সেই দিন: আল-ইনশিকাক ও আত্ব-সূর এবং মসীহ

সুরা আল-ইনশিকাক (সুরা 84 – বিসর্জন) বর্ণনা করে কিভাবে পৃথিবী এবং আকাশ কেঁপে যাবে এবং বিচারের দিনে ধ্বংস হবে I 

1 যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে 2 ও তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং আকাশ এরই উপযুক্ত 3 এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে। 4 এবং পৃথিবী তার গর্ভস্থিত সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে ও শুন্যগর্ভ হয়ে যাবে। 5 এবং তার পালনকর্তার আদেশ পালন করবে এবং পৃথিবী এরই উপযুক্ত। 6 হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে। 7 যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে 8 তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে 9 এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে 10 এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া, হবে, 11 সে মৃত্যুকে আহবান করবে 12 এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

আল-ইনশিকাক 84:1-12

সুরা আল-ইনশিকাক সাবধান করে যে যাদের কাজের রেকর্ড তার ‘দক্ষিন হস্তে’ দেওয়া না হয়, তারা সেই দিনে এক ‘জ্বলন্ত আগুনে’ প্রবেশ করবে I  

আপনি কি জানেন আপনার কাজের রেকর্ড কি আপনার দক্ষিন হস্তে দেওয়া হবে কিম্বা আপনার পেছনে? 

সুরা আত্ব-সূর (সুরা 52 – পর্বত) বিচারের দিনে পৃথিবীর ঝাঁকুনি এবং লোকের সম্বদ্ধে বিস্তৃত ভাবে বর্ণনা করে 

45 তাদেরকে ছেড়ে দিন সেদিন পর্যন্ত, যেদিন তাদের উপর বজ্রাঘাত পতিত হবে। 46 সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। 47 গোনাহগারদের জন্যে এছাড়া আরও শাস্তি রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানে না।

সুরা আত্ব-সূর 52:45-47

আপনি কি বিশ্বস্ত আপনি ‘অন্যায় করেন’ নি এবং কখনও সত্যকে ‘অসত্য (মিথ্যা) রূপে’ ব্যবহার করেছেন যাতে করে আপনি সেই দিনের বিচারে উত্তীর্ণ হতে পারেন? 

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ তাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন যারা নিশ্চিত নয় বিচারের দিনে কিভাবে তাদের কাজের রেকর্ডকে তাদের কাছে দেওয়া হবে I তিনি তাদের সাহায্য করতে এসেছিলেন যাদের কোনো সাহায্যকারী নেই I তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে বললেন:

7 তখন যীশু আবার তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; আমি মেষদের জন্য খোঁযাড়ের দরজা স্বরূপ৷
8 যাঁরা আমার আগে এসেছে তারা সব চোর ডাকাত, কিন্তু মেষরা তাদের ডাক শোনে নি৷
9 আমিই দরজা৷ যদি কেউ আমার মধ্য দিয়ে ঢোকে তবে সে রক্ষা পাবে৷ সে ভেতরে আসবে এবং বাইরে গেলে তার চারণভূমি পাবে৷
10 চোর কেবল চুরি, খুন ও ধ্বংস করতে আসে৷ আমি এসেছি, যাতে লোকেরা জীবন লাভ করে, আর য়েন তা পরিপূর্ণ ভাবেই লাভ করে৷’
11 ‘আমিই উত্তম মেষপালক৷ উত্তম পালক মেষদের জন্য তার জীবন সমর্পণ করে৷
12 কোন বেতনভূক কর্মচারী প্রকৃত মেষপালক নয়৷ মেষরা তার নিজের নয়, তাই সে যখন নেকড়ে বাঘ আসতে দেখে তখন মেষদের ফেলে রেখে পালায়৷ আর নেকড়ে বাঘ তাদের আক্রমণ করে এবং তারা ছড়িয়ে পড়ে৷
13 বেতনভূক কর্মচারী পালায়, কারণ বেতনের বিনিময়ে সে কাজ করে, মেষদের জন্য তার কোন চিন্তাই নেই৷
14 ‘আমিই উত্তম পালক৷ আমি আমার মেষদের জানি আর আমার মেষরা আমায় জানে৷ ঠিক য়েমন আমার পিতা আমাকে জানেন, আমিও আমার পিতাকে জানি; আর আমি মেষদের জন্য আমার জীবন সঁপে দিই৷
15
16 আমার এমন আরো অনেক মেষ আছে যাঁরা এই খোঁযাড়ের নয়৷ আমি অবশ্যই তাদেরও আনব, তারাও আমার কথা শুনবে আর তারা তখন সকলে এক পাল হবে আর তাদের পালকও হবেন একজন৷
17 এই কারণেই পিতা আমায় ভালবাসেন, কারণ আমি আমার প্রাণ দান করি য়েন আবার তা পেতে পারি৷
18 কেউ আমার কাছ থেকে তা হরণ করে নিতে পারবে না, বরং আমি তা স্ব-ইচ্ছাতেই করছি৷ এটা দান করার অধিকার আমার আছে এবং আবার তা ফিরে পাওযার অধিকারও আমার আছে৷ আমার পিতার কাছ থেকেই আমি এই সব শুনেছি৷’

যোহন 10: 7-18

নবী ঈসা আল মসীহ তাঁর ‘মেষ’ সুরক্ষিত করতে এবং তাদের জীবন দিতে – এমনকি সেই আসন্ন দিনের জন্য তাঁর মহান কর্ত্তৃত্ব দাবি করলেন I তাঁর কাছে কি সেই কর্ত্তৃত্ব আছে? মুসা পিবিইউএইচের তাওরাত বিশ্বের সৃষ্টির থেকে এমনকি ছয় দিনে তার কর্ত্তৃত্বকে আগে থেকেই দেখেছিলেন I পরে যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীরা তার আগমনের বিশদ বিবরণ সম্বন্ধে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, যাতে আমরা জানতে পারি যে তার আগমন প্রকৃতপক্ষে স্বর্গের পরিকল্পনা ছিল I তবে কিভাবে একজন ‘তার মেষ’ হতে পারে এবং তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন এর দ্বারা ‘আমি মেষের জন্য আমার জীবন দান করি’? আমরা এটিকে এখানে দেখি

নবী ঈসা আল মসীহর শিক্ষা সর্বদা লোকেদের বিভক্ত করেছে I এটি তার সময়েও সত্য ছিল I এই আলোচনাটি এইভাবে শেষ হয়েছিল এবং যে লোকেরা তাকে শুনেছিল তারা কিভাবে বিভক্ত হয়েছিল তা এখানে রয়েছে I

19 এইসব কথার কারণে জনগণের মধ্যে এ নিয়ে মতবিরোধ হল৷
20 তাদের মধ্যে অনেকে বলল, ‘ওকে ভূতে পেয়েছে, ও পাগল৷ ওর কথা কেন শুনছ?’
21 আবার অন্যরা বলল, ‘যাদের ভূতে পায় তারা তো এমন কথা বলে না৷ ভূত নিশ্চয়ই অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান করতে পারে না, পারে কি?’
22 এরপর জেরুশালেমে প্রতিষ্ঠার পর্বএল, তখন ছিল শীতকাল৷
23 যীশু মন্দির চত্বরে শলোমনের বারান্দাতে পায়চারি করছিলেন৷
24 কিছু ইহুদী তাঁর চারপাশে জড়ো হয়ে তাঁকে বলল, ‘তুমি আর কতকাল আমাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখবে? তুমি যদি মশীহ হও তাহলে আমাদের স্পষ্ট করে বল৷’
25 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের ইতিমধ্যেই বলেছি, আর তোমরা তা বিশ্বাস করছ না৷ আমি আমার পিতার নামে য়ে সব অলৌকিক কাজ করি সেগুলিই আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে৷
26 কিন্তু তোমরা বিশ্বাস করো না, কারণ তোমরা আমার পালের মেষ নও৷
27 আমার মেষরা আমার কন্ঠস্বর শোনে৷ আমি তাদের জানি, আর তারা আমার অনুসরণ করে৷
28 আমি তাদের অনন্ত জীবন দিই, আর তারা কখনও বিনষ্ট হয় না, আমার হাত থেকে কেউ তাদের কেড়ে নিতেও পারবে না৷
29 আমার পিতা, যিনি তাদেরকে আমায় দিয়েছেন, তিনি সবার ও সবকিছু থেকে মহান, আর কেউ পিতার হাত থেকে কিছুই কেড়ে নিতে পারবে না৷
30 আমি ও পিতা, আমরা এক৷’
31 ইহুদীরা তাঁকে মারবার জন্য আবার পাথর তুলল৷
32 যীশু তাদের বললেন, ‘পিতার শক্তিতে আমি অনেক ভাল কাজ করেছি, তার মধ্যে কোন্ কাজটার জন্য তোমরা পাথর মারতে চাইছ?’
33 ইহুদীরা এর উত্তরে তাঁকে বলল, ‘তুমি য়ে সব ভাল কাজ করেছ, তার জন্য আমরা তোমায় পাথর মারতে চাইছি না৷ কিন্তু আমরা তোমাকে পাথর মারতে চাইছি এই জন্য য়ে, তুমি ঈশ্বর নিন্দা করেছ৷ তুমি একজন মানুষ, অথচ নিজেকে ঈশ্বর বলে দাবী করছ৷’
34 যীশু তাদের বললেন, ‘তোমাদের বিধি-ব্যবস্থায় কি একথা লেখা নেই য়ে, ‘আমি বলেছি তোমরা ঈশ্বর৷’
35 শাস্ত্রে তাদেরই ঈশ্বর বলেছিল যাদের কাছে ঈশ্বরের বাণী এসেছিল; আর শাস্ত্র সব সময়ই সত্য৷
36 আমিই সেই ব্যক্তি, পিতা যাঁকে মনোনীত করে জগতে পাঠালেন৷ আমি বলেছি য়ে, ‘আমি ঈশ্বরের পুত্র৷’ তবে তোমরা কেন বলছ য়ে আমি ঈশ্বর নিন্দা করছি?
37 আমি যদি আমার পিতার কাজ না করি, তাহলে আমায় বিশ্বাস করো না৷
38 কিন্তু আমি যখন সেইসব কাজ করছি তখনও যদি তোমরা আমাকে বিশ্বাস না করো, তাহলে সেই সব কাজকে বিশ্বাস কর৷ তাহলে তোমরা জানতে পারবে ও বুঝতে পারবে য়ে পিতা আমাতে আছেন আর আমি পিতার মধ্যে আছি৷’
39 এরপর তারা আবার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করল, কিন্তু তিনি তাদের হাত এড়িয়ে চলে গেলেন৷
40 যর্দনের অপর পারে য়েখানে য়োহন বাপ্তাইজ করছিলেন, যীশু সেখানে আবার গেলেন ও সেখানে থাকলেন৷
41 বহুলোক তাঁর কাছে আসতে থাকল, আর তারা বলাবলি করতে লাগল, ‘য়োহন কোন অলৌকিক কাজ করেন নি বটে; কিন্তু এই মানুষটির বিষয়ে য়োহন যা বলেছেন, সে সবই সত্য৷’
42 আর সেখানে অনেকেই যীশুর ওপর বিশ্বাস করল৷

যোহন 10: 19-42

সেই দিন: আল-মাসাদ ও আল-হাদীদ এবং মসীহ

সুরা আল-মাসাদ (সুরা 111 – পাম ফাইবার) শেষ দিনের জ্বলন্ত বিচারের সম্বন্ধে সতর্ক করে I 

1 আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক এবং ধ্বংস হোক সে নিজে, 2 কোন কাজে আসেনি তার ধন-সম্পদ ও যা সে উপার্জন করেছে। 3 সত্বরই সে প্রবেশ করবে লেলিহান অগ্নিতে 4 এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে, 5 তার গলদেশে খর্জুরের রশি নিয়ে।     

আল-মাসাদ 111:1-5

সুরা আল-মাসাদ সাবধান করে যে আমরা ধ্বংস হতে পারি I এমনকি যারা আমাদের নিকটস্থ, যেমন আমাদের স্ত্রীরাও, বিচারের শেষ দিনের মৃত্যুদণ্ডের হুমকির মুখোমুখি হয় I  

সুতরাং আল্লাহর পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে আমরা কি করতে পারি যিনি আমাদের সমস্ত লজ্জাজনক গোপনীয়তাগুলো জানেন?

ঊআ আল-হাদীদ (সুরা 57 – লোহা) আমাদের বলে যে তিনি আমাদের লজ্জাজনক গোপনীয়তাগুলোর অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আমাদেরকে নিয়ে যেতে চিহ্নগুলো পাঠিয়েছেন I

সুরা আল-হাদীদ 57:9তিনিই তাঁর দাসের প্রতি প্রকাশ্য আয়াত অবতীর্ণ করেন, যাতে তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে আনয়ন করেন। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

আল-মাসাদ 111:1-5

তবে আমাদের সতর্ক করা হয় যে যারা অন্ধকারে বাস করেছে তারা সেই দিনে উন্মত্তবৎ আলোর জন্য সন্ধান করতে থাকবে I  

13 যেদিন কপট বিশ্বাসী পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারীরা মুমিনদেরকে বলবেঃ তোমরা আমাদের জন্যে অপেক্ষা কর, আমরাও কিছু আলো নিব তোমাদের জ্যোতি থেকে। বলা হবেঃ তোমরা পিছনে ফিরে যাও ও আলোর খোঁজ কর। অতঃপর উভয় দলের মাঝখানে খাড়া করা হবে একটি প্রাচীর, যার একটি দরজা হবে। তার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে আযাব। 14 তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবেঃ আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? তারা বলবেঃ হঁ্যা কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদগ্রস্ত করেছ। প্রতীক্ষা করেছ, সন্দেহ পোষণ করেছ এবং অলীক আশার পেছনে বিভ্রান্ত হয়েছ, অবশেষে আল্লাহর আদেশ পৌঁছেছে। এই সবই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছে।

সুরা আল-হাদীদ 57:13-14

আমরা যদি এভাবে বাস না করে থাকি তবে কি আমরা সেই দিনে আলো পাবো? আমাদের জন্য কি কোনো আশা আছে?

নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ সেই দিনে আমাদের সাহায্য করতে  এসেছিলেন I তিনি স্পষ্টভাবে বললেন যে তিনি আমাদের মধ্যে তাদের জন্য সেই আলো যারা লজ্জাজনক অন্ধকারের মধ্যে আছে বিচারের দিনে যার দরকার  হবে I  

12 এরপর যীশু আবার লোকদের সাথে কথা বলতে শুরু করলেন এবং বললেন, ‘আমিই জগতের আলো৷ য়ে কেউ আমার অনুসারী হয় সে কখনও অন্ধকারে থাকবে না; কিন্তু সেই আলো পাবে যা জীবন দেয়৷’
13 তখন ফরীশীরা তাঁকে বলল, ‘তুমি নিজেই নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছ৷ তোমার সাক্ষ্য গ্রাহ্য হবে না৷’
14 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যদি নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিই, তবু আমার সাক্ষ্য সত্য, কারণ আমি জানি আমি কোথা থেকে এসেছি, আর কোথায় বা যাচ্ছি; কিন্তু আমি কোথা থেকে এসেছি বা কোথায় যাচ্ছি তা তোমরা জানো না৷
15 মানুষের বিচারবোধের মাপকাঠিতে তোমরা আমার বিচার করছ৷ আমি কারো বিচার করি না৷
16 কিন্তু আমি যদি বিচার করি, তবে আমার বিচার সত্য, কারণ আমি একা নই৷ পিতা, যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি আমার সঙ্গেই আছেন৷
17 তোমাদের নিয়মে লেখা আছে, যখন দুই ব্যক্তি একই সাক্ষ্য দেয় তখন তা সত্যি৷
18 আমি নিজেই নিজের বিষয়ে সাক্ষ্য দিই৷ আর পিতা, যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনিও আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন৷’
19 তখন তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘তোমার পিতা কোথায়?’যীশু বললেন, ‘তোমরা না জানো আমাকে, না জানো আমার পিতাকে৷ তোমরা যদি আমাকে জানতে, তবে আমার পিতাকেও জানতে৷’
20 মন্দিরের দানের বাক্সের কাছে দাঁড়িয়ে শিক্ষা দেবার সময় যীশু এইসব কথা বললেন৷ কিন্তু কেউ তাঁকে গ্রেপ্তার করল না, কারণ তখনও তাঁর নিরূপিত সময় আসে নি৷
21 তিনি তাদের আর একবার বললেন, ‘আমি যাচ্ছি, আর তোমরা আমার খোঁজ করবে; কিন্তু তোমরা তোমাদের পাপেই মরবে৷ আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সেখানে আসতে পারবে না৷’
22 তখন ইহুদীরা বলছিল, ‘তিনি কি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন? কেন তিনি বললেন, ‘আমি য়েখানে যাচ্ছি তোমরা সেখানে আসতে পারবে না?”
23 যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা এই নিম্নলোকের আর আমি উর্দ্ধলোকের৷ তোমরা এজগতের, আমি এ জগতের নই৷
24 তাই আমি তোমাদের বলছি, তোমরা তোমাদের পাপেই মরবে৷ তোমরা যদি বিশ্বাস না কর য়ে আমিই তিনি, তবে তোমরা তোমাদের পাপের জন্যই মরবে৷’
25 তখন তারা জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কে?’যীশু তাদের বললেন, ‘আমি যা, তা তো শুরু থেকেই তোমাদের বলে আসছি৷
26 তোমাদের বিষয়ে বলার ও বিচার করার অনেক কিছুই আমার আছে৷ যা হোক যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তিনি সত্য৷ আর আমি তাঁর কাছ থেকে যা কিছু শুনি, পৃথিবীর মানুষের কাছে তাই বলি৷’
27 তারা বুঝতে পারে নি য়ে, তিনি তাদের কাছে পিতার বিষয়ে বলছেন৷
28 তখন যীশু তাদের বললেন, ‘যখন তোমরা মানবপুত্রকে উঁচুতে তুলবে, তখন জানবে য়ে আমিই তিনি এবং আমি নিজের থেকে কিছুই করি না৷ পিতা য়েমন আমায় শিখিয়েছেন, আমি সেরকমই বলছি৷
29 আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন, তিনি আমার সঙ্গে আছেন৷ তিনি আমাকে একা ফেলে রাখেন নি, কারণ আমি সব সময় সন্তোষজনক কাজই করি৷’
30 যীশু যখন এইসব কথা বললেন তখন অনেকেরই তাঁর ওপর বিশ্বাস হল৷

যোহন 8:12:30

ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ ‘জগতের জ্যোতি’ রূপে মহান কর্ত্তৃত্বের দাবি করলেন, এবং চ্যালেঞ্জ করার সময়ে তিনি ‘ব্যবস্থার’ উল্লেখ করলেন I এটি হ’ল মুসা পিবিইউএইচ এর তাওরাত যা তাঁর আগমন সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল এবং তাঁর কর্ত্তৃত্বের সম্পর্কে I  এটি যাবুর এবং পদানুবর্তী নবীদের দ্বারা অনুসৃত হয়েছিল যারা তার আগমন সম্পর্কে বিশদ বিবরণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যাতে আমরা জানতে পারি যে তাঁর দাবি অনুসারে তাঁর কাছে মহান কর্ত্তৃত্ব ছিল I ‘মনুষ্য পুত্র’ কি এবং ঈসা আল মসীহ কি বোঝাতে চেয়েছিলেন এর দ্বারা ‘যখন আপনি মনুষ্য পুত্রকে উত্থিত করেছেন’? ‘জীবনের জ্যোতি’ পাওয়া বলতে কি বোঝায়? আমরা এটিকে এখানে দেখি I অতএব আজকেই করুন, কারণ বিচারের দিনে অনেক দেরী হয়ে যাবে তখন দেখা শুরু করতে  যেমন আল-হাদীদ সতর্ক করেছে

অতএব, আজ তোমাদের কাছ থেকে কোন মুক্তিপন গ্রহণ করা হবে না। এবং কাফেরদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের সবার আবাস্থল জাহান্নাম। সেটাই তোমাদের সঙ্গী। কতই না নিকৃষ্ট এই প্রত্যাবর্তন স্থল।

আল-হাদীদ 57:15

এইভাবেই নবী ঈসা আল মসীহ তাঁর শিক্ষা এখানেই শেষ করলেন

31 ইহুদীদের মধ্যে যাঁরা তাঁর ওপর বিশ্বাস করল, তাদের উদ্দেশ্যে যীশু বললেন, ‘তোমরা যদি সকলে আমার শিক্ষা মান্য করে চল তবে তোমরা সকলেই আমার প্রকৃত শিষ্য৷
32 তোমরা সত্যকে জানবে, আর সেই সত্য তোমাদের স্বাধীন করবে৷’
33 তারা তাঁকে বলল, ‘আমরা অব্রাহামের বংশধর৷ আর আমরা কখনও কারোর দাসে পরিণত হই নি৷ আপনি কিভাবে বলছেন য়ে আমাদের স্বাধীন করা হবে?’
34 এর উত্তরে যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি-য়ে ক্রমাগত পাপ করে চলে, সে পাপের দাস৷
35 কোন দাস পরিবারের স্থাযী সদস্য হয়ে থাকতে পারে না; কিন্তু পুত্র পরিবারে চিরকাল থাকে৷
36 তাই পুত্র যদি তোমাদের স্বাধীন করে, তবে তোমরা প্রকৃতই স্বাধীন হবে৷
37 আমি জানি তোমরা অব্রাহামের বংশধর; কিন্তু তোমরা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করছ, কারণ তোমরা আমার শিক্ষাগ্রহণ করো না৷
38 আমি আমার পিতার কাছে যা দেখেছি সেই বিষয়েই বলে থাকি, আর তোমরা তোমাদের পিতার কাছ থেকে যা যা শুনেছ তাই তো করে থাক৷’
39 এর জবাবে তারা তাঁকে বলল, ‘আমাদের পিতা অব্রাহাম৷’যীশু তাদের বললেন, ‘তোমরা যদি অব্রাহামের সন্তান হতে, তাহলে অব্রাহাম যা করেছেন তোমরাও তাই করতে;
40 কিন্তু এখন তোমরা আমায় হত্যা করতে চাইছ৷ আমি সেই লোক য়ে ঈশ্বরের কাছ থেকে সত্য শুনেছি এবং তোমাদের তা বলেছি৷ অব্রাহাম তো এরকম কাজ করেন নি৷
41 তোমাদের পিতা য়ে কাজ করে, তোমরা তাই করো৷’তখন তারা তাঁকে বলল, ‘আমরা জারজ সন্তান নই৷ ঈশ্বর হচ্ছেন আমাদের একমাত্র পিতা৷’
42 যীশু তাদের বললেন, ‘ঈশ্বর যদি তোমাদের পিতা হতেন, তাহলে তোমরা আমায় ভালবাসতে, কারণ আমি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছি আর এখন তোমাদের মাঝে এখানে আছি৷ আমি নিজে থেকে আসিনি, ঈশ্বর আমায় পাঠিয়েছেন৷
43 আমি যা বলি, তোমরা তা বুঝতে পারো না? কারণ তোমরা আমার কথা গ্রহণ করো না৷
44 দিযাবল তোমাদের পিতা এবং তোমরা তার পুত্র৷ তোমরা তোমাদের পিতার ইচ্ছাই পূর্ণ করতে চাও৷ দিযাবল শুরু থেকেই খুনী; আর সত্যের পক্ষে সে কখনও দাঁড়ায় নি, কারণ তার মধ্যে তো সত্যের লেশমাত্র নেই৷ সে যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্য থেকে তা বের হয়, কারণ সে মিথ্যাবাদী ও মিথ্যার পিতা৷
45 আমি সত্য বলি বলে তোমরা আমায় বিশ্বাস করো না৷
46 তোমাদের মধ্যে কে আমাকে পাপী বলে দোষী করতে পারে? আমি যখন সত্য বলছি তখন তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না?
47 য়ে ঈশ্বরের লোক, সে ঈশ্বরের কথা শোনে৷ আর এই কারণেই তোমরা শুনতে চাও না, কারণ তোমরা ঈশ্বরের নও৷’
48 এর উত্তরে ইহুদীরা বলল, ‘আমরা কি ঠিক বলিনি য়ে তুমি একজন শমরীয়, আর তোমার মধ্যে এক ভূত রয়েছে?’
49 যীশু জবাব দিলেন, ‘দেখ, আমায় ভূতে গ্রাস করে নি, বরং আমি আমার পিতাকে সম্মান করি৷ কিন্তু তোমরা আমার অসম্মান করেছ৷
50 আমি নিজের জন্য সম্মান চাইছি না৷ একজন আছেন যিনি আমার জন্য সম্মান চান, তিনিই বিচার করেন৷
51 আমি তোমাদের সত্যি বলছি, কেউ যদি আমার শিক্ষা অনুসারে চলে, সে কখনও মরবে না৷’
52 ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘এখন আমরা বুঝেছি য়ে তোমায় ভূতে গ্রাস করেছে৷ অব্রাহাম ও ভাববাদীরা মারা গেছে আর তুমি বলছ, ‘যদি কেউ আমার শিক্ষা অনুসারে চলে, তবে সে মৃত্যুর আস্বাদ পাবে না৷’
53 তুমি কি মনে কর য়ে তুমি আমাদের পূর্বপুরুষ অব্রাহামের চেয়ে মহান? অব্রাহাম মারা গেছেন, আর ভাববাদীরাও মারা গেছেন৷ তুমি নিজেকে কি মনে করছ?’
54 এর উত্তরে যীশু বললেন, ‘আমি যদি নিজেকে সম্মানিত করি তবে সেই সম্মানের কোন মূল্য নেই৷ যিনি আমায় সম্মানিত করেন তিনি আমাদের পিতা, য়াঁর সম্পর্কে তোমরা বল, তিনি আমাদের ঈশ্বর৷’
55 আর তোমরা তাঁকে জানো না, কিন্তু আমি তাঁকে জানি৷ আমি যদি বলি য়ে আমি তাঁকে জানি না, তাহলে আমি তোমাদেরই মতো মিথ্যাবাদী হয়ে যাবো৷ কিন্তু আমি তাঁকে অবশ্যই জানি, আর তিনি যা কিছু বলেন আমি সে সকল পালন করি৷
56 তোমাদের পিতৃপুরুষ অব্রাহাম আমার আগমনের দিন দেখতে পাবেন বলে খুশী হয়েছিলেন৷ তিনি সেই দিন দেখে খুশী হয়েছিলেন৷’
57 তখন ইহুদীরা তাঁকে বলল, ‘তোমার বয়স এখনও পঞ্চাশ বছর হয়নি আর তুমি বলছ য়ে তুমি অব্রাহামকে দেখেছ!’
58 যীশু তাদের বললেন, ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি৷ অব্রাহামের জন্মের আগে থেকেই আমি আছি৷’
59 তখন তারা তাঁকে পাথর ছুঁড়ে মারবার জন্য পাথর তুলে নিল; কিন্তু যীশু নিজেকে লুকিয়ে ফেললেন ও মন্দির চত্বর ছেড়ে চলে গেলেন৷

যোহন 8:31-59

ডান দিকে বাম দিকে স্বর্গদূতরা কি বিচারের দিনে সাহায্য করবে

সুরা আল-হাক্কক্কাহ (সুরা 69 – বাস্তবতা) বর্ণনা করে কীভাবে বিচারের দিনটি  এক তুরীর বিফোটের সাথে উদঘাটিত হবে 

13 যখন শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে-একটি মাত্র ফুৎকার 14 এবং পৃথিবী ও পর্বতমালা উত্তোলিত হবে ও চুর্ণ-বিচুর্ণ করে দেয়া হবে,15 সেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে। 16 সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। 17 এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। 18 সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না।

সুরা আল-হাক্কক্কাহ 69:13-18

সুরা কাফ (সুরা 50) এছাড়াও একটি দিনের বর্ণনা করে যখন আল্লাহর তূরী ফুঁকে যাবে আর আমাদের ডান ও বাম দিকের তত্ত্বাবধায়ক দেবদূতরা আমাদের কাজ ও যোগ্যতার রেকর্ড প্রকাশ করবে I এই আয়াতগুলো পড়ে:

16 আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী। 17 যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। 18 সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে। 19 মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে। এ থেকেই তুমি টালবাহানা করতে। 20 এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এটা হবে ভয় প্রদর্শনের দিন। 21 প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে। তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী। 22 তুমি তো এই দিন সম্পর্কে উদাসীন ছিলে। এখন তোমার কাছ থেকে যবনিকা সরিয়ে দিয়েছি। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি সুতীক্ষ্ন। 23 তার সঙ্গী ফেরেশতা বলবেঃ আমার কাছে যে, আমলনামা ছিল, তা এই।

সুরা কাফ 50:16-23

আয়াত 20 বলে যে তুরীর সাবধানবাণী ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে (কোরআনের প্রকাশনের আগে) I কখন এটিকে দেওয়া হয়েছিল? এটিকে ঈসা আল মসীহর  (পিবিইউএইচ) দ্বারা দেওয়া হয়েছিল যখন তিনি ইঞ্জিলের মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করলেন যে পৃথিবীতে তাঁর প্রত্যার্বর্তন স্বর্গের তুরীর দ্বারা ঘোষিত হবে: 

31 লাবন বলল, “মহাশয়, আপনাকে আমাদের আলযে স্বাগত জানাই| আপনার এখানে দাঁড়িয়ে থাকার দরকার নেই| আপনাদের বিশ্রামের জন্যে আমি সমস্ত বন্দোবস্ত করছি এবং আপনাদের উটগুলোর জন্যে আমাদের বাড়ীতে জায়গা আছে|”

মথি 24:31

এর পরে কি ঘটে? সুরা কাফ বর্ণনা করে এক দেবদূত আমাদের ডান দিকে এবং বাম দিকে, আমাদের কাজকর্মগুলো রেকর্ড করছে যেহেতু আল্লাহ আমাদের ঘাড়ের শিরার থেকে নিকটতম, ইঞ্জিল আমাদের বলে যে আমাদের কাজকর্মের এই রেকর্ডগুলো এত ব্যাপক যে তারা আসলে ‘বই’ I এটিকে একটি দর্শনে  বর্ণনা করা হয়েছে যাকে যোহন, ঈসা আল মসীহর পিবিইউএইচ একজন শিষ্য, পেয়েছিলেন এবং ইঞ্জিলের শেষ বইয়ের মধ্যে লিখেছিলেন I যেমন এটিকে লেখা  হয়েছে: 

11 পরে আমি এক বিরাট শ্বেত সিংহাসন ও তার ওপর যিনি বসে আছেন তাঁকে দেখলাম৷ তাঁর সামনে থেকে পৃথিবী ও আকাশ বিলুপ্ত হল এবং তাদের কোন অস্তিত্ব রইল না৷
12 আমি দেখলাম, ক্ষুদ্র অথবা মহান সমস্ত মৃত লোক সেই সিংহাসনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে৷ পরে কয়েকটি গ্রন্থ খোলা হল এবং আরও একটি গ্রন্থ খোলা হল৷ সেই গ্রন্থটির নাম জীবন পুস্তক৷ সেই গ্রন্থগুলিতে মৃতদের প্রত্যেকের কাজের বিবরণ লিপিবদ্ধ ছিল এবং সেই অনুসারে তাদের বিচার হল৷
13 য়ে সব লোক সমুদ্রগর্ভে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল সমুদ্র তাদের সঁপে দিল, আর মৃত্যু ও পাতাল নিজেদের মধ্যে য়ে সব মৃত ব্যক্তি ছিল তাদের সমর্পণ করল৷ তাদের কৃতকর্ম অনুসারে তাদের বিচার হল৷
14 পরে মৃত্যু ও পাতাল আগুনের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷ এই আগুনের হ্রদই হল আসলে দ্বিতীয় মৃত্যু৷
15 জীবন পুস্তকে যাদের নাম লেখা দেখতে পাওয়া গেল না, তাদের সকলকে আগুনের হ্রদে ছুঁড়ে ফেলা হল৷

প্রকাশিত বাক্য 20:11-15

এটি ঘোষণা করে যে সকলের বিচার হবে ‘তাদের কাজ অনুসারে’ যেমন এই ‘বইয়ের’ মধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে I তাই আমরা প্রার্থনার পরে আমাদের ডান দিক এবং বাম দিকের দেবদুতদের শুভেচ্ছা জানাই এবং কাজকর্মের রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা পাওয়ার আশা করি I  

জীবন পুস্তক

কিন্তু লক্ষ্য করুন সেখানে আর একটি পুস্তক আছে, যাকে ‘জীবনের পুস্তক’ বলা হয়, যেটি ভাল-মন্দ যোগ্যতার নথি-ধারণকারী বইয়ের থেকে আলাদা I এটি ব্যক্ত করে ‘যে কেউ’ যাদের নাম জীবন পুস্তকে পাওয়া যাবে না তাদেরকে আগুনের হ্রদে (জাহান্নামের জন্য আর একটি মেয়াদ) নিক্ষেপ করা হবে I তাই, এমনকি যদিও আমাদের ডান দিকে দেবদূতের দ্বারা লিপিবদ্ধ ভালো গুনগুলোর তালিকা খুব দীর্ঘ হয়, এবং দেবদূতের দ্বারা লিপিবদ্ধ আমাদের বাম দিকে পাপগুলোর তালিকা খুব সংক্ষিপ্ত হয় – এমনকি তবুও – আপনার নাম যদি ‘জীবন পুস্তকে’ না থাকে আমরা তখনও জাহান্নামের জন্য দোষী সাব্যস্ত হব I এই ‘জীবন পুস্তক’ কি এবং কিভাবে এই পুস্তকে আমাদের নাম লিপিবদ্ধ হয়?

 তাওরাত এবং কোরআন উভয়ই ব্যক্ত করে যে যখন হজরত আদম পাপ করল, আল্লাহ তাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছিলেন এবং তাকে মরণশীল করেছিলেন I এর অর্থ হ’ল যে সে (এবং আমরা তার সন্তান) জীবনের স্রোত থেকে বিছিন্ন হয়েছিল I এটাই কারণ যে আমরা মরণশীল এবং একদিন আমরা মারা যাব I নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এই জীবনকে আমাদের কাছে পুনস্থাপন করতে এসেছিলেন যাতে আমাদের নামকে জীবন পুস্তকের মধ্যে প্রবেশ করাতে পারা যায় I যেমন তিনি ঘোষণা করলেন  

  24 ‘আমি তোমাদের সত্যি বলছি; য়ে কেউ আমার কথা শোনে, আর যিনি আমায় পাঠিয়েছেন তাঁর ওপর বিশ্বাস করে সে অনন্ত জীবন লাভ করে এবং সে অপরাধী বলে বিবেচিত হবে না৷ সে মৃত্যু থেকে জীবনে উত্তীর্ণ হয়ে গেছে৷

যোহন 5:24

নবী ইব্রাহিম পিবিইউএইচ কিভাবে জীবনের এই বরদানকে আগে থেকেই দেখছিলেন, এবং কেন ঈসা আল মসীহ আমাদের জীবন দিতে পারেন তা এখানে বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে I সুরা কাফ আমাদের সাবধান করে যে 

তোমরা উভয়েই নিক্ষেপ কর জাহান্নামে প্রত্যেক অকৃতজ্ঞ বিরুদ্ধবাদীকে,

সুরা কাফ 50:24

তাই অনন্ত জীবন যদি দেওয়া হয়ে থাকে তবে এর সম্বন্ধে খবর কেন দেওয়া হয়নি?