সেই দিন: আল-কারেয়া ও আল-তাকাসূর এবং মসীহ

সুরা আল-কারেয়া (সুরা 101 – বিপর্যয়) বিচারের আসন্ন দিনের এইভাবে বর্ণনা করে: 

2 করাঘাতকারী কি? 3 করাঘাতকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন ? 4 যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতংগের মত 5 এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গীন পশমের মত। 6 অতএব যার পাল্লা ভারী হবে, 7 সে সুখীজীবন যাপন করবে। 8 আর যার পাল্লা হালকা হবে, 9 তার ঠিকানা হবে হাবিয়া।

আল-কারেয়া 101:2-9

সুরা আল-কারেয়া আমাদের বলে যে যাদের কাছে ভাল কাজের এটি ভারী ভারসাম্য আছে তারা বিচারের দিনে ভাল করতে আশা করতে পারে I  

তবে আমাদের মধ্যে তাদের সম্বন্ধে কি হবে যাদের ভাল কাজের ভারসাম্য হাল্কা?

সুরা আত-তাকাসূর (সুরা 102 – পৃথিবীতে প্রতিদ্বন্দিতা বাড়ছে) আমাদের সতর্ক করে

1 প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে 2 এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌছে যাও। 3 এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। 4 অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। 5 কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে। 6 তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে, 7 অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, 8 এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।  

আত-তাকাসূর 102:1-8

সুরা আল-তাকাসূর আমাদের বলে যে নরকের আগুন বিচারের দিনে আমাদের হুমকি দেয় যখন আমাদের ‘প্রশ্ন’ করা হবে I   

আমাদের ভাল কাজের ভারসাম্য যদি হাল্কা হয়ে থাকে তবে আমরা কি সেই  দিনের জন্য প্রস্তুত করতে পারি?

নবী ঈসা আল মসীহ আমাদের মধ্যে তাদেরকে বিশেষভাবে সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কাছে ভাল কাজের একটি হাল্কা ভারসাম্য আছে I তিনি সুসমাচারের মধ্যে বললেন যে 

35 যীশু তাদের বললেন, ‘আমিই সেই রুটি যা জীবন দান করে৷ য়ে কেউ আমার কাছে আসে সে কখনও ক্ষুধার্ত হবে না, কখনও তার পিপাসা পাবে না৷
36 কিন্তু আমি তোমাদের সত্যি বলছি, তোমরা আমায় দেখেছ অথচ আমায় বিশ্বাস কর না৷
37 পিতা আমাকে যাদের দেন, তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে আসবে৷ আর যাঁরা আমার কাছে আসে, আমি তাদের কখনই ফিরিয়ে দেব না৷
38 কারণ আমি আমার খুশী মত কাজ করতে স্বর্গ থেকে নেমে আসি নি, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করতে এসেছি৷
39 যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ইচ্ছা এই য়ে যাদের তিনি আমায় দিয়েছেন তাদের একজনকেও য়েন আমি না হারাই; বরং শেষ দিনে য়েন তাদের সকলকে আমি উত্থিত করি৷
40 আমার পিতা এই চান, য়ে কেউ তাঁর পুত্রকে দেখে ও তাতে বিশ্বাস করে, সে য়েন অনন্ত জীবন লাভ করে; আর আমিই তাকে শেষ দিনে ওঠাব৷’
41 তখন ইহুদীরা যীশুর সম্পর্কে গুঞ্জন শুরু করল, কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘আমিই সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে৷’
42 তারা বলল, ‘তিনি কি য়োষেফের ছেলে নন? আমরা কি এর বাবা মাকে চিনি না? তাহলে এখন কেমন করে তিনি বলছেন, ‘আমি স্বর্গ থেকে নেমে এসেছি?’
43 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘নিজেদের মধ্যে ওসব বচসা বন্ধ কর৷
44 যিনি আমায় পাঠিয়েছেন সেই পিতা না আনলে কেউই আমার কাছে আসতে পারে না; আর আমিই তাকে শেষ দিনে জীবিত করে তুলব৷
45 ভাববাদীদের পুস্তকে লেখা আছে: ‘তারা সকলেই ঈশ্বরের কাছে শিক্ষা লাভ করবে৷’য়ে কেউ পিতার কাছে শুনে শিক্ষা পেয়েছে সেই আমার কাছে আসে৷
46 আমি বলছি না য়ে, কেউ পিতাকে দেখেছেন৷ কেবলমাত্র যিনি পিতার কাছ থেকে এসেছেন তিনিই পিতাকে দেখেছেন৷
47 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, য়ে কেউ বিশ্বাস করেছে সেই অনন্ত জীবন পেয়েছে৷
48 আমিই সেই রুটি যা জীবন দেয়৷
49 তোমাদের পিতৃপুরুষেরা মরুপ্রান্তরে মান্না খেয়েছিল, কিন্তু তবু তারা মারা গিয়েছিল৷
50 এ সেই রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে আসে, আর কেউ যদি তা খায়, তবে সে মরবে না৷
51 আমিই সেই জীবন্ত রুটি যা স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে৷ কেউ যদি এই রুটি খায় তবে সে চিরজীবি হবে৷ য়ে রুটি আমি দেব তা হল আমার দেহের মাংস৷ তা আমি দিই যাতে জগত জীবন পায়৷’

যোহন 6:35-51

মবি ঈসা আল মসীহ দাবি করেছিলেন যে তিনি ‘স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন’ এবং যে তিনি যে কোনো কাউকে ‘অনন্ত জীবন’ দেবেন যারা তাকে বিশ্বাস করে I যে যিহূদিরা তার কথা শুনল তারা দাবি করল তিনি তার কর্ত্তৃত্বের প্রমাণ দিন I নবী পূর্ববর্তী নবীদের উল্লেখ করলেন যারা তার আগমন এবং কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন I আমরা দেখতে পারি কিভাবে মুসার তাওরাত তার আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এছাড়াও মুসা পিবিইউএইচের পরে নবীরাও I তবে ‘তাকে বিশ্বাস করা’ বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I  

এছাড়াও ঈসা আল মসীহ নিরাময়ের চিহ্ন সমুহের মাধ্যমে এবং প্রকৃতির উপরে তাঁর কর্ত্তৃত্ব দেখিয়েছিলেন I তিনি তাঁর শিক্ষায় ব্যাখ্যা করেছিলেন I 

14 পর্বের আধা-আধি সময়ে যীশু মন্দিরে গিয়ে লোকদের মাঝে শিক্ষা দিতে লাগলেন৷
15 ইহুদীরা এতে খুব আশ্চর্য হয়ে বলল, ‘এই লোক কোন কিছু অধ্যয়ন না করেই কি ভাবে এত সব জ্ঞান লাভ করল?’
16 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা শিক্ষা দিই তা আমার নিজস্ব নয়৷ যিনি আমায় পাঠিয়েছেন এসব সেই ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওযা৷
17 যদি কেউ ঈশ্বরের ইচ্ছা পালন করতে চায় তাহলে সে জানবে আমি যা শিক্ষা দিই তা ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে, না আমি নিজের থেকে এসব কথা বলছি৷
18 যদি কেউ নিজের ভাবনার কথা নিজে বলে, তাহলে সে নিজেই নিজেকে সম্মানিত করতে চায়; কিন্তু য়ে তার প্রেরণ কর্তার গৌরব চায়, সেই লোক সত্যবাদী, তার মধ্যে কোন অসাধুতা নেই৷
19 মোশি কি তোমাদের কাছে বিধি-ব্যবস্থা দেন নি? কিন্তু তোমরা কেউই সেই বিধি-ব্যবস্থা পালন কর না৷ তোমরা কেন আমাকে হত্যা করতে চাইছ?’
20 জনতা উত্তর দিল, ‘তোমাকে ভূতে পেয়েছে, কে তোমাকে হত্যা করতে চাইছে?’
21 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি একটা অলৌকিক কাজ করেছি, আর তোমরা সকলে আশ্চর্য হয়ে গেছ৷
22 মোশিও তোমাদের সুন্নতের বিধি-ব্যবস্থা দিয়েছিলেন৷ যদিও মুলতঃ সেই বিধি-ব্যবস্থা মোশির নয় কিন্তু এই বিধি-ব্যবস্থা প্রাচীন পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে এসেছে৷ আর তোমরা এমনকি বিশ্রামবারেও শিশুদের সুন্নত করে থাকো৷
23 মোশির বিধি-ব্যবস্থা য়েন লঙঘন করা না হয়, এই যুক্তিতে বিশ্রামবারেও যদি কোন মানুষের সুন্নত করা চলে, তাহলে আমি বিশ্রামবারে একটা মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছি বলে তোমরা আমার ওপর এত ক্রুদ্ধ হয়েছ কেন?
24 বাহ্যিকভাবে কোন কিছু দেখেই তার বিচার করো না৷ যা সঠিক সেই হিসাবেই ন্যায় বিচার কর৷’
25 তখন জেরুশালেমের লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘এই লোককেই না ইহুদী নেতারা হত্যা করতে চাইছে?
26 কিন্তু দেখ! এ তো প্রকাশ্যেই শিক্ষা দিচ্ছে; কিন্তু তারা তো এঁকে কিছুই বলছে না৷ এটা কি হতে পারে য়ে নেতারা সত্যিই জানে য়ে, ইনি সেই খ্রীষ্ট?
27 আমরা জানি ইনি কোথা থেকে এসেছেন; কিন্তু মশীহ যখন আসবেন তখন কেউ জানবে না তিনি কোথা থেকে এসেছেন৷’
28 তখন যীশু মন্দিরে শিক্ষা দিতে দিতে বেশ চেঁচিয়ে বললেন, ‘তোমরা আমায় জান, আর আমি কোথা থেকে এসেছি তাও তোমরা জান৷ তবু বলছি, আমি নিজের থেকে আসি নি, তবে যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য; আর তোমরা তাঁকে জান না৷
29 কিন্তু আমি তাঁকে জানি, কারণ তিনি আমায় পাঠিয়েছেন৷ আমি তাঁরই কাছ থেকে এসেছি৷’
30 তখন তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য চেষ্টা করতে লাগল৷ তবু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না, কারণ তখনও তাঁর সময় আসে নি৷
31 কিন্তু সেই জনতার মধ্যে থেকে অনেকেই তাঁর ওপর বিশ্বাস করল; আর বলল, ‘মশীহ এসে কি তাঁর চেয়েও বেশী অলৌকিক চিহ্ন করবেন?’
32 ফরীশীরা শুনল য়ে সাধারণ লোক যীশুর বিষয়ে চুপি চুপি এই সব আলোচনা করছে৷ তখন প্রধান যাজকেরা ও ফরীশীরা যীশুকে ধরে আনবার জন্য মন্দিরের কয়েকজন পদাতিককে পাঠাল৷
33 তখন যীশু বললেন, ‘আমি আর অল্প কিছুকাল তোমাদের সঙ্গে আছি; তারপর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর কাছে ফিরে যাব৷
34 তোমরা আমার খোঁজ করবে, কিন্তু আমার খোঁজ পাবে না, কারণ আমি য়েখানে থাকব তোমরা সেখানে আসতে পারো না৷’
35 ইহুদী নেতারা তখন পরস্পর বলাবলি করতে লাগল, ‘সে এখন কোথায় যাবে য়ে আমরা ওকে খুঁজলেও পাব না? গ্রীকদের শহরে য়ে সব ইহুদীরা বসবাস করছে, ও কি তাদের কাছে যাবে আর সেখানে গিয়ে গ্রীকদেব কাছে শিক্ষা দেবে? নিশ্চয়ই নয়৷
36 ও য়ে কথা বলল তার মানে কি য়ে, ‘তোমরা আমার খোঁজ করবে কিন্তু আমায় পাবে না৷’ আর ‘আমি য়েখানে যাব, তোমরা সেখানে আসতে পার না?’
37 পর্বের শেষ দিন, য়ে দিনটি বিশেষ দিন, সেই দিন যীশু উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘কারোর যদি পিপাসা পেয়ে থাকে তবে সে আমার কাছে এসে পান করুক৷
38 শাস্ত্রে এ কথা বলে, য়ে আমার ওপর বিশ্বাস করে তার অন্তর থেকে জীবন্ত জলের নদী বইবে৷’
39 যীশু পবিত্র আত্মা সম্পর্কে এই কথা বললেন, ‘সেই পবিত্র আত্মা তখনও দেওযা হয় নি, কারণ যীশু তখনও মহিমান্বিত হন নি; কিন্তু পরে যাঁরা যীশুকে বিশ্বাস করে তারা সেই আত্মা পাবে৷’
40 সমবেত জনতা যখন এই কথা শুনল তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, ‘ইনি সত্যিই সেই ভাববাদী৷’
41 অন্যরা বলল, ‘ইনি মশীহ (খ্রীষ্ট)৷’এ সত্ত্বেও কেউ কেউ বলল, ‘খ্রীষ্ট গালীলী থেকে আসবেন না৷
42 শাস্ত্রে কি একথা লেখা নেই য়ে খ্রীষ্টকে দাযূদের বংশধর হতে হবে; আর দাযূদ য়ে বৈত্‌লেহম শহরে থাকতেন, তিনি সেখান থেকে আসবেন?’
43 তাঁর জন্য এইভাবে লোকদের মধ্যে মতভেদের সৃষ্টি হল৷
44 কেউ কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চাইল; কিন্তু কেউ তাঁর গায়ে হাত দিতে সাহস করল না৷

যোহন 7:14-44

জীবন্ত জল সম্পর্কে তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা ছিল আত্মা, যিনি পেন্টেকোষ্টে এসেছিলেন, এবং এখন বিচারের দিনের মৃত্যু থেকে আমাদের রক্ষা করতে বিনামূল্যে জীবন দেন I আমাদেরকে কেবলমাত্র আমাদের তৃষ্ণাকে স্বীকার করতে হবে

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবইউএইচ) এক ‘হারিয়ে যাওয়া’ বিশ্বাসঘাতককে রক্ষা করেন

সুরা আশ-শুরা (সুরা 42) – পরামর্শ) আমাদের বলে

এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

সুরা আশ-শুরা 42:23

এরই সুসংবাদ দেন আল্লাহ তার সেসব বান্দাকে, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে। বলুন, আমি আমার দাওয়াতের জন্যে তোমাদের কাছে কেবল আত্নীয়তাজনিত সৌহার্দ চাই। যে কেউ উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্যে তাতে পুণ্য বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, গুণগ্রাহী।

তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

সুরা আশ-শুরা 42:26

তিনি মুমিন ও সৎকর্মীদের দোয়া শোনেন এবং তাদের প্রতি স্বীয় অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেন। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

অনুরূপভাবে সুরা আল-কাসাস (সুরা 28 – গল্প) ঘোষণা করে

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে।

সুরা আল-কাসাস 28:67

তবে যে তওবা করে, বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আশা করা যায়, সে সফলকাম হবে। তবে কি যদি আমরা ‘ন্যায়নিষ্ঠা না করে থাকি’. ‘সৎকর্ম সম্পাদন না করে থাকি’, এবং ভাল পরিষেবায় কম পড়ে গিয়ে থাকি? মশির ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছিল এবং যে কোনো কম পড়ার জন্য ‘ভয়ংকর শাস্তি’ যেগুলোকে সুরা আশ-শুরা এবং সুরা আল-কাসাসের মধ্যে এই আয়াতগুলো সুনিশ্চিত করেছে I ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ আনন্দের সংবাদ সেই লোকেদের জন্য ছিল যারা এই আয়াতগুলোর মধ্যে বর্ণিত সৎকর্মগুলোর থেকে লক্ষ্যচ্যুত হয়েছিল I আপনি কি একজন যিনি নিখুঁতভাবে ন্যায়নিষ্ঠা করেন নি? তাহলে ঈসা মসীহর সঙ্গে একজন মানুষের সাক্ষাৎকার পড়ুন যে কোনো কিছুই ন্যায়নিষ্ঠ কার্য করেনি – যে এমনকি একজন বিশ্বাসঘাতকও ছিল I     

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) লাসারকে মৃত্যু থেকে জীবনে ফিরিয়ে এনেছিলেন – তাঁর মিশনের উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করতে – মৃত্যুকে স্বয়ং ধ্বংস  করতে I তাঁর মিশনকে সম্পূর্ণ করতে এখন তিনি যিরূশালেমের উদ্দেশ্যে তাঁর যাত্রাপথে ছিলেন I পথে তিনি যিরীহোর মধ্য দিয়ে গেলেন (যেটি আজ প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরে রয়েছে) I তাঁর অনেক অলৌকিক ঘটনা সমূহ এবং শিক্ষার কারণে এক বৃহৎ ভীড় তাঁকে দেখতে বের হয়ে এল I সেই ভীড়ের মধ্যে একজন ধনী কিন্তু নিন্দিত লোক ছিল – সখরিয় I সে ধনী ছিল কারণ সে একজন কর আদায়কারী ছিল রোমীয়দের জন্য যারা সামরিক শক্তির দ্বারা যিহূদিয়াকে দখল করেছিল I রোমীয়দের প্রয়োজনের তুলনায় সে অধিক কর আদায় করত – এবং অতিরিক্ত তার নিজের জন্য রেখে দিত I সে যিহূদিদের দ্বারা নিন্দিত হয়েছিল কারণ, নিজে একজন যিহূদি হওয়া সত্ত্বেও, সে রোমীয় দখলকারীদের জন্য কাজ করছিল এবং তার নিজের লোকেদের ঠকাচ্ছিল I তার  লোকেদের কাছে তাকে একজন বিশ্বাসঘাতক হিসাবে দেখা হত I    

অতএব সখরিয়, বেঁটে হওয়াতে, নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) কে ভীড়ের মধ্যে দেখতে পেল না, এবং সেখানে কেউ তাকে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ছিল না I কিভাবে সে নবীর সাথে দেখা করল এবং কি কথা হল ইঞ্জিল তা লিপিবদ্ধ করে:  

  শু যিরীহো শহরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন৷
2 সেখানে সক্কেয় নামে একজন লোক ছিল৷ সে ছিল একজন উচ্চ-পদস্থ কর আদায়কারী ও খুব ধনী ব্যক্তি৷
3 কে যীশু তা দেখার জন্য সক্কেয় খুবই চেষ্টা করছিল, কিন্তু বেঁটে হওযাতে ভীড়ের জন্য যীশুকে দেখতে পাচ্ছিল না৷
4 তাই সবার আগে ছুটে গিয়ে য়ে পথ ধরে যীশু আসছিলেন, সেই পথের পাশে একটা সুকমোর গাছে উঠল যাতে সেখান থেকে যীশুকে দেখতে পায়৷
5 যীশু সেখানে এসে ওপর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘সক্কেয় তাড়াতাড়ি নেমে এস, কারণ আজ আমায় তোমার ঘরে থাকতে হবে৷’
6 সক্কেয় তাড়াতাড়ি নেমে এসে মহানন্দে যীশুকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অভ্যর্থনা জানাল৷
7 সেখানে যাঁরা ছিল, এই দেখে তারা সকলে অনুয়োগের সুরে বলল, ‘উনি একজন পাপীর ঘরে অতিথি হয়ে গেলেন৷’
8 কিন্তু সক্কেয় উঠে দাঁড়িয়ে প্রভুকে বলল, ‘প্রভু দেখুন, আমি আমার সম্পদের অর্ধেক গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দেব, আর যদি কাউকে ঠকিয়ে থাকি তবে তার চতুর্গুণ ফিরিয়ে দেব৷’
9 যীশু তাকে বললেন, ‘আজ এই বাড়িতে পরিত্রাণ এসেছে, য়েহেতু এই মানুষটি অব্রাহামের পুত্র৷
10 কারণ যা হারিয়ে গিয়েছিল তা খুঁজে বের করতে ও উদ্ধার করতেই মানবপুত্র এ জগতে এসেছেন৷’

লুক 19:1-10

নবী যা করলেন লোকেরা তা পচ্ছন্দ করল না – নিজের দ্বারা সখরিয়র বাড়িতে নিমন্ত্রণ চাইতে I সখরিয় মন্দ ছিল এবং প্রত্যেকে এটি জানত I তবে সখরিয় বুঝতে পেরেছিল যে সে একজন পাপী ছিল I আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ আমাদের পাপকে লুকোই, তাদেরকে ঢেকে রাখি বা ভান করি যে আমাদের কোনো পাপ নেই I তবে সখরিয় নয় I সে বুঝতে পেরেছিল যে সে যা করছিল তা অন্যায় ছিল I তবুও যখন সে নবীর সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিল, ঈসা আল মসীহর প্রতিক্রিয়া এত উষ্ণ ছিল যে এটি প্রত্যেককে বিস্মিত করেছিল I 

নবী ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) চাইলেন সখরিয় অনুতাপ করুক, পাপের থেকে ফিরুক, এবং তাঁকে ‘মসীহ’ মনে করে তার দিকে ফিরুক I যখন সখরিয় এটি করল সে দেখত পেল যে নবী (পিবিইউএইচ) তাকে ক্ষমা করেছেন – ঘোষণা করেন যে সে ‘হারানো’ থেকে ‘উদ্ধার’ পেয়েছে I

আপনার এবং আমার সম্বন্ধে কি? আমরা হয়ত সখরিয়র মতন এই ধরণের লজ্জাজনক জিনিস করিনি তবে যেহেতু আমরা এতটা খারাপ নই, আমাদের মনে হয় যে আমরা যে ‘অল্প’ পাপ এবং ‘ভুল’ করি তা আদমের মতন লুকোতে পারি, ঢাকতে পারি বা অজুহাত দিতে পারি I আশা করি আমরা আমাদের মন্দ কাজের জন্য মূল্য দিতে আমরা যথেষ্ট ভাল জিনিস করতে পারি I যে ভীড় নবীকে দেখতে এসেছিল তারা সেটাই ভেবেছিল I অতএব ঈসা তাদের কারোর বাড়িতে নিজের নিমন্ত্রণ নেন নি আর নাতো তাদের মধ্যে কাউকে ‘উদ্ধারিত’ বলে ঘোষণা করেছেন – কেবল সখরিয় ছাড়া I সেগুলো লুকোবার জন্য চেষ্টা না করে আমাদের পাপের জন্য আল্লাহর সামনে স্বীকার করা আমাদের পক্ষে অনেক ভাল I তখন ঈসা আল মসীহর করুণার জন্য আমাদের নিজেদের পৌঁছাবার সাথে সাথে আমরা দেখব যে আমরা যা কল্পনা করতে পারি তার চেয়েও অধিক ক্ষমা এবং মার্জনা আমাদেরকে দেওয়া হবে I                 

কিন্তু কিভাবে সখরিয়র খারাপ কার্যগুলোকে মুছে ফেলা যেতে পারে যাতে করে সে সেই মুহূর্ত থেকে ক্ষমার আশ্বাসন পেতে পারে – বিচারের দিনের জন্য  অপেক্ষা না করে? তাঁর মিশনকে সম্পূর্ণ করার উদ্দেশ্যে তাঁর যিরূশালেমে অবরিত থাকাকালীন অবস্থায় আমরা ঈসা আল মসীহকে(পিবিইউএইচ)অনুসরণ করি I 

কর্তৃত্বের সাথে শিক্ষার দ্বারা – মসীহ প্রকাশিত হন

সুরাহ-আল-‘আলাক (সুরাহ 96 – চাপ) আমাদের বলে যে আল্লাহ আমাদের নতুন জিনিস সেখান যা আমরা আগে শিখি নি I

जिसने क़लम के ज़रिए तालीम दीउसीने इन्सान को वह बातें बतायीं जिनको वह कुछ जानता ही न था

সুরাহ আল-আলাক 96-4-5

সুরাহ আর-রাম (সুরাহ 30 – রোমীয়) আরও ব্যাখ্যা করে যে আল্লাহ ভাববাদীদের বার্তা দিয়ে এইরকম করে যাতে আমরা আমরা বুঝতে পারি ঈশ্বরের সত্য উপাসনা থেকে কোথায় আমরা ভুল করছি I   

 আমি কি তাদের কাছে এমন কোন দলীল নাযিল করেছি, যে তাদেরকে আমার শরীক করতে বলে?

সুরাহ আর-রাম 30:35

এই ভাববাদীদের ঈশ্বরের থেকে আমাদের কাছে প্রকাশ করার ক্ষমতা রয়েছে ঈশ্বরের সাথে আমাদের ভুল সম্পর্কগুলো কোথায়, তা আমাদের চিন্তাভাবনায়, কথাবার্তায় বা আমাদের আচরণে I ভাববাদী ইসা আল মসীহ এই ধরণের একজন শিক্ষক ছিলেন এবং অনন্য কর্ত্তৃত্ব ছিল এমনকি আমাদের আন্তরিক চিন্তাভাবনাকে বার করে আনার যাতে আমরা আমাদের ভেতরের যে কোনো ভুল থেকে ফিরে আসতে পারি I আমরা এটিকে এখানে দেখব I পরে আমরা তার কর্তৃত্বের চিহ্নকে দেখব যা অলৌকিক নিরাময়ের মধ্য দিয়ে দেওয়া  হয়েছিল I  

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) শয়তানের (ইবলিস) দ্বারা প্রলোভিত হওয়ার পরে তিনি একজন ভাববাদী রূপে শিক্ষা দানের মাধ্যমে সেবাকার্য আরম্ভ করলেন I ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ তার দীর্ঘতম শিক্ষাকে পাহাড়ের উপরে শিক্ষা বলা   হয় I আপনি পাহাড়ের উপরে শিক্ষাটিকে সম্পূর্ণ রূপে এখানে পড়তে পারেন I আমরা নিচে লক্ষ্যণীয় বিষয়গুলো দিই, এবং তারপরে মসি তৌরাতে যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তার সাথে ঈসা অল মসীহর শিক্ষার সাথে একটি সংযোগ স্থাপন করি i  

ঈসা আল মসীহ (পিবিইউএইচ) নিম্নলিখিত শিক্ষা দিলেন:

  21 ‘তোমরা শুনেছ, আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বলা হয়েছিল, ‘নরহত্যা করো না;আর কেউ নরহত্যা করলে তাকে বিচারালয়ে তার জবাবদিহি করতে হবে৷
22 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, যদি কেউ কোনো লোকের প্রতি ক্রুদ্ধ হয় বিচারে তাকে তার জবাবদিহি করতে হবে৷ আর কেউ যদি কোন লোককে বলে, ‘ওরে মূর্খ’ (অর্থাত্ নির্বোধ) তবে তাকে ইহুদী মহাসভার সামনে তার জবাব দিতে হবে৷ কেউ যদি কাউকে বলে ‘তুমি পাষণ্ড,’ তবে তাকে নরকের আগুনেই তার জবাব দিতে হবে৷
23 ‘মন্দিরে যজ্ঞবেদীর সামনে নৈবেদ্য উত্‌সর্গ করার সময় যদি তোমার মনে পড়ে য়ে তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভাইয়ের কোন অভিযোগ আছে,
24 তবে সেই নৈবেদ্য যজ্ঞবেদীর সামনে রেখে চলে যাও, প্রথমে গিয়ে তার সঙ্গে সে বিষয়ে মিটমাট করে নাও, পরে এসে তোমার নৈবেদ্য উত্‌সর্গ কোরো৷
25 ‘তোমার শত্রু যদি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করতে চায় তবে আদালতে নিয়ে যাবার সময় পথেই তার সঙ্গে তাড়াতাড়ি মিটমাট করে ফেল; তা না হলে সে তোমাকে বিচারকের হাতে তুলে দেবে, বিচারক তোমাকে রক্ষীর হাতে দেবে আর রক্ষীরা তোমাকে কারাগারে পাঠাবে৷
26 আমি তোমায় সত্যি বলছি, সেখান থেকে তুমি ছাড়া পাবে না, যতক্ষণ না তোমার দেনার শেষ পয়সাটা চুকিয়ে দাও৷
27 তোমরা শুনেছ, একথা বলা হয়েছে: ‘য়ৌনপাপ করো না৷’
28 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি কেউ যদি কোন স্ত্রীলোকের দিকে লালসাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় তবে সে মনে মনে তার সঙ্গে য়ৌন পাপ করল৷
29 সেই রকম তোমার ডান চোখ যদি পাপ করার জন্য তোমায় প্ররোচিত করে তবে তা উপড়ে ফেলে দাও৷ সমস্ত দেহ নিয়ে নরকে যাওয়ার চেয়ে বরং তার একটা অংশ হারানো তোমার পক্ষে ভালো৷
30 যদি তোমার ডান হাত পাপ করতে প্ররোচিত করে, তবে তা কেটে ফেলে দাও৷ তোমার সমস্ত শরীর নরকে যাওয়ার চেয়ে বরং তার একটা অঙ্গ নষ্ট হওয়া তোমার পক্ষে ভালো৷
31 ‘আবার বলা হয়েছে, ‘কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করতে চায়, তবে তাকে ত্যাগপত্র দিতে হবে৷
32 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, একমাত্র য়ৌনপাপের দোষ ছাড়া অন্য কোন কারণে কেউ যদি তার স্ত্রীকে ত্যাগ করে, তবে সে তাকে ব্যাভিচারিণী হবার পথে নামিয়ে দেয়৷ আর য়ে কেউ সেই পরিত্যক্তা স্ত্রীকে বিয়ে করে সেও য়ৌনপাপ করে৷
33 ‘তোমরা একথা ও শুনেছ, আমাদের পিতৃপুরুষদের বলা হয়েছিল, ‘তোমরা ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে য়ে সব প্রতিশ্রুতি কর তা ভেঙ্গো না, তোমাদের কথা মতো সে সবই পূর্ণ করো৷’
34 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমরা কোন শপথইকরো না৷ স্বর্গের নামে করো না, কারণ তা ঈশ্বরের সিংহাসন৷
35 পৃথিবীর নামে শপথ করো না, কারণ পৃথিবী ঈশ্বরের পাদপীঠ৷ জেরুশালেমের নামেও শপথ করো না, কারণ তা হল মহান রাজার নগরী৷
36 এমন কি তোমার মাথার দিব্যিও দিও না, কারণ তোমার মাথার একগাছা চুল সাদা কি কালো করার ক্ষমতা তোমার নেই ৷
37 তোমাদের কথার ‘হ্যাঁ’ য়েন ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ য়েন ‘না’ হয়, এছাড়া অন্য আর যা কিছু তা মন্দের কাছ থেকে আসে৷
38 ‘তোমরা শুনেছ, একথা বলা হয়েছে য়ে, ‘চোখের বদলে চোখ ও দাঁতের বদলে দাঁত৷’
39 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, দুষ্ট লোকদের প্রতিরোধ করো না, বরং কেউ যদি তোমার ডান গালে চড় মারে, তবে তার দিকে অপর গালটিও বাড়িয়ে দিও৷
40 কেউ যদি তোমার পাজামা নেবার জন্য আদালতে মামলা করতে চায়; তবে তাকে তোমার ধূতিটাও ছেড়ে দিও৷
41 যদি কেউ তার বোঝা নিয়ে তোমাকে এক মাইল পথ য়েতে বাধ্য করে, তার সঙ্গে দু মাইল য়েও৷
42 কেউ যদি তোমার কাছ থেকে কিছু চায়, তাকে তা দিও৷ তোমার কাছ থেকে কেউ ধার চাইলে তাকে তা দিতে অস্বীকার করো না৷
43 ‘তোমরা তাদের বলতে শুনেছ, ‘তোমার প্রতিবেশীকে ভালবাসো,শত্রুকে ঘৃণা করো৷
44 কিন্তু আমি তোমাদের বলছি, তোমাদের শত্রুদের ভালবাসো৷ যাঁরা তোমাদের প্রতি নির্য়াতন করে তাদের জন্য প্রার্থনা করো,
45 য়েন তোমরা স্বর্গের পিতার সন্তান হতে পার৷ তিনি তো ভাল মন্দ সকলের উপর সূর্য়্য়ালোক দেন, ধার্মিক অধার্মিক সকলের উপর বৃষ্টি দেন৷
46 আমি একথা বলছি, কারণ যাঁরা তোমাদের ভালবাসে তোমরা যদি কেবল তাদেরইভালবাস, তবে তোমরা কি পুরস্কার পাবে? কর আদায়কারীরাও কি তাইকরে না?
47 তোমরা যদি কেবল তোমাদের ভাইদেরইশুভেচ্ছা জানাও, তবে অন্যদের থেকে আর বেশী কি করলে? বিধর্মীরাও তো এমন করে থাকে৷
48 তাই তোমাদের স্বর্গের পিতা য়েমন সিদ্ধ তোমরাও তেমন সিদ্ধ হও৷

মথি 5:21-48

মসীহ এবং পাহাড়ের উপর শিক্ষা 

ঈসা আল মসীহ ফর্ম দিয়ে শুরু করেছিলেন “তোমরা শুনেছ যে এটা বলা হয়েছিল … কিন্তু আমি তোমাদের বলছি …” I এই সংরচনার মধ্যে তিনি প্রথমে তৌরাত থেকে উদ্ধৃত করেন, এবং পরে আজ্ঞার ক্ষেত্রটিকে উদ্দেশ্য, চিন্তধারা এবং কথা সমূহের দিকে প্রসারিত করেন I ঈসা আল মসীহ ভাববাদী মশির কঠোর আজ্ঞা সমূহকে গ্রহণ করে শিখিয়েছিলেন এবং সেগুলোকে পালন করা এমনকি আরও কঠিন সেই রূপে প্রস্তুত করেছিলেন! 

তবে এছাড়াও যেটি উল্লেখযোগ্য তা হল যে উপায়ে তিনি তৌরাতের আজ্ঞাগুলোকে প্রসারিত করেছেন I তিনি তার নিজের কর্তৃত্বের ভিত্তির উপরে এইটি করেন I তিনি শুধুমাত্র বলেন ‘কিন্তু আমি তোমাদের বলছি …’ এবং এটি দিয়ে তিনি আজ্ঞার পরিধিকে বিস্তার করেন I এটি একটি বিষয় যা তার শিক্ষার বিষয়ে খুব অনন্য ছিল I যেমনটি ইঞ্জিল বলেছে যখন তিনি এই উপদেশ শেষ করলেন I

 

28 যীশু যখন এই সব কথা বলা শেষ করলেন, তখন জনতা তাঁর এই সব শিক্ষা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে গেল৷
29 কারণ যীশু একজন ব্যবস্থার শিক্ষকের মতো শিক্ষা দিচ্ছিলেন না, বরং যার অধিকার আছে সেইরকম লোকের মতোইশিক্ষা দিচ্ছিলেন৷

মথি 7:28-29

প্রকৃতপক্ষে, ঈসা আল মসীহ এমন এক ব্যক্তির মতন শিক্ষা দিয়েছিলেন যার কাছে মহান কর্তৃত্ব ছিল I বেশিরভাগই ভাববাদীরা বার্তাবাহক ছিলেন যারা আল্লাহর থেকে পাওয়া একটি বার্তা দিয়েছিলেন, কিন্তু এখানে এটি আলাদা   ছিল I ঈসা আল মসীহ কেন এইরকম করলেন? যেরকম আমরা এখানে দেখলাম ‘মসীহ’ শিরোনামটিকে আগত একজনের সম্পর্কে যাবুরের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল, তার কাছে মহান কর্তৃত্ব ছিল I যাবুরের গীতসংহিতা 2, যেখানে ‘মসীহ’ শিরোনামটিকে প্রথমে দেওয়া হয়েছিল বর্ণনা করে আল্লাহ নিম্নলিখিত ভাবে মসীহর সাথে কথা বলছেন   

  8 যদি তুমি আমার কাছে চাও, আমি সমগ্র জাতিগুলি তোমার হাতে দিয়ে দেব!

গীতসংহিতা 2:8

মসীহকে জাতিগণের উপরে কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল, এমনকি পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত I সুতরাং মসীহ হিসাবে ঈসা যেমন করেছিলেন সেইভাবে শিক্ষা দেওয়ার তার কাছে কর্তৃত্ব ছিল I

ভাববাদী এবং পাহাড়ের উপরে উপদেশ

বাস্তবে, আমরা এখানে যেরকম দেখেছি, তৌরাতের মধ্যে, ভাববাদী মশি (পিবিইউএইচ) ‘ভাববাদীর’ আগমন সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যাকে তার শিক্ষাদানের আলোকে খেয়াল রাখা যাবে I মশি লিখলেন 

  18 আমি তাদের কাছে তোমার মতোই একজন ভাববাদী পাঠাব| এই ভাববাদী তাদের লোকদের মধ্যেই একজন হবে| সে য়ে কথা অবশ্যই বলবে সেটা আমি তাকে বলে দেব| আমি যা আদেশ করি তার সমস্ত কিছু সে লোকদের বলবে|
19 এই ভাববাদী আমার জন্যই বলবে এবং যখন সে কথা বলবে, যদি কোন ব্যক্তি আমার আদেশ না শোনে তাহলে আমি সেই ব্যক্তিকে শাস্তি দেব|’

দ্বিতীয় বিবরণ 18:18-19

যেভাবে তিনি শিক্ষা দিয়েছিলেন, ঈসা মসীহ হিসাবে তার কর্তৃত্বটি ব্যবহার করছিলেন এবং মশির আগত ভাববাদীর ভাববাণীকে পূরণ করছিলেন যিনি মহান কর্তৃত্বের সঙ্গে শিক্ষা দেবেন I তিনি ছিলেন উভয়ই মসীহ এবং ভাববাদী I

আপনি এবং আমি এবং পাহাড়ের উপর উপদেশ

কিভাবে আপনার আনুগত্য করা উচিত তা দেখার জন্য যদি আপনি এই পাহাড়ের উপরে উপদেশটি মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করেন তবে আপনি সম্ভবতঃ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন I কিভাবে কেউ এই প্রকারের আজ্ঞা সমূহের সাথে বসবাস  করতে পারে যা আমাদের হৃদয় এবং উদ্দেশ্যকে সম্বোধন করে? এই উপদেশটিতে ঈসা আল মসীহর উদ্দেশ্য কি ছিল? উত্তরটি তার সমাপ্তি বাক্য থেকে আমরা দেখতে পাই I

  48 তাই তোমাদের স্বর্গের পিতা য়েমন সিদ্ধ তোমরাও তেমন সিদ্ধ হও৷

থি 5:48

লক্ষ্য করুন যে এটি একটি আজ্ঞা, কোনো প্রস্তাব নয় I তার প্রয়োজনীয়তা  হল আমরা যেন নিখুঁত হই! কেন? কারণ ঈশ্বর নিখুত এবং আমদের যদি তার সঙ্গে স্বর্গে থাকতে হয় তবে তার থেকে কম নিখুঁত হলে চলবে না I আমরা প্রায়শই ভাবি যে মন্দ কাজের চেয়ে সম্ভবতঃ উত্তম কাজ আরও ভাল – সেটি যথেষ্ট হবে না I তবে তা যদি সহজ হত, এবং আল্লাহ আমাদের স্বর্গে প্রবেশ করতে দিতেন, তাহলে আমরা স্বর্গের পরিপূর্ণতাকে ধ্বংস করতাম এবং এটিকে আমাদের জগতের মতন বিশৃঙ্খলায় পরিনত করতাম I এটি আমাদের লালসা, লোভ ক্রোধ যা আমাদের জীবনকে এখানে ধ্বংস করে দেয় I আমরা যদি স্বর্গে যাই এবং এখনও লালসা, লোভ এবং ক্রোধকে ধরে রাখি তাহলে সেই স্বর্গ দ্রুত এই পৃথিবীর মতন হবে – আমাদের দ্বারা তৈরী সমস্যায় পরিপূর্ণ I   

আসলে, ঈসা আল মসীহর বেশিরভাগ শিক্ষাই আমাদের বাহ্যিক অনুষ্ঠানের চেয়ে আমাদের আন্তরিক হৃদয়কে ফোকাস করেছিল I বিবেচনা করুন, কিভাবে, আর একটি শিক্ষায় তিনি আমাদের আন্তরিক হৃদয়কে ফোকাস করেছেন I

20 তিনি আরও বললেন, ‘মানুষের অন্তর থেকে যা বার হয়, সেটাই মানুষকে কলুষিত করে৷
21 কারণ মানুষের ভেতর অর্থাত্ মন থেকে বার হয় কুত্‌সিত চিন্তা, লালসা, চুরি, খুন,
22 য়ৌন পাপ, লোভ, দুষ্টামি, প্রতারণা, অশ্লীলতা, ঈর্ষা, নিন্দা, অভিমান ও অহঙ্কার৷
23 এই সমস্ত খারাপ বিষয় মানুষের ভেতর থেকে বার হয় ও মানুষকে কলুষিত করে৷’  

মার্ক 7:20-23

সুতরাং আমাদের মধ্যেকার শুচিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় মানদন্ড হ’ল পরিপূর্ণতা I আল্লাহ তার নিখুঁত স্বর্গে কেবলমাত্র ‘নিখুঁত’ কে আসতে দেবেন I তবে যদিও তাত্ত্বিকভাবে সেটি শুনতে ভালো লাগে এটি প্রচুর সমস্যার উদ্ভব করে; আমরা যদি নিখুঁত না হই তবে কিভাবে আমরা স্বর্গে প্রবেশ করব? আমাদের যথেষ্ট নিখুঁত হওয়ার সম্পূর্ণ অসম্ভবতা আমাদের হতাশ করতে পারে I 

কিন্তু এটাই কি তিনি চান! যখন অমরা সর্বদা ভাল থাকতে গিয়ে হতাশ হই, যখন আমরা নিজেদের যোগ্যতার উপরে বিশ্বাস করা বন্ধ করি তখন আমরা ‘আত্মায় দরিদ্র’ হয়ে যাই I আর ঈসা আল মসীহ, সম্পূর্ণ উপদেশটি শুরু করতে গিয়ে বললেন:  

  3 ‘ধন্য সেই লোকেরা যাঁরা আত্মায় নত-নম্র, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই৷

মথি 5:3

আমাদের জন্য প্রজ্ঞার শুরুটি এই শিক্ষাগুলো আমাদের প্রয়োগ না করে খারিজ করা নয় I তারা করে! মানদন্ড হ’ল ‘নিখুঁত হওয়া’ I যেহেতু সেই মানদণ্ডটিকে আমাদের মধ্যে ডুবতে দিয়েছি এবং বুঝতে পারি যে আমরা এর পক্ষে সক্ষম নই তারপরে আমরা সরল পথটি শুরু করছি I আমরা এই সরল পথটি শুরু করি, কারণ আমাদের অপ্রতুলতা স্বীকার করে আমরা যদি মনে করি যে আমরা আমাদের নিজস্ব যোগ্যতার দ্বারা করতে পারি তবে তার চেয়ে আমরা সাহায্য গ্রহণে আরও বেশি করে প্রস্তুত হতে পারি I