দিন 3 এবং 4 – ঈসা আল মসীহ ভবিষ্যত এবং তার প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস দেন

ডুমুর গাছ এবং নক্ষত্রদের মধ্যে কি মিল আছে? উভয়ই দুর্দান্ত ঘটনা সমূহের আগমন এবং অপ্রস্তুতদের সতর্কতা দেওয়ার চিহ্ন স্বরূপ I সুরা আত-ত্বীন শুরু হয় এই দিয়ে:

শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,

সুরা আত-ত্বীন 95:1

শপথ আঞ্জীর (ডুমুর) ও যয়তুনের,

আগমন তাত্পর্যপূর্ণ করে

আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে।অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।

সুরা আত-ত্বীন: 95:4-5

4 আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতর অবয়বে। 5 অতঃপর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি নীচ থেকে নীচে।

সুরা আল-মুরসালাত (দূতগণ), সুরা আত=তাকভীর(উত্থিত), এবং সুরা আল-ইনফিতার(ক্লিভিং) বারবার ঘোষণা করে তারা ম্লান হয়ে যাবে, এবং এটি কিছু দুর্দান্ত আগমনের সংকেত দেয়: 

অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবেযখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে,যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে এবং

সুরা আল-মুরসালাত 77:8-10

8 অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবে,9 যখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে, 10 যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে 

যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে,যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে,

সুরা আত-তাকভীর 81:1-3

1 যখন সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে,2 যখন নক্ষত্র মলিন হয়ে যাবে, 3 যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে

যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে,যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে,

সুরা আল-ইনফিতার 82:1-3

1 যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, 2 যখন নক্ষত্রসমূহ ঝরে পড়বে,3 যখন সমুদ্রকে উত্তাল করে তোলা হবে

এগুলোর মানে কি? নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাঁর শেষ সপ্তাহে ব্যাখ্যা করেন I প্রথমে একটি দ্রুত পর্যালোচনা I  

নবী দানিয়েল এবং সখরিয় অনুসারে রবিবার নীসন 9 তারিখে যিরূশালেমে প্রবেশের পরে, এবং তারপরে সোমবার নীসন 10-তারিখে মন্দিরে প্রবেশ করার পরে, নবী মশির পিবিইউএইচ তাওরাতের নিয়ম অনুসারে আল্লাহর মেষশাবক রূপে মনোনীত হতে, নবী ঈসা আল মসীহ যিহূদি নেতাদের দ্বারা অস্বীকৃত হলেন I আসলে, তিনি যখন মন্দির পরিষ্কার করছিলেন তারা তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করতে আরম্ভ করল I নবী ঈসা আল মসীহ পরে যা করলেন ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে: 

ডুমুর গাছের অভিশাপ

আর তিনি তাদের (মন্দিরে সোমবার দ্বিতীয় দিন, নীসন 10 তারিখে  যিহূদি নেতারা) পরিত্যাগ করলেন এবং নগরের বাইরে চলে গেলেন যেখানে তিনি রাত্রি যাপন করলেন I 

ভোরবেলায় (মঙ্গলবার নীসন 11 তারিখ, তৃতীয় দিন), যীশু নগরে তার ফিরে আসার পথে ক্ষুধার্ত হলেন I রাস্তার ধরে একটি ডুমুর গাছ দেখে, তিনি তার কাছে গেলেন আর পাতা ছাড়া কোনো কিছুই এর উপরে দেখতে পেলেন না I তখন তিনি একে বললেন, “আর কখনও তোমাতে ফল না ধরুক!” তৎক্ষনাত গাছটি শুকিয়ে গেল

মথি 21:17-19

অনেকে আশ্চর্য বোধ করেন কেন ঈসা আল মসীহ বললেন আর ডুমুর গাছটি শুকিয়ে গেল I ইঞ্জিল সরাসরিভাবে ব্যাখ্যা করে না, তবে আদি ভাববাদীরা আমাদের বুঝতে সাহায্য করতে পারে I এই ভাববাদীরা, আগামী বিচার সম্বন্ধে সতর্ক করার সময়ে প্রায়শই শুকিয়ে যাওয়া একটি ডুমুর গাছের চিত্রকে ব্যবহার করতেন I লক্ষ্য করুন কিভাবে শুকিয়ে যাওয়া ডুমুর গাছের চিত্রকে ভাববাদীদের দ্বারা তাদের সতর্কতার মধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে: 

  12 দ্রাক্ষালতা শুকিয়ে গেছে| ডুমুর গাছ মারা গেছে| ডালিম, তাল ও আপেল, এমনকি ক্ষেতের সমস্ত গাছ শুকিয়ে গেছে| সত্যি লোকদের মধ্যে য়ে সুখ ছিল তা শুকিয়ে গেছে|

যোয়েল 11:12

  9 প্রভু এই কথাগুলো বলছেন: “আমি অবশ্যই সোরের লোকদের তাদের বহু দণ্ডার্হ অপরাধের জন্য শাস্তি দেবো| কেন? কারণ তারা একটি সমগ্র জাতিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এবং এীতদাস হিসেবে তাদের ইদোমে পাঠিয়েছিল| তারা তাদের ভাইদের (ইস্রায়েল) সঙ্গে মিলিত হয়ে য়ে চুক্তি করেছিল তা তারা মনে রাখেনি|

আমোস 4:9

  ভু তাঁর ভাব্বাদী হগযকে সপ্তম মাসের 21 তম দিনে এই বার্তা দিয়েছিলেন|
2 “যিহূদার অধ্যক্ষ শলটীযেলের পুত্র সরুব্বাবিলের সঙ্গে যিহোষাদকের পুত্র মহাযাজক যিহোশূয়র সঙ্গে এবং সমস্ত লোকের সঙ্গে কথা বল| তাদের বল:
3 “তোমাদের মধ্যে এমন কে রয়েছে য়ে এই মন্দিরকে তার পূর্বের গৌরব মণ্ডিত অবস্থায় দেখেছিলে? তোমাদের কি মনে হয়? প্রথম মন্দিরটির তুলনায় এই মন্দিরটি কি দেখতে কিছুই নয়?
4 কিন্তু এখন, সরুব্বাবিল, প্রভু বলেন, ‘সাহস হারিযো না, শক্ত হও|’ যিহোষাদকের পুত্র মহাযাজক যিহোশূয়, ‘সাহস হারিযো না, শক্ত হও|’ এই দেশের সমস্ত লোককে প্রভু এই কথা বলেন, ‘সাহস হারিযো না, শক্ত হও|’ এই কাজ করে যাও কারণ আমি তোমাদের সঙ্গে আছি!’ প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথা বলেন!”
5 প্রভু বলেন, “তোমরা যখন মিশর দেশ ত্যাগ করেছিলে সেই সময় আমি তোমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলাম| আর আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছি| আমার আত্মা তোমাদের সঙ্গে রয়েছে| সুতরাং ভয় পেও না|
6 কারণ প্রভু সর্বশক্তিমান এই কথাগুলো বলছেন! কিছু ক্ষণের মধ্যেই আমি আকাশ ও পৃথিবীকে নাড়া দেব| আমি সমুদ্র ও শুকনো জমিকেও কাঁপিয়ে তুলব|
7 আমি প্রত্যেকটি জাতিকে নাড়া দেব এবং তারা সমস্ত জাতিদের সমস্ত সম্পদ নিয়ে তোমার কাছে আসবে| তখন আমি এই মন্দির মহিমায পূর্ণ করব| প্রভু সর্বশক্তিমান এই সব কথা বলছেন|
8 রূপো আমারই, সোনাও আমার, সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথা বলেন|
9 এই মন্দিরটির গৌরব প্রথম মন্দিরের গৌরবের চেয়ে অনেক বেশী হবে| সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথা বলেছেন| এই স্থানে আমি শান্তি প্রদান করব, সর্বশক্তিমান প্রভু এই কথা বলেছেন|”

হগয় 2:19

4 পাকানো কাগজের মত আকাশ গুটিযে বন্ধ হয়ে যাবে| নক্ষত্ররা মারা যাবে এবং দ্রাক্ষা গাছের পাতা বা ডুমুর পাতার মতো তাদের পতন হবে| আকাশের সব নক্ষত্র নষ্ট হয়ে যাবে|

যিশাইয় 34:4

  13 “তোমাদের ফসল ঘরে তোলার উত্সব আর পালিত হবে না| আমি তোমাদের সমস্ত ফল ও শস্যসমূহ কেড়ে নেব তাই আর ফসল তোলা হবে না|” এই ছিল প্রভুর বার্তা| “দ্রাক্ষা-ক্ষেতে কোন দ্রাক্ষা থাকবে না| থাকবে না কোন ডুমুর গাছ| এমন কি গাছের পাতা পর্য়ন্ত শুকিয়ে যাবে| আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম সব কিছু নিয়ে নেব|”

যিরমিয় 8:13

নবী হোসেয় পিবিইউএইচ ডুমুর গাছকে ইস্রায়েলের একটি রূপক হিসাবে ব্যবহার করেন এবং তারপরে একটি অভিশাপ ঘোষণা করে আরও এগিয়ে গেলেন:

10 য়ে সময় আমি ইস্রায়েলকে পেলাম, সে সময় তারা ছিল মরুভূমিতে পাওয়া টাটকা দ্রাক্ষার মতো| তারা ঋতু সূচনায গাছের প্রথম ডুমুরগুলির মতো ছিল| কিন্তু তারপর তারা বালপিযোরের কাছে এল এবং বদলে গেল, তাই তাদের আমায় পচে যাওয়া ফলের মত ছুঁড়ে ফেলে দিতে হল| তারা সেই ভয়ঙ্কর জিনিসের (মূর্ত্তির) মতোই হয়ে উঠল যাদের তারা ভালবাসত|
11 একটি পাখীর মতোই ইফ্রয়িমের মহিমা উড়ে যাবে| সেখানে আর কেউ গর্ভবতী হবে না| কোন জন্ম হবে না, কোন শিশু থাকবে না|
12 কিন্তু যদি কোন ইস্রায়েলীয়রা তাদের সন্তানদের লালন-পালন করে তাহলেও সে তাদের কোন সাহায্যে আসবে না| আমি তাদের কাছ থেকে শিশুদের নিয়ে নেব| আমি তাদের ত্যাগ করব, এবং ঝামেলা ছাড়া তাদের কাছে আর কিছুই থাকবে না|
13 আমি দেখতে পাচ্ছি য়ে ইফ্রয়িম তার সন্তানদের ফাঁদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে| ইফ্রয়িম তার সন্তানদের হত্যাকারীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে|
14 প্রভু, আপনি যা চান তাই তাদের দিন| তাদের এমন একটি জরাযু দিন যাতে সন্তান ধারণ না করে| তাদের এমন স্তন দিন যা দুধ দিতে পারে না|
15 তাদের সব মন্দতা গিল্গলে রয়েছে| আমি সেখানে তাদের ঘৃণা করতে আরম্ভ করেছি| আমি তাদের আমার বাড়ি ছাড়তে বলপ্রযোগ করব কারণ তারা সব পাপ কাজ করেছে| আমি তাদের আর কখনোই ভালবাসব না| তাদের নেতারা বিদ্রোহী, তারা আমার বিরুদ্ধে গেছে|
16 ইফ্রয়িম শাস্তি পাবে| তাদের মূল শুকিয়ে যাচ্ছে| তাদের আর সন্তান হবে না| সন্তানের জন্ম হয়ত তারা দিতে পারে, কিন্তু তাদের শরীর থেকে য়ে প্রিয সন্তান সৃষ্টি হবে তাদের আমি হত্যা করব|
17 ওই লোকরা আমার ঈশ্বরের কথা শুনবে না| সেজন্য তিনিও তাদের কথা শুনতে অস্বীকার করবেন| তারা গৃহহীন হয়ে অন্য জাতের মানুষের মধ্যে ঘুরে বেড়াবে|

হোসেয় 9:10-12, 16-17; নোট করুন ইফ্রয়িম = ইস্রায়েল

এই অভিশাপগুলো পূর্ণ হয়েছিল যখন যিরূশালেম 586 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে (যিহূদিদের ইতিহাসের জন্য এখানে দেখুন) প্রথমে ধ্বংস হয়েছিল I যখন নবী ঈসা আল মসীহ ডুমুর গাছটিকে শুকিয়ে দিলেন, তিনি যিরূশালেমের আর একটি আসন্ন ধ্বংস এবং দেশ থেকে যিহূদি নির্বাসনের প্রতীকাত্মকরূপে ভবিষ্যদ্বাণী   করছিলেন I     

ডুমুর গাছটিকে অভিশাপ দেওয়ার পরে, ঈসা আল মসীহ মন্দিরে লোকেদের শিক্ষাদান এবং যিহূদি নেতাদের সঙ্গে বিতর্ক চালিয়ে গেলেন I তিনি আল্লাহর বিচার সম্বন্ধে অনেক সতর্কতা দিলেন I ইঞ্জিল শিক্ষাগুলোকে লিপিবদ্ধ করে এবং সেগুলো এখানে পুরোপুরি রয়েছে I

নবী তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নগুলো  সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেন

নবী ঈসা আল মসী তখন যিরূশালেমের যিহূদি মন্দিরের এক অন্ধকার ভবিষ্যদ্বাণী দিয়ে শেষ করলেন I সেই সময়ে, মন্দিরটি সমগ্র রোম সাম্রাজ্যের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভবন ছিল I তবে ইঞ্জিল লিপিবদ্ধ করে যে তিনি এর ধ্বংস আগে থেকেই দেখতে পান I এটি তাঁর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছিল, এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্ন সমূহ I ইঞ্জিল তার শিক্ষাগুলো লিপিবদ্ধ করে I   

শু মন্দির থেকে যখন বের হয়ে যাচ্ছিলেন, সেইসময়তাঁর শিষ্যরা তাঁর কাছে এসে মন্দিরের বড় বড় দালানের দিকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেন৷
2 এর জবাবে যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এখন এখানে এসব দেখছ, কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, এখানে একটা পাথর আর একটা পাথরের ওপর থাকবে না, এসবই ভুমিস্যাত্ হবে৷’
3 যীশু যখন জৈতুন পর্বতমালার ওপর বসেছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যরা একান্তে তাঁর কাছে এসে তাঁকে বললেন, ‘আমাদের বলুন, কখন এসব ঘটবে, আর আপনার আসার এবং এযুগের শেষ পরিণতির সময় জানার চিহ্নই বা কি হবে?’

মথি 24:1-3

যিহূদি মন্দিরের সম্পূর্ণ ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করে নবী আরম্ভ করলেন I আমরা ইতিহাস থেকে জানি যে এটি 70 খ্রীষ্টাব্দে ঘটেছিল I তখন সন্ধ্যাবেলায় [i] তিনি মন্দির ছেড়ে চলে গেলেন এবং যিরূশালেম নগরের বাইরে জৈতুন পর্বতে রইলেন I যেহেতু সূর্যাস্তে যিহূদি দিন শুরু হতো, এটি বুধবার, নীসন 12 তারিখ, সপ্তাহের চতুর্থ দিনের আরম্ভ ছিল, যখন তিনি তাদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন এবং যুগের শেষ ও তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে শিক্ষা দিলেন I 

  4 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘দেখো! কেউ য়েন তোমাদের না ঠকায়৷
5 আমি তোমাদের একথা বলছি কারণ অনেকে আমার নামে আসবে আর তারা বলবে, ‘আমি খ্রীষ্ট৷’ আর তারা অনেক লোককে ঠকাবে৷
6 তোমরা নানা যুদ্ধের কথা শুনবে এবং তোমাদের কানে যুদ্ধের গুজব আসেব৷ কিন্তু দেখো, তোমরা ভয় পেও না, কারণ ঐ সব ঘটনা অবশ্যই ঘটবে কিন্তু তখনও শেষ নয়৷
7 হ্যাঁ, এক জাতি অন্য জাতির বিরুদ্ধে লড়াইকরবে; আর এক রাজ্য অন্য রাজ্যের বিরুদ্ধে যাবে৷ সর্বত্র দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হবে৷
8 কিন্তু এসব কেবল যন্ত্রণার আরন্ভ মাত্র৷
9 ‘সেই সময় শাস্তি দেবার জন্য তারা তোমাদের ধরিয়ে দেবে ও হত্যা করবে৷ আমার শিষ্য হয়েছ বলে জগতের সকল জাতির লোকেরা তোমাদের ঘৃণা করবে৷
10 সেই সময় অনেক লোক বিশ্বাস থেকে সরে যাবে৷ তারা একে অপরকে শাসনকর্তাদের হাতে ধরিয়ে দেবে আর তারা পরস্পরকে ঘৃণা করবে৷
11 অনেক ভণ্ড ভাববাদীর আবির্ভাব হবে, যাঁরা বহু লোককে ঠকাবে৷
12 অধর্ম বেড়ে যাওযার ফলে অধিকাংশ লোকদের মধ্য থেকে ভালবাসা কমে যাবে৷
13 কিন্তু শেষ পর্যন্ত য়ে নিজেকে স্থির রাখবে, সে রক্ষা পাবে৷
14 আর রাজ্যের (স্বর্গ) এইসুসমাচার জগতের সর্বত্র প্রচার করা হবে৷ সমস্ত জাতির কাছে তা সাক্ষ্যরূপে প্রচারিত হবে, আর তারপরই উপস্থিত হবে সেই সময়৷
15 ‘তোমরা তখন দেখবে য়ে, ভাববাদী দানিয়েলের মধ্য দিয়ে য়ে ‘সর্বনাশা ঘৃণার বস্তুর’কথা বলা হয়েছিল তা পবিত্র স্থানে দাঁড়িয়ে আছে৷’ য়ে একথা পড়ছে সে বুঝুক এর অর্থ কি৷
16 ‘সেই সময় যাঁরা যিহূদিয়াতে থাকবে, তারা পাহাড় অঞ্চলে পালিয়ে যাক্৷
17 য়ে ছাদে থাকবে, সে য়েন ঘর থেকে তার জিনিস নেবার জন্য নীচে না নামে৷
18 ক্ষেতের মধ্যে য়ে কাজ করবে, সে তার জামা নেবার জন্য ফিরে না আসুক৷
19 হায়! সেই মহিলারা, যাঁরা সেইদিনগুলিতে গর্ভবতী থাকবে, বা যাদের কোলে থাকবে দুধের শিশু৷
20 তাই প্রার্থনা কর য়েন শীতকালে বা বিশ্রামবারে তোমাদের পালাতে না হয়৷
21 ‘সেই দিনগুলিতে এমন মহাকষ্ট হবে যা জগতের শুরু থেকে এই সময় পর্যন্ত আর কখনও হয় নি এবং হবে ও না৷
22 আরো বলছি, সেইদিনগুলির সংখ্যা ঈশ্বর যদি কমিয়ে না দিতেন তবে কেউই অবশিষ্ট থাকত না৷ কিন্তু তাঁর মনোনীত লোকদের জন্য তিনি সেই দিনের সংখ্যা কমিয়ে রেখেছেন৷
23 সেই সময় কেউ যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, মশীহ (খ্রীষ্ট)’ এখানে, অথবা ‘দেখ, তিনি ওখানে,’ তাহলে সে কথায় বিশ্বাস করো না৷
24 ‘আমি একথা বলছি, কারণ অনেক ভণ্ড খ্রীষ্ট ও ভণ্ড ভাববাদীর উদয় হবে৷ তারা মহা আশ্চর্য কাজ করবে ও চিহ্ন দেখাবে, য়েন লোকদের ঠকাতে পারে৷ যদি সন্ভব হয় এমনকি ঈশ্বরের মনোনীত লোকদেরও ঠকাবে৷
25 দেখ, আমি আগে থেকেইতোমাদের এসব কথা বলে রাখলাম৷
26 ‘তাইতারা যদি তোমাদের বলে, ‘দেখ, খ্রীষ্ট প্রান্তরে আছেন!’ তবে তোমরা সেখানে য়েও না, অথবা যদি বলে দেখ, ‘তিনি ভেতরের ঘরে লুকিয়ে আছেন, তাদের কথায় বিশ্বাস করো না৷
27 আকাশে বিদ্য়ুত্ য়েমন পূর্ব দিকে দেখা দিয়ে পশ্চিম দিক পর্যন্ত চমকে দেয়, তেমনি করেইমানবপুত্রের আবির্ভাব হবে৷
28 য়েখানে শব, সেখানেইশকুন এসে জড় হবে৷
29 মহাক্লেশের সেইদিনগুলির পরই, ‘সূর্য় অন্ধকার হয়ে যাবে, চাঁদ আর আলো দেবে না৷ তারাগুলো আকাশ থেকে খসে পড়বে আর আকাশমণ্ডলে মহা আলোড়নের সৃষ্টি হবে৷’
30 ‘সেই সময় আকাশে মানবপুত্রের চিহ্ন দেখা দেবে৷ তখন পৃথিবীর সকল গোষ্ঠী হাহুতাশ করবে; আর তারা মানবপুত্রকে মহাপরাক্রম ও মহিমামণ্ডিত হয়ে আকাশের মেঘে করে আসতে দেখবে৷
31 খুব জোরে তূরীধ্বনির সঙ্গে তিনি তাঁর স্বর্গদূতদের পাঠাবেন৷ তাঁরা আকাশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত, চার দিক থেকে তাঁর মনোনীত লোকদের জড়ো করবেন৷

মথি 24:4-31

এখানে নবী ঈসা আল মসীহ অতীতে মন্দিরের আসন্ন ধ্বংস সম্পর্কে  দেখেছিলেন I তিনি শিক্ষা দিলেন যে মন্দিরের ধ্বংসের সময়কাল থেকে তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ক্রমবর্ধমান মন্দতা, ভূমিকম্প, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, এবং তার অনুগামীদের উপর অত্যাচার দ্বারা চিহ্নিত হবে I আবারও, তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে যে ইঞ্জিল ‘সারা জগতে প্রচারিত’ হবে (আয়াত 14) I জগত মসীহকে জানার সাথে সাথে, সেখানে তার ও তার প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে মিথ্যা ভাববাদী এবং মিথ্যা দাবির এক ক্রমবর্ধান সংখ্যা হবে I যুদ্ধ, বিশৃঙ্খলা, এবং বিপর্যয়ের মাঝখানে তাঁর প্রত্যাবর্তনের প্রকৃত চিহ্নটি সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্রদের অবিসংবাদিত অশান্তি হবে I একরকম তারা অন্ধকার হয়ে যাবে I   

আমরা দেখতে পারি যে যুদ্ধ, বিপর্যয় এবং ভূমিকম্প বাড়ছে – অতএব তাঁর প্রতাবর্তনের সময় কাছে আসছে I তবে স্বর্গে এখনও কোনো অশান্তি নেই – তাই তাঁর প্রত্যাবর্তন এখনই নয় I কিন্তু আমরা কতটা কাছে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ঈসা আল মসীহ বলতে থাকেন

  32 ‘ডুমুর গাছ দেখে শিক্ষা নাও, তার কচি ডালে পাতা বের হলে জানা যায় গ্রীষ্মকাল কাছে এসে গেছে৷
33 ঠিক সেই রকম, যখন তোমরা দেখবে এসব ঘটছে, বুঝবে মানবপুত্রের পুনরুত্থানের সময় এসে গেছে, তা দরজার গোড়ায় এসে পড়েছে৷
34 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না এসব ঘটছে এই যুগের লোকদের শেষ হবে না৷
35 আকাশ ও সমগ্র পৃথিবী বিলুপ্ত হয়ে যাবে, কিন্তু আমার কোন কথা বিলুপ্ত হবে না৷

মথি 24:32-35

ইস্রায়েলের প্রতীকী ডুমুর গাছটিকে স্মরণ করুন, যাকে তিনি অভিশাপ দিয়েছিলেন এবং আগের দিন শুকিয়ে গিয়েছিল? যখন মন্দিরটি 70 খ্রীষ্টাব্দে ধ্বংস হয়েছিল ইস্রায়েলের শুকিয়ে যাওয়া ঘটেছিল এবং এটি কয়েক হাজার বছর ধরে শুকনো ছিল I নবী আমাদের ডুমুর গাছ থেকে বেরিয়ে আসা সবুজ এবং পাতার অঙ্কুরের দিকে দেখতে বললেন – এবং তখন আমরা জানব সময় ‘নিকটস্থ’ হবে I বিগত 70 বছরে আমরা সকলে লক্ষ্য করেছি এই ‘ডুমুর গাছ’ পুনরায় সবুজ এবং পাতাগুলো অঙ্কুরিত হতে শুরু করেছে I এটি ইসরায়েলের আধুনিক পুনর্জন্মের মধ্য দিয়ে আরম্ভ হয়েছিল, এবং যিহূদিদের ইস্রায়েলে ফিরে আসতে শুরু করার মধ্য দিয়ে চলতে থাকে এবং সেচ ও কৃষিজমি আবার শুরু করেছে I হ্যাঁ, এটি আমাদের সময়ে যুদ্ধ, বিপর্যয় এবং সমস্যাগুলোকে যুক্ত করেছে, তবে এটি আমাদের অবাক করা উচিত নয় যেহেতু নবী তাঁর শিক্ষায় এই সম্বন্ধে সতর্ক করেছেন I বিভিন্ন উপায়ে, এই ‘গাছটির’ মধ্যে এখনও মৃত্যুতা রয়েছে, তবে ডুমুর গাছটির পাতাগুলো সবুজ হতে শুরু করছে I

এটি আমাদের সময়ে আমাদেরকে যত্নশীল এবং সজাগ করা উচিত যেহেতু নবী আমাদেরকে তাঁর প্রত্যাবতন সম্পর্কে অসাবধান এবং উদাসীন হতে সাবধান করেছেন I    

 

36 ‘সেই দিন ও মুহূর্ত্তের কথা কেউ জানে না, এমন কি স্বর্গদূতেরা অথবা পুত্র নিজেও তা জানেন না, কেবলমাত্র পিতা (ঈশ্বর) তা জানেন৷
37 নোহের সময় য়েমন হয়েছিল, মানবপুত্রের আগমনের সময় সেইরকম হবে৷
38 নোহের সময়ে বন্যা আসার আগে, য়ে পর্যন্ত না নোহ সেই জাহাজে ঢুকলেন, লোকেরা সমানে ভোজন পান করেছে, বিয়ে করেছে ও ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়েছে৷
39 ‘য়ে পর্যন্ত না বন্যা এসে তাদের সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল, সে পর্যন্ত তারা কিছুইবুঝতে পারে নি য়ে কি ঘটতে যাচ্ছে৷ মানবপুত্রের আগমনও ঠিক সেই রকমভাবেইহবে৷
40 সেই সময় দুজন লোক মাঠে কাজ করবে৷ তাদের একজনকে নিয়ে যাওযা হবে, অন্য জন পড়ে থাকবে৷
41 দুজন স্ত্রীলোক য়াঁতা পিষবে, তাদের একজনকে নিয়ে যাওযা হবে, আর অন্যজন পড়ে থাকবে৷
42 ‘তাই তোমরা সজাগ থাক, কারণ তোমাদের প্রভু কোন দিন আসবেন, তা তোমরা জানো না৷
43 তবে একথা মনে রেখো, যদি গৃহস্থ জানত রাত্রে কোন সময় চোর আসবে, তবে সে জেগে থাকত৷ সে চোরকে নিজের ঘরের সিঁধ কাটতে দিত না৷
44 তাই তোমরাও প্রস্তুত থাক, কারণ তোমরা যখন তাঁর আগমনের বিষয়ে ভাববেও না, মানবপুত্র সেই সময়ই আসবেন৷
45 ‘সেইবিশ্বস্ত ও বুদ্ধিমান দাস তাহলে কে, যার ওপর তার প্রভু তাঁর বাড়ির অন্যান্য দাসদের ঠিক সময়ে খাবার দেবার দাযিত্ব দিয়েছেন?
46 সেই দাস ধন্য যার মনিব ফিরে এসে তাকে তার কর্তব্য করতে দেখবেন৷
47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তিনি সেই দাসকেই তাঁর সমস্ত সম্পত্তি দেখাশোনার ভার দেবেন৷
48 কিন্তু ধর, সেই দাস যদি দুষ্ট হয়, আর মনে মনে বলে, ‘আমার মনিবের ফিরে আসতে অনেক দেরী আছে৷
49 ‘তাই সে তার সঙ্গী দাসদের মারধর করে এবং মাতালদের সঙ্গে খাওযা-দাওযা করতে শুরু করে৷
50 তাহলে য়ে দিন ও য়ে সময়ের কথা সেইদাস ভাবতেও পারবে না বা জানবেও না, সেই দিন ও সেই মুহূর্ত্তেইতার মনিব এসে হাজির হবেন৷
51 তখন তার মনিব তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন, ভণ্ডদের মধ্যে তাকে স্থান দেবেন; য়েখানে লোকেরা কান্নাকাটি করে ও যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘসে৷

মথি 24:36-51

ঈসা আল মসীহ ইঞ্জিলের মধ্যে তাঁর প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে ক্রমাগত শিক্ষা দিতে থাকলেন এবং এর প্রতি লিংকটি এখানে রয়েছে I

তৃতীয় এবং চতুর্থদিনের সংক্ষিপ্তসার

আপডেট করা কালপঞ্জি দেখায় কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহ তৃতীয় দিনে ডুমুর গাছ্টিকে অভিশাপ দিলেন – মঙ্গলবারে – যিহূদি নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ বিতর্কের আগে I এই কার্যটি ইস্রায়েলের প্রতীকী ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ ছিল I তারপরে, চতুর্থ দিন, বুধবারে, তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তনের চিহ্নগুলো বর্ণনা করলেন – সমস্ত স্বর্গীয় দেহগুলোর সর্বাধিক অন্ধকার হয়ে যাওয়া I

Signs of Isa al Masih on Days 3 and 4 of his last week compared to regulations of Taurat

তাওরাতের নিয়মাবলীর তুলনায় তাঁর শেষ সপ্তাহের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনগুলোতে ঈসা আল মসীহর চিহ্ন সমূহ 

তারপরে তিনি তাঁর প্রত্যাবর্তনের জন্য সতর্কভাবে লক্ষ্য করতে আমাদের সকলকে সাবধান করলেন I যেহেতু আমরা এখন দেখতে পারি ডুমুর গাছটি আবার সবুজ হয়ে উঠছে, আমাদের সাবধানে এবং সজাগ থাকতে হবে I

ইঞ্জিল পরে লিপিবদ্ধ করে কিভাবে শয়তান (ইবলিস) পঞ্চম দিনে নবীর বিরুদ্ধে অগ্রসর হল, যেটিকে আমরা পরে দেখব I


 [i] ওই সপ্তাহের প্রত্যেক দিনটিকে বর্ণনা কোরে, লুকের পুস্তক সেটিকে সংক্ষিপ্তসার করে:

লুক 21:37

দিন 2: ঈসা আল মসীহ মনোনীত হয়েছেন – যেখানে আজকের আল-আকসা ও পাথরের গম্বুজ রয়েছে

কেন আল-আকসা (আল-মসজিদ আল-আকসা বা বায়ত আল-মকদিস) এবং পাথরের গম্বুজের (কুব্বত আল-সাকরাহ) অবস্থান যিরূশালেমে এত বিশিষ্ট? অনেক পবিত্র ঘটনাগুলো এখানে ঘটেছে তবে কম লোক জানে এই পবিত্র অবস্থানে নবী ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সঙ্গে কি ঘটেছিল I

যিরূশালেমে নবী ঈসা আল মসীহ যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিলেন তাকে ভালভাবে বুঝতে হলে আমরা এটিকে মক্কায় মহম্মদের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করি I সুরা আল-ফাথহ (সুরা 48 – বিজয়) কুয়ারিশ সম্পর্কে বলে যে কাব্বায় প্রবেশাধিকার রক্ষা করেছিল I    

তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।()

সুরা আল-ফাথহ 48:25

তারাই তো কুফরী করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে আল্লাহ তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।

কুয়ারিশ নবী পিবিইউএইচ এবং তার অনুগামীদের পবিত্র মসজিদ এবং মক্কার কুর্বানীর স্থান থেকে বাধা দিয়েছিল I যিরূশালেমে পবিত্র মন্দির এবং কুর্বানীর স্থানে ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ সময়ে অনুরূপ কিছু ঘটছিল I দূর থেকে আসা উপাসনাকারীদের জন্য অর্থ বিনিময়ের প্রয়োজনে ধর্মীয় নেতারা কুর্বানী সংক্রান্ত পশুদের কেনা বেচার একটি ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছিল I এটি মন্দিরেতে প্রকৃত উপাসনায় বাধা উৎপন্ন করেছিল I তবে মন্দিরটি সদাপ্রভুকে জাতিগণের মধ্যে জ্ঞাত করতে নির্মিত হয়েছিল – তাদের থেকে তাঁকে লুকিয়ে রাখতে নয় I ঈসা আল মসীহ পিবিউএইচ পরিস্থিতিকে ঠিক করতে অগ্রসর হলেন, যার ফলে তাঁকে অবিশ্বাসীদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হল যার বিবরণ সুরা তাঘাবুনে  (সুরা 64 – পারস্পরিক হতাশা) বর্ণিত রয়েছে I          

কয়েকশত বছর আগে নবী সবেমাত্র ভবিষ্যদ্বাণী করা সঠিক দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন, নিজেকে মসীহ এবং জাতিগণের কাছে এক জ্যোতি বলে প্রকাশ কোরে I যিহূদি ক্যালেন্ডারে, সেই তারিখটি, একটি পবিত্র সপ্তাহের প্রথম দিন, নীসন 9 তারিখ, রবিবার ছিল I তাওরাতের নিয়মের কারণে, পরের দিন, দশম নীসন, যিহূদি ক্যালেন্ডারে একটি অনন্য দিন ছিল I অনেক আগে, আল্লাহর দ্বারা নির্দেশিত হওয়ার সময়ে নবী মশি (পিবিউএইচ) দশম মহামারীকে ফরৌণের বিরুদ্ধে প্রস্তত করছিলেন যাকে তাওরাত লিপিবদ্ধ করেছিল:        

  শি ও হারোণ মিশরে থাকার সময় প্রভু তাদের বললেন,
2 “এই মাস হবে তোমাদের জন্য বছরের প্রথম মাস,
3 এই আদেশ সমস্ত ইস্রায়েলবাসীর জন্য: এই মাসের দশম দিনে প্রত্যেকে তার বাড়ীর জন্য একটি করে পশু জোগাড় করবে| পশুটি একটি মেষ অথবা একটি ছাগলও হতে পারে| যদি তার বাড়ীতে একটি গোটা পশুর মাংস খাওয়ার মতো য়থেষ্ট লোক না থাকে তবে সে তার কিছু প্রতিবেশীকে মাংস ভাগ করে খাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করবে| প্রত্যেকের খাওয়ার জন্য যথেষ্ট মাংস থাকবে| পশুটিকে হতে হবে একটি এক বছরের পুংশাবক এবং সম্পূর্ণরূপে স্বাস্থ্য়বান|

যাত্রাপুস্তক 12:1-3

সেই সময়ে নীসন যিহূদি ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস ছিল I তাই, প্রত্যেক নীসন 10 তারিখ নবী মশির সময় থেকে, প্রত্যেক যিহূদি পরিবার আসন্ন নিস্তার পর্বের জন্য একটি মেষ শাবক বেছে নেবে – এটিকে কেবলমাত্র সেই দিনেই করা  যাবে I নবী ঈসা আল মসীহর সময়ে যিহূদিরা যিরূশালেমের মন্দিরে নিস্তারপর্বের মেষ বাছাই করত – সেই একই স্থান যেখানে 2000 বছর পূর্বে নবী আব্রাহামকে (পিবিইউএইচ) তার পুত্রের কুর্বানী দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষা করা হয়েছিল I আজ, আল-আকসা মসজিদ এবং পাথরের গম্ভুজের এটি একটি অবস্থান I অতএব এক নির্দিষ্ট স্থানে (যেখানে আল-আকসা এবং পাথরের গম্বুজ আজকের দিনে রয়েছে এবং নবী ঈসা আল মসীহর সময়ে যেখানে যিহূদি মন্দির ছিল) যিহূদি বছরের (নীসন 10 তারিখ) এক নির্দিষ্ট দিনে, যিহূদিরা প্রত্যেক পরিবারের (দরিদ্র কপোতদের বেছে নিত) জন্য নিস্তারপর্বের মেষশাবক বেছে নিত I যেমন আপনি কল্পনা করতে পারেন, বিরাট সংখ্যক মানুষ এবং প্রাণীরা, বিদেশী মুদ্রার বিনিময়, (যেহেতু যিহূদিরা অনেক স্থান সমূহ থেকে এসেছিল) নীসন 10 তারিখে মন্দিরকে এক উন্মত্ত বাজারের মতন করে তুলত I সেই দিন নবী ঈসা আল মসীহ যা করেছিলেন ইঞ্জিল তার বিবরণ দেয় I যখন অনুচ্ছেদটি ‘পরের দিনকে’ উল্লেখ করে এই দিনটি যিরূশালেমে তাঁর রাজকীয় প্রবেশের পরে, দশম নীসন – ঠিক যে দিন নিস্তারপর্বের মেষশাবকগুলোকে মন্দিরের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছিল I   

  11 তিনি জেরুশালেমে ঢুকে মন্দিরে গেলেন৷ সেখানে চারদিকের সমস্ত কিছু লক্ষ্য করলেন; কিন্তু সন্ধ্যে হয়ে যাওযায় বারোজন প্রেরিতকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বৈথনিযাতে ফিরে গেলেন৷
12 পরের দিন বৈথনিযা ছেড়ে আসার সময় তাঁর খিদে পেল৷
13 দূর থেকে তিনি একটি পাতায় ভরা ডুমুর গাছ দেখে তাতে কিছু ফল পাবেন ভেবে তার কাছে গেলেন, কিন্তু গাছটির কাছে গেলে পাতা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না; কারণ তখন ডুমুর ফলের মরশুম নয়৷
14 তখন তিনি গাছটিকে বললেন, ‘এখন থেকে তোমার ফল আর কেউ কোন দিন খাবে না!’ এই কথা তাঁর শিষ্যেরা শুনতে পেলেন৷
15 পরে তাঁরা জেরুশালেমে গেলেন; আর মন্দিরের মধ্যে ঢুকে যাঁরা কেনা বেচা করছিল সেইসব ব্যবসাযীদের বের করে দিলেন৷ তিনি পোদ্দারদের টেবিল এবং যাঁরা পায়রা বিক্রি করছিল তাদের আসন উল্টে দিলেন৷
16 তিনি মন্দিরের মধ্যে দিয়ে কাউকে কোন জিনিস নিয়ে য়েতে দিলেন না৷
17 তিনি শিক্ষা দিয়ে তাদের বললেন, ‘এটা কি লেখা নেই ‘আমার মন্দিরকে সমগ্র জাতির উপাসনা গৃহ বলা হবে?”কিন্তু তোমরা এটাকে দস্য়ুদের আস্তানায় পরিণত করেছ৷’

মার্ক 11:11-17

মানবীয় স্তরে নবী ঈসা আল মসীহ সোমবার (পবিত্র সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন) নীসন 10 তারিখে মন্দিরে গিয়েছিলেন, এবং ব্যবসায়ী কাজকর্ম বন্ধ   করেছিলেন I স্বর্গের প্রতি প্রার্থনার জন্য, বিশেষ করে অন্য জাতিগণের জন্য, কেনা বেচা একটি বাধার সৃষ্টি করেছিল I নবী এই জাতিগণের জন্য এক জ্যোতি ছিলেন, তই তিনি ব্যবসায়ী কাজকর্ম বন্ধ করে মর্ত্য এবং স্বর্গের মধ্যে বাধাটিকে ভেঙ্গে ফেললেন I তবে সেই সময়ে এছাড়াও কিছু অদৃশ্য ঘটল I ঈসা আল মসীহকে দেওয়া নবী ইয়াহিয়ার (পিবিইউএইচ) উপাধি থেকে আমরা এটিকে বুঝতে পারি I তাঁকে ঘোষণা করে নবী ইয়াহিয়া বললেন:

  29 পরের দিন য়োহন যীশুকে তাঁর দিকে আসতে দেখে বললেন, ‘ঐ দেখ, ঈশ্বরের মেষশাবক, যিনি জগতের পাপরাশি বহন করে নিয়ে যান!

যোহন 1:29

নবী ঈসা আল মসীহ ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ ছিলেন I আব্রাহামের কুরবানীর মধ্যে, আল্লাহ একজন ছিলেন যিনি তার পুত্রের পরিবর্তে একটি ঝোপের মধ্য থেকে এটিকে ধরে আব্রাহামের জন্য একটি মেষশাবক মনোনীত করলেন I এই জন্যই ঈদ আল-আধা আজ উদযাপিত হয় I মন্দিরটি এই অবস্থানে ছিল যেখানে মেষশাবকটিকে মনোনীত করা হয়েছিল – যেখানে আজকে আল-আকসা এবং পাথরের গম্বুজ রয়েছে I যখন ঈসা আল মসীহ নীসন 10 তারিখে  মন্দিরের মধ্যে গেলেন তাঁকে আল্লাহর দ্বারা তাঁর মেষশাবক রূপে মনোনীত করা হ’ল I মনোনীত হওয়ার উদ্দেশ্যে এই সঠিক দিনে মন্দিরের মধ্যে তাঁর হওয়ার ছিল – এবং তিনি ছিলেন I    

নিস্তারপর্বের মেষশাবক হিসাবে ঈসার উদ্দেশ্য

নিস্তারপর্বের মেষশাবক হিসাবে কিসের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হ’ল? ঈসার শিক্ষা উত্তরটি প্রদান করে I যখন তিনি বললেন, ‘আমার গৃহ সমস্ত জাতিগণের জন্য একটি প্রার্থনার গৃহ হবে’ তখন তিনি নবী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) থেকে উদ্ধৃত করছিলেন I এখানে সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদটি রয়েছে (নবী যা বলেছেন তা লালের মধ্যে রয়েছে) I

  6 ইহুদী নয় এমন কেউ কেউ প্রভুর সঙ্গে যোগ দেবে| তারা এই সব করবে প্রভুর সেবার জন্য এবং তারা প্রভুর নামকে ভালবাসে বলে তারা প্রভুর সঙ্গে যোগ দেবে তার দাস হওয়ার জন্য| তারা বিশ্রামকে বিশেষ উপাসনার দিন হিসাবে রাখবে এবং আমার চুক্তি বিধি মেনে চলবে|
7 প্রভু বলেন, “আমি তাদের আমার পবিত্র পর্বতে নিয়ে আসব| আমার প্রার্থনাগৃহে তাদের সুখী করে তুলব| তাদের নৈবেদ্য ও উত্সর্গে আমি খুশি হব| কেন? কারণ আমার মন্দিরকে বলা হবে সব জাতির প্রার্থনাগৃহ|”

যিশাইয় 56:6-7

যাবুরের কিছু অন্যান্য ভাববাদী সহ নবী যিশাইয়র (পিবিইউএইচ) ঐতিহাসিক কালপঞ্জি 

যে ‘পবিত্র পর্বত’ সম্পর্কে যিশাইয় লিখেছিলেন তা পর্বত মোরিয়া ছিল, যেখানে আলাহর দ্বারা মনোনীত মেষশাবকটিকে নবী আব্রাহাম তার পুত্রের পরিবর্তে কুরবানী দিয়েছিলেন I ‘প্রার্থনার গৃহটি’ ছিল মন্দির যেটিতে ঈসা আল মসীহ নীসন 10 তারিখে প্রবেশ করেছিলেন I যিহূদিদের জন্য, অবস্থানটি এবং উৎসবের তারিখ আব্রাহামের কুরবানী এবং মশির নিস্তারপর্বকে সম্মিলিত করেছিল I যাইহোক কেবল যিহূদিরা মন্দিরে বলি চড়াতে এবং নিস্তারপর্ব উদযাপন করতে পারত I তবে যিশাইয় লিখেছিলেন যে ‘বিদেশীরা’ (অযিহূদিরা) একদিন দেখবে যে ‘তাদের হোম বলি অর্পণ এবং কুরবানী স্বীকৃত হবে’ I যিশাইয়কে উদ্ধৃত করে, নবী ঈসা ঘোষণা করলেন যে তার কার্য   অ-যিহূদিদের জন্য একটি স্বীকৃতি পাবে I এই সময়ে তিনি উল্লেখ করেন নি কিভাবে তিনি তা করবেন I তবে বিবরণটিকে চালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে আমরা শিখব এমনকি আমরা এখন জানব যে আপনাকে এবং আমাকে আশীর্বাদ দিতে আল্লাহর একটি পরিকল্পনা ছিল I

পবিত্র সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী দিনগুলো

নীসন 10 তারিখে যিহূদিদের তাদের মেষশাবকদের মনোনীত করার পরে, তাওরাতের নিয়মগুলো তাদেরকে যা করতে আদেশ দিল:

  6 মাসের চতুর্দশ দিন পর্য়ন্ত এই পশুটির ওপর তোমাদের নজর রাখতে হবে| সেই দিন ইস্রায়েলীয় মণ্ডলীর সমস্ত লোকরা এই পশুটিকে গোধুলি বেলায হত্যা করবে|

যাত্রাপুস্তক 12:6

সেই প্রথম নিস্তারপর্বের পরে নবী মশির সময়ে, যিহূদিরা প্রত্যেক নীসন 14 তারিখে তাদের নিস্তারপর্বের মেষশাবকদের কুরবানী দিত I আমরা ‘মেষশাবকদের যত্ন নেওয়া এবং তাদের কুরবানীকে সপ্তাহের জন্য কালপঞ্জিতে তাওরাতের নিয়মাবলীর সঙ্গে যুক্ত করি I কালপঞ্জির নিম্ন অর্ধে আমরা সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনের জন্য নবীর কার্যাবলীকে যুক্ত করি – তাঁর মন্দির পরিষ্কার এবং আল্লাহর মেষশাবক হিসাবে তাঁর মনোনয়ন I

সোমবার – দ্বিতীয় দিনে – নবী ঈসা আল মসীহর কার্যাবলী – তাওরাতের নিয়মাবলীর তুলনায়

যখন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ প্রবেশ করলেন এবং মন্দির পরিষ্কার করলেন, এর মানবীয় স্তরেও একটি প্রভাব ছিল I ইঞ্জিল উল্লেখ করে এগিয়ে চলেছে:

  18 প্রধান যাজকরা এবং ব্যবস্থার শিক্ষকরা এই কথা শুনে তাঁকে হত্যা করার রাস্তা খুঁজতে থাকল, কারণ তারা তাঁকে ভয় করত, য়েহেতু তাঁর শিক্ষায় সমগ্র লোক আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল

মার্ক 11:18

মন্দিরটি পরিষ্কার করার সময়ে যিহূদি নেতাদের দ্বারা তাকে হত্যা করতে নিশানা করা হ’ল I  

তারা নবীর মুখোমুখি হয়ে আরম্ভ করল I ইঞ্জিল বিবরণ দেয় যে পরের  দিন….


27 পরে তাঁরা জেরুশালেমে ফিরে এলেন৷ আর যখন তিনি মন্দিরের মধ্যে দিয়ে হাঁটছেন, সেই সময় প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও বয়স্ক ইহুদী নেতারা তাঁর কাছে এলেন৷
28 তাঁরা তাকে বললেন, ‘কোন ক্ষমতায় তুমি এসব করছ? এসব করতে তোমাকে কেই বা এই ক্ষমতা দিয়েছে?’

মার্ক 11:27-28

সুরা আত-তাঘাবুন আমাদের স্মরণ করায় যে সেইসময়ে নবীদের এই ধরণের চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয়েছিল I

 তোমাদের পুর্বে যারা কাফের ছিল, তাদের বৃত্তান্ত কি তোমাদের কাছে পৌছেনি? তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে, এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।এটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীসহ আগমন করলে তারা বলতঃ মানুষই কি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কাফের হয়ে গেল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী প্রশংসিত।কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

সুরা আত-তাঘাবুন 64:5-7

5. তোমাদের পুর্বে যারা কাফের ছিল, তাদের বৃত্তান্ত কি তোমাদের কাছে পৌছেনি? তারা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করেছে, এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। 6. এটা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রসূলগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলীসহ আগমন করলে তারা বলতঃ মানুষই কি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করবে? অতঃপর তারা কাফের হয়ে গেল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। এতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী প্রশংসিত। 7. কাফেররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।

ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ, কঠিনতম পরীক্ষার দ্বারা তাঁর কর্তৃত্বকে প্রমাণ করতে হত, সুরা তাঘাবুন বর্ণনা করেছে যে অবিশ্বাসীরা নিয়মিতভাবে নবীদের চ্যালেঞ্জ জানাত I এটি স্পষ্ট চিহ্ন হত দেখাতে যে নবী ‘কেবল মানবীয়’ স্তরের কর্তৃত্বের থেকে শুধু কার্য করতেন না I যেমন আত-তাঘাবুন স্পষ্ট করে, মৃত থেকে উত্থাপন করা পরীক্ষা ছিল I তবে প্রথমে, আরও কিছু ঘটনা সমূহ সেই পরিণতিজনক সপ্তাহটিকে উদঘাটিত করতে ছিল I

পরে দিন 3 এবং 4 এর উপরে ঘটনাগুলো দেখার সাথে সাথে আমরা অনুসরণ  করব কিভাবে কর্তৃত্ব সমূহের ষড়যন্ত্র, নবীর কার্যাবলী, এবং তাওরাতের নিয়মাবলী একসাথে সম্মিলিত হয় I  


দিন 1: ঈসা আল মসীহ – জাতিগনের প্রতি জ্যোতি

যিরূশালেমে ঈসা আল মসীহর তাল পাতার রবিবারের প্রবেশ তার চূড়ান্ত সপ্তাহ শুরু করল I সুরা আল-আন্বিয়া (সুরা 21 – নবীগণ) আমাদের বলে যে 

এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।

সুরা আল-আন্বিয়া 21:91

এবং সেই নারীর কথা আলোচনা করুন, যে তার কামপ্রবৃত্তিকে বশে রেখেছিল, অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার রূহ ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং তাকে তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য নিদর্শন করেছিলাম।

সুরা আল-আন্বিয়া স্পষ্টভাবে বলে যে আল্লাহ ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ সকল লোকেদের জন্য একটি ‘চিহ্ন’ রূপে প্রস্তুত করেছেন, না কেবল খ্রীষ্টান বা যিহূদিদের জন্য I কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহকে আমাদের সকলের জন্য একটি ‘চিহ্ন’ রূপে প্রস্তুত করা হ’ল I আল্লাহর দ্বারা জগতের সৃষ্টি সকল লোকেদের জন্য সার্বজনীন ছিল I তাই এই চূড়ান্ত সপ্তাহের প্রত্যেক দিন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এমনভাবে কথা বললেন এবং কার্য্য করলেন যা সৃষ্টির ছয় দিনের দিকে নির্দেশ করল (কোরআন এবং তওরাত সেখায় যে আল্লাহ সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছিলেন) I     

ঈসা আল মসীহর চূড়ান্ত সপ্তাহের প্রত্যেক দিনের মধ্য দিয়ে গেলে, লক্ষ্য করি কিভাবে তাঁর সমস্ত শিক্ষা এবং কার্যাবলী সৃষ্টির দিকে নির্দেশকারী চিহ্ন হয় I এটি দেখাবে যে এই সপ্তাহের প্রত্যেক দিনের ঘটনাবলী সময়ের আরম্ভ থেকে আল্লাহর দ্বারা দৈবনির্দিষ্ট হয়েছিল – কোনো মানবীয় ধারণার দ্বারা নয় যেহেতু মানুষ কয়েক হাজার বছরের ব্যবধানের ঘটনা সমূহকে সমন্বয় করতে পারে   না I আমরা রবিবারে শুরু করি – দিন এক I    

দিন এক – অন্ধকারের মধ্যে জ্যোতি  

সুরা আন-নুর (সুরা 24 – জ্যোতি) ‘জ্যোতি’র একটি দৃষ্টান্ত দেয় I এটি ব্যক্ত করে:

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।

সুরা আন-নুর 24:35

আল্লাহ নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উদাহরণ যেন একটি কুলঙ্গি, যাতে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাঁচপাত্রে স্থাপিত, কাঁচপাত্রটি উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ্য। তাতে পুতঃপবিত্র যয়তুন বৃক্ষের তৈল প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্বমুখী নয় এবং পশ্চিমমুখীও নয়। অগ্নি স্পর্শ না করলেও তার তৈল যেন আলোকিত হওয়ার নিকটবর্তী। জ্যোতির উপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর জ্যোতির দিকে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।

এই দৃষ্টান্ত সৃষ্টির প্রথম দিনের দিকে উল্লেখ করে যখন আল্লাহ জ্যোতি সৃষ্টি করলেন I তাওরাত ব্যক্ত করে:

3 তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!” তখনই আলো ফুটতে শুরু করল|
4 আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল| তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন|
5 ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিন” এবং অন্ধকারের নাম দিলেন “রাত্রি|”সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল| এই হল প্রথম দিন|
6 তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক|”

আদিপুস্তক 1:3-6

অন্ধকারকে মুছে দিতে সৃষ্টির প্রথম দিনে আল্লাহ বললেন জ্যোতির অস্তিত্ব   হোক I এই চিহ্নটি দেখাতে যেহেতু সৃষ্টির প্রথম দিন থেকেই সেই সময়ের ঘটনাগুলোকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল মসীহ অন্ধকারকে সরিয়ে তাঁর জ্যোতি হওয়ার কথা বলেছিলেন I 

অযিহূদিদের উপরে জ্যোতি উজ্বল হয়  

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সবেমাত্র একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন যেমন নবী সখরিয় পিবিইউএইচ 500 বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সঠিক দিনে তাই করেন যা নবী দানিয়েল পিবিইউএইচ 550 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আসন্ন নিস্তারপর্বের উৎসবের জন্য অনেক দেশ থেকে যিহূদিরা উপস্থিত হচ্ছিল তাই যিরূশালেমে যিহূদি তীর্থযাত্রীদের ভীড় ছিল (হাজ্জের সময় মক্কার মতন) I অতএব নবীর আগমন যিহূদিদের মধ্যে এক আলোড়ন সৃষ্টি করল I তবে এটি কেবলমাত্র যিহূদিরাই নয় যারা ঈসা আল মসীহর আগমনকে লক্ষ্য করল I যিরূশালেমে তাঁর ঠিক প্রবেশ করার পরে যা ঘটল ইঞ্জিল তাকে লিপিবদ্ধ করে I       

  20 নিস্তারপর্ব উপলক্ষে উপাসনা করার জন্য যাঁরা জেরুশালেমে এসেছিল, তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রীকও ছিল৷
21 তারা গালীলের বৈত্‌সৈদা থেকে য়ে ফিলিপ এসেছিলেন, তাঁর কাছে গেল, আর তাঁকে অনুরোধের সুরে বলল, ‘মহাশয় আমরা যীশুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চাই৷’
22 ফিলিপ এসে একথা আন্দরিয়কে জানালেন৷ তখন আন্দরিয় ও ফিলিপ এসে যীশুকে তা বললেন৷

যোহন 12:20-22

নবীর সময়ে গ্রীক এবং যিহূদিদের মধ্যে বাধা

গ্রীকদের (অর্থাৎ পরজাতি বা অযিহূদি) পক্ষে যিহূদি উৎসবে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক ছিল I সেই সময়ের গ্রীক এবং রোমীয়দের, যেহেতু তারা বহু-ঈশ্বরবাদী ছিল, অশুচি বিবেচনা করা হত এবং যিহূদিদের দ্বারা পরিহার করা হত I আর বেশিরভাগ গ্রীকরা কেবলমাত্র এক (অদেখা) ঈশ্বরে বিশ্বাসী যিহূদি ধর্ম এবং এর উৎসবগুলোকে বোকামি বলে মনে করত I সেই সময়ে কেবলমাত্র যিহূদিরা একেশ্বরবাদী ছিল I তাই এই লোকেরা নিয়মিতভাবে একে অপরের থেকে আলাদা থাকত I যেহেতু পরজাতি বা অ-যিহূদি সমাজ যিহূদি সমাজ থেকে বহুগুন বড় ছিল তাই যিহূদিরা জগতের অধিকাংশের থেকে এক প্রকারের বিচ্ছিনতার মধ্যে বাস করত I তাদের আলাদা ধর্ম, তাদের হালাল আহার, নবীদের তাদের একচেটিয়া বই যিহূদি এবং অযিহূদিদের মধ্যে এক বাধার সৃষ্টি করেছিল, এক পক্ষের অপর পক্ষের প্রতি শত্রুতার সাথে I  

আমাদের সময়ে, বহু-ঈশ্বরবাদ এবং মূর্তি পূজা জগতের অনেকের দ্বারা অস্বীকৃত হওয়ার সাথে, আমরা সহজেই ভুলতে পারি এই নবীর সময়ে এটি কিরকম  আলাদা ছিল I আসলে, আব্রাহামের পিবিইউএইচ সময়ে, ওই নবী ছাড়া প্রায় প্রত্যেকে বহু-ঈশ্বরবাদী ছিল I নবী মশির পিবিইউএইচ সময়ে, অন্য সমস্ত জাতিগুলো মূর্তির উপাসনা করত, সাথে ফরৌণ স্বয়ং ঈশ্বরদের একজন বলে নিজেকে দাবি করত I সমস্ত পরিবেষ্টিত জাতিগুলোর মূর্তি উপাসনার মহাসাগরের মধ্যে ইস্রায়েলীয়রা একেশ্বরবাদের একটি ছোট দ্বীপ ছিল I তবে নবী যিশাইয়কে  পিবিইউএইচ (750 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) ভবিষ্যতের মধ্যে দেখতে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল আর তিনি এই সমস্ত জাতিগুলোর জন্য একটি পরিবর্তন আগে থেকেই দেখেছিলেন I তিনি লিখলেন: 

  রবর্তী স্থানের সব লোকরা আমার কথা শোন| পৃথিবীবাসী সবাই আমার কথা শোন! আমি জন্মাবার আগেই প্রভু আমাকে তাঁর সেবা করতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন| আমি মাতৃজঠরে থাকার সময়েই প্রভু আমার নাম ধরে ডাক দেন|
2 প্রভু আমাকে তাঁর কথা বলতে ব্যবহার করেন! তিনি আমার মুখকে ধারালো তরবারির মতো তৈরী করেছেন| তিনি আমাকে নিজের হাতে লুকিয়ে রেখে আমাকে রক্ষাও করেছেন| প্রভু আমাকে একটি ধারালো তীরের মতো ব্যবহার করলেও, তিনি আমাকে তাঁর তীরের থলিতে লুকিয়ে রাখেন|
3 প্রভু আমাকে বললেন, “ইস্রায়েল তুমি আমার ভৃত্য! তোমার জন্য আমি যা করি তার জন্য আমি সম্মানিত হব|”
4 আমি বললাম, “আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি| আমি নিজেকে ক্ষয় করেছি, কিন্তু কোন প্রযো-জনীয কাজ করি নি| আমি আমার সমস্ত শক্তি ব্যয করেছি| কিন্তু আমি সত্যিকারের কিছুই করতে পারিনি| তাই প্রভুকেই ঠিক করতে হবে| তিনি আমাকে নিয়ে কি করবেন| ঈশ্বরই আমার পুরস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন|
5 প্রভু আমাকে আমার মাতৃগর্ভে সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমি তাঁর দাস হতে পারি এবং যাকোব ও ইস্রায়েলকে পথ প্রদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরিয়ে আনতে পারি| প্রভু আমাকে সম্মান দেবেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে আমি আমার শক্তি পাব|”প্রভু আমাকে বলেন,
6 “তুমি আমার খুবই গুরুত্বপূর্ণ দাস| ইস্রায়েলের লোকরা এখন বন্দী| কিন্তু তাদের আমার কাছে আনা হবে| যাকোবের পরিবারগোষ্ঠী আমার কাছেই ফিরে আসবে| কিন্তু তোমার অন্য কাজ আছে, এর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেই কাজ! আমি তোমাকে সমস্ত জাতির আলো হিসেবে তৈরি করব| বিশ্ববাসীকে রক্ষা করতে তুমিই হবে আমার পথ|”

যিশাইয় 49:1,5-6

রুশালেম, আমার আলো উঠে পড়! তোমার আলো (ঈশ্বর) আসছেন| তোমার উপর প্রভুর মহিমা প্রতিভাত হবে|
2 অন্ধকার পৃথিবীকে ঢেকে দিয়েছে| লোকরা অন্ধকারাচ্ছন্ন| কিন্তু প্রভু তোমার উপর তাঁর কিরণ বিকীরণ করবেন| তাঁর মহিমা তোমার উপর দেখা যাবে|
3 সব জাতি তোমার আলোর কাছে আসবে| রাজারাও তোমার উজ্জ্বল আলোর (ঈশ্বর) কাছে আসবেন|

যিশাইয় 60: 1-3

তাই নবী যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে সদাপ্রভুর আসন্ন ‘দাস’, যদিও যিহূদি (‘যাকোবের গোত্রের’) ‘পরজাতিদের (সমস্ত অযিহূদি) জন্য এক জ্যোতি’ হবে এবং এই জ্যোতি পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছবে I তবে এটি যিহূদি এবং অযিহূদের মধ্যে কয়েকশত বছর ধরে স্থায়ী এই বাধার সাথে কিভাবে ঘটতে পারে?    

সেই দিন যখন নবী ঈসা যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন তখন জ্যোতি প্রথম পরজাতিদের নিকটে নিয়ে আসতে শুরু করল যেমন আমরা কিছুকে নবীকে কাছে আসতে দেখি I এখানে এই যিহূদি উৎসবে গ্রীকরা ছিল যারা নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সম্বন্ধে জানতে যিরূশালেমে যাত্রা করেছিল I তবে যিহূদিদের দ্বারা বিবেচিত হারাম, তারা কি নবীকে দেখতে সক্ষম হবে? তারা ঈসার সঙ্গীদের জিজ্ঞাসা করল, যারা নবীর কাছে অনুরোধটি নিয়ে এসেছিল I তিনি কি বলবেন? তিনি কি এই গ্রীকদের অনুমতি দেবেন সাক্ষাৎ করতে, যারা যথাযথ ধর্ম সম্বন্ধে খুব কম জানত? ইঞ্জিল চলতে থাকে     

 

23 যীশু তখন তাদের বললেন, ‘মানবপুত্রের মহিমান্বিত হওযার সময় হয়েছে৷
24 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, গমের একটি দানা যদি মাটিতে পড়ে মরে না যায়, তবে তা একটি দানাই থেকে যায়৷ কিন্তু তা যদি মাটিতে পড়ে মরে যায়, তবে তার থেকে আরো অনেক দানা উত্‌পন্ন হয়৷
25 য়ে ব্যক্তি নিজের জীবনকে ভালবাসে সে তা হারাবে; কিন্তু য়ে এই জগতে তার জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, সে তা রাখবে৷ সে অনন্ত জীবন পাবে৷
26 কেউ যদি আমার সেব করে তবে অবশ্যই সে আমাকে অনুসরণ করবে৷ আর আমি য়েখানে থাকি আমার সেবকও সেখানে থাকবে৷ কেউ যদি আমার সেবা করে তবে পিতা তাকে সম্মানিত করবেন৷
27 ‘এখন আমার অন্তর খুব বিচলিত৷ আমি কি বলব, ‘পিতা? এই কষ্ট ভোগের মুহূর্ত থেকে আমায় রক্ষা কর?’ না, কারণ সেই সময় এসেছে এবং কষ্ট ভোগ করার উদ্দেশ্যেই আমি এসেছি৷
28 পিতা, তোমার নামকে মহিমান্বিত কর!’তখন স্বর্গ থেকে এক রব ভেসে এল, ‘আমি এঁকে মহিমান্বিত করেছি, আর আমি আবার তাঁকে মহিমান্বিত করব৷’
29 য়ে লোকেরা সেখানে ভীড় করেছিল, তারা সেই রব শুনে বলতে লাগল, এটা তো মেঘ গর্জন হোল৷আবার কেউ কেউ বলল, ‘একজন স্বর্গদূত ওঁর সঙ্গে কথা বললেন৷’
30 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমার জন্য নয়, তোমাদের জন্যই ঐ রব৷
31 এখন জগতের বিচারের সময়৷ এই জগতের শাসককে দূরে নিক্ষেপ করা হবে৷
32 আর যখন আমাকে মাটি থেকে উঁচুতে তোলা হবে, তখন আমি আমার কাছে সকলকেই টেনে আনব৷’
33 যীশুর কিভাবে মৃত্যু হতে যাচ্ছে, তাই জানাতে যীশু এই কথা বললেন৷
34 এর উত্তরে লোকেরা তাঁকে বলল, ‘আমরা মোশির দেওযা বিধি-ব্যবস্থা থেকে শুনেছি য়ে খ্রীষ্ট চিরকাল বাঁচবেন৷ তাহলে আপনি কিভাবে বলছেন য়ে, ‘মানবপুত্রকে উঁচুতে তোলা হবে? এই ‘মানবপুত্র’ তবে কে?’
35 তখন যীশু তাদের বললেন, ‘আর সামান্য কিছু সময়ের জন্য তোমাদের মধ্যে আলো থাকবে৷ যতক্ষণ তোমরা আলো পাচ্ছ, তারই মধ্য দিয়ে চল৷ তাহলে অন্ধকার তোমাদের আচ্ছন্ন করবে না৷ য়ে লোক অন্ধকারে চলে সে কোথায় যাচ্ছে তা জানে না৷
36 যতক্ষণ তোমাদের কাছে আলো আছে, সেই আলোতে বিশ্বাস কর, তাতে তোমরা আলোর সন্তান হবে৷’ এই কথা বলে যীশু সেখান থেকে চলে গেলেন ও তাদের কাছ থেকে নিজেকে গোপন রাখলেন৷
37 যদিও যীশু তাদের চোখের সামনেই প্রচুর অলৌকিক চিহ্নকার্য় করলেন, তবু তারা তাঁকে বিশ্বাস করল না৷
38 ভাববাদী যিশাইয় বলেছিলেন:‘প্রভু, আমাদের এই বার্তা কে বিশ্বাস করেছে? আর কার কাছেই বা প্রভুর পরাক্রম প্রকাশ পেয়েছে?’যিশাইয় 53 :1
39 এই কারণেই তারা বিশ্বাস করতে পারে নি, কারণ যিশাইয় আবার বলেছেন,
40 ‘ঈশ্বর তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন৷ ঈশ্বর তাদের অন্তর কঠিন করেছেন যাতে তারা চোখ দিয়ে দেখতে না পায়, অন্তর দিয়ে বুঝতে না পারে এবং ভাল হবার জন্য আমার কাছে না আসে৷’যিশাইয় 6:10
41 যিশাইয় একথা বলেছিলেন, কারণ তিনি যীশুর মহিমা দেখেছিলেন আর তিনি তাঁর বিষয়েই বলেছিলেন৷
42 অনেকে, এমন কি ইহুদী নেতাদের মধ্যেও অনেকে, তাঁর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করল; কিন্তু তারা ফরীশীদের ভয়ে প্রকাশ্যে তা স্বীকার করল না, পাছে তারা ইহুদীদের সমাজ-গৃহ থেকে বহিষ্কৃত হয়৷
43 কারণ তারা ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা প্রশংসা অপেক্ষা মানুষের কাছ থেকে পাওযা প্রশংসা বেশী ভালবাসত৷
44 যীশু চিত্‌কার করে বললেন, ‘য়ে আমাকে বিশ্বাস করে সে, প্রকৃতপক্ষে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁকেই বিশ্বাস করে৷
45 আর য়ে আমায় দেখে সে, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তাঁকেই দেখতে পায়৷
46 আমি এ জগতে আলো রূপে এসেছি যাতে য়ে আমায় বিশ্বাস করে তাকে য়েন অন্ধকারে থাকতে না হয়৷
47 ‘আর য়ে কেউ আমার কথা শোনে অথচ তা মেনে চলে না, তার বিচার করতে আমি চাই না, কারণ আমি জগতের বিচার করতে আসিনি, এসেছি জগতকে রক্ষা করতে৷
48 য়ে কেউ আমাকে অগ্রাহ্য় করে ও আমার কথা গ্রহণ না করে, তার বিচার করার জন্য একজন বিচারক আছেন৷ আমি য়ে বার্তা দিয়েছি শেষ দিনে সেই বার্তাই তার বিচার করবে৷
49 কারণ আমি নিজে থেকে একথা বলছি না, বরং পিতা যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি আমাকে কি বলতে হবে বা কি শিক্ষা দিতে হবে তা আদেশ করেছেন৷
50 আমি জানি য়ে তাঁর আদেশ থেকেই অনন্ত জীবন আসে৷ আমি সেই সকল কথা বলি যা পিতা আমায় বলেছেন৷’

যোহন 12:23-50

এই নাটকীয় পরিবর্তনের মধ্যে, স্বর্গের থেকে এমনকি একটি কন্ঠস্বর সহ, নবী বললেন যে তিনি ‘উত্থাপিত’ হবেন এবং এটি ‘সকল লোকেদের’ টেনে নিয়ে আসবে – না কেবল যিহূদিদের – তাঁর কাছে I অনেক যিহূদিরা, এমনকি যদিও তারা কেবলমাত্র এক ঈশ্বরের উপাসনা করত, নবী কি বলছেন, বুঝতে পারল না I নবী যিশাইয় বললেন এটি তাদের কঠোর হৃদয়ের কারণে – আল্লাহর কাছে তাদের সমর্পণের অনিচ্ছা – যেটি মূলে ছিল, এমনকি অন্যরা ভয়ের কারণে চুপচাপ বিশ্বাস করল I    

নবী ঈসা আল মসীহ বলিষ্ঠভাবে দাবি করলেন যে তিনি ‘এক জ্যোতি হিসাব জগতে এসেছেন’ (আয়াত 46) যার সম্বন্ধে পূর্ববর্তী নবীরা লিখেছিলেন যেটি সমস্ত জাতিগণের উপরে উজ্জ্বল হবে I সেই দিনে, যখন তিনি যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন, জ্যোতি প্রথমে পরজাতিদের উপরে উজ্জ্বল হতে শুরু করল I এই জ্যোতি কি সমস্ত জাতিগণের উপরে ছড়িয়ে যাবে? ‘উত্থাপিত হওয়া’ বলতে  নবী কি বোঝাতে চেয়েছিলেন? এই প্রশ্নগুলো বুঝতে আমরা এই শেষ সপ্তাহের মধ্য দিয়ে চলতে থাকব I 

নিম্নলিখিত চার্টটি এই সপ্তাহের প্রত্যেক দিনের মধ্যদিয়ে গেছে I রবিবারে. সপ্তাহের প্রথম দিনে পূর্ববতী তিনজন নবীদের দ্বারা প্রদত্ত তিনটি আলাদা আলাদা ভবিষ্যদ্বাণী তিনি পূর্ণ করলেন I প্রথমত, সখরিয়র ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে তিনি একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন I দ্বিতীয়ত, তিনি এটি এমন সময়ে করলেন যা দানিয়েলের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I তৃতীয়ত, তাঁর বার্তা এবং অলৌকিক কার্যাবলী পরজাতিগণের মধ্যে একটি আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করল – যা নবী যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে সমস্ত জাতিগণের কাছে একটি জ্যোতি রূপে আলোকিত হবে এবং জগতের চারিদিকের লোকেদের কাছে উজ্জ্বল হবে I  

আবেগের ঘটনাবলীর সপ্তাহ – দিন এক – রবিবার

ঈসা আল মসীহ সঠিক সময়ে, এক ভিন্ন শত্রুর কাছে, এক চমকপদ উপায়ে – জিহাদ ঘোষণা করেন

সুরা আত-তাওবাহ (সুরা 9 – অনুতাপ, ছত্রভঙ্গ) আলোচনার জন্ম দেয় যেহেতু এটি জিহাদ, বা প্রচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা করে I আয়াত শারীরিক সংগ্রামের জন্য পথ নির্দেশ দেয় যারফলে সেখানে বিভিন্ন পন্ডিতদের দ্বারা নানান ব্যাখ্যা আছে I সুরা আত-তাওবাহর থেকে আয়াতের এই আলোচনাটি এখানে রয়েছে: 

সুরা আত-তাওবাহ (সুরা 9 – অনুতাপ, ছত্রভঙ্গ)

তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।

সুরা আত-তাওবাহ 9:41-42

41 তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার। 42 যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর আল্লাহ জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী।

সুরা আত-তাওবাহের মধ্যে তিরষ্কারটি আসে কারণ যুদ্ধযাত্রা যদি সহজ হত, তাদেরকে অনুসরণ করা যেত, কিন্তু যারা ‘চেষ্টা করতে’ ইচ্ছুক মুস্কিলের সময়ে অন্তর্নিহিত হয়ে যেত I উত্তরসুরী আয়াত এই উৎসাহ-শুন্য অনুগামীদের অজুহাত এবং আলোচনাগুলোকে লিপিবদ্ধ করে I সুরা আত-তাওবাহ তখন এই অনুস্মারকটি দেয় 

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

সুরা আত-তাওবাহ 9:52

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

তিরষ্কার আসার সাধারণতঃ দুটি সম্ভাব্য পরিনতি থাকে: মৃত্যু (শহীদত্ব) বা বিজয় I তবে সংগ্রাম যদি এত বৃহৎ হয় উভয় ফলাফল আসে – শহীদত্ব এবং বিজয় উভয়ই I নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ তাঁর সুদীর্ঘ যিরূশালেম যাত্রায় এই সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিলেন – সেখানে তাঁর আগমনের সাথে কয়েকশ বছর আগে যাবুরের ভাববাদীদের দ্বারা প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করার জন্য অর্ধগোলাকার চাঁদ বা হেলাল চাঁদের দ্বারা সময় নির্ধারিত হয়েছিল I

যিরূশালেমে প্রবেশ

সুরা আল-ইসরা (সুরা 17 – রাত্রি যাত্রা) সুপরিচিত যেহেতু এটি নবী মহম্মদের পিবিইউএইচ রাত্রি যাত্রাকে বর্ণনা করে, যেখানে তিনি একটি উড়ন্ত বুরাকের উপরে চড়ে মক্কা থেকে একা এসেছিলেন   

.পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

সুরা আল-ইসরা 17:1

পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ রাত্রি যাত্রা হিসাবে ঠিক একই স্থানে যাচ্ছিলেন I তবে ঈসা আল মসীহ চিহ্ন সমূহ প্রদর্শন করতে প্রবেশ করেছিলেন I তাই তিনি রাত্রির পরিবর্তে প্রকাশ্য দিনের বেলায় এসেছিলেন, এবং একটি বুরাকের বদলে একটি গাধার উপরে চড়েছিলেন I যদিও আমরা সেটিকে একটি পাখি বুরাকের উপরে আসার মতন চিত্তাকর্ষক নাও ভাবতে পারি, যিরূশালেমের মন্দিরে একটি গাধার উপরে তার আবির্ভাব লোকেদের কাছ একটি স্পষ্ট চিহ্ন ছিল I কিভাবে হ’ল আমরা তার ব্যাখ্যা করি I   

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) লাসারকে তার জীবনে উত্থাপিত করে তাঁর মিশন প্রকাশ করেছিলেন এবং এখন তিনি যিরূশালেম (আল কুদা) অভিমুখে তার যাত্রা পথে ছিলেন I যে পথে তিনি পৌঁছাতেন তার সম্বন্ধে  কয়েকশত বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে: 

  12 য়ে বিপুল জনতা নিস্তারপর্বের জন্য এসেছিল, পরের দিন তারা শুনল য়ে যীশু জেরুশালেমে আসছেন৷
13 তখন তারা খেজুর পাতা নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়ল৷ তারা চিত্‌কার করে বলতে লাগল,‘তাঁর প্রশংসা কর, তাঁকে স্বাগত জানাও! যিনি প্রভুর নামে আসছেন, ঈশ্বর তাঁকে আশীর্বাদ করুন৷ ইস্রায়েলের রাজাকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন!’গীতসংহিতা 118 :2
14 যীশু একটা গাধাকে দেখতে পেয়ে তার ওপর বসলেন, য়েমন শাস্ত্রে লেখা আছে:
15 ‘সিযোন নগরী,ভয় পেও না! দেখ, তোমাদের রাজা আসছেন৷ দেখ, তোমাদের রাজা বাচ্চা গাধায় চড়ে আসছেন৷’সখরিয় 9:9
16 এসবের অর্থ তাঁর শিষ্যরা প্রথমে বুঝতে পারেন নি৷ কিন্তু যীশু যখন মহিমায় উত্তোলিত হলেন, তখন তাঁদের মনে পড়ল য়ে শাস্ত্রে এগুলিই তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে এবং লোকেরা এসব তাঁর জন্য করেছিল৷
17 যীশু যখন লাসারকে কবর থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন, আর তাকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করে তোলেন, তখন য়ে সব লোক সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিল তার সে বিষয়ে সকলকে বলতে লাগল৷
18 এই কারণেই লোকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এল, কারণ তারা শুনেছিল, য়ে তিনিই ঐ অলৌকিক চিহ্নকার্য় করেছেন৷
19 তখন ফরীশীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘তোমরা দেখলে, আমাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল৷ দেখ, আজ সারা জগত্ তাঁরই পেছনে ছুটছে৷’

যোহন 12:12-19

ঈসা আল মসীহর প্রবেশ – দায়ূদ অনুসারে

দায়ূদের (পিবিইউএইচ) থেকে শুরু করে, প্রাচীন যিহূদি রাজারা বার্ষিকভাবে তাদের রাজকীয় ঘোড়ায় চড়তেন এবং যিরূশালেমের মধ্যে একটি মিছিলে  নেতৃত্ব দিতেন I ঈসা আল মসীহ তালপাতার রবিবার বলে পরিচিত দিনটিতে একটি গাধার উপরে চড়ে এই ঐতিহ্যটিকে পুনরায় কার্যকর করেছিলেন I লোকেরা ঈসা আল মসীহর জন্য যাবুরের থেকে সেই একই গীত গেয়েছিল যেমনটি তারা দায়ূদের জন্য গেয়েছিল: 

 

25 লোকেরা বললো, “প্রভুর প্রশংসা কর! প্রভু আমাদের রক্ষা করেছেন!”
26 সেই লোকটিকে স্বাগত জানাও, য়ে প্রভুর নাম নিয়ে আসছে|” যাজকরা উত্তর দিয়েছিলো, “আমরা তোমাকে প্রভুর গৃহে স্বাগত জানাই!”
27 প্রভুই ঈশ্বর এবং তিনি আমাদের গ্রহণ করেন| বলির জন্য একটা মেষ বাঁধ এবং সেটাকে বেদীর কোণে নিয়ে চল|”
28 প্রভু, আপনিই আমার ঈশ্বর, আপনাকে ধন্যবাদ দিই| আমি আপনার প্রশংসা করি!
29 প্রভুর প্রশংসা কর! কারণ তিনি মঙ্গলময়| তাঁর প্রকৃত প্রেম চিরন্তন|

গীত সংহিতা 118:25-27

লোকেরা রাজাদের জন্য লেখা এই প্রাচীন গীত গেয়েছিলেন কারণ তারা জানত ঈসা লাসারকে উত্থাপিত করেছিলেন এবং তাই তারা যিরূশালেমে তাঁর আগমনে উত্তেজিত হয়েছিল I যে কথাটি তারা চীৎকার করে বলেছিল, ‘হোশান্না’ মানে ‘রক্ষা কর’ – বহু পূর্বে ঠিক তেমনটি গীত সংহিতা 118:25 লিখেছিল I তিনি তাদেরকে কিসের থেকে ‘রক্ষা করতে’ যাচ্ছিলেন – (নবী সখরিয় আমাদের বলেন:    

সখরিয় দ্বারা প্রবেশ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

পূরবর্তী রাজারা কয়েকশত বছর পূর্বে যা করতেন, যদিও ঈসা আল মসীহ পুনরায় তা কার্যকর করলেন, তিনি এটিকে ভিন্নভাবে করলেন I নবী সখরিয় পিবিইউএইচ, যিনি আসন্ন মসীহর নামের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনি আবারও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মসীহ একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করবেন I কালপঞ্জি অন্যান্য নবীদের সাথে সখরিয়কে ইতিহাসের মধ্যে দেখায় যারা তালপাতার রবিবারের ঘটনা সম্বন্ধ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I   

যে নবীরা তালপাতার রবিবারে ঈসার যিরূশালেমে প্রবেশ সম্বন্ধে আগে থেকেই দেখেছিলেন

ওই ভবিষ্যদ্বাণীর অংশকে যোহনের সুসমাচারে উদ্ধৃত করা হয়েছিল (নীল পাঠ্যক্রমের মধ্যে) I সখরিয়র সম্পূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীটি এখানে রয়েছে:

9 সিয়োন, উল্লাস কর! জেরুশালেমের লোকেরা, আনন্দে চিত্কার কর! দেখ, তোমাদের রাজা তোমাদের কাছে আসছেন! তিনিই সেই ধার্মিক রাজা, তিনিই সেই বিজয়ী রাজা| কিন্তু তিনি নম্র| তিনি একটি খচচরের পিঠে চড়ে আসছেন| একটি ভারবাহী গাধার বাচচার ওপর চড়ে আসছেন|
10 রাজা বলেন, “আমি ইফ্রয়িমের রথগুলি এবং জেরুশালেমের অশ্বগুলিকেও সরিয়ে ফেলব| আমি যুদ্ধে ব্যবহার করবার ধনু ভেঙ্গে ফেলব|” রাজা জাতিগুলির কাছে শান্তির সংবাদ আনবেন| তিনি সাগর থেকে সাগরে রাজত্ব করবেন| ফরাত্‌ নদী থেকে পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত পর্য়ন্ত|
11 জেরুশালেম, তোমার চুক্তি রক্তের মধ্যে সীলমোহর করা হয়েছিল| তাই আমি তোমার বন্দীদের শূন্য আধার থেকে রক্ষা করেছি|

সখরিয় 9:9-11

যে রাজার সম্বন্ধে সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি অন্য রাজাদের থেকে ভিন্ন হবেন I তিনি এমন রাজা হবেন না যিনি ‘রথ’, যুদ্ধের ঘোড়া’, যুদ্ধের ধনুক’ ব্যবহার করবেন I এই রাজা আসলে এই সমস্ত অস্ত্রগুলো অপসারণ করবেন এবং পরিবর্তে ‘জাতি সমূহের কাছে শান্তি ঘোষণা করবেন’ I যাইহোক, এই রাজাকে তখনও এক শত্রুকে পরাজিত করতে সংগ্রাম করতে হবে I তাকে সবচেয়ে বড় জিহাদের মধ্যে সংগ্রাম করতে হবে I

এটি পরিষ্কার হয় যখন আমরা এই রাজার সম্মুখীন হওয়া শত্রুটিকে চিনতে পারি I সাধারণতঃ, একজন রাজার শত্রু আর একজন রাজা হয় একটি বিরোধী জাতি, বা আর এক সৈন্য বাহিনী, বা তার লোকদের বিদ্রোহ, বা সেই লোকেদের থেকে যারা তার বিরুদ্ধে হয় I কিন্তু নবী সখরিয় লিখলেন যে একটি ‘গাধার’ উপরে প্রকাশিত রাজা এবং শান্তি ঘোষণাকারী ‘জলবিহীন খাই থেকে বন্দিদের মুক্ত করতে যাচ্ছেন’ (আয়াত 11) I ‘খাই’ হ’ল হিব্রু পদ্ধতিতে  কবর বা মৃত্যুর সম্বন্ধে বলা I এই রাজা তাদেরকে মুক্ত করতে যাচ্ছেন না যারা স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ এবং মনুষ্য-নির্মিত কারাগারের মধ্যে আটকে পড়া বন্দী, বরং তাদেরকে যারা মৃত্যুর বন্দী ছিলI [1]

যখন আমরা মৃত্যুর থেকে লোকেদের রক্ষার কথা বলি তখন আমরা কাউকে বাঁচানোর কথা বলি যাতে করে মৃত্যু বন্ধ হয় I উদাহরণস্বরূপ, আমরা কাউকে উদ্ধার করতে পারি, যে ডুবে যাচ্ছে বা কিছু ওষুধ দিই যা কারোর জীবনকে রক্ষা করে I এই ‘রক্ষা’ কেবল মৃত্যুকে স্থগিত করে যে ব্যক্তিকে রক্ষা করা হয় সে পরে মারা যাবে I কিন্তু সখরিয় ‘মৃত্যুর থেকে’ লোকেদের রক্ষা করার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন না বরং তাদের উদ্ধারের সম্বন্ধে বলছিলেন যারা মৃত্যুর দ্বারা বন্দী – যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে I সখরিয়র দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি গাধার উপরে আসন্ন রাজার দ্বারা মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে এটিকে স্বয়ং পরাজিত করা – এর বন্দীদের মুক্ত করার কথা ছিল I এর জন্য প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন হত – একটি জিহাদ যাকে আগে কখনও দেখা যায়নি I পন্ডিতরা মাঝে মাঝে আমাদের আন্তরিক সংগ্রামের ‘বৃহত্তর জিহাদ’ এবং বাইরের সংগ্রামের ‘ক্ষুদ্রতর জিহাদের’ সম্বন্ধ উল্লেখ করেন I খাইয়ের সম্মুখীন হয়ে এই রাজা এই সংগ্রাম বা জিহাদ উভয়ের মধ্য দিয়ে যাবেন I   

মৃত্যুর সঙ্গে এই সংগ্রাম বা জিহাদের মধ্যে কি অস্ত্র রাজা ব্যবহার করতে যাচ্ছেন? নবী সখরিয় লিখলেন যে এই রাজা খাইয়ের মধ্যে তার এই সংগ্রামে কেবলমাত্র “তোমার সাথে আমার নিয়মের রক্ত” নিয়ে যাবেন I তাঁর নিজের রক্ত অস্ত্র হবে যার সাহায্যে তিনি মৃত্যুর সম্মুখীন হবেন I  

গাধার উপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করে ঈসা নিজেকে এই রাজা বলে ঘোষণা করলেন – মসীহ I

কেন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ দুঃখের সাথে রোদন করলেন

তালপাতার রবিবারের দিনে যখন ঈসা আল মসীহ যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন (এছাড়াও বিজয়ী প্রবেশ বলে পরিচিত) ধর্মীয় নেতারা তার বিরোধিতা  করলেন I লুকের সুসমাচার তাদের বিরোধিতায় ঈসা আল মসীহর প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে বর্ণনা করে I 

  41 তিনি জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে শহরটি দেখে কেঁদে ফেললেন৷
42 তিনি বললেন, ‘হায় কিসে তোমার শাস্তি হবে তা যদি তুমি আজ বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার দৃষ্টির অগোচরে রইল৷
43 সেই দিন আসছে, যখন তোমার শত্রুরা তোমার চারপাশে বেষ্টনী গড়ে তুলবে৷ তারা তোমায় ঘিরে ধরবে, আর চারপাশ থেকে চেপে ধরবে৷
44 তারা তোমাকে ও তোমার সন্তানদের ধ্বংস করবে৷ তোমার প্রাচীরের একটা পাথরের ওপর আর একটা পাথর থাকতে দেবে না, কারণ তোমার তত্ত্বাবধানের জন্য ঈশ্বর য়ে তোমার কাছে এলেন, এ তুমি বুঝলে না৷’

লুক 19:41-44

ঈসা আল মসীহ নির্দিষ্টভাবে বললেন যে নেতাদের ‘এই দিনে’ ঈশ্বরের আসার সময়কে’ জানা উচিত ছিল I তিনি কি বোঝালেন? তারা কি মিস করল?

নবীরা ‘সেই দিনটি’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন  

কয়েক শতাব্দী পূর্বে নবী দানিয়েল (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে যিরূশালেমের পুনর্নির্মাণের আদেশ জারি করার 483 বছর মসীহ আসবেন I আমরা দানিয়েলের প্রত্যাশিত বছরকে 33 খ্রীষ্টাব্দ বলে গণনা করেছি – যে বছরে ঈসা আল মসীহ একটি গাধার ওপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I এটি ঘটার কয়েকশত বছর পূর্বে, প্রবেশের বৎসরের ভবিষ্যদ্বাণী করা, আশ্চর্যজনক I তবে সময়টিকে আজকে গণনা করা যেতে পারে I (আমাদের এটি তৈরী করার পরে দয়া করে প্রথমে এখানে পর্যালোচনা করুন) I        

মসীহর প্রকাশনের আগে নবী দানিয়েল 360-দিনের বছর ধরে 483 বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I তদনুসারে, দিনগুলোর সংখ্যা হ’ল:

483 বছর * 360 দিন/বছর = 173880 দিন সমূহ

365.2422 দিন/বছর নিয়ে আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি 25 অতিরিক্ত দিনগুলোর সাথে 476 বছর হয় (173 880/365.242219879 = 476 বাকি 25)

কখন যিরূশালেম পুনস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়েছিল যা এই উল্টো গণনাকে  শুরু করেছিল? এটিকে দেওয়া হয়েছিল:

রাজা অর্তক্ষস্তর বিংশতিতম বৎসরের নীসন মাসে …

নহিমিয় 2:1

নীসনের কোন্ দিন (যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে একটি মাস) দেওয়া হয়নি, তবে নীসন 1 তারিখ যেহেতু নতুন বছর শুরু করত, সম্ভবতঃ উৎসবের মধ্যে নহিমিয়ের সাথে রাজার কথা বলার কারণ দেয় I মাসগুলো চান্দ্র হওয়ায় এছাড়াও নীসন 1 তারিখ এক আমাবস্যাকে চিহ্নিত করত (ইসলামিক ক্যালেন্ডারের মতন) I আমাবস্যা ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উপায়ে নির্ধারিত হত – সাথে স্বীকৃত মানুষরা চাঁদের নতুন অর্ধচন্দ্রাকার (হেলাল) পর্যবেক্ষণ করত I আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা জানি কখন সেই আমাবস্যা চিহ্নিত 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের নীসন 1 তারিখকে প্রথমে দেখা গিয়েছিল I জানা মুশকিল পর্যবেক্ষকদের দ্বারা নীসনকে কি সেই দিন প্রথমে দেখা গিয়েছিল নাকি মিস হয়ে গিয়েছিল আর নীসনের আরম্ভ হতে 1 দিন দেরী হয়ে গিয়েছিল I জোতির্বিদ্যার গণনাগুলো পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তরের বিংশতিতম বছরের নীসন 1 তারিখের অর্ধগোলাকার চন্দ্রকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের 4 মার্চ, রাত্রি  10 টায় স্থাপন করে I[2] অর্ধগোলাকার চন্দ্রের আবির্ভাব যদি লক্ষ্যচ্যুত হয়ে থাকে, তবে নীসন 1 তারিখ পরবর্তী দিন 5 মার্চ, 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হত I যেভাবেই হোক যিরূশালেম পুনস্থাপনের পার্সিয়ান হুকুমটি মার্চ 4 বা 5, তারিখে 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জারি করা হয়ে থাকবে I 

এই তারিখে দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের 476 বছর যোগ করলে আমাদের কাছে নিয়ে আসে মার্চ 4 বা 5, 33 খ্রীষ্টাব্দ (সেখানে কোনো শুন্য বৎসর নেই, আধুনিক ক্যালেন্ডারটি 1 তারিখ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে 1 তারিখ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত এক বছর চললে পাটিগণিত হয় -444 + 476 + 1 = 33) I 33 খ্রীষ্টাব্দের 4 বা 5 মার্চের সঙ্গে দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের বাকি 25 দিন যোগ করলে আমাদেরকে 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 29 বা 30 দেয়, যাকে নিচের কালপঞ্জির মধ্যে চিত্রিত করা হয়েছে I 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 29 ছিল রবিবার –  তালপাতার রবিবার  – সেই বিশেষ দিনে মসীহ বলে ঘোষণা করে ঈসা পিবিইউএইচ গাধার উপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I আমরা এটি জানি কারণ আগামী শুক্রবার ছিল নিস্তারপর্ব – নিস্তারপর্ব সর্বদা নীসন 14 তারিখ হত I 33 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে নীসন 14 তারিখ এপ্রিল 3 ছিল I 3 এপ্রিল শুক্রবারের 5 দিন আগে হওয়ায় তালপাতার রবিবার মার্চ 29 ছিল I        

29 মার্চ 33 খ্রীষ্টাব্দে গাধার উপরে উপবিষ্ট হয়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করে, নবী ঈসা আল মসীহ পিবিউএইচ নবী সখরিয় এবং নবী দানিয়েলের উভয় ভবিষ্যদ্বাণীকে পূর্ণ করলেন – আজ পর্যন্ত I এটিকে নিচের কালপঞ্জিতে চিত্রিত করা হয়েছে I    

দানিয়েল মসীহর প্রকাশিত হওয়ার 173 880 দিন পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন: নহিমিয় সময়টি শুরু করেছিলেন I এটি 29 মার্চ 33 খ্রীষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল যখন ঈসা তাল পাতার রবিবারের দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I 

এই অনেক ভবিষ্যদ্বাণীগুলো একদিনে পূর্ণ হওয়াতে স্পষ্ট চিহ্নগুলো দেখায় যাকে মসীহ সম্পর্কে আল্লাহ তার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছিলেন I তবে পরে সেই একই দিনে ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ নবী মশির পিবিইউএইচ  আর একটি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিলেন I এটি করার সাথে তিনি এমন ঘটনাগুলোকে গতিশীল করলেন যা তার জিহাদকে ‘খাইয়ের’ দিকে নিয়ে যেত – তার শত্রু মৃত্যুর দিকে I আমরা পরে এটিকে দেখব I  


 [1] কিভাবে ‘খাই’ নবীদের জন্য মৃত্যুকে বোঝায় তার কয়েকটি উদাহরণ:

  15 কিন্তু সেটা ঘটেনি| তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারো নি| তোমাকে সমাধিস্থলের গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করা হয়েছে|

যিশাইয় 14:15

  18 মৃত লোকরা আপনার প্রশংসার গান গায না| পাতালে লোকরা আপনার প্রশংসা করে না| মৃত লোকরা সাহায্যের জন্য আপনার উপর বিশ্বাস রাখে না| তারা মাটির ভেতরে একটা গর্তে চলে যায়| আর, কখনও কথা বলতে পারে না|

যিশাইয় 38:18

  22 ঐ লোকটি “গহবর” এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়| ওর জীবনও মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসে|

ইয়োব 33:22

  8 তারা তোমায় টেনে কবরে নামাবে| তুমি সমুদ্রে মারা গেছে এমন নাবিকের মত হবে|

যিহিষ্কেল 28:8

 তাদের কবরগুলি গর্তের গভীরে রয়েছে এবং তার সেনাবাহিনী তার কবরের চারপাশে রয়েছে।

যিহিষ্কেল 32:23

  3 আপনি আমায় কবর থেকে টেনে তুলেছেন| আপনি আমায় বাঁচতে দিয়েছেন| মৃত্যু লোকের মৃত মানুষদের সঙ্গে আমাকে থাকতে হয় নি|

গীতসংহিতা 30:3

 [2] প্রাচীন এবং আধুনিক ক্যালেন্ডারের রূপান্তরগুলোর জন্য (উদাহরণস্বরূপ নীসন 1 তারিখ = মার্চ 4, 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এবং প্রাচীন অমাবস্যার গণনার জন্য আমি ডা. হ্যারল্ড ডবলু. হোএনারের রচনা ক্রনোলজিক্যাল আসপেক্টস অফ দি লাইফ অফ ক্রাইস্ট. 1977. পৃষ্ঠা 177 কে ব্যবহার করেছি I

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবইউএইচ) এক ‘হারিয়ে যাওয়া’ বিশ্বাসঘাতককে রক্ষা করেন

সুরা আশ-শুরা (সুরা 42) – পরামর্শ) আমাদের বলে

এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

সুরা আশ-শুরা 42:23

এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

সুরা আশ-শুরা 42:26

তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

অনুরূপভাবে সুরা আল-কাসাস (সুরা 28 – গল্প) ঘোষণা করে

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে।

সুরা আল-কাসাস 28:67

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে। তবে কি যদি আমরা ‘ন্যায়নিষ্ঠা না করে থাকি’. ‘সৎকর্ম সম্পাদন না করে থাকি’, এবং ভাল পরিষেবায় কম পড়ে গিয়ে থাকি? মশির ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছিল এবং যে কোনো কম পড়ার জন্য ‘ভয়ংকর শাস্তি’ যেগুলোকে সুরা আশ-শুরা এবং সুরা আল-কাসাসের মধ্যে এই আয়াতগুলো সুনিশ্চিত করেছে I ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ আনন্দের সংবাদ সেই লোকেদের জন্য ছিল যারা এই আয়াতগুলোর মধ্যে বর্ণিত সৎকর্মগুলোর থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল I আপনি কি একজন যিনি নিখুঁতভাবে ন্যায়নিষ্ঠা করেন নি? তাহলে ঈসা মসীহর সঙ্গে একজন মানুষের সাক্ষাৎকার পড়ুন যে কোনো কিছুই ন্যায়নিষ্ঠ কার্য করেনি – যে এমনকি একজন বিশ্বাসঘাতকও ছিল I     

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) লাসারকে মৃত্যু থেকে জীবনে ফিরিয়ে এনেছিলেন – তাঁর মিশনের উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করতে – মৃত্যুকে স্বয়ং ধ্বংস  করতে I তাঁর মিশনকে সম্পূর্ণ করতে এখন তিনি যিরূশালেমের উদ্দেশ্যে তাঁর যাত্রাপথে ছিলেন I পথে তিনি যিরীহোর মধ্য দিয়ে গেলেন (যেটি আজ প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরে রয়েছে) I তাঁর অনেক অলৌকিক ঘটনা সমূহ এবং শিক্ষার কারণে এক বৃহৎ ভীড় তাঁকে দেখতে বের হয়ে এল I সেই ভীড়ের মধ্যে একজন ধনী কিন্তু নিন্দিত লোক ছিল – সখরিয় I সে ধনী ছিল কারণ সে একজন কর আদায়কারী ছিল রোমীয়দের জন্য যারা সামরিক শক্তির দ্বারা যিহূদিয়াকে দখল করেছিল I রোমীয়দের প্রয়োজনের তুলনায় সে অধিক কর আদায় করত – এবং অতিরিক্ত তার নিজের জন্য রেখে দিত I সে যিহূদিদের দ্বারা নিন্দিত হয়েছিল কারণ, নিজে একজন যিহূদি হওয়া সত্ত্বেও, সে রোমীয় দখলকারীদের জন্য কাজ করছিল এবং তার নিজের লোকেদের ঠকাচ্ছিল I তার  লোকেদের কাছে তাকে একজন বিশ্বাসঘাতক হিসাবে দেখা হত I    

অতএব সখরিয়, বেঁটে হওয়াতে, নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) কে ভীড়ের মধ্যে দেখতে পেল না, এবং সেখানে কেউ তাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ছিল না I কিভাবে সে নবীর সাথে দেখা করল এবং কি কথা হল ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে:  

  শু যিরীহো শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন৷
2 সেখানে সক্কেয় নামে একজন লোক ছিল৷ সে ছিল একজন উচ্চ-পদস্থ কর আদায়কারী ও খুব ধনী ব্যক্তি৷
3 কে যীশু তা দেখার জন্য সক্কেয় খুবই চেষ্টা করছিল, কিন্তু বেঁটে হওযাতে ভীড়ের জন্য যীশুকে দেখতে পাচ্ছিল না৷
4 তাই সবার আগে ছুটে গিয়ে য়ে পথ ধরে যীশু আসছিলেন, সেই পথের পাশে একটা সুকমোর গাছে উঠল যাতে সেখান থেকে যীশুকে দেখতে পায়৷
5 যীশু সেখানে এসে ওপর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সক্কেয় তাড়াতাড়ি নেমে এস, কারণ আজ আমায় তোমার ঘরে থাকতে হবে৷’
6 সক্কেয় তাড়াতাড়ি নেমে এসে মহানন্দে যীশুকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাল৷
7 সেখানে যাঁরা ছিল, এই দেখে তারা সকলে অনুয়োগের সুরে বলল, ‘উনি একজন পাপীর ঘরে অতিথি হয়ে গেলেন৷’
8 কিন্তু সক্কেয় উঠে দাঁড়িয়ে প্রভুকে বলল, ‘প্রভু দেখুন, আমি আমার সম্পদের অর্ধেক গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেব, আর যদি কাউকে ঠকিয়ে থাকি তবে তার চতুর্গুণ ফিরিয়ে দেব৷’
9 যীশু তাকে বললেন, ‘আজ এই বাড়িতে পরিত্রাণ এসেছে, য়েহেতু এই মানুষটি অব্রাহামের পুত্র৷
10 কারণ যা হারিয়ে গিয়েছিল তা খুঁজে বের করতে ও উদ্ধার করতেই মানবপুত্র এ জগতে এসেছেন৷’

লুক 19:1-10

নবী যা করলেন লোকেরা তা পচ্ছন্দ করল না – নিজের দ্বারা সখরিয়র বাড়িতে নিমন্ত্রণ চাইতে I সখরিয় মন্দ ছিল এবং প্রত্যেকে এটি জানত I তবে সখরিয় বুঝতে পেরেছিল যে সে একজন পাপী ছিল I আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ আমাদের পাপকে লুকোই, তাদেরকে ঢেকে রাখি বা ভান করি যে আমাদের কোনো পাপ নেই I তবে সখরিয় নয় I সে বুঝতে পেরেছিল যে সে যা করছিল তা অন্যায় ছিল I তবুও যখন সে নবীর সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিল, ঈসা আল মসীহর প্রতিক্রিয়া এত উষ্ণ ছিল যে এটি প্রত্যেককে বিস্মিত করেছিল I 

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) চাইলেন সখরিয় অনুতাপ করুক, পাপের থেকে ফিরুক, এবং তাঁকে ‘মসীহ’ মনে করে তার দিকে ফিরুক I যখন সখরিয় এটি করল সে দেখত পেল যে নবী (পিবিইউএইচ) তাকে ক্ষমা করেছেন – ঘোষণা করেন যে সে ‘হারানো’ থেকে ‘উদ্ধার’ পেয়েছে I

আপনার এবং আমার সম্বন্ধে কি? আমরা হয়ত সখরিয়র মতন এই ধরণের লজ্জাজনক জিনিস করিনি তবে যেহেতু আমরা এতটা খারাপ নই, আমাদের মনে হয় যে আমরা যে ‘অল্প’ পাপ এবং ‘ভুল’ করি তা আদমের মতন লুকোতে পারি, ঢাকতে পারি বা অজুহাত দিতে পারি I আশা করি আমরা আমাদের মন্দ কাজের জন্য মূল্য দিতে আমরা যথেষ্ট ভাল জিনিস করতে পারি I যে ভীড় নবীকে দেখতে এসেছিল তারা সেটাই ভেবেছিল I অতএব ঈসা তাদের কারোর বাড়িতে নিজের নিমন্ত্রণ নেন নি আর নাতো তাদের মধ্যে কাউকে ‘উদ্ধারিত’ বলে ঘোষণা করেছেন – কেবল সখরিয় ছাড়া I সেগুলো লুকোবার জন্য চেষ্টা না করে আমাদের পাপের জন্য আল্লাহর সামনে স্বীকার করা আমাদের পক্ষে অনেক ভাল I তখন ঈসা আল মসীহর করুণার জন্য আমাদের নিজেদের পৌঁছাবার সাথে সাথে আমরা দেখব যে আমরা যা কল্পনা করতে পারি তার চেয়েও অধিক ক্ষমা এবং মার্জনা আমাদেরকে দেওয়া হবে I                 

কিন্তু কিভাবে সখরিয়র খারাপ কার্যগুলোকে মুছে ফেলা যেতে পারে যাতে করে সে সেই মুহূর্ত থেকে ক্ষমার আশ্বাসন পেতে পারে – বিচারের দিনের জন্য  অপেক্ষা না করে? তাঁর মিশনকে সম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে তাঁর যিরূশালেমে অবরিত থাকাকালীন অবস্থায় আমরা ঈসা আল মসীহকে(পিবিইউএইচ)অনুসরণ করি I 

লাজারাসকে উত্থাপনের ক্ষেত্রে ঈসা আল মসীহর মিশন

সূরা আদ-দুখান (সুরা ৪৪ – ধোঁয়া) আমাদের বলে যে কুরাইশ গোত্র হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিম্নোক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রত্যাখ্যান করেছিল

কাফেররা বলেই থাকে,প্রথম মৃত্যুর মাধ্যমেই আমাদের সবকিছুর অবসান হবে এবং আমরা পুনরুত্থিত হব না।তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে এস।

সুর: আদি-দুখন 44: 34-38

তারা তার বার্তার সত্যতাকে প্রমাণ করতে মৃতদের মধ্যে থেকে কাউকে উত্থাপন করতে তাকে চ্যালেঞ্জ করল I সূরা আল-আহকাফ (সুরাহ 46 – বায়ু-বাঁকা বালুচর) একজন বিশ্বাসীর থেকে তার অবিশাসী পিতা-মাতাকে একটি অনুরূপ চ্যালেঞ্জের বিবরণ দেয় I   

আমি এমন লোকদের সুকর্মগুলো কবুল করি এবং মন্দকর্মগুলো মার্জনা করি। তারা জান্নাতীদের তালিকাভুক্ত সেই সত্য ওয়াদার কারণে যা তাদেরকে দেওয়া হত।

সুরাহ আল-আহকাফ 46:17

আর যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়।

অবিশ্বাসী পুনরুত্থানকে একটি কল্পনা বলে খারিজ করল যেহেতু এটি এখনও অবধি কখনও ঘটেনি I সুরা আদ-দোখান এবং সুরা আল-আহকাফ উভয়ই নবী পিবিইউএইচ এবং সমস্ত একেশ্বরবাদীদের প্রাথমিক বিশাস যাচাই করার জন্য মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানের পরীক্ষা ব্যবহার করে অবিশ্বাসীদের উল্লেখ করেছেন I নবী ঈসা আল মসীহ তার বিরোধীদের দ্বারা সেই একই ধরণের পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন I তিনি এই পরীক্ষাকে তার কর্তৃত্বের একটি চিহ্ন এবং এবং তার মিশনের উদ্দেশ্য উভয়কে প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছিলেন I        

ঈসা আল মসীহর মিশন কি ছিল?

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিক্ষা দিলেন, সুস্থ করলেন, এবং অনেক অলৌকিক কার্য সমূহ অনুষ্ঠিত করলেন I তবে এখনও শিষ্যদের, তার অনুগামীদের, এবং এমনকি তার শত্রুদের মনে প্রশ্ন থেকে যায়: কেন তিনি এসেছিলেন? এছাড়াও পূর্ববর্তী নবীদের মধ্যে, নবী মশি (পিবিইউএইচ) সহ অনেকে শক্তিশালী অলোকিক কার্য সম্পন্ন করেছিলেন I অথচ মশি আগেই ব্যবস্থা দিয়েছিলেন, এবং ঈসা স্বয়ং বললেন তিনি “ব্যবস্থা লুপ্ত করতে আসেন নি”, তবে কেন তাঁকে পাঠানো হয়েছিল? 

নবীর (পিবিইউএইচ) বন্ধু অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ল I তার শিষ্যরা আশা করল যে নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) তার বন্ধুকে সুস্থ করবেন, যেমন তিনি অন্য অনেককে সুস্থ করেছেন I কিন্তু ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে তার বন্ধুকে সুস্থ করলেন না যাতে তিনি তার মিশনকে প্রকাশ করতে পারেন I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করে:  

ঈসা আল মসীহ মৃত্যুর মুখোমুখি হন

  সার নামে একটি লোক অসুস্থ ছিলেন; তিনি বৈথনিযা গ্রামে থাকতেন৷ সেই গ্রামেই মরিয়ম ও তাঁর বোন মার্থাও থাকতেন৷
2 এই মরিয়মই বহুমূল্য সুগন্ধি আতর যীশুর উপরে ঢেলে নিজের চুল দিয়ে তাঁর পা মুছিয়ে দিয়েছিলেন৷ লাসার ছিলেন এই মরিয়মেরই ভাই৷
3 তাই লাসারের বোনেরা একটি লোক পাঠিয়ে যীশুকে বলে পাঠালেন, ‘প্রভু, আপনার প্রিয় বন্ধু লাসার অসুস্থ৷’
4 যীশু একথা শুনে বললেন, ‘এই রোগে তার মৃত্যু হবে না; কিন্তু তা ঈশ্বরের মহিমার জন্যই হয়েছে, য়েন ঈশ্বরের পুত্র মহিমান্বিত হন৷’
5 যীশু মার্থা, তার বোনও লাসারকে ভালবাসতেন৷
6 তাই তিনি যখন শুনলেন য়ে লাসার অসুস্থ, তখন য়েখানে ছিলেন সেই জায়গায় আরো দুদিন রয়ে গেলেন৷
7 এরপর তিনি শিষ্যদের বললেন, ‘চল, আমরা আবার যিহূদিযাতে যাই৷’
8 তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, ‘গুরু, সম্প্রতি সেখানকার লোকেরা আপনাকে পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলতে চাইছিল৷ তবে কেন আপনি আবার সেখানে য়েতে চাইছেন?’
9 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘দিনে বারো ঘন্টা আলো থাকে৷ কেউ যদি দিনের আলোতে চলে তবে সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় না, কারণ সে জগতের আলো দেখতে পায়৷
10 কিন্তু কেউ যদি রাতের আঁধারে চলে তবে সে হোঁচট খায়, কারণ তার সামনে কোন আলো নেই৷’
11 তিনি একথা বলার পর তাদের আবার বললেন, ‘আমাদের বন্ধু লাসার ঘুমিয়ে পড়েছে; কিন্তু আমি তাকে জাগাতে যাচ্ছি৷
12 তখন তাঁর শিষ্যরা তাঁকে বললেন, ‘প্রভু, সে যদি ঘুমিয়ে থাকে তবে সে ভাল হয়ে যাবে৷’
13 যীশু লাসারের মৃত্যুর বিষয়ে বলছিলেন, কিন্তু তাঁরা মনে করলেন তিনি তাঁর স্বাভাবিক ঘুমের কথা বলছেন৷
14 তাই যীশু তখন তাদের স্পষ্ট করে বললেন, ‘লাসার মারা গেছে৷
15 আর তোমাদের কথা ভেবে আমি আনন্দিত য়ে আমি সেখানে ছিলাম না, কারণ এখন তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে৷ চল, এখন আমরা তার কাছে যাই৷’
16 তখন থোমা (যাঁকে দিদুমঃ বলে) অন্য শিষ্যদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘চল, আমরাও যাবো, আমরাও যীশুর সঙ্গে মরব৷’
17 যীশু বৈথনিযাতে এসে জানতে পারলেন য়ে গত চারদিন ধরে লাসার কবরে আছেন৷
18 বৈথনিযা থেকে জেরুশালেমের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই মাইল৷
19 তাই ইহুদীদের অনেকেই মার্থা ও মরিয়মকে তাঁদের ভাইয়ের মৃত্যুর পর সান্ত্বনা দিতে এসেছিল৷
20 মার্থা যখন শুনলেন য়ে যীশু এসেছেন, তখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন, কিন্তু মরিয়ম ঘরেই থাকলেন৷
21 মার্থা যীশুকে বললেন, ‘প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন তাহলে আমার ভাই মরত না৷
22 কিন্তু এখনও আমি জানি য়ে, আপনি ঈশ্বরের কাছে যা কিছু চাইবেন, ঈশ্বর আপনাকে তাই দেবেন৷’
23 যীশু তাঁকে বললেন, ‘তোমার ভাই আবার উঠবে৷’
24 মার্থা তাঁকে বললেন, ‘আমি জানি শেষ দিনে পুনরুত্থানের সময় সে আবার উঠবে৷’
25 যীশু মার্থাকে বললেন, ‘আমিই পুনরুত্থান, আমিই জীবন৷ য়ে কেউ আমাকে বিশ্বাস করে, সে মরবার পর জীবন ফিরে পাবে৷
26 য়ে কেউ জীবিত আছে ও আমায় বিশ্বাস করে, সে কখনও মরবে না৷ তুমি কি একথা বিশ্বাস কর?’
27 মার্থা তাঁকে বললেন, ‘হ্যাঁ, প্রভু! আমি বিশ্বাস করি য়ে জগতে যাঁর আসার কথা আছে আপনিই সেই খ্রীষ্ট, ঈশ্বরের পুত্র৷’
28 এই কথা বলার পর মার্থা সেখান থেকে চলে গেলেন ও তার বোন মরিয়মকে একান্তে ডেকে বললেন, ‘গুরু এসেছেন, আর তিনি তোমায় ডাকছেন৷’
29 মরিয়ম একথা শুনে তাড়াতাড়ি করে যীশুর কাছে গেলেন৷
30 যীশু তখনও গ্রামের মধ্যে ঢোকেন নি৷ মার্থা য়েখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন তিনি সেখানেই ছিলেন৷
31 য়ে ইহুদীরা মরিয়মের সঙ্গে বাড়িতে ছিল ও তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, তারা যখন দেখল য়ে মরিয়ম তাড়াতাড়ি করে উঠে বাইরে যাচ্ছেন, তখন তারাও তার পিছনে পিছনে চলল, তারা মনে করল য়ে তিনি হয়তো লাসারের কবরের কাছে যাচ্ছেন ও সেখানে গিয়ে কাঁদবেন৷
32 যীশু য়েখানে ছিলেন, মরিয়ম সেখানে এসে তাঁকে দেখে তাঁর পায়ের ওপর পড়ে বললেন, ‘প্রভু, আপনি যদি এখানে থাকতেন, আমার ভাই মরত না৷’
33 যীশু যখন দেখলেন য়ে মরিয়ম কাঁদছেন আর তার সঙ্গে য়ে সব ইহুদীরা এসেছিল তারাও কাঁদছে, তখন তিনি দুঃখিত হয়ে উঠলেন এবং অন্তরে গভীরভাবে বিচলিত হলেন৷
34 তখন তিনি বললেন, ‘তোমরা তাকে কোথায় রেখেছ?’ তারা বললেন, ‘প্রভু, আসুন, এসে দেখুন৷’
35 যীশু কেঁদে ফেললেন৷
36 তখন সেই ইহুদীরা সকলে বলতে লাগল, ‘দেখ! উনি লাসারকে কত ভালোবাসতেন৷’
37 কিন্তু তাদের মধ্যে আবার কেউ কেউ বলল, ‘যীশু তো অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দিয়েছেন; কেন তিনি লাসারকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন না?’
38 এরপর যীশু আবার অন্তরে বিচলিত হয়ে উঠলেন৷ লাসারকে য়েখানে রাখা হয়েছিল, যীশু সেই কবরের কাছে গেলেন৷ কবরটি ছিল একটা গুহা, যার প্রবেশ পথ একটা পাথর দিয়ে ঢাকা ছিল৷
39 যীশু বললেন, ‘ঐ পাথরটা সরিয়ে ফেল৷’সেই মৃত ব্যক্তির বোন মার্থা বললেন, ‘প্রভু চারদিন আগে লাসারের মৃত্যু হয়েছে৷ এখন পাথর সরালে এর মধ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হবে৷’
40 যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমি কি তোমায় বলিনি, যদি বিশ্বাস কর তবে ঈশ্বরের মহিমা দেখতে পাবে?’
41 এরপর তারা সেই পাথরখানা সরিয়ে দিল, আর যীশু উর্দ্ধ দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘পিতা, আমি তোমায় ধন্যবাদ দিই, কারণ তুমি আমার কথা শুনেছ৷
42 আমি জানি তুমি সব সময়ই আমার কথা শুনে থাক৷ কিন্তু আমার চারপাশে যাঁরা দাঁড়িয়ে আছে তাদের জন্য আমি একথা বলছি, য়েন তারা বিশ্বাস করে য়ে তুমি আমায় পাঠিয়েছ৷’
43 এই কথা বলার পর যীশু জোর গলায় ডাকলেন, ‘লাসার বেরিয়ে এস!’
44 মৃত লাসার সেই কবর থেকে বাইরে এল৷ তার হাতপা টুকরো কাপড় দিয়ে তখনও বাঁধা ছিল আর তার মুখের ওপর একখানা কাপড় জড়ানো ছিল৷যীশু তখন তাদের বললেন, ‘বাঁধন খুলে দাও এবং ওকে য়েতে দাও৷’

যোহন 11:1-44

বোনেরা আশা করেছিল যে ঈসা আল মসীহ তাদের ভাইকে সুস্থ করতে দ্রুত আসবেন I ঈসা আল মসীহ লাজারাসকে মরতে দিতে তার যাত্রা বিলম্ব করেলেন, আর কেউ বুঝতে পারল না কেন I তবে এই দৃষ্টান্তে আমরা তার হৃদয়ের মধ্যে দেখতে পারি এবং আমরা পড়ি যে তিনি রেগে ছিলেন I কিন্তু কার উপরে রাগ? বোনেদের? জনতার? শিষ্যদের? লাজারাসের উপরে? না, তিনি মৃত্যুর নিজের উপরে রেগেছিলেন I এছাড়াও, দুবারের মধ্যে এটি একবার  লিপিবদ্ধ করা হয় যেখানে ঈসা আল মসীহ রোদন করেছিলেন I কেন তিনি রোদন করলেন? এই কারণে যে তিনি দেখলেন যে তার বন্ধুর মৃত্যুর কবলে রয়েছে I মৃত্যু নবীর মধ্যে ক্রোধ তথা রোদনকে আলোড়িত করল I    

অসুস্থতা থেকে সুস্থতা, ভালো যেহেতু সেটাই একমাত্র যা মৃত্যুকে স্থগিত করে I সুস্থ হোক বা নাহক মৃত্যু অবশেষে লোকেদের হরণ করে I ভাল বা মন্দ, পুরুষ বা মহিলা, বৃদ্ধ বা যুবক, ধার্মিক্ব বা না I এটি আদমের সময় থেকে সত্য হয়েছে, যে তার অবাধ্যতার কারণে মরশীল হয়েছে I আপনি এবং আমি সহ তার সমস্ত বংশধরদেরকে, একটি শত্রু – মৃত্যুর প্রতিভূর দ্বারা বন্ধক  করে রাখা হয়েছে I আমরা অনুভব করি যে মৃতুর বিরুদ্ধে কোনো উত্তর নেই, কোনো আশা নেই I যেখানে কেবলমাত্র অসুস্থতা থাকে সেখানে আশা টিকে থাকে, সেই জন্যই লাজারাসের বোনদের সুস্থতার মধ্যে আশা ছিল I তবে মৃত্যুর  সঙ্গে তারা কোনো আশা অনুভব করল না I এটি আমাদের পক্ষেও সত্য I হাসপাতালে কিছু আশা থেকে কিন্তু অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কিছুই থাকে না I মৃত্যু আমাদের চূড়ান্ত শত্রু I আমাদের জন্য এই শত্রুকেই ঈসা আল মসীহ পরাজিত  করতে এসেছিলেন আর এইজন্যই তিনি বোনেদের কাছে ঘোষণা করলেন যে:   

 “আমিই পুনরুত্থান ও জীবন”

যোহন 11:25

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ) মৃত্যুকে ধ্বংস করতে এবং সকলকে জীবন দিতে এসেছিলেন যারা এটিকে চায় I এই মিশনের জন্য তিনি মৃত্যু থেকে লাজারাসকে উত্থাপন করে তার কর্তৃত্বকে দেখালেন I

নবীদের প্রতি প্রতিক্রিয়া

মৃত্যু যদিও সমস্ত লোকেদের চূড়ান্ত শত্রু, আমাদের মধ্যে অনেকে দ্বন্দ সমূহের (রাজনৈতিক, ধার্মিক, জাতিগত, ইত্যাদি) ফলে ক্ষুদ্রতর ‘শত্রুদের’ দ্বারা ধরা পরি যা সর্বদা আমাদের চারিদিকে অন্যদের সঙ্গে চলতে থাকে I ঈসা আল মসীহর সময়েও এটি সত্য ছিল I এই আশ্চর্য ঘটনার প্রতি স্বাক্ষীদের প্রতিক্রিয়াগুলো থেকে আমরা দেখতে পারি সেই সময়ে বসবাসকারী বিভিন্ন লোকেদের প্রধান চিন্তা কি ছিল I এখানে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াগুলোকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I  

 

45 তখন মরিয়মের কাছে যাঁরা এসেছিল, সেই সব ইহুদীদের মধ্যে অনেকে যীশু যা করলেন তা দেখে যীশুর ওপর বিশ্বাস করল৷
46 কিন্তু তাদের মধ্যে কয়েকজন ফরীশীদের কাছে গিয়ে যীশু যা করেছিলেন তা তাদের জানালো৷
47 এরপর প্রধান যাজক ও ফরীশীরা পরিষদের এক মহাসভা ডেকে সেখানে নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, ‘আমরা এখন কি করব? এই লোকটা তো অনেক অলৌকিক চিহ্নকার্য় করছে৷
48 আমরা যদি ওকে এই ভাবেই চলতে দিই তাহলে তো সকলেই এর ওপর বিশ্বাস করবে৷ তখন রোমীয়েরা এসে আমাদের এই মন্দির ও আমাদের জাতিকে ধ্বংস করবে৷’
49 কিন্তু তাদের মধ্যে একজন, য়াঁর নাম কাযাফা, যিনি সেই বছরের জন্য মহাযাজকের পদ পেয়েছিলেন, তাদের বললেন, ‘তোমরা কিছুই জানো না৷
50 আর তোমরা এও বোঝ না য়ে গোটা জাতি ধ্বংস হওযার পরিবর্তে সেই মানুষের মৃত্যু হওযা তোমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে৷’
51 একথা কাযাফা য়ে নিজের থেকে বললেন তা নয়, কিন্তু সেই বছরের জন্য মহাযাজক হওযাতে তিনি এই ভাববাণী করলেন, য়ে সমগ্র জাতির জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করতে যাচ্ছেন৷
52 যীশু য়ে কেবল ইহুদী জাতির জন্য মৃত্যুবরণ করবেন তা নয়, সারা জগতে য়ে সমস্ত ঈশ্বরের সন্তানরা চারদিকে ছড়িয়ে আছে, তাদের সকলকে একত্রিত করার জন্য যীশু মৃত্যুবরণ করবেন৷
53 তাই সেই দিন থেকে তারা যীশুকে হত্যা করার জন্য চক্রান্ত করতে লাগল৷
54 যীশু তখন প্রকাশ্যে ইহুদীদের মধ্যে চলাফেরা বন্ধ করে দিলেন৷ তিনি সেখান থেকে মরুপ্রান্তরের কাছে ইফ্রযিম নামে এক শহরে চলে গেলেন এবং সেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে থাকলেন৷
55 ইহুদীদের নিস্তারপর্ব এগিয়ে আসছিল, আর অনেক লোক নিজেদের শুচি করবার জন্য নিস্তারপর্বের আগেই দেশ থেকে জেরুশালেমে গেল৷
56 তারা সেখানে যীশুর খোঁজ করতে লাগল৷ তারা মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে পরস্পর বলাবলি করতে লাগল,. ‘তোমরা কি মনে কর? তিনি কি এই পর্বে আসবেন?’
57 প্রধান যাজকরা ও ফরীশীরা এই আদেশ দিল য়ে, যীশু কোথায় আছেন তা যদি কেউ জানে তবে তাদের য়েন জানানো হয় যাতে তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে৷

যোহন 11:45-57

তাই উত্তেজনা বেড়ে গেল I নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) ঘোষণা করলেন যে তিনি ‘জীবন’ ও ‘পুনরুত্থান’ এবং মৃত্যুকেই পরাজিত করবেন I নেতারা তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে সাড়া দিয়েছিল I লোকেদের মধ্যে অনেকে তাকে বিশ্বাস করত, তবে অন্যান্য অনেকে কি বিশ্বাস করতে হবে জানত না I এটি হয়ত আমাদের পক্ষে যোগ্য হত আমাদের নিজেদেরকে প্রশ্ন করা যদি আমরা লাজারাসের উত্থাপনকে প্রত্যক্ষ করতাম তবে আমরা কি করতে পচ্ছন্দ করতাম I আমরা কি ফারিসীদের মতন হতাম, যারা কয়েকটি দ্বন্দের উপরে মনোনিবেশ করত যাকে ইতিহাসে শীঘ্র ভুলে যাওয়া হবে এবং মৃত্যু থেকে জীবনের প্রস্তাবকে হারাতাম? বা আমরা কি তাকে ‘বিশ্বাস’ করতাম এবং তার পুনরুত্থানের প্রস্তাবের উপরে আমাদের আশা রাখতাম, এমনকি আমরা যদি এটিকে আদৌ না বুঝতাম? বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াগুলো যা ইঞ্জিল তখনকার দিনে লিপিবদ্ধ করে তার প্রস্তাবের প্রতি সেই একই প্রতিক্রিয়া যা আজকের দিনে আমরা করি I    

নিস্তারপর্বের উৎসব নিকটে আসার সাথে সাথে এই বিতর্কগুলো বাড়ছিল – সেই বিশেষ একই উৎসব যা 1500 বছর পূর্বে নবী মশি (পিবিইউএইচ) মৃত্যুকে উপেক্ষা করার এক চিহ্ন হিসাবে আরম্ভ করেছিলেন I  ইঞ্জিল চলতে থাকে দেখানোর দ্বারা কিভাবে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) মৃত্যুকে পরাজিত করার তার মিশনকে সম্পন্ন করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন – ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে অন্যের দ্বারা পরিহার করা কাউকে সাহায্য করার দ্বারা I       

নবী ঈশা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এবং যোনার চিহ্ন

কুরায়েশ (বা কুরাইশ) আরব উপজাতি ছিল যারা মক্কা এবং কাবাকে নিয়ন্ত্রণ করত, এবং নবী মুহম্মদ পিবিইউএইচ এই উপজাতি থেকে ছিলেন I (সুরা 106 – কুরায়েশ) কুরায়েশের উপভোগ করা অনুকুল নিয়ম সমূহের বর্ণনা করে I   

 কোরাইশের আসক্তির কারণে,আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।

সুরা কুরায়েশ 106:1-2

    1 কোরাইশের আসক্তির কারণে,

    2 আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।

তবে সুরা ইউনুস (সুরা 10 – যোনাহ) নবী মহম্মদের বার্তাকে কুরাইশের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময়ে কি ঘটেছিল তার বর্ণনা করে I

মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী পাঠিয়েছি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ শুনিয়ে দেন ঈমনাদারগণকে যে, তাঁদের জন্য সত্য মর্যাদা রয়েছে তাঁদের পালনকর্তার কাছে। কাফেররা বলতে লাগল, নিঃসন্দেহে এ লোক প্রকাশ্য যাদুকর।সুরা

ইউনুস 10:2

মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী পাঠিয়েছি তাদেরই মধ্য থেকে একজনের কাছে যেন তিনি মানুষকে সতর্ক করেন এবং সুসংবাদ শুনিয়ে দেন ঈমনাদারগণকে যে, তাঁদের জন্য সত্য মর্যাদা রয়েছে তাঁদের পালনকর্তার কাছে। কাফেররা বলতে লাগল, নিঃসন্দেহে এ লোক প্রকাশ্য যাদুকর।

তার বার্তা প্রত্যাখ্যান করার মধ্যে, সুরাহ আল-কমার (সুরাহ 54-চাঁদ) কুরাইশকে হুঁশিয়ারী দেয় তারা যার সম্মুখীন হয়েছিল সেই সম্বন্ধে…

তোমাদের মধ্যকার কাফেররা কি তাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ ? না তোমাদের মুক্তির সনদপত্র রয়েছে কিতাবসমূহে?না তারা বলে যে, আমারা এক অপরাজেয় দল?এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর।

সুরা আল=কমার 54:43-46

সুরা ইউনুস এছাড়াও ব্যাখ্যা করে যে যদিও বেশিরভাগ নবীদের তাদের শ্রোতাদের দ্বারা অগ্রাহ্য করা হয়েছিল (যেমন কুরাইশের সাথে), সেখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল – নবী যোনাহ (ইউনুস) পিবিইউএইচ I   

 সুতরাং কোন জনপদ কেন এমন হল না যা ঈমান এনেছে অতঃপর তার সে ঈমান গ্রহণ হয়েছে কল্যাণকর? অবশ্য ইউনুসের সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। তারা যখন ঈমান আনে তখন আমি তুলে নেই তাদের উপর থেকে অপমানজনক আযাব-পার্থিব জীবনে এবং তাদের কে কল্যাণ পৌছাই এক নিধারিত সময় পর্যন্ত।

সুরা ইউনুস 10:98

সুতরাং কোন জনপদ কেন এমন হল না যা ঈমান এনেছে অতঃপর তার সে ঈমান গ্রহণ হয়েছে কল্যাণকর? অবশ্য ইউনুসের সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। তারা যখন ঈমান আনে তখন আমি তুলে নেই তাদের উপর থেকে অপমানজনক আযাব-পার্থিব জীবনে এবং তাদের কে কল্যাণ পৌছাই এক নিধারিত সময় পর্যন্ত।

নবী যোনাহকে বিদেশী লোকেদের কাছে পাঠান হয়েছিল I তবুও তারা তার বার্তাকে তখনও গ্রহণ করেছিল I তবে তিনি তার ভূমিকাকে স্বীকার করেন নি এবং এর থেকে পলায়ন করতে চেষ্টা করতে গিয়ে এক বিরাট মাছের দ্বারা একে জীবন্ত গলাধকরণ করা হয়েছিল I সুরাহ আল-কলম (সুরাহ 68-কলম) বর্ণনা করে কিভাবে তিনি তার অবাধ্যতা সম্পর্কে মাছের মধ্যে অনুতাপ করেছিলেন  এবং নবী হিসাবে পুনর্বহাল করা হয়েছিল I  

 আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত।অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।

সুরাহ আল-কলম 68:48-50

48 আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল। 49 যদি তার পালনকর্তার অনুগ্রহ তাকে সামাল না দিত, তবে সে নিন্দিত অবস্থায় জনশুন্য প্রান্তরে নিক্ষিপ্ত হত। 50 অতঃপর তার পালনকর্তা তাকে মনোনীত করলেন এবং তাকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন।

নবী মহম্মদের মতন, নবী ঈসা আল মসীহ তার নিজস্ব লোকেদের (যিহূদি) কাছে গিয়েছিলেন এবং তারা তাকে জাদুবিদ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল ইবন তার বার্তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল I তাই নবী ঈসা আল মসীহও নবী যোনা/ইউনুসকে একটি চিহ্ন হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন i কিসের জন্য একটি চিহ্ন?

ঈসা আল মসীহর কর্তৃত্বকে তার নিজের লোকেদের দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল I

আমরা দেখলাম কিভাবে ইঞ্জিল নবী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) শিক্ষা, নিরাময় এবং অলৌকিক কার্য সমূহকে লিপিবদ্ধ করেছে I তিনি প্রায়শই তাঁর শ্রোতাদের (এবং আমাদেরকে) আমন্ত্রণ জানান গ্রহণ করতে যা তিনি প্রদান করেছেন I তিনি প্রদান করেছেন ‘জীবন্ত জল’, পাপীদের প্রতি করুণা, ‘হারানো’ কে খোঁজা এবং তাদের সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যারা ‘ঈশ্বরের রাজ্যে’ প্রবেশ করতে ইচ্ছুক I

এই শিক্ষাগুলো তাঁর সময়ের ধার্মিক নেতাদের (ইমামদের অনূরূপ) হতবুদ্ধি করেছিল I বিশেষ করে তারা আশ্চর্য হয়েছিল কোন কর্তৃত্ব তিনি বহন  করেছেন I উদাহরণস্বরূপ, তাঁর কাছে কি সত্যই দোষী লোকেদেরকে ঈশ্বরের করুণা দেওয়ার কর্তৃত্ব ছিল, এবং ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সকলের জন্য মূল্য প্রদান করার কর্তৃত্ব ছিল? তাই ধার্মিক নেতারা তাঁর কর্তৃত্ব প্রমাণ  করার জন্য একটি চিহ্ন চাইল I ইঞ্জিল তাদের কথপোকথন লিপিবদ্ধ করে:

ঈসা যোনার (ইউনুস) চিহ্নকে উল্লেখ করেন

  38 এরপর কয়েকজন ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষক যীশুর কাছে এসে বললেন, ‘হে গুরু, আমরা আপনার কাছ থেকে কোন চিহ্ন বা অলৌকিক কাজ দেখতে চাই৷’
39 যীশু তাদের বললেন, ‘এ যুগের দুষ্ট ও পাপী লোকেরা চিহ্নের খোঁজ করে; কিন্তু ভাববাদী য়োনার চিহ্ন ছাড়া আর কোন চিহ্নইতাদের দেখান হবে না৷
40 য়োনা য়েমন সেইবিরাট মাছের পেটে তিন দিন তিন রাত ছিলেন, তেমন মানবপুত্র তিন দিন তিন রাত পৃথিবীর অন্তঃস্থলে কাটাবেন৷
41 বিচারের দিনে নীনবীয় লোকেরা এই কালের লোকদের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের দোষী করবে, কারণ নীনবীয় লোকেরা য়োনার প্রচারের ফলে তাদের মন ফেরাল৷ আর দেখ, য়োনার চেয়ে এখানে আরও একজন মহান আছেন৷

মথি 12:38-41

ইতিহাসের মধ্যে নবী যোনাহ

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) যোনাহকে (এছাড়াও বলা হয় ইউনুস বা ইউনিস) ইঙ্গিত করে উত্তর দিলেন I আপনি নিচে কালপঞ্জির মধ্যে দেখতে পারন যে নবী ইউনুস নবী ঈসা আল মসীহর জন্মের 800 বছর পূর্বে বাস করতেন I 

http://al-injil.net/wp-content/uploads/2017/03/jonah-in-timeline-e1489180437825.jpg

ঐতিহাসিক কালপঞ্জির মধ্যে নবী যোনাহ (ইউনুস বা ইউনিস)

কোরআনের মধ্যে ইউনুস

ইউনুস পিবিইউএইচ একটি বই লিখেছিলেন যেটি ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ লেখাগুলোর মধ্যে রয়েছে I কোরআন তার বইটির সংক্ষিপ্তসার করেন এই ভাবে:

 আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।

আস-সাফফাত:37:139-144

নবী ইউনুসকে এক বিরাট মাছের দ্বারা গলাধকরণ করা হয়েছিল কারণ তাকে  আল্লাহর দেওয়া মিশন থেকে তিনি পলায়ন করেছিলেন – নীনেবার (আজকের দিনের ইরাকের মসুলের নিকটবর্তী) নগরে অনুতাপের প্রচার করতে I ইসলামিক পন্ডিত ইউসুফ আলী এই আয়াতগুলোর সম্বন্ধে বলেন:   

এটি কেবল বাক্য প্রণালী I এটি ছিল যোনাহর সমাধি এবং সমাধিস্থল I যদি তিন অনুতাপ না করতেন তিনি প্রাণীটির দেহ থেকে যা তাকে গলাধঃকরণ করেছিল বের হয়ে আসতে পারতেন না, পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত, যখন সকল মৃতরা উত্থাপিত হবে

কোরআনের ইউসুফ আলীর অনুবাদের পাদটীকা 4125

অতএব, মাছের ভেতরে থাকা একটি মৃত্যু দণ্ড ছিল যা সাধারণতঃ কেবল পুনরুত্থানের দিনে মুক্তি পাবে I

তার নিজের বই থেকে নবী যোনাহ

যোনাহর বই বিরাট মাছের মধ্যে থাকার বিষয়ে আরো বিস্তৃত বিবরণ দেয় I তিনি আমাদের বলেন: 

  ভু অমিওযের পুত্র য়োনার সঙ্গে কথা বলেছিলেন| প্রভু বলেছিলেন|,
2 “নীনবী একটা বড় শহর| আমি শুনেছি, সেখানকার লোকরা নানা রকম খারাপ কাজকর্ম করছে| কাজেই সেই শহরে যাও এবং লোকদের বল তারা য়েন সেই খারাপ কাজ করা বন্ধ করে|”
3 য়োনা ঈশ্বরের আদেশ মানতে চাননি সেজন্য য়োনা প্রভুর কাছ থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন| য়োনা যাফোতে গেলেন| য়োনা সেখানে একটা নৌকা দেখতে পেয়েছিলেন য়টা অনেক দূরের শহর তর্শীশে যাচ্ছিল| য়োনা নৌকাতে উঠে যাবার ভাড়া দিলেন| ঈশ্বরের কাছ থেকে পালিয়ে যাবার জন্য য়োনা ঐ নৌকায় তর্শীশ পর্য়ন্ত ভ্রমন করতে চেয়েছিলেন|
4 কিন্তু প্রভু সমুদ্রে একটা বড় রকমের ঝড় আনলেন| বাতাস সমুদ্রকে খুবই রুক্ষ করে তুললো| ঝড়টা এতই শক্তিশালী ছিল য়ে নৌকাটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হবার উপক্রম হল|
5 ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য লোকরা নৌকাটিকে হাল্কা করতে চেষ্টা করল| সে জন্য তারা নৌকার মালগুলো ছুঁড়ে সমুদ্রে ফেলে দিতে আরম্ভ করল| মাঝিরা খুবি ভয় পেয়ে গেল| প্রত্যেকে তাদের দেবতাদের উদ্দেশ্য প্রার্থণা করতে আরম্ভ করল| য়োনা নৌকার একেবেরে পশ্চাদ্ভাগে চলে গেলেন এবং তিনি শুয়ে পড়লেন ও ঘুমোতে গেলেন|
6 নৌকার প্রধান মাঝি য়োনাকে দেখতে পেল এবং বলল, “উঠে পড়ো! তুমি কেন ঘুমাচ্ছো? তুমি তোমার দেবতার কাছে প্রার্থনা করো! দেবতা বযতো তোমার প্রার্থনা শুনবেন এবং আমাদের রক্ষা করবেন!”
7 তখন লোকরা একে অপরকে বলল, “আমার অবশ্যই ঘুঁটি চেলে জানতে চেষ্টা করব এই দুর্য়োগগুলো কেন আমাদের ভাগ্যে ঘটছে|”সে জন্য লোকে ঘুঁটি চালল এবং দেখা গেল, য়োনার জন্যেই এই দুর্য়োগগুলো ঘটছে|
8 তখন লোকরা য়োনাকে বলল, “দেখ তোমার দোষেই এই ভয়ঙ্কর ঝড় আমাদের ভাগ্যে ঘটছে! সেজন্য আমাদের বল তুমি কি করেছো? তোমার পেশা কি? তুমি কোথা থেকে আসছো? তোমার দেশ কোথায? তোমার লোকরা কারা?”
9 য়োনা লোকদের বললেন, “আমি একজন ইব্রীয (ইহূদী)| আমি প্রভু, স্বর্গের ঈশ্বরের উপাসনা করি, তিনি সেই ঈশ্র যিনি সমুদ্র ও ভুমি সৃষ্টি করেছেন|”
10 য়োনা লোক জনদের বললেন, তিনি প্রভুর কাছে থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন| লোকরা এই কথা জেনে খুবই ভয় পেয়ে গেল| য়োনাতে তখন তারা জিজ্ঞেস করল, “তুমি তোমার ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কেন এমন ভয়ঙ্কর কাজ করেছ?”
11 বাতাস ও সমুদ্রের ঢেউ ক্রমশঃ শক্তিশালী হতে আরম্ভ করছিল| তাই লোকরা য়োনাকে জিজ্ঞেস করল, “আমারা আমাদের রক্ষা করার জন্য কি করবো? সমুদ্রকে শান্ত হয়ে যাবে|”
12 যোনা লোকদের বললেন, “আমি জানি আমি ভুল করেছি সেই জন্যই সমুদ্রে ঝড় এসেছে আমাকে সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দাও| তাহলে সমুদ্র শান্ত হয়ে যাবে|”
13 কিন্তু লোকরা য়োনাকে সমুদ্র ছুঁড়ে দিতে চাইল না| নৌকাটিকে তীরে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে লাগল| কিন্তু তারা সফল হল না| প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে লাগল!
14 সেই জন্য লোকরা প্রভুর কাছে চিত্কার করে বলল, “প্রভু আমার এই লোকটিকে তার খারাপ কাজের জন্য সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছি| কাজেই দয়া করে বলবেন না য়ে আমরা এক নির্দোষ লোককে মেরে ফেলার জন্য দয়া করে আমাদের মেরে ফেলবেন না| আমরা জানি আপনি হচ্ছেন প্রভু, এবং আপনি যা চাইছেন তা সবকিছুই করতে পারেন| কিন্তু দয়া করে আপনি আমাদের প্রতি সদয হোন|”
15 সেই জন্য লোকরা য়োনাকে সমুদ্রে ফেলে দিল| ঝড় থেমে গেল- সমুদ্র আবার শান্ত হল!
16 লোকরা এই ঘটনা দেখে ভয় পেয়ে গেল এবং তারা প্রভুকে খুব ভয় পেত| তারা প্রভুর নামে বিশেষ শপথ নিল এবং নৈবেদ্য উত্সর্গ করল|
17 আর প্রভু য়োনাকে গিলে ফেলার জন্য একটা বড় মাছ ঠিক করে রেখেছিলেন| য়োনা মাছের পেটের মধ্যে তিন দিন ও তিন রাত্রি রইলেন|

যোনাহ 1:17-2:10

 ‘যোনার চিহ্ন’ কি?

সাধারণত আমরা আশা করি যে যখন কারোর কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, যেমন নবী ঈসা আল মসীহকে করা হয়েছিল, সে একটি চিহ্নর সাথে ক্ষমতা, বিজয় বা সফলতা দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করবে I তবে ঈসা আল মসীহ নবী যোনাহর তিন দিনের ‘মৃতের রাজত্ব’ – খাদ বা কবরকে উল্লেখ করার দ্বারা  তার কর্তৃত্বের আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিলেন I এই তিন দিনের সময়কালের মধ্যে, যেহেতু যোনাহ আল্লাহর আজ্ঞার অবমাননা করলেন, তাকে ‘আপনার দৃষ্টির থেকে অন্তর্হিত করা হয়েছিল’ অর্থাৎ আল্লাহর দৃষ্টি থেকে I কালো গভীরে তিন দিনের জন্য মৃত্যুর দখলে যোনাহর পর্ব, আল্লাহর থেকে অন্তর্হিত হয়ে গিয়েছিল, যা আমাদের আশানুরূপ একটি চিহ্ন নয় I ঈসা আল মসীহ কেন এমন একটি চিহ্ন পচ্ছন্দ করবেন যা তার কর্তৃত্বকে বাতিল করে বলে মনে হয়?

দুর্বলতা এবং মৃত্যুকে একটি চিহ্ন হিসাবে দেওয়া প্রথম বার নয় I নবী যিশাইয় আসন্ন দাসের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই দাস ‘তুচ্ছ’ হবে এবং ‘লোকেদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত’ হবে এবং ‘ঈশ্বরের বিবেচনায় শাস্তি প্রাপ্ত হবে’ এবং ‘জীবিতের দেশ থেকে বিচ্ছন্ন হবে’ এবং ‘দুষ্টের সাথে একটি কবরে ন্যস্ত হবে’ I এখনও অদ্ভূত, “সদাপ্রভুর ইচ্ছা দাসকে চুর্ন করা”I  যেটা অনেকটা যোনাহর যার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল সেইরকম শোনায় – আর এইরূপে যা ঈসা আল মসীহ ইঙ্গিত করেছিলেন I      

যে সূত্রটি উপলব্ধি নিয়ে আসে তা হ’ল মাছের পেটের মধ্যে যোনাহর প্রার্থনার শেষ I তার প্রার্থনার শেষ কথা ছিল “সদাপ্রভুর থেকে পরিত্রাণ আসে” I আমরা দেখলাম কিভাবে ঈসা/যীশু নামটি আসন্ন শাখাটির ভবিষ্যদ্বাণীপূর্ণ নাম ছিল I তবে যীশু/ঈসা নামটির অর্থ কি? হিব্রুর মধ্যে এটির অর্থ ‘সদাপ্রভু উদ্ধার করেন’ I তার প্রার্থনায় নবী যোনাহ স্বীকার করলেন যে তার (এবং আমদের) উদ্ধার পাওয়া প্রয়োজন এবং ইনি সদাপ্রভু যিনি এটি করবেন I তার প্রার্থনা উভয়কেই ঘোষণা করল আমাদের প্রয়োজন (উদ্ধার পাওয়া) এবং আল্লাহ একজন যিনি উদ্ধার করেন I ঈসা আল মসীহর নামের (হিব্রুতে যোহোশুয়া) আক্ষরিক অর্থ একই সত্য যা মাছের মধ্যে যোনাহ অবশেষে স্বীকার করলেন যেহেতু যীশু/ঈসা মানে ‘সদাপ্রভু উদ্ধার করেন’ I      

নবী ঈসা আল মসীহ ধার্মিক নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথপোকথন শেষ করলেন তাদের স্মরণ করিয়ে যে নীনবীর (যে নগরের মধ্যে যোনাহকে প্রচার করতে পাঠানো হয়েছিল) লোকেরা বিশ্বাস করল এবং যোনাহর বার্তায় অনুতাপ করল – তবে যে নেতারা ঈসা আল মসীহর কথা শুনছিল অনুতাপ করতে ইচ্ছুক ছিল না I তারা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিল যে তাদের উদ্ধারের প্রয়োজন ছিল I আমাদের নিজ়েদের হৃদয়কে অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত দেখতে আমরা কি নীনবীর লোকেদের (যারা অনুতাপ করেছিল) মতন না যিহূদিদের (যারা করে নি) মতন I দুটির মধ্যে আপনি কোনটি?   

ঈসা আল মসীহর মিশন শেষ শুরু করার সাথে সাথে আমরা ঈসা আল মসীহকে অনুসরণ করতে থাকব দেখতে কিভাবে যোনাহর এই চিহ্ন পূর্ণ হয়েছে এবং কিভাবে ‘সদাপ্রভু উদ্ধার করেন’ I 

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) একটি ‘হাজ্জ’ করেন

সূরা আল-হাজ্জ (সূরা 22 – তীর্থযাত্রা) আমাদের বলে যে বিভিন্ন রীতি এবং অনুষ্ঠান সমূহ বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হয়েছে I তবে এটি নির্দিষ্ট মাংস বলিদান নয়, বরং যা আমাদের মধ্যে আছে সেটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ I   

আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও;যাদের অন্তর আল্লাহর নাম স্মরণ করা হলে ভীত হয় এবং যারা তাদের বিপদাপদে ধৈর্য্যধারণ করে এবং যারা নামায কায়েম করে ও আমি যা দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।এবং কা’বার জন্যে উৎসর্গীকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় তাদের যবেহ করার সময় তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর। অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও যে কিছু যাচ্ঞা করে না তাকে এবং যে যাচ্ঞা করে তাকে। এমনিভাবে আমি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। 

সুরাহ আল-হাজ্জ 22:34,37

34 আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাক এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও; 37 এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন।

জল হাজ্জের বিধি এবং অনুষ্ঠান সমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কারণ তীর্থযাত্রীরা জ্যাম জ্যাম কুয়োর জল পান করতে চায় I তবে সূরা আল-মূলক (সূরা 67 – সার্বভৌমত্ব) আমাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে চায় I    

বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?

সুরাহ আল-মূলক 67:30

বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা?

.

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ নবী মশির পিবিইউএইচ দ্বারা অভিষিক্ত এক যিহূদিদের তীর্থযাত্রায় এই প্রশ্নটিকে সম্বোধন করেছিলেন I আমরা এটিকে হাজ্জের চশমা দিয়ে এখানে একবার দেখব I    

হাজ্জ তীর্থযাত্রী সু-পরিচিত I যা কম পরিচিত যে 3500 বছর আগে পাওয়া মশির (পিবিইউ এইচ) শারিয়া আইনে যিহূদি বিশ্বাসীদেরকেও প্রতি বছর যিরূশালেমে (আল কুদস) পবিত্র তীর্থযাত্রায় যাওয়ার প্রয়োজন হত I এক তীর্থযাত্রাকে বলা হত ঈশ্বরীয় তাঁবুর ভোজ (বা সুকোট) I এই তীর্থযাত্রার সঙ্গে আজকের হাজ্জের অনেক সাদৃশ্য আছে I উদাহরণস্বরূপ, এই তীর্থযাত্রা সমূহের উভয়ই ক্যালেন্ডারের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে ছিল, উভয়ই পশু বলিদানকে জড়িত করত, উভয়ই বিশেষ জল প্রাপ্তিকে জড়িত করত (যেমন জ্যামজ্যাম), উভয়ই ঘুমন্ত বহির্দ্বারগুলোকে জড়িত করত, এবং উভয়ই সাতবার একটি পবিত্র কাঠামোকে প্রদক্ষিন করাকে জড়িত করত I ঈশ্বরীয় তাঁবুর ভোজ যিহূদিদের জন্য একটি হাজ্জের ন্যায় ছিল I আজ, যিহূদিরা এখনও ঈশ্বরীয় তাঁবুর ভোজ উদযাপন করে তবে এটিকে একটি অল্প ভিন্নভাবে করে যেহেতু তাদের মন্দিরকে 70 খ্রীষ্টাব্দে রোমীয়দের দ্বারা যিরূশালেমে ধ্বংস করা হয়েছিল I   

ইঞ্জিল বর্ণনা করে কিভাবে নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) সম্পন্ন করেছিলেন – তাঁর হাজ্জকে I বিবরণটিকে কিছু ব্যাখ্যার দ্বারা লিপিবদ্ধ করা  হয় I    

যীশু ঈশ্বরীয় তাঁবুর উৎসবে যান (যোহন 7)

  রপর যীশু গালীলের চারদিকে ভ্রমণ করছিলেন৷ তিনি যিহূদিযায় ভ্রমণ করতে চাইলেন না, কারণ ইহুদীরা তাঁকে খুন করবার সুয়োগ খুঁজছিল৷
2 এই সময় ইহুদীদের কুটিরবাস পর্বএগিয়ে আসছিল৷
3 তখন তাঁর ভাইরা তাঁকে বলল, ‘তুমি এই জায়গা ছেড়ে যিহূদিযাতে ঐ উত্‌সবে যাও; যাতে তুমি য়ে সব অলৌকিক কাজ করছ তা তোমার শিষ্যরাও দেখতে পায়৷
4 কারণ কেউ যদি প্রকাশ্যে নিজেকে তুলে ধরতে চায় তবে সে নিশ্চয়ই তার কাজ গোপন করবে না৷ তুমি যখন এত সব মহত্ কাজ করছ তখন নিজেকে জগতের কাছে প্রকাশ কর৷ য়েন সবাই তা দেখতে পায়৷’
5 তাঁর ভাইরাও তাঁর ওপর বিশ্বাস করত না৷

যোহন 7:1-5

ঈসা আল মসীহর ভাইরা কটুক্তি করে নবীর সঙ্গে আচরণ করছিল যেহেতু তারা তাকে বিশ্বাস করে নি I তবে পরে কিছু ঘটেছিল যা তাদের মন পরিবর্তন করেছিল কারণ তার ভাইদের মধ্যে দুজন, যাকোব এবং যিহূদা, পরবর্তী সময়ে পত্র লিখেছিল (যাকোব এবং যিহূদা নামে) যা নতুন নিয়মের (ইঞ্জিল) অঙ্গ I কি তাদেরকে পরিবর্তন করেছিল? ঈসা আল মসীহর পুনরুথান I

  6 যীশু তাঁর ভাইদের বললেন, ‘আমার নিরূপিত সময় এখনও আসে নি; কিন্তু তোমাদের যাওযার জন্য য়ে কোন সময় সঠিক; এখনই তোমরা য়েতে পার৷
7 জগত সংসার তোমাদের ঘৃণা করতে পারে না, কিন্তু আমাকে ঘৃণা করে৷ কারণ পৃথিবীর লোকেরা, যাঁরা মন্দ কাজ করে, সেই সব লোকেদের বিরুদ্ধে আমি সাক্ষ্য দিই৷
8 তোমরা পর্বে যাও, আমি এখন এই উত্‌সবে যাচ্ছি না, কারণ আমার নিরূপিত সময় এখনও আসে নি৷’
9 এই কথা বলার পর তিনি গালীলেই রয়ে গেলেন৷
10 তাঁর ভাইরা উত্‌সবে চলে গেল, পরে তিনিও সেখানে গেলেন; কিন্তু তিনি প্রকাশ্যে সেই পর্বে না গিয়ে গোপনে সেখানে গেলেন৷
11 ইহুদী নেতারা উত্‌সবে এসে তাঁর খোঁজ করতে লাগল৷ তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘সেই লোকটা গেল কোথায়?’
12 আর জনতার মধ্যে তাঁকে নিয়ে নানা রকম গুজব ছড়াতে লাগল৷ কেউ কেউ বলল, ‘আরে তিনি খুব ভালো লোক৷’ কিন্তু আবার অন্যরা বলল, ‘না, না, ও লোকদের ঠকাচ্ছে৷’
13 কিন্তু ইহুদী নেতাদের ভয়ে তাঁর বিষয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে চাইল না৷
14 পর্বের আধা-আধি সময়ে যীশু মন্দিরে গিয়ে লোকদের মাঝে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷
15 ইহুদীরা এতে খুব আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘এই লোক কোন কিছু অধ্যয়ন না করেই কি ভাবে এত সব জ্ঞান লাভ করল?’
16 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়৷ যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা৷
17 যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, না আমি নিজের থেকে এসব কথা বলছি৷
18 যদি কেউ নিজের ভাবনার কথা নিজে বলে, তাহলে সে নিজেই নিজেকে সম্মানিত করতে চায়; কিন্তু য়ে তার প্রেরণ কর্তার গৌরব চায়, সেই লোক সত্যবাদী, তার মধ্যে কোন অসাধুতা নেই৷
19 মোশি কি তোমাদের কাছে বিধি-ব্যবস্থা দেন নি? কিন্তু তোমরা কেউই সেই বিধি-ব্যবস্থা পালন কর না৷ তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে চাইছ?’
20 জনতা উত্তর দিল, ‘তোমাকে ভূতে পেয়েছে, কে তোমাকে হত্যা করতে চাইছে?’
21 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি একটা অলৌকিক কাজ করেছি, আর তোমরা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেছ৷
22 মোশিও তোমাদের সুন্নতের বিধি-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন৷ যদিও মুলতঃ সেই বিধি-ব্যবস্থা মোশির নয় কিন্তু এই বিধি-ব্যবস্থা প্রাচীন পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে৷ আর তোমরা এমনকি বিশ্রামবারেও শিশুদের সুন্নত করে থাকো৷
23 মোশির বিধি-ব্যবস্থা য়েন লঙঘন করা না হয়, এই যুক্তিতে বিশ্রামবারেও যদি কোন মানুষের সুন্নত করা চলে, তাহলে আমি বিশ্রামবারে একটা মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছি বলে তোমরা আমার ওপর এত ক্রুদ্ধ হয়েছ কেন?
24 বাহ্যিকভাবে কোন কিছু দেখেই তার বিচার করো না৷ যা সঠিক সেই হিসাবেই ন্যায় বিচার কর৷’
25 তখন জেরুশালেমের লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘এই লোককেই না ইহুদী নেতারা হত্যা করতে চাইছে?
26 কিন্তু দেখ! এ তো প্রকাশ্যেই শিক্ষা দিচ্ছে; কিন্তু তারা তো এঁকে কিছুই বলছে না৷ এটা কি হতে পারে য়ে নেতারা সত্যিই জানে য়ে, ইনি সেই খ্রীষ্ট?
27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’

যোহন 7:6-27

সেই সময়ে যিহূদিদের মধ্যে বিতর্ক ছিল নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) মসীহ ছিলেন কি না I কতিপয় যিহূদি বিশ্বাস করতেন যে জায়গা থেকে মসীহ আসবেন তা অজানা হবে I যেহেতু তারা জানত তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন তারা ভাবল যে অতএব তিনি মসীহ হতে পারেন না I সুতরাং কোথা থেকে তারা এই বিশ্বাস পেল যে মসীহর উৎপত্তি জানা যাবে না? তাউরাত থেকে? নবীদের লেখা থেকে? আদৌ নয়! নবীরা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন মসীহ কোথা থেকে আসবেন I 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে নবী মীখা (পিবিইউএইচ) লিখেছিলেন যে   

2 কিন্তু বৈত্‌লেহম-ইফ্রাথা, তুমি যিহূদার সবচেয়ে ছোট শহর| তোমার পরিবার গোনার পক্ষে খুবই ছোট| কিন্তু আমার জন্য়ে “ইস্রাযেলের শাসক” তোমার মধ্য থেকেই বেরিয়ে আসবে| তার উত্পত্তি প্রাচীনকাল থেকে বহু প্রাচীনকাল থেকে|

মীখা 5:2

এই ভবিষ্যদ্বাণীটি (আরও বিস্তৃত বিবরণের জন্য এখানে দেখুন) বলেছিলেন যে শাসক (= মসীহ) বেৎলেহেম থেকে আসবেন I আমরা মসীহর জন্মের মধ্যে  দেখলাম যে 700 বছর আগে তাঁর জন্মের ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে তিনি বাস্তবিকই  বেৎলেহেমে জন্ম গ্রহণ করলেন I 

এটি শুধুমাত্র সেই সময়ের ধার্মিক পরম্পরা ছিল যা বলল যে মসীহর আগমনের স্থানটি অজানা হবে I তারা একটি ভুল করল কারণ তারা নবীদের লেখা বিচার না করে পরিবর্তে রাস্তার মতামত দিয়ে, তাদের সময়ের ধারণা দিয়ে – এমনকি ধার্মিক পন্ডিতদের ধারণা সমূহ দিয়ে বিচার করল I আমরা সেই একই ভুল করতে সাহস করব না I   

বিবরণটি চলতে থাকে…

  27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’
28 তখন যীশু মন্দিরে শিক্ষা দিতে দিতে বেশ চেঁচিয়ে বললেন, ‘তোমরা আমায় জান, আর আমি কোথা থেকে এসেছি তাও তোমরা জান৷ তবু বলছি, আমি নিজের থেকে আসি নি, তবে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য; আর তোমরা তাঁকে জান না৷
29 কিন্তু আমি তাঁকে জানি, কারণ তিনি আমায় পাঠিয়েছেন৷ আমি তাঁরই কাছ থেকে এসেছি৷’
30 তখন তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা করতে লাগল৷ তবু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না, কারণ তখনও তাঁর সময় আসে নি৷
31 কিন্তু সেই জনতার মধ্যে থেকে অনেকেই তাঁর ওপর বিশ্বাস করল; আর বলল, ‘মশীহ এসে কি তাঁর চেয়েও বেশী অলৌকিক চিহ্ন করবেন?’
32 ফরীশীরা শুনল য়ে সাধারণ লোক যীশুর বিষয়ে চুপি চুপি এই সব আলোচনা করছে৷ তখন প্রধান যাজকেরা ও ফরীশীরা যীশুকে ধরে আনবার জন্য মন্দিরের কয়েকজন পদাতিককে পাঠাল৷
33 তখন যীশু বললেন, ‘আমি আর অল্প কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে আছি; তারপর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে ফিরে যাব৷
34 তোমরা আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমার খোঁজ পাবে না, কারণ আমি য়েখানে থাকব তোমরা সেখানে আসতে পারো না৷’
35 ইহুদী নেতারা তখন পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘সে এখন কোথায় যাবে য়ে আমরা ওকে খুঁজলেও পাব না? গ্রীকদের শহরে য়ে সব ইহুদীরা বসবাস করছে, ও কি তাদের কাছে যাবে আর সেখানে গিয়ে গ্রীকদেব কাছে শিক্ষা দেবে? নিশ্চয়ই নয়৷
36 ও য়ে কথা বলল তার মানে কি য়ে, ‘তোমরা আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমায় পাবে না৷’ আর ‘আমি য়েখানে যাব, তোমরা সেখানে আসতে পার না?’
37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’
39 যীশু পবিত্র আত্মা সম্পর্কে এই কথা বললেন, ‘সেই পবিত্র আত্মা তখনও দেওযা হয় নি, কারণ যীশু তখনও মহিমান্বিত হন নি; কিন্তু পরে যাঁরা যীশুকে বিশ্বাস করে তারা সেই আত্মা পাবে৷’

যোহন 7:27-39

উৎসবের এই দিনে যিহূদিরা দক্ষিন যিরূশালেমের একটি বিশেষ ঝর্না থেকে জল নেয় এবং ‘জল দ্বারের’ মধ্য দিয়ে নগরে প্রবেশ করে এবং জলকে মন্দিরের বেদিতে নিয়ে যায় I এটি ছিল যখন তারা তাদের এই পবিত্র জলের অনুষ্ঠানটি করছিলেন তখন ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) চীৎকার করে বললেন, যেমন তিনি আগে বলেছিলেন, যে তিনি জীবন্ত জলের উৎস I এটি বলার দ্বারা তিনি তাদের স্মরণ করাচ্ছেন আমাদের হৃদয়ের মধ্যে তৃষ্ণা পাপের দিকে নিয়ে যায় যার সম্বন্ধে নবীরা লিখেছিলেন I

  40 সমবেত জনতা যখন এই কথা শুনল তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী৷’
41 অন্যরা বলল, ‘ইনি মশীহ (খ্রীষ্ট)৷’এ সত্ত্বেও কেউ কেউ বলল, ‘খ্রীষ্ট গালীলী থেকে আসবেন না৷
42 শাস্ত্রে কি একথা লেখা নেই য়ে খ্রীষ্টকে দাযূদের বংশধর হতে হবে; আর দাযূদ য়ে বৈত্‌লেহম শহরে থাকতেন, তিনি সেখান থেকে আসবেন?’
43 তাঁর জন্য এইভাবে লোকদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল৷
44 কেউ কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইল; কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না৷

যোহন 7:40-44

পিছনে তখন, ঠিক আগের মতন, লোকেরা নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) সম্বন্ধে বিভক্ত ছিল I যেমন আমরা উপরে দেখলাম, নবীরা মসীহর বেৎলেহেমে (যেখানে ঈসা জন্মগ্রহণ করেছিলেন) জন্ম হওয়ার সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন I তবে গালীলি থেকে মসীহর না আসার এই প্রশ্নটি সম্বন্ধে কি? 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে নবী যিশাইয় (পিবিইউএইচ) লিখেছিলেন যে 

  ন্তু যে বিপদে পড়েছিল তার জন্য কোন অন্ধকার থাকবে না| লোকরা অতীতে সবূলূন দেশ ও নপ্তালি দেশকে কোন গুরুত্বই দিত না| কিন্তু পরবর্তী-কালে সমুদ্রের নিকটবর্তী দেশ, য়র্দন নদীর অপর পারের দেশ এবং অ-ইহুদীদের মহকুমাটিকে ঈশ্বর খুব মহান করবেন|
2 এই সব দেশের লোক অন্ধকারে বাস করত| কিন্তু তারা মহা-আলোকটি দেখতে পাবে| ঐসব লোক কবরের মত অন্ধকার জায়গায় বাস করত| কিন্তু “মহা-আলোক” তাদের ওপর কিরণ দেবে|

যিশাইয় 9:1-2

নবীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মসীহ তাঁর শিক্ষাদান (একটি আলোর উন্মেষ হয়েছে) ‘গালীলিতে’ শুরু করবেন – সেই বিশেষ স্থান যেখানে ঈসা বাস্তবিকই তাঁর শিক্ষাদান আরম্ভ করেছিলেন এবং তাঁর অলৌকিক কার্যের বেশির ভাগ সম্পন্ন করেছিলেন I আবার লোকেদের ভুল হল কারণ তারা সতর্কভাবে নবীদের অধ্যয়ন করল না এবং পরিবর্তে যা সাধারণভাবে স্বীকৃত হয়েছিল তার উপর বিশ্বাস করল I  

  45 তখন মন্দিরের সেই পদাতিকরা, প্রধান যাজক ও ফরীশীদের কাছে ফিরে গেল৷ তাঁরা মন্দিরের সেই পদাতিককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা তাঁকে ধরে আনলে না কেন?’
46 পদাতিকরা বলল, ‘উনি য়ে সব কথা বলছিলেন কোন মানুষ কখনও সেই ধরণের কথা বলেনি!’
47 তখন ফরীশীরা বললেন, ‘তাহলে তোমরাও কি ঠকে গেলে?
48 ফরীশী বা নেতাদের মধ্যে এমন কেউ কি ছিলেন যিনি তাঁর ওপর বিশ্বাস করেছেন?
49 কিন্তু এইসব লোকেরা বিধি-ব্যবস্থার কিছুই জানে না৷ তারা অভিশপ্ত এবং ঈশ্বরের কৃপা থেকে বঞ্চিত৷’
50 তখন এই নেতাদের একজন, নীকদীম তাঁদের বললেন, এই নীকদীম ফরীশীদেরই মধ্যে একজন, ইনি আগে একবার যীশুর কাছে গিয়েছিলেন৷
51 ‘কোন ব্যক্তির কথা না শুনে আমরা আমাদের বিধি-ব্যবস্থায় তার বিচার করতে পারি না৷ সে কি করেছে তা না জেনে আমরা তার বিচার করতে পারি না৷’
52 এর উত্তরে তারা তাকে বলল, ‘তুমি নিশ্চয়ই গালীলী থেকে আসো নি৷ তাই না? শাস্ত্র পড়ে দেখো তাহলে জানবে য়ে গালীলী থেকে কোন ভাববাদীর আবির্ভাব হয় নি৷’

যোহন 7:45-52

ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণরূপে ভুল ছিলেন যেহেতু যিশাইয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে আলোকিতকরণ ‘গালীলি’ থেকে আসবে I

এই বিবরণ থেকে দুটি পাঠ মনে আসে I প্রথমত অত্যন্ত আগ্রহের সাথে আমাদের ধার্মিক কার্যকলাপ অনুষ্ঠিত করা খুব সহজ তবে অল্প জ্ঞানের সাথে I এই রায়টি কি আমাদের সম্বদ্ধে সত্য?

2 আমি ইহুদীদের বিষয়ে একথা বলতে পারি য়ে ঈশ্বরের বিষয়ে তাদের উত্‌সাহ আছে; কিন্তু এটা তাদের জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নেই৷

রোমীয় 10:2

যথোচিতভাবে জ্ঞাত হতে নবীদের লেখাগুলোকে আমাদের শেখা দরকার I

দ্বিতীয়ত, নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) একটি প্রস্তাব দেন I তিনি  তাদের হাজ্জে বললেন যে

  37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’

যোহন 7:37-38

এই প্রস্তাবটি ‘যে কোনো কাউকে’ (এইরূপে না কেবল যিহূদিদের, বা খ্রীষ্টানদের ইত্যাদি) দেওয়া হয় যারা ‘তৃষ্ণার্ত হয়’ I আপনি কি তৃষ্ণার্ত? (এখানে) I জ্যামজ্যাম কুয়ো থেকে জল পান করা ভাল I মসীহর থেকেও জল পান করা কেন নয় যিনি আমাদের অন্তরের তৃষ্ণাকে তৃপ্ত করতে পারেন?   

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএচ) খুঁজতে আসেন … হারানোদের

সুরাহ ফুসসিলাত (সুরা 41 – বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়) বিচারের দিনের দিকে দেখে যখন লোকেদেরকে এমনকি তাদের নিজের ত্বককেও তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষীর জন্য সারিবদ্ধভাবে পদ যাত্রা করানো হবে I তাদেরকে বলা হবে:

 তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।

সুরাহ ফুসসিলাত 41:23

23 তোমাদের পালনকর্তা সম্বন্ধে তোমাদের এ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছ।

তাদের চূড়ান্ত রায় হবে

 আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত।

ফুসসিলাত 41:25

25 আমি তাদের পেছনে সঙ্গী লাগিয়ে দিয়েছিলাম, অতঃপর সঙ্গীরা তাদের অগ্র-পশ্চাতের আমল তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে দিয়েছিল। তাদের ব্যাপারেও শাস্তির আদেশ বাস্তবায়িত হল, যা বাস্তবায়িত হয়েছিল তাদের পূর্ববতী জিন ও মানুষের ব্যাপারে। নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত।

এটি একটি শক্তিশালী অনুস্মারক যে আমাদের মধ্যে অনেকেরই ‘সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে গেছে’ I এটি একটি সমস্যার সৃষ্টি করে যেমনভাবে আল-মু’মিনূম (সুরা 23 – বিশ্বাসীগণ) ব্যাখ্যা করেছে  

যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম,এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।

সুরা আল-মু’মিনূম 23:102-103

102 যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই হবে সফলকাম, 103 এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা দোযখেই চিরকাল বসবাস করবে।

যাদের ভাল কাজের পাল্লা ভারী তারা পরিত্রাণের একটি আশা রাখে, কিন্তু তাদের জন্য যাদের পাল্লা হালকা – তারা কোনো আশা ছাড়াই ‘হারিয়ে যায়’ I এবং সুরা আল-মু’মিনূম বলে তারা বিনাশের মধ্যে হারিয়ে যায় I এইরূপে যারা যারা ধার্মিক এবং শুদ্ধ (মুক্তির প্রত্যাশায়) এবং যারা অশুচি সেই লোকেদের মধ্যে একটি বিভাজন হয় I ঈসা আল মসীহ নির্দিষ্টভাবে অশুচিকে সাহায্য করতে এসেছিলেন – সুরা ফুসসিলাত এবং সুরাহ-আল মু’মিনূমের হুঁশিয়ারি অনুসারে যারা হারিয়ে গেছে তারা নরকের জন্য নিরূপিত হয়েছে I    

প্রায়শই, ধার্মিক লোকেরা তাদের থেকে আলাদা থাকবে যারা ধার্মিক নয় যাতে করে তারা অশুচি না হয় I নবী ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) সময়ে শারিয়া আইনের শিক্ষকদের সম্পর্কে এটি সত্য ছিল I তারা অশুচি থেকে নিজদেরকে আলাদা করে রাখতেন যাতে করে তারা খাঁটি থাকতে পারেন I তবে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শিখিয়েছিলেন যে আমাদের শুদ্ধতা এবং পরিচ্ছনতা আমাদের হৃদয়ের একটি সর্বপ্রথম বিষয় I এইরূপে তিনি তাদের সাথে হবেন যারা বিধিগতভাবে পরিচ্ছন্ন নয় I এখানে ইঞ্জিল পাপীদের সাথে তাঁর যোগসূত্র এবং শরিয়া আইন সম্পর্কে শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া উভয়কেই লিপিবদ্ধ করেছে I 

নেক কর আদায়কারী ও পাপী লোকেরা প্রায়ই যীশুর কথা শোনার জন্য আসত৷
2 এতে ফরীশী ও ব্যবস্থার শিক্ষকরা এই বলে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে লাগল, ‘এই লোকটা জঘন্য পাপী লোকদের সঙ্গে মেলামেশা ও খাওযা দাওযা করে৷’

লুক 15:1-2

তাহলে ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) কেন স্বাগত জানন এবং পাপীদের সঙ্গে ভোজন করেন? তিনি কি পাপ উপভোগ করেন? নবী তাঁর সমালোচকদের তিনটি দৃষ্টান্ত বা গল্প বলার দ্বারা জবাব দেন I 

হারানো মেষের দৃষ্টান্ত

  3 তখন যীশু তাদের কাছে এই দৃষ্টান্ত দিলেন,
4 ‘যদি তোমাদের মধ্যে কারোর একশোটি ভেড়া থাকে, তার মধ্যে থেকে একটা হারিয়ে যায়, তবে সে কি মাঠের মধ্যে বাকি নিরানব্বইটা রেখে য়েটা হারিয়ে গেছে তাকে না পাওযা পর্যন্ত তার খোঁজ করবে না?
5 আর যখন সে ঐ ভেড়াটাকে খুঁজে পায়, তখন তাকে আনন্দের সঙ্গে কাঁধে তুলে নেয়৷
6 তারপর বাড়ি এসে তার বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলে, ‘এস, আমার সঙ্গে তোমরাও আনন্দ কর, কারণ আমার য়ে ভেড়াটা হারিয়ে গিয়েছিল তাকে আমি খুঁজে পেয়েছি৷’
7 আমি তোমাদের বলছি, ঠিক সেইভাবে নিরানব্বই জন ধার্মিক, যাদের মন পরিবর্তনের প্রযোজন নেই তাদের থেকে একজন পাপী যদি ঈশ্বরের কাছে মন ফিরায়, তাকে নিয়ে স্বর্গে মহানন্দ হয়৷

লুক 15:3-7

এই গল্পের মধ্যে নবী (পিবিইউএইচ) মেষের সংগে আমাদের তুলনা করেছেন যখন তিনি একজন মেষেদের পালক হন I যে কোনো মেষপালকের একটি হারানো মেষকে খুঁজতে যাওয়ার মতন, তিনি স্বয়ং হারানো লোকেদের খুঁজে পেতে বাইরে বেড়িয়েছেন I আপনি হয়ত কোনো পাপের মধ্যে ধৃত হয়েছেন – এমনকি গুপ্ত একটি যা আপনার পরিবারের কেউ জানে না I বা হয়ত আপনার জীবন, এর সমস্ত সমস্যাগুলোর সাথে এতটাই বিভ্রান্তিকর যে এটি আপনাকে হারানো অনুভব করতে ছেড়ে দিচ্ছে I এই গল্পটি আশা দেয় কারণ আপনি জানতে পারেন যে নবী (পিবিইউএইচ) আপনাকে খুঁজে পেতে এবং সাহায্য করতে চাইছেন I ক্ষতি আপনাকে ধ্বংস করার পূর্বেই তিনি আপনাকে উদ্ধার করতে চান I    .

তারপরে তিনি দ্বিতীয় গল্পটি বললেন I

হারানো মুদ্রার দৃষ্টান্ত

  8 ধর, কোন একজন স্ত্রীলোকের দশটা রূপোর সিকির একটা হার ছিল৷ তার মধ্য থেকে সে যদি একটা হারিয়ে ফেলে, তাহলে সে কি প্রদীপ জ্বেলে সেই সিকিটি না পাওযা পর্যন্ত ঘরের প্রতিটি জায়গা ভাল করে ঝাঁট দিয়ে খুঁজে দেখবে না?’
9 আর সে তা খুঁজে পেলে তার বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের ডেকে বলবে, ‘এস, আমার সঙ্গে আনন্দ কর, কারণ আমার য়ে সিকিটি হারিয়ে গিয়েছিল তা আমি খুঁজে পেয়েছি৷’
10 আমি তোমাদের বলছি, ঠিক এইভাবে একজন পাপী যখন মন-ফিরায়, তখন ঈশ্বরের স্বর্গদূতদের সামনে আনন্দ হয়৷’

লুক 15:8-10

এই গল্পের মধ্যে আমরা মূল্যবান তবে হারানো মুদ্রা এবং তিনি একজন যিনি হারানো মুদ্রার অন্বেষণ করছেন I বিড়ম্বনা যে যদিও মুদ্রাটি বাড়ির কোথাও হারিয়ে গেছে, এ স্বয়ং ‘জানে’ না যে এ হারিয়ে গেছে I এ হারানোকে অনুভব করে না I এ হ’ল মহিলাটি যে হারানোর বোধকে অনুভব করে এবং তাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বাড়িতে ঝাড়ু দেয় নিচে উপরে সর্বত্র সমস্তকিছু খোঁজে, ততক্ষণ সন্তুষ্ট হয় না যতক্ষণ না সে মূল্যবান মুদ্রাটিকে খুঁজে পায় I আপনি হয়ত ‘হারানো’ অনুভব করেন না I কিন্তু সত্য হ’ল যে আমাদের সকলের অনুতাপ করা প্রয়োজন, এবং যদি আপনি না করে থাকেন তবে আপনি হারিয়ে গেছেন, আপনি এটি অনুভব করেন কিম্বা না করেন I নবীর দৃষ্টিতে মূল্যবান কিন্তু হারানো এবং তিনি হারানোকে অনুভব করেন বলে অনুসন্ধান করেন এবং আপনার কাছে অনুতাপকে পরিষ্কার করতে কার্য করেন I      

তাঁর তৃতীয় গল্পটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল I

হারানো পুত্রের দৃষ্টান্ত

  1 এরপর যীশু বললেন, ‘একজন লোকের দুটি ছেলে ছিল৷
12 ছোট ছেলেটি তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, সম্পত্তির য়ে অংশ আমার ভাগে পড়বে তা আমায় দিয়ে দাও৷’ তখন বাবা দুই ছেলের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ করে দিলেন৷
13 কিছু দিন পর ছোট ছেলে তার সমস্ত কিছু নিয়ে দূর দেশে চলে গেল৷ সেখানে সে উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপন করে সমস্ত টাকা পয়সা উড়িয়ে দিল৷
14 তার সব টাকা পয়সা খরচ হয়ে গেলে সেই দেশে ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল আর সেও অভাবে পড়ল৷
15 তাই সে সেই দেশের এক ব্যক্তির কাছে দিন মজুরীর একটা কাজ চাইল৷ সেই ব্যক্তি তাকে তার শুযোর চরাবার জন্য মাঠে পাঠিয়ে দিল৷
16 শুযোর য়ে শুঁটি খায় তা খেয়ে সে তার পেট ভরাতে চাইত, কিন্তু কেউ তাকে তাও দিত না৷
17 শেষ পর্যন্ত একদিন তার চেতনা হল, আর সে বলল, ‘আমার বাবার কাছে কত মজুর পেট ভরে খেতে পায় আর এখানে আমি খিদের জ্বালায় মরছি৷
18 আমি উঠে আমার বাবার কাছে যাব, তাকে বলব, বাবা, আমি ঈশ্বরের বিরুদ্ধে ও তোমার বিরুদ্ধে অন্যায় পাপ করেছি৷
19 তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার কোন য়োগ্যতা আর আমার নেই৷ তোমার চাকরদের একজনের মতো করে তুমি আমায় রাখ!’
20 এরপর সে উঠে তার বাবার কাছে গেল৷‘সে যখন বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে আছে, এমন সময় তার বাবা তাকে দেখতে পেলেন, বাবার অন্তর দুঃখে ভরে গেল৷ বাবা দৌড়ে গিয়ে ছেলের গলা জড়িয়ে ধরে তাকে চুমু খেলেন৷
21 ছেলে তখন তার বাবাকে বলল, ‘বাবা, আমি ঈশ্বরের দৃষ্টিতে ও তোমার কাছে অন্যায় পাপ করেছি৷ তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেবার য়োগ্যতা আমার নেই৷
22 কিন্তু তার বাবা চাকরদের ডেকে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি কর, সব থেকে ভাল জামাটা নিয়ে এসে একে পরিয়ে দাও৷ এর হাতে আংটি ও পায়ে জুতো পরিয়ে দাও৷
23 হৃষ্টপুষ্ট একটা বাছুর নিয়ে এসে সেটা কাট, আর এস, আমর সবাই মিলে খাওযা দাওযা করি, আনন্দ করি!

লুক 15:11-32

এই গল্পের মধ্যে আমরা হয় জৈষ্ঠ, ধার্মিক পুত্র, বা কনিষ্ঠ পত্র যে দুরে চলে যায় I যদিও জৈষ্ঠ পুত্র সমস্ত ধার্মিক বিধিগুলোকে পালন করেছে সে কখনও পিতার প্রেমময় হৃদয়কে বুঝতে পারে নি I কনিষ্ঠ পুত্রটি ভাবল বাড়ি ছেড়ে যাওয়ায় সে স্বাধীনতা লাভ করছে কিন্তু নিজেকে অনাহার এবং অপমানের দ্বারা পরিবেষ্টিত দেখল I তাপরে সে ‘তার জ্ঞানে ফিরে এল’ এবং উপলব্ধি করল সে তার পিতার কাছে ফিরে যেতে পারে I ফিরে যাওয়া প্রকাশ করে যে প্রথম স্থানে তার ছেড়ে যাওয়া অন্যায় ছিল, এবং এটিকে স্বীকার করতে নম্রতার প্রয়োজন হত I এটি আমাদের কাছে দেওয়া একটি চিত্র আমাদের বুঝতে সাহায্য করে ‘অনুতাপ’ বলতে আসলে কি বোঝায় যাকে এত সাহসিকতার সঙ্গে নবী ইয়াহিয়া (পিবিইউএইচ) শিক্ষা দিয়েছিলেন I     

যখন সে তার অহংকার গলাধকরণ করল এবং তার পিতার কাছে ফিরে এল সে যে ভালবাসা আশা করতে পেরেছিল তার থেকে অনেক বেশি পাওয়া গেল I পাদুকা, বস্ত্র, আংটি, ভোজ, আশির্বাদ, স্বীকৃতি – এই সমস্ত ভালবাসার কথা বলে I এই গল্পটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে আল্লাহ আমাদের তত বেশি  ভালবাসেন, আমাদেরকে চাইছেন তাঁর কাছে ফিরে যাই I এটির জন্য প্রয়োজন আমরা ‘অনুতাপ’ করি তবে আমরা যখন করব আমরা তাঁকে দেখব আমাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত I এটাই যা নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিউএইচ) চান আমরা শিখি I আপনি কি সমর্পণ করতে এবং এই প্রকারের প্রেমকে স্বীকার করতে পারবেন?   

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) করুণা প্রসার করেন

আপন কি কখনও শরিয়া আইনের কোনো আজ্ঞা  ভঙ্গ  করেছেন? আমাদের মধ্যে কেউই এটি করতে চায় না, কিন্তু বাস্তবতা হ’ল যে আমাদের মধ্যে অনেকে আমাদের ব্যর্থতাকে লুকোচ্ছে, এই আশায় যে অন্যরা আমাদের পাপ আবিষ্কার করবে না এবং আমাদের লজ্জাকে প্রকাশ করবে না I কিন্তু কি হয় যদি আপনার ব্যর্থতা আবিষ্কৃত হয়, তখন আপনি কি আশা করেন? 

যেমন সূরা লোকমান (সূরা 31 – লোকমান আমাদের মনে করিয়ে দেয়

 এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত।হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।

সূরা লোকমান 31:2-3

এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত। হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।

সূরা লোকমান ঘোষনা করে যে ‘মঙ্গলকারী’ ‘করুণার’ জন্য আশা করতে  পারে I আর তাই (সূরা আল-হিজর 15 – শিলা পাথর) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে  

 তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?

সুরা আল-হিজর 15:56

      তিনি বললেনঃ পালনকর্তার রহমত থেকে পথভ্রষ্টরা ছাড়া কে নিরাশ হয় ?

যারা বিপথগামী হয়েছে তাদের কি হবে? ঈসা আল মসীহর মিশন তাদের জন্য ছিল যারা বিপথগামী হয়েছে এবং অপ্রাপ্য করুণার প্রয়োজন আছে I নবী পিবিইউএইচ এর এটিকে কারোর কাছে প্রদর্শন করার সুযোগ ছিল যে লজ্জাজনকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল I

এটি নবী ঈসা আল মসীহর (পিবইউএইচ) শিক্ষাদানের সময়ে এক যুবতী মহিলার ক্ষেত্রে ঘটেছিল I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে লিপিবদ্ধ করে I    

  2 খুব ভোরে তিনি আবার মন্দিরে ফিরে গেলে লোকেরা আবার তাঁর কাছে এসে জড়ো হল, তখন তিনি সেখানে বসে তাদের কাছে শিক্ষা দিতে শুরু করলেন৷
3 সেই সময় ব্যবস্থার শিক্ষকরা ও ফরীশীরা, ব্যভিচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এমন একজন স্ত্রীলোককে তাঁর কাছে নিয়ে এল৷ তারা সেই স্ত্রীলোককে তাদের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যীশুকে বলল,
4 ‘গুরু, এই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার করার সময় হাতে নাতেই ধরা পড়েছে৷
5 বিধি-ব্যবস্থার মধ্যে মোশি আমাদের বলছেন, এই ধরণের স্ত্রীলোককে য়েন আমরা পাথর ছুঁড়ে মেরে ফেলি৷ এখন আপনি এবিষয়ে কি বলবেন?’
6 তাঁকে পরীক্ষা করার ছলেই তারা একথা বলছিল, যাতে তাঁর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ তারা খুঁজে পায়৷ কিন্তু যীশু হেঁট হয়ে মাটিতে আঙ্গুল দিয়ে লিখতে লাগলেন৷
7 ইহুদী নেতারা যখন বার বার তাঁকে জিজ্ঞেস করতে লাগল, তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, ‘তোমাদের মধ্যে য়ে নিস্পাপ সেই প্রথম একে পাথর মারুক৷’
8 এরপর তিনি আবার হেঁট হয়ে আঙ্গুল দিয়ে মাটিতে লিখতে লাগলেন৷
9 তারা ঐ কথা শোনার পর বুড়ো লোক থেকে শুরু করে সকলে এক এক করে সেখান থেকে চলে গেল৷ কেবল যীশু সেখানে একা থাকলেন আর সেই স্ত্রীলোকটি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল৷
10 তখন যীশু মাথা তুলে সেই স্ত্রীলোকটিকে বললেন, ‘হে নারী, তারা সব কোথায়? কেউ কি তোমায় দোষী সাব্যস্ত করল না?’
11 স্ত্রীলোকটি উত্তর দিল, ‘কেউ করে নি, মহাশয়৷’ তখন যীশু বললেন, ‘আমিও তোমায় দোষী করছি না, যাও এখন থেকে আর পাপ কোরো না৷’

যোহন: 2-11

ব্যাভিচারের বিশেষ ক্রিয়ার মধ্যে এই মহিলাকে ধরা হয়েছিল এবং নবী মশির (পিবিইউএইচ) শারিয়া আইনের শিক্ষকরা চাইলেন তাকে পাথর মারা হোক, তবে তারা তাকে প্রথমে নবী ঈসা আল মসীহর কাছে নিয়ে গেলেন দেখতে যে তিনি কি নির্ণয় নেবেন I তিনি কি আইনের সত্যতাকে তুলে ধরবেন? ঘটনাচক্রে আইন অনুসারে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই প্রস্তরাঘাতের অধীনে ছিল, কিন্তু কেবলমাত্র মহিলাটিকে শাস্তির জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল I     

আল্লাহর বিচার এবং মানবজাতির পাপ

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) আইনের উল্লংঘন করেন নি – এটি একটি মাপদণ্ড যাকে আল্লাহর দ্বারা দেওয়া হয়েছিল এবং নিখুঁত বিচারকে প্রতিফলিত করেছিল I তবে তিনি বললেন একমাত্র তারাই প্রথমে পাথর ছুঁড়তে পারবে যাদের মধ্যে কোনো পাপ নেই I শিক্ষকরা যখন এই বিষয়টি চিন্তা করছিলেন তখন তাদের উপরে যাবুরের নিম্নলিখিত বিবৃতিটির বাস্তবতা স্থির হয়েছিল I 

  2 ওদের মধ্যে ঈশ্বরের সাহায্য কামনা করে এমন দেখবার জন্য প্রভু স্বর্গ থেকে লোকদের প্রতি লক্ষ্য রেখেছিলেন| (জ্ঞানী লোকরা সাহায্যের জন্য ঈশ্বরমুখী হয়|)
3 কিন্তু প্রত্যেকটি লোকই ঈশ্বরের থেকে বিমুখ হয়ে গেছে| সব লোকই, মন্দ লোকে পরিণত হয়েছে| এমনকি একটা লোকও ভালো কাজ করে নি!

গীতসংহিতা 14:2-3

এর অর্থ যে এটি কেবল অবিশ্বাসী, কাফের এবং বহুদেববাদীরা নয় যারা পাপ করে – এমনকি যারা আল্লাহ এবং তার দুতের উপরে বিশ্বাস করে তারাও পাপ করে I আসলে, এই আয়াতগুলো অনুসারে, আল্লাহ যখন মানবজাতির উপরে দেখেন তিনি এমনকি ‘একজনকেও’ ভাল করতে দেখেন না I    

মশির (পিবিইউএইচ) শরিয়া আইন পরম বিচারের উপরে ভিত্তিশীল মানবজাতির সঙ্গে ঈশ্বরের ব্যবস্থা ছিল, এবং তারা এটিকে অনুসরণ করেছিল যাতে ধার্মিকতা পেতে পারে I তবে মানদণ্ড নিখুঁত ছিল, এমনকি একটি বিচ্যুতিও অনুমোদিত নয় I     

আল্লাহর করুণা

তবে যেহেতু ‘সবাই দুষিত হয়ে গেছে’, অন্য একটি ব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল I এই ব্যবস্থা যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে বিচার হবে না – কারণ লোকেরা তাদের আইনানুগ বাধ্যতাকে উপরে তুলে ধরতে পারে নি – সুতরাং এটিকে আল্লাহর আর একটি চরিত্রের উপরে প্রতিষ্ঠিত হতে ছিল – করুণার উপরে I তিনি বাধ্যতার স্থানে করুণাকে বাড়িয়ে তুলবেন I নবী মশির (পিবিইউএইচ) ব্যবস্থার মধ্যে এটিকে প্রত্যাশিত করা হয়েছিল যখন নিস্তারপর্বের মেষ তাদের প্রতি করুণা এবং জীবন অনুমোদন করল যারা তাদের চৌকাঠের উপরে রক্ত এঁকেছিল এবং হারোণের (পিবিউএইচ) গরুর সাথে (যেটিকে সুরাহ 2 –বাকরার – এর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে) I এটিকে এমনকি তার পূর্বে আদমের প্রতি বস্ত্রের করুণা, হাবিলের (পিবিইউএইচ) বলিদান, এবং নবী নোহকে (পিবিইউএইচ) প্রদত্ত করুণার মধ্যে প্রত্যাশিত করা হয়েছিল I এছাড়াও এটিকে যাবুরের মধ্যে প্রত্যাশিত করা হয়েছিল যখন আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিলেন যে    

আমি এক দিনের মধ্যে এই দেশ থেকে পাপ অপসারণ করব

সখরিয় 3:9

এখন নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এটিকে এমন কারোর কাছে প্রসারিত করলেন যার কাছে আর কোনো আশা ছিল না কেবল করুনা ছাড়া I এটি চিত্তাকর্ষক যে এই মহিলাটির ধর্ম সম্পর্কে কোনো উল্লেখ বা প্রয়োজনীয়তা তৈরী করা হয় নি I আমরা জানি নবী ঈসা আল মসীহ পাহাড়ের উপরে উপদেশ দিয়েছিলেন যে     

7 যাঁরা দয়াবান তারা ধন্য, কারণ তারা দয়া পাবে৷ যাদের অন্তর পরিশুদ্ধ তারা ধন্য, কারণ তারা ঈশ্বরের দর্শন পাবে৷  

মথি 5:7

এবং

  রের বিচার করো না, তাহলে তোমার বিচারও কেউ করবে না৷
2 কারণ য়েভাবে তোমরা অন্যর বিচার কর, সেই ভাবে তোমাদেরও বিচার করা হবে; আর য়েভাবে তুমি মাপবে সেই ভাবে তোমার জন্যও মাপা হবে৷

মথি 7:1-2

করুণা পেতে করুণা প্রসারিত করুন

আপনি এবং আমিও বিচারের দিনে আমাদের প্রতি প্রসারিত করুণার প্রয়োজন  বোধ করি I নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) এটিকে এমন কারোর প্রতি প্রসারিত করতে ইচ্ছুক ছিলেন যে স্পষ্টভাবে আজ্ঞা সমূহের উল্লঙ্ঘন করেছিল – যার এটিকে পাওয়ার যোগ্যতা ছিল না I তবে তার যা প্রয়োজন ছিল তা হ’ল আমাদের চারপাশে যারা আছে আমরা তাদের প্রতি করুণা প্রসার করি I নবীর কথা অনুসারে, আমাদের দ্বারা প্রসারিত করুণার স্তর আমাদের দ্বারা প্রাপ্য করুণাকে নির্ধারণ করবে I এই কারণে আমরা অন্যদের পাপের এত দ্রুত বিচার করি যে আমাদের চারপাশে এত বেশি দ্বন্দের সৃষ্টি হয় I যারা আমাদের আহত করেছে তাদের প্রতি করুণা প্রসার করা আমাদের পক্ষে বুদ্ধিমানের কাজ হবে I আসুন আমরা ঈশ্বরকে বলি আমাদের সাহায্য করতে সেই রকম লোক হতে, যারা ঈসা আল মসীহর (পিবিইউএইচ) ন্যায়, তাদের প্রতি করুণা প্রসার করেছিলেন যারা এর যোগ্য ছিল না, যাতে আমরাও, যারা অযোগ্য, আমাদের এটির প্রয়োজনে, করুণা পেতে পারি I তখন আমরা ইঞ্জিলের সুসমাচারের মধ্যে আমাদের প্রদত্ত করুণাকে বুঝতে প্রস্তুত হব I