ইনজীল শরীফ বিকৃত! এ সম্পর্কে হাদীস সমূহ কি বলে?

আমরা দেখেছি যে কুর’আনে বলা হয়েছে, বাইবেলের তাওরাত, জবুর এবং ইনজীল (আল কিতাব) বিকৃত হয়নি। কুর’আনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ইনজিলের অনুসারীরা নবী মুহাম্মদ(সাঃ) এর সময়ে, প্রায় ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ অব্দি আল্লাহর বার্তা প্রচার করেছিলেন – সুতরাং এ সময়ের পূর্বে এটি বিকৃত হয়নি। কুরআন ঘোষণা করে যে ইঞ্জিলের মূল বার্তাটি  ছিলঃ আল্লাহর বাণী, এবং . তাঁর কালাম কখনও পরিবর্তন করা যায় না। যেহেতু এই উভয় বিবৃতিই সত্য, এর অর্থ হলো আল কিতাবের কালামগুলো মানুষের পক্ষে বিকৃত করা অসম্ভব (তাওরাত, জবুর এবং ইনজীল =বাইবেল)।

হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) এবং বাইবেল

এই প্রসঙ্গে হাদীস ও সুন্নাহ কী বলে তা আমরা এখানে অধ্যয়ন করব। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) সময়ে নীচের হাদীসগুলি কিভাবে তওরাতের ও ইঞ্জিলের অস্তিত্ব এবং এর ব্যবহারকে নিশ্চিত করে তা লক্ষ্য করুন।

অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজাহ (রাঃ) তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনু নাওফাল ইবনু ‘আবদুল আসাদ ইবনু ‘আবদুল ‘উযযাহ’র নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ‘ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহর তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হতে ভাষান্তর করতেন। “আল-বুখারী খন্ড ১, গ্রন্থ ১, নং ৩

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহলে কিতাব (ইয়াহূদী) ইবরানী ভাষায় তাওরাত পাঠ করে মুসলিমদের কাছে তা আরবী ভাষায় ব্যাখ্যা করত। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবকে বিশ্বাসও কর না আর অবিশ্বাসও কর না এবং (আল্লাহর বাণী) ‘‘তোমরা বল, আমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনেছি এবং যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে . . . .’’ গ্রন্থ:সহীহ বুখারী (তাওহীদ) / হাদিস নাম্বার: 4485

আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ইয়াহূদীরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে বলল, তাদের একজন পুরুষ ও একজন মহিলা ব্যভিচার করেছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা সম্পর্কে তাওরাতে কী বিধান পেয়েছ? তারা বলল, আমরা এদেরকে অপমানিত করব এবং তাদের বেত্রাঘাত করা হবে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমরা মিথ্যা বলছ। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার বিধান রয়েছে। তারা তাওরাত নিয়ে এসে বাহির করল এবং প্রস্তর হত্যা করা সম্পর্কীয় আয়াতের উপর হাত রেখে তার আগের ও পরের আয়াতগুলি পাঠ করল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, তোমার হাত সরাও। সে হাত সরাল। তখন দেখা গেল প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করার আয়াত আছে। তখন ইয়াহূদীরা বলল, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যই বলছেন। তাওরাতে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যার আয়াতই আছে। গ্রন্থ:সহীহ বুখারী (তাওহীদ) / হাদিস নাম্বার:৩৬৩৫

ইবনু উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত।তিনি বলেন, একদা একদল ইয়াহুদী এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘কুফ’ নামক উপত্যকায় ততে আবেদন জানালো। তিনি তাদের এক পাঠাগারে উপস্থিত হলেন। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আমাদের এক ব্যক্তি জনৈকা মহিলার সঙ্গে যেনা করেছে। সুতরাং আপনি এদের সম্পর্কে ফায়সালা দিন। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বালিশ পেতে দিলো। তিনি তাতে বসে তাদের বললেনঃ তোমরা একখানি তাওরাত নিয়ে এসো। তাওরাত নিয়ে আসা হলে তিনি তাঁর নীচে বিছানো বালিশ টেনে নিয়ে তার উপর তাওরাত রাখলেন এবং বললেনঃ আমি তোমার প্রতি এবং তোমায় যিনি নাযিল করেছেন তার প্রতি ঈমান এনেছি। গ্রন্থ:সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) / হাদিস নাম্বার : 4449

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে সব দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। ঐ দিনেই আদম (আঃ) সৃষ্টি হয়েছিলেন, …..। কাব (রাঃ) বলেন, এইরূপ দু’আ কবুলের সময় সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক দিন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, বছরের একটি দিন নয়, বরং এটা প্রতি জুমুআর দিনের মধ্যে নিহিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর কাব (রাঃ) তার প্রমানস্বরূপ তাওরাত পাঠ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন।

গ্রন্থ:সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) / হাদিস নাম্বার: ১০৪৬

এগুলি অবিতর্কিত হাদীস যা বাইবেলের প্রতি হযরত মুহাম্মদ(সঃ)-এর মনোভাবের কথা বর্ণনা করে যেমনটি তfর সময়ে বিদ্যমান ছিল। প্রথম হাদীসটি আমাদের জানায় যে ইনজিলের অস্তিত্ব ছিল এবং যখন তিনি প্রথম আহ্বান পান তথনও এটি সহজলভ্য ছিল। দ্বিতীয় হাদীস আমাদের বলে যে ইহুদিরা ইবরানী ভাষায় তাওরাত প্রথম মুসলিম সমপ্রদায়ের কাছে পাঠ করেছিল। মহানবী(সাঃ) তাদের পাঠ্যাংশ নিয়ে বিতর্ক করেননি, তবে তাদের আরবী ব্যাখ্যার বিষয়ে নির্লিপ্ত ছিলেন(নিশ্চিন্ত বা অস্বীকারও করেননি)। পরবর্তী দুটি হাদীস আমাদের বলে দেয় যে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তার সময়ে তাওরাতকে সালিসি সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। শেষ হাদীসটি আমাদের দেখায় যে তাওরাত যেমন ঐ সময়ে বিদ্যমান ছিল, হযরত মুহাম্মদ(সাঃ)এর মানব সৃষ্টির দিন সম্পর্কে বিবৃতি যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল(এটি একটি জুমাবার ছিল)। এক্ষেত্রে, তাওরাত সয়ং হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) নিজে তার দেওয়া শিক্ষা যাচাই করার জন্য ব্যবহার করতেন, সুতরাং এটি অবশ্যই এ জাতীয় ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য ছিল। এই হাদীসের কোনওটিতেই  আমরা এমন কোনও ইঙ্গিত দেখতে পাই না, যেখানে বাইবেলের কালাম বিকৃত বা পরিবর্তিত হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ইঞ্জিলের প্রথম দিকের পান্ডুলিপি

প্রথম দিকের নতুন নিয়ম (ইনজীল) এর নথী সম্বলিত একটি বই আমার রয়েছে। এটি শুরু হয়েছেঃ

“এই বইটি দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে চতুর্থ (১০০-৩০০ এডি) এর শুরু পর্যন্ত নতুন নিয়মের হস্তলিপিগুলির ৬৯ টির অনুলিপি সরবরাহ করে … এতে নতুন নিয়মের প্রায় ২/৩ অংশ রয়েছে”

Preface p. 17. 2001

এটি উল্লেখযোগ্য কারণ এই পান্ডুলিপিগুলি রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন (সিএ ৩২৫ খ্রিস্টাব্দ) এর আগে আসে, কেউ কেউ মনে করেন যে বাইবেলের পাঠ্যকে পরিবর্তন করেছে। কনস্টান্টাইন যদি এটি বিকৃত করতেন তবে আমরা তার সময়ের পূর্বে (যেহেতু আমাদের সেগুলি রয়েছে) তার পরে আসা পাঠগুলির সাথে তুলনা করে এটি জানতাম। তবে কোনও পার্থক্য নেই।

একইভাবে, এই পান্ডুলিপিগুলো এবং বাইবেল অন্যান্য অনুলিপিগুলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনেক আগেই লিখিত হয়েছিল। এগুলি এবং অন্যান্য হাজার হাজার পাণ্ডুলিপিগুলি সারা বিশ্ব থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দের আগে থেকেই ছিল। যেহেতু নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ৬০০ খ্রিস্টাব্দে তার সময়ে বাইবেলকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন এবং নবী জীবিত থাকার শত শত বছর পূর্ব থেকে অদ্যাবধি বাইবেলর অনেক অনুলিপি রয়েছে – এবং সেগুলি আজকের বাইবেলের মতোই, কাজেই বাইবেল অবশ্যই অপরিবর্তিত।

এমনকি খ্রীস্টানদের দ্বারা এই কালামসমূহর পরিবর্তন করার ধারণাটিও ভিত্তিহীন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষের পক্ষে পরিবর্তনগুলির বিষয়ে একমত হওয়াও সম্ভব হত না। এমকি আরবেও যদি এগুলির পরিবর্তন করা হতো, তাহলে তাদের অনুলিপিগুলো এবং তাদের ভাইদের অনুলিপি সমূহের মধ্যকার পার্থক্য, বলতে পারেন সিরিয়া ও ইউরোপের, আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠত। কিন্তু পান্ডুলিপির অনুলিপিসমূহ সারা বিশ্বব্যাপি ও পিছনের দিনগুলোতে একই রকম রয়েছে। যেহেতু কোর’আন এবং হাদীস উভয়ই বাইবেলের কালামসমূহ স্পষ্টভাবে সমর্থন করে যেমনটি ৬০০ খ্রিস্টাব্দেও করা হতো এবং বাইবেল যেহেতু এই সময়ের অনেক আগে থেকে গ্রন্থিত পাণ্ডুলিপিগুলির উপর নির্ভরশীল, তাই আজকের বাইবেলটি বিকৃত হয়নি। নীচের সময়রেখাটি চিত্রিত করে যে, কিভাবে কালামসমূহ ৬০০ খ্রিস্টাব্দের বাইবেলর প্রারম্ভিক সময়ের ভিত্তিতে প্রদর্শিত হয়।

এমনকি তাওরাত ও জবুরের প্রাচীন পান্ডুলিপিসমূহ আরও প্রাচীনতম সময়ের। গোটনো পান্ডুলিপির সংগ্রহগুলো, মৃত সাগর পান্ডুলিপি নামে পরিচিত, যা ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে মৃত সাগরের কাছে পাওয়া যায়। এই পান্ডুলিপিগুলি পুরো তাওরাত এবং জবুরকে পরিপূরণ করে এবং এগুলি খ্রিস্টপূর্ব ২০০-১০০ সময়কার। এর অর্থ হ’ল আমাদের কাছে সেই সময়কার অনুলিপি রয়েছে, যা নবী ঈসা আল-মসিহ (আঃ) এবং নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) উভয়েরই আগে। যেহেতু তারা দু’জনেই প্রকাশ্যে তাওরাত ও জবুরকে ব্যবহার ও অনুমোদন দিয়েছিলেন যা তাদের কাছে ছিল, আমাদের নিশ্চয়তা আছে যে নবীদের এই প্রথম গ্রন্থগুলিও বিকৃত হয়নি। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আল কিতাবের নির্ভরযোগ্যতা (বা অপরিবর্তনযোগ্যতা) সম্পর্কে আমি এখানে আমার নিবন্ধে কি বোঝাতে চাচ্ছি তা বিশ্লেষণ করব।

হাদীসসমূহে হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাক্ষ্য এবং পাশাপাশি বাইবেলের পান্ডুলিপিসমূহের নেপথ্য জ্ঞান, কোর’আনের সাক্ষ্য অনুসারে একই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয় যে-বাইবেলের লেখা বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়নি।

এই সময়কার বাইবেলের (আল কিতাব) পান্ডুলিপি – অতি প্রাচিনকাল থেকে

পাঠগত সমালোচনা বিজ্ঞানের দেখা বাইবেল বিকৃত কি না

 “বাইবেলের বইগুলোকে কেন আমার পড়া উচিত? এটিকে এত দীর্ঘ সময় আগে লেখা হয়েছিল, এবং এর মধ্যে এত বেশি অনুবাদ এবং সংশোধন সমূহ করা হয়েছিল – আমি শুনেছি এর মূল্ বার্তাটি সময়ের সাথে বদলে গেছে I” আমি এটি তৌরাত, যাবুর এবং ইঞ্জিলের বই গুলোর সম্বন্ধে অনেক বার বলতে শুনেছি যা বাইবেলকে তৈরী করেছে I    

আমাদের মধ্যে অনেকের জন্য এটি হল তাই যা আমরা কেবল আল কিতাব/বাইবেলের সম্বন্ধে শুনেছি I যাই হোক, এটিকে দুহাজার বছরের অধিক সময়ের আগে লেখা হয়েছিল I সুতরাং আমরা কি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি যে আমরা আল কিতাব/বাইবেলের মধ্যে আজ যা পড়ি তা তাই হচ্ছে যা ভাববাদীরা এবং রচনাকারীরা বহু আগ লিখেছিলেন? ধর্ম ছাড়া, আর কোনো বৈজ্ঞানিক অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে কি জানার যে বাইবেল আমরা আজ পড়ি তা বিকৃত কিম্বা না?    

পাঠগত সমালোচনার মধ্যে মৌলিক নীতিমালা

অনেকে যারা এটি করে তারা উপলব্ধি করে না সেখানে একটি বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলা আছে, যাকে পাঠগত সমালোচনা বলা হয়, যার দ্বারা আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারি I আর যেহেতু এটি বৈজ্ঞানিক শৃঙ্খলা তাই এটি যে কোনো প্রাচীন রচনার উপরে প্রযোজ্য হয় I নিবন্ধটি দুটি প্রধান নীতি সমূহকে দেবে যা পাঠগত সমালোচনার মধ্যে ব্যবহৃত হয় এবং পরে তাদেরকে বাইবেলের মধ্যে প্রয়োগ করা হয় I এইরকম করতে গিয়ে আমরা প্রথমে এই নকশা দিয়ে আরম্ভ করি যা প্রক্রিয়াটিকে বর্ণনা করে যার দ্বারা যে কোনো প্রাচীন রচনা সময়ের সাথে সাথে সংরক্ষিত করা হয় যাতে আমরা এটকে আজ পড়তে পারি I   

একটি টাইমলাইন দেখাচ্ছে কিরূপে সমস্ত প্রাচীন বইগুলো আমাদের কাছে আজকে আসে

ই নক্সাটি 500 খ্রীষ্টপুর্বাব্দে লেখা বইয়ের একটি উদাহরণকে দেখায় I এই মূল যাইহোক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ী হয় না, সুতরাং এটি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া, হারিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস হওয়ার আগে, এর একটি হস্তলিপির (এমএসএস) প্রতিলিপি প্রস্তুত করা হয় (প্রথম প্রতিলিপি) I লোকেদের এক পেশাদারী শ্রেণীকে স্ক্রাইবস বলা হত যারা অনুকরণের কার্যকে করেছিল I বছর বাড়ার সাথে সাথে, প্রতিলিপির থেকে প্রতিলিপি তৈরী হয় (দ্বিতীয় প্রতিলিপি এবং তৃতীয় প্রতিলিপি)I আমাদের উদাহরণ নক্সার এই বর্তমান বিদ্যমান প্রতিলিপিটি 500 খ্রীষ্টাব্দে তৈরী হয়েছিল I এর অর্থ হল যে প্রাচীনতম যেটিকে আমরা বইয়ের অবস্থা থেকে জানতে পারি তা কেবলমাত্র 500 খ্রীষ্টাব্দ থেকে শুরু হয় I সুতরাং 500 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ থেকে 500 খ্রীষ্টাব্দ সময়কাল (নক্সার মধ্যে X রূপে লেবেল করা হয়েছে) এমন সময়্জেখানে আমরা কোনো প্রতিলিপিকে পরিক্কা করতে পারি না যেহেতু সমস্ত হস্তলিপিগুলো এই সময়কাল থেকে অন্তর্নিহিত হয়ে গেছে I উদাহরণস্বরূপ, প্রথম প্রতিলিপি থেকে দ্বিতীয় প্রতিলিপি করার সময় যদি বিকৃতি সমূহ ঘটে থাকে, আমরা সেগুলোকে খুঁজে বের করতে পারব না নাতো এই নথিগুলোকে একে ওপরে বিরুদ্ধে তুলনা করার জন্য উপলব্ধ হয় না I বিদ্যমান প্রতিলিপিগুলোর পূর্বের সময় (সময়কাল X) এইরূপে পাঠগত অনিশ্চয়তার প্রথম নীতি হচ্ছে – যেখানে বিকৃতি ঘটতে পারত না I সুতরাং, পাঠগত সমালোচনার প্রথম নীতি হল যে যে সংক্ষিপ্ত এই মধ্যবর্তী X আমরা আমাদের সময়ে নথির সঠিক সংরক্ষণের মধ্যে আরো অধিক আত্মবিশ্বাস স্থাপন করতে পারি, যেহেতু অনিশ্চয়তার সময় কমে গেছে I

অবশ্যই, সাধারণতঃ আজকে একটি নথির একটি হস্তলিপির প্রতিলিপির অধিক বিদ্যমান আছে I মনে করুন আমাদের কাছে দুটি হস্তলিপির প্রতিলিপি আছে আর তাদের প্রতিটির একই বিভাগের মধ্যে নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো আছে:   

এটি একটি স্পন্দনশীল অধ্যয়ন দেখায় (একজন বলে ‘যোয়ান’ আর অন্যজন বলে ‘যোহন’) কিন্তু কেবলমাত্র অল্প হস্তলিপি সমূহের সাথে এটি নির্ধারণ করা কঠিন কোন একটি ভুলের মধ্যে আছে I  

মূল রচনাকারী হয়ত যোয়ান বা যোহনের সম্বন্ধে লিখছিলেন, এবং অন্যজন যার এই হস্তলিপিগুলোর মধ্যে একটি ভুল আছে I প্রশ্ন হল – কোনটির মধ্যে ভুল আছে? উপলব্ধ স্বাক্ষীর থেকে সিদ্ধান্ত করা খুব কঠিন I   

এখন মনে করুন আমরা একই কার্যের আরও দুটি হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলো দেখেছি, যেমন নিচে দেখানো হয়েছে:

এখন আমাদের কাছে চারটি হস্তলিপি সমূহ আছে এবং এটি দেখা সহজ কোনটির মধ্যে ভুল আছে I

 এখন এটি সিদ্ধান্ত করা সহজ কোন প্রতিলিপির মধ্যে ভুল আছে I এটি খুব সম্ভবত যে ভুল একবারই ঘটে, একই ভুল তিনবার ঘটার চেয়ে, তাই এটি সম্ভবত: যে এমএসএস #2 তে প্রতিলিপি ভুল আছে, এবং রচনাকারী যোয়ান সম্বন্ধে লিখছিলেন যোহন সম্বন্ধে নয় I ‘যোহন’ বিকৃত হয় I

এই সরল উদাহরণটি পাঠগত সমালোচনার মধ্যে দ্বিতীয় নীতিকে বর্ননা করে: আরও অধিক হস্তলিপি সমূহ যা আজকের দিনে বিদ্যমান সেগুলোকে খুঁজে বের করা এবং ভুলগুলোকে সংশোধন করা এবং যা মূল বলে তা জানা সহজ হয় I    

ঐতিহাসিক বইগুলোর পাঠগত সমালোচনা

সুতরাং এখন বৈজ্ঞানিক পাঠগত সমালোচনার আমাদের কাছে দুটি নীতি আছে যা যে কোনো প্রাচীন বইয়ের পাঠগত বিশ্বাসযোগ্যতার সিদ্ধান্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়: 1)মূল রচনা এবং বিদ্যমান প্রাচীনতম হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলোর মধ্যে সময়ের পরিমাপ করা, এবং 2) বিদ্যমান হস্তলিপির প্রতিলিপিগুলোর সংখ্যা গণনা করা I যেহেতু এই নীতিগুলো সমস্ত প্রাচীন রচনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় আমরা সেগুলোকে বাইবেল তথা অন্য প্রাচীন বইগুলো উভয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারি, যেমন নিচের টেবিলে করা হয়েছে (ম্যাকডয়েল, জে. এভিডেন্স দ্যাট ডিমান্ডস এ ভার্ডিক্ট I 1979 পৃষ্ঠা 42-48) I       

রচনাকারী রচনার সময় প্রাচীনতম প্রতিলিপি  সময় পরিধি #
কৈসরিয়া 50 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 খ্রীষ্টাব্দ 950 10
প্লেটো 350 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 AD খ্রীষ্টাব্দ 1250 7
এরিস্টটল* 300 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 1100 AD খ্রীষ্টাব্দ 1400 5
থুসিডাইডিস্ 400 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 AD খ্রীষ্টাব্দ 1300 8
হেরোদোতাস 400 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 900 AD খ্রীষ্টাব্দ 1300 8
সোফোক্লেস 400 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 1000 AD খ্রীষ্টাব্দ 1400 100
টেসিটাস  100 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 1100 AD খ্রীষ্টাব্দ 1000 20
প্লিনী  100 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ 850 AD খ্রীষ্টাব্দ 750 7

* যে কোনো একটি কার্য থেকে

এই রচনাকারীগণ প্রাচীন কালের মুখ্য সর্বোৎকৃষ্ট লেখকদের প্রতিনিধিত্ব করে – সেই রচনাগুলো যা আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতিকে আকার দিয়েছে I গড়পরতায়, তাদেরকে আমাদের কাছে 10 থেকে 100 হস্তলিপি সমূহের দ্বারা যাকে মূল লেখার আগে কেবলমাত্র প্রায় 1000 বছরের শুরুতে সংরক্ষিত করে রাখা  হয়েছে I   

বাইবেল/আল কিতাবের পাঠগত সমালোচনা

নিম্নলিখিত টেবিলটি বাইবেলীয় (ইঞ্জিল অথবা নির্দিষ্টভাবে নতুন নিয়ম) রচনা সমূহকে এই একই বিষয়গুলোর সাথে তুলনা করে (কম্ফর্ট থেকে গৃহীত, পি.ডব্লিউ. দি অরিজিন অফ দি বাইবেল I 1992. পৃষ্ঠা. 193) I

এমএসএস রচনার সময় এমএসএস এর তারিখ সময়ের পরিধি
জন রায়লন 90  খ্রীষ্টাব্দ 130  খ্রীষ্টাব্দ 40 yrs
বদমার পাপায়রস 90  খ্রীষ্টাব্দ 150-200  খ্রীষ্টাব্দ 110 yrs
চেষ্টার বেট্টি 60  খ্রীষ্টাব্দ 200  খ্রীষ্টাব্দ 140 yrs
Codex কোডেক্স  ভ্যাটিকানাস 60-90  খ্রীষ্টাব্দ 325  খ্রীষ্টাব্দ 265 yrs
কোডেক্স  সিনাই টিসাস 60-90  খ্রীষ্টাব্দ 350  খ্রীষ্টাব্দ 290 yrs


বাইবেল/আল কিতাবের পাঠগত সমালোচনার সংক্ষিপ্তসার

নতুন নিয়মের হস্তলিপিগুলোর সংখ্যা এত বিশাল যে তাদেরকে সকলে একটি টেবিলে তালিকাভুক্ত করা অসম্ভব হত I একজন পন্ডিত যেমন একাধিক বছর  এই বিষয়টির অধ্যয়ন করে বলেন:

 “আমাদের কাছে আজকে বিদ্যমান নতুন নিয়মের অংশের 24000 এর বেশি এমএসএস প্রতিলিপি আছে…প্রাচীন কালের অন্য কোন নথি এই ধরণের সংখ্যা সমূহ এবং স্বাক্ষ্যকে এপ্রোচ করতে এমনকি আরম্ভও হয়  নি I তুলনামূলকভাবে, হোমারের ইলিয়্ড 643 এমএসএস এর সাথে দ্বিতীয় হচ্ছে যা এখনও টিকে আছে I”

ম্যাকডোয়েল, জে. এভিডেন্স দ্যাট ডিমান্ডস এ ভার্ডিক্ট, পৃষ্ঠা 40

ব্রিটিশ মিউসিয়ামের একজন বিশিষ্ট পন্ডিত এর সাথে একমত হন:

“পন্ডিতগণ সন্তুষ্ট যে তাদের কাছে যথেষ্টভাবে প্রধান গ্রীক এবং রোমীয় লেখকদের প্রকৃত পাঠ্যপুস্তক রয়েছে…তথাপি তাদের রচনা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞান কেবলমাত্র একটি অল্প পরিমাণ এমএসএস এর উপরে নির্ভর করে যেখানে নতুন নিয়মের এমএসএস গণনা করা হয়…হাজারে” কেনিয়ন, এফ.জি.

ব্রিটিশ মিউসিয়ামের পূর্ব নির্দেশক) আওয়ার বাইবেল এন্ড দি  এনসিয়েন্ট ম্যানসক্রিপ্টস I 1941 পৃষ্ঠা. 23

প্রাচীনতম নতুন নিয়মের নথি সমূহ সম্বন্ধে আমার কাছে একটি বই আছে I এটি আরম্ভ হয়:

 “এই বইটি প্রাচীনতম নতুন নিয়মের হস্তলিপি সমূহের 69 প্রতিলিপিকরণ প্রদান করে…দ্বিতীয় শতাব্দীর গোড়ার থেকে চতুর্থ শতাব্দীর আরম্ভের তারিখ পর্যন্ত (100-300 খ্রীষ্টাব্দ)…নতুন নিয়ম পাঠ্যপুস্তকর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ রয়েছে”

পি কম্ফর্ট, “দি টেক্সট অফ দি আর্লিয়েস্ট নিউ টেস্টামেন্ট গ্রীক মানসক্রিপ্টস” মুখবন্ধ পৃষ্ঠা. 17. 2001

অন্য কথায়, নতুন নিয়মের মূল রচনাগুলোর পরে এই সমস্ত বিদ্যমান হস্তলিপিগুলোর অনেকগুলো অত্যন্ত প্রাচীন, কেবল এক শত বছর বা এইরকম I এই হস্তলিপিগুলো কনটেন্সটাইনের শক্তি এবং রোমীয় মন্ডলীর উত্থানের আগে আসে I আর তারা ভূমধ্যসাগরীয় জগতের চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় I যদি এক অঞ্চল থেকে কিছু বিকৃত হয়ে যায় তবে এটিকে অন্যান্য অঞ্চলসমূহের হস্তলিপিগুলোর সঙ্গে তুলনা করে আমরা দেখব I কিন্তু তারা একই হয় I   

সুতরাং এর থেকে আমরা কি সিদ্ধান্ত করতে পারি? নিশ্চিতরূপে কমপক্ষে যার মধ্যে আমরা নিরপেক্ষভাবে নতুন নিয়মকে (ইঞ্জিল) পরিমাপ করি (একাধিক এখনও বিদ্যমান এমএসএস সমূহ এবং মূল ও প্রাচীনতম এমএসএস এর মধ্যে সময় ব্যাপ্তি) যাকে অন্যান্য উৎকৃষ্ট রচনা সমূহের চেয়ে খুব বেশিভাবে সমর্থন করা হয় I রায় যার প্রতি স্বাক্ষ্য আমাদের ঠেলে দেয় তাকে নিম্নলিখিতভাবে উৎকৃষ্টরূপে সংক্ষিপ্তসার করা হয়:       

“নতুন নিয়মের পরিণামস্বরূপ পাঠ্যপুস্তক সম্বন্ধে সন্দেহপূর্ণ হওয়া হল উৎকৃষ্ট প্রাচীনত্বকে দুর্বোধ্যতার মধ্যে পিছলিয়ে যেতে অনুমতি দেওয়া, কারণ প্রাচীন কালের অন্য কোনো নথি সমূহকেও নতুন নিয়মের মতন গ্রন্থ-পঞ্জীরূপে সত্যায়িত করা হয়”  

মোন্টগোমারি, হিস্ট্রি এন্ড খ্রিস্টিয়ানিটি. 1971. পৃষ্ঠা 29 

তিন যা বলেছেন তা হল যে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া, আমরা যদি আল কিতাবের (বাইবেল) বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করি তাহলে যা আমরা সাধারনভাবে উৎকৃষ্ট ইতিহাসের সম্বন্ধে জানি তার সব কিছুকেও বাতিল করতে পারি – আর আজ অবধি কোনো ঐতিহাসিক এটি করে নি I কেন হেরোদোতাসের রচনা সমূহকে অপরিবর্তিত বলে গ্রহণ করি যখন সেগুলো কেবলমাত্র আটটি হস্তলিপি সমূহের মধ্য দিয়ে প্রাচীনতম বিদ্যমান প্রতিলিপির রচনার সময় থেকে এক 1300 বছরের তফাতের সঙ্গে নেমে এসেছে যদি আমরা মনে করি বাইবেল পাঠ্যপুস্তক বিকৃত হয়েছে যখন এটির মধ্যে 24000 হস্তলিপি সমূহ রয়েছে, যেগুলোর কিছু প্রথম রচনার কেবলমাত্র 100 বছর পরে হয় I যার কোন অর্থ হয় না I  আমরা জানি যে বাইবেলীয় পাঠ্যপুস্তকগুলোকে যুগ, ভাষা হিসাবে বদল করা হয় নি এবং সাম্রাজ্যগুলো এসেছে ও গেছে যবে থেকে প্রাচীনতম বিদ্যমান এমএসএস এই ঘটনাগুলোর পূর্বে এসেছে I উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি যে কোনো পোপ বা রোমীয় সম্রাট কনস্টেনটাইন বাইবেলকে পরিবর্তন করেছে জবে থেকে আমাদের কাছে হস্তলিপি সমূহ আছে যেগুলো কনস্টেনটাইন এবং পোপের থেকে পুরনো এবং এই সমস্ত হস্তলিপিগুলোর মধ্যে একই বিবরণ সমূহ রয়েছে I যে হস্তলিপিগুলোকে আজ বিবল অনুবাদের জন্য ব্যবহার করা হয় তা ভাববাদী পিবিইউএইচের সময়ের আগে আসে, এবং ঘটনা হল যে তিনি বাইবেলকে সমর্থন করেছেন যেমন তিনি এটিকে তার সময়ে দেখেছেন যা তাত্পর্যপূর্ণ যবে থেকে আমরা কেবলমাত্র ব্যবহৃত হস্তলিপি সমুহর থেকে জানি যে তার সময় থেকে এর কোনো পরিবর্তন হয় নি I

এটিকে নিম্নলিখিত টাইমলাইনে দেখানো হয়েছে যেখানে হস্তলিপির স্রোতগুলো যেগুলো আধুনিক বাইবেল অনুবাদ করতে ব্যবহার করা হয় তাকে অনেক আগে আসতে দেখান হয়েছে I     

আধুনিক বাইবেলগুলোকে প্রাচীনতম বিদ্যমান হস্তলিপি সমূহ থেকে অনুবাদ করা হয়েছে, 100-130 খ্রীষ্টাব্দ থেকে অনেক I এই স্রোত হস্তলিপিগুলো কনটেন্সটাইন অথবা অন্যান্য ধর্মীয়-রাজনৈতিক ক্ষমতার অনেক আগে আসে, এবং ভাববাদী মহম্মদ পিবিইউএইচ এর সময়ের আগে I

সংক্ষিপ্তসার করতে, না সময় আর নাতো খ্রিস্টিয়ান নেতারা মূল ধারণা এবং বার্ত্যাগুলোকে বিকৃত করেছে যেগুলোকে আল কিতাব বা বাইবেলের মূল রচনা সমূহের মধ্যে প্রথমে রাখা হয়েছে I আমরা জানতে পারি যে এটি সঠিকভাবে পড়ে যা রচনাকারীরা অনেক সহস্র প্রাচীন হস্তলিপি সমূহের থেকে আসলে লিখেছিলেন যা আজকের দিনে আমাদের কাছে আছে I পাঠগত সমালোচনার বিজ্ঞান আল কিতাবের (বাইবেল) বিশ্বাসযোগ্যতাকে সমর্থন করে I  

ইউনিভার্সিটি বক্তৃতার মধ্যে পাঠগত সমালোচনা

বেশ দীর্ঘ সময় আগে কানাডার ওয়েস্টার্ন অন্টারিও ইউনিভার্সিটিতে একটি প্রকাশ্য বক্তৃতা দিতে আমি বিশেষ সুযোগ পেয়েছিলাম I ইংরেজিতে বক্তৃতার অংশের 17 মিনিটের একটি ভিডিও নিচে আছে যেটি এই প্রশ্নকে আবৃত করে I

এ পর্যন্ত আমরা কেবল নতুন নিয়ম – ইঞ্জিলের পাঠগত সমালোচনার প্রতি প্রকৃতরূপে দেখেছি I কিন্তু তৌরাত এবং যাবুরের সম্বন্ধে কি – যে বইগুলো পুরনো নিয়মকে তৈরী করেছে? নিচের 7 মিনিটের ইংরেজি ভিডিওতে আমি পুরনো নিয়মর পাঠগত সমালোচনার নীতিমালাকে সংক্ষিপ্তসার করেছি I  

কুরআন বাইবেলের পরিবর্তে প্রতিস্থাপিত। এসম্পর্কে কুরআন কি বলে?

আমরা দেখেছি যে কুরআন ও সুন্নাহ উভয়ই নিশ্চিত করে যে বাইবেল (তওরাত,  জবুর এবং ইঞ্জিল যা একত্রে আল কিতাব) পরিবর্তন করা হয়নি বা বিকৃত হয়নি (এখানে এবং এখানে দেখুন)  । তবে প্রশ্নটি এখনও  রয়ে যায় যে বাইবেল / আল কিতাব কুরআন দ্বারা রহিত, বাতিল বা প্রতিস্থাপন হয়েছে কিনা। কুরআন নিজেই এই ধারণা সম্পর্কে কি বলে?  

আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।

সূরা ৫:৪৮  আল মায়েদাহ

এর আগে মূসার কিতাব ছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এই কিতাব তার সমর্থক আরবী ভাষায়, যাতে যালেমদেরকে সতর্ক করে এবং সৎকর্মপরায়ণদেরকে সুসংবাদ দেয

সূরা ৪৬:১২ আল আক্বাফ

এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় নামায সংরক্ষণ করে।

সূরা ৬:৯২ আল  আন-আম 

আমি আপনার প্রতি যে কিতাব প্রত্যাদেশ করেছি, তা সত্য-পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়ন কারী নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে সব জানেন, দেখেন।

সূরা ৩৫:৩১

এই আয়াতগুলো কুরআন বাইবেলের (আল কিতাব)পূর্ববর্তী বার্তা সমূহ নিশ্চিত (না রহিত করন, না বাতিল করন অথবা না প্রতিস্থাপন) করার কথা বলে । অন্য কথায়, এই আয়াত বলছে না যে বিশ্বাসীদের প্রথম প্রকাশিত প্রত্যাদেশ বাদ দেওয়া  উচিত এবং কেবল পরবর্তী প্রত্যাদেশ অধ্যয়ন করা উচিত। বিশ্বাসীদের  উচিত পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশ অধ্যয়ন করা এবং সে সম্পর্কে জানা। 

এটি আয়াত দ্বারা আরোও নিশ্চিত করা হয়েছে যে বিভিন্ন প্রত্যাদেশ সমূহের মধ্যে “কোনও পার্থক্য নে“। এখানে এমন দুটি আয়াত আমি লক্ষ্য করেছি:

রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

সূরা ২:২৮৫

তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।

সূরা ২:১৩৬

প্রথম আয়াতে  বলা হয়েছে  যে পয়গম্বদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই – তাদের সকলের কথা শোনা উচিত এবং ২য়টি বলে যে বিভিন্ন নবীদের দেওয়া প্রত্যাদেশ সমূহের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই – তাদের সব গ্রহণ করা উচিত। এ আয়াতের কোনটিতেই পূর্ববর্তী প্রত্যাদেশসমূহ অবহেলা করা উচিত বলে কোন পরামর্শ নেই কারণ পরবর্তী আয়াতটি তা বাতিল করে দিয়েছে।

এবং এই নিদর্শনটি ঈসা আল মাসিহ ( আ: ) এর দৃষ্টান্ত এবং শিক্ষার সাথে খাপ খায়। তিনি নিজেই বলেননি তৌরাত এবং তারপর জবুরের প্রথম দিকের প্রত্যাদেশসমূহ বাতিল করা হয়েছিল। আসলে তিনি বিপরীতটি শিখিয়েছিলেন। তিনি ইঞ্জিলের নিজস্ব শিক্ষায় মুসার তৌরাতকে যে সন্মান এবং ক্রমাগত এবং নিরবচ্ছিন্ন গুরুত্ব দিয়েছেন তা লক্ষ করুন।  

নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলে, মসীহ ইবনে মরিয়মই আল্লাহ। আপনি জিজ্ঞেস করুন, যদি তাই হয়, তবে বল যদি আল্লাহ মসীহ ইবনে মরিয়ম, তাঁর জননী এবং ভূমন্ডলে যারা আছে, তাদের সবাইকে ধ্বংস করতে চান, তবে এমন কারও সাধ্য আছে কি যে আল্লাহর কাছ থেকে তাদেরকে বিন্দুমাত্রও বাঁচাতে পারে? নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, সবকিছুর উপর আল্লাহ তা’আলার আধিপত্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান। 18 ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়জন। আপনি বলুন, তবে তিনি তোমাদেরকে পাপের বিনিময়ে কেন শাস্তি দান করবেন? বরং তোমারও অন্যান্য সৃষ্ট মানবের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষ। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন। নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে, তাতে আল্লাহরই আধিপত্য রয়েছে এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। 19 হে আহলে-কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রসূল আগমণ করেছেন, যিনি পয়গম্বরদের বিরতির পর তোমাদের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করেন-যাতে তোমরা একথা বলতে না পার যে, আমাদের কাছে কোন সুসংবাদদাতা ও ভীতিপ্রদর্শক আগমন করে নি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শক আগমন করেননি। অতএব, তোমাদের কাছে সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শক এসে গেছেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর শক্তিমান। 20 যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি।

মথি ৫:১৭-২০

আসলে, তার শিক্ষাকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তিনি শিখিয়েছিলেন যে প্রথমে কাউকে তৌরাত এবং পরে জবুর এ যেতে হবে। এখানে আছে তিনি তার নিজের সাহাবীদের কিভাবে শিখিয়েছিলেন :

হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্য গৃহে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম না কর। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ

লূক ২৪:২৭

আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।

লূক ২৪:৪৪

ঈসা আল মসীহ ( আ:)  পূর্ববরতী প্রত্যাদেশগুলো উপেক্ষা করেননি। বাস্তবে তিনি সেখান থেকেই তার শিক্ষাদান এবং নির্দেশনা শুরু করেছিলেন। এই কারনেই ইঞ্জিলকে বুঝতে পারার ভিত্তি হিসেবে তৌরাতের শুরু থেকে আরম্ভ করার মধ্যে দিয়ে

আমরা তার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করি।

ইঞ্জিল বিকৃত হয়েছে! কুরআন কি বলে?

আমার অনেক মুসলমান বন্ধু আছেন। এবং যেহেতু আমি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী, এবং ইঞ্জিলের একজন অনুসারী, আমি আমার মুসলমান বন্ধুদের সাথে বিশ্বাস এবং আস্থা সম্পর্কে নিয়মিত আলোচনা করি। প্রকৃত অর্থে আমাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে প্রচুর মিল রয়েছে, যা ধর্মনিরপেক্ষ পশ্চিমা লোকদের যারা আল্লাহ্ কে বিশ্বাস করেন না, অথবা তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এমন বিশ্বাসকে খুজে থাকেন তাদের চেয়েও বেশি। তবুও প্রায়ই আমার আলোচনায় একটি ব্যতিক্রম দাবি শুনা যায় যে ইঞ্জিল(এবং জবুর  এবং তৌরাত যা পরিপূরণ করে আল কিতাব=বাইবেল)বিকৃত হয়েছে, বা পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে আমরা আজ যে বার্তাটি পড়ি তা হলো অধঃপতিত এবং ত্রুটিপূর্ণ, যা প্রথমে অনুপ্রানিত এবং লিখিত হয়েছিল নবীদের এবং আল্লাহর সাহাবীদের দ্বারা। এখন এটি আর কোনো ছোট দাবি নয়, কারণ এর অর্থ হলো আল্লাহর সত্য প্রকাশ করতে আমরা বাইবেল যেভাবে পড়ি সেভাবে বিশ্বাস করতে পারি না। আমি বাইবেল (আল কিতাব)এবং পবিত্র কুরআন উভয়ই পড়ি এবং চর্চা করি এবং সুন্নাহ অধ্যায়ন শুরু করেছি। আমি যেটি চমকপ্রদ মনে করি তা হ’ল বাইবেল সম্পর্কে সন্দেহের এই আত্মা যদিও আজ খুব সাধারণ, তবুও আমি এটি আল কুরআনে কোথাও পাই না। আসলে, পবিত্র কুরআন বাইবেলকে কতটা বেশী গুরুত্ব দেয় তা আমাকে সবচেয়ে বেশী চমকে দিয়েছে। আমি কী বলতে চাইছি তা সংক্ষেপে দেখাতে চাই। 

কুরআন বাইবেল (আল কিতাব) সম্পর্কে কি বলে:

বলে দিনঃ হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা কোন পথেই নও, যে পর্যন্ত না তোমরা তওরাত, ইঞ্জিল এবং যে গ্রন্থ তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাও পুরোপুরি পালন না কর। আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে আপনার প্রতি যা অবর্তীণ হয়েছে, তার কারণে তাদের অনেকের অবাধ্যতা ও কুফর বৃদ্ধি পাবে। সূরা আল মায়েদা ৫:৬৮ (মেজ)

আরো দেখুন ৪:১৩৬

সুতরাং তুমি যদি সে বস্তু সম্পর্কে কোন সন্দেহের সম্মুখীন হয়ে থাক যা তোমার প্রতি আমি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, তোমার পরওয়ারদেগারের নিকট থেকে তোমার নিকট সত্য বিষয় এসেছে। কাজেই তুমি কস্মিনকালেও সন্দেহকারী হয়ো না। সূরা

সূরা ইউনুস ১০:৯৪ যোনা

আমি এটি লক্ষ্য করেছি, এটি ঘোষণা করে যে প্রত্যাদেশ যা দেওয়া হয়েছিল “কিতাবের লোকদের” (খ্রীষ্টিয়ান ও ইহুদী) তা আল্লাহ প্রদত্ত। এখন আমার মুসলিম বন্ধুরা বলছেন যে এটি আসল প্রত্যাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে যেহেতু আসলটি বিকৃত হয়েছে তাই এটি আজকের ধর্মগ্রন্থে প্রযোজ্য নয়। তবে ২য় অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করে যে, যারা ইহুদী ধর্মগ্রন্থ পড়ছেন (বর্তমান কাল অতীত কাল নয়, যেমন “পড়েছিলেন”)। এটি আসল প্রত্যাদেশ সম্পর্কে বলছে না, কিন্তু এই গ্রন্থগুলি সেই সময়ের যখন আল কুরআন নাযিল হয়েছিল। এটি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে প্রায় ৬০০ খ্রীষ্টাব্দ পরবর্তি সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। তাহলে এই অনুচ্ছেদ প্রমান করে ইহুদী ধর্মগ্রন্থ ৬০০ খ্রীষ্টাব্দে যেমন ছিল এখন তেমই আছে। অনান্য অনুচ্ছেদগুলিও একই রকম। বিবেচনা করুণঃ 

আপনার পূর্বেও আমি প্রত্যাদেশসহ মানবকেই তাদের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; সূরা আন-

নাহল ১৬:৪৩ (মেীমাছি

আপনার পূর্বে আমি মানুষই প্রেরণ করেছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। অতএব তোমরা যদি না জান তবে যারা স্মরণ রাখে তাদেরকে জিজ্ঞেস কর। সূরা আল

আম্বিয়া ২১:৭ (নবীগন

এগুলি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্ববর্তী প্রেরিতদের কথা বলে। তবে, গুরুতরভাবে তারা নিশ্চিত করে যে এই প্রেরিতদের/নবীদের দেওয়া আল্লাহর বার্তগুলি তাদের অনুসারীদের (৬০০ খ্রীষ্টাব্দে) কাছে এখনও বর্তমান। প্রত্যাদেশ সমূহ আদিতে যেভাবে নাজিল হয়েছিল নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়কালে তা বিকৃত হয়নি।   

পবিত্র কুরআন বলে যে আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করা যায় না       

তবে আরও শক্তিশালী অর্থে, এমনকি আল কিতাবের বিকৃতি/পরিবর্তন সম্ভাবনা পবিত্র কুরআন দ্বারা সমর্থিত নয়। স্মরণে রাখুন আল-মায়েদা ৫:৬৮ (শরীয়ত…সুসমাচার … আল্লাহর নিকট থেকে আগত প্রত্যাদেশ), এবং নিম্ন লিখিত বিষয়গুলি বিবেচনা করুনঃ

আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে। সূরা আল আন-

আম ৬:৩৪ (গবাদি পশু

আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুষম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। সূরা আল আন-

আম ৬:১১৫ (গবাদি পশু

তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব জীবনে ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কখনো হের-ফের হয় না। এটাই হল মহা সফলতা।

সূরা ইউনুস ১০:৬৪ (যোনা

আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না। সূরা আল কা

কাহফ ১৮:২৭ (গুহা

সুতরাং, আমরা যদি একমত হই যে মুহাম্মদ (সাঃ) এর পূর্ববর্তী নবীগনের উপর আল্লাহর প্রত্যাদেশ নাযিল হয়েছিল (যেমন মায়েদাহ্ ৫:৬৮-৬৯ এ বলেছেন), এবং পরবর্তিতে এই আয়াতগুলি যেহেতু বার বার খুব স্পষ্ট করে বলে যে কেউ আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে পারে না, তাহলে কীভাবে কেউ বিশ্বাস করতে পারেন যে তাওরাত, জাবুর এবং ইঞ্জিল (অর্থাৎ আল কিতাব = বাইবেল)মানুষের দ্বারা বিকৃত বা পরিবর্তন করা হয়েছিল? বাইবেল বিকৃত বা পরিবর্তিত হয়েছে তা বিশ্বাস করার জন্য খোদ কুরআনকেই অস্বীকার করা হবে। 

প্রকৃত পক্ষে, আল্লাহর নিকট থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রত্যাদেশ বিচারের এই ধারণাটি অন্যেদের থেকে ভালো বা খারাপ যদিও বাপকভাবে বিশ্বা্স করা হয়, তবে এটি কুরআনে সমর্থিত নয়। 

তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।”

আরো দেখুন ২:২৮৫

সুতরাং প্রত্যাদেশ সমূহকে বিচারের ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য থাকা উচিত নয়। এটি আমাদের অধ্যয়নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্য কথায়, আমাদের উচিত সকল কিতাব সমূহ অধ্যয়ন করা। আসলে আমি মুসলমানদের বাইবেল অধ্যয়নের সাথে সাথে খ্রীষ্টিয়ানদের কুরআন অধ্যয়ন করার আহ্বান জানাই। 

এই বইগুলি অধ্যয়ন করতে সময় এবং সাহস লাগে। অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হবে। নবীগন যে সমস্ত কিতাব প্রকাশ করেছেন তা থেকে শিক্ষা গ্রহন করার জন্য – নিশ্চয়ই পৃথিবীতে এটি আমাদের সময়ের সার্থক ব্যবহার হবে । আমি জানি যে আমার পক্ষে, যদিও পবিত্র কিতাব সমূহ অধ্যয়ন করতে আমার অনেক সময় এবং সাহস লেগেছে, এবং এটি আমার মনে অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তবুও এটি একটি ফলপ্রসূ অভিজ্ঞতা এবং এতে আমার উপর আল্লাহর নেয়ামত অনুভব করেছি। আমি আশা করি আপনি এই ওয়েবসাইটটির কিছু নিবন্ধ এবং শিক্ষাসমূহ জানতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন । বোধ হয় শুরু করার জন্য ভাল হবে, যদি হাদীস সমূহ এবং হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) তৌরাত, জবুর এবং ইঞ্জিল সম্পর্কে কি ভাবেন এবং ব্যবহার করেন সে সম্পর্কিত নিবন্ধটি থেকে শুরু করা যায় (যে বইগুলি কিতাব পরিপূরণ করে = বাইবেল)। এই নিবন্ধটির লিংক এখানে। সমস্ত প্রাচীন কিতাব সমূহের নির্ভরযোগ্যতা কীভাবে নিরূপিত করা হয়েছে, বিজ্ঞানসম্মত এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাইবেলকে বিশ্বাসযোগ্য বা বিকৃত বলে বিবেচনা করা হয় কিনা সে বিষয়ে আপনার যদি বৈজ্ঞানিক আগ্রহ থাকে তবে এই নিবন্ধটি দেখুন।