পুনরুত্থিত প্রথম ফল: জীবন আপনার জন্য

সুরা আল-রা’দ (সুরা 13 – বজ্র) অবিশ্বাসীদের থেকে একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ বা সমালোচনা বর্ণনা করে 

যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ-শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল

থাকবে।সুরা আর-রা’দ 13:5,7

5 যদি আপনি বিস্ময়ের বিষয় চান, তবে তাদের একথা বিস্ময়কর যে, আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখনও কি নতুন ভাবে সৃজিত হব? এরাই স্বীয় পালনকর্তার সত্তায় অবিশ্বাসী হয়ে গেছে, এদের গর্দানেই লৌহ-শৃংখল পড়বে এবং এরাই দোযখী এরা তাতে চিরকাল থাকবে। 7 কাফেররা বলেঃ তাঁর প্রতি তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হল না কেন? আপনার কাজ তো ভয় প্রদর্শন করাই এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে পথপ্রদর্শক হয়েছে।

এটি দুটি খন্ডে আসে I সুরা আর-রা’দ 5 আয়াতের মধ্যে অবিশ্বাসীরা জিজ্ঞাসা করে পুনরুত্থান কি কখনও ঘটবে I তদের দৃষ্টিকোণ থেকে, যেহেতু এটি আগে কখনও ঘটেনি, এটি ভবিষ্যতে ঘটবে না I তারপরে তারা জিজ্ঞাসা করে কেন কোনো আশ্চর্যজনক চিহ্ন দেওয়া হল না বৈধ করতে যে একটি পুনরুত্থান ঘটবে I এক প্রকৃত অর্থে তারা বলে, “এটিকে প্রমাণ কর!”   

সুরা আল-ফুরকান (সুরা 25 – মাপদণ্ড) এই একই চ্যালেঞ্জকে একটু অল্প ভিন্নভাবে দেখায় I

তারা তো সেই জনপদের উপর দিয়েই যাতায়াত করে, যার ওপর বর্ষিত হয়েছে মন্দ বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা করে না।

সুরা আল-ফুরকান 25:40-41

40 তারা তো সেই জনপদের উপর দিয়েই যাতায়াত করে, যার ওপর বর্ষিত হয়েছে মন্দ বৃষ্টি। তবে কি তারা তা প্রত্যক্ষ করে না? বরং তারা পুনরুজ্জীবনের আশঙ্কা করে না। 41 তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন আপনাকে কেবল বিদ্রুপের পাত্ররূপে গ্রহণ করে, বলে, এ-ই কি সে যাকে আল্লাহ ‘রসূল’ করে প্রেরণ করেছেন?

আসন্ন পুনরুত্থানের কোনো ভয় নেই, নাতো নবী পিবিইউএইচ থেকে I তারা পুনরুত্থান দেখানোর দাবি করে I 

সুরা আল-ফুকরানও প্রকাশিত করে কিভাবে আল্লাহ অবিশ্বাসীদের দেখেন I

তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।

সুরা আল-ফুরকান 25:3

তারা তাঁর পরিবর্তে কত উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না এবং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং নিজেদের ভালও করতে পারে না, মন্দও করতে পারে না এবং জীবন, মরণ ও পুনরুজ্জীবনের ও তারা মালিক নয়।

সুরা আল-ফুরকান প্রকাশ করে যে লোকেরা প্রায়শই মিথ্যা ঈশ্বরদের গ্রহণ করে I কিভাবে কেউ জানে সত্যের চেয়ে মিথ্যা ঈশ্বর কি? আয়াত উত্তরটি দেয় I মিথ্যা ঈশ্বরেরা ‘মৃত্যু, নাতো জীবন আর নাতো পুনরুত্থানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে’ I একটি পুনরুত্থানকে নিয়ন্ত্রণ করা = যা মিথ্যাকে সত্যের থেকে আলাদা করে I 

বিশ্বাসীদের থেকে আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিতদের কি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হ’ল প্রমাণ করতে উপেক্ষা করতে পারার থেকে কিসে ভয় করা উচিত, বা আল্লার থেকে অবিশ্বাসীদের প্রতি সতর্কতা দেওয়া উচিত কিনা যাতে মিথ্যা নয় সত্যের আরাধনা করা যায়, পরিমাপের মানদণ্ড একই – পুনরুত্থান I

পুনরুত্থানের জন্য প্রয়োজন চূড়ান্ত কর্ত্তৃত্ব এবং ক্ষমতা I নবী সকল আব্রাহাম পিবিইউএইচ, মশি পিবিইউএইচ, দায়ূদ পিবিইউএইচ এবং মোহম্মদ পিবিইউএইচ – যদিও তারা মহান ছিলেন – মৃত্যুর উপরে পুনরুত্থিত হন নি I মানুষদের মধ্যে সবথেকে জ্ঞানী – সক্রেটিস, আইনস্টাইন, নিউটন, এবং শলোমন – কেউই হননি I গ্রীক, রোমীয়, বাইজেন্টাইন, উমাইয়াদ, অব্বিসাদ, মামলুক এবং অটোমান সাম্রাজ্যের সিংহাসনে রাজত্বকারী কোনো সম্রাটরা মৃত্যুকে পরাস্ত করে পুনরুত্থিত হননি I এটি চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ I এটি এমন চ্যালেঞ্জ যার মুখোমুখি হতে ঈসা আল মসীহ পছন্দ করেছিলেন I        

তিনি রবিবারের ভোরের আগে বিজয় অর্জন করেছিলেন I ভোর বেলায় মৃত্যুর উপরে তাঁর বিজয় আপনার এবং আমার জন্যও একটি বিজয় ছিল I এই জগতের দুষ্টতার দ্বারা আমাদের বন্দী হওয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই I যেমন সুরা আল-ফলক (সুরা 113 – দিবসভঙ্গ) অনুরোধ করে: 

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, ()

সুরা আল-ফালাক 113:1-3

1 বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, 2 তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, 3 অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত  হয় I  

এখানে আমরা পর্যালোচনা করব কিভাবে এই নির্দিষ্ট ভোরকে কয়েকশ বছর আগে তাওরাতের প্রথম ফলের উৎসবের পূর্বে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, এবং কিভাবে ভোরের প্রভু এই জগতের দুষ্টতা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করে I     

ঈসা আল মসীহ এবং তাওরাতের পর্ব সমূহ

ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ ঈসা আল মসীহর শেষ সপ্তাহের দৈনন্দিন ঘটনাবলীকে আমরা সতর্কভাবে অনুসরণ করেছিলাম I সপ্তাহের শেষে তাঁকে একটি পবিত্র যিহূদি উৎসব নিস্তারপর্বের দিনে ক্রুশারোপিত করা হয়েছিল I তারপরে তিনি সপ্তাহের পবিত্র সপ্তম দিনে বিশ্রাম বারের মাধ্যমে মৃত্যুর মধ্যে বিশ্রাম গ্রহণ করলেন I এই পবিত্র দিনগুলো বহু পূর্বে আল্লাহ এবং তাওরাতে নবী মশির (পিবিইউএইচ) দ্বারা গঠিত হয়েছিল I আমরা সেই নির্দেশগুলোকে এখানে পড়ি:  

  ভু মোশিকে বললেন,
2 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: প্রভুর মনোনীত উত্সবগুলিকে তোমরা পবিত্র সভা বলে ঘোষণা কর| এইগুলি হল আমার নির্দিষ্ট ছুটির দিন:
3 “ছদিন ধরে কাজ কর, কিন্তু সপ্তম দিন কর্মবিরতির জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামপর্ব হবে বিশ্রামের বিশেষ দিন| তোমরা অবশ্যই কোন কাজ করবে না| এটা তোমাদের সকলের বাড়ীতেই প্রভুর জন্য বিশ্রামের দিন হবে|
4 “এগুলি হল প্রভুর মনোনীত নিস্তারপর্ব| তোমরা এগুলির জন্য মনোনীত সমযে পবিত্র সভার কথা ঘোষণা করবে|
5 প্রভুর নিস্তারপর্বের দিন হল প্রথম মাসের 14 দিনের দিন সূর্য়াস্তের সময়|

লেবীয় 23:1-5

এটি কি অদ্ভূত নয় যে ক্রুশারোপন এবং নবী ঈসা আল মসীহর বিশ্রাম উভয়ই 1500 বছর পূর্বে নির্ধারিত পবিত্র উৎসব দুটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায় যেমন কালপঞ্জির মধ্যে দেখানো হয়েছে? কেন এটি? উত্তরটি আমাদের সকলের কাছে পৌঁছয়, এমনকি যেভাবে আমরা প্রত্যেক দিন একে অপরকে এখন শুভেচ্ছা জানাই I   

ঈসা আল মসীহর মৃত্যু নিস্তার পর্বের উৎসর্গের দিনে ঘটছিল (দিন 6) এবং তাঁর বিশ্রাম বিশ্রাম বারের বিশ্রামের দিনে ঘটেছিল (দিন 7)

নবী ঈসা আল মসীহ এবং তাওরাতের উৎসবগুলোর মধ্যে এই সমন্বয় চলতে থাকে I উপরের তাওরাত থেকে ফিরিস্তি কেবল প্রথম দুটি উৎসব নিয়ে আলোচনা করেছিল I পরের উৎসবটিকে ‘প্রথম ফল’ বলা হত এবং তাওরাত এটির সম্পর্কে এই নির্দেশ দিয়েছিল I  

  9 প্রভু মোশিকে বললেন,
10 “ইস্রায়েলের লোকদের বলো: আমি তোমাদের যে দেশ দেবো তাতে তোমরা প্রবেশ করবে| তোমরা এর শস্য ছেদন করলে শস্যের প্রথম আঁটি ইস্রায়েলেজকের কাছে আনবে|
11 যাজক প্রভুর সামনে সেই আঁটি দোলাবে যেন তোমাদের জন্য তা গ্রাহ্য হয়| যাজক রবিবার সকালে সেই শস্যের আঁটি দোলাবে|
12 “যে দিন তোমরা শস্যের আঁটি দোলাবে, সেদিন তোমরা একটি এক বছর বযসী পুরুষ মেষ উপহার দেবে| সেই মেষের মধ্যে যেন কোন দোষ না থাকে| ঐ মেষটি প্রভুর কাছে হোমবলির নৈবেদ্য হবে|
13 এছাড়া তোমরা অবশ্যই অলিভ তেল মেশানো 16 কাপ মিহি ময়দা শস্য নৈবেদ্য হিসাবে দেবে| এর সাথে দেবে1 কোযার্ট দ্রাক্ষারস| সেই নৈবেদ্যর গন্ধ প্রভুকে খুশী করবে|
14 ঈশ্বরের কাছে তা নৈবেদ্য হিসাবে না আনা পর্য়ন্ত তোমরা অবশ্যই কোন নতুন শস্য অথবা ফল বা নতুন শস্য থেকে তৈরী রুটি খাবে না| তোমরা যেখানেই বাস কর না কেন এই বিধি তোমাদের বংশ পরম্পরায চলবে|

লেবীয় 23:9-11,14

অতএব নিস্তারপর্বের ‘বিশ্রামবারের পরের দিন’ একটি তৃতীয় পবিত্র দিন  ছিল I প্রত্যেক বছর এই দিনে মহা যাজক পবিত্র মন্দিরে প্রবেশ করতেন এবং বসন্ত কালের বিশেষ প্রথম পণ্য শস্যকে সদাপ্রভুর সামনে উত্তোলিত করতেন I এটি শীত কালের মৃত্যুর পরে নতুন জীবনের সুচনাকে তাত্পর্যপূর্ণ করত, সামনের প্রাচুর্যপূর্ণ ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকত যাতে লোকেরা খেয়েপরে তৃপ্ত হতে পারে I   

বিশ্রাম বারের পরে ঈসা আল মসীহর মৃত্যুতে বিশ্রামের সময়ে, এটি ঠিক সেই একই দিন ছিল নীসন 16 তারিখের এক নতুন সপ্তাহের রবিবার I ইঞ্জিল এই একই দিনে চমকপ্রদ ঘটনাগুলোর বর্ণনা করে যে মহাযাজক নতুন জীবনের ‘প্রথম ফসল’ উপহার দিতে মন্দিরে গেলেন I এখানে নথিটি রয়েছে:

মৃত্যু থেকে ঈসা আল মসীহর উত্থান

প্তাহের প্রথম দিন, সেই স্ত্রীলোকেরা খুব ভোরে ঐ সমাধিস্থলে এলেন৷ তাঁরা য়ে গন্ধদ্রব্য ও মশলা তৈরী করেছিলেন তা সঙ্গে আনলেন৷
2 তাঁরা দেখলেন সমাধিগুহার মুখ থেকে পাথরখানা একপাশে গড়িয়ে দেওযা আছে;
3 কিন্তু ভেতরে ঢুকে সেখানে প্রভু যীশুর দেহ দেখতে পেলেন না৷
4 তাঁরা যখন অবাক বিস্ময়ে সেই কথা ভাবছেন, সেই সময় উজ্জ্বল পোশাক পরে দুজন ব্যক্তি হঠাত্ এসে তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন৷
5 ভয়ে তাঁরা মুখ নীচু করে নতজানু হয়ে রইলেন৷ ঐ দুজন তাঁদের বললেন, ‘যিনি জীবিত, তোমরা তাঁকে মৃতদের মাঝে খুঁজছ কেন?
6 তিনি এখানে নেই, তিনি পুনরুত্থিত হয়েছন৷ তিনি যখন গালীলে ছিলেন তখন তোমাদের কি বলেছিলেন মনে করে দেখ৷
7 তিনি বলেছিলেন, মানবপুত্রকে অবশ্যই পাপী মানুষদের হাতে ধরিয়ে দেওযা হবে, তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ হতে হবে; আর তিন দিনের দিন তিনি আবার মৃত্যুর মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
8 তখন যীশুর সব কথা তাঁদের মনে পড়ে গেল৷
9 তারপর তাঁরা সমাধিগুহা থেকে ফিরে এসে সেই এগারো জন প্রেরিতকে ও তাঁর অনুগামীদের এই ঘটনার কথা জানালেন৷
10 এই স্ত্রীলোকেরা হলেন মরিয়ম মগ্দলীনী, য়োহানা আর যাকোবের মা মরিয়ম৷ তাঁদের সঙ্গে আরো কয়েকজন এই সব ঘটনা প্রেরিতদের জানালেন৷
11 কিন্তু প্রেরিতদের কাছে সে সব প্রলাপ বলে মনে হল, তাঁরা সেই স্ত্রীলোকদের কথা বিশ্বাস করলেন না৷
12 কিন্তু পিতর উঠে দৌড়ে সমাধিগুহার কাছে গেলেন৷ তিনি নীচু হয়ে ঝুঁকে পড়ে দেখলেন, কেবল যীশুর দেহে জড়ানো কাপড়গুলো সেখানে পড়ে আছে; আর যা ঘটেছে তাতে আশ্চর্য হয়ে ঘরে ফিরে গেলেন৷
13 ঐ দিনই দুজন অনুগামী জেরুশালেম থেকে সাত মাইল দূরে ইম্মাযু নামে একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন৷
14 এই য়ে সব ঘটনাগুলি ঘটে গেল, য়েতে য়েতে তাঁরা সে বিষয়েই পরস্পর আলোচনা করছিলেন৷
15 তাঁরা যখন এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, এমন সময় যীশু নিজে এসে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগলেন৷
16 ঘটনাটি এমনভাবেই ঘটল যাতে তাঁরা যীশুকে চিনতে না পারেন৷
17 যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা য়েতে য়েতে পরস্পর কি নিয়ে আলোচনা করছ?’তাঁরা থমকে দাঁড়ালেন, তাঁদের খুবই বিপন্ন দেখাচ্ছিল৷
18 তাঁদের মধ্যে ক্লিয়পা নামে একজন তাঁকে বললেন, ‘জেরুশালেমের অধিবাসীদের মধ্যে আমাদের মনে হয় আপনিই একমাত্র লোক, যিনি জানেন না গত কদিনে সেখানে কি কাণ্ডটাই না ঘটে গেছে৷’
19 যীশু তাঁদের বললেন, ‘কি ঘটেছে, তোমরা কিসের কথা বলছ?’ তাঁরা যীশুকে বললেন, ‘নাসরতীয় যীশুর বিষয়ে বলছি৷ তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর কথা ও কাজের শক্তিতে ঈশ্বর ও সমস্ত মানুষের চোখে নিজেকে এক মহান ভাববাদীরূপে প্রমাণ করেছেন৷
20 কিন্তু আমাদের প্রধান যাজকরা ও নেতারা তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেবার জন্য ধরিয়ে দিল, তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে মারল৷
21 আমরা আশা করেছিলাম য়ে তিনিই সেই যিনি ইস্রায়েলকে মুক্ত করবেন৷ কেবল তাই নয়, আজ তিন দিন হল এসব ঘটে গেছে৷
22 আবার আমাদের মধ্যে কয়েকজন স্ত্রীলোক আমাদের অবাক করে দিলেন৷ তাঁরা আজ খুব ভোরে সমাধির কাছে গিয়েছিলেন;
23 কিন্তু সেখানে তাঁরা যীশুর দেহ দেখতে পান নি৷ সেখান থেকে ফিরে এসে তাঁরা আমাদের বললেন য়ে তাঁরা স্বর্গদূতদের দর্শন পেয়েছেন, আর সেই স্বর্গদূতেরা তাঁদের বলেছেন য়ে যীশু জীবিত৷
24 এরপর আমাদের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন তাদের মধ্যে কয়েকজন সেই সমাধির কাছে গিয়েছিলেন; আর তাঁরা দেখলেন স্ত্রীলোকেরা যা বলেছেন তা সত্য৷ কিন্তু তাঁরা যীশুকে সেখানে দেখতে পান নি৷’
25 তখন যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা সত্যি কিছু বোঝ না, তোমাদের মন বড়ই অসাড়, তাই ভাববাদীরা যা কিছু বলে গেছেন তোমরা তা বিশ্বাস করতে পার না৷
26 খ্রীষ্টের মহিমায় প্রবেশ লাভের পূর্বে কি তাঁর এইসব কষ্টভোগ করার একান্ত প্রযোজন ছিল না?’
27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷
28 তাঁরা য়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন তার কাছাকাছি এলে পর যীশু আরো দূরে যাবার ভাব দেখালেন৷
29 তখন তাঁরা যীশুকে খুব অনুরোধ করে বললেন, ‘দেখুন, বেলা পড়ে গেছে, এখন সন্ধ্যা হয়ে এল, আপনি আমাদের এখানে থেকে যান৷’ তাই তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকবার জন্য ভেতরে গেলেন৷
30 তিনি যখন তাঁদের সঙ্গে খেতে বসলেন, তখন রুটি নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন৷ পরে সেই রুটি টুকরো টুকরো করে তাঁদের দিলেন৷
31 সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের চোখ খুলে গেল, তাঁরা যীশুকে চিনতে পারলেন, আর তিনি সেখান থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন৷
32 তখন তাঁরা পরস্পর বলাবলি করলেন, ‘তিনি যখন রাস্তায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন ও শাস্ত্র থেকে আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন আমাদের অন্তর কি আবেগে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে নি?’
33 তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে উঠে জেরুশালেমে গেলেন৷ সেখানে তাঁরা সেই এগারোজন প্রেরিত ও তাদের সঙ্গে আরো অনেককে দেখতে পেলেন৷
34 প্রেরিত ও অন্যান্য যাঁরা সেখানে ছিলেন তাঁরা বললেন, ‘প্রভু, সত্যি জীবিত হয়ে উঠেছেন৷ তিনি শিমোনকে দেখা দিয়েছেন৷’
35 তখন সেই দুজন অনুগামীও রাস্তায় যা ঘটেছিল তা তাঁদের কাছে ব্যক্ত করলেন৷ আর যীশু যখন রুটি টুকরো টুকরো করছিলেন তখন কিভাবে তাঁরা তাঁকে চিনতে পারলেন তাও জানালেন৷
36 তাঁরা যখন এসব কথা তাদের বলছেন, এমন সময় যীশু তাঁদের মাঝে এসে দাঁড়ালেন আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক্!’
37 কিন্তু তাঁরা ভয়ে চমকে উঠলেন৷ তাঁরা মনে করলেন বোধ হয় কোন ভূত দেখছেন৷
38 কিন্তু যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমরা এত অস্থির হচ্ছ কেন? আর তোমাদের মনে সন্দেহই বা জাগছে কেন?
39 আমার হাত ও পা দেখ, আমার স্পর্শ করে দেখ, আত্মার এইরূপ হাড় মাংস থাকে না, কিন্তু তোমরা দেখতে পাচ্ছ আমার আছে৷’
40 এই কথা বলে তিনি তাঁদের হাত ও পা দেখালেন৷
41 তাঁদের এতই আনন্দ হয়েছিল ও য়ে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না৷ তাঁরা বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন৷ যীশু তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের কাছে কিছু খাবার আছে কি?
42 তাঁরা তাঁকে এক টুকরো ভাজা মাছ দিলেন৷
43 তিনি সেটি নিয়ে তাঁদের সামনে গেলেন৷
44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’
45 এরপর তিনি তাঁদের বুদ্ধি খুলে দিলেন, য়েন তাঁরা শাস্ত্রের কথা বুঝতে পারেন৷
46 যীশু তাঁদের বললেন, ‘একথা লেখা আছে খ্রীষ্টকে অবশ্যই কষ্ট ভোগ করতে হবে, আর তিনি মৃত্যুর তিন দিনের দিন মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হয়ে উঠবেন৷’
47 এবং পাপের জন্য অনুশোচনা ও পাপের ক্ষমার কথা অবশ্যই সমস্ত জাতির কাছে ঘোষণা করা হবে, জেরুশালেম থেকেই একাজ শুরু হবে আর তোমরাই এসবের সাক্ষী৷

লুক 24:1-48

ঈসা আল মসীহর বিজয়

 ‘প্রথম ফসলের’ সেই পবিত্র দিনে নবী ঈসা আল মসীহ পিবিইউএইচ এক মহান বিজয়কে অর্জন করলেন যা তাঁর শত্রু এবং সঙ্গীরা সম্ভব বলে বিশ্বাস করল না – মৃত্যুর উপরে বিজয়ী জীবনে তিনি ফিরে এলেন I যেমন ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে:

  54 এই ক্ষয়শীল দেহ যখন অক্ষয়তার পোশাক পরবে আর এই পার্থিব দেহ যখন অবিনশ্বরতায় ভূষিত হবে তখন শাস্ত্রে য়ে কথা লেখা আছে তা সত্য হবে:‘মৃত্যু জয়ে কবলিত হল৷’
55 ‘মৃত্যু তোমার জয় কোথায়? মৃত্যু তোমার হুল কোথায়?’
56 মৃত্যুর হুল পাপ আর পাপের শক্তি আসে বিধি-ব্যবস্থা থেকে৷

1 করিন্থীয়ান 15:54-56

তবে এটি নবীর জন্য কেবল একটি বিজয় ছিল না I এটি আপনার এবং আমার জন্যেও একটি বিজয় ছিল, যাকে প্রথম ফসলের সময়ের সাথে গারান্টি দেওয়া হয়েছিল I ইঞ্জিল এটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করে:

  20 কিন্তু সত্যিই খ্রীষ্ট মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন, আর য়েসব ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তিনি তাদের মধ্যে প্রথম ফসল৷
21 কারণ একজন মানুষের মধ্য দিয়ে য়েমন মৃত্যু এসেছে, মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থানও তেমনিভাবেই একজন মানুষের দ্বারা এসেছে৷
22 কারণ আদমে য়েমন সকলের মৃত্যু হয়, ঠিক সেভাবে খ্রীষ্টে সকলেই জীবন লাভ করবে৷
23 কিন্তু প্রত্যেকে তার পালাক্রমে জীবিত হবে; খ্রীষ্ট, যিনি অগ্রনী, তিনি প্রথমে মৃতদের মধ্য থেকে জীবিত হলেন, আর এরপর যারা খ্রীষ্টের লোক তারা তাঁর পুনরুত্থানের সময়ে জীবিত হয়ে উঠবে৷
24 এরপর খ্রীষ্ট যখন প্রত্যেক শাসনকর্তার কর্ত্তৃত্ব ও পরাক্রমকে পরাস্ত করে পিতা ঈশ্বরের হাতে রাজ্য সঁপে দেবেন তখন সমাপ্তি আসবে৷
25 কারণ যতদিন না ঈশ্বর তাঁর সমস্ত শত্রুকে খ্রীষ্টের পদানত করছেন, ততদিন খ্রীষ্টকে রাজত্ব করতে হবে৷
26 শেষ শত্রু হিসেবে মৃত্যুও ধ্বংস হবে৷

1 করিন্থীয়ান 15:20-26

প্রথম ফসলের উৎসব হিসাবে সেই একই দিনে নবীকে জীবনে উত্থাপিত করা হ’ল যাতে আমরা জানতে পারি যে আমরা মৃত্যু থেকে এই একই পুনরুত্থানে অংশগ্রহণ করতে পারি I ঠিক প্রথম ফসলের উৎসবের ন্যায় নতুন জীবনের একটি উপহার ছিল সাথে পরবর্তী সময়ের বসন্তকালের প্রচুর ফসলের আশা ছিল, ইঞ্জিল আমাদের বলে যে ঈসা আল মসীহর উত্থান পুনরুত্থানের ‘প্রথম ফসল’ ছিল সাথে পরে সকলের জন্য এক বৃহত্তর পুনরুত্থানের আশা ছিল  যারা ‘তাঁর মধ্যে থাকে’ I তাওরাত এবং কোরআন ব্যাখ্যা করে সেই মৃত্যু আদমের কারণে এসেছিল I ইঞ্জিল আমাদের বলে যে এক সমান্তরাল উপায়ে পুনরুত্থানের জীবন ঈসা আল মসীহর মাধ্যমে আসে I তিনি নতুন জীবনের প্রথম ফল যাতে অংশগ্রহণ করতে আমাদের সকলকে আমন্ত্রণ করা হয় I         

ইস্টার: সেই রবিবারের পুনরুত্থানের উৎসব পালন করা 

আজ ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানকে প্রায়শই ইস্টার রূপে উল্লেখ করা হয়, এবং যে রবিবারে তিনি উঠেছিলেন তাকে ইস্টার রবিবার বলে প্রায়শই উল্লেখ করা হয় I তবে এই কথাগুলো কয়েকশত বছর পরে ব্যবহারে  এসেছিল I নির্দিষ্ট কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ নয় I যেটা গুরুত্ত্বপূর্ণ তা হ’ল প্রথম ফসলের পরিপূর্ণতা হিসাবে নবীর পুনরুত্থান যার সূচনা কয়েক শত বছর পূর্বে মশির সময়ে শুরু হয়েছিল, এবং এটি আপনার এবং আমার জন্য কি বোঝায় I

কালপঞ্জির মধ্যে নতুন সপ্তাহের রবিবারের জন্য এটিকে দেখা যায়:

ঈসা আল মসীহ প্রথম ফসলের দিনে মৃত্যু থেকে ওঠেন – আপনাকে ও আমাকে মৃত্যু থেকে নতুন জীবনের উপহার দেন I

 ‘শুভ শুক্রবার’ এর উত্তর

এছাড়াও এটি ‘শুভ শুক্রবার’ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেয় I যেমন ইঞ্জিল ব্যাখ্যা করে:

  9 কিন্তু আমরা যীশুকে দেখেছি, য়াঁকে অল্পক্ষণের জন্য স্বর্গদূতদের থেকে নীচে স্থান দেওয়া হয়েছিল৷ সেই যীশুকেই এখন সম্মান আর মহিমার মুকুট পরানো হয়েছে৷ কারণ তিনি মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করেছেন এবং ঈশ্বরের অনুগ্রহে সকল মানুষের জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন৷

ইব্রীয় 2:9

যখন তিনি শুক্রবারে ‘মৃত্যুর আস্বাদ গ্রহণ করলেন’ তিনি তা আপনার, আমার এবং ‘প্রত্যেকের’ জন্য করলেন I যেহেতু এটি আমাদের জন্য শুভ ছিল তাই এর নাম শুভ শুক্রবার I প্রথম ফসল উৎসবের দিনে যখন তিনি উঠলেন তখন তিনি প্রত্যেককে নতুন জীবন উপহার দিলেন I  

কোরআনের মধ্যে ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থান এবং শান্তি

যদিও সংক্ষিপ্ত বিবরণে দেওয়া হয়েছে, কোরআন ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানকে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে চিহ্নিত করেছে I সুরা মারইয়ম এটির এইভাবে ফিরিস্তি দেয়:

  আমার প্রতি সালাম যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি, যেদিন মৃত্যুবরণ করব এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব।

সুরা মারইয়ম 19:33

ইঞ্জিল এছাড়াও ঈসা আল মসীহর জন্ম, তাঁর মৃত্যু এবং এখন তাঁর পুনরুত্থানের উপরে জোর দেয় I যেহেতু তাঁর পুনরুত্থান ‘প্রথম ফল’, সেইহেতু শান্তি যা তাঁর পুনরুত্থানের মধ্যে নবীর উপরে ছিল তা এখন আপনার এবং আমার কাছেও উপলব্ধ আছে I ঈসা আল মসীহ এটিকে দেখিয়েছিলেন যখন তিনি পরে তাঁর পুনরুত্থানের দিনে তাঁর শিষ্যদের শভেচ্ছা জানিয়েছিলেন:

  19 দিনটা ছিল রবিবার, সেদিন সন্ধ্যায় শিষ্যরা একটি ঘরে জড়ো হলেন৷ ইহুদীদের ভয়ে তাঁরা ঘরের দরজায় চাবি দিয়ে দিলেন৷ এমন সময় যীশু এসে তাঁদের মাঝে দাঁড়ালেন, আর বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক৷’
20 একথা বলার পর তিনি তাঁদেরকে তাঁর হাত ও পাঁজরের পাশটা দেখালেন৷ শিষ্যেরা প্রভুকে দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত হলেন৷
21 এরপর যীশু আবার তাঁদের বললেন, ‘তোমাদের শান্তি হোক! পিতা য়েমন আমাকে পাঠিয়েছেন, আমিও তেমনি তোমাদের পাঠাচ্ছি৷’
22 এই বলে তিনি তাঁদের ওপর ফুঁ দিলেন, আর বললেন, ‘তোমরা পবিত্র আত্মা গ্রহণ কর৷

যোহন 20:19-22

প্রথাগত শুভেচ্ছা যাকে মুসলমানরা এখন একে অপরের প্রতি প্রসারিত করে (সালাম আলেক্যুম – আপনার উপরে শান্তি হোক) তা তাঁর পুনরুত্থানকে শান্তির সঙ্গে সংযুক্ত করতে ঈসা আল মসীহর দ্বারা বহু পূর্বে ব্যবহৃত হত, যে শান্তিকে এখন আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে I আমাদের নবীর এই প্রতিশ্রুতিটিকে যখন আমরা শুনি বা এই শুভেচ্ছাকে বলি প্রত্যেক সময় মনে রাখা উচিত, এবং পবিত্র আত্মার বরদানের সম্বন্ধে চিন্তা করা উচিত, যা এখন আমাদের কাছেও উপলব্ধ রয়েছে I    

ঈসা আল মসীহর পুনরুত্থানের বিবেচনা

ঈসা আল মসীহ তাঁর সঙ্গীদের কাছে মৃত্যুর থেকে জীবিত হয়ে অনেক দিন ধরে নিজেকে দেখালেন I এই ঘটনাগুলোকে ইঞ্জিল থেকে এখানে বর্ণনা করা হয়েছে I তবে এমনকি তাঁর শিষ্যদের কাছে প্রথম উপস্থিতিতে আমাদের তা লক্ষ্য করা উচিত I

…তাদের কাছে অর্থহীন মনে হত

লুক 24:10

নবীকে নিজেই করতে হয়েছিল:

27 আর তিনি মোশির পুস্তক থেকে শুরু করে ভাববাদীদের পুস্তকে তাঁর বিষয়ে যা যা লেখা আছে, শাস্ত্রের সে সব কথা তাঁদের বুঝিয়ে দিলেন৷  

লুক 24:27

এবং আবার তার পরে:

  44 তিনি তাঁদের বললেন, ‘আমি যখন তোমাদের সঙ্গে ছিলাম, তখনই তোমাদের এসব কথা বলেছিলাম, আমার সম্বন্ধে মোশির বিধি-ব্যবস্থায়, ভাববাদীদের পুস্তকে ও গীতসংহিতায় যা কিছু লেখা হয়েছে তা পূর্ণ হতেই হবে৷’

লুক 24:44

আমরা কিভাবে নিশ্চিত হতে পারি এটি কি বাস্তবিকই আল্লাহর পরিকল্পনা এবং সরাসরিভাবে আমাদেরকে মৃত্যুর থেকে জীবন দেয়? কেবলমাত্র ঈশ্বর ভবিষ্যত জানতে পারেন, তাই তাওরাত এবং যাবুরে কয়েক শত বছর পূর্বে নবীদের মাধ্যমে চিহ্নগুলো প্রকাশিত হয়েছিল, এবং ঈসা আল মসীহর পূর্ণতা  আমাদেরকে আশ্বাস দেওয়ার জন্য লেখা হয়েছিল:

  4 যার ফলে আপনি জানবেন, য়ে বিষয়গুলি আপনাকে জানানো হয়েছে সেগুলি সত্য৷

লুক 1:4

যার দ্বারা ঈসা আল মসীহর বলিদান এবং পুনরুত্থানের এই অত্যাবশক প্রশ্নটির উপরে আমরা অবহিত হতে পারি, তা উপলব্ধ চারটি বিভিন্ন নিবন্ধকে সংযুক্ত করে:

1. এটি ঈসা আল মসীহর প্রতি ইঙ্গিতকারী মশির তাওরাতে দেওয়া চিহ্নগুলোকে পর্যালোচনা করে I

2. এটি ‘নবী সমূহ এবং গীতসংহিতার মধ্যে চিহ্নগুলোকে পর্যালোচনা করে I এই নিবন্ধ দুটি আমাদের নিজেদের জন্য বিচার করতে অনুমতি দেয় এটি কি বাস্তবিকই লেখা হয়েছিল যে “মসীহ কষ্টভোগ করবেন  এবং তৃতীয় দিনে মৃত্যু থেকে উঠবেন”

লুক 24:46

3. এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে কিভাবে ঈসা আল মসীহর থেকে পুনরুত্থিত জীবনের এই উপহারটিকে পাওয়া যায় I

4 এটি পবিত্র কোরআন এ সম্পর্কে যা বলেছে তার পর্যালোচনা করার দ্বারা, ঈসা আল মসীহর ক্রুশারোপন সম্পর্কে কিছু বিভ্রান্তির সমাধান করে I