তৌরাত আশ্বীর্বাদ এবং অভিশাপের সাথে সমাপ্ত করে

আমাদের গত পোস্টে আমরা দেখলাম আল্লাহ এমন মানদণ্ড দিলেন যাতে আমরা প্রকৃত ভাববাদীদের চিনতে পারি – যে তাদের বার্তার অংশ রূপে তারা ভবিষ্যতের ভবিষ্যদ্বাণী করে I ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) স্বয়ং এই নিয়মকে প্রয়োগ করলেন – ইস্রাযেলীয়দের ভবিষ্যত সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী কোরে – যদি তার বার্তা আল্লাহর থেকে এসে থাকে তবে তা সত্য হওয়ার ছিল I এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো ইস্রায়েলীয়দের উপরে অভিশাপ এবং আশীর্বাদ রূপে আসছিল I আপনি এখানে সম্পূর্ণ আশীর্বাদ এবং অভিশাপগুলোকে পড়তে পারেন I মুখ্য বিন্দুগুলো নিচে রয়েছে I   

মশির আশীর্বাদ

ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) চমৎকার আশীর্বাদগুলোকে বর্ণনা করার দ্বারা আরম্ভ করেন যে ইস্রায়েলীয়রা যদি আজ্ঞা সমূহ মেনে চলে তবে তারা সেগুলো পাবে I এই আশীর্বাদগুলো অন্য জাতিগুলোর দৃষ্টিতে হবে যাতে তারা তাঁর আশীর্বাদ সমূহকে জানতে পারে I যেমন এটি লেখা আছে  

  10আর পৃথিবীস্থ সমস্ত জাতি দেখিতে পাইবে যে, তোমার উপরে সদাপ্রভুর নাম কীর্ত্তিত হইয়াছে, এবং তাহারা তোমা হইতে ভীত হইবে।

দ্বিতীয় বিবরণ 28:10

যাইহোক, যদি তারা আজ্ঞা সমূহকে মানতে ব্যর্থ হয় তবে তারা অভিশাপ পাবে যা আশীর্বাদের বিপরীত I অভিশাপগুলো আশীর্বাদের সঙ্গে মিল খাবে এবং দর্পণ হবে I এছাড়া এই অভিশাপগুলো পরিবেষ্টিত জাতিগুলোর দ্বারা দেখা যাবে I  

37আর সদাপ্রভু তোমাকে যে সকল জাতির মধ্যে লইয়া যাইবেন, তাহাদের কাছে তুমি বিস্ময়ের, প্রবাদের ও উপহাসের আস্পদ হইবে।

দিতীয় বিবরণ 28:37

আর অভিশাপগুলো ইস্রায়েলীয়দের নিজেদের জন্য হবে

46এ সমস্ত তোমার ও যুগে যুগে তোমার বংশের উপরে চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণস্বরূপ থাকিবে।

দ্বিতীয় বিবরণ 28:46

আর আল্লাহ সাবধান করলেন যে অভিশাপগুলোর সবথেকে খারাপ অংশ অন্যদের থেকে আসবে I    

  49সদাপ্রভু তোমার বিরুদ্ধে অতি দূর হইতে, পৃথিবীর প্রান্ত হইতে এক জাতিকে আনিবেন; যেমন ঈগল পক্ষী উড়িয়া আইসে, [সে সেইরূপ আসিবে]; সেই জাতির ভাষা তুমি বুঝিতে পারিবে না। 50সেই জাতি ভয়ঙ্কর-বদন, সে বৃদ্ধের মুখাপেক্ষা করিবে না, ও বালকের প্রতি কৃপা করিবে না। 51আর যে পর্য্যন্ত তোমার বিনাশ না হইবে, তাবৎ সে তোমার পশুর ফল ও তোমার ভূমির ফল ভোজন করিবে; যাবৎ সে তোমার বিনাশ সাধন না করিবে, তাবৎ তোমার জন্য শস্য, দ্রাক্ষারস কিম্বা তৈল, তোমার গোরুর বৎস কিম্বা তোমার মেষীর শাবক অবশিষ্ট রাখিবে না। 52আর তোমার সমস্ত দেশে যে সকল উচ্চ ও সুরক্ষিত প্রাচীরে তুমি বিশ্বাস করিতে, সে সকল যাবৎ ভূমিসাৎ না হইবে, তাবৎ সে তোমার সমস্ত নগর-দ্বারে তোমাকে অবরোধ করিবে; তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর দত্ত তোমার সমস্ত দেশে সমস্ত নগরদ্বারে সে তোমাকে অবরোধ করিবে।

দ্বিতীয় বিবরণ 28:49-52

আর এটি খারাপ থেকে আরও খারাপের দিকে যাবে

63আর তোমাদের মঙ্গল ও বৃদ্ধি করিতে যেমন সদাপ্রভু তোমাদের সম্বন্ধে আনন্দ করিতেন, সেইরূপ তোমাদের বিনাশ ও লোপ করিতে সদাপ্রভু তোমাদের সম্বন্ধে আনন্দ করিবেন; এবং তুমি যে দেশ অধিকার করিতে যাইতেছ, তথা হইতে তোমরা উন্মূলিত হইবে। 64আর সদাপ্রভু তোমাকে পৃথিবীর এক প্রান্ত হইতে অপর প্রান্ত পর্য্যন্ত সমস্ত জাতির মধ্যে ছিন্নিভন্ন করিবেন; সেই স্থানে তুমি আপনার ও আপন পিতৃপুরুষদের অজ্ঞাত অন্য দেবগণের, কাষ্ঠ ও প্রস্তরের, সেবা করিবে। 65আর তুমি সেই জাতিগণের মধ্যে কিছু সুখ পাইবে না, ও তোমার পদতলের জন্য বিশ্রামস্থান থাকিবে না, কিন্তু সদাপ্রভু সেই স্থানে তোমাকে হৃৎকম্প, চক্ষুর ক্ষীণতা ও প্রাণের শুষ্কতা দিবেন

দ্বিতীয় বিবরণ 28:63-65

এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপগুলো একটি নিয়মের (চুক্তি) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল I

12যেন তুমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর সেই নিয়মে ও সেই দিব্যে আবদ্ধ হও, যাহা তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু অদ্য তোমার সহিত করিতেছেন; 13এই জন্য করিতেছেন, যেন তিনি অদ্য তোমাকে আপন প্রজারূপে স্থাপন করেন, ও তোমার ঈশ্বর হন, যেমন তিনি তোমাকে বলিয়াছেন, আর যেমন তিনি তোমার পিতৃপুরুষ অব্রাহাম, ইস্‌হাক ও যাকোবের কাছে দিব্য করিয়াছেন। 14আর আমি এই নিয়ম ও এই দিব্য কেবল তোমাদেরই সহিত করিতেছি, তাহা নয়; 15বরং আমাদের সঙ্গে অদ্য এই স্থানে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সম্মুখে যে কেহ দাঁড়াইয়া আছে, ও আমাদের সঙ্গে অদ্য যে নাই, সেই সকলের সহিত করিতেছি।—  

দ্বিতীয় বিবরণ 29:12-15

অন্য কথায় এই নিয়ম সন্তানদের উপরে, বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরে বাধ্য  হবে I আসলে নিয়মটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে নির্দেশ করা হয়েছিল – ইস্রায়েলীয় এবং বিদেশী উভয়দের জন্য   

21আর এই ব্যবস্থাপুস্তকে লিখিত নিয়মের সমস্ত শাপানুসারে সদাপ্রভু তাহাকে ইস্রায়েলের সমস্ত বংশ হইতে অমঙ্গলের জন্য পৃথক্‌ করিবেন। 22আর সদাপ্রভু সেই দেশের উপরে যে সকল আঘাত ও রোগ আনিবেন, তাহা যখন ভাবী বংশ, তোমাদের পরে উৎপন্ন তোমাদের সন্তানগণ, এবং দূরদেশ হইতে আগত বিদেশী দেখিবে; 23ফলতঃ সদাপ্রভু আপন ক্রোধে ও রোষে যে সদোম, ঘমোরা, অদ্‌মা ও সবোয়িম নগর উৎসন্ন করিয়াছিলেন, তাহার মত এই দেশের সমস্ত ভূমি গন্ধক, লবণ ও দহনে পরিপূর্ণ হইয়াছে, তাহাতে কিছুই বুনা যায় না, ও তাহা ফল উৎপন্ন করে না, ও তাহাতে কোন তৃণ হয় না, এ সকল যখন দেখিবে; তখন তাহারা বলিবে, এমন কি, 24সকল জাতি বলিবে, সদাপ্রভু এ দেশের প্রতি কেন এমন করিলেন? এরূপ মহাক্রোধ প্রজ্বলিত হইবার কারণ কি? 25তখন লোকে বলিবে, কারণ এই, তাহাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু মিসর দেশ হইতে সেই পিতৃপুরুষদিগকে বাহির করিয়া আনিবার সময়ে তাহাদের সহিত যে নিয়ম স্থির করেন, সেই নিয়ম তাহারা ত্যাগ করিয়াছিল; 26আর গিয়া অন্য দেবগণের সেবা করিয়াছিল, যে দেবগণকে তাহারা জানিত না, যাহাদিগকে তিনি তাহাদের জন্য নিরূপণ করেন নাই, সেই দেবগণের কাছে প্রণিপাত করিয়াছিল; 27তাই এই পুস্তকে লিখিত সমস্ত শাপ দেশের উপর আনিতে এই দেশের বিরুদ্ধে সদাপ্রভুর ক্রোধ প্রজ্বলিত হইল

দ্বিতীয় বিবরণ 29:21-27

মশির আশীর্বাদ এবং অভিশাপ কি ঘটেছে?

প্রতিশ্রুত আশীর্বাদ সমূহ চমৎকার ছিল, কিন্তু হুমকিভরা অভিশাপগুলো মারাত্মক ছিল I যাইহোক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশ্নটি আমরা জিজ্ঞাসা করতে পারি তা হ’ল ‘এগুলো কি ঘটেছিল?’ এটির উত্তর দিতে গিয়ে আমরা দেখব মশি (পিবিইউএইচ) একজন প্রকৃত ভাববাদী ছিলেন কি না এবং আমরা আজকের দিনে আমাদের জীবনের জন্য পথ নির্দেশ পাব I     

উত্তরটি আমাদের আয়ত্তের মধ্যে আছে I আল কিতাবের পুরনো নিয়মের অনেকটা ইস্রায়েলীয়দের নথি হয় এবং তার থেকে আমরা দেখতে পারি কি ঘটেছে I এছাড়া আমাদের কাছে পুরনো নিয়মের বাইরে যিহূদি ঐতিহাসিক যোষেফ, গ্রীক-রোমীয় ঐতিহাসিক টাসিটাসের নথিগুলো আছে এবং আমরা অনেক নৃতত্ত্ব সংক্রান্ত স্মৃতিস্তম্ভগুলো দেখেছি I এই সমস্ত স্রোতগুলো সম্মত হয় এবং ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসের একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র অঙ্কন করে I এটি আমাদের জন্য আর একটি চিহ্ন I এখানে ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসের একটি নিরীক্ষণ টাইমলাইনের সাথে চিত্রিত করা হয়েছে আমাদের আরও ভালভাবে দেখতে সাহায্য করতে তাদের ইতিহাসে কি ঘটেছিল I      

এই ইতিহাস থেকে আমরা কি দেখি? হ্যাঁ বাস্তবিক মশির অভিশাপগুলো, ভয়ানক যেমনভাবে সেগুলো ঘটতে ছিল – আর ঠিক যেমনভাবে তিনি সেগুলোকে সহস্রাধিক বছর আগে লিখেছিলেন – এর পূর্বে সব ঘটেছিল (মনে  রাখুন এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো তাদের ঘটার পরে লেখা হয় নি বরং পূর্বে লেখা হয়েছিল) I 

কিন্তু মশির অভিশাপ সেখানেই শেষ হয় নি I এটি চলতে থাকল I এখানে মশি  এইভাবেই এই অভিশাপগুলো উপসংহারে এনেছেন I 

1আমি তোমার সম্মুখে এই যে আশীর্ব্বাদ ও অভিশাপ স্থাপন করিলাম, ইহার সমস্ত কথা যখন তোমাতে ফলিবে, তখন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু যে সকল জাতির মধ্যে তোমাকে দূর করিবেন, 2সেখানে যদি তুমি মনে চেতনা পাও, এবং তুমি ও তোমার সন্তানগণ যদি সমস্ত হৃদয়ের ও সমস্ত প্রাণের সহিত তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নিকটে ফিরিয়া আইস, এবং অদ্য আমি তোমাকে যে সকল আজ্ঞা দিতেছি, তদনুসারে যদি তাঁহার রবে অবধান কর; 3তবে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার বন্দিত্ব ফিরাইবেন, তোমার প্রতি করুণা করিবেন, ও যে সকল জাতির মধ্যে তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে ছিন্নভিন্ন করিয়াছিলেন, তথা হইতে আবার তোমাকে সংগ্রহ করিবেন। 4যদ্যপি তোমরা কেহ দূরীকৃত হইয়া আকাশমণ্ডলের প্রান্তে থাক, তথাপি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তথা হইতে তোমাকে সংগ্রহ করিবেন, ও তথা হইতে লইয়া আসিবেন। 5আর তোমার পিতৃপুরুষেরা যে দেশ অধিকার করিয়াছিল, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু সেই দেশে তোমাকে আনিবেন, ও তুমি তাহা অধিকার করিবে, এবং তিনি তোমার মঙ্গল করিবেন, ও তোমার পিতৃপুরুষদের অপেক্ষাও তোমার বৃদ্ধি করিবেন।

দ্বিতীয় বিবরণ 30:1-5

একটি সুস্পষ্ট প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় (পুনরায়): সেগুলো কি ঘটেছিল? তাদের ইতিহাসের ধারাবাহিকতাকে দেখতে এখানে ক্লিক করুন I  

তৌরাতের সমাপ্তি – যাবুর অপেক্ষিত

এই আশীর্বাদ এবং অভিশাপগুলোর সাথে, তৌরাত সমাপ্ত হয় I এটি সম্পূর্ণ হওয়ার পরে ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) শীঘ্রই মারা যান I তখন ইস্রায়েলীয়রা, মশির উত্তরাধিকার – যিহোশুয়র অধীনে – দেশে প্রবেশ করে I ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসে যেমন ঘটল, তারা এক রাজা ছাড়া বসবাস করল এবং কোনো রাজধানী নগর ব্যতীত যতক্ষণ না মহান রাজা দায়ূদ (বা ডেভিড) ক্ষমতায় উঠলেন I তিনি পুরনো নিয়মের এক নতুন অধ্যায় আরম্ভ করলেন যাকে কোরান যাবুর বলে সুনিশ্চিত করে I আমাদের যাবুরকে বুঝতে হবে কারণ এটি তৌরাতের শুরু হওয়া চিহ্নগুলোকে চালিয়ে নিয়ে যায় – যা আমাদের ইঞ্জিলকে বুঝতে সাহায্য করবে I পরবর্তী পর্যায়ে আমরা দেখব কোরান এবং ঈসা আল মসীহ দায়ূদ (পিবিইউএইচ) এবং যাবুর সম্বন্ধে কিভাবে কথা বলেন I     

ভাববাদী সম্বন্ধে তৌরাতের চিহ্ন

ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) এবং হারোণ (পিবি ইউআইচ) 40 বছর ধরে ইস্রায়েলীয়দের নেতৃত্ব দিয়েছেন I তারা আজ্ঞাগুলো লিখেছেন ও বলি সমূহের প্রবর্তন করেছেন, এবং তৌরাতের মধ্যে অনেক চিহ্নগুলো I শীঘ্রই এই দুই ভাববাদীর মরার সময় আসে I তৌরাতের সমাপ্তিটিকে বিবেচনা করার পূর্বে আমাদের তৌরাতের নমুনাগুলোকে পর্যালোচনা করা যাক I  

তৌরাতের মধ্যে নমুনাগুলোর পর্যালোচনা

তাহলে তৌরাতের মধ্যে চিহ্নগুলোর নমুনা কি?

তৌরাতের মধ্যে বলিদান

গুরুত্বটি লক্ষ্য করুন এবং কত ঘন ঘন বলি দেওয়া হয়েছে I আমাদের দেখা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সম্বন্ধে ভাবুন:

এই সমস্ত বলিগুলোকে শুদ্ধ প্রানীসমূহ দিয়ে উৎসর্গ করা হত – হয় মেষ, ছাগল বা ষাঁড় I বকনা বাছুর ছাড়া তারা সবাই পুরুষ ছিল I    

এই বলিগুলো যারা উৎসর্গ করত তা সেই লোকেদের জন্য প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ    হত I এর অর্থ যে সেগুলো একটি আচ্ছাদন ছিল যাতে বলিদানকারী লোকেদের অপরাধ ও লজ্জাকে আচ্ছাদন করা যেত I এটি আদমের সাথে শুরু হ’ল যে আল্লাহর থেকে চামড়ার স্বরূপে করুণা পেল I উলঙ্গতা ঢাকতে গেলে এই চামড়ার জন্য একটি প্রাণীর মৃত্যুর প্রয়োজন ছিল I একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়: কেন বলিদানগুলো আর কখনও দেওয়া বা উৎসর্গ করা হয় না? আমরা উত্তরটি পরে দেখব I    

তৌরাতের মধ্যে ধার্মিকতা

 ‘ধার্মিকতা’ শব্দটির নিরন্তরভাবে পুনরাবির্ভাব হতে থাকল I আমরা এটিকে প্রথমে আদমের সাথে দেখলাম যখন আল্লাহ তাকে বলল যে ‘ধার্মিকতার পোশাক সর্বশ্রেষ্ঠ’ I আমরা দেখলাম যে ইব্রাহিমের উদ্দেশ্যে ধার্মিকতা ‘জমা করা’ হ’ল যখন তিনি একটি পুত্রের আগমনের প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাস করতে পচ্ছন্দ করলেন I ইস্রায়েলীয়রা ধার্মিকতা পেতে পারত যদি তারা আজ্ঞাগুলো পালন করত – কিন্তু তাদের সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে পালন করতে হত – সর্ব সময়ে I   

তৌরাতের মধ্যে বিচার

এছাড়াও আমরা দেখলাম যে আজ্ঞা সমূহ পালন করার ব্যর্থতা আল্লাহর  বিচারের পরিণাম ঘটাল I এটি আদমের সাথে আরম্ভ হল, যাকে বিচার পেতে  কেবল একবার মাত্র অবজ্ঞা করতে হয়েছিল I বিচার সর্বদা মৃত্যুর পরিণাম ঘটায় I মৃত্যু হয় ব্যক্তির বিচারিত হওয়ার উপরে বা প্রানীদের বলি হওয়ার উপর ছিল I নিম্নলিখিতগুলো সম্পর্কে ভাবুন:

এর অর্থ কি? চলতে থাকার সাথে সাথে আমরা দেখব I কিন্তু এখন মশি এবং হারোণ (পিবিইউটি) তৌরাতকে সমাপ্ত করতে যাচ্ছিল I কিন্তু তারা আল্লাহর থেকে সরাসরি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তার সাথে এইরকম করে, যেগুলোর উভয় ভবিষ্যতের দিকে দেখল এবং যা আমাদের জন্য আজকের দিনে গুরুত্বপূর্ণ – আসন্ন ভাববাদী ও অভিশাপ এবং আশীর্বাদ সমূহ I আমরা এখানে ভাববাদীকে দেখি

আসন্ন ভাববাদী

আল্লাহ যখন সীনয় পর্বতের উপরে প্রস্তর ফলক দিলেন তিনি ক্ষমতার এক ভয়ংকর প্রদর্শনের সাথে এইরকম করলেন I ফলক দেওয়ার ঠিক পূর্বে তৌরাত  দৃশ্যটির বর্ণনা করে   

  16পরে তৃতীয় দিন প্রভাত হইলে মেঘগর্জ্জন ও বিদ্যুৎ এবং পর্ব্বতের উপরে নিবিড় মেঘ হইল, আর অতিশয় উচ্চরবে তূরীধ্বনি হইতে লাগিল; তাহাতে শিবিরস্থ সমস্ত লোক কাঁপিতে লাগিল। 17পরে মোশি ঈশ্বরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য লোকদিগকে শিবির হইতে বাহির করিলেন, আর তাহারা পর্ব্বতের তলে দণ্ডায়মান হইল। 18তখন সমস্ত সীনয় পর্ব্বত ধূমময় ছিল; কেননা সদাপ্রভু অগ্নিসহ তাহার উপরে নামিয়া আসিলেন, আর ভাটীর ধূমের ন্যায় তাহা হইতে ধূম উঠিতে লাগিল, এবং সমস্ত পর্ব্বত অতিশয় কাঁপিতে লাগিল। 19আর তূরীর শব্দ ক্রমশঃ অতিশয় বৃদ্ধি পাইতে লাগিল; তখন মোশি কথা কহিলেন, এবং ঈশ্বর বাণী দ্বারা তাঁহাকে উত্তর দিলেন।

যাত্রাপুস্তক 19:16-18

লোকেরা ভয়ে পরিপূর্ণ হ’ল I তৌরাত সেগুলোকে এইভাবে বর্ণনা করে

  18তখন সমস্ত লোক মেঘগর্জ্জন, বিদ্যুৎ, তূরীধ্বনি ও ধূমময় পর্ব্বত দেখিল; দেখিয়া লোকেরা ত্রাসযুক্ত হইল, এবং দূরে দাঁড়াইয়া রহিল। 19আর তাহারা মোশিকে কহিল, তুমিই আমাদের সহিত কথা বল, আমরা শুনিব; কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সহিত কথা না বলুন, পাছে আমরা মারা পড়ি।

যাত্রাপুস্তক 20:18-19

এটি মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা সম্প্রদায়কে 40 বছরের নেতৃত্ব দেওয়ার শুরুতে ঘটল I শেষে, আল্লাহ লোকেদের অতীতের ভয় স্মরণ করিয়ে, এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাববাদী মশিকে (পিবিইউএচ) অতীতের পরিস্থিতি সম্বন্ধে কথা বললেন I মশি (পিবিইউএইচ) তৌরাতের মধ্যে নথিভুক্ত করেন:    

 

15তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমার মধ্য হইতে, তোমার ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে, তোমার জন্য আমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিবেন, তাঁহারই কথায় তোমরা কর্ণপাত করিবে। 16কেননা হোরেবে সমাজের দিবসে তুমি আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে এই প্রার্থনাই ত করিয়াছিলে, যথা, আমি যেন আপন ঈশ্বর সদাপ্রভুর রব পুনর্ব্বার শুনিতে ও এই মহাগ্নি আর দেখিতে না পাই, পাছে আমি মারা পড়ি। 17তখন সদাপ্রভু আমাকে কহিলেন, উহারা ভালই বলিয়াছে। 18আমি উহাদের জন্য উহাদের ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিব, ও তাঁহার মুখে আমার বাক্য দিব; আর আমি তাঁহাকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিব, তাহা তিনি উহাদিগকে বলিবেন। 19আর আমার নামে তিনি আমার যে সকল বাক্য বলিবেন, তাহাতে যে কেহ কর্ণপাত না করিবে, তাহার কাছে আমি পরিশোধ লইব। 20কিন্তু আমি যে বাক্য বলিতে আজ্ঞা করি নাই, আমার নামে যে কোন ভাববাদী দুঃসাহসপূর্ব্বক তাহা বলে, কিম্বা অন্য দেবতাদের নামে যে কেহ কথা বলে, সেই ভাববাদীকে মরিতে হইবে। 21আর তুমি যদি মনে মনে বল, সদাপ্রভু যে বাক্য বলেন নাই, তাহা আমরা কি প্রকারে জানিব? 22[তবে শুন,] কোন ভাববাদী সদাপ্রভুর নামে কথা কহিলে যদি সেই বাক্য পরে সিদ্ধ না হয়, ও তাহার ফল উপস্থিত না হয়, তবে সেই বাক্য সদাপ্রভু বলেন নাই; ঐ ভাববাদী দুঃসাহসপূর্ব্বক তাহা বলিয়াছে, তুমি তাহা হইতে উদ্বিগ্ন হইও না।

দ্বিতীয় বিবরণ 18:15-22

আল্লাহ চেয়েছিলেন লোকেদের কাছে এক স্বাস্থ্যকর সম্মান থাকুক যাতে যখন তিনি ফলকের উপরে আজ্ঞা সমূহের কথা বললেন তিনি এমনভাবে করলেন যা লোকেদের মধ্যে প্রবল ভয়ের সঞ্চার করল I কিন্তু এখন তিনি ভবিষ্যতের দিকে দেখেন এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন যে সময় আসবে যখন ইস্রায়েলীয়দের মধ্য থেকে মশির (পিবিইউএইচ) মতন একজন ভাববাদীকে উত্থাপন করা হবে I পরে দুটি পথনির্দেশক সুত্র দেওয়া হল: 

1. আল্লাহ স্বয়ং লোকেদের দায়ী করবে যদি তারা আসন্ন ভাববাদীর দিকে মনোযোগ না দেয়

2. আল্লাহ একজন ভাববাদীর মাধ্যমে কথা বলেছেন কি না তা নির্ণয়ের উপায় হ’ল যে বার্তাটির ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হওয়া উচিত এবং এটি অবশ্যই সত্য হওয়া উচিত I  

প্রথম পথ নির্দেশক সুত্রটি বোঝায় নি যে মশির (পিবিইউএইচ) পরে কেবলমাত্র আর একজন ভাববাদী হবে, কিন্তু এমন একজন হবে যাকে বিশেষভাবে আমাদের অবশ্যই শোনা উচিত কারণ তার কাছে তার বার্তার সাথে এক অন্যন্য ভূমিকা থাকার ছিল – সেগুলো ‘আমার কথা’ হবে I যেহেতু কেবল আল্লাহ স্বয়ং ভবিষ্যৎকে জানেন – নিশ্চিতভাবে কোনো মানুষ নয় – দ্বিতীয় পথ নির্দেশক সূত্রটি লোকেদের কাছে জানার একটি উপায় ছিল যে একটি বার্তা আল্লাহর থেকে সত্যই এসেছে কি না I পরবর্তী পর্যায়ে আমরা দেখি মশি (পিবিইউএইচ) এই দ্বিতীয় পথ নির্দেশক সূত্রটি কিভাবে ইস্রায়েলীয়দের আশীর্বাদ এবং অভিশাপ সমূহের মধ্যে ইস্রায়েলীয়দের ভবিষ্যৎকে দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখতে ব্যবহার করলেন – যা তৌরাতকে সমাপ্ত করে I   কিন্তু এই আসন্ন ভাববাদীর কি অবস্থা? কে ছিলেন তিনি? কতিপয় পন্ডিত প্রস্তাব দিয়েছে যে এটি ভাববাদী মোহম্মদকে (পিবিইউএইচ) উল্লেখ করেছেন I

কিন্তু লক্ষ্য করুন যে ভাববাণীটি ব্যক্ত করে যে এই ভাববাদী ‘সাথী  ইস্রায়েলীয়দের মধ্য থেকে’ হবে – এইরূপে একজন যিহূদি I তাই এটি তাকে উল্লেখ করতে পারে না I অন্য পন্ডিতগণ আশ্চর্য হয়েছেন এটি কি ভাববাদী ঈসা আল মসীহকে (পিবিইউএইচ) উল্লেখ করতে পারে I তিনি যিহূদি ছিলেন আর তিনি আবারও মহান কর্তৃত্বের সাথে শিক্ষা দিয়েছিলেন – যেন আল্লাহর বাক্য সমূহ ‘তার মুখের মধ্যে ছিল’ I ইসা আল মসীহর পিবিইউএইচ আগমন ইব্রাহিমের বলিদানের মধ্যে দূরদর্শিত হয়েছিল, নিস্তারপর্বের মধ্যে, এবং এছাড়া এই ভাববাণীর মধ্যে যে ঈশ্বরের বাক্য সমূহ ‘ভাববাদী’র মুখের মধ্যে ছিল

হারোণের চিহ্ন: একটি গাভী, দুটি পাঁঠা

মশির 2 ন. চিহ্নতে আমরা দেখলাম যে সীনয় পর্বতে যে আজ্ঞা গুলো দেওয়া হল তা খুব কঠিন ছিল I আমি আপনাকে আমন্ত্রণ দিয়েছিলাম নিজী জিজ্ঞাসা করতে (কারণ এটাই ব্যবস্থার ইচ্ছা ছিল) আপনি আজ্ঞাগুলো সর্বদা পালন করেন কি না I যদি আপনি আজ্ঞাগুলো সর্বদা পালন না করেন আপনার সাথে আমিও, গুরুতর বিপদে হব – বিচার আসন্ন হয় I কিন্তু যদি তাই হয় তবে কি করতে পারা যায়? ইনি হারোণ (মশির ভাই, আরোনও বলা হয়), এবং  তার বংশধররা যারা বলি উৎসর্গ করার দ্বারা এটিকে প্রশ্ন করে সম্বোধন করলেন – এই বলির উৎসর্গগুলো কি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছে বা আচ্ছাদন করেছে I হারোণ দুটি বিশেষ বলির উৎসর্গ করলেন যেগুলো চিহ্ন ছিল বুঝতে আল্লাহ কিভাবে ব্যবস্থা ভঙ্গের মধ্যে সংঘটিত পাপগুলোর উপরে আচ্ছাদন  করবে I এগুলো গাভী (বকনা বাছুর) এবং দুটি পাঁঠার বলি ছিল I হারোণের গাভীর বলির উৎসর্গ থেকে সুরাহ বাকরাহ নামকরণ করা হয়েছে I কিন্তু আমাদের ছাগল দিয়ে শুরু করা যাক I       

বলির পাঁঠা এবং প্রায়শ্চিত্তর দিন

মশির 1 ন. চিহ্ন থেকে নিস্তারপর্ব ছিল (এবং এখনও আছে!) ফৌরণের থেকে উদ্ধারের স্মৃতিতে যিহূদি লোকেদের দ্বারা উদযাপন করা হয় I কিন্তু তৌরাত এর পাশা পাশি অন্যান্য পর্ব সমূহের সম্বন্ধেও আজ্ঞা দিয়েছিল I বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটিকে প্রায়শ্চিত্তর দিন বলা হত I তৌরাতের মধ্যে পূর্ণ বিবরণটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন I

প্রায়শ্চিত্তর দিনের জন্য কেন এই ধরণের সতর্কতাপূর্ণ এবং বিস্তারিত নির্দেশগুলো দেওয়া হল? আমরা দেখি কিভাবে তাদের শুরু হয়:

  1হারোণের দুই পুত্র সদাপ্রভুর নিকটে উপস্থিত হইয়া মারা পড়িলে পর, সদাপ্রভু মোশির সহিত আলাপ করিলেন। 2সদাপ্রভু মোশিকে এই কথা কহিলেন, তুমি আপন ভ্রাতা হারোণকে বল, যেন সে অতি পবিত্র স্থানে তিরস্করিণীর ভিতরে, সিন্দুকের উপরিস্থ পাপাবরণের সম্মুখে সর্ব্ব সময়ে প্রবেশ না করে, পাছে তাহার মৃত্যু হয়; কেননা আমি পাপাবরণের উপরে মেঘে দর্শন দিব।

লেবীয় 16:1-2

যা আগে ঘটল তা ছিল যে হারোণের দুই পুত্র মারা গেল যখন তারা হঠাৎ করে তাঁবুতে প্রবেশ করল যেখানে সদাপ্রভুর উপস্থিতি ছিল I কিন্তু তাঁর পবিত্র উপস্থিতিতে, ব্যবস্থাকে (যেমন আমরা এখানে দেখলাম) সর্বতোভাবে পালন করার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা তাদের মৃত্যুর কারণ হল I কেন? তাঁবুতে নিয়ম সিন্দুক ছিল I কোরানও এই নিয়ম সিন্দুকের উল্লেখ করে I এটি বলে  

বনী-ইসরাঈলদেরকে তাদের নবী আরো বললেন, তালূতের নেতৃত্বের চিহ্ন হলো এই যে, তোমাদের কাছে একটা সিন্দুক আসবে তোমাদের পালকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের মনের সন্তুষ্টির নিমিত্তে। আর তাতে থাকবে মূসা, হারুন এবং তাঁদের সন্তানবর্গের পরিত্যক্ত কিছু সামগ্রী। সিন্দুকটিকে বয়ে আনবে ফেরেশতারা। তোমরা যদি ঈমানদার হয়ে থাক, তাহলে এতে তোমাদের জন্য নিশ্চিতই পরিপূর্ণ নিদর্শন রয়েছে।

সুরাহ 2:248(গাভী

এটি যেমন বলে ‘নিয়ম সিন্দুক’ কর্তৃত্বের একটি চিহ্ন ছিল কারণ সিন্দুক মশির ব্যবস্থার নিয়মের প্রতীক ছিল I দশ আজ্ঞা সহ প্রস্তর ফলককে এই সিন্দুকের মধ্যে রাখা হয়েছিল I সমস্ত ব্যবস্থা যে কেউ পালন করতে ব্যর্থ হলে – এই সিন্দুকের সামনে – মারা যাবে I হারোণের প্রথম দুই পুত্র মারা গেল যখন তারা তাঁবুতে প্রবেশ করল I তাই সতর্কতামূলক নির্দেশগুলো দেওয়া হয়েছিল, যা সমগ্র বছরের এক দিনকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যখন হারোণের তাঁবুতে প্রবেশ করা উচিত – এই প্রায়শ্চিত্তর দিনে I যদি সে অন্য কোন দিনে প্রবেশ করত তবে সেও মারা যেত I কিন্তু এমনকি এই একটি দিনেও, নিয়ম সিন্দুকের উপস্থিতিতে হারোণের প্রবেশ করতে পারার পূর্বে, তাকে করতে হত:  

 

6আর হারোণ আপনার জন্য পাপার্থক বলির গোবৎস আনয়ন করিয়া নিজের ও নিজ কুলের নিমিত্ত প্রায়শ্চিত্ত করিবে। 7পরে সেই দুইটী ছাগ লইয়া সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে সদাপ্রভুর সম্মুখে উপস্থিত করিবে। 8পরে হারোণ ঐ দুইটী ছাগের বিষয়ে গুলিবাঁট করিবে; এক গুলি সদাপ্রভুর নিমিত্তে, ও অন্য গুলি ত্যাগের নিমিত্তে হইবে। 9গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগ সদাপ্রভুর নিমিত্তে হয়, হারোণ তাহাকে লইয়া পাপার্থে বলিদান করিবে। 10কিন্তু গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগ ত্যাগের নিমিত্তে হয়, সে যেন ত্যাগের নিমিত্তে প্রান্তরে প্রেরিত হইতে পারে, তন্নিমিত্ত তাহার জন্য প্রায়শ্চিত্ত করণার্থে সদাপ্রভুর সম্মুখে তাহাকে জীবিত উপস্থিত করিতে হইবে। 11পরে হারোণ আপনার পাপার্থক বলির গোবৎস আনিয়া নিজের ও নিজ কুলের নিমিত্তে প্রায়শ্চিত্ত করিবে, ফলতঃ সে আপনার পাপার্থক বলি সেই গোবৎসকে হনন করিবে; 12আর সদাপ্রভুর সম্মুখ হইতে, বেদির উপর হইতে, প্রজ্বলিত অঙ্গারে পূর্ণ অঙ্গারধানী ও এক মুষ্টি চূর্ণীকৃত সুগন্ধি ধূপ লইয়া তিরস্করিণীর ভিতরে যাইবে। 13আর ঐ ধূপ সদাপ্রভুর সম্মুখে অগ্নিতে দিবে; তাহাতে সাক্ষ্য-সিন্দুকের উপরিস্থ পাপাবরণ ধূপের ধূমমেঘে আচ্ছন্ন হইলে সে মরিবে না।

(লেবীয় 16:6:13)

তাই একটি ষাঁড়কে বলি দেওয়া হ’ল, হারোণের নিজের পাপকে আচ্ছাদন করতে যা সে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংঘটিত করেছিল I আর তখন অবিলম্বে, হারোণ দুই ছাগলের উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত করল I

7পরে সেই দুইটী ছাগ লইয়া সমাগম-তাম্বুর দ্বারসমীপে সদাপ্রভুর সম্মুখে উপস্থিত করিবে। 8পরে হারোণ ঐ দুইটী ছাগের বিষয়ে গুলিবাঁট করিবে; এক গুলি সদাপ্রভুর নিমিত্তে, ও অন্য গুলি ত্যাগের নিমিত্তে হইবে। 9গুলিবাঁট দ্বারা যে ছাগ সদাপ্রভুর নিমিত্তে হয়, হারোণ তাহাকে লইয়া পাপার্থে বলিদান করিবে।

লেবীয় 16:7-9

একবার তার নিজের পাপের জন্য ষাঁড় বলি হওয়ার পরে, হারোণ ছাগল দুটিকে নিয়ে যেত আর গুলিবাট করত I একটি ছাগল বলির পাঁঠা রূপে মনোনীত  হত I অন্য ছাগলটিকে পাপ বলিরূপে উৎসর্গ করা হত I কেন?   

 15পরে সে লোকদের পাপার্থক বলির ছাগটী হনন করিয়া তাহার রক্ত তিরস্করিণীর ভিতরে আনিয়া যেমন গোবৎসের রক্ত ছিটাইয়া দিয়াছিল, সেইরূপ তাহারও রক্ত লইয়া করিবে, পাপাবরণের উপরে ও পাপাবরণের সম্মুখে তাহা ছিটাইয়া দিবে। 16আর ইস্রায়েল-সন্তানগণের নানাবিধ অশুচিতা ও অধর্ম্ম, অর্থাৎ সর্ব্ববিধ পাপপ্রযুক্ত সে পবিত্র স্থানের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করিবে, এবং যে সমাগম-তাম্বু তাহাদের সহিত, তাহাদের নানাবিধ অশৌচের মধ্যে বসতি করে, তাহার নিমিত্তে সে তদ্রূপ করিবে

লেবীয় 16:15-16

আর বলির পাঁঠাটির কি হ’ল? 

20এইরূপে সে পবিত্র স্থানের, সমাগম-তাম্বুর ও বেদির জন্য প্রায়শ্চিত্তকার্য্য সমাপ্ত করিলে পর সেই জীবিত ছাগটী আনিবে; 21পরে হারোণ সেই জীবিত ছাগের মস্তকে আপনার দুই হস্ত অর্পণ করিবে, এবং ইস্রায়েল সন্তানগণের সমস্ত অপরাধ ও তাহাদের সমস্ত অধর্ম্ম অর্থাৎ তাহাদের সর্ব্ববিধ পাপ তাহার উপরে স্বীকার করিয়া সে সমস্ত ঐ ছাগের মস্তকে অর্পণ করিবে; পরে যে প্রস্তুত হইয়াছে, এমন লোকের হস্ত দ্বারা তাহাকে প্রান্তরে পাঠাইয়া দিবে। 22আর ঐ ছাগ নিজের উপরে তাহাদের সমস্ত অপরাধ বিচ্ছিন্ন ভূমিতে বহিয়া লইয়া যাইবে; আর সেই ব্যক্তি  

লেবীয় 16: 20-22

ষাঁড়ের বলি হারোণের নিজের পাপের জন্য ছিল I প্রথম পাঁঠাটির বলি ইস্রায়েলীয় লোকেদের পাপের জন্য ছিল I হারোণ তখন জীবিত পাঁঠাটির মস্তকের উপর হাত রাখে এবং – একটি চিহ্নস্বরূপ – লোকেদের পাপ সমূহকে পাঁঠাটির উপরে হস্তান্তর করে I পরে পাঁঠাটিকে একটি চিহ্ন রূপে প্রান্তরে ছেড়ে দেওয়া হয় যাতে লোকেদের পাপগুলো লোকেদের থেকে এখন অনেক দুরে সরিয়ে নেওয়া যায় I এই বলিগুলোর সাথে তাদের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করা হয় I এটি প্রতি বছর প্রায়শ্চিত্তর দিনে করা হত I  

বাকরাহ এবং তৌরাতের মধ্যে বকনা বাছুর, বা গাভী 

উৎসর্গ দেওয়ার জন্য হারোণের কাছে বকনা বাছুর (পুরুষ ষাঁড়ের বদলে মেয়ে গাভী) সহ আরও অন্য বলি ছিল I এটি সেই বিশেষ বকনা বাছুর এবং এর বলি যেটি 2 ন. সুরার জন্য ‘গাভীটি’ র শিরোনামের কারণ I সুতরাং কোরান এই বলিদানের সম্বন্ধে সরাসরিভাবে কথা বলে I কোরানের বিবরণটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন I  যেমন আপনি দেখতে পারেন, লোকেরা হতচকিত এবং বিভ্রান্ত হ’ল যখন এটি আদেশ দেওয়া হ’ল যে এই বলির জন্য একটি গাভীকে  (অর্থাৎ একটি স্ত্রী) ব্যবহার করা হোক এবং সাধারণ পুরুষ প্রাণী নয় I আর এটি আয়াত দিয়ে শেষ হয়    

  অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু।

সুরাহ 2:73-গাভী

অতএব এটি অন্যতম একটি চিহ্ন যার প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া  প্রয়োজন I কিন্তু কি উপায়ে এই বকনা বাছুর একটি চিহ্ন হয়? আমরা পড়ি যে এটি মৃত্যু এবং জীবনের সাথে সম্পর্কিত I এই বলির সম্বন্ধে হারোণকে দেওয়া তৌরাতের মূল নির্দেশগুলোকে অধ্যয়ন করার সাথে সাথে “দৈবাৎ আমরা বুঝতে পারি” I তৌরাতের সম্পূর্ণ অধ্যায়টিকে পড়তে এখানে ক্লিক করুন I আমরা দেখি যে   

 গরুটিকে পোড়াতে হবে। এর গোপন, মাংস, রক্ত এবং অন্ত্রগুলি। যাজক কিছু দেবদারু কাঠ, হাইসপ এবং স্কারলেট পশম নিয়ে তা জ্বলন্ত গরুর উপরে ফেলে দেবে

গণনাপুস্তক 19:5-6

এসোব কোনো পাতাযুক্ত বৃক্ষের একটি শাখা ছিল I নিস্তারপর্বে ইস্রায়েলীয়দের আজ্ঞা দেওয়া হল নিস্তারপর্বের মেষের রক্ত তাদের দরজার উপরে ছিটিয়ে দিতে যাতে মৃত্যু তাদের ছেড়ে বেরিয়ে যায়     

22আর এক আটি এসোব লইয়া ডাবরে স্থিত রক্তে ডুবাইয়া দ্বারের কপালীতে ও দুই বাজুতে ডাবরে স্থিত রক্তের কিঞ্চিৎ লাগাইয়া দিবে, এবং প্রভাত পর্য্যন্ত তোমরা কেহই গৃহদ্বারের বাহিরে যাইবে না।

যাত্রাপুস্তক 12:22

এসোব আবারও বকনা বাছুরের সাথে ব্যবহৃত হত, আর এসোব, লোম, ও কেদারকে পোড়ানো হত যতক্ষণ না কেবল ছাই পড়ে থাকত I পরে

 “যে ব্যক্তি শুচি সে অবশ্যই গরুর ছাই সংগ্রহ করবে এবং শিবিরের বাইরে একটি পবিত্র জায়গায় রাখবে। এগুলি ইস্রায়েলীয় সম্প্রদায় দ্বারা পরিষ্কারের জলে ব্যবহারের জন্য রাখতে হবে; এটি পাপ থেকে শুদ্ধির জন্য

গননা পুস্তক 19:9

অতএব ছাইকে ‘পরিশুদ্ধ করার জলের’ সঙ্গে মেশানো হত I একজন অশুচি ব্যক্তি এই ছাই মিশ্রিত জল ব্যবহার করে শুচিতা পুনস্থাপন করতে প্রক্ষালন অনুষ্ঠিত করত (ধোয়ার রীতি বা উধু) I কিন্তু ছাই কোনো অশুচিতার জন্য নয় বরং একটি বিশেষ প্রকারের জন্য I     

 “যে কোনও মানুষের মৃতদেহ স্পর্শ করে সে সাত দিন অশুচি থাকবে। তৃতীয় দিন এবং সপ্তম দিনে তাদের অবশ্যই জলের (গরুর ছাইয়ের সাথে মিশ্রিত) নিজেদের শুচি করবে; তাহলে তারা পরিষ্কার হবে। কিন্তু যদি তারা তৃতীয় এবং সপ্তম দিনে নিজেকে পবিত্র না করে তবে তারা শুচি হবে না। যদি তারা কোনও মানুষের মৃতদেহ স্পর্শ করার পরে নিজেকে পবিত্র করতে ব্যর্থ হয় তবে তারা প্রভুর আবাসটিকে অশুচি করে।

গণনাপুস্তক 19:11-13

অতএব গাভীর এই জল মিশ্রিত ছাইগুলো উধুর (অর্থাৎ প্রক্ষালন) জন্য ছিল যখন কেউ মৃত শরীর ছুঁয়ে অশুচি হত I কিন্তু কেন মৃত শরীর ছুঁলে এই ধরণের ভয়ানক অশুচিতা ফলত? এই সম্বন্ধে ভাবুন! আদমকে তার অবাধ্যতার কারণে মরণশীল করা হল, এবং পাশা পাশি তার সমস্ত সন্তানদেরকে (আপনি এবং আমি!) I অতএব মৃত্যু অশুচির কারণ এটি পাপের পরিণাম – এটি পাপের অশুচির সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত I কেউ মৃত শরীর ছুঁলে তখন সেও অশুচি হয়ে যেত I কিন্তু এই ছাইগুলো একটি চিহ্ন ছিল – যা এই অশুচিতাকে ধৌত করত I তার ‘অশুচিতায়’ মৃত অশুচি ব্যক্তিটি, বকনা বাছুরের ছাই দিয়ে প্রক্ষালনের শোধনের থেকে ‘জীবন’ পেত I    

কেন পুরুষের বদলে একটি স্ত্রী প্রাণী ব্যবহৃত হত? কোনো সরাসরি ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নি কিন্তু আমরা শাস্ত্র থেকে যুক্তি পেতে পারি I পুরো তৌরাতের মাধ্যমে (এবং অন্য সমস্ত পবিত্র পুস্তক) আল্লাহ একজন ‘তিনি’ হিসাবে প্রকাশিত হয়েছেন – পুরুষ লিঙ্গে I আর ইস্রায়েলীয় জাতিকে সমষ্টিগতভাবে একজন ‘সে’ বলা হত – স্ত্রী লিঙ্গে I যেমন বিবাহিত পুরুষ-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে হয়, আল্লাহ চালিত করলেন এবং তার অনুগামীরা সাড়া দিল I কিন্তু উদ্যোগ সর্বদা আল্লাহর সঙ্গে ছিল I তিন আজ্ঞার সূত্রপাত করলেন ইব্রাহিমকে তার পুত্রের বলি দিতে; তিনি সূত্রপাত করলেন প্রস্তর ফলকের উপরে আজ্ঞা সমূহ দিতে; তিনি সূত্রপাত করলেন নোহের বিচার, ইত্যাদি I এটির সূত্রপাত করা কখনও একজন মানবের (ভাববাদী বা অন্য কেউ) ধারণা ছিল না – তাঁর অনুগামীরা কেবলমাত্র তাঁর নেতৃত্বের কাছে সমর্পণ করছিল I   

বকনা বাছুরের ছাই একটি মানবীয় প্রয়োজন পূরণ করার ছিল – সেই  অশুচিতার I এইরূপে একটি মানবীয় প্রয়োজনের জন্য একটি উপযুক্ত চিহ্ন হতে, বলি দেওয়ার প্রাণী ছিল স্ত্রী I এই অশুচিতা আমাদের লজ্জার অনুভূতির দিকে নির্দেশ করে যখন আমরা পাপ করি, কোনো অপরাধ নয় যা আল্লাহর সামনে আমাদের কাছে আছে I আমি যখন পাপ করি, তখন নাতো কেবল আমি ব্যবস্থা ভগ্ন করেছি এবং বিচারকের সামনে দোষী হয়েছি, বরং এছাড়া আমি লজ্জা এবং অনুশোচনা অনুভব করি I আমাদের লজ্জার জন্য আল্লাহ কিভাবে যোগান দেন? প্রথমত, আল্লাহ আমাদের জন্য এক আচ্ছাদনকারী বস্ত্র যোগান দিয়েছেন I তাদের উলঙ্গতা এবং লজ্জা ঢাকতে প্রথম মানবজাতি চামড়ার বস্ত্র পেয়েছে I আর আদমের সন্তানগণ সেই থেকে বস্ত্র দিয়ে তাদের সর্বদা আচ্ছাদন করেছে – আসলে এটি করা এত স্বাভাবিক যাতে আমরা ‘কেন?’ বলতে কদাচিৎ বন্ধ করি I বকনা বাছুরের ছাইগুলোর সাথে এই প্রক্ষালন সমূহ আর একটি উপায় ছিল যাতে অশুচিকারী জিনিসগুলোর থেকে আমরা ‘শুচি’ অনুভব করতে পারি I বকনা বাছুরের লক্ষ্য ছিল আমাদের শুচিশুদ্ধ করা I            

 আসুন আমরা বিশ্বাসের পূর্ণ আশ্বাসে আন্তরিক হৃদয় দিয়ে toশ্বরের নিকটে আসি, আমাদের হৃদয়কে দোষী বিবেকের হাত থেকে আমাদের শুদ্ধ করার জন্য ছিটিয়ে দেওয়া হয় এবং আমাদের দেহকে বিশুদ্ধ পানিতে ধুয়ে ফেলা হয়

ইব্রীয় 10:22

বিপরীতক্রমে, প্রায়শ্চিত্তর দিনে পুরুষ ছাগলের বলি প্রাথমিকভাবে আল্লহর জন্য ছিল তাই একটি পুরুষ প্রানীকে ব্যবহার করা হত I দশ আজ্ঞা সমূহের চিহ্নর সাথে, আমরা লক্ষ্য করলাম যে অবাধ্যতার দণ্ডকে পুন: পুন: মৃত্যু (অধ্যায়টিকে পরীক্ষা করতে এখানে ক্লিক করুন) রূপে নির্দিষ্ট করা হয়েছিল I আল্লাহ ছিলেন (এবং আছেন) বিচারক এবং বিচারক রূপে মৃত্যুর দাবি করেছিলেন I প্রথম ষাঁড়ের মৃত্যু প্রথমে আল্লাহর প্রয়োজন পূরণ করল যে মৃত্যু ইস্রায়েলীয়দের পাপের জন্য দেওয়া হয়েছিল I পরে ইস্রায়েলীয় সম্প্রদায়ের পাপ প্রতীকাত্মক রূপে হারোণের দ্বারা বলির পাঁঠার উপরে রাখা যেতে পারত, এবং বলির পাঁঠাকে প্রান্তরে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে এটি একটি চিহ্ন ছিল যাতে  সম্প্রদায়ের পাপকে মুক্ত করা হল I        

এই বলিগুলো হারোণ এবং তার বংশধরদের দ্বারা উদযাপিত হয়েছিল I তাদের প্রদত্ত দেশের মধ্যে ইস্রায়েলীয়দের ইতিহাসের মাধ্যমে; যখন দায়ূদ (বা দায়ুদ) রাজা হলেন এবং তার সন্তানরা শাসন করল; যখন অনেক ভাববাদী সাবধান বাণীর সঙ্গে এলেন; এমনকি ঈসা আল মসীহর জীবনের (পিবিইউএইচ) মাধ্যমে এই প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে এই বলিগুলোকে অনুষ্ঠিত করা হয়েছিল I কিন্তু সেগুলো আসন্ন পরিত্রাণের ছায়ার মতন ছিল, একটি চিহ্ন রূপে এটিকে নির্দেশ করে I

তাই মশি এবং হারোণের শেষ চিহ্ন সমূহের সাথে, তৌরাত একটি সমাপ্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল I শীঘ্র ভাববাদীদের উত্তরাধিকারীরা আসবে এবং যাবুরটি আল্লাহর বার্তাকে চালিয়ে নিয়ে যাবে I কিন্তু তৌরাতে একটি চূড়ান্ত বার্তা ছিল I ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যতের একজন ভাববাদীর আগমনের দিকে পাশা পাশি ইস্রায়েলীয়দের বংশধরদের উপরে ভবিষ্যৎ আশীর্বাদ এবং অভিশাপের দিকে দেখতে যাচ্ছিলেন I      

2 ন. চিহ্ন: ব্যবস্থা

মশির প্রথম চিহ্নতে আমরা দেখেছি – নিস্তারপর্ব – যে আল্লাহ সমস্ত প্রথমজাত পুত্রদের প্রতি মৃত্যু জারি করলেন কেবল তাদেরকে ছাড়া যারা এমন গৃহ সমূহের মধ্যে ছিল যেখানে এক মেষশাবকের বলি দেওয়ার পরে তার রক্তকে দরজার কপাটে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল I ফরৌণ সমর্পণ করলো না তাই তার পুত্র মারা গেল এবং মশি (মোসেসও বলা হয় – পি বি ইউ এইচ) ইস্রাযেলীয়দের মিসরের বাইরে নিয়ে গেল, এবং ফরৌণ তাদেরকে তাড়া করতে গিয়ে লোহিত সমুদ্রের মধ্যে জলমগ্ন হল I  

কিন্তু ভাববাদী হিসাবে মশির ভূমিকা কেবল তাদেরকে মিসর থেকে বার করার ছিল না, বরং তাদেরকে এক নতুন জীবন যাপনের দিকে পরিচালিত করার ছিল – আলাহর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত শরিয়া কানুন অনুসারে জীবন যাপন করা I

সুরাহ আল-আলা (সুরাহ 87 – সর্বোচ্চ) আমাদের মনে করিয়ে দেয় আল্লাহ প্রাকৃতিক বিধান অনুসারে কিভাবে দুনিয়াকে চালিয়েছেন I 

আপনি আপনার মহান পালনকর্তার নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুনযিনি সৃষ্টি করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।এবং যিনি সুপরিমিত করেছেন ও পথ প্রদর্শন করেছেনএবং যিনি তৃণাদি উৎপন্ন করেছেনঅতঃপর করেছেন তাকে কাল আবর্জনা।

সুরাহ আল –আ’লা 87:1-5

অনুরূপভাবে, তার ইচ্ছা মানবজাতি যেন নৈতিক বিধান অনুসারে চলে I 

অতএব মিসর ছাড়ার অল্প সময় পরে, মশি (পিবিইউএইচ) এবং ইস্রায়েলীয়রা সীনয় পর্বতে এলো I মশি (পিবিইউএইচ) শরিয়া কানুন গ্রহণ করতে 40 দিন ধরে পর্বতের উপরে রইল I সুরাহ আল-বাকরাহ এবং সুরা আল-আরাফ নিম্নলিখিত আয়াতের সাহায্যে এই সময়টির উল্লেখ করে I 

আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর।

সুরাহ 2:63-গাভীটি

আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ন করেছি আরো দশ দ্বারা। বস্তুতঃ এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাঁর ভাই হারুনকে বললেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করতে থাক এবং হাঙ্গামা সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না।

সুরাহ আল- আরাফ 7:142-উচ্চতা

সুতরাং মশি (পিবিইউএইচ) কি কানুন পেল? যদিও সম্পূর্ণ কানুন বেশ দীর্ঘ ছিল (613 আজ্ঞা এবং নিয়ম সমূহ নির্ণয় করে কোনটা মঞ্জুর আর কোনটা নয় – কোনটা হারাম আর কোনটা হালালের উপরে নিয়মগুলোর মতন) আর এই আজ্ঞা সমূহ তৌরাতের অধিকাংশকে স্থির করে I মশি প্রথমে আল্লাহ দ্বারা প্রস্তর ফলকে লিখিত একগুচ্ছ নির্দিষ্ট আজ্ঞা সমূহ পেল I এগুলো দশ আজ্ঞা বলে পরিচিত, যা সমস্ত অন্য নিয়মগুলোর জন্য ভিত্তি হ’ল I এই দশটি আইনের চূড়ান্ত অপরিহার্য অঙ্গ ছিল I – অন্য সকলদের পূর্বে পূরণীয় শর্ত ছিল I সুরাহ আল-আরাফ এটিকে আয়াতের মধ্যে উল্লেখ করে        

 আর আমি তোমাকে পটে লিখে দিয়েছি সর্বপ্রকার উপদেশ ও বিস্তারিত সব বিষয়। অতএব, এগুলোকে দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং স্বজাতিকে এর কল্যাণকর বিষয়সমূহ দৃঢ়তার সাথে পালনের নির্দেশ দাও।আমি আমার নিদর্শনসমূহ হতে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে, তবুও তা বিশ্বাস করবে না। আর যদি হেদায়েতের পথ দেখে, তবে সে পথ গ্রহণ করে না। অথচ গোমরাহীর পথ দেখলে তাই গ্রহণ করে নেয়। এর কারণ, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে মনে করেছে এবং তা থেকে বেখবর রয়ে গেছে।

সুরাহ আল-আরাফ 7: 145-146

দশ আজ্ঞা সমূহ

তাই সুরাহ আল-আরাফের মধ্য দিয়ে কোরান বলে যে প্রস্তর ফলকের উপরে লিখিত এই দশ আজ্ঞা সমূহ স্বয়ং আল্লাহর চিহ্ন ছিল I কিন্তু এই আজ্ঞা সমূহ কি ছিল? সেগুলোকে তৌরাতের যাত্রা পুস্তক থেকে হুবহু এখানে দেওয়া হয়েছে  যাকে মশি প্রস্তরের ফলক থেকে নকল করেছিল I     

1আর ঈশ্বর এই সকল কথা কহিলেন, 2আমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু, যিনি মিসর দেশ হইতে, দাস-গৃহ হইতে, তোমাকে বাহির করিয়া আনিলেন। 3আমার সাক্ষাতে তোমার অন্য দেবতা না থাকুক। 4তুমি আপনার নিমিত্তে খোদিত প্রতিমা নির্ম্মাণ করিও না; উপরিস্থ স্বর্গে, নীচস্থ পৃথিবীতে ও পৃথিবীর নীচস্থ জলমধ্যে যাহা যাহা আছে, তাহাদের কোন মূর্ত্তি নির্ম্মাণ করিও না; 5তুমি তাহাদের কাছে প্রণিপাত করিও না, এবং তাহাদের সেবা করিও না; কেননা তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আমি স্বগৌরব রক্ষণে উদ্‌যোগী ঈশ্বর; আমি পিতৃগণের অপরাধের প্রতিফল সন্তানদিগের উপরে বর্ত্তাই, যাহারা আমাকে দ্বেষ করে, তাহাদের তৃতীয় চতুর্থ পুরুষ পর্য্যন্ত বর্ত্তাই; 6কিন্তু যাহারা আমাকে প্রেম করে ও আমার আজ্ঞা সকল পালন করে, আমি তাহাদের সহস্র [পুরুষ] পর্য্যন্ত দয়া করি। 7তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর নাম অনর্থক লইও না, কেননা যে কেহ তাঁহার নাম অনর্থক লয়, সদাপ্রভু তাহাকে নির্দ্দোষ করিবেন না। 8তুমি বিশ্রামদিন স্মরণ করিয়া পবিত্র করিও। 9ছয় দিন শ্রম করিও, আপনার সমস্ত কার্য্য করিও; 10কিন্তু সপ্তম দিন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশে বিশ্রামদিন; সে দিন তুমি কি তোমার পুত্র কি কন্যা, কি তোমার দাস কি দাসী, কি তোমার পশু, কি তোমার পুরদ্বারের মধ্যবর্ত্তী বিদেশী, কেহ কোন কার্য্য করিও না; 11কেননা সদাপ্রভু আকাশমণ্ডল ও পৃথিবী, সমুদ্র ও সেই সকলের মধ্যবর্ত্তী সমস্ত বস্তু ছয় দিনে নির্ম্মাণ করিয়া সপ্তম দিনে বিশ্রাম করিলেন; এই জন্য সদাপ্রভু বিশ্রামদিনকে আশীর্ব্বাদ করিলেন, ও পবিত্র করিলেন। 12তোমার পিতাকে ও তোমার মাতাকে সমাদর করিও, যেন তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাকে যে দেশ দিবেন, সেই দেশে তোমার দীর্ঘ পরমায়ু হয়। 13নরহত্যা করিও না। 14ব্যভিচার করিও না। 15চুরি করিও না। 16তোমার প্রতিবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না। 17তোমার প্রতিবাসীর গৃহে লোভ করিও না; প্রতিবাসীর স্ত্রীতে, কিম্বা তাহার দাসে কি দাসীতে, কিম্বা তাহার গোরুতে কি গর্দ্দভে, প্রতিবাসীর কোন বস্তুতেই লোভ করিও না। 18তখন সমস্ত লোক মেঘগর্জ্জন, বিদ্যুৎ, তূরীধ্বনি ও ধূমময় পর্ব্বত দেখিল; দেখিয়া লোকেরা ত্রাসযুক্ত হইল, এবং দূরে দাঁড়াইয়া রহিল।

যাত্রা পুস্তক 20:1-18

প্রায়শই এটি মনে হয় যে আমাদের মধ্যে অনেকে যারা ধর্মনিরপেক্ষ দেশগুলোতে থাকে তারা ভুলে যায় যে এগুলো ছিল আজ্ঞা I সেগুলো কোনো পরামর্শ নয় I সেগুলো সুপারিশ নয় I নাতো সেগুলো আলাপ-আলোচনাযোগ্য ছিল I সেগুলো মানার জন্য আজ্ঞা সমূহ ছিল – সমর্পণ করা I এটি শরিয়া কানুন ছিল I এবং ইস্রায়েলীয়রা ঈশ্বরের পবিত্রতার ভয়ে ছিল I

বাধ্যতার মানদণ্ড

সুরাহ আল-হাসর (সুরাহ 59 – নির্বাসন) উল্লেখ করে কোরানের প্রকাশের তুলনায় কিভাবে দশ আজ্ঞা সমূহকে দেওয়া হয়েছিল I কোরানের বিপরীত, এক আতঙ্কজনক প্রদর্শনের মধ্যে একটি পর্বতের উপরে দশ আজ্ঞা সমূহকে দেওয়া হয়েছিল I 

  তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা।

সুরাহ আল-হাসর 59:21-22

কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায় I কতটা বা কতগুলো আজ্ঞা সমূহকে তাদের মানতে ছিল? দশ আজ্ঞা দেওয়ার ঠিক আগে নিম্নলিখিত আয়াতটি আসে

2তাহারা রফীদীম হইতে যাত্রা করিয়া সীনয় প্রান্তরে উপস্থিত হইলে সেই প্রান্তরে শিবির স্থাপন করিল; ইস্রায়েল সেই স্থানে পর্ব্বতের সম্মুখে শিবির স্থাপন করিল। 3পরে মোশি ঈশ্বরের নিকটে উঠিয়া গেলেন, আর সদাপ্রভু পর্ব্বত হইতে তাঁহাকে ডাকিয়া কহিলেন, তুমি যাকোবের কুলকে এই কথা কহ, ও ইস্রায়েল সন্তানগণকে ইহা জ্ঞাত কর। 4আমি মিস্রীয়দের প্রতি যাহা করিয়াছি, এবং যেমন ঈগল পক্ষী পক্ষ দ্বারা, তেমনি তোমাদিগকে বহিয়া আপনার নিকটে আনিয়াছি, তাহা তোমরা দেখিয়াছ। 5এখন যদি তোমরা আমার রবে অবধান কর ও আমার নিয়ম পালন কর, তবে তোমরা সকল জাতি অপেক্ষা আমার নিজস্ব অধিকার হইবে, কেননা সমস্ত পৃথিবী আমার;()

যাত্রা পুস্তক 19:2,5

আর দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার ঠিক পরে এই আয়াতটি দেওয়া হল

7আর তিনি নিয়মপুস্তকখানি লইয়া লোকদের কর্ণগোচরে পাঠ করিলেন; তাহাতে তাহারা কহিল, সদাপ্রভু যাহা যাহা কহিলেন, আমরা সমস্তই পালন করিব ও আজ্ঞাবহ হইব।

যাত্রাপুস্তক 24:7

তৌরাতের শেষ পুস্তকে (পাঁচটি আছে) যেটি মশির চূড়ান্ত বার্তা, সে ব্যবস্থার  প্রতি বাধ্যতাকে এইভাবে সংক্ষিপ্তসার করল I

24আর সদাপ্রভু আমাদিগকে এই সমস্ত বিধি পালন করিতে, আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুকে ভয় করিতে আজ্ঞা করিলেন, যেন যাবজ্জীবন আমাদের মঙ্গল হয়, আর তিনি অদ্যকার মত যেন আমাদিগকে জীবিত রাখেন। 25আর আমরা আপনাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর আজ্ঞানুসারে তাঁহার সম্মুখে এই সমস্ত বিধি যত্নপূর্ব্বক পালন করিলে আমাদের ধার্ম্মিকতা হইবে।

দ্বিতীয় বিবরণ 6:24-25

ধার্মিকতা অর্জন

এখানে পুনরায় ‘ধার্মিকতা’ শব্দটি দেখা যায় I এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  শব্দ I আমরা প্রথম এটিকে আদমের চিহ্নর মধ্যে দেখলাম যখন আল্লাহ আদমের সন্তানদের বললেন (আমাদের!)

হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে পোশাক অবর্তীণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করে এবং অবর্তীণ করেছি সাজ সজ্জার বস্ত্র এবং পরহেযগারীর পোশাক, এটি সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতেরঅন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। [সু]

র’আত আল-আরাফ 7:26 (উচ্চতা

পরে ইব্রাহিমের 2 ন. চিহ্নর মধ্যে আমরা এটিকে দেখলাম যখন আল্লাহ একটি পুত্র সন্তানের পতিশ্রুতি দিলেন, আর ইব্রাহিম (পিবি ইউএইচ) এই প্রতিশ্রুতির উপরে বিশ্বাস করলেন এবং এটি তখন বলে যে

আব্রাম সদাপ্রভুকে বিশ্বাস করলেন, আর তিনি [অর্থাৎ আল্লাহ] তার পক্ষে ধার্মিকতা বলে গণনা করলেন  

আদিপুস্তক 15:6

 (ধার্মিকতার একটি সম্পূর্ণ ব্যাখ্যার জন্য দয়া করে ইব্রাহিমের 2 ন. চিহ্ন দেখুন) 

ধার্মিকতা অর্জন করতে এখানে ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি উপায় দেয় কারণ এটি বলে “আমরা যদি এই সকল ব্যবস্থাকে মেনে চলি … সেটি হবে আমাদের ধার্মিকতা

দ্বিতীয় বিবরণ 6:25

কিন্তু ধার্মিকতা অর্জন করার শর্ত কঠিন I এটি বলে আমাদের প্রয়োজন ‘এই  সমস্ত ব্যবস্থাকে মানা’ আর কেবল তখনই আমরা ধার্মিকতা পাই I এটি আমাদের আদমের চিহ্নর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় I এটি কেবল একটি অবাধ্যতার কার্য ছিল আল্লাহর পক্ষে ন্যায়বিচার করা এবং স্বর্গ থেকে তাদের উচ্ছেদ করা I আল্লাহ বিভিন্ন অবাধ্য কার্যের জন্য অপেক্ষা করেন নি I লোটের চিহ্নর মধ্যে লোটের স্ত্রীর সাথে এটি সেই একই রকম ছিল I এটির গুরুত্বকে প্রকৃতপক্ষে বুঝতে আমাদের সাহায্য করতে এখানে লিংক করা অনেক আয়াতগুলো তৌরাতের মধ্যে আছে যা ব্যবস্থার প্রতি বাধ্যতার এই সঠিক স্তরের ওপরে জোর দেয় I     

আমাদের ভাবা যাক এটার মানে কি I বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমূহের মধ্যে আমি মাঝে মাঝে দেখি, অধ্যাপক পরীক্ষার মধ্যে আমাদের অনেক প্রশ্ন দিতেন (উদাহরণস্বরূপ 25 প্রশ্ন) আর তখন আমাদের পচ্ছন্দের প্রশ্নগুলোর মধ্যে কেবল কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হত I আমরা, উদাহরণস্বরূপ 25 এর মধ্যে 20 টি প্রশ্ন পছন্দ করে পরীক্ষায় উত্তর দিতে পারতাম I কেউ হয়ত একটি প্রশ্ন অত্যন্ত কঠিন দেখত এবং সে সেটিকে বাদ দিতে পারত কিন্তু আর একজন ছাত্র একটি ভিন্ন প্রশ্ন কঠিন দেখত আর সে সেটিকে বাদ দিত I এইভাবে অধ্যাপক আমাদের জন্য পরীক্ষা সহজ করে দিয়েছিলেন I

অনেক লোকেরা ব্যবস্থার দশ আজ্ঞার প্রতি সেই একই ভাবে আচরণ করে I তারা ভাবে যে আল্লাহ, দশ আজ্ঞা সমূহ দেওয়ার পরে, বোঝালেন, “তোমাদের পছন্দমত এই দশটির মধ্য থেকে যে কোন পাঁচটি চেষ্টা কর” I কিন্তু না, এইভাব এটিকে দেওয়া হয় নি I তাদের সকল  আজ্ঞা সমূহকে মানতে এবং পালন করতে ছিল, না কেবল তাদের ইচ্ছামত কয়েকটিকে I কেবল সমস্ত ব্যবস্থাক পালন করলেই এটি ‘তাদের ধার্মিকতা হবে’ I   

কিন্তু কেন কিছু লোকেরা ব্যবস্থার প্রতি এই ধরণের আচরণ করে? কারণ ব্যবস্থা পালন করা খুব কঠিন, বিশেষ করে যেহেতু এটি কেবলমাত্র এক দিনের জন্য নয় বরং আপনার সমস্ত জীবনের জন্য I সুতরাং আমাদের পক্ষে নিজেদেরকে প্রবঞ্চিত করা এবং মানদণ্ডকে নিচু করা সহজ I আজ্ঞা সমূহের পর্যালোচনা করুন এবং নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন “আমি কি এগুলোকে মান্য করতে পারি? সবগুলোকে? প্রতি দিন? ব্যর্থ না হয়ে?” আমাদের নিজেদের জন্য এই প্রশ্নটিকে জিজ্ঞাসা করা এই কারণে প্রয়োজন কেননা দশ আজ্ঞা সমূহ এখনও বলবৎ আছে I আল্লাহ সেগুলোকে শেষ করেন নি এমনকি অন্যান্য ভাববাদীরাও (ইসা আল মসীহ এবং মহম্মদ সহ – পিবিইউটি – এখানে দেখুন) মশির (পিবিইউএইচ) পরে চালিয়ে গেলেন I যেহেতু এগুলো মৌলিক আজ্ঞা সমূহ যা মূর্তি পূজা, এক ঈশ্বরের আরাধনা, ব্যভিচার, চুরি করা, হত্যা, মিথ্যা কথা বলা ইত্যাদির আলোচনা করে যা চিরন্তন আর তাই আমাদের তাদেরকে মানার প্রয়োজন আছে I কেউ কারোর জন্য এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পার না – সে কেবল নিজের জন্য এটির উত্তর দিতে পারে I আর তাকে বিচারের দিনে আল্লাহর সামনে আবার সেগুলোর উত্তর দিতে হবে I 

আল্লাহর সামনে সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

অতএব আমি একটি প্রশ্ন উত্থাপন করব, দ্বিতীয় বিবরণ 6:25 থেকে পরিমিত তাই এটি ব্যক্তিগত এবং আপনি নিজের জন্য উত্তর দিতে পারেন I আপনি কিভাবে ব্যবস্থার এই বক্তব্যের উপরে প্রতিক্রিয়া দেন তার উপরে নির্ভর কোরে, ব্যবস্থা আপনার উপরে বিভিন্ন ভাবে কাজ করে I আপনার সম্বন্ধে যা সত্য বলে আপনি মনে করেন সেই উত্তর পছন্দ করুন I আপনার পক্ষে প্রযোজ্য উত্তরটির উপরে ক্লিক করুন I

দ্বিতীয় বিবরণ 6:24-25 আপনার জন্য স্বনির্বাচিত

সদাপ্রভু এই সমস্ত আদেশগুলো আমাকে মান্য করতে এবং সদাপ্রভু আমাদের ঈশ্বরকে ভয় করতে আজ্ঞা দিলেন, যেন সর্বদা আমার মঙ্গল হয় আর যেন অদ্যকার মতন জীবিত রাখেন I আর আমি আমার ঈশ্বর  সদাপ্রভুর সামনে আমাকে প্রদত্ত তাঁর আজ্ঞা অনুসারে এই বিধি সকল মান্য করতে যত্নশীল হয়েছি, আর সেটি আমার ধার্মিকতা হবে I”  

হ্যাঁ – এটি আমার সম্বন্ধে সত্য I  

না – আমি সকলকে মানি নি আর এটি আমার সম্বন্ধে সত্য নয় I 

মশির 1 নম্বর চিহ্ন: নিস্তারপর্ব

ভাববাদী ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) সময় থেকে এখন পর্যন্ত থেকে প্রায় 500 বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে আর এটি প্রায় 1500 খ্রীষ্টপুর্বাব্দ হবে I ইব্রাহিমের মৃত্যুর পরে, তার বংশধররা তার পুত্র ইসহাকের মাধ্যমে, যাদেরকে এখন ইস্রায়েলী বলা হয়, এক বিশাল সংখ্যার লোক হয়ে উঠেছে কিন্তু এছাড়া মিশরের দাস সমূহে পরিণত হয়েছে I এটি ঘটল কারণ ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) মহান পৌত্র যোষেফকে এক দাস রূপে মিশরের কাছে বিক্রী করে দেওয়া হল এবং তারপরে, বহু বছর পরে, তার পরিবার অনুসরণ করল I এর সবকিছুকে আদিপুস্তক 45-46 এর মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে – তৌরাতের মধ্যে মশির প্রথম বইটি I      

অতএব আমরা এখন অন্য একজন মহান ভাববাদীর চিহ্নতে এসে উপস্থিত হয়েছি – মশি (পিবিইউএইচ) – তৌরাতের দ্বিতীয় বইয়ে বলা হয়েছে I মশিকে  (পিবিইউএইচ) মিশরের ফৌরণের সাথে সাক্ষাৎ করতে ঈশ্বরের দ্বারা আজ্ঞা দেওয়া হল আর এটি মশি (পিবিইউএইচ) এবং ফৌরণের মায়াবীদের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি করল I এই বিবাদ ফৌরণের বিরুদ্ধে কুখ্যাত নয়টি মহামারী বা বিপর্যয় উৎপন্ন করল যেগুলো তার পক্ষে চিহ্ন সমূহ ছিল I তবে ফৌরণ নিজেকে সদাপভুর ইচ্ছার নিকট সমর্পণ করল না আর এই চিহ্নগুলোকে অবজ্ঞা করছিল I          

সুরা আন-নাজি’আত (সুরা 79 – তারা যারা সামনের দিকে টেনে নিয়ে যায়) এই ঘটনাগুলোকে এইভাবে বর্ণনা করে

 মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।,অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।

রা আন-নাজি’আত সুরা 79:15-20

সুরা আল-মুজ্জাম্মিল (সুরা 73 – আচ্ছাদিত এক) ফৌরণের প্রতিক্র্য়ার বর্ণনা করে: 

অতঃপর ফেরাউন সেই রসূলকে অমান্য করল, ফলে আমি তাকে কঠিন শাস্তি দিয়েছি। সুরা আল-

মুজ্জাম্মিল 73:16

মশির ‘বিরাট চিহ্ন’ কি ছিল যা সুরা আন-নাজি’আত এবং অউরা আল-মুজ্জাম্মিলে ফৌরণের উপরে ‘প্রচন্ড শাস্তির মধ্যে উল্লিখিত হয়েছে? চিহ্ন এবং শাস্তি উভয়ই দশম মহামারীর মধ্যে রয়েছে I   

দশম মহামারী

অতএব আল্লাহ একটি দশম এবং অত্যন্ত ভয়ংকর মহামারী (বিপর্যয়) নিয়ে আসতে যাচ্ছেন I দশম মহামারী আসার আগে এই বিন্দুতে তৌরাত কিছু প্রস্তুতি এবং ব্যাখ্যা দেয় I কুরান আবারও এই বিন্দুটিকে নিম্নলিখিত পদের সাথে বিবরণের মধ্যে উল্লেখ করে

 আপনি বণী-ইসরাঈলকে জিজ্ঞেস করুন, আমি মূসাকে নয়টি প্রকাশ্য নিদর্শন দান করেছি। যখন তিনি তাদের কাছে আগমন করেন, ফেরাউন তাকে বললঃ হে মূসা, আমার ধারনায় তুমি তো জাদুগ্রস্থ।,তিনি বললেনঃ তুমি জান যে, আসমান ও যমীনের পালনকর্তাই এসব নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ প্রমাণস্বরূপ নাযিল করেছেন। হে ফেরাউন, আমার ধারণায় তুমি ধ্বংস হতে চলেছো।

সুরা 17 ইসরা’, রাত্রি যাত্রা: 101-102

অতএব ফৌরণকে ‘সংহারের দন্ডাজ্ঞা’ দেওয়া হল I কিন্তু কিভাবে এটি ঘটতে ছিল? আল্লাহ পূর্বে বিভিন্ন উপায়ে বিনাশকে পাঠিয়েছিলেন I নোহের দিনে লোকেদের জন্য এটি বিশ্ব-ব্যাপী একটি বন্যা ছিল, আর লোটের স্ত্রীর জন্য এটি একটি নমকের স্তম্ভে পরিণত হওয়া ছিল I কিন্তু এই বিনাশ ভিন্ন হওয়ার ছিল কারণ এটিকে আবারও সমস্ত লোকেদের জন্য একটি চিহ্ন হওয়ার ছিল – এক মহান চিহ্ন I যেমনটি কোরান বলে     

  অতঃপর সে তাকে মহা-নিদর্শন দেখাল।

সুরা 79:20

এখানে লিঙ্কে তৌরাতের যাত্রা পুস্তকের মধ্যে আপনি দশম মহামারীর ব্যাখ্যা পড়তে পারেন I এটি একটি সম্পূর্ণ বিবরণ আর এটি নীচে ব্যাখ্যাটিকে ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করবে I   

নিস্তারপর্বের মেষশাবক মৃত্যু থেকে রক্ষা করে

শাস্ত্র আমাদের বলে যে আল্লাহর দ্বারা সংহারের আদেশ যে প্রত্যেক প্রথম জাত পুত্রকে সেই রাত্রিতে মরতে হবে কেবল সেই গৃহের মধ্যে তারা ছাড়া পাবে যেখানে একটি মেষ শাবককে বলি দেওয়া হবে এবং তার রক্তকে সেই বাড়ির দরজার চৌকাটে লাগিয়ে দেওয়া হবে I ফৌরণের প্রতি সংহার, যদি সে না মানে, তবে তার পুত্র এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মারা যাবে I আর মিশরের প্রত্যেক গৃহ প্রথম জাত পুত্রকে হারাবে – যদি তারা একট মেষ শাবককে বলির দ্বারা সমর্পণ না করে এবং তার রক্ত তাদের দরজার চৌকাটে না লাগায় I সুতরাং মিশর এক জাতীয় বিপর্যের সম্মুখীন হল I  

কিন্তু গৃহগুলোতে যেখানে একটি মেষশাবককে বলি দেওয়া হল এবং তার রক্তকে দরজার চৌকাটে লাগানো হল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো যে প্রত্যেকে নিরাপদ হবে I আল্লাহর বিচার সেই গৃহকে ছেড়ে এগিয়ে যাবে I অতএব এই দিন ও চিহ্নকে নিস্তার বলে ডাকা হল (যেহেতু সমস্ত গৃহগুলোকে নিস্তার দেওয়া হল যেখানে দরজার চৌকাটের উপরে মেষ শাবকের রক্ত লাগানো হয়েছিল) I কিন্তু দরজার উপরে রক্ত কাদের জন্য একটি চিহ ছিল? তৌরাত আমাদের বলে: 

সদাপ্রভু মশিকে বললেন…”… আমিই সদাপ্রভু I অতএব তোমরা যে গৃহে থাক, [নিস্তারপর্বের মেশ শাবকের] ওই রক্ত তোমাদের পক্ষে চিহ্নস্বরূপ হয়ে সেই গৃহের উপরে থাকবে; আর আমি যখন রক্ত দেখব, আমি তোমাদের ছেড়ে এগিয়ে যাব I

যাত্রা পুস্তক 12:13

তাই, যদিও সদাপ্রভু দরজার উপরে রক্ত খুঁজছিলেন, আর যখন তিনি তা দেখলেন তিনি ছেড়ে এগিয়ে যেতেন, টান জন্য রক্ত একটি চিহ্ন ছিল না I এটি বলে যে রক্ত ‘তোমাদের জন্য’ একটি চিহ্ন ছিল – লোকেদের জন্য I এবং বিস্তারিতভাবে এটি আমাদের সকলের জন্য একটি চিহ্ন যারা তৌরাতের মধ্যে এই বিবরণকে পড়ে I তাহলে এটি কিভাবে আমাদের জন্য একটি চিহ্ন হয়? এই অবশ্যম্ভাবী রাত্রির পরে সদাপ্রভু তাদেরকে আজ্ঞা দিলেন:   

এই দিনটি পরবর্তী প্রজন্মের স্থায়ী অধ্যাদেশ হিসাবে উদযাপন করুন। আপনি যখন দেশে প্রবেশ করবেন … এই অনুষ্ঠানটি পালন করুন … এটি প্রভুর কাছে নিস্তারপর্বের উত্সর্গ ‘’

যাত্রা পুস্তক 12:27

নিস্তারপর্ব য়িহূদি ক্যালেন্ডার দিয়ে আরম্ভ হয়

Text Box: 1 আধুনিক যুগের দৃশ্য থেকে গৃহীত যখন আসন্ন যিহূদি নিস্তারপর্বের উৎসবের জন্য অনেক মেষশাবকদের বধ করা হচ্ছে
http://al-injil.net/wp-content/uploads/2012/08/modern-passover-scene-300x198.jpg

সুতরাং প্রত্যেকে বছরের একই দিনে ইস্রায়েলীদের নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে আজ্ঞা দেওয়া হল I ইস্রায়েলী ক্যালেন্ডার পাশ্চাত্য একটির থেকে একটু ভিন্ন, তাই প্রত্যেক বছরে আপনি যদি এটিকে পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের দ্বারা অনুসরণ করেন, তাহলে বছরের দিনটিতে অল্প একটু পরিবর্তন ঘটে, ঠিক রমদানের মতন, কারণ এটি ভিন্ন বছর-দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তিশীল, প্রতি বছর পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের মধ্যে সরে যায় I কিন্তু আজ পর্যন্ত, 3500 বছর পরে এখনও য়িহূদি লোকেরা মশির (পিবিইউএইচ) সময় থেকে তৌরাতের মধ্যে সদাপ্রভুর দ্বারা প্রদত্ত আজ্ঞার বাধ্যতায় প্রতি বছর এই ঘটনার স্মৃতিতে নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে থাকে I এখানে আসন্ন নিস্তারপর্বের জন্য য়িহূদিদের দ্বারা মেষশাবক বধ করার আজকের আধুনিক যুগের একটি দৃশ্য I এটি ঈদ উৎসবের অনুরূপ I

ইতিহাসের মাধ্যমে এই উৎসবকে অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা একেবারে অসাধারণ কিছু লক্ষ্য করতে পারি I আপনি এটিকে সুসমাচারে (ইঞ্জীলে) লক্ষ্য করতে পারেন, যেখানে এটি ভাববাদী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) গ্রেফতার ও বিচারকে বিশদভাবে নথিভুক্ত করে I  

 “পরে লোকেরা ইসাকে নিয়ে গেল…রোমীয় দেশাধক্ষ্য [পীলাতের] রাজপ্রাসাদে…আনুষ্ঠানিক অশুচিতাকে এড়িয়ে যেতে য়িহূদির রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করলো না; তারা নিস্তারপর্বের ভোজ খেতে সক্ষম হতে চাইল”…[পীলাত] বলল [য়িহূদি নেতাদের] “…কিন্তু তোমাদের এমন এক রীতি আছে যে, আমি নিস্তারপর্বের সময়ে তোমাদের জন্য এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিই; তোমরা কি ইচ্ছা কর যে আমি তোমাদের জন্য ‘য়িহূদিদের রাজাকে’ ছেড়ে দিই [অর্থাৎ মসীহ]” তারা আবার চেঁচিয়ে বলল, ‘না ওকে নয়…”

যোহন 18:28, 39-40

অন্য কথায়, ঈসা আল মসীহকে (পিবিইউএইচ) গ্রেফতার করা হল এবং য়িহূদি ক্যালেন্ডার মধ্যে নিস্তারপর্বের দিনে প্রাণদণ্ডের জন্য পাঠানো হল I আপনি যদি ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্নর থেকে স্মরণ করেন, ঈসার অন্যতম পদবিগুলোর  মধ্যে একটি ছিল যা ভাববাদী যাহয়ার (পিবিইউএইচ) দ্বারা তাকে দেওয়া হয়েছিল  

পরের দিন জন (যাহা ইয়াহিয়া) যীশুকে (অর্থাত্ Isaসা) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, “দেখ Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি পৃথিবীর পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম যে ‘আমার পরে একজন আসেন তিনি আমার আগে ছুঁড়েছিলেন কারণ তিনি আমার আগে ছিলেন’ “।

যোহন 1:29-30

ঈসাকে (পিবিইউএইচ) নিস্তারপর্বের দিনে প্রাণদণ্ড দেওয়া হল

এখানে আমরা এই চিহ্নর অনন্যতাকে দেখি I ঈসা (পিবিইউএইচ), ‘মেষ শাবককে’, প্রাণদণ্ডের (বলিদান) জন্য বিশেষ একই দিনে পাঠানো হল যেদিনে তখনকার য়িহূদি নিবাসীরা (পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের মধ্যে 33 খ্রীষ্টাব্দ) প্রথম নিস্তারপর্বের স্মরণে একটি মেষ শাবকের বলি দিচ্ছিল যা 1500 বছর পূর্বে ঘটেছিল I এই জন্যই যিহূদি নিস্তারপর্ব উৎসব ইস্টারের মতন সাধারণতঃ প্রতি বছর একই সপ্তাহে ঘটে – ঈসা আল মসীহর ছেড়ে যাওয়ার স্মরণে – কারণ ঈসাকে (পিবিইউএইচ) একই দিনে বলিদানের জন্য পাঠানো হয়েছিল I (ইস্টার এবং নিস্তারপর্ব ঠিক একই দিনে হয় না কারণ যিহূদি এবং পাশ্চাত্য ক্যালেন্ডারের বছরের দীর্ঘতাকে সমন্বয় করার বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, কিন্তু তারা সাধারণতঃ একই সপ্তাহে হয়) I     

Text Box: 2‘চিহ্নগুলো’ কি করে? সেগুলো আমাদের মনের নির্দেশিকা যা আমাদেরকে অন্য কিছু ভাবায়
What Signs do

এখন এক মিনিটের জন্য ভাবুন ‘চিহ্নগুলো’ কি করে I

যখন আমরা ‘মাথার খুলি এবং হাড়ের’ চিহ্ন দেখি এটি আমাদের মৃত্যু ও বিপদের সম্বন্ধে ভাবায় I ‘সোনার খিলানের’ চিহ্ন আমাদেরকে বোধ হয় ম্যাক ডোনাল্ডসের কথা ভাবায় I

Text Box: 3 ঈসা আল মসীর বলিদানের প্রতি সংকেতের দ্বারা নিস্তারপর্ব একটি ‘চিহ্ন’
The Sign of Musa - Passover

এর চিহ্নটি টেনিস খেলোয়াড় নাদালের বানদানার উপরে নাইকের জন্য চিহ্ন I নাইক আমাদের তাদের সম্বন্ধে ভাবাতে চায় যখন আমরা নাদালের উপরে এই চিহ্ন দেখি I অন্য কথায়, চিহ্নগুলো আমাদের মনের নির্দেশিকা যা আমাদের আকাঙ্খিত বস্তুর সম্বন্ধে চিন্তা করতে নির্দেশ করে I মশির (পিবিইউএইচ) এই চিহ্নর সাহায্যে ইনি আল্লাহ যিনি আমাদের জন্য এই চিহ্ন দিয়েছেন I কেন তিনি এই চিহ্ন দিলেন? ভালো কথা চিহ্নটি, এই দিনে মেষ শাবকের বলি হওয়ার উল্লেখযোগ্য সময়ের সাথে ঈসা অবশ্যই ঈসা আল মসীহর বলিদানের প্রতি একটি নির্দেশিকা হবে (পিবিইউএইচ) I       

এটি আমাদের মনে কার্য করে যেমনটি আমি চিত্রর মধ্যে দেখিয়েছি I সেখানে চিহ্নটি আমাদের ঈসা আল মসীহর সমর্পণের প্রতি ইঙ্গিত করে I প্রথম নিস্তারপর্বে মেষ শাবকদের বলিদান করা হয়েছিল আর রক্ত বয়েছিল ও ছড়িয়েছিল যাতে লোকেরা বাঁচতে পারে I আর এইরূপে, এই চিহ্ন ঈসার প্রতি ইঙ্গিত করে আমাদের বলতে যে তিনি ‘ঈশ্বরের মেষ শাবককেও’, মৃত্যুতে সমর্পণ করা হয়েছিল যাতে আমরা জীবন পেতে  পারি I  

The Sign of Ibrahim

4ইব্রাহিমের পুত্রের বলিদান ঈসা আল মসীহর প্রতি আমাদেরকে চিন্তা করতে ইঙ্গিত করে আমরা ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্নর মধ্যে দেখি যে সেই স্থানটি যেখানে ইব্রাহিমের তার পুত্রের বলিদানের সাথে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল সেটি মোরিয়া পর্বত ছিল I কিন্তু সেই মুহুর্তে তার পুত্রের পরিবর্তে একটি মেষ শাবককে বলি দেওয়া হয়েছিল I একটি মেষ শাবক মারা গেল যাতে ইব্রাহিমের পুত্র বাঁচতে পারে I মোরিয়া পর্বত সেই বিশেষ একই স্থান ছিল যেখানে ঈসাকে (পিবিইউএইচ) বলি দেওয়া হয়েছিল I সেটি একটি চিহ্ন ছিল যা ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) বলি হওয়ার জন্য সমর্পিত হতে স্থানটির প্রতি ইঙ্গিত করতে আমাদেরকে ভাবায় I এখানে মশির এই চিহ্নর মধ্যে আমরা সেই একই ঘটনার প্রতি অন্য একটি নির্দেশিকাকে দেখি – বলিদানের জন্য ঈসার (পিবিইউএইচ) সমর্পণ – নিস্তারপর্বের বলিদানের ক্যালন্ডারের দিনকে ইঙ্গিত করে I একটি মেষ শাকবকে একই ঘটনাকে ইঙ্গিত করতে আর একবার ব্যবহার করা হয় I কেন? আমরা আরও উপলব্ধি পেতে মশির পরবর্তী চিহ্নর সাথে চলতে থাকি I এই চিহ্ন সীনয় পর্বতের ব্যবস্থার দান I     

কিন্তু এই কাহিনীটি শেষ করতে গিয়ে, ফৌরণের প্রতি কি ঘটল? আমরা যেমন তৌরাতের অধ্যায়ে পড়ি, সে সতর্কতায় কান দেয় নি আর তার প্রথম জাত পুত্র সেই রাত্রে (উত্তরাধিকারী) মারা গেল I তাই অবশেষে সে ইস্রায়েলীদের মিশর ছেড়ে যেতে অনুমতি দিল I কিন্তু তারপরে সে তার মন পরিবর্তন করল আর তাদেরকে লোহিত সাগর পর্যন্ত তাড়া করল I সেখানে সদাপ্রভু ইস্রায়েলীদের সাগরের মধ্য দিয়ে যেতে দিলেন কিন্তু ফৌরণ তার সৈন্য বাহিনীর সাথে নিমজ্জিত হল I নয়টি মহামারীর পরে, নিস্তারপর্বের মৃত্যু, এবং সৈন্য বাহিনীর ক্ষতিতে, মিশর ভীষণভাবে হ্রাসপ্রাপ্ত হল এবং আর কখনও পৃথিবীর বিশিষ্টতম শক্তি রূপে তার মর্যাদাকে ফিরে পেল না I আল্লাহ তার বিচার করলেন I 

ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্ন: বলিদান

মহান ভাববাদী ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) পূর্ববর্তী চিহ্নর মধ্যে একটি পুত্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি রাখলেন I আসলে তৌরাত ইব্রাহিমের (পিস বি আপন হিম)বিবরণ দিতে থাকে বর্ণনা করতে যে সে কিভাবে দুইটি পুত্র পেল I তৌরাত বলে কিভাবে সে হাগরের মাধ্যমে তার পুরো ইশ্মায়েলকে পেল এবং তারপর পরবর্তী কালে আদিপুস্তক 21 বলে কিভাবে সে সারার মাধ্যমে প্রায় 14 বছর পরে তার পুত্র ইসাককে পেল I দুর্ভাগ্যক্রমে তার পরিবারে দুই স্ত্রী হাগার এবং সারার মধ্যে এটি একটি বিরাট শত্রুতায় পরিণত করল, এবং শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমকে হাগর এবং তার পুত্রকে দুরে পাঠিয়ে দিতে হল I আপনি এখানে পড়তে পারেন এটি কিভাবে ঘটল এবং কিভাবে আল্লাহ হাগর এবং ইশ্মায়েলকে অন্য ভাবে আশির্বাদিত করলেন I       

ভাববাদী ইব্রাহিমের বলিদান: ঈদ আল-আধার ভিত্তি

অতএব তার পরিবারে কেবলমাত্র একটি পুত্র অবশিষ্ট থাকতে ইব্রাহিমের সঙ্গে  (পিবিইউএইচ) তার মহানতম পরীক্ষার সাক্ষাতকার হল কিন্তু এটি এমন একটি যা আমাদের জন্য সরাসরিভাবে এক মহান উপলব্ধিকে উন্মুক্ত করে দেয় I আপনি তৌরাত এবং কোরান থেকে তার পুত্রের বলিদানের পরীক্ষা সম্বন্ধে এখানে পড়তে পারেন I বইগুলোর এই কাহিনী থেকে বোঝা যায় কেন ঈদ আল-আধা উদযাপন করা হয় I কিন্তু এটি কেবলমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয় I এর থেকে আরও অধিক I    

আমরা বইগুলোর বিবরণ থেকে দেখতে পারি যে এটি ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ), জন্য একটি পরীক্ষা নয়, বরং এটি ঠিক তার থেকেও বেশি I যেহেতু ইব্রাহিম একজন ভাববাদী তাই এই পরীক্ষাও আমাদের জন্য একটি চিহ্ন, যাতে আমাদের জন্য ঈশ্বরের যত্নের সম্বন্ধে আরও অধিক জানতে পারি I কিভাবে এটি একটি চিহ্ন হল? দয়া করে নামটিকে নোট করুন যা ইব্রাহিম স্থানটিকে দিয়েছিল যেখানে তার পুত্রকে বলিদান দেওয়ার কথা ছিল I তৌরাতের এই অংশকে এখানে দেখানো হয়েছে যাতে করে আপনি এটিকে সরাসরিভাবে পড়তে পারেন I 

  13তখন অব্রাহাম চক্ষু তুলিয়া চাহিলেন, আর দেখ, তাঁহার পশ্চাৎ দিকে একটী মেষ, তাহার শৃঙ্গ ঝোপে বদ্ধ; পরে অব্রাহাম গিয়া সেই মেষটি লইয়া আপন পুত্রের পরিবর্ত্তে হোমার্থ বলিদান করিলেন। 14আর অব্রাহাম সেই স্থানের নাম যিহোবা-যিরি [সদাপ্রভু যোগাইবেন] রাখিলেন। এই জন্য অদ্যাপি লোকে বলে, সদাপ্রভুর পর্ব্বতে যোগান হইবে।

আদিপুস্তক 22:13-14

নামটিকে লক্ষ্য করুন যা ইব্রাহিম (‘তৌরাতের মধ্যে আব্রাহাম’)সেই স্থানটিকে দিয়েছিল I সে এটির নামকরণ করল ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I ওই নামটি কি অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে আছে? এটি স্পষ্টরূপে ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে রয়েছে I এবং এমনকি উক্তিটির আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য যা অনুসরণ করে (যাকে মশি – পিবিইউএইচ – সন্নিবিষ্ট করল যখন সে  তৌরাতের মধ্যে এই বিবরণটিকে প্রায় 500 বছর পরে সংকলন করল) এটি পুনরুক্তি করে “…এটিকে যোগান দেওয়া হবে”I পুনরায় এটি ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে এবং ভবিষ্যতের দিকে দেখছে I অধিকাংশ লোক ভাবে যে ইব্রাহিম ভেড়াটির সম্বন্ধে উল্লেখ করছে (একটি পুরুষ ভেড়া) যেটাকে ঝাড়ের মধ্যে ধরা হয়েছিল এবং বলি দেওয়া ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল I কিন্তু যখন ইব্রাহিম স্থানটির নামকরণ করে তখন তিমধ্যেই ভেড়াটি মৃত, উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছে I যদি ইব্রাহিম ভেড়াটির কথা ভাবত – যে ইতিমধ্যেই মৃত, উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদগ্ধ – সে এর নাম দিয়ে থাকত ‘সদাপ্রভু যোগান দিয়েছেন’ , অর্থাৎ অতীত কালের মধ্যে I এবং মশি (পিবিইউএইচ) যদি সে ভেড়াটির সম্বন্ধে এইরকম ভাবত  যে সে ইব্রাহিমের স্থান নিয়েছে, তবে মন্তব্য করে থাকত ‘এবং আজ অবধি এটি বলা হত’ “সদাপ্রভুর পর্বতে এটিকে যোগান দেওয়া হয়েছিল” I কিন্তু উভয়ে ইব্রাহিম এবং মশি স্পষ্টভাবে এটিকে ভবিষ্যত কালের মধ্যে এক নাম দিয়েছেন I এবং তাই ইতিমধ্যেই মৃত ও উৎসর্গীকৃত ভেড়ার সম্বন্ধে ভাবছে না I     

সুতরাং তারা তখন কি ভাবছিল? যদি আমরা একটি সুত্রর খোঁজ করি আমরা দেখি যে সেই স্থানটি যেখানে আল্লাহ ইব্রাহিমকে এই চিহ্নর প্রারম্ভে যেতে বললেন ছিল:  

তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার পুত্রকে নাও, তোমার একমাত্র পুত্র, ইসহাক, যাকে তুমি ভালবাস, আর মোরিয়া অঞ্চলে যাও I পর্বতগুলোর মধ্যে একটির ওপরে যার বিষয়ে আমি তোমাকে বলব তাকে হোম বলি রূপে বলি দাও I”

পদ 2

এটি ‘মোরিয়াতে’  ঘটল I এবং কোথায় সেটি? যদিও ইব্রাহিমের সময়ে (2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এটি একটি প্রান্তর ছিল, এক হাজার বছর পরে (1000 খ্রীষ্টাব্দ), বিখ্যাত রাজা দায়ূদ (ডেভিড) সেখানে যিরূশালেম নগরটির স্থাপনা করলেন, এবং তার পুত্র সুলেমান (শলোমন) সেখানে মদির নির্মাণ করল I আমরা যাবুরের মধ্যে এই সম্বন্ধে পড়ি যে:

পরে সোলায়মান (সুলাইমান) জেরুজালেমে মোরিয়তা পর্বতে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যেখানে সদাপ্রভু তাঁর পিতা দায়ূদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল (দাউদ)

2 ক্রম 3: 1

অন্য কথায়, ইব্রাহিমের সময় (এবং পরে মশি) ‘মোরিয়া পর্বত’ প্রান্তরের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন পর্বত শীর্ষ ছিল কিন্তু 1000 বছর পরে দায়ূদ এবং সুলেমানের সহায়তায় এটি ইস্রায়েলীদের কেন্দ্র এবং রাজধানী নগরে পরিণত হল যেখানে তারা সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করলেন I এবং এই বিশেষ দিন অবধি এটি য়িহূদি লোকেদের জন্য একটি পবিত্র স্থান I    

মোরিয়া পর্বতকে সদাপ্রভু মনোনীত করেছিলেন, ইব্রাহিম পিবিইউএইচ নয় I যেমন সূরা আল-জিন (সূরা 72 – জিনটি) ব্যাখ্যা করে:

“এবং উপাসনা স্থানসমূহ Godশ্বরের পক্ষে (সুতরাং) সুতরাং তোমরা Godশ্বরের সাথে কাউকে ডাকো না;সূরা আল-

জিন 72:18

আরাধনার স্থান সদাপ্রভুর দ্বারা মনোনীত হয়েছিল I আমরা দেখতে পাই কেন এই স্থানটিকে মনোনীত করা হয়েছিল I

ঈশা আল মসিহ এবং মোরিয়া পর্বতের উপরে বলিদান

আর এখানে ঈশা আল মসিহ (পিবিইউএইচ) এবং ইঞ্জিলের প্রতি আমরা একটি সরাসরি সংযোগকে দেখি I আমরা এই সংযোগকে দেখি যখন আমরা ঈশার উপাধিগুলোর একটির সম্বন্ধে জানি I ঈশাকে তার প্রতি অনেক উপাধি দেওয়া হয়েছিল I হয়ত সর্বাধিক সুপরিচিত ‘মসীহ্’ উপাধি (যা আবারও ‘খ্রীষ্ট’) I কিন্তু তাঁকে আরও একটি উপাধি দেওয়া হয়েছিল যেটি এতটা সুপরিচিত নয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্তপুর্ন I আমরা এটিকে ইঞ্জিলের মধ্যে দেখি যখন যোহনের সুসমাচারের মধ্যে আমরা দেখি যে ভাববাদী যাহহা (ইঞ্জিলের মধ্যে বাপ্তিস্মদাতা যোহন) বলে:   

 পরের দিন জন (যাহা ইয়াহিয়া) যীশুকে (অর্থাত্ Isaসা) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, “দেখ Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি পৃথিবীর পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম যে ‘আমার পরে একজন আসেন তিনি আমার আগে ছুঁড়েছিলেন কারণ তিনি আমার আগে ছিলেন’ “

যোহন 1:29-30

একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ঈশার (পিবিইউএইচ) কম পরিচিত একটি উপাধি, যাকে যাহার দ্বারা দেওয়া হয়েছিল ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ I এখন ঈশার জীবনের শেষকে বিবেচনা করুন I কোথায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছিল? এটি যিরূশালেমমের মধ্যে ছিল (যেটিকে আমরা যেমন দেখলাম সেই একই ‘মোরিয়া পর্বত’) I তাঁর গ্রেফতারের সময় এটিকে অত্যন্ত স্পষ্টরূপে ব্যক্ত করা হয় যে:   

 যখন তিনি [পীলাত] জানতে পেরেছিলেন যে যীশু হেরোদের অধীনে ছিলেন তখন তিনি তাকে হেরোদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি জেরুসালেমেও ছিলেন ’’

লুক 23:7

অন্য কথায়, গ্রেফতার, বিচার এবং ঈশার প্রাণদণ্ড যিরূশালেমমে ঘটেছিল (= মোরিয়া পর্বত) I

ইব্রাহিমে ফেরা যাক I কেন সে সেই স্থানটির নামকরণ ভবিষ্যত কালে স্থাপন করল ‘সদাপভু যোগান দেবেন’? তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন এবং  জানতেন যে সেখানে কিছু ‘যোগান’ দেওয়া হবে I এবং নাটকের দৃশ্যে, ইব্রাহিমের পুত্রকে শেষ মুহুর্তে মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয় কারণ তার পরিবর্তে একটি মেষশাবক মারা গেল I দু হাজার বছর পরে, ঈশাকে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ বলা হল এবং একই স্থানে গ্রেফতার করা হল ও প্রাণদণ্ড দেওয়া হল!  

যিরূশালেমে ঘটনাগুলোর টাইমলাইন/মোরিয়া পর্বত

বলিদান ইব্রাহিমকে মুক্ত করল: মৃত্যু থেকে

এটি কি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ? আমি লক্ষ্য করি কিভাবে ইব্রাহিমের এই চিহ্নটি শেষ হয় I কোরানের 107 আয়াত ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ)সম্পর্কে এটি বলে যে

আর আমরা তাকে মুক্ত করলাম একটি আবশ্যক বলিদানের দ্বারা

সুরা 37:107 সাফ্ফত

 ‘মুক্ত’ হওয়া বলতে কি বোঝায়? মুক্তিপণ দেওয়া হল কোনো কারোর জন্য পণ দেওয়া যাকে বন্দীকে মুক্তি দিতে একজন বন্দী রূপে ধরা হয় I ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) জন্য ‘মুক্তিপণ’ হওয়ার অর্থ যে তিনি কোনো কিছুর জন্য একজন বন্দী ছিলেন (হ্যাঁ এমনকি যদিও একজন মহান ভাববাদী) I তিনি কিসের বন্দী ছিলেন? তার পুত্রের সাথে দৃশ্যটি আমাদের বলে I তিনি মৃত্যুর একজন বন্দী ছিলেন I এমনকি যদিও তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন, মৃত্যু তাকে বন্দী করেছিল I আমরা আদমের চিহ্ন থেকে দেখেছি যে আল্লাহ আদম এবং তার সন্তানদের সৃষ্টি করলেন (প্রত্যেককে – ভাববাদী সহ) মরণশীল – তারা এখন মৃত্যুর বন্দী ছিল I কিন্তু উৎসর্গীকৃত মেষশাবকের এই দৃশ্যে ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ)এর থেকে মুক্ত করা হল I যদি আপনি চিহ্নগুলোর (আদম, কয়িন আবেল, নোহ, ইব্রাহিম) অনুক্রমকে এই পর্যন্ত পর্যালোচনা করেন আপনি দেখবেন পশুবলিকে ভাববাদীদের দ্বারা প্রায়শই ব্যবহার করা   হত I তারা এই বিষয়ে কিছু জানত যা হয়ত আমাদের রেহাই দিতে পারে I আর আমরা দেখতে পারি যেহেতু এই কার্যটি আবারও ভবিষ্যতের ঈশা  “ঈশ্বরের মেষশাবকের’ দিকে নির্দেশ করে যে এটি কোনো না কোনো রূপে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ I  

বলিদান: আমাদের জন্য একটি আশীর্বাদ

আর মোরিয়া পর্বতের উপরে মেষশাবকের বলিদান আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ I বিনিময়ের শেষে আল্লাহ ইব্রাহিম্র কাছে ঘোষণা করলেন যে 

 “…আর তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে কারণ তুমি আমার বাক্যে অবধান করিয়াছ”

আদিপুস্তক 22:18

‘পৃথিবীর উপরে জাতিগণের’ মধ্যে আপনি যদি যে কোনো একটির মধ্যে থাকেন (এবং আপনি করেন!) এটি আপনাকে চিন্তিত করাবে কারণ প্রতিশ্রুতি হলো যে আপনি তখন স্বয়ং আল্লাহর থেকে একটি ‘আশীর্বাদ’ পেতে পারেন! সেটি কি উপযুক্ত নয়? ঈশার সঙ্গে ইব্রাহিমের কাহিনীর এই সংযোগ কিভাবে আমাদের কাছে একটি আশীর্বাদে পরিণত করে? এবং কেন? আমরা লক্ষ্য করি যে ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) ‘পণ দ্বারা মুক্ত’ করা হয়েছিল এবং এটি আবারও আমাদের জন্য একটি নির্দেশক হতে পারে, কিন্তু তা ছাড়া যে উত্তরটি অনায়াসে এখানে প্রতীয়মান নয় তাই আমরা মশির চিহ্নগুলোর (তার কাছে দুটি আছে) সাথে চলতে থাকব এবং সেগুলো আমাদের জন্য এই প্রশ্নগুলোকে প্রাঞ্জল করবে I      

কিন্তু আপাতত আমি কেবলমাত্র উল্লেখ করতে চাই যে ‘বংশ’ শব্দটি এখানে একবচনের মধ্যে আছে I এটি ‘বংশ সমূহ’ নয় যেমন অনেক বংশধর বা লোকেরা I ইব্রাহিমের একটি ‘বংশের’ মাধ্যমে একটি আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি একবচনের মধ্যে ছিল – একবচন যেমন ‘তিনি’, অনেক লোকের মাধ্যমে নয় অথবা লোকেদের এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে নয় যেমন ‘তাদের’ I মশির নিস্তারপর্বর  চিহ্ন আরও বুঝতে আমাদের এখন সাহায্য করবে I   

ইব্রাহিমের সাইন 2: ডান-নেস

এটা আমাদের সবার দরকার আল্লাহর কাছ থেকে কী? এই প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর রয়েছে তবে অ্যাডামের সাইন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ধার্মিকতা। সেখানে আমরা শব্দগুলি আমাদের কাছে সরাসরি সম্বোধিত হয়েছি (আদমের সন্তান)

হে আদম সন্তান! আমরা আপনার লজ্জা coverাকতে এবং পাশাপাশি আপনাকে সজ্জিত করার জন্য আপনাকে পোশাক উপহার দিয়েছি। তবে ধার্মিকতার পোশাক – এটি সর্বোত্তম। এগুলি আল্লাহর নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। সুরত :26:২:26

তাহলে ‘ধার্মিকতা’ কী? তাওরাত (দ্বিতীয় বিবরণ 32: 4) এ আমাদের আল্লাহ সম্পর্কে বলে

আমি প্রভুর নাম প্রচার করব।
ওহ, আমাদের !শ্বরের মহিমা প্রশংসা!
তিনিই শিলা, তাঁর কাজ নিখুঁত,
এবং তাঁর সমস্ত উপায় ন্যায্য।
একজন বিশ্বস্ত Godশ্বর যিনি কোন অন্যায় করেন না,
খাঁটি এবং ন্যায়বান তিনি।

এটিই তাওরাতে প্রদত্ত আল্লাহর ধার্মিকতার চিত্র। ধার্মিকতা মানে যে এক নিখুঁত; যে সমস্ত (কেবল কিছু বা সর্বাধিক নয় সমস্ত) একের উপায় ঠিক, যে কোনওটি (কিছুটাও নয়) ভুল করে না; যে এক সোজা। এটি ন্যায়নিষ্ঠা এবং তওরাত এভাবেই আল্লাহকে বর্ণনা করে। কিন্তু কেন আমাদের ধার্মিকতার দরকার? উত্তরটি দেওয়ার জন্য আমরা জাবুরের একটি প্যাসেজে এগিয়ে গেলাম। গীতসংহিতা 15 এ (দাউদ দ্বারা লিখিত) আমরা পড়লাম:

প্রভু, কে তোমার পবিত্র তাঁবুতে থাকতে পারে?
আপনার পবিত্র পাহাড়ে কে থাকতে পারে?

2 যার পদচারণা দোষহীন,
কে সৎকর্ম করে,
কে তাদের হৃদয় থেকে সত্য কথা বলে;
3 যার জিহ্বা কোন নিন্দা করে না,
যে প্রতিবেশীর সাথে অন্যায় করে না,
এবং অন্যের উপর ঝাপটায় পড়ে না;
4 যারা একজন দুর্বল ব্যক্তিকে তুচ্ছ করে
যারা সদাপ্রভুকে ভয় করে তাদের সম্মান কর;
যে শপথ করে এমনকি শপথ করে,
এবং তাদের মন পরিবর্তন করে না;
5 যে বিনা সুদে দরিদ্রকে leণ দেয়;
নিরীহদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে না …

যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে আল্লাহর ‘পবিত্র পর্বতমালায়’ কে থাকতে পারে, তখন জান্নাতালে আল্লাহর সাথে কে থাকতে পারে তা জিজ্ঞাসা করার অন্য উপায়। এবং আমরা উত্তর থেকে দেখতে পাচ্ছি যে যে নির্দোষ এবং ‘ধার্মিক’ (v2) – সেই ব্যক্তি আল্লাহর সাথে থাকার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। এজন্যই আমাদের ধার্মিকতার প্রয়োজন। তিনি নিখুঁত যেহেতু ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর সাথে থাকতে হবে।

এখন ইব্রাহিম (আ।) – এর দ্বিতীয় চিহ্নটি বিবেচনা করুন। বইগুলি থেকে প্যাসেজটি খুলতে এখানে ক্লিক করুন। আমরা তাওরাত ও কুরআন থেকে পঠিত অবস্থায় দেখতে পাই যে ইব্রাহাম (আ।) তাঁর পথ অনুসরণ করেছিলেন (সূরাত ৩ 37:83৩) এবং এর ফলে তিনি ‘ন্যায়পরায়ণতা’ অর্জন করেছিলেন (আদিপুস্তক ১৫:)) – এটিই চিহ্ন আদম আমাদের বলেছেন আমাদের প্রয়োজন। সুতরাং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: তিনি এটি কীভাবে পেলেন?

প্রায়শই আমি মনে করি যে আমি দুটি উপায়ে একটি করে ধার্মিকতা পেয়েছি। প্রথম উপায়ে (আমার চিন্তাভাবনায়) আমি আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে বা স্বীকৃতি দিয়ে ধার্মিকতা অর্জন করি। আমি আল্লাহর উপর ‘বিশ্বাস’ করি। এবং এই চিন্তার সমর্থনে, আদিপুস্তক 15: 6 এ ইব্রাহিম (আ।) ‘প্রভুকে বিশ্বাস করলেন না’? তবে আরও প্রতিবিম্বিত হয়ে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কেবলমাত্র এক ofশ্বরের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করেছিলেন। কোন আল্লাহ তাকে দৃ a় প্রতিশ্রুতি দেন নি – যে সে পুত্র হবে। এবং এটি সেই প্রতিশ্রুতি ছিল যে ইব্রাহিম (আ।) – কে বিশ্বাস করতে হবে কি না তা বেছে নিতে হয়েছিল। এ সম্পর্কে আরও চিন্তা করুন, শয়তান (শয়তান বা ইবলিস নামেও পরিচিত) আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে – এবং অবশ্যই তার ধার্মিকতা নেই। সুতরাং কেবলমাত্র আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করা ‘পথ’ সম্পর্কে নয়। ওতে হবে না.

দ্বিতীয়ত আমি প্রায়শই মনে করি যে আমি ন্যায়পরায়ণতা অর্জন করতে পারি তা হ’ল আমি এটিকে যোগ্যতা অর্জন করি বা আমার কাছ থেকে ভাল এবং ধর্মীয় কাজ করে এটি আল্লাহর কাছ থেকে অর্জন করি। খারাপ কাজ, প্রার্থনা, উপবাস বা নির্দিষ্ট ধরণের বা পরিমাণ মতো ধর্মীয় কাজ করার চেয়ে আরও ভাল কাজ করা আমাকে ধার্মিকতার যোগ্য, উপার্জন বা যোগ্যতার সুযোগ দেয়। তবে লক্ষ্য করুন যে তাওরাত মোটেই যা বলে তা নয়।

আব্রাম সদাপ্রভুকে বিশ্বাস করল, এবং সে [অর্থাৎ। আল্লাহ] এটি তার কাছে জমা দিয়েছেন [i.e. ইব্রাহিম] ন্যায় হিসাবে।আদিপুস্তক 15: 6

ইব্রাহিম ধার্মিকতাকে ‘উপার্জন’ করেননি; এটি তাঁর কাছে ‘জমা হয়েছিল’। তাহলে পার্থক্য টা কি? ঠিক আছে, যদি কিছু অর্জন করা হয় তবে আপনি তার জন্য কাজ করেছেন – আপনি এটি প্রাপ্য। এটি আপনার কাজের জন্য মজুরি পাওয়ার মতো। কিন্তু যখন কোনও কিছু আপনার কাছে জমা হয়, তা আপনাকে দেওয়া হয়। এটি অর্জিত বা যোগ্য নয়

ইব্রাহিম (আ।) এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি এক আল্লাহর অস্তিত্বে গভীর বিশ্বাসী ছিলেন। এবং তিনি প্রার্থনা, নিষ্ঠাবান এবং লোকদের সাহায্যকারী (তাঁর ভাগ্নে লুট / লোটের জন্য প্রার্থনা করার মতো) ছিলেন। এমন নয় যে আমরা এই জিনিসগুলি ত্যাগ করব। তবে এখানে ইব্রাহিমের বর্ণিত ‘ওয়ে’ এতই সহজ যে আমরা এটি প্রায় মিস করতে পারি। তাওরাত আমাদের বলে যে ইব্রাহিম (আ।) – কে ধার্মিকতা দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ধার্মিকতা অর্জন সম্পর্কে আমাদের যে সাধারণ ধারণাগুলি তা রয়েছে তা এই ভেবে উল্টে যায় যে, আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসই যথেষ্ট, অথবা আমি ন্যায়পরায়ণতা অর্জন করতে পারি বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারি এমন যথেষ্ট ভাল এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড (প্রার্থনা, উপবাস ইত্যাদি) করে। ইব্রাহীম যেভাবে নিয়েছিল সেভাবে নয়। তিনি কেবল প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করতে বেছে নিয়েছিলেন

এখন ছেলের এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করা বাছাই করা সম্ভবত সহজ ছিল তবে এটি অবশ্যই সহজ ছিল না। ইব্রাহিম (আ।) এই যুক্তি দিয়ে এই প্রতিশ্রুতিটি সহজেই উপেক্ষা করতে পারতেন যে, যদি আল্লাহ সত্যই তাকে পুত্র দান করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা রাখতেন তবে এখনই তাঁর উচিত ছিল। কারণ তার জীবনের এই মুহুর্তে, ইব্রাহিম এবং সরাই (তার স্ত্রী) বয়স্ক ছিলেন – সন্তান লাভের বয়সটি বেশ ভালই পার হয়ে গিয়েছিল। ইব্রাহিমের প্রথম চিহ্নে তিনি স্বদেশ ছেড়ে চলে এসে কনান চলে গিয়েছিলেন বলে ইতিমধ্যে তাঁর বয়স 75 বছর ছিল। এ সময় আল্লাহ তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি একটি ‘মহান জাতি’ লাভ করবেন। এবং এর পরে অনেক বছর কেটে গেছে তাই ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী সারাই এখন সত্যই বৃদ্ধ হয়ে গেছে এবং ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিল। এবং তাদের এখনও একটি সন্তান নেই – এবং অবশ্যই একটি “জাতি” নয়। “তিনি যদি এমনটি করতে পারতেন তবে আল্লাহ কেন ইতিমধ্যে আমাদের পুত্র দেননি”?, তিনি ভাবতেন। অন্য কথায়, তিনি সম্ভবত একটি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে উত্তরহীন প্রশ্ন থাকলেও একটি আসন্ন ছেলের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলেন কারণ তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমন আল্লাহকে বিশ্বাস করেছিলেন – যদিও তিনি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সমস্ত কিছুই বুঝতে পারেন নি। এবং এই প্রতিশ্রুতিতে (সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়সে আগত একটি পুত্র) believeমান আনার জন্য বিশ্বাস করা দরকার যে আল্লাহ তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর জন্য অলৌকিক কাজ করবেন।

প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করাও সক্রিয় অপেক্ষার দাবি করবে। এক অর্থে তাঁর পুরো জীবন বাধাগ্রস্থ হয়েছিল যখন তিনি প্রতিশ্রুত পুত্র আসার অপেক্ষায় (এখনও বহু বছর) কানন প্রতিশ্রুত ভূমিতে তাঁবুতে বাস করছিলেন। প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা এবং মেসোপটেমিয়ায় (আধুনিক ইরাক) সভ্যতায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে আরও সহজ হতে পারত যে তিনি বহু বছর আগে তার ভাই এবং পরিবার এখনও বসবাস করেছিলেন। সুতরাং ইব্রাহিমকে প্রতি বছর প্রতি বছর – প্রতি বছর – প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখতে অসুবিধা সহকারে জীবন কাটাতে হয়েছিল, যখন তিনি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতিতে তাঁর বিশ্বাস এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে এটি জীবনের সাধারণ লক্ষ্যগুলি – স্বাচ্ছন্দ্য এবং কল্যাণের চেয়ে অগ্রাধিকার নিয়েছিল। সত্যিকার অর্থে, প্রতিশ্রুতির প্রত্যাশায় বেঁচে থাকার অর্থ জীবনের স্বাভাবিক লক্ষ্যে মরে যাওয়া। প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করা আল্লাহর প্রতি তাঁর আস্থা এবং ভালবাসা উভয়ই দেখিয়েছিল।

এইভাবে প্রতিশ্রুতিটিকে ‘বিশ্বাস করা’ এর সাথে মানসিক চুক্তি ছাড়িয়ে গেছে। ইব্রাহিমকে তার জীবন, খ্যাতি, সুরক্ষা, বর্তমানের পদক্ষেপগুলি ঝুঁকতে হয়েছিল এবং এই প্রতিশ্রুতিতে ভবিষ্যতের আশা করতে হয়েছিল। কারণ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি সক্রিয়ভাবে এবং বাধ্যতার সাথে অপেক্ষা করেছিলেন।

এই নিদর্শনটি হ’ল ইব্রাহীম (আ।) কীভাবে একটি পুত্রের আল্লাহর ওয়াদা বিশ্বাস করেছিলেন এবং এরূপে তাঁকে ধার্মিকতা বা কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছিল। প্রকৃত অর্থে ইব্রাহিম এই প্রতিশ্রুতিতে নিজেকে জমা দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস না করা বেছে নিতে পারতেন এবং তিনি যে দেশে ফিরে এসেছিলেন (আধুনিক ইরাক) ফিরে আসতেন। এবং তিনি আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস রেখে এবং তাঁর প্রার্থনা, রোযা এবং অন্যান্য লোকদের সাহায্য করার সময়ও এই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করতে পারতেন। তবে তারপরে তিনি কেবল তাঁর ধর্ম বজায় রাখতেন তবে তাকে ‘ধার্মিকতা’ হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া হত না। এবং যেমন কোরআন আমাদের সকলকে আদমের সন্তান বলেছে – “ধার্মিকতার পোশাক – এটি সর্বোত্তম”। এটি ছিল ইব্রাহিমের পথ।

আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ধার্মিকতা, জান্নাতের জন্য আমাদের যা প্রয়োজন তা অর্জন করা হয় না তবে আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়। এবং এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমা হয়। কিন্তু তাহলে ধার্মিকতার জন্য কে অর্থ দেয়? আমরা সাইন 3 দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্ন ১: দোয়া

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)! তিনি আব্রাহাম ও ইব্রাম (আঃ) নামেও পরিচিত৷ ইহুদি, খ্রীষ্টান ও ইসলাম এই তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্ম সকল তাকে অনুসরণ করণার্থে আদর্শ রূপে দেখে৷ আরবগণ ও ইহুদিরা তাদের শারীরিক বংশ উৎপত্তিটিকে তার ছেলে ইসমাইল ও ইসহাকের মাধ্যমে খুঁজে বের করে৷  তিনি নবীদের মধ্যেও অতি গুরুত্বপূর্ণ নবী কারণ পরবর্তী নবীগণ তার অনুকরণ করেন৷ তাই আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্নটিকে বিভিন্ন অংশে দেখব৷ পাক কুরআনে ও তৌরাত শরীফে তার চিহ্নটিকে প্রথমে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন৷

আমরা পাক কুরআনের আয়াতটিতে দেখি যে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে লোকেদের ‘জাতিগুলো’ এসেছে৷ পরে এই লোকগুলো একটি ‘মহান রাজ্যে’ পরিণত হয়েছিল৷ কিন্তু একটি পুরুষের জন্য ‘জাতি’ উৎপাদনের জন্য অন্তত একটি ছেলে থাকতে হবে, এবং একটি ‘মহান রাজ্যে’ পরিণত হওয়ার আগে একটি দেশও থাকতে হবে৷

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্য ওয়াদা

তৌরাত শরীফের অংশটি (পয়াদেশ ১২:১-৭) দেখায় যে কিভাবে আল্লাহ্ ‘জাতি’ এবং একটি ‘মহান রাজ্যের’ ওয়াদাটিকে পূর্ণ করবেন যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে আসবে৷ আল্লাহ্ তাকে একটি ওয়াদা করেছিলেন যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বুনিয়াদ ছিল৷ আসুন এটিকে আমরা আরো বিশদভাবে দেখি৷  আমরা দেখি যে আল্লাহ্ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে বলেন:

2 “আমি তোমাকে একটি মহান জাতি হিসাবে পরিণত করব,
আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব;
আমি আপনার নাম মহান করব,
এবং আপনি একটি আশীর্বাদ হবে।
3 যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে আমি তাদের আশীর্বাদ করব,
আর যে তোমাকে অভিশাপ দেয় আমি অভিশাপ দেব;
এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক
আপনার মাধ্যমে ধন্য হবে। “

পয়দায়েশ ১২:২-৩

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মহানতা

আজকের দিনে আমি যেখানে বসবাস করি সেখানকার বহু লোকেরা আশ্চর্যান্বিত হয় ও বলে আল্লাহ্ আছেন কি না ও কিভাবে একজন জানবে যে তিনি সত্যিই তৌরাত শরীফের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশিত করেছিলেন?  আমাদের সম্মুখে একটি ওয়াদা রয়েছে, যার কিছু অংশকে আমরা যাচাই করতে পারি৷  এই প্রকাশটির অন্তিমে উল্লেখ করা হয়েছে যে আল্লাহ্ প্রতক্ষ্যভাবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে ওয়াদা করেছিলেন যে ‘আমি তোমার নামটিকে মহান করব৷’ আমরা একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি এবং হযরত ইব্রাহিম/আব্রাহাম/আব্রাম (আঃ)-এর নামটি  দুনিয়াতে সবচাইতে পরিচিত নাম৷ এই ওয়াদাটি আক্ষরিকভাবে ঐতিহাসিকভাবে সত্য হয়েছে৷ তৌরাত শরীফের আরম্ভের প্রতিলিপির দস্তাবেজটি যা আজও রয়েছে যা ডেড সি স্ক্রল থেকে এসেছে যার লেখার তারিখটি ছিল ২০০-১০০ খ্রিস্টপূর্ব৷ এর অর্থটি হল যে এই ওয়াদাটিকে সেকেলেই লেখা হয়ে গিয়েছিল৷ সেই সময়টিতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর নামটি তেমন প্রচলিত ছিল না-কেবল ইহুদিদের কিছু লোক জানত যারা তৌরাত শরীফটিকে অনুসরণ করত৷ কিন্তু বর্তমানে তার নামটি মহান, তাই আমরা এই পূর্ণতাটিকে যাচাই করতে পারি যা কেবল এটিকে লেখার পরে এসেছিল, আগে নয়৷

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রতি করা ওয়াদাটির এই অংশটি নিশ্চয়ই ঘটেছে, যা অ-ঈমানদারদের কাছেও স্পষ্ট, এবং এটি আমাদেরকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রতি করা আল্লাহ্‌র ওয়াদাটির বাকি অংশটিকে বুঝতে আরো বেশি আত্মবিশ্বাস প্রদান করে৷ আসুন এটিকে পর্যবেক্ষণ করা বহাল রাখি৷

আমাদের জন্য দোয়া

এছাড়া, আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে আগত একটি ‘মহান জাতিটিকে’ ও হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে দেওয়া ‘দোয়াটির’ প্রতিজ্ঞাটিকে দেখতে পারি৷ কিন্তু আরো অন্য কিছুও রয়েছে, দোয়াটি কেবল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্যই ছিল না কারণ এটি বলে যে “দুনিয়ার সকল লোকেরা তোমার মাধ্যমে দোয়া পাবে” (অর্থাৎ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মাধ্যমে)৷ এটি আমাকে ও আপনাকে লক্ষ্য করতে সজাগ করে৷ কারণ আপনি ও আমি ‘দুনিয়ার সকল লোকেদের’ অংশ- সেক্ষেত্রে আমাদের ধর্ম, জাতি, নিবাস স্থান, আমাদের সামাজিক স্তর অথবা আমাদের ভাষা যাই হোক না কেন৷ এই ওয়াদাটি আজকের দিনে জীবিত সকল লোকেদের জন্য৷ এটি আপনার জন্যও একটি ওয়াদা৷  আমাদের ভিন্ন ধর্ম, জাতি ও ভাষা প্রায়ই লোকেদেরকে আলাদা করে এবং সংঘর্ষের কারণ হয়, এটি এমন একটি ওয়াদা যা এই সকল বিষয়কে উপেক্ষা করে যা সাধারণত আমাদেরকে ভাগ করে৷ কিভাবে? কখন? কি ধরনের দোয়া? এই পর্যায়ে এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত করা হয়নি, কিন্তু এই চিহ্নটি একটি ওয়াদার জন্ম দিয়েছিল যা হল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মাধ্যমে আপনার ও আমার জন্য৷ যেহেতু আমরা জানি যে এই ওয়াদাটির একটি অংশ সত্য হয়েছে, তাই আমরা সুনিশ্চিত হতে পারি যে এই অন্য অংশটি যা আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাও স্পষ্ট ও আক্ষরিকভাবে পূর্ণ হবে- আমাদের কেবল এটিকে খোলার একটি চাবি খুঁজতে হবে৷

আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এই ওয়াদাটিকে পেয়েছিলেন তখন তিনি আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করেছিলেন এবং…

“তাই মাবুদের কথামতই তিনি বেরিয়ে পড়লেন”

আয়াত ৪
Capture 1.PNG

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর উর থেকে কেনান দেশে যাওয়ার মানচিত্র

ওয়াদার দেশে যেতে কত সময় লেগেছিল? তার যাত্রাটিকে এখানে দেওয়া মানচিত্রটি দেখায়৷ তিনি বাস্তবে উর শহরে (বর্তমানে দক্ষিণ ইরাক) বসবাস করতেন এবং হারণ শহরে (বর্তমানে উত্তর ইরাক) গিয়েছিলেন৷  Ibহযরত ইব্রাহিম (আঃ) তারপর কেনান দেশে (তার সময়ে সেই দেশটি কেনান নামে পরিচিত ছিল) যাত্রা করেছিলেন৷ আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন যে এটি একটি লম্বা যাত্রা ছিল৷ Hতিনি হয়ত উঠ, ঘোড়া অথবা গাধার পিঠে চড়ে যাত্রা করেছিলেন তাই বহু মাস লেগে গিয়েছিল৷ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার পরিবার ত্যাগ করেছিলেন, তার আরামের জীবনটিকে ত্যাগ করেছিলেন (মেসোপটেমিয়া এই সময়ে সভ্যতার কেন্দ্র ছিল), তার সুরক্ষা এবং তার চেনা সকল কিছুকে ত্যাগ করে এমন একটি জাগয়ায় গিয়েছিলেন যা তার জন্য অজানা ছিল৷ তৌরাত শরীফ আমাদেরকে বলে যে তখন তিনি ৭৫ বছরের ছিলেন!

পূর্ববর্তী নবীদের ন্যায় পশুদের কোরবানী দেওয়া হয়

তৌরাত শরীফ আরও বলে যে যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কেনান দেশে সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে গিয়েছিলেন:

 “তাই তিনি মাবুদের জন্য একটি কোরবানগাহ্ নির্মাণ করেছিলেন”

আয়াত ৭

তার পূর্বে হাবিল ও হজরত নূহ্ (আঃ)-এর মত, সেই কোরবানগাহে্ তিনিও আল্লাহ্‌র জন্য পশুদের কোরবানী দিলেন৷  

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার বার্ধক্যের সময়ে এই নতুন দেশে যাত্রা করার জন্য তার জীবনটিকে বহু কিছু ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন৷ কিন্তু এমনটি করার মাধ্যমে তিনি আল্লাহ্‌র ওয়াদাটির প্রতি নিজেকে সমর্পিত করেছিলেন৷ এই কারণে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা আগামীতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্ন ২ দেখা জারি রাখব৷

লুটের চিহ্ন

লুত (বা তৌরাত / বাইবেলে লট) ছিলেন ইব্রাহিমের (আ।) ভাগ্নে। তিনি দুষ্ট লোকদের দ্বারা পূর্ণ শহরে থাকতে বেছে নিয়েছিলেন। আল্লাহ এই পরিস্থিতি সকল মানুষের জন্য ভবিষ্যদ্বাণীমূলক লক্ষণ হিসাবে ব্যবহার করেছেন। তবে লক্ষণগুলি কী? এর উত্তর দেওয়ার জন্য আমাদের এই অ্যাকাউন্টে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির প্রতি গভীর মনোযোগ দিতে হবে। তৌরাত এবং কুরআন উভয় ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট পড়তে তৌরাত এবং কুরআন

তৌরাত ও কুরআনে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে তিনটি লোক রয়েছে, পাশাপাশি আল্লাহর ফেরেশতা (বা বার্তাবাহক) রয়েছে। আসুন আমরা ঘুরে ফিরে প্রতিটি সম্পর্কে চিন্তা করি।

সদোমের লোকরা

এই লোকেরা চরম বিকৃত ছিল। এই লোকেরা অন্য পুরুষদের ধর্ষণ করার আশা করছিল (তারা সত্যই ফেরেশতা ছিল তবে যেহেতু সদোমের লোকেরা ভেবেছিল তারা পুরুষ বলে তারা তাদের উপর গণধর্ষণ করার পরিকল্পনা করেছিল)। এই ধরণের পাপটি এতই মন্দ ছিল যে আল্লাহ সমস্ত শহরকে বিচার করার জন্য দৃ সংকল্প করেছিলেন। রায় আদমকে দেওয়া রায়ের সাথে সামঞ্জস্য ছিল। শুরুতে আল্লাহ আদমকে সতর্ক করেছিলেন যে পাপের বিচারের জন্য মৃত্যু। অন্য কোনও ধরণের শাস্তি (যেমন মারধর, কারাবাস ইত্যাদি) যথেষ্ট ছিল না। আল্লাহ আদমকে বলেছিলেন

“… তবে ভাল এবং মন্দের জ্ঞানের গাছ থেকে আপনার খাওয়া উচিত নয়, কারণ আপনি যখন এগুলি খান তবে অবশ্যই মারা যাবেন” “

আদিপুস্তক ২:১

একইভাবে, सदোমের লোকদের পাপের শাস্তি ছিল তাদেরও মরতে হয়েছিল। আসলে পুরো শহর এবং এর মধ্যে বাসকারী সবাই স্বর্গ থেকে আগুনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। এটি এমন একটি প্যাটার্নের উদাহরণ যা পরে ইনজিলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল:

পাপের মজুরি মৃত্যু

রোমীয় :23:২৩

লুতের জামাই

নূহের বিবরণে, আল্লাহ সমগ্র বিশ্বের বিচার করেছিলেন এবং আদমের লক্ষণ অনুসারে রায় ছিল একটি মহান বন্যায় মৃত্যুর রায়। তবে তাওরাত এবং কুরআন আমাদের বলে যে সমগ্র বিশ্ব তখন ‘মন্দ’ ছিল। আল্লাহ সদোমের লোকদের ফয়সালা করলেন, কিন্তু তারাও ভ্রষ্ট ছিল। কেবলমাত্র এই অ্যাকাউন্টগুলির সাথেই আমি এই ভাবতে প্ররোচিত হতে পারি যে আমি আল্লাহর রায় থেকে নিরাপদ, কারণ আমি সেই মন্দ নই। সর্বোপরি, আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি, আমি অনেক ভাল কাজ করি এবং আমি কখনও এ জাতীয় মন্দ কাজ করি নি। আমি কি নিরাপদ? জামাইদের সাথে লুটের চিহ্ন আমাকে সতর্ক করে দেয়। তারা যে পুরুষদের সমকামী ধর্ষণ করার চেষ্টা করছিল তাদের গ্যাংয়ের অংশ ছিল না। তবে তারা জাজমেন্ট আসার সতর্কতাটিকে গুরুত্বের সাথে নেয়নি। প্রকৃতপক্ষে, তাওরাত আমাদের জানায় যে তারা ভেবেছিল ‘তিনি (লুট) রসিকতা করছেন’। তাদের ভাগ্য কি শহরের অন্যান্য পুরুষদের থেকে আলাদা ছিল? না! তারা একই পরিণতি ভোগ করেছে। এই জামাতা এবং সদোমের দুষ্ট পুরুষদের মধ্যে ফলাফলের মধ্যে কোনও তফাত ছিল না। এখানে সাইন হ’ল প্রত্যেককে এই সতর্কতাগুলিকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। এগুলি কেবল বিকৃত লোকদের জন্যই নয়।

লুটের স্ত্রী

লুটের স্ত্রী আমাদের কাছে দুর্দান্ত চিহ্ন। তৌরাত ও কুরআন উভয় ক্ষেত্রেই তিনি অন্যান্য লোকদের সাথেও মারা গিয়েছিলেন। তিনি একজন নবীর স্ত্রী ছিলেন। কিন্তু লডের সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্ক তাকে বাঁচাতে পারেনি যদিও তিনি সডোমের পুরুষদের মতো সমকামিতা অনুশীলন করেননি। ফেরেশতাগণ তাদের আদেশ করেছিলেন:

‘তোমাদের কারও পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না’ (সুরত ১১:৮৮) হুড বা

‘পিছনে ফিরে তাকাবে না’

আদিপুস্তক 19:17

তাওরাত আমাদের তা জানায়

কিন্তু লোটের স্ত্রী পিছনে ফিরে তাকাল এবং সে লবণের স্তম্ভ হয়ে গেল।

আদিপুস্তক 19:26

তার ‘পিছনে ফিরে দেখার’ অর্থ কী তা বোঝানো হয়নি। তবে স্পষ্টতই তিনি ভেবেছিলেন যে তিনি আল্লাহর কাছ থেকে একটি ছোট্ট আদেশও উপেক্ষা করতে পারেন এবং ভেবেছিলেন এটি কোনও বিষয় নয়। তার ভাগ্য – তার ‘ছোট’ পাপ নিয়ে – सदোমের পুরুষরা তাদের ‘বড়’ পাপ-মৃত্যুর সাথে একই ছিল। আমাকে এই চিন্তা থেকে বিরত রাখার জন্য এটি আমার পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন – এই ভুল চিন্তার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক করার জন্য লুতের স্ত্রী আমাদের চিহ্ন।

লূত, আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ

যেমনটি আমরা আদমের লক্ষণে দেখেছি, যখন আল্লাহ বিচার করেছিলেন তখন তিনি রহমতও প্রদান করেছিলেন। সেই বিচারে এটি ছিল ত্বকের কাপড় সরবরাহ করে। নূহের সাথে যখন আল্লাহ বিচার করলেন তখন তিনি আবার জাহাজের মধ্য দিয়ে রহমত দান করলেন। আবার আল্লাহ, তাঁর বিচারের ক্ষেত্রেও রহমত দানের ক্ষেত্রে যত্নশীল। তাওরাত এটি বর্ণনা করেছেন:

তিনি (লূত) দ্বিধায় পড়লে, পুরুষরা (পুরুষদের মতো দেখতে ফেরেশতারা) তাঁর হাত এবং তাঁর স্ত্রী ও তাঁর দুই কন্যার হাত ধরে শহর থেকে নিরাপদে তাদের বাইরে নিয়ে যায়, কারণ প্রভু তাদের প্রতি করুণাময় ছিলেন।

আদিপুস্তক 19:16

তার ‘পিছনে ফিরে দেখার’ অর্থ কী তা বোঝানো হয়নি। তবে স্পষ্টতই তিনি ভেবেছিলেন যে তিনি আল্লাহর কাছ থেকে একটি ছোট্ট আদেশও উপেক্ষা করতে পারেন এবং ভেবেছিলেন এটি কোনও বিষয় নয়। তার ভাগ্য – তার ‘ছোট’ পাপ নিয়ে – सदোমের পুরুষরা তাদের ‘বড়’ পাপ-মৃত্যুর সাথে একই ছিল। আমাকে এই ভাবনা থেকে দূরে রাখার জন্য এটি আমার পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন – এই ভুল চিন্তার বিরুদ্ধে আমাদের সতর্ক করার জন্য লুতের স্ত্রী আমাদের চিহ্ন

লূত, আল্লাহ ও ফেরেশতাগণ

যেমনটি আমরা আদমের লক্ষণে দেখেছি, যখন আল্লাহ বিচার করেছিলেন তখন তিনি রহমতও প্রদান করেছিলেন। সেই বিচারে এটি ছিল ত্বকের কাপড় সরবরাহ করে। নূহের সাথে যখন আল্লাহ বিচার করলেন তখন তিনি আবার জাহাজের মধ্য দিয়ে রহমত দান করলেন। আবার আল্লাহ, তাঁর বিচারের ক্ষেত্রেও রহমত দানের ক্ষেত্রে যত্নশীল। তাওরাত তা বর্ণনা করেছেন

তিনি (লূত) দ্বিধায় পড়লে, পুরুষরা (পুরুষদের মতো দেখতে ফেরেশতারা) তাঁর হাত এবং তাঁর স্ত্রী ও তাঁর দুই কন্যার হাত ধরে শহর থেকে নিরাপদে তাদের বাইরে নিয়ে যায়, কারণ প্রভু তাদের প্রতি করুণাময় ছিলেন।

আদিপুস্তক 19:16

আমরা এটা থেকে কি শিখতে পারি? পূর্ববর্তী চিহ্নগুলিতে যেমন করুণা সর্বজনীন ছিল তবে কেবলমাত্র এক রাস্তা দিয়েই সরবরাহ করা হয়েছিল – শহর থেকে তাদের বের করে আনতে। আল্লাহ উদাহরণস্বরূপ, নগরীতে এমন একটি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করার মাধ্যমেও দয়া প্রদান করেন নি যা স্বর্গ থেকে আগুনকে প্রতিরোধ করতে পারে। রহমত গ্রহণের একমাত্র উপায় ছিল – শহর থেকে ফেরেশতাদের অনুসরণ করুন। আল্লাহ লূত ও তাঁর পরিবারের প্রতি এই করুণা বাড়িয়ে দেননি কারণ লূত নিখুঁত ছিল। প্রকৃতপক্ষে, তৌরাত এবং কোরআন উভয় ক্ষেত্রেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে লুট তার মেয়েদের ধর্ষণকারীদের কাছে প্রস্তাব দিতে রাজি হয়েছিল – কোনও মহৎ প্রস্তাব নয়। তাওরাত আমাদের এমনকি এমনও বলেছিলেন যে স্বর্গদূতরা যখন তাকে সতর্ক করেছিলেন তখন লুট ‘দ্বিধায় পড়েছিলেন’। এমনকি এই সমস্ত কিছুর মধ্যেও আল্লাহ তাকে ‘আঁকড়ে ধরে’ বের করে দিয়ে রহমতকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এটি আমাদের জন্য নিদর্শন: আল্লাহ আমাদের প্রতি করুণা বাড়িয়ে দেবেন এবং এটি আমাদের যোগ্যতার উপর নির্ভর করে না। তবে আমাদের মতো লুটের মতো আমাদেরও এই দয়াটি আমাদের সহায়তা করার জন্য এটি গ্রহণ করা দরকার। জামাইরা এটি গ্রহণ করেনি এবং তাই তারা এন

তৌরাত আমাদের বলে যে আল্লাহ লূতের প্রতি এই করুণা বাড়িয়েছিলেন কারণ তাঁর চাচা, মহানবী হযরত ইব্রাহিম (আ।) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন (এখানে আদিপুস্তকের প্যাসেজ দেখুন)। তাওরাত ইব্রাহিমের আলামত দিয়ে আল্লাহর এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে অব্যাহত রেখেছে যে ‘পৃথিবীর সমস্ত জাতি ধন্য হবে কারণ তুমি আমার কথা মান্য করেছ’ (আদিপুস্তক ২২:১৮)। এই প্রতিশ্রুতিটি আমাদের সচেতন করা উচিত কারণ আমরা কে না, কোন ভাষায় কথা বলি, আমাদের কোন ধর্ম রয়েছে, বা আমরা কোথায় বাস করি তা আমরা জানতে পারি যে আপনি এবং আমি উভয়ই ‘পৃথিবীর সমস্ত জাতির’ অংশ। ইব্রাহিমের মধ্যস্থতা যদি লুতের প্রতি অনুগ্রহ বাড়িয়ে দিতে আল্লাহকে অনুপ্রাণিত করে, যদিও তিনি তা যোগ্যতা অর্জন করেন নি, তবে ইব্রাহিমের আলামত আমাদের ‘সমস্ত জাতির’ অন্তর্ভুক্ত আর কত বেশি রহমত বাড়িয়ে দেবে? এই চিন্তা নিয়েই আমরা ইব্রাহিমের লক্ষণগুলির দিকে তাকিয়ে তৌরাতে অবিরত থাকি।

নূহের চিহ্ন

আমরা প্রথম থেকেই কালানুক্রমিক ক্রমানুসারে এগিয়ে চলেছি (অর্থাত্ আদম / ইভ এবং কিবিল / হাবিল) এবং তৌরাতে আমাদের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ভাববাদী নুহ (বা নূহ / নূহ পিবিইউ), যিনি আদমের প্রায় 1600 বছর পরে বেঁচে ছিলেন। পাশ্চাত্যের অনেক লোক নবী নূহ (সা।) এবং বন্যাকে অবিশ্বাস্য মনে করেন find কিন্তু পৃথিবীটি পলি শিলা দিয়ে আচ্ছাদিত, যা বন্যার সময় পলির জমার মাধ্যমে গঠিত হয়। সুতরাং আমাদের কাছে এই বন্যার শারীরিক প্রমাণ রয়েছে, কিন্তু নোহের চিহ্ন কী ছিল যে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত? তৌরাত এবং কুরআনে নোহ (আ।) – এর অ্যাকাউন্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

অনুপস্থিত বনাম রহমত প্রাপ্তি

আমি যখন পশ্চিমাদের সাথে আল্লাহর বিচার সম্পর্কে কথা বলি, আমার প্রায়শই যে উত্তর পাওয়া যায় তা হ’ল আমি বিচারের বিষয়ে খুব বেশি চিন্তিত নই কারণ তিনি অত্যন্ত দয়ালু, আমি ভাবি না যে তিনি সত্যই আমার বিচার করবেন। ” নোহ (আ।) – এর এই বিবরণ আমাকে সত্যই সেই যুক্তিতে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। হ্যাঁ, আল্লাহ করুণাময়, এবং যেহেতু তিনি পরিবর্তন করেন না তিনি নূহ (আঃ) এর সময়েও করুণায় পূর্ণ ছিলেন। তবুও এই রায়টিতে সমগ্র বিশ্ব (নোহ ও তার পরিবার ব্যতীত) ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সূরা নুহ (সূরা –১ – নূহ) আমাদের বলেছেন যে:

তাদের পাপের কারণে তারা নিমজ্জিত হয়েছিল এবং তাদেরকে আগুনে প্রবেশ করা হয়েছিল এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদেরকে সাহায্য করতে পারে নি।

সূরা নুহ 71:25

তাহলে তাঁর রহমত তখন কোথায় ছিল? এটা সিন্দুক ছিল। যেমন কুরআন আমাদের বলে:

আমরা (আল্লাহ) তাকে এবং তাঁর সঙ্গীদেরকে জাহাজে পৌঁছে দিয়েছিলাম

উচ্চতা7 :64

আল্লাহ তাঁর রহমতে নবী নূহ (আ।) – কে ব্যবহার করে একটি নৌকো সরবরাহ করেছিলেন যা কারও জন্য উপলব্ধ ছিল। যে কেউ এই সিন্দুকটিতে প্রবেশ করে দয়া এবং সুরক্ষা পেতে পারত। সমস্যাটি ছিল প্রায় সমস্ত লোকেরা অবিশ্বাসে বার্তায় সাড়া দিয়েছিল। তারা নূহকে (সাঃ) বিদ্রূপ করেছিল এবং আসন্ন রায়কে বিশ্বাস করে না। কেবল তারা যদি জাহাজে প্রবেশ করত তবে তারা বিচার থেকে পালিয়ে যেত।

পবিত্র কুরআনের আয়াত আমাদের আরও জানিয়েছে যে নোহের এক পুত্রই আল্লাহ ও আসন্ন বিচারকে বিশ্বাস করে। তিনি যে পাহাড়ে আরোহণের চেষ্টা করছিলেন তা থেকেই বোঝা যায় যে তিনি আল্লাহর রায় থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন (সুতরাং তিনি অবশ্যই আল্লাহ ও বিচারের উপর believedমান আনতেন)। তবে আবারও সমস্যা ছিল। তিনি তার বিশ্বাসকে জমা দেওয়ার সাথে একত্রিত করেন নি এবং বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য তার নিজস্ব উপায় নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তার বাবা তাকে বলেছেন:

আজকের দিন আল্লাহর আদেশ ব্যতীত আর কিছুই রক্ষা করতে পারে না, যার উপর তাঁর রহমত রয়েছে!

হুড ১১: ৪৩

এই ছেলের বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য তার নিজের প্রচেষ্টা নয়, আল্লাহর রহমত প্রয়োজন। তাঁর একটি পাহাড়ে আরোহণের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। সুতরাং তার পরিণতি হুবহু হযরত নূহ (আ।) – কে ডুবিয়ে মৃত্যু নিয়ে যারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছিল তাদের সাথে একই রকম হয়েছিল। কেবল যদি তিনি জাহাজে প্রবেশ করতেন তবে তিনিও রায় থেকে পালিয়ে যেতেন। এ থেকে আমরা জানতে পারি যে কেবলমাত্র আল্লাহ ও বিচারের প্রতি itমান এড়িয়ে চলার পক্ষে যথেষ্ট নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি আল্লাহ তা’আলা আমাদের নিজের ধারণার চেয়ে বরং যে অনুগ্রহ জোগান, তার বশবর্তী হয়ে যেখানে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে আমরা অনুগ্রহ পাব। এটি আমাদের কাছে নোহের চিহ্ন – সিন্দুক। এটি ছিল আল্লাহর বিচারের প্রকাশ্য চিহ্ন হিসাবে তাঁর রহমত এবং পালানোর উপায়। সবাই যখন এটি নির্মিত হচ্ছে এটি দেখতে পাচ্ছিল এটি আসন্ন বিচার এবং উপলব্ধ রহমত উভয়েরই “স্পষ্ট লক্ষণ”। তবে এটি দেখায় যে তাঁর অনুগ্রহ কেবলমাত্র তিনি প্রতিষ্ঠিত বিধানের মাধ্যমেই অর্জনযোগ্য।

তাহলে নূহ কেন আল্লাহর রহমত পেলেন? তৌরাত এই বাক্যটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করে

প্রভু য়েমন আদেশ করেছিলেন তেমন নোহ সমস্তই করেছিলেন

আমি দেখতে পেয়েছি যে আমি যা বুঝি, বা আমি কী পছন্দ করি, বা আমি যা সম্মত তা করি to আমি নিশ্চিত যে নোহ (আ।) নিশ্চয়ই তাঁর আসন্ন বন্যার বিষয়ে আল্লাহর সতর্কতা এবং জমিতে এত বড় নৌকো তৈরির আদেশ সম্পর্কে তাঁর মনে অবশ্যই অনেক প্রশ্ন ছিল। আমি নিশ্চিত যে তিনি যুক্তিযুক্ত হতে পারতেন যেহেতু তিনি অন্যান্য অঞ্চলে একজন ভাল মানুষ ছিলেন তাই সম্ভবত এই সিন্দুকটি তৈরি করার দিকে তাঁর নজর দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তবে তিনি আদেশ করেছিলেন এমন সমস্ত ‘তিনি’ করেছিলেন – তাঁর বাবা তাঁকে যা বলেছিলেন তা-ও নয়, তিনি যা বুঝতে পেরেছেন, যা নিয়ে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না তা নয়, এমনকি তাঁর কাছে কী বোঝায় তা নয়। এটি আমাদের অনুসরণ করার জন্য একটি দুর্দান্ত উদাহরণ।

পরিত্রাণের জন্য দ্বার

তাওরাত আমাদের আরও বলেছে যে নোহের পরে, তাঁর পরিবার এবং পশুরা জাহাজে প্রবেশ করেছিল

তারপরে প্রভু তাকে চুপ করে রইলেন

আদিপুস্তক 7:16

নূহ (আঃ) নয়, আল্লাহই নৌকোয় একটি দরজা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করেছিলেন। জাজমেন্ট এসেছিল এবং জল এসেছিল, বাইরের লোকদের কাছ থেকে সিন্দুকের উপর প্রচুর পরিমাণে পিচ্ছিল নোহকে দরজা খুলতে প্ররোচিত করতে পারে নি। আল্লাহ সেই এক দরজা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। তবে একই সাথে ভিতরের লোকেরা আস্থা রাখতে পারে যে যেহেতু আল্লাহ দরজা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন যে কোনও বাতাস বা তরঙ্গ এটিকে খুলতে বাধ্য করতে পারে না। তারা আল্লাহর তত্ত্বাবধান ও করুণার দরজাতে নিরাপদ ছিল।

যেহেতু আল্লাহ এটি পরিবর্তন করেন না তা আজও আমাদের জন্য প্রযোজ্য। সমস্ত নবী সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে আরও একটি আসন্ন বিচার রয়েছে – এবং এটি আগুনের দ্বারা – তবে নোহ (আ।) – এর চিহ্নটি আমাদের আশ্বাস দেয় যে তাঁর বিচারের পাশাপাশি তিনি রহমত দান করবেন। তবে আমাদের তাঁর একটি ‘সিন্দুক’ এমন এক দরজা দিয়ে সন্ধান করা উচিত যা দয়া গ্রহণের নিশ্চয়তা দেয়।নবীগণের কুরবানি

নবীজির কোরবানি

তাওরাত আমাদেরকে নোহ (আঃ) -কেও বলেছেন:

     তিনি সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে একটি বেদী নির্মাণ করেছিলেন এবং সমস্ত শুচি প্রাণী ও শুকনো পাখি নিয়ে কিছুটা নিয়ে পোড়ানো-উৎসর্গের অনুষ্ঠান করলেন।

আদিপুস্তক ৮:২০

এটি অ্যাডাম / ইভ এবং পশু বলিদানের কাবিল / হাবিলের ধরণ অনুসারে। এর অর্থ, আবারও, যে কোনও প্রাণীর মৃত্যু এবং রক্ত প্রবাহের দ্বারা হযরত নূহ (আ।) কীভাবে আল্লাহ্‌র কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং তাঁকে গ্রহণ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে তাওরাত বলেছে যে এই ত্যাগের ঠিক পরে আল্লাহ ‘নূহ ও তাঁর পুত্রদের আশীর্বাদ করেছিলেন’ (আদিপুস্তক 9: 1) এবং ‘নোহের সাথে একটি চুক্তি করেছিলেন’ (আদিপুস্তক 9: 8) আর কখনও বন্যার দ্বারা সমস্ত মানুষের বিচার করবেন না। সুতরাং দেখে মনে হয় যে নুহের দ্বারা কোরবানি, মৃত্যু এবং প্রাণীর রক্ত নিক্ষেপ করা তাঁর আল্লাহর ইবাদতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আমরা পরের লট / লুট সহ টরাত নবীদের মাধ্যমে আমাদের সমীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছি।