গীতসংহিতা এবং নবীরা কিভাবে ঈসা আল মসীহর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন?

নবী মুসার পিবিইউএইচ তাওরাত ঈসা আল মসীহর সম্বন্ধে পুর্বজ্ঞান প্রকাশিত করেছিলেন চিহ্ন সমূহের মাধ্যমে যেগুলোকে নবীর আগমনের প্রতি নমুনাকৃত করা হয়েছিল I মুসার অনুগমনকারী নবীরা ফিরিস্তির দ্বারা ঈশ্বরের পরিকল্পনাকে দেখিয়েছিলেন I ঈশ্বরের দ্বারা অনুপ্রাণিত দায়ূদ পিবিইউএইচ, মসীহর আগমন সম্বন্ধে গীতসংহিতা 2 এর মধ্যে প্রায় 1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে প্রথমে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I তারপরে গীতসংহিতা 22 এর মধ্যে তিনি একজনের সম্বন্ধে একটি বার্তা পেলেন যার হাত ও পাকে অত্যাচারে ‘বিদ্ধ’ করা হয়েছে এবং তারপরে ‘মৃত্যুর ধুলিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে’, তবে  পরবর্তীকালে অর্জিত এক মহান বিজয় ‘পৃথিবীর সমস্ত পরিবারকে’ প্রভাবিত করবে I এটি কি ঈসা আল মসীহর আসন্ন ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে একটি ভবিষ্যদ্বাণী ছিল? সুরা সাবা (সুরা 34) এবং সুরা আন- নমল (সুরা 27) এর বক্তব্যের মধ্যে একবার দেখব কিভাবে আল্লাহ যাবুরের (অর্থাৎ গীতসংহিতা 22) মধ্যে দায়ূদকে অনুপ্রাণিত করলেন I          

গীতসংহিতা 22 এর ভবিষ্যদ্বাণী

আপনি এখানে পুরো গীতসংহিতা 22টি পড়তে পারেন I নিচে একটি টেবিল রয়েছে যেখানে গীতসংহিতা 22 এর পাশাপাশি ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের (সঙ্গী) দ্বারা প্রত্যক্ষ্য করা ক্রুশারোপন এবং পুনরুত্থানের বিবরণ রয়েছে I পাঠ্যগুলো রঙ মেলানো তাই সাদৃশ্যগুলো সহজেই দেখা যায় I 

   1000 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে লিখিত – গীত সংহিতা 22
(মথি 27:31-48) .. তারপর তারা তাঁকে (যীশুকে) ক্রুশে দিতে নিয়ে চলল)39 যে সকল লোক সেই পথ দিয়ে যাতায়াত করছিল তারা মাথা নাড়তে নাড়তে তার দিকে অপমান করল 40 এবং বলল, “… নিজেকে রক্ষা কর! ক্রুশ থেকে নেমে এস, যদি তুমি ঈশ্বরের পুত্র হও!” 41 সেই একই রূপে প্রধান যাজকরা, ব্যবস্থার শিক্ষকরা এবং প্রাচীনরা তাঁর প্রতি বিদ্রূপ করল I 42 সে অন্যদের রক্ষা করত,”তারা বলল, “কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না! ও তো ইস্রায়েলের রাজা! এখন ক্রুশ থেকে নেমে আসুক, আর আমরা ওর উপর বিশ্বাস করব I 43 ও ঈশ্বরের উপরে বিশ্বাস রাখে I এখন তিনি ওকে উদ্ধার করুন যদি তিনি ওকে চান,…45 প্রায় নয় ঘটিকার সময় যীশু চীৎকার করে উঠলেনআমার ঈশ্বর, আমার ঈশ্বর, কেন আমায় পরিত্যাগ করেছ?“…48 তাদের মধ্যে একজন তৎক্ষনাত দৌড়িয়ে গেল আর একটি স্পঞ্জ নিয়ে এল I সে তাতে সিরকা ভরল, এটিকে একটি নলের উপরে রাখল, এবং যীশুকে পান করতে দিল I মার্ক 15: 16-20 16 সেনারা যীশুকে নিয়ে গেলতারা তাঁকে বেগুনি কাপড় পরাল, তারপরে একটি কাঁটার মুকুট গেঁথে তার উপরে পরাল I 18 আর তারা তাঁকে বলতে আরম্ভ করল, “নমস্কার, যিহূদিরাজ!” 19 বার বার তারা একটি নল দ্বারা তাঁর মাথার উপরে আঘাত করল এবং তাঁর উপরে থুতু দিল I তাদের হাঁটু পেতে, তারা তাঁকে প্রণাম করল I 20 আর যখন তারা তাঁকে বিদ্রূপ করল, তারা তাঁর থেকে বেগুনি কাপড় খুলে নিল এবং তাঁর নিজের কাপড় তাঁর উপরে পরিয়ে দিল I পরে ক্রুশে দেবার জন্য তারা তাঁকে বাইরে নিয়ে গেল37 এক উচ্চ রবের সাথে, যীশু শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করলেন I (যোহন 19:34) তারা তাঁর পা ভাঙল না ..., বিদ্ধ করল যীশুর কুক্ষিদেশে একটি বরশা দিয়ে, তাহাতে অমনি রক্ত ও জলের প্রবাহ নিয়ে এল.…তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করল(যোহন  20:25) [থোমা] আমি যদি তাঁর হাতে প্রেরেক চিহ্ন না দেখি, …”…যোহন 19:23-24 যখন সেনারা যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করল, তারা নিল তাঁর বস্ত্র সকল, তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে, সেগুলোকে চার ভাগে ভাগ করল,  বাকি ছিল আঙরাখাটি…এটিকে চিরব না”, তারা বলল,”এস আমরা গুলিবাঁট করে দেখি কে এটি পায় 1 ঈশ্বর আমার, ঈশ্বর আমার, তুমি কেন আমাকে পরিত্যাগ করেছ? আমার রক্ষার থেকে কেন এত দুরে থাক, আমার যন্ত্রণার আর্তনাদ থেকে কেন এত দুরে থাক?
2 হে আমার ঈশ্বর, আমি দিবসে আহ্বান করি, কিন্তু তুমি উত্তর দাও না, রাত্রিতেও, কিন্তু, আমার কোনো বিশ্রাম পাই না …7 যারা আমাকে দেখে সকলে আমাকে ঠাট্টা করে;
তারা তাদের মাথা নেড়ে, অপমান করে I
8 ও সদাপ্রভুর উপরে নির্ভর করে,”তারা বলে ,
সদাপ্রভু ওকে রক্ষা করুন,কেননা তিনি উহাতে প্রীত9 তথাপি তুমি জঠর থেকে আমাকে উদ্ধার করলে;
এমনকি আমার মাতার স্তন পানের সময়ে তুমি আমার বিশ্বাস জন্মালে I
10 গর্ভ থেকে আমি তোমার উপরে নিক্ষিপ্ত;
আমার মাতৃজঠর থেকে তুমিই আমার ঈশ্বর I  11 আমার থেকে দুরে থেক না,
কেননা সঙ্কট আসন্ন, আর সাহায্যকারী কেউ নেই I 12 অনেক বৃষ আমাকে বেষ্টন করেছে;
বলবান বলদেরা আমাকে ঘিরেছে I
13 গর্জনকারী সিংহ যেন তাদের শিকারীকে ছিড়ে ফেলতে আমার বিরুদ্ধে তাদের মুখ খুলে হা করেছে I
14 আমি জলের ন্যায় সেচিত হয়েছি, এবং আমার সমুদয় অস্থি সন্ধিচ্যুত হয়েছে I  
আমার হৃদয় মোমের ন্যায় হয়েছে;
এটি আমার মধ্যে গলিত হয়েছে I
15 আমার মুখ খোলার ন্যায় শুষ্ক হয়েছে,
এবং আমার জিহ্বা তালুতে লেগে আটকে গেছে;
তুমি আমাকে মৃত্যুর ধুলিতে রেখেছ I 16 কুকুরেরা আমাকে ঘিরেছে,দুরাচারীদের এক মন্ডলী আমাকে বেষ্টন করেছে; তারা আমার হস্তপদ বিদ্ধ   করেছে I 17 আমার অস্থি সকল প্রদর্শনীতে রয়েছে;
লোকেরা আমার প্রতি দৃষ্টি করে চেয়ে থাকে I
18 তারা নিজেদের মধ্যে আমার বস্ত্র বিভাগ করে এবং আমার পরিচ্ছদের জন্য গুলিবাঁট করে I

যারা ক্রুশারোপনকে প্রতক্ষ্য করেছিল সেই প্রত্যক্ষ্যদর্শীদের দৃষ্টিকোণ থেকে ইঞ্জিল লেখা হয়েছে I গীতসংহিতা 22 একজন যে এটিকে অনুভব করেছে তার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে I গীতসংহিতা 22 এবং ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপনের মধ্যে এই সাদৃশ্যকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? এটিকি কাকতলীয় যে বিবরণগুলো এত হুবহু মেলে যে জামাকাপড় দুটি ভাগ করা হবে (সেলাই করা পোশাকগুলোর সেলাই বরাবর বিভক্ত ছিল এবং সেনাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল) আর গুলিবাঁট করা হয়েছে (সেলাইবিহীন পোশাক ছিঁড়ে ফেললে নষ্ট হয়ে যাবে তাই তারা এটির জন্য জুয়া খেলল) I ক্রুশারোপনের আবিষ্কারের পূর্বে গীতসংহিতা 22 লেখা হয়েছিল কিন্তু এটি  এর নির্দিষ্ট বিবরণ দেয় (হস্তপদ বিদ্ধ করা, অস্থি-সন্ধি থেকে অস্থি বেরিয়ে  আসা, – প্রসারিত হয়ে শিকারীর মতন ঝুলতে থাকে) I এর অতিরিক্ত যোহনের সুসমাচার লিপিবদ্ধ করে যে যখন যীশুর কুক্ষিদেশে বর্শার খোঁচা দেওয়া হল তখন রক্ত ও জল বইতে লাগল I  সংকেত দেয় যে এক তরল পদার্থ তাঁর হৃদয় যন্ত্রের চারিদিকে তৈরী হয় I ঈসা আল মসীহ এইরূপে হৃদপিণ্ডের উপর আঘাতে মারা যান I এটি গীতসংহিতা 22 এর “আমার হৃদয় মোমে পরিণত হয়েছে’ উক্তির সঙ্গে মেলে I গীতসংহিতা 22 এর মধ্যে অনুবাদিত হিব্রু শব্দ ‘বিদ্ধ’ যার আক্ষরিক অর্থ ‘একটি সিংহের ন্যায়’ I অন্য কথায়, হাত এবং পাকে বিদ্ধ করার সময়ে তাদেরকে একটি সিংহ যেমন করে সেইরকমভাবে থেঁতলান ও বিকৃত করা হয়েছিল I

অবিশ্বাসীরা উত্তর দেয় যে ইঞ্জিলের প্রত্যক্ষ্যদর্শীর নথির সঙ্গে গীতসংহিতা 22 এর সাদৃশ্য এই কারণে হতে পারে ঈসার শিষ্যরা ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে ‘খাপ খায়’ এইরকম ঘটনাগুলো তৈরী করেছিল I ওটা কি সাদৃশ্যকে ব্যাখ্যা করতে পারে?

গীতসংহিতা 22 এবং ঈসা আল মসীহর উত্তরাধিকার

তবে উপরোক্ত টেবিলের গীতসংহিতা 22 আয়াত 18 এর সঙ্গে শেষ হয় না – এটি চলতে থাকে I এখানে লক্ষ্য করুন শেষে এটি কতটা জয়যুক্ত – ম্র্ত্যুর পরে! 

26 দরিদ্র লোকরা খেয়ে তৃপ্ত হবে| তোমরা যারা প্রভুকে খুঁজছ, তারা তাঁর প্রশংসা কর! তোমাদের অন্তঃকরণ চিরজীবি হউক!
27 তোমরা, সুদূর দেশগুলির জনগণ, প্রভুকে মনে রেখো এবং তাঁর কাছে ফিরে এস! য়ে সব মানুষ বিদেশে থাকে তারাও য়েন প্রভুরই উপাসনা করে|
28 কেন? কারণ প্রভুই রাজা| তিনি সব জাতিকে শাসন করেন|
29 বলিষ্ঠ এবং সুদেহী লোকেরা আহারান্তে ঈশ্বরের কাছে প্রণিপাত করবে| বস্তুতঃ সকলে যারা মারা যাবে এবং যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে তারা সকলেই ঈশ্বরের কাছে অবনত হবে!
30 এবং ভবিষ্যতে আমাদের উত্তরপুরুষরা প্রভুর সেবা করবে| লোকে চিরদিন তাঁর কথা বলবে|
31 প্রত্যেকটি প্রজন্ম তাদের শিশুদের কাছে ঈশ্বর য়ে ভাল জিনিসগুলি করেছেন সে সম্পর্কে বলবে|

গীত সংহিতা 22:26-31

এটি এই ব্যক্তির মৃত্যুর বিশদ সম্পর্কে কথা বলছে না I ওটিকে গীসংহিতার শুরুতে আলোচনা করা হয়েছিল I নবী দায়ূদ পিবিইউএইচ এখন আরও ভবিষ্যতের দিকে দেখছেন এবং এই ব্যক্তির মৃত্যুর প্রভাবকে ‘উত্তরপুরুষ’ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের’ উপরে সম্বোধন করছেন (আয়াত 30) I অর্থাৎ ঈসা আল মসীহর পরে আমরা 2000 বছর বেঁচে আছি I দায়ূদ আমাদের বলছেন যে ‘উত্তরপুরুষ’ এই ‘হস্তপদ বিদ্ধ’ মানুষটিকে অনুসরণ করে, যে এই ধরণের এক ভয়ংকর মৃত্যু বরণ করেন তাঁকে ‘সেবা’ করবে এবং ‘তাঁর সম্বন্ধে বলা হবে’ I আয়াত 27 সীমাটির সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করে – এরা ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্তে’ এবং ‘জাতিগণের সকল পরিবারের’ মধ্যে যাবে এবং তাদেরকে ‘সদাপ্রভুর দিকে ফেরাবে’ I আয়াত 29 সংকেত দেয় কিভাবে তারা ‘যারা নিজেদেরকে (আমাদের সবাই) জীবিত রাখতে পারে না’ একদিন তাঁর সামনে জানু পাতবে I এই মানুষটির ধার্মিকতাকে লোকেদের কাছে ঘোষণা করা হবে যারা তাঁর মৃত্যুর সময়ে তখনও জীবিত (‘এখনও অজাত’) ছিল না I      

ইঞ্জিলটিকে গীতসংহিতা 22 এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে তৈরী করা হয়েছিল কিনা এর সাথে এই শেষের কোনো সম্পর্ক নেই কেননা এটি এখন আরও অধিক পরবর্তী ঘটনাগুলোর সম্বন্ধে আলোচনা করছে – যেগুলো আমাদের সময়ের I প্রথম শতাব্দীর ইঞ্জিল লেখকরা ঈসা আল মসীহর মৃত্যুর প্রভাব আমাদের সময়ের মধ্যে তৈরী করতে পারেন নি I অবিশ্বাসীদের যৌক্তিকতা ঈসা আল মসীহর দীর্ঘমেয়াদী, বিশ্বব্যাপী উত্তরাধিকারের ব্যাখ্যা দেয় না যা গীতসংহিতা 22 সঠিকভাবে 3000 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল I      

কোরআন – আল্লাহর দ্বারা প্রদত্ত দায়ূদের পূর্বজ্ঞান 

গীতসংহিতা 22 এর শেষে এই জয়যুক্ত প্রশংসা একদম তাই যা কোরআনের সুরা সাবা এবং আন-নমল (সাবা 34 পিপড়া 27)বোঝায় যখন এটি দায়ূদের অনুপ্রাণিত গীতসংহিতার সম্বন্ধে বলে যে:   

আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে

ছিলাম।সুরা সাবা 34:10

আমি দাউদের প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম এই আদেশ মর্মে যে, হে পর্বতমালা, তোমরা দাউদের সাথে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর এবং হে পক্ষী সকল, তোমরাও। আমি তাঁর জন্য লৌহকে নরম করে ছিলাম।

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।সুরা আন-

নমল 27:15

আমি অবশ্যই দাউদ ও সুলায়মানকে জ্ঞান দান করেছিলাম। তাঁরা বলে ছিলেন, আল্লাহর প্রশংসা, যিনি আমাদেরকে তাঁর অনেক মুমিন বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।  

যেমন এটি বলে. আল্লাহ দায়ূদকে জ্ঞান ও অনুগ্রহ দিয়েছিলেন ভবিষ্যতকে দেখতে এবং ওই জ্ঞানের সাহায্যে তিনি গীতসংহিতার মধ্যে লিপিবদ্ধ প্রশংসার গীত গেয়েছিলেন I 

এখন সুরা আল-ওয়াকিয়া (সুরা 56 –অপরিহার্য) এর মধ্যে উত্থিত প্রশ্নটির সম্বন্ধে এখন বিবেচনা করুন I 

অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়।এবং তোমরা তাকিয়ে থাক,তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না।যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়,তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও ?

সুরা আল-ওয়াকিয়া 56:83-87

মৃত্যুর থেকে প্রাণকে কে ডাকতে পারে? আল্লাহর থেকে মানুষের কার্যকে আলাদা করতে এই চ্যালেঞ্জটি দেওয়া হয়েছে I তবুও সুরা আল-ওয়াকিয়া ঠিক তাই যা গীতসংহিতা 22 বর্ণনা করে – এবং এটি ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ কার্যকে পূর্বাভাষ বা ভবিষ্যদ্বাণী করার দ্বারা এইরকম করে I   

গীতসংহিতা 22 এর তুলনায় ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপনের ফলাফল সম্বন্ধে কেউ এর থেকে ভাল ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে না I পৃথিবীর ইতিহাসে আর কে আছে যে তাঁর মৃত্যুর পাশাপাশি তাঁর জীবনের উত্তরাধিকার সম্বন্ধে বিস্তৃত বিবরণকে যা তাঁর জন্মের 1000 বছর পূর্বে অদূর ভবিষ্যতে ঘটবে বলে দাবি করতে পারে? যেহেতু সুদুর ভবিষ্যত সম্পর্কে এত বিস্তৃতভাবে বলা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় সেইহেতু ঈসা আল মসীহর কোরবানী “ঈশ্বরের ইচ্ছাকৃত পরিকল্পনা এবং পুর্বজ্ঞানের” দ্বারা ছিল I    

অন্যান্য নবীরা ঈসা আল মসীহর কোরবানীর সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে

ঠিক যেমন তাওরাত ঈসা আল মসীহর শেষ দিনগুলোর ঘটনাবলী সম্পর্কে একটি দর্পণের চিত্রের সাহায্যে আরম্ভ করেছিল এবং পরে আরও বিস্তারের সাথে চিত্রটিকে স্পষ্ট করেছিল, তেমনি দায়ূদের পরবর্তী নবীরা ঈসা আল মসীহর মৃত্যু এবং পুনরুত্থানকে আরো বিস্তৃতভাবে প্রাঞ্জল করেছিলেন I নিচের টেবিলটি আমাদের দেখা তাদের কয়েকটিকে সংক্ষিপ্তসার করেছে I 

নবীরা বলে   কিভাবে এটি আসন্ন মসীহর পরিকল্পনাকে প্রকাশ করল
কুমারী জন্মের চিহ্ন ‘একটি পুত্র এক কুমারীর থেকে জন্মগ্রহণ করবে’ যাকে যিশাইয় 700 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং তিনি পাপ রহিত এক সিদ্ধ জীবন অতিবাহিত করবেন I কেবলমাত্র এক সিদ্ধ জীবনকে অন্য কারোর জন্য কোরবানীতে উৎসর্গ করা যেতে পারে I ওই ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতায় ঈসা আল মসীহ জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই পবিত্র জীবন যাপন করেছিলেন I 
আসন্ন ‘শাখা’ ঈসার নাম এবং আমাদের পাপের অপসারণের সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল  নবী যিশাইয়, যিরমিয় এবং সখরিয় একজনের আগমন সম্বন্ধে এক ধারাবাহিক ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছিলেন যাকে ঈসার জন্মের 500 বছর পূর্বে – সঠিকভাবে ঈসা নাম দিয়েছিলেন I সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে একদিন লোকেদের পাপ অপসারিত হবে I ঈসা নিজেকে বলি হিসাবে উৎসর্গ করেছিলেন আর তাই ‘একদিনে’ এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর পূর্ণতার মধ্য দিয়ে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হল I    
নবী দানিয়েল এবং মসীহর আগমনের  সময়   নবী দানিয়েল মসীহর আগমনের জন্য ঠিক 480-বছরের একটি সময় সূচীর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ভবিষ্যদ্বাণীর সূচী অনুসারে ঈসা সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন I  
নবী দানিয়েল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মসীহকে ‘বিচ্ছিন্ন করা’ হবে   মসীহর আগমনের পরে, নবী দানিয়েল লিখেছিলেন যে তাঁকে ‘বিচ্ছিন্ন করা হবে আর কিছুই থাকবে না’ I এটি ঈসা আল মসীহর  আসন্ন মৃত্যুর সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যেমন তাঁকে জীবন থেকে ‘বিচ্ছিন্ন করা’ হয়েছিল I 
 নবী যিশাইয় আসন্ন দাসের মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের সমন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেন নবী যিশাইয় অনেক বিস্তৃতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন কিভাবে মসীহ অত্যাচার, প্রত্যাখ্যান, আমাদের পাপের জন্য বিদ্ধ হয়ে, এক মেষশাবকের ন্যায় বধ হয়ে, আমাদের পাপের নিমিত্ত তাঁর জীবন উৎসর্গীকৃত হয়ে, ‘জীবিতের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন’, তবে পরে তিনি আবার ‘জীবন’ দেখবেন এবং বিজয়ী হবেন I এই সমস্ত বিস্তৃত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ হয়েছিল যখন ঈসা আল মসীহ ক্রুশারোপিত হলেন এবং মৃত্যু থেকে উঠলেন I এ জাতীয় বিবরণগুলোকে 700 বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারা এক মহান চিহ্ন ছিল যে এটি আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল I 
নবী ইউনুস এবং ঈসা আল মসীহর মৃত্যু নবী ইউনুস বিশাল মাছের ভেতরে থাকার সময়ে কবরের অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন I এই একটি চিত্র ছিল যাকে ঈসা আল মসীহ ব্যাখা করতেন যে সেই একই ভাবে তিনিও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করবেন I
নবী সখরিয় এবং মৃত্যুর বন্দিদের মুক্তিদান ঈসা আল মসীহ সখরিয়র একটি ভবিষ্যদ্বাণীকে উল্লেখ করেন যে তিনি ‘মৃত্যুর বন্দিদের’ (যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে) মুক্ত   করবেন I মৃত্যুতে প্রবেশ করা এবং সেখানে যারা আটকে আছে তাদেরকে মুক্ত করার তাঁর মিশন সম্বন্ধে নবীদের দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I

এই অনেক ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর সাথে, নবীরা যারা কয়েকশত বছরের ব্যবধানে নিজেরা আলাদা হয়েছিল, বিভিন্ন দেশ সমূহে বাস করছিল, বিভিন্ন পৃষ্ঠভূমি ছিল, তবুও সকলে তাঁর মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঈসা আল মসীহর মহান বিজয়ের কিছু অংশের উপরে ভবিষ্যদ্বাণী করতে মনোনিবেশ করেছিল – এটিই স্বাক্ষ্য যে এটি আল্লাহর পরিকল্পনা অনুসারে ছিল I এই কারণে, ঈসা আল মসীহর শিষ্যদের নেতা পিতর, শ্রোতাদের বললেন:     

  18 কিন্তু ভাববাদীদের মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁর খ্রীষ্টের দুঃখভোগের কথা যা জানিয়েছেন, সে সবই তিনি এইভাবে পূর্ণ করেছেন৷

প্রেরিতের কার্য 3:18

ঠিক তার অব্যবহিত পরে পিতর এটি বললেন, তিনি তখন ঘোষণা করলেন:

  19 তাই আপনারা মন-ফিরান এবং ঈশ্বরের কাছে ফিরে আসুন, য়েন আপনাদের পাপ মুছে দেওযা হয়৷

প্রেরিতের কার্য 3:19

আমাদের জন্য আশীর্বাদের প্রতিশ্রুতি আছে যে আমরা আমাদের পাপ সমূহকে ‘মুছে ফেলতে পারি’ I আমরা এখানে দেখব এর অর্থ কি I

ঈসা আল মসীহ সঠিক সময়ে, এক ভিন্ন শত্রুর কাছে, এক চমকপদ উপায়ে – জিহাদ ঘোষণা করেন

সুরা আত-তাওবাহ (সুরা 9 – অনুতাপ, ছত্রভঙ্গ) আলোচনার জন্ম দেয় যেহেতু এটি জিহাদ, বা প্রচেষ্টা সম্পর্কে আলোচনা করে I আয়াত শারীরিক সংগ্রামের জন্য পথ নির্দেশ দেয় যারফলে সেখানে বিভিন্ন পন্ডিতদের দ্বারা নানান ব্যাখ্যা আছে I সুরা আত-তাওবাহর থেকে আয়াতের এই আলোচনাটি এখানে রয়েছে: 

সুরা আত-তাওবাহ (সুরা 9 – অনুতাপ, ছত্রভঙ্গ)

তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার।

সুরা আত-তাওবাহ 9:41-42

41 তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং জেহাদ কর আল্লাহর পথে নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটি তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে পার। 42 যদি আশু লাভের সম্ভাবনা থাকতো এবং যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত হতো, তবে তারা অবশ্যই আপনার সহযাত্রী হতো, কিন্তু তাদের নিকট যাত্রাপথ সুদীর্ঘ মনে হল। আর তারা এমনই শপথ করে বলবে, আমাদের সাধ্য থাকলে অবশ্যই তোমাদের সাথে বের হতাম, এরা নিজেরাই নিজেদের বিনষ্ট করছে, আর আল্লাহ জানেন যে, এরা মিথ্যাবাদী।

সুরা আত-তাওবাহের মধ্যে তিরষ্কারটি আসে কারণ যুদ্ধযাত্রা যদি সহজ হত, তাদেরকে অনুসরণ করা যেত, কিন্তু যারা ‘চেষ্টা করতে’ ইচ্ছুক মুস্কিলের সময়ে অন্তর্নিহিত হয়ে যেত I উত্তরসুরী আয়াত এই উৎসাহ-শুন্য অনুগামীদের অজুহাত এবং আলোচনাগুলোকে লিপিবদ্ধ করে I সুরা আত-তাওবাহ তখন এই অনুস্মারকটি দেয় 

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

সুরা আত-তাওবাহ 9:52

আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।

তিরষ্কার আসার সাধারণতঃ দুটি সম্ভাব্য পরিনতি থাকে: মৃত্যু (শহীদত্ব) বা বিজয় I তবে সংগ্রাম যদি এত বৃহৎ হয় উভয় ফলাফল আসে – শহীদত্ব এবং বিজয় উভয়ই I নবী ঈসা আল মসীহকে পিবিইউএইচ তাঁর সুদীর্ঘ যিরূশালেম যাত্রায় এই সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিলেন – সেখানে তাঁর আগমনের সাথে কয়েকশ বছর আগে যাবুরের ভাববাদীদের দ্বারা প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো পূর্ণ করার জন্য অর্ধগোলাকার চাঁদ বা হেলাল চাঁদের দ্বারা সময় নির্ধারিত হয়েছিল I

যিরূশালেমে প্রবেশ

সুরা আল-ইসরা (সুরা 17 – রাত্রি যাত্রা) সুপরিচিত যেহেতু এটি নবী মহম্মদের পিবিইউএইচ রাত্রি যাত্রাকে বর্ণনা করে, যেখানে তিনি একটি উড়ন্ত বুরাকের উপরে চড়ে মক্কা থেকে একা এসেছিলেন   

.পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

সুরা আল-ইসরা 17:1

পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ রাত্রি যাত্রা হিসাবে ঠিক একই স্থানে যাচ্ছিলেন I তবে ঈসা আল মসীহ চিহ্ন সমূহ প্রদর্শন করতে প্রবেশ করেছিলেন I তাই তিনি রাত্রির পরিবর্তে প্রকাশ্য দিনের বেলায় এসেছিলেন, এবং একটি বুরাকের বদলে একটি গাধার উপরে চড়েছিলেন I যদিও আমরা সেটিকে একটি পাখি বুরাকের উপরে আসার মতন চিত্তাকর্ষক নাও ভাবতে পারি, যিরূশালেমের মন্দিরে একটি গাধার উপরে তার আবির্ভাব লোকেদের কাছ একটি স্পষ্ট চিহ্ন ছিল I কিভাবে হ’ল আমরা তার ব্যাখ্যা করি I   

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) লাসারকে তার জীবনে উত্থাপিত করে তাঁর মিশন প্রকাশ করেছিলেন এবং এখন তিনি যিরূশালেম (আল কুদা) অভিমুখে তার যাত্রা পথে ছিলেন I যে পথে তিনি পৌঁছাতেন তার সম্বন্ধে  কয়েকশত বছর পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল I ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে: 

  12 য়ে বিপুল জনতা নিস্তারপর্বের জন্য এসেছিল, পরের দিন তারা শুনল য়ে যীশু জেরুশালেমে আসছেন৷
13 তখন তারা খেজুর পাতা নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে পড়ল৷ তারা চিত্‌কার করে বলতে লাগল,‘তাঁর প্রশংসা কর, তাঁকে স্বাগত জানাও! যিনি প্রভুর নামে আসছেন, ঈশ্বর তাঁকে আশীর্বাদ করুন৷ ইস্রায়েলের রাজাকে ঈশ্বর আশীর্বাদ করুন!’গীতসংহিতা 118 :2
14 যীশু একটা গাধাকে দেখতে পেয়ে তার ওপর বসলেন, য়েমন শাস্ত্রে লেখা আছে:
15 ‘সিযোন নগরী,ভয় পেও না! দেখ, তোমাদের রাজা আসছেন৷ দেখ, তোমাদের রাজা বাচ্চা গাধায় চড়ে আসছেন৷’সখরিয় 9:9
16 এসবের অর্থ তাঁর শিষ্যরা প্রথমে বুঝতে পারেন নি৷ কিন্তু যীশু যখন মহিমায় উত্তোলিত হলেন, তখন তাঁদের মনে পড়ল য়ে শাস্ত্রে এগুলিই তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে এবং লোকেরা এসব তাঁর জন্য করেছিল৷
17 যীশু যখন লাসারকে কবর থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন, আর তাকে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত করে তোলেন, তখন য়ে সব লোক সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিল তার সে বিষয়ে সকলকে বলতে লাগল৷
18 এই কারণেই লোকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এল, কারণ তারা শুনেছিল, য়ে তিনিই ঐ অলৌকিক চিহ্নকার্য় করেছেন৷
19 তখন ফরীশীরা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘তোমরা দেখলে, আমাদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল৷ দেখ, আজ সারা জগত্ তাঁরই পেছনে ছুটছে৷’

যোহন 12:12-19

ঈসা আল মসীহর প্রবেশ – দায়ূদ অনুসারে

দায়ূদের (পিবিইউএইচ) থেকে শুরু করে, প্রাচীন যিহূদি রাজারা বার্ষিকভাবে তাদের রাজকীয় ঘোড়ায় চড়তেন এবং যিরূশালেমের মধ্যে একটি মিছিলে  নেতৃত্ব দিতেন I ঈসা আল মসীহ তালপাতার রবিবার বলে পরিচিত দিনটিতে একটি গাধার উপরে চড়ে এই ঐতিহ্যটিকে পুনরায় কার্যকর করেছিলেন I লোকেরা ঈসা আল মসীহর জন্য যাবুরের থেকে সেই একই গীত গেয়েছিল যেমনটি তারা দায়ূদের জন্য গেয়েছিল: 

 

25 লোকেরা বললো, “প্রভুর প্রশংসা কর! প্রভু আমাদের রক্ষা করেছেন!”
26 সেই লোকটিকে স্বাগত জানাও, য়ে প্রভুর নাম নিয়ে আসছে|” যাজকরা উত্তর দিয়েছিলো, “আমরা তোমাকে প্রভুর গৃহে স্বাগত জানাই!”
27 প্রভুই ঈশ্বর এবং তিনি আমাদের গ্রহণ করেন| বলির জন্য একটা মেষ বাঁধ এবং সেটাকে বেদীর কোণে নিয়ে চল|”
28 প্রভু, আপনিই আমার ঈশ্বর, আপনাকে ধন্যবাদ দিই| আমি আপনার প্রশংসা করি!
29 প্রভুর প্রশংসা কর! কারণ তিনি মঙ্গলময়| তাঁর প্রকৃত প্রেম চিরন্তন|

গীত সংহিতা 118:25-27

লোকেরা রাজাদের জন্য লেখা এই প্রাচীন গীত গেয়েছিলেন কারণ তারা জানত ঈসা লাসারকে উত্থাপিত করেছিলেন এবং তাই তারা যিরূশালেমে তাঁর আগমনে উত্তেজিত হয়েছিল I যে কথাটি তারা চীৎকার করে বলেছিল, ‘হোশান্না’ মানে ‘রক্ষা কর’ – বহু পূর্বে ঠিক তেমনটি গীত সংহিতা 118:25 লিখেছিল I তিনি তাদেরকে কিসের থেকে ‘রক্ষা করতে’ যাচ্ছিলেন – (নবী সখরিয় আমাদের বলেন:    

সখরিয় দ্বারা প্রবেশ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল

পূরবর্তী রাজারা কয়েকশত বছর পূর্বে যা করতেন, যদিও ঈসা আল মসীহ পুনরায় তা কার্যকর করলেন, তিনি এটিকে ভিন্নভাবে করলেন I নবী সখরিয় পিবিইউএইচ, যিনি আসন্ন মসীহর নামের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনি আবারও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে মসীহ একটি গাধার উপরে চড়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করবেন I কালপঞ্জি অন্যান্য নবীদের সাথে সখরিয়কে ইতিহাসের মধ্যে দেখায় যারা তালপাতার রবিবারের ঘটনা সম্বন্ধ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I   

যে নবীরা তালপাতার রবিবারে ঈসার যিরূশালেমে প্রবেশ সম্বন্ধে আগে থেকেই দেখেছিলেন

ওই ভবিষ্যদ্বাণীর অংশকে যোহনের সুসমাচারে উদ্ধৃত করা হয়েছিল (নীল পাঠ্যক্রমের মধ্যে) I সখরিয়র সম্পূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণীটি এখানে রয়েছে:

9 সিয়োন, উল্লাস কর! জেরুশালেমের লোকেরা, আনন্দে চিত্কার কর! দেখ, তোমাদের রাজা তোমাদের কাছে আসছেন! তিনিই সেই ধার্মিক রাজা, তিনিই সেই বিজয়ী রাজা| কিন্তু তিনি নম্র| তিনি একটি খচচরের পিঠে চড়ে আসছেন| একটি ভারবাহী গাধার বাচচার ওপর চড়ে আসছেন|
10 রাজা বলেন, “আমি ইফ্রয়িমের রথগুলি এবং জেরুশালেমের অশ্বগুলিকেও সরিয়ে ফেলব| আমি যুদ্ধে ব্যবহার করবার ধনু ভেঙ্গে ফেলব|” রাজা জাতিগুলির কাছে শান্তির সংবাদ আনবেন| তিনি সাগর থেকে সাগরে রাজত্ব করবেন| ফরাত্‌ নদী থেকে পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত পর্য়ন্ত|
11 জেরুশালেম, তোমার চুক্তি রক্তের মধ্যে সীলমোহর করা হয়েছিল| তাই আমি তোমার বন্দীদের শূন্য আধার থেকে রক্ষা করেছি|

সখরিয় 9:9-11

যে রাজার সম্বন্ধে সখরিয় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি অন্য রাজাদের থেকে ভিন্ন হবেন I তিনি এমন রাজা হবেন না যিনি ‘রথ’, যুদ্ধের ঘোড়া’, যুদ্ধের ধনুক’ ব্যবহার করবেন I এই রাজা আসলে এই সমস্ত অস্ত্রগুলো অপসারণ করবেন এবং পরিবর্তে ‘জাতি সমূহের কাছে শান্তি ঘোষণা করবেন’ I যাইহোক, এই রাজাকে তখনও এক শত্রুকে পরাজিত করতে সংগ্রাম করতে হবে I তাকে সবচেয়ে বড় জিহাদের মধ্যে সংগ্রাম করতে হবে I

এটি পরিষ্কার হয় যখন আমরা এই রাজার সম্মুখীন হওয়া শত্রুটিকে চিনতে পারি I সাধারণতঃ, একজন রাজার শত্রু আর একজন রাজা হয় একটি বিরোধী জাতি, বা আর এক সৈন্য বাহিনী, বা তার লোকদের বিদ্রোহ, বা সেই লোকেদের থেকে যারা তার বিরুদ্ধে হয় I কিন্তু নবী সখরিয় লিখলেন যে একটি ‘গাধার’ উপরে প্রকাশিত রাজা এবং শান্তি ঘোষণাকারী ‘জলবিহীন খাই থেকে বন্দিদের মুক্ত করতে যাচ্ছেন’ (আয়াত 11) I ‘খাই’ হ’ল হিব্রু পদ্ধতিতে  কবর বা মৃত্যুর সম্বন্ধে বলা I এই রাজা তাদেরকে মুক্ত করতে যাচ্ছেন না যারা স্বৈরাচারী, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ এবং মনুষ্য-নির্মিত কারাগারের মধ্যে আটকে পড়া বন্দী, বরং তাদেরকে যারা মৃত্যুর বন্দী ছিলI [1]

যখন আমরা মৃত্যুর থেকে লোকেদের রক্ষার কথা বলি তখন আমরা কাউকে বাঁচানোর কথা বলি যাতে করে মৃত্যু বন্ধ হয় I উদাহরণস্বরূপ, আমরা কাউকে উদ্ধার করতে পারি, যে ডুবে যাচ্ছে বা কিছু ওষুধ দিই যা কারোর জীবনকে রক্ষা করে I এই ‘রক্ষা’ কেবল মৃত্যুকে স্থগিত করে যে ব্যক্তিকে রক্ষা করা হয় সে পরে মারা যাবে I কিন্তু সখরিয় ‘মৃত্যুর থেকে’ লোকেদের রক্ষা করার সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন না বরং তাদের উদ্ধারের সম্বন্ধে বলছিলেন যারা মৃত্যুর দ্বারা বন্দী – যারা ইতিমধ্যেই মারা গেছে I সখরিয়র দ্বারা ভবিষ্যদ্বাণী করা একটি গাধার উপরে আসন্ন রাজার দ্বারা মৃত্যুর সম্মুখীন হয়ে এটিকে স্বয়ং পরাজিত করা – এর বন্দীদের মুক্ত করার কথা ছিল I এর জন্য প্রচুর প্রচেষ্টার প্রয়োজন হত – একটি জিহাদ যাকে আগে কখনও দেখা যায়নি I পন্ডিতরা মাঝে মাঝে আমাদের আন্তরিক সংগ্রামের ‘বৃহত্তর জিহাদ’ এবং বাইরের সংগ্রামের ‘ক্ষুদ্রতর জিহাদের’ সম্বন্ধ উল্লেখ করেন I খাইয়ের সম্মুখীন হয়ে এই রাজা এই সংগ্রাম বা জিহাদ উভয়ের মধ্য দিয়ে যাবেন I   

মৃত্যুর সঙ্গে এই সংগ্রাম বা জিহাদের মধ্যে কি অস্ত্র রাজা ব্যবহার করতে যাচ্ছেন? নবী সখরিয় লিখলেন যে এই রাজা খাইয়ের মধ্যে তার এই সংগ্রামে কেবলমাত্র “তোমার সাথে আমার নিয়মের রক্ত” নিয়ে যাবেন I তাঁর নিজের রক্ত অস্ত্র হবে যার সাহায্যে তিনি মৃত্যুর সম্মুখীন হবেন I  

গাধার উপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করে ঈসা নিজেকে এই রাজা বলে ঘোষণা করলেন – মসীহ I

কেন ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ দুঃখের সাথে রোদন করলেন

তালপাতার রবিবারের দিনে যখন ঈসা আল মসীহ যিরূশালেমে প্রবেশ করলেন (এছাড়াও বিজয়ী প্রবেশ বলে পরিচিত) ধর্মীয় নেতারা তার বিরোধিতা  করলেন I লুকের সুসমাচার তাদের বিরোধিতায় ঈসা আল মসীহর প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে বর্ণনা করে I 

  41 তিনি জেরুশালেমের কাছাকাছি এসে শহরটি দেখে কেঁদে ফেললেন৷
42 তিনি বললেন, ‘হায় কিসে তোমার শাস্তি হবে তা যদি তুমি আজ বুঝতে পারতে! কিন্তু এখন তা তোমার দৃষ্টির অগোচরে রইল৷
43 সেই দিন আসছে, যখন তোমার শত্রুরা তোমার চারপাশে বেষ্টনী গড়ে তুলবে৷ তারা তোমায় ঘিরে ধরবে, আর চারপাশ থেকে চেপে ধরবে৷
44 তারা তোমাকে ও তোমার সন্তানদের ধ্বংস করবে৷ তোমার প্রাচীরের একটা পাথরের ওপর আর একটা পাথর থাকতে দেবে না, কারণ তোমার তত্ত্বাবধানের জন্য ঈশ্বর য়ে তোমার কাছে এলেন, এ তুমি বুঝলে না৷’

লুক 19:41-44

ঈসা আল মসীহ নির্দিষ্টভাবে বললেন যে নেতাদের ‘এই দিনে’ ঈশ্বরের আসার সময়কে’ জানা উচিত ছিল I তিনি কি বোঝালেন? তারা কি মিস করল?

নবীরা ‘সেই দিনটি’ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন  

কয়েক শতাব্দী পূর্বে নবী দানিয়েল (পিবিইউএইচ) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে যিরূশালেমের পুনর্নির্মাণের আদেশ জারি করার 483 বছর মসীহ আসবেন I আমরা দানিয়েলের প্রত্যাশিত বছরকে 33 খ্রীষ্টাব্দ বলে গণনা করেছি – যে বছরে ঈসা আল মসীহ একটি গাধার ওপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I এটি ঘটার কয়েকশত বছর পূর্বে, প্রবেশের বৎসরের ভবিষ্যদ্বাণী করা, আশ্চর্যজনক I তবে সময়টিকে আজকে গণনা করা যেতে পারে I (আমাদের এটি তৈরী করার পরে দয়া করে প্রথমে এখানে পর্যালোচনা করুন) I        

মসীহর প্রকাশনের আগে নবী দানিয়েল 360-দিনের বছর ধরে 483 বছরের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I তদনুসারে, দিনগুলোর সংখ্যা হ’ল:

483 বছর * 360 দিন/বছর = 173880 দিন সমূহ

365.2422 দিন/বছর নিয়ে আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুসারে এটি 25 অতিরিক্ত দিনগুলোর সাথে 476 বছর হয় (173 880/365.242219879 = 476 বাকি 25)

কখন যিরূশালেম পুনস্থাপনের আদেশ জারি করা হয়েছিল যা এই উল্টো গণনাকে  শুরু করেছিল? এটিকে দেওয়া হয়েছিল:

রাজা অর্তক্ষস্তর বিংশতিতম বৎসরের নীসন মাসে …

নহিমিয় 2:1

নীসনের কোন্ দিন (যিহূদি ক্যালেন্ডারের মধ্যে একটি মাস) দেওয়া হয়নি, তবে নীসন 1 তারিখ যেহেতু নতুন বছর শুরু করত, সম্ভবতঃ উৎসবের মধ্যে নহিমিয়ের সাথে রাজার কথা বলার কারণ দেয় I মাসগুলো চান্দ্র হওয়ায় এছাড়াও নীসন 1 তারিখ এক আমাবস্যাকে চিহ্নিত করত (ইসলামিক ক্যালেন্ডারের মতন) I আমাবস্যা ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উপায়ে নির্ধারিত হত – সাথে স্বীকৃত মানুষরা চাঁদের নতুন অর্ধচন্দ্রাকার (হেলাল) পর্যবেক্ষণ করত I আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাহায্যে আমরা জানি কখন সেই আমাবস্যা চিহ্নিত 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের নীসন 1 তারিখকে প্রথমে দেখা গিয়েছিল I জানা মুশকিল পর্যবেক্ষকদের দ্বারা নীসনকে কি সেই দিন প্রথমে দেখা গিয়েছিল নাকি মিস হয়ে গিয়েছিল আর নীসনের আরম্ভ হতে 1 দিন দেরী হয়ে গিয়েছিল I জোতির্বিদ্যার গণনাগুলো পারস্য সম্রাট অর্তক্ষস্তরের বিংশতিতম বছরের নীসন 1 তারিখের অর্ধগোলাকার চন্দ্রকে আধুনিক ক্যালেন্ডারের 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দের 4 মার্চ, রাত্রি  10 টায় স্থাপন করে I[2] অর্ধগোলাকার চন্দ্রের আবির্ভাব যদি লক্ষ্যচ্যুত হয়ে থাকে, তবে নীসন 1 তারিখ পরবর্তী দিন 5 মার্চ, 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ হত I যেভাবেই হোক যিরূশালেম পুনস্থাপনের পার্সিয়ান হুকুমটি মার্চ 4 বা 5, তারিখে 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে জারি করা হয়ে থাকবে I 

এই তারিখে দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের 476 বছর যোগ করলে আমাদের কাছে নিয়ে আসে মার্চ 4 বা 5, 33 খ্রীষ্টাব্দ (সেখানে কোনো শুন্য বৎসর নেই, আধুনিক ক্যালেন্ডারটি 1 তারিখ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে 1 তারিখ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত এক বছর চললে পাটিগণিত হয় -444 + 476 + 1 = 33) I 33 খ্রীষ্টাব্দের 4 বা 5 মার্চের সঙ্গে দানিয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী করা সময়ের বাকি 25 দিন যোগ করলে আমাদেরকে 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 29 বা 30 দেয়, যাকে নিচের কালপঞ্জির মধ্যে চিত্রিত করা হয়েছে I 33 খ্রীষ্টাব্দের মার্চ 29 ছিল রবিবার –  তালপাতার রবিবার  – সেই বিশেষ দিনে মসীহ বলে ঘোষণা করে ঈসা পিবিইউএইচ গাধার উপরে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I আমরা এটি জানি কারণ আগামী শুক্রবার ছিল নিস্তারপর্ব – নিস্তারপর্ব সর্বদা নীসন 14 তারিখ হত I 33 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে নীসন 14 তারিখ এপ্রিল 3 ছিল I 3 এপ্রিল শুক্রবারের 5 দিন আগে হওয়ায় তালপাতার রবিবার মার্চ 29 ছিল I        

29 মার্চ 33 খ্রীষ্টাব্দে গাধার উপরে উপবিষ্ট হয়ে যিরূশালেমে প্রবেশ করে, নবী ঈসা আল মসীহ পিবিউএইচ নবী সখরিয় এবং নবী দানিয়েলের উভয় ভবিষ্যদ্বাণীকে পূর্ণ করলেন – আজ পর্যন্ত I এটিকে নিচের কালপঞ্জিতে চিত্রিত করা হয়েছে I    

দানিয়েল মসীহর প্রকাশিত হওয়ার 173 880 দিন পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন: নহিমিয় সময়টি শুরু করেছিলেন I এটি 29 মার্চ 33 খ্রীষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল যখন ঈসা তাল পাতার রবিবারের দিনে যিরূশালেমে প্রবেশ করেছিলেন I 

এই অনেক ভবিষ্যদ্বাণীগুলো একদিনে পূর্ণ হওয়াতে স্পষ্ট চিহ্নগুলো দেখায় যাকে মসীহ সম্পর্কে আল্লাহ তার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করেছিলেন I তবে পরে সেই একই দিনে ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ নবী মশির পিবিইউএইচ  আর একটি ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ করেছিলেন I এটি করার সাথে তিনি এমন ঘটনাগুলোকে গতিশীল করলেন যা তার জিহাদকে ‘খাইয়ের’ দিকে নিয়ে যেত – তার শত্রু মৃত্যুর দিকে I আমরা পরে এটিকে দেখব I  


 [1] কিভাবে ‘খাই’ নবীদের জন্য মৃত্যুকে বোঝায় তার কয়েকটি উদাহরণ:

  15 কিন্তু সেটা ঘটেনি| তুমি ঈশ্বরের সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারো নি| তোমাকে সমাধিস্থলের গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করা হয়েছে|

যিশাইয় 14:15

  18 মৃত লোকরা আপনার প্রশংসার গান গায না| পাতালে লোকরা আপনার প্রশংসা করে না| মৃত লোকরা সাহায্যের জন্য আপনার উপর বিশ্বাস রাখে না| তারা মাটির ভেতরে একটা গর্তে চলে যায়| আর, কখনও কথা বলতে পারে না|

যিশাইয় 38:18

  22 ঐ লোকটি “গহবর” এর কাছাকাছি পৌঁছে যায়| ওর জীবনও মৃত্যুর কাছাকাছি চলে আসে|

ইয়োব 33:22

  8 তারা তোমায় টেনে কবরে নামাবে| তুমি সমুদ্রে মারা গেছে এমন নাবিকের মত হবে|

যিহিষ্কেল 28:8

 তাদের কবরগুলি গর্তের গভীরে রয়েছে এবং তার সেনাবাহিনী তার কবরের চারপাশে রয়েছে।

যিহিষ্কেল 32:23

  3 আপনি আমায় কবর থেকে টেনে তুলেছেন| আপনি আমায় বাঁচতে দিয়েছেন| মৃত্যু লোকের মৃত মানুষদের সঙ্গে আমাকে থাকতে হয় নি|

গীতসংহিতা 30:3

 [2] প্রাচীন এবং আধুনিক ক্যালেন্ডারের রূপান্তরগুলোর জন্য (উদাহরণস্বরূপ নীসন 1 তারিখ = মার্চ 4, 444 খ্রীষ্টপূর্বাব্দ) এবং প্রাচীন অমাবস্যার গণনার জন্য আমি ডা. হ্যারল্ড ডবলু. হোএনারের রচনা ক্রনোলজিক্যাল আসপেক্টস অফ দি লাইফ অফ ক্রাইস্ট. 1977. পৃষ্ঠা 177 কে ব্যবহার করেছি I