যাবুর সমাপ্ত হয় – আসন্ন প্রস্তুতকারীর প্রতিশ্রুতির সাথে

সুরাহ আল মুদাথথির (সুরাহ 74 – আচ্ছাদিত ব্যক্তি) তার আঙরাখায় আচ্ছাদিত ভাববাদী পিবিইউএইচকে চিত্রণ করে যিনি বিচারের দিনের সম্বন্ধে কঠোরভাবে তার সতর্কবাণী দিচ্ছেন  

 হে চাদরাবৃত!উঠুন, সতর্ক করুন,আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,

সুরাহ আল মুদাথথির 74:1-3

 যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে;সেদিন হবে কঠিন দিন কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়।

সুরাহ আল মুদাথথির 74:8-10

সুরাহ আল কাফিরুন (সুরাহ 109 – অবিশ্বাসীরা) ভাববাদী পিবিইউএইচকে চিত্রণ করে যিনি স্পষ্টভাবে অবিশ্বাসীদের থেকে এক ভিন্ন পথের আহ্বান জানাচ্ছেন I

 বলুন, হে কাফেরকূলআমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করিএবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

সুরাহ আল কাফিরুন 109:1-6

ভাববাদী এলিয় পিবিইউএইচকে উল্লেখ করে যাবুর সমাপ্ত করে যিনি সুরাহ আল মুদাথথির এবং সুরাহ আল কাফিরুন বর্ণিত ঠিক একই কার্য করেছিলেন I তবে এছাড়াও যাবুর আর একজন ভাববাদীর আগমনের দিকে তাকিয়ে থাকেন যিনি এলিয়র মতন হবেন এবং আমাদের হৃদয়কে প্রস্তুত করবেন I আমরা তাকে ভাববাদী যাহয়া পিবিইউএইচ বলে জানি I    

ভাববাদী যাহয়ার (পিবিইউএইচ) আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী  

দাসের চিহ্নর মধ্যে আমরা দেখলাম যে দাসের আগমন সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I তবে তার আগমনের পুরো প্রতিশ্রুতিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উপরে  ভারসাম্যপূর্ণ ছিল I যিশাইয় 53 প্রশ্নটি দিয়ে আরম্ভ করেছিল:

আমাদের বার্তা কে বিশ্বাস করেছে …?

যিশাইয় 53:1a

যিশাইয় (পিবিইউএইচ) ভাববাণী করছিলেন যে এই দাসকে সহজেই বিশ্বাস করা হবে না, এবং সমস্যাটি বার্তা বা দাসের চিহ্নর সাথে ছিল না কেননা সেগুলো ‘সাত সমূহের’ চক্রের পাশাপাশি নামের দ্বারা সময়ের নির্ধারণের মধ্যে মূল্যবান হবে এবং নির্দিষ্ট করে যে সে ‘বিচ্ছিন্ন’ হবে I সমস্যা এটা নয় যে সেখানে চিহ্নগুলো যথেষ্ট ছিল না I না, সমস্যা যে জনগণের হৃদয় কঠিন ছিল I তাই দাসের আসার পূর্বে লোকেদের হৃদয়কে প্রস্তুত করতে কারোর আসার দরকার ছিল I অতএব ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) একজনের সম্পর্কে এই বার্তাটি দিলেন যিনি দাসের জন্য পথ প্রস্তুত করবেন I তিনি যাবুরের তার বইয়ের মধ্যে নিম্নলিখিত ভাবে এই বার্তাটি লিখলেন 

3 শোন একজন মানুষ চিত্কার করছে! “মরুর মধ্যেও প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত কর! মরুস্তরে আমাদের ঈশ্বরের জন্য পথ তৈরি কর!
4 প্রত্যেক উপত্যকা পূর্ণ কর| প্রত্যেক পাহাড় পর্বতকে কর সমতল| আঁকা-বাঁকা রাস্তাকে সোজা কর| অসমান জমিকে মসৃণ কর|
5 তখনই প্রভুর মহিমা বুঝতে পারবে| সবাই এক সঙ্গে দেখতে পাবে প্রভুর মহিমা| হ্যাঁ, প্রভু নিজেই বলেছেন এসব কথা!”

যিশাইয় 40:3-5 

যিশাইয় (পিবিইউএচ) এমন কারোর সম্বন্ধে লিখলেন যিনি ‘প্রভুর জন্য পথ প্রস্তুত করতে’ ‘প্রান্তরের মধ্যে’ আসবেন I এই ব্যক্তি বাধাগুলোকে মসৃণ করবেন যাতে করে ‘প্রভুর মহিমা প্রকাশিত হবে’ I তবে যিশাইয় নির্দিষ্ট করেন নি কিভাবে এটিকে করা হবে I

ভাববাদী মালাখি – যাবুরের শেষ ভাববাদী

The Prophets Isaiah, Malachi and Elijah (PBUT) shown in historical timeline

ভাববাদী যিশাইয়, মালাখি এবং এলিয়কে ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে  

যিশাইয়র আসার প্রায় 300 বছর পরে মালাখি (পিবিইউএইচ) এলেন যিনি যাবুরের শেষ বইটি লিখলেন I এই বইয়ের মধ্যে মালাখি (পিবিইউএইচ) প্রস্তুতকারীর আগমন সম্বন্ধে যিশাইয় যা বলেছিলেন তার উপরে বিস্তারিত বর্ণনা করেন I তিনি লিখলেন:

খন আমি বললাম, “এখন যাকোব কুলের নেতারা এবং ইস্রাযেল জাতির শাসকরা শোন| তোমাদের জানা উচিত ন্যায় বিচার কি!

মালাখি 3:1

এখানে পুনরায় বার্তাবাহকের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হল যিনি ‘পথ প্রস্তুত করবেন’ I প্রস্তুতকারীর আসার পরে তখন ‘নিয়মের বার্তাবাহক’ আসবেন I কোন নিয়মের সম্বন্ধ মালাখি (পিবিইউএইচ) উল্লেখ করছেন? মনে করুন যে ভাববাদী যিরমিয় (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে আল্লাহ আমাদের হৃদয়ে এটিকে লেখার দ্বারা একটি নতুন নিয়ম প্রস্তুত করবেন I কেবল তারপরেই আমরা নিবারণ করতে সক্ষম হব আমাদের তৃষ্ণাকে যা আমাদেরকে সর্বদা পাপের পথে নিয়ে যায় I এটি এই একই নিয়ম যার সম্বন্ধে মালাখি (পিবিইউএইচ) উল্লেখ করছেন I সেই নিয়মের দানটিকে প্রস্তুতকারীর আগমনের দ্বরা সংকেত দেওয়া হবে I

Malachi (PBUH) then closes the entire Zabur with the last paragraph of his book. In that last paragraph he again looks to the future and writes:

মালাখি (পিবিইউএইচ) তারপরে তার বইয়ের শেষ অনুচ্ছেদের সাথে সমগ্র যাবুর সমাপ্ত করেন I সেই শেষ অনুচ্ছেদের মধ্যে তিনি পুনরায় ভবিষ্যতের দিকে দেখেন এবং লেখেন:

5 অন্যান্য সব জাতির লোক তাদের নিজের নিজের দেবতাকে অনুসরণ করে; কিন্তু আমরা আমাদের প্রভু ঈশ্বরকে চিরকাল, অনন্তকাল ধরে অনুসরণ করব!

মালাখি 4:5-6

মালাখি (পিবিইউএইচ) এর দ্বারা কি বোঝালেন যে ‘এলিয়’ প্রভুর মহান দিনের আগে আসবেন? এলিয় কে ছিলেন? তিনি আর একজন ভাববাদী ছিলেন যাকে আমরা দেখিনি (আমরা যাবুরের সমস্ত ভাববাদীদের দেখতে পারি না যেহেতু এটি এটিকে অনেক দীর্ঘ করবে তবে তাকে উপরের কালপঞ্জির মধ্যে দেখি) I এলিয় (পিবিইউএইচ) 850 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে বসবাস   করতেন I প্রান্তরে থেকে, পশুর লোমের বস্ত্র পরিধান করে এবং বন্য খাদ্য খেয়ে তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন I তাকে সম্ভবতঃ একেবারে অদ্ভূত দেখাত I মালাখি (পিবিইউএইচ) লিখলেন যে প্রস্তুতকারী কোনো প্রকারে এলিয়র (পিবিইউএইচ) মতন হবেন যিনি নতুন নিয়মের পূর্বে আসবেন I   

আর ঐ বক্তব্যের সাথে যাবুর সম্পূর্ণ হ’ল I যাবুরের মধ্যে এটি শেষ বার্তা এবং প্রায় 450 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে লেখা হয়েছিল I তৌরাত এবং যাবুর আসন্ন প্রতিশ্রুতি সমূহে ভরা ছিল I আসুন কয়েকটিকে আমাদের পর্যালোচনা করা  যাক I 

পরিপূর্ণতার প্রতীক্ষায় তৌরাত এবং যাবুরের প্রতিশ্রুতি সমূহের পর্যালোচনা

  • বলিদানের চিহ্নর মধ্যে ভাববাদী ইব্রাহিম (পিবিইউএইচ) ঘোষণা করলেন যে এটির ‘যোগান দেওয়া হবে’ I যাবুরের সমাপ্তির পরে যিহূদিরা এখনও এই ‘যোগান’ ঘটবে বলে অপেক্ষা করছে I  
  • ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) বললেন যে ইস্রায়েলীয়দের জন্য নিস্তারপর্ব একটি চিহ্ন ছিল, এবং ইস্রায়েলীয়রা তাদের সমস্ত ইতিহাস জুড়ে নিস্তারপর্ব উদযাপন করল, তবে তারা ভুলে গেল যে, একটি চিহ্ন রূপে, এটি কিসের দিকে ইঙ্গিত করেছিল যা তখনও প্রকাশিত হয় নি I  
  • তৌরাতের মধ্যে মশি (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে একজন ভাববাদী আসবেন যার জন্য আল্লাহ বললেন যে, “আমি তার মুখে আমার বাক্য দিব” I এছাড়াও আল্লাহ সেই প্রতিশ্রুতির মধ্যে আসন্ন ভাববাদীর সম্বন্ধে ঘোষণা করলেন যে “আমার নামে ভাববাদী যা বলে কেউ যদি তাতে কর্ণপাত না করে তবে আমি তাকে দায়ী করব” I 
  • রাজা দাবুদ (পিবিইউএইচ) ‘খ্রীষ্ট’ বা ‘মসীহ’র আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I ইস্রায়েলীয়রা তাদের দীর্ঘ ইতিহাস জুড়ে অবাক হয়ে রইল এই ‘খ্রীষ্টে’র রাজত্ব কিরকম ধরণের হবে I   
  • ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে এক কুমারী এক ‘পুত্রের’ জন্ম দেবে I যাবুরের সমাপ্তিতে যিহূদিরা এখনও এই উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটবে বলে প্রতীক্ষা করছে I
  • ভাববাদী যিরমিয় (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে এক নতুন নিয়ম, পাথরের পরিবর্তে আমাদের হৃদয়ের উপরে লিখিত একটি, এক দিন আসবে I 

তাই 450 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে যাবুরের সমাপ্তির সাথে যিহূদি জনগণ এই বিস্ময়কর  প্রতিশ্রুতিগুলোর পূরণের প্রত্যাশায় বাস করত I আর তারা প্রতীক্ষার পর প্রতীক্ষা করতে থাকল I একটি প্রজন্ম আর একটিকে পুনস্থাপিত করল এবং তারপরে তখনও অন্যেরা আসত – এই প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনো পরিপূর্ণতা  ছাড়াই I    

যাবুর সম্পূর্ণ হওয়ার পরে কি ঘটল

ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসের মধ্যে আমরা যেমন দেখলাম, মহান আলেক্সান্ডার 330 খীষ্টপূর্বাব্দে  বেশিরভাগ পরিচিত জগতের উপরে জয়লাভ করলেন এবং এই বিজয়গুলো থেকে জগতের লোকেরা এবং সভ্যতা সমূহ গ্রীক ভাষাকে গ্রহণ  করল I আজকের দিনে যেমনভাবে ইংরেজি ব্যবসা, শিক্ষা, এবং সাহিত্যের জন্য এক সার্বজনীন ভাষায় পরিণত হয়েছে, সেই সময়ে গ্রীক একইভাবে প্রভাবশালী ছিল I যিহূদি শিক্ষকরা 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে তৌরাত এবং যাবুরকে হিব্রু থেকে গ্রীকে অনুবাদ করেছিলেন I এই অনুবাদকে সেপ্টুজিয়ান্ট বলা হত I আমরা যেমন এখানে দেখলাম, এই এখান থেকেই ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটি আসে এবং আমরা এখানে দেখলাম এই এখান থেকেই ‘যীশু’ নামটি আসে I

The Prophets Isaiah, Malachi and Elijah (PBUT) shown in historical timeline

ভাববাদী যিশাইয়, মালাখি এবং এলিয় (পিবিইউটি) কে ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে

এই সময়কালের মধ্যে (300 – 100 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ যেটিকে কালপঞ্জির মধ্যে নীল যুগ হিসাবে দেখানো হয়েছে) সেখানে মিসর এবং সুরিয়ার মধ্যে একটি চলমান সামরিক প্রতিদ্বন্দিতা ছিল এবং ইস্রায়েলীয়রা ঠিক এই দুই সাম্রাজ্যের মধ্যে অবস্থানের সাথে তারা প্রায়শই যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়ত I কতিপয় নির্দিষ্ট সুরিয় রাজাগণ ইস্রায়েলীয়দের উপরে গ্রীক ধর্ম (মূর্তি পূজার একটি ধর্ম) চাপিয়ে দিতে চাইল এবং তাদের এক ঈশ্বরের আরাধনাকে মুছে ফেলতে চাইল I কতিপয় যিহূদি নেতারা তাদের একেশ্বরবাদকে রক্ষা করতে এক অভ্যুত্থানকে নেতৃত্ব দিল এবং ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আরাধনার শুচিতাকে পুন:স্থাপন করল I এই ধার্মিক নেতারা কি এই প্রতিশ্রুতিগুলোর পরিপূর্ণতা ছিল যার জন্য যিহূদিরা প্রতীক্ষা করেছিল? এই লোকেরা, যদিও তৌরাত এবং যাবুরের মধ্যে নির্দেশিত আরাধনার বিশ্বস্ত অনুসরণকারী ছিল, তবুও ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ চিহ্নগুলোর সাথে খাপ খায় নি I প্রকৃতপক্ষে তারা এমনকি নিজেরাও নিজেদেরে ভাববাদী বলে দাবী করে নি, কেবলমাত্র ধার্মিক যিহূদিরা মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে তাদের আরাধনাকে রক্ষা করছিল I  

এই সময়কাল সম্বন্ধে ঐতিহাসিক বইগুলো, এই সংঘর্ষ সমূহকে বর্ণনা করে যা লিখিত আরাধনার শুচিতাকে সংরক্ষণ করে রেখেছিল I এই বইগুলো ঐতিহাসিক এবং ধার্মিক অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে এবং অত্যন্ত মূল্যবান I তবে যিহূদি লোকেরা তাদেরকে ভাববাদীদের লেখা বলে গন্য করে নি আর তাই এই বইগুলোকে যাবুরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি I ধার্মিক লোকেদের দ্বারা লিখিত সেগুলো  ভাল বই, তবে সেগুলোকে ভাববাদীদের দ্বারা লেখা হয় নি I এই বইগুলো অপ্রামাণিক বলে পরিচিত ছিল I 

তবে যেহেতু এই বইগুলো উপযোগী ছিল তাই যিহূদি জনগণের একট সম্পূর্ণ ইতিহাস প্রদান করতে তৌরাত এবং যাবুরের পাশাপাশি তাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল I ইঞ্জিল এবং ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) বার্তা লেখার পরে তৌরাত, যাবুর এবং ইঞ্জিলের বইগুলোকে একটি বইয়ের মধ্যে সম্মিলিত করা হয়েছিল – আল কিতাব বা বাইবেলে I আজকের দিনে কিছু বাইবেল অপ্রামাণিক রচনা সমূহের এই বইগুলোকে এমনকি অন্তভুক্ত করবে, যদিও তারা তৌরাত, যাবুর বা ইঞ্জিলের অংশ নয় I     

তবে তৌরাত এবং যাবুরের মধ্যে প্রদত্ত পরিশ্রুতিগুলো তখনও পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল I গ্রীক প্রভাবের পরবর্তী কালে শক্তিশালী রোমীয় সাম্রাজ্য প্রসারিত হল এবং যিহূদিদের উপরে শাসন করতে গ্রীকদের অপসারণ করল (এটি হলুদ যুগ যা উপরের কালপঞ্জির মধ্যে নীলের পরে আসে) I রোমীয়রা দক্ষতার সঙ্গে কিন্তু কঠোরভাবে শাসন করল I কর বেশি ছিল এবং রোমীয়রা কোনো অসন্তোষ সহ্য করত না I যিহূদি জনগণ তৌরাত এবং যাবুরে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর পূরণের জন্য আরও বেশি আকুল ছিল, যদিও তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্যে আরাধনা খুব অনড় হয়ে যায় এবং অনেক অতিরিক্ত নিয়ম গড়ে তোলে যেগুলো ভাববাদীদের থেকে নয় বরং যিহূদি নেতাদের থেকে ছিল I এই অতিরিক্ত ‘আজ্ঞা সমূহ’ ভাল ধারণা বলে মনে হয় যখন সেগুলোকে প্রস্তাবিত করা হয়েছিল তবে যিহূদি নেতাদের হৃদয় এবং মনের মধ্যে তৌরাত এবং যাবুরের মূল আজ্ঞাগুলোকে তারা দ্রুত প্রতিস্থাপন করল I     

এবং পরে অবশেষে যখন সম্ভবত এমন মনে হচ্ছিল প্রতিশ্রুতিগুলো আলাহর দ্বারা অনেক আগে ভুলে যাওয়া হয়েছে, তখন স্বর্গদূত গাব্রিয়েল (জিব্রীল) প্রস্তুতকারীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জন্মের ঘোষণা করতে উপস্থিত হলেন I আমরা তাকে আজকের দিনে যাহয়া (বা বাপ্তিস্মদাতা যোহন – পিবিইউএইচ) বলে জানি I তবে সেটি ইঞ্জিলের আরম্ভ, যেটিকে আমরা পরে দেখব I   

আসন্ন দাসের চিহ্ন

আমাদের গত পোস্টে আমরা দেখলাম যে ভাববাদী দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে মসীহ ‘বিচ্ছিন্ন হবে’ I যাবুরের মাধ্যমে আমরা আমাদের যাত্রার শেষে আসি I তবে আমাদেরকে আরও একটু জানতে হবে I ভাববাদী যিশাইয় (নিচের কালপঞ্জিতে তাকে দেখুন) একটি পল্লবের চিত্রকে ব্যবহার করে মসীহর আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন

When Isaiah lived

যাবুরের মধ্যে অন্য ভাববাদীদের সাথে ভাববাদী যিশাইয়কে (পিবিইউএইচ) ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে

কিন্তু এছাড়াও তিনি একজন আসন্ন ব্যক্তির সম্বন্ধে লিখলেন যাকে দাস বলা  হয় I তিনি এই আসন্ন দাসের সম্বন্ধে একটি দীর্ঘ অনুচ্ছেদ লিখলেন I এই ‘দাস’ কে ছিল? তিনি কি করতে যাচ্ছিলেন? আমরা অনুচ্ছেদটিকে বিস্তৃতভাবে দেখি I আমি কিছু মন্তব্য সহকারে, নিখুঁতভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে ব্যাখ্যা করার জন্য এটিকে এখানে নিচে পুনরায় বর্ণনা করছি I 

ভাববাদী যিশাইয়র দ্বারা আসন্ন দাস সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী I  যিশাইয় (52:13-53:12)  থেকে সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটি

13 “আমার দাসকে দেখো| সে জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানে খুবই সফল হবে| সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে| ভবিষ্যতে লোকে তাকে প্রচুর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাবে|
14 “কিন্তু আমার দাসকে দেখে অনেকের খুব মনোকষ্ট হবে| সে এত বাজে ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল যে অনেকেরই তাকে মানুষ বলে চিনতে কষ্ট হবে|
15 এমনকি অনেক লোক বিহবল হয়ে যাবে এবং একটা কথাও বলতে পারবে না| রাজারা তাকে দেখে বিহবল হয়ে গিয়ে একটি কথাও বলতে পারবেন না| তারা আমার দাসের গল্প শোনেনি, কিন্তু কি ঘটেছিল তা দেখেছিল| সেই গল্প তারা শুনতে না পেলেও বুঝতে পারবে কি ঘটেছিল|”

যিশাইয়52:13-15

আমরা জানি যে এই দাস একজন মানব পুরুষ হবে কারণ যিশাইয় তাকে একটিপুংলিঙ্গ ‘সে’, ‘তাকে’, ‘তার’ বলে উল্লেখ করেছেন I হারোণ (পিবিইউএইচ) যখন ইস্রায়েলীয়দের জন্য বলি দিতেন তখন তিনি লোকেদের উপরে রক্ত ছিটিয়ে দিতেন – এবং তাদের পাপ সমূহ আচ্ছাদিত হত ও তাদের বিরুদ্ধে ধরা হবে  না I যখন এটি বলে যে দাসটি  ‘ছিটিয়ে’ দেবে তখন ভাববাদী যিশাইয় বোঝান যে সেই একই উপায়ে এই দাসলোকেদের উপরে তাদের পাপের জন্য ছিটিয়ে দেবে যেমনহারোণ (পিবিইউএইচ) তার বলি দেওয়ার সময়ে ইসরায়েলীয়দের জন্য করেছিলেন I

তবেদাসটি ‘অনেক জাতির’ উপরে ছেটাবে I অতএব দাস কেবলমাত্র যিহূদিদের জন্য আসছে না I এটি আমাদের ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) দেওয়া প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয় যখন আল্লাহ বললেন (চিহ্ন 1 এবং চিহ্ন 3) যে ‘সমস্ত জাতি সমূহ’ তার বংশধরদের মাধ্যমে আশির্বাদিত হবে I তবে এই ছিটিয়ে দেওয়ার দ্বারা দাসটির ‘চেহারা’ এবং ‘রূপ’ ‘বিকৃত’ এবং ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে I যদিও এটি স্পষ্ট নয় এইরকম বিকৃত হওয়ার জন্য দাসটি কি করবে, একদিন জাতি সমূহ ‘বুঝতে পারবে’ I

সত্যিই বিশ্বাস করেছিল, আমাদের ঘোষণার কথা? কে সত্যি সত্যিই গ্রহণ করেছিল প্রভুর শাস্তি?
2 সে প্রভুর সামনে, ছোট গাছের মতে বড় হতে লাগল| সে ছিল শুকনো জমিতে গাছের শিকড়ের বড় হওয়ার মতো| তাকে দেখতে বিশেষ কিছু লাগত না| তার কোন বিশেষ মহিমা ছিল না| যদি আমরা তার দিকে তাকাতাম তবে তাকে ভালো লাগার মত বিশেষ কিছুই চোখে পড়ত না|
3 লোকে তাকে ঘৃণা করেছিল, তার বন্ধুরা তাকে ত্যাগ করেছিল| তার প্রচুর দুঃখ ছিল| অসুস্থতার বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা ছিল| লোকরা তার কাছ থেকে লুকিয়ে থাকত| আমরা তাকে ঘৃণা করতাম| আমরা তার কথা চিন্তাও করিনি|

যিশাইয়53:1-3

কোনো কারণের জন্য, যদিও দাস সমস্ত জাতিগনের উপরে ছেটাবে, এছাড়াও সে  ‘দুর্ভোগ’ এবং ‘বেদনার সাথে পরিচিত’ পূর্ণ হয়ে ‘তুচ্ছ্য’ এবং ‘প্রত্যাখ্যাত’   হবে I 

4 কিন্তু সে আমাদের অসুখগুলোকে বয়ে বেড়িযে-ছিল| সে আমাদের যন্ত্রণা ভোগ করেছিল| এবং আমরা মনে করেছিলাম ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন| তার কোন কৃতকর্মের জন্য ঈশ্বর তাকে শাস্তি দিচ্ছেন বলে আমরা মনে করেছিলাম|
5 কিন্তু আমাদেরই ভুল কাজের জন্য তাকে আহত হতে হয়েছিল| আমাদের পাপের জন্য সে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিল| আমাদের কাঙ্খিত শাস্তি সে পেয়েছিল| তার আঘাতের জন্য আমাদের আঘাত সেরে উঠেছিল|

যিশাইয়53:4-5

দাস ‘আমাদের’ যন্ত্রণা হরণ করবে I এছাড়াও এই দাস ‘শাস্তির’ মধ্যে ‘বিদ্ধ’ এবং ‘চূর্ণ’ হবে I এই দাস আমাদের (যারা অনেক জাতি সমূহের মধ্যে আছে) কাছে ‘শান্তি’ নিয়ে আসবে এবং আমাদের ‘সুস্থ’ করবে I   

  6 আমরা সবাই হারিযে যাওয়া মেষের মত ঘুরে বেড়িযেছিলাম| আমরা সবাই আমাদের নিজেদের পথে গিয়েছিলাম যখন প্রভু আমাদের সব শাস্তি তাকে দিয়ে ভোগ করাচ্ছিলেন|

যিশাইয়53:6

আমাদের তৃষ্ণার চিহ্নর মধ্যে আমরা দেখলাম, আমাদের তৃষ্ণা পরিতৃপ্ত করতে আমরা আল্লাহর দিকে ফেরার পরিবর্তে আমরা কত সহজভাবেআমাদের নিজের ‘ভগ্ন কুয়ো’ তে যাই I আমরা ‘বিপথগামী’ হয়েছি আমাদের প্রত্যেকে ‘আমাদের নিজের পথে ফিরেছি’ I এটাই পাপ (=অপরাধ) I

  7 তার সঙ্গে নিষ্ঠুর ব্যবহার করা হয়েছিল এবং সে আত্মসমর্পণ করেছিল| সে কখনও প্রতিবাদ করেনি| মেষকে যেমন হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সে নালিশ করে না তেমনি সেও চুপচাপ ছিল| মেষ যেমন তার পশম কাটার সময় কোন শব্দ করে না, সেও তেমনি তার মুখ খোলে নি|

যিশাইয়53:7

হেবল, নোহ, ইব্রাহিম, মশি এবং হারোণ (পিবিইউটি) ভাববাদীগনের সাথে তারা মেষগুলোকে বলির মধ্যে উৎসর্গ করতে নিয়ে এসেছিল I তবে দাস স্বয়ং ‘জবাই করা’ মেষশাবকের মতন হবে I তবে সে প্রতিবাদ করবে না বা এমনকি ‘তার মুখ খুলবে’ না I 

8 মানুষ শক্তি প্রযোগ করে তাকে নিয়েছিল এবং তার প্রতি ন্যায্য বিচার করেনি| তাঁর ভবিষ্যত্‌ পরিবার সম্পর্কে কেউ কিছু বলেনি| কারণ সে জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল| আমার লোকদের পাপের জন্য সে শাস্তি পেয়েছিল|

যিশাইয়53:8

এই দাসকে ‘জীবিতদের দেশ’ থেকে ‘বিচ্ছিন করা’ হ’ল I এটাই কি দানিয়েল বোঝাতে চেয়েছিলেন যখন তিনি বললেন যে ‘মসীহ ‘বিছিন্ন’ হবে? হবহু একই শব্দ ব্যবহৃত হ’ল!সেই ব্যক্তি মারা যাবে বলা ছাড়া‘জীবিতদের দেশ থেকে বিচ্ছিন করা’ বলতে কি বোঝায়?

  9 তার মৃত্যু হয়েছিল এবং ধনীদের সঙ্গে তাকে সমাহিত করা হয়েছিল| তাকে দুষ্ট লোকদের সঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল যদিও সে কোন হিংস্র কাজ করেনি| সে কখনও কাউকে প্রতারণা করেনি|

যিশাইয়53:9

তার জন্য যদি ‘একটি কবর’ নির্ধারণ করা হত তবে এই দাস অবশ্যই মারা যেত I সে এক ‘দুষ্ট’ লোক রূপে নিন্দিত হয়ে মারা গেল যদিও সে ‘কোনো হিংসা করে নি’ এবং ‘তার মুখে কোনো ‘ছলনা’ ছিল’ না I

10 প্রভু তাকে মেরে পিষে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন| যদি সে দোষমোচনের বলি হিসেবে নিজেকে উত্সর্গ করে, সে তার সন্তানের মুখ দেখবে এবং দীর্ঘ দিন বাঁচবে| ঈশ্বরের অভিপ্রায় তার হাতে সফল হবে|

যিশাইয়53:10

পুরো নিষ্ঠুর মৃত্যুটি কোনো প্রকারের দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্য ছিল না I এটি স্পষ্টরূপে ‘তাকে চূর্ণ করার’ ‘সদাপ্রভুর ইচ্ছা’ ছিল I কিন্তু কেন? ঠিক যেমন হারোণের বলি ‘পাপের জন্যউৎসর্গ’ ছিল যাতে করে বলি সমর্পণকারী ব্যক্তি নির্দোষ সাব্যস্ত হতে পারত, এখানে এই দাসের ‘জীবন’ও ‘পাপের জন্য   উৎসর্গ’ I কার পাপের জন্য? ভালভাবে বিবেচনা করা হয় যে ‘অনেক জাতিগণের’ উপরে  ‘ছেটানো’ হবে (উপরের থেকে) এটি অবশ্যই ‘অনেক জাতিগণের’ মধ্যে লোকেদের পাপ হবে I   

  11 তার আত্মা বহু কষ্ট পেলেও সে অনেক ভালো জিনিস ঘটা দেখতে পাবে| সে যেসব জিনিস শিখেছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট হবে| আমার ভালো দাসটি অনেক মানুষকে ধার্মিক করবে| সে তাদের অপরাধের দরুণ শাস্তি ভোগ করবে|

যিশাইয়53:11

যদিও দাসের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণীটি ভয়াবহ তবুও এটি লয়কে পরিবর্তন করে এবং অত্যন্ত আশাবাদী এবং এমনকি বিজয়ী হয় I এই ভয়ংকর ‘কষ্ট ভোগের’ পরে (‘জীবিতদের দেশ থেকে বিছিন্ন হয়’ এবং ‘একটি কবর’ নির্ধারিত হয়), এই দাস ‘জীবনের জ্যোতি’ দেখবে I সে জীবনে ফিরে আসবে?! আর এইরকম করার মাধ্যমে এই দাস অনেককে ‘ন্যায়সঙ্গত’ করবে I    

‘ন্যায়সঙ্গত’ করা ‘ধার্মিকতা’ দেওয়ার অনুরূপ I মনে করুন মশির ব্যবস্থা  থেকে ‘ধার্মিকতা’ পেতে একজনকে সর্বদা সমস্ত আজ্ঞা সমূহকে পালন করতে  হত I তবে ভাববাদী ইব্রাহিমের পক্ষে (চিহ্ন 2) ‘ধার্মিকতা’ ‘জমা করা’ বা দেওয়া হয়েছিল I এটি তাকে শুধুমাত্র তার বিশ্বাসের কারণে দেওয়া হয়েছিল I ঠিক একইভাবে এই দাস ন্যায়সঙ্গত করবে, বা ‘অনেকের’ পক্ষে ধার্মিকতা জমা করবে I ধার্মিকতা কি এমনকিছু নয় যাকে আমরা উভয়ই চাই এবং প্রয়োজনবোধ করি?

12 এই কারণে আমি তাকে অনেক লোকের মধ্যে পুরস্কৃত করব| যে সব লোকরা শক্তিশালী তাদের সঙ্গে সমস্ত জিনিসে তার অংশ থাকবে|আমি এটা তার জন্য করব কারণ সে লোকের জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করে মারা গিয়েছিল| তাকে এক জন অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হত| কিন্তু সত্যটা হল সে অনেক লোকের পাপ বহন করে ছিল| এবং এখন সে পাপী লোকদের সপক্ষে কথা বলছে|

যিশাইয়53:12

এই দাস ‘মহানদের’ মধ্যে হবে কেননা সে তার জীবনকে স্বেচ্ছায় ‘মৃত্যুর কাছে’ (‘ঢেলে দিয়েছে’) দিয়েছে I আর সে এমন একজন রূপে মারা গেল যেন একজন ‘অপরাধী’ অর্থাৎ একজন ‘পাপী’ রূপে চিহ্নিত হ’ল I দাস এই কারণে এটি করল যাতে সে ‘অপরাধীদের’ হয়ে ‘মধ্যস্থতা’ করতে পারে I একজন মধ্যস্থতাকারী দুই পক্ষের মধ্যে একজন মধ্যবর্তী হয় I দুই পক্ষ এখানে অবশ্যই ‘অনেক লোকেরা’ এবং ‘সদাপ্রভু’ হবেন I এই ‘দাস’ আমাদের হয়ে স্বয়ং আল্লাহর কাছে মধ্যস্থতা বা অনুনয় করতে যথেষ্টরূপে যোগ্য Iকে এই দাস? কিভাবে এই সমস্ত জিনিসগুলো ঘটবে? সে কি বিভিন্ন ‘জাতিগণের’ থেকে ‘অনেকের’ হয়ে স্বয়ং আল্লাহর কাছে ‘মধ্যস্থতা’ করতে পারে এবং করবে? আমরা শেষ ভাববাণীকে দেখে যাবুরকে সমাপ্ত করব এবং তারপরে আমরা ইঞ্জিলকে খুলব I  

মসীহ: শাসন করতে আসছেন … বা ‘বিচ্ছিন্ন হতে’ ?

আমাদের গত নিবন্ধগুলোতে আমরা দেখেছি কিভাবে ভাববাদীরা মসীহর নামের ভবিষ্যদ্বাণী করে (ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যীশু) এবং তার আগমনের সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী করে চিহ্নগুলো দিয়েছিলেন I এই আশ্চর্যজনক নির্দিষ্ট ভাববাণী সমূহকে যীশুর (ঈসা আল মসীহ – পিবিইউএইচ) আগমনের শতাধিক বছর পূর্বে লেখার মধ্যে নথিভুক্ত এবং স্থাপিত করা হয়েছে এবং তারা তাকে সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I এই ভাববাণীগুলোকে লেখা হয়েছিল এবং এখনও সেখানে আছে(!), যিহূদি শাস্ত্রীয় বাক্যের মধ্যে – ইঞ্জিল বা কোরানের মধ্যে নয় I তাহলে প্রশ্ন ওঠে যেহেতু এটিকে তাদের বইয়ে লেখা হয়েছে তবে কেন যিহূদি লোকেরা যীশুকে খ্রীষ্ট (মসীহ) রূপে স্বীকার করে নি এবং এখনও (অধিকাংশ) স্বীকার করে না I  

এই প্রশ্নটিকে আমাদের দেখার আগে, আমার স্পষ্ট করা উচিত যে ভাবে আমি প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করেছি সেভাবে করা একেবারেই সঠিক নয় I যীশুর (ঈসা – পিবিইউএইচ) জীবন কালে অনেক যিহূদি তাকে মসীহ রূপে স্বীকার করেছিল I এবং আজকের দিনেও অনেকে আছে যারা তাকে মসীহ রূপে স্বীকার করে I কিন্তু ঘটনা থেকে যায়, একটি জাতি রূপে, তারা তাকে স্বীকার করে নি I সুতরাং কেন?    

কেন যিহূদিরা ঈসাকে (পিবিইউএইচ) মসীহ রূপে স্বীকার করে না?

মথির (ইঞ্জিল) সুসমাচার ঈসা পিবিইউএইচ এবং যিহূদি ধার্মিক শিক্ষকদের (ফারিসী এবং সদ্দূকী বলা হয় – যাদের আজকের ইমামদের মতন একটি অনুরূপ ভূমিকা ছিল) মধ্যে একটি সাক্ষাৎকারকে নথিভুক্ত করে I তারা তার কাছে একটি চাতুর্যপূর্ণ প্রশ্ন রাখল এবং এখানে যীশুর উত্তর রয়েছে:

  29 ‘এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা ভুল করছ, কারণ তোমরা না জান শাস্ত্র, না জান ঈশ্বরের পরাক্রম৷

মথি22:29

এই বিনিময় আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুত্র দেয় I যদিও তারা নেতা ছিল যারা লোকেদের তৌরাত এবং যাবুরের শিক্ষা দিত, তবুও যীশু তাদের অভিযুক্ত করলেন এই বলে যে তারা শাস্ত্রীয় বাক্য জানে না এবং ঈশ্বরের পরাক্রম জানে না I এর দ্বারা তিনি কি বোঝাতে চাইলেন? কিভাবে বিশেষজ্ঞরা না ‘শাস্ত্রীয় বাক্য জানতে পারে?

যিহূদিরা সমস্ত শাস্ত্রীয় বাক্য সমূহ জানত না

তৌরাত ও যাবুরের থেকে নেতারা যার সম্বন্ধে বলল এবং উল্লেখ করল সেই বিষয়ে আপনারা যখন অধ্যয়ন করেন তখন আপনারা লক্ষ্য করবেন যে তারা কেবলমাত্র কিছু ভাববাণী সম্বন্ধে বিশেষ সচেতন ছিল – এবং অন্য কোনো কিছু সম্বন্ধে নয় I অতএব আমরা দেখলাম, উদাহরণস্বরূপ, কুমারীর পুত্রের চিহ্নর মধ্যে, বিশেষজ্ঞরা ভাববাণীকে জানত যে মসীহ বৈতলেহম থেকে আসবে I এখানে পদটি রয়েছে যেটিকে ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞরা ঈসার জন্মস্থান সম্পর্কে রাজা হেরোদের নিকট উদ্ধৃত করল দেখাতে কোথায় মসীহর জন্ম হওয়ার কথা ছিল: 

  2 কিন্তু বৈত্‌লেহম-ইফ্রাথা, তুমি যিহূদার সবচেয়ে ছোট শহর| তোমার পরিবার গোনার পক্ষে খুবই ছোট| কিন্তু আমার জন্য়ে “ইস্রাযেলের শাসক” তোমার মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে| তার উত্পত্তি প্রাচীনকাল থেকে বহু প্রাচীনকাল থেকে|

মীখা5:2

আপনারা দেখবেন যে তারা পদটিকে জানত যা খ্রীষ্টকে উল্লেখ করেছিল (= মসীহ – এখানে দেখুন কিসের জন্য এই পরিভাষাগুলো একই হচ্ছে) এবং এই পদটি তাকে ‘শাসক’ হিসাবে উল্লেখ করেছে I যিহূদি বিশেষজ্ঞদের কাছে সু-পরিচিত আর একটি অনুচ্ছেদ ছিল গীতসংহিতা 2, দায়ূদের (পিবিইউএইচ) দ্বারা অনুপ্রাণিত যেটি প্রথমে ‘খ্রীষ্ট’ শিরোনামটি প্রবর্তন করল এবং যেটি বলল যে ‘খ্রীষ্ট’ “সিয়োনে রাজা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবেন” (=যিরূশালেম বা আল কুদস) যেমনটি আমরা অনুচ্ছেদের মধ্যে দেখি I   

পৃথিবীর রাজারা তাদের অবস্থান গ্রহণ করে … সদাপ্রভু এবং তার অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে …যিনি স্বর্গে উপবিষ্ট তিনি হাস্য করেন; সদাপ্রভু তাদের প্রতি বিদ্রূপ করেন … বলেন, :আমি পবিত্র পর্বতে  সিয়োনে আমার রাজাকে স্থাপন করেছি …     

যাবুরের গীতসংহিতা:2

এছাড়াও যিহূদি শিক্ষকরা যাবুরের নিম্নলিখিত অনুচ্ছেদগুলোও সম্বন্ধে ভালভাবে সচেতন ছিলেন  

হে সদাপ্রভু, … তুমি তোমার দাস দায়ূদের অনুরোধে, তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তিকে প্রত্যাখ্যান কোর না I সদাপ্রভু দাবুদের কাছে এক শপথ করেছেন, একটি নিশ্চিত শপথ তাহা হইতে তিনি ফিরিবেন না: “আমি তোমার নিজের বংশধরকে তোমার সিংহাসনে বসাইব”—  … “এখানে আমি দাবুদের জন্য এক শৃঙ্গ উদ্ভব করিব এবং আমার অভিষিক্ত ব্যক্তির জন্য প্রদীপ স্থাপন করিব”

যাবুরের গীত সংহিতা 132:10-18

যিহূদিরা তাদের তর্কের দ্বারা এটিকে সীমিত করে ঈশ্বরের পরাক্রমকে জানে  নি  

অতএব তারা কিছু অনুচ্ছেদ সমূহকে জানত, যার সবগুলো একই দিশার দিকে  ইঙ্গিত করত – যে মসীহ পরাক্রমের সাথে শাসন করবেন I ঈসার (পিবিইউএইচ) সময়ে সেটিকে দেওয়া হয়েছিল যখন যিহূদিরা ইস্রায়েল দেশের মধ্যে রোমীয়দের দখলে বাস করত (যিহূদিদের ইতিহাসের জন্য এখানে দেখুন) ইনি ছিলেন কেবল এক ধরণের মসীহ যাকে তারা চেয়েছিলেন I তারা একজন মসীহকে চেয়েছিল যিনি পরাক্রমের সাথে আসবেন এবং ঘৃণিত রোমীয়দের তাড়িয়ে 1000 বছরের পূর্বের রাজা দাবুদের মতন শক্তিশালী রাজত্বের স্থাপনা করবেন (রাজা দায়ূদের পৃষ্ঠভূমির জন্য এখানে দেখুন) I আল্লাহর পরিকল্পনার তুলনায় তাদের নিজেদের অভিলাষা থেকে উদ্ভূত মসীহকে পাওয়ার এই আকুল আকাঙ্ক্ষা তাদেরকে তাদের সমস্ত শাস্ত্রীয় বাক্যগুলোর অধ্যয়নের থেকে দুরে রেখেছিল I

তখন তারা তাদের চিন্তাধারার মধ্যে ঈশ্বরের পরাক্রমকে সীমাবদ্ধ করতে মানবীয় যুক্তির ব্যবহার করল I যীশু পরাক্রমের সাথে যিরূশালেম থেকে শাসন করেন নি I তাই তিনি মসীহ হতে পারলেন না! এটি সরল তর্ক ছিল I তারা তাদের রৈখিক এবং মানবীয় যুক্তিতে তাঁকে আবদ্ধ করার দ্বারা ঈশ্বরের পরাক্রমকে সীমিত করল I  

আজকের দিন পর্যন্ত যিহূদিরা যাবুরের ভাববাণীগুলোকে মূলতঃ জানে না I যদিও এটি তাদের বইয়ের মধ্যে আছে, যাকে তনাখ বলা হয় (=তৌরাত + যাবুর) তবে তারা যদি কোনো কিছু পড়ে তবে তারা কেবলমাত্র তৌরাত পড়ে I তারা সমস্ত শাস্ত্রীয় বাক্য সমূহকে জানতে ঈশ্বরের আজ্ঞাগুলোকে অগ্রাহ্য করছে আর তাই অন্যান্য ভাববাণীগুলো সম্বন্ধে অজ্ঞ হয়, এবং তাদের মানবীয় তর্কের সাহায্যে ঈশ্বরকে সীমিত করে, তারা যুক্তি দেয় যে যহেতু মসীহর শাসন করার কথা, আর ঈসা শাসন করেন নি, তাই তিনি মসীহ হতে পারেন না I গল্পের শেষ! প্রশ্নটির আর কোনো তদন্ত করার প্রয়োজন নেই! আজ পর্যন্ত অধিকাংশ যিহূদিরা বিষয়টির মধ্যে আর দেখে না I    

মসীহ: ‘বিচ্ছিন্ন’ … হতে আসছেন

কিন্তু যদি তারা শাস্ত্র বাক্যগুলোর পরীক্ষা করত তবে তারা এমন কিছু জানত যাকে আমরা এখন জানতে যাচ্ছি I গত নিবন্ধে আমরা দেখলাম যে ভাববাদী দানিয়েল (পিবিইউএইচ) মসীহর আগমনের সময়কে সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I কিন্তু এখন লক্ষ্য করুন এছাড়া এই মসীহ (=অভিষিক্ত ব্যক্তি=মসীহ=খ্রীষ্ট) সম্বন্ধে তিনি আর কি বললেন I 

25 “দানিয়েল এই বিষয়গুলি বুঝে নাও, জেনে নাও| জেরুশালেমকে পুননির্মাণ করার জন্য একটা বার্তা আসবে| ঐ বার্তাটি আসার সাত সপ্তাহ পরে এক জন নেতা নির্বাচন করা হবে| তারপর জেরুশালেম পুননির্মিত হবে| জেরুশালেমে আবার একটি উন্মুক্ত বর্গক্ষেত্র থাকবে এবং শহরের সুরক্ষার জন্য তার চারি দিকে একটি পরিখা থাকবে| 62 সপ্তাহের মধ্যে জেরুশালেম পুনরায তৈরী হবে| কিন্তু ওই সময় অনেক সঙ্কটের মুখে পড়তে হবে|
26 বাষট্টি সপ্তাহের পর নির্বাচিত ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে এবং তাঁর কিছুই থাকবে না| তারপর ভবিষ্যত্‌ নেতার লোকরা শহরটি এবং তার পবিত্র স্থান ধ্বংস করে দেবে| সমাপ্তি আসবে বন্যার মতো| সব শেষ না হওয়া পর্য়ন্ত যুদ্ধ চলবে| এই স্থানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে|

দানিয়েল9:25-26

লক্ষ্য করুন দানিয়েল যা বলেছেন তা মসীহর ক্ষেত্রে ঘটবে যখন তিনি  আসবেন I দানিয়েল কি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে মসীহ শাসন করবেন? যে তিনি পূর্বপুরুষ দায়ূদের সিংহাসন অধিকার করবেন এবং রোমীয় ক্ষমতার দখলকে ধ্বংস করবেন? না! প্রকৃতপক্ষে এটি বলে, একেবারে স্পষ্টরূপে, যে মসীহকে ‘বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং কিছুই থাকবে না’ I পরে এটি বলে, যে বিদেশী লোকেরা পবিত্র স্থানটিকে (যিহূদি মন্দির) এবং যিরূশালেমকে ধ্বংস করবে এবং এটি জনশূন্য হবে I আপনারা যদি ইস্রায়েলের ইতিহাসের প্রতি দেখেন আপনারা দেখবেন যে এটি বাস্তবিকই ঘটেছিল I যীশু মারা যাওয়ার 40 বছর পরে রোমীয়রা এসে মন্দির পুড়িয়ে দিল এবং যিরূশালেমকে ধ্বংস করল এবং যিহূদিদের বিশ্বব্যাপী নির্বাসনে পাঠিয়ে দিল যাতে করে তাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হ’ল I ঘটনাগুলো 70 খ্রীষ্টাব্দে ঘটল ঠিক যেভাবে দানিয়েল 537 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এবং পূর্বে ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা অভিশাপের মধ্যে ভাববাণী করা হয়েছিল I    

অতএব দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মসীহ শাসন করতে যাচ্ছেন না! পরিবর্তে তিনি ‘বিচ্ছিন্ন হবেন এবং কিছুই থাকবে না’ I যিহূদি নেতারা এটির  থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল কারণ তারা ‘শাস্ত্রীয় বাক্য সমূহকে জানত’ না I কিন্তু এটি অন্য একটি সমস্যা উত্থাপন করে I দানিয়েলের ভাববাণী (বিচ্ছিন্ন হওয়া) এবং সেগুলোর মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য ছিল যার সঙ্গে যিহূদিরা পরিচিত ছিল (মসীহ শাসন করবেন) I যাই হোক না কেন, যদি সমস্ত ভাববাদীদের কাছে আল্লার থেকে বার্তা সমূহ থাকত, তবে তাদের মধ্যে সবগুলো সত্যে পরিণত হয়ে থাকত যেমনভাবে মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা তৌরাতের মধ্যে উল্লেখিত হয়েছিল I এটি কি করে সম্ভব হতে পারে যে মসীহকে বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং তিনি শাসন করবেন? এটা মনে হয় যে তাদের মানবীয় তর্ক ‘ঈশ্বরের পরাক্রমকে’ মাত দিয়েছিল I   

‘শাসন করা’ এবং ‘বিচ্ছিন্ন হওয়ার’ মধ্যে দ্বন্দকে ব্যাখ্যা করা হয়   

তবে অবশ্যই তাদের তর্ক ঈশ্বরের পরাক্রমের চেয়ে বলবান ছিল না I তারা শুধুমাত্র, আমরা মানুষরা যেমন করি, তাদের দ্বারা প্রস্তুত একটি অনুমানকে চিনতে পারছে না I তারা মনে করেছিল যে মসীহর কেবলমাত্র একবার আসার কথা আছে I তাই যদি ঘটনা হত তবে বাস্তবিকই মসীহ শাসন এবং তার ‘ছিন্ন হওয়ার’ মধ্যে একটি দ্বন্দ হত I তাই তাদের তর্কের কারণে তারা ঈশ্বরের পরাক্রমকে তাদের মনের মধ্যে সীমিত করল I মসীহর দুবার আসার কথা  ছিল I প্রথম আগমনে তিনি ‘বিছিন্ন হওয়া এবং কিছুই না থাকার’ ভাববাণীগুলোকে পরিপূর্ণ করবেন এবং কেবল দ্বিতীয় আগমনের মধ্যে তিনি ‘শাসনের’ ভাববাণী সমূহকে পরিপূর্ণ করবেন I সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘দ্বন্দ’ সহজেই সমাধান হয়ে যায় I 

আমরাওকি সমস্ত শাস্ত্রীয় বাক্যগুলোকে লক্ষ্য না করে ঈশ্বরের পরাক্রমকে সীমিত করব?

কিন্তু এটার মানে কি যে মসীহকে ‘বিচ্ছিন্ন করা হবে এবং কিছুই থাকবে না”? আমরা এই প্রশ্নটিকে শীঘ্রই দেখব I কিন্তু এখনকার জন্য হয়ত এটি অধিক উপযোগী হবে এর উপরে প্রতিফলন করা যে যিহূদিরা কিভাবে মসীহর চিহ্নগুলো লক্ষ্য করল না I আমরা আগেই দুটি কারণ দেখেছি যিহূদিরা কেন মসীহর চিহ্নগুলো লক্ষ্য করে নি I তৃতীয় আর একটি কারণ আছে, যেটিকে আমাদের জন্য যোহনের সুসমাচারে (ইঞ্জিল) নথিভুক্ত করা হয়েছে যীশু (ঈসা – পিবিইউএইচ) এবং ধার্মিক নেতাদের অন্য আর একটি বাক্য বিনিময়ের মধ্যে যেখানে তিনি তাদেরকে বলেন I     

39 তোমরা সকলেই খুব মনোয়োগ সহকারে শাস্ত্রগুলি পড়, কারণ তোমরা মনে করো সেগুলির মধ্য দিয়েই তোমরা অনন্ত জীবন লাভ করবে আর সেই শাস্ত্রগুলিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে৷
40 তবু তোমরা সেই জীবন লাভ করতে আমার কাছে আসতে চাও না৷
41 ‘মানুষের প্রশংসা আমি গ্রহণ করি না৷
42 আমি তোমাদের সকলকেই জানি আর এও জানি য়ে তোমরা ঈশ্বরকে ভালোবাসো না৷
43 আমি আমার পিতার নামে এসেছি, তবু তোমরা আমায় গ্রহণ করো না; কিন্তু অন্য কেউ যদি তার নিজের নামে আসে তাকে তোমরা গ্রহণ করবে৷
44 তোমরা কিভাবে বিশ্বাস করতে পারো? তোমরা তো একজন অন্য জনের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে চাও৷ আর য়ে প্রশংসা একমাত্র ঈশ্বরের কাছে থেকে আসে আর খোঁজ তোমরা করো না৷

যোহন5:39-40,44

অন্য কথায়, যিহূদিদের মসীহর চিহ্নগুলোকে লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হওয়ার তৃতীয় কারণ ছিল যেহেতু তারা সেগুলোকে স্বীকার করতে শুধুমাত্র ‘প্রত্যাখ্যান’ করল কারণ তারা ঈশ্বরের থেকে অনুমোদনের তুলনায় একে অপরের অনুমোদনকে জয় করতে উৎসাহিত হ’ল!  

যিহূদিরা অন্য লোকেদের চেয়ে অধিক পথ-ভ্রষ্ট এবং একগুঁয়ে নয় I তবুও যীশু যে মসীহ ছিলেন তার চিহ্নগুলোকে তাদের দ্বারা লক্ষ্যচ্যুত হওয়ার ওপরে বিচার করা আমাদের পক্ষে সহজ I কিন্তু তাদের প্রতি আমাদের আঙ্গুল তোলার আগে হয়ত আমাদের নিজেদের প্রতি দেখা উচিত I আমরা কি সৎভাবে বলতে পারি যে আমরা ‘সমস্ত শাস্ত্রীয় বাক্যগুলোকে’ জানি? আমরা কি যিহূদিদের মতন, আমাদের পছন্দের, স্বচ্ছন্দের এবং বোধগম্য শাস্ত্রীয় বাক্যগুলোকে শুধুমাত্র দেখি না? আমরা কি আমাদের মনের মধ্যে ঈশ্বরের পরাক্রমকে সীমিত করতে যিহূদিদের মতন প্রায়শই আমাদের তর্ককে ব্যবহার করি না? অথবা আমরা এমন কি মাঝে মাঝে শাস্ত্রীয় বাক্যগুলোকে স্বীকার করতে প্রত্যাখ্যান করি  কারণ আমরা ঈশ্বর যা বলেছেন তার তুলনায় অন্যরা যা বলে সেই সম্বন্ধে বেশি চিন্তিত হই?      

যে কায়দায় যিহূদিরা চিহ্নগুলোকে লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হয়েছিল তা আমাদের জন্য একটি সতর্কতা হওয়া উচিত I আমাদেরকে কেবলমাত্র আমাদের পরিচিত এবং যেগুলো আমরা পচ্ছন্দ করি সেই শাস্ত্রীয় বাক্যগুলোর মধ্যে নিজেদেরকে সীমিত করতে সাহস করা উচিত নয় I মানবীয় তর্কের দ্বারা ঈশ্বরের পরাক্রমকে সীমিত করতে সাহস করা উচিত নয় I এবং শাস্ত্রীয় বাক্য সমূহর শিক্ষাকে আমাদের স্বীকার করতে প্রত্যাখ্যান করা উচিত   নয় I

কিভাবে যিহূদিরা মসীহর আগমনের চিহ্নগুলোকে লক্ষ্য করতে ব্যর্থ হ’ল  তার থেকে উদ্ভূত এই সতর্কতার সাথে সজ্জিত আমরা এখন এক মুখ্য ব্যক্তির আগমনকে বুঝতে ফিরব – দাসটিকে

আসন্ন মসীহ: “সাতটি’ চিহ্ন সমূহের মধ্যে

কোরানের মধ্যে অনেক সময় আমরা দেখি যে আল্লাহ সাতটি চক্র সমূহকে ব্যবহার   করেছেন I উদাহরণস্বরূপ, সুরাহ আট-তালাক (সুরাহ 65 – বিবাহ বিচ্ছেদ) ব্যক্ত করে

আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে, এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।

সুরাহ আট-তালাক 65:12

এবং সুরাহ আন-নাবা (সুরাহ 78 –মহা সংবাদ) বলে

সে মহা-অগ্নিতে প্রবেশ করবে।সুরাহ

আন-নাবা 78:12

এটি তখন আমাদের অবাক করে দেওয়া উচিত নয় যে মসীহর আগমনের সময়টিও সাত সমুহের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল, যেমনটি আমরা নিচে দেখি I

আমাদের ভাববাদীদের অন্বেষণ করার সাথে সাথে আমরা জানছি যে যদিও তারা মাঝে মাঝে একে অপরের থেকে শতাধিক বছরের ব্যবধানে আলাদা ছিল – যাতে তারা মানবীয়ভাবে একে অপরের সাথে তাদের ভাববাণীগুলোকে আদান প্রদান করতে পারত না – তবুও তাদের ভাববাণীগুলো মসীহর (= খ্রীষ্ট) আগমন সম্বন্ধে একটি কেন্দ্রীয় থিমকে গড়ে তুলেছিল I আমরা দেখলাম যে ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) একটি গুঁড়ির থেকে পল্লবের চিহ্নকে ব্যবহার করেছিলেন, এবং পরে ভাববাদী সখরিয় (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে এই পল্লবটি হিব্রু নাম যোহোশূয়া পাবে, যেটি গ্রীকের মধ্যে ছিল যেসআস, যেটি ইংরেজির মধ্যে যেসাস এবং আরবীর মধ্যে ঈসা I হ্যাঁ, মসীহর বিশেষ নামটিকে (= খ্রীষ্ট)ঈসা আল মসীহ – যেসাস (পিবিইউএইচ) – যখন থাকতেন তার 500 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I এই ভাববাণীটিকে যিহূদিদের পুস্তকে (ইঞ্জিলে নয়) লেখা হয়, যেটিকে এখনও পড়া এবং স্বীকার করা হয় – কিন্তু উপলব্ধি করা হয় না – যিহূদিদের দ্বারা I

ভাববাদী দানিয়েল

আমরা এখন ভাববাদী দানিয়েলের (পিবিইউএইচ) কাছে আসি I তিনি বাবিলের নির্বাসনে থাকতেন এবং বাবিলোনিয়ান ও পারস্য সরকারের মধ্যে একজন শক্তিশালী পদস্থ সরকারী কর্মচারী ছিলেন – পাশাপাশি একজন ভাববাদী I নিচের কালপঞ্জি দেখায় ভাববাদীদের ইতিহাসের মধ্যে কোথায় ভাববাদী দানিয়েল (পিবিইউএইচ) বাস করতেন I

 The Prophets Daniel & Nehemiah shown in timeline with other prophets of Zabur

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের সাথে কালপঞ্জির মধ্যে ভাববাদী দানিয়েল এবং নহিমিয়কে দেখানো হয়েছে

তার বইয়ের মধ্যে, ভাববাদী দানিয়েল, স্বর্গদূত গাব্রিয়েলের (জিব্রীল) থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন I দানিয়েল এবং মরিয়ম, যীশুর (ঈসা – পিবিইউএইচ) মা, পুরো বাইবেলের (আল কিতাব) মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি যারা গাব্রিয়েলের বার্তা পেয়েছেন I অতএব এই বার্তার প্রতি আমাদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত I স্বর্গদূত গাব্রিয়েল (জিব্রীল) তাকে বললেন যে:

21 আমার প্রার্থনা কালে গাব্রিযেল নামে এক ব্যক্তি এসে উপস্থিত হয়েছিল| এ ছিল সেই গাব্রিয়েল যাকে পূর্বে আমি আমার স্বপ্নদর্শনে দেখেছিলাম| গাব্রিয়েল য়েন হাওয়ায় উড়ে এসেছিল| সন্ধ্যা-কালীন নৈবেদ্যর সময় সে এসেছিল|
22 সে আমার সঙ্গে কথা বলল এবং আমি যাতে বুঝতে পারি সেই রকম ভাবে সাহায্য করল| গাব্রিয়েল বলল, “দানিয়েল, আমি তোমাকে বেশী জ্ঞান দিতে এসেছি|
23 তুমি যখন প্রথম প্রার্থনা করতে শুরু করেছিলে তখন ঈশ্বর আমাকে আজ্ঞা দিয়েছিলেন তোমাকে শেখাবার জন্য| তাই আমি তোমাকে জানাতে এসেছি কারণ ঈশ্বর তোমাকে খুব ভালবাসেন! তুমি এই আজ্ঞা বুঝবে, তারপর তুমি স্বপ্নদর্শনও বুঝতে পারবে|
24 “ঈশ্বর তোমার জাতি এবং তোমার পবিত্র শহরের জন্য 70 সপ্তাহ নির্ধারণ করেছেন| এই বিষয়গুলির জন্য 70 সপ্তাহ সময়ের আদেশ দেওয়া হয়েছে: সমস্ত খারাপ কাজ বন্ধ করবার জন্য, পাপ কাজ বন্ধ করবার জন্য, লোকদের শুদ্ধ করবার জন্য, ধার্মিকতাকে আনবার জন্য য়েটা চিরকালের জন্য অব্যাহত থাকবে, স্বপ্নদর্শন ও ভাব্বাদীদের ওপর শীলমোহর করা এবং খুব পবিত্র স্থানটি উত্সর্গ করা|
25 “দানিয়েল এই বিষয়গুলি বুঝে নাও, জেনে নাও| জেরুশালেমকে পুননির্মাণ করার জন্য একটা বার্তা আসবে| ঐ বার্তাটি আসার সাত সপ্তাহ পরে এক জন নেতা নির্বাচন করা হবে| তারপর জেরুশালেম পুননির্মিত হবে| জেরুশালেমে আবার একটি উন্মুক্ত বর্গক্ষেত্র থাকবে এবং শহরের সুরক্ষার জন্য তার চারি দিকে একটি পরিখা থাকবে| 62 সপ্তাহের মধ্যে জেরুশালেম পুনরায তৈরী হবে| কিন্তু ওই সময় অনেক সঙ্কটের মুখে পড়তে হবে|
26 বাষট্টি সপ্তাহের পর নির্বাচিত ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে এবং তাঁর কিছুই থাকবে না| তারপর ভবিষ্যত্‌ নেতার লোকরা শহরটি এবং তার পবিত্র স্থান ধ্বংস করে দেবে| সমাপ্তি আসবে বন্যার মতো| সব শেষ না হওয়া পর্য়ন্ত যুদ্ধ চলবে| এই স্থানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে|

দানিয়েল19:21-26

আমরা দেখি যে এটি ‘অভিষিক্ত ব্যক্তির’ (=খ্রীষ্ট = মসীহ যেমনটি আমরা এখানে দেখলাম) আগমন সম্বন্ধে একটি ভাববাণী I স্বর্গদূত গাব্রিয়েল (জিব্রীল) মসীহর আগমন সম্বন্ধে এক সময়সূচী দিলেন I গ্যাব্রিয়েল বললেন ‘যিরূশালেমের পুন:স্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের আদেশ জারির’ সাথে সাথে উল্টো গণনা শুরু   হবে I যদিও দানিয়েলকে বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল (537 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে) তিনি এই উল্টো-গণনার আরম্ভ দেখতে বেঁচে থাকেন নি I 

যিরূশালেমের পুন:স্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের আদেশ জারি

প্রকৃতপক্ষে ইনি ছিলেন নহিমিয়, যিনি দানিয়েলের (পিবিইউএইচ) প্রায় একশত বছর পরে বাস করেছিলেন, যিনি এই উল্টো গণনার আরম্ভ দেখলেন I তিনি পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তর নিকটে পানপাত্র-বাহক ছিলেন এবং এইরূপে শূশনে বাস করতেন যেটি বর্তমান কালে ইরাণ I উপরের কালপঞ্জিতে দেখুন কোন সময়ে তিনি বাস করতেন I তিনি তার বইতে আমাদের বলেন যে   

  জা অর্তক্ষস্তের রাজত্বের 20 তম বছরের নীসন মাসে, যখন রাজাকে দ্রাক্ষারস নিবেদন করা হল, আমি দ্রাক্ষারসটি নিলাম এবং রাজাকে দিলাম| এর আগে তার সঙ্গে থাকাকালীন রাজা কখনও আমাকে বিষাদগ্রস্ত দেখেন নি, কিন্তু সেদিন আমি সত্যিই বিষাদগ্রস্ত হয়েছিলাম|
2 রাজা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি শরীর খারাপ? তোমাকে এতো বিষাদগ্রস্ত লাগছে কেন? মনে হচ্ছে, তোমার হৃদয় বিষাদে পরিপূর্ণ|”তখন আমি খুব ভয় পেলেও রাজাকে বললাম,
3 “মহারাজ দীর্ঘজীবি হোন! আমার মন ভারাএান্ত কারণ য়ে শহরে আমার পূর্বপুরুষরা সমাধিস্থ, সেই শহর আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেই শহরের ফটকগুলি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়েছে|”
4 তখন রাজা আমাকে রশ্ন করলেন, “তুমি আমাকে দিয়ে কি করাতে চাও?”আমি আমার ঈশ্বরকে প্রার্থনা করে
5 রাজাকে বললাম, “রাজা যদি আমাকে নিয়ে সত্যিই খুশী থাকেন এবং তাঁর যদি ইচ্ছে হয়, তবে দয়া করে আমাকে যিহূদায় জেরুশালেমে পাঠান য়ে শহরে আমার পূর্বপুরুষরা সমাধিস্থ হয়েছিলেন যাতে আমি শহরটি আবার গড়ে তুলতে পারি|”
6 মহারাজের পাশেই রাণী বসেছিলেন| তাঁরা দুজন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার এই সফরের জন্য কত সময় লাগবে? কবে আবার তুমি এখানে এসে পৌঁছতে পারবে?”রাজা য়েহেতু আমায় খুশি মনে বিদায দিলেন, আমি তাঁকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলাম|
7 আমি রাজাকে এও জিজ্ঞাসা করলাম, “রাজা যদি সন্তুষ্ট থাকেন, দয়া করে আমাকে কয়েকটি চিঠি দিন যাতে যিহূদা যাওয়ার পথে ফরাত্‌ নদীর পশ্চিম পারের অঞ্চল পার হবার সময় আমি রাজ্যপালদের দেখাতে পারি|
8 এছাড়াও আপনার বনবিভাগের আধিকারিক আসফকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি চিঠিও আমার দরকার, যাতে সে আমাকে শহরের ফটকগুলি, শহরের প্রাচীরসমূহ, মন্দিরের দেওয়ালসমূহ ও আমার নিজের বাসস্থান নির্মাণের জন্য আমাকে কাঠ দেয়|” রাজা আমাকে সব কিছু রয়োজনীয় চিঠি দিয়ে অনুগৃহীত করলেন| ঈশ্বর আমার প্রতি সদয ছিলেন বলেই রাজা আমার জন্য এসব করেছিলেন|
9 তারপর আমি যখন ফরাত্‌ নদীর পশ্চিমাঞ্চলে এলাম, সেখানকার রাজ্যপালদের আমি পত্রগুলি দেখালাম| রাজা আমার সঙ্গে কয়েক জন সামরিক পদস্থ ব্যক্তি ও অশ্বারোহী সৈন্যও পাঠিয়েছিলেন|
10 আধিকারিকগণ, হোরোণের সন্বল্লট ও অম্মোনের এীতদাস টোবিয যখন আমার আসার খবর পেল এবং শুনল যে ইস্রায়েলীয়দের আমি সাহায্য করতে এসেছি তখন তারা বিরক্ত ও রুদ্ধ হল|
11 জেরুশালেমে তিন দিন থাকার পর আমি এক রাতে কয়েক জনকে সঙ্গে নিয়ে বেরোলাম| জেরুশালেমের জন্য কি করার কথা ঈশ্বর আমার হৃদয়ে রেখেছিলেন সে কথা আমি কারো কাছেই প্রকাশ করিনি| যে ঘোড়াটিতে আমি চড়েছিলাম, সেটি ছাড়া আমার কাছে আর কোন ঘোড়া ছিল না|

নহিমিয়2:1-12

“যিরূশালেমের পুন:স্থাপন এবং পুনর্নির্মাণের আদেশ জারিকে” এটি নথিভুক্ত করে যাকে দানিয়েল এক দিন আসবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আর আমরা দেখিযে এটি পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তর বিংশতিতম বর্ষে ঘটেছিল, যিনি 465 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে তার রাজত্বের আরম্ভকারী রূপে ইতিহাসে সু-পরিচিত ছিলেন I এইরূপে 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের বছরেতার বিংশতিতম বর্ষ এই আদেশ স্থাপন  করত I গাব্রিয়েল ভাববাদী দানিয়েলকে (পিবিইউএইচ) একটি বার্তা পাঠালেন এবং উল্টো গণনা আরম্ভ হওয়ার একটি চিহ্ন দিলেন I প্রায় একশত বছর পরে, পারস্য সম্রাট, দানিয়েলের এই ভবিষ্যদ্বাণী সম্বন্ধে না জেনে, এই আদেশ জারি করেন – উল্টো গণনাকে সঞ্চালিত করে যা লেখা হয়েছিল অভিষিক্ত ব্যক্তি – মসীহকে নিয়ে আসবে I

রহস্যজনক সাত সমূহ

ভাববাদী দানিয়েলকে দেওয়া গাব্রিয়েলের বার্তা সংকেত দিল যে “সাতটি ‘সাত সমূহ’ এবং বাষট্টিটি ‘সাত সমূহ’” লাগবে আর তার পরে মসীহ প্রকাশিত হবেন I তাহলে একটি ‘সাত’ কি? মশির (পিবিইউএইচ) তৌরাতের মধ্যে, সাত বছরের একটি চক্র ছিল I প্রত্যেক সাত বছর অন্তর কৃষিকার্যর থেকে বিশ্রাম গ্রহণ করা হত যাতে মাটি তার পুষ্টি পুনরায় পূরণ করতে পারত I অতএব একটি ‘সাত’ হ’ল একটি সাত-বছরের চক্র I ওটিকে মনে রেখে আমরা দেখি যে আদেশ জারি করার থেকে আরম্ভ করে উল্টো গণনা দুটি ভাগেআসবে I প্রথম ভাগটি ছিল ‘সাতটি সাত সমূহ’ বা সাতটি সাত-বর্ষের সময়কাল I এই 7X7=49 বছর, যা যিরূশালেমকে পুনর্গঠন করতে লাগল I এটি বাষট্টি বার সাতের পরে এল, অতএব সম্পূর্ণ উল্টো গণনাটি ছিল 7X7 + 62X7 = 483 বছর I অন্য কথায়, অর্তক্ষস্তর আদেশ জারির থেকে, মসীহর প্রকাশন পর্যন্ত 483 বছর লাগবে I 

360-দিনে বছর

আমাদেরকে ক্যালেন্ডারের মধ্যে একটু অল্প সমন্বয় সাধন করতে হবে I অতীতে অনেক জাতিগণ যেমন করেছিল, ভাববাদীরা এক বছর-দৈর্ঘ্য ব্যবহার করেছিলেন যা 360-দিন দীর্ঘ ছিল I একটি ক্যালেন্ডারের ‘বছরের’ দৈর্ঘ্যকে সজ্ঞায়িত করতে বিভিন্ন উপায় আছে I পাশ্চাত্য একটি (সৌর প্রদক্ষিণের উপরে ভিত্তিশীল) 365.24 দিন দীর্ঘ হয়, আর মুসলিম একটি 354 দিনের হয় (চন্দ্রের চক্রের উপরে ভিত্তিশীল), এবং যেটিকে দানিয়েল ব্যবহার করেছিলেন তা 360 দিন দৈর্ঘের অর্ধ=পথ ছিল I অতএব 483 ‘360-দিনের’ বছর হ’ল 483X360/365.24 = 476 সৌর বছর I 

যে বছরকেমসীহর আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

এই তথ্যর সাথে আমরা মসীহর আগমনের সময়কে হিসাব করে অনুমান করতে পারি I আমরা ‘খ্রীষ্টপূর্বাব্দের’ যুগ থেকে ‘খ্রীষ্টাব্দের’ যুগে যাব এবং সেখানে 1 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে 1 খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত কেবলমাত্র একটি বছর হয় (সেখানে কোনো ‘শুন্য’ বছর নেই) I এই হিসাবের জন্য তথ্যটিকে টেবিলের মধ্যে সংক্ষিপ্তসার করা হয়েছে I

আরম্ভের বছর 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ (অর্তক্ষস্তর  বিংশতিতম বছর)
সময়ের দৈর্ঘ্য 476 সৌর বছর
পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের মধ্যে প্রত্যাশিত আগমন (-444 + 476 + 1) (‘+1’ কারণ সেখানে কোনো 0 খ্রীষ্টাব্দ নেই) = 33
প্রত্যাশিত বছর 33 খ্রীষ্টাব্দ

নাসরতের যীশু গাধায় চড়ে যিরূশালেমে এসেছিলেন যার মধ্য থেকে সু-পরিচিত তাল পাতার রবিবারেরউৎসব এসেছে I সেই দিন তিনি নিজেকে ঘোষণা করেছিলেন এবং তাদের মসীহ রূপে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I বছরটি ছিল33 খ্রীষ্টাব্দ I

ভাববাদী দানিয়েল এবং নহিমিয়, যদিও তারা একে অপরকে জানতেন না যেহেতু তারা 100 বছরের ব্যবধানে বেঁচে ছিলেন, তবুও ভাববাণী পেতে এবং মসীহর প্রকাশনের উল্টো গণনাকে সঞ্চালিত করতে আল্লাহর দ্বারা সমন্বয় সাধন করা হয়েছিল I এবং গাব্রিয়েলের থেকে ভাববাদী দানিয়েলের এই বার্তা পাওয়ার প্রায় 570 বছর পরে, ঈসা মসীহ রূপে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন I সেটি একটি উল্লেখযোগ্য ভাববাণী এবং মূল্যবান পরিপূর্ণতা I ভাববাদী সখরিয় দ্বারা প্রদত্ত মসীহর নামের ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে, এই ভাববাদীগণ ভাববাণী সমূহের এক প্রকৃতপক্ষে অদ্ভূত সমষ্টি তৈরী করেন যাতে করে যারা সকলে জানতে চায় তারা আল্লাহর উদঘাটিত পরিকল্পনাকে দেখতে পারে I 

কিন্তু যদি যাবুরের এই ভাববাণীগুলো এতটাই উল্লেখযোগ্য হয়, এবং সেগুলোকে যিহূদি পুস্তকে লেখা হয় – ইঞ্জিলে নয় – তবে যিহূদিরা ঈসাকে মসীহ রূপে কেন স্বীকার করে না? এটি তাদের বইয়ের মধ্যে রয়েছে! আমাদের মনে হয়, বিশেষত এই ধরণের মূল্যবান এবং উল্লেখযোগ্য পরিপূর্ণ ভাববাণীগুলোর সাথে,এটি স্পষ্ট হওয়া উচিত I এটি উপলব্ধির মধ্যে আছে কেন যিহূদিরা ঈসাকে মসীহ রূপে স্বীকার করে না যাতে আমরা ভাববাদীদের দ্বারা একজনের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী সম্বন্ধে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোকে জানি I এই প্রশ্নটিকে আমরা পরবর্তী নিবন্ধের মধ্যে দেখব

পল্লবের চিহ্ন: আসন্ন মসীহর নামকরণ

সুরাহ আল-আহ্জাব (সুরাহ 33 – সম্মিলিত শক্তি) এক সাধারণ মানবীয় পরিস্থিতির জন্য সমাধান প্রদান করে – কাউকে কি নামে ডাকা যায় যখন আমরা তাদের নাম জানি না I

 তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু

সুরাহ আল-আহ্জাব 33:5

এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানবীয় জ্ঞান সীমিত – আমরা প্রায়শই আমাদের চারিদিকের লোকেদের নাম জানি না I সুরাহ আন-নাজ্ম (সুরাহ 53-নক্ষত্র) ভাববাদী মহম্মদের পিবিইউএইচ সময়ে (লাট, ‘উজ্জা, এবং মানত) সাধারণ কিছু মূর্তিগুলোর সম্বন্ধে আলোচনা করে যা ঘোষণা করে:

 এগুলো কতগুলো নাম বৈ নয়, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব-পুরুষদের রেখেছ। এর সমর্থনে আল্লাহ কোন দলীল নাযিল করেননি। তারা অনুমান এবং প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে পথ নির্দেশ এসেছে।

সুরাহ আন-নাজ্ম 53:23

মিথ্যা দেবতাদের নামগুলোকে নিছক লোকেদের দ্বারা তৈরী করা হয়েছিল I এই আয়াতগুলো সত্যের থেকে মিথ্যার আরাধনাকে আলাদা করার জন্য একটি দিকনির্দেশিকা দেয় I যেহেতু মাঝে মাঝে আমাদের চারিপাশের নামগুলোকে আমরা এমনকি জানি না, মানুষেরা সেইহেতু অদুরভবিষ্যতে আসন্ন একজন ভাববাদীর নাম জানতে পারে না I যদি মসীহ নামটি সময়ের বহু আগে দেওয়া হয় তবে এটি একটি চিহ্ন হবে যে এটি আল্লাহর একটি সত্য পরিকল্পনা এবং মিথ্যা কিছুর থেকে নয় I আমরা এখানে দেখি ঈসা আল মসীহর নামটিকে কিভাবে ভাববাণী করা হয়েছিল I     

একটি নামের মধ্যে চিহ্ন

আমরা দেখেছি যে আল্লাহ এক আসন্ন রাজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন I এই রাজ্য মানবীয় রাজ্যের থাকে আলাদা হবে I আজকের খবরগুলো লক্ষ্য করুন এবং দেখুন মানবীয় রাজ্যে কি ঘটছে I লড়াই, দুর্নীতি, নিষ্ঠুরতা, হত্যা, বলবানের দ্বারা দুর্বলের উপরে শোষণ – এটি সমস্ত মানবীয় রাজ্যগুলোতে ঘটে তারা মুসলমান, খ্রীষ্টান, যিহূদি, বৌদ্ধ, হিন্দু বা ধর্ম নিরপেক্ষ পাশ্চাত্য যাই হোক না কেন I এই সমস্ত রাজ্যগুলোর সমস্যা হল যে তাদের মধ্যে আমরা যারা বসবাসকারী আমাদের কাছে একটি অস্থির তৃষ্ণা থাকে যেমনটি আমরা ভাববাদী যিরমিয়র (পিবইউএইচ) সাথে দেখেছি যেটি আমাদেরকে পাপ এবং এই সমস্যার অনেক গুলোর দিকে নিয়ে যায় তাদের বিভিন্ন বর্ননার মধ্যে (অর্থাৎ দুর্নীতি, হত্যা, যৌন নিগ্রহ ইত্যাদি) যেগুলোর পরিণাম হল পাপ I অতএব আসন্ন ঈশ্বরের রাজ্যকে পেছনে ধরে রাখার বৃহৎ কারণ হল আমরা নিজেরা I আল্লাহ যদি তার নতুন রাজ্য এখনই স্থাপন করতেন তবে আমদের মধ্যে কেউই এতে প্রবেশ করতে পারত না কারণ আমাদের পাপ সেই রাজ্যকে ধ্বংস করে দিত যতটা এটি আজকের রাজ্যকে ধ্বংস করছে I এছাড়াও যিরমিয় (পিবিইউএইচ) সেই দিনের ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যখন আল্লাহ এক নতুন নিয়ম স্থাপন করবেন I এই নিয়ম নতুন হবে কারণ এটিকে মশির ব্যবস্থার মতন পাথরের ফলকের পরিবর্তে আমাদের হৃদয়ে লেখা হবে I এটি আমাদেরকে এই রাজ্যের উপযুক্ত নাগরিক হতে ভেতরের থেকে বাইরে পরিবর্তন করবে I

এটি কিভাবে হতে যাচ্ছিল? আল্লাহর পরিকল্পনা একটি গুপ্ত সম্পদের মতন  ছিল I তবুও যাবুরের বার্তা সমূহের মধ্যে সূত্রগুলোকে দেওয়া হয়েছিল যাতে করে তারা যারা তার রাজ্যের খোঁজ করছিল বুঝতে পারত – কিন্তু বাকিরা যারা উৎসুক ছিল না তারা অজ্ঞ থাকত I আমরা এখন এই বার্তাগুলোর দিকে দেখব I পরিকল্পনাটি আসন্ন মসীহর (যা আমরা এখানে দেখেছি – মেসিয়াহ = ক্রাইষ্ট) উপরে কেন্দ্রীভূত ছিল I আমরা যাবুরের (রাজা দাবুদের দ্বারা অনুপ্রাণিত) গীতসংহিতার মধ্যে আগেই দেখেছি যে ভবিষ্যদ্বাণীর মসীহকে রাজা দাবুদের থেকে বংশের থেকে আসার কথা ছিল (পর্যালোচনা করতে এখানে দেখুন) I        

বৃক্ষ, গুঁড়ি, … এবং পল্লবের সম্বন্ধে ভাববাদী যিশাইয়  

.

ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএচ) প্রকাশ করলেন কিভাবে আল্লাহর পরিকল্পনা ঘটবে I যাবুরের মধ্যে যিশাইয়র বইটি দাবুদের রাজকীয় বংশের (প্রায় 1000 – 600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) সময়কালের মধ্যে লেখা হয়েছিল I যখন এটি লেখা হয়েছিল (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) বংশ এবং সমগ্র ইস্রায়েলীয় রাজ্য দুনীর্তিপূর্ণ ছিল – তাদের হৃদয়ের তৃষ্ণার জন্য I

When Isaiah lived

যাবুরের মধ্যে অন্য কতিপয় ভাববাদীদের সঙ্গে ভাববাদী যিশাইয়র ঐতিহাসিক (পিবিইউএচ) কালপঞ্জি

The dynasty of Dawud - like a Tree

দাবুদের বংশ – একটি বৃক্ষের মতন  

আল্লাহ এবং মশির ব্যবস্থার অভ্যাস ও আত্মার কাছে ফিরে আসতে ইস্রায়েলীয়দের জন্য একটি ক্ষমা প্রার্থনা লিখতে যিশাইয় (পিবিইউএচ) অনুপ্রাণিত হলেন I এছাড়াও যিশাইয় জানতেন যে এই অনুতাপ এবং প্রত্যাবর্তন ঘটবে না আর তাই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে ইস্রায়েলীয় জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং রাজকীয় বংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে I আমরা এখানে দেখলাম কিভাবে এটি ঘটল I তার ভাববাণীর মধ্যে তিনি তিনি একটি বৃহৎ বৃক্ষের ন্যায় বংশ হওয়ার একটি চিত্র ব্যবহার করলেন যাকে শীঘ্রই কেটে ফেলা হবে এবং কেবল একটি গুঁড়ি পড়ে থাকবে I এটি 600 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের আশেপাশে ঘটল যখন বাবিলোনিয়ানরা যিরূশালেমকে ধ্বংস করল এবং সেই সময় থেকে রাজা দায়ূদ/দাবুদের কোনো বংশধর কখনও যিরূশালেমে রাজত্ব করল না I     

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2013/02/david-stump-300x167.jpg

বৃক্ষটিকে – কেটে ফেলা হয়েছে

কিন্তু তার বইতে আসন্ন ধ্বংসের এই সমস্ত ভাববাণীগুলোর সাথে, এই বিশেষ বার্তাটি এল:  

  2 হে স্বর্গ ও মর্ত্য শোন! প্রভু কথা বলছেন| প্রভু বলেন,“আমি আমার সন্তানদের জন্ম দিয়েছি| তাদের লালনপালন করেছি| কিন্তু আমার সন্তানরাই আমার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে|

যিশাইয় 11:1-2
The dynasty of Dawud (PBUH)- now a shoot emerges from the dead stump

দাবুদের (পিবিইউএইচ) বংশ – এখন মৃত গুঁড়ির থেকে একটি অঙ্কুর বার হল

রাজা দায়ূদ/দাবুদের পিতা ছিলেন যিশয়, এবং এইরূপে তার বংশের মূল্ I অতএব ‘যিশয়ের গুঁড়ি’ দায়ূদ/দাবুদের থেকে উৎপন্ন রাজাদের আসন্ন ধ্বংসের একটি ভাববাণী ছিল I কিন্তু যিশাইয়, একজন ভাববাদী হয়ে, এছাড়াও এই সময়ে অতীতকে দেখলেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে যদিও গুঁড়িটি (রাজাদের বংশ) মৃত দেখাবে, এটি সম্পূর্ণরূপে সেরকম হবে না I তিনি ঘোষণা করলেন ভবিষ্যতে একদিন পল্লব হিসাবে পরিচিত, একটি অঙ্কুর, সেই একই গুঁড়ি থেকে বার হয়ে আসবে I এই শাখাটি একজন তাকে’ বলা হয় তাই যিশাইয় দায়ূদের বংশ থেকে উদ্ভূত একজন আসন্ন মানুষের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন I এই মানুষটির মধ্যে এমন ধরণের প্রজ্ঞার গুণ, পরাক্রম ও জ্ঞান থেকে থাকবে যা কেবলমাত্র ঈশ্বরের বিশেষ আত্মার থেকে তার উপরে স্থির হতে পারে I এখন মনে করুন আমরা কিভাবে দেখলাম যে মসীহকেও দায়ূদের বংশের থেকে আসার সম্বন্ধে ভাববাণী করা হয়েছিল – এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল I পল্লবটি  এবং মসীহ উভয়ই দায়ূদ/দাবুদের বংশ থেকে? একই আসন্ন ব্যক্তির জন্য কি এই দুটি শিরোনাম হতে পারে? আসুন যাবুরের মধ্য দিয়ে আমরা অনুসন্ধান করতে থাকি I       

ভাববাদী যিরমিয় … পল্লব সম্বন্ধে

যিশাইয়র পরে আসন্ন 150 বছর, যখন দায়ূদের বংশকে তার দৃষ্টির সামনে প্রকৃতপক্ষে কেটে ফেলা হচ্ছে তখন ভাববাদী যিরমিয় (পিবিইউএইচ), লিখলেন:

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/Jeremiah-timeline.jpg

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের সাথে কালপঞ্জির মধ্যে যিরমিয়কে দেখান হয়েছে

  5 প্রভু এই বার্তা বলেন, “সেই সময় আসছে যখন আমি একটি ভালো ‘নবোদগম’|উত্তোলন করব| সে বুদ্ধিমত্ত্বার সঙ্গে শাসন করবে এবং দেশে যা ন্যায্য এবং ঠিক তাই করবে| সে সুষ্ঠু ভাবে দেশ শাসন করবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে|
6 তার রাজত্বের সময়, যিহূদা রক্ষা পাবে এবং ইস্রায়েল নিরাপদে থাকবে| এই হবে তার নাম: প্রভুই আমাদের ধার্মিকতা|”

যিরমিয় 23:5-6

150 বছর পূর্বে ভাববাদী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) আরম্ভ করা পল্লবের ভাববাণী থেকে যিরমিয় (পিবিইউএচ) সরাসরিভাবে চলতে থাকেন I পল্লব একজন রাজা হবে I আমরা দেখলাম যে মসীহরও একজন রাজা হওয়ার কথা ছিল I মসীহ এবং পল্লবের মধ্যে সাদৃশ্য বৃদ্ধি পাছে I  

ভাববাদী সখরিয় … শাখার নাম সমূহ

ভাববাদী সখরিয় (পিবিইউএইচ) আমাদের জন্য এই বার্তাটিকে দিতে থাকেন I বাবিলে বহিষ্কারের থেকে যিহূদি লোকেদের য়িরুশালমে ফেরার ঠিক পরে কিন্তু যখন তারা পারস্যদের দ্বারা শাসিত হতেন সেই সময়ে 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে তিনি বাস করতেন I 

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2013/02/zechariah-in-timeline.jpg

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের সাথে সখরিয়কে কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে

এই সখরিয়র সঙ্গে যাহয়া/বাপ্তিস্ম দাতা যোহনের পিতা সখরিয়কে নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না I সখরিয়র 500 বছর পূর্বে ভাববাদী সখরিয় বাস করতেন এবং প্রকৃতপক্ষে এই সখরিয়র নামের উপরে সখরিয়র নামকরণ করা হয়েছিল, ঠিক যেমন আজকের দিনে মহম্মদ নামের অনেক লোক আছে এবং তাদেরকে ভাববাদী মহম্মদের – (পিবিইউএইচ) নামে এইভাবে নামকরণ করা হয় I সেইসময়ে (520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) যিহূদি লোকেরা তাদের বিনষ্ট মন্দিরের পুনর্নির্মাণ করতে এবং হারোণের (পিবিইউএইচ) বলিদান পুনরায় আরম্ভ করতে কার্য করছিল I হারোণের বংশধরকে যিনি ভাববাদী সখরিয়র সময়ে মহাযাজক ছিলেন (এবং কেবলমাত্র হারোণের একজন বংশধরই একজন মহাযাজক হতে পারতেন) যিহোশূয় বলা হত I সুতরাং সেই সময়ে (প্রায় 520 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) সখরিয় ভাববাদী ছিলেন এবং যিহোশূয় মহাযাজক ছিলেন I এখানে আল্লাহ – সখরিয়র মাধ্যমে – মহাযাজক যিহোশূয় সম্বন্ধে যা ঘোষণা করলেন:      

 ‘“হে যিহোশূয় মহাযাজক এবং তোমার সামনে উপবিষ্ট তোমার সখাগণও শোন, যে লোকাদের লক্ষণস্বরূপ জিনিস হয়ে আসার কথা আছে: আমি আমার দাস পল্লবকে আনতে যাচ্ছি I দেখ যিহোশূয়র সামনে আমি এক প্রস্তর স্থাপন করেছি!” … সদাপ্রভু সর্বশক্তিমান বলেন, “এবং আমি একদিনে সেই দেশের পাপ দূর করব”’

সখরিয় 3:8-9

পল্লব! আবার! কিন্তু এই সময়ে এছাড়া তাকে ‘আমার দাস’ বলে ডাকা  হয়েছে I মহা যাজক যিহোশূয় এইরূপে একটি চিহ্ন হয় I কিন্তু কি উপায়ে? আর সদাপ্রভুর দ্বারা (“আমি দূর করব…”) ‘এক দিনে’ পাপকে দূর করা হবে বলতে কি বোঝায়? আমরা সখরিয়র মধ্য দিয়ে চলতে থাকব এবং স্তম্ভিতকারী এমন কিছু শিখব I 

‘সদাপ্রভুর বাক্য আমার কাছে উপস্থিত হ’ল: “…মহা যাজক যিহোশূয় [সম্বন্ধে] I তাকে বল যে সদাপ্রভু সর্বশক্তিমান এই কথা বলেন, ‘এখানে সেই পুরুষ যার নাম হল পল্লব…”

সখরিয় 6:9-10

লক্ষ্য করুন যে যিহোশূয়, তার বিশেষ নামটি, পল্লবের নাম হয় I মনে করুন আমরা হিব্রু থেকে ইংরেজিতে অক্ষরীকরণ এবং অনুবাদ সম্পর্কে কি শিখেছি I আমরা এখানে পড়ি ‘যিহোশূয়’ কেননা আমরা একটি ইংরেজি অনুবাদ পড়ি I কিন্তু হিব্রুতে মূল নামটি কি? নিচের চিত্রটি আমাদের বলে I

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2013/02/translation-of-Joshua.jpg

যিহোশূয় = যীশু কারণ উভয়ই একই হিব্রু নামের থেকে অক্ষরীকরণ  

চতুর্থাংশ 1 -> 3 গিয়ে (যেমন আমরা শিরোনাম ‘মেসিয়াহ’ বা ‘মসীহ’ কোথা থেকে এসেছে তা বোঝার ক্ষেত্রে করেছিলাম) আমরা দেখি যে ‘যিহোশূয়’ নামটিকে হিব্রু নাম ‘যোহোশুয়া’ থেকে ‘অক্ষরীকরণ করা হয়েছে I যখন পুরনো নিয়মকে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় তখন এই নামটিকে ‘যিহোশূয়’ তে অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল I এছাড়াও Q/যাবুরকে 250 খ্রীষ্টপুরাব্দের আশেপাশে গ্রীকে অনুবাদ করা হয়েছিল I এটি চতুর্থাংশ 1 -> 2 I এই অনুবাদকরাও ‘যোহোশুয়া’ হিব্রু নামটিকে অক্ষরীকরণ করেছিলেন যখন তারা পুরনো নিয়মকে গ্রীকে অনুবাদ করেছিলেন I তাদের গ্রীক অক্ষরীকরণ ছিল যেসআস I এইরূপে হিব্রু পুরনো নিয়মের ‘যোহোশুয়া’ কে গ্রীকের মধ্যে যেসআস বলা হ’ল I যখন গ্রীক নতুন নিয়মকে ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয় তখন যেসআস নামটিকে ‘যেসাস’ তে অক্ষরীকরণ করা হ’ল I অন্য কথায়, ঠিক যেমন মসীহ=মেসিয়াহ=অভিষিক্ত ব্যক্তি,  

 ‘যোহোশুয়া’ = যেসআস = যিহোশূয় = যেসাস (=ঈসা)

সেই একই ভাবে মোহম্মদ নামটি = محمد, যিহোশূয় = যেসাস I যা আশ্চর্যজনক, যা প্রত্যেকের জানার দরকার, তা হল ঈসা আল মসীহর 500 বছর পূর্বে, ইঞ্জিলের ভাববাদী যখন বাস করতেন, তখন এটিকে ভাববাদী সখরিয়র দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যে পল্লবের নামটি হবে যেসাস (বা ঈসা – আরবী ভাষার থেকে অক্ষরীকরণ) যেসাস (বা ঈসা) হচ্ছে পল্লব! পল্লব এবং মসীহ (বা ক্রাইষ্ট) একই ব্যক্তির জন্য দুটি শিরোনাম! কিন্তু কেন তার দুটি শিরোনামের প্রয়োজন হবে? উনি কি করতে যাচ্ছিলেন যা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল? যাবুরের ভাববাদীগণ এখন আরও অধিক বিস্তৃতভাবে ব্যখ্যা করেন – আমাদের পরবর্তী নিবন্ধে

নতুন নিয়মের চিহ্ন

পূর্ববর্তী নিবন্ধের মধ্যে ভাববাদী যিরমিয়ের (পিবিইউএইচ) থেকে আমরা দেখলাম যে পাপ, অন্য জিনিসগুলোর মধ্যে, আমাদের তৃষ্ণার একটি চিহ্ন I যদিও আমরা জানি পাপপূর্ণ জিনিসগুলো অন্যায় এবং অত্যন্ত লজ্জার দিকে নিয়ে যাবে, আমাদের তৃষ্ণা তবুও আমাদেরকে পাপের দিকে চালিত করে I ভাববাদী যিরমিয় (পিবিইউএইচ) ইস্রায়েলীয় রাজাদের শেষ সময় কালে বাস করতেন – আল্লাহর বিচারের ঠিক পূর্বে – এমন একটা সময়ে যখন পাপ ছিল প্রচুর I

ভাববাদী যিরমিয়র সময়ে (600 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ – পিবিইউএইচ) মশির দ্বারা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রায় এক সহস্র বছর পরে, ইস্রায়েলীয়দের জীবন সমূহ উন্মোচিত হ’ল I তারা ব্যবস্থা পালন করল না এবং এইরূপে এক জাতি রূপে বিচারিত হতে যাচ্ছিল I আল্লাহ এবং তৃষ্ণার্ত লোক উভয়ের কাছে ধর্ম এক  নিরাশায় প্রমাণিত হ’ল I যদিও বিচারের বার্তাবাহক ভাববাদী যিরমিয়ের (পিবিইউএইচ) কাছেও কিছুর সম্বন্ধে একটি বার্তা ছিল…ভবিষ্যতের কোনো দিনের জন্য … কি ছিল এটা?    

  31 প্রভু এই কথাগুলি বলেছেন: “সময় আসছে যখন আমি নতুন একটি চুক্তি করব যিহূদা ও ইস্রায়েলের পরিবারের সঙ্গে|
32 আমি তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে য়ে চুক্তি করেছিলাম এটা সেরকম নয়| তাদের মিশর থেকে বাইরে নিয়ে আসার সময় আমি ঐ চুক্তি করেছিলাম| আমি ছিলাম তাদের প্রভু, কিন্তু তারা সেই চুক্তি ভেঙে ফেলেছিল|” এই হল প্রভুর বার্তা|
33 “ভবিষ্যতে, আমি এই বন্দোবস্ত ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে করব|” এটি হল প্রভুর বার্তা| আমি আমার শিক্ষামালা তাদের মনে গেঁথে দেব এবং তাদের হৃদয়ে লিখে দেব| আমি হব তাদের ঈশ্বর আর তারা হবে আমার লোক|”
34 “লোকদের তাদের প্রতিবেশীদের অথবা তাদের আত্মীযদের প্রভুকে জানতে শেখাবার কোন প্রয়োজন পড়বে না| কারণ ক্ষুদ্রতম থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্য়ন্ত সব লোকরা আমায় জানবে| আমি তাদের দুষ্ট কাজগুলি ক্ষমা করে দেব এবং তাদের পাপসমূহ মনে রাখব না|” এই হল প্রভুর বার্তা|

যিরমিয় 31:31-34

প্রথম নিয়ম – ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা দেওয়া ব্যবস্থা – একটি ব্যর্থতা ছিল এই কারণে নয় যে ব্যবস্থা ভাল ছিল না I না মশির ব্যবস্থা ছিল (এবং এখনও আছে) অত্যন্ত ভাল I কিন্তু সমস্যা ছিল যে ব্যবস্থাকে কেবলমাত্র পাথরের ফলকে লেখা হয়েছিল I তাদের হৃদয়ে তৃষ্ণা নিয়ে লোকেরা ব্যবস্থাকে মান্য করতে অক্ষম ছিল I ব্যবস্থায় যা লেখা হয়েছিল তা নিয়ে সমস্যা ছিল না, বরং তা নিয়ে ছিল যে কোথায় এটাকে লেখা হয়েছিল I ব্যবস্থাকে লোকেদের হৃদয়ে লেখার প্রয়োজন ছিল পাথরের ফলকে নয়, যাতে করে  লোকেরা এটাকে অনুসরণ করত I ব্যবস্থাকে লোকেদের ভেতরে লেখার প্রয়োজন ছিল, যাতে এটাকে মান্য করতে তাদের মধ্যে ক্ষমতা থাকত I    

কিন্তু যিহূদি ছিল বলে কি তারা ব্যবস্থা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছিল? অনেক লোকেরা, নানাবিধ কারণের জন্য, তাদের ব্যর্থতা সমূহের জন্য যিহূদিদের দ্রুত দোষারোপ করে I তবে এই মুহুর্তে প্রথমে আমাদের নিজেদেরকে পরীক্ষা করা আমাদের ভাল করবে I যাই হোক না কেন, বিচারের দিনে আল্লাহর সামনে কেবল আমাদেরকে আমাদের ব্যর্থতা এবং সফলতার জন্য উত্তর দিতে হবে, অন্য লোকেদের সম্বন্ধে আমাদের চিন্তিত হতে হবে না I আপনার জীবনের পর্যালোচনা করার সাথে সাথে আপনি কি অনুভব করেন যে আপনি ব্যবস্থা পালন করেন – এটাকে কি আপনার হৃদয়ে লেখা হয়েছে যাতে আপনার মধ্যে মান্য করার ক্ষমতা আছে? যদি আপনি অনুভব করেন প্রয়োজন অনুসারে আপনি ব্যবস্থা পালন করছেন তবে আপনি আপনার কার্য সমূহকে ভাববাদী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) শিক্ষার আলোয় বিবেচনা করতে চাইতে পারেন I অথবা আপনার জন্য এটা যিরমিয়র সময়ে ইস্রায়েলীয়দের জন্য থাকার মতন – যে ব্যবস্তা ভাল – কিন্তু আপনাকে মান্য করতে ক্ষমতা দেওয়া ছাড়াই এটিকে কেবল পাথরের ফলকের উপরে লেখা হয়েছে I ভাববাদী মশির (পিবিইউএইচ) থেকে শেখা মানদণ্ডকে মনে রাখবেন I অধিকাংশ ব্যবস্থাকে প্রায়শই মেনে চলা যথেষ্ট নয় I আমাদের এর সমস্তগুলোকে অবশ্যই সর্বদা মানতে হবে I      

আপনি যদি কোনওভাবে ব্যবস্থার ঘাটতি সম্বন্ধে নিজেকে বিচার করেন, আপনি যদি আপনার কিছু কার্যকলাপ নিয়ে লজ্জা অনুভব করেন, তবে মনোযোগ দিন I আল্লাহ, তার দয়ায়, উপরোক্ত বার্তার মধ্যে একটি নতুন নিয়মের আর একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন – যা ভাববাদী যিরমিয়র (পিবিউএইচ) থেকে ভবিষ্যতে এক দিন আসবে I এই নিয়মটি আলাদা হবে কারণ এর আদেশ অনুযায়ী বেঁচে থাকতে তাদেরকে ক্ষমতা প্রদান করতে, এই নতুন নিয়মের লোকেদের ‘অন্তরে’ প্রয়োজনীয়তাগুলো লেখা হবে I       

কিন্তু লক্ষ্য করুন যে এই নতুন নিয়ম ‘ইস্রায়েল কুলের’ জন্য মনে হয় – যিহূদিদের জন্য I কিভাবে আমরা সেটা বুঝতে পারি? দেখে মনে হয় যে যিহূদি লোকেদের কাছে কোনো সময় অত্যন্ত খারাপ এবং কোনো সময় অত্যন্ত ভালো পরিস্থিতি ছিল I এখানে যাবুরের অন্য একজন মহান ভাববাদী, যিশাইয়র  (যিনি একজন কুমারীর থেকে মশির আগমনের সম্বন্ধে ঘোষণা করেছিলেন –পিবিইউএচ) কাছে আর একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যা যিরমিয়র (পিবিইউএইচ) আর একটি ভাববাণীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে I এই দুজন ভাববাদী, যদিও তারা 150 বছরের ব্যবধানে বসবাস করতেন (যেরকম আপনি নিচের কালপঞ্জিতে দেখতে পারেন) এবং এইরূপে একে অপরকে জানতেন না, আল্লাহর দ্বারা বার্তাগুলোকে দেওয়া হয়েছিল যাতে একে অপরের পরিপূরক হয় যাতে আমরা জানতে পারি যে বার্তাগুলো আল্লাহর থেকে উৎপত্তি হয়েছিল I     

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/Jeremiah-timeline.jpg

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীর সঙ্গে ভাববাদী যিরমিয়কে কালপঞ্জিতে দেখানো হয়েছে

এছাড়াও যিশাইয়, ভবিষ্যতের দিকে দেখছিলেন, একজন আসন্ন দাসের সম্বন্ধে বললেন I তিনি যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন সেটি এখানে রয়েছে  

  5 প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
6 “তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”

যিশাইয় 49:5-6

অন্য কথায়, এই আসন্ন দাস ঈশ্বরের পরিত্রাণকে যিহূদি লোকেদের থেকে পরজাতিদের (অর্থাৎ অ-যিহূদি) কাছে প্রসারিত করবে যাতে করে পরিত্রাণ পৃথিবীর শেষ সীমা পর্যন্ত অগ্রসর হবে I কে ছিল আসন্ন দাস? কিভাবে তিনি এই কার্যটি করবেন? আর কিভাবে পাথরের পরিবর্তে আমাদের হৃদয়ে লিখিত একট নতুন নিয়মের সম্বন্ধে যিরমিয়র ভবিষ্যদ্বাণী পরিপূর্ণ হবে? যাবুরের ভাববাণীগুলোর মধ্যে আমরা ক্রমাগত দেখতে থাকব I  

আমাদের তৃষ্ণার চিহ্ন

আমরা ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসের মধ্যে দেখলাম যে যদিও তাদের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছিল তবুও বাইবেলের (আল কিতাব) মধ্য দিয়ে তাদের ইতিহাস মূলতঃ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অমান্যতা এবং পাপের ছিল I যাবুরের পরিচিতির মধ্যে আমি উল্লেখ করেছি যে দাবুদ এবং সুলেমানের (পিবিইউটি) পরবর্তী অধিকাংশ রাজাগণ এই ধর্মীয় রাজাদের শারীরিক বংশধর হওয়া স্বত্তেও মন্দ ছিল I তাই আল্লাহ তাদের সাবধান করতে যাবুরের অনেক ভাববাদীদের পাঠালেন I      

যিরমিয় – সাবধানবাণীর ভাববাদী

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/Jeremiah-timeline.jpg

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের সঙ্গে ভাববাদী যিরমিয়কে কালপঞ্জিতে দেখানো হয়েছে 

ভাববাদী যিরমিয় (পিবিইউএইচ – ভাববাদীদের কালপঞ্জির মধ্যে তাকে দেখুন) রাজাদের সময়কালের শেষভাগে বাস করতেন, যখন পাপ এবং মন্দতা খুব বেশি ছিল I যে পাপগুলোকে তিনি তালিকাভুক্ত করেন সেগুলো আজকের দিনেও অত্যন্ত সাধারণ: ব্যভিচার, মাতলামি, যৌন অনৈতিকতা, মুর্তিপুজা, যাদুটোনা, দুর্নীতি, লড়াই, হিংসা, অসততা, দরিদ্রদের উপরে ধনীদের শোষণ ইত্যাদি I কিন্তু যিরমিয় তাদের পাপ এবং তাদের পাপ সমূহের অনেক সমষ্টিগুলোর এক সংক্ষিপ্তসার করে কেবলমাত্র দুটি দিয়ে তার বইটি আরম্ভ করেন:  

13 “আমার দেশের লোকরা দুটি ভুল কাজ করেছে| প্রথমতঃ যদিও আমি একটি জীবন্ত জলের ঝর্ণা তবু তারা আমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছে| আমিই জলের অস্তিত্ব| দ্বিতীয়তঃ তারা নিজেদের জন্য কূপ খনন করেছে| (তারা ভিন্ন দেবতার উপর আস্থা রেখেছে|) কিন্তু সেগুলি ভাঙ্গা কূপ| জলাধার হতে পারে না|

যিরমিয়2:13

ভাববাদী যিরমিয় পাপকে ভালভাবে বুঝতে আমাদের সাহায্য করতে একটি রূপক ব্যবহার করেন I আল্লাহ (ভাববাদীর মাধ্যমে) বলছেন যে তারা তৃষ্ণার্ত লোক ছিল I তৃষ্ণার্ত হওয়া কোনো অন্যায় ছিল না – বরং তাদের উত্তম জল   থেকে পান করার প্রয়োজনীয় ছিল I আল্লাহ স্বয়ং উত্তম জল ছিলেন যা তাদের তৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করতে পারত I যদিও, তাদের তৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করতে তার কাছে আসার পরিবর্তে, ইস্রায়েলীয়রা, অন্য জলাধারের কাছে (অর্থাৎ জলের পাত্রসমূহ) গেল, কিন্তু সেই জলাধারগুলোতে ছিদ্র ছিল আর তাই প্রকৃতপক্ষে কোনো জল ধরে রাখতে পারল না I অন্য কথায়, তাদের পাপ, এর অনেক  রূপের মধ্যে, তাদের তৃষ্ণাকে পরিপূর্ণ করতে আল্লাহকে ছাড়া অন্যান্য জিনিসগুলোর প্রতি মুখ ফেরানো রূপে সংক্ষিপ্তসার করা যেতে পারে – যদিও এই অন্যান্য জিনিসগুলো তাদের তৃষ্ণাকে নিবারণ করতে পারল না I পরিশেষে তাদের পাপকে অনুসরণ করার পরে, ইস্রায়েলীয়রা তখনও তৃষ্ণার্ত ছিল, কিন্তু এখন আল্লাহ ব্যতীত, কেবল তাদের ভগ্ন জলের পাত্রকে ধরে রাখে – অর্থাৎ, তাদের পাপ সমূহের দ্বারা উদ্ভূত সমস্ত সমস্যা এবং অসুবিধগুলোকে I

সুলেমানের প্রজ্ঞা আমাদের ‘ভগ্ন জলাধার’ কে প্রকাশিত করে

বাস্তবিকরূপে, এটি সুলেমানের (পিবিইউএইচ) দ্বারাও অভিজ্ঞতালব্ধ এবং ব্যাখ্যা করা হয়েছিল I আল্লাহর দয়ার কাছে সমর্পনের মাধ্যমে আমি প্রজ্ঞা পেয়েছি সুলেমানের এই লেখার মধ্যে আমি যেমন বর্ননা করেছি তা আমার উপরে গভীর প্রভাব ফেলেছিল I তিনি তার জীবনকে এমন একজন রূপে বর্ণনা করলেন যেখানে তিনি যা চাইতেন তা পেতে পারতেন, কিন্তু পরিশেষে তিনি তখনও ‘তৃষ্ণার্ত’ ছিলেন I এখানে এইভাবে তিনি তার প্রচেষ্টাগুলোকে ‘ভগ্ন জলাধার’ সমূহের থেকে জল পান করার সাথে বর্ণনা করেন যেগুলো আমাদের চারিপাশে উপলব্ধ হয় I     

আমি, জেরুজালেমে ইস্রায়েলের রাজা ছিল। আমি স্বর্গের অধীনে যা কিছু করা হয় তা অধ্যয়ন করার জন্য এবং প্রজ্ঞার দ্বারা অন্বেষণ করার জন্য নিজেকে নিবেদিত করেছি… আমি সূর্যের নীচে যা কিছু করা হয় তা আমি দেখেছি; এঁরা সকলেই অর্থহীন, বাতাসের পশ্চাদ্ধাবন।

আমি মনে মনে ভাবলাম, “দেখ, আমার আগে যিরূশালেমের উপরে যে রাজত্ব করেছে তার চেয়ে আমি জ্ঞান বৃদ্ধি করেছি এবং বুদ্ধি বাড়িয়েছি; আমি অনেক জ্ঞান এবং জ্ঞান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ” তারপরে আমি নিজেকে জ্ঞানের বোধগম্যতা এবং পাগলামি ও মূর্খতার জন্য প্রয়োগ করেছি, কিন্তু আমি শিখেছি যে এটিও বাতাসের পিছনে তাড়া করছে।

আমি মনে মনে ভাবলাম, “এখন এসো, ভাল কি তা খুঁজে বের করার জন্য আমি তোমাকে পরিতোষ দিয়ে পরীক্ষা করব।” তবে তা অর্থহীনও প্রমাণিত হয়েছিল। “হাসি,” আমি বলেছিলাম, “বোকা। এবং আনন্দ কী অর্জন করে? ” আমি নিজেকে মদ দিয়ে উত্সাহিত করার চেষ্টা করেছি এবং মূর্খতার সাথে আলিঙ্গন করেছি — আমার মন এখনও আমাকে প্রজ্ঞার দ্বারা পরিচালিত করে। আমি দেখতে চেয়েছিলাম যে পুরুষরা তাদের জীবনের কয়েক দিনের মধ্যে স্বর্গের নীচে কী করণীয় ছিল।

আমি দুর্দান্ত প্রকল্প গ্রহণ করেছি: আমি নিজের জন্য ঘর তৈরি করেছি এবং দ্রাক্ষাক্ষেত্র লাগিয়েছি। আমি বাগান ও পার্ক তৈরি করেছি এবং সেগুলিতে সব ধরণের ফলের গাছ লাগিয়েছি। আমি পুষ্পিত গাছের জলের গ্রোভগুলিতে জলাধার তৈরি করেছি। আমি পুরুষ ও মহিলা দাসদের কিনেছিলাম এবং আমার ঘরে জন্মগ্রহণকারী অন্যান্য দাস ছিল। আমার আগে যিরূশালেমের কারও চেয়ে আমার আরও বেশি পশুপাল এবং পালের মালিক ছিল। আমি নিজের জন্য রৌপ্য ও স্বর্ণ এবং রাজাদের ও প্রদেশের ধন সংগ্রহ করেছি। আমি পুরুষ ও মহিলা গায়ক এবং একটি হারেমও অর্জন করেছি man মানুষের হৃদয়ের আনন্দ। আমার আগে যিরূশালেমের কারও চেয়ে আমি বড় হয়েছি। এই সমস্ত মধ্যে আমার জ্ঞান আমার সাথে ছিল।

আমি আমার চোখের ইচ্ছাকে কিছুই অস্বীকার করি নি; আমি আমার হৃদয় খুশি অস্বীকার। আমার হৃদয় আমার সমস্ত কাজে আনন্দিত হয়েছিল, এবং এটি ছিল আমার সমস্ত পরিশ্রমের প্রতিদান। তবুও যখন আমি আমার হাতে যা কিছু করেছি এবং যা অর্জন করার জন্য আমি পরিশ্রম করেছি সেগুলি জরিপ করেছিলাম, তখন সমস্ত কিছুই অর্থহীন ছিল, বাতাসের পিছনে তাড়া করা হয়েছিল; কিছুই অর্জন করা হয়নি।

উপদেশক 1-2

সুলেমানের প্রজ্ঞা এবং যিরমিয়র সাবধানবাণী আমাদের আজকের দিনের জন্য লেখা হয়েছিল I এটি বিশেষত এই কারণে আমরা পূর্ববর্তী প্রজন্ম সমূহের চেয়ে অধিকতর সম্পদ, বিনোদন, চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ইত্যাদি সহকারে একটি যুগের মধ্যে বাস করছি I আমাদের আধুনিক সমাজ যতদূর সম্ভব ধনবান, সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষা, অধিকতম ভ্রমণ, চিত্তবিনোদন, সুখ-চালিত, এবং প্রযুক্তিগতভাবে যে কোনো যুগের চেয়ে উন্নত I তাই আমরা এই সব জিনিসগুলোর প্রতি – এবং আমাদের যুগে আসা অন্য জিনিসগুলোর প্রতি সহজেই ফিরতে পারি: অশ্লীল সামগ্রী, অবৈধ সম্পর্ক সমূহ, মাদক দ্রব্য, মদ্য, লোভ, অর্থ, ক্রোধ, ঈর্ষা – আশা করি যে এগুলো হয়ত আমাদের তৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করবে I সমস্ত ভাববাদীদের ব্যবস্থা থেকে আমরা জানি যে এই জিনিসগুলো অন্যায়, তবুও আমরা ভাবি যে সেগুলো আমাদের হৃদয়ের তৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করবে তাই আমরা তাদের জন্য আকুল হই I সুলেমানের সময়ে, যিরমিয়ের সময়ে, অন্য ভাববাদীদের সময়ে, এবং এছাড়া আমাদের সময়েও এটি সত্য I   

যিরমিয় এবং সুলেমানের সাবধানবাণী আল্লাহর দ্বারা পাঠানো হয় যা আমাদের নিজেদেরকে কিছু সৎ প্রশ্ন সমূহ করতে বাধ্য করে I

  • আজকের আধুনিক যুগে কেন আমরা নিরাশা, আত্মহত্যা, স্থূলতা, বিবাহ বিচ্ছেদ ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, ঘৃণা, অশ্লীল সামগ্রী, আসক্তি সমূহ নিয়ে এত বেশি সংঘর্ষ করি I 
  • আপনার তৃষ্ণা নিবারণ করতে কোন ‘জলাধার’ আপনি ব্যবহার করেন? তারা কি ‘জল’ ধারণ করে? 
  • আপনি কি মনে করেন যে আপনি কখনও সুলেমানের মতন প্রজ্ঞা, প্রেম, ধন সংসাধন পাবেন? তিনি যদি তার কৃতিত্বের সাথে পরিতৃপ্ত না হয়ে থাকেন, তবে আপনি কি মনে করেন যে আপনি এই জিনিসগুলোরমাধ্যমে আপনার তৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করতে পারেন?

আজ্ঞা সমূহকে পালন না করা হ’ল পাপ, কিন্তু এটি এছাড়াও অন্য কিছু – এমন কিছু যার দিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত I এটি আমাদের তৃষ্ণার একটি চিহ্ন I একবার যখন আমরা এই তৃষ্ণাকে চিনতে পারি এটি কিসের জন্য আমরা তখন কিছু প্রজ্ঞা লাভ করে থাকি I আল্লাহ এটিকে যাবুরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন কারণ আমাদের তৃষ্ণা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ সচেতন – আর তিনি চান আমরাও যেন এটির বিষয়ে সচেতন হই I কারণ তিনি আমাদের তৃষ্ণা নিবারণ করবেন – তিনি করতে চান I এবং তিনি তার চিরাচরিত উপায়ে আরম্ভ করেন – একটি বিশেষ ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে – এবং পুনরায় যিরমিয়র মাধ্যমে I আমরা এটিকে পরবর্তী পোস্টে দেখব I

ঈসার ‘মসীহ’ এবং যীশুর ‘খ্রীষ্ট’ কোথা থেকে আসে

কোরান ‘আল মসীহ’ রূপে ঈসার (যীশু – পিবিইউএইচ) উল্লেখ করে I এর অর্থ কি? এটি কোথা থেকে আসে? খ্রীষ্টানরা কেন তাকে ‘খ্রীষ্ট’ বলে উল্লেখ করে? ‘মসীহ’ কি সেই একই ‘খ্রীষ্ট’ বা কোনো অসঙ্গতি অথবা বিকৃতি আছে? যাবুর (গীতসংহিতা) এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয় I যাইহোক, এই নিবন্ধটিকে বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমে ‘বাইবেল কিভাবে অনুবাদিত হয়েছিল?’ নিবন্ধটিকে পড়তে হবে যেহেতু এই তথ্যটিকে এখানে ব্যবহার করা হবে I  

 ‘খ্রীষ্টের’ উৎপত্তি 

যেমনভাবে ‘বাইবেল কিভাবে অনুবাদিত হয়েছে? বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে ঠিক সেইভাবে নিচের চিত্রে আমি অনুবাদের প্রক্রিয়াকে অনুসরণ করেছি, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে ‘খ্রীষ্ট’ শব্দটির উপরে ফোকাস করে যাকে ইঞ্জিল বা নতুন নিয়মে ব্যবহার করা হয়েছে I

Translation flow of word 'Christ' from Hebrew to modern-day

হিব্রু থেকে নিয়ে আধুনিক সময় পর্যন্ত ‘খ্রীষ্ট’ শব্দের অনুবাদ প্রবাহ

যাবুরের মূল হিব্রুর মধ্যে আপনি দেখতে পারেন যে (#1 চতুর্থাংশের মধ্যে) পরিভাষাটি ছিল ‘মাশিয়াক’ যাকে হিব্রু অভিধান একজন ‘অভিষিক্ত বা উৎসর্গীকৃত’ ব্যক্তি বলে সজ্ঞায়িত করে I যাবুরের (গীতসংহিতা) কিছু অধ্যায় একজন নির্দিষ্ট মাশিয়াকের (এক নির্দিষ্ট আর্টিকেল ‘দি’ সহ) সম্বন্ধে কথা বলে যার আসার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I 250 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে সেপ্টুজিয়ান্ট যখন উন্নত হ’ল (দেখুন বাইবেল কিভাবে অনুবাদিত হয়েছিল), পণ্ডিতগণ হিব্রু মাশিয়াকের জন্য গ্রীকের মধ্যে একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন যার অনুরূপ অর্থ ছিল – Χριστός – খ্রীস্তোস – যেটি খ্রিও থেকে এসেছিল, যার মানে ছিল তৈলের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘর্ষণ I সুতরাং এই নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উল্লেখ করতে খ্রীস্তোস শব্দটিকে হিব্রু ‘মাশিয়াক’ থেকে গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্টে অর্থ প্রকাশের দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছিল (এবং অক্ষরীকরণ ধ্বনির দ্বারা নয়) I এটি চতুর্থাংশ #2 I ঈসার (যীশু – পিবিইউএইচ) শিষ্যরা বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনিই এই বিশেষ ব্যক্তি ছিলেন যার সম্বন্ধে সেপ্টুজিয়ান্টে বলা হয়েছিল যাতে তারা খ্রীস্তোস পরিভাষাটিকে ইঞ্জিলের মধ্যে (বা নতুন নিয়মে) ব্যবহার করতে থাকলেন I (পুনরায় চতুর্থাংশ #2 এর মধ্যে)         

কিন্তু আধনিক যুগের ভাষার সাথে ‘খ্রীস্তোস’ কে পরে গ্রীক থেকে ইংরেজীতে (এবং অন্যান্য আধুনিক ভাষায়) ‘খ্রীষ্ট’ রূপে অক্ষরীকরণ করা হ’ল I এটি #3 লেবেল করা চিত্রটির নিচের অর্ধেক I এইরূপে ইংরেজি ‘ক্রাইষ্ট’ যাবুরের গীতসংহিতা থেকে একটি বিশেষ নির্দিষ্ট শিরোনাম হয়, অনুবাদের দ্বারা হিব্রু থেকে গ্রীকে উদ্ভূত হয়েছে এবং পরে গ্রীক থেকে ইংরেজিতে অক্ষরীকরণ করা হয়েছে I হিব্রু যাবুরকে সরাসরিভাবে আধুনিক ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে এবং অনুবাদকরা মূল হিব্রু ‘মাশিয়াক’ কে ভাষান্তরিত করতে বিভিন্ন শব্দ সমুহের ব্যবহার করেছেন I কেউ কেউ (কিং জেমসের মতন) হিব্রু ‘মাশিয়াক’ কে ইংরেজী শব্দ মেসিয়াহ তে ধ্বনির দ্বারা অক্ষরীকরণ করেছেন I অন্যরা (নিউ ইন্টারন্যাশনালের মতন) ‘মাশিয়াক’ কে এর অর্থের দ্বারা অনুবাদ করেছেন আর তাই গীতসংহিতার (বা যাবুরের) এই নির্দিষ্ট অধ্যায়গুলোর মধ্যে ‘অভিষিক্ত ব্যক্তিকে’ পেয়েছেন I যে কোনো একটির ক্ষেত্রে ইংরেজী শাল্মের মধ্যে আমরা প্রায়শই ‘ক্রাইষ্ট’ শব্দটিকে দেখতে পাই না আর তাই পুরনো নিয়মের ক্ষেত্রে এই সংযোগটি সুস্পষ্ট নয় I কিন্তু এই বিশ্লেষণ থেকে আমরা বাইবেলের (বা আল কিতাব) মধ্যে সেটিকে জানি I         

 ‘ক্রাইষ্ট’ = ‘মেসিয়াহ’ = ‘অভিষিক্ত ব্যক্তি’ 

আর তাই এটি একটি নির্দিষ্ট শিরোনাম ছিল I

সুতরাং কোরানের মধ্যে ‘মসীহ’ কোথা থেকে আসে?

আমরা এখন দেখেছি ‘ক্রাইষ্ট’ = ‘মেসিয়াহ’ = ‘অভিষিক্ত ব্যক্তি’ যেগুলো সমতুল্য শিরোনাম সমূহ যাকে আপনি বাইবেলের (আল কিতাব) বিভিন্ন অংশে দেখতে পান I কিন্তু কোরানে ‘ক্রাইষ্ট’ কিভাবে উল্লিখিত হ’ল সেই সম্বন্ধে কি? উত্তর দিতে আমি উপরোক্ত চিত্র থেকে আগেই দেখব যা বাইবেলের মধ্যে মাসিয়াক->ক্রাইষ্ট এর প্রবাহকে দেখিয়েছে I    

নিচের চিত্রটি আরবীয় কোরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রক্রিয়াটি প্রসারিত করে যেটিকে বাইবেলের (আল কিতাব) হিব্রু এবং গ্রীক অনুবাদগুলোর পরে লেখা হয়েছিল I আপনি দেখতে পারেন যে আমি চতুর্থাংশ #1 কে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি I উপরে বিবৃত হিব্রু যাবুরের মধ্যে মূল ‘মাসিযাক’ এর সাথে পূর্বের আলোচনার সঙ্গে 1a অংশটি একই সমান I 1b অংশটি এখন আরবী ভাষার  মধ্যে এই পরিভাষাটিকে অনুসরণ করে I আপনি দেখতে পারেন যে ‘মসিযাক’হ পরিভাষাটিকে কোরানের মধ্যে (যেমন مسيح) অক্ষরীকরণ করা হয়েছিল (অর্থাৎ অনুরূপ ধ্বনির দ্বারা) I পরে, যখন কোরানের আরবী ভাষাভাষী পাঠকরা শব্দটিকে ইংরেজিতে ভাষান্তরিত করল তখন তারা পুনরায় এটিকে ‘মসীহ’ রূপে অক্ষরীকরণ করল I       

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/12/translation-of-messiah-and-masih.jpg

অনুবাদের প্রক্রিয়া দেখাচ্ছে ‘অভিষিক্ত বাক্তি’ = ‘মসীহ’ = ‘মেসিয়া’ = ‘ক্রাইস্ট’

এই পটভূমির জ্ঞানের সাহায্যে আমরা দেখতে পারি যে তারা সকলে একই রকমের শিরোনাম এবং সমস্তগুলোর অর্থ একই ভাবে সমান বিষয় যেমন  “4= ‘ফোর’ (ইংরেজী) = ‘কোয়াত্র’ (ফরাসি) = IV (রোমীয় সংখ্যা) = 6-2 = 2+2

প্রথম শতাব্দিতে খ্রীষ্টের প্রতীক্ষা

এই জ্ঞানের সাহায্যে সুসমাচার (ইঞ্জিল) থেকে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ করা যাক I নিচে রাজা হেরোদের প্রতিক্রিয়ার অংশ রয়েছে, যখন জ্ঞানী ব্যক্তিরা প্রাচ্য থেকে যিহূদিদের রাজার খোঁজ করতে এলেন, ঈসার জন্মের কাহিনীর  (যীশু – পিবিউএইচ) একটি সুপরিচিত অংশ I ক্রাইষ্ট এর পূর্বে থাকা ‘দি’ কে লক্ষ্য করুন, এমনকি যদিও এটি নির্দিষ্টভাবে ঈসা (যীশু – পিবিইউএইচ) কে উল্লেখ করছে না I

  3 রাজা হেরোদ একথা শুনে খুব বিচলিত হলেন এবং তাঁর সঙ্গে জেরুশালেমের সব লোক বিচলিত হল৷
4 তখন তিনি ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা প্রধান যাজক ও ব্যবস্থার শিক্ষক ছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, মশীহ (খ্রীষ্ট) কোথায় জন্মগ্রহণ করবেন?

মথি 2:3-4

আপনি দেখতে পারেন যে ‘দি ক্রাইষ্ট’ এর বিশেষ ধারণাটিকে আগেই সাধারনভাবে হেরোদ এবং তার ধার্মিক পরামর্শকারীদের মধ্যে স্বীকৃত ছিল – এমনকি ঈসার (যীশু – পিবিইউএইচ) জন্মের পূর্বেও – এবং এটিকে তার প্রতি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছাড়াই এখানে ব্যবহার করা হয়েছে I এই কারণে, যেমন উপরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ভাববাদী তথা রাজা দাবুদের (দায়ূদ –পিবিইউএইচ) দ্বারা শতাধিক বছর পূর্বে লিখিত যাবুরের (গীতসংহিতা) থেকে ‘ক্রাইষ্ট’ এসেছে এবং এটিকে সাধারণতঃ প্রথম শতাব্দীর যিহূদিদের (হেরোদের মতন) দ্বারা গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্টে পড়া হত I ‘ক্রাইষ্ট’ ছিল (এবং এখনও আছে) একটি শিরোনাম, কোনো নাম নয় I এর থেকে আমরা হাস্যকর ধারনাটিকে সরাসরিভাবে খারিজ করে দিতে পারি যে ‘ক্রাইষ্ট’ খ্রীষ্টানদের একটি আবিষ্কার ছিল বা দা ভিঞ্চি কোডের মতন চলচ্চিত্রের দ্বারা জনপ্রিয় করা 300 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের রোমীয় সম্রাট কনস্টান্টিনের মতন এমন কারোর আবিষ্কার ছিল I শতাধিক বছর পূর্বে যখন সেখানে কোনো খ্রীষ্টান ছিল না বা কনস্টান্টিনের ক্ষমতায় আসার পূর্বে শিরোনামটি অস্তিত্বে ছিল I              

যাবুরের মধ্যে ‘খ্রীষ্টের’ সম্বন্ধে ভাববাণী সমূহ

প্রথমে আমাদের দেখা যাক যাবুরের (গীত সংহিতা) মধ্যে ‘ক্রাইষ্ট’ এর এই ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ শিরোনামের ঘটনাগুলোর দিকে, যেগুলোকে প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে – ঈসার (যীশু – পিবিইউএইচ) জন্মের অনেক অনকে আগে – ভাববাদী দাবুদের (দায়ূদ – পিবিইউএইচ) দ্বারা লিখিত হয়েছে I

পৃথিবীর রাজারা তাদের অবস্থান গ্রহণ করে…সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এবং তাঁর অভিষিক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে…যিনি স্বর্গে উপবিষ্ট তিনি হাস্য করেন; প্রভু তাদের বিদ্রুপ করেন…বলেন, “আমি আমার রাজাকে স্থাপন করেছি, আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতে…”

গীত সংহিতা 2:2-4

সেপ্টুজিয়ান্টের মধ্যে যাবুরের গীতসংহিতা 2 গ্রীক সেপ্টুজিয়ান্টের মধ্যে নিম্নলিখিতভাবে পড়বে (আমি এটিকে অক্ষরীকরণ দ্বারা অনুবাদিত খ্রিস্তোসের সাথে রাখছি যাতে আপনি সেপ্টুজিয়ান্টের একজন পাঠকের মতন শিরোনামটিকে  ‘দেখতে’ পারেন)    

পৃথিবীর রাজারা তাদের অবস্থান গ্রহণ করে… সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এবং তার ক্রাইষ্টের বিরুদ্ধে… যিনি স্বর্গে উপবিষ্ট তিনি হাস্য করেন; প্রভু তাদেরকে বিদ্রপ করেন…বলেন, “আমিই আমার রাজাকে স্থাপন করেছি আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতে…

গীতসংহিতা 2

আপনি এই অধ্যায়ের মধ্যে প্রথম শতাব্দীর একজন পাঠক যেমন হত সেইভাবে  ক্রাইষ্টকে ‘দেখতে’ পারেন I এবং নিম্নলিখিত অক্ষরীকরণের হুবহু একই অর্থ পেয়ে থাকত I    

পৃথিবীর রাজারা তাদের অবস্থান গ্রহণ করে… সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে এবং তার মসীহর বিরুদ্ধে… যিনি স্বর্গে উপবিষ্ট তিনি হাস্য করেন; প্রভু তাদেরকে বিদ্রপ করেন…বলেন, “আমিই আমার রাজাকে স্থাপন করেছি আমার পবিত্র সিয়োন পর্বতে…  

যাবুরের গীতসংহিতা 2

কিন্তু যাবুর (গীতসংহিতা) আরও উল্লেখ্য সমূহের সাথে এই আসন্ন খ্রীষ্ট বা মসীহর আগমনকে চালিয়ে যেতে থাকে I আমি ‘খ্রীষ্ট’ বা ‘মসীহ’র একটি অক্ষরীকরণের সাথে নমুনা অধ্যায়টিকে পাশাপাশি রাখি যাতে আপনি এটিকে দেখতে পারেন I

গীতসংহিতা 132 – হিব্রু থেকে গীতসংহিতা 132 – সেপ্টুজিয়ান্ট থেকে আরবীয় অক্ষরীকরণ সহ যাবুরের  গীতসংহিতা 132  
হে প্রভু,…10তোমার দাস দায়ুদের অনুরোধে, তোমার অভিষিক্ত ব্যক্তির মুখ ফিরাইও না I 11 সদাপ্রভু দায়ুদের কাছে এক শপথ করেছেন, এক নিশ্চিত শপথ তিনি তার থেকে ফিরবেন না তোমার নিজের বংশধরকে আমি তোমার সিংহাসনে বসাব I 17 “আমি এখানে দায়ুদের জন্য এক শৃঙ্গ উদ্ভব করব এবং আমি আমার অভিষিক্ত ব্যক্তির জন্য প্রদীপ  স্থাপন করব I”  হে প্রভু,…10তোমার দাস দায়ুদের অনুরোধে, তোমার খ্রীষ্টের মুখ ফিরাইও না I 11 সদাপ্রভু দায়ুদের কাছে এক শপথ করেছেন, এক নিশ্চিত শপথ তিনি তার থেকে ফিরবেন না তোমার নিজের বংশধরকে আমি তোমার সিংহাসনে বসাব I 17 “আমি এখানে দায়ুদের জন্য এক শৃঙ্গ উদ্ভব করব এবং আমি আমার খ্রীষ্টের জন্য প্রদীপ স্থাপন করব I”  হে প্রভু,…10তোমার দাস দায়ুদের অনুরোধে, তোমার মসীহর মুখ ফিরাইও না I 11 সদাপ্রভু দায়ুদের কাছে এক শপথ করেছেন, এক নিশ্চিত শপথ তিনি তার থেকে ফিরবেন না তোমার নিজের বংশধরকে আমি তোমার সিংহাসনে বসাব I 17 “আমি এখানে দায়ুদের জন্য এক শৃঙ্গ উদ্ভব করব এবং আমি আমার মসীহর জন্য প্রদীপ স্থাপন করব I”       O Lord, …For the sake of  Dawud your servant, do not reject your Masih.11 The Lord swore an oath to Dawud, a sure oath that he will not revoke:
“One of your own descendants I will place on your throne— …17 “Here I will make a horn grow for Dawud and set up a lamp for my Masih. ”

আপনি দেখতে পারেন যে গীতসংহিতা 132 নির্দিষ্টভাবে ভবিষ্যৎ কালে কথা বলে (“…আমি দায়ূদের (বা দাবুদ) জন্য এক শৃঙ্গ উদ্ভব করব, তৌরাত এবং যাবুরের মধ্য দিয়ে এতগুলো অধ্যায়ের মতন I ভাববাণীগুলোকে মূল্যায়ন করার সময়ে এটি স্মরণ রাখা প্রয়োজন I এটি স্পষ্ট যে যাবুর ভবিষ্যতের দর্শনের দাবী এবং ভাববাণীগুলো প্রস্তুত করে I হেরোদ সচেতন ছিল যে পুরনো নিয়মের ভাববাদীরা আসন্ন ‘খ্রীষ্ট’র সম্বন্ধে ভাববাণী করেছেন – সেই জন্যই তিনি এই ঘোষণাটির জন্য প্রস্তুত ছিলেন I তার কেবল তার পরামর্শকারীদের দ্বারা এই ভাববাণীগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন ছিল কারণ তিনি যাবুর ভালভাবে জানতেন না I যিহূদিরা তাদের মসীহর (বা খ্রীষ্ট) জন্য অপেক্ষা করছিল বলে জানা যায় I ঘটনা হল যে তারা তাদের মসীহর আগমনের জন্য অপেক্ষা করছে বা তাকিয়ে আছে যার সাথে ইঞ্জিলের ঈসার (বা যীশু – পিবিইউএচ) কোনো সম্পর্ক নেই কিন্তু বরং যাবুরের সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যত-দর্শনকারী ভাববাণীগুলোর সাথে সমস্ত কিছুর সম্পর্ক আছে I  

তৌরাত এবং যাবুরের ভাববাণীগুলো: তালা-চাবির পদ্ধতির মধ্যে একটি তালার মতন 

ঘটনা হল যে তৌরাত এবং যাবুর নির্দিষ্টভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করে যা তাদেরকে একটি দরজার তালার মতন প্রস্তুত করে I একটি তালাকে একটি নির্দিষ্ট আকারে তৈরী করা হয় যাতে করে কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট ‘চাবি’ আকারটির সঙ্গে খাপ খায় এবং এটিকে খুলতে পারে I একইভাবে পুরনো নিয়ম একটি তালার মতন I ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) মহান বলিদান এবং ভাববাদী মশির পিবিইউএইচ) নিস্তারপর্ব এবং কুমারীর পুত্রের চিহ্ন (দয়া করে পর্যালোচনা করুন সেগুলো পরিচিত কি না) পোস্টে আমরা আগেই দেখেছি যে এই আসন্ন ব্যক্তির সম্বন্ধে নির্দিষ্ট ভাববাণী সমূহ ছিল I যাবুরের গীতসংহিতার 132 নিয়মটিকে যোগ করে যে “দি ক্রাইষ্ট’ ভাববাদী তথা রাজা দাবুদের (=দায়ূদ – পিবিইউএইচ) বংশের থেকে হবে I সুতরাং পুরনো নিয়মের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ অধ্যায়গুলো পড়ার সাথে সাথে ‘তালাটি’ আরও অধিক মূল্যবান হয়ে ওঠে I যাবুর এই ভাববাণীগুলোর সাথে শেষ করে না I এটি আমাদের আরও বিস্তৃতভাবে বেশি করে বলে মসীহ কেমন হবে এবং কি করবে I আমরা যাবুরের মধ্য দিয়ে চলতে থাকি I   

রাজ্যের আগমন

কোরানের শেষ সুরাহ, সুরাহ-আন-নাস (114 – মানবজাতি) বলে যে 

 বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তারমানুষের অধিপতির,

সুরাহ-আন-নাস 114:1-2

আল্লাহ সার্বভৌম বা মানবজাতির রাজা I যদি তিনি একজন রাজা হন তবে সেখানে অবশ্যই এক রাজত্ব থাকবে I ঈশ্বরের রাজত্ব কেমন ধরণের? সুরাহ আল-কাওথার (সুরাহ 108 – প্রাচুর্য) একটি উত্তর দেয় I

 নিশ্চয় আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি।

সুরাহ আল-কাওথার-108:1

যেহেতু রাজা প্রাচুর্য দেন, তার রাজ্য অবশ্যই প্রাচুর্যের মধ্যে থাকা উচিত I কিন্তু কোন ধরণের প্রাচুর্য? এটিকে যাবুরের ভাববাদীদের কাছে প্রকাশিত করা হয়েছিল I

ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) আসন্ন কুমারী পুত্রের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যেটিকে শতাধিক বছর পরে ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) জন্মের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ করা হয়েছিল I যাইহোক, যাবুরের অন্যান্য ভাববাণীগুলোও এক আসন্ন শান্তি ও আশীর্বাদের সময়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I 

ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসের মধ্যে, ভাববাদী তথা রাজা দাবুদ (পিবিইউএইচ) যিরূশালেম থেকে শাসন করতে আল্লাহর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রাজাদের বংশের মধ্যে প্রথম ছিলেন I যাইহোক, রাজা দাবুদ ও সুলেমানের পরে রাজাদের অধিকাংশ মন্দ ছিল I তাই সেই সময়ে তাদের রাজত্বে থাকা আজকের দিনের অনেক একনায়কদের শাসনের অধীনে থাকার মতন, সেখানে লোকেদের ও জাতিদের মধ্যে যুদ্ধ এবং লড়াই – ঠিক আজকের দিনের মতন; সেখানে দুর্নীতি এবং দরিদদের উপরে ধনীদের শোষণ – ঠিক আজকের দিনের মতন; চারিদিকে মৃত্যু এবং দুর্দশা – ঠিক আজকের দিনের মতন I কিন্তু যাবুরের ভাববাদীরা বললেন যে এক দিন – ভবিষ্যতে এক নতুন শাসন স্থাপিত হবে I ন্যায়, দয়া, প্রেম, এবং শান্তির এক রাজ্য হবে I ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এই শাসনে জীবন কিরকম হবে I    

  4 তারপর ঈশ্বর সকল জাতির বিচারক হবেন| এবং অনেক লোকের বাদানুবাদের নিষ্পত্তি করবেন| তারা নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের সময় অস্ত্রশস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করবে| তারা তাদের তরবারি থেকে লাঙলের ফলা তৈরি করবে এবং বর্শার ফলা দিয়ে কাটারি বানাবে| এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে তরবারি ধরবে না| পরস্পরের মধ্যে লড়াই বন্ধ হবে| তারা কখনও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেবে না|

যিশাইয়2:4

আর কোনো যুদ্ধ নয়! এটি অবশ্যই আমাদের আজকের জগতে সত্য নয় I তবে ভাববাণীগুলো এমনকি মানুষের মধ্যে শান্তির চেয়েও বেশি, প্রাকৃতিক পর্যাবরণের পরিবর্তনেরও পূর্বাভাস দেয় I

  6 সে সময় নেকড়ে বাঘ এবং মেষশাবক এক সঙ্গে শান্তিতে বাস করবে| বাঘ এবং ছাগল ছানা এক সঙ্গে শান্তিতে শুয়ে থাকবে| বাছুর, সিংহ এবং ষাঁড় একসঙ্গে শান্তিতে বাস করবে| এবং একটা ছোট্ট শিশু তাদের চালনা করবে|
7 গরু এবং ভাল্লুক একসঙ্গে শান্তিতে বাস করবে| তাদের সমস্ত শাবকরাও একসঙ্গে বাস করবে| কেউ কারো অনিষ্ট করবে না| সিংহ গরুর মতো খড় খাবে| এমনকি সাপও মানুষকে দংশন করবে না|
8 একটা শিশুও নির্ভয়ে কেউটে সাপের গর্তের ওপর খেলা করতে পারবে| বিষাক্ত সাপের গর্তের মধ্যেও সে নির্দ্বিধায হাত দিতে পারবে|
9 এই সব বিষয়গুলি আসলে প্রমাণ করে কেউ কারও কোন ক্ষতি না করে পরস্পর শান্তিতে বাস করবে| লোকরা আমার পবিত্র পর্বতের কোন অংশে হিংসা কিংবা ধ্বংসের আশ্রয় নেবে না| কারণ এই সব লোকরা যথার্থভাবে প্রভুকে চেনে ও জানে| ভরা সমুদ্রের জলের মতো প্রভু বিষয়ক অগাধ জ্ঞানে তারা পরিপূর্ণ থাকবে|

যিশাইয়11:6-9

এটি অবশ্যই আজ (এখনও) পর্যন্ত ঘটেনি I তবে ভাববাণীগুলো এমনকি জীবনকাল ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য আরও প্রসারিত I 

কান্না অথবা কান্নার শব্দ এবং দুঃখ থাকবে না|
20 দু-চারদিনের আযু নিয়ে কোন শিশু জন্মাবে না| অল্প সময় বেঁচে থেকে কেউই মরবে না| প্রতিটি শিশু ও বৃদ্ধ বহু বহু বছর বাঁচবে| 100 বছর বেঁচে থাকার পরও যে কোন ব্যক্তিকে যুবকদের মত লাগবে| এংজন লোক যদি 100 বছর বযস পর্য়ন্ত না বাঁচে লোকে তাকে অভিশপ্ত মানুষ বলে বিবেচনা করবে|
21 “শহরে কেউ যদি বাড়ি বানায় সে সেই বাড়িতে বসবাস করতে পারবে| কেউ যদি বাগানে দ্রাক্ষা চাষ করে তবে সে সেই দ্রাক্ষা ফল খেতে পারবে|
22 আর কখনও এমন হবে না যে এংজন বাড়ী তৈরী করবে আর অন্য জন তাতে বাস করবে| আর কখনও এমন হবে না যে এংজন বাগান তৈরী করবে আর অন্য জন তার ফল খাবে| আমার লোকরা গাছের মত দীর্ঘ জীবন পাবে| আমার মনোনীত লোকরা যা কিছু করবে তা উপভোগ করবে|
23 এংটি মৃত শিশুকে জন্ম দেবার জন্য মহিলারা আর কখনও প্রসব যন্ত্রনা ভোগ করবে না| শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে মহিলারা প্রসব যন্ত্রণায় আর ভীত হবে না| প্রভু আমার সব লোকদের ও তাদের শিশুদের আশীর্বাদ করবেন|
24 তারা চাইবার আগেই জানতে পারবে তাদের চাহিদা এবং তারা চাইবার আগেই সাহায্য পাবে|
25 নেকড়ে বাঘ এবং মেষশাবক এংসঙ্গে খাবে| সিংহ ছোট্ট বলদের সঙ্গে এংসঙ্গে বিচালি খাবে| আমার পবিত্র পর্বতে সাপ থাকলেও সে কাউকে কামড়াবে না| এমনকি কারও ভয়েরও কারণ হবে না|” এই সব প্রভু বলেছেন|

যিশাইয় 65:20-25

নিরাপত্তা, শান্তি, প্রার্থনা সমূহের ততক্ষনাৎ উত্তর…এই ভাববাণীগুলোর কোনটাই ঘটেনি – এখনও I যদিও সেগুলোকে বলা এবং লেখা হয়েছে I অনেকে ভাবে যে হয়ত এই আশাপ্রদ ভাববাণীগুলোর মধ্যে কোনো ভুল আছে – কিন্তু কুমারী পুত্রের চিহ্নর আক্ষরিক পরিপূর্ণতা এই ভাববাণীগুলোকে গম্ভীরভাবে গ্রহণ করতে আমাদের প্রস্তুত করা উচিত – এবং তাদের পরিপূর্ণতার দিকে লক্ষ্য রাখা  উচিত I  

ঈশ্বরের রাজ্য

আমরা যদি অনুধাবন করি আমরা বুঝতে পারি কেন এখনও সেগুলো ঘটেনি I এই ভাববাণীগুলোকে ঈশ্বের রাজ্যের প্রসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছিল – লোকেদের জীবন এবং কার্যকলাপের মধ্যে ঈশ্বরের শাসন I আসন্ন ঈশ্বরের রাজ্যের উপরে আর একটি ভাববাণী পড়ুন

  10 প্রভু, আপনি যা করেন, তাই আপনাকে প্রশংসা এনে দেয়| আপনার অনুগামীরা আপনার প্রশংসা করে|
11 তারা বলে আপনার রাজত্ব কত মহত্‌| তারা আপনার মহত্ব সম্বন্ধে বলে|
12 তাই হে প্রভু, আপনি য়ে সব মহত্‌ কাজ করেন অন্য লোকেরা তা জানতে পারে এবং তারা জানতে পারে আপনার রাজত্ব কত বিশাল এবং গৌরবময়|
13 প্রভু, আপনার রাজত্ব চির বিরাজমান থাকবে| আপনি চিরদিনই রাজত্ব করবেন|
14 পতিত মানুষকে প্রভু উদ্ধার করেন| যারা সমস্যায় পড়ে প্রভু তাদের সাহায্য করেন|

গীতসংহিতা145:10-14

1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের (এখানে লিংক দেখুন যখন দাযুদ এবং য়াবুরের ভাববাদীরা বাস করতেন) আশেপাশে রাজা তথা ভাববাদী দাবুদের (পিবিইউএইচ) দ্বারা এই বার্তাটিকে দেওয়া হয়েছিল I এই ভাববাণী একটি দিনের আভাস দেয় যখন, ঈশ্বরের রাজ্য শাসন করবে – এটি অনন্তকালীন হবে I এই রাজ্য মহিমা এবং বৈভবে ভরা হবে, আর এটি মানবীয় রাজ্যের ন্যায় অস্থায়ী হবে না I এটিকে এখনও নিয়ে আসা হয় নি আর সেই জন্যই শান্তির এই অন্যান্য ভাববাণীগুলোকে এখনও আসতে দেখিনি – কারণ এই শান্তি ঈশ্বরের রাজ্যের সঙ্গে আসে I    

যাবুরের আর একজন ভাববাদী, দানিয়েল (পিবিইউএইচ) যিনি যিহূদি নির্বাসনের অংশ হিসাবে প্রায় 550 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাবিলে বাস করতেন, তিনি আরও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে এই রাজ্য কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে I   

When Daniel (pbuh) lived

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের তুলনায় ভাববাদী দানিয়েল (পিবিইএইচ) যখন বাস করতেন

দানিয়েল (পিবিইউএইচ) ইতিহাসের মাধ্যমে রাজ্যগুলোর ভবিষ্যত উদঘাটনের  ভবিষ্যদ্বাণী করতে বাবিলের রাজার কাছে আল্লাহ প্রেরিত স্বপ্নের ব্যাখ্যা করেছিলেন I দানিয়েল কিভাবে বাবিলের রাজার একটি স্বপ্নকে ব্যাখ্যা করেছিলেন তা এখানে রয়েছে I

  36 “এই ছিল আপনার স্বপ্ন| এখন আমরা আপনাকে বলব এর অর্থ কি|
37 মহারাজ, আপনি হলেন সমস্ত রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ| ঈশ্বর আপনাকে রাজত্ব, পরাএম, শক্তি ও মহিমা দিয়েছেন|
38 যেখানে মানুষ, বন্য পশু ও পাখীরা বাস করে ঈশ্বর আপনাকে সেই সমস্ত জায়গার ওপর শাসন করবার ক্ষমতা দিয়েছেন| মহারাজ আপনিই হলেন সেই মূর্ত্তির সোনার মাথাটি|
39 “আপনার পরে য়ে রাজ্যের উত্থান হবে তা হল সেই মূর্ত্তির রূপার অংশটি| কিন্তু সেই রাজ্য আপনার মত মহান হবে না| এরপর একটি তৃতীয় রাজ্য আসবে| এটি হল মূর্ত্তির পিতলের অংশটি| এটি পুরো পৃথিবীর ওপর শাসন করবে|
40 চতুর্থ রাজ্য লৌহবত্‌ দৃঢ় হবে| চতুর্থ রাজ্যটি অন্য আর সমস্ত রাজ্যের ধ্বংসের কারণ হবে য়েমন লোহা সব কিছু টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে দেয|
41 “আপনি দেখেছেন য়ে মূর্ত্তিটির পায়ের পাতার খানিকটা ছিল কুমোরের মাটি দিয়ে তৈরী এবং খানিকটা লোহার তৈরী| এর অর্থ হল এটা হবে একটা বিভক্ত রাজ্য কারণ আপনি মাটির সঙ্গে লোহার মিশ্রন দেখেছেন|
42 তাই চতুর্থ রাজ্যটির একটা অংশ হবে লোহার মত দৃঢ় ও অপর অংশটি হবে মাটির মত ভঙ্গুর|
43 আপনি মাটির সাথে লোহার মিশ্রণ দেখেছেন কিন্তু মাটি ও লোহা সম্পূর্ণ ভাবে মেশে না| তাই চতুর্থ রাজ্যের লোকরা অন্তর্বিবাহ করবে| কিন্তু তারা ঐক্যবদ্ধ লোকের মত হবে না|
44 “চতুর্থ রাজ্যের রাজাদের সময় স্বর্গের ঈশ্বর আর একটি রাজ্য স্থাপন করবেন| এই রাজ্যটি চির কালের জন্য থাকবে| এটি ধ্বংস হবে না এবং এটি সেই জাতীয় রাজ্য হবে না য়েটা একটি জাতি থেকে আর একটিকে দেওয়া হবে| এই রাজ্য অন্য সমস্ত রাজ্যকে ধ্বংস করে ফেলবে কিন্তু নিজে চিরস্থায়ী হবে|
45 “এটাই হল সেই পাথরের টুকরোটা য়েটা আপনি দেখেছিলেন| আপনা আপনি পর্বত কেটে বেরিয়ে এসেছিল এবং তারপর লোহা, পিতল, মাটি, রূপো ও সোনা সব কিছুকে টুকরো টুকরো করে ভেঙ্গে দিয়েছিল| এই ভাবেই ঈশ্বর আপনাকে দেখিয়েছেন ভবিষ্যতে কি হবে| স্বপ্নটি সত্যি ও আপনি এর ব্যাখ্যাকে সঠিক বলে বিশ্বাস করতে পারেন|”

দানিয়েল 2:36-45

এই রাজ্যটি ছোট থেকে শুরু হয় (‘একটি পাহাড় থেকে কাটা একটি শিলা’) কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিরকাল রাজত্ব করবে, দাবুদের (পিবিইউএইচ) উপরোক্ত ভাববাণীর মতন I তাহলে কেন আল্লাহ তার রাজ্য এত ধীরে স্থাপন করছেন? কেন এটি এত দীর্ঘ সময় নিচ্ছে? কেন এটি এখনও আসে নি? আপনি যখন এই সম্বন্ধে ভাবেন, সমস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলো থাকে:

  • এক রাজা বা শাসক
  • নাগরিক সমূহ
  • এক সংবিধান বা ব্যবস্থা প্রকৃতি

অতএব উদাহরণস্বরূপ, কানাডার মধ্যে, যেখানে আমি বাস করি, একটি রাজ্য রূপে, কানাডার মধ্যে একজন শাসক আছে – আজকে যিনি হলেন জাস্টিন টূডেউ আমাদের নির্বাচিত প্রধান মন্ত্রী I কানাডার মধ্যে নাগরিক সমূহ আছে – যার মধ্যে আমি একজন I এছাড়াও কানাডার মধ্যে একটি সংবিধান বা ব্যবস্থা আছে যা এর সমস্ত নাগরিকদের অধিকার এবং দায়িত্ব সমূহের নির্ধারণ করে I এছাড়াও কানাডার কাছে একটি প্রকৃতি আছে, এই ক্ষেত্রে এটি পৃথিবীর কোনো নির্দিষ্ট অংশে অবস্থিত যা এটিকে নির্দিষ্ট ভৌতিক আকার, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ সমূহ ইত্যাদি দেয় I সমস্ত দেশ এবং রাজ্যগুলোর মধ্যে অতীত এবং বর্তমান, এই চার উপাদানগুলো আছে I  

আপনি এবং আমি ঈশ্বরের রাজ্যে আমন্ত্রিত

এটি আবারও ঈশ্বরের রাজ্যের সম্বন্ধে সত্য I উপরোক্ত ভাববাণীগুলো থেকে আমরা আগেই দেখেছি যে এই রাজ্যের এক বিশেষ প্রকৃতি থাকবে (গৌরবান্বিত এবং অনন্তকালীন) এবং একটি সংবিধান (শান্তি, সততা, প্রকৃতির মধ্যে ঐকতান ইতাদির) থাকবে I এটি অন্য দুই উপাদান যা ঈশ্বরের রাজ্যকে সম্ভব করে: এর রাজা এবং এর নাগরিক সমূহ I আমরা পরবর্তী নিবন্ধে রাজাকে দেখব I ইতিমধ্যে আপনি নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে চাইতে পারেন আপনি কি ঈশ্বরের এই রাজ্যের একজন নাগরিক হতে চান I এখানে ভাববাদী যিশাইয় (পিবিইউএইচ), এইভাবে তার বার্তার মাধ্যমে, সমুদায় লোকেদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যারা এই রাজ্যের নাগরিক হতে চাইবে I   

“আমার তৃষ্ণার্ত মানুষেরা এসে জল পান করো| নিজেদের অর্থ না থাকলেও বিষন্ন হযো না| যতক্ষণ না ক্ষুধা-তৃষ্ণা মেটে ততক্ষণ খাও এবং পান কর| খাদ্য ও দ্রাক্ষারসের জন্য কোন অর্থ লাগবে না| 3 “আমার কাছে এসে শোন আমি কি বলছি, তাহলে তোমাদের আত্মা বাঁচবে| আমি তোমাদের সঙ্গে চির কালের মত একটা চুক্তি করব| দাযূদের মত তোমাদের সঙ্গেও আমি চুক্তি করব| দাযূদের কাছে আমি প্রতিশ্রুতি করেছি চির কাল আমি ওকে ভালবাসব| চির কাল আমি তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকব| তোমরা এই চুক্তির ওপর আস্থাশীল থাকতে পারো| 6 তাই তোমাদের উচিত্‌ বেশী দেরি না করে প্রভুর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করা| তিনি এখন কাছে আছেন তোমাদের উচিত্‌ এখনই তাঁকে ডাকা|

যিশাইয়55:1:3,6

আল্লাহ তাদের সকলকে আমন্ত্রণ দিচ্ছেন যারা এতে প্রবেশ করতে এই রাজ্যের   জন্য ‘তৃষ্ণার্ত’, এবং যে প্রেম রাজা দাবুদকে (পিবিইউএইচ) দেওয়া হয়েছিল তা তাদের সকলের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হবে যারা এর জন্য আসে I আপনার কাছে যদি কোনো কিছুতে আসার জন্য একটি আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা থাকে তার অর্থ আপনি এখনও এটিকে পান নি I কিন্তু ঘটনা যে আল্লাহ আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, মানে যে তিনি চান আমরা তার রাজ্যের নাগরিক হই এবং শান্তির এই শাসনের মধ্যে বাস করি I অতএব এই বিন্দুতে আমাদের কাছে এই রাজ্যের আগমন সম্বন্ধে অনেক প্রশ্ন থাকে ‘কিভাবে’ এবং ‘কখন’ যেটাকে আমরা যাবুর সম্বন্ধে আরও নিবন্ধগুলোর মধ্যে দেখতে থাকব I কিন্তু সেখানে একট প্রশ্ন আছে যার উত্তর কেবলমাত্র আপনিই দিতে পারেন: ‘আমি কি এই রাজ্যের মধ্যে হতে চাই?’    

কুমারীর পুত্রের চিহ্ন

যাবুরের পরিচিতির মধ্যে, আমি উল্লেখ করেছি যে ভাববাদী তথা রাজা দায়ূদ (পিবিইউএইচ) গীতসংহিতা বইয়ের অনুপ্রাণিত রচনা সমূহের সাথে যাবুর শুরু করেছিলেন, এবং পরবর্তী ভাববাদীদের দ্বারা পরে অন্যান্য বইগুলোকে সংযুক্ত করা হয়েছিল I একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাববাদী ছিলেন যিশাইয়, যাকে অন্যতম বড় ভাববাদী বলে গন্য করা হয় (যেহেতু তার বই অনেক দীর্ঘ) I তিনি 750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে বাস করতেন I নীচের কালপঞ্জি দেখায় যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের তুলনায় যিশাইয় কখন বাস করতেন I     

When Isaiah lived

যাবুরের অন্যান্য ভাববাদীদের সাথে ভাববাদী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) ঐতিহাসিক কালপঞ্জি

যদিও যিশাইয় এত দীর্ঘ সময় আগে (প্রায় 2800 বছর আগে) বসবাস করতেন তিনি ভবিষ্যৎ ঘটনা সমূহ সম্পর্কে অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যেমন ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) পূর্বে বলেছিলেন একজন ভাববাদীর করা উচিত I তার ভবিষ্যদ্বাণী এমন এক স্তম্ভিতকারী অলৌকিক ঘটনার সম্বন্ধে ভাববাণী বলে যে সুরাহ আট-তাহরিম (সুরাহ 66 – নিষিদ্ধকরণ) আয়াত 12 এটিকে পুনরায় সংক্ষিপ্তভাবে ব্যক্ত করে I    

আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বানী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের

একজন।সুরাহ আট-তাহরিম66:12

সুরাহ আট-তাহরিম কি বর্ণনা করছে? ভবিষ্যদ্বাণীকে ব্যাখ্যা করতে আমরা যিশাইয়র দিকে ফিরি I 

যাবুরের পরিচিতির মধ্যে যেমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, সুলেমানের (পিবিইউএইচ)পরবর্তী রাজারা বেশিরভাগ মন্দ ছিল, এবং যিশাইয়র সময় কালে রাজাদের সম্বন্ধে এটি সত্য ছিল I তাই তার বই আসন্ন বিচারের (যা প্রায় 150 বছর পরে ঘটেছিল যখন যিরূশালেম বাবিলের দ্বারা ধ্বংস হয়েছিল – ইতিহাসের জন্য এখানে দেখুন) সাবধানবাণী সমূহে পরিপূর্ণ থাকে I যাইহোক, এছাড়াও তিনি আরও দূরগামী ভবিষ্যদ্বাণী করলেন এবং তার ভবিষ্যতের গভীরে দেখলেন যখন আল্লাহ এক বিশেষ চিহ্ন পাঠাবেন – এখনও পর্যন্ত মানবতার কাছে যাকে পাঠানো হয় নি I যিশাইয় ইস্রায়েলের রাজার সঙ্গে কথা বলেন, যিনি দায়ূদের (পিবিইউএইচ) একজন বংশধর, যার জন্যই এই চিহ্নকে ‘দাবুদের গৃহে’ (দায়ূদ) সম্বোধন করা হয় I      

  13 যিশাইয় বললেন, “দাযূদের পুত্র, আহস মন দিয়ে শোন| লোকের ধৈর্য়্য়ের পরীক্ষা কি তোমাদের কাছে যথেষ্ট নয়? তোমরা কি আমার ঈশ্বরেরও ধৈর্য়্য়ের পরীক্ষা নিতে চাও?
14 ঈশ্বর আমার প্রভু, তোমাদের একটা চিহ্ন দেখাবেন:ঐ যুবতী মহিলাটি গর্ভবতী হবে এবং দেখ সে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেবে| তার নাম রাখা হবে ইম্মানূযেল|
15 যতদিন না পর্য়ন্ত ইম্মানূযেল খারাপ কাজ প্রত্যাখান করে ভালো কাজ বেছে নিতে শিখবে ততদিন পর্য়ন্ত সে দই ও মধু খাবে|

যিশাইয় 7:13-15

এটি নিশ্চিতরূপে একটি বলিষ্ঠ ভবিষ্যদ্বাণী! কুমারী স্ত্রীর এক পুত্রের সম্বন্ধে কে কবে শুনেছে? এই ধরণের একটি উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণীকে বোধ হয় অনেক বছর ধরে লোকেরা অবাক হয়ে ভেবেছিল যে হয়ত কোনো ভুল হয়ে থাকবে I নিশ্চিতরূপে, একজন মানুষ ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে শুধুমাত্র একটি অনুমান করে ব্যক্ত করবে না – এবং পরবর্তী প্রজন্ম সমূহের প্রত্যেকের পড়ার জন্য লিখবে – এমন ধরণের একটি আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব ভবিষ্যদ্বাণী I কিন্তু সেখানে এটি ছিল I এবং আজকের দিনে বিদ্যমান মৃত সাগরের হস্তলিপি থেকে আমরা জানি যে এই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবিকরূপে অনেক আগেই লেখা হয়েছিল – ঈসার (পিবিইউএইচ) জন্মের শতাধিক বছর পূর্বে I      

ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল ঈসা আল মসীহ একজন কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করবে

আমরা আজকের দিনে, ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) পরে বেঁচে থেকে, দেখতে পারি যে তার আগমন সম্বন্ধে এটি একটি ভবিষ্যদ্বাণী I ইব্রাহিম, মশি এবং মহম্মদ সহ অন্য কোনো ভাববাদী একজন কুমারীর থেকে কখনও জন্মগ্রহন করে নি, এইভাবে এই পৃথিবীতে এসেছে I তাই আল্লাহ, তার জন্মের শতাধিক বছর পূর্বে, তার আগমন সম্বন্ধে আমাদের একটি চিহ্ন দিচ্ছিলেন এবং এছাড়াও একজন কুমারীর পুত্রের এই আগমনের সম্বন্ধে জানতে আমাদেরকে প্রস্তুত করছিলেন I আমরা দুটি জিনিসকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করি I     

তার মায়ের দ্বারা ‘ইম্মানুয়েল’ ডাকা হয়  

প্রথমত, একজন কুমারীর এই আসন্ন পুত্রকে তার মায়ের দ্বারা ‘ইম্মানুয়েল’ বলে ডাকা হবে I এই নামের আক্ষরিক অর্থ হ’ল ‘ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন’ I কিন্তু তার অর্থ কি? এর সম্ভবতঃ বিভিন্ন অর্থ ছিল, কিন্তু যেহেতু এই ভবিষ্যদ্বাণী মন্দ রাজাদের কাছে ঘোষণা করা হয়েছিল যাদেরকে আল্লাহ শীঘ্রই বিচার করতে যাচ্ছিলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ছিল যে যখন এই পুত্র জন্মগ্রহণ করবে তখন এটি একটি চিহ্ন ছিল যে ঈশ্বর আর তাদের বিরুদ্ধে বিচারে নেই বরং ‘তাদের সঙ্গে’ আছেন I ঈসা যখন জন্ম গ্রহণ করলেন, এটি বাস্তবিক মনে হ’ল যেন আল্লাহর দ্বারা ইস্রায়েলীয়দের ভুলে যাওয়া হয়েছে যেহেতু তাদের শত্রুরা তাদের শাসন করত I কুমারীর পুত্রের জন্ম একটি চিহ্ন ছিল যে ঈশ্বর তাদের সঙ্গে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে নয় I লুকের সুসমাচারের মধ্যে ইঞ্জিল নথিভুক্ত করে যে তার মা মরিয়ম (বা মেরী) একটি পবিত্র গান গেয়েছিলেন যখন স্বর্গদূত তাকে তার আসন্ন পুত্রের সম্বন্ধে বার্তা দিয়েছিলেন I এই গানটির মধ্যে নিম্নলিখিত রয়েছে:      

  46 তখন মরিয়ম বললেন,
47 ‘আমার আত্মা প্রভুর প্রশংসা করছে, আর আমার আত্মা আমার ত্রাণকর্তা ঈশ্বরকে পেয়ে আনন্দিত৷
48 কারণ তাঁর এই তুচ্ছ দাসীর দিকে তিনি মুখ তুলে চেয়েছেন৷ হ্যাঁ, এখন থেকে সকলেই আমাকে ধন্যা বলবে৷
49 কারণ সেই একমাত্র সর্বশক্তিমান ঈশ্বর আমার জীবনে কত না মহত্ কাজ করেছেন৷ পবিত্র তাঁর নাম৷
50 আর যাঁরা বংশানুক্রমে তাঁর উপাসনা করে তিনি তাদের দযা করেন৷
51 তাঁর বাহুর য়ে পরাক্রম, তা তিনি দেখিয়েছেন৷ যাদের মন অহঙ্কার ও দন্ভপূর্ণ চিন্তায় ভরা, তাদের তিনি ছিন্নভিন্ন করে দেন৷
52 তিনিই শাসকদের সিংহাসনচ্যুত করেন, যাঁরা নতনম্র তাদের উন্নত করেন৷
53 ক্ষুধার্তকে তিনি উত্তম দ্রব্য দিয়ে তৃপ্ত করেন; আর বিত্তবানকে নিঃস্ব করে বিদায় করেন৷
54 তিনি তাঁর দাস ইস্রায়েলকে সাহায্য করতে এসেছেন৷
55 য়েমন তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি তেমনই করবেন৷ অব্রাহাম ও তাঁর বংশের লোকদের চিরকাল দযা করার কথা তিনি মনে রেখেছেন৷’

লুক 1:46-55

আপনি দেখতে পারেন মরিয়ম, যখন তাকে জ্ঞাত করা হ’ল যে তার এক পুত্র হবে যদিও সে একজন কুমারী ছিল, এটিকে বুঝতে পারল অর্থ করতে যে প্রভু ইব্রাহিমের প্রতি তার দয়া এবং তার বংশধরদের চিরকালের নিমিত্ত স্মরণ করছিলেন I বিচারের অর্থ এই ছিল না যে আল্লাহ পুনরায় কখনও ইস্রায়েলীয়দের সঙ্গে থাকতে যাচ্ছেন না I   

কুমারীর পুত্র ‘ভুলকে খারিজ করে এবং সঠিককে চয়ন করে’

যিশাইয়র এই ভবিষ্যদ্বাণীর অদ্ভূত অংশটি হ’ল যে এই পুত্র ‘দই ও মধু খাবে যখন সে ভুল খারিজ করতে এবং সঠিককে চয়ন করতে যথেষ্টভাবে জানবে’I যিশাইয় যা বলছেন তার অর্থ হ’ল এই পুত্র, সচেতন সিদ্ধান্ত সমূহ গ্রহণ করতে যথেষ্ট বড় হওয়ার সাথে সাথে, ‘ভুলকে খারিজ করবে এবং সঠিককে চয়ন করবে’ I আমার এক যুবক পুত্র আছে I আমি তাকে ভালবাসি, কিন্তু নিশ্চিতরূপে কোনো উপায় নেই যে তার নিজের ক্ষমতায় সে ভুল খারিজ করছে এবং সঠিককে চয়ন করছে I আমার স্ত্রী এবং আমাকে কাজ করতে হয়, শিক্ষা দিতে, মনে করাতে, মৃদু ভর্ত্সনা করতে, একটি উদাহরণ স্থাপন করতে, অনুশাসন করতে, সঠিক বন্ধুদের যোগার করতে, নিশ্চিত করতে সে উপযুক্ত প্রেরণাস্রোতদের দেখে, ইত্যাদি, তাকে শিক্ষা দিতে যে সে ভুলকে খারিজ করে এবং সঠিককে চয়ন করে – আর এমনকি আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা স্বত্তেও সেখানে কোনো নিশ্চয়তা নেই I মাতা-পিতা রূপে আমি যখন এটি করতে চেষ্টা করছি, এটি আমার শৈশবের পুরোনো স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আসে যখন আমার মাতা-পিতা ‘ভুলকে খারিজ করতে এবং সঠিককে চয়ন করতে’ আমাকে শিক্ষা দিতে একই সংঘর্ষের মধ্যে ছিলেন I মাতা-পিতা যদি ওই সমস্ত প্রচেষ্টা এবং কার্য না করেন, কিন্তু কেবল প্রকৃতিকে এর নিজের রাস্তায় যেতে দেন – তবে সন্তান এমন একজনে পরিণত হয় যে ‘ভুল খারিজ করে না এবং সঠিককে চয়ন করে না’ I এটি যেন আমরা এক ‘নৈতিক মাধ্যাকর্ষণের’ বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি যেখানে আমাদের প্রচেষ্টা বন্ধ করার সাথে সাথেই এটি নিচের দিকে নেমে  আসে I          

এই জন্যই আমরা সকলে আমাদের গৃহ এবং কামরার দরজা বন্ধ করি; প্রত্যেক দেশে পুলিশের কেন প্রয়োজন হয়: কেন আমাদের কাছে ব্যাঙ্কের কোড এবং পাসওয়ার্ডগুলো থাকে; আর কেন সমস্ত দেশগুলোর মধ্যে আমাদের অবিরত নতুন আইন তৈরী করার প্রয়োজন হতে থাকে – কারণ আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত করার প্রয়োজন হয় যেহেতু আমরা ‘ভুলকে খারিজ এবং সঠিককে চয়ন’ করি না I 

ভাববাদীরাও এমনকি সর্বদা ভুলকে খারিজ করে না এবং সঠিককে চয়ন করে

আর এটি সত্য এমনকি ভাববাদীরাও I তৌরাত নথিভুক্ত করে যে দুটি ঘটনায় ভাববাদী ইব্রাহিম তার স্ত্রী সম্বন্ধে এই বলে মিথ্যা কথা বলেছিল যে সে শুধুমাত্র তার বোন (আদিপুস্তক 12:10-13 এবং 20:1-2) I এটি আরও নথিভুক্ত করে যে ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) একজন মিসরীয়কে হত্যা করেছিল (যাত্রাপুস্তক 2:12) এবং কোনো ঘটনাই নিখুঁতভাবে আল্লাহর আদেশকে অনুসরণ করে নি (গণনাপুস্তক 20:6-12) I ভাববাদী মহম্মদকে (পিবিইউএইচ) সুরাহ মহম্মদে (সুরাহ 47- মহম্মদ) ক্ষমা চাইতে আজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল – দেখায় যে তিনিও সর্বদা ভুলকে খারিজ এবং সঠিককে চয়ন করেন নি I  

 জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।

সুরাহ মহম্মদ 47:19

মুসলিমের থেকে নিম্নলিখিত হাদিথ দেখায় কতটা আন্তরিকভাবে তিনি ক্ষমার জন্য পার্থনা করেছিলেন I

আবু মশি আশ’আরি তার পিতার কর্তৃত্বের উপরে জানালেন যে আল্লাহর প্রেরিত (তার উপরে শান্তি বর্তুক) এই কথাগুলোর দ্বারা মিনতি করতেন: “হে আল্লাহ, আমার অপরাধ, আমার অজ্ঞানতা, আমার উদ্বিগ্নতার মধ্যে আমার আতিশয্য ক্ষমা করুন I আর (আমার কার্যকলাপ সম্বন্ধে) আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন I হে আল্লাহ, আমায় ক্ষমা অনুমোদন করুন (আমার দ্বারা সঙ্ঘটিত অপরাধগুলোকে) গুরুতরভাবে বা অন্য ভাবে (এবং আমি অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃতভাবে যা করেছি) I এই সমস্ত (ব্যর্থতাগুলো) আমার মধ্যে রয়েছে I হে আল্লাহ, অপরাধের থেকে আমায় ক্ষমা অনুমোদন করুন যাকে আমি ব্যস্ততায় বা বিলম্বে করেছি, যাকে আমি গোপনে বা প্রকাশ্যে করেছি এবং (সেইগুলো সম্বন্ধে) আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন I আপনিই প্রথম এবং শেষ এবং সমস্ত জিনিসগুলোর উপরে আপনি সর্বশক্তিমান”

মুসলিম 35:6563

এটি ভাববাদী দায়ূদের (পিবিইউএইচ) প্রাথনার অনুরূপ যখন তিনি তার পাপের ক্ষমার জন্য প্রার্থনা করলেন:

হে ঈশ্বর তোমার অক্ষয় দয়ানুসারে আমায় ক্ষমা কর; তোমার করুণার বাহুল্য অনুসারে আমার অধর্ম সকল মার্জনা কর I আমার অপরাধ সকল ধৌত কর এবং আমায় পাপের থেকে শুচি কর…এসোব দ্বারা আমাকে ধৌত কর, এবং আমি শুচি হব; আমাকে ধৌত কর, এবং আমি তাতে হিম অপেক্ষা শুক্ল হব…আমার পাপ সমূহের প্রতি তোমার মুখ আচ্ছাদন কর এবং আমার অপরাধ মার্জনা কর I

গীতসংহিতা 51:1-9

অতএব আমরা দেখি এই লোকেরা – যদিও তারা ভাববাদী – পাপের সাথে সংঘর্ষ করে এবং ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন বোধ করে I এটি আদমের সমুদয়  বংশধরদের সার্বজনীন মানবীয় পরিস্থতি বলে মনে হয় I 

কুমারীর পবিত্র পুত্র

কিন্তু যিশাইয় দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা এই পুত্র স্বাভাবিকভাবে এবং একদম কম বয়স থেকেই ভুলকে খারিজ করে এবং সঠিককে চয়ন করে I তার জন্য এটি সহজাত প্রবৃত্তি I সেটি সম্ভব হওয়ার জন্য তার কাছে অবশ্যই এক ভিন্ন বংশধারা থেকে থাকবে I বাকি সমস্ত ভাববাদীরা, তাদের পিতাদের মাধ্যমে, আদমকে অনুসরণ করে, আর সে ‘ভুলকে খারিজ এবং সঠিককে চয়ন করে নি’ যেমন আমরা দেখেছি I বংশগতিবিষয়ক বিজ্ঞান পিতার প্রকৃতিকে তার বংশধরদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়, তাই আদমের বিদ্রোহী প্রকৃতি আমাদের সকলের মধ্যে ছড়িয়ে গেল আর এমনকি ভাববাদীদের মধ্যেও I কিন্তু একজন কুমারী-জাত পুত্রের কাছে,  সংজ্ঞা অনুযায়ী, তার বংশের মধ্যে তার এক পিতা রূপে আদম থাকবে না I এই পুত্রের পৈত্রিক বংশ ভিন্ন হবে, এবং তাই তিনি পবিত্র হবেন I এই জন্যই কোরান, যখন মরিয়মের প্রতি কুমারী-জাত পুত্রের সম্বন্ধে দেবদূতসংক্রান্ত বার্তার বর্ণনা করছে, তখন পুত্রটিকে বলে ‘পবিত্র’ I           

 সে বললঃ আমি তো শুধু তোমার পালনকর্তা প্রেরিত, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করে যাব।মরিইয়াম বললঃ কিরূপে আমার পুত্র হবে, যখন কোন মানব আমাকে স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও কখনও ছিলাম না ?সে বললঃ এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলেছেন, এটা আমার জন্যে সহজ সাধ্য এবং আমি তাকে মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন ও আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ স্বরূপ করতে চাই। এটা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।অতঃপর তিনি গর্ভে সন্তান ধারণ করলেন এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন।মরিয়ম

সুরাহ19:19-22

ভাববাদী যিশাইয় (পিবিউএইচ) স্পষ্ট ছিলেন, এবং পরবর্তী বইগুলো সম্মত হয় – সেখানে একজন পুত্র আসছিলেন যিনি এক কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করবেন, এইরূপে কোনো পার্থিব পিতা থাকবে না এবং পাপের এই প্রকৃতি থাকবে না এবং এইরূপে পবিত্র হবে I 

স্বর্গের মধ্যে আদমের কাছে অতীতের কাহিনী

কিন্তু এটি শুধুমাত্র পরবর্তী বইগুলোই নয় যা কুমারীর এই আসন্ন পুত্রের সম্বন্ধে কথা বলে I এটিও শুরুর থেকে সেখানে ছিল I আমরা আদমের চিহ্নর মধ্যে দেখেছি যে আল্লাহ শয়তানকে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন I আমি এখানে এটিকে পুনরুক্তি করছি I

  15 তোমার এবং নারীর মধ্যে আমি শত্রুতা আনব এবং তার সন্তানসন্ততি এবং তোমার সন্তান সন্ততির মধ্যে এই শত্রুতা বয়ে চলবে| তুমি কামড় দেবে তার সন্তানের পাযে কিন্তু সে তোমার মাথা চূর্ণ করবে|”

আদিপুস্তক3:15

আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন যে ইবলিস/শয়তান এবং স্ত্রী উভয়ের এক ‘বংশধর’  হবে I সেখানে এই বংশধরদের মধ্যে এবং স্ত্রী ও শয়তানের মধ্যে ‘শত্রুতা’ বা ঘৃনা হবে I শয়তান ‘পাদমূল আঘাত করবে’ যখন স্ত্রীটির বংশধর শয়তানের ‘মস্তক চূর্ণ করবে’ I এই সম্পর্কগুলোকে এই চিত্রের মধ্যে দেখা যায় I  

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/11/the-offspring-diagram.jpg

স্বর্গে আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে চরিত্র এবং তাদের সম্পর্ক সমূহ

দয়া করে লক্ষ্য করুন যে আল্লাহ কখনও পুরুষকে বংশধরের প্রতিশ্রুতি দেন নি যেমন তিনি স্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন I এটি বেশ অসাধারণ বিশেষভাবে তৌরাত, যাবুর এবং ইঞ্জিলের (আল কিতাব/বাইবেল) মধ্য দিয়ে পিতাদের মাধ্যমে আসা পুত্রদের সম্বন্ধে জোর দেয় I আসলে, আধুনিক পাশ্চাত্যের দেশবাসীদের দ্বারা এই বইগুলোর একই সমালোচনা হ’ল যে তারা স্ত্রীদের মধ্য দিয়ে যাওয়া রক্তের ধারাকে অগ্রাহ্য করে I তাদের দৃষ্টিতে এটি ‘যৌনবৈষম্যবাদ’ যেহেতু এটি কেবলমাত্র পুরুষের পুত্রদের বিবেচনা করে I কিন্তু এই ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন – সেখানে একজন পুরুষের থেকে আসা একটি বংশধরের (একজন ‘সে’) কোনো প্রতিশ্রুতি নেই I এটি কেবলমাত্র বলে যে সেখানে এক বংশধর হবে যে স্ত্রীটির থেকে আসছে, একজন পুরুষের উল্লেখ ছাড়াই I     

যিশাইয়র ‘এক কুমারীর পুত্র’ হয় স্ত্রীটির বংশধর  

এখন যিশাইয়র একজন কুমারীর থেকে এক পুত্রের সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপ্রেক্ষিত থেকে এটি স্পষ্ট যে উদ্যানের মধ্যে এমনকি বহু পূর্বে যা বোঝানো হয়েছিল তা ছিল যে একজন বংশধর (পুত্র) কেবলমাত্র একজন স্ত্রীর (এইরূপে কুমারী) থেকে আসবে I আমি আপনাকে আগ্রহ করি পেছনে ফিরে যেতে এবং এই পরিপ্রেক্ষিত থেকে আদমের চিহ্নর মধ্যে এই আলোচনা পড়তে এবং আপনি দেখবেন যে এটি ‘খাপ খায়’ I ইতিহাসের শুরু থেকে আদমের সমস্ত পুত্রদের একই সমস্যা আছে ‘ভুলকে খারিজ এবং সঠিককে চয়ন’ না করতে যেমন  আমাদের পূর্বপুরুষ আদম করেছিল I তাই আল্লাহ, ঠিক তখনই যখন জগতে পাপ এল, একটি প্রতিশ্রুতি করলেন যে পবিত্র কেউ এবং আদমের থেকে নয় আসবেন এবং শয়তানের মস্তক ‘চূর্ণ’ করবেন I       

কিন্তু এই পবিত্র পুত্র এটি কিভাবে করতে যাচ্ছিলেন? এটি যদি আল্লাহর থেকে একটি বার্তা দেওয়ার সম্বন্ধে হত, তবে ইব্রাহিম এবং মশির (পিবিইউএইচ) ন্যায় অন্যান্য ভাববাদীরা আগেই বিশ্বস্তভাবে বার্তাগুলো দিয়ে দিত I না, এই পবিত্র পুত্রের ভূমিকা ছিল ভিন্ন, কিন্তু এটিকে বুঝতে যাবুরের মধ্যে আরও অন্বেষণ করার আমাদের প্রয়োজন আছে I