ইব্রাহিমের 3 নম্বর চিহ্ন: বলিদান

মহান ভাববাদী ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) পূর্ববর্তী চিহ্নর মধ্যে একটি পুত্রের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল I আর আল্লাহ তার প্রতিশ্রুতি রাখলেন I আসলে তৌরাত ইব্রাহিমের (পিস বি আপন হিম)বিবরণ দিতে থাকে বর্ণনা করতে যে সে কিভাবে দুইটি পুত্র পেল I তৌরাত বলে কিভাবে সে হাগরের মাধ্যমে তার পুরো ইশ্মায়েলকে পেল এবং তারপর পরবর্তী কালে আদিপুস্তক 21 বলে কিভাবে সে সারার মাধ্যমে প্রায় 14 বছর পরে তার পুত্র ইসাককে পেল I দুর্ভাগ্যক্রমে তার পরিবারে দুই স্ত্রী হাগার এবং সারার মধ্যে এটি একটি বিরাট শত্রুতায় পরিণত করল, এবং শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমকে হাগর এবং তার পুত্রকে দুরে পাঠিয়ে দিতে হল I আপনি এখানে পড়তে পারেন এটি কিভাবে ঘটল এবং কিভাবে আল্লাহ হাগর এবং ইশ্মায়েলকে অন্য ভাবে আশির্বাদিত করলেন I       

ভাববাদী ইব্রাহিমের বলিদান: ঈদ আল-আধার ভিত্তি

অতএব তার পরিবারে কেবলমাত্র একটি পুত্র অবশিষ্ট থাকতে ইব্রাহিমের সঙ্গে  (পিবিইউএইচ) তার মহানতম পরীক্ষার সাক্ষাতকার হল কিন্তু এটি এমন একটি যা আমাদের জন্য সরাসরিভাবে এক মহান উপলব্ধিকে উন্মুক্ত করে দেয় I আপনি তৌরাত এবং কোরান থেকে তার পুত্রের বলিদানের পরীক্ষা সম্বন্ধে এখানে পড়তে পারেন I বইগুলোর এই কাহিনী থেকে বোঝা যায় কেন ঈদ আল-আধা উদযাপন করা হয় I কিন্তু এটি কেবলমাত্র একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয় I এর থেকে আরও অধিক I    

আমরা বইগুলোর বিবরণ থেকে দেখতে পারি যে এটি ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ), জন্য একটি পরীক্ষা নয়, বরং এটি ঠিক তার থেকেও বেশি I যেহেতু ইব্রাহিম একজন ভাববাদী তাই এই পরীক্ষাও আমাদের জন্য একটি চিহ্ন, যাতে আমাদের জন্য ঈশ্বরের যত্নের সম্বন্ধে আরও অধিক জানতে পারি I কিভাবে এটি একটি চিহ্ন হল? দয়া করে নামটিকে নোট করুন যা ইব্রাহিম স্থানটিকে দিয়েছিল যেখানে তার পুত্রকে বলিদান দেওয়ার কথা ছিল I তৌরাতের এই অংশকে এখানে দেখানো হয়েছে যাতে করে আপনি এটিকে সরাসরিভাবে পড়তে পারেন I 

  13তখন অব্রাহাম চক্ষু তুলিয়া চাহিলেন, আর দেখ, তাঁহার পশ্চাৎ দিকে একটী মেষ, তাহার শৃঙ্গ ঝোপে বদ্ধ; পরে অব্রাহাম গিয়া সেই মেষটি লইয়া আপন পুত্রের পরিবর্ত্তে হোমার্থ বলিদান করিলেন। 14আর অব্রাহাম সেই স্থানের নাম যিহোবা-যিরি [সদাপ্রভু যোগাইবেন] রাখিলেন। এই জন্য অদ্যাপি লোকে বলে, সদাপ্রভুর পর্ব্বতে যোগান হইবে।

আদিপুস্তক 22:13-14

নামটিকে লক্ষ্য করুন যা ইব্রাহিম (‘তৌরাতের মধ্যে আব্রাহাম’)সেই স্থানটিকে দিয়েছিল I সে এটির নামকরণ করল ‘সদাপ্রভু যোগান দেবেন’ I ওই নামটি কি অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে আছে? এটি স্পষ্টরূপে ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে রয়েছে I এবং এমনকি উক্তিটির আরও স্পষ্ট হওয়ার জন্য যা অনুসরণ করে (যাকে মশি – পিবিইউএইচ – সন্নিবিষ্ট করল যখন সে  তৌরাতের মধ্যে এই বিবরণটিকে প্রায় 500 বছর পরে সংকলন করল) এটি পুনরুক্তি করে “…এটিকে যোগান দেওয়া হবে”I পুনরায় এটি ভবিষ্যৎ কালের মধ্যে এবং ভবিষ্যতের দিকে দেখছে I অধিকাংশ লোক ভাবে যে ইব্রাহিম ভেড়াটির সম্বন্ধে উল্লেখ করছে (একটি পুরুষ ভেড়া) যেটাকে ঝাড়ের মধ্যে ধরা হয়েছিল এবং বলি দেওয়া ও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল I কিন্তু যখন ইব্রাহিম স্থানটির নামকরণ করে তখন তিমধ্যেই ভেড়াটি মৃত, উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছে I যদি ইব্রাহিম ভেড়াটির কথা ভাবত – যে ইতিমধ্যেই মৃত, উৎসর্গীকৃত এবং অগ্নিদগ্ধ – সে এর নাম দিয়ে থাকত ‘সদাপ্রভু যোগান দিয়েছেন’ , অর্থাৎ অতীত কালের মধ্যে I এবং মশি (পিবিইউএইচ) যদি সে ভেড়াটির সম্বন্ধে এইরকম ভাবত  যে সে ইব্রাহিমের স্থান নিয়েছে, তবে মন্তব্য করে থাকত ‘এবং আজ অবধি এটি বলা হত’ “সদাপ্রভুর পর্বতে এটিকে যোগান দেওয়া হয়েছিল” I কিন্তু উভয়ে ইব্রাহিম এবং মশি স্পষ্টভাবে এটিকে ভবিষ্যত কালের মধ্যে এক নাম দিয়েছেন I এবং তাই ইতিমধ্যেই মৃত ও উৎসর্গীকৃত ভেড়ার সম্বন্ধে ভাবছে না I     

সুতরাং তারা তখন কি ভাবছিল? যদি আমরা একটি সুত্রর খোঁজ করি আমরা দেখি যে সেই স্থানটি যেখানে আল্লাহ ইব্রাহিমকে এই চিহ্নর প্রারম্ভে যেতে বললেন ছিল:  

তখন ঈশ্বর বললেন, “তোমার পুত্রকে নাও, তোমার একমাত্র পুত্র, ইসহাক, যাকে তুমি ভালবাস, আর মোরিয়া অঞ্চলে যাও I পর্বতগুলোর মধ্যে একটির ওপরে যার বিষয়ে আমি তোমাকে বলব তাকে হোম বলি রূপে বলি দাও I”

পদ 2

এটি ‘মোরিয়াতে’  ঘটল I এবং কোথায় সেটি? যদিও ইব্রাহিমের সময়ে (2000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এটি একটি প্রান্তর ছিল, এক হাজার বছর পরে (1000 খ্রীষ্টাব্দ), বিখ্যাত রাজা দায়ূদ (ডেভিড) সেখানে যিরূশালেম নগরটির স্থাপনা করলেন, এবং তার পুত্র সুলেমান (শলোমন) সেখানে মদির নির্মাণ করল I আমরা যাবুরের মধ্যে এই সম্বন্ধে পড়ি যে:

পরে সোলায়মান (সুলাইমান) জেরুজালেমে মোরিয়তা পর্বতে সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ শুরু করেছিলেন, যেখানে সদাপ্রভু তাঁর পিতা দায়ূদের কাছে উপস্থিত হয়েছিল (দাউদ)

2 ক্রম 3: 1

অন্য কথায়, ইব্রাহিমের সময় (এবং পরে মশি) ‘মোরিয়া পর্বত’ প্রান্তরের মধ্যে একটি বিচ্ছিন্ন পর্বত শীর্ষ ছিল কিন্তু 1000 বছর পরে দায়ূদ এবং সুলেমানের সহায়তায় এটি ইস্রায়েলীদের কেন্দ্র এবং রাজধানী নগরে পরিণত হল যেখানে তারা সদাপ্রভুর মন্দির নির্মাণ করলেন I এবং এই বিশেষ দিন অবধি এটি য়িহূদি লোকেদের জন্য একটি পবিত্র স্থান I    

মোরিয়া পর্বতকে সদাপ্রভু মনোনীত করেছিলেন, ইব্রাহিম পিবিইউএইচ নয় I যেমন সূরা আল-জিন (সূরা 72 – জিনটি) ব্যাখ্যা করে:

“এবং উপাসনা স্থানসমূহ Godশ্বরের পক্ষে (সুতরাং) সুতরাং তোমরা Godশ্বরের সাথে কাউকে ডাকো না;সূরা আল-

জিন 72:18

আরাধনার স্থান সদাপ্রভুর দ্বারা মনোনীত হয়েছিল I আমরা দেখতে পাই কেন এই স্থানটিকে মনোনীত করা হয়েছিল I

ঈশা আল মসিহ এবং মোরিয়া পর্বতের উপরে বলিদান

আর এখানে ঈশা আল মসিহ (পিবিইউএইচ) এবং ইঞ্জিলের প্রতি আমরা একটি সরাসরি সংযোগকে দেখি I আমরা এই সংযোগকে দেখি যখন আমরা ঈশার উপাধিগুলোর একটির সম্বন্ধে জানি I ঈশাকে তার প্রতি অনেক উপাধি দেওয়া হয়েছিল I হয়ত সর্বাধিক সুপরিচিত ‘মসীহ্’ উপাধি (যা আবারও ‘খ্রীষ্ট’) I কিন্তু তাঁকে আরও একটি উপাধি দেওয়া হয়েছিল যেটি এতটা সুপরিচিত নয়, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্তপুর্ন I আমরা এটিকে ইঞ্জিলের মধ্যে দেখি যখন যোহনের সুসমাচারের মধ্যে আমরা দেখি যে ভাববাদী যাহহা (ইঞ্জিলের মধ্যে বাপ্তিস্মদাতা যোহন) বলে:   

 পরের দিন জন (যাহা ইয়াহিয়া) যীশুকে (অর্থাত্ Isaসা) তাঁর দিকে আসতে দেখলেন এবং বললেন, “দেখ Godশ্বরের মেষশাবক, যিনি পৃথিবীর পাপকে সরিয়ে নিয়ে যান। এটিই আমি বোঝাতে চেয়েছি যখন আমি বলেছিলাম যে ‘আমার পরে একজন আসেন তিনি আমার আগে ছুঁড়েছিলেন কারণ তিনি আমার আগে ছিলেন’ “

যোহন 1:29-30

একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু ঈশার (পিবিইউএইচ) কম পরিচিত একটি উপাধি, যাকে যাহার দ্বারা দেওয়া হয়েছিল ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ I এখন ঈশার জীবনের শেষকে বিবেচনা করুন I কোথায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছিল? এটি যিরূশালেমমের মধ্যে ছিল (যেটিকে আমরা যেমন দেখলাম সেই একই ‘মোরিয়া পর্বত’) I তাঁর গ্রেফতারের সময় এটিকে অত্যন্ত স্পষ্টরূপে ব্যক্ত করা হয় যে:   

 যখন তিনি [পীলাত] জানতে পেরেছিলেন যে যীশু হেরোদের অধীনে ছিলেন তখন তিনি তাকে হেরোদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন, যিনি জেরুসালেমেও ছিলেন ’’

লুক 23:7

অন্য কথায়, গ্রেফতার, বিচার এবং ঈশার প্রাণদণ্ড যিরূশালেমমে ঘটেছিল (= মোরিয়া পর্বত) I

ইব্রাহিমে ফেরা যাক I কেন সে সেই স্থানটির নামকরণ ভবিষ্যত কালে স্থাপন করল ‘সদাপভু যোগান দেবেন’? তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন এবং  জানতেন যে সেখানে কিছু ‘যোগান’ দেওয়া হবে I এবং নাটকের দৃশ্যে, ইব্রাহিমের পুত্রকে শেষ মুহুর্তে মৃত্যু থেকে রক্ষা করা হয় কারণ তার পরিবর্তে একটি মেষশাবক মারা গেল I দু হাজার বছর পরে, ঈশাকে ‘ঈশ্বরের মেষশাবক’ বলা হল এবং একই স্থানে গ্রেফতার করা হল ও প্রাণদণ্ড দেওয়া হল!  

যিরূশালেমে ঘটনাগুলোর টাইমলাইন/মোরিয়া পর্বত

বলিদান ইব্রাহিমকে মুক্ত করল: মৃত্যু থেকে

এটি কি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ? আমি লক্ষ্য করি কিভাবে ইব্রাহিমের এই চিহ্নটি শেষ হয় I কোরানের 107 আয়াত ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ)সম্পর্কে এটি বলে যে

আর আমরা তাকে মুক্ত করলাম একটি আবশ্যক বলিদানের দ্বারা

সুরা 37:107 সাফ্ফত

 ‘মুক্ত’ হওয়া বলতে কি বোঝায়? মুক্তিপণ দেওয়া হল কোনো কারোর জন্য পণ দেওয়া যাকে বন্দীকে মুক্তি দিতে একজন বন্দী রূপে ধরা হয় I ইব্রাহিমের (পিবিইউএইচ) জন্য ‘মুক্তিপণ’ হওয়ার অর্থ যে তিনি কোনো কিছুর জন্য একজন বন্দী ছিলেন (হ্যাঁ এমনকি যদিও একজন মহান ভাববাদী) I তিনি কিসের বন্দী ছিলেন? তার পুত্রের সাথে দৃশ্যটি আমাদের বলে I তিনি মৃত্যুর একজন বন্দী ছিলেন I এমনকি যদিও তিনি একজন ভাববাদী ছিলেন, মৃত্যু তাকে বন্দী করেছিল I আমরা আদমের চিহ্ন থেকে দেখেছি যে আল্লাহ আদম এবং তার সন্তানদের সৃষ্টি করলেন (প্রত্যেককে – ভাববাদী সহ) মরণশীল – তারা এখন মৃত্যুর বন্দী ছিল I কিন্তু উৎসর্গীকৃত মেষশাবকের এই দৃশ্যে ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ)এর থেকে মুক্ত করা হল I যদি আপনি চিহ্নগুলোর (আদম, কয়িন আবেল, নোহ, ইব্রাহিম) অনুক্রমকে এই পর্যন্ত পর্যালোচনা করেন আপনি দেখবেন পশুবলিকে ভাববাদীদের দ্বারা প্রায়শই ব্যবহার করা   হত I তারা এই বিষয়ে কিছু জানত যা হয়ত আমাদের রেহাই দিতে পারে I আর আমরা দেখতে পারি যেহেতু এই কার্যটি আবারও ভবিষ্যতের ঈশা  “ঈশ্বরের মেষশাবকের’ দিকে নির্দেশ করে যে এটি কোনো না কোনো রূপে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ I  

বলিদান: আমাদের জন্য একটি আশীর্বাদ

আর মোরিয়া পর্বতের উপরে মেষশাবকের বলিদান আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ I বিনিময়ের শেষে আল্লাহ ইব্রাহিম্র কাছে ঘোষণা করলেন যে 

 “…আর তোমার বংশে পৃথিবীর সকল জাতি আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে কারণ তুমি আমার বাক্যে অবধান করিয়াছ”

আদিপুস্তক 22:18

‘পৃথিবীর উপরে জাতিগণের’ মধ্যে আপনি যদি যে কোনো একটির মধ্যে থাকেন (এবং আপনি করেন!) এটি আপনাকে চিন্তিত করাবে কারণ প্রতিশ্রুতি হলো যে আপনি তখন স্বয়ং আল্লাহর থেকে একটি ‘আশীর্বাদ’ পেতে পারেন! সেটি কি উপযুক্ত নয়? ঈশার সঙ্গে ইব্রাহিমের কাহিনীর এই সংযোগ কিভাবে আমাদের কাছে একটি আশীর্বাদে পরিণত করে? এবং কেন? আমরা লক্ষ্য করি যে ইব্রাহিমকে (পিবিইউএইচ) ‘পণ দ্বারা মুক্ত’ করা হয়েছিল এবং এটি আবারও আমাদের জন্য একটি নির্দেশক হতে পারে, কিন্তু তা ছাড়া যে উত্তরটি অনায়াসে এখানে প্রতীয়মান নয় তাই আমরা মশির চিহ্নগুলোর (তার কাছে দুটি আছে) সাথে চলতে থাকব এবং সেগুলো আমাদের জন্য এই প্রশ্নগুলোকে প্রাঞ্জল করবে I      

কিন্তু আপাতত আমি কেবলমাত্র উল্লেখ করতে চাই যে ‘বংশ’ শব্দটি এখানে একবচনের মধ্যে আছে I এটি ‘বংশ সমূহ’ নয় যেমন অনেক বংশধর বা লোকেরা I ইব্রাহিমের একটি ‘বংশের’ মাধ্যমে একটি আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি একবচনের মধ্যে ছিল – একবচন যেমন ‘তিনি’, অনেক লোকের মাধ্যমে নয় অথবা লোকেদের এক গোষ্ঠীর মাধ্যমে নয় যেমন ‘তাদের’ I মশির নিস্তারপর্বর  চিহ্ন আরও বুঝতে আমাদের এখন সাহায্য করবে I   

ইব্রাহিমের সাইন 2: ডান-নেস

এটা আমাদের সবার দরকার আল্লাহর কাছ থেকে কী? এই প্রশ্নের বেশ কয়েকটি উত্তর রয়েছে তবে অ্যাডামের সাইন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ধার্মিকতা। সেখানে আমরা শব্দগুলি আমাদের কাছে সরাসরি সম্বোধিত হয়েছি (আদমের সন্তান)

হে আদম সন্তান! আমরা আপনার লজ্জা coverাকতে এবং পাশাপাশি আপনাকে সজ্জিত করার জন্য আপনাকে পোশাক উপহার দিয়েছি। তবে ধার্মিকতার পোশাক – এটি সর্বোত্তম। এগুলি আল্লাহর নিদর্শনগুলির মধ্যে একটি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে। সুরত :26:২:26

তাহলে ‘ধার্মিকতা’ কী? তাওরাত (দ্বিতীয় বিবরণ 32: 4) এ আমাদের আল্লাহ সম্পর্কে বলে

আমি প্রভুর নাম প্রচার করব।
ওহ, আমাদের !শ্বরের মহিমা প্রশংসা!
তিনিই শিলা, তাঁর কাজ নিখুঁত,
এবং তাঁর সমস্ত উপায় ন্যায্য।
একজন বিশ্বস্ত Godশ্বর যিনি কোন অন্যায় করেন না,
খাঁটি এবং ন্যায়বান তিনি।

এটিই তাওরাতে প্রদত্ত আল্লাহর ধার্মিকতার চিত্র। ধার্মিকতা মানে যে এক নিখুঁত; যে সমস্ত (কেবল কিছু বা সর্বাধিক নয় সমস্ত) একের উপায় ঠিক, যে কোনওটি (কিছুটাও নয়) ভুল করে না; যে এক সোজা। এটি ন্যায়নিষ্ঠা এবং তওরাত এভাবেই আল্লাহকে বর্ণনা করে। কিন্তু কেন আমাদের ধার্মিকতার দরকার? উত্তরটি দেওয়ার জন্য আমরা জাবুরের একটি প্যাসেজে এগিয়ে গেলাম। গীতসংহিতা 15 এ (দাউদ দ্বারা লিখিত) আমরা পড়লাম:

প্রভু, কে তোমার পবিত্র তাঁবুতে থাকতে পারে?
আপনার পবিত্র পাহাড়ে কে থাকতে পারে?

2 যার পদচারণা দোষহীন,
কে সৎকর্ম করে,
কে তাদের হৃদয় থেকে সত্য কথা বলে;
3 যার জিহ্বা কোন নিন্দা করে না,
যে প্রতিবেশীর সাথে অন্যায় করে না,
এবং অন্যের উপর ঝাপটায় পড়ে না;
4 যারা একজন দুর্বল ব্যক্তিকে তুচ্ছ করে
যারা সদাপ্রভুকে ভয় করে তাদের সম্মান কর;
যে শপথ করে এমনকি শপথ করে,
এবং তাদের মন পরিবর্তন করে না;
5 যে বিনা সুদে দরিদ্রকে leণ দেয়;
নিরীহদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করে না …

যখন জিজ্ঞাসা করা হয় যে আল্লাহর ‘পবিত্র পর্বতমালায়’ কে থাকতে পারে, তখন জান্নাতালে আল্লাহর সাথে কে থাকতে পারে তা জিজ্ঞাসা করার অন্য উপায়। এবং আমরা উত্তর থেকে দেখতে পাচ্ছি যে যে নির্দোষ এবং ‘ধার্মিক’ (v2) – সেই ব্যক্তি আল্লাহর সাথে থাকার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। এজন্যই আমাদের ধার্মিকতার প্রয়োজন। তিনি নিখুঁত যেহেতু ন্যায়পরায়ণতা আল্লাহর সাথে থাকতে হবে।

এখন ইব্রাহিম (আ।) – এর দ্বিতীয় চিহ্নটি বিবেচনা করুন। বইগুলি থেকে প্যাসেজটি খুলতে এখানে ক্লিক করুন। আমরা তাওরাত ও কুরআন থেকে পঠিত অবস্থায় দেখতে পাই যে ইব্রাহাম (আ।) তাঁর পথ অনুসরণ করেছিলেন (সূরাত ৩ 37:83৩) এবং এর ফলে তিনি ‘ন্যায়পরায়ণতা’ অর্জন করেছিলেন (আদিপুস্তক ১৫:)) – এটিই চিহ্ন আদম আমাদের বলেছেন আমাদের প্রয়োজন। সুতরাং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: তিনি এটি কীভাবে পেলেন?

প্রায়শই আমি মনে করি যে আমি দুটি উপায়ে একটি করে ধার্মিকতা পেয়েছি। প্রথম উপায়ে (আমার চিন্তাভাবনায়) আমি আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে বা স্বীকৃতি দিয়ে ধার্মিকতা অর্জন করি। আমি আল্লাহর উপর ‘বিশ্বাস’ করি। এবং এই চিন্তার সমর্থনে, আদিপুস্তক 15: 6 এ ইব্রাহিম (আ।) ‘প্রভুকে বিশ্বাস করলেন না’? তবে আরও প্রতিবিম্বিত হয়ে আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কেবলমাত্র এক ofশ্বরের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করেছিলেন। কোন আল্লাহ তাকে দৃ a় প্রতিশ্রুতি দেন নি – যে সে পুত্র হবে। এবং এটি সেই প্রতিশ্রুতি ছিল যে ইব্রাহিম (আ।) – কে বিশ্বাস করতে হবে কি না তা বেছে নিতে হয়েছিল। এ সম্পর্কে আরও চিন্তা করুন, শয়তান (শয়তান বা ইবলিস নামেও পরিচিত) আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করে – এবং অবশ্যই তার ধার্মিকতা নেই। সুতরাং কেবলমাত্র আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করা ‘পথ’ সম্পর্কে নয়। ওতে হবে না.

দ্বিতীয়ত আমি প্রায়শই মনে করি যে আমি ন্যায়পরায়ণতা অর্জন করতে পারি তা হ’ল আমি এটিকে যোগ্যতা অর্জন করি বা আমার কাছ থেকে ভাল এবং ধর্মীয় কাজ করে এটি আল্লাহর কাছ থেকে অর্জন করি। খারাপ কাজ, প্রার্থনা, উপবাস বা নির্দিষ্ট ধরণের বা পরিমাণ মতো ধর্মীয় কাজ করার চেয়ে আরও ভাল কাজ করা আমাকে ধার্মিকতার যোগ্য, উপার্জন বা যোগ্যতার সুযোগ দেয়। তবে লক্ষ্য করুন যে তাওরাত মোটেই যা বলে তা নয়।

আব্রাম সদাপ্রভুকে বিশ্বাস করল, এবং সে [অর্থাৎ। আল্লাহ] এটি তার কাছে জমা দিয়েছেন [i.e. ইব্রাহিম] ন্যায় হিসাবে।আদিপুস্তক 15: 6

ইব্রাহিম ধার্মিকতাকে ‘উপার্জন’ করেননি; এটি তাঁর কাছে ‘জমা হয়েছিল’। তাহলে পার্থক্য টা কি? ঠিক আছে, যদি কিছু অর্জন করা হয় তবে আপনি তার জন্য কাজ করেছেন – আপনি এটি প্রাপ্য। এটি আপনার কাজের জন্য মজুরি পাওয়ার মতো। কিন্তু যখন কোনও কিছু আপনার কাছে জমা হয়, তা আপনাকে দেওয়া হয়। এটি অর্জিত বা যোগ্য নয়

ইব্রাহিম (আ।) এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি এক আল্লাহর অস্তিত্বে গভীর বিশ্বাসী ছিলেন। এবং তিনি প্রার্থনা, নিষ্ঠাবান এবং লোকদের সাহায্যকারী (তাঁর ভাগ্নে লুট / লোটের জন্য প্রার্থনা করার মতো) ছিলেন। এমন নয় যে আমরা এই জিনিসগুলি ত্যাগ করব। তবে এখানে ইব্রাহিমের বর্ণিত ‘ওয়ে’ এতই সহজ যে আমরা এটি প্রায় মিস করতে পারি। তাওরাত আমাদের বলে যে ইব্রাহিম (আ।) – কে ধার্মিকতা দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি আল্লাহর দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ধার্মিকতা অর্জন সম্পর্কে আমাদের যে সাধারণ ধারণাগুলি তা রয়েছে তা এই ভেবে উল্টে যায় যে, আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসই যথেষ্ট, অথবা আমি ন্যায়পরায়ণতা অর্জন করতে পারি বা যোগ্যতা অর্জন করতে পারি এমন যথেষ্ট ভাল এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ড (প্রার্থনা, উপবাস ইত্যাদি) করে। ইব্রাহীম যেভাবে নিয়েছিল সেভাবে নয়। তিনি কেবল প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করতে বেছে নিয়েছিলেন

এখন ছেলের এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করা বাছাই করা সম্ভবত সহজ ছিল তবে এটি অবশ্যই সহজ ছিল না। ইব্রাহিম (আ।) এই যুক্তি দিয়ে এই প্রতিশ্রুতিটি সহজেই উপেক্ষা করতে পারতেন যে, যদি আল্লাহ সত্যই তাকে পুত্র দান করার ইচ্ছা ও ক্ষমতা রাখতেন তবে এখনই তাঁর উচিত ছিল। কারণ তার জীবনের এই মুহুর্তে, ইব্রাহিম এবং সরাই (তার স্ত্রী) বয়স্ক ছিলেন – সন্তান লাভের বয়সটি বেশ ভালই পার হয়ে গিয়েছিল। ইব্রাহিমের প্রথম চিহ্নে তিনি স্বদেশ ছেড়ে চলে এসে কনান চলে গিয়েছিলেন বলে ইতিমধ্যে তাঁর বয়স 75 বছর ছিল। এ সময় আল্লাহ তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি একটি ‘মহান জাতি’ লাভ করবেন। এবং এর পরে অনেক বছর কেটে গেছে তাই ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী সারাই এখন সত্যই বৃদ্ধ হয়ে গেছে এবং ইতিমধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছিল। এবং তাদের এখনও একটি সন্তান নেই – এবং অবশ্যই একটি “জাতি” নয়। “তিনি যদি এমনটি করতে পারতেন তবে আল্লাহ কেন ইতিমধ্যে আমাদের পুত্র দেননি”?, তিনি ভাবতেন। অন্য কথায়, তিনি সম্ভবত একটি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে উত্তরহীন প্রশ্ন থাকলেও একটি আসন্ন ছেলের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করেছিলেন কারণ তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমন আল্লাহকে বিশ্বাস করেছিলেন – যদিও তিনি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সমস্ত কিছুই বুঝতে পারেন নি। এবং এই প্রতিশ্রুতিতে (সন্তান জন্ম দেওয়ার বয়সে আগত একটি পুত্র) believeমান আনার জন্য বিশ্বাস করা দরকার যে আল্লাহ তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর জন্য অলৌকিক কাজ করবেন।

প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করাও সক্রিয় অপেক্ষার দাবি করবে। এক অর্থে তাঁর পুরো জীবন বাধাগ্রস্থ হয়েছিল যখন তিনি প্রতিশ্রুত পুত্র আসার অপেক্ষায় (এখনও বহু বছর) কানন প্রতিশ্রুত ভূমিতে তাঁবুতে বাস করছিলেন। প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা এবং মেসোপটেমিয়ায় (আধুনিক ইরাক) সভ্যতায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে আরও সহজ হতে পারত যে তিনি বহু বছর আগে তার ভাই এবং পরিবার এখনও বসবাস করেছিলেন। সুতরাং ইব্রাহিমকে প্রতি বছর প্রতি বছর – প্রতি বছর – প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখতে অসুবিধা সহকারে জীবন কাটাতে হয়েছিল, যখন তিনি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। প্রতিশ্রুতিতে তাঁর বিশ্বাস এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে এটি জীবনের সাধারণ লক্ষ্যগুলি – স্বাচ্ছন্দ্য এবং কল্যাণের চেয়ে অগ্রাধিকার নিয়েছিল। সত্যিকার অর্থে, প্রতিশ্রুতির প্রত্যাশায় বেঁচে থাকার অর্থ জীবনের স্বাভাবিক লক্ষ্যে মরে যাওয়া। প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করা আল্লাহর প্রতি তাঁর আস্থা এবং ভালবাসা উভয়ই দেখিয়েছিল।

এইভাবে প্রতিশ্রুতিটিকে ‘বিশ্বাস করা’ এর সাথে মানসিক চুক্তি ছাড়িয়ে গেছে। ইব্রাহিমকে তার জীবন, খ্যাতি, সুরক্ষা, বর্তমানের পদক্ষেপগুলি ঝুঁকতে হয়েছিল এবং এই প্রতিশ্রুতিতে ভবিষ্যতের আশা করতে হয়েছিল। কারণ তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে তিনি সক্রিয়ভাবে এবং বাধ্যতার সাথে অপেক্ষা করেছিলেন।

এই নিদর্শনটি হ’ল ইব্রাহীম (আ।) কীভাবে একটি পুত্রের আল্লাহর ওয়াদা বিশ্বাস করেছিলেন এবং এরূপে তাঁকে ধার্মিকতা বা কৃতিত্বও দেওয়া হয়েছিল। প্রকৃত অর্থে ইব্রাহিম এই প্রতিশ্রুতিতে নিজেকে জমা দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস না করা বেছে নিতে পারতেন এবং তিনি যে দেশে ফিরে এসেছিলেন (আধুনিক ইরাক) ফিরে আসতেন। এবং তিনি আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস রেখে এবং তাঁর প্রার্থনা, রোযা এবং অন্যান্য লোকদের সাহায্য করার সময়ও এই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করতে পারতেন। তবে তারপরে তিনি কেবল তাঁর ধর্ম বজায় রাখতেন তবে তাকে ‘ধার্মিকতা’ হিসাবে কৃতিত্ব দেওয়া হত না। এবং যেমন কোরআন আমাদের সকলকে আদমের সন্তান বলেছে – “ধার্মিকতার পোশাক – এটি সর্বোত্তম”। এটি ছিল ইব্রাহিমের পথ।

আমরা অনেক কিছু শিখেছি। ধার্মিকতা, জান্নাতের জন্য আমাদের যা প্রয়োজন তা অর্জন করা হয় না তবে আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়। এবং এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমা হয়। কিন্তু তাহলে ধার্মিকতার জন্য কে অর্থ দেয়? আমরা সাইন 3 দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছি।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্ন ১: দোয়া

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)! তিনি আব্রাহাম ও ইব্রাম (আঃ) নামেও পরিচিত৷ ইহুদি, খ্রীষ্টান ও ইসলাম এই তিনটি একেশ্বরবাদী ধর্ম সকল তাকে অনুসরণ করণার্থে আদর্শ রূপে দেখে৷ আরবগণ ও ইহুদিরা তাদের শারীরিক বংশ উৎপত্তিটিকে তার ছেলে ইসমাইল ও ইসহাকের মাধ্যমে খুঁজে বের করে৷  তিনি নবীদের মধ্যেও অতি গুরুত্বপূর্ণ নবী কারণ পরবর্তী নবীগণ তার অনুকরণ করেন৷ তাই আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্নটিকে বিভিন্ন অংশে দেখব৷ পাক কুরআনে ও তৌরাত শরীফে তার চিহ্নটিকে প্রথমে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন৷

আমরা পাক কুরআনের আয়াতটিতে দেখি যে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে লোকেদের ‘জাতিগুলো’ এসেছে৷ পরে এই লোকগুলো একটি ‘মহান রাজ্যে’ পরিণত হয়েছিল৷ কিন্তু একটি পুরুষের জন্য ‘জাতি’ উৎপাদনের জন্য অন্তত একটি ছেলে থাকতে হবে, এবং একটি ‘মহান রাজ্যে’ পরিণত হওয়ার আগে একটি দেশও থাকতে হবে৷

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্য ওয়াদা

তৌরাত শরীফের অংশটি (পয়াদেশ ১২:১-৭) দেখায় যে কিভাবে আল্লাহ্ ‘জাতি’ এবং একটি ‘মহান রাজ্যের’ ওয়াদাটিকে পূর্ণ করবেন যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে আসবে৷ আল্লাহ্ তাকে একটি ওয়াদা করেছিলেন যা ভবিষ্যতের জন্য একটি বুনিয়াদ ছিল৷ আসুন এটিকে আমরা আরো বিশদভাবে দেখি৷  আমরা দেখি যে আল্লাহ্ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে বলেন:

2 “আমি তোমাকে একটি মহান জাতি হিসাবে পরিণত করব,
আমি তোমাকে আশীর্বাদ করব;
আমি আপনার নাম মহান করব,
এবং আপনি একটি আশীর্বাদ হবে।
3 যারা তোমাকে আশীর্বাদ করে আমি তাদের আশীর্বাদ করব,
আর যে তোমাকে অভিশাপ দেয় আমি অভিশাপ দেব;
এবং পৃথিবীর সমস্ত লোক
আপনার মাধ্যমে ধন্য হবে। “

পয়দায়েশ ১২:২-৩

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মহানতা

আজকের দিনে আমি যেখানে বসবাস করি সেখানকার বহু লোকেরা আশ্চর্যান্বিত হয় ও বলে আল্লাহ্ আছেন কি না ও কিভাবে একজন জানবে যে তিনি সত্যিই তৌরাত শরীফের মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশিত করেছিলেন?  আমাদের সম্মুখে একটি ওয়াদা রয়েছে, যার কিছু অংশকে আমরা যাচাই করতে পারি৷  এই প্রকাশটির অন্তিমে উল্লেখ করা হয়েছে যে আল্লাহ্ প্রতক্ষ্যভাবে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে ওয়াদা করেছিলেন যে ‘আমি তোমার নামটিকে মহান করব৷’ আমরা একবিংশ শতাব্দীতে রয়েছি এবং হযরত ইব্রাহিম/আব্রাহাম/আব্রাম (আঃ)-এর নামটি  দুনিয়াতে সবচাইতে পরিচিত নাম৷ এই ওয়াদাটি আক্ষরিকভাবে ঐতিহাসিকভাবে সত্য হয়েছে৷ তৌরাত শরীফের আরম্ভের প্রতিলিপির দস্তাবেজটি যা আজও রয়েছে যা ডেড সি স্ক্রল থেকে এসেছে যার লেখার তারিখটি ছিল ২০০-১০০ খ্রিস্টপূর্ব৷ এর অর্থটি হল যে এই ওয়াদাটিকে সেকেলেই লেখা হয়ে গিয়েছিল৷ সেই সময়টিতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর নামটি তেমন প্রচলিত ছিল না-কেবল ইহুদিদের কিছু লোক জানত যারা তৌরাত শরীফটিকে অনুসরণ করত৷ কিন্তু বর্তমানে তার নামটি মহান, তাই আমরা এই পূর্ণতাটিকে যাচাই করতে পারি যা কেবল এটিকে লেখার পরে এসেছিল, আগে নয়৷

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রতি করা ওয়াদাটির এই অংশটি নিশ্চয়ই ঘটেছে, যা অ-ঈমানদারদের কাছেও স্পষ্ট, এবং এটি আমাদেরকে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর প্রতি করা আল্লাহ্‌র ওয়াদাটির বাকি অংশটিকে বুঝতে আরো বেশি আত্মবিশ্বাস প্রদান করে৷ আসুন এটিকে পর্যবেক্ষণ করা বহাল রাখি৷

আমাদের জন্য দোয়া

এছাড়া, আমরা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর থেকে আগত একটি ‘মহান জাতিটিকে’ ও হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে দেওয়া ‘দোয়াটির’ প্রতিজ্ঞাটিকে দেখতে পারি৷ কিন্তু আরো অন্য কিছুও রয়েছে, দোয়াটি কেবল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর জন্যই ছিল না কারণ এটি বলে যে “দুনিয়ার সকল লোকেরা তোমার মাধ্যমে দোয়া পাবে” (অর্থাৎ হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মাধ্যমে)৷ এটি আমাকে ও আপনাকে লক্ষ্য করতে সজাগ করে৷ কারণ আপনি ও আমি ‘দুনিয়ার সকল লোকেদের’ অংশ- সেক্ষেত্রে আমাদের ধর্ম, জাতি, নিবাস স্থান, আমাদের সামাজিক স্তর অথবা আমাদের ভাষা যাই হোক না কেন৷ এই ওয়াদাটি আজকের দিনে জীবিত সকল লোকেদের জন্য৷ এটি আপনার জন্যও একটি ওয়াদা৷  আমাদের ভিন্ন ধর্ম, জাতি ও ভাষা প্রায়ই লোকেদেরকে আলাদা করে এবং সংঘর্ষের কারণ হয়, এটি এমন একটি ওয়াদা যা এই সকল বিষয়কে উপেক্ষা করে যা সাধারণত আমাদেরকে ভাগ করে৷ কিভাবে? কখন? কি ধরনের দোয়া? এই পর্যায়ে এটি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত করা হয়নি, কিন্তু এই চিহ্নটি একটি ওয়াদার জন্ম দিয়েছিল যা হল হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মাধ্যমে আপনার ও আমার জন্য৷ যেহেতু আমরা জানি যে এই ওয়াদাটির একটি অংশ সত্য হয়েছে, তাই আমরা সুনিশ্চিত হতে পারি যে এই অন্য অংশটি যা আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাও স্পষ্ট ও আক্ষরিকভাবে পূর্ণ হবে- আমাদের কেবল এটিকে খোলার একটি চাবি খুঁজতে হবে৷

আমরা লক্ষ্য করতে পারি যে যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এই ওয়াদাটিকে পেয়েছিলেন তখন তিনি আল্লাহ্‌র হুকুম পালন করেছিলেন এবং…

“তাই মাবুদের কথামতই তিনি বেরিয়ে পড়লেন”

আয়াত ৪
Capture 1.PNG

হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর উর থেকে কেনান দেশে যাওয়ার মানচিত্র

ওয়াদার দেশে যেতে কত সময় লেগেছিল? তার যাত্রাটিকে এখানে দেওয়া মানচিত্রটি দেখায়৷ তিনি বাস্তবে উর শহরে (বর্তমানে দক্ষিণ ইরাক) বসবাস করতেন এবং হারণ শহরে (বর্তমানে উত্তর ইরাক) গিয়েছিলেন৷  Ibহযরত ইব্রাহিম (আঃ) তারপর কেনান দেশে (তার সময়ে সেই দেশটি কেনান নামে পরিচিত ছিল) যাত্রা করেছিলেন৷ আপনি লক্ষ্য করতে পারবেন যে এটি একটি লম্বা যাত্রা ছিল৷ Hতিনি হয়ত উঠ, ঘোড়া অথবা গাধার পিঠে চড়ে যাত্রা করেছিলেন তাই বহু মাস লেগে গিয়েছিল৷ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার পরিবার ত্যাগ করেছিলেন, তার আরামের জীবনটিকে ত্যাগ করেছিলেন (মেসোপটেমিয়া এই সময়ে সভ্যতার কেন্দ্র ছিল), তার সুরক্ষা এবং তার চেনা সকল কিছুকে ত্যাগ করে এমন একটি জাগয়ায় গিয়েছিলেন যা তার জন্য অজানা ছিল৷ তৌরাত শরীফ আমাদেরকে বলে যে তখন তিনি ৭৫ বছরের ছিলেন!

পূর্ববর্তী নবীদের ন্যায় পশুদের কোরবানী দেওয়া হয়

তৌরাত শরীফ আরও বলে যে যখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কেনান দেশে সুরক্ষিতভাবে পৌঁছে গিয়েছিলেন:

 “তাই তিনি মাবুদের জন্য একটি কোরবানগাহ্ নির্মাণ করেছিলেন”

আয়াত ৭

তার পূর্বে হাবিল ও হজরত নূহ্ (আঃ)-এর মত, সেই কোরবানগাহে্ তিনিও আল্লাহ্‌র জন্য পশুদের কোরবানী দিলেন৷  

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার বার্ধক্যের সময়ে এই নতুন দেশে যাত্রা করার জন্য তার জীবনটিকে বহু কিছু ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন৷ কিন্তু এমনটি করার মাধ্যমে তিনি আল্লাহ্‌র ওয়াদাটির প্রতি নিজেকে সমর্পিত করেছিলেন৷ এই কারণে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ আমরা আগামীতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর চিহ্ন ২ দেখা জারি রাখব৷