঙ্গলময়| তাঁর প্রকৃত প্রেম চিরন্তন|

গীত সংহিতা 118:25-27

লোকেরা রাজাদের জন্য লেখা এই প্রাচীন গীত গেয়েছিলেন কারণ তারা জানত ঈসা লাসারকে উত্থাপিত করেছিলেন এবং তাই তারা যিরূশালেমে তাঁর আগমনে উত্তেজিত হয়েছিল I যে কথাটি তারা চীৎকার করে বলেছিল, ‘হোশান্না’ মানে ‘রক্ষা কর’ – বহু পূর্বে ঠিক তেমনটি গীত সংহিতা 118:25 লিখেছিল I তিনি তাদেরকে কিসের থেকে ‘রক্ষা করতে’ যাচ্ছিলেন – (নবী সখরিয় আমাদের বলেন:    

সখরিয় দ্বারা প্রবেশ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

পূরবর্তী রাজারা কয়েকশত বছর পূর্বে যা করতেন, যদিও ঈসা আল মসীহ পুনরায় তা কার্যকর করলেন, তিনি এটিকে ভিন্নভাবে করলেন I নবী সখরিয় পিবিইউএইচ, যিনি আসন্ন মসীহর নামের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনি আবারও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মসীহ একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করবেন I কালপঞ্জি অন্যান্য নবীদের সাথে সখরিয়কে ইতিহাসের মধ্যে দেখায় যারা তালপাতার রবিবারের ঘটনা সম্বন্ধ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I   

যে নবীরা তালপাতার রবিবারে ঈসার যিরূশালেমে প্রবেশ সম্বন্ধে আগে থেকেই দেখেছিলেন

ওই ভবিষ্যদ্বাণীর অংশকে যোহনের সুসমাচারে উদ্ধৃত করা হয়েছিল (নীল পাঠ্যক্রমের মধ্যে) I সখরিয়র সম্পূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীটি এখানে রয়েছে:

9 সিয়োন, উল্লাস কর! জেরুশালেমের লোকেরা, আনন্দে চিত্কার কর! দেখ, তোমাদের রাজা তোমাদের কাছে আসছেন! তিনিই সেই ধার্মিক রাজা, তিনিই সেই বিজয়ী রাজা| কিন্তু তিনি নম্র| তিনি একটি খচচরের পিঠে চড়ে আসছেন| একটি ভারবাহী গাধার বাচচার ওপর চড়ে আসছেন|
10 রাজা বলেন, “আমি ইফ্রয়িমের রথগুলি এবং জেরুশালেমের অশ্বগুলিকেও সরিয়ে ফেলব| আমি যুদ্ধে ব্যবহার করবার ধনু ভেঙ্গে ফেলব|” রাজা জাতিগুলির কাছে শান্তির সংবাদ আনবেন| তিনি সাগর থেকে সাগরে রাজত্ব করবেন| ফরাত্‌ নদী থেকে পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত পর্য়ন্ত|
11 জেরুশালেম, তোমার চুক্তি রক্তের মধ্যে সীলমোহর করা হয়েছিল| তাই আমি তোমার বন্দীদের শূন্য আধার থেকে রক্ষা করেছি|

সখরিয় 9:9-11

যে রাজার সম্বন্ধে সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি অন্য রাজাদের থেকে ভিন্ন হবেন I তিনি এমন রাজা হবেন না যিনি ‘রথ’, যুদ্ধের ঘোড়া’, যুদ্ধের ধনুক’ ব্যবহার করবেন I এই রাজা আসলে এই সমস্ত অস্ত্রগুলো অপসারণ করবেন এবং পরিবর্তে ‘জাতি সমূহের কাছে শান্তি ঘোষণা করবেন’ I যাইহোক, এই রাজাকে তখনও এক শত্রুকে পরাজিত করতে সংগ্রাম করতে হবে I তাকে সবচেয়ে বড় জিহাদের মধ্যে সংগ্রাম করতে হবে I

এটি পরিষ্কার হয় যখন আমরা এই রাজার সম্মুখীন হওয়া শত্রুটিকে চিনতে পারি I সাধারণতঃ, একজন রাজার শত্রু আর একজন রাজা হয় একটি বিরোধী জাতি, বা আর এক সৈন্য বাহিনী, বা তার লোকদের বিদ্রোহ, বা সেই লোকেদের থেকে যারা তার বিরুদ্ধে হয় I কিন্তু নবী সখরিয় লিখলেন যে একটি ‘গাধার’ উপরে প্রকাশিত রাজা এবং শান্তি ঘোষণাকারী ‘জলবিহীন খাই থেকে বন্দিদের মুক্ত করতে যাচ্ছেন’ (আয়াত 11) I ‘খাই’ হ’ল হিব্রু পদ্ধতিতে  কবর বা মৃত্যুর সম্বন্ধে বলা I এই রাজা তাদেরকে মুক্ত করতে যাচ্ছেন না যারা স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ এবং মনুষ্য-নির্মিত কারাগারের মধ্যে আটকে পড়া বন্দী, বরং তাদেরকে যারা মৃত্যুর বন্দী ছিলI [1]

যখন আমরা মৃত্যুর থেকে লোকেদের রক্ষার কথা বলি তখন আমরা কাউকে বাঁচানোর কথা বলি যাতে করে মৃত্যু বন্ধ হয় I উদাহরণস্বরূপ, আমরা কাউকে উদ্ধার করতে পারি, যে ডুবে যাচ্ছে বা কিছু ওষুধ দিই যা কারোর জীবনকে রক্ষা করে I এই ‘রক্ষা’ কেবল মৃত্যুকে স্থগিত করে যে ব্যক্তিকে রক্ষা করা হয় সে পরে মারা যাবে I কিন্তু সখরিয় ‘মৃত্যুর থেকে’ লোকেদের রক্ষা করার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন না বরং তাদের উদ্ধারের সম্বন্ধে বলছিলেন যারা মৃত্যুর দ্বারা বন্দী – যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে I সখরিয়র দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি গাধার উপরে আসন্ন রাজার দ্বারা মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে এটিকে স্বয়ং পরাজিত করা – এর বন্দীদের মুক্ত করার কথা ছিল I এর জন্য প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন হত – একটি জিহাদ যাকে আগে কখনও দেখা যায়নি I পন্ডিতরা মাঝে মাঝে আমাদের আন্তরিক সংগ্রামের ‘বৃহত্তর জিহাদ’ এবং বাইরের সংগ্রামের ‘ক্ষুদ্রতর জিহাদের’ সম্বন্ধ উল্লেখ করেন I খাইয়ের সম্মুখীন হয়ে এই রাজা এই সংগ্রাম বা জিহাদ উভয়ের মধ্য দিয়ে যাবেন I   

মৃত্যুর সঙ্গে এই সংগ্রাম বা জিহাদের মধ্যে কি অস্ত্র রাজা ব্যবহার করতে যাচ্ছেন? নবী সখরিয় লিখলেন যে এই রাজা খাইয়ের মধ্যে তার এই সংগ্রামে কেবলমাত্র “তোমার সাথে আমার নিয়মের রক্ত” নিয়ে যাবেন I তাঁর নিজের রক্ত অস্ত্র হবে যার সাহায্যে তিনি মৃত্যুর সম্মুখীন হবেন I  

গাধার উপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করে ঈসা নিজেকে এই রাজা বলে ঘোষণা করলেন – মসীহ I

কেন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ দুঃখের সাথে রোদন করলেন

তালপাতার রবিবারের দিনে যখন ঈসা আল মসীহ যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন (এছাড়াও বিজয়ী প্রবেশ বলে পরিচিত) ধর্মীয় নেতারা তার বিরোধিতা  করলেন I লুকের সুসমাচার তাদের বিরোধিতায় ঈসা আল মসীহর প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে বর্ণনা করে I 

  41 তিনি জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে শহরটি দেখে কেঁদে ফেললেন৷
42 তিনি বললেন, ‘হায় কিসে তোমার শাস্তি হবে তা যদি তুমি আজ বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার দৃষ্টির অগোচরে রইল৷
43 সেই দিন আসছে, যখন তোমার শত্রুরা তোমার চারপাশে বেষ্টনী গড়ে তুলবে৷ তারা তোমায় ঘিরে ধরবে, আর চারপাশ থেকে চেপে ধরবে৷
44 তারা তোমাকে ও তোমার সন্তানদের ধ্বংস করবে৷ তোমার প্রাচীরের একটা পাথরের ওপর আর একটা পাথর থাকতে দেবে না, কারণ তোমার তত্ত্বাবধানের জন্য ঈশ্বর য়ে তোমার কাছে এলেন, এ তুমি বুঝলে না৷’

লুক 19:41-44

ঈসা আল মসীহ নির্দিষ্টভাবে বললেন যে নেতাদের ‘এই দিনে’ ঈশ্বরের আসার সময়কে’ জানা উচিত ছিল I তিনি কি বোঝালেন? তারা কি মিস করল?

নবীরা ‘সেই দিনটি’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন  

কয়েক শতাব্দী পূর্বে নবী দানিয়েল (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে যিরূশালেমের পুনর্নির্মাণের আদেশ জারি করার 483 বছর মসীহ আসবেন I আমরা দানিয়েলের প্রত্যাশিত বছরকে 33 খ্রীষ্টাব্দ বলে গণনা করেছি – যে বছরে ঈসা আল মসীহ একটি গাধার ওপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I এটি ঘটার কয়েকশত বছর পূর্বে, প্রবেশের বৎসরের ভবিষ্যদ্বাণী করা, আশ্চর্যজনক I তবে সময়টিকে আজকে গণনা করা যেতে পারে I (আমাদের এটি তৈরী করার পরে দয়া করে প্রথমে এখানে পর্যালোচনা করুন) I        

মসীহর প্রকাশনের আগে নবী দানিয়েল 360-দিনের বছর ধরে 483 বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I তদনুসারে, দিনগুলোর সংখ্যা হ’ল:

483 বছর * 360 দিন/বছর = 173880 দিন সমূহ

365.2422 দিন/বছর নিয়ে আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি 25 অতিরিক্ত দিনগুলোর সাথে 476 বছর হয় (173 880/365.242219879 = 476 বাকি 25)

কখন যিরূশালেম পুনস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়েছিল যা এই উল্টো গণনাকে  শুরু করেছিল? এটিকে দেওয়া হয়েছিল:

রাজা অর্তক্ষস্তর বিংশতিতম বৎসরের নীসন মাসে …

নহিমিয় 2:1

নীসনের কোন্ দিন (যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে একটি মাস) দেওয়া হয়নি, তবে নীসন 1 তারিখ যেহেতু নতুন বছর শুরু করত, সম্ভবতঃ উৎসবের মধ্যে নহিমিয়ের সাথে রাজার কথা বলার কারণ দেয় I মাসগুলো চান্দ্র হওয়ায় এছাড়াও নীসন 1 তারিখ এক আমাবস্যাকে চিহ্নিত করত (ইসলামিক ক্যালেন্ডারের মতন) I আমাবস্যা ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উপায়ে নির্ধারিত হত – সাথে স্বীকৃত মানুষরা চাঁদের নতুন অর্ধচন্দ্রাকার (হেলাল) পর্যবেক্ষণ করত I আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা জানি কখন সেই আমাবস্যা চিহ্নিত 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের নীসন 1 তারিখকে প্রথমে দেখা গিয়েছিল I জানা মুশকিল পর্যবেক্ষকদের দ্বারা নীসনকে কি সেই দিন প্রথমে দেখা গিয়েছিল নাকি মিস হয়ে গিয়েছিল আর নীসনের আরম্ভ হতে 1 দিন দেরী হয়ে গিয়েছিল I জোতির্বিদ্যার গণনাগুলো পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তরের বিংশতিতম বছরের নীসন 1 তারিখের অর্ধগোলাকার চন্দ্রকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের 4 মার্চ, রাত্রি  10 টায় স্থাপন করে I[2] অর্ধগোলাকার চন্দ্রের আবির্ভাব যদি লক্ষ্যচ্যুত হয়ে থাকে, তবে নীসন 1 তারিখ পরবর্তী দিন 5 মার্চ, 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হত I যেভাবেই হোক যিরূশালেম পুনস্থাপনের পার্সিয়ান হুকুমটি মার্চ 4 বা 5, তারিখে 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জারি করা হয়ে থাকবে I 

এই তারিখে দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের 476 বছর যোগ করলে আমাদের কাছে নিয়ে আসে মার্চ 4 বা 5, 33 খ্রীষ্টাব্দ (সেখানে কোনো শুন্য বৎসর নেই, আধুনিক ক্যালেন্ডারটি 1 তারিখ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে 1 তারিখ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত এক বছর চললে পাটিগণিত হয় -444 + 476 + 1 = 33) I 33 খ্রীষ্টাব্দের 4 বা 5 মার্চের সঙ্গে দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের বাকি 25 দিন যোগ করলে আমাদেরকে 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 29 বা 30 দেয়, যাকে নিচের কালপঞ্জির মধ্যে চিত্রিত করা হয়েছে I 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 29 ছিল রবিবার –  তালপাতার রবিবার  – সেই বিশেষ দিনে মসীহ বলে ঘোষণা করে ঈসা পিবিইউএইচ গাধার উপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I আমরা এটি জানি কারণ আগামী শুক্রবার ছিল নিস্তারপর্ব – নিস্তারপর্ব সর্বদা নীসন 14 তারিখ হত I 33 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে নীসন 14 তারিখ এপ্রিল 3 ছিল I 3 এপ্রিল শুক্রবারের 5 দিন আগে হওয়ায় তালপাতার রবিবার মার্চ 29 ছিল I        

29 মার্চ 33 খ্রীষ্টাব্দে গাধার উপরে উপবিষ্ট হয়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করে, নবী ঈসা আল মসীহ পিবিউএইচ নবী সখরিয় এবং নবী দানিয়েলের উভয় ভবিষ্যদ্বাণীকে পূর্ণ করলেন – আজ পর্যন্ত I এটিকে নিচের কালপঞ্জিতে চিত্রিত করা হয়েছে I    

দানিয়েল মসীহর প্রকাশিত হওয়ার 173 880 দিন পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন: নহিমিয় সময়টি শুরু করেছিলেন I এটি 29 মার্চ 33 খ্রীষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল যখন ঈসা তাল পাতার রবিবারের দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I 

এই অনেক ভবিষ্যদ্বাণীগুলো একদিনে পূর্ণ হওয়াতে স্পষ্ট চিহ্নগুলো দেখায় যাকে মসীহ সম্পর্কে আল্লাহ তার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছিলেন I তবে পরে সেই একই দিনে ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ নবী মশির পিবিইউএইচ  আর একটি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিলেন I এটি করার সাথে তিনি এমন ঘটনাগুলোকে গতিশীল করলেন যা তার জিহাদকে ‘খাইয়ের’ দিকে নিয়ে যেত – তার শত্রু মৃত্যুর দিকে I আমরা পরে এটিকে দেখব I  


 [1] কিভাবে ‘খাই’ নবীদের জন্য মৃত্যুকে বোঝায় তার কয়েকটি উদাহরণ:

  15 কিন্তু সেটা ঘটেনি| তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারো নি| তোমাকে সমাধিস্থলের গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করা হয়েছে|

যিশাইয় 14:15

  18 মৃত লোকরা আপনার প্রশংসার গান গায না| পাতালে লোকরা আপনার প্রশংসা করে না| মৃত লোকরা সাহায্যের জন্য আপনার উপর বিশ্বাস রাখে না| তারা মাটির ভেতরে একটা গর্তে চলে যায়| আর, কখনও কথা বলতে পারে না|

যিশাইয় 38:18

  22 ঐ লোকটি “গহবর” এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়| ওর জীবনও মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসে|

ইয়োব 33:22

  8 তারা তোমায় টেনে কবরে নামাবে| তুমি সমুদ্রে মারা গেছে এমন নাবিকের মত হবে|

যিহিষ্কেল 28:8

 তাদের কবরগুলি গর্তের গভীরে রয়েছে এবং তার সেনাবাহিনী তার কবরের চারপাশে রয়েছে।

যিহিষ্কেল 32:23

  3 আপনি আমায় কবর থেকে টেনে তুলেছেন| আপনি আমায় বাঁচতে দিয়েছেন| মৃত্যু লোকের মৃত মানুষদের সঙ্গে আমাকে থাকতে হয় নি|

গীতসংহিতা 30:3

 [2] প্রাচীন এবং আধুনিক ক্যালেন্ডারের রূপান্তরগুলোর জন্য (উদাহরণস্বরূপ নীসন 1 তারিখ = মার্চ 4, 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এবং প্রাচীন অমাবস্যার গণনার জন্য আমি ডা. হ্যারল্ড ডবলু. হোএনারের রচনা ক্রনোলজিক্যাল আসপেক্টস অফ দি লাইফ অফ ক্রাইস্ট. 1977. পৃষ্ঠা 177 কে ব্যবহার করেছি I

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবইউএইচ) এক ‘হারিয়ে যাওয়া’ বিশ্বাসঘাতককে রক্ষা করেন

সুরা আশ-শুরা (সুরা 42) – পরামর্শ) আমাদের বলে

এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

সুরা আশ-শুরা 42:23

এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

সুরা আশ-শুরা 42:26

তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

অনুরূপভাবে সুরা আল-কাসাস (সুরা 28 – গল্প) ঘোষণা করে

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে।

সুরা আল-কাসাস 28:67

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে। তবে কি যদি আমরা ‘ন্যায়নিষ্ঠা না করে থাকি’. ‘সৎকর্ম সম্পাদন না করে থাকি’, এবং ভাল পরিষেবায় কম পড়ে গিয়ে থাকি? মশির ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছিল এবং যে কোনো কম পড়ার জন্য ‘ভয়ংকর শাস্তি’ যেগুলোকে সুরা আশ-শুরা এবং সুরা আল-কাসাসের মধ্যে এই আয়াতগুলো সুনিশ্চিত করেছে I ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ আনন্দের সংবাদ সেই লোকেদের জন্য ছিল যারা এই আয়াতগুলোর মধ্যে বর্ণিত সৎকর্মগুলোর থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল I আপনি কি একজন যিনি নিখুঁতভাবে ন্যায়নিষ্ঠা করেন নি? তাহলে ঈসা মসীহর সঙ্গে একজন মানুষের সাক্ষাৎকার পড়ুন যে কোনো কিছুই ন্যায়নিষ্ঠ কার্য করেনি – যে এমনকি একজন বিশ্বাসঘাতকও ছিল I     

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) লাসারকে মৃত্যু থেকে জীবনে ফিরিয়ে এনেছিলেন – তাঁর মিশনের উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করতে – মৃত্যুকে স্বয়ং ধ্বংস  করতে I তাঁর মিশনকে সম্পূর্ণ করতে এখন তিনি যিরূশালেমের উদ্দেশ্যে তাঁর যাত্রাপথে ছিলেন I পথে তিনি যিরীহোর মধ্য দিয়ে গেলেন (যেটি আজ প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরে রয়েছে) I তাঁর অনেক অলৌকিক ঘটনা সমূহ এবং শিক্ষার কারণে এক বৃহৎ ভীড় তাঁকে দেখতে বের হয়ে এল I সেই ভীড়ের মধ্যে একজন ধনী কিন্তু নিন্দিত লোক ছিল – সখরিয় I সে ধনী ছিল কারণ সে একজন কর আদায়কারী ছিল রোমীয়দের জন্য যারা সামরিক শক্তির দ্বারা যিহূদিয়াকে দখল করেছিল I রোমীয়দের প্রয়োজনের তুলনায় সে অধিক কর আদায় করত – এবং অতিরিক্ত তার নিজের জন্য রেখে দিত I সে যিহূদিদের দ্বারা নিন্দিত হয়েছিল কারণ, নিজে একজন যিহূদি হওয়া সত্ত্বেও, সে রোমীয় দখলকারীদের জন্য কাজ করছিল এবং তার নিজের লোকেদের ঠকাচ্ছিল I তার  লোকেদের কাছে তাকে একজন বিশ্বাসঘাতক হিসাবে দেখা হত I    

অতএব সখরিয়, বেঁটে হওয়াতে, নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) কে ভীড়ের মধ্যে দেখতে পেল না, এবং সেখানে কেউ তাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ছিল না I কিভাবে সে নবীর সাথে দেখা করল এবং কি কথা হল ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে:  

  শু যিরীহো শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন৷
2 সেখানে সক্কেয় নামে একজন লোক ছিল৷ সে ছিল একজন উচ্চ-পদস্থ কর আদায়কারী ও খুব ধনী ব্যক্তি৷
3 কে যীশু তা দেখার জন্য সক্কেয় খুবই চেষ্টা করছিল, কিন্তু বেঁটে হওযাতে ভীড়ের জন্য যীশুকে দেখতে পাচ্ছিল না৷
4 তাই সবার আগে ছুটে গিয়ে য়ে পথ ধরে যীশু আসছিলেন, সেই পথের পাশে একটা সুকমোর গাছে উঠল যাতে সেখান থেকে যীশুকে দেখতে পায়৷
5 যীশু সেখানে এসে ওপর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সক্কেয় তাড়াতাড়ি নেমে এস, কারণ আজ আমায় তোমার ঘরে থাকতে হবে৷’
6 সক্কেয় তাড়াতাড়ি নেমে এসে মহানন্দে যীশুকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাল৷
7 সেখানে যাঁরা ছিল, এই দেখে তারা সকলে অনুয়োগের সুরে বলল, ‘উনি একজন পাপীর ঘরে অতিথি হয়ে গেলেন৷’
8 কিন্তু সক্কেয় উঠে দাঁড়িয়ে প্রভুকে বলল, ‘প্রভু দেখুন, আমি আমার সম্পদের অর্ধেক গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেব, আর যদি কাউকে ঠকিয়ে থাকি তবে তার চতুর্গুণ ফিরিয়ে দেব৷’
9 যীশু তাকে বললেন, ‘আজ এই বাড়িতে পরিত্রাণ এসেছে, য়েহেতু এই মানুষটি অব্রাহামের পুত্র৷
10 কারণ যা হারিয়ে গিয়েছিল তা খুঁজে বের করতে ও উদ্ধার করতেই মানবপুত্র এ জগতে এসেছেন৷’

লুক 19:1-10

নবী যা করলেন লোকেরা তা পচ্ছন্দ করল না – নিজের দ্বারা সখরিয়র বাড়িতে নিমন্ত্রণ চাইতে I সখরিয় মন্দ ছিল এবং প্রত্যেকে এটি জানত I তবে সখরিয় বুঝতে পেরেছিল যে সে একজন পাপী ছিল I আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ আমাদের পাপকে লুকোই, তাদেরকে ঢেকে রাখি বা ভান করি যে আমাদের কোনো পাপ নেই I তবে সখরিয় নয় I সে বুঝতে পেরেছিল যে সে যা করছিল তা অন্যায় ছিল I তবুও যখন সে নবীর সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিল, ঈসা আল মসীহর প্রতিক্রিয়া এত উষ্ণ ছিল যে এটি প্রত্যেককে বিস্মিত করেছিল I 

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) চাইলেন সখরিয় অনুতাপ করুক, পাপের থেকে ফিরুক, এবং তাঁকে ‘মসীহ’ মনে করে তার দিকে ফিরুক I যখন সখরিয় এটি করল সে দেখত পেল যে নবী (পিবিইউএইচ) তাকে ক্ষমা করেছেন – ঘোষণা করেন যে সে ‘হারানো’ থেকে ‘উদ্ধার’ পেয়েছে I

আপনার এবং আমার সম্বন্ধে কি? আমরা হয়ত সখরিয়র মতন এই ধরণের লজ্জাজনক জিনিস করিনি তবে যেহেতু আমরা এতটা খারাপ নই, আমাদের মনে হয় যে আমরা যে ‘অল্প’ পাপ এবং ‘ভুল’ করি তা আদমের মতন লুকোতে পারি, ঢাকতে পারি বা অজুহাত দিতে পারি I আশা করি আমরা আমাদের মন্দ কাজের জন্য মূল্য দিতে আমরা যথেষ্ট ভাল জিনিস করতে পারি I যে ভীড় নবীকে দেখতে এসেছিল তারা সেটাই ভেবেছিল I অতএব ঈসা তাদের কারোর বাড়িতে নিজের নিমন্ত্রণ নেন নি আর নাতো তাদের মধ্যে কাউকে ‘উদ্ধারিত’ বলে ঘোষণা করেছেন – কেবল সখরিয় ছাড়া I সেগুলো লুকোবার জন্য চেষ্টা না করে আমাদের পাপের জন্য আল্লাহর সামনে স্বীকার করা আমাদের পক্ষে অনেক ভাল I তখন ঈসা আল মসীহর করুণার জন্য আমাদের নিজেদের পৌঁছাবার সাথে সাথে আমরা দেখব যে আমরা যা কল্পনা করতে পারি তার চেয়েও অধিক ক্ষমা এবং মার্জনা আমাদেরকে দেওয়া হবে I                 

কিন্তু কিভাবে সখরিয়র খারাপ কার্যগুলোকে মুছে ফেলা যেতে পারে যাতে করে সে সেই মুহূর্ত থেকে ক্ষমার আশ্বাসন পেতে পারে – বিচারের দিনের জন্য  অপেক্ষা না করে? তাঁর মিশনকে সম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে তাঁর যিরূশালেমে অবরিত থাকাকালীন অবস্থায় আমরা ঈসা আল মসীহকে(পিবিইউএইচ)অনুসরণ করি I